Skip to content

প্রতি পওি ও বন্ধুলাভ

পৃষ্ঠা ১ থেকে ২০

পৃষ্ঠা:০১

প্রথম অধ্যায়

অপরের খুঁত ধরে লাভ নেই:- ১৯৩১ সালের ৭ই মে তারিখের যত উত্তেজনাপূর্ব মানুষ-শিকার নিষ্ট ইয়র্কের ইতিহাসে আর ঘটেনি। কয়েক সপ্তাহ ধরে খুঁজাখুঁজি করার পর পুলিশ অবশেষে এই দু’বন্ধুকওয়ালা এলিকে তার প্রেমিকার ধরে পেয়ে চারদিক ঘিরে ফেলে। এই লোকটি ছিল খুলে মদ বা সিগারেটে তার আসক্তি ছিল না। ওয়েস্ট এন্ড অ্যাভিনিউ-এর উপরতলায় এর লুকিয়ে থাকবার ঘর একশে। পঞ্চাশজন পুলিশ এবং গোয়েন্দা ঘিরে ফেলে। ছাদে গর্ত করে সেই গর্ত দিয়ে কাঁদুনে গ্যাস দিয়ে তাকে বার করে আনধার চেষ্টা করা হয়। অবশেষে পুলিশ আশেপাশের বাড়ীর উপর যেসিনগান ধসিয়ে গুলি ছুঁড়তে আরম্ভ করে। নিউইয়র্কের এই ভদ্রপল্লীতে এক ঘণ্টারও বেশী সমর ধরে শোনা যার মেশিন- গানের আর পিস্তনের গুলির আওয়াজ। জনি একটা চেবারের উপর জিনিসপত্র স্বপাকারে রেখে তার পেছন থেকে পুলিশকে অনবরত গুলি ছুড়ে চলে। দশ হাজার লোক রোমাঞ্চিতভাবে এই যুদ্ধ দেখে-নিউইয়র্কের রাস্তায় এমন ঘটনা এর আগে ঘটেনি।

ক্রলিকে ধরার পর পুলিশ কমিশনার মালকনি বলেছিলেন যে, নিউইয়র্কের ইতিহাসে সবচেয়ে পাপীদের দলে এর স্থান। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘সামান্য একটা পালক্সে আওয়াজ শুনলেই এ গুলি ফরবে।’ কিন্তু দু’বলুকওয়ালা এই জলির নিজের সম্পর্কে কি ধারণা ছিল? আমরা সেটা বলতে পারি। কারণ, পুলিশ যখন তার ঘরের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিল তখন সে একটা চিঠি লিখছিল। আহত অবস্থায় সে লিখচিল এই চিঠি? চিঠিটা যেকোন দ্যক্তিকে লেখেনি। যখন সে চিঠিটা লিখছিল তখন সে পুলিশের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত। তার গা দিয়ে রক্ত ঝরছে-আর চিঠির পাতাতেও পড়েছে তার দাগ। এই চিঠিতে কলি লিখেছিল, আমার এই কোটের আবরণের নীচে আছে একটি শ্রান্ত হদয়-শ্রান্ত কিন্তু দয়ালু-কাউকে সে ক্ষতি করবে না। অথচ, এরই ক’দিন আগে নং দ্বীপের এক রাস্তার ধারে একটি গাড়ীতে যখন কলি বন্ধু-বান্ধণী নিয়ে হৈ হল্লা করছিল, তখন হঠাৎ একটি পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে বলে, ‘দেখি আপনার লাইসেস?

পৃষ্ঠা:০২

অপরের খুত ধরে লাভ নাই:- কোন কথা না বলে করি তার পিশুন বার করে পুলিশকে এক ঝাঁক গুলি করে। যখন বৃতপ্রায় পুলিশটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, তখন ত্রুনি গাড়ী থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে এসে তার বিতরভার কেড়ে নিয়ে ধরাশায়ী মুমূর্ষু পুলিশটিকে আবার গুলি করে। এই হত্যাকারীই কিনা লিখেছিল, আমার কোটের আবরণের নীচে আছে এক দয়ালু হৃদর-কাউকে যে ক্ষতি করবে না’।  আদালতের বিচারে ক্রলিকে বিদ্যুৎ প্রবাহ দিয়ে প্রাণদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। সিং সিং এর মৃত্যুপুরীতে পৌছে সে কি বলেছিল, মানুষ খুন করবার শাস্তি পাচিচ্চ আমি? না, কলি যে কথা বলেনি। ও বলে ইল, আম্বরক্ষার চেষ্ট। কররান জন্য আমাকে মেরে ফেলা হয়েতু। গয়টা বলবার উদ্দেশ্য হল এই: ‘দু’ বলুক ওয়ালা’ জলি নিজের দোষ দেখতে পায়নি। অপরাধীদের মধ্যে এই ধারণা থাকা কি খুবই অ্যাভাবিক। যদি আপনাত তা মনে হয় তাহলে শুনুন: রানার জীবনের সস্বচেয়ে ভাল সমরে দোকদের হালকা আনন্দ দিয়েছি, তাদের তালভাবে সময় কাটাতে সাহায্য করেছি-অথচ পরিবর্তে কেবল আনি গালাগালিই খেয়েছি, আমাকে লুকিয়ে থাকতে হয়েচে কথাটা আলক্যাপেন-এর। এক সময়ে যে হিন আমেরিকার পরন। নম্বরের অনশত্রু। এমন জঘন্য ওত্তা দত্যের সর্দার শিকাগোতে আর জন্মেনি। ক্যাপন কিন্তু নিজেকে কখনও দোষী ভাবেনি; যে নিজেকে ভাবত জনসাধারণের বন্ধু-যাকে জনসাধারণ ভুল বুঝেছে, খাতির করেনি।

নিউইয়র্কের আর এক গুণ্য এসুর ডাচ শুলৎশও তাই বিশ্বাস করত। সিং সিং-এর জেলখানার এক ওলর্ডেনের সঙ্গে আমার এই সম্পর্কে কিছু চিত্তাকর্ষক পত্রালাপ হয়েছে। তিনি বলেছেন, সিং সিং-এর খুব কম অপরাধী নিজেদের খারাপলোক ভাবে। তারা ঠিক আমাদের যতোই মানুষ। সে জন্যই তারা বিচার করে, বোঝানোর চেষ্টা করে। তারা বেশ সুন্দর যুক্তি দেখিয়ে বলতে পারে কেন তাদের সিদুক তঙ্গতে হয়েছিল, কেন তাদের গুলি ছুড়তে হয়েছিল। এদের অধিকাংশই তাদের সমাজবিরোধী কার্যকলাপকে সমর্থন করে। যে সম্পর্কে কারণ দেখার তারা অভ্রান্ত তা যেন-তেন প্রকারে প্রমাণ করবার চেষ্টা করে-সঙ্গে তারা একথাও বলে যে, তাদের বন্দী করাটাই ভুল হয়েছে।

পৃষ্ঠা:০৩

অ্যাল ক্যাপোন, ‘দু’ বন্ধুকওয়ালা ত্রুধি, ডাচ শুলৎস-এদের মতা বিপজ্জনক লোকেরাও যখন নিজেদের নির্দোষ তাবে, তখন আমরা যাদের। সঙ্গে নিশি তারা নিজেদের সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করে? পরলোকগত জন বানায়েকার, একবার স্বীকার করেছিলেন;-ত্রিশ বরে আাগে আমি আবিষ্কার করি গালাগাল দেওয়াটা বোকানি। আমার নিজের बूं’তগুলিকে দূর করবার জন্য অনেক খাটতে হয়েছে আমাকে, ঈশ্বর যখন সবাইকে সমানভাবে বুদ্ধি দেননি তখন কথাটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবার কোন অর্থ হয় না। বানাযেকার কথাট। তাড়াতাড়িই বুঝতে পেরেছিলেন কিন্তু এক শতাব্দীর তিনভাগের একভাগ সময় আমার কেটেছে এটা বুঝতে যে, শতকর। নিরানন্লংটা ক্ষেত্রেই মানুষ নিজেকে সমালোচনা করে না-সে যতই দোষী হোক না কেন? সমালোচনা করার কোন অর্থ হয় না। এর ফলে মানুষের মনে আরপঞ্চ সমর্থন করবার প্রবৃত্তি জেগে ওঠে-আর সাধারণতঃ তার যত ডুবই হোক না কেন সে নিজে দোষগুলিকে দোঘ বলে মনে না করতে অত্যন্ত হয়ে ওঠে। সমালোচনা করা বিপজ্জনক। কারণ, এর ফলে মানুষের গর্ব খর্ব হয়। নিজের বাহাদুরী তাবটা কমে যায়। এর ফলে তার যন বিরোধিতার ভরে ওঠে। আার্মান সৈন্যবাহিনীতে একটা নিয়ম আছে-কোন ঘটনা ঘটবার সঙ্গে সঙ্গে কোন সৈন্যকে যে সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে দেওয়া হয় না। এ সম্পর্কে তাকে চিন্তা করবার সময় দেওয়া হয়-এতে যে ঠাণ্ড। হবার সময় পায়। সঙ্গে সঙ্গে অতিযোগ করলে তাকে নিজেকেই শাস্তি পেতে হয়। ঈশ্বর জানেন সাধারণ জীবনেও তেমনি নিরন চালু থাকা উচিত; এই রকম একটা আইন হা-হতাশ কর। বাবা-মা, ধ্যানয় ধ্যানর করা বৌ, আর চোখ গরম করা যালিকদের জন্য থাকা উচিত।

সমালোচনা করেবে কোন লান্ত হয় না তার অনেক নদীর ইতিহাসে আছে হাজার হাজার পৃষ্ঠা তা, পিরোত্তর কনডেট আর প্রেসিয়েন্ট ট্যাকুট এর ঝগড়ার কথা ধরা যাক-এই খাগড়ার ফলে রিপাবলিকান পার্টিতে বিভেদ এসেছিল, যার ফলে উত্তু উইলসন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। প্রথম মহাযুদ্ধে বিনি নিজের ঔজ্জ্বল্যে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কি ঘটেছিল:

পৃষ্ঠা:০৪

১৯০৮ সালে বিরোডর কসভেট ছোরাইট হাউস পরিত্যাগ করেন এবা ট্যাক্টকে প্রেসিডেন্ট করে আফ্রিকায় চলে যান সিংহ শিকার করতে। তিনি ফিরে ট্যাঙ্কুটের উপর ওয়ানক চটে যান সংরক্ষণশীলতার জন্য এবং এই নিয়ে ঝগড়া বেঁধে ওঠে। পরের নির্বাচনে এই খাগড়ার ফলে রিপাবলিক্যান পার্টির ভয়ানক পরাজর ঘটে। এমন পরাজয় আর কোনদিন ঘটেনি সে পার্টির ইতিহাসে। এ ব্যাপারে বিয়োল্ডোর কসভোট ট্যাফ্টকে দায়ী করলেন-কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্যাক্‌ট কি নিজেকে দারী মনে করেছিলেন? না। ট্যাঙ্কুট চোখের জর ফেলতে ফেলতে বলেছিলেন, ‘যা আমি করেছি, তা’ না করে অন্য আর কি যে আামি করতে পারতাম বুঝতে পারছি না।’ আসলে কার দোষ ছিল? সত্যি কথা বলতে কি, তার উত্তর আমার জানা নেই-যার জানতে চাইও না। আাসল কথাটা এই যে, থিয়োন্তর কলভেটের অতানি সণালোচনা করা সত্ত্বেও ট্যাঙ্কুট নিজেকে দোষী মনে করেননি। এর ফলে ট্যাঙ্কুট নিজের কাজকে সমর্থন করে চোঁখের জল ফেলে বলেছিলেন, ‘বা আমি করেছি তা’ না করে অন্য আর কি যে আমি করতে পারতাম বুঝতে পারছি না।’ তার একটা ঘটনা দেখা যাক কি হয়েছিল। টিপট ডোম তেলের কেলেঙ্কারীর কথা এর্টি’। বছরের পর বছর খবরের কাগজে এর বিরুদ্ধে লেখা হয়েছিল-মন্ত্র দেশ এতে খর থর করে কেঁপে উঠেছিল। শ্মরণকালের যবে। আমেরিকার এমন কেলেঙ্কারির কথা শোনা যায় নি। কেবেঙ্কারিটি সংক্ষেপে এই: প্রেসিডেন্ট গাড়িঞ্জের মন্ত্রণাযতার ইন্টিরিয়র সেক্রেটারী ছিলেন আলবার্ট কল। এর উপর ছিল বলর্ হিল এবং টিপটি ভোনের যজুদ তেলের তার। এর এই তেলের বাঁর্টিগুলিকে লীজ দেওয়ার ক্ষমতা এইল। এই তেল ট্রিদ নৌবাষিণীর ভাবষ্যতে ব্যবহারের জন্য। এটি একটি বড় কটূক্তি। তিনি প্রতিযোগিতামুগদ দর না দিয়ে তাঁর বন্ধু রাস্তায়ার্ড এল ছোয়ে নিকে কটু ষ্টিট দিয়ে দেন। এতে ভোহেনি কি করেছিল? যে প্রায় পাঁচলক্ষ টাকা ফল-কে ‘ধার’ দিয়েছিল। এর পর সেক্রেটারী কল অনধিকার চর্চা কারেন -তিনি আমেরিকার নৌবাহিনীকে আদেশ করেন অনা তেলের প্রতিযোগী ব্যবসায়ীদের ঐ অঞ্চর থেকে এটিয়ে দিতে। বলুক এবং বেয়োনেটের সাহায্যে প্রতিযোগীরা ছটে যেতে বাধ্য হ’য়ে আদালতের সারণ নেয়। এর ফলে কেলে- ভারিটি প্রকাশ হয়ে পড়ে। এ থেকে এমন পড়া গন্ধ বেরুতে খাবে যে, হায়িত্ব শাসন ভেঙে পড়ে। সমস্ত জাতি এতে অস্বস্তি বোধ করে, রিপাবলিক্যান পাঞ্জ তেঙে পড়ার যত হর মার অাকবার্ট ফলকে যেতে হয় জেল খাটতে।

পৃষ্ঠা:০৫

ফলের মত কম লোককেট এমন চরমভাবে দোষারোপ করা হয়েছে। তিনি কি এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন? না। এর বহু বছর পর হারবার্ট হুভার একটি জনসভায় বলেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট হাড়িরের তাড়াতাড়ি যারা যাবার মুলে এক বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা। এর ফলে দুশ্চিন্তা এবং দুঃখে তার শরীর ভেঙে পড়ে। যখন ফলের স্ত্রী একথা শোনেন তথন তিনি চেয়ার থেকে লাফিয়ে ওঠেন, কেঁদে শূন্যে হাত মুঠো করে ছুঁড়ে বলেন: কী, আবার স্বামী হাভিয়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন? একেবারে বাজে কথা। আবার স্বামী কারো সঙ্গেই বিশ্বাসস্মাতকতা করেননি। একটি বড় বাড়ি ভর্তি সোনা দিলেও তিনি প্রলোভিত হতেন না। তাঁর সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে এবং তাঁকে শাস্তি পেতে হয়েছে যীশুবৃষ্ট্রের মত। এই তো দেখলেন মানুষের প্রকৃতি। যে ভুল করে সে নিজেকে ছাড়। আর সবাইকে দোয়ারোপ করে। আমরা সবাই ওই একন। অতএব আমরা যখন কাল কাউকে সমালোচনা করব তখন যেন অ্যান ক্যাপোন, ‘দু’ বলুকওয়ানা কলি’ বা অ্যালবার্ট ফলের কথা মনে রাখি। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন বে সন্মালোচনা হল গোছা পাররার মত। দূরে উড়িয়ে দিলেও সে ধরেই ফিরে আসে। মনে রাখা প্ররোজন যে, বার সম্বন্ধে আমরা দোষ সংশোধনের কথা ভাবছি সম্ভবত সে তাঁতে সংশোধিত হবে না। বরং উধুটে আমাদেরই দোষারোপ করবে। অণবা হয়তো তন্ত্র ট্যাফটের যত বলবে: আামার মনে হয় না অন্য কোন উপায়ে এটা করা সম্ভব ছিল।

শনিবার সকাল-১৮৬৫ সালের পনেরই এপ্রিল, অ্যাগ্রাহাম লিঙ্কন একটি সন্ত। চোটেলের যধে শুয়েছিলেন মুত্যুশন্ধ্যায়। ফোর্ড থিয়েটারে বুথ গুলি করেটিন লিঙ্কনকে। রাস্তায় থেয়েটারের ঠিক বিপরীত দিকে এই ছোটেলের বিছানাটা লিঙ্কনের লম্বা চেহাবার পক্ষে ছোট ডিন। নিস্তন যখন মারা বান্নিলেন তখন সমরসচিব স্ট্যাণ্টন বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত বত শাসক দেখা গেছে তাদের হধ্যে সবচাইতে যোগ্য এই লিঙ্কন।’ লিঙ্কনের লোকজনের সঙ্গে ব্যবহারের সাফল্যের মূলে কি? আমি নিক্কন সম্পর্কে দশ বছর পড়াশোনা করেছি। তিন বছর বরে আমি লিয়ন সম্পর্কে আমার কষ্ট, ‘অজানা নিয়ন’ লিখেড়ি আর বদলেছি। আমার মনে হয় যাবি লিয়নের ব্যক্তিত্ব এবং ঘরোয়। ব্যাণার যতখানি অনুধাবন করেছি, তার চাইতে বেশী কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। দাবি বিশেষ করে দেখেছি তিনি মানুষের সঙ্গে কি রকম ব্যবহার করতেন। তিনি কি সমালোচনা করতেন? নিশ্চয়ই।

পৃষ্ঠা:০৬

অপরের খুঁত ধরে লাভ নেই:-ইত্তিবানার পিজিয়ন ক্রিক উপত্যকায় অল্প বয়সে তিনি কেবল সমালোচনাই না, তিনি লোকরে বাঙ্গ করে চিঠি বা কবিতা লিখে বাস্তায় ফেলে রাখতেন–যেখান থেকে অন্য লোকদের চোখে তা পড়তই এরকম একটি চিঠি লেখার ফলে যে আও। জুলেচিল, ত। সমস্ত জীবনেও নেভেনি। ১৮৪২ সালের শরৎকালে তিনি অযথা গর্বিত এবং কোনাহনবির একজন আইরিশ রাজনৈতিক নেতাকে ঠাট্টা করেন। তাঁর নাম জেনস শীল্ডস। বেনামিতে লিঙ্কন একটি চিঠি লিখেছিলেন স্প্রিংঃবস্ত জার্ণালে-তাতে হিল প্রচুর ইয়াকি। সমস্ত শহর তাতে হাসতে থাকে। শীল্ডস গথিত ছিলেন এবং এই আবাতে। চট্টে কান হয়ে গেলেন। তিনি খুঁজে বার করলেন এই চিঠির লেখককে। তিনি ঘোড়ায় চড়ে নিঙ্কনের কান্ডে দিয়ে উপস্থিত হলেন এবং দ্বন্দ্বযুদ্ধে আল্লান করলেন, লিঙ্কন দিও দ্বন্দযুদ্ধ করতে চাননি তিনি ছিলেন গুদবুদ্ধের বিরোধী; তিনি বুদ্ধ না করার চেষ্টাই প্রখনে করবেন, কিন্তু বুঝবেন সম্মান রাখতে হলে যুদ্ধ তাকে করতেই হবে। কী অভ্র লিঙ্কন গ্রহণ করবেন ফিঞ্জেণ করাতে নিঙ্কন স্কি। করলেন অশ্বারোহী বাহিনীর চওড়া তলোয়ার গ্রহণ করবেন। কারণ, নিম্ননের হাত চিল বেশ লম্বা। একজন পাসা লোকের কাছ থেকে তলোয়ার যুদ্ধ শিখলেন এবং নির্দিষ্ট দিনে তিনি তার প্র।তদ্বন্দ্বীর সন্ধণীন হলেন মিসিসিপি নদীর ধারে। আমৃত্যু যুদ্ধ করার জন্য তিনি প্রস্তুত হলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এ যুদ্ধ হয়নি-তাদের সঙ্গীরা যুদ্ধ খামিয়ে দেয়। লিঙ্কদের জীবনে সেটাট ডিল সবচেয়ে জখন। অভিজ্ঞতা। এর ফলে তিনি লোকদের সঙ্গে কিরূপ ব্যবহার করতে হয় যে সম্পর্কে অতি শল্যে শিক্ষা লাত করেন। এরপর থেকে তিনি আর কখনো কাউকে অপমানজনক চিঠি লেখেননি। এমন কি তিনি কাউকে ঠাটাও তার করেননি। এবং তখন থেকে লিঙ্কন কাউকে বড় একটা সমালোচনাও করেননি। গৃহযুদ্ধের সময় লিঙ্কন ক্রমাগত সেনাবিপতি পালটান, একে একে ম্যাকবেলান, পোপ, বার্থসাইড, ওকার, মীড়কে কার্যভার দেওয়া গেন, কিন্তু প্রতি সেনাবিপত্তিট নানারকম শোচনীয় ভুল করেন। এর ফলে লিঙ্কনের প্রায় হতাশ হয়ে হাল ছেডে দেবার যত অবস্থা হর। দেশের অর্ধেক লোক এই সেনাপতিদের বিরুদ্ধে জগন্যভাবে নিন্দ্য করেন। কিন্তু লিঙ্কন নিন্দা করেননি তাঁদের। তাঁর নীতি ছিল, ‘কাউকে ঘৃণা নয়, প্রত্যেককে দয়া দেখানো’। অতএব তিনি শান্ত ছিলেন। যখন লিঙ্কনের স্ত্রী এবং অন্যেরা দক্ষিণের লোকদের সম্পর্কে কড়া কথা বলতেন, তখন লিঙ্কন উত্তর দিতেন: ‘ওদের সমালোচনা করো না। ওদের যত অবস্থায়

পৃষ্ঠা:০৭

পড়লে আমরাও ওদের মতই করতাম।’ সমালোচনা করার কারণ থাকা সত্ত্বেও লিঙ্কন সমালোচনা করতেন না। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক: ১৮৬৩ সালের জুলাই মাসের প্রথম তিনদিন গোর্টসবার্গের যুদ্ধ হয়। চার তারিখে ভয়ানক ঝড়-বৃষ্টি হয় আর নী-এর সৈন্যরা পিটিরে যেতে থাকে। পরাজিত সৈন্যদের নিয়ে লী যখন পটোম্যাক নদীর ধারে উপস্থিত হন, তখন তিনি দেখতে পান নদী পার হওয়া আর সম্ভব নয়। তাঁর পেছনে তখন তাড়া করে আসছিল বিজরী সৈন্যের দল। বী কাঁদে পড়ে গিয়েছিলেন। পালাবার আর কোন উপায় নেই। লিঙ্কন তা বুঝতে পারেন। এটা একটা দৈব-প্রদত্ত সুযোগ। তিনি লী-এর সৈন।দের বন্দী করে যুদ্ধ তৎক্ষণাৎ শেষ করে দিতে পারেন। মনে প্রচুর আশা নিয়ে মীতকে আদেশ দিলেন যে, যুদ্ধের মন্ত্রণা সভা ডেকে লী-কে চটপট আক্রমণ করতে। লিঙ্কন টেলিগ্রাফ করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি বিশেষ দূতকে পাঠালেন যাতে মীত তৎক্ষণাৎ আদেশ পালন করেন। জেনারেন হীড় কী করলেন? তিনি ঠিক উনটো কার করলেন। লিঙ্কনের আদেশকে অমান্য করে তিনি বুদ্ধের মন্ধণা সভা ডাকলেন না। তিনি ইতস্ততঃ করলেন, দীর্যসূত্রী হলেন। নানারকম কৈাফয়ৎ ‘তার’ করে পাঠালেন। তিনি নীকে আক্ররণ করতে সরাসরি অগ্নীত হলেন। ইতিমধ্যে নদীর জল কমে মাওয়াতে বী সদলবলে নদী পার হবে পালিয়ে গেলেন। লিঙ্কন রেগে আগুণ হলেন। তিনি তার পুত্র রবার্টকে বললেন, ‘হে উধুর, এর মানেটা কি? শত্রুকে আমরা পেরেছিলাম হাতের মুঠোর-কেবল হাতটা বাড়ানোর অপেক্ষায়-ব্যাস, তাহদের শত্রুকে পরাজিত করা সম্ভব ছিল। অথচ আমার কোন কথাই সৈন্যবাহিনী শুনল না। এরকম অবস্থায় যে কোন সেনানারকই লী-র সৈন্যদল।ে পরাজিত করতে পারত। সেখানে থাকবে আমি নিজেই লী-র সৈন্যদের শেষ করে দিতে পারতাম!’ ওয়ানক হতাশ হবে লিঙ্কন দাঁড়কে নীচের এই চিঠিটা লেখেন। এখানে মনে রাখতে হবে যে তাঁর জীবনের এই সময়ে তিনি ছিলেন সংজ্ঞ। কখনো অসংযত কথা তিনি বলতেন না। তাই ১৮৬৩ সালের লেখা এই চিঠিটি এক হিসেবে কঠোর তিরস্কার ভরা বলতে হবে: প্রিয় সেনাধিপতি, আমার যব্দে হয় লী পালিরে যাবার ফলে যে ভীষণ শোচনীয় অবস্থা হ’লে। ত। আপনি বুঝতে পারছেন। সে আমাদের হাতেক মুঠোয় ছিল, আমাদের সাম্প্রতিক অন্য সাফল্যগুলির কথা তেবে

পৃষ্ঠা:০৮

অপরের খুঁত ধরে লাভ নেই:- দেখলে দেখা যাবে, এভাবে তাকে পরাজিত করলে সমস্ত যুদ্ধাটাই শেষ হয়ে যেত। এখন যুদ্ধ অনিশ্চিই কাদের জন্য চলতে থাকবে। যদি গত সোমবার আপনি লী-কে নিরাপদে আক্রমণ করতে না পেরে গাকেন তাহলে কেমন করে আপনি নদীর দক্ষিণে সেদিনকার সেন্যের দুই তৃতীয়াংশ সৈন্য নিয়ে সাফল্যলাত করতে পারবেন? এরকম সাফল্যের আশা করা বোকামি, আমার ধারণা আপনি সাফল্য লতি করতে পারবেন না। সুবর্ণ সুযোগ আপনি হারিয়েছেন, এর ফলে আমি ভয়ানক দুঃখ পেয়েছি। মীড এই চিঠি পেয়ে কি করেছিলেন বলতে পারেন? নীড় কখনো এ উঠি দেখেননি। লিঙ্কদ কখনো এটা ডাকে দেননি। চিঠিটা লিঙ্কনের মৃত্যুর পর তাহার কাগজপত্রের মধ্যে পাওয়া গিয়াছিল। আমার মনে হয় লিঙ্কন এই চিঠিটা নিখিবার পর জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, একটু সবুর করা যাক, এত তাড়াতা।উ করা বোধ হয় উচিত হচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের এই শান্ত পরিবেশে বসে নীডকে আক্রমণ করতে আদেশ দেওয়া খুব সোজা, কিন্তু আমি যদি গেটিসবার্গে উপস্থিত থাকতাম, আর মীঘ্র গত ক’দিনে যত রক্তপাত দেখেছে, আহতদের যত আর্তনাদ শুনেছে, মরতে দেখেছে, তাহলে খানিও খাক্রমণ করতে হয়তো এত ব্যস্ত হতাম না। যদি আমি হীতের মত শান্ত প্রকৃতির হতাম, তাহলে আাবিও তাই করতাম। কিন্তু যা হবার হয়ে গিয়েছে। এ চিঠি পাঠালে সামার মনের ভার কেটে যাবে বটে কিন্তু নীড় তার কার্যকরাপকে সঠিক বলে প্রমাণ করবার চেষ্টা করণে। সে আমাকে দোষ দিধে, এর ফলে আমাদের মধ্যে সহজ আর থাকবে না। কম্যান্ডার হিসাবে তাঁর যোগ্যতা লুপ্ত হবে এবং হয়তো সৈন্যবাহিনী থেকে তাকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হবে। আগেই বলেছি, এরপর লিঙ্কন চিঠিটা ডাকে না পাঠিয়ে রেখে দেন-কারণ তাঁর পূর্ব অ্যউজ্ঞতা থেকে বুঝেছিলেন যে, বারালো সনালোচনা এবং ঝগড়া করার ফল ভাল হয় না। খিরোডোব কলবেরট বলেছেন যে, তিনি দখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন যখনই কোন গোলমেলে সমস্য। উপস্থিত হত তিনি তখন হৌরাইট হাউস্ত্রে ডেস্কের উপরের দিকে টাঙ্গানো ।বঙ্কনের তৈলচিত্রের দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে নিজেকে প্রশ্ন রতেন: লিঙ্কন হলে এই সমস্যাটা কিভাবে সমাধান করতেন?

পৃষ্ঠা:০৯

যদি কাউকে গালাগান করতে হয়, তাহলে সবচেয়ে ভাল হয়: যদি লিপ্তন হতেন তাহলে কেমন করে তিনি এ সমস্যার সমাধান করতেন?-এই রখার্ট চিন্তা করা। আপনি কি কাউকে বানাতে, তাল বা নিয়াষ্ট্রত করতে চান? ভাব কথা-খুবই ভাল। এ ব্যাপারে আনার বিশেষ সমর্থন আছে। কিন্তু নিজেকে দিয়েই ব্যাপারটা শুরু করুন না? নিজের স্বার্থের দিক থেকে দেখলেও এটা অনেক বেশী লাভজনক। কেবল তাই নয় এতে বিপদ অনেক কম। ব্রাউনিং বলেছিলেন, যদি নিজের মধ্যে বুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে তার দ্বারা কিছু হওয়া সম্ভব। সম্ভবত এখন থেকে বড়দিন পর্যন্ত সময় লাগবে নিজেকে উন্নীত করতে। তারপর আাপনি সুন্দ্বর ভাঁবে কাদিন ছুটি উপভোগ করে নববর্ষ থেকে অন্যদের সমালোচনা করা শুরু করতে পারেন। কিন্তু আগে নিজেকে দোদযুক্ত করুন। কনক্লুসিয়ান বলেছিলেন, প্রতিবেশীর চালে তুষার জমছে তা সমালোচনা না করে নিজের দরজার কাদা রয়েছে সেটা খেয়াল করুন। আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখন লোকদের কাচে নিজেকে জাহির কররার খুব চেটা করতাম। তখনকার যায়লে আমেরিকার সাইত্যাকাশে একজন বড় লেখকের উদয় হয়েছিল, তবে বান রিচার্ড হাড়িঃ ডেভিস। আমি শহিত্যিকদের সম্পর্কে একটা প্রবন্ধ লিখছিলাম কোন পত্রিকার জন্য। দাবি ডেভিসকে প্রশ্ন করেছিলাম তাঁর কাজ করবার উপায় সম্পর্কে। তার করেক সপ্তাহ আগে আমি একটি চিঠি পেরেডিলান তার নীচে লেখা ছিল: এটি প্রতিলিখিত-লেখক এটি পড়েন নি। ডেডিস সে চিঠিক উত্তর দেন নি। তিনি চিঠিটা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। চিট। এক কোণে হাতে লেখা ছিল: “আপনার একটু তদ্রতাবোধের ছিটে কোঁটাও নেই।” আমি তুন করেছিলাম তা সতিঃ, এবং হরতো ঐ গাবাগানও আমার প্রাপ্য ছিল। কিন্তু আমি মানুষ বলেই তা সহ্য করতে পারি নি। আমাকে এটা এমনভাবে রাধাত করেছিল বে দশ বছর পর যখন রিচার্ড হাডিং ভেরিসের মৃত্যু হব তখনো (বলতে লজ্জা করে) আামার নদে ছিল যে তিনি আমাকে একদা আঘাত দিয়েছিলেন। লোকদের সঙ্গে ব্যবহারে দামাদের মনে রাখা উচিত বে, আমরা যুক্তি-খারা চালিত লোকদের সঙ্গে কারবার করছি গ্রা। আনুরা কারবার করছি ভাবাবেগপূর্ণ লোকদের সঙ্গে। এই সমস্ত লোকদের আছো গবিততাব এবং ডুব ধারণা।

পৃষ্ঠা:১০

অপরের খুঁত ধরে লাভ নেই:- সমালোচনা একটি বিপজ্জনক স্ফলিঙ্গ। এর ফলে গর্বের বারুদে আগুণ ধরে যাওয়া বিচিত্র নয়। এর ফলে যে বিস্ফোরণ হয় তাতে লোফের আয়ু কমে যায়। একটি উদাহরণ দেওয়া যায়: জেনারেল লিওনার্ড উত্তকে সমালোচনা করা হয়, ফ্রাসে সৈন্যদলের সঙ্গে যেতে দেওয়া হয় না তাঁকে। সম্ভবত গর্বে আঘাত লাগার ফলেই তাঁর তাড়াতাড়ি মৃত্যু হয়। প্রচুর সমালোচনার ফলে ইংরেজী সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক টমাস হাতি চির কালের জন্য ছেড়ে দেন উপন্যাস লেখা। ইংরেজ কবি চ্যাটাৎটপ সমালোচনার ফলে আন্তহত্যা করেন। বেনজামিন ফ্রাংকলিন ছেলেবেলায় সরল ছিলেন। পরে তিনি কুটবুদ্ধি আয়ত্ত করেন এবং লোকদের সঙ্গে ব্যবহারে দক্ষতা লাভ করেন। এর ফলে তাঁকে ফ্রান্সে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হিসাবে পাঠানো হয়। তাঁর সাফল্যের রহস্য কী। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কাউকে নিলে করব না, কেবল অন্যদের গুণের, কথাই বলব। যে কোন বোকাই সমালোচনা করতে পারে, দোষ দিতে পারে, নালিশ করতে পারে। অধিকাংশ বোকারা তা করেও কিন্তু ক্ষমা করতে হলে প্রয়োজন দুঢ় চরিত্র আর আল্পসংযম। কলাইল বলেছিলেন, ‘একজন মহান ব্যক্তির মহত্ব বোঝা যায় ছোট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার দেখে।’

নৌকদের দোষ না দিয়ে তাদের বোঝাবার চেষ্টা করা উচিত, দেখা যাক তারা যা করে, তা কেন করে? সমালোচনা করার চেয়ে তা আরো রহস্যপূর্ণ। এর ফলে দরাল মনোভাব হয়, সহ্যশক্তি বাড়ে। ‘সবাইকে জানা মানেই সবাইকে ক্ষমা করা।’ প্রক্টর জনসন বলেছিলেন “ইশ্বর নিজেও বিচার করবার জন্য মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।” আপনি আমি তাহলে জীবিত লোকদের বিচার করবার কেও

পৃষ্ঠা:১১

দ্বিতীয় অধ্যায়

অপরকে দিয়ে কাজ করানোর উপায়:- পৃথিবীতে অপরকে দিয়ে কাজ করানোর একটি মাত্র উপার আছে। যে সম্বন্ধে কখনো ভেবেছেন কি? হ্যাঁ, মাত্র একটি উপায়। ইপারটি হল, কাজটি সম্পর্কে অপরের আগ্রহ জাগিয়ে তোলা, বাতে সে নিজেই কাজটি করতে চায়। মনে রাখবেন দ্বিতীয় কোন উপায় নেই। একথা সত্যি যে, একজন লোকের বুকে পিস্তলের নল লাগালে সে তার ঘড়িটা। দিতে চাইবে। আপনার কর্মচারির কাছ থেকে আপনিও কাজটি আদার করতে পারেন চাকরী থেরে দেবার তয় দেখাবে। কিন্তু আপনি যখনি তার দিকে পিছন ফিরবেন তখনি সে কাজে ঢিলে দেবে। দেখিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব। অবাঞ্ছিত ঘটনার উত্তর হতে পারে। একটি শিশুকেও চাবুক মেরে বা তয় কিন্তু এই কঠোর উপায়গুলির ফলে বস্তু একটি মাত্র উপায়ে আমি আপনাকে দিবে কাজ করিয়ে নিতে পারি। তা হ’ল আপনি যা চান তা আপনাকে দেওয়া। বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট মনস্তত্ববিদ তিয়েনার বিখ্যাত ডাক্তার সিগমুক্ত ক্ররেও বলেছেন যে আমরা যাই করিনা কেন, দু’টি যতবব থেকে তার উৎপত্তি- কাম এবং মহান হবার ইচেছ।

আমেরিকার প্রখ্যাত দাশনিক যান ডিউই কথাটি একটু ঘুরিরে বলেন। তিনি বলেছেন: মানুষের চরিত্রের সব চেয়ে বড় ইচেছ হল বড় হওয়ার বাসনা। কুণাটি মনে রাখা প্রয়োজন-বড় হওয়ার বাত্রনা। এই বইতে এ সম্পর্কে অনেক বারই এ নিয়ে আলোচনা করা হবে। আপনি কি চান? খুব বেশী কিছু নয়। বদি আপনি লেগে থাকেন তাহবে সমস্তই পাবেন। যে কোন সুস্ত বয়স্ক লোক চায়- (১) স্বাস্থ্য এবং আয়ু, (২)খাদ্য, (৩) নিদ্রা, (৪) টাকা এবং টাকা দিয়ে কেনা যায় এমন জিনিস, (৫) পরবর্তী জীবন, (৬) যৌনতৃপ্তি,

পৃষ্ঠা:১২

অপরকে দিয়ে কাজ করানোর উপার:- (৭) ছেলেমেয়েদর সুখ-সুবিধা, এবং (৮) নিজের প্রাধান্য বোধ। এই সমস্তগুনিই জীবনে পাওয়া সম্ভব-অবশ্য একটা বাদে। নিম্না এবং খাদ্যের যতই একটা জিনিস মানুষ চায়। তা হ’লে-ফ্রয়েডের ভাষায় মহান হবার ইচ্ছে এবং ডিউইর ভাষায় বড় হবার বাসনা। লিঙ্কন একবার একটা চিঠি শুরু করেন এই বলে: প্রত্যেকেই প্রশংসা চায়। উইলিয়াম জেমস বলেছেন, মানুষের চরিত্রের সবচেয়ে গভীরে থাকে প্রশংসা পাবার আকুতি। তিনি কিন্তু ইচ্ছে, বাসনা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা এ সমস্ত কথা ব্যবহার করেননি। তিনি ব্যবহার করেছেন আকৃতি কথাটা। মানুষের এ জুয়া থাকবেই। যে লোক অপরের হৃদয়ের এই ক্ষুধা নিবৃত্ত করে, সে মানুষকে হাতের মুঠায় রাখতে পারে। অবশ্য খুব কম লোকের পক্ষেই তা করা সম্ভব। এমনকি, কবর দিয়ে যে লোকটা জীবন নির্বাহ করে, সেও এমন লোকের মৃত্যুতে দুঃখিত হবে।

মানুষ এবং জত্তর যবে। তফাৎ এই বে, মানুষ নিজেদের শ্রেড মনে করে। একটা উদাহরণ দিই: মিসৌরিতে আনি যখন ছোট্ট বরসে খামারের কাজ করতাম, আমার বাবা সুন্দর জতের শুয়োর এবং সাদ্য মুখওয়ালা গরুদের বালন-পালন করতেন। গ্রামের মেলাতে আমাদের গরু, শুয়োর প্রদর্শনী হত। আমাদের শুরোরগুলি প্রচুর পুরস্কার পেত। আমার বাবা এই পুরস্কারের চিহ্ন হিসাবে নীল ফিতেগুলিকে একটা লম্বা মুসলিনের সঙ্গে পিন দিয়ে এ’টে রাখতেন আর যখন বন্ধু বা আত্মীয়রা আমাদের বাড়ীতে বেড়াতে আসতেন তখন বড় মুসলিনটির একদিক আমি বরতান, অনাদিক বরতেন তিনি-আর তিনি ফিতেগুলিকে দেখাতেন।

শুয়োরগুলি কিন্তু ঐ ফিতেগুলি সম্পর্কে ছিল দিবিকার, কিন্তু বাবা নিবিকার ছিলেন না। এই পুরস্কারগুলি তাঁর মনে শ্রেষ্ঠত্ব বোৰ জাগিয়ে তুলত। আমাদের পূর্বপুরুষদের যদি এমন শ্রেষ্ঠত্ব বোধ না থাকত তাহলে সভ্যতার জন্যই হত না। এ. না থাকলে মামাদের অবস্থা হত অনেকটা জন্তু জানোয়ারদের মতই। এইরকম নিজেকে শ্রেয় প্রতিপন্ন করবার ইচ্ছা ছিন বলেই একজন অশিক্ষিত দরিদ্র মুদির দোকানের কেরানী আইনের বই পড়তে শুরু করেছিলেন। আইনের বইগুলি তিনি পেয়েছেন একটি ব্যাবেলের মধ্যে। ব্যাবেলটি লাটের বাল ছিল এবং মাত্র আড়াই টাকায় তা তিনি পেয়েছিলেন। এই লোকটির কথা হয়তো আপনারা শুনে থাকবেন। তাঁর নাম ছিল লিঙ্কন। ডিকেসও নিজেকে বড় প্রতিপন্ন করবার জন্য তাঁর অমর উপন্যাসগুলি লিখেছিলেন। ফিষ্টোফার রেন পাথরের সাহায্যে সৃষ্টি করেছিলেন সুর। এর জন্যেই রকিফেলার কোটি কোটি

পৃষ্ঠা:১৩

টাকা জমিয়েছিলেন খরচ করেননি। আর এই ইচ্ছের হলেই আপনাদের শহরের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি প্রয়োজনাতিরিক্ত বড় বাড়ী তৈরী করেছেন। এই ইচ্ছেটা কাছে বলেই সর্বাৰুনিক কায়দার গোষাক পরতে সর্বাৰুনিক গাড়ী চড়তে ইচ্ছে হয় আপনার। আর ইচ্ছে করে নিজের সুন্দর ছেলেমেয়েদের সম্বন্ধে গল্প করতে। এই ইচ্ছে থেকেই বন্ধ ছেলে ডাকাত হয়, গুণ্ডা হয়, পিস্তল চালায়। নিউ- ইয়র্কের একজন ভূতপূর্ব পুলিশ কমিশনার বলেচেন যে, আজকালকার তরুন অপরাধীদের নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বোধ খুব বেশী। পুলিশ তাদের ধরবার পর তাদের প্রথম অনুরোধ হয় খবরের কাগজে তাহাদের কথা বা গল্প পড়া। নিজেদের সম্পর্কে গল্প পড়তে ছবি দেখতে তাদের খুব আনন্দ হয়। শেষ পর্যন্ত বে তাদের বৈদ্যুতিক চেয়ারে মরতে হবে সে কথা একটুও মনে হয় না। নাইনষ্টাইন, রুসডেল্য প্রভৃতি বিখ্যাত লোকদের পাশে তাদের চবি-এতে তাদের খুব আনন্দ হয়। আপনি যদি বলেন আপনার কেমন করে শ্রেষ্ঠত্ব বোধ হয় তাহলে আমি আপনার চরিত্র বলে দিতে পারন। এটাই আপানার সবচেয়ে প্রধান বিষয়। উদাহরণসুরূপ বলা যায় যে, রকিফেলায় চীন দেশে হাসপাতাল তৈরী করবার জন্য টাকা দান করেন, লক্ষ লক্ষ লোকের সেবা করার জন্য অর্থ সাহায্য করেন। এদের তিনি দেখেননি আার কখনো দেখবেন না। এই ভাবে তিনি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন। অন্যদিকে দেখতে গেলে দেখা যার, ডিলিঞ্জার তার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বোধ জাগাত মানুষ খুন করে বা ব্যাঙ্ক ডাকাতি করে। পুলিশেরা যখন তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল তখন সে একটি খামারে গিয়ে বলে আমি ডিলিক্লাব। তার গর্ব ছিল যে, সে জনসাধারণের পয়লা নম্বরের শত্রু। সে বলেছিল, আমি তোমাদের আযাত দেব না, কিন্তু আমি ডিলিকার। ববিফেলার এবং ডিলিঞ্জারের মধ্যেও পার্থক্য ছিল এই যে, কি রকম ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করতেন।

ইতিহাসে দেখা যাবে বিখ্যাত ব্যক্তিদের শ্রেউত্ববোধের খুঁড়ি ঝুড়ি যথার দৃষ্টান্ত। এষন কি জর্জ ওয়াশিংটন পর্যন্ত নিজেকে আমেরিকার মহান প্রেসিডেন্ট বলে লোকে ডাকুক তা চাইতেন। কলম্বাস উপাৰি চেয়েছিলেন-সমুদ্রের অধী- শ্বর এবং ভারতের লাট। হার ইম্পিরিয়াল ন্যাজেই লেগা না থাকলে ক্যাথারিন দি গ্রেট কোন চিঠি বুনতেন না। বিঙ্কনের স্ত্রী বাঘের মত গ্রান্টের স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বলেছিলেন আমি না বলা পর্যন্ত আমার সামনে বসবার মত সাহস আপনি পেলেন কোথায়। কে।উপতিরা অ্যাডবিরাল বার্ডের দকিণ

