Skip to content

অবমাননার শাস্তি

পৃষ্ঠা ১ থেকে ২০

পৃষ্ঠা:০১

প্রিয়নবী সা. কে অবমাননার শাস্তি

আমি অভিশপ্ত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। পরম করুণাময় এবং অসীম দয়াময় মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি।মহান আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের এর জন্য সকল প্রশংসা। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবাগণের প্রতি এবং কিয়ামাত পর্যন্ত আগত তাঁর অনুসারী সকল মু’মিন ভাই ও বোনদের প্রতি। আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমরা আল্লাহ তা’য়ালার নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন উপকারী ইলমকে আমাদের সকলের জন্য সহজবোদ্ধ, আমলযোগ্য করে দেন এবং এর থেকে। আমাদের সবাইকে উপকৃত হওয়ার তৌফিক দান করেন। কুরআন নাযিলের ব্যাপারে কাফিরদের উক্তি তুলে ধরে মহামহিমান্বিত আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, وَقَالُوا لَوْلَا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْءَانُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ অর্থ: “তারা বলতো যে, এই কোরআন কেন দু’টো জনপদের কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির উপর নাযিল হলো না?” (সূরা যুখরুফ, আয়াত ৩১) এটি কুরআনের একটি আয়াত যেখানে কাফিররা মক্কা ও তায়েফের কথা উল্লেখ করে এই প্রসঙ্গ তুলেছে। কুফ্ফাররা নবুওতের জন্য দু’জনকে মনোনীত করেছিল। আর এ কারণেই তাদের মধ্যে কিছু লোক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নবী হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ

পৃষ্ঠা:০২

অর্থ: “আল্লাহ তা’য়ালা ভালো করেই জানেন তাঁর রিসালাত তিনি কোথায় রাখবেন।” (সূরা আনআম, আয়াত ১২৪)যাই হোক, কুফফাররা যাদেরকে মনোনীত করেছিল, তাদেরই একজন হচ্ছে উরওয়া বিন মাসুদ আস সাকাফী, যে তায়েফের অধিবাসী ছিল। অনেক দিন পর মক্কাবাসীরা উরওয়া বিন মাসুদ আস সাকাফীকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে একটি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে পাঠিয়েছিল, একটি সাময়িক চুক্তি, যার নাম ছিলো হুদায়বিয়ার সন্ধি। যদিও সে কোন ঐক্যমত্যে আসতে সক্ষম হয়নি। পরবর্তীতে একই দায়িত্ব নিয়ে আসে সুহাইল বিন আমর এবং তার সাথে একটি ঐকমত্য হয়। কিন্তু উরওয়া বিন মাসুদ যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হুদায়বিয়া (মক্কার দক্ষিণে এক দিনের রাস্তার দূরত্ব) -তে দেখলে, সে যেন এক নতুন জগতে প্রবেশ করল।উরওয়া বিন মাসুদ আস সাকাফী আল্লাহর রাসূল এর সাথে সাক্ষাত করতে এসে এমন কিছু দেখলেন যা তাকে অভিভূত করে ফেলল। যখন রাসূল ওযু করতেন, তখন তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে ঝরে পড়া পানি সঞ্চয় করতে এবং তা দ্বারা হাত ও মুখমন্ডল ধৌত করার মাধ্যমে রহমত পাওয়ার আশায় সাহাবাগণ ছুটে যেতেন। একটি চুল পড়লেও তারা তা লুফে নিতেন। তিনি কোন আদেশ করলে তা পালন করার জন্য সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতেন।উরওয়া বিন মাসুদ আস সাকাফী যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কথা বলছিলেন সেখানে ছিলেন আপাদমস্তক বর্ম দ্বারা আবৃত একজন, যার শুধুমাত্র চোখদু’টো দেখা যাচ্ছিল। কথার মাঝখানে যখনই উরওয়া বিন মাসুদ আস সাকাফী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাঁড়ি ধরতে উদ্যত হত তখনই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বর্ম পরিহিত লোকটি তলোয়ারের শেষাংশ দিয়ে খোঁচা দিয়ে বলতো, “সরিয়ে ফেলো এই হাত যদি একে হারাতে না চাও।”

পৃষ্ঠা:০৩

এ অবস্থা দেখে উরওয়া বিন মাসুদ আস সাকাফী বলল, আমার মনে হয়। এই লোকটি তোমাদের মাঝে সবচেয়ে গর্হিত ও অভদ্র, কে সে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন এবং বললেন, “এ তোমার ভ্রাতুস্পুত্র মুগিরাহ ইবনে শো’বা।”এই ছিলো উরওয়া বিন মাসুদ সাকাফীর ভ্রাতুস্পুত্র! কিন্তু যেহেতু তিনি একজন মুসলিম, তাই তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিরাপত্তায় এত নিবেদিত এবং সচেতন ছিলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাঁড়ির দিকে নিজের আপন চাচার বাড়িয়ে দেয়া হাতকেও গুটিয়ে নিতে বাধ্য করেছিলেন। এতে উরওয়া মারাত্মক একটি ধাক্কা খেলেন।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা!

আপনারা আমাকে হয়তো বার বার এই কথা বলতে শুনবেন যে যখনই। আমরা এই ঘটনাগুলোর আলোচনা করি তখনই আমরা যেনো নিজেদেরকে। সেই সমাজের দিকে নিয়ে চলি, নিজেকে তাঁদের অবস্থানে রেখে চেষ্টা করুন সেভাবে চিন্তা করতে, যেভাবে তাঁরা করতেন এবং তাঁদের চারপাশের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে বুঝার চেষ্টা করুন! এটি ছিলো একটি উপজাতীয় সমাজ ব্যবস্থা এবং পারিবারিক বন্ধনই ছিলো। এতে সবকিছু। উরওয়া বিন মাসুদ সাকাফী স্পষ্টতই বিস্মিত অবস্থায় ছিলেন যে ইসলাম কিভাবে তার নিজের ভ্রাতুস্পুত্রকে পরিবর্তিত করেছে! সে তার সাথে কি রকম আচরণ করেছে!!উরওয়া বিন মাসুদ আস সাকাফী কুরাইশদের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, ওহে কুরাইশ বংশের লোকেরা! আমি পৃথিবীর বহু রাজাদের দেশ সফর করেছি, আমি সিজার, কিসরা, পারস্যের সম্রাট এমনকি নাগাসের দরবারও প্রত্যক্ষ করেছি। কিন্তু আমি কোন রাজার অনুচর, অনুসারীদের মধ্যে এরকম আনুগত্য আর বাধ্যতা দেখিনি যেমন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ক্ষেত্রে তাঁর সাহাবাদের দেখেছি। যখনই তিনি কোন আদেশ করতেন তাঁরা দ্রুত ছুটে যেতো সেটি পালনার্থে, যখনই তিনি কোন কথা বলতেন, তাঁরা নীরব থাকতো যেন কোন পাখি বসে আছে তাদের

পৃষ্ঠা:০৪

সবার মাথার উপর, যখনই তিনি ওযু করতেন তারা দ্রুত ছুটে যেতো সেই পানির বিন্দুগুলো সঞ্চয় করতে, যখনই তার কোন চুল পড়তো তাঁরা ছুটে গিয়ে তাও লুফে নিতো।ওহে কুরাইশ।মুহাম্মাদ তোমাদের একটি প্রস্তাব দিয়েছে তা গ্রহণ করো, কারণ আমার দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর আনুসারীরা কখনও তাঁকে সমর্পণ করবে না, ছেড়ে যাবে না।”কাফিররা যখনই মুসলিমদের সান্নিধ্যে যেত তখনই তারা মুসলিমদের ব্যাপারে এই একই অভিজ্ঞতা লাভ করতো যে, মুসলিমরা কখনই তাদের। প্রিয় রাসূলকে কাফিরদের কাছে সমর্পন করবে না! কখনও তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, তাঁরা কখনও তাঁকে ত্যাগ করবে না। প্রয়োজনে তাঁরা লড়াই করবে, এমনকি তাঁদের শেষ ব্যক্তিটি জীবিত থাকা পর্যন্ত, তাঁদের কারো একজনের শীরায় রক্ত প্রবাহ বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের প্রিয়নবীর নিরাপত্তার জন্য লড়াই করে যাবে।কিন্তু সময় এখন ভিন্ন! প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এটি ছিল আল্লাহর রাসূল। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় উরওয়া বিন মাসুদ আস সাকাফীর সাক্ষ্য।কয়েকদিন আগে একজন মার্কিন সৈন্য আল্লাহর কিতাবকে টয়লেটের টিস্যু পেপার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এটি কোথায় ঘটে? এটি ঘটে মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু একটি মুসলিম দেশে। এরপর কি হল? মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ছিলো নীরব।এর আগে যখন ড্যানিশ ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে বিতর্ক উঠল, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে আগুন জ্বলে উঠলো। কিন্তু এখন সুইডিশ ব্যঙ্গচিত্রের ঘটনা ঘটল, যেটি আরও খারাপ ছিল অথচ তখন প্রতিক্রিয়া ছিলো খুব কম। আর এখন আমরা দেখছি প্রতিক্রিয়া আরও কম।।

পৃষ্ঠা:০৫

সুতরাং প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমাদের শত্রুরা খুবই চতুরতার মাধ্যমে আমাদেরকে অনুভূাতহীন করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। যখন এটি প্রথমবার ঘটল, সবাই এটি নিয়ে চিন্তা করছিল এবং নিন্দা জানাচ্ছিল কিন্তু তারপর আস্তে আস্তে আমরা এর সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম!এরপর এখন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটল! যা অশালীনতার চূড়ান্ত! কিন্তু প্রতিক্রিয়া। কি? খুবই সামান্য!তাই ভাই ও বোনেরা, আসুন পেছন ফিরে দেখি, তখন পরিস্থিতি কি রকম। ছিলো! কারণ সেটিই আমাদের নৈতিকতাকে উজ্জীবিত করবে এবং এভাবেই আমাদের সাহাবাদের (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা তাদের উপর সন্তুষ্ট হোন) অনুসরণ করতে হবে।

পৃষ্ঠা:০৬

কা’ব বিন আশরাফ হত্যার ঘটনা:

কা’ব বিন আশরাফ ছিলো একজন ইহুদী নেতা এবং খুবই প্রভাব সৃষ্টিকারী জ্বালাময়ী কবি। যখন বদরে মুসলমানদের বিজয়ের সংবাদ মদীনায় পৌছালো, তখন কা’ব বিন আশরাফ সেই সংবাদ শুনে বলল, “যদি এই সংবাদ সত্যি হয়ে থাকে তাহলে আমাদের জন্য মাটির নিচে থাকাই তার উপরে থাকার চেয়ে উত্তম। অর্থাৎ মৃত্যুই আমাদের জন্য শ্রেয়। কুরাইশদের পরাজয়ের পর আর বেঁচে থেকে কি লাভ!” সে মুশরিকদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কবিতা রচনা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো শুরু করলো। এরপর সে মক্কায় তার কবিতা ছড়িয়ে দিলো। কুরাইশদের প্রতি সহমর্মিতা পোষণ করে যুদ্ধে তাদের ক্ষয়-ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করলো। শুধু এ পর্যন্তই নয়, এর থেকেও আরো বেড়ে গিয়ে সে এবার করে তার কবিতার মাধ্যমে মুসলিম নারীদেরকেও কটাক্ষ করা শুরু করলো। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, من لى بكعب ابن الأشرف فإنه قد أذى الله و رسوله :অর্থ: “কে এমন আছে? যে কা’ব ইবনে আশরাফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।করবে! কেননা সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিচ্ছে।”রাসূলের এই আহ্বান শুনে মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ রা. যিনি আউস গোত্রের একজন বিশিষ্ট আনসার সাহাবী ছিলেন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল। আদেশ করুন আমি আছি। আপনি কি এটা চাচ্ছেন যে আমি তাকে হত্যা করি?”আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর পক্ষ থেকে নির্দেশনা পেয়ে এবার মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ রা. এবার অঙ্গীকার করলেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কথা দিলেন যে তিনি নিজে কা’ব ইবনে আশরাফকে হত্যা করবেন।

