Skip to content

ইতিহাসের দুর্লভ তথ্যাবলী

পৃষ্ঠা ১ থেকে ১৫

পৃষ্ঠা:০১

হুযুর আকরাম (সাঃ) সম্পর্কিত তথ্যাবলী

প্রঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে তাঁর আসল আকৃতিতে কতবার দেখেছেন এবং কখন কখন দেখেছেন?

উঃ হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সমগ্র জীবনকালে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে চারবার আসল আকৃতিতে দেখেছেনঃ

(১) একবার তিনি যখন হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন, তখন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সেখানে আগমন করেন। এ সময় তিনি হযরত জিবরাঈল (আঃ) কে তাঁর আসল আকৃতি দেখানোর অনুরোধ করেন। হুযুরের অনুরোধের প্রেক্ষিতে হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাঁর আসল আকৃতি ধারণ করে দেখান।

(২) দ্বিতীয়বার মে’রাজ শরীফের ঘটনায় তাঁকে আসল আকৃতিতে দেখেছেন অর্থাৎ ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ নামক সেই ঊর্ধ্বজগতে।

(৩) তৃতীয়বার মক্কার ‘আজয়াদ’ নামক স্থানে দেখেছেন। এই ঘটনা নবুওয়ত প্রাপ্তির নিকটবর্তী সময়ে সংঘটিত হয়েছিল। (ফতহুল বারী ৪ খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা ৪ ১৮-১৯, মাআরিফুল কুরআন ৪ খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা ২৪, তফসীরে খাযেনঃ খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠাঃ ১৯১) (৪) চতুর্থবার হুযুরের শ্রদ্ধেয় চাচা হযরত হামযা (রাযিঃ) যখন অনুরোধ করেছিলেন যে, আমি হযরত জিবরাঈল (আঃ) কে তাঁর আসল আকৃতি সহকারে দেখতে চাই, তখন প্রথমতঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি

পৃষ্ঠা:০২

ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিষেধ করলেন যে, আপনি তাঁকে দেখতে পারবেন না। কিন্তু তিনি আবারো আরয করলেন যে, আপনি অনুগ্রহ করে দেখিয়ে দিন। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আপনি বসুন। হযরত হামযা (রাযিঃ) তাঁর পাশে বসে গেলেন। এ সময়ে হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাঁর আসল আকৃতি নিয়ে কা’বা শরীফের উপর অবতরণ করেন। হুযূর (সঃ) হযরত হামযা (রাযিঃ)কে বললেন। ঐ যে চেয়ে দেখুন। হযরত হামযা (রাযিঃ) দৃষ্টি উঠিয়ে দেখলেন। হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর দেহ সবুজাভ পাথরের ন্যায় চমকাচ্ছিল। হযরত হামযা (রাযিঃ) এই ঔজ্জ্বল্য সহ্য করতে না পেরে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। (নশরুত-তীবঃ পৃষ্ঠা ১৭৩, দালায়েলে নবুওয়ত, তাবাকাতে ইবনে সাদ)

প্রঃ হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুনিয়াত বা উপনাম “আবু ইবরাহীম” কে রেখেছিল?

উঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ দিকে একদিন হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাঁর নিকট আগমন করেন এবং يا ابا ابراهيم াৎ ‘হে আবু ইবরাহীম’ বলে ডাক দেন। এ থেকেই তাঁর কুনিয়াত হয় ‘আবু ইবরাহীম’ বা ইবরাহীমের পিতা। (মুসতাদ্রাকে হাকেম)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পৃষ্ঠদেশে ‘মোহরে নবুওয়ত’ কে স্থাপন করেছিল এবং তাতে কি লেখা ছিল?

উঃ বেহেশতের প্রহরী ‘রিদওয়ান’ হুযুরের পৃষ্ঠদেশে নবুওয়তের মোহর স্থাপন করেছিলেন। এতে লেখা ছিল- سرفانت منصور

অর্থাৎ ‘অগ্রসর হও। তুমি (আল্লাহর) সাহায্যপ্রাপ্ত।’ কেউ কেউ বলেছেন যে, এতে লেখা ছিল- محمد رسول الله

প্রঃ বেহেশতে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দুনিয়ার কোন কোন মহিলার বিবাহ হবে?

উঃ বেহেশতে দুনিয়ার তিনজন মহিলার সাথে হুযুরের বিবাহ হবে। (১) মরিয়ম বিনতে ইমরান (২) ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া (৩) হযরত মূসা (আঃ) এর বোন কুলসুম, যিনি ফেরাউনকে হযরত মূসা (আঃ)-এর জন্য ধাত্রীর সংবাদ দিয়েছিলেন। (জালালাইন শরীফের হাশিয়া: খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৩২৭, পারা: ২০)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াফাতের পর কি মোহরে নবুওয়ত অবশিষ্ট ছিল, না বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল?

উঃ হযরত আসমা (রাযিঃ) বলেন, হুযুরের ওয়াফাতের পর তাঁর পৃষ্ঠদেশে অংকিত মোহরে নবুওয়ত লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এটা দেখেই আমার বিশ্বাস হয়েছিল যে, তিনি ওয়াফাত লাভ করেছেন। (খাসায়েলে নববীঃ পৃষ্ঠা: ১৬)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্ষ কতবার বিদীর্ণ করা হয়েছিল, কেন করা হয়েছিল এবং কে বিদীর্ণ করেছিলেন?

উঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র বক্ষ চারবার বিদীর্ণ করা হয়েছিল। সর্বপ্রথম তিন বছর বয়সে হুযুরের দুধভাই আবদুল্লাহর সঙ্গে চারণভূমিতে। দ্বিতীয়বার, দশ বছর বয়সে মরুভূমিতে।তৃতীয়বার, রমযান মাসে নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে হেরা পর্বতের গুহায়। চতুর্থবার, মেরাজের রাত্রে।হযরত শাহ আবদুল আযীয (রহঃ) এই চারবার বক্ষ বিদারণের ঘটনা সম্পর্কে এই তথ্য ও রহস্য উল্লেখ করেন যে, প্রথমবার হুযুর (সাঃ) এর বক্ষ মুবারক বিদীর্ণ করে তাঁর মন থেকে খেলাধুলার আকর্ষণ বের করা হয়েছে, যা সাধারণতঃ শিশুদের মনে হয়ে থাকে। দ্বিতীয়বার বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর মন থেকে যৌবনের সেই সমস্ত বৈশিষ্ট্য দূর করা হয়েছে, যেগুলোর কারণে যুবকরা মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টিজনিত কাজে লিপ্ত হয়। তৃতীয়বার বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়েছিল অধীর গুরুত্ব ও মাহাত্মা অনুধাবন te ও ওহীর ওজন বহনে তাঁর মনকে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন করার জন্য এবং (খাসায়েলে নববীঃ পৃষ্ঠা ৪ ১৬। আশরাফুল মুকালামাঃ পৃষ্ঠা ১২)

পৃষ্ঠা:০৩

চতুর্থবার বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর মনের মধ্যে ঊর্ধ্বজগতের অলৌকিক নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করার শক্তি দান করা হয়েছিল। (তারীখে হাবীবে এলাহ-এর বরাতে ‘নশরুত-তীব’)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তলোয়ারের নাম কি ছিল, তিনি এটা কাকে দান করেছিলেন?

উঃ তাঁর তলোয়ারের নাম ছিল ‘যুলফিকার’। এটা তিনি হযরত আলী (রাযিঃ)-কে দান করেছিলেন। (লামে উদ-দারারী)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটুকু (পরিমাণ) পানির দ্বারা উদ্বু ও গোসল করতেন।

উঃ তিনি উযূ করতেন এক মুদ পানির দ্বারা আর গোসল করতেন এক ‘সা’ পানির দ্বারা।

প্রঃ মুদ এবং ‘সা’র পরিমাণ কি?

উঃ এক মুদ সমান ৭৯৫ গ্রাম ও ১৫৮ মিলিগ্রাম এবং এক সা সমান তিন কিলোগ্রাম ও ১৫০ গ্রাম। (ইমদাদুল আওযান ৪ পৃষ্ঠাঃ ৬)

প্রঃ ‘ইবনে যবীহাইন’ বা দুই যবেহের পুত্র কার উপাধি? আর যবীহাইন দ্বারা কে কে উদ্দেশ্য?

উঃ ‘ইবনে যবীহাইন’ আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপাধি। দুই যবেহের মধ্যে একজন হলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল যবীহুল্লাহ। যার বংশধারায় আমাদের হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় যবেহ হলেন হুযুরের সম্মানিত পিতা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব। হযরত আবদুল্লাহর যবীহ নামে নামকরণের একটি চমকপ্রদ ঘটনা রয়েছে।একদা আবদুল মুত্তালিব স্বপ্নে যমযম কূপের নিদর্শন দেখলেন। স্বপ্ন মুতাবেক তিনি কূপের অনুসন্ধানে স্বপ্ন-নির্দেশিত স্থানে খনন কার্য আরম্ভ করেন। কিন্তু এটা ছিল সেই স্থান যেখানে ‘ইসাফ’ ও ‘নায়েলা’ নামক দুটি মূর্তি স্থাপিত ছিল। কুরাইশগণ তাঁর খনন কার্যে বাধা দিল। এমনকি এক পর্যায়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। আবদুল মুত্তালিবেরসাথে ছিল তাঁর এক ছেলে। বাপ, বেটা মাত্র এই দুইজন। তাদের পক্ষে আর কোন সাহায্যকারী ও সহযোগী ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও আবদুল মুত্তালিবই প্রবল রইলেন এবং কূপ খননের কাজ চালিয়ে যেতে থাকলেন। এ সময়ে আবদুল মুত্তালিব স্বীয় একাকিত্ব উপলব্ধি করে মান্নত মানলেন যে, যদি আল্লাহ তা’আলা তাঁকে দশটি পুত্র সন্তান দান করেন এবং যমযম কূপের পানি বের হয়ে আসে, তবে তিনি তার ছেলেদের মধ্য হতে একজনকে আল্লাহর নামে কুরবানী করে দিবেন। কয়েক দিন নিরলস চেষ্টার পর কূপ বের হয়ে গেল। এদিকে আল্লাহ তা’আলা আবদুল মুত্তালিবকে একে একে দশটি সন্তান দান করেন। যমযম আবিষ্কৃত হওয়ার কারণে কুরাইশদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়ে গিয়েছিল। লোকেরা তাঁকে অভ্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাশীল মনে করত। আবদুল মুত্তালিবের ছেলেরা বড় হওয়ার পর তিনি তাঁর কৃত মান্নত পুরা করতে উদ্যত হলেন। ছেলেদেরকে সাথে নিয়ে কাবা ঘরে যান এবং সেখানে হুবল নামক মূর্তিরসম্মুখে ছেলেদের নামে লটারী দেন। ঘটনাক্রমে লটারীতে যবেহের জন্য

কনিষ্ঠ ছেলে হযরত আবদুল্লাহর নাম ভেসে উঠে। আবদুল্লাহ ছিলেনতাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ও আদরের পুত্র। কিন্তু তিনি তার মান্নত পুরা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তাই বাধ্য হয়েই আবদুল্লাহকে সাথে নিয়ে কুরবানগাহের দিকে যাত্রা করেন। তাঁর অন্যান্য সন্তান-সন্ততি এবং কুরাইশ সর্দারগণ আবদুল্লাহকে যবেহ করা থেকে বিরত থাকার জন্য আবদুল মুত্তালিবকে পীড়াপীড়ি করেন। কিন্তু আবদুল মুত্তালিব কারো কথা মানতে রাজী হলেন না। পরিশেষে প্রচণ্ড বাদানুবাদের পর এই বিষয়টি ফায়সালার জন্য ‘সাজা’নাম্নী জনৈকা মহিলা গণকের নিকট সোপর্দ করা হলো। সে বলল, তোমাদের নিকট একটি খুনের বদলা দশটি উটের সমান। সুতরাং তোমরা একদিকে দশটি উট রাখ এবং অপরদিকে আবদুল্লাহকে রেখে লটারী দাও। যদি লটারী উটের নামে উঠে তবে দশটি উট কুরবানী করে তেরেte আর যদি লটারী আবদুল্লাহর নামে উঠে তাহলে আরো দশটি উট বাড়িয়ে

পৃষ্ঠা:০৪

দিয়ে আবদুল্লাহর বিপরীতে বিশটি উট রেখে লটারী দেবে। এইভাবে যতক্ষণ না উটের নাম লটারীতে উঠবে প্রত্যেকবার দশটি করে উট বৃদ্ধি করে যেতে থাকবে। অতএব, তাই করা হলো এবং প্রত্যেকবার লটারীতে আবদুল্লাহর নামই উঠতে থাকলো। এভাবে যখন উটের সংখ্যা একশত হলো তখন লটারীতে উটের নাম উঠলো। আবদুল মুত্তালিব তাঁর মনের প্রশান্তির জন্য আরো দু’বার লটারী দিলেন কিন্তু প্রত্যেকবার উটের নামই উঠল। অতঃপর একশত উট কুরবানী করে দেওয়া হলো। আর এভাবেই আবদুল্লাহর জীবন রক্ষা পেয়ে গেল। তখন থেকেই কুরাইশদের নিকট একটি খুনের বদলা একশত উট নির্ধারিত হয়। বস্তুতঃ এ কারণেই দ্বিতীয় যবীহ দ্বারা হযরত আবদুল্লাহকেই উদ্দেশ্য করা হয়। (তারীখে ইসলামঃ খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭)

প্রঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সম্মানিতা স্ত্রীর বিবাহ আসমানে হয়েছিল?

উঃ উম্মুল মুমেনীন হযরত যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ) -এর বিবাহ।

(জালালাইন শরীফের হাশিয়া: পৃষ্ঠাঃ ৩৫৫)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আদম (আঃ)-এর কত বছর পর জন্মগ্রহণ করেন?

উঃ তিনি হযরত আদম (আঃ) -এর ছয় হাজার একশত পঞ্চাশ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। (শরফুল মুকালামাঃ পৃষ্ঠা: ১৮)

প্রঃ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন কোন মহিলা দুধপান করিয়েছেন এবং কয় দিন পান করিয়েছেন?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুগ্ধপান সম্পর্কে দুই প্রকার উক্তি রয়েছে। প্রথম উক্তি হলো এই যে, জন্মের পর থেকে সাতদিন পর্যন্ত আবু লাহাবের আযাদকৃত বাঁদী সুওয়াইবা দুগ্ধপান করিয়েছেন। (কামেল ও পৃষ্ঠা ৪ ২৩৯)

অষ্টম দিনে হযরত হালীমা সা’দিয়ার কাফেলা মক্কায় আগমন করে এবং এ দিন থেকে দুগ্ধমাতা হালীমা তাঁকে দুই বছর কাল দুগ্ধপান করান। (তারীখে ইসলাম)

দ্বিতীয় উক্তি হলো এই যে, শুরুতে সাত দিন পর্যন্ত আম্মাজান হযরত আমিনা দুগ্ধপান করান। অতঃপর সুওয়াইবা এবং এরপর হযরত হালীমা সা’দিয়া (রাযিঃ)। (রাহমাতুল্লিল আলামীন)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়ভাবে বসে আহার করতেন এবং কি ভাবে বসতেন?

উঃ তিনি দুই অবস্থায় বসে আহার করতেন-(১) উভয় পা খাড়া করে বসতেন। (২) দোজানু হয়ে এমনভাবে বসতেন যে, বাম পায়ের তালু ডান পায়ের পিঠের সাথে থাকত। তিনি তিন আঙ্গুলে অর্থাৎ মধ্যমা, তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা আহার করতেন। (নশরুত-তীবঃ পৃষ্ঠাঃ ১৯১) (এখানে যে দুই অবস্থায় বসার কথা বলা হয়েছে, এই অবস্থাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্তব্য হবে। নতুবা কোন কোন রেওয়ায়াতে চারজানু হয়ে বসে আহার করারও প্রমাণ পাওয়া যায়।)

প্রঃ আহারের শুরু ও শেষে কিরুপ জিনিস খাওয়া সুন্নত। মিষ্টি জাতীয়, না লবণাক্ত জিনিস?

উঃ আহার লবণাক্ত জিনিস দিয়ে শুরু করা এবং লবণাক্ত জিনিস দিয়ে শেষ করা সুন্নত। এতে সত্তরটি রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। (শামীঃ খণ্ডঃ ৫. পৃষ্ঠা ও ২১৬, হাশিয়া, মালাবুদ্দা মিনহুঃ পৃষ্ঠাঃ ১১৮)

প্রঃ সেই তরকারী কোনটি, যা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালুনের -রাটি থেকে তালাশ করে খেতেন?

উঃ

সেই তরকারী হলো কদু বা লাউ। (তিরমিযী শরীফঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৬, নশরুত-তীব)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পানি পান করার জন্য কয়টি পেয়ালা ছিল এবং এগুলো কিসের তৈরী ছিল?

উঃ দুইটি পেয়ালা ছিল। একটি কাঠের আরেকটি কাঁচের। (নশরুত-তীব) প্রঃ হেরা গুহায় অবস্থান করার সময় হুযূর কি আহার করতেন এবং এই খানা কোথেকে আসত?

উঃ হেরা গুহায় অবস্থান কালে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাত্র এবং পানি আহার করতেন। এই আহার্য্য দ্রব্য কখনো হযরত খাদীজা

পৃষ্ঠা:০৫

(রাযিঃ) নিয়ে আসতেন। আবার কখনো তিনি নিজে বাড়িতে চলে যেতেন এবং দুই/তিন দিনের খাদ্য ও পানীয় সাথে নিয়ে আসতেন। (নশরুত-তীব)

প্রশ্ন: হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিধানের কাপড় কয়টি ছিল এবং এগুলো কি ধরনের কাপড় ছিল?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লেবাস-পোশাকের মধ্যে ছিল, কোর্তা, লুঙ্গি, পাগড়ী ও চাদর। কোর্তা ছিল সুতির। আর তার প্রান্ত ও আস্তিন লম্বা ছিল না। তিনি কাতান এবং পশমী কাপড় ব্যবহার করেছেন কিন্তু বেশীর ভাগ সুতির কাপড়ই ব্যবহার করতেন। তাঁর নিকট দুইটি সবুজ চাদর ছিল। দুইটি মোটা সুতী কাপড়ও ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল লাল এবং একটি ছিল কালো রঙের। ডোরা কাটা একটি কম্বল ছিল। একটি বালিশ ছিল যার মধ্যে খেজুর গাছের বাকল ও খোসা ভরা ছিল। (নশরুত-তীব)

প্রঃ হুযুরের লুঙ্গির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কি ছিল?

উঃ লুঙ্গির দৈর্ঘ্য সাড়ে চার হাত এবং প্রন্থ ছিল আড়াই হাত। (নশরুত- তীব)

প্রঃ আ হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাগড়ী বাঁধার পদ্ধতি কি ছিল?

উঃ তাঁর পাগড়ী বাঁধার পদ্ধতি ছিল এই যে, কখনো পাগড়ীর শিমলা বা প্রান্ত দুই কাঁধের মাঝে ছেড়ে দিতেন আবার কখনো বা শিমলা ছাড়াই পাগড়ী বাঁধতেন। পাগড়ীর নীচে কখনো টুপি ব্যবহার করতেন, কখনো বা টুপি ছাড়া শুধু পাগড়ী ব্যবহার করতেন। (নশরুত-তীবঃ পৃষ্ঠা: ১৯২)

প্রঃ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কয়টি ঘোড়া ছিল এবং এগুলোর নাম কি কি ছিল?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাতটি ঘোড়া ছিল। যাদের নাম নিম্নরূপ:

(১) সাকাব (২) মুরত্যযিয (৩) তাইফ (৪) লাযযার (৫) যরব (৬) সাবহা (৭) দার।

প্রঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট খচ্চর কয়টি ছিল এবং এগুলো কোথেকে এসেছিল?

উঃ পাঁচটি খচ্চর ছিল। (১) দুলদুল, যা মিসরের বাদশাহ মুকাউকিস পাঠিয়েছিল। (২) কিষযা, যা জুযাম গোত্রের ফরওয়া নামক ব্যক্তি পাঠিয়েছিল। (৩) একটি সাদা খচ্চর, যা ‘আইলা’র শাসক উপহার দিয়েছিল। (৪) দওমাতুল জন্ন্সল এর শাসক একটি খচ্চর দিয়েছিল। (৫) পঞ্চমটি হাবশার বাদশাহ আসহামা পাঠিয়েছিল। (নশরুত-তীবঃ পৃষ্ঠাঃ ১৯২)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গাধা কয়টি ছিল? এগুলোর নাম কি ছিল? কোথেকে এসেছিল?

উঃ তাঁর নিকট তিনটি গাধা ছিল। (১) আফীর-যা মিশরের বাদশা পাঠিয়েছিল। (২) দ্বিতীয়টি ফারওয়াহ পাঠিয়েছিল। (৩) তৃতীয়টি হযরত সা’আদ ইবনে উবাদা উপহারস্বরূপ দিয়েছিলেন। (যাদুল মাআদ, নশরুত-তীব)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়টি উট ছিল এবং এগুলোর নাম কি ছিল?

উঃ হুযুর (সাঃ)-এর দুইটি বা তিনটি উট ছিল ৪ (১) কাসওয়া (২) আযবা (৩) জাদআ-কেউ কেউ শেষোক্ত দুইটিকে একই উট বলেছেন, তবে এর নাম ছিল দুইটি। (যাদুল মাআদ, নশরুত-তীব)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দুধ দেয় এমন উটনী কয়টি ছিল?

উঃ পঁয়তাল্লিশটি উটনী ছিল। (পূর্বোক্ত)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বকরী কয়টি ছিল?

উঃ তাঁর বকরী ছিল একশতটি-এরচেয়ে বেশী হতে দিতেন না। কোন বকরী বাচ্চা দিলেই বকরী একটি যবেহ করে দিতেন। (যাদুল মাআদ, আবু দাউদ ৪ পৃষ্ঠা : ১৯)

প্রঃ হজ্জাতুল বেদা এবং উমরাতুল কাযার সময় হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাখা মুবারক মুণ্ডানোর সৌভাগ্য কার কার হয়েছিল?

উঃ এই সৌভাগ্য হজ্জাতুল বেদায় হযরত মা’মার ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিঃ)

পৃষ্ঠা:০৬

এবং উমরাতুল কাযায় হযরত খিরাশ ইবনে উমাইয়া (রাঞ্চি) লাভ করেছিলেন। (বুখারী শরীফের বাইনাস সতুর ৪ খণ্ড : ২, পৃষ্ঠাঃ ৬৩৩)

প্রঃ যে সকল শিশু হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোলে পেশাব করেছে, তারা কারা?

উঃ এরকম শিশু ছিলেন পাঁচজন। তারা হলেনঃ (১) সুলাইমান ইবনে হিশাম (২) হযরত হাসান (৩) হযরত হোসাইন (৪) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (৫) ইবনে উম্মে কায়েস। জনৈক কবি এই নামগুলোকে নিম্নের দুটি পঙক্তিতে একত্রিত করে দিয়েছেন-

قد بال في حجر النبي اطفال حسن حسين وابن الزبير بالوا وكذا سليمان بن هِشَامِ وَابْن أَوقَيْسِ جَاءَ فِي الْخِتَامِ

(আওজাযুল মাসালিকঃ গণ্ড : ১, পৃষ্ঠা ৪ ১৬২)

প্রঃ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁকে গোসল ও কাফন কোন কাপড়ে দেওয়া হয়েছিল?

উঃ হযরত আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যখন প্রিয়নবী (সাঃ)-কে গোসল দেওয়ার সময় হলো, তখন প্রশ্ন দেখা দিল যে, অন্যান্য মৃত ব্যক্তির ন্যায় হুযুর (সাঃ)-এর দেহ মুবারকের কাপড় খুলে ফেলা হবে, না কাপড়সহ গোসল দেওয়া হবে? এই প্রশ্নে যখন মতভেদ দেখা দিল, তখন আল্লাহর হুকুমে সকলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন এবং গৃহের এক কোণ হতে কোন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বলে দিল যে, কাপড়সহই গোসল দাও। সুতরাং কাপড়সহ গোসল দেওয়া হলো। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনখানা ইয়ামনী সুতি কাপড় দ্বারা কাফন দেওয়া হয়েছিল। (নশরুত-তীব)

প্রঃ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাযার নামায কিভাবে পড়া হয়েছিল এবং প্রথমে কে পড়েছিলেন?

উঃ হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাযার নামায জামাআতে পড়া হয় নাই। বরং আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে নামায আদায় করা হয়েছে। যেহেতু সাহাবায়ে কেরাম হুযুরের শেষ সময়ে জানতে চেয়েছিলেন যে, তাঁর ওয়াফাতের পর জানাজার নামায কে পড়াবেন? তখন হুযুর (সাঃ) ইরশাদ করেছিলেন যে, গোসল ও কাফনের কাজ সমাধা করার পর আমার জানাযা কবরের নিকট রেখে তোমরা সরে যাবে। প্রথমে ফেরেশতাগণ নামায পড়বেন। অতঃপর প্রথমে আহলে বাইতের পুরুষগণ অতঃপর আহলে বাইতের মহিলাগণ নামায পড়বেন। অতঃপর তোমরা অন্যান্য লোকেরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে আসতে থাকবে এবং নামায পড়তে থাকবে। সাহাবাগণ আরয করলেন, আপনাকে কবরে কে রাখবে? তিনি বললেন, আমার আহলে বাইত এবং তাদের সাথে ফেরেশতাগণ থাকবেন। (নশরুত-তীবঃ পৃষ্ঠাঃ ২০৩)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর মুবারক কে খনন করেছিলেন এবং কিভাবে করেছিলেন?

উঃ হযরত আবু তালহা (রাযিঃ) হুযুরের বগলী কবর খনন করেছিলেন। (তিরমিযী শরীফ। খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠাঃ ১২৪)

প্রঃ আঁ হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কবরে কে কে রেখেছিলেন?

উঃ হযরত আলী (রাযিঃ), হযরত আব্বাস (রাযিঃ) এবং হযরত আব্বাস (রাযিঃ)-এর দুই পুত্র হযরত কুস্ম (রাযিঃ) ও হযরত ফল (রাযিঃ)। (নশরুত-তীবঃ পৃষ্ঠাঃ ২০৬)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরে কয়টি ইট রাখা হয়েছিল, কিভাবে রাখা হয়েছিল, ইটগুলো কেমন ছিল? উঃ হুযুর (সাঃ)-এর কবরে নয়টি কাঁচা ইট দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

(প্রাগুক্ত: পৃষ্ঠা ২০৬) প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাফন করার সময় তাঁর কোমর

মুবারকের নীচে কে কাপড় বিছিয়ে দিয়েছিল এবং কি কাপড় বিছিয়েছিল?

উঃ হুযুর (সাঃ)-এর আযাদ করা গোলাম শাকরান তার নিজের বিবেচনাte মতে নাজরানে তৈরী তার নিজের ব্যবহারের একটি কম্বল বিছিয়ে দিয়েছিলেন। (তিরমিযী শরীফ) কিন্তু ইবনে আবদুল বার (রাযিঃ) বর্ণনা

পৃষ্ঠা:০৭

করেন যে, পরে কবর থেকে তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। (নশরুত- তীব : পৃষ্ঠা ৪ ২০৬)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর মুবারকে কে পানি ছিটিয়ে দিয়েছিলেন, কি পরিমাণ পানি ছিটিয়েছিলেন এবং কোন দিক থেকে শুরু করেছিলেন?

উঃ হযরত বিলাল (রাযিঃ) এক মশক পানি নিয়ে কবরের মাথার দিক থেকে শুরু করে সারা কবরে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। (নশরুত-তীব)। পৃষ্ঠাঃ ২০৬)

প্রঃ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে যে সাহাবীর জানাযার নামায পড়িয়েছিলেন সেই সৌভাগ্যবান সাহাবী কে?

উঃ সেই সাহাবী হলেন হযরত সাহল ইবনে বাইযা (রাযিঃ)। (মুসলিম শরীফঃ বহাওয়ালা মিশকাত শরীফ ও খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা : ১৪৫)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হস্তে দাফন হওয়ার সৌভাগ্য লাভকারী সাহাবী কে?

উঃ তিনি হলেন হযরত আবদুল্লাহ যুল বাজাদাতাইন (রাযিঃ)। (তিরমিযী শরীফ, হেদায়া)

প্রঃ সে ব্যক্তি কে, যাকে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে বশী দ্বারা আঘাত করেছেন এবং এতে তার মৃত্যু হয়েছে?

উঃ সে হলো কট্টর কাফের উবাই ইবনে খালফ। ওহুদ যুদ্ধে হুযুর (সাঃ) এর

বর্শার আঘাতে তার মৃত্যু হয়। (বুখারী শরীফ)

প্রঃ আহযাবের যুদ্ধে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে যে খন্দক খনন করেছিলেন, তা কতদিনে শেষ হয়েছিল এবং এই খন্দকের পরিমাপ কি ছিল?

উঃ এই খন্দক খনন করতে পূর্ণ ছয় দিন সময় লেগেছিল। খন্দকটি ছিল সাড়ে তিন মাইল লম্বা এবং প্রায় পাঁচ গজ গভীর। (মাআরিফুল কুরআনঃ পৃষ্ঠা: ১০৩ ও ১০৭, পারা ৪ ২১)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম কোন যুদ্ধ করেন?

উঃ তিনি সর্বপ্রথম যে যুদ্ধ করেন, তাহলো গাযওয়ায়ে আবওয়া অতঃপর বাওয়াত অতঃপর আশীর। (বুখারী শরীফঃ খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৬৩)

প্রঃ সর্বমোট কতগুলো গাযওয়া হয়েছে?

উঃ গাযওয়ার সর্বমোট সংখ্যা উনত্রিশ। (বুখারী শরীফ। খণ্ডঃ ১, পৃষ্ঠা : ৫৬৩)

প্রঃ যে সকল গাযওয়ায় কাফিরদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে, এরূপ গাযওয়া কয়টি হয়েছে এবং সেই গাযওয়া কোনগুলো?

উঃ এরূপ গাযওয়ার সংখ্যা মোট নয়টি। সেগুলো হলো-(১) গাযওয়ায়ে বদর (২) গাযওয়ায়ে ওহুদ (৩) গাযওয়ায়ে আহযাব (৪) গাযওয়ায়ে বনী কুরাইযা (৫) গাযওয়ায়ে বনী মুস্তালিক (৬) গাযওয়ায়ে খায়বর (৭) গাযওয়ায়ে ফতহে মক্কা (৮) গাযওয়ায়ে হুনাইন এবং (৯) গাযওয়ায়ে তায়েফ। (বুখারী শরীফের হাশিয়া। খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা: ৫৬৩)

প্রঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে রুখ করে কতদিন নামায আদায় করেন?

উঃ যোল বা সতর মাস। অতঃপর বাইতুল্লাহ শরীফের দিকে রুখ করে নামায পড়ার হুকুম দেওয়া হয়। (জালালাইন শরীফঃ পৃষ্ঠাঃ ২১, পারা ৪২)

প্রশ্ন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াফাতের অসুস্থতা কোন দিন থেকে শুরু হয় এবং তিনি অসুস্থ অবস্থায় কয়দিন ছিলেন?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা সোমবার থেকে শুরু হয়। কেউ কেউ বলেন শনিবার, আবার কেউ কেউ বুধবারের কথাও বলেছেন। অসুস্থ অবস্থার সর্বমোট সময় কারো মতে তের দিন, কারো মতে চৌদ্দ দিন, কারো মতে বারো দিন আর কারো মতে দশদিন। এই মত বিরোধের মাঝে এইভাবে সামঞ্জস্য বিধান করা যায় যে, অসুস্থতার প্রাথমিক অবস্থা হালকা মনে করে অনেকে গণনা করেন নাই। আর অনেকে গণনা করেছেন। (নশরুত-তীবঃ পৃষ্ঠাঃ ২০২)

প্রঃ ওয়াফাতের সময় হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বশেষ উক্তি কি ছিল?

উঃ হুযুর (সাঃ)-এর সর্বশেষ উক্তি ছিল-

(বুখারী শরীফ ও খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪ ৬৪১)

পৃষ্ঠা:০৮

হযরত আদম (আঃ) ও অন্যান্যদের সম্পর্কে

প্রঃ হযরত আদম (আঃ) সপ্তাহের কোন দিন সৃষ্টি হন?

উঃ সহীহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, সূর্য উদিত হওয়ার দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো শুক্রবার। এই দিনেই হযরত আদম (আঃ)কে সৃষ্টি করা হয়। এ দিনেই তাঁকে বেহেশতে প্রবেশ করানো হয়, এদিনেই তাঁকে বেহেশত থেকে বের করে দৈওয়া হয়। আর এ দিনেই কিয়ামত হবে। (মুসনাদে আহমদ ও তাফসীরে ইবনে কাসীরঃ খণ্ড ৪১, পৃষ্ঠাঃ ১২৭-এর সূত্রে হায়াতে আদম (আঃ))একটি উক্তি এমনও আছে যে, হযরত আদম (আঃ)-এর ওয়াফাতও এ দিনেই হয়েছিল। (তাবাকাতে ইবনে সাআদ খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা ৪ ৮-এর হাওয়ালায় হায়াতে আদম (আঃ)

প্রঃ হযরত আদম (আঃ) বেহেশতে কত বছর ছিলেন।

উঃ ইমাম আওযায়ী (রহঃ) হযরত হাসসান ইবনে আতিয়্যা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, হযরত আদম (আঃ) বেহেশতে একশত বছর ছিলেন। অন্য এক বর্ণনায় সত্তর বছরের কথা উল্লেখিত হয়েছে। হোয়াতে হযরত আদম (আঃ)। আবদ ইবনে হুমাইদ (রহঃ) হযরত হাসান (রাযিঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আদম (আঃ) বেহেশতে একশত ত্রিশ বছর ছিলেন। (তফসীরে ইবনে কাসীর। খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১২৬)

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা যখন বলেছিলেন-اهبطوا منها جميعا

“তোমরা সকলেই বেহেশত থেকে বের হয়ে যাও” এই হুকুম হযরত আদম (আঃ)-এর সাথে আর কাকে কাকে দেওয়া হয়েছিল এবং পৃথিবীতে। কাকে কোথায় প্রেরণ করা হয়েছিল?

উঃ বেহেশত থেকে বের হয়ে যাওয়ার এই হুকুম হযরত আদম (আঃ)-এর সাথে হযরত হাওয়া (আঃ) ইবলিস এবং সাপকে দেওয়া হয়েছিল। তবে পৃথিবীতে তাদের অবতরণের স্থান সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। হযরত হাসান বসরী (রহঃ) বলেন, হযরত আদম (আঃ)-কে হিন্দুস্থানে, হযরত

হাওয়া (আঃ)-কে জিদ্দায়, ইবলিসকে বসরার কয়েক মাইল দূরে এবং সাপকে ইস্পাহানে অবতরণ করা হয়। বিশিষ্ট তফসীরবিদ হযরত সুন্দী (রহঃ) বলেন, হযরত আদম (আঃ)-কে হিন্দুস্থান অবতরণ করা হয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, হযরত আদম (আঃ)কে সাফা পাহাড়ে এবং হযরত হাওয়া (আঃ)-কে মারওয়া পাহাড়ে অবতরণ করা হয়। (তফসীরে ইবনে কাসীর। খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা ৪ ১২৬) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, হযরত আদম (আঃ)-কে হিন্দুস্থানের ‘নুষ’ নামক পাহাড়ে এবং হযরত হাওয়া (আঃ)-কে জিদ্দায় অবতরণ করা হয়। (হায়াতে আদম (আঃ))

প্রঃ হযরত আদম (আঃ) বেহেশত থেকে কি কি জিনিস সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন?

উঃ হযরত আদম (আঃ) নয়টি জিনিস সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলো হলো-(১) হাজরে আসওয়াদ-যা বরফের টুকরার চেয়েও অধিক চকচকা ও সাদা ছিল। (২) বেহেশতী বৃক্ষের পাতা বা ফুলের পাপড়ী। (৩) বেহেশতের ‘আস’ নামক বৃক্ষের লাঠি। (৪) বেলচা (৫) কোদাল (৬) দেবদারু জাতীয় বৃক্ষ (৭) চন্দন (৮) হাতুড়ী (৯) ফল (তাবাকাতে ইবনে সাআদের হাওয়ালায় হায়াতে আদম (আঃ))

প্রঃ হযরত আদম (আঃ) পৃথিবীতে আসার পর সর্বপ্রথম কোন ফল ভক্ষণ করেছিলেন?

উঃ তিনি সর্বপ্রথম কুল খেয়েছিলেন। (নশরুত-তীব ৪ পৃষ্ঠা ৪ ১৯১)

প্রশ্ন হযরত আদম (আঃ) কোন্ কোন্ পাহাড়ের পাথর দ্বারা কাবাঘর নির্মাণ করেছিলেন?

উঃ হযরত আদম (আঃ) পাঁচটি পাহাড়ের পাথর দ্বারা কাবাঘর নির্মাণ করেছিলেন। (১) তুরে সাইনা (২) ভূরে যাইতুন (৩) জাবালে লেবনান (৪) জাবালে জুদী (৫) এবং এর খুঁটি বানিয়েছিলেন হেরা পাহাড়ের পাথর দ্বারা। (ইবনে সাআদের সূত্রে হায়াতে আদম (আঃ) ৪ পৃষ্ঠা ৪ ৬৬)

প্রঃ হযরত আদম (আঃ)-এর উচ্চতা কতটুকু ছিল?

উঃ হযরত আদম (আঃ)-এর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। (হায়াতুল হায়ওয়ান)

পৃষ্ঠা:০৯

প্রঃ হযরত আদম (আঃ) কত বছর জীবিত ছিলেন।

উঃ হযরত আদম (আঃ) নয়শত ছত্রিশ বছর জীবিত ছিলেন। (ইবনে কাসীরের সূত্রে হায়াতে আদম (আঃ)) অন্য এক মত অনুসারে তিনি নয়শত চল্লিশ বছর জীবিত ছিলেন। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ পৃষ্ঠা ৪ ৪২৬)

প্রঃ ওয়াফাতের সময় হযরত আদম (আঃ)-এর সন্তান-সন্ততির সংখ্যা কত ছিল?