পৃষ্ঠা:১৪

অপরকে দিয়ে কাজ করানোর উপায়:- যেক আতযানের জন্য টাকা দিয়েছিলেন এই শর্তে যে তাদের নামে ভূগবে ঢাকা পর্বতগুনির নাম হবে। ভিক্টর হুগো চেবেত্তিলেন প্যারিসের নাম বদলে তাঁর নায়েক অনুগরণে নতুন করে নামকরণ করতে। সেক্সপিয়ারের মত শক্তিশালী লেখকও তার পরিবারের জন্য পদক এবং পুরস্কার চেয়েছিলেন। অনেক সময় লোকেরা করুণা এবং মনোযোগ পাবার আশায় শয্যাশায়ী হয়ে থাকে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ম্যাককিনবের স্ত্রী স্বামীকে তাঁর শয্যার পাশে ঘন্টার পর ঘনটা ধরে রাতেন। স্বামী গ্রীকে বুষ পাড়াবার চেষ্টা করতেন এবং রাষ্ট্রের জরুরী ফাজ তাতে ব্যাহত হত। নিজ মনোযোগ পাবার জন্য তিনি এমন কি নকল দাঁত বসানোর সময়ও চাইতেন স্বামী কাছে থাকুন। তিনি একট বিশেষ প্রয়োজনে একদা গ্রীকে দাঁতের ডাক্তারের কাছে বসিয়ে একটা বিশ্রী দৃশ্যের কষ্ট করেছিলেন। রেখে দাওয়াতে গ্রামেরী রবার্টস বাইনহার্ট আমাকে একজন জ্জেন, স্বায়াবতী তরুনীর কথা বলেছিলেন, বেকি নিজের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। তিনি আমাকে আরও বলেছিলেন, একদিন এই মেয়েটিকে সংতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল-হয়ত তাঁর বয়স। বুঝতে পেরেছিলেন আর তাঁর নিয়ে হবে না, নিঃসঙ্গ বছরগুলি এগিয়ে আসছিল এবং আন্য করবার মত কিছু ছিল না সামনে। দশ বছর তিনি বিছানায় কাটিয়েছিলেন। তাঁর না, প্রচুর পরিশ্রম করেছিলেন দশ বহুর। চারতলার তাঁর ঘরে খাবার নিয়ে যাওয়া, পরিচর্যা করা ইত্যাদি করতে করতে পরিশ্রান্ত হয়ে তিনি একদিন বয়াতাম থেকে বিদায় নিলেন। কয়েক সপ্তাহ এই শয্যাশায়ী মহিলাটি শুয়েই রইলেন, কিন্তু তারপর উঠে পড়লেন বিচানা ছেড়ে এবং স্বাভাবিক হলেন। কোন কোন বিশেষজ্ঞ মনে করে। যে দৈনন্দিন বাস্তবের বৃঢ় পৃথিবীতে অনেকে থাকতে না পেরে পাগদাদির স্বপ্নরাজ্যে প্রবেশ করে সত্যি সতি। পাগল হয়ে যান। আপনার বয়স যদি পনেরো বছরের বেশী হয়, আর যদি আপনি নিত্রইয়র্কে থাকেন তাহলে আপনার পাগল হবাদ সম্ভাবনা কুড়ির মধ্যে এক।  পাগল হবার কারণ কি? এক কথায় এর উত্তর দেওয়া যায় না। কিন্তু আমরা জানি কতকগুলি বোখ যেমন- সিফিলিস মস্তিষ্কের কোষকে নষ্ট করে দেয় এবং তার ফলে লোক পাগল হয়ে যায়। অর্ধেক লোকই অসুখের ফলে পাগল হয়। যেমন নদ্যপান, আহত হওয়া, বিষ খাওয়া ইত্যাদি। কিন্তু বাকী গার্থব এবং এইটেই সবচেয়ে দুঃখের

পৃষ্ঠা:১৫

বিষয়-বাকী অর্ধেকের মস্তিষ্কের কোষ সুন্থই থাকে। মরবার পর পরীক্ষা করে দেখা গেছে তাদের মস্তিস্কের কোষগুলি আপনার বা আমার মতই সুস্ব। এই লোকগুলি কেন পাগল হয়? এই প্রশ্ন আমি করেছিলাম আমাদের দেশের বিখ্যাত একটি মানসিক রোগের প্রতিষ্ঠানের কর্তাকে। এই ডাক্তার নানারকম সম্মান এবং পুরস্কার পেরেছেন পাগলামি সম্পর্কে গবেষণার জন্য। তিনি বললেন, বেন লোকে পাগল এয় তা জানা নেই। কেউই তা নিশ্চিতভাবে জানে না। কিন্তু তিনি আমাকে বলেছিলেন বে, বাস্তব জগতে সুস্থ অবস্থার অনেকে খাতির না পেয়ে পাগল হরে কিছুটা ভাল বোধ করেন। তারপর তিনি একটি গল্প বলেন আমাকে। আমার কাছে একজন মহিলা রোগী আছেন যাঁর বিবাহিত জীবন সুখের হরনি। তিনি চেয়েছিলেন ভালবাসা, যৌন তৃপ্তি, ছেলেপিনে এবং সামাজিক সম্মান। কিন্তু জীবনে তাঁর সমস্ত আশাই ব্যর্থ হয়েছে। ভালবাসেনি, সে এমন কি তার সঙ্গে খেতেও বসতেন না। তাঁর স্বামী তাঁকে তিনি তার উপরের ঘরে একা খেতেন, তাঁর কোন ছেলেমেয়ে চিন না, সামাজিক কোন প্রতিম ছিল না। তিনি পাগল হয়ে গিয়েছিলেন-কল্পনায় তিনি তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করেছিলেন, এবং তাঁর পূর্ব নাম ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন। এখন তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইংল্যাণ্ডের বড় ঘরে তাঁর বিয়ে হয়েছে। তাঁকে লেডি স্মিত বলে ডাকবার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর আরো বারণ। যে প্রতি রাত্রে তাঁর একটি করে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। যখনি আমি তাঁকে দেখতে যাই তিনি বলেন ডাক্তার বাবু কাল রাত্রে আমার একটি ঢেলে হয়েছে। খুবই করুণ ব্যাপার? এ বিষয়ে দ্বিষত আছে। তাঁর চিকিৎসক আমাকে বলেছেন, যদি তাঁকে সারাতে পারবার ক্ষমতা থাকত, তাহলেও আমি তাঁকে সারাতাম না। তিনি এখন অনেক বেশী সুখে আছেন। দল হিসেবে পাগলেরা আমাদের চাইতে অনেক বেশী সুখে থাকে। অনেকের পাগল খাকতে ভালই লাগে। আর লাগবেই বা না কেন? তাদের সমস্যার সমাধান তারা করে ফেলেছে। তারা আপনাকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার চেক বা আগা খাঁ-এর কাছে চিঠি দিয়ে আপনাকে পাঠাতে পারে তাঁর সঙ্গে পরিচর করিয়ে দেবার জন্য। বাস্তব জীবনে তাদের যে শ্রেয়ত্ববোধের আকাঙ্খা ছিল কিন্তু তা পায়নি কর্ণনো, স্বপ্নের পৃথিবীতে তারা তা পেয়েছে। যদি লোকেরা শ্রেষ্ঠত্ব বোধ করবার আশায় পাগল হয়ে যেতে পারে, তাহলে তেবে দেখুন, যাঁরা সুস্থ আছেন তাঁদের আমরা কতখানি সাহায্য করতে পারি আমাদের প্রশংসার সাহায্যে।

পৃষ্ঠা:১৬

অপরকে দিয়ে কাজ করানোর উপায়:- আমার যতদূর জানা যাড়ে বছরে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা মাত্র দু’জনে মাইনে পেরেছেন। এদের নাম হলো ওয়াল্টার ক্রাউনসার এবং চার্লস শয়াব। অ্যানড্ কার্নেগী কেন চার্লস্ শয়াবকে বছরে প্রার পঞ্চাশ লক্ষ টাকা ব্য দৈনিক প্রায় পনের হাজার টাকা মাইনে দিছেন? এর কারণ কি শরাব একজন অতিরিক্ত বুদ্ধিযান লোক ছিলেন? এর কারণ কি তিনি ইস্পাত সম্বন্ধে অন্যদের চাইতে বেশী জানতেন? তা নয়। চার্লস্ শরাব নিজে আমাকে বলেছেন, তাঁর তাঁবে অনেকেই কাজ করেন যাঁরা তাঁর চাইতে ইস্পাত উৎপাদন সম্পর্কে অনেক বেশী জানেন। শয়াব বলেন বে, তাঁকে এই মাইনে দেওয়া হয় তার প্রধান কারণ হল তিনি মানুষদের সঙ্গে ব্যবহার করেন সুন্দরভাবে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেমন করে তিনি তা করেন। তিনি ল বলেছিলেন সে কথাগুলি চিরস্থায়ী ব্রক্সধাতুতে লিখে প্রতিটি স্কুলে, বাড়ীতে এবং অফিসে টাঙ্গিয়ে রাখা উচিত। ব্রোজিলে বছরে ক’ইঞ্চি বৃষ্টি পড়ে বা ল্যাটিন ব্যাকরণের ক্রিয়াপদ জেনে স্কুলে ছাত্রদের কিছুই উপকার হবে নল-যদি তারা এই কথাগুবি না জানে। এই কথাগুলি মেনে চললে আমাদের জীবনের বারাই বদলে যাবে।শরাব বলেছিলেন: শ্রীমার মনে হয়, মানুষের মনের উৎসাহ জাগানো আমরা সবচেয়ে বড় সম্পদ। লোকদের মধ্যেকার গুণকে বাড়ানো যায় তখন, বর্ণন সেই গুণকে প্রশংসা এবং উৎসাহ দেওয়া হয়।উচুতে যিনি আছেন তিনি যদি নিম্নপদস্থ লোকদের সমালোচনা করেন তাহলে মানুষের উচ্চাশা কমে বার। আমি কাউকেই সমালোচনা করি না। আমি মানুষকে কাজ করবার প্রেরণা দেওয়ায় বিশ্বাস করি। আমি ক্রমাগত প্রশংসা করবার কথাই ভাবি যার দোষ বার করাকে ষুণ্য করি। যদি আমি কোন কিছুকে ভাল মনে করি তাহলে আমি সমস্ত হৃদয় দিয়ে তাকে সমর্থন করি এবং প্রচুর প্রশংসা করি শয়ার তাই করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ কি করেন? ঠিক এর উল্টো। তিনি কোন ভুল হলে চেঁচিয়ে মড়াকে জাগিয়ে তোলেন, কিন্তু প্রশংসার কিছু থাকলে চুপ করে যান। শরাব বলেছিলেন, জীবনে অনেক লোকের সঙ্গে মিশেছি-বড় বড় লোক তাঁদের মবো আছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত এমন কোন লোক দেখিনি ধাঁরা প্রশংসা করলে তাল কাম করেন নি, সমালোচনা করনে যাঁদের উৎসাহ কমেনি।

পৃষ্ঠা:১৭

তিনি বলেছিলেন, খ্যানচু কার্ণেগীর বিবাট সাফল্যের মূলেও তাই। কার্ণেগী তাঁর সহকর্মীদের সম্পর্কে প্রকাশ্যে এবং গোপনে প্রশংসা করতেন। তিনি তার সহকর্মীদের প্রশংসা করার কথা নিজের কবরের উপর লিখে রাখবার জন্য একটি শাবক প্রশ্নত করেন: এখানে শুরে আছেন যিনি তিনি তার চাইতেও বৃদ্ধিযান লোকদের নিজের কাছে যানতে পারতেন। বফিফেলারের সাকল্যের বুলেও তাই-গান্তবিকভাবে অন্যের কাজকে তাল বলা। একবার ববিকেলাবের একজন পর্টএর করতে গিরে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পানিতে দেন। করতে পারতেন নিশ্চয়। তিনি জানতেন তঁর দক্ষিণ নামেরিকাতে ব্যবনায় তিনি পর্টবারকে সমালোচনা পার্টনার যতদূর সম্ভব করেজেন। তিনি যে ঘটনা আার উল্লেণয় করলেন না। ফলে রকিফেরার কিছু প্রশংসা করবাব যত রাস্ত। খুঁজে পেলেন-তিনি বললেন যে, “এই ব্যাপারে শতকরা যাট তাগ টাকা ফেরত পাওয়া গেছে এটা খুণ ভাল কাম হয়েছে। উচু তরফেও এত ভাল কাজ সব সময়ে করা সম্ভব নয়।’ দিগফেস্ত এককালে ব্রডওয়েকে উদ্ভাসিত করেছিলেন। তিনি আমেরিকান মেরেদের গৌরবান্বিত করবার সুঙ্গা উপারটি জানতেন। তিনি বস্তুবার অগুন্দরী মেয়েদের মঞ্চে নিয়ে গিয়ে রহস্যময়ী করে জনসাধারণের কাছে উপস্থিত করেছেন। তিনি জানতেন প্রশংসা এবং বিশ্বাসের মুনা-তিনি মেয়েদের বিশ্বাস জাগিয়ে দিতেন যে তারা সত্যিই হুহুরী। তিনি কাজের মানুষ ছিলেন। তিনি কোরাসের মেয়েদের মাইনে সাপ্তাহিক ত্রিশ ডলারের পরিবর্তে একশে। পঁচাত্তর ডলার করে দেন? উদ্বোধন রাত্রে তিনি প্রত্যেক অভিনেতা অভিনেত্রীকে টেলিগ্রাম পাঠা- তেন আর প্রতিটি কোরাসের মেয়েকে উপহার দিতেন প্রচু। গোলাপ দূর। একবার আমার না খেয়ে থাকবার পাগলামি ফোটে। আামি পর পর ছ’দিন ছ’রাত্রি না খেয়ে থাকি। খুব কঠিন নয় কিন্তু ব্যাপারটা। দু’দিনের শেষের দিকে আমার ক্ষিদে দ্বিতীয় দিনের ক্ষিদের চেয়ে কম চিন। অথচ আমরা জানি মানুষ তার পরিবার বা মালিক তার কর্মচারী-  দের ছ’দিন না খাইয়ে রাখাকে পাণ বলে মনে করেন। আর এ’রাই অন্য লোককে ছু’দিন ময়, ছ’সপ্তাহ নয় হ’বড়ারেও হাদয় থেকে তাদের কাজের প্রশংসা করেন না। প্রশংসা তাঁদের কাছে খাদ্যের যতই প্রয়োজনীয়। কোন কোন পাঠক এ পর্যন্ত পড়েই হয়ত বলেছেন, এতো পুরনো কথা- জগাখিচুড়ি ব্যাপার-এক কথায় তোষামোদ করা। তোষামোদ আমি করে দেখিছি বুদ্ধিমান লোকদের কাছে তা ঠিক খাটে না।

পৃষ্ঠা:১৮

অপরকে দিয়ে কাজ করানোর উপায়:- সত্যি কথা এই বে তোঁযামোদের ফরে বিবেচক লোকেরা মোটেই তুই হন না। কারণ তোষামোদ হচ্ছে অগতীর। তোষামোদ জিনিসটা স্বার্থ- পরতায় ভরা আার তা অন্তর থেকে আসে না। তোমারোদে কাজ না হাওয়াই ভাল এবং অধিকাংশ সময়ে এতে সত্যিই কাজ হয় না। এটা সত্যি কখ। বে, কোন লোক প্রশংস। পাবার জন্য এতই কাতর ও ক্ষুধার্ত থাকেন যে বাজে প্রশংসাও টপাটপ নিবে ফেলেন তাঁরা, ক্ষনশনরিক্লষ্ট মানুষের বেহন যান বা হায়েক চৌপথেতে আটকার না। ডিভানি তাই-এরা বহুবার বিয়ে করেছিল। বিয়ের বাজারে তাঁদের এখন সাকল্যের কারণ কি? তারা বস্তু সিনেমা অভিনেত্রী এবং টাকাওয়ালা মেয়েদের বিয়ে করেছিল। কেনন করে? একজন মহিলা একটি প্রবন্ধে লিখেচেন, এ বকর যেহেদের মুগ্ধ করার কৌশন বহু বোকের কাছেই বন্ধ মুগেই রহস্যময় ঘটনা। আর একজন মহিলা, যার পুরুষদের সম্পর্কে বেশ বাহ্-বিচার আছে আমাকে বলেছিলেন, তোষামোদ করবার কৌশল এরা ভালভাবে আয়ত্ত করেছে-এ রকক্ষ আর দেখিনি। আজকাল আর তোষামোদ লোকে তেমন করতে পারে না। এই বাস্তব এবং দুঃখময় জগতে তোষামোদের প্রচলন প্রায় উঠেই গেছে। কিন্তু আনি নিশ্চিত ভাবেই বলছি এই তোষামোদ করাই তাদের সাফল্যের গোপন রহস্য। এমন কি রাণী ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত তোষামোদে তুই হতেন। ডিসরেনি বলেছেন রাণীর সঙ্গে কাজকর্ম করবার সময় তিনি বেশ ভাল করেই তাঁকে তোষামোদ করতেন। ডিসরেনি কথার মধ্যে তোষামোদের প্রলেপ সাখাতেন সিমেন্টের প্রহেণ লাগানোর মত করে। মনে রাখবেন ডিসরোল ছিলেন বৃটিশ সাম্রাজ্যের এক বুরন্ধর শাসক। তিনি আচারে ব্যবছায়ে ছিলেন ৬৪তার প্রতিমূর্তি। এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার যাতে কাজ হরেছিল আপনার বা আনার তাতে যে কাজ হবেই তার কোন মানে নেই। শেষে হিসেব দিলে দেখ। যার বে তোষামোদ করে ডালোর চেয়ে শরাপই হয়েছে বেশী। তোষাযোদ জিনিসটা বোটেই বাঁটি নয়, জান। আর জাল করা টাকার মতই এর দুরবস্ত। হলার সম্ভাবনা-চালাতে গেলে বিপদ ঘটতে পারে। কোন একটা ব্যাপার ভাল লাগা আর তোষামোদ করার নব্যে ডি পার্থক্য। উত্তরাটা সহজ-একটা হলো আন্তরিক অন্যটা ডান। একটা আসে হৃদয় থেকে অপরাটা নেহাত একটা বুবের কথা, একটায় সার্থ গদ গদ করছে অন্যটা নিঃস্বার্থ। একটা পৃথিবীর লোক পড়ল করে অন্যটা খুণা করে।

পৃষ্ঠা:১৯

জেনারেল ওব্রেগণের একটি মূর্তি আমি দেখে এসেছি সম্প্রতি মেক্সিকো সিটিতে গিয়ে। তার জীবন দর্শন থেকে এই বাণীটি লেখা আছে তাঁর আবক্ষ মূর্তিটির নীচে: যে শত্রু তোমাকে আক্রমণ করে তাকে ডর পেরোনা, কিন্তু যে বন্ধু তোমাকে তোষামোদ করে তাকে তয় কর। না। না। না। সত্যি আমি তোমায় তোষামোদ করতে উপদেশ দিচ্ছি না। আমি নতুন ভাবে জীবন যাপনের সখা বলছি। আবার বলছি আমার উদ্দেশ্য হল নতুন তাবে জীবন যাপনের কথা বলা। সনস্ত তোষামোদই সপ্তা প্রশংসা। আমি এক সময় তোষামোদের এক সংজ্ঞা পড়েছিলাম। সেটা এখানে প্রকাশ করার প্রয়োজন বোধ করছি: অন্যে নিজের সম্পর্কে যা তাবে তার নামই হচ্ছে তোষামোদ। র‍্যালফ ওবানজো এমারসন বলেছিলেন, যে ডাঘাতে বা তাবেই তুমি বলনা কেন তোমার চরিত্র তাতে প্রকাশ পাবেই। যদি একমাত্র তোষামোদেই আমাদের কাজ হত তাহলে সবাই তোষামোদ করত এবং মানবিক সম্পর্ক সম্বন্ধে প্রত্যেকেই ওস্তাদ হত। আমরা যখন কোন বিশেষ সমস্যার কথা ভাবিনা তখন শতকরা ৮৫ তাগ সময় আমরা তাবি আমাদের নিজের সম্পর্কে। এখন যদি আমরা নিজেদের সম্পর্কে একটু কম তাবি এবং অন্য লোকদের তাল গুণগুলির কথা ভাবি তাহলে আর তোষামোদ করার স্পৃহা হবে না। তোষামোদ করা মাত্রই লোক বুঝতে পারে যে তা ফাঁকা। এয়ারব্রন বলেছিলেন: একভাবে দেখতে গেলে সমস্ত মানুগই আমার চাইতে বড়, কারণ প্রত্যেকের কাড়েই আামার শিখবার কিছু আছে। এমারসনের সম্পর্কে যদি কথাটা সত্যি হয় তাহলে আমাদের কাছে তা কি হাজার গুণ বেশী সত্য নয়? আত্মন আমরা নিজেদের কথা ভুলি। আত্মন আমরা প্রত্যেকে বত উস্নেখযোগ্য কাজ করেছি তা সব ভুলে বাই। নিজেদের সঙ্গে ভুলে যাই যে কাজ আমাদের সামনে পড়ে আছে, ভুলে যাই নিজেদের ভাবের কথা আর তারপর আগুন অন্যের কি ডাল আছে তা খুঁজে বার করি। তারপর তোষামোদ করার কথা ভুলে যাই। হাসুন আমরা হাদয় থেকে আমাদের সত্যি যা ভাল লাগছে তা জানাই। আমরা যদি হৃদয় থেকে কোন কাজ সমর্থন করি এবং প্রশংসায় পঞ্চমুখ হই তাহলে আমাদের কথাগুলি লোক সারা জীবন হররণ করবে, এমন কি আমরা সে কণাগুলি ভুলে গেলেও তাদের মনে থাকবে।

পৃষ্ঠা:২০

তৃতীয় অধ্যায়

অপরের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করুন প্রত্যেক গ্রীষ্মে আমি একটা জায়গায় মাছ ধরতে যাই। জায়গাটার নাম সাইন। ব্যক্তিগতভাবে আ।ই ভালবাসি স্ট্রবেরীর সঙ্গে ক্রিম। কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে মাছেরা পোকা তালবাসে। তাই যখন আমি মাছ ধরতে বাই তখন আমার কি ভাল লাগে যে চিন্তা করি না। আমি ভাবি তারা কি চার। আমি বঁড়শিতে স্ট্রবেরী আর ক্রীম দেই না। তার বদলে আমি একটি পোকা দিয়ে চোপ ফেলি। মানুষকে বাগে আনতে এই সাধারণ উপায়টি প্রয়োগ করুণ না কেন। লয়েড জর্জ তাই করেছিলেন। যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেমন করে অতদিন তার রাজনৈতিক শক্তি অক্ষুন্ন চিল-তিনি উত্তর দেন যে, সাহু যেমন টোপ খায় তেমন টোপ সরবরাহ করেছিলেন আমাদের অভাব নিয়ে আলোচনার কোন অর্থ হয় না। অবণ্য এ কথা সত্যি বে আপনি যা চান যে সম্পর্কে আপনার আগ্রহ আছে-চিরকাল থাকবেও। কিন্তু আর কারুর সে ব্যাপারে আগ্রহ নেই। যার সবাই কিন্তু ঠিক আপনারই যত: আমরা কি চাই তাতেই আমাদের আগ্রহ। অতএব অন্য একটি লোককে বাগে আনতে গেলে তাঁর সদস্য। সম্পর্কে কথাবার্তা বলাই ভাল। কেমন করে সে সমস্যা সমাধান করবে তা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। কাল যদি কাউকে দিয়ে কিছু করাতে হয় তবে কথাটা মনে রাখবেন। আপনার ছেলের নিগারেট খাওয়া ছাড়াতে হলে তাকে লম্বা বক্তৃতা দেবেন না, বলবেন না আপনি কি চান। এর চাইতে বলুন যে সিগারেট খেলে হয়ত তার স্কুলে ফুটবল দলে স্থাণ হবে না বা একশো গজ দৌঁড়ে প্রথম হবার পক্ষে বাঁধার সৃষ্টি হতে পারে। এই কথাটা সর্বদা মনে রাখা প্রয়োজন। আপনি ছোট ছেলেমেয়েদের, বায়ুরদের বা শিম্পাঞ্জিদের-যাদের দিয়ে কিছু করাতে চান কথাটা মনে রাখবেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একবার ব‍্যানক্ ওয়ালতো এমারসন এবং তাঁর পুত্র দু’জনে মিলে একটা বাছুরকে শস্যের গোলায় নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু ‘তাঁর। সচরাচর লোক যে ভুল করে, তেমনি ভুল করেছিলেন। এমারসন বাছুরটিকে ঠেলছিলেন এবং তাঁর পুত্র টানছিলেন-তারা কি চান কেবন তাহাই তাঁরা

পৃষ্ঠা ২১ থেকে ৪০

পৃষ্ঠা:২১

ভেবেছিলেন। অতএব বাচ্চুরাটা পা শক্ত করে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। বাড়ির আইরিশ ঝি তাঁদের এই অবস্থা দেখছিল। সে প্রবন্ধ লিখতে পারত না বা বইও লিখতে পারত না কিন্তু তার সাধারণ বুদ্ধি ছিল। সে বাচুরের মূর্বে আঙ্গুন চুকিয়ে দিতেই কান্ডুরাটা আঙ্গুর চুষতে লাগল, এর পর তাকে শস্যের গোলার নিবে যাওয়া কঠিন হল না। আপনার অন্যের পর থেকে আাজ পর্যন্ত যা করেছেন তার প্রত্যেকটির উদ্দেশ্য হিল আপনি কিছু চেয়েছিলেন। ফিন্তু আাপনি যে-বাবে রেডক্রসকে পাঁচশো টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন বেবার। সেবারও আপনি দিছু চেয়েচিবেন। আপনি চেরেছিলেন অশর নিঃশ্বার্থ একটি পবিত্র কাজ করতে।

আপনি যদি তার চাইতে পাঁচশো টাকাকেই বড় মনে করতেন তাহনে আপনি চাঁদা দিতেন না। অবশ্য আপনি হয়ত দায়ে পড়ে, লজ্জার গতিরে টাকাটা দিয়েছেন বা কোন একটি মঞ্চের আপনাকে অনুরোধ করাতে টাকাটা দিয়েছেন। কিন্তু একটা জিনিষ নিশ্চিত বে, আপনি ঐ চাঁদাটা দিয়েছিলেন কারণ, আাপনি তা থেকে কোন উপকার পেরেছেন। এক অধ্যাপক তাঁর একখানি বইতে (Influencing Human Behaviour) বিগেয়েন: আমরা বা করি তার মুলে খায়ে আমাদের প্রধান ইচ্ছে। অতএব যারা অন্য লোককে বশে মানতে চান, ব্যবসায়ে রাজনীতিতে বা অন্য কোন ক্ষেত্রে তাঁদের কর্তব্য হল অন্যদের মনে নিজের বাঞ্ছিত কাজটা সম্পর্কে প্রবল আগ্রহ জাগিয়ে দেওয়া। যিনি তা করতে পারেন সমস্ত পৃথিবী তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করবে, জার দিনি করতে পারেন না তাকে একনা চলতে হবে। শ্যান, কার্নেগী ছিলেন দরিদ্র স্কটিশ বানক। কাজ শুরু করেন ঘণ্টার দশ পরসা হিসেবে। কিন্তু জীবনে তিনি প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা দান করেন। ইনি ছোটবেলাতেই বুঝেছিলেন যে অন্য লোক কি চায় সে সম্পর্কে কথা বলনে। অন্য লোককে বশে আনা যায়। তিনি যাত্র চার বছর স্কুলে পড়েছিলেন, কিন্তু তিনি মানুষের চালনা করতে শিখেছিলেন ভাল ভাবেই। একটা উদাহরণ দিচ্ছিঃ তাঁর শালী একবার মুস্কিবে পড়েছিলেন তাঁর ছেলেদের নিয়ে। ছেলে দুইট ইয়েন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতো-নিজেদের নিয়েই মত্ত তারা। মায়ের কাছে বে চিঠিপাত্র দেওরা দরকার যে কথা একটিবারও ভাবতো না। অথচ শ বেচারী এদিকে চিঠির পর চিঠি দিরে উত্তর না পেয়ে ভেবে অস্তির হয়ে পড়তেন। কার্নেগী তম পাঁচশো টাকা বাজি রাখলেন। তিনি বলবেন, না চাইতেট তিনি পত্রপাঠ চিঠির উত্তর পাবেন। বাজি ধরতে একজন রাজিও হলেন। তিনি

পৃষ্ঠা:২২

অপরের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করুন:- তখন ঐ ছেলেদের দু’টি চিঠি লিখলেন এবং চিঠিতে বেশ ঠাট্টা ইয়ার্কি করে শেষে পুনশ্চ দিয়ে দেখেন যে, তিনি প্রত্যেকের জন্য পঁচিশ টাকার নোট পাঠাচ্ছেন চিঠির সঙ্গে কিন্তু তিনি নোটগুলি পাঠালেন না। পত্রপাঠ উত্তর এল, যেসোমশাইকে যথারীতি ধন্যবাদ দিয়ে। তারপর তারা কি লিখেচিল তা বুঝতে কষ্ট হয় না। কাল আপনি হয়তো কাউকে দিয়ে কোন কিছু করাতে চাইবেন। কথা বলবার আগে ভাবুন, কেমন করে তাকে এই কাজটিতে উৎসাহিত করা যায়। এই প্রশ্নটি যনে জাগণে আমরা পাগলের যত ছুটে গিয়ে অন্য লোককে আমর কি চাই বুঝাতে বসব না। তা হবে অর্থহীন। নিউ ইতর্কের একটি ছোটেলের নাচঘর আমি তাড়া নিতাদ প্রত্যেক সীজনে কুড়ি দিন করে। একবায় একটা সীজন দারস্ত করার ঠিক আগেই আমাকে জানানো হল যে, আগের চাইতে আমাকে তিন গুণ বেশী ভাড়া দিতে হবে। এ গংবাদ আমার কাছে এল যবন, তখন চতুদিকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে আর টিকিট সমস্ত বিলি হয়ে গিয়েছে। আমি সুভাবতই এই অতিরিক্ত ডাড়ার টাকা দিতে বাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি কি চাই তা হোটেনকে জানিয়ে কি লাভ হত? তাদের টাকা পাওয়াতে ছিল আগ্রহ। অতএব দিন দু’য়েক পরে আমি হোটেলের ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করলাম।

আমি তাঁকে বলেছিলাম, আাই আপনার চিঠি পেয়ে একটু স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু স্থাপনার কোন দোষ নেই। আমি আপনার মতো অবস্থায় ঐ রকম চিঠিই লিখতাম। ম্যানেজার হিসাবে আপনি নিশ্চয়ই দেখবেন এই হোটেল থেকে কত বেশী লাভ করা সম্ভব। যদি আপনি তা না করেন তাহলে আপনার চাকরী যাবে-আার চাকরী যাওয়া উচিতও। এখন দেখা যাক এর ফলে যাপনার সুবিধে কি হবে, আর অসুবিধেই বা কি কি হতে পারে। তারপর একটা প্যাড থেকে একটা কাগজ ছিঁড়ে নিয়ে একটা নম্বালছি লাইন চানলাম। একদিকে লিখলান ছবিধে-অন্যদিকে লিখলাম অসুবিধে। সুবিধের দিকে লিখলাম, বলনাচের ঘর যদি ফাঁকা পাওয়া যায়, তাহলে আপনাদের বেশ সুবিধে হবে, কারণ ঘরটা বলনাচের জন্য ব্যবহার করলে অনেক বেশী টাক। পাওয়া ধার-অন্তত বক্তৃতার জন্য যে তাড়া পাচ্ছেন তার চাইতে বেশী টাকা পাওয়া যায়। একটা সীজনে যদি আমি কুচি দিন আপনার বলনাচের ঘর আটকে রাখি তাহলে আপনার লাড় কম হবে।

পৃষ্ঠা:২৩

এবার আত্মন দেখা যাক কি অত্মবিধে হতে পারে। আমার কাছ থেকে আয় বাড়াতে গিয়ে আসলে আপনি আয় কমিয়েই ফেলেছেন, কারণ আপনি যে ভাড়া চাচ্ছেন তা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। আমাকে অন্য কোন হল ভাড়া করতে হবে। আপনার আর একটা অসুবিবেও এতে হবে, বক্তৃতা শুনবার জন্য সংস্কৃতিবান এবং শিক্ষিত লোকেরা দলে দলে এই হোটেলে আসেন। এর ফলে আপনার বিজ্ঞাপনও বেশ ভালই হয়। সত্যি কথা বলতে কি, আপনি যদি পঁচিশ হাজার টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেন তাহলেও এতগুলি লোক আপনার হোটেল দেখতে আসবে না। একটা হোটেলের পক্ষে সেটা খুব ভাল নয় কি? এভাবে কথা বলতে আমি এই দু’টি অসুবিধের কথা কাগজে লিখলাম- তারপর ম্যানেজারের কাছে সে কাগজটা এগিয়ে দিয়ে বললাম, আপনি দয়া করে এগুলি ভেবে দেখুন, তারপর আপনার সিদ্ধান্ত জানাবেন। পরদিনই আমি একখান। চিঠি পেলাম। আমাকে জানানো হয় যে, শতকরা তিনশো ভাগের পরিবর্তে ভাড়া বাড়ানো হল শতকরা মাত্র পড়াশ ভাগ। এখানে খেয়াল রাখবেন যে, আমি কি চাই তা বলতে এমনি একেবারেই অথচ ভাড়া অনেক কম পেলাম। আমি সব সময় ম্যানেজার তদ্র লোকাট ফ্রি চান সে সম্পর্কে কথা বলেটি। অথচ গান যদি সাধারণ বানুষ বা করে তা করতাম-আমি যদি ম্যানে জারের অফিসে গিয়ে রেগে ফেটে পড়তাম, আপনি শতকরা তিনশো ভাগ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন-একি মামদোবাজি পেয়েছেন? আপনি জানেন যে আমি বিজ্ঞাপন দিয়েছি, টিলিটিও চাপিয়েছি, তারপর ভাড়া বাড়াবার অর্থ ফি? আমি এ তাড়া দেব না। তাহলে কী হতে পারত? তর্ক, ঝগড়ার অন্ত থাকত না। আপনারা জানেন কেমন করে ঋগড়া শেষ হয়। এমন কি আমি যদি তাঁকে বোঝাতেও পারতাম যে ভুল তাঁরই, তবু তাতেও কোন লাভ হত না। তাঁর গর্বিত মন কখনো পরাজয়কে স্বীকার করতে পারত না-তাড়াও কমত না। হেনরী ফোর্ড মানুষের সঙ্গে ব্যবহার সম্পর্কে একটি ভুলর উপদেশ দিয়েছেন: -বদি-সাফল্যের কোনো গোপন রহস্য থাকে তা হলো অন্য লোকের দৃষ্টিভঙ্গী এবং নিজের দৃষ্টিভঙ্গী এই দুই ভাবেই কোন ঘটনাকে দেখাবার ক্ষমতা। খুব ভাল কথা। কথাটা বার বার বলার মত। কথাটা কত সরল, কত সত্য-যে কোন লোকেরই এটা এক নজরে বুঝতে পারা উচিত। অথচ শতকরা ৯০ জন লোকই এ কথাটা শতকরা ৯০ ডাগ সনর ভুলে যান।

পৃষ্ঠা:২৪

অপরের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করুন:- একটা উদাহরণ চান? কাল সকালে আপনার কাছে যে চিঠিগুলি আসবে সেগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন যে অধিকাংশ চিঠিই এই বড় নিয়মকে অবহেলা করে। এই চিঠিটার কথা ধরা যাক। চিঠিখানা একটি বিজ্ঞাপন এজেন্সিব, লিখেয়েন একজন রেডিও ডিপার্টমেন্টের কর্তা। এই কোম্পানীর প্রচুর শাখা-প্রশাখা সমস্ত মহাদেশে চড়ানো। দেশের সমস্ত রেডিও রেশদের ম্যানেজারের কাছে এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল। (ব্র্যাকেটের মধ্যে আমার নিজযু হত লিখে ইলাম।) নিস্টার জন ব্লাংক, ব্ল্যাংকডিল, ইন্ডিয়ানা। প্রিয় সিস্টার প্ল্যাংক,

‘রেডিওর ক্ষেত্রে আমাদের বিজ্ঞাপন কোম্পানী শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে চায়।’:- (আপনার কোম্পানী কি চায় তা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যাথা নেই। আমার নিজেরই অনেক সমস্যা রয়েছে। ব্যাংক আমার বাড়ির মর্টগেজ রাতারাতি বন্ধ করে দিচ্ছে, পোকারা ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে, কাল ফটকা বাজার মন্দ। গেছে, আজ সকালের বাট্‌টা পোনের ট্রেন আমি ধরতে পারিনি। জোনসের বাড়িতে নাচের নিয়ন্ত্রণ পাইনি কাল রাত্রে। ডাক্তার বলেছে আমার বক্তের উচ্চ চাপ আছে; আরো অনেক রকম অসুখ আছে। এর উপর? সকালে অফিসে এসেই দেখি একজন নিউইয়র্ক থেকে লিখছেন তাঁর কোম্পানী কি চায়। লোকটির বদি কোন ধারণা থাকত এমন চঠি লেখার ফল কি হয়। সত্যি লোকটির এতাইন ঘোড়ার যাস কাটার ব্যবসায়ে বাওয়া উচিত ছিল।)

এই কোম্পানীর জাতীয় বিজ্ঞাপনের জন্য বিরাট আয় প্রথম বার থেকেই হয়। তারপর বছরের পর বছর আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে কলেছি।’ (আপনারা বড়। আপনাদের প্রচুর টাকা। সবচেয়ে উঁচুতে আপনাদের স্থান। কিন্তু তাতে আমার তারি বয়ে গেছে। আপনি এত বড়ই হন না কেন তাতে আনার কিছু আসে যায় না। আপনাদের যদি সামান্য চুড়ই পাণীর বুদ্ধিও থাকত, ‘তাহলে আপনারা নিজে কত বড় তা না জানিয়ে আমরা কত বড় তা বলতেন। আপনাদের বড় বড় কথা আমাকে ছোট করে তোলে।)

পৃষ্ঠা:২৫

‘আমরা চাই আমাদের কোম্পানী ইত্যাদি ইত্যাদি…- (আপনারা চান। আপনারা আস্ত গাধা। আমি জানতে চাই না আপনারা কি চান, ‘মুসোলিনি কি চার বা বিং ক্রসবি কি চায়। শেষ কথ। বলে রাখছি, কেবল আমি কি যে চাই তার সম্পর্কেই আমার গরজ আছে-অথচ আপনাদের চিঠিতে কোথাও সে সম্পর্কে একটুও উচ্চবাচ্য করেন নি।

‘অতএব আমাদের কোম্পানীর নাম আপনাদের তালিকায় স্থান দেবেন।’ (সাহস কম নয়। আপনি প্রথম আপনাদের বড় কোম্পানীর কথা বলে আমাকে ছোট করেন, তারপর আমার তালিকায় আপনাদের নাম লিখতে বলেন। কিন্তু একটিবারের জন্যও ‘অনুগ্রহপূর্বক কথাটি লেখেন নি।)

‘আপনাদের সমস্ত খবরাখবর জানিয়ে তাড়াতাড়ি এ চিঠির উত্তর দিলে আমাদের উভয়েরই সুবিধে হবে।’ (কী বোকা আপনি। একখানা সস্তা চিঠি পাঠিয়েছেন, যে চিঠি হাজারে হাজারে শরতের পাতার মত পাওয়া যায় আর লিখেছেন আপনার চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করতে। এদিকে আমার বাড়ির নর্টগেজের কথা ভাববো কখন? রক্তের উচ্চচাপের কথাই বা ভাববো কথন? জানেন না কি আমি আপনার মতই ব্যস্ত-অন্ততঃ আমি সে রকম চিন্তা করতে ভালবাসি? আপনি বলেছেন উত্তরেরই হুবিধে হবে। এতক্ষণে আপনি আমার কথা বুঝতে শুরু করেছেন কিন্তু কী ভাবে ছবিবে হবে সে বিষয়ে আপনি কিছুই লেখেন নি।) আপনার অতি বিশ্বস্ত জন ব্ল্যাংক রেডিও ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার

পুনশ্চঃ ‘সঙ্গে যে পুস্তিকাটি পাঠানো হল তা ব্ল্যাকভিল জানাল থেকে পুনর্মুদ্রিত-এটা আপনার আগ্রহ জাগাতে পারে, আপনি প্রচার করতে পারেন।’:- (অবশেষে পুনশ্চতে না লিখেছেন তার ফলে আামার সমস্যার সমাধান হতে পারে। আপনি এটা দিয়েই তো চিঠিটা শুরু করতে পারতেন কিন্তু কি লাভ? যে কোনো বিজ্ঞাপন বিভাগের লোক এমনি লিখলে তার মাথায় গোলযোগ ভায়ে পরে নেওয়া যায়। আমাদের কাছ থেকে চিঠি পেয়ে আপনার কোন লাভ হবে না, নাও হতে পারে যদি খানিক আইওতিন আপনার থাইরয়েড গ্লান্ডে লাগান।)

পৃষ্ঠা:২৬

অপরের মনে আগ্রহ সৃষ্ট করুন:- যদি একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান থেকে এমনি চিঠি ভাসে তা’হলে একজন কার্পেট প্রস্ততকারী বা একজন কসাই-এর কাছ থেকে কেমন চিঠি আশ্য করতে পারি। এখানে আর একখানা চিঠি চাপড়ি। চিঠিখানি লিখেছেন একটি বিরাট মাল পৌছে দেওয়া-নেওয়া প্রতিষ্ঠানের সুপারিনটিনডেন্ট। যাঁকে এই চিঠিখানা লেখা হয়েছিল তাঁর কাছে চিঠিটা কেমন লেগেছিল। আগে চিঠিখানা পড়ুন তারপর তা বলব। এ, জেরেগাস সন্স ইনকরূপরেটেড, ২৮, অট স্বর, ব্রুকলিন, এন ওয়াই। নিস্টার এডোওয়ার্ড ভাষিলেন সমীপেষু ভদ্রমহোদয়গণ: আমাদের বহির্গামী রেনের মাদ গ্রহণ কেন্দ্রে বিকেনের যান পাঠানোর ফলে আমাদের বেজায় অসুবিধে হচ্ছে। এর ফলে ভীড় হচ্ছে, আমাদের কিছু লোককে ওভার টাইম খাটাতে হচ্ছে, ট্রাকগুলি ঠিক সময় মত ছাড়া যাচ্ছে না। কোন কোন ক্ষেত্রে ট্রেনও ধরতে পারছে না। নভেম্বরের দশ তারিখে আনর। আপনাদের কাছ থেকে বিকেল ৪টে ২০র সময় ৫১৩৩০টি প্যাকেট পেয়েছিলাম। সামরা এই ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা কামনা করি-এই অবায়নীয় অবস্তার অবসান আমরা চাই। আমরা এই অনুরোধ করতে পারি কি যে, ভবিষ্যতে আপনাদের যখন অনুরূপ বেশী পার্সেল আমাদের কাছে পাঠাতে হবে, তখন চেষ্টা করে অন্ততঃ মালের কিছু অংশ সময় থাকতে একটু আগে পাঠাবেন?