পৃষ্ঠা:০৭

বাসায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ রা. চিন্তা করতে লাগলেন। ব্যাপারটা তাঁর কাছে যেন কঠিন মনে হলো। কারণ কা’ব ইবনে আশরাফ তার সমর্থক দিয়ে পরিবেষ্টিত একটি দূর্গে থাকতেন যা ছিলো ইহুদী বসতির মধ্যে। তাই এই দুর্ভেদ্য দূর্গের ভেতর গিয়ে তাকে হত্যা করাটা ছিলো অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।তিনি ভাবতে লাগলেন কিন্তু কোন কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি তাঁর নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দিল। জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য সামান্য কিছু আহার্যের বাইরে তিনি পানাহার করতে পারছিলেন না। এভাবে প্রায় তিনদিন কেটে গেলো।এই খবর আল্লাহর রাসূলের নিকট পৌঁছলে তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, “তোমার কি হয়েছে হে মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ? এটা কি সত্য যে তুমি পানাহার করা বন্ধ করে দিয়েছো?”মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ রা. বললেন, “জি হ্যাঁ।”আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “কেন?”তিনি বললেন, “আমি আপনার কাছে একটি অঙ্গীকার করেছি আর সেইঅঙ্গীকার পূরণ করা নিয়েই আমি চিন্তিত।” আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, إنما عليك الجهد অর্থ: “তোমার কাজ তো কেবল চেষ্টা করা। বাকিটা সম্পন্ন করার দায়িত্ব মহান আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও।”প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আসুন আমরা এ বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবি। আমরা একটি মুহূর্তের জন্য থামি এবং হৃদয়ের দৃষ্টি দিয়ে বিষয়টি অনুধাবনের চষ্টা করি যে এই সাহাবী রা. কি অধিক পরিমাণ আনুগত্য ও উদ্দীপনার মধ্যে ছিল। তিনি পরিস্থিতি নিয়ে এত বেশী চিন্তিত ছিলেন যে, তিনি ওয়া-খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ধারছিলেন না। কারণ এটি ছিল তাঁর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

পৃষ্ঠা:০৮

তিনি অঙ্গীকার করেছেন এবং তারপর তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন যে তিনি কি সেই অঙ্গীকার পালন করতে পারবেন কিনা। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে সাহস দিলেন, আশ্বস্ত করে বললেন, “তুমি তোমার চেষ্টা কর, আর বাকীটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও”, তখনই তিনি আশ্বস্ত হলেন এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে শুরু করলেন।আজকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননার বিষয়টি নিয়ে আপনি কতটুকুচিন্তিত? আমরা কতটুকু উদ্বিগ্ন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মানের ব্যাপারে, ইসলামের মর্যাদা এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর কিতাবের বিষয়ে? আমরা বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব সহকারে নেই? মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ রা. একাধারে তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত তাঁর প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে চিন্তা করছিলেন। আজ আমরা মুসলিমদের মাঝে পুনরায় এই সাহাবীর মনোভাবেরই পুনরাবৃত্তি চাই।মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ রা. তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য একটি পরিকল্পনা করলেন। এজন্য রাসূলের কাছে একটি বিষয়ের অনুমতি চাইলেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে তাহলে আপনার বিরুদ্ধে কথা বলার অনুমতি দিতে হবে।” (পরিকল্পনার বিষয় হলো যে, আমাকে আপনার ব্যাপারে নেতিবাচক কথা বলতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এ ব্যাপারে তোমাকে অনুমতি দেয়া হলো।”এবার মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ রা. আনসারদের মধ্যকার আওস গোত্র থেকে অল্প কয়েকজনকে নিয়ে ছোট একটি জামাত গঠন করলেন। যাদের মধ্যে একজন ছিলেন আবু নায়লা। কথিত আছে যে আবু নায়লা ছিলেন কা’ব বিন আশরাফের সৎভাই। তাঁরা কা’ব ইবন আশরাফের জন্য একটি ফাঁদ পাতলেন।

পৃষ্ঠা:০৯

মুহাম্মাদ বিন মাসলামা রা. তাঁর ক্ষুদ্র দলটি নিয়ে কা’ব ইবন আশরাফের সাথে সাক্ষাত করতে গেলেন। কা’ব এর সাথে দেখা হলে পরিকল্পনা। অনুযায়ী আল্লাহর রাসূলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি কা’বকে বললেন, “এই লোকটি আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে একটি পরীক্ষা ও একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে একটি দুর্যোগ এবং তাঁর জন্যই পূরো আরব। আমাদের শত্রু হয়ে গেছে এবং আমাদের সাথে লড়াই করছে।” কা’ব বললো, “আমি তো এটি জানতাম। তাই তো তোমাদের আগেই বলেছি এবং সামনে তোমরা আরও বিপদে পড়বে, খারাপ সময় দেখবে।”মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ বললেন, “আমরা অপেক্ষা করতে চাই এবং দেখতে চাই এর শেষ কিভাবে হয়।” তিনি এখন কা’বের সাথে একটি ভাব তৈরী করার চেষ্টা করতে লাগলেন। তিনি বললেন, “হ্যাঁ, কা’ব, লোকটার জন্য আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটছে, আর্থিকভাবে একটু সমস্যায় পরে গেছি। তোমার কাছ থেকে আমরা কিছু অর্থ ধার নিতে চাই, যার বিনিময়ে প্রয়োজনে তোমার নিকট কিছু জামানাতও রাখতে রাজি আছি।” কা’ব বলল, “ঠিক আছে, তাহলে তোমাদের সন্তানদের রেখে যাও।”তাঁরা বললো, “তোমার কাছে আমাদের সন্তানদের রেখে গেলে তাদের। বাকী জীবন এই খোঁটা শুনতে হবে যে, সামান্য ঋণের জন্য তাদের পিতা তাদেরকে বন্ধক রেখেছিল। এটি তাদের সারা জীবনের জন্য একটি লজ্জাস্কর বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।”কা’ব বললো, “তাহলে তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাও।” তাঁরা বললো, “তোমার মতো সুদর্শন পুরুষের নিকট আমরা কিভাবে আমাদের স্ত্রীদের রেখে যাবো? তার চেয়ে বরং আমরা আমাদের অস্ত্রগুলো তোমার নিকট বন্ধক রেখে যেতে পারি।” সে বলল, “ঠিক আছে, এটি হতে পারে।” মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ কা’বের জন্য এভাবে ফাঁদ পাতলেন। যাতে তার কাছে পরের বার অস্ত্র আনতে গেলে সে সন্দেহ না করে। তিনি পরবর্তী সাক্ষাতের জন্য রাতের একটি মুহূর্তকে নির্ধারণ করলেন এবং নির্ধারিত।

পৃষ্ঠা:১০

সেই সময়ে, গভীর রাতের উপযুক্ত এবং সঠিক সময়ে তার কাছে ফিরে এলেন। ঘরের বাইরে থেকে এবার তিনি কা’বকে ডাক দিলেন।কাবের স্ত্রী সেই আওয়াজ শুনে বলল, “আমি এই ডাকের মধ্যে রক্তের গন্ধ পাচ্ছি।”কা’ব বলল, চিন্তা করো না, “এটি হচ্ছে আমার বন্ধু মাসলামাহ এবং আমার ভাই আবু নায়লা।”এতে বুঝা যায় যে, তাদের মাঝে জাহেলিয়াতের সময় থেকেই সুসম্পর্কছিলো, বন্ধুত্ব ছিলো। অতঃপর সে নিচে গেলো মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ রা. ও তাঁর সাথীদের সাথে দেখা করতে। ইতোমধ্যে তাঁরা একটি সংকেত ঠিক করে নিয়েছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ তাঁদের বললেন, “আমি কৌশলে ওর মাখা ধরবো। যখন তোমরা আমাকে ওর মাথা ধরতে দেখবে, তখনই তালোয়ার দিয়ে তাকে শেষ করে দেবে।” এটাই ছিল তাদের সংকেত।কা’ব আসতেই তারা তাকে বললেন, “আজকের রাতটি শি’ব আল আবুজ গিয়ে গল্প করে কাটিয়ে দিলে কেমন হয়?”সে বলল, “বেশ।” এভাবে তারা তাকে তার দূর্গ থেকে বের করে শি’ব আল আযুজ নামক স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হলো।সেখানে পৌঁছানোর পর, মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ কা’বকে বললেন, “বাহ! তোমার থেকে তো অনেক সুন্দর ঘ্রান আসছে! আমি কি এর গ্রান নিতে পারি?” এটা বলে তিনি কা’বের চুলের দিকে ইঙ্গিত করলেন। চুলে তেলজাতীয় কোন সুগন্ধী লাগানো ছিল।সে বলল, “হ্যাঁ, নাও।”মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ তার হাত দিয়ে কাবের মাথাটাকে টেনে নিলেন। এবং শুকে দেখলেন। তিনি বললেন, “এটাতো দারুণ। (এটি ছিল দেখার জন্য একটি পরীক্ষা।)”তিনি বললেন, “তুমি কি আরেকবার আমাকে এর ঘ্রান নিতে দেবে? সে বলল, “হ্যাঁ, নাও।”

পৃষ্ঠা:১১

এবার তিনি তার মাথার চুল গুলোকে ভালোভাবে ধরলেন এবং তালোয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকলেন। সাথে আসা আওসের সাহাবীরাও এগিয়ে এলেন। কিন্তু সেগুলো তাকে মারার জন্য যথেষ্ট ছিল না এবং সে সাহায্যে জন্য চিৎকার করে উঠল। তাৎক্ষণিকভাবে সবগুলো দূর্গতে আলো জ্বলে ওঠল। মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ বললেন, “আমার মনে পড়ল যে আমার কাছে একটি ছুরি আছে। তাই আমি সেটা বের করে তা দিয়ে তার তলপেটে আঘাত করলাম। একেবারে নিম্নাংশের হাড় পর্যন্ত সেটি গেঁথে দিলাম এবং কাজ শেষ করে দ্রুত সে স্থান ত্যাগ করলাম।”*মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ এবং আওসের লোকেরা এভাবেই সেই পাপাচারী শয়তানকে দেখে নিয়েছিলেন, যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তিরস্কার করত। ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ, তাঁর “আশ শা-রি মিন মাসলুল আলা সাতিমির রাসূল” বা “রাসূলকে অভিশাপকারীর উপর উদ্যত তালোয়ার” নামক কিতাবে এই ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন। এই ঘটনা উল্লেখ করার পর তিনি কিছু বিষয় উল্লেখ করেন যা আমরা আলোচনা করব। প্রথমেই তিনি সীরাতের একজন বিজ্ঞ শায়খ আল ওয়াকিদী রহ এর বর্ণনা। আনেন। আল ওয়াকিদী এই ঘটনার পরিণতি সম্পর্কে বলেন, “এটি একটি খুবই শক্তিশালী এবং বিশেষ অভিযান ছিল এবং এর ফলাফলও ছিল ব্যাপক। এর ফলে মদীনার চারপাশের ইহুদী গোষ্ঠী এবং কাফির সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।” ওয়াকিদি রহ, বলেন, “সকালে ইহুদীরা মুশরিকদের সাথে নিয়ে রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমাদের মধ্যে শীর্ষসম্মান ও মর্যাদার অধিকারী এবং নেতৃস্থানীয় এক ব্যক্তিকে গত রাতে হত্যা করা হয়েছে।”তারা বলল, “কুতিলা গিলাহ” এবং গিলাহ মানে হচ্ছে গুপ্তহত্যা। এই শব্দটির সাথে নেতিবাচক অর্থ জড়িত কারণ এর মানে হচ্ছে এই ব্যক্তি খুন

পৃষ্ঠা:১২

হয়েছে এবং তা হয়েছে আকস্মিকভাবে। সে এই ব্যাপারে জানত না। এটি দ্বিপাক্ষিক ছিল না, একে অপরের বিরুদ্ধে ছিল না, তাকে গোপনে তার অবগতির বাইরে হত্যা করা হয়েছে। তারা বলল, “তাকে কোন অপবাদ ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে।” কেন তাকে হত্যা করা হল, এটাই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে প্রশ্ন।কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইহুদীদের মধ্যে একটি চুক্তি ছিল। সীরাতে এটি ভালোভাবেই উল্লেখ আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় আসেন তখন তাঁর সাথে সকল ইহুদীদের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। এখন কা’ব ইবনে আশরাফকে হত্যা করা হয়েছে, কেন? এটা কেন হল?আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বললেন? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, إنه لو قر كما قر غيره ممن هو على مثل رأيه ما قتل ولاكنه نال منا الأذى و هجانا بشعر ولم يفعل هذا أحد منكم إلا كان السيف অর্থ: “সে যদি সেই ব্যক্তিদের মতো শান্ত হয়ে যেত, যারা তার মতাম অনুসরণ করে অথবা একই মত পোষণ করে, তাহলে তাকে হত্যা করা হত না। কিন্তু সে আমাদের ক্ষতি করেছে, তার কবিতা দিয়ে আমাদের মানহানি করেছে। আর তোমাদের মধ্যে যে এই কাজটি করবে আমরা তালোয়ার দিয়ে এর বোঝাপড়া করবো।””আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, “কা’ব ইবনে আশরাফের মতো আরো অনেকে আছে যারা অন্তরে এই বিশ্বাস ধারণ করে কিন্তু তাদেরকে সেজন্য হত্যা করা হয়নি।” তার অবিশ্বাসের জন্য তাকে হত্যা করা হয়নি, এই জন্য হত্যা করা হয়নি যে সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘৃনা করত, এই জন্যও না যে সে মুসলিমদের ঘৃনা করত।