উঃ ওয়াফাতের সময় তাঁর সন্তান-সন্ততির সংখ্যা ছিল চল্লিশ হাজার। এর মধ্যে তাঁর পৌত্র এবং প্রপৌত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল। (ইবনে কাসীরঃ খণ্ডঃ ১. পৃষ্ঠা ৪ ৯৬-এর বরাতে হায়াতে আদম (আঃ))

প্রঃ হযরত আদম (আঃ)-এর ওয়াফাত কোথায় হয়েছিল।

উঃ শ্রীলংকার ‘নুষ’ নামক পাহাড়ের উপর। (হায়াতে আদম (আঃ) ৪ পৃষ্ঠাঃ ৬৭)

প্রঃ হযরত আদম (আঃ)-এর জানাযার নামায কে পড়িয়েছিলেন এবং নামাযে কয় ‘তকবীর’ দিয়েছিলেন?

উঃ হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) বলেন, হযরত আদম (আঃ)-এর ওয়াফাতের পর ফেরেশতা আসেন এবং তাঁরা তাঁকে গোসল দেন ও হানূত সুগন্ধি লাগান। অতঃপর একজন ফেরেশতা অগ্রবর্তী হন এবং তাঁর সন্তানগণ ও অন্যান্য ফেরেশতাগণ পেছনে দাঁড়ান। এভাবে জানাযার নামায হয়। অতঃপর ফেরেশতাগণ বগলী কবর তৈরী করে তাঁকে দাফন করেন। এ বিষয়ে আরেকটি মত হলো এই যে, হযরত জিব্রাঈল (আঃ) হযরত শীশ (আঃ)-কে বলেছিলেন, আপনি জানাযার নামায পড়ান। সুতরাং হযরত শীশ (আঃ) জানাযার নামায পড়ান। আর হযরত আদম (আঃ)-এর জানাযার নামাযে ত্রিশটি ‘তকবীর’ দেওয়া হয়েছিল। এরূপ করা হয়েছিল শুধুমাত্র তাঁর মর্যাদা ও সম্মানের জন্য। (তাবাকাতে ইবনে সাআদ খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা ১৫, হায়াতে আদম (আঃ) ৪ পৃষ্ঠা: ৭৫)

প্রঃ হযরত হাওয়া (আঃ)-এর গর্ভে কয়জন সন্তান হয়েছিল?

উঃ আল্লামা ইবনে জারীর তাবারী (রহঃ) বলেন, হযরত হাওয়া (আঃ) এর হাতহাসের সুলভ তথ্যাবল গর্ভে চল্লিশ জন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। অন্য এক উক্তি মতে একশত বিশজন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। (হায়াতে আদম (আঃ) ঃ পৃষ্ঠা ও ৬১) প্রঃ হযরত আদম (আঃ) থেকে যেসব বিষয় সর্বপ্রথম জারী হয়েছে, সেগুলো কি কি? উঃ হযরত আদম (আঃ) মুখ থেকে সর্বপ্রথম যে কথা বের হয় তা ছিল- الحمد لله رب العالمين হযরত আদম (আঃ) সর্বপ্রথম তাঁর মাথা মুণ্ডিয়েছেন। হযরত আদম (আঃ) সর্বপ্রথম মোরগ পুষেছেন। মোরগ আসমানে ফেরেশতাদের ‘তসবীহ’ পাঠের আওয়াজ শুনে সেই তসবীহ পাঠ করতো এবং মোরগের তসবীহ পাঠের আওয়াজ শ্রবণ করে হযরত আদম (আঃ)ও তসবীহ পাঠ করতে শুরু করতেন। (বুগিয়াতুয যামআনঃ পৃষ্ঠা: ৩৫)

প্রঃ হিবাতুল্লাহ বা আল্লাহর দান কার উপাধি ছিল?

উঃ এটা হযরত শীস (আঃ)-এর উপাধি ছিল। তা এই জন্য যে, কাবিল যখন হাবিলকে হত্যা করে ফেলে, তখন হযরত জিবরাঈল (আঃ) হযরত আদম (আঃ)-কে সুসংবাদ দিয়েছিলেন যে, আল্লাহ তা’আলা হাবিলের বদলায় তাঁকে শীস নামে এক সন্তান দান করবেন। (ইবনে সাআদ ও পৃষ্ঠা ৪ ১৪, হায়াতে আদম (আঃ) ৪

পৃষ্ঠা: ৫৯) কাবিল হাবিলকে কোন জায়গায় হত্যা করেছিল?

প্রঃ উঃ ইবনে কাসীর (রহঃ) বলেছেন, আহলে কিতাবদের ভাষ্য হলো কাবিল হাবিলকে দামেস্কের উত্তর দিকে অবস্থিত ‘কাসিউন’ পর্বতমালার ‘মাগারাতুদ দম’ নামে পরিচিত একটি গুহায় হত্যা করেছিল। (হায়াতে আদম (আঃ) পৃষ্ঠা ৪ ৭২)

প্রঃ হযরত ইদ্রীস (আঃ)-এর প্রকৃত নাম কি? তাঁকে ইদ্রীস বলা হয় কেন?

উঃ হযরত ইদ্রীস (আঃ)-এর প্রকৃত নাম ‘আখনুম’। তাঁকে ইদ্রীস এজন্য বলা হয় যে, তিনি সর্বপ্রথম কিতাবের ‘দরস’ দিয়েছেন। (সাবী। খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠা: ৪১)

প্রঃ হযরত ইদ্রীস (আঃ) হতে কোন কোন বিষয় প্রচলিত হয়েছে?

পৃষ্ঠা:১০

উঃ হযরত ইদ্রীস (আঃ) হতে ছয়টি বিষয় প্রচলিত হয়েছে- (১) হযরত ইদ্রীস (আঃ) সর্বপ্রথম লেখার জন্য কলম ব্যবহার করেছেন। (সাবী: পৃষ্ঠা ৪১)

(২) হযরত ইদ্রীস (আঃ) জ্যোতির্বিজ্ঞানের সর্বপ্রথম উদ্ভাবক ছিলেন। (জালালাইন শরীফ: পৃষ্ঠা ৪ ৫০৩)

(৩) হযরত ইদ্রীস (আঃ) সর্বপ্রথম কাপড় সেলাইয়ের পন্থা আবিষ্কার করেন এবং তিনিই সর্বপ্রথম সেলাই করা কাপড় পরিধান করেন। এর পূর্বে লোকেরা চামড়া পরিধান করত। (তফসীরে খাযেন। পৃষ্ঠা ২৩৯) (৪) হযরত ইদ্রীস (আঃ) সর্বপ্রথম অস্ত্র তৈরী করে তা দিয়ে দুশমনের মুকাবিলা করেন। (প্রাগুক্ত)

(৫) হযরত ইদ্রীস (আঃ) সর্বপ্রথম তুলার কাপড় পরিধান করেন। (মুহাযারা ৪ পৃষ্ঠা ৪ ২৭, বুগয়াতুয যামআন)

(৬) হযরত আদম (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্যে হযরত ইদ্রীস (আঃ) সর্বপ্রথম নবুওয়ত লাভ করেন। (মুহাযারাঃ পৃষ্ঠাঃ ২৩, বুগয়াতুয যামআন)

হযরত নূহ (আঃ) সম্পর্কে তথ্যাবলী

প্রঃ হযরত নূহ (আঃ)-এর প্রকৃত নাম কি? উঃ হযরত নূহ (আঃ)-এর প্রকৃত নামের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবদুল গাফফার। কেউ কেউ বলেছেন, ‘ইয়াশকুর’। (সাবীঃ খণ্ড। ৩, পৃষ্ঠা ৪ ১১৫, জালালাইন শরীফের হাশিয়া ৪ পৃষ্ঠা ৪ ২৮৮)আবার কেউ বলেছেন, তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবদুল জব্বার। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ডঃ ১, পৃষ্ঠা: ১২) কেউ কেউ বলেছেন, ‘ইদ্রীস’ই তাঁর আসল নাম ছিল। (হায়াতে আদম (আঃ) ঃ পৃষ্ঠা ৪ ৭৪)

প্রঃ হযরত নূহ (আঃ)-এর লকব বা উপাধি ‘নূহ’ হলো কেন?

উঃ ‘নূহ’ শব্দের অর্থ হলো ক্রন্দন। তিনি যেহেতু তাঁর উম্মতের গুনাহেরজন্য অধিকতর ক্রন্দন করতেন, তাই তাঁর উপাধি হয়ে যায় ‘নূহ’। হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ড: ১, পৃষ্ঠাঃ ১২) আর এজন্যও তাঁর উপাধি নূহ হয় যে, তিনি তাঁর নফসের উপর ক্রন্দন( করতেন। (রহুল মাআনী) এর কারণ এই ছিল যে, একদা তিনি চর্মরোগে আক্রান্ত একটি কুকুরের নিকট দিয়ে পথ চলছিলেন। তিনি মনে মনে ভাবলেন যে, কুকুরটি কত কুৎসিৎ! তখন আল্লাহ তা’আলা হযরত নূহের নিকট ওহী প্রেরণ করলেন যে, তুমি কি আমাকে দোষারোপ করছ, না আমার সৃষ্ট কুকুরকে দোষারোপ করছ? তুমি কি এরচেয়ে উত্তম কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম? হযরত নূহ (আঃ) তাঁর এই ভুলের জন্য সর্বদা ক্রন্দন করতেন। (সাবীঃ খন্ড ১, পৃষ্ঠা: ২৩৩)হযরত নূহ (আঃ)-এর সর্বমোট বয়স কত হয়েছিল এবং যখন নবুওয়াত লাভ করেন তখন তাঁর বয়স কতছিল?হযরত নূহ (আঃ)-এর সর্বমোট বয়স হয়েছিল এক হাজার পঞ্চাশ বছর। তাঁর নবুওয়ত প্রাপ্তির বয়স সম্পর্কে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, তিনি পঞ্চাশ বছর বয়সে নবুওয়ত লাভ করেছেন। কেউবলেছেন বায়ান্ন বছর, আবার কেউ বলেছেন একশত বছর। (সাবী: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠাঃ ২৩৩) চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়ত প্রাপ্তির একটি উক্তিও রয়েছে। (সাবীঃ খণ্ড ৩, পৃষ্ঠাঃ ১১৫)

প্রঃ হযরত নূহ (আঃ)-কে জাহাজ বানানোর পদ্ধতি কে শিখিয়েছিল এবং এই জাহাজ কতদিনে তৈরী হয়েছিল?

উঃ আল্লাহ তা’আলা হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি হযরত নূহ (আঃ)-কে জাহাজ বানানোর নিয়ম-পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন। এই জাহাজ দুই বছরে তৈরী করা হয়েছিল। (সাবীঃ খণ্ড ৩, পৃষ্ঠাঃ ১১৬) প্রঃ হযরত নূহ (আঃ)-এর জাহাজের দৈর্ঘ্য প্রন্থ ও উচ্চতা কতটুকু ছিল, এটা কয়তলা বিশিষ্ট ছিল?

উঃ হযরত নূহ (আঃ)-এর জাহাজের দৈর্ঘ্য ছিল তিন শ’ হাত, প্রস্থ ছিল

পৃষ্ঠা:১১

পঞ্চাশ হাত এবং উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত। জাহাজটি ছিল তিনতলা বিশিষ্ট। নীচের তলায় ছিল হিংস্র জন্তু ও পোকা-মাকড়। দ্বিতীয় তলায় ছিল চতুষ্পদ জন্তু, গরু মহিষ ইত্যাদি এবং তৃতীয় ও উপরের তলায় ছিল মানুষ। (জালালাইনের হাশিয়া, জামাল)কেউ কেউ জাহাজটির দৈর্ঘ্য ত্রিশ হাত, প্রন্থ পঞ্চাশ হাত ও উচ্চতা ত্রিশ হাত ছিল বলেও বর্ণনা করেছেন। হাতের দ্বারা তারা কাঁধ পর্যন্ত পুরা হাতকে গণ্য করেছেন। (সাবী। খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪ ১১৬)

প্রঃ এই জাহাজে কতজন লোক ছিলেন?

উঃ কেউ কেউ লোকের সংখ্যা আশি জন বলেছেন। যার অর্ধেক পুরুষ ও অর্ধেক মহিলা ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, নারী পুরুষ মিলে সত্তরজন ছিল। (সাবীঃ খণ্ড ১. পৃষ্ঠাঃ ২৩৩)

কেউ কেউ বলেছেন নয়জন। তিনজন হযরত নূহ (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্য হতে অর্থাৎ হাম, সাম ও ইয়াফেস। এতদ্ব্যতীত আরো ছয়জন ছিল। কেউ কেউ বলেছেন যে, হযরত নূহ (আঃ)-এর সন্তানদের ব্যতীতই নয়জন ছিল। (সাবী: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠাঃ ২৩৩)

প্রঃ হযরত নূহ (আঃ) জাহাজে কোন মাসে আরোহন করেছিলেন? জাহাজ কোন্ দিন কোথায় গিয়ে থেমেছিল? তিনি জাহাজের মধ্যে কতদিন ছিলেন?

উঃ হযরত নূহ (আঃ) রজব মাসের দশ তারিখ জাহাজে আরোহন করেন এবং জাহাজ মুহররম মাসের দশ তারিখ মুসেল শহরের সুউচ্চ ‘জুদী’ পাহাড়ে গিয়ে থামে। তিনি জাহাজে দীর্ঘ ছয় মাস অবস্থান করেন। (সাবীঃ খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪ ১১৬)

প্রঃ যে জুদী পাহাড়ে গিয়ে জাহাজ থেমেছিল এই পাহাড় কতটুকু উঁচু ছিল? উঃ এই পাহাড়ের উচ্চতা ছিল চল্লিশ হাত। (সাবীঃ খণ্ড ৩, পৃষ্ঠাঃ ২৩৩, পারা: ১৯)

প্রঃ তুফানের পর হযরত নূহ (আঃ) কত বছর জীবিত ছিলেন?

উঃ এ ব্যাপারে সঠিক অভিমত হলো এই যে, এই তুফানের পর হযরত নূহ (আঃ) ষাট বছর জীবিত ছিলেন। (সাবী: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা: ১১৫)

কেউ কেউ বলেন, তুফানের পর তিনি আড়াইশো বছর জীবিত ছিলেন। (সাবীঃ খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪ ২৩৩, পারা: ১৯)

প্রঃ পৃথিবীর কোন অঞ্চলের লোক ‘নূহ’ (আঃ)-এর কোন ছেলের বংশের লোক?

উঃ হযরত নূহ (আঃ)-এর তিন পুত্র ছিল, হাম, সাম ও ইয়াফেস। হিন্দুস্থান, সিন্ধু ও হাবশার লোকেরা হামের বংশধর। রোম, পারস্য ও আহলে আরব হলো সামের বংশধর। আর ইয়াফেসের বংশধর হলো ইয়াজুজ-মাজুজ, তুর্কী ও সালাব জাতি। (বুস্তানে আবুল লাইস)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে তথ্যাবলী

প্রঃ হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে যখন নমরূদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তাঁর বয়স কত ছিল?

উঃ এ সময়ে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর বয়স ছিল যোল। কেউ কেউ বলেছেন যে, তখন তাঁর বয়স ছিল ছাব্বিশ। সোবীঃ খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ঃ ১২, পারা ৪ ১৭)

প্রঃ হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে যে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল এরজন্য কতদিন পর্যন্ত লাকড়ী সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কতদিন পর্যন্ত তা প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছিল?

উঃ এজন্য একমাস পর্যন্ত লাকড়ী সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সাতদিন পর্যন্ত তা প্রজ্জ্বলিত করা হয়। (সাবী ৪ পৃষ্ঠা ৪ ৮২)

প্রঃউঃ হযরত ইবরাহীম (আঃ) আগুনে কতদিন ছিলেন?

সাতদিন। কেউ কেউ বলেছেন, চল্লিশ দিন, আবার কেউ কেউ পঞ্চাশ দিনের কথাও বলেছেন। (সাবীঃ পৃষ্ঠাঃ ৮২)

প্রঃ অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপের পর হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে কি পোশাক পরিধান করানো হয়েছিল, এই পোশাক কে এনেছিল এবং কোথেকে আনা হয়েছিল?

উঃ তখন তাকে রেশমের পোশাক পরিধান করানো হয়েছিল, যা হযরত জিবরাঈল (আঃ) এনেছিলেন এবং এটা ছিল বেহেশতের পোশাক। (সাবী: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪ ৮২)

পৃষ্ঠা:১২

প্রঃ হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে কিসের সাহায্যে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল? এই কৌশল তাদেরকে কে শিখিয়েছিল?

উঃ হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে চড়কের সাহায্যে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। চড়ক তৈরীর এই কৌশল তাদের শয়তান শিখিয়েছিল। ব্যাপার ছিল এই যে, নমরূদ হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে একটি কক্ষে আবদ্ধ রাখার পর যখন তাঁকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করার জন্য বের করে আনে, তখন তাদের বুঝে আসছিল না যে, এই ভয়ংকর অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে কিভাবে নিক্ষেপ করা যাবে। কেননা, অগ্নিকুণ্ডের প্রচণ্ড তাপে এর নিকটবর্তী হওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। এ সময় সেখানে শয়তানের আগমন ঘটে। আর অভিশপ্ত শয়তান তাদেরকে চড়ক বানানোর কৌশল শিখিয়ে দেয়। (সাবীও খণ্ড ৩, পৃষ্ঠাঃ ৮২) প্রঃ সেই ঘরের প্রন্থ ও উচ্চতা কতটুকু ছিল যেখানে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে নিক্ষেপ করা হয়েছিল?

উঃ সেই ঘরের উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত। আর গ্রন্থ ছিল বিশ হাত। (জালালাইন শরীফের হাশিয়া ৪ পৃষ্ঠাঃ ৩৭৭)

প্রঃ সকল আম্বিয়াগণই কেবল একবার হিজরত করেছেন কিন্তু সেই নবী কে, যিনি দুইবার হিজরত করেছেন।

উঃ তিনি হলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ)। তিনি প্রথম হিজরত করেছেন ইরাকের অন্তর্গত বাবেল শহরের কোশা নামক জনপদ থেকে কৃষ্ণার দিকে। দ্বিতীয় হিজরত করেছেন কুফা থেকে সিরিয়ার দিকে। (কাশশাফ)

প্রঃ হযরত ইবরাহীম (আঃ) হতে যে সকল কাজের সূচনা হয়েছে, সেগুলো কি কি?

উঃ (১) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম (বুগয়াতুয যমআন) الله اكبر বলেছেন।

(২) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম জুমআর জন্য গোসল করেছেন। (মুহাযারা ও পৃষ্ঠা ৪ ৫৮, বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠা: ২৩)

(৩) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম মিম্বরের উপর খুৎবা দিয়েছেন। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারাঃ পৃষ্ঠা ৪ ১৪৩)

(৪) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম কুল্লি ও মেসওয়াক করেছেন। তবে কেউ কেউ বলেছেন, সর্বপ্রথম মেসওয়াককারী হলেন হযরত মূসা

(আঃ)। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় কাসাসুল আম্বিয়া)

(৫) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম নাকে পানি দিয়েছেন। (বুগয়াতুষ যমআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারা)

(৬) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম নখ কেটেছেন। (বুগয়াতুয

যমআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারা)

(৭) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম মোচ এবং

(৮) বগলের লোম কেটেছেন। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারা ৪ পৃষ্ঠা: ৫৮)

(৯) আম্বিয়াদের মধ্যে সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর দাড়ি সাদা

হয়েছে। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারা ৪ পৃষ্ঠা ও ৫৮) (১০) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম নাভীর নীচের লোম কেটেছেন। (বুগয়াতুয যমআন)

(১১) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম মেহদীর খেযাব ব্যবহার করেছেন। (বুগয়াভূষ যমআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারা পৃষ্ঠা ৪ ৯)

(১২) আম্বিয়াদের মধ্যে হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম স্বীয় খাৎনা করেছেন। (কাসাসুল আম্বিয়া ৪ পৃষ্ঠাঃ ৬৮) (১৩) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম পানি দ্বারা এস্তেঞ্জা করেছেন।

(বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারা ৪ পৃষ্ঠা : ৫৮)

(১৪) হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম মেহমানদারী করেছেন এবং গনীমতের মাল আল্লাহর পথে খরচ করেছেন। (কামেল, মুহাযারাঃ পৃষ্ঠা ৪ ৫৭, বুগয়াতুয যমআন)

প্রঃ কোন নবী উম্মতে মুহাম্মদীকে সালাম বলেছেন?

উঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজ গমনের পর তথা হতে প্রত্যাবর্তন করার সময় হযরত ইবরাহীম (আঃ) উম্মতে মুহাম্মদীকে সালাম প্রেরণ করেছিলেন। (মিশকাত শরীফঃ খণ্ড ২, পৃষ্ঠাঃ ২০২)

পৃষ্ঠা:১৩

হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত খিযির (আঃ) সম্পর্কে তথ্যাবলী

প্রঃ হযরত মূসা (আঃ)-এর দেহ মুবারক কয় হাত লম্বা ছিল?

উঃ হযরত মূসা (আঃ)-এর দেহ মুবারক তের হাত লম্বা ছিল। (হায়াতে আদম (আঃ): তাবাকাতে ইবনে সা’আদ হতে সংগৃহীত)

প্রঃ হযরত মূসা (আঃ) কত বছর জীবিত ছিলেন।

উঃ হযরত মূসা (আঃ) একশত বিশ বছর জীবিত ছিলেন। হোশিয়া জালালাইন। খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪ ১৩৮, পারা ৪ ৯)

প্রঃ হযরত মূসা (আঃ)-এর শ্রদ্ধেয়া মাতা এবং তাঁর স্ত্রীর নাম কি ছিল?

উঃ হযরত মূসা (আঃ)-এর মাতার নাম সম্পর্কে চার প্রকার মত রয়েছে। (১) মিহয়ানা বিনতে ইয়াসহার ইবনে লাবী। (২) বাযাখত (৩) বারখা (৪) ইউহানায। চতুর্থ মতটিই সঠিক ও বিশুদ্ধ। (ইকান)

তাঁর স্ত্রীর নাম কেউ বলেছেন, ‘সারা’। কেউ বলেছেন, ‘সারিয়া’ আবার কেউ কেউ বলেছেন, সারাহ। (হাশিয়া জালালাইনঃ পৃষ্ঠা:

২৬১ জুমাল হতে সংগৃহীত)

প্রঃ যেসকল জাদুকরের সাথে হযরত মূসা (আঃ)-এর মুকাবিলা হয়েছিল, তাদের সংখ্যা কত ছিল? তারা কিসের উপর উপবেশন করেছিল? আর তাদের হাতে কি ছিল?

উঃ জাদুকরদের সংখ্যা ছিল সত্তর হাজার। তারা চেয়ারে বসেছিল এবং প্রত্যেকের হাতে একটি করে রশি ছিল। (জালালাইন শরীফঃ খণ্ড ২, পৃষ্ঠাঃ ২৬৩, পারা: ১৬)

প্রঃ হযরত মূসা (আঃ)-এর লাঠির নাম কি ছিল?

উঃ হযরত মুকাতিল (রহঃ) এই লাঠির নাম ‘নাবআ’ বলে উল্লেখ করেছেন। আর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নাম বলেছেন মাশা। (তফসীরে ইবনে কাসীর)

প্রঃ হযরত মুসা (আঃ) এই লাঠি কোথায় পেয়েছিলেন এবং এটি কি কাঠের তৈরী ছিল?

উঃ এটা সেই লাঠি, যা হযরত আদম (আঃ) বেহেশত হতে নিয়ে

এসেছিলেন। হাত বদল হতে হতে এটা হযরত শুআইব (আঃ)-এর নিকট পৌঁছেছিল। অতঃপর হযরত শুআইব (আঃ) এটা বকরী চরানোর জন্য হযরত মূসা (আঃ)-কে দিয়ে দিয়েছিলেন। এই লাঠি বেহেশতের রাইহান কাঠের তৈরী ছিল। (রূহুল মাআনী ৪ পৃষ্ঠা: ১৭৪) আরেক উক্তি হলো এই যে, এটা বেহেশতের ‘আস’ নামক বৃক্ষের কাঠের ছিল। (হায়াতে আদম (আঃ))

প্রঃ এই লাঠি কতটুকু লম্বা ছিল?

উঃ কেউ বলেছেন দশ হাত, কেউ কেউ বলেছেন বার হাত। (রূহুল মাআনী ৪ পৃষ্ঠা ৪ ১৭৪)

প্রশ্ন হযরত মূসা (আঃ) এই লাঠি জাদুকরদের সম্মুখে রেখে দেওয়ার পর তা কিরূপ আকৃতি ধারণ করেছিল?

উঃ জাদুকরদের সম্মুখে লাঠি রেখে দেওয়ার পর তা একটি বিশাল ও ভয়ংকর আযদাহার আকৃতি ধারণ করেছিল। এর নীচের চোয়াল ছিল মাটিতে আর উপরের চোয়াল ছিল ফেরাউনের প্রাসাদ শীর্ষ গম্বুজের উপর। এ সময়ে তার উভয় চোয়ালের মাঝে চল্লিশ হাতের দূরত্ব ছিল। (হায়াতুল হায়ওয়ান) হাশিয়া জালালাইন। খণ্ড ১. পৃষ্ঠাঃ ১৩৮-এ আশি হাত দূরত্বের কথা উল্লেখিত হয়েছে।

প্রঃ হযরত মূসা (আঃ)-কে তাঁর মাতা লোহিত সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার পূর্বে কয়দিন দুগ্ধপান করিয়েছিলেন এবং সাগরে কোন দিন ভাসিয়েছিলেন?

উঃ লোহিত সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার পূর্বে হযরত মুসা (আঃ)-কে তাঁর মাতা তিন মাস দুগ্ধপান করান এবং জুমআর দিন তাঁকে সাগরে ভাসিয়েছিলেন। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ড ২, পৃষ্ঠা: ২৬)

প্রঃ হযরত মূসা (আঃ) যখন বনী ইসরাঈলকে সাথে নিয়ে মিসর ত্যাগ করেন, তখন তিনি পথ ভুলে গিয়েছিলেন কেন?

উঃ এ ব্যাপারে তিন প্রকার উক্তি রয়েছে। প্রথম উক্তি হলো এই যে, আল্লাহ তা’আলা যখন হযরত মূসা (আঃ)-কে মিসর থেকে সিরিয়া যাওয়া নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁকে এ হুকুমও দিয়েছিলেন যে, মিসর ত্যাগের সময় হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর লাশ মুবারকও আপনার সঙ্গে করে সিরিয়া নিয়ে যাবেন। কিন্তু এ কথাটি হযরত মূসা (আঃ)-এর স্মরণ

পৃষ্ঠা:১৪

ছিল না। তিনি হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর লাশ সঙ্গে নেন নাই। বস্তুতঃ এ কারণেই তিনি পথ ভুলে গিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় উক্তি হলো এই যে, হযরত মূসা (আঃ) যখন বনী ইসরাঈলকে সঙ্গে করে মিসর ত্যাগ করার সময় পথ ভুলে যান, তখন তিনি বনী ইসরাঈলের লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কি হলো? আমরা পথ ভুলে গেলাম কেন? তখন বনী ইসরাঈলের জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তিরা বলল, এর কারণ হলো এই যে, হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর ইন্তেকালের সময় নিকটবর্তী হলে তিনি আমাদেরকে ওসীয়ত করেছিলেন যে, তোমরা যখন মিসর ত্যাগ করে চলে যাবে, তখন আমার লাশও তোমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাবে। হযরত মূসা (আঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর কবর কোথায় তা কি তোমাদের জানা আছে? তারা বলল, এক অতিশয় বৃদ্ধা ব্যতীত তা আর কেউ অবগত নয়। হযরত মুসা (আঃ) বৃদ্ধার নিকট কবরের সন্ধান জানতে চাইলেন। বৃদ্ধা হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর কবরের সন্ধান দেওয়ার জন্য একটি শর্ত জুড়ে দিল। তা হলো এই যে, আপনাকে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, বেহেশতে আপনি আমাকে আপনার সঙ্গে রাখবেন। হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহর হুকুমে বৃদ্ধার এই শর্ত গ্রহণ করে নেন। তখন বৃদ্ধা হযরত ইউসুফ (আঃ)- এর কবরের সন্ধান বলে দেয়। (হাশিয়া জালালাইন: পৃষ্ঠাঃ ৩৮২) তীয় উক্তি হলো এই যে, হযরত মূসা (আঃ) যখন বনী ইসরাঈলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে থাকেন, তখন চাঁদের আলো টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে যেতে থাকে। এভাবে এক ঘন অন্ধকারে সবকিছু ডুবে যায়। যে কারণে তারা পথ হারিয়ে ফেলে। হযরত মুসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের প্রাজ্ঞ লোকদেরকে একত্রিত করে বললেন, ব্যাপার কি! আমরা তো পথ হারিয়ে ফেলেছি? তারা বলল, মূলতঃ এর কারণ হলো এই যে, হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁর মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ে আমাদেরকে ওসীয়ত করেছিলেন যে, তোমরা যখন মিসর ত্যাগ করবে তখন আমার লাশও সঙ্গে করে নিয়ে যাবে। তাই যতক্ষণ আমরা তার লাশ মুবারক সঙ্গে না নিব, ততক্ষণ আমরা পথ পাব না। অতঃপর জনৈক বৃদ্ধা এই শর্তে হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর কবরের সন্ধান বলে দিল যে, হযরত মুসা (আঃ) বৃদ্ধাকে বেহেশতে তাঁর সঙ্গে রাখবেন। যখন হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর লাশ মুবারক সঙ্গে নেওয়া হলো তখন চাঁদ আলোর এমন ঝলক নিয়ে উদ্ভাসিত হলো, যেমন সূর্য উদিত হওয়ার সময় আলোকোজ্জ্বল হয়ে যায়। (হাশিয়া জালালাইনঃ পৃষ্ঠাঃ ৩৮২) 

প্রঃ যে বৃদ্ধা মহিলা হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর কবরের সন্ধান দিয়েছিল, তার নাম কি? সে কত বছর জীবিত ছিল?

উঃ এই বৃদ্ধার নাম মরিয়াম বিনতে নামুসা। সে সাতশো বছর জীবিত ছিল। (হাশিয়া জালালাইন: পৃষ্ঠাঃ ৩৮২)

প্রঃ হযরত মুসা (আঃ) এবং তার খাদেম ইউশা ইবনে নূন হযরত খিযির (আঃ)-এর নিকট যাওয়ার সময় সাথে করে যে মাছ নিয়েছিলেন এর দৈর্ঘ্য প্রস্থ কি ছিল?

উঃ এই মাছটির দৈর্ঘ্য ছিল এক গজের বেশী এবং প্রস্থ ছিল আধ হাত। (হায়াতুল হায়ওয়ান ৪ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪ ৩৮৩)

প্রঃ এই মাছটির আকৃতি কেমন ছিল?

উঃ মাছটির চোখ ছিল একটি আর মাথা ছিল অর্ধেক। উভয় পাশে কাটা ছিল। এই মাছের বংশধারা আজও অবশিষ্ট রয়েছে। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড ১. পৃষ্ঠাঃ ৩৮৩)

প্রঃ হযরত খিযির (আঃ)-এর প্রকৃত নাম কি? তাঁকে খিযির বলা হয় কেন?

উঃ ‘তাঁর প্রকৃত নাম ‘বালয়া’। ‘খিযির’ অর্থ সবুজ। তাঁকে খিযির উপাধি এইজন্য দেওয়া হয়েছে যে, তিনি যেখানেই বসতেন সেখানের মাটি (গুল্ম-লতা ও ঘাস) সবুজ শ্যামল হয়ে যেত। তাঁর উপনাম নাম ছিল আবুল আব্বাস। (সাবী)

প্রঃ যে জালেম বাদশা জবরদস্তি নৌকা ছিনিয়ে নিত এবং যার ভয়ে হযরত খিযির (আঃ) গরীব লোকদের নৌকা ছিদ্র করে দিয়েছিলেন, সেই বাদশার নাম কি ছিল?

উঃ তাঁর নাম ছিল ‘জীসূর’। সে গাসসান এলাকার বাদশা ছিল। (সাবী:খণ্ড ৩. পৃষ্ঠা: ২৩) কেউ কেউ বলেছেন, তার নাম ছিল হুদাদ ইবনে বুদাদ। (বুখারী শরীফঃখণ্ড ২, পৃষ্ঠা: ৬৮৯)

পৃষ্ঠা:১৫

কেউ কেউ তার নাম ‘জলন্দী’ বলেও উল্লেখ করেছেন। (জালালাইন শরীফ ৪ খণ্ড : ১, পৃষ্ঠাঃ ২৫০, পারা ১২)

আবার কেউ কেউ বলেছেন, তার নাম ছিল ‘মাফওয়াদ ইবনে জুলন্দ ইবনে সাঈদ আল আযদী। সে স্পেনের দ্বীপ এলাকায় বসবাস করতো। (রূহুল মাআনী। খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠাঃ ১০)

প্রঃ হযরত মূসা (আঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সময় হযরত খিযির (আঃ) যে ছেলেটিকে হত্যা করেছিলেন, তার নাম কি ছিল?

উঃ ইমাম বুখারী (রহঃ) তার নাম ‘জীসুর’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তার নাম ছিল ‘হীসুর’। রূহুল মাআনীর গ্রন্থকার বলেছেন ‘জান্নাতুর’। ফতুহাতে ইলাহিয়্যার গ্রন্থকার বলেছেন, তার নাম ছিল ‘শামউন’।

প্রঃ যে দুইজন লোকের ঝগড়ারত অবস্থায় একজনকে হযরত মূসা (আঃ) মেরে ফেলেছিলেন, সেই দুই ব্যক্তি কে? তাদের নাম কি ছিল? উঃ ঝগড়াকারী দুইজনের একজন ছিল ইসরাঈলী। তার নামের ব্যাপারে

মতবিরোধ রয়েছে। কেউ বলেছেন, তাঁর নাম ছিল ‘হিষকীল’। হাশিয়া

জালালাইন: পৃষ্ঠা: ৩২৮)

কেউ বলেছেন, ‘শামউন’। আবার কেউ কেউ ‘সামআ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তফসীরে মাযহারী এবং ফতুহাতে ইলাহিয়্যার গ্রন্থকারদ্বয় ‘সামআ’র পরিবর্তে ‘সামআন’ বলেছেন। অপর ব্যক্তি ছিল কিবতী। তাঁর নাম ছিল। ‘ফালসীউন’। (আলালাইনঃ পৃষ্ঠাঃ ৩২৭) এবং ‘জুমাল’-এ তাঁর নাম ‘কাব’ এবং তফসীরে রুহুল মাআনীতে ‘কানূন’ উল্লেখিত হয়েছে।

হযরত সুলাইমান (আঃ) সম্পর্কে তথ্যাবলী 

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন- ولقد فتنا سليمان “আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করলাম।” অর্থাৎ প্রশ্ন হলো, আল্লাহ তা’আলা হযরত সুলাইমান (আঃ)-কে কি কারণে পরীক্ষা করেছিলেন?

উঃ এই পরীক্ষার কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন অভিমত থাকলেও এগুলোর ভিত্তি খুবই দুর্বল। বস্তুতঃ সঠিক কারণ তাই, যা সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে। তাহলো, একদা হযরত সুলাইমান (আঃ) এই মনোভাব ব্যক্ত করলেন যে, আজ রাত্রে আমি আমার নব্বইজন (অপর এক বর্ণনা মতে) একশো জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করব এবং এতে প্রত্যেক স্ত্রী একজন করে পুত্র সন্তান প্রসব করবে, যারা প্রত্যেকেই আল্লাহর পথে জেহাদ করবে। এ সময় তাঁর একজন সঙ্গী তাঁকে বললেন, আপনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলুন। কিন্তু হযরত সুলাইমান (আঃ) ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেন নাই। যার ফল হলো এই যে, স্ত্রীদের মধ্যে শুধু একজন গর্ভবতী হয় এবং তার গর্ভ থেকেও কেবল একটি বিকলাঙ্গ সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। একজন মহামান্য নবীর পক্ষে ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলার ত্রুটি আল্লাহ তা’আলা পছন্দ করলেন না। এজন্য তিনি হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর প্রয়াস নিষ্ফল করে দিলেন এবং তিনি পরীক্ষায় পতিত হলেন।

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কসম সেই মহান সত্তার যার হাতে আমার জীবন, যদি হযরত সুলাইমান (আঃ) ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন তাহলে প্রত্যেক স্ত্রীর পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হতো এবং সকলেই আল্লাহর পথের মুজাহিদ হত্যে। (সাবীঃ খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪ ৩৫৮-৩৫৯)

প্রঃ হযরত সুলাইমান (আঃ) যে মহিলার নিকট আংটি রাখতেন সে কে, তাঁর নাম কি ছিল।

উঃ এই মহিলা হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর ‘উম্মে ওলাদ’ ছিল। তাঁর নাম ছিল আমিনা। (সাবী: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠাঃ ৩৫৮, জালালাইন। খণ্ড ২, পৃষ্ঠাঃ ৩৮২)

প্রঃ যে দুষ্ট জিনটি হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর আংটি চুরি করেছিল, তার নাম কি? সে কয়দিন হুকুমত করেছিল?