এরকম ব্যবস্থায় আপনাদের খুব সুবিধে হবে। এর ফলে আপনাদের ট্রাকগুলি তাড়াতাড়ি ঢাড়া পাবে এবং যে দিন আপনাদের মাল আদয়া পাব সেইদিনই ত। খালাস হবে এ বিষয়ে আপনাদের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আপনার অতি বিশ্বস্ত জে-বি সুপারিনটেনডেন্ট এই চিঠি পড়বার পর প্রাপক আমাকে চিঠিট। পাঠিয়েছিলেন। তার সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন: চিঠিটার ঠিক উলটো ফল হয়েছে। চিঠিটার প্রথমেই যে অসুবিধের কথা দেখা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমার কোন মাথাব্যাথা নেই।

পৃষ্ঠা:২৭

আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, কিন্তু আমাদের তাতে সুবিয়ে কিংবা অসুবিধে হবে সে বিষয়ে তাঁরা নির্বিকার। অবশেষে লেখা হয়েছে যে যদি আমরা সহযোগিতা করি তবেই আমাদের ট্রাকগুলি তাড়াতাড়ি খালাস পাবে। অন্য ভাবে বলতে গেলে আমরা যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী আগ্রহশীল তা সবচেয়ে শেষে লেখা হয়েছে- এবং: চিঠিট। বন্ধুত্বপূর্ণ না হয়ে ঠিক উলটো রকম হয়েছে। দেখা থাক এই চিঠিটা ভালভাবে লেখা যায় কিনা। লামাদের সমস্যা। নিরে ভালোচনা করে সময় নষ্ট না করে হেনরী ফোর্ড যেমন রু’পক্ষের তধফ থেরের ভেবে দেখতেন তেবান ভাবে এটা দেখা উচিত। আর এইরকম লেখা-হয়ত সবচেরে ভাল ভাবে লেখা নব, তবে আগেরটার চাইতে ভাল নিশ্চয়ই: প্রিয় হিটার তামিলেন, গত চৌদ্দ বছর ধরে আপনার কোম্পানী বানাদের ভাল খব্দের চিয়াকে আয়েন। তাই আপনার সাহায্য লাতে আমরা কৃতজ্ঞ এবং আপনাদের কাজ তাড়াতাড়ি করে দেওয়া আমাদের উচিত। কিন্তু তা করা যাচ্ছে না বলে আমরা দুঃখিত। করা যাচ্ছে না তার কারণ বিকেলের দিকে যখন আপনাদের প্ররি প্রচুর মান নিয়ে আসে (যেমন গত ১০ই নভেম্বর হয়েছিল) তখন তাড়া- তাড়ি কাজ করা সম্ভব হয় না। তার কারণ আরো অনেক কোম্পানীও বিকেলে মাল সরবরাহ করে থাকেন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ভাঁড় বেড়ে যায়। সে জন্য আপনাদের লরিও তাড়াতাড়ি খালাস হয় না, এবং অনেক সময় এমনও হয় যে, সেদিন রেলে আপনাদের মালই পাঠানো হয় না।

এটা খারাপ। খুবই খারাপ। কেমন করে এই অসুবিধে এড়ানো যায়? আপনারা যতদূর সম্ভব যদি সকালে আপনাদের মাল-পাঠান তাহলেই এই অসুবিধে দূর হতে পারে। এর ফলেসমস্ত কাজই তাড়াতাড়ি হবে এবং আমাদের কর্মচারীরা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আপনাদের তৈরী সুস্বাদু খাবার খাবে। এ চিঠিটা অভিযোগ হিসাবে দয়া করে নেবেন না, আপনাদের ব্যবসা কেমন করে চালাবেন তা বলাও আমদের উদ্দেশ্য নয়। এই চিঠি দেখা হয়েছে এ জন্য যে যাতে আরো হুচারু তাবে আমরা আপনাদের কাজ করতে পারি।  যে সমরেই আপনারা মাল পাঠান না কেন, তামরা যথাশীঘ্র সম্ভব আপনা- দের কাজ আনন্দের সঙ্গে করতে প্রস্তুত। আপনারা খুব ব্যস্ত থাকেন জানি। এ চিঠির উত্তর দেবার প্রয়োজন নেই।  আপনার বিশ্বস্ত, জে-বি, সুপাভিনটিনডেনট

পৃষ্ঠা:২৮

অপরের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করুন:- আজকাল হাজার হাজার বিক্রেতা ফুটপাত দিয়ে হেঁট বেড়াচ্ছে-তারা শ্রান্ত, মনে আশা নেই-আর তাদের মাইদেও কম। কেন? কারণ তারা সর্বদাই ভাবছে তাঁরা কি চায় তাই। তারা এটা বোঝে না যে আমরা কিছুই কিনতে চাই না। যদি চাইতাম তাহলে দোকানে গিয়ে ফিনে ফেলতাম। কিন্তু আমাদের নিজেদের সমস্যা সমাধানে আগ্রহ আছে। যদি কোন বিক্রেতা বোঝাতে পারেন যে তার জিনিসের সাহায্যে তামার সমস্যার সমাধান হবে। তাহলে তাঁকে দিদিস বিক্রি করবার প্রয়োজন হবে না। আপনা থেকেই আমরা তা কিনব। ক্রেতা ভাবতে চায় যে, সে নিজের থেকেই জিনিস বিনয়ে। কেউ তাকে জিনিস বিক্রি ক্রয়ে তা ভাবতে সে চায় না। অথচ বহু লোকই আছেন যারা সমস্ত জীবন জিনিস বিক্রি করে আসছেন অথচ ক্রেতার দৃষ্টিভঙ্গী বুঝতে চেষ্টা করেন না। একটা উদাহরণ দিচ্ছি-আামি বৃহত্তর নিউ ইয়র্কের ফরেষ্ট হিলসে থাকি। এখানে কিছু বসত বাড়ী আছে। একদিন আমি তাড়াতাড়ি ট্রেন ধরতে ছুটছি। এমন সময় আমার এক বাড়ির দালালের সঙ্গে দেখা। ইনি বহুদিন বাড়ী কেনা বেচা করছেন। তিনি ফরেষ্ট হিল পাড়া ডাল করেই জানতেন। তাই তাকে আমি জিগ্রেগ করেছিলাম আমার বাড়ীটি কি দিয়ে তৈরী। তিনি জানতেন না, তিনি বা উত্তর দিলেন তা আমার আগেই জানা ছিল। তিনি আমাকে ফরেষ্ট হিল্স গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন থেকে জেনে নিতে বললেন। পরদিন সকালে তার কাছ থেকে একটা চিঠি পেলাম। মামি যে সংবাদ জানতে চাচ্ছিলাম তা কি তিনি সে চিঠিতে দিয়েছিলেন? তিনি তা এক নিনিটের মধ্যে পেতে পারতেন-একটা টেলিফোন করলেই চুকে যেত। কিন্তু তিনি তা করেননি। উপরন্ত তিনি লিখেছেন যে আমি নিজেই টেলিফোন করে জানতে পারি। তারপর তিনি আমাকে অনুবোধ করেছেন যে আমার ইনশিওর‍্যাসের কাজকর্ম তাকে দিয়ে যেন করাই।

তিনি আমাকে সাহায্য করার জন্য ব্যগ্র ছিলেন না। তিনি নিজেকে সাহায্য করার কথাই ভাবছিলেন। আমার উচিত ছিল তাকে এ সম্পর্কে কিছু ভাল বই পড়তে দেওয়া। ড্যাস ইয়ং-এর A Go-giver এবং A Fortune to Share এই দু’খানা পড়লে ওর অনেক উপকার হতো। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার এরাও এমনি ভুল করে থাকেন। কয়েক বছর আগে আমি একটি নাক, কান এবং গলার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাই। আমার টনসিল দেখবার আগেই জিজ্ঞেস করলেন আমি কি করি। তিান আমার

পৃষ্ঠা:২৯

উনসিক কতবড় তা জানবার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তিনি দেখছিলেন আমার কত টাকা দেবার ক্ষমতা আছে। এর ফলে তিনি কিছুই পাননি। আমি তাঁর অফিস থেকে বেরিরে আসি-লোকটির ব্যক্তিত্ব না থাকার ফলেই আমি তা করেছিলাম। পৃথিবীতে অবন লোক প্রচুর আছেন, তারা লোভী এবং স্বার্থপর। অতএব যদি কেউ নিঃস্বার্থভাবে অন্যকে সেবা করতে চান তার খুব সুবিধে হয়। তার প্রতিযোগিতা কম। একজন পণ্ডিত বলেছেন, যিনি নিজেকে অন্যের মত করে ভাবতে পারেন, অন্যের মন বুঝতে পারেন তাঁর কখনো ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হয় না। যদি এই বই পড়ে আপনি অন্যের কথা ভাবতে চেষ্টা করেন-অন্যের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সনস্ত দেখতে পারেন তাহলে তা আপনার চরিত্রের উন্নতির একটি সোপান হয়ে রইবে। অধিকাংশ লোকই কলেজে গিয়ে ভাজিল পড়েন কঠিন অঙ্ক কষেণ, তার রহস্যভেদ করেন, কিন্ত তারা কখনো নিজের ঘন কেমন করে কাজ করে তা তেবে দেখেন না। একবার কমবয়সী কলেজের ছাত্রদের ‘কার্যকরী বক্তৃতা’ সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছিলাম। এই ছাত্ররা এরপর একটি তাপ নিয়ন্ত্রণের জিনিসপত্র তেরী করে এমন একটি কারখানায় কাজ করতে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। এদের মধ্যে একজন অন্য সবাইকে বাস্কেট বল খেলবার জন্য অনুরোধ করছিল-অনেকটা এই ভাবে: আমি চাই আপনারা এসে বাস্কেট বল খেলুন। খামি এই খেলা ভালবাসি কিন্তু কয়েকবার জিমনাসিয়ামে শিরেও খেলতে পারিনি, কারণ প্ররো জন মত লোক থাইনি। কিছুদিন আগে কু-তিনজনে নিলে বদটাকে ছুড়ছিলাম, ফলে আমার একটা চোখ প্রায় যাবার মত হয়েছিল। সে কি আপনার পছন্দমত কথা বলেছিল? আপনি যে খেলা কেউ খেলে না তা অবশ্যই খেলতে চান না। সে কি চায় তা আাপনি কেরার করেন না: আর তা ছাড়া আপনার চোখ নই প্রতীক তাও আপনি চান না। সে কি আপনাকে বোঝাতে পারত জিমনাসিয়ামে যাওয়া আপনারই প্রয়োজন? নিশ্চয়ই। এর ফলে শরীর তাড়াতাড়ি চালনা করা সম্ভব-এতে কিদে গ্রম, মাখা পরিষ্কার হয়, হৈ চৈ হয়, খেলা হর। অধ্যাপক ওভারটিদের কথায় বলতে গেলে, প্রথমে অন্যের মনে আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে হবে। যিনি তা করতে পারেন সনন্ত পৃথিবী তার সঙ্গে চলবে, নিনি পারেন না তিনি একলা চলেন।

পৃষ্ঠা:৩০

অপরের মনে আগ্রহ সৃষ্ট করুন:- আমার শিক্ষানবিশদের মধ্যে একজন চিলেন, যিনি তাঁহার ছোট ছেলে সম্পর্কে খুব দুশ্চিন্তা করতেন। ছেলেক্টর ওজন কম ছিল, আর ত.ল করে খেত না। তার বাবা মা সাধারণ উপারগুলির সাহায্যে নিযেড়িবেন। তাঁরা চেলেটিকে বকতেন। ঘ্যানর ঘ্যানর করতেন। মা বলেছেন এটা খেতে সেটা করতে বা বাবা চান তুমি বড় হও-গাঁয়ে তোমার জোর হউক। ছেটো কি সে সব কথা শুনত? প্রায় শুনন্ত না বললেই চলে। যার একটু বুদ্ধিও আছে তিনি বুঝতে পারবেন যে তিন বছরের ছেলে আর ত্রিশ বছরের বাধার দৃষ্টিভঙ্গী এক হয় না। অথচ সেই বাবা ঠিক তাই আশা করছিলেন। এরকম করার কোন মানেই হয় না। অবশেষে তিনি তা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি নিজকে বলেছিলেন: ছেলেটি চার কি? সে যা চায় আর আমি যা চাই এ বইকে কেমন ভাবে বেলায় বার? তিনি এভাবে চিন্ত। করতে শুরু করাতেই ব্যাপারটা সহজ হয়ে গেল। তাঁর ছেলের একাট তিন চাকার সাইকেল ছিল-সে সেটা চড়তে খুব ভালবাসত। সেই রাস্তাতেই কয়েক বাড়ি পরে একটি বিচ্ছু ঢেলে খাকত-সে জোর করে তাকে সাইকেল থেকে নামিয়ে দিয়ে নিজে চড়ত। এব ফরে ছেলেটি বাড়িতে মায়ের কাছে এসে কান্নাকাটি করত। না বাইরে গিয়ে বিচ্ছু ছেলেটিকে সাইকেল থেকে নামিয়ে আবার তাঁর ছেলেকে চড়িয়ে দিতেন। প্রায় রোজই এমন ঘটত। চোট চেলোট কি চেয়েছিল তা জানবার জন্য ।উটেকটিভ রাখবার কোন প্রয়োজন ছিল না। তার গর্ব, তার রাগ, শ্রেক্রয়বোৰ ইত্যাদি নিলে এই বিষ্ণু টিকে এক বুষি দিয়ে কাত করে দিতে চেয়েছিল। আর যখন তার বাবা তাকে বলেছিল যে তার মায়ের কথামত সে বদি গেতে আরম্ভ করে তাহলে খুব অল্পদিনের মধ্যেই সে বিচ্ছুটিকে কাত করে দিতে পাদবে এক ঘুষিতে, তখন আয় তাকে সমস্যা রইল না। ওখন পানা শাক, টক কপি, এ সমস্ত থেতে ছেলেটির কোন আপত্তি রইল না। গায়ের জোরে পরাস্ত করতে চেয়েছিল। খাওয়ানোর ব্যাপারে কোন নোনতা হ্যাকারেল মাছ- কারণ সে একটি ছেলেকে সেই সমাধানের পর তার বাবা আার একটি সমস্যায় হাত দিলেন। ছেলেটি প্রায়ই রাত্রে বিছানা ডেজাতো। ঠাকুরনার সঙ্গে যুদ্বুত। সকালে উঠে ঠাকুরমা বলতেন, জনি দেখ, রাত্রে তুমি কি করেছ।

পৃষ্ঠা:৩১

ছেলেটি বলত, আমি করিনি। তুমি করেছ। মারধর ইত্যাদি নানা রকন করেও কিন্তু তাকে এ অভ্যাস থেকে বিরত করা গেল না। তখন বাবা না ভাবলেন কেমন করে ছেলেটাকে দিয়ে নিজে থেকেই সেটা সারিয়ে নেওয়া যায়। ছেলেটি কী চাইড? ঠাকুরমার যত নাইট গাউন না পরে বাবার যত পাজামা পরতে চাইত বে। ঠাকুরমাও অতিষ্ঠ হরে উঠেছিলেন। অতএব আনন্দের সঙ্গেই তিনি একজোড়া পাজামা কিনে দিতে চাইলেন। দ্বিতীয়তঃ ছেলেওঁ নিজস্ব একটি বিয়ানা চাইত। ঠাকুরম্য তাতেও আপত্তি করলেন না। তার মা তাকে ব্রুকলিনের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে নিয়ে গেলেন। যে মেয়েটি প্রিমিস বিক্রি করছিল তাকে চোখ টিপে ইসারা করে বললেন, এই ছেলেটি কিছু জিনিস কিনতে চায়। তখন মেয়েটি তার শ্রেষ্ঠয়বোধ জাগিয়ে জিজ্ঞেন করল তুমি কি চাও? ছেলেটি বেশ লম্ব। হরে বলল, আমি নিজের জন্য একটি বিছানা কিনতে চাই। পরদিন বিয়ানাদা বাড়ীতে পৌঁছে দেবার পর সন্ধ্যাবেলা যখন বাবা বাড়ীতে এলেন তখন ছোট ছেলেটি দরজার কাছে দৌড়ে গিয়ে চেঁচিয়ে বলল: বাবা, বাবা, উপরে এসে দেখ আমার খাট-মানি ওটা নিজে কিনেছি। বাবা বিচানাটা দেখে চার্লস শয়াবের কথা যত বুধ আন্তরিক ভাবে সমর্থক করেছিলেন এবং প্রচুর প্রশংসা করেছিলেন। বাবা জিজ্ঞেস করেছিলেন: এ বিছানাটা তুমি ডেজাবে না, কেমন? -না, না আমি এ বিছানা ভেঙ্গাব না। ছেলেটি তার প্রতিজ্ঞ। রক্ষা করেছিল। কারণ এর উপর তার গর্ব নির্ভর করছিল। এ বিছানাটা ছিল তার নিজের। সে নিজে সেটা কিনেছে। সে এখন ছোট একটি মানুষের যত পাজামা পরেছে। সে মানুষের মত ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছিল এবং করতে পেরেও ছিল। যার একজন বাবার কথা বলছি। তাঁর মেয়ে। সে বিছুতেই সকালে খেতে চাইত না। সমস্যা ছিল তাঁর তিন বছবের কিন্তু সে তার মায়ের মত বড় হতে চাইত। তাই একদিন সকাল বেলাকার রান্না তাকে দিয়ে করানো হল। সে নিজে যথন ব্রেকফাষ্ট তৈরী করছে এমন সময়ে তার বাবা এসে হাজির। মেয়েটি গর্বিত ভাবে বলেছিল, দেখ বাবা, আজ আমি ব্রেকফাষ্ট তৈরী করেছি। সেদিন সে খেয়েছিল সকালবেলার খাবার, কারণ তাতে আগ্রহ জেগে ছিল। নিজকে প্রকাণ করবার রাস্তা সে খুঁজে পেয়েছিল তার রান্নার মধ্য দিয়ে।

পৃষ্ঠা:৩২

অপরের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করুন:- উইলিয়াম উইন্টার একদা বলেছিলেন: নিজেকে প্রকাশ করার ইচ্ছে মানুষের চরিত্রের একটা বিরাট দিক। আমরা ব্যবসায়ে এ করি না কেন? যখন আমাদের একটি ভাল কিছু করবার কথা অন্য লোককে দিয়ে একথা ভাবিয়ে নিলেই তো হয় যে, ঐ মনস্তত্ত্ব প্রয়োগ মনে হয় তখন কাজটা করার কক তাদের মাথা থেকে বেরিয়েছে। তবেই তারা সে কাজ করতে বিশেষ ভাবে আগ্রহান্বিত হবে। মনে রাণবেন কথাটা: আগে অন্য লোকের মধ্যে আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে হবে। যিনি তা পারেন সমস্ত পৃথিবী তার সঙ্গে চলবে, আর মিনি পারেন না, তাকে একাই চলতে হবে পথ। (১) এই বই থেকে সবচেয়ে বেশী উপকার পেতে হলে অবশ্য একটি অপরিহার্য কাজ করতেই হবে। এটি এমনি অপরিহার্য বস্ত যে হাজার হাজার নিয়ম জানা থাকলেও কোন উপকার হবে না যদি এই অপরিহার্য গুণ না থাকে। আর যদি আপনার এই গুণটি থাকে তা হবে এই অংশটি না পড়েই আপনি আশ্চর্য ফল পেতে পারেন। এই আশ্চার্য অপরিহার্য ব্যাপারটি ফি? শেখবার জন্য প্রবল ইচ্ছে এবং দক্ষতা বাড়ার জন্য একটা মৃদ্ধ নিশ্চর ভাব। এরকম ইচ্ছেকে কেমন করেষ্ট বা জাগানো সম্ভব, এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বার বার নিজের মনে বিশ্বাস জাগিয়ে তোলা উচিত। এর ফলে যে সামাজিক এবং আর্থিক উন্নতি হবে সেটা নিজেকে করাতে হবে। বার বার নিজে বলুন: আমার জনপ্রিয়ত। আমার অর্থ এবং আমার আয় নির্ভর করবে আমি কেমন করে লোকদের সঙ্গে ব্যবহার করব তার উপর। (২) প্রত্যেকটি অংশে প্রথমে তাড়াতাড়ি একবার চোখ বুলিয়ে নিন। এরপর কি আছে পড়বার জন্য হয়ত আপনি ব্যগ্র হবে উঠবেন। কিন্তু বাঘ্র হয়ে না ওঠাই ভাল। অবশ্য বদি আপনি এ বইটা কেবল আনক্ষ পাবার জন্য পড়েন তাহলে আলাদা কথা। কিন্তু যদি কিছু শিখতে চান, তাহলে বইটি বারবার পড়ুন। শেষের হিসেবে দেখা যাবে এরকম ভাবেই সময় লেগেছে কম এবং ফলও হয়েছে বেশী। (৩) প্রায়ই পড়তে পড়তে খামুন এবং ভেবে দেখুন কি পড়েছেন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন কি উপায়ে আপনি নিয়মণ্ডাল নিজেই ব্যবহার করতে পারেন। তাড়াতাড়ি করে নিঃশ্বাস ফেলবার সময় না দিয়ে পড়ে গেলে কোন বাড় চবে না।

পৃষ্ঠা:৩৩

(৪) লাল পেল বা ফাউনটেনপেন সঙ্গে নিয়ে পড়তে বহুন। যদি কোন পরামর্শ আপনার কাজে লাগবে বলে মনে হয় তবে তার নীচে দাগ দিন। যদি পরামর্শটি খুবই ভাল লাগে তাহলে পাশে চারটে তারকা চিহ্ন দিন। এভাবে দাগ দিয়ে পড়লে বই পড়তে বেশ ভাল দাগে, আর দ্বিতীর বার পড়তে গেলে তাড়াতাড়ি পড়া যায়। (৫) আমি একজনকে জানি, নিনি একটি বড় বীমা প্রতিজ্ঞানে পুত্রক্সে বছর ধরে ম্যানেজার আছেন। তিনি প্রতি মাসে সমস্ত বীমার শর্তাবলী নিজে পড়েন। হ্যাঁ, মাসের পর মাস সমস্ত বীমার শর্তাবরী তিনি পড়েন। কেন? কারণ অভিজ্ঞতার ফলে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে একমাত্র এরকম ভাবেই তিনি সমস্ত মনে রাখতে পারেন। জনসাধারণের কাছে বক্তৃতা দেওয়া সম্পর্কে বই লিখতে একলা আমার দু’বছর লেগেছিল। অথচ আমাকে আমার লেখা বইটিও বার বার দেখতে হয়। তার কারণ আমার সমস্ত কথা মনে নেই। হামরা এত তাড়াতাড়ি গুলি যে ভাবলে আশ্চর্য হয়ে যেতে হয়।   অতএব যদি এই বই থেকে সত্যিকারের উপকার পেতে চান তাহলে মনে করবেন না যে একবার পড়ে ফেললেই সমস্ত শিখে ফেলবেন। এটা ভাল করে পড়বার পর প্রতি মাসে কয়েক ঘণ্টা এ বইটা পড়া প্রয়োজন। আপনার টেবিলের দেরাজে এটা সর্বদা রেখে দিন। প্রায়ই খুলে খুলে দেখুন। সর্বদা মনে রাখুন যে আপনি এখন প্রচুর উন্নতি করতে পারবেন। মনে রাখবেন যে নিয়মগুলি অভ্যাস করতে করতে সেগুলি সহজ হয়ে আসবে। এছাড়া আর কোন উপায় নেই। (৬) বার্নাড শ একমা বলেছিলেন: আপনি যদি কোন যাদুদকে শেখাতে চান সে কিছুতেই শিখবে না। সঠিক বলেভিলেন। শেখাটা ব্যবহারিক। প্রয়োগের দ্বারাই আমরা শিখি। যদি আপনি এই বই পড়ে উপকার পেতে চান তাহলে কিছু একান করতে হবে। সুযোগ পেলেই এর নিয়মগুলি প্রয়োগ করতে হবে। তা না করলে সব কিছু তাড়াতাড়ি ভুলে যাবেন। যে জ্ঞান ব্যবহারিক তার পরামর্শগুলিই কেবল মনে থাকে। হরতো সব সময় ব্যবহার আপনি করতে পারবেন না, আমি তা জানি। কারণ আমি বই লিখেছি। অথচ আমার পক্ষেই সমস্ত পরামর্শগুলি নানা সম্ভব হয় না। যেমন আপনি যথন অসন্তষ্ট হন তখন সমালোচনা করা সহজ

পৃষ্ঠা:৩৪

অপরের মনে আগ্রহ সৃষ্ট করুন:- কিন্তু অপর লোককে বুঝতে চেষ্টা করা সহজ নয়। প্রায় সময়েই প্রশংসা করার চাইতে নিন্দে করা অনেক সহজ। জাপান কি চান, বে সম্পর্কে বলা সহজ, কিন্তু অপর লোকটি কি চায় তা বোঝা কঠিন। এরকম অনেক উদাহরণ দেওজ যায়। অতএব বইখাল গড়বার সময় মনে রাখবেন কেবৎ জানবার জন্যই এ বই পড়ছেন না, আপনি নতুন অভ্যাস সৃষ্টি করতে চেস্টা করছেন: আর হয়, আপনি নতুন ভাবে জীবন যাপন করবার উপায় খুঁজগ্রেন। সে জন্য সময় লাগবে, বৈধ্য লাগবে আর লাগবে দৈনিক এত্যান। অতএব এই বইটিকে প্রায়ই পড়ে দেখুন। এ বইটিকে মানুষের ব্যবহারের একটি প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক বই বলে মনে করুন। যখনি কোন বিশেষ সমস্যা আপনার জীবনে উপস্থিত হবে, যেমন-একটি শিশুর সঙ্গে কেমন ভাবে ব্যবহার করতে হবে, আপনার স্ত্রীকে কেমন ভাবে আপনার মত করে গড়ে তুলবেন, বা একটি অসন্তষ্ট মডেলকে কেমন ভাবে বশে আনবেন, তখনি বইখানা আর একবার পড়ুন। সহজ স্বাভাবিক জিনিস মেজাজের মাথায় করে ফেলা সহজ-কিন্তু সাধারণতঃ তা ঠিক হয় না। তার বদলে এই বইটির পাতাগুলি থেকে আপনার দাগ দেওয়া অংশগুলি পড়ুন। তারপর তা প্রয়োগ করুন। দেখবেন আশ্চর্য ফল পাচ্ছেন। ! (৭) স্ত্রীকে বা ছেলেকে কিম্বা আপনার কোন ব্যবসায়ী বন্ধুকে বরুন যে এই বই-এর একটি নিয়ম আপনি অমান্য করবেন তারা যাদ তা দেখিয়ে দেয় তাহলে আপনি তাদের এক টাকা দেবেন। নিয়মগুলি আয়ত্ত করতে এরকম খেলা খেলুন। (৮) একটি বড় ওয়াল স্ট্রীট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, একবার আমার একটি ক্লাসে। বলেছিলেন কেমন করে তিনি নিজের উন্নত করার চেষ্টা করতেন। নিয়মট। ধ্রুবর্ণ কাজের। ভদ্রলোকের স্কুল কলেজের বিদ্যা বিশেষ চিল না-অথচ তিনি এখন আমেরিকার একজন বিরাট অর্থ বিনিয়োগকারী। তিনি স্বীকার করেছি- লেন তাঁর সাকল্যের মূলে ছিল তাঁর নিজেরষ্ট তৈরী একটা নিয়ম। দিরহাট। যতদূর সম্ভব তার নিজের কথায় বলছি। টিরের পর বছর আামি ডায়েরীতে আমার দৈনিক দেখা সাক্ষাতের বিবরণ লিখে রেখেছি। আমার পরিবার আমাকে শনিবার রাত্রে এক। কাটাতে দেন। কারণ তাঁরা জানেন বে শনিবার রাত্রে কিছু সময় নিজেকে বিচার করবার

পৃষ্ঠা:৩৫

জন্য রেখে দেই। শনিবারে তিনার খাবার পর আমি আমার দেখা সাক্ষাতের বইটা দেখি এবং জিজ্ঞেস করি: আামি কি ভুল করেছি। আমি কোনটি ঠিক করেছি-কী ভাবে আমি আরো উন্নতি করতে পারতাম ? আহার এঐ অতিজ্ঞতা থেকে কী শিক্ষা পেলাম? প্রায়ই দেখেড়ি সাপ্তাহিক সমালোচনা করে আমি খুব খুশি হতে পারিনি। নিম্নের ভুল দেখে নিজেই খুব আশ্চর্য হয়ে গেছি। অবশ্য ক্রমণ! ভুলের সংখ্যা কমে এসেছে-প্রথমে নত ভুল হত শেষের দিকে তত হয়নি। এই একম নিজেকে বিচার করার ফলে আমার যত উন্নতি হয়েছে আর অন্য কোন কিছুতেই তত উন্নতি হয়নি।

 

এর ফলে আমার সিদ্ধান্ত নেবার শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মামি লোকদের সঙ্গে মেলামেশার ব্যাপারে খুবই উন্নতি লাভ করেছি। এর চেয়ে ভাল কিছু আমি ভাবতেই পারি না। এ রকম ভাবে আপনিও চেষ্টা করুন না কেন। এই বই-এর নিয়ম- গুলি প্রয়োগ করলে দুটে। ফল হবেঃ প্রথমতঃ, এর ফলে যে অমূল্য শিক্ষা পাবেন তা আপনার বুদ্ধিকে জাগ্রত করবে। দ্বিতীয়তঃ, দেখবেন আপনি লোকদের সঙ্গে মিশতে এবং ব্যবহার করতে শিখে যাবেন খুব তাড়াতাড়ি। (৯) ভারেতীতে সিখতে অভ্যেস করুন। করছে তা দেখকে পড়ে আপনার ভাল লাগবে। লোকদের নাম, ধাম, তারিখ, দিন। ফলাফলও এই নিয়মগুলি কেমনভাবে কাজ ডায়েরী খুব স্পষ্ট করে লিখুন- লিখে রাধুন।

পৃষ্ঠা:৩৬

চতুর্থ অধ্যায়

যে ভাবে চললে সবাই আপনাকে চাইবে:- বন্ধু পাবার জন্য এই বই পড়বার কোন প্রয়োজন আছে কি? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী বন্ধু যাঁর, তাঁর উপায়গুলি বিচার করে দেখা যাক। তিনি কে আপনি এরতো তাঁকে কালই দেখতে পাবেন রাস্তা দিতে আসছে?। তাঁর দশ ফুটের হধ্যে এলেই তিনি তাঁর এ্যাজ নাড়তে আবর করবেন। বদি আপনি একটু থেমে তাঁর পিঠ চাপড়ান তাহলে দেখবেন তিনি দেন তাঁষ চামড়া ভেদ ক্ষণে লাকিরে প্রমাণ করবার ঢেউ। করছেন আপনাকে তাঁর কতখানি পছল; আর আপনি জানেন এরকম করার মূলে তার আর কোন গভীর উদ্দেশ্য নেই-তিনি আপনাকে বাড়ি বিক্রিও করতে চান না অথবা আপনাকে বিয়েও করতে চান না। আপনি কখনও ভেবে দেখেচেন কি যে ককরকে বেঁচে চাকার জন্য কোন কাজ করতে হয় না? একট মুরগীকে ভিষ পাততে হয়, গরুকে দুর্ব দিতে হয়, পাখীকে গান গাইতে হয়। কিন্তু কুকুর আর কিছু করে না কেবল আপনাকে ভালবাসে। যখন আমার বয়স ছিল পাঁচ তখন বাবা আড়াই টাকা দিয়ে একটা হলুদ লোনওয়ালা কুকুরের ছানা কিনে দিয়েছিল আমাকে। ছোট বেলায় সে ছিল আমার আনন্দের সঙ্গী। প্রতি বিকেলে সাড়ে চারটে নাগাদ সে আমার আসবার অপেক্ষর বসে থাকত। সে যখনি আমাকে দেখতে পেত বা আমার গলার আওয়াজ শুনতো সেই মুহূর্তে সে বন্দুকের গুলির মত আমার দিকে ছুটে বেত। আমাকে দেখে সে ছুটে যেত এবং আনন্দে লাফাত আর তা’চাঁড়া খুণীর চোটে ডাকতে আরম্ভ করতো। তার নাম ছিল টিপি। পাঁচ বছর সে আমার সঙ্গে ছিল। অবশেষে একদিন সে হঠাৎ মারা পড়ল। আমার কাচ থেকে দশ ফুট দূরে বাজ পড়ে তার ত্যু হয়। আমার ছোটবেলাকার সে এক বিশেষ শোকাবহ ঘটনা। টিপি, তুমি করনে। মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে কোন বই পড়নি। তোমার প্রয়োজন হয়নি। তুমি কোন ঐশ্বরিক প্রেরণয় আনতে যে তুমি যদি দু’মাস অন্য লোকদের প্রতি সত্যিকারের আগ্রহ দেখাও তাহবে তোমার প্রচুর বন্ধু হবে।

পৃষ্ঠা:৩৭

কিন্তু তা না করে তুমি যদি দু’বছর ধরে অন। ব্লোককে তোমার সম্পর্কে আগ্রহ জন্মানোর চেষ্টা কর তার ফল অত হবে না। অবচ আমরা জানি লোকেরা আপনার বা আমার প্রতি আগ্রহান্বিত নয়। তারা দিনের সমস্ত সময়ের নিজেদের সম্পর্কে আগ্রহান্বিত। নিউইয়র্ক টেলিফোন কোম্পানী একবার হিসেব নিয়েছিল লোকেরা কথাবার্তার সময় কোন কথাটা সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করে। অনুমান করতে কষ্ট হর না যে, ‘আানি’ এই কথাটা সবচেয়ে বেশী বার লোকে ব্যবহার করেছিল। পাঁচশোটি কথাবার্তার ভেতর লোকেরা ৩৯৯০০ বার ‘আমি’ কথাটা ব্যবহার করেছিল। শুরু ‘আমি’ ‘আমি’ নার ‘আমি’। আপনি বে গ্রুপে আছেন এমন একটা ফটো আপনাকে দিনে আপনি কোন চেহারাটি আগে খুঁজে বার করবেন? আপনার যাদ মনে হয় লোকেরা আপনার সম্পর্কে আগ্রহান্বিত, তাষলে এই কথাটার জবাব দিন-যদি আজ রাত্রে যাপনার মৃত্যু হয়, তাহলে কচুর লোক আপনার অভেটি তিয়ার আসবে ? আপনি যদি লোকদের প্রতি আগ্রহান্বিত না হন, তাহলে তারাই বা কেন আপনার প্রতি আগ্রহান্বিত হবে? এখান পেন্সিল নিয়ে উত্তরগুলি লিখুন: যদি আমরা কেবল নোকদের আমাদের নিজেদের কথাই বলতে থাকি তাহলে প্রকৃত বন্ধু কখনই জুটবে না। আসল বন্ধুদের ওভাবে কখনই পাওয়া যায় না। নেপোলিয়ন চেষ্টা করেছিলেন। জোসেফিনের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সময় তিনি বলেছিলেন, পৃথিবীর কারুর চেয়ে কম তে। আমি ছিলাম না তাগ্যের দিক থেকে কিন্তু এখন একমাত্র তোমাকেই আমি ভরসা করতে পারি। ঐতিহাসিকের। কিন্তু সন্দেহ করেন যে জোসেফিনও খুব তরসাম্বল ছিলেন তা নয়। ভূতপূর্ব আলফ্রেড অ্যাডলার ছিলেন ডিয়েনার খুব নাম করা মনস্তত্ত্ববিদ। তাঁর একখানা বই-এর নাম হলো ‘What life should mean to you’ Fofa বলেন: যে লোক অন্য লোকের প্রতি লগ্নহশীল হয় না তাদের জীবনেই সবচেয়ে বেশী দুঃখ আাবে। তারাই অন্যকে সবচেয়ে বেশী ব্যখা দেয়। করাটি বিশেষ ভাবেই মনে রাখবার মত। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট গল্প দেখবার কাসে একদা আামি ভর্তি হয়েছিলাম। সে সময়ে একবার কলিয়ার্স পত্রিকার সম্পাদক আামাদের ক্লাসে কিছু বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রোজ তার টেবিলে যে সমস্ত গল্প খালে

পৃষ্ঠা:৩৮

যে ভাবে চললে সবাই আপনাকে চাইবে:- তা থেকে যে কোন একটি গর তুলে নিয়ে কিছুটা পড়লেই বুঝতে পারেন লেখক মানুষকে ভালবাসেন কি না। তিমি বলেছিলেন যদি লেখক মানুষকে ভাল না বাসেন, তাহলে মানুষেরাও গরগুলিকে ভালবাসবে না। যদি গয় উপন্যাস সম্পর্কে কথাটা সত্যি হয়, তাহলে কথাটো মানুষের সম্পর্কে আরে। সত্যি। এই অতিজ্ঞ সম্পাদক বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন যে, টিফিওয়ালা পণ্ডিতের যত বক্তৃতা দিচ্ছেনা সেজন্য তিনি দুঃখিত। তিনি বলেছিলেন, আমি আপনাদের কাছে ঠিক নেন পুরুতের মত বক্তৃতা দিচ্ছি। কিন্তু মনে রাখবেন যদি গর লিখে সাফরানাত করতে চান তবে লোকদের আগ্রহ থাকতেই হবে। হাওয়ার্ড গার্সটনের সঙ্গে আমি একটি সন্ধ্যে ফাটিয়েছিলাম। ইনি খুব বড় যাদুকর। ইনি চল্লিশ বছর ধরে পৃথিবীময় লদুবিদ্যা দেখিয়েছেন। ছ’ কোটিরও বেশী লোক টিকিট কিনে তাঁর যাদুবিদ্যা দেখেছে-তিনি প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা লাভ করেছেন এই সমস্ত প্রদর্শনী থেকে। আমি তাঁকে তাঁর সাফল্যের রহস্য কি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। স্কুলের লেখাপড়া তাঁকে সাহায্য করেনি, কারণ ছেলেবেলার তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে বান। নানা দুঃখ দুর্দশায় তাঁর ছেলেবেলা কাটে। দরজার দরজার ভিক্ষে করে তাঁকে কিদের জালা মেটাতে হয়েছিল। যাদুবিদ্যা সম্বন্ধে তাঁর জ্ঞান কি বেশী ছিল? না তিনি বলেছিলেন যাদুবিদ্য। সম্পর্কে প্রচুর বই আছে, এবং বহুলোক তাঁর যতই যাদুবিদ্যা জানেন। কিন্তু তাঁর দু’টি জিনিস ছিল যা খার কারুর ছিল না। প্রথমতঃ তাঁর ব্যক্তিত্বকে তিনি প্রকাশ করতে পারতেন। ডিনি খুব সুন্দরভাবে তেলকি দেখাতেন। তিনি মানুষের প্রকৃতি জানতেন। তিনি যা করতেন, একটু হাত দাড়া, তুরু সামান্য কপালে তৌলা, গলার আওয়াজ এগুলি তিনি আগে অভ্যেস করে নিতেন। তাঁর সমস্ত কাজই তিনি ঘড়ি ধরে হিসাব করে করতেন। কিন্তু এচাড়া তাঁর আর একাটি গুণ ছিল, তা হ’ল তিনি সত্যি লোকদের পছন্দ করতেন। তিনি আামাকে বলেছিলেন, বন্ধ যাদুকর হারুনিদ্যা দেখাতে গিয়ে ভাবেন, আমাও সামনে কতকগুলি গরেট মোট পিসে রয়েছে, ওদের আমি ঠিকই বোকা বানাতে পারব। কিন্তু থার্সটনের চিন্তাধারা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি বলতেন এই সমস্ত লোক যে এসেছেন জাজ সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ। এদের অনাই আমার যার হয়-আমি বাবু।বদ্যা দেখাতে পারি এদেরই দৌলতে। সন্তৰ ডাল করে যাদুবিদ্যা দেখার। আমি এ’দের যতদূর

পৃষ্ঠা:৩৯

তিনি বলেছিলেন যে তিনি প্রেক্ষাগহে উকবার যাগে বার বার বলতেন, দর্শকদের আমি ভালবাসি-দশকদের আমি ভালবাসি। আপনি কি হাসছেন কথাটা শুনে? বিশ্বাস হচ্ছে না কথাটা আপনি অন্যরকম ভাবলে আমার কিছু বলবার নেই। আমি একজন বিখ্যাত যাদুকরের কৌশলটা আপনাদের জানিয়ে দিলাম মাত্র। ম্যাডাম শুনান ভাইংগও প্রায় একই কথা বলেছিলেন। ক্ষুধার্ত এবং ভগ্ন হৃদয়ে তিনি আয়হত্যা প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কেবল তাই নয় তার শিশু- দেরও মেরে ফেলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এসত্ত্বেও তিনি গান গাইতে পারতেন এবং মনে হয় তাঁগনারের সঙ্গীতের সবচেয়ে বড় গায়িকা ছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন তাঁর সাফেল্যের মূলেও হল লোকদের তাঁর প্রতি আন্তরিক আগ্রহ। থিযোডর রুসডেন্টের অদ্ভুত জনপ্রিতার মূলেও তাই। তাঁর চাকরেরা পর্যন্ত ঢাকে ভালবাসত। তাঁর নিগ্রো ঢাকর একখানা বই লিখেছিল তাঁর সম্পর্কে সে লিখেছিল: একবার আমার স্ত্রী প্রেসিডেন্টকে বব হোয়াইট সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি জামার স্ত্রীকে সবিস্তারে বলেছিলেন বব হোয়াইট কেমন দেখতে হয়। কিছুক্ষণ পর আমাদের বাড়ীর টেলিফোন বেজে উঠল। আমার স্ত্রী টেলিফোন ধরলেন। নিস্টার কসডেন্ট নিজে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে আমাদের জানালার বাইরে একটা বব হোয়াইট এসেছে এবং চেষ্টা করলে দেখা যেতে পারে। এরকম ভোটখাট ব্যানারে মনোযোগ দেওয়া ছিল তার চরিত্রের একটা বিশেষজ্ঞ। তিনি যখনি আমাদের কুটিরের কাছ দিয়ে যেতে আমাদের দেখতে না পেলেও আমাদের নান ধরে বন্ধুভাবে ডাকতেন। রকবার কসডেন্ট হোয়াইট ফাউসে এসেছেন। সেদিন প্রেসিডেন্ট এবং নিসেস ট্যাক্ট বাড়িতে চিলেন না। তিনি পুরালে। কর্মচারীদের সবাইকার নায বরে ডাকলেন, এখন কি ঝিদের পর্যন্ত। আচি বাট লিখেছেন, রান্না ঘরের ঝি খাদিসকে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন সে তখনও ভুট্টার কটি তৈরী করে কিনা? অ্যালিস বলেছিলেন যে রুটি এখনো তৈরী করে বটে চাকরেরা খার কিন্তু উপরতলায় কেউ গায় না। কনছোট বলেছিলেন, তাদের রুচিস্টাই খারাপ। আমি প্রেসিডেনেটর সঙ্গে এবিষয়ে রথা ধরু। অ্যালিস একটি প্লেটে করে কটি এনে দিল। অফিসের দিকে চলতে চলতে তিনি রুটি খেতে লাগলেন। কটি খেতে খেতে তিনি বাগানের মালীদের সঙ্গে কথাবার্ত। বলতে বলতে চললেন।

পৃষ্ঠা:৪০

তিনি প্রতিটি লোকের সঙ্গে আগের মতই কথাবার্তা বললেন। এখন তার। এই নিয়ে আলোচনা করে গোপনে। আইক হত্তার সফল চোখে বলেছিলেন দু’বছরের মধ্যে এমন আনন্দের দিন আমরা পাইনি। পাঁচশো টাকা দিলেও এমন দিন কাউকে দিব না অন্য লোকের সম্পর্কে প্রবল আগ্রহের জন্যই ভক্টর চার্লস ভবন এলিয়েটের এত নাম ডাক। তিনি বট বছর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলন। একটি ঘটনা বললেই তাঁর মনের পরিচয় পাওয়া যাবে। নতুন একজন ছাত্র ভর্তি হরেছে কলেজে-সে ছাত্র-তহবিল থেকে পঞ্চাশ তলার বার করতে গিরেচে প্রেসিডেন্টের কাচে। টাকা দেবার পর সে যখন ফিবে আসছিল তখন প্রেসিডেন্ট এলিয়ট তাকে বলেছিলেন, একটু বসো। শুনেছি তোমরা নিজেরা রান্না করে খাও। আমার মনে হয় না তা খারাপ কাজ। অবশ্য খাদ্য ভাল হওয়া চাই এবং প্রচুর হওয়া চাই। পানি যখন কলেজে ছিলাম আমিও তাই করতাম। তুমি কখনও মাংসের ভষ্টি তৈরী করেছ কি? জিনিসটা তৈরী করতে পারলে বেশ ভাল হয়, একটুও নষ্ট হয় না এতে। তারপর তিনি কি করে মাংসের রুটি তৈরী করতেন তার বিশদ বিবরণ দিলেন। আমি দেখেছি, আমেরিকার সবচেরে ব্যস্ত লোকের মনোযোগ, সময় এবং সহানুভূতি পাওয়া যায় যদি তাঁর প্রতি সত্যই খাগ্রহশীন হওয়া যায়। একটা উদাহরণ: বহু বছর আগে রুকলিন শহরে একটি গল্প উপন্যাস লিখবার কোর্স খুলেছি লাম। আমরা বিখ্যাত গল্প লেখক-লেখিকাদের ক্রুকলিনে এসে তাদের অতি- ক্রতার কথা বর্ণনা করতে চিঠি লিখেছিবাম। আাবরা লিখেছিলাম যে আমরা তাঁদের রচনা পড়ল করি অতএব তাঁদের উপদেশ আমরা পেলে বন্য হবো। এর প্রতিটি চিঠিই একশো পঞ্চাশ জন ছাত্র সই করেছিল। আমরা লিখে- ছিলান তাঁরা নিশ্চয়ই ব্যস্ত থাকবেন, বক্তৃতা তৈরী করবার সময় তাঁদের হবে না, অতএব আামরা কতকগুলি প্রশ্ন লিখে পাঠাচ্ছি তাঁরা যেন তার উত্তর দিয়ে বাধিত করেন। তাঁরা যে চিঠি পছন্দ করেছিলেন-কার এমন চিঠি পছন্দ না হয়? গতএব তাঁরা তাঁদের বাড়ি ছেড়ে ব্রুকলিনে এসে আমাদের সাহায্য করেছিথেন। এই উপায়ে আমি বহু গণ্যমান্য লোককে আমাদের কোর্সে বক্তৃতা দেবার জন্য পেয়েছিলাম। আমরা কলাই হই ব। মহারাজ হই, আমাদের সকলেরই ভাল লাগে যখন আমাদের কেউ পচল করে। কাইজারের কথা বরা যাক। প্রথম মহাবুদ্ধের কিছু

পৃষ্ঠা ৪১ থেকে ৬০

পৃষ্ঠা:৪১

পরেই তাঁর অবস্থ। হয়েছিল শোচনীয়। পৃথিবীর সবাই তাঁকে তখন আন্তরিক ঘৃণা করত। সামনে পেলে লোকেরা নিশ্চরই তাঁকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলতো। নিজের রাষ্ট্রেই তিমি এমন খুণিত হলেন যে, তিনি হল্যান্ডে পানিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই রকম যখন তাঁর অবস্থ। তিনি তখন একটি চি পেলেন-একটি বালকের কাছ থেকে। আন্তরিক ভাবে সে যে তাঁকে পছন্দ করে তাসে লিখেছিল। সে নিথেছিল অন্যেরা যে যা বলুক না কেন তার কাছে তিনি সম্রাট। এই চিঠি পেরে কাইজার একেবারে গলে গিয়েছিলেন। ছেলেটিকে তিনি দেখা করতে নিখেছিলেন। ছেলেটি মাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল- পরে কাইজার ছেলেটির মাকে বিয়ে করেন। ছোট ছেলেটির পক্ষে ‘প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ বা এই ধরনের কোন বই পড়বার প্রয়োজন ছিল না। অন্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হলে, অন্যের কাজও করতে হয়। এমন কাজ যে কাজে প্রয়োজন হয় সময়, নিরলস আগ্রহ, নিঃস্বার্থপরতা এবং চিন্তা। ডিউক অফ উইওসর যখন প্রিন্স অব ওয়েলস (বুধরাজ) ছিলেন, তাঁকে একবার দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণে বেরুতে হয়েছিল। স্বেণায়ন যাবার আগে কয়েক মাস ধরে স্প্যামিশ তাষা তিনি শিখেছিলেন। শিখেছিলেন কারণ তিনি চেয়েছিলেন যে জনসাধারণের কাছে ঋণ। যাতে জনসাধারণের ভাষাতেই বলতে পারেন। দক্ষিণ আমেরিকার লোকেরা এজন্য তাঁকে তালবেসেছিল। বহু বছর ধরে দাবি আমার বন্ধুদের অনন্মদিন জেনে নিয়েছি। কেমন করে? যদিও আমার গৃহবিদ্যা সম্পর্কে সামান্যমাত্রও বিশ্বায় নেই তবু আমি বন্ধুদের জিঞ্জেণ করি জন্ম তারিখের সঙ্গে চরিত্রের কোনো সম্পর্ক আছে একথা তাঁরা বিশ্বাস করেন কিনা। তারপর জিঞ্জেস করি তাঁদের জন্য তারিখ। যদি একজন বলেন নভেম্বর ২৪, দামি ক্রমাগত নিজের মনে রাখার চেষ্টা করি-নাস্তেম্বর ২৪। যে মুহূর্তে বন্ধুটি সেখানে থাকেন না, সে মুহূর্তে তারিখটা আমি লিখে রাধি, তারপর একটা অন্মদিনের বইতে পেট। ভাল করে লিখে রাখি। তারপর আমি তাদের জন্মদিনে চিঠি লিখি বা টেলিগ্রাফ পাঠায়। ফলটা ভাল হয়। প্রানই দেখা যায় আমিই একমাত্র লোক বে তাঁর অনন্মদিন মনে রেখেছে। আযরা যদি বন্ধুত্ব করতে চাই তাহলে বোবদের সজীবতার সঙ্গে অভিবাদন যেন করি। টেলিফোনে কেউ ডাকবে কৌশলট। ব্যবহার করা উচিত। এমন ভাবে ‘হ্যালো’ বলা উচিত যাতে মনে হর বৌলিফোনে যে ডেকেছে তার ভY খুনে আপনার অনিস হয়েছে। নিউইয়র্কের টেলিফোন কোম্পানী অপারেটর- দের ‘নাম্বার প্লিজ’ কথাটা এমন ভাবে বলতে শেখান যাতে তা শুনলে মনে