পৃষ্ঠা:১৩

না। এরকম অনেকেই আছে, যাদের অন্তরে এই ব্যাধি আছে কিন্তু আমরা তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। সেও যদি শান্ত হয়ে যেত অন্যদের মত, যারা শান্ত হয়ে গিয়েছিল আমরা তাকে হত্যা করতাম না। কিন্তু সে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে এবং তার কবিতা দ্বারা আমার মানহানি করেছে।এরপর তিনি ইহুদীদের কাছে বিষয়টি পরিস্কার করে দিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কোন ইহুদী বা মুশরিক যদি কথার মাধ্যমে, কবিতা বা মিডিয়ার মাধ্যমে আমার মানহানি করার চেষ্টা করো, তাহলে আমরা তাকে এভাবেই দেখে নেবো। তোমাদের আর আমাদের মধ্যে ভালোয়ার ব্যতীত আর কিছুই করার থাকবে না। সেখানে কোন সংলাপ হবে না, কোন ক্ষমা করা হবে না, কোন সহমর্মিতা থাকবে না, মীমাংসার কোন উদ্যোগ নেয়া হবে না। আমার আর তোমাদের মধ্যে তখন থাকবে। শুধুই তলোয়ার। এরপর তিনি তাদেরকে ডেকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বললেন যেখানে তারা সবাই সম্মতি জানাল যে তারা তাঁর বিরুদ্ধে। আর কোন কথা বলবে না।

ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, এই ঘটনাটি এ বিষয়ের একটি শক্তিশালী প্রমাণ যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে অবমাননাকারীদের হত্যা করার ব্যাপারে মুসলিমদেরকে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করা হবে। এমনকি যদি তারা মুসলিমদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে থাকে তবুও। এটা এতই কঠিন একটি বিষয় যে, মুসলিমদের সাথে যৌথ অঙ্গীকারভুক্ত কোনো অমুসলিম এটি করলেও তার বিরুদ্ধে একই কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর কিতাবে এই হুকুমের বিরুদ্ধে উম্মোচিত কিছু যুক্তি ও সংশয়েরও অপনোদন করেছেন। সেগুলোর জবাব দিয়েছেন। তিনি সেই যুক্তিগুলো খন্ডন করতে এই ঘটনাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন।কিছু লোক হাদীসের অর্থকে বিকৃত করতে চেয়েছে এবং বলেছে যে, কা’বকে হত্যা হয়েছে কারণ সে কাফিরদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য উৎসাহিত করছিল।

পৃষ্ঠা:১৪

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন, না। তাকে হত্যা করা হয়েছে তার কবিতার জন্য, যেটি তার মক্কায় যাওয়ার পূর্বে ছিল। তাই তার মক্কায় যাওয়া এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে উৎসাহিত করার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই, স্পষ্টরূপে এই সিদ্ধান্তটি তার কবিতার জন্যই দেয়া হয়েছিল। তারপর তিনি বলেন, কা’ব ইবনে আশরাফ যা করেছিল তার সবকিছুই ছিল। আকর্ষণীয় কথার দ্বারা ইসলামের ক্ষতিসাধন। হত্যাকৃত কাফিরদের প্রতি তার শোক প্রকাশ এবং তাদের যুদ্ধ করতে উৎসাহিত করা, তার অভিশাপ, অপবাদ, ইসলামকে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করা, ছোট করে দেখা এবং কাফিরদের ধর্মকে অগ্রাধিকার দেয়া এসব কিছুই ছিল তার মুখ থেকে বের হওয়া কাব্যিক ছন্দের কারসাজি।সে মুসলিমদের বিরুদ্ধে শারিরীক যুদ্ধে সম্পৃক্ত ছিলো না। জড়িতছিল মুখ নিসৃত সাহিত্য আর সাংস্কৃতিক যুদ্ধে। তার আক্রমণ ছিলো আকর্ষণীয় শব্দাবলীল মাধ্যমে। সে মাধুর্যপূর্ণ বাক্যবিন্যাসের দ্বারা রচিত কাব্য দিয়ে। ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষতি করছিলো।আর এটিই হচ্ছে একটি হুজ্জাহ এটি একটি প্রমাণ তাদের বিরুদ্ধেও যারা এই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইসলামের অবমাননা করবে। এটি পরিস্কার, যে ব্যক্তি কবিতা ও অপবাদ দিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ক্ষতি করবে, তার রক্ত কোনভাবেই সুরক্ষিত থাকেব না।-এই ছিলো কা’ব ইবনে আল আশরাফের ঘটনা।

পৃষ্ঠা:১৫

আবু রাফে’-এর হত্যার ঘটনা:

কা’ব বিন আশরাফকে শায়েস্তা করা ছিলো একটি ঐতিহাসিক কাজ যা আওস গোত্রের সাহাবায়ে কিরাম আঞ্জাম দিয়েছিলেন। মদীনার আনসারদের মধ্যে আরেকটি গোত্র ছিলো খাজরাজ। নেক ও সৎ আমলের ক্ষেত্রে আওস এবং খাজরাজ গোত্রের সাহাবায়ে কিরামগণ পরস্পর একে অপরের সাথে সব সময়ই পাল্লা দিতেন।কা’ব ইবনে মালিকের পুত্র বলেন, আওস এবং খাজরাজ দু’টো গোত্রই ঘোড়া দৌড়ের মত আল্লাহর রাসূলের সামনে প্রতিযোগিতা করত। যখনই। তাঁদের কোন একজন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুশী করার মত কোন একটা কাজ করতেন, অপরজন তাঁর চাইতেও ভালো কিছু করতে চাইত। কোন উপাধির উপর তাঁদের প্রতিযোগিতা ছিল না, ছিল না কোন সম্পত্তির উপর।কে ভালো বাড়ী পাবে তার উপর? না।কে সুন্দরী স্ত্রী পাবে তার উপর? না।কার কাছে অধিক পরিমাণ ভালো বাহন আছে তার উপরও নয়। বরং তাদের প্রতিযোগিতা ছিল কিভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুশী করা যায়।আওস গোত্রের লোকেরা যখন কা’ব ইবনে আশরাফের মতো নিকৃষ্ট ইহুদীকে হত্যা করতে সক্ষম হলেন তখন খাজরাজ গোত্রের সাহাবীরা এর চাইতেও উত্তম কিছু করার জন্য একটি সভা করলেন। তাঁরা বলতে লাগলেন যে, আওস আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এক শত্রুকে হত্যা করতে সফল হয়েছে। আমাদেরও একই কাজ করতে হবে। কা’ব ইবনে আশরাফের পর কে আছে সবচেয়ে খারাপ?তাঁরা অনেক ভেবে চিন্তে দেখলেন যে কা’ব ইবনে আশরাফের মতইআরেকটি নিকৃষ্ট শয়তান আছে। আর সে হচ্ছে আবু রা’ফে। তাঁরা তাঁদের পরিকল্পনার কথা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে উপস্থাপন করলেন এবং জানালেন যে, আবু রাফে’র

পৃষ্ঠা:১৬

সাথে তাঁরা কা’ব ইবনে আশরাফের অনুরূপ আচরণ করতে চান। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের পরিকল্পনায় সম্মতি জানালেন এবং তাঁদের সামনে অগ্রসর হতে বললেন। এখন তাঁরা আবু রাফে’কে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করতে লাগলেন।আমি সংক্ষেপে ঘটনাটি বলছি; বিস্তারিত জানতে চাইলে পরবর্তীতে সীরাতের বইতে আপনারা খুঁজে দেখতে পারেন। এই ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ এখানে প্রাসঙ্গিক নয়; আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি তার জন্য শুধু একে প্রমাণ স্বরূপ উল্লেখ করতে চাই।বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আতিক রা, ইহুদী সর্দার আবু রাফে’কে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অবস্থানকারী দূর্গে প্রবেশের চেষ্টা করতে লাগলেন। অবশেষে একটি কৌশল অবলম্বন করে তিনি তাদের দূর্গের মধ্যে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেন।অতঃপর আবু রাফের শয্যাঘরে পৌঁছে গেলেন। কারণ তিনি চাবিগুলো হাতে পেয়ে গিয়েছিলেন। সেটি ছিলো গভীর রাত। পুরোপুরি অন্ধকার থাকার কারণে তিনি আবু রাফে’কে দেখতে পাচ্ছিলেন না। ভাবতে লাগলেন এখন তিনি কি করবেন?অবশেষে তিনি একটি বুদ্ধি বের করতে সক্ষম হলেন। তিনি “আবু রাফে!” বলে আবু রাফেকে ডাক দিলেন।এটি আসলেই একটি বিস্ময়কর কাজ ছিলো। পুরোপুরি অন্ধকারের মধ্যে কারো শয্যাঘরের মধ্যে প্রবেশ করে তাকে আক্রমণ করার পূর্বে, তাকে ডাকা অনেক সাহসের দাবি রাখে।তিনি সরাসরি প্রবেশ করে ডাকলেন, আবু রাফে তুমি কোথায়? আবু রাফে আওয়াজ করে জবাব দিলো। আব্দুল্লাহ বিন আতিক বলেন, আমি শব্দের উৎসের দিকে আঘাত করতে থাকলাম। আমি তাকে আঘাত করলাম কিন্তু হত্যা করতে পারলাম না এবং সে সাহায্যের জন্য চিৎকার করে উঠল।

পৃষ্ঠা:১৭

মাশাআল্লাহ। আব্দুল্লাহ বিন আতিক উপস্থিত বুদ্ধিতে খুব চতুর ছিলেন। তিনি সাথে সাথে পিছু হটে আবার ফিরে আসলেন এবং সাহায্যকারী সেজে আওয়াজ পরিবর্তন করে এসে বললেন, “আবু রা’ফে! তোমার কি হয়েছে?” আবু রা’ফে বললো, “তোমার মায়ের উপর অভিশাপ, এখানে কেউ আছে যে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করছে। তিনি বললেন, আমি এবার আরো তীক্ষ্মভাবে আওয়াজের উৎসের দিকে। আঘাত করলাম কিন্তু এবারও তাকে হত্যা করতে পারলাম না। সে আবারো সাহায্যে জন্য চিৎকার করলো।তিনি আরেকবার পিছু হঠলেন এবং ফিরে এলেন গলা পরিবর্তন করে। এবার আবু রা’ফে আগে থেকে উপুড় হয়ে শোয়া ছিলো কারণ তাকে আগে দুইবার আঘাত করা হয়েছিলো। তাই আব্দুল্লাহ বিন আতিক বলেন, “আমি আমার তলোয়ারটি তার পেটের মধ্যে গেঁথে দিলাম এবং ততক্ষণ ঠেলতে লাগলাম যতক্ষণ না হাড় ভাঙ্গার শব্দ পেলাম। হাড় ভাঙ্গা শব্দের মানে। হচ্ছে তার মেরুদন্ড ভেঙ্গে আলাদা হয়ে গেছে এবং এতেই সে মৃত্যু মুখে পতিত হল।এরপর আব্দুল্লাহ বিন আতিক একটি সিঁড়ি অথবা মই বেয়ে নিচে নেমে এলেন। তিনি বলেন, উত্তেজনার বশে আমি ভাবলাম যে আমি সিঁড়ি পার হয়ে এসেছি কিন্তু একটি ধাপ বাকী ছিলো। তাই দ্রুত করতে গিয়ে আমি পড়ে গেলাম। সিঁড়ি থেকে পরে যাবার কারণে আমার পা মচকে গেলো। অনেক কষ্টে আমি আমার সাথীদের কাছে ফিরে এলাম। তাদের বললাম যে আমি তাকে হত্যা করেছি। কিন্তু আমি নিশ্চিত হতে চাচ্ছিলাম। তাই আমি এখানে অপেক্ষা করবো। তোমরা গিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সুসংবাদ পৌঁছে দাও। আমি এখানে থাকবো আর ঘোষণা শুনার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করবো!দেখুন তারা কি নিখুঁতভাবে কাজটি করতে চাচ্ছিলেন। তিনি নিজের পা ভেঙ্গেছিলেন এবং লোকটির মেরুদন্ড ভেঙ্গেছিলেন এরপরেও তিনি বসে

পৃষ্ঠা:১৮

অপেক্ষা করতে চান এবং নিশ্চিত হতে চান যে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এত ব্যাথা নিয়েও তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন। ফজরের সময় খবর প্রকাশ হলো যে হিজাজের ব্যবসায়ী আবু রা’ফে খুন। হয়েছে!লক্ষ্য করুন এরপর আব্দুল্লাহ বিন আতিক রা, কি বললেন। আব্দুল্লাহ বিন আতিক কি এটা বলেন নি যে, “আমরা এই ধরনের নৃশংস কাজে ঘৃণা। প্রকাশ করছি। লোকটির ক্ষতি করা উচিত হয়নি এবং এটি অনৈসলামিক কাজ। এবং আমরা… না, তিনি এ ধরনের কিছুই বলেননি?তাহলে আব্দুল্লাহ বিন আতিক কি বললেন??!!আব্দুল্লাহ বিন আতিক বললেন, “যখন অমি আবু রাফে’র খুন হওয়ার সংবাদ শুনলাম, আমি শপথ করে বলছি এর চেয়ে সুমিষ্ট কথা আমি আমার জীবনে আর কখনো শুনিনি।” এটাই ছিলো আব্দুল্লাহ বিন আতিকের কথা।তারা এভাবেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসতেন। তারপর তিনি মদীনার দিকে ছুটে গেলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে দেখে বললেন, أفلح الوجه “সাফল্যে উদ্ভাসিত হোক তোমার জীবন!”প্রতি উত্তরে তিনি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সাফল্যে উদ্ভাসিত হোক আপনার জীবনও। এভাবেই তাঁরা সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাঁর সাহাবাদের এমন নিবেদিতপ্রাণ আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন।