উঃ এই জিনের নাম ছিল ‘সাখার’। সাখার অর্থ প্রান্তর। যেহেতু সে বিশাল বপুর অধিকারী ছিল, তাই তার নাম ছিল সাখার বা প্রান্তর। এই জিন হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর অনুরূপ আকৃতি ধারণ করেছিল। সে চল্লিশ দিন হুকুমত করেছিল। চল্লিশ দিন পর সে সিংহাসন ত্যাগ করে পালিয়ে যায় এবং আংটি নদীতে ফেলে দেয়। একটি মাছ সে আংটি গিলে ফেলো te

পৃষ্ঠা ১৬ থেকে ৩০

পৃষ্ঠা:১৬

অতঃপর সেই মাছ হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর হস্তগত হয় এবং তিনি মাছের পেট কেটে আংটি বের করেন। (জালালাইন ৪ পৃষ্ঠা ৪ ৩৮২)

প্রঃ সেই জিনের নাম কি ছিল যে হযরত সুলাইমান (আঃ)-কে বলেছিল যে, আপনি বসা থেকে দাঁড়াবার আগেই আমি বিলকিসের সিংহাসন এনে আপনার সম্মুখে হাজির করব?

উঃ হযরত ওহাব ইবনে মুনাব্বেহ (রহঃ) এই জিনের নাম ‘কযা’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ বলেছেন তার নাম ছিল ‘সাখার জিন্নী’। আর কেউ কেউ তার নাম ‘যাকওয়ান’ বলেছেন। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড ২. পৃষ্ঠাঃ ৩২)

প্রঃ যে ব্যক্তি চোখের পলক মারার আগে বিলকিসের সিংহাসন হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর সম্মুখে নিয়ে এসেছিল সে ব্যক্তি কে? তার নাম কি ছিল?

উঃ এ ব্যক্তি হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর উজির ছিল। তাঁর নাম ছিল ‘আসিফ ইবনে বরখিয়া’। (তফসীরে মাযহারী)

প্রঃ হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর ফরস বা গালিচা কিসের তৈরী ছিল? এতে বসার কি নিয়ম ছিল?

উঃ হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর গালিচা স্বর্ণ খচিত রেশমের তৈরী ছিল। এই গালিচা আয়তনে ছিল বিশাল। গালিচার উপর মাঝখানে একটি মিশ্বর থাকত। হযরত সুলাইমান (আঃ) এই মিশ্বরের উপর উপবেশন করতেন। এর আশে-পাশে স্বর্ণ-রৌপ্য নির্মিত ছয় হাজার চেয়ার রাখা হত। স্বর্ণের তৈরী চেয়ারগুলোতে নবীগণ এবং রূপার চেয়ারগুলোতে উলামাগণ বসতেন। অতঃপর সাধারণ মানুষ বসত, অতঃপর জিন্নাত বসত। পাখিরা হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর মাথার উপর ছায়া দিত। হাওয়া তাঁর নির্দেশানুযায়ী এই বিশাল সিংহাসন নিয়ে উড়ে যেত। (জুমাল, রুহুল মাআনী: পৃষ্ঠা ৪ ১৭৫, পারা ৪ ১৯)

প্রঃ হুদহুদে সুলাইমানী ও হুদহুদে ইয়ামনী কাকে বলা হয়? এদের নাম কি ছিল?

উঃ হুদহুদে সুলাইমানী ও হুদহুদে ইয়ামনী দুইটি পাখিকে বলা হয়। হুদহুদে সুলাইমানী হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞ ছিল,

সে সেনাবাহিনীর আগে আগে থাকত এবং পানির সন্ধান দিত। এর নাম ছিল ‘ইয়াফুর’। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪ ৩৯২) আর হুদহুদে সুলাইমানীর সাথে বিলকিসের বাগানে যে হুদহুদটির সাক্ষাত হয়েছিল এবং একে অপরের নিকট হাল অবস্থা অবগত হয়েছিল সেটিকে বলা হয় হুদহুদে ইয়ামনী। এর নাম ছিল ‘আফীর’। (সাবী: পৃষ্ঠাঃ ১৯২)

প্রঃ হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর সাথে আলাপকারী পিপড়ার নাম কি ছিল? পিঁপড়া হযরত সুলাইমান (আঃ)-কে কি উপহার দিয়েছিল?

উঃ এই পিঁপড়ার বিভিন্ন নাম উল্লেখ করা হয়েছে যেমন ‘তাখিয়া’ ‘জারমা’ ইত্যাদি। রূহুল মাআনীর গ্রন্থকার আল্লামা আলুসী (রহঃ) এবং তফসীরে মাযহারীর গ্রন্থকার আল্লামা সানাউল্লাহ পানিপথী (রহঃ) হযরত যাহহাক (রহঃ)-এর বর্ণনা সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন যে, এই পিঁপড়ার নাম ছিল ‘তাহিয়্যা’ বা ‘জাযমা’। কেউ কেউ বলেছেন, এর নাম ছিল ‘মুনযারা’ (জালালাইন)। আবার কেউ কেউ এর নাম ‘হাযমা’ও বলেছেন। (হায়াতুল হায়ওয়ান) এই পিঁপড়া হযরত সুলাইমান (আঃ)-কে একপ্রকার ফল উপহার দিয়েছিল। (জুমাল)

প্রঃ এই পিঁপড়া যখন হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর খেদমতে হাজির হয়েছিল, তখন সে হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর শানে কোন কবিতাটি পাঠ করেছিল?

উঃ এই পিঁপড়া হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর শানে নিম্নোক্ত কবিতা পাঠ করেছিল।

المترنَا نُهْدِى إِلى اللهِ مَالَهُ وَإِنْ كَانَ عَنْهُ ذَا عِنَا فهو قابله لو كان يهدى للجليل بقدره لا قصر عنه البحر يوما وساحله وَمَا ذَاكَ إِلَّا مِنْ كَرِيم فعاله وَالأَفَمَا فِي مِلْكِنَا مَا يُشَاكِلُ وَلَكِنَّنَا نَهْدِي إِلَى مَنْ تُحِبُّ فَيَرْضَى بِهَا عَنَّا وَيَشْكُرُ فَاعِلَه 

পৃষ্ঠা:১৭

অর্থঃ আপনি কি আমাদেরকে দেখেন নাই যে, আমরা সর্বদা আল্লাহর দরবারেতাঁর হাদিয়া দিয়ে যাচ্ছি, আর তিনি এর মুখাপেক্ষী না হয়েও তা গ্রহণ করে যাচ্ছেন। আল্লাহর মাহাত্মা অনুযায়ী যদি তাঁকে হাদিয়া দিতে হতো, তাহলে মহাসমুদ্রও তার উপকূলসহকারে একদিন শেষ হয়ে যেতো। তিনি যে আমাদের এ নগণ্য হাদিয়া গ্রহণ করেন, এটি হচ্ছে তাঁর একান্তই অনুগ্রহ। অন্যথায় আমাদের রাজ্যে তাঁর দরবারের উপযোগী কি-ই বা আছে? তবুও আমরা আপনার প্রিয়তমকে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে যাচ্ছি। ফলে, তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হচ্ছেন এবং এ ক্ষুদ্র প্রয়াসের মূল্যায়ন করে যাচ্ছেন।

প্রঃ হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর নিকট পিঁপড়া কি কি প্রশ্ন করেছিল। উঃ পিঁপড়া হযরত সুলাইমান (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিল যে, আপনার

শ্রদ্ধেয় পিতা হযরত দাউদ (আঃ)-এর নাম ‘দাউদ’ রাখা হয়েছিল কেন? হযরত সুলাইমান (আঃ) বললেন, তা আমার জানা নাই। পিঁপড়া বলল, ‘দাউদ’ শব্দের ধাতুগত অর্থ হলো চিকিৎসক। আপনার সম্মানিত পিতা তাঁর কলবের চিকিৎসা করেছিলেন। এ জন্যই তাঁর নাম হয় ‘দাউদ’ অর্থাৎ কলবের চিকিৎসাকারী। অতঃপর পিঁপড়া জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা আপনার নাম সুলাইমান কেন রাখা হয়েছে? হযরত সুলাইমান (আঃ) জওয়াব দিলেন, তা আমার জানা নাই। তখন পিঁপড়া বলল, সুলাইমান-এর অর্থ হলো সুস্থ ও সুষ্ঠু। আপনি সুস্থ ও সুষ্ঠু অন্তরের অধিকারী এই জনাই আপনার নাম সুলাইমান রাখা হয়েছে। (রূহুল মাআনী। পৃষ্ঠাঃ ১৭৯) প্রঃ লোমনাশক ঔষধ সর্বপ্রথম কে আবিষ্কার করেন?

উঃ হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর জামানায় সর্বপ্রথম দুষ্ট জিনেরা লোমনাশক ঔষধ আবিষ্কার করেছিল। এই ঔষধ আবিষ্কারের পেছনে একটি ঘটনা আছে। তাহলো এই যে, হযরত সুলাইমান (আঃ) যখন বিলকিসকে বিবাহ করার ইচ্ছা করেন, তখন জিনেরা ভাবলো যে, বিলকিস যেহেতু জিনের বংশদ্ভূত তাই হযরত সুলাইমান (আঃ) যদি তাকে বিবাহ করেন, তবে বিলকিস জিনদের যাবতীয় ভেদ ও রহস্য হযরত সুলাইমান (আঃ)- কে বলে দেবে। এভাবে তিনি আমাদের সকল গুপ্তকথা অবগত হয়ে যাবেন। সুতরাং বিবাহের পূর্বেই যে কোন উপায়ে বিলকিস সম্পর্কে হযরতসুলাইমান (আঃ)-এর মনে ঘৃণা সৃষ্টি করে দেওয়াই একান্ত জরুরী ও উত্তম কাজ হবে। সুতরাং জিনদের মধ্যে কেউ কেউ হযরত সুলাইমান (আঃ)-কে বলল, আপনি বিলকিসকে বিব্যহ করতে চান, কিন্তু তার পায়ের গোছায় তো লোম রয়েছে। এ কথা শোনার পর বিষয়টির সত্যতা যাচাই করার জন্য হযরত সুলাইমান (আঃ) একটি হাউজ তৈরী করে তা পানি দিয়ে ভরে দেন এবং পানির উপর স্বচ্ছ কাঁচ বিছিয়ে দেন। হাউজের উপর দিয়েই যাতায়াতের পথ থাকে। বিলকিস হযরত সুলাইমান। (আঃ)-এর খেদমতে হাজির হতে এসে দেখল সামনে পানির হাউজ রয়েছে। তাই সে পানি থেকে বাঁচার জন্য পরিধেয় কাপড়টি একটু উপরের দিকে টেনে নিল। এতে তার পায়ের গোছা খুলে যায়। হযরত সুলাইমান (আঃ) হাউজের অপর দিকে বসা ছিলেন। তিনি দেখলেন সত্যিই বিলকিসের পায়ের গোছা ঘন লোমে আবৃত। যাহোক, হযরত সুলাইমান (আঃ) বিলকিসকে বিবাহ তো করে ফেললেন কিন্তু তার পায়ের গোছার লোমের কারণে খুবই অস্বস্তিবোধ করতে থাকেন। সুতরাং তিনি লোমনাশ করার কোন পন্থা আছে কি-না এ বিষয়ে মানুষের সাথে পরামর্শ করলেন। লোকেরা বলল, এ জন্য ক্ষুর ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু বিলকিসকে যখন লোম ফেলে দেওয়ার জন্য ক্ষুর দেওয়া হলো তখন সে বলল, আমি আজ পর্যন্ত কোনদিন আমার শরীরে লোহা স্পর্শ করি নাই। অতঃপর হযরত সুলাইমান (আঃ) এ ব্যাপারে জিনদের সাথে পরামর্শ করলেন। কিন্তু জিনেরা এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করল। অতঃপর তিনি শয়তান জিনদের নিকট জিজ্ঞাসা করলে শয়তান জিনেরা তৎক্ষণাৎ চুনের সাথে আরো কিছু দ্রব্য মিলিয়ে লোমনাশক ঔষধ তৈরী করে দেয়। (তফসীরে খাযেন, হায়াতুল হায়ওয়ান ৪ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৩৫) প্রঃ বিলকিসের সিংহাসনের দৈর্ঘ্য প্রন্থ ও উচ্চতা কতটুকু ছিল?

উঃ এ বিষয়ে তিন প্রকার উক্তি রয়েছে। (১) হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, বিলকিসের সিংহাসন ত্রিশ হাত দৈর্ঘ্য, ত্রিশ হাত প্রস্থ ও ত্রিশ হাত উঁচু ছিল। (২) হযরত মুকাতিল (রহঃ) বলেন, বিলকিসের সিংহাসনের উচ্চতা ছিল আশি হাত। (৩) কেউ কেউ বলেন, দৈর্ঘ্যে

পৃষ্ঠা:১৮

ছিল আশি হাত, প্রন্থে চল্লিশ হাত এবং উচ্চতায় ত্রিশ হাত। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা : ৩৩)

প্রঃ কি কি কাজ হযরত সুলাইমান (আঃ) সর্বপ্রথম করেছেন?

উঃ (১) হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর বর্ণনা মুতাবেক ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ সর্বপ্রথম হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। (বুগয়াতুয যামআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারাতুল আওয়ায়েল:

পৃষ্ঠা ৪ ৪৪)

(২) হযরত সুলাইমান (আঃ) সর্বপ্রথম গোসলখানা তৈরী করেছেন। (শামীঃ খণ্ড ৪৫, পৃষ্ঠাঃ ৩৩, বুগয়াতুয যামআন-এর হাওয়ালায় যাদুল মাআদ খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা ১৩৭)

(৩) হযরত সুলাইমান (আঃ) সর্বপ্রথম সমুদ্র হতে মোতি উঠিয়েছেন। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় রূহুল বয়ানঃ খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠাঃ ৩৫৩)

(৪) হযরত সুলাইমান (আঃ) সর্বপ্রথম কবুতর পুষেছেন। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় কাসাসুল আম্বিয়া: পৃষ্ঠাঃ ২১৩)

(৫) হযরত সুলাইমান (আঃ) সর্বপ্রথম জাম্বিল বা ব্যাগ তৈরী করিয়েছেন। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারাতুল আওয়ায়েল। পৃষ্ঠাঃ ২০০)

(৬) হযরত সুলাইমান (আঃ) সর্বপ্রথম তামার শিল্প গড়ে তুলেন। (বুগয়াতুয যমআনের হাওয়ালায় মুহাযারাতুল আওয়ায়েলঃ পৃষ্ঠা ৪ ২০০)

হযরত আইয়ুব (আঃ) ও হযরত ইউনুস (আঃ) সম্পর্কে তথ্যাবলী

প্রঃ হযরত আইয়ুব (আঃ)-এর রোগের সূচনা কোন দিন হয়?

উঃ হযরত আইয়ুব (আঃ) বুধবার দিন রোগে আক্রান্ত হন। (মিশকাত শরীফঃ পৃষ্ঠা: ৩৯১)

প্রঃ হযরত আইয়ুব (আঃ) কতদিন এই রোগ ভোগ করেন?

উঃ এ সম্বন্ধে পাঁচটি উক্তি রয়েছে। (১) হযরত আনাস (রাযিঃ)-এর

বর্ণনানুযায়ী হযরত আইয়ুব (আঃ) আঠার বছর রোগে ভোগেন।

(২) হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাকেবহ (রহঃ) বলেন, হযরত আইয়ূব (আঃ) পূর্ণ তিন বছর পীড়িত ছিলেন।

(৩) হযরত কাব (রহঃ) বলেন, হযরত আইয়ুব (আঃ) সাত বছর রোগাক্রান্ত ছিলেন।

(৪) তিনি সাত বছর সাত মাস অসুস্থ ছিলেন।

(৫) সাতদিন সাত ঘণ্টা পীড়িত ছিলেন। (তফসীরে মাযহারী)

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা হযরত ইউনুস (আঃ)-কে কি উপাধি দিয়েছেন এবং কেন দিয়েছেন?

উঃ আল্লাহ তা’আলা হযরত ইউনুস (আঃ)-কে ‘খুনযূন’ উপাধি দিয়েছেন। নূন অর্থ মাছ আর যু অর্থ ওয়ালা অর্থাৎ মাছওয়ালা। মাছে গিলে ফেলার কারণে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল। (হায়াতুল হায়ওয়ান : পৃষ্ঠা ৪ ৩৮৩)

প্রঃ হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে কতদিন ছিলেন?

উঃ এ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, সাত ঘন্টা। কেউ বলেছেন, তিন দিন। কেউ বলেছেন, সাত দিন। কেউ বলেছেন, চৌদ্দ দিন। ইমাম বায়হাকী (রহঃ) বলেন, হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে চল্লিশ দিন ছিলেন। ইমাম আহমদ (রহঃ) ‘কিতাবুষ যুহদ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন যে, এক ব্যক্তি ইমাম শাবী (রহঃ)-এর সম্মুখে যখন বলল, হযরত ইউনুস “(আঃ) মাছের উদরে চল্লিশ দিন ছিলেন। তখন ইমাম শাবী (রহঃ) তাঁর প্রতিবাদ করে বললেন যে, হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে একদিনের বেশী ছিলেন না। তা এই জন্য যে, যখন হযরত ইউনুস (আঃ)-কে মাছে গিলেছিল তখন চাস্তের সময় ছিল। আর যখন তাঁকে উদগিরণ করে তখন সূর্য অস্তমিত হতে চলছিল। তখন হযরত ইউনুস (আঃ) সূর্যের আলো দেখে এই আয়াত পাঠ করেছিলেন-

لا إله إلا انتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ পৃষ্ঠা ৪ ৩৮৪)

পৃষ্ঠা:১৯

হযরত যাকারিয়া (আঃ) ও হযরত মরিয়ম (আঃ)

সম্পর্কে তথ্যাবলী

প্রঃ হযরত যাকারিয়া (আঃ)-এর স্ত্রীর নাম কি ছিল?

উঃ হযরত যাকারিয়া (আঃ)-এর স্ত্রীর নাম ছিল ‘ইশা’ বিনতে ফাকুদ”। (হাশিয়া জালালাইন, সাবীঃ খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠা ৪ ৩১)

প্রঃ পবিত্র কুরআনের কত জায়গায় হযরত মরিয়ম (আঃ)-এর উল্লেখ করা

হয়েছে?

উঃ ত্রিশ জায়গায়। (সাবীঃ খণ্ডঃ ৩. পৃষ্ঠা: ৩০)

প্রঃ হযরত মরিয়ম (আঃ)-এ মাতা-পিতার নাম কি?

উঃ হযরত মরিয়ম (আঃ)-এর পিতার নাম ইমরান এবং মাতার নাম হান্না। (সাবীঃ খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠা ৪ ৩৬)

হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে তথ্যাবলী

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা আম্বিয়ায়ে কেরামের মধ্যে শিশুকালে কয়জনকে নবুওয়ত। দান করেছেন, তারা কে কে?

উঃ এরূপ নবী দুইজন। হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ)।

হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন- يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ وَأَتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا

অর্থাৎ “হে ইয়াহইয়া। তুমি দৃঢ়তার সাথে এই কিতাব ধারণ কর এবং আমি তাকে শৈশবেই হিকমত তথা বিচারবুদ্ধি দান করেছিলেন।” আর হযরত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে স্বয়ং তাঁর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন- قال إلى عبد الله اناني الكتاب وجعلني نبياً

অর্থাৎ ঈসা বললেন, “আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী করেছেন।” (সাবী: খণ্ড ৪ ৩, পৃষ্ঠাঃ ২৩)

প্রঃ হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর নাম ইয়াহইয়া রাখা হলো কেন?

উঃ এ সম্পর্কে দুইটি উক্তি রয়েছে। (১) তাঁর শ্রদ্ধেয়া আম্মাজানের সন্তান ধারণের ক্ষমতা রহিত হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তা’আলা তাঁর মাধ্যমে তাঁর মায়ের রেহেমকে সন্তান ধারণের জন্য সচল ও উপযুক্ত করে দেন। (২) তাঁর নাম ইয়াহইয়া এই জন্য রাখা হয়েছে যে, আল্লাহ তা’আলা তাঁর মাধ্যমে মানুষের অন্তরগুলোকে জিন্দা করে দিয়েছিলেন। (হাশিয়া জালালাইন, পৃষ্ঠা ৪ ২৫৪)

প্রঃ হযরত ঈসা (আঃ)-কে যখন আল্লাহ তা’আলা আকাশে উঠিয়ে নেন তখন তার বয়স কত ছিল?

উঃ এ বিষয়ে দুইটি অভিমত রয়েছে। (১) তেত্রিশ বছর (২) একশত বিশ বছর। (হাশিয়া জালালাইন ৪ পৃষ্ঠা ৪ ৫৩)

প্রঃ হযরত ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে পুনরায় কখন তশরীফ আনবেন? তিনি আকাশ থেকে কিভাবে অবতরণ করবেন এবং কোথায় অবতরণ করবেন?

উত্তরঃ হযরত ঈসা (আঃ) কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করবেন। তিনি দুইজন ফেরেশতার কাঁধে ভর করে দুইটি রঙিন চাদর পরিহিত অবস্থায় দামেস্কের জামে মসজিদের পূর্ব দিকের মিনারায় অবতরণ করবেন। (হাশিয়া জালালাইন। খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা ৫২, তিরমিযী শরীফ ও বেহেশতী যেওর)

প্রশ্ন আকাশ থেকে অবতরণ করার পর হযরত ঈসা (আঃ)-এর সন্তান-সন্ততিও হবে?

উঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হযরত ঈসা (আঃ) দুনিয়াতে আগমন করবেন। তিনি বিবাহ করবেন এবং তাঁর সন্তান-সন্ততি হবে। (মিশকাত শরীফ, হাশিয়া জালালাইনঃ খণ্ডঃ ১, পৃষ্ঠা: ৫২)

প্রঃ হযরত ঈসা (আঃ) দুনিয়াতে আগমনের পর কত বছর জীবিত থাকবেন এবং তাঁর কবর কোথায় হবে?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হযরত ঈসা (আঃ) দুনিয়াতে আগমন করবেন। তিনি পঁয়তাল্লিশ বছর জীবিত থাকার পর

পৃষ্ঠা:২০

ইন্তেকাল করবেন এবং আমার মাকবারায় সমাহিত হবেন। কিয়ামতের দিন আমি ও হযরত ঈসা (আঃ) একই (হযরত ঈসা (আঃ) ও আঁ হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর এমনভাবে লাগালাগি হবে যে, মনে হবে যেন দুইজন একই কবর থেকে উঠছেন। (ছাশিয়া মিশকাত শরীফ ৪ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা : ৪৮০) কবর থেকে আবু বকর (রাযিঃ) ও উমরের মাঝে উঠব। (মিশকাত শরীফঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৪৮০, হাশিয়া জালালাইনঃ পৃষ্ঠা: ৫২, আকায়েদে নসফী)

প্রঃ হযরত ঈসা (আঃ)-এর নিকট যে দস্তরখান অবতীর্ণ হয়েছিল, তার মধ্যে কি কি খাবার ছিল?

উঃ এই দস্তরখানে বিভিন্ন প্রকার জিনিস ছিল। ভুনা মাছ ছিল। মাছের মাথার নিকট লবণ ছিল। লেজের নিকট সিরকা ছিল। রকমারী তরকারী ছিল। পাঁচটি রুটি ছিল। একটির উপর ঘি, দ্বিতীয়টির উপর যাইতুনের তৈল, তৃতীয়টির উপর মধু, চতুর্থটির উপর পনির এবং পঞ্চমটির উপর কাদীদ অর্থাৎ গোশতের কীমা ছিল। (হাশিয়া জালালাইন। খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠাঃ ১১১)

প্রঃ এই দস্তরখানায় যে খানা ছিল, তা কি বেহেশতের খানা ছিল, না দুনিয়ার খানা ছিল?

উঃ এতে না বেহেশতের খানা ছিল, না দুনিয়ার খানা ছিল। বরং আল্লাহ তা’আলা এই উভয় প্রকার খানা ব্যতীত স্বীয় কুদরতে স্বতন্ত্র একপ্রকার খানা তৈরী করে পাঠিয়েছিলেন। (হাশিয়া জালালাইনঃখণ্ড : ১, পৃষ্ঠাঃ ১১১)

প্রঃ হযরত ঈসা (আঃ) কোথায় ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। উঃ হযরত ঈসা (আঃ) ‘ওয়াদীয়ে বাইতে লাহাম’-এ ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন।

যেমনঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। আর এই অভিমতটিই প্রসিদ্ধ। (জুমাল খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠা: ৫৭) প্রঃ হযরত ঈসা (আঃ)-এর যুগে যে সকল মানুষকে শূকর বানানো হয়েছিল তাদের সংখ্যা কত ছিল এবং তারা কয়দিন জীবিত ছিল?

উঃ তাদের সংখ্যা ছিল তিনশত ত্রিশ। তারা তিনদিন পর্যন্ত জীবিত ছিল।কেউ বলেছেন যে, তারা সাত দিন জীবিত ছিল। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, তারা চার দিন পর মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল। (হাশিয়াজালালাইন। খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা ৪ ১১১) প্রঃ হযরত ঈসা (আঃ) মাঙ্গর্ভে কত দিন ছিলেন?

উঃ কেউ কেউ বলেছেন, হযরত ঈসা (আঃ) তাঁর মাতৃগর্ভে ছয় মাস ছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন, তিন ঘন্টা, আবার কেউ বলেছেন এক ঘন্টা। কেউ কেউ বলেছেন যে, তিনি তার মাতৃগর্ভে আট মাস ছিলেন। এই শেষ উক্তিটিই অধিকতর শক্তিশালী। (হাশিয়া জালালাইন। খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ২৫৫) প্রঃহযরত ঈসা (আঃ)-এর পর হুকুমত কে করবে?

উঃ আঁ হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হযরত ঈসা (আঃ) দুনিয়াতে আগমনের পর যখন ওয়াফাত লাভ করবেন, তখন ‘জাহজা’ নামক এক বাদশা হুকুমত করবে।

প্রঃ ইমাম মাহদী কত বছর জীবিত থাকবেন?কেউ কেউ বলেছেন যে, তিনি দুনিয়াতে নয় বছর জীবিত থাকবেন। কেউ কেউ বলেছেন, চল্লিশ বছর জীবিত থাকবেন। তবে উভয় উত্তির মধ্যে এভাবে সামঞ্জস্য বিধান করা যায় যে, তখনকার যুগ এমন হবে যে, তাতে দিন খুবই দীর্ঘ হবে। এই হিসাবে বর্তমানের চল্লিশ বছর হবে। আর তখনকার হিসাব অনুযায়ী এই চল্লিশ বছরই নয় বছর হবে। – তিরমিযী শরীফের দ্বিতীয় খণ্ডের চব্বিশ পৃষ্ঠায় পাঁচ, ছয় বা সাত বছরের উল্লেখ রয়েছে।

আম্বিয়ায়ে কেরাম সম্পর্কে তথ্যাবলী 

প্রঃ দুনিয়াতে সর্বমোট কতজন নবীর আগমন ঘটেছে।

উঃ হযরত আবু যর গিফারী (রাযিঃ) আঁ-হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আম্বিয়ায়ে কেরামদের সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জওয়াব দিয়েছেন যে, তাদের সংখ্যা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার। (শরহে আকায়েদঃ পৃষ্ঠাঃ ১০১, মিশকাত শরীফঃ খণ্ড ৪ ২, পৃষ্ঠাঃ৫১১)

প্রঃ দুনিয়াতে রাসূল কতজন এসেছেন?

পৃষ্ঠা:২১

উঃ হযরত আবু যর (রাযিঃ) দুনিয়াতে প্রেরিত রাসূলদের সংখ্যা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলেন তিনি বলেছিলেন, দুনিয়াতে মোট তিনশত তের জন রাসূল আগমন করেছেন। (হাশিয়া শরহে আকায়েদ পৃষ্ঠাঃ ১০১)

প্রঃ সমগ্র কুরআনে কতজন নবীর আলোচনা এসেছে?

উঃ আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে মোট পচিশ জন নবীর উল্লেখ করেছেন। (হাশিয়া জালালাইনঃ পৃষ্ঠা ৪ ৩৯৬)

প্রঃ দুইজন রাসূলের আবির্ভাবের মাঝে কত বছরের ব্যবধান ছিল? এবং কোন রাসূল কার পরে এসেছেন?

উঃ এক রাসুল থেকে আরেক রাসূলের আগমনের মাঝে এক হাজার বছরের ব্যবধান হতো। তবে কখনো কখনো এই ব্যবধানে কমবেশীও হতো। প্রতি হাজার বছরে যে সকল রাসূল আগমন করেছেন, তাদের তালিকা নিম্নরূপ :

(১) প্রথম হাজারে হযরত আদম (আঃ)

(২) দ্বিতীয় হাজারে হযরত ইদ্রীস (আঃ)

(৩) তৃতীয় হাজারে হযরত নূহ (আঃ) (৪) চতুর্থ হাজারে হযরত ইবরাহীম (আঃ)

(৫) পঞ্চম হাজারে হযরত মুসা (আঃ)

(৬) ষষ্ঠ হাজারে হযরত সুলাইমান (আঃ)

(৭) সপ্তম হাজারে হযরত ঈসা (আঃ)

(৮) অষ্টম হাজারে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।

(হায়াতুল হায়ওয়ান, আজাইবুল মাখলুকাত। খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৬৪)

 প্রঃ বড় বড় পয়গাম্বর কয়জন এবং তাঁরা কে কে?

উঃ’উলুল আযম’ পয়গাম্বর পাঁচজন। তাঁরা হলেন, (১) হযরত নূহ (আঃ) (২) হযরত ইবরাহীম (আঃ) (৩) হযরত মুসা (আঃ) (৪) হযরত ঈসা

(আঃ) ও (৫) হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ পৃষ্ঠা ৪৭৯) প্রঃ কোন কোন নবী আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং কোথায় কোথায় বলেছেন?

উঃ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজের রাতে এবং হযরত মূসা (আঃ) তুর পাহাড়ে সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন। (সাবীঃ খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠা ৪ ৩২)

প্রঃ আম্বিয়ায়ে কেরামদের মধ্যে কোন কোন নবীর নিরাপত্তার জন্য উঃ মাকড়সা জাল বুনন করেছিল এবং তা কোন কোন স্থানে? দুইজন নবীর নিরাপত্তার জন্য মাকড়সা জাল বুনন করেছিল। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর জন্য ‘গারে সওরের’ প্রবেশ পথে মাকড়সা জাল বুনন করেছিল। কারণ, তিনি হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করার পর কাফেররা তাঁকে হত্যা করার জন্য তাঁর অনুসন্ধানে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সময় তিনি তাঁর সাথী হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) সহ এই গারে সওরে তিন দিন অবস্থান করেছিলেন। এদিকে কাফের দল তাঁকে তালাশ করতে করতে এই সত্তর গুহা পর্যন্ত চলে আসে। কিন্তু তারা গুহার মুখে মাকড়সার জাল দেখে এই ভেবে চলে গেল যে, যদি মুহাম্মদ (সাঃ) গুহার ভেতরে প্রবেশ করতেন তাহলে গুহার মুখে মাকড়সার এই জাল বুনা থাকতনা। আর দ্বিতীয় জন হলেন হযরত দাউদ (আঃ)। অত্যাচারী বাদশা তালুত যখন তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল তখন তিনি একটি গুহায় আত্মগোপন করেছিলেন। তালুত যখন জানতে পারল তখন সে এই ** গুহার তল্লাশী নিতে যায়। কিন্তু গুহার মুখে মাকড়সা জাল বুনন করে রেখেছিল। যে কারণে সে গুহার তল্লাশী না করেই ফিরে গিয়েছিল। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৯২)

প্রঃ আম্বিয়ায়ে কেরামদের মধ্যে মজদুরী করেছেন কারা?

উঃ আম্বিয়ায়ে কেরামদের মধ্যে মজদুরী করেছেন দুইজন। একজন হলেন হযরত মূসা (আঃ)। তিনি হযরত শুআইব (আঃ)-এর মজদুরী করেছেন অর্থাৎ দশ বছর তাঁর বকরী চরিয়েছেন। দ্বিতীয়জন হলেন হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি হযরত খাদীজা (রাযিঃ)-এর মজদুরী করেছেন। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় মুহাযারাতুল আওয়ায়েলঃ পৃষ্ঠাঃ ৩৩০)

পৃষ্ঠা:২২

প্রঃ এমন নবী কয়জন, যারা জীবিত আছেন?

উঃ চারজন। আকাশে যারা জীবিতাবস্থায় আছেন তাঁরা হলেনঃ হযরত ঈসা ও হযরত ইদরীস (আঃ)। আর পৃথিবীর বুকে যারা জীবিত, তাঁরা হলেন। হযরত খিযির ও হযরত ইলিয়াস (আঃ)। (সাবীঃ খণ্ড ৪ ৩, পৃষ্ঠা ৪ ৪১)

প্রঃ আম্বিয়ায়ে কেরামদের মধ্যে জন্মগতভাবে যাদের খৎনা করা ছিল, তাদের সংখ্যা কত ছিল এবং তারা কে কে?

উঃ হযরত কা’ব আহবার (রহঃ) এর বর্ণনানুযায়ী তাদের সংখ্যা তের। এই আম্বিয়ায়ে কেরাম হলেন-(১) হযরত আদম (আঃ) (২) হযরত শীস (আঃ) (৩) হযরত ইদ্রীস (আঃ) (৪) হযরত নূহ (আঃ) (৫) হযরত সাম (আঃ) (৬) হযরত লূত (আঃ) (৭) হযরত ইউসুফ (আঃ) (৮) হযরত মূসা (আঃ) (৯) হযরত শুআইব (আঃ) (১০) হযরত সুলাইমান (আঃ) (১১) হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) (১২) হযরত ঈসা (আঃ) (১৩) হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর মুহাম্মদ ইবনে হাবীব হাশেমী (রহঃ) তাঁদের সংখ্যা চৌদ্দ বলেছেন

অর্থাৎ (১) হযরত আদম (আঃ) (২) হযরত শীস (আঃ) (৩) হযরত নূহ (আঃ) (৪) হযরত হুদ (আঃ) (৫) হযরত সালেহ (আঃ) (৬) হযরত সূত (আঃ) (৭) হযরত শুআইব (আঃ) (৮) হযরত ইউসুফ (আঃ) (১) হযরত মূসা (আঃ) (১০) হযরত সুলাইমান (আঃ) (১১) হযরত যাকারিয়া (আঃ) (১২) হযরত ঈসা (আঃ) (১৩) হযরত হানযালা ইবনে আবী সাফওয়ান ((১৪) হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (হায়াতুল হায়ওয়ান: খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা : ৭৯)

প্রঃ আম্বিয়ায়ে কেরামদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় কয়জনকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, তারা কে কে?

উঃ আম্বিয়ায়ে কেরামদের মধ্যে দুইজনকে জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের একজন হযরত ইদ্রীস (আঃ) ও অপরজন হযরত ঈসা (আঃ)। (সাবী)

দুগ্ধপান অবস্থায় কথা বলনেওয়ালা শিশু

প্রঃ পৃথিবীতে এমন কয়জন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে যারা দুগ্ধপান অবস্থায়ই কথা বলেছে?

উঃ পৃথিবীতে এমন চারজন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। (১) সেই শিশু, যে হযরত জুরাইজ (আঃ)-এর নির্দোষ, নিষ্কলঙ্ক ও পবিত্র হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছিল। ঘটনা হলো এই যে, সে যুগে একজন নষ্টা মহিলা একটি অবৈধ সন্তান জন্ম দেয়। সে তার এই জারজ সন্তানটিকে হযরত জুরাইজের সন্তান বলে ঘোষণা করে। তখন হযরত জুরাইজ নিজের নিষ্কলুষতা প্রমাণের জন্য শিশুটির প্রতি ইঙ্গিত করেন। তখন শিশু স্পষ্ট ভাষায় সাক্ষ্য দেয় যে, আমার পিতা তো হলো অমুক রাখাল। (২) দ্বিতীয় হলো সেই শিশু, যে জুলাইখা কর্তৃর্ক হযরত ইউসুফ (আঃ) এর প্রতি মিথ্যারোপ করার পর হযরত, ইউসুফ (আঃ)-এর নিষ্কলুষতা ও পবিত্রতার সাক্ষ্য দিয়েছিল। (৩) ফেরাউনের বাঁদীর সন্তান, যে ফেরাউনের কন্যাকে কুফরের পরিণতি সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করেছিল।

(৪) হযরত ঈসা (আঃ)। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠাঃ ৮০)

ফেরেশতাদের সম্পর্কিত তথ্যাবলী

প্রঃ ফেরেশতাগণ কাকে কাকে গোসল দিয়েছেন?.

উঃ ফেরেশতাগণ হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হানযালা ইবনে আবূ আমের সাকাফী (রাযিঃ) এই দুইজনকে গোসল দিয়েছেন। (হেদায়া: খণ্ডঃ ১. পৃষ্ঠা: ১৬৩)

প্রঃ ফেরেশতাদের মধ্যে হযরত আদম (আঃ)-কে সর্বপ্রথম কে সেজদা করেছিলেন এবং তাদের তরতীব কি ছিল?

উঃ হযরত আদম (আঃ)-কে সর্বপ্রথম সেজদা করেন হযরত জিবরাঈল (আঃ)। অতঃপর পর্যায়ক্রমে হযরত মিকাঈল (আঃ), হযরত ইসরাফীল (আঃ), হযরত আযরাঈল (আঃ) সেজদা করেন। অতঃপর অন্যান্য সকল ফেরেশতাগণ সেজদা করেন। (কিতাবুল হায়ওয়ান ৪ খণ্ড ৪ ২,

পৃষ্ঠা: ৩৮৩-এর হাওয়ালায় বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠাঃ ১১৪)

পৃষ্ঠা:২৩

প্রঃ ফেরেশতাদের মধ্যে হযরত ইসমাঈল কে? তিনি কোথায় থাকেন?

উঃ ইনি একজন মর্যাদাশীল ফেরেশতা। তিনি দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে থাকেন? শবে কদরে মানুষের আমলের রিপোর্ট তাঁর হাওয়ালা করা হয়। (রূহুল মাআনী। খণ্ডঃ ২৫, পৃষ্ঠা: ১১৩)

প্রঃ হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর ঘোড়ার নাম কি?

উঃ হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর ঘোড়ার নাম ‘হাইয়ুম’। (তফসীরে কাশশাফঃ খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠাঃ ৮৪)

প্রঃ বেহেশত ও দোযখের দারোগার নাম কি?