পৃষ্ঠা:৪২

হয় নমস্কার-আমি আপনার কাজ করে দিতে পেরে খুশী। কাল টেলিফোন এবার সময় যেন আপনার মনে থাকে কথাটা। বাবসায়ে এই উপায়টি কাজে লাগে কি? আমি অনেক উদাহরণ দিতে পারি কিন্তু সময়াভাবে যাত্র দু’টি উদাহরণ দিচ্ছি। একটি ব্যবসার প্রতিজ্ঞান সম্পর্কে গোপন রিপোর্ট প্রস্তুতের ভার পড়েছিল এক ভদ্রলোকের উপর। তিনি জানতেন মাত্র একটি লোককে বিনি এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সমস্ত খবরাখবর রাখতেন। ইনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট।

রিপোর্ট সংগ্রাহক যখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন তখন একটি ভদ্র মহিলা দরজা একটু ফাঁক করে নাগা বার করে বকলেন আজ কোন ডাকটিকিট আসেনি। প্রেসিডেন্ট বললেন, আমায় হেলের জন্য আমি ডাক টিকিট সংগ্রহ করি। রিপোর্ট সংগ্রাহক তাঁর আসবার উদ্দেশ্য খুনে বললেন এবং প্রশ্ন করতে লাগি লেন। প্রেসিডেন্ট ভাল উত্তর দিলেন না, অস্পষ্ট দু’চারটে কথা বললেন যাত্র। তিনি কোন কিছু বলতে অনিচযুক বলে মনে হল। কথাবার্তা আর এগুন না। রিপোর্ট সংগ্রাহক পরে বলেডিলেন, প্রথমেই তো বুঝতেই পারলাম না কি করা উচিত। তারপর মনে হল প্রেসিডেন্টের সেক্রেটারী কি বলেছিল। ডাকটিকিট, বারো বছরের ছেলে, তখন আমার মনে পড়ল আমাদের বিদেশী বিভাগে প্রচুর ডাকটিকিট জমিয়ে রাখা এর। রোজ যে সমস্ত চিঠি আসে তা থেকে কেটে রাখা হর। পরাদন বিকেল বেলা আমি আবার তাঁর কাছে গিয়ে খবর পাঠালান যে তাঁর ছেলের জন্য খাবি কিছু ডাকটিকিট এনেছি। আমাকে কি ঘটা করেই না তাঁর কাছে দিয়ে যাওয়া হল। আমার করমর্দন করলেন এমন জোরে যে দনে হতে পারত তিনি বুঝি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের ধানা নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি সহাস্যে বললেন, গ্রামার ছেলে জর্জ এতে খুব খুশী হবে আর কত ভাব- টিকিট। এবে অনেক।

আমরা ডাকটিকিট এবং তার ছেলের ছবি দেখে বাধ ঘণ্টা কাটালাম। তারপর এক ঘন্টা ধরে না চাইতেই তিনি প্রচুর সংবাদ দিলেন। তিনি যা জানতেন ত। তো বললেনই, তাঁর অধীনস্ত কর্মচারীদের ঢেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেও অনেক বলতেন আনাকে, তা ছাড়া তাঁর দু’একজন বন্ধু-বান্ধবকে টেলিফোন করে আমাকে খবর, রিপোর্ট ইত্যাদি দিলেন। খবরের কাগজের আর কেউ এত সংবাদ বের করতে পারেনি।

পৃষ্ঠা:৪৩

আর, একটি উদাহরণ: এক কয়লা ব্যবসায়ী নাম তাঁর নি এম ন্যাফলে। ফিলাডেলফিয়াতে এ’র বাড়ি। ইনি বস্তু বছর ধরে একটি চেইন স্ট্রোরকে করলা বিক্রি করতে চেষ্টা করে- ছিলেন। কিন্তু চেইন স্টোরের কর্তৃপক্ষ করলা কিনতেন সর্বদা শহরের বাইরের একটি দোকান থেকে। একদিন মিষ্টার ন্যাফরে আমাদের ক্লাসে চেইন স্টোরের বিরুদ্ধে বেশ খানিকটা বিষোদগার করবেন। তিনি বুঝতে পারতেন না কেন তিনি চেইন টোরের কাছে কিছুতেই করল। বিক্রি করতে পারছেন না। আমি তাঁকে অন্য রকম কৌশল প্রয়োগ করতে বনসায়। যত্ন কথায় বলতে গেলে এই ঘটেছিল। আমরা ক্লাসে বিতর্ক প্রতিযোগিতা করেছিলাম। বিষদ্ধ চেইন স্ট্রোর দেশকে উন্নতি না করে ক্ষতিই করছে। বিষ্টার ন্যাফলেকে আমি বলবান উপটে। দলে বলতে। তিনি চেইন ষ্টোরকে। সমর্থন করে তর্ক করবেন স্থির হল। তখন তিনি সেই চেইন ষ্টোরের একজন বড় অফিসারের কাছে গিরে বললেন, আমি এখানে করনা বিক্রি করতে আসিনি। আমি এসেছি একটা করুণা ভিক্ষা করতে। তখন তিনি তাঁর বিতর্ক সম্পর্কে বলনেন। তারপর বললেন, আমি আপনার সাহায্যের জন্য এসেছি। কারণ অন্য কাউকে আমি জানি না বিনি আপনার চাইতে এ ব্যাপারে বেশী ওয়াকি- বহাল। আমি এই বিতর্কে জিততে চাই। আপনি যদি কোন সাহায্য করেন তাহলে বড় ভাল হয়। এবার শুনুন নিষ্টার ন্যাফলের নিজের কথায়: আমি লোকটির কাছ থেকে মাত্র এক মিনিট সময় চেয়েছিল।ন। সেই শর্তে তিনি আনাকে দেখা দিতে রাজী হয়েছিলেন। আমি যখন আমার বক্তব্য বললাম তখন তিনি আমাকে বসতে বললেন চেয়ারে। তারপর এক ঘণ্ট। সাতচল্লিশ মিনিট আমার সঙ্গে কথা বললেন। তিনি আর একজন একসি- কিউটিভকে ডাকলেন-তিনি চেইন স্ট্রোর সম্পর্কে একখানি বই লিখেছিবেন। তিনি ন্যাশনাল চেইন স্টোরস সমিতি থেকে এই বিষয়ে বিতর্কের একটি কপি আমাকে আনিয়ে দিলেন। তাঁর ধারণা চেইন স্টোরগুলি মানব কল্যাণের পথে যথেষ্ট সাহায্য করছে। তিনি বহু লোকের উপকার করতে পেরে বেশ গর্বিত। কথা বলতে বলতে তাঁর চোখ বেশ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। আমি স্বীকার করছি যে তিনি আমাকে যা বলেছিলেন তা আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি। তিনি আমার চিন্তাধারাকেই বদলে দিবেন।

পৃষ্ঠা:৪৪

আমি যখন চলে আসছিলাম তিনি আমাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন, আমার কাঁধের উপর হাত রেখে আমার বিতর্কে লাফালা নাভের জন্য প্রার্থনা করলেন। কেবল তাই নয়, তিনি আামাকে বললেন তাঁর সঙ্গে আবার এবে দেখা করে ব্যাপারটা জানাতে। তিনি আমাকে সব শেষে বললেন বসন্তের শেষ দিকে একবার আবার সঙ্গে দেখা করবেন-আমি আপনার কাছ থেকে কিছু করলা কিনতে চাই। আমার কাছে সেটা একেবারে ইন্দ্রজাদের মত মনে হয়েছিল। তিনি আমার কাছ থেকে কয়লা কিনতে চেয়েছিলেন, অথচ আমি তাঁকে হাবভাবেও তা জানাইনি। আমি তাঁর সম্পর্কে সত্যিই আগ্রহ দেখানোতে দু’ঘণ্টায় যে কাজ হল তা গত দশ বছরে তাঁকে আমার কয়লা এবং আামার সম্পর্কে আগ্রহান্বিত করতে গিয়ে সে কাজ হয়নি। সিস্টার ন্যাফনে কোন নতুন নিয়ন আবিষ্কার করেননি। খ্রীষ্ট জন্মের এফশে। বছর আগে, বিখ্যাত একজন রোমান কবি পবলিউস সাইক্কর বনেছিবেন; অন্যে আমাদের সম্পর্কে আগ্রহান্বিত হলেই আমরা তাদের প্রতি আগ্রহান্বিত হই। অতএব যদি চান যে লোকেরা আপনাকে পছন্দ করুক তাহলে এক নম্বর নিয়ম হলঃ অন্য লোকের প্রতি সত্যি আগ্রহ দেখান।

পৃষ্ঠা:৪৫

পঞ্চম অধ্যায়

ভাল লাগানোর একটি সহজ উপায়:- সম্প্রতি আবি নিউইয়র্কে একটি ডিনার পার্টিতে গিয়েছিলাম। অতিথিদের মধ্যে একজন হঠাৎ ধনী হওয়া ভদ্র মহিলা সবাইকে ডাল লাগানোর জন্য অনেক কিছুই করেছিলেন। তিনি দামী একটি ফার কোট পরেছিলেন, মণি, মুক্তো, মাণিক্যেরও অভাব ছিল না। কিন্তু নিজের মুখচোখ সম্পর্কে তিনি বিশেষ কিছু করেননি। দেখেই যনে হচ্ছিল তাঁর মুখটা যেন বিরক্তি আর স্বার্থপরতায় তরা। ভদ্রমহিলা বুঝতে পারেনি যে, লোকেরা জানে যে গোধাকের চাইতে মেয়েদের মুখ তাদের অনেক বেশী প্রকাশ করে। চার্লস শরাব আমাকে বলেছিলেন, তাঁর হাসির মূল্য দশ লক্ষ ডলার। কথাটা তিনি বাড়িয়ে বলেননি মোটেই। শরাবের মধুর ব্যক্তিত্ব, অনাদের তাল লাগানোর ক্ষমতা এ সমস্তই তাঁর আশ্চর্য সাফলোর বুনে। তাঁর ব্যক্তিত্বের মাধুর্যের মধ্যে একটি হল তাঁর গুলর হাসি। একবার একদিন বিকেল বেলা ময়িস শেভলিরের-এর সঙ্গে কাটাই। সত্যিকথা বলতে কি আনি হুতাশই হয়েছিলাম। তাঁর মুখ ছিল কালো মেঘের যত অন্ধকার আর গম্ভীর। তিনি অন্য রকম হবেন সেই আাশার করেছিলাম। কিন্তু তাঁর হাসি ফুটলে চেতারাটা বদলে গেল। মনে হল কালো মেঘ ভেদ করে সূর্য ভেঙে পড়ছে। যদি তিমি অমনি না হাসতেন তাহলে তিনি হয়ত কোনদিনই বড় হতে পারতেন না। তিনি হয়ত বাক্স আনসারী তৈরী করেই জীবনটা কাটাতেন। তাঁর বাবা এবং ভাইয়ের। সেই কাফই করতেন। কণার চাইতেও বড় হল কাজ। একটি হাসি প্রকাশ করে যেঃ আমি তোমাকে পচন্দ করি-তোমাকে দেখে খুব আনন্দিত। সেজন্যই কুকুরদের এত খাতির। আমাদের দেখে কুকুরেরা এত আনন্দ বোধ করে যেন চামড়া তেদ করে বেরিয়ে আসতে চায়। তাই তাদের দেখেও আমাদের আনন্বিত হওয়া স্বাভাবিক। তাই বলে হাসির নকল না করাই ভাল। না-দেখলেই তা বোঝা যায়। যান্ত্রিক হাসি দেখলেই বোঝা যায় আর আমাদের ভালও লাগেনা। আমি একটি সত্যিকারের হাসির কথা বলছি যে হাসিতে হৃদয় উৎফুল্ল হয়, যে হাবি অন্তর থেকে আসে, বাজারে যে হাসির জন্য ডাল মল্য পাওয়া যায়।

পৃষ্ঠা:৪৬

নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি দোকানের বিক্রেতা হিশেবে একটি স্কুলের বেড়। পেরোয়নি এমন মেরেকেও নিতে রাজী যাছেন, যদি তার হানি হুলুন্দর হয়। কিন্তু যদি একটি দর্শনের পণ্ডিত গম্ভীরমুখো হয় তাহলে তাকে তিনি নেবেন না বিক্রেতা হিসেবে। আমেরিকার একটি বড় রাবার কোম্পানীর চেয়ারম্যান বলেছিলেন, তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলতে পারেন যে একজন লোক যদি কাজে আনন্দ না পায় তাহলে তাতে যে খুব কমই সাফল্য লাভ করে। এই শিল্পপতি বিশ্বাস করেন না যে, কেবলমাত্র কঠিন পরিশ্রমের ফলেই উন্নতি করা সম্ভব। তা হয় না। তিনি বলেছিলেন, আমি অনেক দোককে জানি যাঁরা সাফল্যলাভ করেছিলেন কারণ তাঁরা সে কাজ করে আনন্দ পেয়েছিলেন। পরে আনি দেখেছি যাঁরা প্রথম থেকে কাজ করতে শুরু করেন (আনন্দ না করে) তাঁরা শেষ পর্যন্ত উৎসাহ বজায় রাখতে পারেন না। অবশেষে ব্যর্থতা তাঁদের ঘিরে ধরে। যদি আপনি চান অন্যেরা আপনাকে দেখে মানশ্চিত হউক, তাহলে অন্যদের দেখে আপনি আনন্দ প্রকাশ করুন। আমি হাজার হাজার ব্যবসায়ীকে বলেছি সারাদিন হতো বেশী পারেন লোকের দিকে তাকিরে হাসতে। এরকম এক সপ্তাহ করবার পর আমাকে তার ফলাফল জানাতেও বলেছিলাম। এর ফল কি হয়েছে? দেখা যাক এই যে এখানে একটি চিঠি লিখেছেন উইলিয়ান বিস্টাইনহার্ট। ইনি নিউইয়র্ক এক্সচেন ক্লাবের সভা। এরকম ঘটনা আরে। প্রচুর ঘটেছে।

তিনি লিখেছেন: আমার বিয়ে হয়েছে আঠারো বছরেরও আগে। কিন্তু সকালে উঠে কাজে বেরিরে যাবার আগে পর্যন্ত আমার স্ত্রীর সঙ্গে গোটাকয়েক যাতে কথা হয়। আমি মুখ সব সময় প্যাঁচার মত গম্ভীর করে থাকতাম এবং হাসতাম না। শ্রডওয়েতে অমুখী লোকদের মধ্যে আমি ছিলাম একজন। আপনি আমাকে বলেছিলেন কথা বলার সময় হাসতে এবং সে অভিজ্ঞতার কথা জানাতে: সেজন্য আমি এক সপ্তাহ তা পরীক্ষা করে দেখব বলে স্থির করেছিলাম। পরদিন যখন আামি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচিছলাম তখন আমি নিজেকে বলেছিলাম-বিল, আজ তোমাকে গাম্ভীর্য ত্যাগ করতে হবে। গ্রেকফাষ্ট খাওয়ার সময় আমি আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম, সুপ্রভাত! আপনি আমাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, আমার স্ত্রী এতে খুব অশ্চর্য হয়ে যাবেন। আপনি কমই বলেছিলেন, আমার স্ত্রী হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি এরকমটা ঠিক আশা করেন নি। আমি আমার স্ত্রীকে

পৃষ্ঠা:৪৭

বলেছিলাম, এখন থেকে এরকম রোজই হবে। দু’মাস হল আমি প্রতি সকালে এরকম করে যাচিহ্ন। আমার এ পরিবর্তিত মানসিক অবস্থার জন্য আমরা খুব সুখী হরেছি। গত বছরের তুলনায় এই দু’মাস হল আমরা অনেক ভাল আছি। আমি যখন অফিসে যাই, তখন লিফট ঢালায় যে ছেলেটি তাকে হেসে বলি, হুপ্রভাত। আমি দারোয়ানের দিকে তাকিয়ে একটু হাসি। কেবল তাই নয়, রেলের টিকেট কিনে খুচরো ফেরত দেবার কথা হেসে বলি। যে সমস্ত লোক আমাকে কখনও হাসতে দেখেনি, তাদের দিকে তাকিয়েও আমি স্মিত হাসি। কিছু দিনের মধ্যেই দেখলাম লোকেরা আমাকে সহাস্যে অভিবাদন করতে শুরু করেছে। যারা আমার কাছে হাসিমুখে অভিযোগ নিয়ে আসে, তাদের কাছ থেকে অভিযোগ শুনি। আমি হাসিমুখে তাদের অভিযোগ শোনাতে মিটমাটও তাড়াতাড়ি হরে যায়। এর ফলে আমি দেখেছি দৈনিক আমার আয় বেশী হচ্ছে। একজন দালালের সঙ্গে আমাকে কাজ করতে হয়। সেখানে একটি যুবক কেরাণী আছে-তাকে বেশ ভাল লাগে। একদিন খুব আনন্দের সঙ্গে লোবা জনের সাবে ব্যবভার সম্পর্কে আমার নতুন জীবনদর্শন তাকে বলেছিলান। তখন যে বলেছিল যে, সে অফিসে যখন আদি প্রথম যাই, তখন যে আমাকে। তেবেছিল ওয়ানক অসুখী, কিন্তু তারপর তার মত পরিবর্তিত হয়েছে। সে বনেছিল আমি হাসলে আমাকে সত্যি মানুষের মত মনে হয়। আমার মন থেকে সমালোচনা ব্যাপারটিকেই দূর করে দিয়েছি। এখন গালাগানের পরিবর্তে প্রশংসা করি লোককে। আমি কি চাই সে সম্পর্কে আর- কাল আলোচনা করি না। এখন আমি অন্যের দষ্টিভঙ্গী জানতে চাই। এর ফলে আমার জীবনে সত্যিকারের পরিবর্তন হয়েছে। আমি এখন নতুন মানুষ হবে বিয়েছি, হথী এবং সমৃদ্ধ, বন্ধুত্বেও আমি সমৃদ্ধ-এর বেশী আর নোকের চাটবার কি থাকতে পারে। মনে রাখতে হবে, এ চিঠিখানা লিখেছেন একজন, যিনি শেয়ার বাজারে কেনা-বেচা করেন। এ বড় কঠিন কাজ, এত কঠিন বে, চেষ্টা করেও শতকরা একজনের বেশি এ ব্যাপারে সাফব্য লাভ করতে পারে না।হাসতে আপনার ইচ্ছে করে না? ছাপতে যদি আপনার সত্যি ইচ্ছে না করে তাহলে আপনাকে দু’টি কাজ করতে হবে। প্রথমতঃ জোর করেই হান। উচিত। বর্ণন একা থাকেন তখন জোর করে শিষ দিন বা গুন গুন করে গান

পৃষ্ঠা:৪৮

গাইতে থাকুন। দ্বিতীয়তঃ, এমন ভাবে চলুন বাতে যনে হবে আপনি সত্যি সত্যি খুৰী, তাতেই আস্তে আস্তে সুখী হয়ে উঠবেন। হার্ভার্ডে ভূতপূর্ব অধ্যাপক উইলিয়াম জেমস্ বলেছেন, কিছু করবার পর সে বিষরের অনুভূতি মনে প্রবেশ করে-আসলে কাজ এবং অনুভূতি এ বুটিই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কাজকে নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব কারণ ইচেছ করলে কাজের প্রকৃতি বেছে নেওয়া যায় বা বাদ দেওয়া যায়। ফবে কাজের সাহায্যে দরকার যত অনুভূতি সৃষ্টি করা সম্ভব অসুখী থাকলে সুখী হবার শ্রেষ্ঠ উপায়, হর্থী হবার ভান করা। পৃথিবীতে সবাই সুখের সন্ধান করছে, সুখের একমাত্র উপায় হল আপনার চিন্তাকে নিয়ন্ত্রিত করা। বাইরের অবস্থার উপর সুখ নির্ভর করে না, সুখ নির্ভর করে মনের উপর। আপনার কি আছে, আপনি কি করেন, আপনি কে, এ সদস্তের সঙ্গে সুখের বা দুঃখের কোন সম্পর্ক নেই। এ ব্যাপারে আপনি কি ভাবেন তার উপরই সব নির্ভর করে। দু’জন লোক একই জায়গায়, একই কাজ করে, তাদের এফই রকম আায় এবং সম্মান। কিন্তু তা সত্ত্বেও একজন খুব সুখী এবং অন্যজন খুব দুঃখী হতে পারে। কেমন করে তা হতে পারে? কারণ দু’জনের মধ্যেকার চিন্তাধারা বিভিন্ন। পার্ক এ্যাভেনিউতে যে পরিমাণ খুশি মুখ আমি দেখেছি যে পরিমাণ খুশি মুখ আমি দেখেছি চীন দেশের কুনিদের মধো-বে চীনে কুলিয়া ধর্মাক্ত কলেবরে রোদুরে দৈনিক পঁয়ত্রিশ নরা পরসার জন্য কাজ করে। শেক্সপীয়ার বলেছিলেন, কোন জিনিসই খারাপ নয়, কেবল চিন্তাই ভাল বা খারাপের সৃষ্ট করে। লিঙ্কন একদা বলেছিলেন, লোকেরা যতখানি সুখী হতে চায়, ততখানি সুখীই তার। হতে পারে। তিনি ভুল বলেন নি। সম্প্রতি ঐ কণার একটি জাজুল্যমান প্রমাণ পেরেছি। নিউইয়র্কের একটি রেশনের সিঁড়ি দিয়ে আমি উপরে উঠছিলাম। আমার ঠিক সামনেই ত্রিশ-চল্লিশটি বিকলাঙ্গ ছেলে লাঠি এবং ক্রাচের উপর ভর দিয়ে কষ্ট করে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠছিল। একটি ছেলেকে তো কোলে করে উপরে তুলতে হচ্ছিল? আমি তাদের হাসি এবং আনলের চিৎকারে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। সেই ছেলেদের পরিচালককে ব্যাপারটা কি জিজ্ঞেণ করেছিলাম। তিনি বলেছিবেন, যখন কোন ছেলে জানতে পারে যে, যে সমস্ত জীবনের জন্য বিকলাঙ্গ হতে চলেছে, তখন সে প্রথমে বেশ আধাত পায়। কিন্তু আঘাত কাটিয়ে উঠবার পর যখন তার এই অবস্থাকে সে মেনে নেয়; তখন যে স্বাভাবিক ছেলেদের চাইতেও সুখী হয়ে ওঠে।

পৃষ্ঠা:৪৯

ছেলেগুলির দিকে তাকিয়ে শ্রদ্ধায় আমার মনটা ভরে গেল। তারা আমাকে যে শিক্ষা দিয়েছে তা আশা করি জীবনে কখনও ভুলব না। মেরি পিকফোর্ড বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য চেষ্ট। করেছিলেন। তাঁর স্বামী ছিলেন ভগলাস ফেরারব্যাকস। এই সময়ে আমি মেরি পিকফোর্ডের সঙ্গে একটি বিকেল কাটাই। তখন সবাই হয়তো ভেবেছিল যে যেরি পিকফোর্ড খুব বিরক্ত এবং অসুধী। কিন্তু আমি দেখলাম, মোটেই তা’ নয়। তাঁকে বেশ শান্ত এবং বিজয়গবিণী মনে হচ্ছিল। তিনি যেন চারদিকে গুণ বিচ্ছুরিত করছিলেন। সত্যি বলতে এতো সুখী কাউকে বড় একটা আমি এর আগে দেখিনি। তার খুর্থী হবার পেছনে যে কারণগুলি রয়েছে তা যদি জানতে চান তো তাঁর লেখা পঁয়ত্রিশ পৃষ্ঠার ছোট বইখানা “Why not try God” পড়ে ফেলুন। একজন সফল বীমাকারী আমাকে বলেছিলেন যে হাসিমুখের সর্বত্র কদর। কোন লোকের ফফিসে ঢুকবার আগে তিনি একটু থেমে নানারকম ভাল কথা ভাবেন। তারপর হাসি মুখ নিয়ে চুকে পড়েন অন্যের অঙ্গি ঘরে। সে ঘরে নাবার পর সে হাসি আস্তে আস্তে মিলিয়ে যায়-কিন্তু তাতে যথেষ্ট কাজ হর। এই সহজ উপারটি তার ব্যবসায়ে সাফল্যলাভের অন্যতম কারণ। এলবার্ট হার্ভার্ডের উপদেশার্ট বিচার করুন। কিন্তু কেবল বিচার করলে কিছুই হবে না যদি না আপনারা তা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন। মাথা উ করে চলুন এবং কুরকুতে প্রচুর হাওয়া ভরে নিন। আর থানিক সূর্যের আলো নিয়ে নিন শরীরের মধ্যে। বন্ধুদের হেসে সম্বর্ধনা করুন, আর কাকর হাত যখন ধরবেন তখন যেন অপর লোক আর্থীয়তা অনুভব করে। এর ফলে ভুল বোঝবার সম্ভাব- নাকে ভর করবেন না আর শত্রুদের কথা ভেবে একটি মিনিটও বাজে নষ্ট করবেন না। নিজের যনে বৃঢ়তা জানুন। কি করতে চান স্থির করুন। তারপর কোন- দিকে বৃকপাত না করে লক্ষ্যে গিয়ে পৌঁছন। মনে করুন, আপনি কি তান তাল জিনিস করতে চান, তখন দেখবেন একটি দিন যাবে আর আপনি ক্রমশই আপনার লক্ষ্যের নিকটবর্তী হচ্ছেন। একটি প্রবাল পোকা যেমন ঢেউয়ের ভেতর থেকে টেনে নেয় প্রয়োজনীয় জিনিষ, তেমনি আপনিও সংগ্রহ করবেন আশে পাশে যা ঘটেছে তা থেকে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস। নিজের মনশ্চক্ষে দেখুন আপনাকে-আপনি সমর্থ, আাস্তবিক, প্রয়োজনীয় ব্যক্তি হতে চান। আাপনি কি তাবেন প্রতি ঘণ্টায় তার উপর নির্ভর করছে আপনার প্রবিষ্যৎ চেহারাটি। চিন্তাই প্রধান, মনকে সঠিক রাখুন সাহস আর আনন্দ যেন থাকে আর মনটা

পৃষ্ঠা:৫০

যেন থাকে খোলা। সঠিকভাবে চিন্তা করার মানেই হল সৃষ্ট করা। প্রতিটি জিনিসই আসে ইচ্ছে থেকে, আর প্রতিটি আন্তরীক প্রার্থনাই সফল হয়। আমাদের হৃদর যা চায় তাই আমরা হই। মুখ হাঁড়ি করে রাখবেন না। মাথা উচু করে চলুন। আমরা দেবতা হতে পারি একথা মনে রাখা প্রয়োজন প্রাচীন কালে চীনেরা খুব জ্ঞানী ছিলেন। পৃথিবীতে কেমন করে চলতে হবে যে সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান ছিল অসীম। যে দেশে একটি প্রবাদ আছে, কথাট। সর্বক্ষণ আমাদের মনে রাখা দরকার। প্রবাদটি এইঃ যে লোক হাসতে পারে না তার দোকান খোলা উচিত নয়। দোকানের কথার মনে পড়ল একটি বিজ্ঞাপনের কথ্য। বেগ একটা যরোরা উপদেশঃ বড় দিনের সময় হাসির মূল্য এতে খরচ নেই কিন্তু সৃষ্টি করে প্রচুর যারা গ্রহণ করে তার। এতে ধনী হয়, কিন্তু দাতার এতে কোন ক্ষতি হয়না। ঘটনাটি ঘটে এক মুহূর্তে কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় এর স্মৃতি চিরকাল থাকে। এমন কোন ধঙ্গী ব্যক্তি নেই যাঁর হাসির প্রয়োজন নেই। এমন দরিদ্র ব্যক্তি নেই যিনি এর ফলে উপকৃত হননি। হাসি গৃহকে সুখময় করে, ব্যবসায়ে নাম ডাক হয়। হাসি বন্ধুত্বের চিহ্ন। পরিশ্রান্তের পক্ষে হাসি হচ্ছে বিশ্রাম, হতাস লোকের কাছে দিনের আলো দুঃধীর পক্ষে সূর্যালোক, কষ্ট লাঘবের প্রাকৃতিক ওষুধ। হাসি কেনা যায় না, ভিক্ষে করে পাওয়া যায় না. ধার করা যায় না, চুরি করা যায় না-যতক্ষণ পর্যন্ত না হাসি কাউকে দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ এর কোন জাগতিক মূল্য নেই।

পৃষ্ঠা:৫১

বড়দিনের কেনাকাটার ভীড়ে এবং শ্রান্তিতে যদি আমাদের দোকান কর্ম- চারীদের কেউ এই হাসিনা দিতে পারে, তা’হলে আমরা আপনাকে অনুরোধ করবো এক টুকরে। হাসি দিয়ে যেতে। কারণ সবচেয়ে তাদেরই বেশী হাসির প্রয়োজন যাদের হাসি ফুরিয়ে গিয়েছে। অতএব, বদি আপনি জনপ্রিয় হতে চান, তাহলে হাতুন।

ষষ্ঠ অধ্যায়

এরকম না করলে বিপদে পড়বেন:- ১৮৯৮ খ্রীষ্টাব্দে রকন্যাও কাউন্টিতে একটি মর্যাস্তিক ঘটনা ঘটেছিল। একটি শিশু মারা গিয়েছিন এবং প্রতিবেশীরা শবযাত্রার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। এই সমর যেমন কারলি নামক একজন প্রতিবেশী একটি ঘোড়াকে অল খাওয়াতে নিয়ে – বাচ্ছিল, তখন ঘোড়াটা খুব জোরে তাকে লাথি মারে। ফলে জেমস ফারলি মারা যায়। দুইটি শব যাত্রারই আয়োজন হয় সে গ্রামে।  ফারলি তাঁর স্ত্রী এবং তিনটি ছেলেকে রেখে যায়। আর রেখে যার কয়েকশো ডলারের বীমার টাকা। তাঁর সবচেরে বড় ছেলের বয়স সশ, নাম জিম। তিনি ইট তৈরির কারখানায় কাজ করতে যান। বেখানকার সমস্ত কাজই তিনি করতেন। জিনের ভার লেখাপড়া শেখার সুযোগই আসল না জীবনে। কিছু ছেলেটির আইরিশগুলভ সন্তুষ্টভাবের জন্য লোকের। তাকে পহল করতো। এজন্য তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। কালক্রমে তিনি লোকদের নাম বদে রাখবার এক অদ্ভুত ক্ষমতা স্বায়ত্ত কবেন। তিনি কখনো উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেতরে যাননি, কিন্তু তার বয়স ছেচল্লিশ হবার আগেই তিনি চারটি কলেজ থেকে উপাধি পেয়েছিলেন। তিনি ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান হন এবং পরে আমেরিকার পোষ্টমাষ্টার জেনারেল হস।

পৃষ্ঠা:৫২

একবার আমি জিম ফারলিকে তার সাফনেন্দ্র গোপন-রহস্য জানতে চেরে- হিলাম। তিনি বলেছিলেন, এর মূলে আছে কঠোর পরিশ্রম। আমি বলেছিলাম ঠাট। রাখুন-সত্যি কথাটা বলুন।তিনি তখন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তার সাফল্যের কারণ সম্পর্কে আহার কি মনে হয়। আমি উত্তর দিয়েছিলাম, শুনতে পাই আপনি নাকি বণ হাজার লোকের প্রণব নাম ধরে ডাকতে পারেন। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন-না, কথাটা তুর। যানি পঞ্চাশ হাজার বোকের নাম মনে রাবি আয় তাদের প্রথন নাম ধরে ডাকতে পারি। এ ব্যাপারে কোন রকম দ্বিধা যেন না থাকে যে কসভেস্ট প্রেসিডেন্ট হবার নূভল ফারনির এই ক্ষমত।। তিনি অনেকদিন ধরে গোকের নাম মনে রাখবার কৌশল গড়ে তুলেটিনেন। প্রথমে ব্যাপারটা কঠিন ছিল না। যখনি কোন নতুন লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হত তখনি তিনি তার সম্পূর্ণ নাম জেনে নিতেন, কতবড় পরিবার, তার ব্যবসা ইত্যাদি সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নিতেন, যার তার রাজনীতি কি তাও জেনে নিতেন। তিনি সেই লোঞ্চটিকে মনে রাখবার জন্য এ সমস্ত সংবাদ সংসয় করতেন। এরপর যখন তিনি ঐ লোকটির দেখা পেতেন তা এক বছর পরে হলেও তিনি কিন্তু তার পিঠ চাপড়ে জিজ্ঞেস করতে পারতেন তার স্ত্রী বা ছেলে মেয়েদের করা। আরও জিজ্ঞেস করতে পারতেন তার বাগানের নানা রকমের স্কুনোর কথা। তাকে লোকেরা যে পড়ল করবে তাতে আর আশ্চর্যের কি আছে। ক্ষগডেল্ট প্রেসিডেন্ট হবার জন্য নির্বাচনী বক্তৃতা প্রচার ইত্যাদি শুরু করার কয়েক মাস আগে থেকেই জিন ফারনি দৈনিক শত শত চিঠি লিখতেন-পশ্চিম এবং উত্তর পশ্চিম রাষ্ট্রগুলিতে। তারপর দেখা গেল উনিশ দিনে কুড়িটি বাষ্ট্রে ভ্রমণ করেছেন। এবং নানারকম গাড়িতে করে গ্রায় বারো হাজার মাইল পুরেছেন। তিনি কোন শহরে গিয়ে লোকদের ব্রেকফাস্টের সময়ে বা লাঞ্চের লবয়ে বা চা কিংবা ডিনারের সময়ে বোকদের সঙ্গে দেখা করতেন, কথা বলতেন। এটুকু সময়ের মধ্যেই তিনি সকলের সঙ্গে আন্তরিকতার সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। তারপরই তাড়াতাড়ি করে ছুটতেন অন্য একটি শহরে। তিনি যখন পূর্ব দিকে ফিরে আসতেন তৎক্ষণাৎ তার প্রতিটি গেড়িয়ে আসা শহরের লোককে একটি চিঠি লিখতেন। তিনি তখন জানতে চাইতেশ যাহাদের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের ঠিকানা। যখন সে-সমস্ত ঠিকানা এসে পড়ত তখন তালিকায় হাজার হাজার লোকের নাম থাকত। প্রতিটি বোক

পৃষ্ঠা:৫৩

ব্যক্তিগত চিঠি পেরে একট খুশি হত। এই সমস্ত চিঠি আরম্ভ করা হত প্রিয় বিল বা প্রিয় জো এই ভাবে। নিজের নাম তিনি সর্বদাই লিখতেন জিন। জিম ফারবি তার জীবনের প্রথম দিকেই বুঝতে পেরেছিলেন মানুষ নিজের নামাটাই সবচেয়ে বেশী পছন্দ করে। পৃথিবীর অন্য সমস্ত নাম একত্রে রাখলেও তার নিজের নামাটাই শ্রেষ্ঠ মনে হয়। সে নামটা মনে রাখুন এবং সহয়া সে নাম ধরে তরুণ তাহলেই দেখবেন অণর ব্যক্তিটি খুশি হয়ে উঠেছে। কিও সে নান যদি একবার ভুলে যান, বা ভুল তাবে বানান করেন তাহলে আপনার অসুবিবে হবে। একবার প্যারিসে আমি জনসাধারণের মধ্যে কথঞ্চ বলা শেখানোর ক্লাস খুলেছিলাম। প্রচুর চিঠি পাঠিয়েছিলাম প্যারিসের আমেরিকান বাসিন্দাদের। ফরাসী টাইপিষ্টরা ইংরেজী না জানার ফলে নামগুলি বিখতে খুব স্বাভাবিক ভাবেই মারায়ক ভুল করেছিল। প্যারিসের এক বড় আমেরিকান ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট তাঁর নাম ভুল বানানে লেখা হরেছিল বলে বেশ গালাগান দিয়ে খানাকে চিঠি লেখেন। অ্যানড়, কার্ণেগীর সাফল্যের মূলে কি ছিল। তাঁকে বলা হত ইস্পাতের রাজা-তিনি নিজে কিন্তু ইস্পাত তৈরী সম্পর্কে খুব বেশী কিছু জানতেন না। তিনি শত শত লোককে নিযুক্ত করেছিলেন, যারা তাঁর চাইতে অনেক বেশী জানতেন ইস্পাত সম্পর্কে। কিন্তু তিনি জানতেন কেমন করে লোকদের চালনা করতে হয়। সে জন্যই তিনি ধনী হন। ছোট ধরসেই পরিচালনা সম্পর্কে দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। নেতা হবার আশ্চর্য কৌশল ছিল তাঁর আয়ত্তে। দশ বছয় বয়সেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের। নিজেদের নামকে কতখানি ভালবাসে। তিনি তা জানতেন বলেই সেই উপায় প্রয়োগ করে লোকদের সহযোগিতা পেতেন। স্কটল্যান্ডে তিনি যখন বালক মাত্র ছিলেন, তখন তিনি একটি খরগোশ বরেছিলেন- খরগোশটি তখন সন্তানসম্ভবা। কিছুদিনের মধ্যেই খরগোশের প্রচুর বাচ্চা হল, কিও তাদের খেতে দেবার যত বিশেষ কিছু ছিল না। কিন্তু তার একটা অদ্ভুত মতলব হল। তিনি তার পাড়ার ছেলেমেয়েদের বলেছিলেন যদি তারা সবাই এদের জন্য জঙ্গলে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে খানে, তাহলে প্রত্যেকের নামে বাচ্চ। খরগোশদের নামকরণ করবেন।  এই পরিকরনাটির ফলে বাবুর মত কাজ হল। জীবনে এ ঘটনা কার্বেগ।

পৃষ্ঠা:৫৪

এরকম না করলে বিপদে পড়বেন:- এর বন্ধ বছর পর তিনি ব্যবসায়েও এই মনস্তর প্রয়োগ করেছিলেন। একটি উদাহরণ দিচ্ছি-তিনি পেনসিকতানিয়া বেন কোম্পানীকে ইস্পাতের বেন লাইন বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। ঐ রেন কোম্পানীর ম্যানেজার চিলেন জে এডগার ঈনসন। ম্যানন্ধু কার্ণেগী বিরাট একটা ইস্পাতের কারখানা তৈরী করে তার নাম দেন-জে এডগার টনসন ইস্পাত কারখানা। এবার একটা দাঁৰী দিয়িয়। দেখুন উত্তর বার করতে পারেন কিনা। যথন পেনসিলভ্যানিয়া রেল কোম্পানীর রেল লাইনের ইস্পাত প্রয়োজন হত তখন জে এডগার টনসন কোন জায়গা থেকে ইস্পাত কিনতেন। তিনি কি রুবাক থেকে কিনতেন না বিয়ার্স থেকে। একটু ভেবে উত্তর দিন। যখন কার্ণেগী এবং জর্জ পুলম্যান দু’জনে বেলগাড়ীর ঘুমের কাবরা তৈরীর ব্যাপারে প্রতিযোগিতায় একজন অন্যজনকে ছারিয়ে দিতে চেই। করেছিলেন, তখন ইস্পাতরাজের আবার মনে হয়েছিল সেই খরগোশের ব্যাপার। অ্যান, কার্নেগীর নেতৃত্বে সেন্ট্রাল ট্রান্সপোর্ট কোম্পানী পুলব্যান কোম্পানীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করটিন। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একপক্ষ অপর পক্ষকে হারিরে দেবার জন্য সমস্ত রকম উপায় অবলম্বন করেছিল। দাম এমন অস্বাভাবিক ভাবে কমানো হচিছল যে লাভের আশা সমস্ত অন্তর্হিত হয়েছিল। এরা দু’জনে একবার নিউইয়র্কে ইউনিয়ন প্যাসিফিক কোম্পানীর বোর্ড আর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েটিলেন। একদিন সেন্ট নিকোলান হোটেলে পুনম্যানকে দেখে কার্ণেগী তাকে নমস্তার করে ডিজ্ঞেন করলেন, মিষ্টার পুনম্যান-আমরা কি নিজেদের বোকামির পরিচয় দিটিয় না। তখন কার্ণেগী করলেন তার মনের কথা। দুই কোম্পানীকে একত্রীকরণের কথা। তিনি বললেন দু’জনে একত্রে কাজ করলে কত সুবিবে হবে। দু’জনে দু’জনের বিরুদ্ধে কাজ করলে কারুরই বিশেষ সুবিধে হবে না। পুত্রয্যান অনেক- খানি মেনে নিলেও পুরোপুরি মেনে নিতে পারছিলেন না। অবশেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, নতুন কোম্পানীর নাম কি হবে? কার্ণেগী তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলেন অবশ্যই এর নাম হবে পুলম্যান প্যালেস কার কোম্পানী। পুলম্যানের মুখ উজ্জন হয়ে উঠল। তিনি বললেন, আমার ঘরে আত্মন, কথাবার্তা বলা যাক। ইতিহাসে পরিণত হয়েছিল সেই কথাবার্তা। অ্যান কাণেগী নান মদে রাখতেন। তিনিসে নাগুলির মর্যাদাও দিতেন- এর ফলেট ব্যথনায়ে তার এমন নেতৃদ্ধ করার ক্ষমতা এসে গিয়েছিল। তিনি

পৃষ্ঠা:৫৫

তার শ্রমিকদের অনেকের প্রথম নাম জানতেন বলে গর্ব অনুতব করতেন। তিমি আরো বলতেন যে, তিনি যখন ব্যক্তিগত তাবে সমস্ত ব্যাপারে কর্তৃত্ব করেছিলেন তখন কখনও তাঁর কারখানায় ধর্মঘট হয়নি। পেন্ডারুদ্ধি তার নিগ্রো পাচবকে সব সময়ে পুরানো কায়দায় নিষ্টার কপার বলে ডাকতেন। আমেরিকান কারদার জর্জ বনে না তাকাতে পাচকটি খুব খুশি হত। মানুষ নাম ভালবাসে। তাই তার দাম যাতে বেঁচে থাকে সেজন্য সে কত কষ্টই না করে। খুবই শক্ত লোক পিটি বারনান, কিন্তু তার ছেলে ছিল না বরে তার নামকে স্থায়ী করবার জন্য তার নাতিকে বলেন নে, যদি সে নাম বদলে সি এইচ সীলীর বদল করে সি এইচ বারনাম সীলী করে, তাহলে তাকে পঁচিশ হাজার ভলার দেবেন। দু’শো বছর আগে ধনী ব্যক্তিরা লেখকদের টাকা দিতেন, ভাতে লেখকের। তাঁদের নামে বই উৎর করেন। লাইব্রেরীতেও অনেকে বই দান করেন নিজেদের নামকে বাঁচিয়ে রাখতে। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরীতে ফ্যাক্টর এবং লেনক্স সংগ্রহ আছে। এরকম অনেক ভাইব্রেরীতে দেখা যাবে বহু লোক নামের জন্য প্রচুর বই দান করেছে। আর বন্ধু গীর্জাতে দেখা যায় বর্তীন কাঁচের জানালায় দাতাদের নাম লেখা। বহুলোক নাম মনে রাখতে পারে না তার সহজ কারণ হল যে, লোকেরা নাম মনে রাখার জন্য শক্তি এবং মনোযোগ দেয় না। তারা এর জন্য কারণ দেখার যে তারা বড় ব্যস্ত। কিন্তু তারা ফ্রাংকলিন ডি কনভেন্টের চাইতে ব্যস্ত নিশ্চয় নন। কনডেল্ট তার মটরগাড়ীর মেরামতকারী মেকানিকের নাম পর্যন্ত মনে রাখতেন। ক্লাইসনার একবার মটর গাড়ী তৈরী করেন রুগতেল্টের জন্য। সে গাড়িটি পৌছে দিতে যান নিষ্টার ডবলিউ এফ চেম্বারলেন এবং একমান মেকানিক। নিষ্টার চেম্বারলেন তাঁর সেই অতিজ্ঞতা জানিয়ে চিঠি দিগেটিলেন। চিঠি গানা আমার কারে আাছে এখন। তিনি লিখেছেন-মারি প্রেসিডেন্ট রুসটেকে গাড়ী চালনা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়েছিলাম-নতুন নতুন যন্ত্র পাতির ব্যবহার ইত্যাদি। কিন্তু তিনি আমাকে শিখিরেছিলেন কেবন করে থেকেদের চালনা করতে হয়। হিটার চেম্বারলেন নি,বেছিলেনঃ যখন আামি খোয়াইট হাউসে ঐগতি হলাম তখন প্রেসিডেন্ট খুব খুনি এবং আনন্দিত ছিলেন। তিনি আমার নাম ধরে