পৃষ্ঠা:১৯

আব্দুল্লাহ ইবনে খাতাল প্রমুখের হত্যার ঘটনা:

এটি হলো সেই ঘটনা, যা মক্কা বিজয়ের পর সংঘটিত হয়েছিলো। মক্কা বিজয়ের পর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে খাতাল ও তার দুই নর্তকী দাসীকে প্রকাশ্যে হত্যা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এমনকি যদি তারা কা’বার গিলাফ ধরে ঝুলে থাকে, তাহলেও তাদেরকে হত্যার নির্দেশ দেন। অথচ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিমান্বিত বায়তুল্লাহ অবস্থিত পবিত্র শহর মক্কাকে রক্তপাতহীনভাবেই জয় করতে চেয়েছিলেন। তিনি চাইতেন এটি হোক শান্তিপূর্ণ বিজয়। তিনি কোন রক্তপাত চাননি। আর তিনি এতে প্রবেশ করেন নম্রতার সাথে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার দরবারে সিজদাবনত হয়ে, কৃতজ্ঞতার সাথে। সেখানে কোন প্যারেড ছিলো না, ছিলো না কোন গান, কোন রক্তপাত কিংবা হত্যা- সেখানে ছিলো শান্তি!মক্কা বিজয়ের পর সেখানে প্রবেশ করে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, إذهبوا فأنتم الطلاقاء অর্থ: “যাও তোমরা সবাই মুক্ত।”তবে একটি ব্ল‍্যাকলিষ্ট ছিলো। এটি ছিলো সেই সকল নরপশুদের নামের তালিকা যাদের হত্যা করা আবশ্যক ছিলো। এদেরকে কোনোক্রমেই ক্ষমা করা হয়নি। এদের কাউকে কা’বার গিলাফ ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে সেখানেই তাদেরকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। দুনিয়ার সবচাইতে পবিত্র স্থান হচ্ছে মক্কা এবং মক্কার মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র ছিলো আল-হারাম। আর কেউ যদি কা’বার গিলাফ ধরে ঝুলে থাকতো তাহলে তাকে ছেড়ে দেয়া হতো। এটি ছিলো জাহেলিয়াতের সময় থেকেই। মুশরিকীনদের প্রচলিত আইন। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন কিছু লোকদের ব্যাপারে বললেন,

পৃষ্ঠা:২০

فاقتلواهم وإن كانوا معلقين على أستار الكعب অর্থ: “তাদেরকে হত্যা করো, যদি তারা কা’বার গিলাফ ধরে ঝুলে থাকে। তবুও।এরা কারা ছিলো?এই তালিকার মধ্যে কিছু নাম ছিলো যার মধ্যে ছিলো আব্দুল্লাহ ইবনে খাতাল নামে এক লোক এবং তার দুই ক্রীতদাসী এবং আবু লাহাবের ক্রীতদাসী সারা।এদের অপরাধ কি ছিলো?আব্দুল্লাহ ইবনে খাতাল এবং তার দুই মেয়ে ক্রীতদাসী আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে গান গাইতো। তারা আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে গান গেয়ে মক্কায় কনসার্ট করতো। আবু লাহাবের স্বত্বাধীন একটি মেয়ে ক্রীতদাসীর সাথে এই দুটো মেয়েও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলো।প্রথমে আব্দুল্লাহ ইবনে খাতালের কথাই বলা যাক।সে প্রকৃতই কা’বার গিলাফ ধরে ঝুলে ছিলো। একজন সাহাবী তার দিকে ছুটে গিয়ে তাকে হত্যা করেন! আসুন মেয়ে ক্রীতদাসীগুলোর কৌতূহল উদ্দীপক ঘটনাটা আমরা পর্যালোচনা করি।প্রিয় ভাই ও বোনেরা!প্রথমত: আপানারা জানেন যে, ইসলামে সাধারণভাবে নারীদেরকে হত্যা করার অনুমতি নেই। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন অথচ এদেরকে, বিশেষভাবে এই তালিকায় থাকা নারীদেরকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: আমরা জানি যে, নারীরা যদি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করে, তাহলে তাদেরকে হত্যা করা যায়। কিন্তু এই নারীরা তো যুদ্ধ।

পৃষ্ঠা ২১ থেকে ৪০

পৃষ্ঠা:২১

করেছিলো না এবং কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণও করেনি। বরং তারা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করার মতো পরিস্থিতির মধ্যে ছিলো!তৃতীয়ত: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে আলাদা করে মক্কার সবাইকে শান্তি এবং নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। এবং এর সাথে এও যোগ করুন যে, এরা স্বাধীন নারী ছিলো না বরং ছিলো ক্রীতদাস। আর ইসলামে শাস্তির বিধানের ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাধীনতার একটি। প্রভাব আছে। যেহেতু, ক্রীতদাসদের কোন ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই, সেহেতু তাদের শাস্তিও কম হয়। এই নারীদের আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধের গান গাওয়া বা না গাওয়ার স্বাধীনতা ছিলো না। কিন্তু আবু লাহাব এবং আব্দুল্লাহ বিন খাতাল, তাদের মনিব, তাদের এই কাজটি করতে আদেশ দিয়েছে, কিন্তু তারপরও তাদের আলাদা করা হয়েছে এবং হত্যা করতে বলা হয়েছে।ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ, এই বিষয়ে বলেন, এটি পরিস্কার এবং মজবুত প্রমাণ যে, সবচেয়ে বড়ো অপরাধ হচ্ছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কটাক্ষ করা। কারণ, উপরোক্ত এই বিষয়গুলো অর্থাৎ মক্কার সকল লোকদেরকে নিরাপত্তা দেয়া, তাদের নারী হওয়া, প্রকৃতভাবেই তাদের কোন যুদ্ধও না করা এবং তাদের ক্রীতদাসী হওয়ার পরও তাদের আলাদা করা হয়েছিলো সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য! এটিই প্রমাণ করে যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননা একটি বিরাট অপরাধ।এদের পরে কালো তালিকায় ছিলো আরেকটি লোক। যার নাম ছিলো আল হুয়াইরিদ বিন লুকাইদ। সেও তার সাহিত্য ও ভাষার মাধ্যমে নিজ মুখ দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আঘাত করতো। সে তার বাসায় লুকিয়ে ছিলো। আলী ইবনে আবী তালিব রা. তার বাসায় এসে তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁকে জানানো হলো যে, সে সেখানে নেই এবং মক্কার বাহিরে বাদীআয় চলে গেছে। একথা শুনে আলী। রা, সেখান থেকে চলে যাওয়ার ভান করলেন। আলী রা. বাসার পিছনে। গিয়ে লুকিয়ে রইলেন।

পৃষ্ঠা:২২

এরপর হুওয়ারিদকে তারা জানালো যে, আলী ইবনে আবী তালিব তাকে। খুঁজতে এসেছিলো। যখন হুওয়ারিদ বাসা থেকে বের হয়ে আরেক জায়গায়। পালাতে যাচ্ছিলো, আলী রাজিয়াল্লাহু আনহু তখন সামনে এসে তাকে হত্যা করে ফেললেন।’আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে কা’ব ইবনে জুহাইর। সেও ছিলো একজন কবি। তার ভাইও ছিলো কবি এবং তার বাবা জুহাইর বিন আবী সালমা ছিলো শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। আরবরা শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোকে কা’বায় ঝুলানোর মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন করতো। এটি ছিলো এই কাজের সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। জুহাইর বিন আবী সালমা ছিলেন এমন একজন যার কবিতা কা’বায় ঝুলানো ছিলো। তার পুত্র কা’ব এবং বুজায়ের দুজনেই ছিলো কবি। কিন্তু বুজায়ের ছিলো মুসলিম আর কা’ব ছিলো অমুসলিম।কা’ব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে কবিতা রচনা করতো। তাই যখন মুসলিমরা মক্কায় প্রবেশ করলেন, বুজায়ের তার ভাইকে একটি চিঠি লিখে জানালো যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় সেই সব লোকদের হত্যা করছেন যারা তার বিরুদ্ধে। কবিতা রচনা করতো। কা’ব সে সময় মক্কায় ছিলো না কিন্তু তার ভাই। আগে থেকেই সাবধান করে দিয়ে তাকে একটি চিঠি পাঠিয়ে দিলো। যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সব লোকদের হত্যা করছেন যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলো।এছাড়াও আব্দুল্লাহ ইবনে জাবারিয়া এবং মুগীরাহ ইবনে আবী ওয়াহাব এর মতো লোকদেরকেও হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। এদের যারা বাকী ছিলো তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছে।কারণ রাসূলুল্লাহ আদেশ করেছেন এমন সবাইকে হত্যা করতে যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছে।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন ক্ষমাশীল এবং তিনি তাঁর শত্রুদের ক্ষমা করতেন। কিন্তু এই বিশেষ অপরাধের ক্ষেত্রে নয়। এক্ষেত্রে ক্ষমা না করা এই অপরাধের ভয়াবহতার প্রমাণ বহন করে।

পৃষ্ঠা:২৩

উকবা ইবনে আবী মুয়িদ এবং নাদার ইবনে আবী হারিছের হত্যার ঘটনা:

এরপর আমাদের আছে উকবা ইবনে আবী মুয়িদ এবং নাদার ইবনে আবী হারিছের ঘটনা। বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের কাফিরদের মধ্যে সত্তর জন যুদ্ধবন্দী ছিলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে উপস্থিত করতে। বললেন যাতে তিনি একে একে প্রত্যেককে দেখতে পারেন।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাদার ইবনে হারিছের দিকে তাকিয়েছিলেন। নাদার ইবনে আবী হারিছ আল্লাহর রাসূলের চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু দেখতে পেলো। সে তার পাশের লোকটিকে বললো, “শোন, আমাকে হত্যা করা হবে। আমি আল্লাহর রাসূলের চোখে আমার মৃত্যু দেখতে পাচ্ছি!”লোকটি তাকে বললো, “না, তুমি বাড়িয়ে বলছো। তুমি খুব বেশী ভয়। পাচ্ছো। তুমি আতঙ্কগ্রস্থ।”সে বললো, “না। আমি বলছি তোমাকে। আমি আল্লাহর রাসূলের চোখে মৃত্যু দেখেছি।”এরপর নাদার ইবনে হারিছ তার আত্মীয় মুসআব ইবনে উমায়েরকে ডেকে বললো, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যাও এবং বলো তিনি যেন আমার সাথে অন্য সময়ের মতো আচরণ করেন, আমার লোকদের মতো আমার সাথে আচরণ করেন। তিনি যদি তাদেরকে। হত্যা করেন, তাহলে যেনো আামাকেও হত্যা করেন, তিনি যদি তাদের ক্ষমা করেন তাহলে আমাকেও যেন ক্ষমা করেন!”মুসআব ইবনে উমায়ের তাকে বললেন, “তুমি সেই যে আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে কথা বলেছো এবং আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধে কথা বলেছো।” 1নাদার বিন হারিছ ছিল সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর রাসূলের সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য তার পাশে হালাকা করতো। সে পারস্যে গিয়েছিলো অলিক।

পৃষ্ঠা:২৪

কল্প-কাহিনী শিখে আসতে। ফিরে এসে কাফিরদের বলতো যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের যে কাহিনী বলছে। তার চেয়ে ভালো কাহিনী আছে আমার কাছে। আসো, এবার আমার কাছ থেকে শোনো।সে তাকে বললো, “মুসআব অনুগ্রহ করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কথা বলো।”তিনি বললেন, “তুমি কি সেই না যে আল্লাহর রাসূলের সঙ্গীদের নির্যাতন করতে!”আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাদার বিন হারিছকে ধরে আনতে বললেন এবং আলী রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন তাকে হত্যা করতে। তাকে আলাদা করে রাখা হয়েছিলো!সে সময় তাঁরা মদীনায় ফিরে যাচ্ছিলেন। যখন তারা একটি বিশেষ এলাকায় পৌঁছলেন তখন তিনি নাদার ইবন হারিছকে হত্যা করলেন। আর কিছুদূর যাওয়ার পরেই আদেশ করলেন, যে উকবা ইবন আবী মুয়িদকে হত্যা করা হোক।উকবা বললো, অভিশাপ আমার উপর! আমাকে কেন হত্যা করার জন্য আলাদা করা হচ্ছে। আমার সাথে সব লোকেরাই তোমার শত্রু। সবাই তোমার সাথে যুদ্ধ করেছে, সবাই তোমার সাথে লড়াই করেছে, সবাই আমার গোত্র কুরাইশ থেকে, আমাকে কেন আলাদা করে দেখছো? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, العداوتك الله ورسوله অর্থ: “এর কারণ হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে তোমার বিদ্বেষ।”সে বললো, “হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমার সাথে আমার লোকদের মত আচরণ করো। তাদেরকে যদি হত্যা করো তবে আমাকেও হত্যা করো। তাদেরকে মুক্তি দিলে আমাকেও মুক্তি দাও তাদের থেকে যদি মুক্তিপণ নাও তাহলে আমার থেকেও যা চাও নাও!”