উঃ বেহেশতের দারোগার নাম ‘রিদওয়ান’। (গিয়াসুল লুগাতঃ পৃষ্ঠাঃ ২২১) আর দোযখের দারোগার নাম ‘মালিক’। যেমন আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন- ونادوا يا مالك ليقض علينا ربك …

প্রঃ কোন ফেরেশতা মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে আহবান করবেন? উঃ হযরত ইসরাফীল (আঃ)। (সাবী: খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠা ৪ ৬৫)

প্রঃ হযরত ইসরাফীল (আঃ) মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে কিভাবে আহ্বান করবেন?

উঃ হযরত ইসরাফীল (আঃ)-এর মুখে একটি শিংগা থাকবে। তিনি এই শিংগায় ফুৎকার দিলে একটি আওয়াজ হবে। এই আওয়াজ শ্রবণ করে মৃতেরা জীবিত হয়ে যাবে এবং কবর থেকে বের হয়ে আসবে। (সাবীঃ খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা: ৬৫)

প্রঃ হযরত ইসরাফীল (আঃ) কোথায় দাঁড়িয়ে হাশরের ময়দানের দিকে আহ্বান করবেন এবং তিনি কি বলে আহ্বান জানাবেন?

উঃ তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসের প্রান্তরে দাঁড়িয়ে ডাক দিবেন। তিনি বলবেন- ابنها العظام البالية والأوصال المنقطعة واللحوم المتمزقة إن الله يا مُرُكُنَّ أَن تَجْتَمِعْنَ لِفَصْلِ القَضَاءِ فَيَقْبَلُونَ

“হে ধ্বংসপ্রাপ্ত হাড্ডিসমূহ! হে বিচ্ছিন্ন জোড়াসমূহ। হে বিক্ষিপ্ত গোশতসমূহ। মহান আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন তোমরা যেন বিচারের জন্য একত্রিত হয়ে যাও। অতএব, লোকেরা বলবে লাব্বাইক-আমরা হাজির।” কেউ কেউ বলেছেন যে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) শিংগায় ফুৎকার দিবেন। আর আহ্বানকারী হবেন হযরত ইসরাফীল (আঃ)। (সাবী। খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৬৫)

প্রঃ ‘সূর’ কি জিনিস?

উঃ ‘সূর’ হলো নূরের একটি শিংগা। এতে ফুঁ দেওয়া হবে। তিরমিযী শরীফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ)-এর রেওয়ায়াতে আছে, একদা একজন গ্রাম্য লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ‘সূর’ কি? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন- قرن ينفخ فيد একটি শিংগা, যাতে ফুঁ দেওয়া হবে। ইমাম বুখারী (রহঃ) হযরত মুজাহিদ (রহঃ) হতে উদ্ধৃত করেছেন যে, ‘সূর’ ‘বুক’-এর মত। বুকের অর্থ হলো শিংগা। (তফসীরে রুহুল মাআনী। খণ্ডঃ ২০, পৃষ্ঠা ৪ ৩০)

প্রঃ দুনিয়াবাসীদের জন্য যেমন কেবলা আছে, আসমানবাসীদের (ফেরেশতাদের) জন্যও কি তেমনি কোন কেবলা আছে?

উঃ হাঁ আছে। দুনিয়াবাসীদের জন্য যেমন কেবলা হলো ‘কাবা’ তেমনি আসমানবাসীদের জন্য কেবলা হলো ‘আরশ’। (আজাইবুল মাখলুকাত ও গারাইবুল মাউজুদাতঃ পৃষ্ঠা ৪ ৪১)

প্রঃ সর্বপ্রথম কা’বাঘরের তওয়াফ কে করেছেন?

উঃ সর্বপ্রথম কাবাঘরের তওয়াফ করেছেন ফেরেশতাগণ। (বুগয়াতুয

যমআনের হাওয়ালায় তারীখে কামেল)

প্রঃ আযান সর্বপ্রথম কে দিয়েছিলেন ও কোথায় দিয়েছিলেন?

উঃ আযান সর্বপ্রথম হযরত জিবরাঈল (আঃ) আসমানে দিয়েছিলেন। (বুগয়াতুয যমআনের হাওয়ালায় মুহাযারাতুল আওয়ায়েল)

পৃষ্ঠা:২৪

প্রঃ ‘সুবহানাল্লাহ’ বাক্যটি সর্বপ্রথম কে বলেছিলেন।

উঃ ‘সুবহানাল্লাহ’ বাক্যটি সর্বপ্রথম হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলেছিলেন। (বুগয়াতুষ যমআন-এর হাওয়ালায় রূহুল বয়ান)

প্রঃ সর্বপ্রথম ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ কে বলেছিলেন?

উঃ হযরত ইসরাফীল (আঃ) সর্বপ্রথম বলেছিলেন। (বুগয়াতুয যমআনের হাওয়ালায় মুহাযারা)

হযরত সাহাবায়ে কেরামদের সাথে সম্পৃক্ত তথ্যাবলী হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)

প্রঃ সেই সম্মানিত সাহাবী কে যিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে নামাযের ইমামত করেছেন এবং হুযুর (সাঃ) তাঁর মুক্তাদি হয়েছেন?

উঃ সেই সাহাবী হলেন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)। যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াফাতের পূর্বে অসুস্থতা শুরু হয়, তখন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতিক্রমে নামাযের ইমামত করেছেন। (নশরুত-তীব) প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় হযরত আবু বকর

সিদ্দীক (রাযিঃ) কয় ওয়াক্ত নামাযের ইমামত করেছেন? উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় হযরত আবু বকর

সিদ্দীক (রাযিঃ) সতের ওয়াক্ত নামাযের ইমামত করেছেন। (নশরুত তীব) প্রঃ সেই সৌভাগ্যশীল সাহাবী কে, যাকে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা সালাম

পাঠিয়েছেন? উঃ সেই সৌভাগ্যশীল সাহাবী হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)। আল্লাহ তা’আলার সালাম লাভের প্রেক্ষিত হলো এই যে, একদা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে

এমন অবস্থায় উপস্থিত হন যে, তাঁর গায়ে তখন জামার পরিবর্তে একটি ছেঁড়া কম্বল ছিল। তাও আবার কাঁটা দিয়ে জোড়া লাগান ছিল। এ সময় হযরত জিবরাঈল আগমন করেন। তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু বকরের এ-কি অবস্থা হলো যে, সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও সে গরীবানা পোশাক পড়ে বসে আছে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বকর তাঁর যাবতীয় ধন- সম্পদ আমার জন্য এবং আমার আনিত দ্বীনের পথে খরচ করে সে আজ কপর্দকহীন নিঃস্ব হয়ে গেছে। হযরত জিবরাঈল (আঃ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা আবু বকরকে সালাম বলেছেন এবং তিনি জানতে চেয়েছেন যে, আবু বকর এই কপর্দকহীন, দরিদ্র ও নিঃস্ব অবস্থায় আমার প্রতি সন্তুষ্ট না অসন্তুষ্ট? হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) যখন এই কথা শুনলেন, তখন আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে তিনি বার বার বলতে লাগলেন- انا عن ولي راضي انا عن ربي راض আমি আমার রবের প্রতি সন্তুষ্ট। আমি আমার রবের প্রতি, সন্তুষ্ট। (তফসীরে আযীযীঃ পৃষ্ঠা: ২০৫)

প্রঃ হযরত আবু বকর (রাযিঃ)-কে ‘সিদ্দীক’ উপাধি কে দিয়েছেন এবং কেন দিয়েছেন?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর লোকদের মধ্যে যখন এই ঘটনা প্রকাশ পেল তখন কাফেররা তার ‘মেরাজ’ গমনকে অস্বীকার ও অবিশ্বাস করল। কয়জন কাফের গিয়ে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-কে বলল, হে আবু বকর। তোমার সাথী মুহাম্মদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সে এখন মেরাজ গমনের মত উদ্ভট অসম্ভব ও হাস্যকর কথাবার্তা বলছে। হযরত আবূ বকর (রাযিঃ) ঘটনা শুনামাত্রই তা ‘তাসদীক’ করলেন, এটাকে সত্য হিসাবে কবুল করে নিলেন। তিনি বললেন, এ কথা যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে থাকেন তাহলে এটা অবশ্যই সত্য, যথাযথ ও সঠিক। বস্তুতঃ এই প্রেক্ষিতেই হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর (রাযিঃ)-কে ‘সিদ্দীক’ বা চরম সত্যবাদী উপাধিতে ভূষিত করেন। (হাশিয়া শরহে আকায়েদ : পৃষ্ঠা: ১০৭) প্রশ্ন হযরত আবু বকর (রাযিঃ)-এর খেলাফত কাল কতদিন ছিল?

পৃষ্ঠা:২৫

উঃ হযরত আবূ বকর (রাযিঃ)-এর খেলাফত কাল ছিল সোয়া দুই বছর (তারীখে ইসলাম)। আরেক অভিমত হলো, হযরত আবু বকর (রাযিঃ)-এর খেলাফত কাল ছিল দুই বছর তিন মাস আট দিন। (হায়াতুল হায়ওয়ান: খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা ৪ ৭১)

প্রঃ উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে সর্বপ্রথম ‘খলীফাতুল মুসলেমীন’ উপাধি কাকে দেওয়া হয়?

উঃ উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে সর্বপ্রথম ‘খলীফাতুল মুসলেমীন’ উপাধি দেওয়া হয় হযরত আবু বকর (রাযিঃ)-কে। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় তারীখে খোলাফা)

প্রঃ সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মুফতী কে ছিলেন?

উঃ সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মুফতী ছিলেন হযরত আবু বকর (রাযিঃ)। (মুহাযারা: পৃষ্ঠাঃ ৯৪, বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠাঃ ১৩৪)

প্রঃ ইসলামে সর্বপ্রথম হজ্জ কে করেছেন?

উঃ ইসলামে সর্বপ্রথম হজ্জ করেছেন হযরত আবু বকর (রাযিঃ)। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় তারীখে খোলাফা৪ পৃষ্ঠা : ৫৯)

প্রঃ হযরত আবু বকর (রাযিঃ)-এর আসল নাম কি?

উঃ হযরত আবু বকর (রাযিঃ)-এর আসল নাম ‘আবদুল্লাহ’। (হাশিয়া শরহে আকায়েদ ও পৃষ্ঠা ৪ ১০৭)

হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ)-এর সাথে সম্পৃক্ত তথ্যাবলী

প্রঃ ‘ফারুক’ শব্দের অর্থ কি? হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ)-কে ফারুক উপাধি দেওয়া হয় কেন? তাঁকে এই উপাধি কে দিয়েছেন?

উঃ ‘ফারুক’ শব্দের অর্থ হলো হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী। হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) কে এই উপাধি দেওয়ার কারণ হলো যে, এক ইয়াহুদী ও এক মুনাফিকের মধ্যে কোন এক বিষয়ে ঝগড়া হয়। অতঃপর উভয়েই বিষয়টির ফয়সালার জন্য হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীর পক্ষে ফায়সালা দান করেন। মুনাফিক লোকটি ইয়াহুদীকে বলল, এই ফায়সালা সুষ্ঠু হয় নাই। আমি এই ফায়সালা মানিনা। চলো উমরের নিকট যাই। তিনিই এর ফায়সালা করবেন। অবশেষে উভয়েই হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ)-এর নিকট এসে বিষয়টির ফায়সালা চাইল। ইয়াহুদী লোকটি হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ)-কে ইতিপূর্বে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফায়সালার কথাও জানাল এবং বলল যে, আমার প্রতিপক্ষ তাঁর ফায়সালা মানে নাই। এ কথা শুনে হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) ঘরের ভেতর থেকে একটি তলোয়ার নিয়ে আসেন এবং মুনাফিক লোকটির মস্তক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়সালা মানেনা আমার নিকট তার পরিণাম এটাই। অতঃপর যখন হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনা অবগত হলেন, তখন হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ)-কে তিনি ফারুক উপাধিতে ভূষিত করেন। কেননা, হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ)-এর এই কাজের দ্বারা হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যায়। (তফসীরে খায়েন ও খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা ৪ ৩৯৭)

প্রঃ হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) কত বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন? হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সাড়ে দশ বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। (তারীখে ইসলাম) কেউ কেউ বলেছেন যে, হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ)-এর খেলাফত কাল ছিল দশ বছর ছয় মাস পাঁচ রাত্র বা তের দিন। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা ৭৫)

উঃ

প্রঃ যে সকল বিষয় হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) হতে সর্বপ্রথম আরম্ভ হয়েছে সেগুলো কি কি?

উঃ (১) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) নামাযের মধ্যে সর্বপ্রথম উচ্চস্বরে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ পড়েছেন। (তারীখে ইসলাম) (২) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ)-কে সর্বপ্রথম ‘আমীরুল মুমেনীন’ উপাধি দেওয়া হয়েছে। (তারীখে ইসলাম)

(৩) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) ইসলামের প্রাথমিক যুগে সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে আল্লাহর ইবাদতের ঘোষণা দিয়েছেন।

পৃষ্ঠা:২৬

(৪) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম মদ্যপানের শাস্তির হুকুম কার্যকরী করেছেন।

(৫) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম ইসলামে হিজরী সাল গণনার প্রবর্তন করেছেন। (বুগয়াতুয যমআন)

(৬) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম ঘোড়ার যাকাত উসুল করেছেন। (বুগয়াতুয যমআন)

(৭) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম সদাকার টাকা ইসলামের কাজে ব্যয় করতে নিষেধ করেছেন। (বুগয়াতুয যামআন)

(৮) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম ‘উশর’ (উৎপন্ন ফসলের দশমাংশ) তুলেছেন। (বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠাঃ ১২৫)

(৯) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) ইসলামের সর্বপ্রথম কাযী ছিলেন। (বুগয়াতুয যমআন। পৃষ্ঠা ৪ ১৩৪)

(১০) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম বাইতুল মাল হতে কাযীদেরকে ভাতা প্রদান করেন। (বুগয়াতুয যমআনও পৃষ্ঠাঃ ১৩৪)

(১১) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) ইসলামে সর্বপ্রথম কাযী নিয়োগ করেন। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় তারীখুল খোলাফাঃ পৃষ্ঠা ৪.৯৭)

(১২) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম মসজিদে ফরশ বিছানোর ব্যবস্থা করেন। (বুগয়াতুয যমআন)

(১৩) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) ইসলামে সর্বপ্রথম নগরবসতি গড়ে তুলেন। (বুগয়াতুয যমআন ৪ পৃষ্ঠা ৪ ১৬০)

(১৪) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) ইসলামে সর্বপ্রথম বিভিন্ন শহরের কাযী মনোনীত করেন। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় তারীখুল খোলাফা)

(১৫) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) জনসাধারণের খোঁজ-খবর নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাত্রের অন্ধকারে ভ্রমণকারী সর্বপ্রথম শাসক। (বুগয়াতুয যমআন ৪ পৃষ্ঠা ৪ ১৬১)

(১৬) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম বেত্রাঘাতের শাস্তি প্রয়োগ করেন। (বুগয়াতুষ যমআন: পৃষ্ঠা: ১৬১)

(১৭) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম সরকারী দফতর কায়েম করেন। (তারীখে কামেলঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৩৫০ ও বুগয়াতুয যমআনের হাওয়ালায় কিতাবুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড : ১, পৃষ্ঠাঃ ৬৪) (১৮) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম ভূমি জরীপ করান। (তারীখুল খোলাফা ৪ পৃষ্ঠা: ১৮০, বুগয়াতুয যমআন। পৃষ্ঠা ৪ ১৬১) (১৯) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম লোকদেরকে জানাযার নামাযে চার তকবীরের উপর ঐক্যবদ্ধ করেন। (বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠা ৪১৬০)

হযরত উসমান (রাযিঃ)-এর সাথে সম্পৃক্ত তথ্যাবলী

প্রঃ ‘যিন নূরাইন’ বা ‘দুই নূরের অধিকারী’ কার উপাধি? এই উপাধি কেন দেওয়া হয়েছিল?

উঃ ‘যিন নূরাইন’ হযরত উসমান (রাযিঃ)-এর উপাধি। তাঁকে এই উপাধি দেওয়ার কারণ হলো এই যে, তিনি একাধিক্রমে হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কন্যা বিবাহ করেছিলেন। (হাশিয়া বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠা: ১৬১)

প্রঃ হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যমানায় জুমআর নামাযের জন্য একবার আযান দেওয়া হত। অতঃপর দ্বিতীয় আযানের প্রচলন কার যমানা থেকে শুরু হয়েছে এবং কেন হয়েছে?

উঃ হযরত উসমান (রাযিঃ) এর যমানা থেকে জুমআর দ্বিতীয় আযানের প্রচলন হয়েছে। কেননা, তখন হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যমানার তুলনায় লোকসংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া মানুষের মধ্যে কিছুটা অলসতাও এসে গিয়েছিল। তাই হযরত উসমান (রাযিঃ) জুমআর গুরুত্ব বিবেচনায় স্বীয় ইজতিহাদ ও সাহাবায়ে কেরামদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জুমআর দ্বিতীয় আযানের প্রচলন করেন। (বুখারী শরীফঃ পৃষ্ঠা ৪ ১২৪)

প্রঃ যে সকল বিষয় সর্বপ্রথম হযরত উসমান (রাযিঃ) হতে আরম্ভ হয়েছে সেগুলো কি কি?

পৃষ্ঠা:২৭

(১) হযরত উসমান (রাযিঃ) সর্বপ্রথম মসজিদের ভেতর পর্দা টানিয়েছেন। (বুগয়াতুষ যমআন ৪ পৃষ্ঠাঃ ১২২-এর হাওয়ালায় ‘মিরআতুল হারামাইন’ঃ পৃষ্ঠাঃ ২৩৫)

(২) হযরত উসমান (রাযিঃ) সর্বপ্রথম মুআযযিনদের বেতন নির্ধারিত করেছেন। (বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠা: ১৬১-এর হাওয়ালায় তারীখুল খোলাফা: পৃষ্ঠাঃ ১৩৭)

(৩) হযরত উসমান (রাযিঃ) সর্বপ্রথম পুলিশ বাহিনী তৈরী করেন। (বুগয়াতুয যমআন-এর হাওয়ালায় তারীখুল খোলাফাঃ পৃষ্ঠাঃ ১২৭)

(৪) হযরত উসমান (রাযিঃ) সর্বপ্রথম চারণভূমি তৈরীর ব্যবস্থা করেছেন। (বুগয়াতুয যমআন)

প্রঃ হযরত উসমান (রাযিঃ)-এর খেলাফত কত বছর ছিল?

উঃ হযরত উসমান (রাযিঃ)-এর খেলাফতের স্থায়িত্বকাল সম্পর্কে তিন রকম মত রয়েছে- (১) হযরত উসমান (রাযিঃ)-এর খেলাফতের স্থায়িত্ব বার দিন কম বার বছর ছিল।

(২) হযরত উসমান (রাযিঃ)-এর খেলাফতের যমানা এগার বছর এগার মাস চৌদ্দ দিন ছিল।

(৩) বার বছর ছিল। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪ ৭৮) হযরত উসমান (রাযিঃ)-কে শহীদ করেছিল কে?

প্রঃ উঃ হযরত উসমান (রাযিঃ)-কে কেনানা ইবনে বাশীর শহীদ করেছিল। (তারীখে ইসলাম : পৃষ্ঠা: ৪১৪)

প্রঃ হযরত উসমান (রাযিঃ)-এর জানাযার নামায কে পড়িয়েছিলেন?

উঃ হযরত উসমান (রাযিঃ) -এর জানাযার নামায হযরত জুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রাযিঃ) পড়িয়েছিলেন। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠাঃ৭৮)

হযরত আলী (রাযিঃ)-এর সাথে সম্পৃক্ত তথ্যাবলী

প্রঃ হযরত আলী (রাযিঃ)-কে আবু তোরাব উপনাম কে দিয়েছিলেন এবং কেন দিয়েছেন?

উঃ হযরত আলী (রাযিঃ)-কে এই উপনাম হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন। এই উপনাম দেওয়ার প্রেক্ষাপট হলো এই যে,

একদিন হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ফাতেমা (রাযিঃ)-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে, আলী কোথায়? হযরত ফাতেমা (রাযিঃ) জওয়াব দিলেন, তিনি তো আজ গোস্বা করে কোথায় গেছেন জানিনা। অতঃপর হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে এসে দেখলেন হযরত আলী মসজিদের মাটিতে শুয়ে রয়েছেন, তার পিঠে ধূলাবালি লেগে রয়েছে। তখন হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলীর নিকটে গেলেন এবং সস্নেহে পিঠের ধূলাবালি ঝাড়তে ঝাড়তে বললেন- قريا ابا تُرَاب قُمْ يَا أَبَا تُرَاب

অর্থাৎ হে মাটির বাপ উঠ। তখন থেকেই হযরত আলীর কুনিয়ত বা উপনাম হয়ে যায় আবু তোরাব অর্থাৎ মাটির বাপ। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা : ৭৮)

প্রঃ হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের উদ্দেশ্যেমক্কা ত্যাগ করার সময় হযরত আলী (রাযিঃ)-কে তাঁর ঘরে রেখেগিয়েছিলেন কেন?

উঃ হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বহু মানুষের আমানত গচ্ছিত ছিল। হিজরত করার সময় কিছু আমানত মালিকদের নিকট পৌঁছাতে বাকী ছিল। তাই তিনি হযরত আলী (রাযিঃ)-কে তাঁর ঘরে রেখে এসেছিলেন, যাতে হযরত আলী (রাযিঃ) গচ্ছিত আমানতগুলো যথাযথ মলিকদের নিকট পৌঁছে দিতে পারেন। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা ৪ ৭৯)

প্রঃ হযরত আলী (রাযিঃ) হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়দিন পর হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করেন?

উঃ হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের তিন দিন পর হযরত আলী (রাযিঃ) হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করেন এবং হুযুর (সাঃ)-এর সাথে গিয়ে মিলিত হন। (হায়াতুল হায়ওয়ান।

খণ্ড : ১, পৃষ্ঠাঃ ৭৯)

পৃষ্ঠা:২৮

প্রঃ হযরত আলী (রাযিঃ)-এর খেলাফত কয় বছর ছিল?

উঃ হযরত আলী (রাযিঃ)-এর খেলাফত চার বছর নয় মাস একদিন ছিল। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ ১, পৃষ্ঠাঃ ৮২)

প্রঃ হযরত আলী (রাযিঃ)-কে শহীদ করেছিল কে?

উঃ ইবনে মূলজিম নামক পাপিষ্ঠ হযরত আলী (রাযিঃ)-কে শহীদ করেছিল। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড: ১, পৃষ্ঠাঃ ৮২)

প্রঃ হযরত আলী (রাযিঃ)-কে কোথায় শহীদ করা হয়েছিল?

উঃ হযরত আলী (রাযিঃ) খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর চার মাস মদীনায় ছিলেন। অতঃপর তিনি কুফায় চলে গিয়েছিলেন। কৃষ্ণাতেই তিনি শাহাদত বরণ করেন। (হায়াতুল হায়ওয়ান খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠাঃ ৮২)

প্রঃ পিতৃ ও মাত্ উভয় দিক থেকে সর্বপ্রথম হাশেমী খলীফা কে ছিলেন?

উঃ হযরত আলী (রাযিঃ)। (বুগয়াতুয যমআন৪ পৃষ্ঠা ৪ ১৬২)

প্রঃ সর্বপ্রথম জেলখানা কে বানিয়েছেন?

উঃ হযরত আলী (রাযিঃ) সর্বপ্রথম জেলখানা তৈরী করেন। (বুগয়াতুয যমআন ৪ পৃষ্ঠা : ১৬২)

প্রঃ হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামনের সর্বপ্রথম কাযী হিসাবে কাকে নিযুক্ত করেছিলেন?

উঃ হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামনের সর্বপ্রথম কার্যী হিসাবে হযরত আলী (রাযিঃ)-কে প্রেরণ করেছিলেন। (বুগয়াতুয যমআন। পৃষ্ঠাঃ ১৩৪)

আরও কয়েকজন সাহাবী সম্পর্কিত তথ্যাবলী

প্রঃ হযরত আমীর মুআবিয়া (রাযিঃ) হতে সর্বপ্রথম যে সকল কাজের সূচনা হয়েছে সেগুলো কি কি?

উঃ (১) হযরত আমীর মুআবিয়া (রাযিঃ) সর্বপ্রথম আযানের জন্য মসজিদের মিনার তৈরী করিয়েছেন। (বুগয়াতুয যমআন পৃষ্ঠাঃ ১১৪)

(২) হযরত আমীর মুআবিয়া (রাযিঃ) সর্বপ্রথম হচ্ছে তামাতু করতে নিষেধ করেছেন। (বুগয়াতুষ যমআন: পৃষ্ঠাঃ ১৩০)

(৩) হযরত আমীর মুআবিয়া (রাযিঃ) সর্বপ্রথম সোয়ারীর উপর আরোহন করে রমী জিমার (হজ্জব্রতে পাথর নিক্ষেপ) করেছেন। (বুগয়াতুয যমআন: পৃষ্ঠাঃ ১৩০)

প্রঃ ইসলামের প্রথম মুআযযিন কে?

উঃ ইসলামের প্রথম মুআযযিন হযরত বিলাল (রাযিঃ)। (বুগয়াতুয যমআনের হাওয়ালায় মুহাযারা)

প্রঃ সর্বপ্রথম কাবা শরীফকে গিলাফের দ্বারা আচ্ছাদিত করেছে কে?

উঃ আসআদ হিময়ারী নামক এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম কা’বা শরীফকে গিলাফের দ্বারা আচ্ছাদিত করেছিল। এজন্যই হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে বলেছেন যে, তোমরা আসআদ হিময়ারীকে

গালি দিওনা। কেননা, সেই সর্বপ্রথম কা’বা শরীফকে গিলাফের দ্বারা আচ্ছাদিত করেছে। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা ৪ ৭৮) প্রঃ উঃ

মসজিদে নববীতে সর্বপ্রথম বাতি জ্বালিয়েছেন কে?

হযরত তামীমদারী সর্বপ্রথম মসজিদে নববীতে বাতি ও আলোর ব্যবস্থা করেছেন। (ইবনে মাজা শরীফ ৪ পৃষ্ঠা: ৫৬)

প্রঃ হযরত জিবরাঈল (আঃ) যে সাহাবীর আকৃতি ধারণ করে হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করতেন সেই সাহাবী কে?

উঃ সেই সাহাবী হলেন হযরত দিহয়া কালবী (রাযিঃ)। (নশরুত-তীবঃ পৃষ্ঠা ৪ ১৭৩)

প্রঃ ঐ সাহাবী কে, যিনি হযরত জিবরাঈল (আঃ) কে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছেন?

উঃ ঐ সাহাবী হলেন হযরত হামযা (আঃ)।

প্রঃ ইসলামের ইতিহাসে মদ্যপানের জন্য সর্বপ্রথম শাস্তি কাকে দেওয়া হয়েছিল?

উঃ ইসলামে মদ্যপানের জন্য সর্বপ্রথম শাস্তি দেওয়া হয়েছিল ‘ওয়াহশী ইবনে হারব’-কে। (বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠাঃ ২২২) প্রঃ ইসলামের সর্বপ্রথম মুবাল্লিগ (ধর্মপ্রচারক) কে ছিলেন?

পৃষ্ঠা:২৯

উঃ হযরত মুসআব ইবনে উমাইর (রাযিঃ)-কে ইসলামের সর্বপ্রথম মুবাল্লিগ বলা হয়। (রেসালা আর-রায়েদ আরবী, পৃষ্ঠাঃ ১২)

প্রঃ কুরাইশদের সম্মুখে সর্বপ্রথম উচ্চস্বরে কুরআন তেলাওয়াতকারী কে?

উঃ তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)।

প্রঃ সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে কোন সাহাবীর ইন্তেকাল সকলের শেষে হয়েছে?

উঃ সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে হযরত আমের ইবনে ওয়াসেলা সকলের শেষে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি একশত হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। (মিশকাত শরীফ ও নাসায়ী শরীফ)

তবে এ ব্যাপারে দ্বিতীয় একটি উক্তি এমনও রয়েছে যে, সর্বশেষে ইন্তেকালকারী সাহাবী হলেন হযরত আনাস (রাযিঃ)। তিনি ৯১ বা ১২ বা ৯৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ড। ১, পৃষ্ঠাঃ ৬১২)

আসহাবে কাহফের সাথে সম্পৃক্ত তথ্যাবলী

প্রঃ আসহাবে কাহফের নাম কি ছিল?

উঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত সহীহ রেওয়ায়াতে আসহাবে কাহফের নাম নিম্নরূপঃ

(১) ইয়ামলিখা (২) মুছালমীনা (৩) মারতোলাছ (৪) ছাবয়নোছ (৫) দারদুনাহ (৬) কাফাশীতিতোহু (৭) মাতুনওয়াছীছ। (রুহুল মাআনী ৪ খণ্ড ৪ ১৫, পৃষ্ঠাঃ ২৪৬)

প্রঃ আসহাবে কাহাফের নামসমূহের দ্বারা কি কি উপকার ও কল্যাণ লাভ করা যায়।

উঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে আসহাবে কাহাফের

নামসমূহের বহু উপকার ও কল্যাণের কথা বর্ণিত হয়েছে। যেমন- (১) কোথাও আগুন লাগলে আসহাবে কাহাফের নামগুলো একটি কাগজে লিখে আগুনে নিক্ষেপ করলে আগুন নিভে যাবে।

(২) কোন শিশু অধিক কান্নাকাটি করলে আসহাবে কাহাফের নামগুলো লিখে শিশুর মাথার নীচে রেখে দিলে কান্না বন্ধ হয়ে যাবে।

(৩ ) ফসলের হেফাযতের জন্য এই নামগুলোর দ্বারা তাবীয লিখে ক্ষেতের

মাঝখানে একটি কৌটায় টানিয়ে রাখলে ফসলের হেফাযত হবে। (৪

) যদি কারো এমন অসুখ হয় যে, তিন দিন পর পর জ্বর আসে তবে এই নামগুলো লিখে হাতের বাজুতে বেঁধে দিলে জ্বর হতে আরোগ্য লাভ করবে।

(৫) কোন হাকিম বা বিচারকের নিকট (কোন মামলা মোকদ্দমা ইত্যাদির কারণে) যেতে হলে এই নামগুলোর তাবীয ডান পায়ের উরুতে বেঁধে গেলে ইনশাআল্লাহ হাকিমের দিল নরম হয়ে যাবে। (

৬) যদি কোন গর্ভবর্তী স্ত্রীলোকের সন্তান প্রসবে কষ্ট হয় তাহলে আসহাবে কাহাফের এই নামগুলো লিখে বাম উরুতে বেঁধে দিলে অতি সহজে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়ে যাবে। (৭) ধনসম্পদের হেফাযতের জন্য।

৮) নদীপথের সফরে ডুবা থেকে বাঁচার জন্য এবং

( (৯) শত্রু থেকে হেফাযতের জন্য এই নামগুলোকে সাথে রাখা খুবই উপকারী ও কল্যাণকর।

(১০) কারো ছেলে পালিয়ে গেলে এই নামগুলো লিখে সুতায় বেঁধে কোন গাছে ঝুলিয়ে রাখলে ইনশাআল্লাহ তৃতীয় দিন ছেলে ফেরত আসবে। (হাশিয়া জালালাইন শরীফঃ পৃষ্ঠা: ২৪৩)

প্রঃ আসহাবে কাহাফ কোন যমানার লোক? তারা কোন শরীয়তের অনুসারী ছিল?

উঃ আসহাবে কাহাফ আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে এবং হযরত ঈসা (আঃ)-এর পরের যমানার লোক ছিল। তারা হযরত ঈসা (আঃ)-এর শরীয়তের অনুসারী ছিল।

(সাবী। খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা : ৫) প্রঃ আসহাবে কাহাফ যে শহরের অধিবাসী ছিল সেই শহরের নাম কি ছিল? এই শহর কোন দেশে অবস্থিত?

উঃ আসহাবে কাহাফ যে নগরীর অধিবাসী ছিল ইসলাম পূর্ব জাহেলিয়াতের যুগে এই নগরীর নাম ছিল ‘আফসুস’। আরববাসীরা উচ্চারণের ভিন্নতায়

পৃষ্ঠা:৩০

এটাকে বলত ‘তারস’। এটা রোমের অন্তর্গত একটি নগরী ছিল। (সাবীঃ খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠা ৪৫)

প্রঃ আসহাবে কাহাফের বাদশার নাম কি এবং তারা যে গুহায় আত্মগোপন করেছিল সেই গুহার নাম কি ছিল?

উঃ আসহাবে কাহাফের বাদশার নাম ছিল ‘দিকয়ানুস’। (হাশিয়া বুখারী শরীফ। খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪ ৬৮৭)

তাদের আত্মগোপন করার গুহার নাম কেউ বলেছেন ‘বীজলুস’, আবার কেউ বলেছেন ‘নীজলুস’। সোবীঃ খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠা ৪৫)

প্রঃ আসহাবে কাহাফের ঘটনা কোন সালে ঘটেছিল? এটা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের কত বছর আগের ঘটনা?

উঃ আসহাবে কাহাফের গুহায় আত্মগোপন করার ঘটনা ২৪৯ খৃষ্টাব্দে ঘটেছিল। অতঃপর তারা সেখানে তিনশত বছর নিদ্রামগ্ন থেকে ৫৪৯ খৃষ্টাব্দে জাগ্রত হয়। সৌর বছরের হিসাব অনুযায়ী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। সুতরাং বলা যায় যে, আসহাবে কাহাফ এর সুদীর্ঘ নিদ্রাভঙ্গ হয়েছিল হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের একুশ বছর পূর্বে। আর হিজরতের সময় এই ঘটনার আনুমানিক বাহাত্তর বছর অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। (হাশিয়া তফসীরে হাক্কানী। খণ্ড ৪ ১৫, পৃষ্ঠা : ৭১)

নাম ও লকবের তথ্যাবলী

প্রঃ ‘সফীউল্লাহ’ ও ‘খলীফাতুল্লাহ’ কার উপাধি?

উঃ ‘সফীউল্লাহ’ ও ‘খলীফাতুল্লাহ’ দুইটিই হযরত আদম (আঃ)-এর উপাধি।

(মুহাযারাতুল আওয়ায়েল ৪ পৃষ্ঠা ৪ ১১৬)

প্রঃ ‘যু-যবীহাইন’ অর্থাৎ ‘দুই যবীহ’-এর সন্তান কার উপাধি।

উঃ এটা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপাধি। (তারীখে ইসলামঃ খণ্ড ঃ ১, পৃষ্ঠা : ৮৬)

প্রঃ ‘হারমাসুল হারামিস’ অর্থাৎ হাকীমুল হুকামা বা ‘সকল জ্ঞানীর জ্ঞানী’ কার উপাধি?

উঃ এটা হযরত ইদ্রীস (আঃ)-এর উপাধি। (মুহাযারাতুল আওয়ায়েল: পৃষ্ঠা: ১২৬, বহাওয়ালা, বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠা ৪ ১৮৭) প্রঃ ‘খলীলুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর বন্ধু’ কার উপাধি?

উঃ ‘খলীলুল্লাহ’ হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর উপাধি।

প্রঃ ‘যবীহুল্লাহ’ কার উপাধি?

উঃ হযরত ইসমাঈল (আঃ) ‘যবীহুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত। (বুগয়াতুয যমআন ও পৃষ্ঠা ৪ ১৮)

প্রঃ ‘কালীমুল্লাহ’ কার উপাধি?

উঃ এটা হযরত মূসা (আঃ)-এর উপাধি। (বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠাঃ ১৮৭)

প্রঃ ‘মসীহুল্লাহ’ কার উপাধি?

উঃ হযরত ঈসা (আঃ)-কে মসীহুল্লাহ বলা হয়। (প্রাগুপ্ত)

প্রঃ ‘মালিকূল মুলুক’ কার উপাধি?

উঃ এটা হযরত যুলকারনাইন-এর উপাধি। (বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠাঃ১৮৭)

প্রঃ ‘ফুল হিজরাতাইন’ কার উপাধি?

উঃ ‘ফুল হিজরাতাইন’ বা দুইবার হিজরতকারী হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর উপাধি। কেননা, তিনি দুইবার হিজরত করেছিলেন। একবার ইরাক থেকে কৃফায়। আরেক বার কৃষ্ণা থেকে সিরিয়ায়। (তফসীরে কাশশাফঃ খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা: ৪১৫)

প্রঃ কুহুল আমীন’ কার উপাধি?

উঃ এটা হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর উপাধি। আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন- نزل به الروح الامين.

প্রঃ ‘হাযিমূল লাযযাত’ কার উপাধি?

উঃ এটা মালাকুল মউত হযরত আযরাঈল (আঃ)-এর উপাধি। (গিয়াসুল লুগাত। পৃষ্ঠা: ৫৩৭)

প্রঃ ‘সাহেবুয যামান’ কার উপাধি?

উঃ এটা হযরত ইমাম মাহদী (আঃ)-এর উপাধি। (গিয়াসুল লুগাতঃ পৃষ্ঠা : ৫৩৭)

পৃষ্ঠা ৩১ থেকে ৪৫

পৃষ্ঠা:৩১

প্রঃ ‘খাতিমুল মুহাজিরীন’ কার উপাধি?

উঃ এটা হযরত আব্বাস (রাযিঃ)-এর উপাধি। কেননা, তিনি সর্বশেষে হিজরত করেছিলেন। (তারীখে কামেলঃ খণ্ড। ২, পৃষ্ঠা ৪ ১২)

প্রঃ ‘আমীনু হা-যিহিল উম্মাহ’ কার উপাধি?