পৃষ্ঠা:৫৬

ডাকলেন, ‘আমাকে বেশ সহজ হতে দিলেন। আর সবচেয়ে ভাল লেগেছিল তর্বন, বর্ষন আমি যে ব্যাপার তাকে শেখাচ্ছিলাম সে ব্যাপারে তিনি প্রচুর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। গাড়ীটি এমনভাবে তৈরী হয়েছিলো যে কেবলমাত্র হাত দিয়েই সেটা চালানো সম্ভব ছিল। প্রচুর লোক যে গাড়িটি দেখতে এসেছিল। তিনি বলেছিলেন: এই গাড়িটি সত্যই আশ্চর্যজনক। গাড়িটা চালানো সোজা-কেবল একটা বোতাম টিপলেই চলতে আরম্ভ করে-আর চালানোও কঠিন নয়। আমার মনে হয় এটা এক আশ্চর্য সৃষ্ট। আমি জানি না বিসে বা কেমন করে এ গাড়ি চলে, কিন্তু আমার সময় পাকলে খুলে খুলে এব তেতরটা দেখতাম। কলতেস্টের বন্ধু এবং সহকর্মীরা গাড়িটাকে প্রচুর প্রশংসা করলেন। তখন তিনি তাদের সামনে বললেন, নিষ্টার চেম্বারলেন, আমি খুব খুশী হয়েছি। আপনি এর জন্য কতখানি সময় এবং শক্তি বায় করেছেন। ফন খুবই চমৎকার হয়েছে। তিনি গাড়িটির সমস্ত অংশেরই একে একে প্রশংসা করতে শুরু করবেন। বেডিয়েটর, গাড়িটির আরনা, গড়ি, বিশেষ ধরনে তৈরি আলো, ড্রাইভারের বসবার জায়গা ইত্যাদি অর্থাৎ তিনি প্রতিটি অংশই মনোযোগের সঙ্গে দেখছিলেন, বিশেষ করে যেগুলি তৈরি করতে আমাকে বিশেষ তাবে ভাবতে হয়েছিল। যখন মোটর চালন। শেখান হরে গেল তগন প্রেসিডেন্ট আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, এবারে আমাকে যেতে হবে। ফেভাবেন রিসার্স বোর্ড আমার জন্য ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করে আছেন। দামি হোয়াইট হাউসে একটি মেকানিককে নিয়ে গিয়েছিলাম। কলতেস্টের সঙ্গে তাকে প্রথমেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে প্রেসিভেন্টের সঙ্গে একটি কথাও বলেনি। প্রেসিডেন্ট মাত্র একবার তার নাম শুনেছিলেন। মেকা- নিকাট একটু লাজুক যুতাবের ছিল-সে সব সময়েই নিজেকে চোখের আড়াল করে রেখেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আমাদের ফান্ড থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাবার আগে মেকানিককে ছাকনেন, তার করমর্দন করলেন, তার নাম ধরে ডাকলেন এবং ওয়াশিংটনে আসবার জন্য তাকে ধন্যবাদ দিলেন। এই বন্যবাদ শুধুমাত্র কাজ যারা ধন্যবাদ ছিল না। আন্তরিক ভাবেই ধন্যবাদ দিয়েছিলেন তা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। আমার নিউইয়র্কে ফিরে যাবার ক’দিন পর দামি প্রেসিডেন্ট কসডেন্টের স্বাক্ষ বিত তাঁর একটি ফটোগ্রাফ পেনান। তার সঙ্গে একটা তাই চিঠি। লে চিঠিতে আমার সাহায্যের জন্য আবার তিনি মন্যবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি কেমন

পৃষ্ঠা:৫৭

করে ব্যস্ততার যবে।ও বমন চিঠি পাঠিরেছিলেন তা আমার কাছে একটি রহস্য। জ্যাংকলিন কসভেল্ট জানতেন ভাল ধারণা স্বষ্টির জন্য খুব সহজ এবং সরল উপার-তাহলো নাম মনে রাখা। অথচ আমাদের ক’জনই বা তা করি। আমাদের সঙ্গে বর্ণন অপরিচিত লোকদের আলাপ করিয়ে দেওরা হয় তখন আমরা তাহাদের সঙ্গে করেক মিনিট আলাপ আলোচনা করি। কিন্তু দেখা যায় বিদায় নেবার সময় তাদের নামগুলি জুনে বসেছি। একজন রাজনৈতিক নেতার পক্ষে অন্যের দান মনে রাখ হন রাজনৈতিক নেতার উপযুক্ত কাজ। ভুলে যাওয়া মানেই হল সর্বনাশ। নাম মনে রাখার ক্ষমতা রাজনীতিতে বা ব্যবসায়ে সমানভাবে কাজে লাগে। ক্লাসের সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন, যিনি ছিলেন নেপোলিয়ন বোনাপার্টর তাইপো। গর্ব করে বলতেন যে রাজকীয় কাজকর্মের চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনও কোন বোকের নাম ভুলে যেতেন না। তাঁর কৌশন ছিল সহজ। তিনি যদি কোন নাম ঠিক মত শুনতে না পেতেন তখন তিনি বলতেন, ক্ষমা করবেন, কিন্তু আমি নামটি ঠিকমত শুনতে পাইনি। যদি নামটা নতুন মনে হত তাহলে তিনি জিঞ্জেণ করতেন কেমন করে বানান করতে হয়। কথা বলার সময় তিনি ঐ নামটি কয়েকবার বলতেন। সেই সঙ্গে লোকটির চেহারা, কথাবার্তার কারদা ইত্যাদি মনের মধ্যে গেঁথে ফেলতেন। যদি লোকটি বিখ্যাত হতেন, তাহলে নেপোলিয়ন আরো একটু কষ্ট করতেন। তিনি যখন একা থাকতেন তখন তিনি সেই নামটি একটি কাগজে লিখে রাখতেন, সেটিকে দেখতেন, গতীর ভাবে মনোনিবেশ করতেন। তারপর কাগরটিকে ছিঁড়ে ফেলতেন। এইভাবে তিনি নামটিকে চোখ দিয়ে লিখে রাখতেন। কান দিয়েও মনে রাখতেন তিনি। এ সমস্ত করতে সময় লাগে। এমারসন বলেছেন, ভাল ব্যবহার করতে গেলে ছোট ছোট স্বার্থত্যাগ করতেই হয়। যদি আপনি জনপ্রিয় হতে চান-তাহলে জেনে রাখুন যে প্রত্যেক লোকের কাছেই তার নিজের নামটি সবচেয়ে মিষ্টি।

পৃষ্ঠা:৫৮

সপ্তম অধ্যায়

ভালো আলোচনাকারী হবার সহজ উপায় সম্প্রতি যামি একটি ব্রীজ গেলায় নিমন্ত্রিত হয়ে যোগ দিয়েছিলাম। আমি ব্রীজ খেলি না, সেখানে একটি সোনালী রঙের চুলওয়ালা মেয়ে ছিল। সেও শ্রীজ খেলে না। মেয়েটি জানতো যে আমি একটি বেডিওতে যোগ দেবার আরে লোরেল টমাসের ম্যানেজার ছিলাম। ইউরোপে তিনি এখন ভ্রমণ সম্পর্কে সচিত্র বক্তৃতা দিতেন তখন তার বক্তৃতা লিখতে দামি সাহায্য করতাম, একথাও মেয়েটি গানতো। তাই মেয়েটি বলেছিল: মিষ্টার কার্নেগী, আপনি যদি আমাকে যে সনন্ত আশ্চর্য চায়গর আাপনি গিয়াছেন যে সম্বন্ধে বলেন তো খুব খুশী হব। আমরা সোফাতে বসবার পর মেয়েটি বলল যে, সে এবং তার স্বামী সম্প্রতি আফ্রিকা থেকে ফিরেছে। আমি মাশ্চর্য হয়ে বললাম, নাফ্রিকা? কি সুন্দর। আমি সব সময়েই যাফ্রিকা দেখতে চেয়েছি কিন্তু একবার আলজিবিয়াতে চব্বিশ ঘন্টার বেশী থাকিনি। আমি সে দেশ সম্পর্কে শুনলে খুশী হব। তোমরা কি বড় বড় শিকার অঞ্চলে গিয়েছিলে? কি সৌভাগ্য তোমার-আমার হিংসে হচ্ছে। আফ্রিকা সম্বন্ধে আমাকে বলো। পঁয়তাল্লিশ বিনিট ধরে মেয়েটি গল্প বলল। সে আমাকে আর জিজ্ঞেস করল না। সে নিজের একটি শ্রোতা চেয়েছিল যাতে নিজেকে জাহির করার সুবিধে হয়। মেয়েটি কি অস্বাভাবিক একটা কিছু করেছিল? না ওরকম অনেক লোকই আছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা চলে-একবার একটা ডিনার পার্টিতে একজন বিখ্যাত উদ্ভিদতত্ত্ববিদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল। এর আগে আমি কোন উদ্ভিদস্তত্ত্ববিদের সঙ্গে কথা বলেনি-তাঁকে আমার বেশ ভালও লেগেছিল। আমি আনার চেয়াবের অল্প একটু অংশে কোনমতে বসে অধীর আগ্রহে তাঁর কথা গিলচিলাম। তিনি নানারকম ঘটনা বলছিলেন। হ্যানিশ, বুখার বারবাংক এবং সাধারণ আলু সম্পর্কে তিনি আমাকে অনেক নতুন নতুন তথ্য জানালেন। আমার একটা ছোট ঘরোয়া বাগান আছে। সে সম্পর্কে তিনি আমাকে কিছু কার্যকরী উপদেশ দিয়েছিলেন।

পৃষ্ঠা:৫৯

আগেই বলেছি আমরা একটি ডিনার পার্টিতে ছিলাম। সেখানে আরো অন্ততঃ এক ডজন নিম্নস্থিত লোক ছিলেন-কিও আমি তার ব্যবহারের আইন- কানুন সমস্তই অমান্য করেছিলাম-মন্য কারো প্রতি কোন রকম মনোযোগ দিইনি, কেবলমাত্র সেই উদ্ভিদতত্ত্ববিদের সঙ্গেই ঘন্টার পর ঘনন কাটিয়েছিলাম। রাত বারোটা বাজলো-মামি সবার কার্ডে বিদায় নিয়ে চলে এলাম। তখন সেই উদ্ভিদতত্ববিদ আামাদের নিমন্ত্রণকারীকে আমাকে প্রশংসা করে অনেক কিছুই বলেছিলেন। আমার সঙ্গে কথা বলে খুবই উদ্দীপিত হওয়া যায়। নামি এই, আামি তাই-ব’লে শেষে বলেছিলেন আমি কথাবার্তা বলতে বেশ ওস্তাদ। কথাবার্তা বলতে বেশ ওস্তাদ। আমি? আমি তো তোঁর সঙ্গে কথাই বিশেষ বলিনি। আমি কথাবার্তার বিষয়বস্তু না বললে একটি কথাও বলতে পারতাম না, কারণ আমার উদ্ভিদ সম্পর্কে জ্ঞান সামান্যই ছিল। কিন্তু আমি একটা ব্যাপার করেছিলাম: আমি খুব মনোযোগের সঙ্গে তাঁর কথাবার্ত। শুনেছিলাম। আমি শুনেছিলাম কারণ আমি সত্যি সত্যি উদ্ভিদের ব্যাপারে আগ্রহান্বিত ভিলাম। তিনিও তা বুঝতে পেরেছিলেন। সেজন্য স্বভাবতই তিনি সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। অমন ভাবে শুনলে বক্তাকে খুবই সম্মান দেখানো হয়। ম্যাক উডফোর্ড একটি বই-এ লিখেছেন, খুব কম লোকই আছেন যাঁদের কথ। মনোযোগের সঙ্গে শুনলে তাঁরা আনন্দবোধ না করেন। আমি কেবল মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনেডি তা নর-আরো বেশি কিছু করেছি-আমি তাঁর কব। সমর্থন করেছি-প্রশংসা করেছি। আমি তাঁকে বলেছিলাম আনি তাঁর কথায় খুবই স্নানন্দ্র, পেরেছি, অনেক কিছু জানতে পেরেন্টি। একথাটা সত্যি। আমি বলেছিলাম তাঁকে, জামার যদি তাঁর যত জ্ঞান থাকতো। একখটাও সত্যি। আরো বলেছিলাম আবি তাঁর সঙ্গে মাঠে মাঠে ঘুরতে পারলে আনল পেতাম। এ কথাটাও নিধ্যে নয়। আমি তাকে বলেছিলাম তাঁর সঙ্গে আবার মামি দেখা করতে চাই। কথাটা অন্তর থেকেই বলেছিলাম।অতএব আমি কেবল যাত্র শ্রোতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভেবেছিলেন আমি কথাবার্তা বলায় ওস্তাদ। সফল ইন্টারভিউ-এর গোপন রহস্য কি? চার্লস এলিয়টের মত সম্পূন পণ্ডিতের মতে, সফল ইন্টারভিউ-এর কোন রহস্য নেই। যে লোকটি আপনার সঙ্গে কথা বলছে তাঁর প্রতি সমস্ত মনোযোগ দেওয়াটা হল খুব জরুরী ব্যাপার। এর চাইতে বেণী বস্তই তিনি আর কিছুতেই হবেন না।

পৃষ্ঠা:৬০

ভাবে। আলোচনাকারী হবার সহজ উপায়:- এতো জানা কথা-তাই নয় কি? একথা জানবার জন্য হার্ভার্ড বিশ্ব- বিদ্যালয়ে আপনাকে বছরের পর বছর বর্ষে পড়াশুনা করতে হবে না। অথচ আমরা জানি যে, ব্যবসায়ে কত খরচ করা হয়। ভাল যর তৈরী করা, সাজানো-প্রচুর তাড়া দিয়ে প্রচুর জায়গা নেওয়া হয়, অথচ যে সমস্ত কেরাণীকে নিয়োগ করা হয় তারা ক্রেতার সঙ্গে তর্ক বিতর্ক শুরু করে, তারা তাল শ্রোতা নয়। এভাবে তারা ক্রেতাদের বিরক্ত করে এবং এমন ব্যবহার করে যে তাড়িয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া কেবল বাকী থাকে। জে, সিউটনের কথা ধরা যাক। তিনি একদিন মানার ক্লাসে এই গরটি ৰবেছিলেন। নিউ জার্সির নিউ আর্ক নামক একটি জায়গায় একটি ডিপার্ট- বেস্টাল সেন্টার থেকে তিনি একটি গুট কিনেছিলেন। গুটটা খারাপ ছিন এর রঙ উঠে যায় এবং কলারে রঙ নেগে কলারটাকে কদর্য করে তোলে। সুউটাকে নিয়ে তিনি দোকানে গিয়ে বিক্রেতাকে ব্যাপারটা বললেন। বনবেন বললে অবশ্য ভুল বলা হবে। তিনি বলতে চেষ্ট। করলেন। কিন্তু তাঁকে বলতে দেওয়া হয়নি-বাঝপথে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। বিক্রেতা তাঁকে বলেছিল, আমরা হাজার হাজার অমন হই বিক্রি করেছি, কিন্তু আপনার কাছ থেকে প্রথম অভিযোগ শুনতে পেলাম। তাঁর গলার আওয়াজও খুব মধুর ছিল না। এই আওয়াজের মানে এই হতে পারে- আপনি মিথ্যে কথা বলছেন। আমাদের ঠকানোর মতলব আপনার, ভাই নয় কি? আমরা ব্যবসা করতে নেমেছি-আমাদের কাছে চালাকি চলবে না। তর্ক চলছে, এমন সময় আার একজন বিক্রেতা এসে হাজির। সে বলল, সমস্ত গাঢ় রঙের শুটেই অমনি দাগ পড়ে-ওর আর কোন উপায় নেই। তাছাড়া বা দাম সে দামে ওরকম শুনষ্ট হবে। রঙটাই খারাপ। বিস্টার উটন বলেছিলেন, তখন আমি বেগে কেটে যাচিছলাম প্রার। প্রথম বিক্রেতা আমার সাধুতার সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। দ্বিতীয় বিক্রেত। বলেছির যে আমি একটি। বাজে জিনিস পছন্দ করে কিনেছ। আমি তয়ানক চটে গিয়েছিলাম। জাবি বলতে যাচ্ছিলাম যে তাদের সুট নিয়ে তারা গোল্লার যাক। এমন গময় হঠাৎ ঐ বিভাগের কর্ত। এবে হাজির। তিনি জানতেন কি করা উচিত। তিনি আমার রাগকে জল করে দিলেন। তিনি একটি চটে যাওয়া লোককে একটি গন্ধষ্ট ক্রেতায় পরিণত করলেন। কেমন করে? প্রথমতঃ, তিনি নীরবে আমার বক্তব্য শুনে গেলেন।

পৃষ্ঠা ৬১ থেকে ৮০

পৃষ্ঠা:৬১

দ্বিতীয়তঃ, যখন আমার বক্তব্য শেষ হল, তখন ঐ বিক্রেতা দু’জন তাদের মতামত বলতে শুরু করল আবার, তিনি তখন সেট দু’টি বিক্রেতাও বঙ্গে আমার হয়ে তর্ক জুড়ে দিলেন। তিনি তে। কলারে বস্তু লাগবার কথা বললেনই, তিনি আরো বললেন যে, ঐ দোকান থেকে আর কোন জিনিবই বিক্রি করা হবে না বে জিনিস পরিখাককে সম্বই করতে সমর্থ হবে না। তৃতীয়তঃ, তিনি গোলযোগের কারণ সম্পকে যদিও কিছু জানতেন गा তবু খুব সহজেই বললেন, এই দুট সম্বন্ধে আনি কি করব বরুন, আপনি যা বলেন আামি তাই করব। করেক মিনিট আগেট তাদের গোল্লায় পাঠানোর কথা ভাবছিলাম, কিন্তু এখন আমি উত্তর দিলাম, মামি আপনার উপদেশ চাইছি। আমি জানতে চাই এই রঙ উঠে যাওয়া ব্যাপারট। সাময়িক কিনা-যার এ ব্যাপারে কিছু করা সম্ভব কিনা। তিনি বললেন যে হাটটা যাবি যদি আর এক সপ্তাহ রেখেও পছন্দ না হর, ভাল না লাগে তাহলে তিনি তা বদলে দেবেন। তাছাড়া তিনি আামার কষ্ট হয়েছে বলে দুঃখ প্রকাশও করলেন। দাবি সন্তুষ্ট হয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম। এক সপ্তাহ পরে দেখলাম হুটটা ঠিকই আছে। ঐ ডিপার্টমেন্টাল ষ্ট্রোবের প্রতি আমার বিশ্বাসও আবার ফিরে এলো। এটা কিছু আশ্চর্যের ব্যাপার নয় যে, সেই ওড় লোকটি তাঁর বিভাগের কর্তা ছিলেন। আর তাঁর নীচে যারা কাজ করে তাঁরা সনন্ত জীবন ধরেই-আমি এৰুবি বলতে যাচ্ছিলাম-কেরাণীই থেকে যাবে। তা নয়, তাঁবা প্যাকিং বিতাগে বাঁধাছাল করবে, কোন ক্রেতার সঙ্গে তাদের কথা বলতে দেওয়া হবে না। সমস্ত সময়েই যিনি আধাত করতে ভালবাসেন, মনোযোগী শ্রোতা গেলে তিনিও নরম হন। আষ্যত করতে ভুলে যান। নিউইয়র্কের এক টেবিলেনের গ্রাহক টেলিফোন কোম্পানীকে বিশেষ বিব্রত করে তোলেন। তিনি গালাগান তো কোরতেনই ফোনে, তার উপর জনাক দিতেন টেলিফোনের তার টেনে উপড়ে ফেলবেন। তিনি কয়েকটি ‘কলের’ মূল্য দিতে চান নি। তিনি বলেচিনেন সেগুলি মিথ্যে-সে কলগুলি তিনি করেননি। তিনি খবরের কাগজে প্রচুর চিঠি নিখেন নানারকম অভিযোগ জানিয়ে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনেও তিনি এ নিয়ে অভিযোগ করেন। এমন কি আদালত পর্যন্ত তিনি করেকটি খ্যাপার সম্পর্কে মামলা দায়ের করেন।

পৃষ্ঠা:৬২

অবশেষে কোম্পানীর একজন খুব কৌশলী দোককে পাঠানো হল ভদ্রলোককে ঠাণ্ডা করতে। এই লোকটি প্রণামে ধৈর্য ধরে সমস্ত গালাগাল শুনলেন। তদ্রলোক গালাগাল দিয়ে বেশ আনন্দ পাচ্ছিলেন। টেলিফোন কোম্পানীর লোকটি সব কথাতে হাঁ বলছিলেন এবং তাঁর অভিযোগগুবি বেশ গহানুভূতির সঙ্গে বিচার করছিলেন। টেলিফোন কোম্পানীর সেই লোকটি আমাদের ক্লাসে বরেছিলেন, লোকটি ক্রমাগতই গালাগাল করতে লাগল এবং আনি তিন ঘন্টা ধরে তা শুনবান। তারপর আর একদিন গিয়ে আরও কিছু শুনে এলান। ঘানি সব সমেত চারবার তাঁর কাচে গিয়েড়ি-চতুর্থ বারে আমি তার স্থাপিত একটি সমিতির সভা হয়ে গেলাম। সমিতির নাম তিনি দিয়েছিলেন-টেলিফোন গ্রাহক রঙা সনিতি। যানি এখনও এ সমিতির একজন সত্য খড়ি। যতদূর জানি আমি ছাড়া এ সমিতির আর একজন সভা আছেন-সে ভদ্রলোক নিজে। এই সমস্ত কথোপকথনের সময়ে তার প্রতি সহানুভূতি আমি দেখিয়ে- ছিলাম। এরকম ভাবে এর আগে তার কাছে কখনও একটি টেলিফোন কোম্পা নীর লোক কথা বলেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রায় বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে উঠলেন। আমিনে ব্যাপারে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম তা প্রথম সাক্ষাতের সমর বলিনি। দ্বিতীয় বা তৃতীয় সাক্ষাতেও সে কথা হয়নি। কিন্তু চতুর্থ সাক্ষাতের সময় সমস্ত ব্যাপারটা চুকিয়ে কেনি। তিনিও বিন অনাদায়ী রাখেননি। তিনি টেলিফোন কোম্পানীর বিরুদ্ধে যে সমস্ত নানিশ করেছিলেন এই প্রথম প্রত্যাহার করবেন। নিঃসন্দেহে ঐ ভদ্রলোকটি ভেবেছিলেন যে এই যুদ্ধ তিনি ভালর জন্যই করছেন। এ যেন একরকম বর্মযুদ্ধ, জনসাধারণকে বাঁচানো যায় উম্মেশ্য। কিন্তু সত্যিকারের ব্যাপার ছিল এই যে, তিনি নিজেকে বড় ভাবতে চেয়েচিলেন। তিনি প্রণবে নানারকম গোলযোগ করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ কবার চেষ্টা করছিলেন। কিন্ত বখন টেলিফোন কোম্পানীর কার্ড থেকে ঐরকম সুন্দর ব্যবহার পেলেন, তখন তার বাগ জল হয়ে গেল, এবং তার সমস্ত অভিযোগ শূন্যে দিলিরে গে উলের জিনিসপত্র বিক্রি করে এখন দোকানের প্রতিষ্ঠাতা নিস্টার জেটযার আমাকে বললেন, একটি ক্রেতা আমাদের কাছে যাট টাকা ধারতেন। ফেভাটি অবশ্য ব্যাপারটি অর্থীকার করলেন। কিন্তু আমরা জানতাম তিনি ঠিক কথা বলছেন না। আমাদের দোকান থেকে ঐ টাকা দাবী করা হয়েছিল। তিনি চারবার তাকে এ নিয়ে চিঠি লেখার পর তিনি আমাদের অফিসে একেবারে

পৃষ্ঠা:৬৩

সরাসরী আমার কাছে এসে হাজির হয়ে বললেন বে, তিনি বে শুধু ঐ টাকা দেবেন না তুমি নয়, তিনি আর এক পয়সার জিনিবও আমাদের দোকান থেকে বিনবেন না। খাবি বৈর্ষ ধরে তার সমস্ত কথ্য শুনলান। আমি বাবা দিতে চেয়েচিলাম, কিন্তু তাতে ঠিক কাল হবে না বলে চুপ করে রইলাম। যখন ভদ্রলোক একটু ঠান্ডা হয়ে এলেন, তখন আমি তাকে শান্তভাবে বনদায়, আপনি যে এত কষ্ট করে শিকাগোতে এসেছেন, সেজন্য আপনাকে ধন্যবার দিতে চাই। আমাদের আপনি সম্মাদিত করেছেন এখানে এবে। আমাদের অফিধ বদি এমনি ভুল একবার করে, তাহলে আমাদের অফিস হয়ত অন্য ক্রেতাদেরও জুর করে এখন চিঠি লিখতে পারে। তাহলে ব্যাপারটা কি খারাপ হবে ভেবে দেখুন। আপনার ববার যতবানী আগ্রহ, আনার শোনার তার চাইতেও বেশী আগ্রহ। ভদ্রলোক এমনট। একেবারেই আশ্য করেন নি। আমার মনে হয় তিনি যেন একটু হতাশ হলেন। তিনি শিকাগোতে গাবাগান করতে এসেছিলেন। কিন্তু তাকে সেজন্য বন্যবাদ দেওয়াতে তিনি চুপ করে গেলেন। থামি তাকে বললাম তার ঐ ধারটা খাতা থেকে কেটে দেব-কারণ তিনি নিশ্চয়ই ভুল করতে পারেন না। আমাদের কেরাণী হাজার হাজার হিসেব দিয়ে কারবার করে- আর তাঁকে যাত্র একটা হিসেব রাখতে হর। আমাদের অফিসেরই ভুল হবার সম্ভাবনা বেশী। আমি তাকে বলেছিলাম তার মনের অবস্থা যানি ঠিকই বুঝতে পারছি। তার মত অবস্থায় আমিও ঠিক তাই করতাম। আর তিনি আমাদের দোকান থেকে কিন্তু যখন একেবারেই কিনবেন না-সেজন্য মামি তাঁকে আরো দু’ একটা উলের দোকানের কথা বলেছিলাম, যেখান থেকে তিনি উলের জিনিস কিনতে পারেন। এর আগে তিথি বখন শিকাগোতে আসতেন, তখন সাধারণতঃ আমরা একসঙ্গে লাঞ্চ খেতাম। এবারও তাঁচ্ছে অনুরোধ করলাম আমার সঙ্গে লাঞ্চ খেতে। তিনি নিষরাজী হলেন। লাঞ্চের পর যখন আমরা অফিসে ফিরে এলাম, তখন তিনি আাগের চাইতেও বেশী টাকার অর্ডার দিলেন। তিনি বেশ নরম হয়েই বাড়ী গেলেন, এবং তিনি তাঁর বিলগুলির দিকে একটু বৃষ্টি দিলেন। এবারে দেখলেন একটি বিল হারিয়ে গিয়েড়িল কাগন্ধ পত্রের মধ্যে- আমাদের বিলটি। তিনি প্রচুর ক্ষমা প্রা’না কবে পনের ডলারের চেক পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

পৃষ্ঠা:৬৪

পরে তাঁর সন্তানের জন্ম হলে সন্তানের মাঝের নাম দেন ভেটনার। এর পর বাইশ বছর তিনি বেঁচেছিলেন, এবং আমাদের দোকান থেকেই সর্বদা জিনিস পত্র কিনতেন। আমাদের সঙ্গে তার বন্ধুত্বও হয়ে গিয়েছিল। বহু বছর আগে হল্যান্ডের একজন দরিদ্র লোক আমেরিকার বাসিন্দা হয়ে এসেছিলেন। তিনি তাঁর স্কুলের ছুটির পর সপ্তাহে আড়াই টাকা হলুদীতে একটি রুটির দোকানে জানালা খুরে পরিস্কার করে দিতেন। তারা এমন গরীব ডিবেন যে তিনি একটা ঝুঁড়িতে করে পড়ে গাকা এক-আধ টুকরো কয়লা তুলে তুনে জনিয়ে বাড়ীতে নিয়ে যেতেন। লোকটির নান এডওয়ার্ড বাক। তিনি জীবনে ছ’ বছরের বেশী স্কুলে পড়তে পারেন নি। অথচ কালক্রমে তিনি আমেরিকার একটি বিখ্যাত পত্রিকার সম্পাদক হন। কেমন করে তা সম্ভব হল? গল্পটা বলতে অনেক সময় লাগবে, কিত কেমন করে তার সৌভাগ্যের শুরু তা চট করেই বলা যায়। এই অধ্যায়ে যে সমস্ত উপদেশ দেওয়া আছে, সেই সব উপদেশকে কাজে লাগানোর জন্যই তার ভাগ্য ফিরে যায়। তেরো বছর বয়সে তিনি স্কুল ছেড়ে দিয়ে ওয়েস্টার্ণ ইউনিয়নের অফিসে আদালী হিসাবে যোগ দেন। তখন তার মাইনে হয় সপ্তাহে বত্রিণ টাকা কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি শিক্ষা ছেড়ে দেবার কথা কখনো ভাবেন নি। তিনি নিজেই নিজেকে শিক্ষিত করে তুলতে লাগলেন। তিনি বাসের ভাড়া বাঁচিয়ে লাঞ্চ না খেয়ে একখানা আমেরিকান বিশ্বকোষ কিনে ফেললেন। এই বিশ্বকোষে আমেরিকার সমস্ত বিখ্যাত তোকের নাম চিল। তাঁরপর তিনি এক অদ্ভুত কাজ করেন। তিনি বিখ্যাত লোকদের জীবনী পড়ে তাঁদের কাছে চিঠি লিখে তাঁদের জীবনের বাদাকার সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চাইলেন। তিনি একাগ্র মনে শুনতেন। তিনি বিখ্যাত লোকদের তাঁদের সম্বন্ধে বলতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। দেশ এ গ্যারফিল্ডকে তিনি চিঠি লেখেন, সেই সমহ গ্যারফিল্ড আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন গ্যারবিস্তু ছোটবেলায় খালের নৌকার গুণ টানতেন কিনা। তিনি এমারসনকে চিঠি লিখেছিলেন-এবং এমারসনও তার উত্তর দিয়েছিলেন। এই আধানী ছেলেটি আস্তে আস্তে আমেরিকার বিখ্যাত লোকদের কাছে চিঠিপত্র আদান-প্রদান করতে শুরু করেছিলেন: এমারসন, ফিলিপস ফ্রকস, অলিভার ওয়েজেস হোহস, সংফেলো, এব্রাহাম লিঙ্কন, কুইসা যে অ্যানকট, জেনারেল শেদয্যান এবং জেফারসন ডেডিস-এইসব লোকদের সঙ্গে তিনি যে কেবল চিঠিপত্র লিখেছিলেন তাই নয়, ছুটির সময় এ’দের অনেকের বাড়িতেই তিনি

পৃষ্ঠা:৬৫

আদরের অতিথি হিসেবে সম্বর্ধনাও পেরেছিলেন। এই অভিজ্ঞতার ফলে তাঁর নে আন্তবিশ্বাস হযেছিল তা অম্বুন্য। এই সমস্ত বিখ্যাত ব্যক্তিরা তাঁর প্রাণে উচ্চাশা জাগিয়ে তুলেছিল–যার ফলে তাঁর জীবনে এসেছিল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আবার বলছি, এ সমস্তই ঘটেছিল, আমি এই বইতে যে সমস্ত উপায় আলোচনা করছি, সে দমন্ত উপায় প্রয়োগ করেই। পৃথিবীর মধ্যে বোধ করি সবচেয়ে বড় সাক্ষাৎকারীর নাম হল আাইসাক মারকোসন। তিনি বলেন যে বস্তু লোক মনোযোগ দিয়ে কথাবার্তা ना শোনার জন্য অপ্রীতিকর হয়ে উঠেন। তারা এর পর কি বলবেন সে সম্বন্ধে ভাবতে এমনি ব্যস্ত থাকেন যে কথ। অনেক সমরেন্ট তাদের কানে ঢোকে না। বড় বড় লোকেরা আমাকে বলেছেন যে তার বড় বড় বক্তা। চাইতে ভাল শ্রোতাই বেশী পছন্দ করেন। কিন্তু মনে হয় শ্রোতা হবার মত যোগ্যতা বুৰ কম লোকেরই আাছে। বড় বড় বোক যেমন শ্রোতা পড়শ করে, তেমনি সাধারণ লোকও এর বাতিকন নব। বীর্জাস ডাইজেটে একবার লেখা হয়েছিল: বহু লোক কেনন কথা বলবার জন্য ডাক্তারকে ডাকে।

গৃহৰুদ্ধের সবচেরে দুঃসময়ে নিঙ্কন শিং ফিল্ডে একটি পুরোনো বন্ধুকে লেখেন ওয়াশিংটনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে। লিঙ্কন লিখেছিলেন তার কতকগুলি সমস্যা নিয়ে তিনি আলোচনা করতে চান। পুরোনো প্রতিবেশী হোয়াইট হাউসে এসে উপস্থিত হন। লিঙ্কন তাঁর কাছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বরে ক্রীতদাসদের মুক্ত করবার ঘোষণা সম্পর্কে কথা বলেন। লিঙ্কন ঐরকম ঘোষণার পক্ষে এবং বিপক্ষে সমস্ত যুক্তি দেখালেন। তাৎপর চিঠি, খবরের কাগজ ইত্যাদি পড়েও শোনালেন। কোন কোন কাগজে তাঁকে গালাগাল করা হয়েছিল তিনি ক্রীতদাসদের মুক্ত করছেন না কেন এখনও, একথা ব’লে। যার কোন কোন কাগজে গালাগান করেছিল, তিনি ক্রীতদাসদের মুক্ত করতে বাচিছলেন ব’বে। কয়েক ঘণ্টা কথা বলে বন্ধুকে করমর্দন করে শুভরাত্রি জানিয়ে বিদায় নিলেন লিঙ্কন। তিনি একবারও জিজ্ঞেস করলেন না বন্ধুর মতামত কি। নিষ্কন সমস্ত কথাবার্তাই নিজে বলেছিলেন। এর ফলে তাঁর মনের সন্দেহ দূর হয়ে গিয়েছিল। বৃদ্ধ বন্ধুটি বলেছিলেন, কথাবার্তার পরে মনে হয়েছিল তিনি সহজ হয়ে এসেছেন। লিঙ্কন উপদেশ চাননি। তিনি কেবলমাত্র একট বন্ধু ভাবাপন্ন, সহাতুতি সম্পন্ন লোকের কাছে কথা বলে স্বস্তি পেতে চেয়েছিলেন। সাবরা সবাই বিপদে পড়লে তাই চাই। অসন্তষ্ট ক্রেতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ঠিক

পৃষ্ঠা:৬৬

তাই চার। অসন্তুষ্ট কর্মী বা আদায় পেয়েছে এমন বন্ধু সবাই কথা বলে নিজেদের মনের ভার লাঘব করতে চায়। যদি আপনি চান লোকে আপনার সম্পর্কে হাসাহাসি করুক, আপনাকে এড়িনে চলুক, ঘৃণা করুর, তাহনে একটি উপায় আছে: কারুণ কথা বেশীক্ষণ শুনবেন না। ক্রমাগত নিয়েন সম্পর্কে কথা বলে যান। অন্য রোক যখন কথা বলে তখন নিজের কোন বক্তব্য থাকলে তাকে পাঠিয়ে দিবে কথা বলুন। আপনি কি ঐ ধরনের লোক কাউনে চেনেন? দুর্ভাগ্যজনে আানি চিনি। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা এই যে তাদের নাম সামাজিক বইতেও আছে। বিরক্তকারী-তারা সবাই বিরক্ত করে। তাদের নিজেদের কথাই সাত কাহন করে বলে। তাদের নিজেদের প্রাধান্য সম্পর্কে অন্তত বেশী মাত্রায় সচেতন। যে লোক কেবল নিজের সম্পর্কে কথা বলে, যে কেবল নিজের সম্পর্কেই ভাবে। ডক্টর নিকোলাস যাবে বাটলার বলেছেন, রে কেলে নিজের সম্পর্কে ভাবে সে অতিরিক্ত অশিক্ষিত। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ধরনের লোক অশিক্ষিত। হুয়ত নানা বিষয়ে তাকে পড়াশুনা করতে হয়েছে কিন্তু তা সত্বেও সে অশিক্ষিত।

অতএব যদি আপনি তাল কথাবার্তা বলায় ওস্তাদ হতে চান তাহলে প্রথকে মনোযোগী শ্রোতা হন। মিসেস চার্লস নর্দামলী বসেন যদি নিজেকে ভান বাগাতে চান তাহলে অন্যকে ভাল দাগুক আপনার। করুন যে প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি আনন্দ পান। অন্য লোককে এমন প্রশ্ন অন্য দেখিকে তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর কাজকর্ম সম্পর্কে কথা বলতে বলুন। যদি আপনি জনপ্রিয় হতে চান তাহলে অন্যদের কথা বলতে উৎসাহ দিন।

পৃষ্ঠা:৬৭

অষ্টম অধ্যায়

লোকদের কেমন করে আগ্রহান্বিত করা যায়:- অয়েষ্টার বে নামক জায়গায় বিরোত্তর রুসাভেলটকে, যাঁরা দেখতে গিয়েছিল তাঁরা তাঁর জ্ঞানের বিশালতা এবং বৈচিত্র্য দেখে বিঘ্নিত হয়েচেন। গ্যাযাদিয়ের ব্রাডফোর্ড লিখেছেন, একজন চাষা ব্য নিউইয়র্কের একজন রাজনীতিবীদ বা কট নৈতিক যার সঙ্গেই তাঁর দেখা হয়েছে বিয়োত্তর জানতেন প্রত্যেকের সঙ্গে কি কথা বলতে হয়। কেমন করে তিনি তা পারতেন? উত্তর সহজ। বখনি জলতেষ্ট কোন লোক দেখা করতে আসবে জানতেন, তার লাগের দিন রাত্রি দেগে তিনি সেই লোকটির বিষয় সম্পর্কে পড়ে রাখতেন। অন্যান্য নেতাদের যত জসডেন্টও জানতেন যে মানুদের হৃদয়ে প্রবেশ করার একমাত্র উপায় হল তার সঙ্গে তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। সহাদয় উইনিয়ন লায়ন ফেলপস্ কিছুদিন পূর্বে ইয়েনের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি জীবনের প্রথমদিকেই এই শিক্ষা পেয়েছিলেন। তিনি তাঁর একটি প্রবন্ধে লিখেছিলেন: আমি যখন আমার পিসির সঙ্গে দেখা করতে গিরেছিলাম তাঁর বাড়িতে তখন এক ভদ্রলোক যে বাড়িতে আসেন। একটু খানি সময় পিসির সঙ্গে কথাবার্তা বনেট ভদ্রলোকটি আমার সঙ্গে কথা বরতে শুরু করলেন। আমি নৌক। সম্বন্ধে খুব আগ্রহান্বিত ছিলাম এবং তিনি খুन সুন্দরভাবে নৌকা সম্বন্ধে কথাবার্তা বললেন-অনেকক্ষণ ধরে। তিনি চলে গেলে আমি তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলাম। কি সুন্দর দোক, আব নৌকো সম্পর্কেই বা কি আগ্রহ। আহার পিসি আমাকে বলনেন, তিনি নিউইয়র্কের একজন উকিল এবং নৌকো সম্পর্কে তিনি মোটেই উৎসাহিত নন। ভাবি জিজ্ঞেস করে- ডিলান তাহনে তিনি অত যাগ্রহের সঙ্গে নৌকো সম্বন্ধে খানাগ করলেন কেন? পিসি উত্তর দিয়েছিলেন, কারণ তিনি ভদ্রলোক। তোমার যে বিষয়ে আগ্রহ তিনি যে বিষয়েই কথাবাত। বলছিলেন যাতে তুমি আগ্রহান্বিত আর পুশিও হও। তিনি নিজেকে প্রিয় করে তুলেছিলেন। উখিয়াম ফেবপন দারো বলেছিলেন, তখন থেকে কণাটা নামার কথনও ভূত হয়নি।

পৃষ্ঠা:৬৮

অর্পন আমার সামনে এরেচে একখানা চিঠি। চিঠিখানা এডোয়ার্ড এর চ্যানিফের কাছ থেকে এবেছে। ইনি বরস্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। চ্যালিফ লিখেছেন, একদিন আমার একটি বিশেষ সাহায্যের প্রয়োজন হয়ে- ডিন। ইউরোপে একটা বয়স্কাউট সম্মেলনে একটি ছেলেকে পাঠালের জন্য পিছু টাশর প্রয়োজন হরেছিল। আর আমি ভেবেছিলাম একটি বড় কোম্পানীর প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে টাকাটা পাওয়া যাবে। সৌভাগ্যক্রমে আমি আগেই জানতে পেরেছিলাম সেই ভদ্রলোকটি কিছুদিন আগে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার চেক দিয়েছিলেন কাউকে। সেই চেক ব্যাঙ্কে অন্য- পড়ার পর ব্যাঙ্ক টাকা দিয়ে দেয় এবং তারপর চেকটা আবার মালিককে ফিচিরে দেয়। সেই ডেগাট তিনি বাঁধিয়ে দেয়ালে টাঙিরে রেখেছিলেন। অত এব তাঁর অফিসে ঢুকে প্রথমে সেই বাঁধানো চেকটা দেখতে চাইলাম আমি। তাঁকে বলেছিলাম আমার জীবনে কখনো শুনিনি কেউ এত টাকার চেক নিখেছে, পঞ্চাশ লক্ষ টাকার চেক। আনি আমার শিষ্যদের বলতে চাই যে আমি নিজের চোখে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার চেক দেখেছি। তিনি আনন্দের সঙ্গে চেকটিকে দেখালেন। আমি তখন তা দেবে খুব তারিফ করলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম কেন অত টাকার চেকের প্রয়োজন হরেছিল। রক্ষা করেছেন আণ্য করি যে মিঃ চ্যালিফ বয়স্কাউট বা ইউরোপের বয়স্কাউট সম্মেলন সম্পর্কে প্রথযে একটি কথাও বলেননি। তিনি অন্য লোকের প্রির বিদয় সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। কল কি হয়েছিল নিষ্টার চালিকের ভাষায় শুনুনঃ আমি যাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম তিনি হঠাৎ বললেন, আমার সঙ্গে আগদি কেন দেখা করতে এসেছেন? আমি তাঁর কাছে বললান সামার থাসবার উদ্দেশ্য। চ্যালিক আরো বলেছেন, তিনি কেবল যে একটি ছেলেকে ইউবোগে পাঠানোর খরচ দিলেন তা নয়, তিনি পঁচাটি ছেলেকে এবং আনাকে ইউরোপে সাত সপ্তাহের জন্য পাঠাবার ব্যবস্থা করলেন। তিনি ইউরোপে তার ব্রাঞ্চ প্রেসিডেন্টদের কাছে পরিচয় পাত্র লিখে দিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকার প্রত্তি লিখে দিলেন। কেবল তাই নয়, প্যারিসে তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। আযাদের শহরটা ধুবিরে দেখিয়েছিলেন। তারপর তিনি আামাদের কতক দুর্দশাগ্রস্ত স্কাউটদে কাজও যোগাড় করে দিয়েছিলেন। তিনি এখন আামাদের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। এখচ আমি জানি, আমি যদি তাঁর প্রির বিষয় না জানতাম তাহলে তাঁর সঙ্গে কথা বলায় দশগুণ বেশী অনুবিধে হত।

পৃষ্ঠা:৬৯

ব্যবসায়ে এরকম করাটা কৌশল হিসেবে খুব অসুবিধের কি? দেখা যাক তাই কিনা। নিউইয়র্কের ওটি তৈরি করার একটি প্রতিডানের কার্তা মিটার জুত্তের্ণয়ের কথা ধরা যাক। তিনি একটি হোটেলে রুটি সরবরাহ করার যথেষ্ট চেষ্টা করে ছিলেন। তাঁর হোটেল মালিকের সঙ্গে একই সামাজিক সম্মেলনে বার বার দেখ। হয়েচে, তিনি বহুবার তাঁকে অনুরোর করেছেন, এমন কি সেই ছোটেলেও তিনি বহুদিন ছিলেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। চার বছর বরে তিনি প্রতি সপ্তাহে একবার দেখ্য করেছেন। বিস্টার জুভের্ণর বরেছেন, পরে লোকদের চরিত্র সম্পর্কে পড়াশুনা করে আমার কৌশল বদলে ফেললাম। আমি বার করবার চেষ্টা করলাম এই লোকটির কিসে আগ্রহ, কোন বিষয় সম্পর্কে এই লোকটি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে থাকেন। আমি দেখলাম তিনি হোটেল-সমাজ-সমিতি নামের একটি সমিতির সভা। এই সনিতির নাম হোটেল-গ্রীটারস অ্যাসোসিয়েশন। তিনি যে কেবল সত্য ছিলেন তা নয়, তিনি এর প্রতি এতই আগ্রহান্বিত ছিলেন যে তাঁকে সেই সমিতির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছিল। এই সভা যেখানেই বসতে। সেখানেই তিনি নামা বাবাবিপত্তি দূর করেও গিয়ে উপস্থিত হতেন।

অতএব এরপর যখন তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হল তখন খ্রীটারস বা অভ্যর্থনা- কারীদের সম্পর্কে আলোচনা শুরু করলাম। কি আশ্চর্য ব্যাপারই না ঘটল। তিনি অভ্যর্থনাকারীদের সম্পর্কে আবষণ্টা ধরে উত্তেজিতভাবে বললেন। ফিরে আসবার সমর তিনি আমাকে তার সমিতির সভ্য করে নিলেন। ইতিমধ্যে কিন্তু আমি রুটি সম্পর্কে একটি কথাও বদিনি। কিছুদিন পর সেই হোটেলের স্টুয়ার্ড আমাকে কোনে বলান, কটির নমুনা এবং মূল্যতালিকা নিয়ে যেতে ইয়ার্ড আমাকে বলল, কর্তাকে আপনি কি করেছেন জানি দা, তিনি তে আপনার প্রশংসায় পঞ্চমূখ। একবার ভাবুন তো কথাটা। আমি চার বছর ধরে আমার ঢাক পেটাচ্ছি一 আমার ভাট কেনো। হয়তো দাদও আমাকে আমার ঢাক পেটাতেই হত, যদি না তিনি কিসে গাগ্রহান্বিত তা খুঁজে বার করতে না পারতাম। অতএব যদি জনপ্রিয় হতে চান তাহলে অন্য লোকে যে বিংয়ে কথা বলতে চায় সে বিষয়ে কথা বলুন।