পৃষ্ঠা:২৫

আর তারপর সে বললো, “হে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার সন্তানদের কে দেখবে?” আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “জাহান্নামের আগুন! ও আসিব, একে নিয়ে যাও এবং এর গর্দানটা উড়িয়ে দাও।”এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, بتس الرجل كنت والله ما علمت كافرا بالله وبكتابه وبرسوله مؤذيا لنبيه. فأحمد الله الذي هو قتلك وأقر عينى منك. :অর্থ: “কত খারাপ লোক তুমি। আমি তোমার মতো কোন লোককে চিনি না যে আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলের উপর অবিশ্বাস করেছো তুমি আল্লাহর নবীর অবমাননা করেছো, তাই আমি আল্লাহর প্রশংসা করি যিনি। তোমাকে হত্যা করেছেন এবং তোমাকে মরতে দেখে আমার চোখে তৃপ্তি দান করেছেন।”এটি খুবই পরিষ্কার যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই লোকগুলোর সাথে ভিন্ন আচরণ করেছিলেন।

পৃষ্ঠা:২৬

উন্মু ওয়ালাদ নামক এক দাসী হত্যার ঘটনা:

আরেকটি ঘটনা হচ্ছে, একজন অন্ধ সাহাবীর অধীনে একজন দাসী ছিল, দাসীটি ছিলো তাঁর ‘উন্মু ওয়ালাদ’। ‘উন্মু ওয়ালাদ’ বলা হয় এমন দাসীকে যে মনীবের বাচ্চা জন্ম দেয়। এ ধরণের দাসীকে ‘উম্মু ওয়ালাদ’ বা সন্তানের মাতা বলা হতো এবং তার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধি প্রযোজ্য হয়। এই ব্যক্তির উন্মু ওয়ালাদ থেকে দু’জন সন্তান হয়েছিলো। কিন্তু এই মহিলা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিতো এবং তাকে তিনি সাবধান করার পরেও সে বিরত হতো না। এক রাতে সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিয়েই যাচ্ছিলো। তখন তিনি একটি ছুরি নিয়ে তার পেটে বিদ্ধ করলেন এবং ভিতরে চাপ দিতে থাকলেন যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয়! সকালে আল্লাহর রাসূলের নিকট খবর পৌঁছল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনকে একত্র করে বললেন, আমি আল্লাহর নামে তোমাদের আদেশ করছি যে কাজটি করেছো উঠে দাঁড়াও। অন্ধ ব্যক্তিটি উঠে দাঁড়ালেন এবং হেটে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে এসে বসে পড়ে বললেন,”লোআল্লাহর রাসূল! আমিই সেই ব্যক্তি যে কাজটি করেছে। সে আপনাকে অস্তিশাপ দিতো এবং তাকে বিরত থাকার কথা বলার পরও সে বিরত হতো না। তার হতে আমার মুক্তার মতো সন্তান আছে এবং সে আমার প্রতি খুব সদয় ছিলো। কিন্তু গত রাতে সে আপনাকে অভিশাপ দিতে লাগলো। তাই আমি একটি ছুরি নিয়ে তাকে আঘাত করলাম এবং তাকে মেরে ফেললাম।”রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “জেনে রেখো যে তার রক্তের কোন মূল্য নেই।” অর্থাৎ, তার জন্য কোন ক্ষতিপূরণ নেই এবং যে তাকে হত্যা করেছে তারও কোন শাস্তি নেই।”

পৃষ্ঠা:২৭

আমি চাই আপনারা এই ব্যক্তির কথাগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। তার হতে ঐ সাহাবীর সন্তান ছিলো এবং তিনি তাদেরকে মুক্তা হিসেবে তুলনা করেছিলেন এবং তিনি বলেন, সে আমার সাথে খুব সদয় ছিলো। তিনি হচ্ছেন একজন অন্ধ ব্যক্তি যার এরকম সদয় নারীর প্রয়োজন ছিলো যে তাঁর সাথে প্রীতিকর ছিলো। কিন্তু যেহেতু আমাদের জন্য এটা আবশ্যক যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমাদের নিজেদের চাইতেও বেশী ভালোবাসতে হবে এবং নিজেদের পরিবারের চেয়েও রাসূলকে বেশী ভালোবাসতে হবে। আমাদের উচিত তাঁকে পৃথিবীর যে কোন কিছুর চেয়ে বেশী ভালোবাসা। তাই তাঁর জন্য যা করা উচিত ছিলো, তিনি তাই করেছিলেন!যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননার কোনো বিষয় আসবে, তখন মুসলিমদের রূপ এমনই হওয়া উচিত। উক্ত ঘটনার পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অনুমোদন দিয়ে বলেন, “জেনে রেখো, তার রক্তের কোন মূল্য নেই।”

পৃষ্ঠা:২৮

:আসমা বিনতে মারওয়ান নাম্নী এক মহিলাকে হত্যার ঘটনা

এরকম আরেকটি ঘটনা ঘটে যখন এক ব্যক্তি তার গোত্রের এক মহিলাকে। হত্যা করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলেন এই ব্যাপারে? তিনি কি তাকে শাস্তির আদেশ দেন? তিনি বলেন, لا ينتطح فيها خزان অর্থ: “দুটো ছাগলও এ নিয়ে ঝগড়া করবে না।”আল-ওয়াকিদী বর্ণিত একটি ঘটনা নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি। এই মহিলার নাম ছিলো আসমা বিনতে মারওয়ান। সে আনসারদের মধ্যে। একজন ভালো কবি ছিলো। কিন্তু সে আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে কথা বলতো এবং ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতো আর লোকদের মধ্যে ফিতনা। সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করতো। সে বলতো, “এই লোক আমাদের মধ্য থেকে নয়, এই লোক তো আমাদের গোত্রের নয়। তাহলে কেন আমরা তাকে আতিথ্য দিচ্ছি এবং নিজেদের উপর এই সকল বিপদ ডেকে আনছি, আমরা কেন তাকে আমাদের মাঝে থেকে নিরাপত্তা দিচ্ছি। তাকে বের করে দাও!”প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করে মদীনায় আসার ফলে আনসারদের অনেক কষ্ট এবং ত্যাগের সম্মুখীন হতে হয়েছিলো। অর্থনৈতিকভাবে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁদের মধ্যে অনেকে মারা ধান, তাঁদের শহর আক্রান্ত হয়। কিন্তু তাঁরা এইসব কষ্ট-যাতনা মেনে নিয়েছিলেন সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য। আর এজন্যই তাঁদেরকে বলা হয়। আনসার- যাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সহযোগিতা করেছিলেন, বিজয় এনে দিয়েছিলেন।তাঁর পরিবার থেকে উমায়েদ বিন আলী নামক এক অন্ধ ব্যক্তি বলেন, “আল্লাহর নামে আমি শপথ করছি, যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি

পৃষ্ঠা:২৯

ওয়া সাল্লাম যদি মদীনায় ফিরে আসেন আমি আসমা বিনতে মারওয়ানকে। হত্যা করবো।”রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে সময় বদরে ছিলেন। যখন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন, উমায়ের বিন আলী মধ্য রাতে সরাসরি আসমা বিনতে মারওয়ানের কক্ষে প্রবেশ করলেন।তাকে ঘিরে ছিলো তার সন্তানেরা এবং একজন তার বুকের দুধ পান করছিলো। তিনি হাতিয়ে দেখলেন যে সে এই বাচ্চাটিকে ধরে রেখেছে। তাই তিনি হাত দিয়ে বাচ্চাটিকে সরিয়ে তার পাশে রাখলেন এবং তার তালোয়ারটি আসমার বুকে বিদ্ধ করে দিলেন।এরপর তিনি ফযরের সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে আদায় করলেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত শেষ করলেন, তিনি উমায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি কি মারওয়ানের মেয়েকে হত্যা করেছো?” তিনি বললেন, “জি, আমি আমার বাবাকেও আপনার জন্য উৎসর্গ করে দেবো।”উমায়ের চিন্তিত ছিলেন যে তিনি ভুল কিছু করেছেন এবং তাঁর উচিত ছিলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুমতি নেয়া। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন ওয়ালিউল আমর। তাই তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি কি কোন তুল করেছি?আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বললেন? তিনি কি বললেন, “যে আমার অনুমতি নেয়া তোমার উচিত ছিলো?” না, বরং তিনি বললেন, “দুটো ছাগলও তাকে নিয়ে ঝগড়া করবে না।’ অর্থাৎ, এই বিষয়টি এত পরিস্কার যে, দু’টো ছাগলেরও এই বিষয়েও ভিন্নমত থাকতে পারে না। এমনকি, পশুদেরও এই বিষয়ে দ্বিমত থাকতে

পৃষ্ঠা:৩০

পারে না। সকল প্রশংসা আল্লাহর। অথচ এখন আমরা এই বিষয়ে ভিন্নমত। দেখতে পাই!আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে প্রাণীদেরও এই বিষয়ে বুঝা উচিত। এটি এত সহজ যে, দু’টো ছাগলও এই বিষয়ে ঝগড়া করবে না। তাহলে আজ এটা কিভাবে সম্ভব যে সমাজের বুদ্ধিজীবি। নামধারী লোকেরা এ ব্যাপারে বিরোধ করে?এরকম স্পষ্ট একটি বিষয় কিভাবে দ্বিমত থাকতে পারে? এটি এত সহজবোধ্য যে, আলিমগণের মধ্যে এই বিষয়ে ঐক্যমত্যও আছে। (ইনশাআল্লাহ যা সামনে আলোচনা করা হবে।)আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চারপাশের সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, إذا أحببتم أن تنظروا إلى رجل نصر الله ورسوله بالغيب فانظروا إلى عمير ابن على অর্থ: “তোমরা যদি এমন ব্যক্তিকে দেখতে চাও যে, আল্লাহ ও তার রাসূলকে সাহায্য করেছে এবং বিজয় এনে দিয়েছে, তাহলে উমায়ের ইবন। আলীকে দেখ।”উমর বিন খাত্তাব রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “দেখো এই অন্ধ ব্যক্তিকে যে রাতের বেলায় বেরিয়ে ছিলো সর্বশক্তিমান আল্লাহর আনুগত্য পালনার্থে।” আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, لا تقل الأعمى ولاكنه البصير. অর্থ: “তাকে অন্ধ ডেকো না। কারণ সে একজন স্পষ্ট অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী।”*উমায়ের ফিরে গিয়ে পেলেন যে মহিলার গোত্রের কিছু লোক এবং সন্তানরা তাকে কবর দিচ্ছে। তারা তার কাছে এসে হুমকি দিয়ে বললো, “ও উমায়ের! তুমিই সেই যে তাকে হত্যা করেছো!

পৃষ্ঠা:৩১

আমরা আওস এবং খাজরাজের লোকদের কথা বলছি যারা জন্ম নিয়েছে। যুদ্ধে, এরা ছিলো যোদ্ধা!”তিনি বললেন, “হ্যা, আমি তোমাদের সবাইকে আহবান করছি একত্রিত হয়ে আসো। যদি তোমাদের মধ্যে একজনও তার মতো আচরণ করো, আমি তোমাদের সবাইর বিরুদ্ধে লড়বো, যতক্ষণ না তোমাদের সবাইকে হত্যা করছি অথবা নিজে মারা যাচ্ছি।”এই চ্যালেঞ্জের ফল কি ছিলো, এটা কি তাদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে নিলো? কারণ, এটি ছিলো ঠিক আল্লাহর রসূলের হিজরতের কিছু দিনের মধ্যে বদর যুদ্ধের ঠিক পরপর সংগঠিত ঘটনা। সকল আনসাররা তখনও মুসলিম হননি। এরকম কিছু হয়তো মানুষকে ইসলামকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারতো। এই লোকটি তাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছিলো। যে, তোমাদের মধ্যে কেউ আমার বিরোধীতা করলে সবাইকে হত্যা করবো।কিন্তু আল-ওয়াকিদীর মতে, আসলে যা ঘটল সেটি হচ্ছে এই সময়টিতেই ইসলামের বিস্তার ঘটল। কারণ, যে সকল মুসলিম লোকদের ভয়ে পরিচয়। লুকিয়ে রেখেছিলো, ইসলামের শক্তি দেখে তাঁরা বেরিয়ে আসতে শুরু করলেন।তাহলে আমরা এই ঘটনা এবং পূর্ববর্তী ঘটনা থেকে কি শিখলাম? এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজকে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে যে, শাসকের অনুমতি নিতে হবে।আমি আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখছি, কেউ আপনার বাসা আক্রমণ করল। এবং আপনাকে হত্যা করতে চাইল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই বিষয়ে কি বলেন?”যে নিজের সম্পদ রক্ষার্থে জীবন দেয় সে শহীদ, যে আত্মরক্ষা করতে। মারা যায় সে শহীদ, এবং যে ঈমান রক্ষার্থে মারা যায় সে শহীদ, যে তার পরিবার রক্ষা করতে মারা যায় সে শহীদ।” ১