উঃ ‘আমীনু হা-যিহিল উম্মাহ’ (এই উম্মতের আমীন বা বিশ্বাসী) হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাযিঃ)-এর উপাধি। (আসমাউর রিজাল, মিশকাত শরীফঃ পৃষ্ঠা ৪ ৬০৮)

প্রঃ সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে ‘গাসীলুল মালাইকা’ কার উপাধি?

উঃ এটা হযরত হানযালা (রাযিঃ)-এর উপাধি। (হেদায়াঃ খণ্ড: ১, বাবুশশহীদ)

প্রশ্ন হযরত হানযালা (রাযিঃ)-কে ‘গাসীলুল মালাইকা’ বলা হয় কেন?

উঃ হযরত হানযালা (রাযিঃ)-কে ফেরেশতারা গোসল দিয়েছিলেন। প্রঃ হযরত হানযালা (রাযিঃ)-কে ফেরেশতারা কেন গোসল দিয়েছিলেন?

উঃ হযরত হানযালা (রাযিঃ) গোসল ফরয থাকা অবস্থায় শাহাদত বরণ করেছিলেন। যেহেতু সাধারণ শহীদগণকে গোসল দেওয়া হয় না তবে যারা গোসল ফরয অবস্থায় শহীদ হন তাদেরকে গোসল দিতে হয় কিন্তু হযরত হানযালা (রাযিঃ)-এর গোসল ফরয থাকার বিষয়টি সাহাবায়ে কেরামগণ অবগত ছিলেন না তাই ফেরেশতারা তাঁকে গোসল দিয়েছিলেন। (তিরমিযী শরীফ, হেদায়া: খণ্ড: ১, পৃষ্ঠাঃ ১৬৩) প্রঃ ‘সাইফুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর তরবারী’ কার উপাধি? এই উপাধি কে দিয়েছিলেন এবং কেন দিয়েছিলেন?

উঃ ‘সাইফুল্লাহ’ হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ (রাযিঃ)-এর উপাধি। (তিরমিযী শরীফ। খণ্ড : ২, পৃষ্ঠাঃ ২২৪) মৃতার যুদ্ধে হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ (রাযিঃ) তলোয়ার হাতে নিয়ে প্রচণ্ড বিক্রমে শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এইজন্য হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ‘সাইফুল্লাহ’ বা আল্লাহর তরবারী উপাধি দান করেন। (হাশিয়া-বুখারী

শরীফঃ খণ্ড: ১, পৃষ্ঠাঃ ৬৭, তারীখে ইসলামঃ পৃষ্ঠা: ২৬১) প্রঃ ‘সাহেবুস সির’ অর্থাৎ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘গুপ্ত কথার ভাণ্ডার’ কার উপাধি?

উঃ হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) ছিলেন হুযুর (সাঃ)-এর ‘গুপ্ত কথার ভাণ্ডার’।

প্রঃ ‘হিবরুল উম্মাহ’ কোন সাহাবীর উপাধি?

উঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর উপাধি ছিল ‘হিবরুল উম্মাহ’। (আসমাউর রিজাল, মিশকাত শরীফ)

প্রঃ ‘নাজিয়া’ অর্থ কি? ‘নাজিয়া’ কার উপাধি ছিল, এই উপাধি কে দিয়েছিলেন?

উঃ ‘নাজিয়া’ অর্থ মুক্তিপ্রাপ্ত। হযরত যাকওয়ান (রাযিঃ)-এর উপাধি ছিল ‘নাজিয়া’। তিনি কুরাইশদের জুলুম নিপীড়ন থেকে মুক্তি লাভ করার পর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই উপাধি দিয়েছিলেন। (আসমাউর রিজাল, মিশকাত শরীফ। পৃষ্ঠা ৬২০)

প্রঃ ‘যুশাহাদাতাইন’ বা দুই সাক্ষীর অধিকারী কার উপাধি? তাঁকে এই উপাধি ও মর্যাদা কেন দেওয়া হয়েছে?

উঃ এটা হযরত খুযাইমা (রাযিঃ)-এর উপাধি, তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য। তাঁকে এই উপাধি দেওয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো এই যে, একবার হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তির (সাওয়াদ ইবনে হারস মুহারেবী) নিকট থেকে একটি ঘোড়া (যার নাম ছিল ‘মুরতাজিয’) ক্রয় করেন। তিনি টাকা আনার জন্য বাড়ীতে যান। এদিকে অন্যান্য লোকেরা ঘোড়াটির মূল্য বাড়িয়ে দেয়। হুযুর (সাঃ) টাকা নিয়ে আসার –পর লোকটি তাঁর নিকট ঘোড়া বিক্রয় করার কথা অস্বীকার করে বসে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ঘোড়াটি তুমি আমার নিকট বিক্রয় করেছ এবং আমি তা খরিদ করেছি। তখন গ্রাম্য লোকটি বলল, আপনার কি কোন সাক্ষী আছে? অতএব, হুযুর (সাঃ) ঘটনাটি হযরত খুযাইমা (রাযিঃ)-কে বললেন। ঘটনা শুনে হযরত খুযাইমা (রাযিঃ) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে সাক্ষী দিয়ে দিলেন। পরবর্তী সময়ে হুযুর (সাঃ) হযরত খুযাইমা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন যে, হে খুযাইমা। তুমি তো ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলে না কিন্তু তারপরও তুমি আমার পক্ষে সাক্ষী দিলে কি করে? হযরত খুযাইমা (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার দৃঢ়বিশ্বাস ও ইয়াকীন রয়েছে যে, আপনি অসত্য বলতে পারেন না। তাই আমি

পৃষ্ঠা:৩২

আপনার পক্ষে সাক্ষী দিয়েছি। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন-يا خُزَيمَةُ إِنَّكَ ذُو الشَّهَادَتَيْنِ —অর্থাৎ হে খুযাইমা। তোমার একার সাক্ষীই দুইজন সাক্ষীর বরাবর। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ড ৪ ২, পৃষ্ঠাঃ ১৫৫)

প্রঃ ‘যুল ইয়াদাইন’ কার উপাধি? তিনি এই উপাধি লাভ করেন কেন? উঃ আল্লামা সুহাইলী (রহঃ) বলেন, ‘যুল ইয়াদাইন’ বা দুই হাতওয়ালা হযরত খিরবাক (রাযিঃ)-এর উপাধি ছিল। এই উপাধি দ্বারা হয়তো বা ইঙ্গিত করা হয়েছে তাঁর মুক্ত হস্তে বিপুল দানের প্রতি। অথবা বাস্তবিকপক্ষেই তার হস্ত দীর্ঘ ছিল। আল্লামা তীবী (রহঃ) বলেন, যুল ইয়াদাইনের আসল নাম উমাইর, খিরবাক তার উপাধি এবং তার উপনাম ছিল আবু মুহাম্মদ।

প্রঃ ‘মুতয়িমুত তাইর’ কার উপাধি? তিনি কিভাবে এই উপাধি লাভ করেন। উঃ ‘মুতয়িমুত্ তাইর’ অর্থাৎ পাখ-পাখালীর আহার দানকারী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা জনাব আবদুল মুত্তালিবের উপাধি ছিল। কেননা, আবদুল মুত্তালিব অত্যন্ত অতিথিপরায়ন ছিলেন। মেহমানদের খাওয়ার পর যে সকল আহার্য অবশিষ্ট থেকে যেত, সেগুলো তিনি একটি পাহাড়ের চূড়ায় রেখে আসতেন। যা পাখ-পখালী আহার করত। বস্তুতঃ এ থেকেই তাঁর উপাধি হয়ে যায় ‘মুতয়িমুত্ তাইর’ বা পাখিদের আহারদানকারী। রেওযাতুস সফা)

প্রঃ ‘যুল জানাহাইন’ কোন সাহাবীর উপাধি? এই উপাধি তাঁকে কে দিয়েছেন এবং কেন দিয়েছেন?

উঃ মূল জানাহাইন অর্থ দুই ডানা বা পরওয়ালা। এটা হযরত জাফর তাইয়্যার (রাযিঃ) এর উপাধি। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই উপাধি দিয়েছেন। তাঁকে এই উপাধি দেওয়ার কারণ হলো এই যে, হযরত জাফর (রাযিঃ) মৃতার যুদ্ধে লড়াইরত অবস্থায় কাফেররা তাঁর দুইটি হাতই কেটে দেয়। কিন্তু তারপরও তিনি লড়তে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে তৃপ্ত হন। তাঁর সম্পর্কে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, আমি জাফরকে বেহেশতে উড়তে দেখেছি। অন্য এক রেওয়ায়াতে আছে যে, আল্লাহ তা’আলা জাফরের দুইটি হাতের জায়গায় দুইটি পর বা ডানা লাগিয়ে দিয়েছেন। এগুলোর দ্বারা সে ফেরেশতাদের সাথে বেহেশতে উড়ে বেড়ায়। ছাড়া হযরত জাফর (রাযিঃ)-কে ‘মূল হিজরাতাইন’ বা দুই হিজরতকারীও বলা হয়। (হাশিয়া- বুখারী শরীফঃ খণ্ড ৪ ২, পৃষ্ঠা ১৬১)

প্রঃ ‘সফীনা’ কার উপাধি। এই উপাধি কে দিয়েছেন এবং কেন দিয়েছেন? উঃ একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি যুদ্ধে যাচ্ছিলেন। জনৈক সাহাবী অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। যুদ্ধাস্ত্র ও সামানপত্রের বোঝা বহন করে চলা তার জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় তার সঙ্গী সাহাবী তার সামানপত্র নিজের কাঁধে উঠিয়ে নেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই উপাধি দিয়ে বলেন যে, তুমি ‘সফীনা’ অর্থাৎ নৌকা। (আসমাউর রিজাল-মিশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা: ৫৯৭) প্রঃহযরত সফীনা (রাযিঃ)-এর প্রকৃত নাম কি? উঃ হযরত সফীনা (রাযিঃ)-এর নাম সম্পর্কে চার রকম উক্তি রয়েছে। (১) রোমান (২) তাহমান (৩) মেহরান (৪) উমাইর। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা: ৫)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরদাদা জনাব হাশেম-এর –আসল নাম কি? তাকে হাশেম বলা হয় কেন?

উঃ জনাব হাশেমের আসল নাম ‘আমরুল উলা’। তাঁর হাশেম নাম হওয়ার কারণ হলো এই যে, একবার মক্কায় খুব দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। মানুষ খাদ্যের অভাবে না খেয়ে অনাহারে মরতে আরম্ভ করে। মানুষের এই চরম দুঃখ- কষ্ট অবলোকন করে জনাব হাশেমের অন্তর ব্যাকুল হয়ে উঠে। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তাঁর ব্যক্তিগত ধনসম্পদ নিয়ে সিরিয়া গমন করেন। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ গম আটা নিয়ে আসেন। মক্কায় এসে অনেকগুলো উট জবাই করে সালুন তৈরী করেন। আটার রুটি টুকরো টুকরো করে সুরবায় ভিজিয়ে সারীদ তৈরী করেন এবং অনাহার বুভুক্ষ মানুষকে খেতে দেন। লোকেরা অত্যন্ত পরিতৃপ্ত হয়ে

পৃষ্ঠা:৩৩

আহার করে। বস্তুতঃ তখন থেকেই তাঁর নাম হয়ে যায় হাশেম। কারণ। হাশেম শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে ‘হাশম’ থেকে। এর অর্থ হলো, টুকরো করা। তিনি যেহেতু রুটি টুকরো করে সুরবায় ভিজিয়েছিলেন তাই তিনি হাশেম অর্থাৎ টুকরো করনেওয়ালা নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যান। (হাবীবুস সিয়ার)

প্রঃ জনাব হাশেমের পুত্র অর্থাৎ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা আবদুল মুত্তালিবের প্রকৃত নাম কি? তার নাম আবদুল মুত্তালিব হয় কেন?

উঃ জনাব আবদুল মুত্তালিবের প্রকৃত নাম ‘শাইবাতুল হামদ’। তাঁর এই নাম রাখার কারণ হলো এই যে, তিনি যখন ভূমিষ্ঠ হন, তখন তার মাথার চুল সাদা ছিল। তাঁর এই গুণবাচক নাম এইজন্য রাখা হয়েছে যাতে মানুষ তাঁর উন্নত চরিত্র বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে। কেননা, ‘শাইবা’ অর্থ বৃদ্ধ, প্রবীণ। আর ‘হামদ’ অর্থ গুণকীর্তন ও প্রশংসা। তাঁর আবদুল মুত্তালিব নাম হওয়ার কারণ এই যে, তিনি ছোটবেলায় মদীনার একটি রাস্তায় পাশে অন্যান্য শিশুদের সাথে তীরের নিশানা সই করার মহড়া খেলছিলেন। ঘটনাক্রমে সেখানে একজন পথিক বিশ্রাম করতে বসে। এ সময় একটি শিশুর নিক্ষিপ্ত তীর ঠিক নিশানার লক্ষ্যস্থলে গিয়ে পৌঁছে। পথিক শিশুটিকে সাবাস দিয়ে তার নাম জিজ্ঞাসা করল। শিশু জওয়াব দিল, আমার নাম ‘শাইবাতুল হামদ’। পথিক আবার জিজ্ঞাসা করল, তোমার পিতার নাম কি? ছেলেটি বলল, হাশেম ইবনে আবদে মানাফ। পথিক ছিল মক্কার অধিবাসী, সে মক্কা প্রত্যবর্তন করার পর হাশেমের ভাই মুত্তালিবের সাথে ঘটনাটি বলল। অতঃপর মুত্তালিব ভাতিজাকে নিয়ে আসার জন্য মদীনা রওয়ানা হয়ে গেলেন। মুত্তালিব যখন তার ভ্রাতুস্পুত্রকে নিয়ে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন তখন লোকেরা তার সাথে একটি ছেলে দেখতে পেয়ে বলে উঠল-এই ছেলেটি আবদুল মুত্তালিব অর্থাৎ মুত্তালিবের গোলাম। মুত্তালিব যতই বুঝাতে চেষ্টা করলেন যে, এই ছেলে আমার গোলাম নয়, আমার ভ্রাতুস্পুত্র। কিন্তু লোকেরা তার কথায় কর্ণপাত না করে ছেলেটিকে আবদুল মুত্তালিবই ডাকতে থাকে। আর এভাবেই ‘শাইবাতুল হামদ’ আবদুল মুত্তালিব নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। (হাবীবুস সিয়ার ৪ খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা ৪ 80)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ফতোয়া দিতেন কারা? উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চৌদ্দজন সাহাবা মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ফতোয়া দিতেন। তারা হলেন-(১) হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) (২) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) (৩) হযরত উসমান গনী (রাযিঃ) (৪) হযরত আলী (রাযিঃ) (৫) হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) (৬) হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) (৭) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) (৮) হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) (৯) হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) (১০) হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাযিঃ) (১১) হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত (রাযিঃ) (১২) হযরত সালমান ফারসী (রাযিঃ) (১৩) হযরত আবু দারদা (রাযিঃ) (১৪) হযরত আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ)। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ ১, পৃষ্ঠা ৪ ৮০)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওহী লেখক কয়জন ছিলেন, তাঁরা কে কে?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয়জন সাহাবাকে দিয়ে ওহী লিখিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম (১) হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) দ্বারা লিখিয়েছেন। অতঃপর অধিকাংশ সময় এবং শেষ পর্যন্ত ওহী লিখেছেন (২) হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত আনসারী (রাযিঃ) (৩) হযরত • মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ)। অন্যান্য ছয়জন যাঁরা কোন কোন সময় ওহী লেখার দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা হলেন- (৪) হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) (৫) হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) (৬) হযরত উসমান গনী (রাযিঃ) (৭) হযরত আলী মুর্তাযা (রাযিঃ) (৮) হযরত হানযালা ইবনে রবী আল আসাদী (রাযিঃ) (৯) হযরত খালেদ ইবনে আস (রাযিঃ)। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা : ৭৯)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুআযযিন কয়জন ছিলেন, তাঁরা কে কোথায় আযান দিতেন?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যমানায় চার জন মুআযযিন ছিলেন। হযরত বিলাল (রাযিঃ) এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে

পৃষ্ঠা:৩৪

মাকম (রাযিঃ) এই দুইজন মদীনার মসজিদে নববীতে আযান দিতেন। হযরত সা’দ আল কারত্ (রাযিঃ) কুবার মসজিদে এবং হযরত আবু মাহযুরা (রাযিঃ) মক্কার মসজিদে হারামে আযান দিতেন। (নশরুত- তীব: পৃষ্ঠাঃ ১৯৫)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাহারাদার কয়জন ছিলেন, তাঁরা কে কোথায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাহারাদার ছিল পাঁচ জন। তাঁরা হলেন-(১) সাআদ ইবনে মুআয (রাযিঃ) (২) সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) (৩) আব্বাদ ইবনে বিশর (রাযিঃ) (৪) আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) এবং (৫) মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ)। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা ৪ ৭৯) কিন্তু হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) প্রহরীর সংখ্যা চারজন উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেন- (১) হযরত সাদ ইবনে মুআয (রাযিঃ) বদরের যুদ্ধের সময় হুযুরের তাঁবু পাহারা দিয়েছেন।

(২) হযরত মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) ওহুদের যুদ্ধের সময় পাহারা দিয়েছেন।

(৩) হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম (রাযিঃ) খন্দকের যুদ্ধের সময় এবং

(৪) হযরত আববাদ ইবনে বিশর (রাযিঃ) বিভিন্ন সময় এই দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়- والله يعصِمُكَ مِنَ النَّاسِ তখন হুযূর প্রহরা স্থগিত করে দিয়েছেন। (নশরুত তীবঃ পৃষ্ঠা: ১৯৫) প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ খাদেম কয়জন ছিলেন, তাঁরা কে কোন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহের বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত খাদেম ছিলেন নয়জন।

(১) হযরত আনাস (রাযিঃ)। গৃহের অধিকাংশ কাজ কর্ম তাঁরই দায়িত্বে ন্যাস্ত ছিল।

(২) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)। তার দায়িত্ব ছিল জুতা

মুবারক ও মেসওয়াক দেখাশুনা করা। (৩) হযরত উকবা ইবনে আমের জুহানী (রাযিঃ)। ইনি সফরের সময় হুযুর (সাঃ)-এর খচ্চরের সাথে থাকতেন।

(৪) হযরত আসলাহ ইবনে শরীক (রাযিঃ)। তিনি উট পরিচালনা করতেন।

(৫) হযরত বিলাল (রাযিঃ)। আয়-ব্যয়ের হিসাবরক্ষক ছিলেন।

(৬) হযরত সাদ (রাযিঃ)।

(৭) হযরত আবু যর গিফারী (রাযিঃ)।

(৮) হযরত আইমান ইবনে উবাইদ (রাযিঃ)। এদের দায়িত্ব ছিল উষুর পানি ও ইস্তেঞ্জার ব্যবস্থাপনা এবং (৯) উম্মে আইমান (রাযিঃ)। তাঁর নিকট হুযুর (সাঃ)-এর আংটি থাকত। (নশরুত-তীবঃ পৃষ্ঠা ৪ ১৯৫) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দায়িত্ব কাদের উপর ছিল?

উঃ হুযুর (সাঃ)-এর যমানায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের দণ্ড কার্যকর করার জন্য নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের উপর দায়িত্ব ছিল- (১) হযরত আলী (রাযিঃ) (২) হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম (রাযিঃ)

(৩) হযরত মিকদাদ ইবনে আমর (রাযিঃ) (৪) হযরত মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) (৫) হযরত আসেম (রাযিঃ) (৬) হযরত যাহহাক ইবনে সুফিয়ান (রাযিঃ)।

‘মুজাদ্দিদ’ তথ্যাবলী

প্রশ্ন মুজাদ্দিদের আগমন কখন থেকে শুরু হয়েছে? দুইজন মুজাদ্দিদের মাকে কত বছরের ব্যবধান হয়? এ পর্যন্ত যে সকল মুজাদ্দিদের আগমন ঘটেছে, তাঁরা কারা?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়ত প্রাপ্তির সময় থেকে একশত বছর পর পর প্রত্যেক শতাব্দীতে মুজাদ্দিদ এসেছেন। এ পর্যন্ত যে সকল মুজাদ্দিদ আবির্ভূত হয়েছেন তাঁরা হলেন

পৃষ্ঠা:৩৫

প্রথম শতাব্দী হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয (রহঃ) দ্বিতীয় শতাব্দী হযরত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রীস শাফেয়ী (রহঃ) তৃতীয় শতাব্দী হযরত আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে সুরাইহ (রহঃ) চতুর্থ শতাব্দী পঞ্চম শতাব্দী হযরত আবূ বকর ইবনে খতীব বাকিল্লানী (রহঃ) হযরত হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামেদ গাযযালী (রহঃ) ষষ্ঠ শতাব্দী হযরত ইমাম আবু আবদুল্লাহ রাযী (রহঃ) ও হযরত ইমাম রাফেয়ী (রহঃ) সপ্তম শতাব্দী অষ্টম শতাব্দী হযরত ইমাম ইবনে দাকীকুল ঈদ (রহঃ) হযরত ইমাম বালকীযানী (রহঃ) ও হযরত হাফেয যাইনুদ্দীন (রহঃ) নবম শতাব্দী দশম শতাব্দী হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুযুতী (রহঃ) হযরত ইমাম শামসুদ্দীন ইবনে শিহাবুদ্দীন (রহঃ) ও হযরত মুহাদ্দিস মোল্লা আলী কারী (রহঃ) একাদশ শতাব্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহঃ) ও হযরত ইমাম ইবরাহীম ইবনে হাসান কুরদী (রহঃ) দ্বাদশ শতাব্দী হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ), হযরত শায়খ সালেহ ইবনে মুহাঃ ইবনে ফল্লানী (রহঃ) ও সাইয়্যেদ মুর্তাযা হুসাইনী (রহঃ) ত্রয়োদশ শতাব্দী হযরত সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহঃ) ও হযরত মাওলানা মুহাম্মদ কাছেম নানুতুতী (রহঃ) চতুর্দশ শতাব্দী হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহঃ) হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) (হায়াতুল হায়ওয়ান। আজাইবুল মাখলুকাত ও গারাইবুল মাউজুদাতঃ খণ্ড। ২, পৃষ্ঠা: ৬৪, আওনুল মা’বুদ

শরহে আবু দাউদঃ খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা ৪ ১৮১)

আইম্মায়ে কেরামদের সাথে সম্পৃক্ত তথ্যাবলী

প্রঃ কোন শাস্ত্রে কাকে কাকে ‘শায়খাইন’ বলা হয়?

উঃ হযরত সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে ‘শায়খাইন’ বললে হযরত আবু বকরসিদ্দীক (রাযিঃ) ও হযরত উমর(রাযিঃ) উদ্দেশ্য হন।ফেকাহ শাস্ত্রে ‘শায়খাইন’ বলতে বুঝায় হযরত ইমাম আযম আবূহানীফা (রহঃ) ও হযরত ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ)কে।হাদীস শাস্ত্রের আলোচনায় ‘শায়খাইন’ হলেন হযরত ইমাম বুখারী (রহঃ) ও হযরত ইমাম মুসলিম (রহঃ)।ফালসাফা বা দর্শন শাস্ত্রে ‘শায়খাইন’ বললে আবু নসর ফারাবী ও শায়খ আবু আলী সীনাকে বুঝায়। (তিরমিযীঃ পৃষ্ঠা: ২২) মানতেক বা তর্কশাস্ত্রের আলোচনায় শায়খাইন বলতেও এই আবু নসর ফারাবী এবং আবু আলী সীনাকেই উদ্দেশ্য করা হয়। (মিরকাতঃ পৃষ্ঠাঃ৪)

প্রঃ ইমাম আযম আবূ হানীফা (রহঃ), ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) ও ইমাম আবূ ইউসুফ (রহঃ)-এর আসল নাম কি?

উঃ ইমাম আযম (রহঃ)-এর আসল নাম নূমান ইবনে সাবেত। তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম হলো আবু হানীফা এবং উপাধি ইমাম আযম। (আসমাউর রিজাল-মিশকাত শরীফঃ পৃষ্ঠা ৬২৪)

ইমাম শাফেয়ী (রহঃ)-এর আসল নাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রীস। (প্রাগুক্তঃ পৃষ্ঠা: ৬২৫)  ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ)-এর আসল নাম মুহাম্মদ ইয়াত্ব। আবু ইউসুফ তাঁর উপনাম।

প্রঃ- ‘ইমামুল হারামাইন’ বললে কারা উদ্দেশ্য হন? পাঠ্য কিতাবাদিতে যে দুইজনকে ইমামুল হারামাইন বলে উল্লেখ করা হয়, তাদের একজন হানাফী মাসলাকের অনুসারী। তাঁর নাম আবুল মুযাফফর ইউসুফ কার্যী জুরজানী (রহঃ)। অপরজন শাফেয়ী মতাবলম্বী। তাঁর নাম আবদুল মালেক ইবনে আবদুল্লাহ জুয়েনী (রহঃ)। উপনাম, আবুল মাআলী। (কুররাতুল উয়ুনঃ পৃষ্ঠা ৪ ১৩, হাশিয়া-নিবরাসঃ পৃষ্ঠা: ৩১)

প্রঃ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উঃ ইমাম আবুল হাসান আশআরী (রহঃ)-কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রতিষ্ঠাতারূপে গণ্য করা হয়। (শরহে আকায়েদ ও পৃষ্ঠাঃ৬)

পৃষ্ঠা:৩৬

প্রঃ মুতাযিলা ফের্কার প্রতিষ্ঠাতা কে?

উঃ ‘ওয়াসেল ইবনে আতা’ মুতাযিলা ফের্কার প্রতিষ্ঠাতা। (শরহে আকায়েদ ৪ পৃষ্ঠা ৫)

প্রঃ সেই মুহাদ্দিসের নাম কি, যিনি অবিশ্বাস্য হলেও দুইটি এমন কাজ করেছেন, যা আজ পর্যন্ত আর কেউ করে নাই?

উঃ সেই সুবিখ্যাত মুহাদ্দিসের নাম হলো হিশাম কালবী (রহঃ)। তিনি নিজে বলেছেন যে, আমি এমন দুইটি কাজ করেছি যা আজ পর্যন্ত আর কেউ করে নাই। একটি হলো এই যে, আমি পুরা কুরআন শরীফ মাত্র তিন দিনে মুখস্থ করেছি। (মালফুযাতে ফকীহুল উম্মতঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ৫৫) দ্বিতীয়টি হলো এই যে, আমি দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করে নীচের অতিরিক্ত অংশ কাটার পরিবর্তে মুষ্টির উপরে দাড়ির গোড়ায় কেটে দিয়েছিলাম। (ফাতাওয়া শামীঃ খণ্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ৪ ২৬১)

প্রঃ ‘ইবনে খাল্লিকান’-এর প্রকৃত নাম কি, তাকে ‘খাল্লিকান’ বলা হয় কেন? উঃ তাঁর প্রকৃত নাম শামসুদ্দীন। তাঁকে ইবনে খাল্লিকান বলার কারণ হলো, তাঁর অভ্যাস ছিল এই যে, তিনি কথায় কথায় ‘কানা’ শব্দটি ব্যবহার করতেন। এছাড়া তিনি কোন কথাই বলতে পারতেন না। তাঁকে যখন বলা হয়েছিল যে, ‘খাল্লিকান’ অর্থাৎ জনাব আপনি কথায় কথায় এই ‘কানা’ বলা ছেড়ে দিন। তখন থেকে এই ‘খাল্লিকান’ শব্দটি এত প্রসিদ্ধ হয়ে যায় যে, তাঁর আসল নাম বাদ পড়ে তাঁর নাম ইবনে খাল্লিকান হয়ে যায়। (মালফুযাতে ফকীহুল উম্মতও খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৯)

মৃত্যুর পরও যাঁরা কথা বলেছেন

প্রঃ মৃত্যুর পরও যারা কথা বলেছেন, তাদের সংখ্যা কত এবং তাঁরা কেকে? উঃ মৃত্যুর পরও যারা কথা বলেছেন, তাদের সংখ্যা চার। তাঁরা হলেন-

(১) হযরত যাকারিয়া (আঃ)-এর পুত্র হযরত ইয়াহয়া (আঃ)। লোকেরা যখন তাঁকে অন্যায়ভাবে জবেহ করে হত্যা করেছিল।

(২) হাবীব নাজ্জার। তাঁকে হত্যা করার পর যখন বলা হয়েছিল যে, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর তখন তিনি বলেছিলেন- باليت قولي يعلمون —হায়, আমার সম্প্রদায় যদি (তা) জানত!”

(৩) হযরত জাফর তাইয়্যার (রাযিঃ)। তিনি শাহাদাত লাভের পর বলেছিলেন- —ولا تحسبن الذين قتلوا في سبيل الله امواتا بل احياء عند ربهم يرزقون “যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করোনা। বরং তারা তাদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।” (৪) হযরত আলী (রাযিঃ)-এর পুত্র হযরত হাসান (রাযিঃ)। তিনি মৃত্যুর পর বলেছিলেন-وسيعلم الذين ظلموا اي منقلب يتقلبون “নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে, তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ।” (হায়াতুল হায়ওয়ান ৪ পৃষ্ঠা ৪ ৮০)

শয়তান সম্পর্কিত তথ্যাবলী

প্রঃ ‘শেখ নাজদী’ কাকে বলা হয়?

উঃ শয়তানকে শেখ নাজদী বলা হয়। এটা তার একটা উপাধি। (কারীমুল লুগাত। পৃষ্ঠা ৪ ১০১)

প্রঃ সাত আকাশে শয়তানের কি কি নাম ছিল?

উঃআল্লামা সমরকন্দী (রহঃ) স্বীয় কাশফুল বয়ান গ্রন্থে হযরত কা’ব আহবার (রহঃ)-এর বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যে, প্রথম আকাশে শয়তানের নাম  ছিল আবেদ।দ্বিতীয় আকাশে তার নাম যাহেদ। তৃতীয় আকাশে আরেফ। চতুর্থ আকাশে অলী। পঞ্চম আকাশে তাকী।ষষ্ঠ আকাশে খাযেন।

পৃষ্ঠা:৩৭

সপ্তম আকাশে আযাযীল এবং লওহে মাহফুযে তার নাম লেখা ছিল ইবলিস। (জুমাল। খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা : ৪১)

প্রঃ শয়তান বেহেশতের খাযাঞ্চি (কোষাধ্যক্ষ) কত বছর ছিল?

উঃ হযরত কাব আহবার (রহঃ) বলেন, শয়তান চল্লিশ বছর বৈহেশতের খাযাঞ্চি ছিল। (সাবীঃ খণ্ডঃ ১, পৃষ্ঠা ৪ ২২)

প্রঃ শয়তান কত বছর আরশের তওয়াফ করেছিল?

উঃ শয়তান চৌদ্দ হাজার বছর আরশের তওয়াফ করেছিল। (তফসীরে সাবীঃ খণ্ড: ১, পৃষ্ঠাঃ ২২)

প্রঃ ফেরেশতাদের শিক্ষক কে ছিল?

উঃ ফেরেশতাদের শিক্ষক ছিল শয়তান। তাকে ‘মুআল্লিমূল মালাইকা’ বা ফেরেশতাদের শিক্ষক উপাধি দেওয়া হয়েছিল। সে আশি হাজার বছর পর্যন্ত ফেরেশতাদের সাথে ছিল। এর মধ্যে ত্রিশ হাজার বছর ফেরেশতাদেরকে ওয়ায-নসীহত ও তাদের শিক্ষকতা করে। ত্রিশ হাজার বছর আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের সর্দার নিযুক্ত ছিল এবং এক হাজার বছর ফেরেশতাদের সর্দার ছিল। (তফসীরে জামাল ও খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ১)

প্রঃ শয়তানের বংশধারা কিভাবে বিস্তার লাভ করে?

উঃ হযরত মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, আল্লাহ তা’আলা ইবলিসের ডান উরুতে পুরুষ লিঙ্গ এবং বাম উরুতে স্ত্রীলিঙ্গ দিয়ে রেখেছেন। শয়তান তার উভয় উরু মিলিয়ে সহবাস করে। প্রতিদিন সে দশটি করে ডিম দেয় এবং প্রতিটি ডিম হতে সত্তরটি নর শয়তান ও সত্তরটি নারী শয়তান সৃষ্টি হয়। এগুলো পাখির ছানার ন্যায় চি চি করতে করতে উড়ে চলে যায়। (সাবীঃ খণ্ড: ৩.পৃষ্ঠা ৪ ২৪)

প্রঃ শয়তানের সন্তান সংখ্যা কত? এদের নাম ও কাজ কি কি?

উঃ শয়তানের মোট সন্তান সংখ্যা কত তা জানা যায় নাই। তবে শয়তানের কোন কোন সন্তানের নাম ও কাজের উল্লেখ পাওয়া যায়। হযরত মুজাহিদ (রহঃ) বলেছেন, শয়তানের বংশধরের মধ্যে দুইটির নাম হলো লাকেস ও ওয়ালাহান। এদের কাজ হলো, উযু, গোসল, পাক-পবিত্রতা ও নামাযে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করা। তৃতীয় একটির নাম হলো মুররাহ। এ কারণেই শয়তানের একটি উপনাম বা কুনিয়াত হলো আবু মুররাহ। চতুর্থ আরেকটির নাম ‘খালাম্বুর’। এর কাজ হলো, সে মানুষের জন্য বাজারগুলোকে সৌন্দর্যমণ্ডিত, পরিপাটি ও আকর্ষণীয় করে। মানুষকে দিয়ে মিথ্যা কসম করায়, বিক্রয়ের জিনিস পত্রের মিথ্যা প্রশংসা করায়। পঞ্চম আরেকটি শয়তানের নাম ‘বিতর’। তার কাজ হলো, মানুষ যখন কোন দুঃখ কষ্ট, বালা-মুসীবত ও রোগ-ব্যাধিতে পতিত হয়, তখন সে মানুষকে আহাজারী করা, মুখের উপর হাত মারা ও জামা কাপড় ছিড়ে ফেলতে উৎসাহিত করে। যন্ত্র একটি শয়তানের নাম ‘আওয়ার’। সে মানুষকে ব্যভিচারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে, এমনকি সে মানুষের যৌনাকাংখাকে উত্তেজিত করার জন্য নর-নারীর যৌনীতে ফুঁ দিয়ে তাদের মধ্যে খাহেশ ও লালসা সৃষ্টি করে। সপ্তম একটি শয়তানের নাম ‘মাতরোস’। এটি মানুষের দ্বারা ভিত্তিহীন গুজব ছড়ায়।অষ্টম একটি শয়তানের নাম ‘দাসেম’। এর কাজ হলো এই যে, যদি কোন লোক সালাম দেওয়া ব্যতীত নিজের ঘরে প্রবেশ করে তবে সেও তার সাথে সাথে ঘরে প্রবেশ করে যায় এবং তাকে রাগান্বিত করে ঘরের লোকজনদের সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিতে চেষ্টা করে। (সাবীঃ খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা : ১৭)

দাজ্জাল সম্পর্কিত তথ্যাবলী

প্রঃ দাজ্জাল পৃথিবীতে কতদিন জীবিত থাকবে?

উঃ দাজ্জাল পৃথিবীতে চল্লিশ দিন জীবিত থাকবে। কিন্তু চল্লিশ দিনের মধ্যে তিনদিন এমন হবে যে, একদিন হবে এক বছরের সমান। একদিন হবে। এক মাসের সমান। একদিন হবে এক সপ্তাহের সমান। বাকী সাঁইত্রিশ দিন অন্যান্য দিনের মতই হবে। (তিরমিযী শরীফঃ খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৪৮) প্রঃ এমন স্থান কয়টি, যেখানে দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না এবং কেন পারবে না?

পৃষ্ঠা:৩৮

উঃ এমন স্থান আছে দুইটি, যেখানে দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। একটি হলো মক্কা শরীফ আরেকটি হলো মদীনা শরীফ। কেননা, আল্লাহ তা’আলা এই দুইটি পবিত্র নগরীকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে হেফাযত করবেন। দাজ্জাল যখন এই দুইটি নগরীতে প্রবেশ করতে অগ্রসর হবে তখন ফেরেশতাগণ তার রুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবেন। (তিরমিযীঃ খণ্ড। ২. পৃষ্ঠা : ৪৮)

প্রঃ, দাজ্জালের কপালে কি লেখা থাকবে?

উঃ এ বিষয়ে তিন রকম বর্ণনা পাওয়া যায়।

(১) দাজ্জালের কপালে ১৮ লেখা থাকবে। (তিরমিযী শরীফঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা ৪ ৪৭), মিশকাত শরীফঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা ৪ ৪৬৫)

)২) দাজ্জালের কপালে এই তিনটি অক্ষর লেখা থাকবে كفر (মিশকাত শরীফঃ খণ্ড ৪ ২, পৃষ্ঠা ৪ ৪৬৫)

)৩) দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে এالكاف الفاء ال লেখা থাকবে। (আশিয়াতুল লমআত, হাশিয়া-মিশকাত শরীফ। খণ্ড ৪ ২, পৃষ্ঠা ৪ ৪৬৫, হাশিয়া-তিরমিযী শরীফঃ খণ্ড। ২, পৃষ্ঠা ৪ ৪৭)

নারীদের সাথে সম্পৃক্ত তথ্যাবলী

প্রঃ যে সকল কাজের সূচনা নারীদের থেকে হয়েছে, সেগুলো কি কি?