পৃষ্ঠা:৭০

নবম অধ্যায়

চট করে ভাল লাগানো:- নিউইয়র্কের একটি পোষ্ট অফিসে আমি দাঁড়িয়েছিলাম একখানা চিঠি রেজিষ্ট করবার জন্য। আমি দেখলাম কেরানীটির একঘেয়ে জীবন-সেই খাম ওজন করা, টিকিট লাগানো, খুচরো দেওয়া, রসিদ দেওয়া। বছরের পর বছর লোকটি অমনি করে বাচেছ। ভাবলাম লোকটি বাতে আমাকে পছল করে তার চেষ্টা করব। এটা তো অবশ্যম্ভাবী বে তাকে ভান লাগাতে হলে তার সম্পর্কে কতকগুলা ভাল কথা আমাকে বলতেই হবে। অতএব আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম তার সম্পর্কে কোন বিষয়ে আমার ভাল লাগে? এরকম প্রশ্নের উত্তর সব সমরে সহজে পাওয়া যার না। বিশেষ করে একজন অপরিচিত ব্যক্তি সম্পর্কে তো নয়ই। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যাপারটা সহজ হয়ে গেল। আমি এমন একটি জিনিস দেখলান যা আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করব। সে যখন আমার বামটিকে ওজন করছিল তখন আমি তাকে বললাম আহা, আপনার মত চুল যদি আমার থাকত। লোকটি চমকে উঠে আমার দিকে তাকালো। হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল তার বুখ। সে বনযো, এখন তবু খারাপ হয়ে গেছে। আমি বললাম, কিন্তুতা সত্ত্বেও এখনও আপনার চুল অতি সুন্দর। লোকটি ধ্রুবই সন্তুষ্ট হল। আমরা দুজনে অয় কিছুক্ষণ কথাবার্ত। বললাম-নেয়ে যে খননে। অনেকেই আমার চুলের প্রশংসা করে।

আমি বাজি রেখে বলতে পারি লোকটি সেদিন বেশ খুশি যনে লাঞ্চ খেতে গিরেছিল। আমি আরো বলতে পারি সে-রাত্রে সে বাড়ীতে ফিরে স্ত্রীকে সেকথা বলেছিল। সে নিশ্চরই জায়নার সামনে দাঁড়িরে বলেছিল আমার হাথার চুল বাস্তবিকই সুন্দর। আমি এ পর এ জনসভায় বলেছিলাম। একটি লোক আএকে জিজ্ঞেস করেছিল, দাপ, লোকর্টর কাছ থেকে। ক উপদ।র পাওয়ার জন্য অমন করে।ইলেন। কি উপবার পাব’। জন্য।!! কিউ-কার গাধার জন্য!!! কেন যামরা কি সব সময়েই কেবল উপকার পাবার এন্য প্রশংসা রেব? আমাদের মন কি এতই

পৃষ্ঠা:৭১

ক্ষুদ্র এতই নীচ। এরকম বদি হয় তাহলে জীবনে আসবে ব্যর্থতা-এবং সে ব্যর্থতা বিনা কারণে আসবে না। হ। লোকটির কাচ থেকে আবি কিছু রুবেছিলায়। আমি অমূল্য একটি জিনিস চেয়েছিলাম-আমি পেয়েও ছিলাম। আমি তার কাছ থেকে প্রতিদানে কিছু পাবার আশা না করেই কিছু করেছি এই বোন যামি পেতে চেয়েছিলাম। এরকম বোৰ জীবনে কখনো ভোলা যায়। মানুষের ব্যবহারের একটা বিশেষ আইন আছে। আমরা যদি সে আাইন যেনে চলি তাহলে কখনও আমাদের বিপদ হবে না। সত্যি বলতে কি এই আইনাট মেনে চললে আমাদের প্রচুর উপকারের সম্ভাবনা। না নানলেই বিপদ। আইনটি এই-সব সময়েই অন্য লোককে শ্রেষ্ঠ ভাবতে সেওয়া। অধ্যাপক জন ডিউই বলেছেন শ্রেষ্ঠ হবার ইচেছ মানুষের জীবনের গভীরতর ইয়েয়। অধ্যাপক উইলিয়াম জেমস বলেছেন-মানুষের জীবনের গভীরতম নীতি হল প্রশংসার জন্য চেষ্টা। আমি আগেই বলেছি। এই ইচ্ছোটা মানুষের আছে-জত্তদের সঙ্গে মানুষের ঐখানেই পার্থক্য। সভ্যতার জন্মই হরেছে ঐ রকম ইচ্ছে থেকে। দার্শনিকেরা হাজার হাজার বছর বরে হানুষের সম্পর্ক নিয়ে নানা রকম চিন্তা অল্পনা-কল্পনা করে এসেছেন। কিন্তু তার ফলে একটি মাত্র দামি চিন্তা পাওয়া গেছে। কথাটা নতুন নয়। ইতিহাসের মতই এর প্রাচীনতা। পারস্য দেশের অগ্নি উপাকেদের কাছে জরাখুস্ত সেকথা বলেছিলেন তিন হাজার বছর আগে। চব্বিশ শো বছর যাগে চীনদেশে কনফুশিয়াস বলে গেছেন সেকথা। ‘তাও’ ধর্যের প্রতিষ্ঠাতা লওংসে হান নদীর উপত্যকায় যে কথা বলেছেন। গঙ্গার তীরে বুদ্ধদেব গ্রীটের জন্মের পাঁচশো বছর আগে যে কথা বলেছেন। তারও হাজার বছর আগের হিন্দুদের পবিত্র পষ্টতে এর উল্লেখ আছে। জুডেয়ার প্রস্তরময় পরিবেশে যীশুখ্রী? এক বাক্যে এই সমস্ত বাণীর সংক্ষিপ্তশব উপহার দিয়েছেন: অন্যদের কাছ থেকে যেরকম আশা কর নিজে অন্যদের সঙ্গে সেরকম ব্যবহার কর। আপনি যাদের সঙ্গে বেশেন তারা আপনাকে সনর্থন করবে আপনি তাই চান। আপনি আপনার সত্যিকারের যোগ্যতার জন্য প্রশংসা পেতে চান। আপনি থাপনার ক্ষুদ্র পৃথিবীতে যে খুবই অঞ্চরী এটা তাবতে আপনার ভাল লাগে। আপনি শস্তা আন্তরীকতাহীন তোষামোদ চান না, আপনি চান সত্যিকারের স্বীকৃতি। চার্লস শয়ার যেমন বলেছেন, আপনি হৃদয়ের সঙ্গে স্বীকৃতি পেতে চান এবং প্রচুর প্রশংসা চান। আমরা সালেই তাই চাই। অতএব

পৃষ্ঠা:৭২

আসুন সেই উজ্জ্বল নিয়মাটি মেনে চলি। আমি যা চাই তা অন্যকে দিতে শুরু করি। কেমন করে? কোথায়? উত্তর হল সর্বদা সমস্ত জায়গায়। উদাহরণ দিই একটা-আমি রেডিও সিটির কেরানীকে হেনরী সূভেইন-এর অফিসের নম্বর জানতে চেয়েছিলাম। সেই কেরানী খুব সুন্দরভাবে পোষাক পরে খবর দিত যার যা প্রয়োজন। খুব স্পষ্ট করে পরিষ্কার ভাবে সে বলেছিল হেনবী সূতেইন- (বিরতি) উনিশতলায় (বিরতি) ঘরের নম্বর ১৯১৬। আমি লিফট বরবার জন্য ছুটে যাচ্ছিলাম, কিন্তু হঠাৎ থেষে ফিরে এসে বলনান: আমি আপনাকে সম্বর্ধনা জানাচ্ছি কারণ আপনি খুব সুন্দরভাবে আমার প্রশ্নের জবাব দিয়েয়েন। আপনি খুব পরিষ্কারভাবে বলেচেন এবং একটি করাও অতিরিক্ত বলেননি। একজন শিল্পীর যত আপনি বলেছিবেন। এরকম প্রায় দেখা যার না। খুব আনন্দ পেয়ে লোকটি আমাকে বলল কেন সে কথার মধ্যে মাঝে মাঝে খামছিল। কেন প্রতিটি কথা সে অমন সুন্দর ভাবে বলেছিল তাও সে বলল। আমার কয়েকটি কথাতেই তার গর্ববোধ হয়েছিল। সে খুশী হয়েছিল। উনিশতলায় যেতে যেতে আমার যনে হল মানুষের দুধের মধ্যে আমি সামান্য একটু সুখ যোগ করতে পেরেছি। এরকম স্বীকৃতি দেওয়া বা তান লাগার জন্য ফ্রান্সের বাষ্ট্রদূত কিংবা পাড়ার কোন লাইব্রেরীর চেয়ারখ্যান হতে হবে না। আপনি প্রতিদিনই এর ব্যবহার করতে পাবেন। যদি রোস্তেরায় পরিবেশনকারিণী ভুল খাবার এনে দেয়-মাছের বদলে আলু যেন্ধ, আমাদের বলা উচিত, আপনাকে কষ্ট দিতে আমার ইচ্ছে নেই, কিন্তু আমি মাছের চপ বেশী পছন্দ করি। তখন পরিবেশনকারিণী উত্তর দেবে, না কষ্ট কিসের? আনন্দের সঙ্গেই বদলে দেবে কারণ তার প্রতি সম্মান দেখানে। হয়েছে। এরকম ছোট ছোট কথা-যেমন-আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনা কিন্তু… আপনি কি দয়া করে-অনুগ্রহপূর্বক আপনি কি-দয়া করে- ধন্যবাদ ইত্যাদি কথা ব্যবহার করলে দৈনন্দিন জীবনের কর্কশতা মোলায়েম হয়ে আসে। আর তার ফলেই চেনা যায়কে ভদ্রলোক আর কে নয়।  আর একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। আপনারা হল কেইনের কোন বই পড়েছেন কি? অনেকেই তাঁর বই পড়েছে-বয় গোক। তিনি এক বিস্তীর ছেলে ছিলেন। জীবনে তিনি আট বছর মাত্র স্কুলে পড়েছিলেন অথচ তাঁর মৃত্যুর সময় তিনি রেগে গিয়েছিলেন সাহিতি/কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী টাকা।

পৃষ্ঠা:৭৩

গরটা এইভাবে প্রচলিত আছে: হল কেইন চুতুর্দশপদী কবিতা এবং বীরদের সম্পর্কে কবিতঃ পড়তে ভালবাসতেন। তিনি দান্তে, গ্রেব্রিয়েল, রসেটির কবিতা সমস্ত পড়ে ফেলেছিলেন। বসোটির শিল্পীজনোচিত সাফংলার গুণগান করে তিনি একটি বস্তাও লিখেছিলেন। তারপর তার এক কপি রসেটিকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। রসেটির খুব আনন্দ হয়েছিল। তিনি হয়তো ভেবে- ছিলেন, যদি কোন তরুণের আমার প্রতি এমন উচ্চ ধারণা থাকে তাহলে সে নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান। তাই তিনি এই মিস্ত্রীর ছেলেকে রওনে আসবার আমন্ত্রণ জানিৰেচিলেন। তিনি তাঁকে তাঁর সেক্রেটারি নিযুক্ত করেছিলেন। হল কেইনের জীবনের যোড় সেখানেই ঘুরে গেল। তাঁর নূতন পরিবেশে এবং কাজে তিনি তখনকার আমলের সব বড় সাহিত্যিক কবিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে মিশবার সুযোগ পেলেন। তাঁদের উপদেশ এবং পৃষ্ঠপোষকতার তিনি তাঁর নামকে উজ্জ্বল করে তুলেছিলেন।

আইল অব ম্যানের গ্রীবা দুগে তাঁর বাড়ি ছিল। অনেক দূর দূর দেশ থেকে ভ্রমণকারীরা তাঁর বাড়ি দেখতে খাসতেন। তিনি এক কোটিরও বেশী টাকা রেখে গিয়েছিলেন সম্পত্তিতে। অথচ তিনি হয়তো দরিদ্র অবস্থাতেই শেষ হয়ে যেতে পারতেন অবিখ্যাত অবস্তায়। তিনি ঐরকম একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন বলেই জীবনে অতখানি সফলতা অর্জন করতে পেরেছিলেন। আন্তরিক ভাবে ভাল লাগা এবং তা প্রকাশ করার কতখানি শক্তি, তা এ থেকেই বোঝা যায়। রসোর্ট নিজেকে বড় ভাবতেন। তা খুব আশ্চর্য নয়, প্রায় সবাই নিজেকে বড় ভাবেন। খুবই বড়। সমস্ত জাতই তা ডাবে। আাপনি কি অনুভব করেন না আপনি জাপানীদের চাইতে শ্রেষ্ঠ? সত্যি কথা এই যে জাপানীরাও নিজেদের আপনার চাইতে অনেক বড় মনে করে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, একজন প্রাচীনপন্থী জাপানী যদি দেখে একটি জাপানী মেয়ে সাদা চামড়ার কারুর সঙ্গে নাচণ্ডে, তা হলে সে ক্ষেপে যাবে। হিন্দুরাও আপনার চাইতে শ্রেষ্ট ভাবে। কেবল তাই নয়, আপনার হায়া পড়লেও যে খাদ্য তারা অপবিত্র হরেছে নদে করে মুখে তুলবে না। (বইখানি আনেরিকানদের জন্য লেখা মনে করে গাঁখতে হবে-অনুবাদক।) আাপনি কি নিএেকে এস্কিমোদের চাইতে শ্রেষ্ঠ মনে করেন? তা আপনি তাবতে পারেন বটে। কিন্তু একটি এস্তিনো আপনার সম্বন্ধে কি ভাবে, জানতে চান কি? এস্কিমোদের মধ্যে অনেব’ অলস লোক থাকে, যারা কিছুতেই কাজ

পৃষ্ঠা:৭৪

করতে চায় না। এস্কিংযারা তাদের গালাগান দের যাহেব বলে। এটাই তাদের চরম শূণ্য প্রকাশ। প্রহিট গাত অন্য জাতের চাইতে শ্রেষ্ঠ মনে করে। তার ফলেট সৃষ্টি হব দেশপ্রেম এবং যুদ্ধ। সত্যি কথা এই যে, যাঁর সঙ্গেই আপনার দেখা হোক না কেন, তিনি কোন না কোন ব্যাপারে নিজেকে আপনার চাইতে শ্রেষ্ঠ ভাবেন। তাঁর হৃদয়ের দরজা খোলবার একমাত্র উপায় হলো তাঁর সেই গুণটি সম্পর্কে আপনার আগ্রহ এবং উক্তি আছে সে কথা তাঁকে বুঝতে দেওয়া। এবারসন কি বলেছিলেন মনে রাখবেন, যে সমস্ত লোকের সঙ্গে যাবার সাক্ষাৎ চর, কোন না কোন ব্যাপারে তারা আমার চাইতে বড়। আমি তাদের কাছ থেকে শিখতে পারি। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হচ্ছে, এর উল্টোটাই ঘটে থাকে বাস্তবে-যাদের গুণ কম, তারা তাদের যেই শূন্যতাকে পূর্ণ করবার জন। চেঁচায় এবং লোক ঠকায়-ব্যাপারটা অসহ।। শেক্সনীবার বলেছেন, মানুষ গাবিত, মানুষ গামান্য একটু ক্ষহতা পেয়ে এমন প্রলয় নাচ শুরু করে যে স্বর্গের দেব-কৃতরা কাঁদতে থাকে। আমি এখানে তিনটি গল্প বলছি। এই তিনটি গল্পে দেখা বাবে যে আমার এই শিক্ষার ফলে কেমন উপকার হয়েছে। প্রথম গল্পটি একজন উকিলের। এর নাম বলা নিষেধ আছে, অতএব তাঁকে কেবল আর’ বলে উল্লেণ করব। এর বাড়ী কনেকটিকাটে। আমার ক্লাসে ভর্তি হবার কিছুদিন পরেই তিনি সন্ত্রীক গাড়ীতে করে বর শ্বীপ যাত্রা করেন। সেখানে তাঁর স্ত্রীর আন্তীয়দের সঙ্গে দেখা করাই ঢিল উদ্দেশ্য। স্ত্রী তাঁকে বৃদ্ধা পিসির সঙ্গে আলাপ করতে দিয়ে নিজে কম বয়স্ক আর্থীবদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে চলে গেলেন। তিনি ভাবলেন ক্লাসে যা শেখা হয়েছে তা এই বৃদ্ধার উপর প্ররোগ করবেন। তাই তিনি বাড়ির চারিদিকে তাকিয়ে দেখলেন বদি কিছু তিনি সত্যি সত্যিই প্রশংসা করতে পারেন। তিনি ফেজ্ঞেস করেছিলেন, বাতিটা ১৮৯০ বারের কাছাকাছি তৈবি হয়েছিল, তাই নয়? উত্তরে বৃদ্ধা বললেন হ। ঠিক, সেই বছরেই এটি তৈরি হয়েছিল। উকিল ভদ্রলোক উত্তর দিলেন, ঠিক এই রকম ভুন্সর একটি বাড়িতেই আমি জন্মেছিলাম। প্রচুর জায়গা আছে এ বাড়িতে। এমন বাড়ি আর আজকাল তৈরি হয় না।

পৃষ্ঠা:৭৫

বৃদ্ধা বললেন, তুমি ঠিকই বলেও। আজকাল ছেলে ছোকরারা তার বাড়িতে থাকতে চায় না। তোরা ছোট বাড়ীতে থাকে, একটা বৈদ্যুতিক বরফ বায় থাকে। জার মনোযোগ তাদের গাড়ির উপরে। এ খাড়ি আমার স্বপ্নের, ভদ্রমহিলা উৎসাহের সঙ্গে কতে শুরু করলেন। তিনি বদলেন, আামার স্বামী এবং নামি বহুদিন ধবে এই বাড়িটার পরিকল্পনা কবেছিলান। আমরা স্বপতির সাহায্য হোটেই নিই নি। নিজেরাই এমন পরিকল্পনা করেছিলাম। তিনি তখন বাড়িটিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন। বাড়িতে যত দ্রষ্টব্য জিনিষ ছিল, নানা রকমের সংগ্রহ-সব তিনি দেখালেন। মিষ্টার আর বললেন, বাড়িটি ধুরিয়ে দেখানোর পর পিসিমা আমাকে নিরে গেলেন মটর গ্যারেজ, সেখানে একটু উচুতে রাখা একটি নতুন দাবি গাড়ি ছিল। তদ্রমহিলা আস্তে আস্তে বললেন, আমার স্বামী মারা যাবার কিছুদিন আগে তিনি এটি আমাদের জন্য কিনেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এ-গাড়িতে আর আমি চড়িনি। তুমি সুন্দর জিনিস পছল কর তাই এই গাড়িটি তোমায় দিয়ে দিচ্ছি। তখন আমি বললাম, এরকমভাবে আমাকে গাড়ি উপহারের কথা বলাতে আাই কি বলব ভেবে পাচ্ছি না, খুবই আনল হচ্ছে। আমি কেমন করে নেন। আপনার নিকট আন্তীয় আছে যারা খুশি হবে। তাকাড়া আনার নিজেরই একটি নতুন গাড়ি রয়েছে। কিন্তু এ গাড়ি এ গাড়ি দেবে তিনি চেঁচিবে বললেন, আম্বীয়। তারা তো রয়েছে আমি কবে মরব সেই আশায়। তখন তারা গাড়িটি নেবে-কিন্তু সেটি হচ্ছে না। আনি তাঁকে বলেছিলাম, যদি আত্মীয়দের দিতে না চান তবে কাউকে বেচে দিতে পাবেন। তিনি বললেন, বিক্রি। আমার স্বামী যে গাড়ি কিনোচলেন আমাদের জন্য যে গাড়িতে চেপে অপরিচিত লোক যাওয়া-আশা করবে রাস্তা দিয়ে তা আমি কেমন করে সহ্য করব। এটা তোমাকেই আমি দেব, কারণ তুমি সুন্দর জিনিস পছন্দ কর। তাঁকে শেষ পর্যন্ত গাড়িটি নিতেই হল-পিসি কিছুতেই ছাড়লেন না। এই বৃদ্ধাটি একটি বাড়িতে একা ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন একটু মর্যাদা, একট সম্ভবত।। তিনি এককালে ছিলেন বুবতী এবং সুন্দরী, অনেকেই তাঁকে চেয়েছিল। এককানে তিনি একটি বাড়ি করেছিলেন, সে বাড়ি তিনি হুশর

পৃষ্ঠা:৭৬

করে তুলেছিলেন ইউরোপ থেকে নানা জিনিস কিনে এনে। এখন তাঁর একাকী- দ্ধের সময় কিছু মানুষের মত ব্যবহার, কিছু প্রশংসা তিনি চেয়েছিলেন-কিন্তু কেউ ৫। তাঁকে দেয়নি। কিন্তু যখন তা পেলেন, তা যেন হল মরুভূমির মধ্যে একটি বারণা। তাঁর কৃতজ্ঞতা যা হন তা প্রকাশ করবার জন্য একটি দানি গাড়ি তিনি দান করে ফেললেন। আর একটি ঘটনা। একজন প্রাকৃতিক দৃশ্যের নিয়ী তনাল্ড এর যাকম্যাহন এই ঘটনা বলেছিলেন। বন্ধুত্ব পাবার উপার সম্পর্কে বক্তৃতা শুনার পর একটি বিচারকের জমিদারিতে কিছু প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকছিলাম। মালিক এসে আমাকে বললেন তিনি কোন দারগার বোডোডেনড্রন ইত্যাদি ফুলগাছ লাগাতে চান। আমি তখন তাকে বলেছিলাম ওথ সায়েব, আপনার সুন্দর একটি শখ আছে। আপনার কুকুরগুলি বড়ট চমৎকার। আমি জানতে পেলাম যে প্রতি বছর কুকুর প্রদর্শনীতে আপনি পুরস্কার পান। এইভাবে কথা বলাতে ফল হল বিস্যয়কর। জন্ম ভদ্রলোক বলবেন হাঁ। কুকুর পুমে আমি খুব আনন্দ পাই। আপনি চলুন আমার কুকুরের সংগ্রহ দেখবেন। তিনি প্রায় একঘণ্টা ধরে কুকুর এবং পুরস্কার দেখালেন। এমনকি কুকুরদের বংশ পরিচয় পর্যন্ত থানাকে দেখালেন। অবশেষে আমার দিকে তাকিরে তিনি বললেন, আপনার কি একটা ছোট ছেলে আছে? যখন জানানান আছে, তখন তিনি আমাকে একটি কুকুরের বাচ্চা জোর করেই দিয়ে দিলেন। কুকুরের বাচ্চাকে কেমন করে খাওয়াতে হয় তা তিনি জানালেন। তারপর বলবেন, আপনি হয়তো ভুলে যাবেন-আমি লিখে দিচ্ছি। তখন তিনি বাড়ির ভেতর গিয়ে কুকুরটি সম্পর্কে জ্ঞাতব্য বিষয়গুলি লিখে আনলেন। তিনি আমার জন্য সোয়া একঘন্টা সময় নধু করলেন, আর প্রায় পাঁচশো টাকা দায়ের কুকুরের শচ্চাটিকে দিলেন। কারণ আ’ই তাঁর সম্পর্কে আমার ভাল লাগার কথা জানিয়েছিলাম। জর্জ ইষ্টন্যান স্বচ্ছ ফিল্ডের আবিষ্কর্তা-ধার ফলে চলচ্চিত্র সম্ভব হয়েছে। তিনি জীবনে পঞ্চাশ কোটি টাকা জমিয়েছিলেন। বিখ্যাত ব্যবসারী হিসেবে নাম তাঁর যথেষ্ট হয়েছিল। এ সত্ত্বেও তিনি আমাদের যতই চাইতেন লোকের প্রশংসা। একটি উদাহরণ: বেশ কয়েক বছর আগে ইরম্যান একটি সঙ্গীতের স্কুল তৈরী করাচ্ছিলেন। ঐ বাড়িতে যে প্রেক্ষাষর তৈরি হচ্ছিল তার চেয়ার সরবরাহ করতে চেয়েছিলেন নিষ্টার অ্যাডামসন। মিষ্টার অ্যাডমসনের একটি চেয়ার তৈরির প্রতিষ্ঠান ছিল।

পৃষ্ঠা:৭৭

বিস্তার অ্যান্ডারসন স্বশতিকে কোম করে নিষ্টার ঈউদ্যানের সঙ্গে দেখা করার একাটা সময় স্থির করলেন।যখন অ্যাডামসন সেখানে পৌছলেন, তখন স্বণণ্ডি বললেন, আমি জানি আপনি চেরার বিক্রি করতে চান। তবে একটা কথা বলে রাখি, অর্থ ইউম্যানের সময় বস্তুই অর। স্থাপনার না বক্তব্য, দা পাঁচ মিনিটের মধে। বলে কেনবেন। তিনি খুবই ব্যস্ত। অ্যান্ডারসন ঠিক তাই করতে চেয়েছিলেন। ঘরে ঢুকে তাঁরা দেখলেন, নিঃ ঈইম্যান ডেস্কের উপর প্রচুর কাগজপত্র দেখছেন। একটু পরেই মিঃ ইষ্টব্যান তাঁদের দেখতে পেয়ে বললেন, নমস্কার তদ্রমহোদরখণ, আবার কাড়ে আপনার। কেন এসেছেন? স্থপতি পরিচয় করিয়ে দেওয়াতে মিঃ অ্যাডামসন বললেন: আদি যাপনার অফিস ঘরটিকে লক্ষ্য করছিলাম। এরকম একটা অফিস খর থাকলে আমিও কাজ করতে রাজি। আমি নিজেই আসবাবপত্রের ব্যবসা করি যদিও, বিল্প তবু আমার সমস্ত জীবনে এমন সুন্দর অফিন দেখিনি। মজর্জ ঈউম্যান উত্তর দিয়েছিলেন: আপনি আমাকে একটি প্রায় ভুলে যাওয়া কথা মনে পড়িরে দিয়েছেন। খুব সুন্দর এই ধরটি তাই নয়? যখন এটা প্রথম তৈরী হয়, তখন আমি খুব আনন্দ পেয়েছিলাম। কিন্তু তারপর কাজের চাপে এ-ঘরার্ট হয়তো নজবেই পড়ে না আমার।

অ্যান্ডামসন ধরে একটু হেটে একটা কাঠের জিনিসে হাত দিয়ে বললেন, এটা বিলিতি ওক গাছের কাঠ, তাই নয় কি? এর সঙ্গে ইটালিয়ান ওকের কিছু পার্থক্য আছে। ঈইম্যান উত্তর দিলেন, হাঁ ওটা বিলিতি গুক, আমার কাঠ সম্পর্কে ওয়াকেবহাল এক বন্ধু এটি পণ্ডল করেছিলেন আমার জানা। তারপর ইস্টম্যান ঘরটিকে ঘুরে ঘুরে দেখালেন এব বস্তু, এর মাপ, হাত দিয়ে। কোন জায়গা খোদাই ইত্যাদি ইত্যাদি। ঘরে হুরতে ঘুরতে কাঠের কাজের জিনিসগুলোর ছাড়িক করতে করতে একটি জানাবার সামনে এসে তাঁরা দাঁড়ালেন। ঈষ্টদ্যান খুব আস্তে আস্তে তাঁর স্বভাবসিদ্ধ বিনয়ের সঙ্গে তাঁর কতকগুলি সৎকাজের নমুনার পরিচয় করিয়ে দিচিচুলেন। সেগুলি সেই জানালা দিয়ে দেখা বাটিচুল। এর মধ্যে দেখা যাচ্ছিল রচেষ্টার বিশ্ববিদ্যালয়, জেনারেন হাসপাতাল হোমিওপ্যাথিক হাসপাতান, ক্রেগুলি হোম, ছোটদের হাসপাতাল ইত্যাদি। মিঃ অ্যাডামসন জর্জ ইস্টম্যানকে

পৃষ্ঠা:৭৮

এই রকম যানব দুঃখ দূর করবার প্রচেষ্টাকে অতিবন্ধন জানালেন। একটু পরেই অর্জ ইউম্যান একটি কাঁচের বাক্স খুলে একটি ক্যামেরা বার করলেন। ক্যামরাটি তিনি এই প্রথম ব্যবহার করেন। একজন ইংরেজের কাছ থেকে তিনি এই আবিষ্কারটি কিনে নেন। অ্যাডামসন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তাঁর ছেলেবেলাকার কষ্টকর জীবনের কাহিনী। নিঃ ইউয্যানও সত্যিকারের অনুভূতির সঙ্গে তাঁর ছেলেবেলাকার কাহিনী বরেছিলেন-কেমন করে ছেলেবেলায় অভাবের মধ্যে তিনি মানুষ হয়েছিলেন। তার বাবা যারা সাবার পর মা একটি বড়িং হাউস চালাতেন এবং তিনি নিজে দৈনিক আড়াই টাকায় কেরানীগিরি করতেন। অভাবের দুশ্চিন্ত। তাঁকে সমস্ত দিন রাত অসুখী কারে রাখত। তাই তিনি চেয়েছিলেন টাকা-যাতে তাঁর মাকে কষ্ট করতে না হয়। মিঃ অ্যান্ডাযসন আরো প্রশ্ন করতে লাগলেন। তাঁর প্রথম ছবি তোলার শুকনো প্লেট তৈরী করার কাহিনী জানালেন। কেমন করে দিনে অন্য অফিসে কাজ করে রাত্রি জেগে তিনি পরীক্ষা চালাতেন। খুব কম তিনি ধুনুতেন। এমনও হয়েছে বে তিনদিন তিনরাত্রি তিনি একই পোশাকে রয়ে গেছেন। এই অবস্তাতেই থেরেছেন এবং ঘুমিয়েছেন। ইউয়্যানের অফিসে জেমস্ অ্যাঞ্জামসন ঢুকেছিলেন সোয়া দশটার সময়। পাঁচ মিনিট থাকবার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু একষনটা গেল, দু-ঘণ্টা গেল, তাঁর। তখনো কথাই বলছেন। অবশেষে জর্জ ইউয্যাব অ্যান্ডামসনের দিকে তাকিয়ে ধরলেন, গতবার যখন আমি জাপান যাই, তখন আমি কিছু চেবার কিনেছিলাম। সেগুলি রোকুরে রাখার ফলে রঙ চেটে গিয়েছে-মাধি নিজে যেগুলিকে রঙ করেছি। দেখবেন কেমন আমি রঙ করতে পারি? আসুন না, আমার সঙ্গে লাঞ্চ খাবেন, তারপর সেগুলো দেখবেন। লাঞ্চের পরে চেয়ারগুলো শেখালেন। এমন কিছু দাবি ভিনিস নয়-একটার দাম সাড়ে সাত টাকার বেশী নয়। কিন্তু পঞ্চাশ কোটি টাকার মালিক অর্জ ঈব্যৈান এই চেয়ারগুবি সম্পর্কে গর্ববোধ করতেন-কারণ তিনি নিজে ওই চেয়ারগুলিকে রঙ করেছিলেন। জর্জ উইম্যান সাড়ে চার লক্ষ টাকার চেয়ার অর্ডার দিয়েছিলেন। অর্ডার কে পেয়েছিলেন? অ্যাডামসন? নাকি অ্যাডামসনের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান? সেই সময় থেকে মিঃ ঈইম্যানের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরা বস্তু ইলেন।

পৃষ্ঠা:৭৯

তারিফ করা কোথায় আানরা শুরু করব? কেন, বাড়িতে প্রণবে শুরু করলেই তো হয়। আবার মনে হব না, পৃথিবীতে এমন উপযুক্ত স্থান আর আছে কিনা। সবচেয়ে বেশী প্রয়েজন এখানেই, আর এখানেই সবচেরে কর দেখা যায় ব্যাপারটা। আপনার স্ত্রীর অনেক ভাল দিক যাছে। অন্তত এককালে আপনি তাই ভবিতেন। নইলে তাঁকে বিয়ে করতেন না। কিন্তু কতদিন আপনার স্ত্রীকে তারিফ করেন কি? কতদিন ?? কতদিন ??? কয়েক বছর আগে আবি নিউ ব্রানসউইকের এক জায়গায় দাও ধরছিলাম। কানাডার গভীর অরণ্যে আমি এক। ছিলাম। একমাত্র একটি স্থানীয় সংবাদপত্র হাতা আমার পড়বার কিছু ছিল না। আনি সমস্তই পড়তাম। এমন কি বিজ্ঞাপন- টুকু পর্যন্ত। একটি প্রবন্ধ পড়েছিলাম, ডরোথি ডিস্কের রেখা। লেখাটি তালে। লাগার আমি কেটে রেখেছিলাম। তিনি লিখেছিলেন বিয়ের সময় কনেদের কাছে বক্তৃতা তিনি পছন্দ করেন না। তিনি বলেছেন বরকে টেনে এক কোণে লিয়ে গিরে এই কথা বলা; বিরের আগে একটি মেয়েকে প্রশংসা করা সহজ, কির-কিন্তু বিয়ের পরে প্রশংসা করা অবশ্যই কর্তব্য কেবল তাই নয়, নিজেও তাতে নিরাপদে থাকা বার। বিবাহিত জীবনে স্পষ্ট কথার স্থান নেই। এখানে শুটনীতির বিশেষ প্রয়োজন। যদি শান্তিতে থাকতে চান, তাহলে আপনার স্ত্রী কেমনভাবে সংসার চালান সে সম্পর্কে কঠোর যন্তব্য করবেন না, বা আপনার মায়ের সঙ্গে তুলনা করবেন না। এর পরিবর্তে সব সমর স্ত্রীকে প্রশংসা করুন। অভিযোগ করবেন না। মাংস যদি সেদ্ধ না হর, ৬তি যদি পুড়ে যায় তাহলে কেবল বলুন, আপনার স্ত্রীর সুন্দর বান্নার তুলনায় একটু খারাপ হয়েছে। এর ফলে দেখবেন, আপনার স্ত্রী কত যত্ন নিতে আগ্রহ দেখা। চট করে এরকম বাড্ডার শুরু করবেন না তাহলে তিনি সন্দেহ করতে পারেন। আজ রাত্রে বা কাল রাত্রে স্ত্রীর জন্য একগোছ। ফুল বা একখানা এই কিদে নিয়ে যান। কেবল একখা বললে চলবে না যে, আমার এরকর করা উচিত। করুন। তাছাড়া হাসি মুখও দেখান। কতকগুনি ভালবাসার কথাও শোনান তাঁকে। স্বামী এবং স্ত্রী সবাই যদি এরকম ব্যবহার করতে শুরু করে, তাহলে আমেরিকায় ছ’টি বিবের মধ্যেও একটি বিবাহবিচ্ছেদ আর হবে না। কোন মেয়েকে আপনাকে তালবাসানোর জন্য ভাবনার কি করা প্রয়োজন। কৌশলটা বলছি। কৌশলটা ভাল। এটা আমার মাথা থেকে বেরোয়নি। ডরোথি ডিক্স-এর দেখা থেকে আমি বার করেছি কৌশনটা। তিনি একদা একটি

পৃষ্ঠা:৮০

বড় বিবাহকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি তেইশটি বিভিন্ন মেয়েকে বিরে করেছিলেন এবং তাদের জমানো টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। (প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা ভাল যে তিনি তাঁর সঙ্গে জেলে দেখা করেছিলেন।) তিনি তাঁকে যেয়েদের প্রেমে পড়বার কৌশল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন, কৌশলটা সহজ। কেবল মেয়েদের তাদের নিজেদের সম্পর্কে কথা বলতে সুযোগ দেওয়া। একই উপায় পুরুষদের প্রতিও প্রযোজ্য। ডিসরেলি ছিলেন বৃটিশ সাম্রাজ্যের একজন ধুরন্ধর কুটনীতিজ্ঞ। তিনি বলেছেন, ছেলেদের কান্ডে তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা করুন। অতএব যদি জনপ্রিয় হতে চান, তাহলে অপরকে শ্রেষ্ঠ অনুভব করবার সুযোগ করে দিন। এটা আন্তরিকভাবে করুন। এবই আপনি অনেকক্ষণ ববে পড়েছেন। এখন বন্ধ করুন। আপনি বিশ্রাম করুন, এই বইতে লেখা নিয়মগুলি এখনি প্ররোগ করতে শুরু করুন। আপনার সবচেয়ে কাছে যিনি আছেন, তাঁর প্রতি এই উপায়গুলি প্রয়োগ করুন। দেখবেন এতে যাদুর যত কাজ করতে।

পৃষ্ঠা ৮১ থেকে ১০০

পৃষ্ঠা:৮১

দশম অধ্যায়

তর্কে আপনি জিততে পারেন না:- তর্কে আপনি জিততে পারেন না প্রথম হ্যাযুদ্ধের কিছু পর একদিন রাতে নপ্তান আমার এক অরুনা শিক্ষা হয়। আমি যে সমরে স্যার বস শ্মিথের ম্যানেজার ছিলাম। যুদ্ধের সময় স্যার বন্ধু অস্ট্রেলিয়ান বিমানবাহিনীর একজন সুদক্ষ দোদ্ধা হিসেবে গ্যালেষ্টাইনে চিলেন। যুদ্ধ গামবার ঠিক পরেই প্যালেষ্টাইন থেকে স্যার বস্তু বিমানে চড়ে যান অস্ট্রে লিরাতে। গোটা পৃথিবী ঘুরে এলে যে দূরত্ব অতিক্রম করা হয়, এটা প্রার তার অর্ধেক পথ। এতখানি পথ যেতে তাঁর লেগেছিল ত্রিশ দিন। সমস্ত পৃথিবীকে আশ্চর্য করে দিয়েছিল ঘটনাটি। করেনি। চারিদিকে হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিল। এরকম চেষ্টা এর আগে কেউ অষ্ট্রেলিয়ান সরকার তাঁকে সোয়া দু’লক্ষ টাকা দিয়েছিল। ইংল্যাণ্ডের রাজা তাঁকে নাইট উপাধি দেন। কিছুকাল পর্যন্ত তিনি বৃটিশ সাম্রাজ্যের স্কদের খালোচনার পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। এই সময় স্যার রসের সম্মানে একটি ভোজ দেওয়া হয় লণ্ডনে। সেই ভোজ সভায় আমার পাশের ভদ্রলোক একটি হাসির গল্প বললেন। এই প্রসঙ্গে একটি উদ্ধৃতি করেন, যার উপরেই গল্পটা নির্ভর করেছিল। উদ্ধৃতিটি হচ্ছে ৩ট- There’s a divinity that shapes our end, rough how them how we will. বক্তা বলেছিলেন কথাটা বাইবেনে পাওয়া বাবে। কিন্তু তা ঠিক নয় আমি জানতাম। মামি তা জান করেই জানতাম, এবং সে ব্যাপারে আমি নিঃসন্দেহ ছিলাম। অতএব আমার জ্ঞানের প্রমাণ দেবার জন্য এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করবার জন্য একটা ব্যাপার করলাম। অযাচিতভাবেই বললাম যে কথাটা বাইবেলে নেই, আছে শেক্সপীয়ারে। ব্যাপারটা কারুরই ভাল লাগেনি। বঞ্চ। কিন্তু আযার কথ। মানতে বাজী হলেন না। তিনি বললেন, শেক্সপীয়রের কথা এটা? অসম্ভব। এট বাইবেলে আছে। আর তিনি তা ভাল করেই জানেন। বক্তা আমার ডান দিকে বসেছিলেন। বাঁ দিকে বসেছিলেন আমার বন্ধু ফ্র্যাঙ্ক গ্যামও। বিঃ গ্যাযন্ত বহু বছর ধরে শেক্সপীয়র সম্পর্কে পড়াশুনা করেছিলেন। অতএব বক্তা এবং আাবি পূজনেই বাজি হলাম ব্যাপারটা নিঃ গ্যাষণ্ডকে দিয়ে নিষ্পত্তি করাতে। তিনি ব্যাপারটা শুনলেন। শুনে টেবিলের

পৃষ্ঠা:৮২

তলায় আমার পারে এক লাথি মারলেন, তারপর বললেন, ছেন, তোমার তুব হয়েছে। ভদ্রলোক তুল করেননি। উদ্ধৃতিটা বাইবেল থেকেই। বাত্রে বাড়ী যাবার সময় আামি মিঃ গ্যামওকে বললাম, ফ্যাঙ্ক, তুমি নিশ্চয়ই জানতে যে কথাটা শেক্সপীয়ারের। তিনি উত্তর দিলেন, নিশ্চয়, নিশ্চয়। এটা হ্যামলেটে আছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমরা একটি উৎসবে ছিলাম। একজন লোক ভুল বলেছেন তা প্রমাণ করবার প্রয়োজন কি? এর ফলে তিনি তোমাকে গড়ন করবেন? তার মুখরক্ষা করানোই তো তান। তিনি তোমার মতামত চাননি। তাঁর সঙ্গে তর্ক করার প্রয়োজন কি? ওরকম বাঁকা তর্ক করা সব সময়েই অনুচিত। বাঁকা তর্ক করা সব সময়েই অনুচিত, যিনি কথাটা বলেছিলেন এখন তিনি বেঁচে নেই, কিন্তু কথাটা আমার মনে আছে। এই শিক্ষার আমার বিশেষ প্রয়োজন ছিল, কারণ আমি তয়ানক ভাবে তর্ক- বিতর্ক করতাম। ছোট বখন ছিলাম, তখন সামি আমার ভাই-এর সঙ্গে বিশ্বের সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম। আমি এখন কলেজে পড়ি তখন তর্কশাস্ত্র পড়েছি, কেমন করে তর্ক করতে হয় তাও শিখি। আমি অনেক তর্ক-বিতর্ক করে শেষ পর্যন্ত এই বিভ্রান্তে উপনীত হয়েছি, ওসব না করাই ভাল। -তর্কে আপনার জিত হবে না। কারণ যদি ছেরে খান, তবে তো হেরেই গেলেন, আর যদি দিতে যান তাহরে কি হবে? বে লোকটিকে তর্কে হারিয়ে নিয়েয়েন তার অবস্তা কি? তার গর্বে আপনি জাঘাত করেনে। সে আপনার মরকে ঘৃণা করবে। একটি কবিতার সারমর্ম হচ্ছে-ইচ্ছের বিরুদ্ধে যদিও অন্য লোবকে প্রমাণ করা যায়, তাতে মত বদলায় না। একটি জীবন বীমা কোম্পানী তার বীমা পলিসি বিক্রেতাদের নীতি হিসেবে উপদেশ দিয়েছেন তর্ক করবেন না। আসলে বিক্রি করা মানে কিন্তু তর্ক করা নয়। তর্কের কাছাকাছিও নয়। মানুষের মন ওই তাবে বদলানো যায় না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যার, বহু বছর আগে প্যাটিক জে ও চেয়ার নামে একজন খুব কলয়প্রিয় খাইরিণ স্নেলোক আমার ক্লাবে ভর্তি হন। তাঁর শিক্ষা কিছু ছিল না, কিন্তু ঝগড়া করতে তার জুড়ি মেলা ভার ছিল। এককালে তিনি গাড়ী চালাতেন, এখন তিনি মোটর বার বিক্রি করার কাজে বার্থ হচ্ছিলেন বলে খাবার:গতে এসেছিলেন। একটু আলোচনা করেই বুঝলাম, তিনি যাদের সঙ্গে

পৃষ্ঠা:৮৩

ব্যবসা করতে বায়েছন-তাদের সঙ্গে তর্ক করেছেন এবং তাদের শত্রুতে পরিবৃত করেছেন। কেউ তাঁর লরি সম্পর্কে একটু বিরূপ মন্তব্য করলেই ক্রেতাকে টুটি টিপে ধরতেন, তর্কে জিততেন বটে কিন্তু লরি বিক্রি বিশেষ তাতে হত না। আমার অবশ্য প্যাট্রিক এজ ও’ হেয়ারকে কথা বলানোর সমস্যা ছিল না। তাঁকে উপদেশ দিতে হব কথা যতদূর সম্ভব কম বলতে এবং তর্কযুদ্ধে একেবারেই না যেতে। নিঃ প্যাট্রিক জে ও’ যেয়ার এখন একটি মোটর প্রতিষ্ঠানের বেশ নামকরা বিক্রেতা। কেমন করে তা সম্ভব হল। গল্পটা তার নিজের মুখে শুধুন-আমি যদি কোন ক্রেতার অফিসে গিবে শুনি তাঁর কথা, কি আপনার কোম্পানীর লরি। ওগুলো বাজে লরি। বিনা পরসার দিলেও আমরা নেব না। আমরা ওষুক কোম্পানীর বরি কিনব। আমি তখন বলি, কথাটা ঠিকই বলেছেন-ওদের লরি ভাল, এবং সে লরি কিনলে আপনি বোটেই ঠকবেন না। তাদের লরি তৈরি হয় ভাল কারখানার ওদের লরি বিক্রিও করে ডাল নোকে। তখন তিনি আর কথা বলতে পারেন না। তর্ক করবার কোন ফাঁকই খাকে না। তিনি যদি বলেন ওবুক কোম্পানীর লরি ভাল, যার আমি যদি তা স্বীকার করি, তাহলে তর্ক করবার কোন সুযোগ থাকে না। সব সময় তিনি বলতে পারেন তাদেরটা সবচেয়ে ভাল। ভাবি তো তা স্বীকার করে নিয়েছি। তখন সেই কোম্পানীর কথাবার্তা গার চলে না-আমার কোম্পানীর দবির সুবিবেগুনি তখন বলতে থাকি। এক সময় ছিল, যখন ওরকম কথা শুনলে আমি তৎক্ষণাৎ চটে উঠতাম। আমি অন্য কোম্পানীর বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করতাম। আর যতই বিরোত্তিা করতাম ততই আমার ক্ষতি হত, এবং অন্য কোম্পানীর নাত হত।

 