পৃষ্ঠা:৩২

আমি নিশ্চিত আপনারা সবাই এই হাদীসটি জানেন! এখন কেউ আপনার ঘরে এসে আপনাকে আক্রমণ করলো আর আপনার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে। আপনাকে হত্যা করার চেষ্টা করছে এবং আপনি প্রতিহত করতে চান, আপনার কি শাসকের অনুমতি নিতে হবে? এই বিষয়ে ইসলামিক বিধান। খুব স্পষ্ট!লোকটি আপনার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আছে আর আপনি ফোন উঠিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস কিংবা রাজার কাছে ফোন করছেন এবং অনেকগুলো সেক্রেটারী আর অনেক লাল ফিতা পার হয়ে যখন আপনি। তার কাছে পৌঁছলেন, আপনি তাকে জিজ্ঞেস করছেন, আমাকে কেউ হত্যা করার চেষ্টা করছে। অনুগ্রহ করে একটু জানাবেন, আমি কি নিজেকে হিফাজত করতে পারি?এর কি অর্থ হয়? তাই আপনার যদি ইমামের অনুমতি না লাগে নিজের আত্মরক্ষার জন্য, তাহলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মান রক্ষার্থে আপনার ইমামের অনুমতি নেয়া লাগবে কেনো?যে লোকটি বনী খাতমার নারীকে হত্যা করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি কি তাঁর অনুমতি নিয়েছিলেন?না, তিনি নেননি এবং যে অন্ধ ব্যক্তি তাঁর সন্তানের মাকে হত্যা করেন, তিনি কি এজন্য পূর্বে আল্লাহর রাসূলের অনুমতি নিয়ে রেখেছিলেন? না, তিনি নেননি।তাঁরা করেছিলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের কর্মের অনুমোদন দিয়েছিলেন এই বলে যে, “দুটো ছাগলও এই বিষয়ে ঝগড়া করবে না।”আমাদের জেনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর রাসূলের সম্মান ইমামের অনুমতি নেয়ার বিষয়ের উর্দ্ধে!কে সে ইমাম যে আপনাকে আল্লাহর রাসূল এর সম্মান রক্ষার অনুমতি। দেবে? এটি যে কোন শাসকের মর্যাদার চেয়েও অনেক উঁচুতে! ভাই ও বোনেরা। খেয়াল রাখুন আমরা কার বিষয়ে কথা বলছি!

পৃষ্ঠা:৩৩

আমরা কথা বলছি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মান রক্ষার্থে আপনার কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই! তিনি এই সবের অনেক উর্দ্ধে।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন তিনি, যাঁর উপর আল্লাহ এবং তাঁর ফিরিশতাগণ এবং ঈমানদারগণ দু’আ পড়েন!প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন একমাত্র সেই একক ব্যক্তি। যাঁর জন কিছু বিশেষ আহকাম আছে। তাঁর ব্যাপারে আচরণ হবে ভিন্ন এটাই স্বাভাবিক। অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনের অনেক কিছুই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর প্রযোজ্য নয়। এটি এমন একটি বিষয় যা সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করা দরকার।

পৃষ্ঠা:৩৪

বনু বকর গোত্রের এক কবি হত্যার ঘটনা:

এবার আসা যাক বানু বকর গোত্রের এক কবির ঘটনায়। বনু বকর ছিলো কুরাইশের মিত্র। অপরদিকে, খুজায়া নামে মুশরিকদের এক গোত্র যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে মৈত্রি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল।হুদায়বিয়ার সন্ধিতে খুজায়া গোত্র আল্লাহর রাসূল এর সাথে জোটবদ্ধ হল আর বনু বকর কুরাইশদের সাথে গেল। বনু বকর গোত্রের মধ্যে এক কবি ছিলো যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে কথা বলতো। খুজায়া গোত্রের এক যুবক একদা বনু বকর গোত্রের সেই কবিকে আঘাত করলো। যার ফলে সে ব্যাথা পেলো কিন্তু মারা গেলো না। বনু বকরের একটি প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে গিয়ে এই ঘটনা তাকে অবহিত করলো। তিনি বললেন, তার রক্ত প্রবাহিত হয়েছে, তাকে হত্যা করো।পরবর্তীতে মক্কা বিজয়ের সময়ে বনু বকর ইসলাম গ্রহণ করে এবং তাদের মধ্য থেকে নাওফেল বিন মুওয়াবিয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সেই কবির ব্যাপারে সুপারিশ করতে আসে।

কে ছিল এই নাওফেল বিন মুওয়াবিয়া?

নাওফেল বিন মুওয়াবিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে মসজিদুল হারাম এর মধ্যে খুজায়াহ গোত্রের লোকদেরকে হত্যা করে, অথচ তাকে তার কাফির সাথী ও সহচর অনুসারীরাও এ ব্যাপারে নিষেধ করেছিলো। বলেছিলো, “এই পবিত্র জায়গার মধ্যে হত্যাযজ্ঞ চালানোর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।” তখন সে বলেছিল, “আজ কোন প্রভু নেই, আজ শুধু প্রতিশোধের দিন, আজ আল্লাহকে ভুলে যাও, আজ শুধু প্রতিশোধ নাও।”এই নাওফেল বিন মুওয়াবিয়া যে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং তাঁর মিত্র খুজায়াহ গোত্রের

পৃষ্ঠা:৩৫

লোকদেরকে হত্যা করেছিল, অথচ সে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সেই কবির ব্যাপারে সুপারিশ করতে। কার অপরাধটি বেশি বড় ছিল নাওফেল বিন মুওয়াবিয়া নাকি সেই কবির অপরাধ? নাওফেল বিন মুওয়াবিয়া কি বিপর্যয় সৃষ্টি করেনি? তারপরেও তিনি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ক্ষমা করেছিলেন।সে এসে সেই কবির বিষয়ে সুপারিশ করে বলেছিল, “হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুজায়াহ গোত্রের লোকেরা বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করেছে, সে এখন মুসলিম হতে চায় এবং তওবা করতে চায়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার তওবা কবুল করলেন।এতক্ষণ আমি আপনাদের সামনে ইসলামের প্রথম যুগের ঘটনাগুলো উল্লেখ করলাম। এখন চলুন আমরা দেখি আলিমগণ এ সংক্রান্ত বিষয়াবলীর ব্যাপারে কি বলেছেন এবং তাদের অভিমত কি ছিল:

আলিমগণের মতামত

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এ ব্যাপারে আমি আপনাদের সামনে খুবই সংক্ষিপ্তাকারে আলিমদের মতামত তুলে ধরছি। কিন্তু দুটো কিতাব আছে যেখানে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা হয়েছে। যদি কেউ আরো বিশেষ কিছু জানতে চান, তাহলে আমি আপনাদের সেই কিতাব দুটো পড়ার অনুরোধ করবো।প্রথম কিতাবটি হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে নিন্দা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এবংকিতাবটি হলো শাইখুল হাদীস ইমাম ইবন তাইমিয়্যা রহ, এর লেখা “আস সারিমিল মাসলুল আলা শাতিমির রাসূল” বা “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননাকারীর উপর তালোয়ার।”আরেকটি কিতাব হল “আশ শিফা ফি আহওয়াল আল মুস্তাফা” যার রচয়িতা কাদী ই’য়াদ একজন মালিকি শাইখ। কিতাবটিতে সাধারণভাবে

পৃষ্ঠা:৩৬

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা বলা হয়েছে কিন্তু শেষ পর্বে এসে বিশেষভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদকারীর কথা বলা হয়েছে। আমরা ইবনে তাইমিয়্যার কথা দিয়েই শুরু করছি।ইবনে তাইমিয়্যাহ, রহ, বলেন: “যে কেউ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দিবে- সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম হোক, তাকে হত্যা করতে হবে।”তিনি আরো বলেন: “এই রায়ের বিষয়ে সকল আলিমগণের মধ্যে ইজমা। (ঐক্যমত) রয়েছে।”ইবনে মুনজির রহ, বলেন, “এই ব্যাপারে আমাদের আলিমগণ ঐকমত যে, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিবে, তাকে মৃত্যু দন্ডাদেশ দেয়া হবে।”এবং এটা মালিক, আল লাইস, আহমাদ, ইসহাক, শা’ফি এবং নু’মান ইবনে হানিফা রহ, এরও মত।ইমাম আবু হানিফা রহ, এর মতামত হচ্ছে, “যে মুসলিম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে কথা বলবে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। এবং সে অমুসলিম যার সাথে কোন চুক্তি নেই, তাকেও একইভাবে দন্ডাদেশ দেয়া হবে।”তিনি শুধুমাত্র জিম্মিদের এই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন অমুসলিম কিন্তু জিম্মি যে জিযিয়া কর দেয়। এদের ব্যাপারে আবু হানিফার মতামত হচ্ছে যে, তারা কাফির, তাদের শুরুটাই হচ্ছে কুফরী দিয়ে, সুতরাং এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কি হতে পারে?সুতরাং মুসলিম এবং মুহারিবের পরিস্থিতিতে সবধরনের আলিমগণ একমত, শুধুমাত্র একটি ভিন্নমত আছে এবং তাও জিম্মিদের ক্ষেত্রে একটি ছোট মতামত।এরপর ইবনে তাইমিয়্যাহ জিম্মিদের বিষয়ে আরো বিস্তারিত বলেছেন যে, “একজন জিম্মি যে জিযিয়া দিয়ে থাকে যখন সে রাসূল সাল্লাল্লাফ

পৃষ্ঠা:৩৭

আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে কথা বলে থাকে, তার অঙ্গীকারনামা বাতিল হয়ে যায় এবং তাকেও মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া উচিত।”কাজী ই’য়াজ রহ, ‘আশ শিফা’ নামক কিতাবে বলেন, “যে কেউ এমন কোন কথা বলল যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিন্দা করে বলা হয়, কোন ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই তার মৃত্যু দন্ডাদেশ দেয়া হবে।”

ইবন আতাব রহ. বলেন, “কোরআন এবং সুন্নাহ এই ব্যাপারে ইঙ্গিত দেয় যে, যে কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ক্ষতি করার চেষ্টা করে অথবা তাঁর নিন্দা করে, তাকে হত্যা করা উচিত এমনকি যদি এটা একটা ক্ষুদ্র বিষয়ও হয়ে থাকে।”ইমাম মালিক রহ. বলেন, “যদি কেউ বলে থাকে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামার বোতামটাও ময়লা, তাহলে তাকেও মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া উচিত।”এমনকি যদি এটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোন কথা বলার মত হয়, তারপরও তাকে দন্ডাদেশ দেয়া উচিত।এরপর কাজী ইয়াজ বলেন, “আমরা এছাড়া আর কোন ভিন্ন মতামত জানি না, এই ব্যাপারে সবাই একমত এবং আর কোন ভিন্ন মতামত আমাদের জানা নেই।”প্রিয় তাই ও বোনেরা।আপনাদের মধ্যে যারা ‘উসুলুল ফিকহ’ কিতাবটি পড়েছেন, তারা বুঝতে পারছেন যে, ইজমা হচ্ছে হজ্জাহ যখন আলিমগণ কোন একটা ব্যাপারে -একমত পোষণ করেন তখন সেটির আবশ্যকীয়তা- ঠিক কোরআন ও সুন্নাহ এর মতো, কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, لا تجتمع امنى على الضلالة. :অর্থ: “আমার উম্মাহ কোন একটি ভুল বিষয়ের উপর একমত হতে পারে না।” (মুসনাদে আহমাদ)”

পৃষ্ঠা:৩৮

ইমাম মালিক রহ, বলেন, “মুসলিম হোক আর কাফির হোক, কোন তফাত নেই (যে আল্লাহর রাসূললকে গালি দিবে অথবা নিন্দা করবে) তাকে কোন সতর্কতা ছাড়াই হত্যা করতে হবে।”আল ওয়াকিদী রহ, একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন: খলিফা হারুন আর রাশিদ ইমাম মালিককে একটি লোকের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে নাকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। আর রাশিদ ইমাম মালিককে বলেন যে, “ইরাকের ফুকাহারা এর ব্যাপারে একটা ফাতোয়া দিয়েছেন যে, একে চাবুক দিয়ে প্রহার করতে হবে।” ইমাম মালিক রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, “হে আমিরুল মু’মিনীন। কিভাবে উম্মাহ টিকে থাকতে পারে, যখন তাঁর নবীকে অভিশাপ দেয়া হয়। যে নবীকে অভিশাপ দেয়, তাকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিতে হবে এবং যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবাদের অভিশাপ দিবে, তাকে চাবুক দিয়ে প্রহার করতে হবে।”এই ধরণের পরিস্থিতিতে এটাই ছিল ইমাম মালিকের প্রতিক্রিয়া। যখন তিনি এটা শুনলেন তখন যারা এই ধরনের ভুল ও মিথ্যে ফাতাওয়া দিয়েছিল এমন তথাকথিত ফুকাহাদের উপর খুবই রাগান্বিত হলেন। তিনি বলেন যে, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে এবং সাহাবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। যদি তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে কথা বলো, তাহলে তোমার মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত প্রাণদন্ডাদেশ দেয়া হবে। আর যদি তুমি সাহাবাদের বিরুদ্ধে কথা বলো তাহলে তোমাকে চাবুক দিয়ে প্রহার করা হবে।”এখন আমরা আল কাজী ই’য়াজ রহ, এর মতামতগুলো শুনবোঃ কাজী ইয়াজ রহ. বলেন, “এই ঘটনাটি ইমাম মালিকের একজন ঘনিষ্ঠ সার্থ আমাদের নিকট বলেছিল এবং যিনি কিতাবটি তাঁর সম্পর্কে লিখেছিলেন।” এরপর তিনি বলেন, “ইরাকের এই সব আলিমরা কারা এবং কারা এই সব ফাতাওয়া দিয়েছিল এই সম্পর্কে আমার নিকট কোন তথ্য প্রমাণ নেই এব