উঃ (১) সর্বপ্রথম পশম দ্বারা সূতা তৈরী করেছেন হযরত হাওয়া (আঃ)।

(বুগয়াতুয যমআন ৪ পৃষ্ঠাঃ ২০৪)

(২) নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম সেলাইয়ের কাজ করেছেন হযরত সারা (আঃ)। (বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠা ৪ ২০৪)

(৩) সর্বপ্রথম কোমর বন্ধনী বেঁধেছেন হযরত হাজেরা (আঃ), যখন তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলেন।

(৪) নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ঈমান এনেছেন হযরত খাদীজা (রাযিঃ)। (বুগয়াতুয যমআন: পৃষ্ঠা ৪ ৩৪)

(৫) নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম কান ছিদ্র করেছেন হযরত হাজেরা (আঃ)। (বুগয়াতুয যমআন)

(৬) নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম খাতনা করেছেন হযরত হাজেরা (আঃ)। (বুগয়াতুয যমআন: পৃষ্ঠাঃ ২০৪)

(৭) নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ‘কযফের’ শাস্তি প্রয়োগ করা হয় হামনা বিনতে জাহাশের উপর। (তারীখে ইসলাম)

(৮) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ফুফু হযরত সফিয়া (রাযিঃ) নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম কাফের হত্যাকারিণী। (বুগয়াতুয যমআনঃ পৃষ্ঠা ৪ ১৭৭)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মৃত স্ত্রীলোকদের গোসল দিতেন কে?

উঃ হযরত উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) নববী যুগে মৃত স্ত্রীলোকদের গোসল দিতেন। এজন্য তাঁর উপাধিই হয়ে গিয়েছিল গাসাল্লাহ বা অধিক গোসল দানকারিণী। তাঁর আসল নাম ছিল ‘নাসীবা’। (বুখারী শরীফ। পৃষ্ঠাঃ ১৬৮)

প্রঃ হযরত উম্মে হানী বিনতে আবী তালিব-এর প্রকৃত নাম কি ছিল?

উঃ হযরত উম্মে হানী (রাযিঃ)-এর প্রকৃত নাম ছিল ‘ফাখতা’। (আসমাউর রিজাল, মিশকাত শরীফঃ পৃষ্ঠা। ৬২৩)

প্রঃ ‘যুন নাতাকাতাইন’ কোন মহিলা সাহাবিয়ার উপাধি ছিল, তিনি এই উপাধি কেন লাভ করেছেন?

উঃ এটা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-এর কন্যা হযরত আসমা (রাযিঃ)-এর উপাধি। তাঁর এই উপাধি লাভ করার কারণ হলো, হযরত রাসূল মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) যখন হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করে মদীনাভিমূখী রওয়ানা হন তখন দুশমনের ভয়ে তাঁরা উভয়েই তিন দিন সওর গুহায় অবস্থান করেন। এই তিন দিন হযরত আসমা (রাযিঃ) সত্তর গুহায় অতি সংগোপনে তাদের জন্য খাদ্য ও পানি পৌঁছে দিতেন। যেদিন তাঁরা মদীনায় রওয়ানা হবেন, সেদিন হযরত আসমা (রাযিঃ) খাবার তো নিয়ে আসলেন, কিন্তু এটি লটকানোর জন্য রশি আনতে ভুলে গেলেন। উটের উপর সওয়ার হয়ে তার রশির কথা মনে পড়ল। কিন্তু সেখানে কোন রশি বা এমন কিছু ছিলনা যদারা তিনি আহার্য্যগুলো বেঁধে নিতে পারেন।

পৃষ্ঠা:৩৯

এদিকে শত্রুর ভয়, বেশী বিলম্বও করা যায় না। তাই হযরত আসমা (রাযিঃ) তৎক্ষণাৎ তাঁর কোমর বন্ধনীটি খুলে ফেলে অর্ধেকটি নিজের কোমরবন্ধনীর কাজে ব্যবহার করেন। আর বাকী অর্ধেক দিয়ে আহার্য্য সামগ্রী বাধার ব্যবস্থা করেন। এভাবে সওর গুহায় পৌঁছার পর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আসমা (রাযিঃ) এর উপস্থিত বুদ্ধির দ্বারা সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ দেখে অত্যন্ত খুশী হলেন এবং বললেন তুমি হলে যুনন্যতাকাতাইন অর্থাৎ দুই কোমর বন্ধনীর অধিকারিণী। এই ঘটনার পর থেকেই হযরত আসমা (রাযিঃ) ‘ঘূনন্যতাকাতাইন’ উপাধিতে ভূষিতা হন। (তারীখে ইসলামঃ পৃষ্ঠাঃ ১৩৬, আসমাউর রিজাল-মিশকাত শরীফ)

প্রঃ ইসলামে সর্বপ্রথম কোন কোন মহিলার সাথে ‘খুলা’ (স্ত্রী কর্তৃক বিবাহ বিচ্ছেদ) এবং ‘যিহার’ (স্বীয় স্ত্রীকে এইরূপ বলা যে, তুমি আমার মা বোনের মতই নিষিদ্ধ) করা হয়েছে?

উঃ সর্বপ্রথম খুলা হয়েছে সাবেত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস-এর স্ত্রীর সাথে এবং সর্বপ্রথম যিহার করেছেন আওস ইবনে সামেত স্বীয় স্ত্রী খাওলা বিনতে সালাবার সাথে। (বুগয়াতুয যমআন)           

প্রঃ মাতৃগর্ভে আসার কত দিন পর সন্তানের মধ্যে আত্মা দেওয়া হয়?

উঃ মাতৃগর্ভে আসার চার মাস পর সন্তানের মধ্যে আত্মা দেওয়া হয়। (সাবী ৪ খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠা: ৯৩) পৃথিবীর বয়স

পৃথিবীর বয়স কত?

উঃ পৃথিবীর বয়স বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে গণনা করা হয়েছে। যারা আকাশ গ্রহ শোভিত হওয়ার পর থেকে পৃথিবীর বয়স গণনা করেছেন, তাদের গণনায় পৃথিবীর বয়স বার হাজার বছর। আর যারা নক্ষত্র সৃষ্টির পর থেকে বয়স হিসাব করেছেন, তাদের মতে পৃথিবীর বয়স সাত হাজার বছর। পক্ষান্তরে যারা বছর ও বছরের দিনসমূহ নির্ধারণের পর থেকে হিসাব করেছেন, তাদের মতে পৃথিবীর বয়স তিন লক্ষ ষাট বছর। (সাবী: পৃষ্ঠা: ১২৫, হাশিয়া জালালাইনঃ পৃষ্ঠাঃ ২৯৩)সপ্তাহের কোন দিন কি সৃষ্টি হয়েছে

আল্লাহ তা’আলা সপ্তাহের সাত দিনের কোন দিন কি সৃষ্টি করেছেন?

 উঃ মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, আল্লাহ তা’আলা শনিবার দিন যমীন সৃষ্টি করেছেন। রবিবার দিন পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেছেন। সোমবার গাছপালা, বৃক্ষলতা সৃষ্টি করেছেন। মঙ্গলবার দিন যাবতীয় ‘মাকরুহাত’ বা অকাম্য বস্তুসমূহকে অস্তিত্ব দিয়েছেন। বুধবার দিন ‘নূর’ সৃষ্টি করেছেন। বৃহস্পতিবার দিন চতুষ্পদ জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন এবং শুক্রবার দিন হযরত আদম (আঃ)কে সৃষ্টি করেছেন। (হায়াতুল হায়ওয়ান। পৃষ্ঠা ৪ ৪৫০)

প্রঃ পৃথিবীতে সর্বমোট কতগুলো দেশ রয়েছে?

উঃ পৃথিবীতে মোট ২৩২টি দেশ রয়েছে। (ফয়সল আখবারও পৃষ্ঠা ৪ ৪, প্রকাশকাল: রজব, ১৪১১ হিজরী)

প্রঃপৃথিবীতে কতগুলো ভাষায় কথা বলা হয়?সমগ্র পৃথিবীতে সর্বমোট তিন হাজার চৌষট্টিটি ভাষায় কথা বলা হয়। (ফয়সল আখবার ও পৃষ্ঠা : ৪, প্রকাশকাল: রজব, ১৪১১ হিজরী) সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠের পরিধি কত?

উঃ সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠের পরিধি তের কোটি বর্গমাইল। (আলমে সুদুসীঃ জেহাদে আফগানিস্তান: পৃষ্ঠাঃ ১২০)

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা যমীনকে কিসের উপর স্থাপন করেছেন?

উঃ আল্লাহ তা’আলা যমীনকে ইয়াহমূত বা লুতিয়া নামক একটি মাছের পিঠের উপর স্থাপন করেছেন। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড : ২, পৃষ্ঠাঃ ৩৮২)

প্রঃ যমীনের বিস্তৃতি কতটুকু? এবং কোন ভাগে কি প্রকার সৃষ্টি বসবাস করে?

উঃ সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠের বিস্তৃতি পাঁচশত বছরের দূরত্বের সমান। এই বিস্তৃত ভূ-পৃষ্ঠের তিনশত ভাগে শুধু পানি আর পানি। আর একশত নব্বই ভাগ ইয়াজুজ-মাজুজ-এর আবাসস্থল। অবশিষ্ট দশ ভাগের সাত ভাগের মধ্যে হাবশী বসতি এবং অন্য তিন ভাগের মধ্যে এদের ব্যতীত অন্যান্য লোকেরা বসবাস করে। (সাবীঃ পৃষ্ঠাঃ ২৭, হাশিয়া-জালালাইন শরীফঃ খণ্ড। ২, পৃষ্ঠাঃ ২৫২)

পৃষ্ঠা:৪০

প্রঃ সন্দে ইসকান্দরী অর্থাৎ যুলকারনাইন যে প্রাচীর তৈরী করেছিল, তা কোথায় অবস্থিত এবং এর দৈর্ঘ্য প্রস্থ কতটুকু?

উঃ বাদশা ফুলকারনাইন তুর্ক অঞ্চলে যে প্রাচীর তৈরী করেছিল, এর দৈর্ঘ্য একশত মাইল এবং প্রস্থ পঞ্চাশ মাইল। (সাবীঃ খণ্ডঃ ৩, পৃষ্ঠাঃ ২৭, হাশিয়া-জালালাইন শরীফঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ২৫২)

উম্মাহ সম্পর্কিত তথ্যাবলী

প্রশ্ন উম্মাহ-এর সংখ্যা কত? তাদের অবস্থান কোথায়?

উঃ আল্লাহ তা’আলা এক হাজার উম্মাহ সৃষ্টি করেছেন। এদের মধ্যে ছয়শো জল ভাগে বাস করে আর চারশো স্থলভাগে বসবাস করে। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা : ৫৬৬)

প্রঃ কিয়ামতের দিন সকল উম্মতের সর্বমোট কয়টি কাতার হবে এবং এর মধ্যে উম্মতে মুহাম্মদীর কাতার কয়টি থাকবে?

উঃ কিয়ামতের দিন যখন মানুষকে আল্লাহর মহান দরবারে কাতারবন্দি হয়ে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হবে, তখন তাদের সর্বমোট একশত বিশটি কাতার হবে। এর মধ্যে উম্মতে মুহাম্মদীর হবে আশি কাতার এবং অন্যান্য সকল উম্মতের হবে বাকী চল্লিশ কাতার। (সাবী। খণ্ডঃ ৪, পৃষ্ঠা : ১৯)

প্রঃ সর্বপ্রথম কোন উম্মত বেহেশতে প্রবেশ করবে?

উঃ সর্বপ্রথম উম্মতে মুহাম্মদী জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তফসীরে ইবনে কাসীরঃ খণ্ডঃ ১, পৃষ্ঠা ৪ ৬২১)

প্রঃ উম্মতে মুহাম্মদীয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীদের কয়টি দল হবে?

উঃ উম্মতে মুহাম্মদীর জান্নাতে প্রবেশকারীদের তিনটি দল হবে। প্রথম দলটি কোনরূপ হিসাব-নিকাশ ব্যতীতই সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করবে। দ্বিতীয় দল মামুলী ধরনের হিসাব-নিকাশ দিয়েই জান্নাতে দাখিল হয়ে যাবে। তৃতীয় দলটি রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফাআতের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (হায়াতুল হায়ওয়ান :

প্রঃ কিয়ামতের ময়দানে উম্মতে মুহাম্মদীকে কোন উপাধিতে আহবান করা হবে?

উঃ কিয়ামতের ময়দানে উম্মতে মুহাম্মদীকে হাম্মাদুন অর্থাৎ অধিক প্রশংসাকারী দল উপাধিতে আহবান করা হবে। (বুগয়াতুয যমআনের হাওয়ালায় মুহাযারাতুল আওয়ায়েল)

প্রঃ মানুষ কত প্রকার?

উঃ মানুষ তিন প্রকার। এক প্রকার মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন যে, সبَلْ هُمْ أَضَلُّ سَ বরং এরা চতুষ্পদ জন্তর চেয়েও অধিকতর নিকৃষ্ট। দ্বিতীয় প্রকার হলো, যাদের দেহাকৃতি মানুষের ন্যায় কিন্তু এদের অন্তর ও আত্মা শয়তানের ন্যায়। তৃতীয় প্রকার হলো আল্লাহর নেক ও প্রিয় বান্দাগণ। যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান লাভ করবে। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ড। ১, পৃষ্ঠা ৪ ৩৮৯)

প্রঃ জিন কত প্রকার? কোন প্রকার জিনের হিসাব-নিকাশ হবে?

উঃ তিন প্রকার। এক প্রকার জিন হলো যাদের ডানা আছে এবং এই ডানার দ্বারা তারা উড়তে পারে। দ্বিতীয় প্রকার জিন হলো যারা সাপের আকৃতি ধারণ করে থাকে। তৃতীয় প্রকার হলো যারা মানুষের ন্যায়। বস্তুতঃ এই তৃতীয় প্রকার জিনেরই হিসাব-নিকাশ হবে। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ১. পৃষ্ঠা ৪ ৩৮৯)

পূর্ববর্তী যুগে বারের নাম

প্রশ্ন জাহেলিয়াতের যুগে বারের নাম কি ছিল?

উঃ জাহেলিয়াতের যুগে শনিবারকে শাবার, রবিবারকে আওয়াল, সোমবারকে আছন, মঙ্গলবারকে জুবার, বুধবারকে দাবার, বৃহস্পতিবারকে মুনিস এবং শুক্রবারকে আরুবা বলা হত। (বযলুল মজহুদ, ফাতহুল বারী। খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ২৯২)

প্রঃ আরবা নাম পরিবর্তন করে জুমাবার (শুক্রবার) নাম কে রেখেছেন?

উঃ কাব ইবনে লুওয়াই আরুবা নাম পরিবর্তন করে জুমা বার (শুক্রবার) 

পৃষ্ঠা:৪১

নাম রেখেছেন। (বযলুল মজহুদ, ফাতহুল বারীঃ খণ্ড: ২, পৃষ্ঠাঃ ২৯২, হাশিয়া-কানজুদ দাকাইকঃ পৃষ্ঠা: ৪৩)

প্রঃ ‘জুমাদাল উলা’র নাম জুমাদাল উলা রাখার কারণ কি?

ইসলামী মাসগুলোর নামকরণ

প্রঃ ‘মুহাররমূল হারাম’ নাম রাখার কারণ কি?

উঃ এই মাসের নাম ‘মুহাররমূল হারাম’ এই জন্য রাখা হয়েছে যে, জাহেলিয়াতের যুগে এই মাসে কোনপ্রকার যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাত করা হারাম ও অবৈধ ছিল। (গিয়াসুল লুগাতঃ পৃষ্ঠা ৪ ৪৪৫)

প্রঃ সফর মাসকে ‘সফর’ বলা হয় কেন?

উঃ সফর শব্দটি ‘সিফর’ ধাতু হতে উৎপন্ন। এর অর্থ হলো শূন্য হওয়া। যেহেতু জাহেলিয়াতের যুগে মুহাররম মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম ছিল, তাই লোকেরা সফর মাসে যুদ্ধের জন্য বের হয়ে যেত এবং তাদের বাড়ী ঘরগুলো শূন্য পড়ে থাকত। তাই এই মাসের নামকরণ করা হয় সফর। (গিয়াসুল লুগাতঃ পৃষ্ঠা ৪ ২৯৫) অথবা সফর শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ‘সুফর’ ধাতু হতে। যার অর্থ হলদে বর্ণ। লোকেরা যখন এই মাসের নাম নির্ধারণ করতে ইচ্ছা করে ঘটনাক্রমে তখন বৃক্ষের পাতা ঝরার মওসুম শুরু হয়ে যায়। যাতে গাছপালার পাতা হলদে বর্ণ ধারণ করে। তাই এই মাসের নাম রেখে দেওয়া হয় সফর। (বাহরুর জাওয়াহির, কাশফুল লাতাইফ, রেসালায়ে নজুম, বহাওয়ালাঃ গিয়াসুল লুগাত। পৃষ্ঠাঃ ২৯৫)

প্রঃ ‘রবিউল আওয়াল’ মাসকে রবিউল আওয়াল বলা হয় কেন? উঃ যখন এই মাসের নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন হিসাব অনুযায়ী এই মাস ‘ফসলে রবি’ অর্থাৎ বসন্তকালের শুরুতে পড়ে যায় তাই এই মাসের নামকরণ করা হয় ‘রবিউল আওয়াল’। (গিয়াসুল লুগাত ৪ পৃষ্ঠাঃ ২১৬)

প্রঃ ‘রবিউল আখির’ নামকরণের কারণ কি?

উঃ এই মাসের নামকরণের সময় দেখা গেল যে, এটি বসন্তকালের শেষ ভাগে পড়েছে। তাই এর নাম রেখে দেওয়া হয় ‘রবিউল আখির’ অর্থাৎ শেষ বসন্ত। (গিয়াসুল লুগাতঃ পৃষ্ঠা ৪ ২১৬)

উঃ জুমাদা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ‘জুমুদ’ ধাতু থেকে যার অর্থ হলো জমে যাওয়া, স্থবির হওয়া ইত্যাদি। আর উলা শব্দের অর্থ প্রথম। যখন এই মাসের নামকরণের পালা আসে, তখন হিসাব করে দেখা যায় যে, এই মাস শীত মওসুমের প্রথমাংশে পড়ে। শীত মওসুমে যেহেতু সবকিছুর মধ্যে একটা স্থবিরতা এসে যায়, তাই এই মাসেরও নাম দেওয়া হয়েছে জুমাদাল উলা। (গিয়াসুল লুগাত পৃষ্ঠাঃ ২১৬)

প্রঃ ‘জুমাদাল উখরা’ নাম রাখার কারণ কি?

উঃ যখন এই মাসের নাম রাখার ক্রমিক আসে, তখন হিসাবে দেখা যায় যে, তা শীত মওসুমের এমন সময়ে পড়ে, যখন শীতের প্রচণ্ডতায় পানি পর্যন্ত জমে যায়। সুতরাং এই মাসের নাম রেখে দেওয়া হয় ‘জুমাদাল উখরা’। (মানাযিরুল ইনশা মুনতাগাব, কামূস, বাহরুল জাওয়াহির, বহাওয়ালা: গিয়াসুল লুগাত ও পৃষ্ঠাঃ ১৩৭)

প্রঃ ‘রজব মাস’ নাম রাখার কারণ কি?

উঃ ‘রজব’ শব্দটি ‘তারজীব’ হতে উদ্ভুত হয়েছে। ‘তারজীব’-এর অর্থ হলো সম্মান করা। যেহেতু আরববাসীগণ এই মাসকে শাহরুল্লাহ বা আল্লাহর মাস বলত এবং এর সম্মান করত তাই এই মাসের নাম রেখে দেওয়া হয় রজব। (গিয়াসুল লুগাতঃ পৃষ্ঠাঃ ২১৭) শাবান মাসের নাম ‘শাবান’ রাখা হয়েছে কেন?

উঃ শাবান শব্দের উৎপত্তি হয়েছে ‘শা’ব’ হতে। এর অর্থ বের হওয়া, প্রকাশ হওয়া, বিদীর্ণ হওয়া। যেহেতু এই মাসে বিপুল কল্যাণ প্রকাশিত ও প্রসারিত হয়, মানুষের রিযিক বণ্টিত হয় এবং তকদীরী ফয়সালাসমূহ (সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাগণকে) বণ্টন করে দেওয়া হয়, তাই এই মাসের নাম রাখা হয়েছে শাবান। (গিয়াসুল লুগাতঃ পৃষ্ঠা ৪ ২৮০) প্রঃ রমযানুল মুবারকের নাম ‘রমযান’ রাখার কারণ কি?

উঃ ‘রমযান’ শব্দের ধাতুগত অর্থ জ্বালানো, পুড়ানো। যেহেতু এই মাসও মুমিনের গুনাহসমূহ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়, তাই এর নামকরণ হয়েছে ‘রমযান’। অথবা রমযানের ধাতুগত অর্থ মাটির উত্তাপে

পৃষ্ঠা:৪২

পা জ্বলে যাওয়া। যেহেতু রমযান মাসও নফসের কষ্ট ও জ্বলনের কারণ হয়, তাই এর নাম রেখে দেওয়া হয়েছে ‘রমযান’। (গিয়াসুল লুগাতঃ পৃষ্ঠা: ২২৩)

প্রঃ ‘শাওয়াল’ নামকরণের কারণ কি?

উঃ শাওয়াল শব্দটি ‘শাওল’ ধাতু হতে নির্গত। এর অর্থ বাইরে গমন করা। যেহেতু আরবের লোকেরা এই মাসে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে বের হয়ে যেত, তাই এই মাসেরও নামকরণ হয়েছে “শাওয়াল’।

প্রঃ ‘যীকাদাহ’ নাম রাখার কারণ কি?

উঃ যী অর্থ ওয়ালা আর ‘কাদাহ’ অর্থ বসা। যেহেতু এই মাসটি আশহুরে হুরমের অর্থাৎ যে মাসগুলোর বিশেষ সম্মান করা হয় সেইগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই আহলে আরবগণ এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ রেখে বাড়িতে বসে যেত। বস্তুতঃ এ কারণেই এই মাসের নাম রাখা ‘যীকাদাহ’। (গিয়াসুল লুগাতঃ পৃষ্ঠা ৪ ২১৩)

প্রঃ ‘যিলহিজ্জাহ’র নাম ‘যিলহিজ্জাহ’ রাখার কারণ কি?

উঃ হয়তো এই শব্দটি নেওয়া হয়েছে ‘হাজ্জাহ’ হতে যার অর্থ একবার হজ্জ করা অথবা এর মূল হলো ‘হিজ্জ’, যার অর্থ বছর। যেহেতু এই মাস বছরের শেষে আসে এবং এই মাসের দ্বারাই বছরের সমাপ্তি ঘটে, তাই মাসের নামকরণ হয়েছে যিলহিজ্জাহ। (গিয়াসুল লুগাত ও পৃষ্ঠা ৪ ২১৩)

পবিত্র কাবাঘরের নির্মাতা কে?

প্রঃ পবিত্র কাবাঘরের নির্মাণ কয়বার হয়েছে? কে কে নির্মাণ করেছেন?

উঃ আল্লাহর ঘর কাবা শরীফ দশবার নির্মিত হয়েছে।

(১) প্রথমবার ফেরেশতাগণ নির্মাণ করেছেন।

(২) দ্বিতীয়বার হযরত আদম (আঃ) নির্মাণ করেছেন।

(৩) তৃতীয়বার হযরত আদম (আঃ)-এর সন্তানগণ নির্মাণ করেন। (৪) চতুর্থবার হযরত ইবরাহীম (আঃ) নির্মাণ করেন।

(৫) পঞ্চমবার আমালিকা সম্প্রদায় কর্তৃক নির্মিত হয়েছে।

(৬) ষষ্ঠবার জুরহুম গোত্র নির্মাণ করে।

(৭) সপ্তমবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঊর্ধ্বতন পুরুষ কুসাই ইবনে কিলাব নির্মাণ করে। ৮) অষ্টমবার হুযুর (সাঃ)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর আগে তাঁর (বয়স যখন পঁয়ত্রিশ বছর তখন কুরাইশ কর্তৃক নির্মিত হয়। (৯) নবমবার হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযিঃ) নির্মাণ করেন। (১০) দশমবার হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ সাকাফী নির্মাণ করেন। (শিফাউল গারাম বিআখবারিল বালাদিল হারামঃ পৃষ্ঠা : ৯১) ‘সীরতে হালবিয়া’র প্রখ্যাত গ্রন্থকার লিখেছেন যে, কাবার নির্মাণ হয়েছে মাত্র তিনবার। (১) প্রথমবার হযরত ইবরাহীম (আঃ) নির্মাণ করেছেন এবং (২) দ্বিতীয়বার কুরাইশগণ নির্মাণ করেছে। আর এই দুই নির্মাণের মাঝে সময়ের ব্যবধান ছিল সতেরশো পঁচাত্তর বছর। (৩) তৃতীয় বার নির্মাণ করেছেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযিঃ)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযিঃ) ও কুরাইশদের নির্মাণের মাঝে ব্যবধান ছিল বিরাশি বছর।স্মর্তব্য যে, ফেরেশতা ও হযরত আদম (আঃ) কর্তৃক কাবাঘর নির্মিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। আর জুরহুম গোত্র, আমালিকা সম্প্রদায় ও কুসাই ইবনে কিলাব কর্তৃক কাবাঘরের শুধুমাত্র সংস্কার ও মেরামতের কাজ হয়েছিল। তারা কাবাঘরের পুনঃনির্মাণ করে নাই। কাবাঘরের – পুনঃনির্মাণের হয়েছে মাত্র দুইবার। একবার কুরাইশগণ করেছিল। আরেকবার হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযিঃ) করেছিলেন। (হাশিয়া-বুখারী শরীফ: পৃষ্ঠা ৪ ২১৫)

শিংগায় কয়বার ফুঁ দেওয়া হবে

প্রঃ হযরত ইসরাফীল (আঃ) শিংগায় কয়বার ফুঁ দিবেন?

উঃ কেউ কেউ বলেছেন যে, হযরত ইসরাফীল (আঃ) শিংগায় মাত্র তিনবার ফুঁ দিবেন। ) প্রথমবার ফুঁ দেওয়ার পর মানুষ ভীত-সন্ত্রস্থ হয়ে যাবে। হবে। (১ (২) দ্বিতীয়বার ফুঁ দেওয়া হলে অকস্মাৎ সকল প্রাণী মৃত্যুমুখে পতিত

পৃষ্ঠা:৪৩

(৩) তৃতীয় বার ফুঁ দেওয়ার পর সকল মানুষ কবর থেকে উঠে এসে আল্লাহর সম্মুখে দণ্ডায়মান হবে। সুতরাং প্রথম ফুৎকারটি হবে মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্থ করার জন্য। দ্বিতীয় ফুৎকার হবে মৃত্যুর জন্য আর তৃতীয় ফুৎকার হবে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার নিমিত্ত।(সাবীঃ খণ্ড ৪ ৩, পৃষ্ঠা: ৯২)এ ব্যাপারে দ্বিতীয় আরেকটি মত হল এই যে, আল্লামা ইবনে হাযম (রহঃ) বলেন, শিংগায় মোট চারটি ফুৎকার দেওয়া হবে।

(১) মৃত্যুর জন্য। (২) জীবিত করার জন্য। (৩) ভীত-সন্ত্রস্থ অর্থাৎ বেহুশ করার জন্য। (৪) বেহুশ অবস্থা থেকে হুঁশে আনার জন্য। হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাংগুহী (রহঃ), শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া (রহঃ) এবং হযরত মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ) এই অভিমতটিকেই গ্রহণ করেছেন।কিন্তু আল্লামা ইবনে হাজর (রহঃ) বলেন যে, মূলতঃ শিংগায় ফুৎকার তো দুইটিই দেওয়া হবে। তবে প্রথম ফুৎকারের প্রতিক্রিয়া এই হবে যে, এতে সকল প্রাণী মৃত্যুমুখে পতিত হবে এবং মৃতদের রূহসমূহ অজ্ঞান ও বেহুঁশ হয়ে যাবে। আর দ্বিতীয় ফুৎকারে মৃতরা জীবিত হয়ে যাবে এবং বেহুঁশেরা হুঁশে আসবে। (দরসঃ শায়খ মুহাম্মদ ইউনুস, মাযাহেরে উলুম, সাহারানপুর, ভারত)

প্রঃ শিংগার এক ফুৎকার হতে আরেক ফুৎকার পর্যন্ত কত দিনের ব্যবধান হবে?

উঃ এক ফুৎকার হতে আরেক ফুৎকার পর্যন্ত চল্লিশ বছরের ব্যবধান হবে। (হাশিয়া-জালালাইন শরীফঃ খণ্ড ৪ ২, পৃষ্ঠা ৪ ২৫২, পারাঃ ১৬)

বেহেশত সম্পর্কিত তথ্যাবলী

প্রঃ সর্বপ্রথম কোন নবী এবং কোন উম্মত বেহেশতে প্রবেশ করবে?

উঃ আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মত সর্বপ্রথম বেহেশতে প্রবেশ করবেন। (তফসীরে ইবনে কাসীরঃ খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা: ৬২১, পারা ৪ ৪)

প্রঃ বেহেশতবাসীদের দেহের উচ্চতা কতটুকু হবে?

উঃ রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, বেহেশতবাসীদের দেহের উচ্চতা ষাট হাত হবে। (মুসনাদে আহমদ, সূত্র হায়াতে আদম (আঃ) ঃ পৃষ্ঠা ৪৫০)

প্রঃ পৃথিবীতে প্রবাহিত এরূপ নদী কয়টি এবং কোনগুলি যেগুলোর উৎসস্থল বেহেশত।

উঃ বেহেশতের উৎসধারা হতে পৃথিবীর বুকে প্রবাহিত নদী সম্পর্কে দুইপ্রকার উক্তি রয়েছে। এক উক্তি মুতাবেক এরূপ নদীর সংখ্যা চারটি। (১) জাইহুন (২) সাইহুন (৩) ফুরাত (৪) নীল। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ) দ্বিতীয় উক্তি হলো এই যে, হযরত ইবনে আব্বাসের সূত্রে শায়খাইন (হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) ও হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ)) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, আঁ-হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা বেহেশত হতে পৃথিবীতে পাঁচটি নদী প্রবাহিত করেছেন, সেগুলো হলো (১) সাইহুন (২) জাইছন (৩) দজলা (৪) ফুরাত ও (৫) নীল। (সাবী: খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠাঃ ১১৪)

আবিষ্কার জগতের বিস্ময়কর তথ্যাবলী

প্রঃ ঘড়ির আবিষ্কারক কে?

উঃ খলীফা হারুনুর রশীদ তাঁর খেলাফত যুগে ঘড়ি আবিষ্কার করেন। ইউরোপীয় গবেষকগণও এর সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। (আলাতে জাদীদাকে শরয়ী আহকাম : পৃষ্ঠা ৪ ১২৩)

প্রঃ মুদ্রণ যন্ত্রের আবিষ্কারক কে? উঃ গোটম বুর্গকে মুদ্রণ যন্ত্রের আবিষ্কারক বলা হয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, সর্বপ্রথম স্পেনের মুসলমানগণ মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন। তবে ব্যবহারের স্বল্পতা ও কালের বিবর্তন তা বিলুপ্ত করে দেয়। (আলাতে জাদীদাকে শরয়ী আহকাম। পৃষ্ঠা ৪ ১১৯)

প্রঃ ফনোগ্রাম কোন ভাষার শব্দ, এর অর্থ কি? এর আবিষ্কারক কে? উঃ ফনোগ্রাফ ইউনানী (গ্রীস) ভাষার শব্দ। এর অর্থ হলো স্বর লেখক। এই

পৃষ্ঠা:৪৪

যন্ত্রটির আবিষ্কারক সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ আমেরিকার সুপ্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী এডিসনকে এই যন্ত্রের আবিষ্কারক বলেছেন। কিন্তু কোন কোন প্রাচীন ইতিহাস গ্রন্থের তথ্যানুযায়ী বুঝা যায় যে, এই যন্ত্রের আবিষ্কারক ছিলেন প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক ও বিজ্ঞানী আফলাতুন বা প্লেটো। এই উভয়বিদ মতের মধ্যে এভাবে সামঞ্জস্য বিধান করা যায় যে, এই যন্ত্রের প্রথম আবিষ্কারক প্লেটো এবং এর দ্বিতীয় আবিষ্কারক অর্থাৎ এর সংস্কার ও আধুনিক রূরূপদানকারী হলেন আমেরিকার বিখ্যাত বিজ্ঞানী এডিসন। (আলাতে জাদীদাকে শরয়ী আহকাম: পৃষ্ঠা: ১২৮)

প্রঃ তোপ ও বারুদের আবিষ্কারক কে?

উঃ সর্বপ্রথম তোপ ও বারুদের আবিষ্কার করেছেন স্পেনীয় মুসলিমগণ। (আলাতে জাদীদাকে শরয়ী আহকাম ৪ পৃষ্ঠা: ১২৮)

জানোয়ার সম্পর্কিত তথ্যাবলী

প্রঃ কোন জানোয়ারগুলো বেহেশতে যাবে?

উঃ হযরত খালেদ ইবনে মাদান হতে বর্ণিত আছে যে, আসাহাবে কাহাফের কুকুর এবং বালআমের গাধা ব্যতীত আর কোন জানোয়ার বেহেশতে যাবে না। তবে আল্লামা আলুসী (রহঃ) বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে, হযরত সালেহ (আঃ)-এর উটনী এবং হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর দুম্বাও বেহেশতে যাবে। তাছাড়া কোন কোন সুন্দর সুন্দর জানোয়ারও বেহেশতে যাবে। যেমন: ময়ূর, হরিণ, বকরী ইত্যাদি। (রুহুল মাআনী। খণ্ড ৪ ১৫, পৃষ্ঠাঃ ২৩৬)জালালাইন শরীফের টীকাকার লিখেছেন যে, হযরত সুলাইমান (আঃ)- এর পিঁপড়াও বেহেশতে যাবে। (জালালাইন শরীফঃ পৃষ্ঠা: ৩১৮)

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম কোন জানোয়ার সৃষ্টি করেছেন, এর নাম কি? উঃ আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম লুতিয়া ও ইয়াহমুত নামক মাছ সৃষ্টি করেছেন।(হায়াতুল হায়ওয়ান ৪ পৃষ্ঠা ৪ ৩৮৩)

প্রঃ কোন কোন জানোয়ারের ঋতুস্রাব হয়?

উঃ তিন প্রকার জানেয়ারের ঋতুস্রাব হয় (১) খরগোশ (২) বিচ্ছু (৩) বাদুর। (হাশিয়া-কানযুদ্ন্দাকায়েকঃ পৃষ্ঠাঃ ১৩)

প্রঃহযরত আদম (আঃ)-কে দুনিয়াতে প্রেরণের সময় এখানে কি কি জানোয়ার ছিল?

উঃ তখন পৃথিবীতে দুইটি জানোয়ার ছিল। স্থলভাগে টিড্ডি এবং জলভাগে মাছ। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ ১. পৃষ্ঠাঃ ২৬৭) প্রশ্ন বাঘ যখন হুংকার ছাড়ে তখন সে কি বলে?

উঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাযিঃ) বলেন, আ-হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করেন যে, তোমরা কি জান বাঘ যখন হুংকার দেয় তখন সে কি বলে? সাহাবাগণ আরয করলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক অবগত আছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বাঘ যখন হুংকার দেয় তখন সে বলে-اللهم لا تسيطني على أحد من أهل المعروف “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে কোন নেককার ব্যক্তির উপর মুসাল্লাত করবেন না।” (হায়াতুল হায়ওয়ান ও খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠা : ৯)

প্রঃ মোরগ এবং গাধা কখন আওয়াজ দেয়?

উঃ মোরগ যখন ফেরেশতাদেরকে এবং গাধা যখন শয়তানকে দেখতে পায় তখন আওয়াজ দিতে থাকে। (হায়াতুল হায়ওয়ান পৃষ্ঠা: ৪৯০) খণ্ডঃ ১,প্রঃ পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন্ জানোয়ারটি অসুস্থ হয়েছে?

উঃতুফানের সময় হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকায় যে বাঘটি ছিল সে বাঘটিই সর্বপ্রথম অসুস্থ হয়। (রুহুল মাআনী : পৃষ্ঠা: ৫৩-৫৪, পারা: ১৬)

প্রঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়টি জীব হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, সেগুলো কি কি?

উঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ প্রকার জীব হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। সেগুলো হলো-(১) হুদহুদ (২) পিঁপড়া (৩) মধুমক্ষিকা

পৃষ্ঠা:৪৫

(৪) ব্যান্ড এবং (৫) সির নামক পাখী। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা ৪ ৬৪৮-৬৪৯)

প্রঃ দুইটি ঘোড়া যখন পরস্পর সামনা-সামনি হয় তখন কি বলে?

উঃ তখন এরা বলে- سبوح قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَئِكَةِ وَالرُّوحِ(হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ ১, পৃষ্ঠাঃ ১৬৪)

প্রশ্ন হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে কোন প্রাণীটি ফুঁ দিয়েছিল?

উঃ সেই প্রাণীটির নাম গিরগিট। প্রথম আক্রমণেই এটিকে হত্যা করার নিমিত্ত হুযুর (সাঃ) একশত সওয়াবের ঘোষণা দিয়েছেন। (হায়াতুল হায়ওয়ান : খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা ৪ ৬৪৮)

প্রঃ যে প্রাণীটি মুখে করে পানি এনে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে নিক্ষিপ্ত অগ্নিকুণ্ড নিভাতে চেষ্টা করেছিল সেই প্রাণীর নাম কি? উঃ সেই প্রাণীর নাম ব্যান্ড। হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে আগুনে নিক্ষেপ করার পর ব্যাঙ সেই অগ্নিকুণ্ডের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। ব্যাঙ এই অবস্থা দেখে মুখে করে পানি এনে সেই অগ্নিকুণ্ড নিভাতে চেষ্টা করেছিল। তাই রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাঙ মারতে নিষেধ করেছেন। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা। ৬৪৮)

প্রঃ সেই প্রাণীর নাম কি, যা বড় বড় চলন্ত জাহাজ পর্যন্ত আটকিয়ে দিতে পারে?

উঃ সেই প্রাণীটি একটি মাছ। এটির নাম ‘ফাতোস’। এই মাছ চলন্ত জাহাজ আটকিয়ে দেয়। (হায়াতুল হায়ওয়ান ৪ পৃষ্ঠা: ৩৮৩) প্রঃ জীব-জন্তু যখন আওয়াজ দেয় তখন কি বলে?