এখন মনে হয় আনি যে কিছু তবু বিক্রি করতাম ত। কেমন করে সম্ভব। হয়েছিল। আমার জীবনের অনেক বছর এবনি বৃথা তর্ক করে কাটিয়েছি। আমি এখন মুখ বুজে থাকি-ফলে উপকার হয়। জ্ঞানী বুড়ে। বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন বসতেন-প্রতিবাদ তর্ক ইত্যাদি করলে কখনও জয়লাভ হতে পারে, কিন্তুসে জয়লাভের কোন মূল্য থাকবেনা, কারণ প্রতিপক্ষের হৃদয় তাতে পাওয়া যায় না।অতএব হিসেবটা নিজেই করে দেখুন। কি চান রূপনি–তর্ক যুদ্ধে ‘দর না প্রতিপক্ষের হৃদয়? খুব কম সময়েই এই দুটো এক সঙ্গে পাওয়। যায়।

পৃষ্ঠা:৮৪

এবার একটি খবরের কাগজে কয়েক চূত্র কবিতা ছাপা হয়, তার ভাবার্থ এই: উইলিয়াম জে রাস্তায় চলার অবিকার বজায় রাখতে গিয়ে মারা যান। তিনি তাঁর অধিকার অক্ষুন্ন রেখেছিলেন-তিনি নির্ভুল কাজ করছিলেন কিন্তু ফল হয়েছে ভুলের ফলের নৃত্যুর মতই। মাপনি নির্ভুল হতে পারেন। কিন্তু নির্ভুল হয়ে মরে লাভ কি? একজন বিখ্যাত রাজনীতিজ্ঞ বলেছেন যে, বস্তু বছর রাজনীতি করবার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন যে একজন অজ্ঞ লোককে তর্কে হারানো সম্ভব নয়। শুধু অল্প কেন? তার চাইতেও অনেক বেশী। কোন মানুষকেই তর্কে তার মন পরিবর্তন করিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। একটি খটন্য বলি, একবার একজন ইনকাম ট্যাক্স ইনলপেক্টর ন’ হাজার গুলারের উপর প্রাপ্য ট্যাক্স আদায় করতে চেয়েছিবেন একজন ভদ্রলোকের কাছ থেকে। নিঃ পারসন তাঁহার নাম। নিঃ পারসন বলেছিলেন, এই টাকা আনার আর হরনি, মক্কেল এখনো দেয়নি-অতএব এ টাকার ট্যাক্স ধরবেন না। ইনকাম ট্যাক্স ইন্সপেক্টর বললেন, বটে। আমার কাছে চালাকি। আবি ট্যাক্স চাই? মিঃ পারসন বলেছিলেন, এই ইনকাম ট্যাক্স ইনসপ্টের ছিলেন অতি কঠোর প্রকৃতির। কোন রকম করেই তাঁকে বোঝানো গেল না, প্রমাণ দেখিয়েও কিছু বাত হল না। অতএব আমি তর্ক আর করব না স্থির করলাম। আমাদের কথা-বার্তার বিষয়বস্তুর পরিবর্তন করলাম এবং স্তির করলাম তাঁকে প্রশংসা করব। আমি বলেছিলাম এই ব্যাপারটা আপনার কাছে নিতান্তই একটি নগন্য ব্যাপার। আপনাকে আরো কত বড় বড় ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। ট্যাক্স সম্পর্কে আমি পড়াশুনা করেছি-কিন্তু আমার বিদ্যে এই বই পর্যন্তই। আপনার তো কত অভিজ্ঞতা এ ব্যাপাবে। মাঝে মাঝে মনে হয় যদি আপনার যত কাজ আমি করতে পারতাম। এর ফলে আমার কত শিক্ষাই না হত। এর ফলে ইনসপেক্টর মশাই সোজা হয়ে চেয়ারে বসবেন-তারপর হেলান দিয়ে বসে তাঁর কাজ সম্পর্কে কথাবার্ত। বলতে লাগলেন অনেকক্ষণ ধরে। তিনি অনেক বস্তুত জানিয়াতী কেমন করে ধরেছেন সে-সব কথা বলবেন। তিনি যাবার আগে বললেন, আমাণ বা, গয়ট’ সম্পর্কে আরে। চিন্তা করবেন। ক্রযে তাঁর স্বঃ বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। আন্তে আস্তে তিনি তাঁর ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে গঙ্গ বলতে কে দরবেন।

পৃষ্ঠা:৮৫

তিন দিন পর তিনি আমার অফিসে এসে হাজির। তিনি বললেন ট্যাক্স নকুব করা হয়েছে। এই ইনকাম ট্যাক্স ইনসপেক্টর যে দুর্বলতা প্রকাশ করেছিলেন তা প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই আছে। তিনি যে বড়, একথা তিনি অনুভব করতে চেয়ে- ছিলেন। তিনি যতক্ষণ নিঃ পারসনের সঙ্গে তর্ক করছিলেন ততক্ষণ তিনি চেঁচিয়ে তাঁর প্রাধান্য প্রমাণ করছিলেন। কিন্তু যে মুহূর্তে তাঁর প্রাধান্যকে গ্রীকার করে নেওয়া হল, যে মুহূর্তে তিনি সত হলেন, এবং সহৃদয়তার সঙ্গে কথা বলতে আরম্ভ করলেন। নেপোলিয়নের প্রধান ভূত্য কনস্টান্ট প্রায়ই জোসেফিনের সঙ্গে বিলিয়ার্ড খেলত। কনস্টান্ট নেপোলিয়ন সম্পর্কীয় স্মৃতিকথায় লিখেছেন, আমার যদিও বেলায় খুবই দক্ষতা হিল-তবু আমি জোসেফিনকে শেষ পর্যন্ত জিতিয়ে দিতাম। এর ফলে তিনি তরানক মানন্দ পেতেন। কনট্রাস্টের কাছ থেকে আামাদের শিক্ষ। নেওয়া উচিত। আগুন আামরা আমাদের মক্কেল, প্রেরণী, স্বামী, স্ত্রী প্রত্যেককে সামান্য আলোচনা বা তর্কে জিতিয়ে দিই। বুদ্ধদের বলেছিলেন, গুণার সাহায্যে খুণ। কখনো মুছে ফেল। বায় না। ভুল বোঝাবুঝিও কখনও তর্ক দিয়ে যেটানে। যায় না। হৃদয় দিয়ে অন্যের দুষ্টকোণ থেকে ব্যাপারটা দেখবার চেষ্টা করা উচিত। কৌশন, কুটবুদ্ধি, বন্ধুভাবে থাকা এ সমস্তই প্রয়োজনীয়। একটি কমবয়স্ক মিলিটারী অফিসারকে লিঙ্কন একবার খুব গালাগাল দিয়ে- ছিলেন। কারণ সেই অফিসারটি তার এক সহকর্মীর সঙ্গে ভয়ানক তর্ক জুড়ে দিয়েছিলেন। লিঙ্কন বলেছিলেন, যে নিজের উন্নতির চেষ্টা করে তার কখনও ঝগড়া করবার সময় থাকে না। আর যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, বা নিজের মেজাজ ঠিক রাখতে পারে না তার পক্ষে উন্নতি করা তো আরো কঠিন ব্যাপার। কুকুরের কামড় খাবার চাইতে কুকুরকে গণ ছেড়ে দেওয়া ভাল। নইলে যে কামড়াবে। তারপর কুকুরটাকে মেরে ফেললেও তার দেওয়া কামড়টি তো আর ফেরানো যাবে না। অতএব-তর্কে জিতবার উপায় হল, তর্কে যোগ না দেওয়া।

পৃষ্ঠা:৮৬

একাদশ অধ্যায়

শত্রুতা এড়িয়ে চলবার সেরা উপায়:- যখন বিরোত্তোর কণভেল্ট প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন যদি তিনি শতকরা পঁচাত্তর তাগ ব্যাপারে ভুল না করতেন, তাহলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করতেন। এ কথা যদি একজন বিখ্যাত ব্যক্তির সম্পর্কে সত্যি হয়, তাহলে আমাদের কি অবস্থা। আপনার যদি একশো বারের মধ্যে পঞ্চানুবার ভুল না হয়, তাহলে ফটকা বাজারে গিয়ে কোটি কোটি টাকা করে, গাড়ি, বাড়ী, হাউস বোট কিনে একটি – গায়িকা মেয়েকে বিয়ে করে দুখে কাল কাটাতে পারেন। আার যখদ আপনি নিজে শতকরা পঞ্চানন্নবার ভুল করে বসেন, তখন অন্যে ভুল করনে তা নিয়ে বাকবিতণ্ডা করবেন কেন? আপনার চাউনি, গলার সুর ইত্যাদির সাহায্যেই স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া যায় অন্য লোকের ভুল হয়েছে। খার যদি আপনি কাউকে বলেন তার ভুল হয়েছে, তাহলে যে কি তা স্বীকার করে নেবে? কখনই না। কারণ আপনি তার বুদ্ধির উপর সরাসরি আঘাত করেছেন। তার গর্ব, আরশ্রদ্ধা সবই নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে যে আপনাকে আঘাত করবার জন্য প্রস্তুত হবে। কখনও একথা বলে শুরু করবেন না যে আপনি কোন জিনিস প্রমাণ করতে চাইছেন। ওতে ভাল ফল হয় না। ওটার আসন মানে দাঁড়ায় যে আমি তোমার চাইতে বেশী বুদ্ধিমান। আমি কিছু জ্ঞান দিচ্ছি-এর ফলে ভূমি যত বদলাতে বাধ্য হবে। এটা প্রায় স্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বানের সমান। এর ফলে সৃষ্ট হয় বিরোধিতার। এর ফলে যুদ্ধ আরস্ত না করলেও প্রতিপক্ষ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। অন্যের মত বদলানো বেশ কঠিন। তাকে আরো কঠিন করে নাও কি? নিজেকে নিজেই এমনি ভাবে ক্ষতিগ্রপ্ত করা কি উচিত? যদি কিছু প্রমাণ করিতেই হয়, তাহলে অন্যকে তা জানতে দিতে নেই। এমন নরম ভাবে কৌশলে তা করা প্রয়োজন যে, কেউ যাতে বুঝতে না পারে।

পৃষ্ঠা:৮৭

লর্ড চেস্টারকীল্ড তাঁর ছেলেকে বলেছিরেন, যদি অন্যের চাইতে জ্ঞানা হতে পারো তো হও, ভাল কথা কিন্তু ভাদের সেটা বলো না। কুড়ি বছর আগে আমি যা বিশ্বাস করতাম, তার সমস্তই এখন আমি বিশ্বাস- করি না-অবশ্য অঙ্ক ছাড়া। কিন্তু আইনস্টাইনের লেখা পড়ে তাও ঠিকমত বিশ্বাস হয় না। হয়তো আরো কুড়ি বছর পর এ বই-এর বক্তব্য আমি বিশ্বাস করব না। আমি নিশ্চিত ভাবে এখন আগের যত আর বলতে পারি না কিছু। এথেনসে সক্রেটিগ তাঁর শিষ্যদের বার বার বলেছেন, আমি জানি একটা জিনিস আর তা হলো আমি কিছুই জানি না। আমি সক্রেটিসের চাইতে বেশী বুদ্ধিমান হবার আশা করি না। তাই লোকদের বলি না তারা ভুল করছে। এর ফলে দেখেছি আমার উপকার হয়। যদি কোন লোক ভুল কথা কিছু বলে-সত্যিকারের ভুল, তবু এরকম তাবে শুরু করলে তাল হয় নাকি: হাঁ বটেই তো, বটেই তো, কিন্তু আমার সম্পূর্ণ অন্যরকম ধারণা ছিল। তবে আমার ভুলও হতে পারে-প্রায়ই ভুল হয়। আর যদি আবার ভুল হয়, তাহলে আমি সত্যি জিনিসটা কি জানতে চাই-দেখা যাক কি ব্যাপার। ***এতে যাদু আছে। সত্যিকারের যাদু আছে এরকম কথায়, আমার ভুলও হতে পারে-প্রায়ই ভুল হয় ইত্যাদি। পৃথিবীর কোথাও কেউ, আমার প্রায়ই ভুল হয়… দেখা যাক কি ব্যাপার এ-ধরনের কথার প্রতিবাদ করে না। একজন বৈজ্ঞানিক তাই করেন। আমি একবার ষ্টেফানসনের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। ইনি একজন মেরু অতিজানকারী। এগারো বছর তিনি মেরু-প্রদেশে কাটিয়েছেন, এবং একসঙ্গে ছ’বছর তিনি কেবল মাংস এবং জল খেয়ে বেঁচেছিবেন। তিনি একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার কথা আমাকে বলেন। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম এ পরীক্ষা করে কি প্রমাণ করতে চান? তার জবাব আমি জীবনে ভুলব না। তিনি বলেছিলেন: একজন বৈজ্ঞানিক কখনও কিছু প্রমাণ করেন না, তিনি প্রকৃত ব্যাপার খুঁজে বের করেন। আপনিও বৈজ্ঞানিক ভাবে চিন্তা করতে চান? যদি বৈজ্ঞানিক ভাবে চিন্তা করতে না পারেন, তাহলে দোষ আপনারই। যদি বলেন আপনার ভুল হতে পারে, তাহলে কখনও গোলযোগ উপস্থিত হয় না। এর ফলে তর্ক বিতর্ক খেয়ে যায়। দু’পক্ষই এতে মন খোলা রেখে সমস্য। চিন্তা করতে পারে। এর ফলে অন্য লোকটি নিজের ভুল হতে পারে বলতে চাইবে।

পৃষ্ঠা:৮৮

আপনি জানেন একজন লোক সত্যিই ভুল করছে, যদি খুব কড়া ভাবে আপনি তা তাকে বলেন তাহলে কি ফল হয়? একটি উদাহরণ দিচ্ছি: একজন নিউইয়র্কের উকিল আমেরিকার সুপ্রীম কোর্টে বিতর্ক করছিলেন। এই ব্যাপার- টায় বহু টাকা জড়িত ছিল, আর আাইনের ব্যাপারেও বেশ বড় একটা প্রশ্ন ছিল। এই তর্ক-বিতর্কের মধ্যে একজন বিচারক এই উকিলকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। একটি আইনের কথা। এই আইনের অস্তিত্ব ছিল না। উকিলটি আশ্চর্য হয়ে বিচারককে বললেন, হুজুর, সে ধরনের কোন আইন নেই। কথাটা শুনে আদালত হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেল। মনে হল হঠাৎ যেন সে ঘরের উত্তাপ কমে শূন্য ডিগ্রীতে দাঁড়িয়েছে। উকিল ঠিকই বলেছিলেন। বিচারকেরই। জুন হয়েছিলো। উকিল তাই বলেছিলেন। কিন্তু তার কবে কি তিনি সরষ্ট হয়েছিলেন? না। যদিও তিনি ঠিক মতই ওকালতি করেছিলেন এবং জিতবার কথ্য তাঁরই ছিন কিন্তু তবু সে মামলায় তিনি হেরে গিয়েছিলেন। একজন  বিখ্যাত এবং শিক্ষিত লোকের ভুল, তা দমন তাঘায় প্রকাশ করাই উকিলের ভুল হয়েছিল। খুব কম লোকই যুক্তিশাস্ত্রের নিয়ম মেনে চলেন। আমাদের মধ্যে প্রায় সবাই একচোখো বা একপেশে। আমাদের মধ্যে অনেকেই পূর্বকৃত ধারণার বশবর্তী হয়ে সত্যকে দেখবার চোখ হারাই। আমাদের মধ্যে সন্ধেয়, ভয়, গর্ব, হিংসা এ সমস্ত আছে। আমরা আমাদের মতামত পরিবর্তন করতে চাইনা, ধর্মই হোক বা সাম্যবাদই হোক আনাদের মত খুব বেশী বদলায় না। অতএব যদি আপনি লোকদের বলতে চান তারা ভুল, তাহলে জেনস হারতে রবিনসনের রেখা ‘মন গড়ার পথে’ নামক বই থেকে খানিকটা পড়ুন:

“আমাদের মন প্রায়ই বদবার-তা সবসময় আমরা বাধ্য হয়ে করি তা নয়। কিন্তু যদি কেউ বলে আমরা ভুল করেছি, তাহলে আমাদের হৃদয় শক্ত হয়ে আসে। আমাদের মনের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে ওঠে-সেগুলো ঠিক না হতে পারে, কিন্তু সেগু- ধোকে দূর করতে কিছুতেই ইচ্ছে করে না: এই বিশ্বাসওরি কিন্তু আমাদের কাছে প্রধান হয়ে উঠে না, আসলে প্রধান হয়ে উঠে আমাদের অহম ভাব। মানুষের সঙ্গে মানুষের ব্যবহারে আমার এই কথাটি সবচেরে বড় হরে দাঁড়ায়। এটা বুঝতে শুরু করলেই প্রাঞ্জ হওয়ার পথ সহজ হয়ে আসে। এর শক্তি প্রবল। আমার খাদ্য, আমার কুকুর, আমার বাড়ী, আমার দেশ, আমার বাবা, আমার ধর্ষ ইত্যাদি সমস্তগুনিই এক রকম মনে হর। কেবল তাই নয়, পৃথিবীর যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে আমাদের মতামতে কেউ ভুল রনে আমরা চটে যাই। আমরা

পৃষ্ঠা:৮৯

আরো উল্টো জেদ ধরে ববি ওগুলো সমস্তই ঠিক। এর ফলে কিন্তু আামাদের বিশ্বাসকে জোরদার করবার প্রমাণ খুজতে থাকি।” আমার ঘর সাজিয়ে দিয়েছিল একজন। সে যখন বিল পাঠিয়েছিল তা আমার কাচে প্রচুর বলে মনে হয়েছিল। সকয়েকদিন পর আমার এক বন্ধু এসে সাজানো ঘর দেখে এবং তার জন্য কত খরচ পড়েছে শুনে বললেন তোমায় লোকটা নির্ঘাৎ ঠকিয়েছে। কথাটা কি সত্যি? হয়। যতি কথাই ছিল সেটা। কিন্তু কেউ শুনতে চায় না যে কোন লোক তাকে ঠকিয়েছে। অতএব আমি বলতে আরম্ভ করলাম যে সবচেয়ে ভাল জিনিস কম দামে পাওয়া যায় না এবং সবচেরে ভাল জিনিস যাবে এক হিসেবে সবচের সম্ভ। জিনিস কোও বটে-কারণ তাল জিনিস বস্তুদিন টেকে। আারো বলেছিলানবে ভাব জিনিস এবং শিল্পবস্তুর জন্য দাম বেশী দিতেই হয়। পরদিন এবেন আর এক বন্ধু। তিনি ঘরটিকে সাজানো দেখে উৎসাহিত হয়ে উঠবেন। খুব ভাল গেলেছিল তার। এমনকি সে বলেছিল তার বাড়িটা অমন সাজানো থাকলে সে খুব ধুণী হত। কিন্তু এবার আমার মনের ভাব অন্য রকম হয়ে গেল। আমি বলবান, আসল কথা এই যে, আনি এর জন্য প্রচুর পরসা দিয়েছি। এত বড়লোকী জিনিস আমার জন্য নয়, আমি যে অমন জিনিস কিনেছি সে জন্য আমি দুঃখিত। আমরা যখন ভুল করি, তখন আমর। নিজেদের কাছে তা দ্বীকার করতে পারি। যদি আমাদের কাছে শান্তভাবে এবং ভজ্ঞতাবে কেউ জিজ্ঞেগ করে, তবে সে ভুল স্বীকারও করতে পারি। এর ফলে আমাদের সারল্য এবং উদারতা প্রকাশ হয় এবং আমরা গর্বিত হই। অন্য লোক জোর করে বোঝাতে গেলে আমরা বুঝতে চাই না। গৃহযুদ্ধের সময় হোরেন গ্রীলি ছিলেন একটি খবরের কাগজের সমপাদক। তিনি লিঙ্কনের নীতির খুব বিরোধী ছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে ক্রমাগত ঠাট ইয়াকি বিতর্কের সাহায্যে লিঙ্কনের মত বদলাতে পারবেন। তিনি মাসের পর মাস বছরের পর বছর আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলেন। এমন কি যে দিন বুখ লিঙ্কনকে গুলি করে যারে, সেদিনও তিনি লিঙ্কনের বিরুদ্ধে লেখেন। কিন্তু এ সবের ফলে কি লিঙ্কন গ্রীলির সঙ্গে একমত হয়েছিলেন? একে- বারেট না। ঠাই। এবং গালাগালে কখনও তা হয় না। মানুষের সঙ্গে ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হলে বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিনের

পৃষ্ঠা:৯০

শত্রুতা এড়িয়ে চলবার সেরা উপায়:- আন্তজীবনী পড়ুন। এ ধরনের আন্তর্জীবনী খুব কম লেখা হয়েছে। বইখানি আমেরিকান জীবনী যাহিত্যের ক্লাসিকগুনির অন্যতম। এ বইতে আছে বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন কেষন করে তর্ক করার অত্যাস পরিত্যাগ করে আমেরিকার সবচেয়ে সমর্থ কূটনীতিবিদ হতে পেরেছিলেন। যখন বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের ধরণ কম, তখন কোয়েকার বর্মী একজন বুদ্ধ তাঁকে থরে অনেকটা একথা বলেন: বেল, তোমার সঙ্গে পেরে ওঠা ভার। যে লোকেই তোমার বিরুদ্ধে, তার সম্পর্কে তোমার মত কোন সময়েই ভাল হয় না। তোমার মত এখন আর কেউ নিতে চান না। তুমি না থাকলে তোমার বন্ধু-বান্ধবেরা খুশি হয়। তুমি এত বেশী জ্ঞান যে কেউ তোমাকে কিছু শেখাতে পারেনা। কেউ তোমাকে শেখাতে চেষ্টাও করে না, করণ তার ফলে গোলমাল হতে পারে। এর ফলে তুমি যা জানে। তার চাইতে বেশী কিছু শিখতে পারবে না। আর তুমি যা জানে। তার পরিমাণ খুবই কম। বেন ফ্র্যাঙ্কলিনের অনেক ভাল গুণ হিল। তিনি যেভাবে এই গালাগাল শুনেছিলেন, তা খুবই প্রশংসার যোগ্য। তিনি জ্ঞানী এবং মহান চিলেন বলেই বুঝতে পেরেছিলেন এর সত্যতা। এর পর থেকে তাঁর মতিগতি ধরনধারণ একদম পাল্টে গেলে ফ্র্যাঙ্কলিন লিখেছেন, “আমি সোজাখুজি মতামত দেওয়া বন্ধ করলাম। এমন কি বে-সমস্ত কথায় নির্দিষ্টতা আছে, সে সমস্ত কথা আমি পরিহার করে চললান-যেনন নিশ্চয়ই, নিঃসন্দেহে ইত্যাদি কথাগুলি। এর পরিবর্তে এই কথাগুলি ব্যবহার করতে শুরু করলান-আামার মনে হয়, আমার ধারণা, এখন এরকম মনে হচ্ছে ইত্যাদি কথাগুলি। অন্য লোক যদি কোন মন্তব্য করে, আর তা যদি আমার ভুল বলে মনে হয়, তাহলে আমি তাদের আক্রমণ করার আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করি। তাঁদের মন্তব্যে চট করে ভুল না দেখিয়ে ঘুরিয়ে বরি যে, অন্য অনেক ক্ষেত্রে তার মত ঠিক হতেও পারে কিন্তু বর্তমান ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে তার মতে কিছু ভুল থাকা সম্ভব। “আনি খুব শীঘ্রই বুঝতে পারলাম, এভাবে কথাবার্ত। বললে সুবিধে হয়। এরপর থেকে কথাবার্তা বলার সময় অনেক সম্প্রীতির সৃষ্ট হত। আগের মত বাগড়। হত না। আমার বিনীতভাব দেখে খুব কমই প্রতিবাদ করত লোকে। আমার নিজের ভুল প্রকাশ পেবেও আমি কমই স্তম্ভিত হতাম। এর কলে অন্যেরা যখন জুগ করত, তখন আধার দলে নিয়ে আগতে খুব বেশি বেগ পেতে হত না।

পৃষ্ঠা:৯১

এই রকম রীতিনীতি এবং ব্যবহার আমি এমন স্বাভাবিক ভাবে আয়ত্ত করে ফেরলাম যে গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে কখনও অনড় কোন মতবাদের কথ। আমার মুগ থেকে বেরোয়নি। প্রধানতঃ এই গুণের ফলেই আমি জনসাধারণের প্রতিষ্ঠানে আমার প্রভাব বিস্তার করেছিলাম। এর জন্যই নতুন কিছু করতে চাইলে বা পুরনো কোন কিছু পরিবর্তন করতে চাইলে আমি তা অনায়াসে করতে পারতাম। যদিও বক্তা হিসাবে আমি কখনই খুব ভাল ছিলাম না। সাধারণ কথা বা বক্তৃতার সময় না পারতাম তাড়াতাড়ি বলতে, না পারতাম ঠিকমত গুছিয়ে বলতে, এমনকি ব্যাকরণও ঠিক থাকতো না আমার–কিন্তু এসব সত্বেও অপরকে আমি স্বরতে আনতে পারতাম।” ব্যবধায়ে তাঁর নীতি কি দাজে লাগে? দুটি ঘটনা পরীক্ষা করে দেখা যাক। নিউইয়র্কের এফ জে মেহন তেলের ব্যবসায়ের জন্য কিছু বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি। বিক্রি করেন। নংদ্বীপের একটি ক্রেতার কাছ থেকে তিনি একটি বড় অর্ডার পেয়ে ছিলেন। বু প্রিন্টও দেওয়া হয়েছিল এবং তার অনুমোদনও পাওয়া গিয়েছিল। বস্তুগুনি তৈরী হচ্ছিল। এর পরে এফটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল। ক্রেতার বন্ধুরা তাকে বোঝান যে, যস্ত একটা ভুল সে করছে। তাকে ডুব জিনিস দিবে ঠকানো হচ্ছে। এর নানারকম গবতি। বন্ধুদের কথাবার্তায় ক্রেতার ভয়ানক রাগ হল। মেহনকে টেলিফোনে ডেকে বললেন যে তিনি যন্ত্রপাতিগুলি কিনবেন না। মেহন বলেচেন: আনি খুব সতর্ক ভাবে সমস্ত ব্যাপারটা পরীক্ষ। করে দেখেছিলাম। কোন রকন গরতি ছিল না যন্ত্রপাতিতে। ক্রেতার বন্ধুরা যা ক্রেতাকে বলেতে তাতে মনে হয় না তারা এই যন্ত্রের ব্যাপারে বিছু জানত। কিন্তু সেকথা বলতে গেলে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা দেখে অন্য পথ নিলাম। আমি নং দ্বীপে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলাম। আমাকে দেখেই তাড়াতাড়ি কথা বলতে বলতে তিনি লাফিয়ে চেয়ার থেকে উঠে এলেন। তিনি এত উত্তে জিত হয়েছিলেন বে, কথাবার্তার মাঝে মাঝে বুমি পাকাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে এবং আমার তৈরী যন্ত্রপাতিকে নস্যাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন আমি সে ব্যাপারে কি করতে চাই। আমি তখন বললাম যে তারা যখন জিনিস কিনবেন, টাকা দেখেন তখন তাঁরা যা বলেন তাই করব। তবে কিনা কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে। যদি ডাবেন অপনারা ঠিক কথা বলছেন তাহলে আমাকে ব্লু প্রিন্ট দিন-তা থেকে যন্ত্র তৈরী করে দিচ্ছি। যে দশ হাজার টাকার যন্ত্র আমরা তৈরি করেছি সেটা ভেঙে ফেলছি। আপনাকে সন্তুষ্ট করবার জন্য ওই টাকাটা আমরা ক্ষতি সহ্য করব। কিভ আমি

পৃষ্ঠা:৯২

আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে আপনাদের পরিকরনামত যদি যন্ত্র তৈরি করি এবং সে যন্ত্র যদি না চলে তার দায়িত্ব আপনার। আর যদি আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরি যন্ত্রে কাজ না হয় তাহলে সে দায়িত্ব আমাদের। এ কথায় তিনি শান্ত হলেন। অবশেষে বললেন, ঠিক আছে, কাজ চালিয়ে যাম যদি আপনাদের যন্ত্র ঠিকমত না হয়, তাহলে ঈশ্বর আপনাকে সাহায্য করুন। যন্ত্র ঠিকই তৈরী করেছিলাম। তিনি তারপর ওই রকম আরো দুটো যন্ত্র তৈরী করার অর্ডার দিয়েছেন আমাদের। ইনি যখন বলেছিলেন শুষি বাকিয়ে যে, আমার কাজ আমি জানি না, তখন আমার শান্তভাব বজায় রাখবার জন্য কম কষ্ট করতে হয়নি। এর জন্য যথেষ্ট মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়েছিল আমার তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে, কিন্তু এর ফল হয়েছিল ভাল। আমি যদি বলতে শুরু করতাম, ক্রেতা ভুল কথা বলছেন তাহলে তর্ক ও যগড়। বেড়ে যেত, এবং আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও হয়তো আদালতেও যেতে হত। একজন ক্রেতা তা হদে আমাকে হারাতে হত। আমি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত যে একজন লোক ভুল, সে কথা বললে কোন কাজ হয় না। আর একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। মনে রাখবেন এ সমস্ত ঘটনা কেবল যে একজনের পক্ষেই খাটে তা নয়। একটি কাঠের কোম্পানীর।বক্রেতা হিষ্টার জলিকে কাঠ পরিদর্শকদের সঙ্গে কারবার করতে হত। পরিদর্শকের। প্রায়ই ভুল করতেন এধা চিষ্টার ফলি প্রায়ই সে স্কুল দেখিয়ে দিতেন। কিন্তু ভুল প্রমাণ হলেও পরিদর্শকেরা একবার যে যত প্রকাশ করেছেন, তা সহজে পরিবর্তন করতেন না। মিষ্টার কবি দেখছিলেন ঋণগড়া এবং তর্ক করে জিতেও কিন্তু কোম্পানীর হাজার হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছিল। অতএব ঝাগড়া না করে তিনি আনার উপদেশ অনুসারে অন্য উপায় গ্রহণ করলেন। এয় ফনে কি হন। তিনি বলেছিলেন: একদিন আমার অফিসের টেলিফোন বেজে উঠল। একজন লোক খুব গরম হরে বলছিলেন একগাড়ি কাঠ যা পাঠানো হবেতে, তা মোটেই ডাল নন, তাঁরা সে কাঠ দেবেন না, অতএব আহি যেন সে কাঠ ফিরিয়ে নিষ্ট। গাড়ি থেকে সিকি পরিমাণ কাঠ নামানোর পর তাদের পরিদর্শক বলেছিলেন যেই কাঠ গতি বাজে। আমি তৎক্ষণাৎ সেই কারখানায় পৌন্ডুলাষ। যাবার সময় মনে যনে ভেবে নিলাম কি উপায়ে সমস্যাকে ডাল তাবে কাটানো যায়। সাধারণ অবস্থা হলে তাঁকে প্রমাণ করে দিতাম যে, কাঠ ঠিকই আছে, পরিদর্শকই ভুল করেছেন। এবং পরিদর্শনের আইনকে সোজাসুজি প্রয়োগ না করে বুরিয়ে প্রয়োগ করছেন। কিন্তু আমি স্থির করলাম নতুন উপায় যা শিখেছি তা প্রয়োগ করে দেখন।

পৃষ্ঠা:৯৩

আমি কারখানায় পৌঁছে দেখি কারণানার মালিক এবং পরিদর্শক দুজনেই বেশ চটে রয়েছেন। যুদ্ধের জন্য তাঁরা প্রস্তুত। আমি সেখানে গাড়ির কাছে গিয়ে কাঠ নামানো দেখতে লাগলাম এবং বললাম, কি ভাবে ওখানে কাজ হচ্ছে তা আমি দেখতে চাই। আনি পরিদর্শককে বললাম, যে কাঠগুলি অমনোনীত হচ্ছে, সেইগুলিকে একদিকে রাখতে আর মনোনীতগুলি অন্য দিকে এক গাদায় রাখতে। খানিকক্ষণ পরিদর্শকের কাজ করার পদ্ধতি দেখেই বুধাদান, তিনি অতিরিঞ্চ কড়া ভাবে নিয়মগুলি মেনে চলছেন এবং সবগুলি নিচয়েয় যথার্থ ব্যবহারও করছিলেন না। এই কাঠের নাম সাদ। পাইন। আমি জানতাম পরিদর্শক মশাই- এর শক্ত কাঠ সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান ছিল, কিন্তু সাদা পাটন সম্বন্ধে জ্ঞান ছিল সীমাবদ্ধ। সাদা পাইন সম্পর্কে আমি বেশ ভাল ভাবেই জানতাম। কিন্তু তাই বলে কি তিনি যে ভাবে কাঠ বাছছিলেন, তার বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলাম? না। আমি দেখতে দেখতে প্রশ্ন করছিলাম কেন একটি বিশেষ কাঠ ঠিক হয় নি। এক মুহূর্তের জন্যও আমি আতাস মাত্র দিইনি যে, পরিদর্শক ভুল করছিলেন। আমি বলেছিলাম ওভাবে আমার জিজ্ঞেস করবার কারণ এই ছিল যে ভবিষ্যতে সেরকম খারাপ কাঠ যাতে না পাঠানো যায়, সে বিষয়ে সাহাব্য হবে। তাঁকে প্রশ্ন করছিলাম আবি বন্ধুভাবে, সহযোগিতার সুরে। সব সময়েই আমি কিন্তু বলছিলাম, যে কাঠ তাঁদের প্রয়োজনে আসবে না, সেগুলো ফেবৎ দেওরার অধিকার তাঁদের আছে। এই ভাবে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর আমাদের মধ্যেকার অপ্রিয় তাবটি অন্তর্হিত হয়ে গেল। এর পর সামান্য একটু- আধটুকু সবস্ত্র মন্তব্যের ফলে পরিদর্শক এটা বুঝলেন যে তারা যে ধরনের কাঠ চাইছিলেন সে ধরনের কাঠের দাম বেশী, এই দামে তা পাওয়া যায় না। আমি খুব সতর্ক ছিলাম। আমি ঘুণাক্ষরেও উল্লেখ করিনি যে তাঁরা ভুল অর্ডার দিয়েছিল। আস্তে আস্তে তাঁর সমস্ত তাবতঙ্গী বদলে গেল। অবশেষে তিনি নিজেই বললেন যে সাদা পাইন সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান সীমাবদ্ধ। তিনি নিজেই আমাকে কাঠ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন। আমি বলতে লাগলাম যে তাঁরা যা চেরেছিলেন তাই পেয়েছেন, তবে যদি সে কাঠ তাঁদের কাজে না লাগে তাহলে “আহি তা ফেরত নিতে রাজি আছি। শেষ পর্যন্ত এমন তাঁর অবস্থা হল গে লাভবার তিনি কাঠ খারাপ কথাটা বলেছেন ততবারই তিনি নিজেকে দোষী বনে করেছিলেন। অবশেষে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, যে ধরনের কাঠ তাঁদের প্রয়োজন ছিল, সে ধরনের কাঠের অর্ডার তাঁরা দেননি।

পৃষ্ঠা:৯৪

শেষ পর্যন্ত এই হল যে, আমি চলে আসবার পর তিনি সমস্ত কাঠ আবার দেখেছিলেন, তার সমস্তটাই নিয়েছিলেন এবং আমাদের কাছে সম্পূর্ণ মুল্যের চেক পাঠিরে দিয়েছিলেন। মাত্র ওই একটি ঘটনার আমার কোম্পানীর নগদ সাড়ে সাতশ’ টাকা লাভ হয়েছিল, তা ছাড়া এর ফলে যে আমাদের উপর আস্থা তাঁরা ফিরে পেয়েছিলেন, টাকা পয়সায় তাঁর দামের কোন হিসেব হয় না। আমি কিন্তু এই অধ্যায়ে নতুন কিছুই বলিনি। উনিশশো বছর আগে যীশু বলেছিলেন: তোমার শত্রুর সঙ্গে চট করে এক মত হও। অন্য কথায় বলতে গেলে আপনার মক্কেলের সঙ্গে কিম্বা আপনার স্বামী বা শত্রুর সঙ্গে তর্ক বিতর্ক করবেন না। বলবেন না তিনি ভুল করেছেন। কৌশলী হন। যীশুর জন্মের ২২০০ বছর আগে ইজিপ্টের বৃদ্ধ রাজা আাগোটি তাঁর ছেলেকে একটি খুলর উপদেশ দিয়েছিলেন। এই উপদেশ আজকান আরো বেশী প্রয়োজন। মদ খেতে খেতে চার হাজার বছর আগে বৃদ্ধ আখোটি তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন: কৌশলী হও-এর ফলে তোমার সুবিধে হবে। লোককে নিজের হতে যানতে হলে নিয়ম হল: অধ্য লোকের মতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখান। কখনো কাউকে বলবেননা তার ভুল হয়েছে।

পৃষ্ঠা:৯৫

দ্বাদশ অধ্যায়

যদি ভুল করে থাকেন তবে তা স্বীকার করুন:- আমি বৃহত্তর নিউইয়র্কের প্রায় মাঝামাঝি স্থানে বাস করি। কিন্তু তা সত্ত্বেও গ্রামাব বাড়ী থেকে মাত্র এক মিনিটের দূরত্বে রয়েছে বিরাট এক জঙ্গল। এখানে কাঠ।বড়ালিয়া খেলা করে, যাস মানুদের মাথা সমান লম্বা হয়। এটা জঙ্গল হিসেবেই রাখা আছে। মাঝে যাবে আমি আমার কুকুর রেক্সকে নিয়ে এগানে বেড়াতে আসি। এখানে লোকজন প্রায় থাকে না বলে আমি তার শেকল খুবে দিই। রেক্স কাউকে কামড়ায় না। একদিন এই অবস্থায় দেখা হয়ে গেল পুলিসের সঙ্গে। এই পুলিনটি নিজের ক্ষমতা দেখাতে চেয়েছিল।সে বলেছিল: এই কুকুরটাকে এমন ভাবে ছেড়ে রাখাবার মানে কি? এটা বে-আইনী সে জ্ঞান আপনার আছে? আমি নরম ভাবে বললাম, হ্যাঁ, আমি জানি, কিন্তু আমার মনে হয়নি যে, এই কুকুরটা কাউকে ক্ষতি করবে। পুলিশ : আপনি ভাবেননি। অ্যা-আপনি ভাবেননি। ওকথা বরলে আইন তা শুনবে কেন? কুকুরটি একাটি খরগোশ মারতে পারে, ছেলে-পিনেকে কামড়াতে পারে। আজকের মত আপনাকে ছেড়ে দিলাম, কিন্তু ভবিষ্যতে যদি এ কুকুরের গলায় চেন আর মুখে মুখোশ না থাকে তাহলে আর ছাড়ব না। তখন আদালতে উত্তর দিতে হবে। আমি তাঁর আদেশ পালন করতে রাজি হলাম। আদেশ পালন আমি করেছিলাম-যাত্র কয়েকবার। কিন্তু রেক্স তার মুখোশ এবং শেফন পড়শ করত না-আমারও খুব পছন্দ হত না। তাই কুকুর- টাকে ছেড়ে দিয়েছিলাম-ভেবেছিলাম পুলিসের সঙ্গে হয়তো দেখ। হবে না। কিন্তু সে আশায় বালি পড়ল, একদিন কুকুটিকে নিয়ে বেড়াচ্ছি, এমন সময় সেই পুলিসের সঙ্গে আমার দেখা। ভাবলাম এবার আর ছাড়। পাবার কোন উপায় নেই। তাই বললাম, পুলিস মশায়, আমার অন্যায় হয়ে ছেছে। গত সপ্তাহে আপনি আমাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন, বলেছিলেন এবার জরিমানা দিতে হবে আমাবে-আবি আপনার কথা শুনিনি।

পৃষ্ঠা:৯৬

যদি ভুল করে থাকেন তবে তা স্বীকার করুন:- পুলিশের স্বর বেশ কোমল হয়ে এসেছে। পুলিশ মশাই বললেন, ছোট একটি কুকুরকে নির্জন জায়গায় ঢেঙে দিতে ইঞ্চে হওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়। আমি বললাম, তা ঢোক, কিন্তু এ কাঠবিড়ালকে যেগে ফেলতে পারে। পুলিশ হশাই বললেন, অত চিন্তা করবেন না সামান্য ব্যাপার নিয়ে। আমি একে ধরব না-কিন্তু আমার কাছ থেকে অনেক দূরে একে নিয়ে যান, যেখানে আমার চোখ না বাহ। পুলিশটি মানুষ বন্ধেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ববোৰ চেয়েছিল। বখন তিনি তা পেলেন তখন তার মনের ভাব বদলে গেল। তিনি দয়ালু হয়ে আমাকে মাফ করবেন। কিন্তু আনি যদি পুলিশটির সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু করতাম তা হলে কি হত? পুলিশের সঙ্গে কেউ তর্ক করে নাকি? তাই যুদ্ধ না করে প্রথমেই আমি বললাম তিনি নির্ভুল, আমারই যত দোষ আমি তাড়াতাড়ি খোলাখুলিভাবে তা স্বীকার করলাম, আমি তার পকে কথা বরতে এবং তিনি আমার পক্ষে কথা বলাতে ব্যাপাটা সুন্দর ভাবে ঢুকে গেল। অথচ এই পুলিশটি গত সপ্তাহে আমাকে আইনের ভয় দেখাচ্ছিলেন। এরকম অবস্থার অন্যের বলবার আগেই দোয় স্বীকার করা ভাল নয় কি? অন্যের গালাগালের চাইতে নিজের দোষ নিজের মুখে শোনা ভাল। অন্যলোকে যা আপনার সম্পর্কে বরতে চায়-বে কোন গালাগাল, তা যদি আপনি নিজেই বলতে থাকেন, তা হলে অপর লোক হততত্ব হয়ে পড়বে। যা বলবার তা বলতে পারবে না। একশে। বারের মধ্যে নিরানব্বই বারই এই উপায়ে কাজ হয়। একজন কমাশিয়ান আর্টস্টের অতিজ্ঞতাও তাই। তিনি খারাপ যেজাজের ক্রেতাকে এই উপায়ে ঠাণ্ডা করতেন। তিনি বলেছিলেন, বিজ্ঞাপনের এবং বই-এর জন্য ছবিগুলি সঠিক হওয়া চাই। কিন্তু কোন কোন সম্পাদক এমন তাড়াতাড়ি কাজ চান যে, একটু আধটু ভুল মাঝে মাঝে হয়ে যায়। আমি একজন চিত্র সম্পাদককে চিনি-তিনি সামান্য ত্রুটিতেই বিরাট চেঁচামেচি শুরু করতেন। আমি অনেকবার তাঁর ধর থেকে রেগে বেরিয়ে এসেছি তার সমালোচনার জন্য নয়, তিনি যে ভাবে সমালোচন। করতেন যে জন্য। সম্প্রতি আমি তাড়াতাড়ি একাটা কাজ করে তাঁকে দিয়ে আসবার পরই তিনি আমাকে তৎক্ষণাৎ তাঁর সঙ্গে দেখা করবার জন্য টেলিফোন করলেন। আমি যখন তাঁর অফিসে গেলাম, তখন দেখি যা ভেবেছি তাই ঘটেছে।

পৃষ্ঠা:৯৭

ভড়কে গেলাম। তিনি খুব জঘন্য ভাদে সমালোচনা করার সুযোগ পেরেছিলেন। তিনি আমার কাছে কৈফিয়ত দাবী করলেন, কেন অমন ভুল হয়? আমার বর্মন কথ। ববার সুযোগ এন, তখন আমি আল্পসমালোচনা শুরু করলাম। আমি বললান মশাই আপনি যা বলছেন তা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমার বিরাট অন্যার হয়ে গেছে এবং কোনরকম কৈফিয়ত এর নেই; আমি আপনার জন্য বহুদিন কাজ করছি এবং আমার বুঝেসুঝে কাজ করা উচিৎ ছিল। তিনি তৎক্ষণাৎ আমাকে সমর্থন করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন হাঁ। ভুল হয়েছে বটে-তবে এরকম ভুল হর। খুব বড় ভুল এটা নয়। আমি বাধা দিয়ে বললাম বড় ভুল হোক, ছোট ভুল হোব-এ ভুল তো বটে। তা ছাড়া এর ফলে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, মন খারাপ হতে পারে। তিনি যতবারই কথা বনতে চেষ্টা করতে লাগবেন, ততবারই আমি বাধ্য দিতে লাগলাম, এবং কাজের বিরুদ্ধে বলতে লাগলাণ। জীবনে এই প্রথম আমার নিজের সমালোচনা করছিলান এবং করে আনন্দ পাচিছলাম। আমি বলতে লাগলাম, আপনি মামাকে কত কাজ দেন। আমার মাবো যন্ত্র নেওয়া উচিৎ ছিল। আমি এই ড্রইংটি আবার করে দিচিহ্ন। তিনি বাধ্য দিয়ে বললেন,না না। আপনাকে অত কষ্ট দিতে আমি চাই না। তিনি আমার কাজের প্রশংসা করলেন। তিনি আমাকে বললেন যে, অল্প একটু পরিবর্তন করলেই চলবে। কোন রকম টাকা দত্ত দিতে হয়নি। জন্য দুশ্চিন্তার কোন প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া ঐটুকু জুনের জন্য কোম্পানীর আর তা ছাড়া এত সামান্য ভুল-এর নিজেকে সমালোচনা করাতে তাঁর বুদ্ধের সমস্ত ক্ষমতা চলে গেল। এর- পর তিনি লাঞ্চে নেমতন্ন করলেন। কেবল তাই নর-জামাকে প্রাপ্য টাকা দিলেন এবং আরো কতকগুলি কাজও দিলেন। যে কোন বোকাই তার তুলকে তুল বনে অঙ্গীকার করতে পারে-এবং বোকারা তা করেও। কিন্তু যে তুর স্বীকার করে, তার মহত্ব বেশী প্রমাণিত হয়। তার মাথা নীচু হয় না তাতে, উচুই হয়। ইতিহাসে রবার্ট লী-এর কথা আছে। একটি যুদ্ধে হিসেবের ভুল হয়োইন-তিনি যে দোষ নিজে নেন। এই যুদ্ধে একটি বোকামির ফলে গৃহবুদ্ধের সময় উত্তরের সেনাবাহিনীর প্রায় পাঁচ হাজার সৈন্যের মৃত্যু হয়। নী এই বটনার হৃদড়ে পড়েন, তিনি পদত্যাগপত্র পেশ করেন। তিনি বলেন তাঁর চাইতে কম বয়স্ক এবং উপযুক্ত কোন লোককে সেনাবাহিনীর জেনারেল নিযুক্ত করা হোক। দোষ যদিও তাঁর নিজের