পৃষ্ঠা:৩৯

আমরা ইতিমধ্যে ইরাকের আলিমদের মতামত উল্লেখ করেছি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননাকারীকে প্রাণদন্ডাদেশ দিতে হবে।”এরপর তিনি বক্তব্যের সত্যতা প্রতিপাদন করেন, “সম্ভবত তারা ছিলেন। এমন সব আলিম যারা তখনোও আলিম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেননি, অথবা তারা ছিলেন এমন যাদের ফাতাওয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ছিলো না, অথবা তারা ছিলো এমন যারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতো। অথবা সম্ভবত: যে লোকটি সম্পর্কে বলা হচ্ছে সে হয়তো অভিশাপ দেয়নি (এই ব্যাপারে একটা ভিন্নমত আছে যে, এটা কি অভিশাপ ছিলো কি না কিছু বিষয় ছিলো অস্পষ্ট কারণ খলিফা ইমামের নিকট তা খোলাখুলি ব্যক্ত করেননি) অথবা এমন হতে পারে যে লোকটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিয়েছিলো এবং পরে তাওবা করেছে। কারণ এই ব্যাপারে সব আলিমদের মধ্যে ইজমা রয়েছে যে, যদি কেউ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দেয়, তাহলে তাকে হত্যা করতে হবে।” প্রিয় ভাই ও বোনেরা।এই ঘটনাটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং অদ্ভুত কিছু ফাতাওয়ার সম্মুখীন হয়েছি। এটা সত্যিই মজার ব্যাপার যে, কিভাবে কতিপয় লোক আল্লাহর শত্রুদের খুশি করার নিমিত্তে নিজেরাই নিজেদের উপর লুটিয়ে পড়ে।মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা বলেন, فتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ تخشى أن تصيبنا دائرة অর্থ: “অতঃপর যাদের অন্তরে মোনাফিকীর ব্যাধি রয়েছে তাদের তুমি দেখবে যে, তারা বিশেষ তৎপরতার সাথে এই বলে তাদের সাথে মিলিত হচ্ছে যে, আমাদের আশংকা হচ্ছে যে, কোন বিপর্যয় এসে আমাদের উপর আপতিত হবে।” (সূরা মায়িদা, আয়াত ৫২)

পৃষ্ঠা:৪০

তারা মুনাফিক এবং তাদের অন্তরে রোগ রয়েছে। তারা এই ভয়ে আছে যে, যদি তারা কথা বলে তাহলে তাদের উপর একটি বিপর্যয় আপতিত হবে, কারণ তারা আল্লাহকে ভয় করার চেয়ে আল্লাহর শত্রুদেরই বেশী ভয় করে।প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননার ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের মুসলিমরা স্বতস্ফুর্তভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাল। কারণ তারা যা শুনেছে তাতে তারা যথেষ্টই ক্ষুব্ধ ছিল! এই সরলমনা মুসলিমদের অন্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ভালোবাসা বিদ্যমান আছে- এটাই তাদের ফিতরাহ।রাসূলের অবমাননার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসা উত্তাল জনতা আর তরুণ যুবকরা সকলে আলেম ছিলেন না, সকলে অতো জ্ঞানী পন্ডিতও ছিলেন না, কিন্তু তদুপরি তাঁরা যেহেতু মুসলিম ছিলেন, এমন মুসলিম যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসে। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা বিদ্রোহী হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। এখন আমরা এই বিদ্রোহের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতেও পারতাম অথবা নাও করতে পারতাম, অথবা আমরা এর সুফল এবং এর পরিণতি কোথায় যাবে অথবা আদৌ এটা আমাদের জন্য উপকারী কিনা তা নিয়ে বিতর্কও করতে পারতাম। কিন্তু যে বিষয়টির প্রতি আমাদের খেয়াল রাখা দরকার। তা হলো মুসলিমদের মধ্যে সেই আবেগ আর উদ্দীপনা যা তাঁদেরকে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে তাড়িত করেছিল, এটা তাঁদের ফিতরাহ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা। তাঁরা পতাকা পুড়িয়েছিল এবং স্বল্প পরিসরে হলেও অনেক কিছুই করেছিল।বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতির এই সন্ধিক্ষণে ঐসকল আলিমগণ, এক্ষেত্রে জনগণের দায়িত্ব এবং ইসলামিক শারীআর হুকুম আইন। তাদের নিকট সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন নি। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা বলেনঃ التبينته للنَّاسِ وَلا تَكْتُمُونه অর্থ: “তোমরা একে মানুষের নিকট প্রকাশ করবে এবং তোমরা একে গোপন করবে না।” (সরা ইমরান আয়াত ১৮৭)

পৃষ্ঠা ৪১ থেকে ৫০

পৃষ্ঠা:৪১

অর্থাৎ আলিমদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষণের নিকট সুস্পষ্টত্রণে প্রকাশ করা এবং গোপন না করা। প্রকৃত অর্থে, তারা মানুষদের আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে না বলে বরং তাদের দ্বিধায় ফেলে দিচ্ছে, তারা তাঁদেরকে বিদ্রোহের জন্য নিন্দা করেছে, তারা তাঁদেরকে পতাকা পোড়ানোর জন্য নিন্দা করছে, তারা তাঁদেরকে রাস্তায় বের হয়ে পড়ার জন্য নিন্দা করছে এবং তাদের কেউ কেউ উম্মাহর এই সকল প্রতিবাদীদের ড্যানিশ পণ্য বর্জনের বিষয়টিকেও নিন্দা করছে। কারণ তাদের অভিমত হচ্ছে, “এটা তাদের (কাফিরদের) এবং আমাদের (মুসলিমদের) মাঝে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য সহায়ক নয় এবং আমাদের তাদের সাথে সম্পর্কের এবং শূন্যতা পূরণের সেতুবন্ধন তৈরি করা উচিত” এবং এজাতীয় আরো কিছু প্রলাপ বাক্যের মাধ্যমে উম্মাহকে বিভ্রান্ত করছে!কোথায় সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার হুকুম? এটাকি মানুষের নিকট স্পষ্টরূপে প্রকাশিত হয়নি? যদি আপনি সত্যকে বলতে না পারেন তাহলে আপনি নিশ্চুপ থাকুন! এজন্যই রাসূল সা. বলেছেন, من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيرا أو ليصمت অর্থ: “যে আল্লাহ এবং শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস করে তার উচিত সে হয়তো ভালো কথা বলবে অথবা চুপ থাকবে।” (আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, বুখারী এবং মুসলিমে উদ্ধৃত)আপনি দেখবেন এমন সব লোক যারা আলিমের ছদ্মবেশ ধারণ করেজনগণকে প্রতারিত করছে আর বলছে তোমাদের এটা করা উচিত না, ওটা করা উচিত না এবং মানুষ যা করছে তারা তার নিন্দা করছে। তারা এমন আর কিই বা করেছিল? জনগণ কেবলমাত্র বিদ্রোহে ফেটে পড়েছিল এবং তারা ড্যানিশ পণ্য বয়কট করতে চেয়েছিল। আমার দৃষ্টিতে এগুলো তো খুবই সাধারণ প্রতিক্রিয়া মাত্র। এগুলো সেই সব জিনিস যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারীদের চেয়ে গান্ধীর অনুসারীরাই অনেক বেশি করে থাকে। তাদের জন্য এটা অনেক বেশী মানানসইও বটে।

পৃষ্ঠা:৪২

অথচ আমরা তো সেই নবীর উম্মত, যিনি বলেছেন, أنا نبي الرحمة وأنا نبي الملحمة. অর্থ: “আমি হচ্ছি দয়ার নবী এবং আমি হচ্ছি যুদ্ধের নবী!” [বুখারীর ইমাম অধ্যায় -২, পৃষ্ঠা ৩২২। তিরমিযী অধ্যায় ৩, পৃষ্ঠা ১৫২ নাওয়াদিরুল উসূল ফি আহাদীসির রাসূল] এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, بعثت بالسيف بين يدى الساعة حتى يعبد الله وحده অর্থ: “আমি বিচার দিবসের পূর্বে তালোয়ারসহ প্রেরিত হয়েছি শুধুমাত্র এই কারণে যতক্ষণ না মানুষ এক আল্লাহর আনুগত্য মেনে না নিবে।” ইবনে উমার হতে বর্ণিত, মুসনাদে আহমাদ (৯২/২) এবং সহীহ আল-জামি ২৮৩১) أمرت أن أقاتل الناس অর্থ: “আমাকে লোকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদেশ করা হয়েছে। [ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত, বুখারী (ফাতহুল বারী, কিতাব আল ঈমান) তিনি কুরাইশের লোকদের বললেন, جنتكم بذبح অর্থ: “আমি তোমাদের জবাই করার জন্য এসেছি।” (আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. কর্তৃক বর্ণিত, মুসনাদে আহমাদ এর ২১৮/২(৭০৩৬)আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারী। আমরা গান্ধীর অনুসারী নই! আমাদের জানা উচিত যে আমরা কারা এবং আমাদের ব্যাপারে তাদেরও জানা উচিত যাদের সাথে আমাদের উঠা-বসা; আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখছি!এটা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননা!

পৃষ্ঠা:৪৩

এর পরের বিষয়গুলো আরও খারাপ, ‘লারস উইলশ’ নামে এক সুইডিশ লোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন। করেছিল-আমরা আল্লাহর নিকট থেকে পানাহ চাই- এই ধরনের কথাগুলো বলাও। তো যে কারো জন্য খুবই কঠিন! সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চিত্র একটি কুকুরের ছবির আদলে অঙ্কন করেছে।এরপর ঐসব দূর্বত্ত লোকেরা তাদের বিরুদ্ধে নিন্দা করে ফাতাওয়া দেয়। যারা সেই কার্টনিউকে হুমকি দিয়েছিল। কুফরটির ব্যাপারে কথা না বলে এবং এব্যাপারে মুসলিম করণীয় সম্পর্কে শারীআহ’র হুকুম কি তা প্রচার না করে, তারা কেবলমাত্র মুসলিমদের নিন্দা করতে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে। আলিমদের যে ভূমিকা পালন করার কথা তার বাস্তবায়ন কোথায়?এ পরিস্থিতিতে অন্তত: একজন হলেও তাদের কারো এগিয়ে আসা উচিত। এবং হজ্ব ও সত্য কথা সঠিকভাবে তুলে ধরে তাদের দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করা উচিত। তা না হলে স্কলার বা আলিমের বেশ ছেড়ে দিয়ে তাদের ঘরের কোণে অবস্থান করা উচিত। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। যে, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপার নিয়ে কথা বলছি!মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ রা. তাঁর সাথীদের বলেছিলেন যে, যখন তোমরা দেখবে যে আমি তার মাথা ধরেছি, তখন তোমরা তোমাদের তালোয়ার দিয়ে তার মস্তককে দেহ থেকে আলাদা করে দিবে, এটাই ছিলো সঠিক ও উপযুক্ত কাজ যা মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ করেছিলেন, কিন্তু আফসোস! আজ আমাদের মাঝে কোনো কোন মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ নেই।আমাদের জীবন, আমাদের সম্পদ এবং আমাদের সকল কিছু দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিরাপত্তাবিধান করা আমাদের উপর অর্পিত একটি আবশ্যিক দায়িত্ব। এটা আমাদেরকে নিশ্চিত

পৃষ্ঠা:৪৪

করতে হবে। এটাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপ্রতি অ্যামাদের বর্তমান দায়িত্ব ও কর্তব্য।ঠিক কাজী ইয়াদের মতই আমরা বলতে চাই: “এইসব আলিমরা কারা সে সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।”এবং কাজী ইয়াজ যে কথাগুলো বলেছিলেন আমরাও তাই পুনরাবৃত্তি করতে চাই, “সম্ভবত ইলমের ক্ষেত্রে তারা অতটা অভিজ্ঞ নন অথবা তারা এমন ধরনের লোক যারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে! আমরা তাদের ফাতাওয়াতে বিশ্বাস করি না।”ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, “যদি কেউ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দেয়, তাহলে তাকে হত্যা করে ফেলা ওয়াজিব, এটা আবশ্যক। যদি সীরাতে এর কোন ব্যতিক্রম থেকে থাকে, তার কারণ হলো তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাদের তাওবার ঘোষণা দিয়েছে এবং তারা মুসলিম হয়েছে। কিন্তু যদি তারা তা না করে তাহলে তাদের উপর শারীআতের হুকুম অব্যাহত থাকবে।”তিনি আরো বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দেয়া অন্য আর যে কোন পাপের চেয়েও বড় পাপ। আর এ কারণে এর শাস্তিটাও অন্য যে কোন পাপের শাস্তির চেয়ে বড় ও ভয়াবহ। যদি এই ধরনের কোন ব্যক্তি কাফির হয়, যে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করছে তাহলে অবধারিতভাবেই বিজয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকেই ধাবিত হবে এবং তার নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টায় থাকা একটি বড় ধরনের কাজ এবং একটি উঁচু মাত্রার আবশ্যকীয় কাজ। এটি এমন একটি কাজ যা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মুসলিমদের যে কারো সম্পাদন করা উচিত। আর এটা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর বড় কাজগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।”এগুলো হচ্ছে ইবনে তাইমিয়্যা রহ, এর কথা, এগুলো হচ্ছে আমাদের আলিমদের কথা। এখন নিম্নে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কিছু যুক্তি ও তার বাস্তবতা