উঃ প্রত্যেক জীব-জন্তুর ভাষা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু কোন জীব-জন্তু যখনই কোন আওয়াজ দেয় তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এরা আল্লাহর ‘তসবীহ’ পাঠ করে অথবা কোন হেদায়াত ও নসীহতের কথা বলে। যেমন ৪ তিতির পক্ষী বলে-الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى“আল্লাহ তা’আলা আরশের অধিপতি।” (রহুল মাআনী। খণ্ড: ১৯, পৃষ্ঠাঃ ১৭২) কপোত পাখী বলে-يا ليتَ ذَا الخَلْقِ لم يخلق “হায়! মাখলুক যদি সৃষ্টিই করা না হতো।” (রুহুল মাআনী: খণ্ড: ১৯, পৃষ্ঠাঃ ২৭১) ময়ূর বলে-كَمَا تَدِينُ تُدَانُ

“যেমন কর্ম তেমন ফল।” (রহুল মাআনী: খণ্ড। ১৯, পৃষ্ঠাঃ ২৭১) শকুন বলে-يَا ابْنَ آدَمَ عِشْ مَا عِشْتَ فَإِنَّ أُخِرَكَ الْمَوْتُ “হে আদম সন্তান। যতদিন প্রাণবায়ু আছে বেঁচে থাক। (কিন্তু স্মরণ রেখো।) একদিন তোমাকে মরতেই হবে।” বাজপার্থী বলে- فِي الْبَعْدِ مِنَ النَّاسِ انْسِ “মানুষের থেকে দূরে থাকার মধ্যেই শাস্তি।” (রুহুল মাআনী। খণ্ডঃ ১৯, পৃষ্ঠা : ১৭২) কচ্ছপ বলে- من سكت سلم “যে চুপ রইল সেই মুক্তি পেল।” (রুহুল মাআনী। খণ্ড ৪ ১৯, পৃষ্ঠা ৪ ১৭২)

পৃষ্ঠা ৪৬ থেকে ৬২

পৃষ্ঠা:৪৬

ব্যাঙ বলে- سبحان ربي القدوس “আমার মহান রবের সত্তা পাক ও পবিত্র।” (রুহুল মাআনী: : ১৯, পৃষ্ঠাঃ ১৭২) তোতা পাখি বলে-وَيْلٌ لِمَنِ الدُّنْيَا هَمَّه“যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হলো সেই ধ্বংস হলো।” (রূহুল মাআনী । খণ্ডঃ ১৯, পৃষ্ঠাঃ ১৭২)হুদী বলে-كُلِّ شَيْ مَالِكَ إِلَّا وَجْهَهُ“আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।” (রহুল মাআনী: খণ্ড ৪ ১৯, পৃষ্ঠাঃ ১৭২)খাত্তাফ (আবাবীলের ন্যায় একপ্রকার পাখী) বলে-قدموا خيرا تجدوه“যে কোন কল্যাণকর কাজের সুযোগ পাবে তাই করবে।”মোরগ বলে-اذكروا الله يا غافلون “হে গাফেল। মহান আল্লাহকে স্মরণ কর।” শ্যামা বলে-سُبْحَانَ اللَّهِ الْخَلَّاقِ الدَّائِمِহুদহুদ বলে-“আল্লাহর সত্তা পূতপবিত্র, তিনি মহান সৃষ্টিকর্তা ও চিরঞ্জীব।”من لا يرحم ولا يرحم“যে ব্যক্তি দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।”ঘুঘু বলে-سبحان ربي الأعلى“আমার প্রতিপালকের সত্তা সুমহান ও পবিত্র।” তিতু বলে-دبال يكل حي ميت ولكل جديد بال“প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যু অবধারিত, প্রত্যেক নতুনের পুরনো হওয়া অপরিহার্য।”বাবুই বলে-اللهم اني اسئلك قوت يوم بيوم با رزاق“হে সুমহান রিযিকদাতা। আমি আপনার নিকট শুধু একদিনের রিযিকই প্রার্থনা করি।” (রহুল মাআনীঃ খণ্ড ৪ ১৯, পৃষ্ঠা ৪ ১৭১)

কুকুরের উত্তম স্বভাব

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা কুকুরের মধ্যে কয়টি উত্তম স্বভাব দান করেছেন। সেই স্বভাবগুলো কি কি?

উঃ হযরত হাসান বসরী (রাযিঃ) বলেন, কুকুরের মধ্যে এমন দশটি স্বভাব রয়েছে, যা প্রতিটি মুমিনের মধ্যেই পাওয়া যাওয়া উচিত। কুকুরের সেই উত্তম স্বভাবগুলো হলো-

(১) কুকুর ভুখা থাকে যা সালেহীন বা নেককারদের বৈশিষ্ট্য। (২) কুকুরের কোন নির্দিষ্ট ঘরবাড়ি নাই, যা মুতাওয়াক্কিলীন বা আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলদের নিদর্শন।

(৩) কুকুর রাত্রে কম ঘুমায়, যা মুহিব্বীন বা আল্লাহ প্রেমিকদের গুণ।

পৃষ্ঠা:৪৭

(৪) কুকুরের মৃত্যু হলে সে কোন মীরাস রেখে যায় না, যা যাহেদগণের বৈশিষ্ট্য।

(৫) কুকুর কখনো তার মালিককে ত্যাগ করে না, যা সত্যিকার ও যথার্থ সালেকদের বৈশিষ্ট্য।

(৬) কুকুর সংকীর্ণ জায়গাতেই সন্তুষ্ট থাকে, যা বিনয়ীদের বৈশিষ্ট্য।

(৭) কেউ যখন কুকুরের থাকার জায়গা থেকে তাকে উচ্ছেদ করে দেয়, তখন সে এটাকে উচ্ছেদকারীর জন্য পরিত্যাগ করে, যা রাযীন বা আল্লাহর প্রতি রাযী ও খুশী লোকদের বৈশিষ্ট্য।

(৮) কুকুরকে যদি তার মনীব প্রহার করার পর ডাক দেয়, তবে

তৎক্ষণাৎ সে তার মনীবের ডাকে সাড়া দেয়, যা খাশেয়ীন বা আল্লাহর

প্রতি পরম নিবিষ্ট ও একাগ্রচিত্ত লোকদের বৈশিষ্ট্য।

(৯) মনিব যখন আহার করে কুকুর তখন দূরে বসে অপেক্ষা করে, যা মিসকীনদের আলামত ও নিদর্শন।

(১০) কুকুর যখন কোন বাড়ি থেকে চলে যায়, তখন সে আর এদিকে ভ্রূক্ষেপও করে না, যা মাহযুনীন অর্থাৎ চিন্তাশীল লোকদের আলামত ও বৈশিষ্ট্য। (মাখযানে আখলাকঃ পৃষ্ঠা: ১৬৩)

ধাঁধা

আল্লামা ইবনে আসাকির (রহঃ) তার লিখিত ইতিহাস গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদের সূত্রে জনৈক ব্যক্তির একটি পত্রের উল্লেখ করেছেন। পত্রটিতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর নিকট কয়েকটি প্রশ্নের জওয়াব চাওয়া হয়েছিল। হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) পত্রে উল্লেখিত সবগুলো প্রশ্নের অতি চমৎকার ও জ্ঞানগর্ভ জওয়াব দিয়েছেন। এখানে সে হেঁয়ালীপূর্ণ প্রশ্ন ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক দেওয়া জওয়াবগুলো উদ্ধৃত করা হলো-

প্রঃ যার দেহে না গোশত আছে আর না রক্ত আছে কিন্তু তবুও সে কথা বলে, সেই জিনিসটি কি?

উঃ সেটা দোযখ। কিয়ামতের দিন সকল বেহেশতী বেহেশতে এবং দোযখী

দোযখে প্রবেশ করার পর আল্লাহ তা’আলা দোযখকে জিজ্ঞাসা করবেন তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? তখন জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি?

প্রঃ এমন একটি বস্তু যার দেহে গোশতও নাই, রক্তও নাই অথচ সে দৌড়ে যায়, সেই বস্তুটি কি?

উঃ সেই বস্তুটি হযরত মুসা (আঃ)-এর লাঠি, যা ফেরাউনের দরবারে যাদুকরদের সম্মুখে সাপের আকৃতি ধারণ করে দৌড়েছিল। অথচ তার মধ্যে রক্ত মাংস নাই।

প্রঃ এমন দুইটি বস্তু যাদের মধ্যে রক্ত মাংসের চিহ্ন পর্যন্ত নাই, এতদসত্ত্বেও কথা বললে জওয়াব দেয়। সেই বস্তু দুইটি কি কি?

উঃ সেই বস্তু দুইটি যমীন ও আসমান। কেননা, আল্লাহ তা’আলা যখন এদেরকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, তোমরা উভয়েই এসে পড় স্বেচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক। তারা বলেছিল, আমরা স্বেচ্ছায় এসে গেলাম।”

প্রঃ এমন একটি বস্তু যার মধ্যে না গোশত আছে, আর না রক্ত আছে, কিন্তু সে শ্বাস গ্রহণ করে, সেই বস্তুটি কি।

উঃ সেই বস্তুটি হলো ‘প্রভাত’। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, “শপথ প্রভাতের যখন সে শ্বাস গ্রহণ করে।”

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা একজন রাসূল (কাসেদ) প্রেরণ করেছেন, কিন্তু সে মানুষও নয়, জিনও নয়, এমনকি ফেরেশতাও নয়। তাহলে সেই রাসূল কে।

উঃ সেই রাসূল বা কাসেদ হলো কাক। যে কাক কাবীল কর্তৃক তার ভাই হাবীলকে হত্যা করার পর তাকে দাফন করা শিখিয়েছিল। যার সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ “অতঃপর আল্লাহ তা’আলা একটি কাক প্রেরণ করলেন। সে মাটি খনন করছিল-যাতে তাকে শিক্ষা দেয় যে, আপন ভ্রাতার মৃতদেহ কিভাবে আবৃত করবে।”

পৃষ্ঠা:৪৮

প্রঃ একটি প্রাণীর মৃত্যুর পর আরেকটি মৃত প্রাণীর দ্বারা তাকে জীবিত করা হয়েছে, সেই প্রাণীটি কি?

উঃ সেই প্রাণীটি হলো একটি গাভী। এই ঘটনা পবিত্র কুরআনের প্রথম পারায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই আলোচনার সারকথা হলো এই যে, বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর তার হত্যাকারী সনাক্ত না হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। তখন আল্লাহ তা’আলা নবীর মাধ্যমে তাদেরকে জানিয়েছিলেন যে, তোমরা একটি গাভী জবেহ করে তার গোশত নিয়ে নিহত ব্যক্তির শরীরে স্পর্শ কর। সূতরাং তাই করা হলো। তখন গাভীর গোশতের স্পর্শে নিহত ব্যক্তি জীবিত হয়ে যায় এবং তাঁর ঘাতকের নাম বলে দেয়।

প্রঃ এমন একটি জন্তু আছে, যা ডিমও দেয় না আবার তার ঋতুস্রাবও হয় না, সেই জন্তু কোনটি?

উঃ সেই জন্তুটি হলো ‘ওয়াতওয়াত’ নামক একটি পাখী, যে পাখীটি হযরত ঈসা (আঃ) মাটি দিয়ে তৈরী করে আল্লাহর হুকুমে তার মধ্যে প্রাণ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। (হায়াতুল হায়ওয়ান খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা: ৪২৪- ৪২৫ হতে সংগৃহীত)

রোম সম্রাটের প্রশ্ন ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর জওয়াব

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার রোম সম্রাটের পক্ষ থেকে হযরত আমীর মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর খিদমতে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। পত্রে কয়েকটি প্রশ্নের জওয়াব চাওয়া হয়েছিল। হযরত আমীর মুআবিয়া (রাযিঃ) পত্রটি ফেরত পাঠিয়ে দেন এবং লিখে দেন যে, এই প্রশ্নগুলোর জওয়াব আমার জানা নাই। অতঃপর রোম সম্রাট পত্রটি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের নিকট প্রেরণ করে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) পত্রে উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর জ্ঞানগর্ভ উত্তর প্রদান করে রোম সম্রাটের নিকট পাঠিয়ে দেন। সেই আলোড়ন সৃষ্টিকারী পত্রটির প্রশ্নোত্তর ছিল নিম্নরূপঃ ও পঞ্চম বাক্য কোনটি?

প্রশ্ন কথার মধ্যে সর্বোত্তম বাক্য কোনটি? অতঃপর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ

উঃ কথার মধ্যে সর্বোত্তম বাক্য হলো-أَفْضَلُ الْكَلَامِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ —তবে শর্ত হলো এই যে, তা ইখলাস ও পরিপূর্ণ নিষ্ঠার সাথে হতে হবে।দ্বিতীয় ৪ সৃষ্টির হহৃদয় আপ্লুত প্রার্থনা বাক্য-سبحان الله وبحمدهالحمد للهالله اكبر এটা কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপক বাক্য।لا حول ولا قوة الا بالله

প্রঃ : পুরুষদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মর্যাদাশীল কে?

উঃ হযরত আদম (আঃ)। কেননা, আল্লাহ তা’আলা তাঁকে স্বীয় কুদরতের হাতে তৈরী করেছেন এবং তাঁকে যাবতীয় বস্তুর নাম শিখিয়েছেন।

প্রঃ যারা মাঙ্গর্ভে থাকার কষ্ট বরদাশত করে নাই তারা কারা? উঃ যে সকল প্রাণী মাতৃগর্ভে থাকার কষ্ট বরদাশত করে নাই এদের সংখ্যা চার-(১) আদম (আঃ) (২) হযরত হাওয়া (আঃ) (৩) হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে জবেহকৃত দুম্মা (৪) হযরত সালেহ (আঃ)-এর উটনী, যেটাকে আল্লাহ তা’আলা পাথর থেকে সৃষ্টি করেছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন, হযরত মূসা (আঃ)-এর ‘আসা’ বা লাঠিও এগুলোর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেটি কোন ‘কবর’ যা তার গর্ভস্থিত মানুষকে নিয়ে চলাফেরা করেছে?

উঃ সেটি হলো হযরত ইউনুস (আঃ)-এর মাছ। যা তাঁকে গিলে ফেলার পর তার পেটে ধারণ করে চলাফেরা করেছে।

প্রঃ ‘মাহবারা’ এবং ‘কাউস’ এই দুইটি কি জিনিস?

পৃষ্ঠা:৪৯

উঃ ‘মাহবারা’ আকাশের দরওয়াজার নাম। আর কাউসের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ভূ-পৃষ্ঠের সেই খণ্ড অংশের বাসিন্দা যা হযরত নূহ (আঃ)-এর প্লাবনের সময় ডুবে যাওয়া থেকে নিরাপদ ও সংরক্ষিত ছিল।

প্রঃ পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা আছে যেখানে একদিন মাত্র সূর্যের কিরণ পড়েছে। এর আগেও কোনদিন সেখানে সূর্যের কিরণ পড়ে নাই এবং ভবিষ্যতেও কোনদিন পড়বে না। সেটি কোন জায়গা?

উঃ এটি হলো সেই জায়গা যেখানে হযরত মূসা (আঃ) সমুদ্রে লাঠির দ্বারা আঘাত করার পর বারটি পথ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তিনি বনী ইসরাঈল সহ সমুদ্র পার হয়ে গেলে পথগুলো আবার সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। রোম সম্রাট তার প্রশ্নের জওয়াব সম্বলিত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর পত্র পাঠ করে মন্তব্য করেছিল, এই প্রশ্নগুলোর জওয়াব এমন ব্যক্তিই দিতে পারেন, যিনি নবীর পরিবারে প্রতিপালিত হয়েছেন। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা : ৩৮৬) হযরত সুলাইমান (আঃ) ও পেঁচার প্রশ্নোত্তর হযরত আবূ নুআইম (রহঃ) স্বীয় ‘হিলয়া’ গ্রন্থে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর সূত্রে একটি রেওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন যে, একদা একটি পেঁচা হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর দরবারে হাজির হয়ে তাঁকে সালাম দেয়। হযরত সুলাইমান (আঃ) ওয়াআলাইকুমুস সালাম বলে পেঁচার সালামের জওয়াব দেওয়ার পর পেঁচাকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। পেঁচা তার সবগুলো প্রশ্নের জওয়াব দান করে। হযরত সুলাইমান (আঃ) ও পেঁচার মধ্যকার প্রশ্নোত্তরগুলো ছিল নিম্নরূপ : হযরত সুলাইমান (আঃ) ৪ হে পেঁচা। তুমি ক্ষেতের ফসল খাওনা কেন? পেঁচা। আমি ক্ষেতের ফসল এইজন্য খাইনা যে, হযরত আদম (আঃ)কে এ কারণেই বেহেশত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। হযরত সুলাইমান (আঃ) ঃ তুমি পানি পান কর না কেন? পেঁচাঃ আমি এইজন্য পানি পান করিনা যে, হযরত নূহ (আঃ)-এর কওমকে পানিতে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। হযরত সুলাইমান (আঃ) এ হে পেঁচা! তুমি লোকালয়ে না থেকে ঝাড়- জঙ্গল ও পরিত্যক্ত ঘরবাড়ীতে থাক কেন? পেঁচাঃ কারণ হচ্ছে এই যে, জনমানবহীন বনজঙ্গল হচ্ছে, আল্লাহর মীরাস। যেমন: আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন-وكم اهلكنا من قرية بطرت معيشتها فتلك مساكنهم لمتسكن مِن بَعْدِهِمْ إِلَّا قَلِيلًا وَكُنَّا نَحْنُ الْوَارِثِينَ —”আমি অনেক জনপদ ধ্বংস করেছি, যার অধিবাসীরা তাদের জীবন যাপনে মদমত্ত ছিল। এগুলোই এখন তাদের ঘরবাড়ী। তাদের পর এগুলোতে মানুষ সামান্যই বসবাস করেছে। অবশেষে আমিই মালিক রয়েছি।” হযরত সুলাইমান (আঃ) ৪ হে পেঁচা! তুমি যখন জনমানবহীন বনজঙ্গলে বস, তখন কি বল? পেঁচাঃ তখন আমি এই স্থানের ধ্বংসপ্রাপ্ত লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলি, হে বস্তিবাসী। তোমাদের আমোদ-ফুর্তি ও আড়ম্বর আজ কোথায়? হযরত সুলাইমান (আঃ)। হে পেঁচা। তুমি যখন জনমানবশূন্য পরিত্যক্ত অট্টালিকা ত্যাগ কর, তখন কি বল? পেঁচাঃ আমি বলি, আদম সন্তানের জন্য অত্যন্ত দুঃখ ও আফসোসের বিষয় হলো এই যে, তাদের উপর প্রচণ্ড বেগে আযাব ধেয়ে আসছে অথচ তারা এই কঠিন আযাব হতে গাফলতের নিদ্রায় বিভোর হয়ে আছে।হযরত সুলাইমান (আঃ)। হে উল্লু! তুমি দিনের বেলা বের না হয়ে রাতে বের হও কেন?তাই আমি রাতে বের হই। পেঁচা: দিনের বেলা মানুষ একে অপরের প্রতি যুলুম ও নির্যাতন করে

পৃষ্ঠা:৫০

হযরত সুলাইমান (আঃ) ঃ হে উল্লু। তুমি যখন ডাকাডাকি কর তখন কি বল? পেঁচা: আমি তখন বলি, হে গাফেল মানুষ। আখেরাতের জন্য কিছু পাথেয় সংগ্রহ কর এবং প্রতি মুহূর্তে আখেরাতের সফরের জন্য তৈরী থাক। নূর সৃষ্টিকারী মহান আল্লাহর সত্তা পাক ও পবিত্র।উপরোক্ত প্রশ্নোত্তরের পর হযরত সুলাইমান (আঃ) বললেন, আদম সন্তানের জন্য পেঁচার চেয়ে অধিক উপদেশদাতা ও দয়ার্দ্রচিত্ত আর কোন পাখি নাই। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৩৮৭)

বিবিধ প্রসঙ্গ

প্রঃ স্বাভাবিক নিয়মের অধিক সময় যারা মাতৃগর্ভে রয়েছেন, তারা কয়জন ও কে কে?

উঃ স্বাভাবিক নিয়মের অধিক সময় যারা মাতৃগর্ভে রয়েছেন, তাদের সংখ্যা চার।

(১) হযরত সুফিয়ান ইবনে হাইয়্যান (রহঃ)। তিনি তার মাতৃগর্ভে চার বছর থাকার পর ভূমিষ্ঠ হন।

(২) মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান যাহহাক ইবনে মুযাহিম,

ইনি তার মাতৃগর্ভে ধোল মাস ছিলেন।

(৩) ইয়াহয়া ইবনে আলী ইবনে জাবের বগরী এবং

(৪) সালমান যাহ্হাক, তারা উভয়েই তাদের মাঙ্গর্ভে দুই বছর ছিলেন।

(মা’দিনুল হাকাইক। পৃষ্ঠাঃ ৩৪৪, হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড : ১. পৃষ্ঠা ৪ ৮০)

প্রঃ সমগ্র পৃথিবীতে হুকুমত করেছেন এমন বাদশা কয়জন ছিলেন এবং তারা কে কে?

উঃ সমগ্র পৃথিবীতে শাসন করেছেন এমন বাদশা চার জন ছিলেন। তাদের দুইজন মুসলমান এবং দুইজন কাফের। মুসলমান দুইজন হলেন, (১) হযরত সুলাইমান (আঃ) ও (২) হযরত যুলকারনাইন। আর কাফের দুইজন হলো, (১) বখতে নসর ও (২) নমরূদ ইবনে কিনআন। (হাশিয়া- জালালাইন শরীফ। খণ্ড ঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৪০)

প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে দুর্ভাগা কাদেরকে বলেছেন?

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন ব্যক্তিকে সবচেয়ে দুর্ভাগা বলেছেন। (১) কান্দার ইবনে সালেফকে, যে হযরত সালেহ (আঃ)-এর উটনী বধ করেছিল। (২) হযরত আদম (আঃ)-এর পুত্র কাবিলকে, যে তার ভাই হাবিলকে হত্যা করেছিল। (৩) ইবনে মুলজিমকে, যে হযরত আলী (রাযিঃ)-কে হত্যা করেছিল। (হায়াতুল হায়াওয়ানঃ পৃষ্ঠাঃ ৩৩৩)

প্রঃ পৃথিবীতে কয়জন বাদশার উপাধি ‘নমরূদ’ ছিল, তারা কে কে? উঃ পৃথিবীতে ‘নমরূদ’ উপাধিধারী বাদশা ছয়জন ছিল। (১) নমরূদ ইবনে কিনআন ইবনে হাম ইবনে হযরত নূহ (আঃ)। এই ব্যক্তি সমগ্র পৃথিবীর উপর হুকুমতকারী বাদশাদের একজন। আর এ ব্যক্তিই হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর যুগের নমরুদ ছিল। (২) নমরুদ ইবনে কুশ ইবনে কিনআন ইবনে হাম ইবনে হযরত নূহ (আঃ) (৩) নমরূদ ইবনে সানজার ইবনে নমরুদ ইবনে কুশ ইবনে কিনআন ইবনে হাম ইবনে হযরত নূহ (আঃ)। (৪) নমরূদ ইবনে মাশ ইবনে কিনআন ইবনে হাম ইবনে হযরত নূহ (আঃ)। (৫) নমরূদ ইবনে সারোগ ইবনে আরগো ইবনে মালিখ। (৬) নমরুদ ইবনে কিনআন ইবনে মাসাস ইবনে নাকতান। (হায়াতুল হায়ওয়ান ঃ খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা ৪ ৮০)

প্রঃ কয়জন বাদশার উপাধি ‘ফেরাউন’ ছিল এবং তারা কে কোন নবীর যুগে ছিল?

উঃ ‘ফেরাউন’ উপাধিধারী বাদশা তিনজন ছিল। (১) সিনান আল আশাআল ইবনুল আলাওয়ান ইবনুল আমীদ। এই ‘ফেরাউন’ হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর যুগের বাদশা ছিল। (২) রাইয়ান ইবনে ওয়ালীদ। এই ব্যক্তি হলো হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর যুগের ‘ফেরাউন’। (৩) ওয়ালীদ ইবনে মুসআব। এই ফেরাউন হযরত মুসা (আঃ)-এর যুগের বাদশা ছিল। (হায়াতুল হায়ওয়ান। খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠাঃ ৮০)

প্রঃ পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত সামেরীর প্রকৃত নাম কি, তাকে কে লালন- পালন করেছিলেন এবং কিভাবে করেছিলেন?

উঃ সামেরীর প্রকৃত নাম মূসা ইবনে যফর। সামেরা গোত্রের দিকে সম্পৃক্ত

পৃষ্ঠা:৫১

করে তাকে সামেরী বলা হয়ে থাকে। হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাকে লালন-পালন করেছিলেন। কারণ, তার মা ব্যভিচারের দ্বারা গর্ভবতী হয়েছিল। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় হলে সে (স্বীয় আত্মীয়-স্বজন ও ফেরাউনের ঘাতকের ভয়ে) পাহাড়ে চলে গিয়েছিল। সেখানে সে এই সামেরীকে প্রসব করে সেখানেই রেখে চলে এসেছিল। আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিপালন করার জন্য হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে নিযুক্ত করেন। হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাকে নিজের তিনটি আঙ্গুল চোষণ করাতেন। তার এক আঙ্গুল থেকে মধু আরেক আঙ্গুল থেকে ঘি এবং তৃতীয় আঙ্গুল থেকে দুধ বের হতো। (সাবীঃ পৃষ্ঠাঃ ৬২)

প্রঃ হযরত জিবরাঈল (আঃ) সামেরীকে কতদিন প্রতিপালন করেন?।

উঃ হযরত জিবরাঈল (আঃ) সামেরীকে বুঝমান হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করেন। (রুহুল মাআনীঃ পারা ঃ ১৬, পৃষ্ঠা: ২৪৪)

প্রশ্ন আল্লাহ তা’আলা হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদেরকে তাঁকে সিজদা করার নির্দেশ দিলে ফেরেশতাগণ কতক্ষণ সিজদারত থাকেন।

উঃ ফেরেশতাগণ দ্বিপ্রহর থেকে আসর পর্যন্ত হযরত আদম (আঃ)-এর জন্য সিজদারত থাকেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, মুকাররাব বা নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একশত বছর পর্যন্ত সিজদারত থাকেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, তাঁরা পাঁচশত বছর পর্যন্ত সিজদারত থাকেন। (জামাল ও হাশিয়া-জালালাইন শরীফঃ খণ্ড ৪ ১, পৃষ্ঠাঃ ৮)

প্রঃ বনী ইসরাঈলগণ কতদিন পর্যন্ত বাছুর পূজায় লিপ্ত ছিল?

উঃ চল্লিশ দিন পর্যন্ত। (হায়াতুল হায়ওয়ানঃ খণ্ড ৪ ২, পৃষ্ঠাঃ ১৭) প্রঃ যাকে যে স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে তার কবরও কি সেই স্থানেই হয়?

উঃ এক বর্ণনা দ্বারা এ কথাই বুঝা যায় যে, মৃত্যুর পর মানুষের যে স্থানে কবরস্থ হওয়া নির্ধারিত থাকে সেই স্থানের মাটি তার দেহ গঠনের প্রক্রিয়ায় মিলিয়ে দেওয়া হয়। যেমন আবদ ইবনে হুমাইদ ও ইবনে মুনযির হযরত আতা খুরাসানী (রহঃ)-এর রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন যে, মানুষ যে স্থানে কবরস্থ হবে, ফেরেশতাগণ সেই স্থানে গমন করেন এবং তথা হতে মাটি নিয়ে এসে এটাকে শুক্র-এর সাথে মিলিয়ে দেন। অতঃপর মাটি এবং শুক্রের দ্বারা সন্তানের জন্ম হয়। এই রেওয়ায়াতের দ্বারা বুঝা যায় যে, মানুষ সে স্থানেই কবরস্থ হয়, যে স্থানের মাটি দ্বারা তার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে তফসীরবিদগণও লিখেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহাকৃতি যে মাটির দ্বারা গঠিত হয়েছে তা কা’বাশরীফের মাটি ছিল। কিন্তু হযরত নূহ (আঃ)-এর মহাপ্রলয়ের সময় এই মাটি কাবার স্থান থেকে বর্তমানে যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মুবারক হয়েছে সেখানে স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছিল। (আনওয়ারুদ দেরায়াত কৃতঃ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আনওয়ার গাঙ্গুহী, পৃষ্ঠাঃ ১৮৭)

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা যমীনকে যখন পানির উপর বিছিয়ে দেন তখন এই নদ-নদী ও ঝর্ণা কোথেকে প্রবাহিত হলো?

উঃ আসলে এই নদ-নদী ও কর্ণাযারা প্রবাহিত হওয়ার কারণ হলো এই যে, যখন আল্লাহ তা’আলা হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টির ইচ্ছা করেন তখন মাটির প্রতি ওহী প্রেরণ করেন যে, আমি তোমার দ্বারা এমন এক মাখলুক সৃষ্টি করব যারা আমার আনুগত্যের ফলে বেহেশত ও অবাধ্যতার ফলে জাহান্নামপ্রাপ্ত হবে। তখন যমীন আরয করল, হে আমার ‘রব্ব’। আপনি কি আমার দ্বারা এমন মাখলুক ও সৃষ্টি করবেন যারা জাহান্নামে যাবে? আল্লাহ তা’আলা বললেন, হ্যাঁ, তারা জাহান্নামেও যাবে। তখন যমীন কাঁদতে শুরু করে এবং সে এত কাঁদল যে, তার ক্রন্দনের কারণে নদ-নদী ও ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়ে গেল, যা কিয়ামত পর্যন্তই প্রবাহিত হতে থাকবে। (হাশিয়া-জালালাইন শরীফঃ খণ্ডঃ ২, পৃষ্ঠা ৪ ৬১১)

প্রঃ কিয়ামতের দিন মানুষকে আল্লাহর দরবারে কয়বার পেশ করা হবে এবং কেন করা হবে?

উঃ কিয়ামতের দিন মানুষকে আল্লাহর দরবারে তিনবার পেশ করা হবে। প্রথম বার গুনাহগার অবাধ্য ও আল্লাহর দুশমনদেরকে তাঁর সম্মুখে

পৃষ্ঠা:৫২

উপস্থিত করা হবে। তখন দুনিয়াতে যেমন নিজের কথা অন্যের উপর চাপিয়ে দিয়ে তা মানতে বাধ্য করত, তেমনিভাবে এ দিনেও নিজেদের মুক্তির আশায় মহান আল্লাহর সাথেও যুক্তিতর্কের অবতারণা করবে। অতঃপর এদেরকে পুনঃ আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে এবং এ সময় হযরত আদম (আঃ) ও অন্যান্য আম্বিয়ায়ে কেরামগণের উপস্থিতিতে সেই কমবখতদেরকে তাদের কৃত অপরাধ যথার্থভাবে প্রমাণিত করে জাহান্নামে প্রেরণ করবেন। তৃতীয় পর্যায়ে ঈমানদারদেরকে তার দরবারে পেশ করা হবে। তখন আল্লাহ তা’আলা অতি সংগোপনে তাদের কৃত ত্রুটি-বিচ্যুতি ও গুনাহ স্মরণ করিয়ে দিবেন, এতে তারা অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে পড়বে। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সব খাতা-কসুর ক্ষমা করে দিয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিবেন। (দরসী তফসীরঃ পৃষ্ঠা: ৯৯)

প্রঃ যে সকল আয়াতের দ্বারা শরীয়তের হুকুম-আহকাম ও মাসায়েল বের করা হয়, এগুলোর সংখ্যা কত?

উঃ এরূপ আয়াতের সংখ্যা পাঁচশত। এছাড়া অন্যান্য আয়াতসমূহ ফাযায়েল ও অন্যান্য বিষয় সম্বলিত।

প্রঃ যে সকল হাদীসের দ্বারা মাসায়েল বের করা হয় এগুলোর সংখ্যা কত? উঃ এরূপ হাদীসের সংখ্যা পাঁচ হাজার। (হাশিয়া: উসূলুশ শাশী। পৃষ্ঠা: ৫)واخر دعوانا ان الحمد لله رَبِّ الْعَالَمِينَ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَانت السميع العليم وتب عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ والصلوة والسَّلَامُ عَلى خَيْرِ خَلقه محمد واله وصحبه اجمعينإلى يوم الدين برحمتك يا ارحم الراحمين

সমাপ্ত

ইলমুল-আওয়ালীন

সর্বপ্রথম কে ও কি?

পৃষ্ঠা:৫৩

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين والصلوة والسلام على سيد الْمُرْسَلِينَ وَخَاتِمِ النَّبِينَ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَالِهِ وَأَصْحَابِهِ اجمعين. اما بعد :সকল প্রশংসা ও স্তুতি একমাত্র সেই আদি সত্তার জন্যই, যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আওয়াল ও আখির। প্রকাশ্যে ও গোপনে যার নূরের জ্যোতি সদা জ্যোতির্ময়। এই সুউচ্চ আকাশ ও ধুধু মরুভূমির অস্তিত্ব যখন ছিল না তখনও তিনিই ছিলেন। এই গগণস্পর্শী পাহাড় ও উত্তাল তরঙ্গময় সমুদ্র যখন অনস্তিত্বের আচ্ছাদনে আচ্ছাদিত ছিল, তখনও তার অস্তিত্ব ছিল বিদ্যমান। যেমন ছিল না সূর্য তেমনই ছিল না সূর্যের উত্তাপ, যখন ছিল না চন্দ্র আর ছিল না চন্দ্রের আলো, তখনও ছিলেন একমাত্র সেই এক আদি, অনন্ত, একক ও অদ্বিতীয় এক সত্তা-সত্য মা’বুদ। যখন তিনি তার মহাকুদরতের নৈপুণ্য প্রকাশ করতে ইচ্ছা করলেন, তখন এক ইশারাতে এই বিশ্ব কারখানা সৃষ্টি করলেন। আদম (আঃ)-কে তার খলিফা নির্বাচন করলেন, জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠালেন। সকল প্রয়োজনীয় বস্তুর জ্ঞান দান করলেন। পৃথিবীতে জীবন-যাপন করার সঠিক ধারায় জ্ঞাত করলেন। আদম সন্তান হতে এমন এক প্রিয় নবী বানালেন, যার মর্যাদায় ফেরেশতারাও হার মানল। সর্বপ্রথমেই তার নূর সৃষ্টি করলেন এবং সর্বপ্রথম তাকে নবুওয়ত দান করলেন। নিজের খাছ বন্ধু ও প্রিয় বান্দাদেরকে সেই নবীর পরিবার ও খেদমতগারের অন্তর্ভুক্ত করলেন। আল্লাহ পাকের শত সহস্র সালাম ও সালাত তার উপর ও তার অনুসারীদের উপর বর্ষিত হউক।।

পৃষ্ঠা:৫৪

হাফেয কারী মাওলানা আবদুল আওয়াল বিন হযরত মাওলানা কেরামত আলী জৌনপুরী (রহঃ)-এর লিখিত কিতাবটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব। হযরত মাওলানা আবদুল আওয়াল সাহেবের যোগ্যতা, জ্ঞানের গভীরতা, অসংখ্য গ্রন্থ রচনা বিশেষ করে সাহিত্য বিদ্যায় তাঁর যে পারদর্শিতা রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। অবশ্য তার সকল রচনাই উলামায়ে কেরামদের নিকট অত্যন্ত আগ্রহ সৃষ্টি করে থাকে এবং খুবই উপকারী হওয়ার কারণে অনেক কিতাবই, আরবী মাদ্রাসাসমূহে পাঠ্যপুস্তক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এ কিতাবটি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে একটি বিশেষ কিতাব। আমি নিজেও কিতাবটি দেখে আনন্দ পেতাম এবং যাকে শুনাতাম, সেও খুশি হতো। যেহেতু কিতাবটি আরবী ভাষায় ছিল তাই যারা কিতাবটি না বুঝত তাদের প্রতি খুবই অনুতাপ হতো। উর্দুতে আজ পর্যন্ত এমন কোন কিতাব দৃষ্টিগোচর হয়নি। সুতরাং ঐ সকল লোকদের উপকারের জন্য পুস্তিকাটি চয়ন করে যে সকল বিষয় সর্বসাধারণের সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় ছিল, সেগুলোকে উর্দুতে প্রশ্ন-উত্তরের আকারে সাজিয়ে ‘ইলমূল আওয়ালীন’ নাম দিয়েছি। যে সকল বিষয় এমন যা শুধু উলামায়ে কেরামই স্বাদ গ্রহণ করে থাকেন এবং ইচ্ছা করলে তাঁরা মূল কিতাবে দেখে নিতে পারেন সেগুলোর তরজমা ছেড়ে দিয়েছি। কোন কোন স্থানে অধিক ফায়দার উদ্দেশ্যে নিজের পক্ষ থেকেও দুচার কথা বাড়িয়ে দিয়েছি। আল্লাহ তা’আলার দরবারে আশা পোষণ করি যে, তিনি যেন নেক লোকদের কাছে কিতাবটিকে গ্রহণযোগ্য ও উপকারী করে দেন এবং কিতাবের লেখক ও অনুবাদক (মাওলানা আসগর হোসাইন (রহঃ), মুহাদ্দিছ, দারুল উলুম দেওবন্দ)-এর প্রতি খাছ রহমত বর্ষণ করেন। আমীন।। بسم الله الرحمن الرحيم

প্রঃ সর্বপ্রথম আল্লাহ পাক কোন বস্তুকে সৃষ্টি করেছেন?

উঃ আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নূরকে। হাদীস শরীফে আছে ৪ أَوَّلُ مَا خَلَقَ اللَّهُ نُورِي

প্রঃ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নূরের পরে আল্লাহ পাক কোন বস্তুকে সৃষ্টি করেছেন?

উঃ কলমকে সৃষ্টি করেছেন।

প্রঃ সর্বপ্রথম আল্লাহ পাক কুরআন শরীফের কোন সূরাহকে অবর্তীর্ণ করেন?

উঃ সূরায়ে আলাক অর্থাৎ-اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ

প্রঃ সর্বপ্রথম দুনিয়াতে কোন বৃক্ষ সৃষ্টি হয়েছে?