পৃষ্ঠা:৪৫

নিয়ে কিছু আলোকপাত করতে চাচ্ছি। আর তা হলো এই যে, যখন ইহুদীরা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসল তখন তারা “আসসালামু আলাইকুম” এর পরিবর্তে “আসসামু আলাইকুম” বলতো। যার অর্থ হচ্ছে “আপনার মৃত্যু হোক।”আয়িশা রা. তাদেরকে অভিশাপ দিলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, إن الله يحب الرفق في كل شيئ অর্থ: “আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং তিনি সকল ক্ষেত্রে কোমলতাকে পছন্দ। করেন।” [২৮-বুখারীঃ কিতাব ৮ (আল আদাব)ঃ খন্ড৭৩ঃ হাদীস ৫৭সুতরাং এ থেকে বুঝা যায় যে, এই ধরনের লোকদের সাথে আমাদের কিভাবে সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং কাজী ইয়াজ। কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তিখন্ডন না করেই এটাকে ছেড়ে দেননি।কাজী ইয়াজ রহ, বলেন, “এই হাদীস এবং এর সাথে সামঞ্জস্যশীল অন্য হাদীসগুলো ছিল ইসলামের শুরুর দিককার, কিন্তু এরপর শারীআহর ভিন্ন হুকুম এসেছে। অতএব তাদের ক্ষমা করা উচিত হবে না।” সুতরাং তিনি বলেন যে এই হুকুমটি মানসুখ হয়ে গেছে রহিত হয়ে গেছে।ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ, বলেন, “প্রথম বিষয় হলো, বাহ্যিক দৃষ্টিতে বুঝা যায় যে এটা সরাসরি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি অভিশাপ ছিলো না, কারণ এটা ছিলো এমন কিছু যা সকলের প্রতি আপাত দৃষ্টিতে দৃশ্যমান ছিলো না।”এরপর তিনি আরো বলেন যে, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষমা করতে পারেন কিন্তু আমরা পারি না। এটা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হজ্ব (অধিকার), এটা এমন কিছু যা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে ক্ষমা করা আর না করা কারণ তাঁর প্রতি এই ক্ষতিটা করা হয়েছে, সুতরাং ক্ষমা করার অধিকারও তাঁর আছে।” কিন্তু আমাদের সেই অধিকার নেই, এটা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটা অধিকার, সেই কারণে তিনি এমন

পৃষ্ঠা:৪৬

একজন যিনি ক্ষমা করতে পারেন! সুতরাং ক্ষমা করবেন কি করবেন না এটা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দায়িত্ব।ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওফাতের পর, আমরা কাউকে ক্ষমা করতে পারি না। আমরা মানুষকে ক্ষমা করতে পারি যখন তারা আমাদের ক্ষতি বা অবমাননা করে, কিন্তু যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ক্ষতি বা অবমাননা করে তখন না।”আরেকটি ঠুনকো যুক্তি হলো, কাফিররা সর্বশক্তিমান আল্লাহকে অভিশাপ দিলো এবং বললো যে আল্লাহর একটি পুত্র সন্তান আছে যখন তারা ঈসা আ. সম্পর্কে কথা বলছিল, তাই এটাও বড় ধরনের একটি পাপকাজ। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন, “যখন তারা আল্লাহ সম্পর্কে এই ধরনের কথা বলে, তারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে অভিশাপ দেয়ার জন্য বলেনি, এটা তাদের বিশ্বাস এবং দৃঢ়ভাবেই তারা তা বিশ্বাস করে। যখন তারা তা বলে, অভিশাপ দেয়ার প্রতি তাদের ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু যখন তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কথা বলে, তাদের ইচ্ছে থাকে মুসলিমদের ক্ষতি করা, ইসলামের বিরুদ্ধে। কথা বলা এবং সেই কারণে এই দুটো পুরোপুরিই আলাদা।”

পৃষ্ঠা:৪৭

পরিশেষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

প্রথমত: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি নিন্দা বা অমাননা তাঁর কোন ক্ষতি করে না। কোন ক্ষতি করতে পারে না। আল্লাহর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন একজন বিশেষ সম্মানিত, তাঁর নাম মুহাম্মাদ- যিনি অনেক বেশী প্রশংসিত!বিশ্বব্যাপী প্রতিটি একক মুহুর্তে এবং প্রতিটি ভিন্ন সময়ে মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসে আযানের ধ্বনি “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” এবং অনেক ফিরিশতা রয়েছেন যারা বলছেন “সাল্লাল্লাহু আলা সাইয়্যেদিনা মুহাম্মাদ” এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সালাহ পেশ করছেন। ইরশাদ হয়েছে, إن اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تسليما অর্থ: “নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’য়ালা ও তাঁর ফিরিশতারা নবীর উপর দুরুদ পাঠান।” (সূরা আহযাব, আয়াত ৫৬)বিশ্বব্যাপী প্রচুর ঈমানদার রয়েছেন যারা প্রতিনিয়ত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দুরূদ পেশ করে থাকেন। সুতরাং সেই পাপিষ্ঠরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে যা কিছুই বলবে তাতে তাঁর কোনো ক্ষতি হবে না!কিন্তু এটা আমাদের জন্য ক্ষতি; আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি এই নিন্দা আমাদের পক্ষ থেকে উপেক্ষা করা একটি। পাপ! সুতরাং আমরাই তারা যাদের ক্ষতি হয়েছে, আমাদের এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত: যদি এ বিষয়টি আমাদের রাগান্বিত করে, তাহলে বুঝতে হবে যে কুফফারদের পরাজয় যে একেবারেই সন্নিকটে-এটা তার লক্ষণ। কারণ ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেনঃ “অনেক নির্ভরযোগ্য মুসলিমগণ (যারা অভিজ্ঞ এবং ফকীহ) যখন তারা শামের শহর, দূর্গ এবং খ্রিষ্টানদের আবদ্ধ

পৃষ্ঠা:৪৮

করে রেখেছিলেন তাদের সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তারা বলেছেন যে আমরা শহর অথবা দূর্গকে মাসাধিককাল ধরে আবদ্ধ করে রেখেছিলাম, আমাদের অবরোধে তাদের কিছুই করার ছিল না এবং আমরা অনেক সময়ই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি যে তাদেরকে ছেড়ে দিবো। ত্যাগ করে চলে যাওয়ার অবস্থায় চলে এসেছি। এরপর যখনি তারা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিতে লাগল, হঠাৎ করে তাদের দুর্গের পতন হয়ে তা আমাদের হাতে আসতে লাগল, কখনও কখনও মাত্র একদিন বা দুইদিনেই তাদের পতন হয়ে গেলো।সুতরাং কাফিরদের প্রতি আমাদের অন্তর ঘৃণায় পরিপূর্ণ থাকা অবস্থায় যখন আমরা এটি শুনলাম, তখন আমরা এটাকে একটা শুভ সংবাদ হিসেবে গ্রহণ করলাম, যখন আমরা শুনলাম যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি অভিশাপ দেয়া হয়েছে বা অবমাননা করা হয়েছে-কারণ। এটা ছিল আমাদের আসন্ন বিজয়ের একটি লক্ষণ।”এবং এটা ছিল সূরাতুল কাওছার এর একটি আয়াতের অর্থঃ إِن شَانتَكَ هُوَ الأَبْر. অর্থ: “নিঃসন্দেহে তোমার শত্রুরাই হচ্ছে শেকড়াকাটা [অসহায়)।” (সূরা কাওসার, আয়াত ৩)সুতরাং সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শত্রুদের শেকড় কেটে দিলেন।এখন যে ঘটনাটি ঘটছে, সবচেয়ে বাজে ঘটনাগুলোর একটা, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি নিন্দার ঘটনা! বস্তুত, হতে পারতো এটা আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে ঘটনা, কারণ এর শুরুটা হয়েছিল ডেনমার্কের একটি পত্রিকার সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এবং এরপরই বিশ্বব্যাপী অনেক সরকার এবং সংবাদপত্রগুলো তাদের “বাকস্বাধীনতার” দোহাই দিয়ে এর প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেছে ও সেই সুবাদে কার্টুনটি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী!

পৃষ্ঠা:৪৯

এরপরই আপনাদের সামনে এলো সেই অপ্রত্যাশিত সুইডিশ কার্টুন যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছিল, যা নাকি আমাদের শোনা এখন পর্যন্ত নিন্দার মধ্যে সবচেয়ে বাজেগুলোর। একটি। এরপর আপনাদের সামনে এলো সেই ঘটনাটি সর্বশক্তিমান। আল্লাহর কিতাবকে এমনভাবে অমর্যাদা করা হয়েছিল যা আমরা এর আগে কখনও শুনিনি আল্লাহর কিতাবকে টয়লেট পেপার হিসেবে ব্যবহার করা এবং স্যুটিংয়ে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করা! তাই প্রতিটি মুসলিমকেই রাগান্বিতকারী যেই ঘটনাসমূহ অধিকহারে এখন ঘটছে যদিও তা আমাদেরকে ক্রোধান্বিত করছে, কিন্তু এটিকে একটি লক্ষণ ধরে নেয়া উচিত যে, এই কুফফারদের পরাজয় একেবারেই দ্বার প্রান্তে।প্রিয় ভাই ও বোনেরা!শেষ বিষয়, মুসলিম উম্মাহ হিসেবে আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না! ৬১৫ সালে মিসরের দিমইয়াতশহরে ক্রুসেডারদের হামলা এবং দখল করার পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ ক্রুসেডের সময়, আইয়ুবী আমির মোহাম্মদ কামিল মানসূরা হতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় ছিলেন। সে সময়ের একটি ঘটনা। ক্রুসেডারদের মধ্য থেকে একটা লোক প্রতিদিন নিয়ম করে বেরিয়ে আসতো এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুব খারাপ ভাষায় অভিশাপ দিতো। সে এই কাজটি দৈনন্দিন কাজের ভিত্তিতেই করত। মুসলিমদের আমীর মুহাম্মাদ কামিল, কামনা করতেন যে যদি তিনি সেই লোকটিকে হাতে নাতে ধরতে পারতেন! তাই তিনি সেই লোকটির চেহারা নিজ স্মৃতিতে গভীরভাবে গেঁথে নিলেন।দশ বছর পর ক্রুসেডাররা ব্যর্থ হলো এবং তারা চলে গেলো, কিন্তু এই বিশেষ লোকটি শামে যুদ্ধ করা অব্যাহত রাখলো এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর সে মুসলিমদের হাতে বন্দী হলো। এরপর আমির মুহাম্মাদ কামিল তাকে দেখে চিনতে পারলেন, আমরা ৬১৫ সালের দশ বছর পরের কথা বলছি! সুতরাং আমীর মুহাম্মাদ কামিল সেই লোকটিকে মদীনায় সেখানকার আমীরের নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং এই আদেশ দিলেন যেন।

পৃষ্ঠা:৫০

তাকে জুমুআর দিনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের সামনে। হত্যা করা হয়। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও, কিন্তু তিনি তা ভুলেন নি।প্রিয় ভাই ও বোনেরা।তাই আমরা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা এর নিকট এই প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদেরকে সেই সব পুরুষ ও মহিলাদের মতো হওয়ার। তাওফীক দেন, যাদের সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, يجاهدون في سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لائِمٍ. অর্থ: “তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া তারা করবে না।” (সূরা মায়িদা, আয়াত ৫৪)এটা হলে কুফফাররা বুঝবে যে, আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তাদের নিন্দার মাধ্যমে তারা মূলতঃ সরাসরি ভীমরুলের চাকে খোঁচা দিয়েছে। ঘুমন্ত সিংহের লেজ নাড়া দিয়েছে।আলহামদুলিল্লাহ। বর্তমান পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই এবং অচিরেই সেই সময় আসছে, যখন তারা তাদের অপকর্মের ফলাফল হাড়ে হাড়ে টের পাবে।মহান আল্লাহ আমাদেরকে বাস্তবতা উপলব্ধি করে সক্রিয় হওয়ার তাওফীক দিন। আমীন।

হোম
ই-শো
লাইভ টিভি
নামাজ শিক্ষা
গেইমস
চাকুরি