উঃ খর্জুর বৃক্ষ। জ্ঞাতব্য: এটা একটা আশ্চর্য বৃক্ষ। আরববাসীদের পাথেয়-সম্বল এবং সে দেশের বিশেষ ফলবৃক্ষ। পাহাড় ও পাথরের মধ্যেও এ বৃক্ষটি জন্মে থাকে এবং অত্যধিক সুমিষ্ট হয়। বছরের পর বছর সঞ্চিত করে রাখা যায়, নষ্ট হয় না। বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। রস বের করে চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়, রুটি দিয়ে খাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের চাটনী আচার তৈরী করা যায়। জীব-জানোয়ারের মধ্যে উট আর ফলের মধ্যে খর্জুর আরব দেশে আল্লাহ তা’আলার এক বিশেষ নেয়ামত। মানুষের সাথে এই খর্জুর বৃক্ষের বেশ মিল আছে। মানুষের কোন অঙ্গ কেটে গেলে যেমন আর জন্মে না, খর্জুর বৃক্ষের কোন শাখা কেটে গেলে পুনর্বার জন্মে না। এজন্যই প্রচলিত আছে যে, হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টির পর যে মাটি অবশিষ্ট ছিল তা দ্বারা আল্লাহ তা’আলা খর্জুর বৃক্ষ করেছেন। হাদীসে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি

পৃষ্ঠা:৫৫

ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, বলতে পার কি এমন কোন বৃক্ষ আছে যা মুমিন ব্যক্তির মতই উপকারী এবং যার পাতা কোন ঋতুতেই ঝরে না? উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম বিভিন্ন বৃক্ষের কথা বললেন কিন্তু খর্জুর বৃক্ষের কথা কারও মনে পড়ল না। পরিশেষে বললেন, হুজুর আপনিই তা বলে দিন। তখন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে ইরশাদ করলেন, ইহা খর্জুর বৃক্ষ। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমার মনে জাগ্রত হয়েছিল যে, তা খর্জুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি ছিলাম বয়সে সকলের ছোট। বড় বড় সাহাবাদের সম্মুখে লজ্জায় আমি বলার সাহস পাইনি।

প্রঃ লাওহে মাহফুজের মধ্যে আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম কি লিখেছেন?بسم الله الرحمن الرحيم :

প্রঃ প্রথমে পৃথিবীর কোন অংশকে সৃষ্টি করা হয়?

উঃ কাবা শরীফ যেখানে অবস্থিত, সে স্থানকে প্রথমে সৃষ্টি করেন। পরে চতুর্দিকে যমীনকে বিস্তৃত করে দেয়া হয়। প্রঃ আরবাঈন বা চল্লিশ হাদীস সর্বপ্রথম কে লিখেন?

উঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহঃ), যিনি হাদীসের ইমাম ছিলেন এবং একাশি হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।তারপর শত শত উলামায়ে কেরাম ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে চল্লিশ হাদীস সংকলন করেন।

প্রঃ চিকিৎসা-বিদ্যায় রোগের কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে সর্বপ্রথম কে লিখেন?

উঃ হাকিম বোকরাত।

প্রঃ জ্যোতির্বিদ্যা সর্বপ্রথম কে আবিষ্কার করেন।

উঃ বোতায়লামুস।

প্রঃ এই হাকিমের শিষ্যদের মধ্যে এই বিদ্যা সর্বপ্রথম কে শিখেন?

উঃ ইবরাহীম বিন হাবীব আল ফাযারী।

প্রঃ উসূলে ফিকাহ সর্বপ্রথম কে আবিষ্কার করেন?

উঃ হযরত ইমাম শাফিঈ (রহঃ)।

প্রঃ অলংকার-শাস্ত্র সম্পর্কে সর্বপ্রথম কে লিখেন?

উঃ আবুল আব্বাস ইবনে আল-মোতাজ্জ আব্বাসী সর্বপ্রথম ২৭৪ হিজরীতে অলংকার শাস্ত্র সম্পর্কে লিখেন। তিনি ২৯৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

প্রঃ ইলমে তাজবীদ সম্পর্কে সর্বপ্রথম কে লিখেন?

উঃ মূসা ইবনে উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বাগদাদী। তাঁর মৃত্যু ২৫ হিজরীতে। হয়।

প্রঃ সর্বপ্রথম সূফী উপাধি কার হয়?

উঃ আবু হাশেম সূফীর, যার ইন্তেকাল ১৫০ হিজরীতে হয়।

প্রঃ মুসলমানদের মধ্যে এ্যালজাবরা সম্পর্কে সর্বপ্রথম কে লিখেন?

উঃ উস্তাদ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুসা খাওয়ারেযমী, যার কিতাব এ বিষয়ে অতি প্রসিদ্ধ।

প্রঃ ভূগোল শাস্ত্র সম্পর্কে সর্বপ্রথম কে লিখেন?

উঃ বোতায়লামুস।

ইলমে হাদীস সম্পর্কে সর্বপ্রথম কে লিখেন?

প্রঃ উঃ হযরত ইবনে জুরাইজ মুহাদ্দেস (রহঃ)।

প্রঃ ইলমে সিয়ার অর্থাৎ রাসূলে কারীম ও সাহাবাদের জীবনী সংক্রান্ত গ্রন্থ সর্বপ্রথম কে রচনা করেন?

উঃ প্রসিদ্ধ জীবনীকার ইমামে মাগাজী মুহাম্মদ বিন ইসহাক (মৃত্যু ১৫১ হিঃ) তারপর আবদুল মালেক বিন হিশাম হিময়ারী আরও সুবিন্যস্ত করে উন্নতমানের জীবনী গ্রন্থ লিখেন (মৃত্যু ২৭২ হিজরী)।

প্রঃ কুরআন ও হাদীসের কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যার উপর সর্বপ্রথম কে লিখেন?

উঃ আবু উবাইদাহ মা’মার বিন আল মুছান্না তামীমী বসরী, মৃত্যু ২১০ হিজরী।

প্রঃ কুরআন শরীফের ফযীলত সম্পর্কে সর্বপ্রথম কে লিখেন?

উঃ হযরত ইমাম শাফিঈ (রহঃ)।

প্রঃ কেয়ামতের দিন কবর থেকে সর্বপ্রথম কে উঠবেন?

উঃ আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

পৃষ্ঠা:৫৬

প্রঃ হযরত আদম (আঃ)-এর পরে প্রথম লেখা কে শুরু করেন?

উঃ হযরত ইদ্রীস (আঃ)।

প্রঃ সেলাইর কাজ সর্বপ্রথম কে শুরু করেন?

উঃ হযরত ইদ্রীস (আঃ)।

প্রঃ দোষখী পোশাক সর্বপ্রথম কাকে পরিধান করানো হবে এবং দোযখে সর্বপ্রথম কে প্রবেশ করবে?

উঃ ইবলীস অর্থাৎ শয়তান।

প্রঃ সর্বপ্রথম কার থেকে হিসাব লওয়া হবে?

উঃ হযরত জিবরাঈল (আঃ) থেকে। এই জন্য যে, তিনি আল্লাহ পাকের আমীন এবং রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী নিয়ে আসতেন।

প্রঃ বেহেশতে সর্বপ্রথম কে প্রবেশ করবেন?

উঃ মাহবুবে খোদা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

প্রঃ হযরত আদম (আঃ) বেহেশতে গিয়ে প্রথমে কি খেয়েছিলেন?

উঃ সর্বপ্রথম আঙ্গুর খেয়েছিলেন। কেউ বলেন কূল। সর্বশেষে গন্দম খেয়েছিলেন।

প্রঃ বেহেশতে মুমেনদেরকে প্রথমে কি খাওয়ানো হবে?

উঃ বেহেশতে প্রবেশ করা মাত্রই মাছের কলিজা ভাজির নাস্তা করানো হবে এবং তারপরে আঙ্গুর খাওয়ানো হবে। এই তরতীব বর্ণনা দ্বারা বিভিন্ন রেওয়ায়াতের মর্ম স্পষ্ট হয়ে গেছে।

প্রঃ পৃথিবীর মধ্যে সর্বপ্রথম কখন ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।

উঃ যখন আদম (আঃ)-এর ছেলে কাবিল হাবিলকে হত্যা করে।

প্রঃ সর্বপ্রথম কে আযান দেয়?

উঃ হযরত বেলাল (রাযিঃ)। যিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মুয়াযযিন ছিলেন। ফায়দা: যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদীনায় তাশরীফ আনেন তখন নামাযের জন্য লোকদেরকে ডাকার নির্দিষ্ট কোন ব্যবস্থা ছিল না, অনুমান করে লোকেরা নিজেরাই সময়মত আসত, কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকত। পরস্পরে পরামর্শ হলো। তখন কেউ বলল যে, অগ্নিপূজকদের ন্যায় আগুন জ্বালানো হোক যেন তা দেখে লোকেরা আসতে পারে। কেউ বলল, খৃষ্টানদের ন্যায় শিঙ্গা বাজানো হোক, কেউ বলল, ইহুদীদের মত বাঁশী বাজানো হোক। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন মতই পছন্দ হলো না। এই চিন্তাই চলছিল, এমতাবস্থায় আবদুল্লাহ বিন যায়েদ সাহাবী স্বপ্নে দেখলেন, এক ব্যক্তি শিঙ্গা নিয়ে যাচ্ছে, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এটা বিক্রি করবে? লোকটি বলল, তুমি কি করবে? সাহাবী বললেন, নামাযের সময় লোকদেরকে ডাকব। ঐ ব্যক্তি বলল, “শুন আমি তোমাকে এর চেয়ে সুন্দর পদ্ধতি শিখাচ্ছি।” তখন সাহাবী বললেন, “আচ্ছা তবে বলুন।” তখন ঐ ব্যক্তি আযানের শব্দগুলো উচ্চারণ করলেন যদ্বারা বর্তমানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় ডাকা হয় এবং তিনি সাহাবীকে বললেন, “নামাযের সময় এই শব্দগুলো উচ্চারণ করে ডাকবে। সাহাবী জাগ্রত হয়ে ফজরের নামাযের পূর্বেই হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাযির হলেন এবং তার স্বপ্ন বৃত্তান্ত বললেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে খুশী হয়ে বললেন, “ইহা অত্যন্ত মোবারক ও সত্য স্বপ্ন, তুমি বেলাল (রাযিঃ)কে শুনাতে থাক এবং তাকে উচ্চস্বরে আযান দিতে বল। কেননা, তার আওয়াজ উচু।”আযান দেয়া হলো, তা শুনে হযরত উমর (রাযিঃ) দৌড়াতে দৌড়াতে এসে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমিও স্বপ্নের মধ্যে এভাবে আযান দিতে দেখেছি।” হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দ ও আদেশে এভাবে আযান চালু হলো। আল্লাহ পাক আযানকে কিয়ামত পর্যন্ত চালু রাখুন। (অনুবাদক)

প্রঃ উঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য সর্বপ্রথম কে তলোয়ার বের করে? হযরত যোবায়ের ইবনে আওয়াম (রাযিঃ)। ফায়দা ও হযরত যোবায়ের ইবনে আওয়াম (রাযিঃ) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফাত ভাই ছিলেন। তিনি ষোল বৎসর বয়সে মুসলমান হন। তার কাফের চাচা তাকে বিভিন্নভাবে উৎপীড়ন করত,

পৃষ্ঠা:৫৭

বয়স ছিল চল্লিশ বৎসর।যাতে ইসলাম থেকে বিমুখ হয়ে যায়। কখনো ধোয়ার মধ্যে আবদ্ধ করে রাখত। কিন্তু এত নির্যাতনের পরেও তিনি ইসলামের উপর অটল থাকেন। হুযুর (সাঃ) তাঁকে দুনিয়াতেই বেহেশতের সুসংবাদ দেন। তিনি ৬৪ বৎসর বয়সে শহীদ হন। (অনুবাদক)

প্রঃ মদ্যপান এবং গান গাওয়া প্রথম কে শুরু করে।

উঃ শয়তান।

প্রঃ প্রথম কে খোদায়ী দাবী করে?

উঃ নমরুদ।

প্রঃ ইয়াহইয়া সর্বপ্রথম কার নাম ছিল?

উঃ হযরত যাকারিয়া পয়গাম্বর (আঃ)-এর ছেলে হযরত ইয়াহইয়ার।

প্রঃ মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম কার জানাযার সময় শববাহী খাট তৈরী করা হয়।

উঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহেবজাদী হযরত ফাতেমা (রাযিঃ) এর জানাযার সময়।

প্রঃ মসজিদের মধ্যে সর্বপ্রথম কে বাতির ব্যবস্থা করেন?

উঃ ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় মসজিদে বাতির প্রচলন ছিল না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হযরত তামীমদারী (রাযিঃ) সর্বপ্রথম মসজিদে বাতি প্রজ্জ্বলিত করেন। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি যেমন ইসলামকে ‘আলোকিত করেছ, খোদা তাআলা তোমার অন্তরকে আলোকিত করুন। যদি আমার কোন কুমারী কন্যা বিদ্যমান থাকত তবে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিয়ে দিতাম। জনৈক সাহাবী আবেদন করলেন, হে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি আমার কন্যাকে তাঁর সঙ্গে বিবাহ দিয়ে দিতে চাই। অতঃপর বিবাহ দিয়ে দিলেন।

প্রঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম কোন মহিলাকে বিবাহ করেন।

উঃ হযরত খাদীজা (রাযিঃ)-কে বিবাহ করেন তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স পঁচিশ বৎসর এবং খাদীজা (রাযিঃ)-এর

প্রঃ মসজিদে প্রথম মিহরাব কে তৈরী করেন?

উঃ হযরত উমর বিন আবদুল আজিজ (রহঃ) যিনি ন্যায়বিচার ও খোদাভীরুতায় প্রসিদ্ধ ছিলেন, প্রথম চার খলীফার পরেই তাঁর খেলাফতের মর্যাদা।

প্রঃসমগ্র বিশ্বে সর্বপ্রথম কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনয়ন করেন?

উঃ হযরত খাদীজা (রাযিঃ) ঈমান আনেন।

প্রঃ বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম কে ইসলাম গ্রহণ করেন?

প্রঃ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) কিশোরদের মধ্যে সর্বপ্রথম কে ইসলাম গ্রহণ করেন? হযরত আলী (রাযিঃ)। ইলমে নাহু সর্বপ্রথম কে আবিষ্কার করেন ও কুরআন শরীফে যের, যবর, পেশ কে লাগান?

উঃ তাবেয়ী আবুল আসওয়াদ দুয়ালী বাছরী। জ্ঞাতব্য। ইলমে নাহুর প্রকৃত রচয়িতা হযরত আলী (রাযিঃ)। আর এই ইলমের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় হলো, হযরত আলী (রাযিঃ) এর মত একজন বড় সাহাবী কর্তৃর্ক ইহা রচিত। তিনি সর্বপ্রথম ইযাফত — ও ইমালা অধ্যায় রচনা করেন। তারপর আবুল আসওয়াদ আতফ ও ইযাফত অধ্যায় রচনা করেন। আবুল আসওয়াদ বলেন। একদা হযরত আলী (রাযিঃ)-এর খেদমতে আসলাম। দেখলাম, তিনি মাথা নিচু করে চিন্তিত অবস্থায় বসে আছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হযরতের চিন্তার কারণ কি? তিনি উত্তর দিলেন, মানুষকে ভুল আরবী বলতে শুনেছি। তাই ইচ্ছা করেছি আরবী গ্রামারের একটা কিতাব লিখতে। আবুল আসওয়াদ বললেন, হুযূর এ মহৎ কাজ করলে আমাদের খুবই উপকার হবে। চতুর্থ দিন আবার আসলাম, তখন তিনি ইলমে নাছর প্রাথমিক কিছু গ্রামার লিখে আবুল আসওয়াদের হাতে দিলেন। ইহা দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং আবুল আসওয়াদ প্রতিদিনই কিছু লিে

পৃষ্ঠা:৫৮

আনতেন এবং হযরত আলী (রাযিঃ) সংশোধন করে দিতেন। যখন যথেষ্ট পরিমাণ গ্রামার লেখা হয়ে গেল তখন হযরত আলী (রাযিঃ) দেখে বললেন, ‘নাহু’ অর্থাৎ এই পদ্ধতিটি খুবই ভাল হয়েছে। এ কারণেই এই ইলমের নাম ‘নাহু’ হয়েছে।

প্রঃ কুরআন শরীফে সর্বপ্রথম কে নুকতা দিয়েছে?

উঃ ইরাক ও খুরাসানের আমীরের নির্দেশে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এবং আবুল আসওয়াদ ইরাব নুকতা লাগিয়েছেন, যেমন পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং ইরাব ও নুকতা উভয়টাই আবুল আসওয়াদ দুয়ালী উদ্ভাবন করেছেন।

প্রঃ কাবা শরীফের গিলাফ কে লাগিয়েছিলেন?

উঃ প্রথম তুবা, যিনি একজন বড় বাদশাহ ছিলেন। তিনি নিজের সেনাবাহিনী নিয়ে ভ্রমণ করতে করতে মক্কা শরীফে এসে পৌঁছলেন, কিন্তু (মক্কার) লোকেরা তার সম্মান করল না, এতে তিনি খুব রাগান্বিত হলেন এবং কাবা শরীফ ধ্বংস করার ইচ্ছা করলেন এবং সেখানকার লোকদেরকে হত্যা ও বন্দী করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তখন সাথে সাথে তার নাক কান দিয়ে দুর্গন্ধময় পুঁজ নির্গত হতে লাগল, কোন চিকিৎসাই কাজে আসল না। তখন চিকিৎসকবৃন্দ অনন্যেপায় হয়ে বললেন, আমরা দুনিয়ার রোগের চিকিৎসা করতে পারি; কিন্তু এটা তো আসমানী মুসীবত, এর কোন চিকিৎসা নেই।বাদশা তখন এই খারাপ উদ্দেশ্য পরিহার করে তওবা করল এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনল আর সাথে সাথে তার এই পুঁজ নির্গত হওয়া বন্ধ হয়ে গেল। তখন সে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে কাবা শরীফে গিলাফ পরিয়ে দিল।

প্রঃ শয়তানের পর সর্বপ্রথম কে দোযখে যাবে?

উঃ যে ব্যক্তি সর্বদাই গীবত করতে করতে মারা গেল।

প্রঃ আযানের জন্য সর্বপ্রথম মিনারা কে বানিয়েছে?

উঃ হযরত মুয়াবিয়া (রাযিঃ)-এর আদেশে হযরত মাসলামা (রাযিঃ) বানিয়েছেন। এর পূর্বে আযানের জন্য মিনারা ছিল না।

প্রঃ হুযুরে পাক (সাঃ) মদীনা শরীফে আসার পর তাঁর সাথে হিজরতকারী সাহাবীদের মধ্যে সর্বপ্রথম কে মৃত্যুবরণ করেন?

উঃ হযরত উছমান বিন মাজউন (রাযিঃ)। ৩য় হিজরীর শাবান মাসে। হুযুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী গোরস্থানে তাকে দাফন করেন এবং তার কবরের উপর চিহ্নস্বরূপ একটি পাথর রেখে দেন।

প্রঃ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বপ্রথম কোন সন্তান কোথায় এবং কার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন? হযরত আবদুল্লাহ (রাযিঃ)। নবুওয়তের পূর্বে মক্কায় থাকাকালীন সময়ে

উঃহযরত খাদিজা (রাযিঃ)-এর গর্ভে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোটবেলায়ই মৃত্যুবরণ করেন।

প্রঃ ফেকাহ শাস্ত্র সর্বপ্রথম কে সঙ্কলন ও রচনা করেন?

উঃ হযরত ইমাম আজম আবু হানীফা (রহঃ)। পরবর্তী আলেমগণ তাঁরই পদাঙ্ক অনুসারী।

প্রঃ মদীনাতে হিজরত করার পর মুহাজিরদের মধ্যে সর্বপ্রথম কে জন্মগ্রহণ করেন?

উঃ আবদুল্লাহ বিন জুবাইর। ১ম হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দেন। সর্বপ্রথম হুযুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখের পবিত্র লালা তার — মুখে প্রবেশ করে।

প্রঃ সর্বপ্রথম শাইখাইন অর্থাৎ হযরত আবুবকর ও উমর (রাযিঃ)-কে নিন্দাবাদ কে শুরু করে?

উঃ আবদুল্লাহ বিন সাবা নামক ইহুদী মুনাফিক।

প্রঃ হযরত আলী (রাযিঃ) এর কাছে সর্বপ্রথম কে বাইয়াত গ্রহণ করেন?

উঃ তালহা বিন উবাইদুল্লাহ।

প্রঃ ঈমানের পর সর্বপ্রথম উম্মতে মুহাম্মদীর উপর কি ফরয হয়েছে?

উঃ নামায।

প্রঃ সর্বপ্রথম গমের চাষ কে করেন?

উঃ হযরত আদম (আঃ)

পৃষ্ঠা:৫৯

প্রঃ সর্বপ্রথম কাপড় সেলাই করা কে শুরু করেন?

উঃ হযরত ইদ্রীস (আঃ)।

প্রঃ সর্বপ্রথম কাপড় কে তৈরী করেন?

উঃ হযরত আদম (আঃ)।

জ্ঞাতব্য: নুজহাতুন্নাজিরীন গ্রন্থের এক দুর্বল বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এক ব্যক্তি হুযুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিজ্ঞাসা করল, হুযূর। আমার পেশার ব্যাপারে কি বলেন? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পেশা কি? সে উত্তর দিল, কাপড় বয়ন করা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমার পেশা আমাদের পিতা হযরত আদম (আঃ)-এর পেশা। তিন দিন পর্যন্ত হযরত জিবরাঈল (আঃ) শিক্ষা দিতে থাকেন এবং হযরত আদম (আঃ) বয়ন করতে থাকেন। তোমার পেশা এমন এক পেশা, যা মানুষের জীবনেও প্রয়োজন, মরার পরও প্রয়োজন পড়ে। তোমার পেশাকে যে নিন্দা করবে।এবং তোমাকে কষ্ট দিবে সে হযরত আদম (আঃ)-কেই যেন নিন্দা করল ও কষ্ট দিল। সুতরাং তোমরা কোন চিন্তা করো না। বরং খুশি হও যে, হযরত আঃ সম্মুখে থাকবেন আর তোমরা তাঁর পিছনে থাকবে।(তোমরা নেক আমল করতে থাক) জান্নাতে প্রবেশ করবে। (গ্রন্থকার)

প্রঃ সর্বপ্রথম রসায়নশাস্ত্র ও তৎসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যে কে গবেষণা করেন?

উঃ হযরত মুআবিয়া (রাযিঃ) এর পৌত্র খালেদ বিন য়াযীদ।

প্রঃ দাড়িপাল্লা ও মাপযন্ত্র সর্বপ্রথম কে আবিষ্কার করেন?

উঃ হযরত ইদ্রিস (আঃ)।

প্রঃ দুনিয়াতে সর্বপ্রথম অন্যায়ভাবে কে নিহত হন?

উঃ হযরত হাবিল। তিনি ২৫ বছর বয়সে নিহত হন। তাঁর ভাই কাবিল তাকে হত্যা করে।

প্রঃ সর্বপ্রথম কুরআন শরীফকে মুহুহাফ বলেন কে?

উঃ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)।

প্রঃ সর্বপ্রথম আল্লাহর রাস্তায় কে কুরবানী করেন?

উঃ হযরত ইবরাহীম (আঃ)।

প্রঃ আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম কার প্রতি দৃষ্টি করবেন?

উঃ যে দুনিয়াতে অন্ধ ছিল এবং সবর ও শোকরের সাথে জীবন-যাপন করেছে।কাবো শরীফের পুরাতন চাদর পরিবর্তন করে নতুন চাদর কে পরান?

প্রঃ উঃ হযরত মুয়াবিয়া (রাযিঃ)। এর পূর্বে প্রতি বছর পুরাতন চাদরের উপরই নতুন চাদর পরানো হতো। এভাবে কাপড় জমা হয়ে কয়েক বারই আগুন লেগে যায়। তখন আমীর মুয়াবিয়া (রাযিঃ) পুরাতন চাদর সরিয়ে নতুন চাদর পরানোর আদেশ দিলেন। সুতরাং আজও সেই নিয়মই চলে আসছে।

প্রঃ রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা শরীফ যাওয়ার পর আনসারদের মধ্যে সর্বপ্রথম কে জন্মগ্রহণ করেন?

উঃ নুমান বিন বশির (রাযিঃ)। তার পিতাও একজন সাহাবী।

প্রঃ সর্বপ্রথম সূতা কাটা কে শুরু করেন?

উঃ হযরত হাওয়া (আঃ)।

প্রঃ সর্বপ্রথম দীনার (আরবী মুদ্রা)-এর উপর কুরআনের আয়াত কে লিখেন?

উঃ আবদুল মালেক বিন মারওয়ান দীনার তৈরী করে তার উপর “কুলহু — আল্লাহু আহাদ” লিখেন।

প্রঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম জুমআর নামায কোথায় আদায় করেন?

উঃ মদীনায় তশরীফ নেওয়ার পর বনি সালেম বনী আওফ গোত্রে জুমআর নামায পড়েন এবং সর্বপ্রথম সেখানেই সাহাবাদের সামনে খুতবা দেন।

আবশ্যকীয় কিছু মাসআলা

যা সাধারণ মানুষ ও বিশেষ শ্রেণী উভয়ের জন্যই উপকারী। থেকে) পাক, নাপাক ও উযু, নামায সম্পর্কিত মাসআলাসমূহ। (সংকলকের পক্ষ

পৃষ্ঠা:৬০

প্রশ্ন উযূর পর রুমাল ইত্যাদি দ্বারা উষুর অঙ্গসমূহ শুষ্ক করে নেয়া জায়েয হবে কি না?

উঃ জায়েয আছে। স্বয়ং হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উযুর

পর অঙ্গসমূহ শুকানোর জন্য একটি কাপড় থাকত। কিন্তু উত্তম এটাই

যে, এভাবে শুকাবে, যাতে করে পানির চিহ্ন কিছুটা অবশিষ্ট থাকে।

প্রঃ গোসলের পর নতুন করে উযু করার প্রয়োজন আছে কি না?

উঃ ঐ গোসলই যথেষ্ট, নতুন করে উযু করার প্রয়োজন নেই, হাদীসের দ্বারা উহাই বুঝা যায়।

প্রঃ ঘুমন্ত অবস্থায় মুখ থেকে নির্গত লালা কাপড়ে যদি লেগে যায় তাহলে ঐ কাপড় নাপাক হবে কি না?

উঃ ফতোয়া এটাই যে, এ লালা পাক, কাপড় নাপাক হবে না। হাঁ, যদি এর সাথে রক্ত মিশ্রিত থাকে, তবে নাপাক হবে।

প্রঃ যে ব্যক্তির গোসলের প্রয়োজন হয়, তার শরীরের যাম পাক, না নাপাক?

উঃ সম্পূর্ণ পাক, হাঁ যদি শরীরে প্রকাশ্য কোন নাপাক লেগে থাকে, তখন এর সাথে মিশ্রিত হয়ে ঘাম নাপাক হয়ে যায়। অন্যথায় গোসল প্রয়োজনীয় ব্যক্তির ঘাম নাপাক নয়, যদি কাপড়ে লেগে যায়, তবে উহা নাপাক হয় না।

প্রঃ বয়স্ক ব্যক্তি এবং শিশুর প্রস্রাবে কোন পার্থক্য আছে কি না?

উঃ নাপাক হওয়ার দিক দিয়ে উভয়ই সমান, তবে পার্থক্য হলো যে, শিশুদের প্রস্রাব অত যত্ন সহকারে ধোয়ার প্রয়োজন নেই, সহজেই তা ধোয়া হয়ে যায়। কিন্তু বয়স্কদের পেশাবের ব্যাপারটি এমন নয়।

প্রঃ কাপড়ের কোন এক অংশে নাপাক লেগেছিল কিন্তু এখন স্মরণ নেই, কোথায় লেগেছিল। এমতাবস্থায় কি করা উচিত?

উঃ ভালভাবে চিন্তা ফিকির ও ধ্যান করবে। এরপর যেদিকে ধারণা প্রবল হয়, সে জায়গাটুকু ধুয়ে ফেলবে, পাক হয়ে যাবে। মনে কোন সন্দেহ রাখবে না। কিছুদিন পর যদি নাপাকের স্থানটি সঠিকভাবে জানা যায়,তবে সেটা ধুয়ে ফেলবে। আগের নামাযগুলো ফিরিয়ে পড়তে হবে না। প্রঃ তারাবীর নামাযে নাবালেগ ইমাম হলে নামায জায়েয হবে কি?

উঃ এতে মতানৈক্য আছে, তবে সঠিক রায় হলো, জায়েয হবে না।

উঃ কোন ক্ষতি নেই।

প্রঃ ইমাম যদি পাগড়ী না বাধে তবে নামাযের কোন ক্ষতি হবে কি?

পানাহার সম্পর্কে জরুরী মাসআলাসমূহ

প্রঃ অতি গরম খাদ্য খাওয়া জায়েয আছে কি?

উঃ মকরুহ। কিন্তু যে খাদ্য ঠাণ্ডা হয়ে গেলে উপকারিতা ও স্বাদ গরম নষ্ট হয়ে যায়, সে খাদ্য গরম খাওয়া মাকরূহ নয়।

প্রঃ তাড়ি যদি দীর্ঘ সময় রেখে দেয়া হয় এবং তা ছিরকা হয়ে যায় তবে তা খাওয়া জায়েয আছে কি না?

উঃ জায়েয আছে।

প্রঃ খাদ্য যদি পচে যায়, তবে খাওয়া জায়েয আছে কি না?

উঃ যদি বেশী পচে গিয়ে রং পরিবর্তন হয়ে যায়, তবে খাওয়া হারাম। আর যদি অল্প পরিবর্তন হয় তবে জায়েয।

প্রঃ মাথা খালি অবস্থায় খাওয়া জায়েয আছে কি না?

উঃ কোন অসুবিধা ছাড়া এভাবে খাওয়া ভাল নয়, তবে জায়েয আছে।

প্রঃ কোন কোন লোকে বলে থাকে, রুটির উপর বরতন রাখা এবং রুটির

দ্বারা হাত পরিষ্কার করা জায়েয নেই।

উঃ নিঃসন্দেহে মাকরুহ।

প্রঃ কিছু লোকে বলে থাকে, পানের সাথে চুন খাওয়া হারাম।

উঃ এদের কথা ঠিক না, বরং সম্পূর্ণ জায়েয আছে।

প্রঃ ঔষধ হিসাবে কোন হারাম বস্তু খাওয়া জায়েয আছে কি না?

জায়েয নাই। কিন্তু কোন অভিজ্ঞ ডাক্তার যদি বলে যে, এ দ্বারাই রোগ আরোগ্য হবে, তবে জায়েয আছে। 

উঃসাপের গোশত এবং কীট-পতঙ্গের চূর্ণ ঔষধরূপে খাওয়া জায়েয আছে কি না?

উঃ খাওয়া জায়েয নেই। কিন্তু পাক, যদি শরীর মালিশ করে নামায পড়ে তবে জায়েয হবে।

পৃষ্ঠা:৬১

প্রঃ গাভী অথবা মহিষের বাচ্চা হওয়ার পর পরই যে ঘন দুধ আসে, এটা খাওয়া জায়েয আছে কি না?

উঃ নিঃসন্দেহে জায়েয।

প্রঃ গাভী যবেহ করার পর যদি জীবিত বাচ্চা পাওয়া যায়, তবে কি করা উচিত?

উঃ বাচ্চাকেও যবেহ করে খাওয়া উচিত।

প্রঃ গাভী যবেহ করার পর মৃত বাচ্চা পাওয়া গেলে, গাভীর গোশত খাওয়া জায়েয আছে কি না?

উঃ নিঃসন্দেহে জায়েয আছে। মৃত বাচ্চাটা শুধু ফেলে দিতে হবে।

প্রঃ স্ত্রীলোকের যবেহ করা জায়েয আছে কি না?

উঃ সম্পূর্ণ জায়েয, স্ত্রী-পুরুষের কোন পার্থক্য নেই।

প্রঃ যদি সাতজন মিলে কোন গরু খরিদ করে এবং ছয় জনে কুরবানীর নিয়ত করে আর একজন আকীকার নিয়ত করে, তবে জায়েয আছে কি না।

উঃ জায়েয আছে।

বিভিন্ন মাসআলাসমূহ

প্রঃ স্বর্ণ-রূপার বোতাম পুরুষের জন্য জায়েয আছে কি?

উঃ জায়েয আছে। শামী, দুররে মুখতার ইত্যাদি ফেকাহর কিতাবে পরিষ্কার উল্লেখ আছে।

প্রশ্ন পুরুষের কোন প্রকার অলঙ্কার পরা জায়েয আছে কি না?

উঃ পুরুষের শুধু সাড়ে চার আনা ওজন পর্যন্ত রূপার আংটি পরা জায়েয

আছে। সোনা, পিতল, লোহা ও সাড়ে চার আনার অতিরিক্ত রূপার

আংটি পরা জায়েয নেই। প্রঃ যোপা যদি অন্যের কাপড় বদল করে দিয়ে দেয় এবং তালাশ করেও আসল কাপড় পাওয়া না যায় তবে কি করা উচিত?

উঃ যদি ঐ কাপড়টা দামে ও মানে নিজের কাপড়ের মতই হয় অথবা কিছু কম হয়, তবে লওয়া জায়েয হবে, অন্যথায় না লওয়াই ভাল।

প্রঃ কেউ যদি না জেনে চুরির কাপড় ক্রয় করে, তবে কি সে গোনাহগার হবে? এবং ঐ কাপড় দ্বারা নামায জায়েয হবে কি না?

ক্রেতার না জানার কারণে গোনাহগার হবে না, নামাযও ছহীহ হবে।

প্রঃ মৃত জানোয়ার চামার মোচারের নিকট বিক্রি করা জায়েয আছে কি না? উঃ

মোটেই জায়েয নেই। পারিশ্রমিক দিয়ে চামড়া উঠিয়ে রং করে চামড়া বিক্রি করা যায়। চামড়া শুকানোর পর পাক হয়ে যায়।

প্রঃ গাইরে মাহরাম (পরস্ত্রী) স্ত্রীলোকের আওয়াজে শুন্য জায়েয আছে কি না?

উঃ প্রয়োজনে জায়েয আছে। যেমন কেনা-বেচা করা অথবা কোন মহিলার আপন কর্মচারী ও চাকরদেরকে কোন নির্দেশ দেয়া।

প্রঃ মেয়েদের তাদের পীর-মুর্শিদের কাছেও কি পর্দা করতে হয়?

উঃ অবশ্যই পর্দা করতে হয়। যেমন ভিন্ন পুরুষদের কাছে পর্দা করতে হয় তেমনই পীরের কাছেও পর্দা করতে হবে।

প্রঃ কোন লোক যদি রোযা রেখে ভুলবশতঃ খেতে থাকে তবে অন্য লোকের স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত কি না?

উঃ যদি লোকটি সুস্থ সবল হয় এবং রোযা রাখতে ভয় না করে তবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত। আর যদি দুর্বল হয় তবে স্মরণ না করানো ভাল। অল্প কিছু খেয়ে ফেললে রোযা রাখাটা সহজ হবে। কেননা, ভুলবশত খেলে রোযা ভঙ্গ হয় না।

প্রঃ ষ্টেশনে পানি আছে, কিন্তু উজু করতে গেলে গাড়ী ছেড়ে দিবে। এমতাবস্থায় তায়াম্মুম করে নামায পড়া যায় কি না?

উঃ যদি গাড়ী ছেড়ে দেওয়ার ধারণাই প্রবল হয়, তবে জায়েয। কিন্তু উত্তম হলো এই যে, গাড়ী ছেড়ে দেওয়ার পর তায়াম্মুম করে নামায পড়বে। প্রঃ যদি কেবলা জানা না থাকে তবে কিভাবে নামায পড়বে?

উঃ খুব ভেবে চিন্তে যেদিকে ধারণা প্রবল হয় সেদিকে ফিরেই নামায পড়বে। পরবর্তীতে যদি জানা যায় যে, যেদিকে ফিরে নামায পড়েছে সেদিকে

কেবলা নয়, তবে নামায দ্বিতীয় বার পড়তে হবে প্রঃ মেয়েদের কান ছিদ্র করা জায়েয আছে কি না?

পৃষ্ঠা:৬২

উঃ কান ছিদ্র করা জায়েয আছে, কিন্তু নাক ছিদ্র করা কেউ কেউ নিষেধ করেন। ছেলেদের বেলায় কোনটাই জায়েয নেই।

প্রঃ কোন অমুসলিম যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান অসুস্থ হলে তার সেবা শুশ্রূষা করা জায়েয আছে কি না?

উঃ জায়েয আছে।

প্রঃ বিবাহ পড়ানোর পর খজুর বণ্টন করা জায়েয আছে কি না?

উঃ জায়েয আছে।

প্রঃ এক ব্যক্তি ভাড়ায় দোকান নিয়েছে যে, দু টাকা মাসিক ভাড়া দেব এবং দোকান মেরামতও করব। এটা কি জায়েয আছে?

উঃ জায়েয নেই। কিন্তু মানুষ এটা জানে না।

প্রঃ ভূমিকম্পের সময় ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া দুরস্ত আছে কি না?

উঃ জায়েয আছে, বরং এটাই উত্তম।

প্রঃ রাস্তায় কোন সুই অথবা বাদাম পড়ে থাকলে এটা উঠিয়ে নিজের কাজে লাগানো জায়েয আছে কি না?

উঃ এ ধরনের বস্তু ব্যবহার করা জায়েয আছে। اخِر دَعْوَانَا أَنِ الْحَمدُ للهِ رَبِّ العَالِمِينَ وَصَلَّى اللهُ تعالى على سيدنا محمد واله وصحبه اجمعين

সমাপ্ত

 

হোম
ই-শো
লাইভ টিভি
নামাজ শিক্ষা
গেইমস
চাকুরি