পৃষ্ঠা:৯৮

ছিল না সবটা। নানা রকম ভুর হয়েছিল নানা জনের। কিন্তু তিনি মহৎ ছিলেন বলেই অন্য কাউকে দোষারোপ করেননি। তিনি লিখেছিলেন, ‘এ বুদ্ধের পরাজয়ের জন্য একমাত্র আমিই দাবী-আর কেউ নয়। ইতিহাসে এমন জেনারেলের উদাহরণ কম যেরে। এনবার্ট হার্বার্ডের লেখা ছিল ক্ষুরবার। সমস্ত দেশ তাঁর লেখা পড়ে চড়ন হয়ে উঠত। কিন্তু তিনি এমন সুন্দর ভাবে লোকদের সঙ্গে ব্যবহার করতেন যে, শত্রুও বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে উঠত। কোন লোক যদি তাঁর কোন বেথাকে গালাগালি করে চিঠি লিখত, তখন তিনি এই ধরনের উত্তর দিতেনঃ চিন্তা করে দেখলাম এই লেখার সঙ্গে আমারও যত খুব যে মেলে তা নয়। কার যা লিখেছিলাম তার সঙ্গে আজ আমার সবটা মত বেলে না। আমি এ ভেবে খুশী যে, আপনি এই বিষয় সম্পর্কে ভেবেছেন। এর পরে যখন এদিকে আসবেন, তখন একবার আমাদের এখানে আসবেন, তখন সাক্ষাতে ব্যাপারটা নিয়ে বেশ আলোচনা করা যাবে। ইতিমধ্যে আমি আমার হাত দূর থেকেও আপনার সঙ্গে যুক্ত করছি।

ইতি আপনার……:- এমন লোককে কি কিছু বলা যায়। আমরা যখন সঠিক, তখন ভদ্রভাবে, কৌশলে অন্যদের নিজের মতে বিশ্বাসী করাতে হয়। আর আমরা বখন ভুল করি এই ব্যাপারটাই বেশিবার ঘটে জীবনে-তখন তাড়াতাড়ি সে ভুল আগ্রহের সঙ্গে স্বীকার করা উচিত। ওই কৌশলে কেবল যে ফল ভাল হবে তা নয়, বিশ্বাস করুন বা না করুন, এর ফলে আনলও বেশী পাবেন। নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার চাইতে ভুল প্রমাণ করচ ভাল, এবং সহজ-যদি ভুল সত্যি হয়। পুরারো প্রবাদটি মনে রাখবেন: যুদ্ধ করলে কখনই বেশী পাওয়া যায় না। নরম হলে যতখানি চেয়েছিলেন, তার চাইতেও বেশী পাবেন। যদি ভুল করেন তাহলে চট করে জোরের সঙ্গে তা স্বীকার করুন।

পৃষ্ঠা:৯৯

ত্রয়োদশ অধ্যায়

শুভবুদ্ধির পথে:- আপনি চটে গেলে অনাকে দু-এক কথা শুনিয়ে দেন এবং তাতে আপনার হনের ভার লাঘব হয়। কিন্তু তার ফলে অন্য লোকটির কি হয়? আপনার মত তার মনের তার কি লাঘব হয়? আপনার শত্রুভাবাপন্ন কথাবার্তা, হাবভাবের ফলে কি অন্যে আপনার সঙ্গে একমত হতে পারে? উড্রো উইলসন বলেছিলেন, আমার কাছে ভুমি পাকিরে এনে, আমিও ছেড়ে কথা কইব না। কিন্তু আমার কাছে এলে বদি কেউ বলে আসুন, বসে আলোচনা করা যাক, কি সমস্যা কি বা তার প্রতিকার কোন ব্যাপারে আমাদের বিরোধ- ইত্যাদি; তখন দেখা যাবে আমাদের মধ্যে বিরোধ যা আছে তার পরিমাণ অতি অল্প। দেখা যাবে আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একমত। আর যদি দেখা যার, আমাদের একত্র হবার ইচ্ছে আছে-ভুল স্বীকার করবার ক্ষমতা আছে, তাহলে সহজেই তা হতে পারে। একথার সত্যতা জন ডি রকিফেলার ১৯১৫ সালে বুঝতে পেরেছিলেন। কলোরাডোতে তাঁর মত ঘৃণ্য লোক আর কেউ তখন ছিল না। তখন দু’বছর খরে চলেছে এক রক্তাক্ত ধর্মঘট। কলোরাডোর খনির শ্রমিকরা চাইছিল আরো মজুরী। রকিফেলার ছিলেন সেই কোম্পানীর পরিচালক। সেখানে অনেক সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছিল-এমন গোলমান চলেছিল যে সৈন্য ডাকতে হয়েছিল। ধর্মঘটকারীদের দেহ গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে যখন সমস্ত আবহাওয়া খুণার হরেছিল বিষাক্ত, রকিফেলার স্থির করেছিলেন, ধর্মঘটকারীদের তাঁর নিজের মতে টেনে জানবেন। এবং এনেও ছিলেন। কেমন করে? ঘটনাটা বলছি। কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধুত্ব করবার পর রকিফেলার ধর্মঘটিদের নেতাদের কাছে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। এই বক্তৃতার পুরোটাই একটি আশ্চর্য স্বষ্ট। রকিফেলারের চারিদিকে খুবার প্রাচীর এর-ফলে দূর হয়ে গিয়েছিল। এই বক্তৃতার ফলে তাঁর বেশ কিছু ভক্ত জুটে গেল। তিনি সমস্ত ঘটনাবলী এমন বস্তুভাবে বলেছিলেন বে ধর্ষণটকারীরা দ্বিরুক্তি না করে, মাইদে না বাড়। সত্ত্বেও কাজ করতে গিয়েছিল।

পৃষ্ঠা:১০০

সেই বক্তৃতার গৌড়াটা এখানে উদ্ধার করেছি। দেখুন কেমন আস্তে আস্তে বন্ধুত্বের আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে এ থেকে এখানে মনে রাখতে হবে কিছুদিন আগেই তাঁর শ্রোতাবা একটি টক আপেল গাছে তাঁকে ফাঁসি দিতে চেয়েছিলেন। অথচ তাঁর বক্তৃতা শুনে মনে হয়েছিল তিনি স্বেচ্ছাসেবক ডাক্তারদের সভার কথা বলছেন। তাঁর বক্তৃতার মধ্যেকার কথাগুলি মনে বেশ আনন্দ এনে দেয়-যেমন, এখানে আসার জন্য আমি গর্ব অনুভব করছি। আপনাদের বাড়িতে গিয়ে, আপনাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা- দের সঙ্গে কথা বলে এখন আমি আর অপরিচিত লোক হিসেবে এখানে আসিনি, আমি এসেছি বন্ধু হিসেবে। পারস্পরিক বন্ধুত্ব সাধারণ স্বার্থ এবং আপনাদের কুপায় আমি এখানে এসেছি। রকিফেলার বলেছিলেন, আমার জীবনের এ এক সারণীয় দিন। এই কারখা- নাও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে একত্রে দেখা করবার সুযোগ এই আমার প্রথম হল। এটি একটি বিবাট প্রতিষ্ঠান। আমার একথা চিরকাল মনে থাকবে। দু’সপ্তায় আগে যদি এ সভা হত, তাহলে আপনাদের অনেককেই আমি চিনতে পারতাম না। হরতো দু’ একটি মুখ দেখে চিনতে পারতাম। করবাবনির দক্ষিণ দিকের সমস্ত তাঁবুগুলো আমি ঘুরেছি, প্রায় প্রত্যেক নেতার সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি। কয়েকজন যাঁরা সেখানে ছিলেন না, তাঁদের সঙ্গে অবশ্য দেখা হয়নি। বাঁদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে কথাবার্তা হয়েছে। আপনাদের স্ত্রী-পুত্র কন্যাদের সঙ্গে কথা বলে, এখন আমি আর অপরিচিত লোক হিসেবে এখানে আসেনি। আমি এসেছি বন্ধু হিসেবে। পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সাধারণ স্বার্থ এবং আপনাদের কৃপায় আমি এখানে এসেছি। এই সভাটি কোম্পানীর অফিসারদের এবং শ্রমিক নেতাদের-অথচ আমি শ্রমিক নেতাও নই, কোম্পানীর অফিসারও নই। অতএব আপনাদের করুণাতেই আমার এখানে অবস্থান। আমার অবশ্য গতীরভাবে মনে হয়, আমি আপনাদের সঙ্গে বিশেষভাবেই সংশ্লিষ্ট-এক হিসেবে আমি ডিরেক্টর এবং শেয়ার হোল্ডার

-এই দুই দলেরই লোক আমি। শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবার এ এক আশ্চর্য উদাহরণ নয়? মনে করুন যদি রকিফেলার অন্যভাবে কথা বলতেন। কিম্বা তিনি খনির শ্রমিকদের সঙ্গে তর্ক করতেন এবং আসল ঘটনা তাঁদের চেঁচিয়ে বলতেন। যদি তিনি তাঁর হুরে এবং কথার মারপ্যাঁচে বুঝিয়ে দিতেন খনির শ্রমিকরা ভুল। যদি

পৃষ্ঠা ১০১ থেকে ১২০

পৃষ্ঠা:১০১

সমস্ত যুক্তিশাস্ত্র অনুযায়ী তিনি তাঁদের ভুল প্রমাণ করতেন, তাহলে কি হত? এর ফলে কি ঘটতে পারত? লোকে আরো চটে যেত, আবো ঘৃণার ততি হত আবহাওয়া-আরো বিদ্রোহ দেখা দিত। যদি কোন লোকের হৃদয়ের তার ছি”ড়ে গিয়ে থাকে, আপনার প্রতি যদি কোন রকম ভাল ধারণা না থাকে, তাহলে কেবল যুক্তিশাস্ত্র দিয়ে তাকে আপনার করে নেওয়া যায় না। যে সযন্ত পিতামাতা ধমক দেয় ছেলেমেয়েদের, যে সমস্ত মালিক এবং স্বামী শাসন করেন, যে সমস্ত স্ত্রী ঘ্যানর ঘ্যানর করেন তাদের মনে রাখা উচিত যে. লোকেরা তাদের ধারণা বদলাতে চায় না। তাদের জোর করে বশে আনা যায় না। কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ ভদ্র ব্যবহার করলে সম্ভবতঃ আপনাদের কথা শুনবেব।

একই কথা লিখন বলেছিলেন প্রার একশ্যে বাহুর আগে। কথাগুলি এই: কথায় আছে এক বালতি তেতো জিনিসে যত মাছি এসে বসবে, তার চাইতে অনেক বেশী মাছি এক ফোটা মধুর ওপর এসে ভীড় করবে। মানুষদেরও তাই হয়। যদি আপনার মতে কাউকে আনতে চান তাহলে আগে প্রমাণ করুন যে, আপনি তার আন্তরিক বন্ধুঃ সেটাই হল এক ফোটা মধু। তার হৃদয়ে পৌঁছবার ঐ একমাত্র উপায়। ব্যবসায়ীরাও বুঝতে পারছেন যে, ধর্মঘটীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করাই বেশী লাভজনক। উদাহরণ স্বরূপ বলা যাব যে, একটি মোটর গাড়ির প্রতিষ্ঠানে বর্ষন আড়াই হাজার লোক মাইনে বৃদ্ধির দাবীতে বর্মঘট করে-তখন প্রতি- জানের প্রেসিডেন্ট কিন্তু তাদের এই দাবীকে অত্যাচার বা কমিউনিস্টের কাজ বলে গালাগাল দেননি। তিনি ধর্মঘটিদের আসলে প্রশংসাই করেছিলেন। তিনি ক্লীবল্যান্ডের খবরের কাগজগুলিতে তাদের প্রশংসা করেছিলেন, কারণ তারা শাস্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘট করেছিলেন। যে সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকেরা কারখানার দরজার পাহারা দিত, তাদের কাজ নেই দেখে তিনি তাদের খেলার সরঞ্জাম কিনে দিয়েছিলেন। খোলা জায়গায় ধর্মঘটীরা খেলত।

প্রেসিডেন্টের এই বন্ধুত্বের ফলে যা হল তা সচরাচর বান্ধুভাবাপন্ন হলে ঘটে- তা হল এই যে তিনি বর্ষবচীদের মধ্যেও বন্ধু গেলেন। ধর্মবচীরা কারণানা পাই- স্কার করতে শুরু করল। দেখুন অবস্থাটা-এই ধর্মঘটীরা বেশী মাইনে এবং

পৃষ্ঠা:১০২

ইউনিয়ন দাবী করছে এখন তারাই সে কারখানা পরিষ্কার করছে। আমেরিকার শ্রমিক ধর্মঘটের ইতিহাসে এমন কাণ্ড আর শোনা যায়নি। ঐ বর্ষবট তারপর -এক সপ্তাহের বেশী চলেনি। বিশ্বেষ মনোডার কোন পক্ষেরই হিল না মড্যানিয়েল ওয়েবস্টার দেখতে ছিলেন দেবতার যতো, তাঁর ওকারতিও হিব নির্ভুল অথচ তার খুব শক্তিশালী ওকালতির পরও তিনি একথা যোগ করতেন, অবশ্য, জুরীরা এ ব্যাপারে বিচার করবেন, অথবা ভদ্রমহোদয়গণ হয়তো এই ব্যাপারটা ভেবে দেখলে সুবিধে হয়, কিম্বা, এই যে কতকগুলি ব্যাপার আপনাদের বেয়াল থাকবে আশা করি। আপনাদের মানব চরিত্রে অসাধারণ জ্ঞান। আপনারা এই ঘটনাগুলির গুরুত্ব সহজেই বুঝতে পারেন। এর ফলে তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন। ঘোর নয় বাড়াবাড়ি করা নয়। অন্য লোফের প্রতি জোর করে কোন হস্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়। ওয়েবটার সর্বদা আস্তে কথা বলতেন, বন্ধুর হত ব্যবহার করতেন, এর ফলে তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন।

আপনাকে ধরতো কখনও একটি ধর্মঘটের নিষ্পত্তি করবার জন্য ডাক পড়বে না, বা জুরীদের সম্বোধনও করতে হবেনা-কিন্তু হরতো আাপনি আপনার বাড়িভাড়া কমাতে চান। বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করলে কি কিছু নাত হবে? দেখা যাক। টুউিব একজন ইঞ্জিনিয়ার-তিনি তাঁর ভাড়া কমাতে চেয়েছিলেন। তিনি জানতেন তাঁর বাড়িওয়ালা বেশ শক্ত লোক। স্ট্রাউব বলেছেন, আমি বাড়ি ছাড়বার নোটিশ দিয়েছিলাম-আমি লিখেছিলাম যে, লীজ শেষ হয়ে গেলেই বাড়ি ছেড়ে দেব। সত্যি কথাটা এই যে আমি বাড়ি ছাড়তে চাইনি। তাড়া কমালে আমি থেকে যাব এই ইচ্ছে ছিল। কিন্তু মনে হল না তা আর সম্ভব হবে। অন্য অনেক ভাড়াটে চেষ্টা করেছিল ভাড়া কাতে, কিন্তু পারে নি। প্রত্যেকেই আমাকে বলেছিলেন যে, ঐ বাড়িওয়ারার সঙ্গে কথাবার্তা বলা শক্ত ব্যাপার। আমি নিজেকে বলেছিলাম, অন্যের উপর প্রতিপত্তি লাভ সম্পর্কে আমি লেখাপড়া করেছি-দেখি সে উপায়গুলি কাজে লাগিয়ে, কি ফল হয়।

আমার চিঠি পাওরা মাত্রই তিনি এবং সেক্রেটারী আমার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। আমি বেশ সহৃদয়তার সঙ্গে তাঁদের দেখামাত্র অভিবাদন করলাম। আমি আগ্রহ এবং সহৃদয়তার যেন বুদ্বুদ্ধ ওড়াতে লাগলাম। খানি ভাড়া দেশী সেকথা উল্লেখই করিনি প্রথমে। আমি কেবল বলতে লাগলাম যে, বাড়িটা আমার কত ভাল লাগে। বিশ্বাস করুন আমি খুব প্রশংসা করেছিলান বাড়িটার- এবং আন্তরিক ভাবেই আমি ও। করেছিলান। আমি বলেছিলাম, তিনি যে –

পৃষ্ঠা:১০৩

ভাবে বাড়ি দেখাশুনা করেন, তা খুবই সুন্দর-এবং আবার এক বছর যদিও থাকবার ইচ্ছে, কিন্তু যত তাড়া দেওয়ার সামখ্য আমার নেই। মনে হলো বাড়িওয়ালা কোন ভাড়াটের কাছ থেকে এমন সম্বর্ধনা পাননি। তিনি প্রথমটা একটু হকচকিয়ে গেলেন। তখন তিনি তাঁর সমস্ত অসুবিধার কক বলতে শুরু করলেন। কত রকম সব ভাড়াটে থাকে, কেবলি তারা অভিযোগ জানান। একজন তাঁকে চৌদ্দটি চিঠি লিখেছে-তার মধ্যে কয়েকটি বেশ অপমানজনক ভাষার লেখা। একজন লিখেছে তার উপরের তলায় একজনের নাক ঢাকা যদি আমি বন্ধ না করি তাহলে সে বাড়ি ছেড়ে দেবে। তিনি বললেন আপনার মত একজন সন্তুষ্ট ভাড়াটে পাওয়া যে কি আরামের। তারপর আমি কিছু না বলতেই তিনি সামান্য জড়া কমাতে রাজি হলেন। আমি তখন বললাম কত ভাড়া আনি দিতে পারি-তঃ আামি বললাম তাঁকে। তিনি দ্বিরুক্তি না করে সেই তাড়াতেই আমাকে থাকতে দিতে রাজি হলেন। তিনি যখন আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ পেছন ফিরে আমাকে বললেন, আপনার ঘর কেমন করে সাজানো হলে খুশি হন আমি নিশ্চিত যে অন্য ভাড়াটেরা যে উপারে ভাড়া কমানোর চেষ্টা করেছিলেন সেরকম ভাবে আমি যদি চেষ্টা করতাম, তাহলে আমার অবস্থাও তাঁদের চাইতে জ্ঞার কিছু হত না। বন্ধুত্বপূর্ণ, সহৃদর এবং প্রশংসাপূর্ণ কথাবার্তার ফলেই আমার তাড়া করানো সম্ভব হয়েছিল। আর একটি উদাহরণ দিচ্ছিঃ একটি মহিলার কথা বলছি এবার। লং দ্বীপের সামাজিক আসরে বেশ নাম ডাক আছে, এর নাম মিসেস ভৱৰি ডে। তিনি বলেছেন আমি সম্প্রতি কয়েকজন বন্ধুবান্ধবকে লাঞ্চে নিমন্ত্রণ করে- ছিলাম। অনার পক্ষে ব্যাপারটা খুবই জরুরী ছিল। আমি স্বভাবতই চেয়ে- ছিলাম যে, এ ব্যাপারে কোনরকম অসুবিধের স্বষ্টি না হয়। আমি সেই হোটেলের প্রধান পাচক এমিনকে এ ব্যাপারে খুব বিশ্বাস করতাম। কিন্তু এবারে সে আমাকে চুবিয়ে দিন। লাঞ্চ জুতসই হয়নি। এবিলের টিকিও কোথাও দেখতে পেবাম না। সে মাত্র একটা ওয়েটারকে আমাদের টেবিলে পরিবেশন করতে পাঠিয়েছিল। সেই ওয়েটার প্রথম শ্রেণীর টেবিলে পরিবেশন কাকে বলে তা জানত না একটুও। ভুল পরিবেশন, শক্ত মাংস, আলু কেনন আঠা আঠা। জবন্য খাবার–আনি তরানক চটে গিয়েছিলান। খুব কষ্ট করেই আমি হাসি মুখ করে ছিগান-কৰাগত ভাবছিলাম একবার এহিনকে পেলে হয়, তাকে এমন গালাগাল দেব যে, যে তা ভুলতে পারবে না।

পৃষ্ঠা:১০৪

ব্যাপারটা ঘটেছিল বুধবার। পেেরর রাত্রে আমি মানুষের সঙ্গে ব্যবহার সম্পর্কে একটি বক্তৃতা শুনে বুঝতে পারলাম এবিলকে গালাগার করলে কিছু সুবিবে হবে না। এর ফলে সে গন্ত্রীর হবে বাবে, অসন্তুষ্ট হরে থাকবে। ভবিষ্যতে তাকে দিবে ভাল করে কোন কাজ করানো সম্ভব হবে না। যামি তার তরফ থেকে ব্যাপারটা দেখতে চেষ্টা করলাম। যে জিনিষ কেনেনি, সে বাঁধেনি, কোন একটি বোকা ওয়েটার থাকলে সে কি করতে পারে। হয়তো আমি একটু বেশী চটেছি-খুব তাড়াতাড়ি ঠিক করে ফেলেছি দোষ এমিলের। অতএব তাকে সমালোচনা না করে বন্ধুভাবে আমি প্রথমে প্রশংসা করব দ্বির করেছিলাম। সুখর কাজ হল। আমি পরদিন এমিলের সঙ্গে দেখা করলাম। এমিল বেশ রাগত ভাবে ঢিল-বুদ্ধের জন্য সে প্রস্তুত ছিল। আনি তাকে বলে- ছিলাম, এমিল ভাই, একটা কথা জেনে রেখো যে, তুমি আমার পেছনে থাকবে আমার প্রচুর ভরসা থাকে। নিউইয়র্কে তোমার যত পাচক আর নেই। তবে এও আমি জানি যে, বুধবারে য। হয়ে গেছে তার জন্য দোষ তোষার যোটেই নয়। তুমি তো জিনিস কেন নি, রান্নাও তুমি করনি। যেঘ কেটে গেন। এমিল হাসল। বলল, ঠিক বলেছেন আপনি। রান্না- বরেই যত ছিল গোবনাল। আমার দোষ নেই।

অতএব আমি বলতে শুরু করলাম: এবির আমি আরো পার্ট দিতে চাই, এর জন্য তোমার গ্যামর্শ প্রয়োজন। তুমি কি বলো আমরা কি রান্নাঘরের লোকদের আবার রায়। করতে দেব?এমিন উত্তর দিল, নিশ্চরই-এমন ভুল হয়তো আর হবে না।পরের সপ্তাহে আমি আর একটি লাফের নিয়ন্ত্রণে কিছু লোককে নেমতন্ন করেছিলাম। পূর্বেকার ভুল সম্পর্কে একটি কথাও বলিনি। যখন আমরা এলাম, তখন খাবার টেবিলটা গোটা চব্বিশেক সুখের গোলাপ ফুল দিয়ে সাজানো দেখতে পেলাম। এবিন সর্বদা আমাদের কাছে ছিল। আমি যদি কোন মহারাণীকে নাকে নিম্নণ করতাম, তাতে সে এয় বেশী এক্ত দেখাতে পারত না। একজনের বদলে চারজন পরিবেশক আমাদের টেবিলে পরিবেশন করছিল আর এদিন সর্বদা আমাদের কাছে উপস্থিত ছিল। আমরা হোটেল থেকে বেরুনোর সময় আনার প্রধান অতিথি জিজ্ঞেস করবেন লোকটিকে কি আমি কোন যন্ত্র বনে বশ করে রেখেছি? তিনি ঠিকই বলেছিলেন। বন্ধটা হল: বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার এবং আন্তরিক প্রশংসা। বর বছর আগে আমি একটি নীতিগর পড়েছিলাম। এই ৯টি ছিল পূর্ব এবং বাস্তু সম্পর্কে। কে বেশী শক্তিশালী তা নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হচিছল।

পৃষ্ঠা:১০৫

বায়ু বন্দেছিল দেখ ঐ বড়ো লোকটার ভোট পারে রয়েয়ে-ওকে আমি খুলতে বাধ্য করব। তুমি আামার মত তাড়াতারি তার কোট খুলতে পারবে না। পূর্ব তখন যেঘের পেছনে গেলে বায়ু এমন জোরে বইতে আরম্ভ করন যে শেষ পর্যন্ত তা খুনি ঝড় হয়ে দাঁড়াল। কিন্তু বায়ুর গতি যতই বাড়তে লাগল লোকটি ততই তার কোটকে গারে লেপটে রাখল জোর করে। পরাজয় হল বায়ুর। যে কোট খুলতে পারল না। তারপর মেঘের পেগুন থেকে সূর্য বেরিবে এল আর নেই বুড়ো লোকটির উপর সূর্য কিরণ গুড়িয়ে দিন শান্ত ভাবে। তক্ষুণি যে তার কপালের ঘাম মুছে ফেলল, তারপর কোটটা খুলে ফেললো। সূর্য তখন বায়ুকে বলল শক্তির চেয়ে ওদ্র ব্যবহারের ক্ষমতা অনেক বেশী। শামি যখন নীতিগল্পটি পড়েছিলাম তখন আমার বয়স কম। সেই সময় বন্ধন সহরে এই নীতিগয়টিই যেন ঘটেছিল। একজন ডাক্তারের জীবনে তা ঘটেছিল। এই ঘটনার ত্রিশ বছর পর সেই ডাক্তার আমার ক্লাসে বক্তৃতায় বলেছিলেন: তখন বাজে ডাক্তারী বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে লেগেছিল কটনের একটি সংবাদপত্র। কতকগুলো হাতুড়ে ডাক্তার আসন চিকিৎসার নামে অখণ্য উপায় অবলম্বন করে রোগীদের ভয়ে তয়ে রাখত। অপরাধীদের সবাইকার শান্তি খুব বেশী হত না। বেটুকু হত তা যৎসামানা। অবস্থা এমন চরনে উঠল যে, বন্টনের সৎলোকেরা এ ব্যাপারে বিদ্রোহ করলেন। গীর্জায় পুরোহিতেরা বক্তৃতা দিতে শুরু করলেন এই সমস্ত হাতুড়েদের বিরুদ্ধে, খবরের কাগজের বিরুদ্ধে এবং ভগবানের কাছে প্রার্থনা করলেন যাতে তারা বাজে বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করে। নানারকম আন্দোলনেও কোন ফল হয় না। আইন সত্তাতেও এর বিরুদ্ধে কোন আইন পাস করা সম্ভব হয় না, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতির ফলে। যৎ নাগরিক সভার চেয়ারম্যান ছিলেন ডক্টর ব। তাঁরা এর আগে নানারকম চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সফল হননি। এই সমস্ত অপরাধী হাতুড়েদের বিরুদ্ধে যেন কিছুই করা সম্ভব ছিল না।

কিন্তু একদিন ডাক্তার ব এমন একটি কাজ করবেন, যা এর আগে কেউ করেননি। তিনি দয়ালুভাবে, সহযোগিতা ইত্যাদির সাহায়ে। সমস্যাটি সমাধান করতে চেষ্টা করলেন। প্রকাশকেরা যাতে নিজেরাই এরকম বিজ্ঞাপন নেওয়া বন্ধ করেন, তিনি সেই চেষ্টা করলেন। তিনি বস্টন হেরাল্ড খবরের কাগজের সম্পাদককে চিঠি লিখলেন। তিনি লিখলেন, খবরের কাগজটি নিউ ইংল্যাণ্ডের সবচাইতে ভাল কাগজ। কিন্তু একটু এর খুঁত আছে। আমার এক বন্ধুর ছোট মেয়ে সেদিন জোরে জোরে একটি

পৃষ্ঠা:১০৬

হাতুড়ে ডাক্তারের বিজ্ঞাপন পড়ছিল-আমার বন্ধু বলেছেন, সে বিজ্ঞাপন পড়ে মেয়েটি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল কোন কোন কথার অর্থ। তিনি খুব বিব্রত হয়ে পড়েন-কি বলবেন বুঝতে পারেন না। বস্টনের সবচেয়ে ভাল পরিবারে আপনাদের কাগয়া চলে। আমার বন্ধুর বাড়িতে যা ঘটেছে, তা অন্যের বাড়িতেও ঘটা অসম্ভব নয়। আপনার যদি একটি ছোট মেরে থাকত, তাহলে আপনি কি তাকে ঐ বিজ্ঞাপন পড়তে দেখ খুশি হতেন। আর সে যদি তা পড়ে আপনাকে প্রশ্ন করে, তাহলে আপনিই বা কি বলবেন? আমি আপনার কাগজের এই ব্যাপারটি সম্পর্কে বিশেষ চিন্তিত। অন্য সব দিকেই তো কাগজটা ডাল। এটাও তো হতে পারে যে, আরো হাজার হাজার বাবা মা আমার মত ভাবছেন। দুইদিন পরে প্রকাশকের কাছ থেকে একখানা চিঠি এল ডক্টর ক-এর কাছে। ১৯০৪ খ্রীষ্টাব্দের ১৩ই অক্টোবরের চিঠিটা এখনো যত্ন করে রেখেছেন ডক্টর ব।

চিঠিটা এই: প্রিয় মহাশয়,

আপনার ১১ তারিখের চিঠির জন্য আমি বাদিত। সম্পাদকের কাছে আপনি লিখেছিলেন, কিন্তু এর ফলে আমাকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হচ্ছে। অবশ্য আমিও এখানে কাজ নিতে আসার পর থেকেই ভাবছিলাম কিছু করা প্রয়োজন। সোমবার থেকে বাটন হেরাল্ডে আর কোন আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হবে না। কোন রকম ডাক্তারী বাজে বিজ্ঞাপনের স্থান এ কাগজে একেবারেই হবে না। যে সমস্ত বিজ্ঞাপন থাকবে, সেগুলো আমরা এখন যন্ত্র করে সংশোধন করব যে, আপত্তিকর কোন কিছুই থাকবে না। আপনাকে ধন্যবান দিচিহ্ন আপনার সদয় চিঠির জন্য। এ ব্যাপারে চিঠিটা বেশ সাহায্য করেছে। ইতি-প্রকাশক খুষ্টজন্যের ছ’শো বছর আগে গ্রীক ক্রীতদাস ইসপ বহু নীতিগর তৈরী করে- ছিলেন। অথচ এথেন্যে আড়াই হাজার বছর আগে মানবচরিত্র সম্বন্ধে বা বলেছিলেন, কটন বা বানিংহ্যামের পক্ষে আজও বতা। পূর্ব এখনও ঝড়ের চাইতে তাড়াতাড়ি আপনাকে দিয়ে কোট গোলাতে পারে। দরা, বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার, প্রশংসা এ সমস্ত মানুষের মনকে যত সহজে বদলাতে পারে, অন্য কোন উপায়ে তা সম্ভব হয় না। লিঙ্কন কি বলেছিলেন মনে রাখবেন, এক বালতি তেতো জিনিসের চাইতে এক ফোঁটা মধুর লোভে বেশি মাছি হাজির হয়। আপনি যদি স্বযতে অন্যকে আনতে চান তাহলে বন্ধুত্বপূর্ণ’ ব্যবহার করুন।

পৃষ্ঠা:১০৭

চতুর্দশ অধ্যায়

সক্রেটিসের রহস্য:- লোকদের সঙ্গে কোন বিষরে কথাবার্ত। বরবার সময় বে ব্যাপারে আপনার মত খেলে না, সেটা প্রথমে বলবেন না। বারবার বলতে থাকুন কোন ব্যাপারে আপনার যত মেলে। যদি সম্ভব হব তাহলে বরুন আপনার। উভয়েই এক জিনিস চান কিন্তু উপায় সম্বন্ধে হরতো একমত নন। প্রথম থেকেই অন্য জোককে হ্যাঁ বলতে দিন! এমন কথা বলবেন না, যাতে অপর ব্যক্তিকে না বলতে হয়। এ ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘না’ একবার বললে তাকে কাটিয়ে ওঠা ভয়ানক শক্ত ব্যাপার। যখন কেউ না বলে, তখন সে সহজে তার যত বদলাতে চায় না। তাতে তার গর্বে আঘাত লাগে। তা ছাড়া পরে সে যদি বুঝতেও পারে যে ‘না’ বল। অন্যার হয়েছে তবু সে মত সহজে বদলাতে পারে না। একবার একটা কথা বলে সে কথাকে সে দৃঢ়তাবে নাগড়ে ধরে। অতএব অনা নোককে প্রখম আপনার সঙ্গে সায় দেওয়ানে। অবশ্য কর্তব্য। কৌশলী বক্তা প্রথমেই অন্যকে কতকগুলি ব্যাপারে অমতে আনেন। এর ফলে তীর শ্রোতা একমত হবার জন্যে নদে মনে প্রস্তুত হন। এখানে মনস্তাত্বিক ব্যাপারট। খুবই পরিস্কার ভাবে বোঝা যায়। যখন কোন লোক আন্তরিক ভাবে’না’ এই কথাটি বলে, তখন সে যে কেবল একটি অক্ষর উচ্চারণ করে ত। নয়, তার সমস্ত শরীরের সমস্ত যন্ত্রপাতি একত্রে রাজি না হওয়ার অবস্থাতে থাকে। সাধারণতঃ ক্ষুদ্র হলেও শারীরিক বে পরিবর্তন হ্যা, না বলার ফলে তা প্রত্যক্ষ করা যায়। সমস্ত প্রায় বিদ্রোহ করে। অথচ হ। বললে ঐ সমস্ত কিছুই হয় না। তাই প্রথমে বতবার হয়। বলানো সম্ভব বনিয়ে নেওয়া উচিত। তার ফলে আসল ব্যাপারে একমত করানোর কৌশলটা অনেক সহজ হয়ে আসে। এই কৌশলটা খুবই সহজ। অথচ কত কমই না এর ব্যবহার হয়। প্রায়ই মনে হয় বলে প্রথমেই না বলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা কবেন। বিপ্লবীদের সঙ্গে রক্ষণশীলদের কথাবার্তায় তার। প্রথমেই একে অন্যকে চাটবে তোনে। এর ফলে ভাল কি কিছু হয়। এর ফলে তারা যদি নিজস্ব কোন আমোদ পায়, তাহলে অবশ্য অন্য কথা। কিন্তু তারা যদি আলোচনার ফলে

পৃষ্ঠা:১০৮

অন্য লোককে কোন কিছু বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করে তাহলে তারা মনস্তাত্বিক ব্যাপারে একেবারে অর্পন্ন।  কোন ছাত্র বা যক্কেন একবার না বললে, সেনাকে হ্যাঁ করানো বড় শত্রু হয়ে পড়ে। একটি সেভিংস ব্যাঙ্কে প্রথমেই হ্যা বলিয়ে একটি মঞ্চেলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা সম্ভব হয়েছিল। ব্যাঙ্কের এক কর্মচারী বলেছিলেন, লোকটি ন্যায়ে টাকা জমা রাখতে এসেছিবেগ-আমাদের একটি ফর্ম দিরেছিলাম তা পূরণ করতে। তিনি কতকগুলি প্রশ্নের জবাব ঠিকমত লিখলেন, কিন্তু অনেকগুলির জবাব দিতে তিনি একেবারে অস্বীকার করলেন। আমি মানুষের সম্পর্ক সম্বন্ধে পড়াশুনা করার আগে হয়তো তাঁকে বলতাম যদি ফর্মে সমস্ত জিনিষ যা লিখতে বলা হয়েছে, তা’ না লেখেন তাহলে তার টাকা জমা নেওয়া হবে না। এখন আমার ভেবে লজ্জা হয়বে, অতীতে এভাবে অনেক সম্ভাব্য মক্কেলকে ফিাররে দিয়েছি। তাতে অবশ্য আমার আনন্দ হয়েছে। আনি এর আগে সম্ভাব্য মঞ্চেগদের ভালভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছি যে ব্যাঙ্কের আইন লঙ্ঘন করা চলবে না। এবং এও বুঝিয়ে দিয়েছি বে, তাদের কথা মত ব্যাঙ্ক চলেনা। কিন্তু তাঁর ফলে সম্ভাব্য নকেলদের খুশী করা সম্ভব হয়নি। আমি সে দিন সকালে একটু সাধারণ বুদ্ধি প্রয়োগ করতে চেষ্টা করেছিলাম। আসি স্থির করেছিলান ব্যাংঙ্ক কি চায় তা না বলে যকেন কি চার সেই সম্পর্কে কথাবার্ত। বলব। এ ছাড়া আমি স্থির করেছিলাম প্রথমেই তাঁকে দিয়ে কতকগুলি *ই। বলিরে নেব। তাই আমি তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম সমস্ত খবর জানাবার ।বিশেষ কোনই প্রয়োজন নেই। আমি অবশ্য বলেছিলাম, আপনার মৃত্যু হলে আপনি নিশ্চই চান টাকাটা আপনার সবচেয়ে নিকট আন্তিরের কাছে যাক। তিনি বললেন অবশ্যই! আমি তথন বলবান সেক্ষেত্রে তার নাম এবং ঠিকানা দিয়ে রাখলে ভাল হয়, নয়কি? তাহলে আপনার মৃত্যু ঘটলে যাতে এই টাকাটা তাড়াতাড়ি নির্ভুল ভাবে নিকটতম আয়ীয়ের কাছে পৌঁছয়, সে ব্যবস্থা করা আমাদের পক্ষে সহজ হয়ে পড়বে। তিমি আবার উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। এই লোকটির হাবভান আস্তে আস্তে নরম হলো। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আমরা যে গবর চাইছি তা তীব ভালর জন্যই। ব্যাঙ্ক ছেড়ে চলে বাবার আগে এই লোকটি তাঁর সম্পর্কে সমস্ত খবর তো দিলেনই এমনকি তাঁর মায়ের নামে একটা হিসেব পর্যন্ত খুললেন। তাঁর মা সম্পর্কে সমস্ত খবরাখবর দিলেন।

পৃষ্ঠা:১০৯

প্রথম থেকেই এই লোকটিকে দিয়ে কিছু হাঁ। বলিয়ে নেওয়ার পরে তাঁর সঙ্গে ব্যবহার করা সহজ হয়ে এল। তিনি আসন ব্যাপারটাই ভুলে গেলেন। আর একটি প্রতিজ্ঞান এক ভদ্রলোককে তাদের জিনিস বিক্রি করতে চেয়েছিল। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন বিক্রেতা বলেছেন আমার আগে নিনি ছিলেন তিনি গত দশ বছর ধরে তাঁর কাছে গিয়েছেন কিন্তু কোনবারই তিনি কিছু বিক্রি করতে পারেনি নি। আমি যখন তার নিলাম তখন আমিও তিন বছর সেখানে বিক্রি করতে কোন সুবিধে করতে পারিনি। অবশেষে তেরো বছরের চেষ্টা করবার পর যানি তাঁকে কয়েকটি মোটর (বিদ্যুৎ উৎপাদক) বিক্রি করতে সমর্থ হয়েছিলাম। এগুলি ভাষ লাগলে এর পরে আরো কয়েকশো মোটরের অর্ডার পাব এরকম আশ। আমার ছিল। আমার মোটরগুলি খারাপ নয়, অতএব কয়েক সপ্তাহ পর যখন তাঁর কাছে গেলাম তখন মনে আমার বিরাট আশা। কিন্তু আশা ছিল কেবল অল্প একটু সময়ের জন্য। তিনি আমাকে গম্ভীর গলায় বললেন, দেখুন, আপনাদের বাকী একটি মোটরও আমরা কিনব না। আমি আশ্চার্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কেন, কেন? -ফারণ আপনাদের মোটর বেজায় গরম-উহার উপর আমি হাত রাখতে পারি না। আমি বুঝানাম তর্কে কোন লাভ হবে না। আমি অনেকবার সে চেউঃ করেছি। আমি এবার অন্য উপায় অবলম্বন করতে চাইলাম-স্কির করলায় তাঁকে দিয়ে কিছু ষ্যা বলিরে নিতে হবে। আমি তাই বললাম মশাই আপনার সঙ্গে আমি পুরোপুরি একনত। যদি মোটরগুলি চলবার সময় গরম হয় তাহলে আপনার ঐ মোটরগুলি না কেনাই উচিত। আপনি জাতীয় বিদ্যুৎ প্রত্নতকারকদের সমিতি থেকে যে যান নির্দিষ্ট করা আছে তার চাইতে বেশি গরম হওয়া মোটর কিনবেন না, এই তো? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁর কাছ থেকে একটি হ্য। আদায় করলাম। -জাতীয় বিদ্যুৎ প্রস্তুতকারক সমিতির মান অনুসারে একটি মোটর ঘরে স্বাভাবিক তাপ থেকে বাহাত্তর ডিগ্রী বেশি উত্তপ্ত হতে পারে, তাই না? হ্যাঁ। কিন্তু আপনাদের মোটর আরো বেশি উত্তপ্ত হয়। আমি সে ব্যাপারে মন্তব্য না করে বললাম, আপনাদের কারখানার ভেতরকার উত্তাপ কত? তিনি বললেন, প্রায় ৭৫ ডিগ্রী।

পৃষ্ঠা:১১০

আমি বললাম, তাহলে দেখুন ৭৫ ডিগ্রীর সঙ্গে যদি আপনি আরো বাহাত্তর ডিগ্রী যোগ করেন তাহলে দাঁড়ায় ১৪৭ ডিগ্রী ফারেনহাইট। এরকম উত্তাপে আপনার হাত পুড়বে না আশা করেন আপনি? তিনি আবার বললেন কথাটা সত্যি বটে। আমি বললাম মোটরগুলিতে হাত না দিলেই তো চুকে যায়। তিনি বললেন, হ্যাঁ তা তো বটেই। বেশ খানিকক্ষণ আলোচনা করার পর তিনি তাঁর সেক্রেটারীকে ডাকলেন। প্রায় দু’লক্ষ টাকার অর্ডার দিবেন আমাদের কোম্পানীতে। বহু লক্ষ টাকা আর প্রচুর সময় নষ্ট করার পর আমি বুঝতে পেরেছিলাম বে তর্কে কোন লাভ হয় না। সম্মতি পাওয়াটাই বড় কাজ। সক্রেটিসের মত তাকিক কম অন্যেছেন। তাঁর মৃত্যুর তেইশশো বহুর পরেও তাঁকে মানুষের চিন্তাজগতের যোড় ফিদিরে দেবার এবং মানুষের ইতিহাস বদলাবার জন্য একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসাবে গণ্য করা হয়।

তিনি ফি করতেন? তিনি কি তার শ্রোতাদের বলতেন তাদের ভুল হচ্ছে? না, সক্রেটিস তা করতেন না। তিনি বেজায় চালাক ছিলেন। তাঁর কৌশলকে এখন নাম দেওয়া হয়েছে সক্রটিসের উপার। একেবারে প্রথমেই হ্যাঁ হ্যা বরানো এই উপায়ের মূল কথা। তিনি এমন প্রশ্ন করতেন যাতে বিরুদ্ধ-নতাব- লম্বীরা হ্য। ধরতো। তিনি একের পর এক প্রচুর হ্যাঁ বলিয়া নিতেন। বিরুদ্ধ- মতাবলম্বী হ্যা বলতে বলতে এমন অবস্থায় এসে পৌছুন যে তারা দেখতে পেত কয়েক মিনিট আগে তাঁরা যে ব্যাপারে চরম বিরোধিতা করছিন পরে সেই ব্যাপারে সমর্থন করছে। এর পরের বার কাউকে ভুল আখ্যা দেবার আগে সক্রেটিসের কথা মনে রাখা প্রয়োজন। হ্যাঁ এই উত্তর পাবার যত প্রশ্ন করলে সমস্যার সমাধান হয়। চীনদের একটি প্রবাদ আছে: যে সন্তর্পণে চলে সে বহুদুর যায়। চীনারা পাঁচহাজার বছর ধরে মানুষের প্রকৃতি অনুধাবন করছেন। তাঁরা ক্রমশ: ব্যাপারটা পরিষ্কার ভাবে বুঝেছেন যে, বে সন্তর্পণে চলে সে বহুদূর যায়। অনা লোককে স্বনতে আনতে হলে- অন্য লোককে প্রথমেই হ্যা বলিয়ে নিন।

পৃষ্ঠা:১১১

পঞ্চদশ অধ্যায়

অভিযোগ:- অনেকে অন্যদের স্বনতে আনবার জন্য বড়ড বেশী বলে থাকেন। বিশেষ করে জিনিস বিক্রি করা যাদের ব্যবসার তাঁরা এই ব্যাপারটা একটু বেশি করেন। অন্য নোককে কথা বলতে দিন। তিনি আপনার চাইতে নিশ্চয়ই তাঁর নিজের ব্যবসা বা সমস্যার কথা বেশী জানেন। অপরকে প্রশ্ন করুন। তাঁকে কিছু বলতে দিন। আপনি যদি মনে করেন তিনি জুন বলছেন, তাহলে প্রতিবাদ করার কথা আপনার মনে হবে। কিন্তু তা করবেন না-তা করা বিপজ্জনক। তাঁর বক্তব্য বতক্ষণ না তিনি বলে শেষ করছেন, ততক্ষণ তিনি আপনার কথায় কানই দেবেন না। অতএব ধৈর্য ধরে তাঁর বক্তব্য শুনুন। এ ব্যাপারে আন্তরিক হোন। খোলা মন নিয়ে বিচার করুন। তাঁর বা বক্তব্য, তা একটুও না দেখে চেকে সম্পূর্ণভাবে বলবার জন্য উৎসাহিত করুন। এ কি ব্যবসাবে কাজে লাগবে? দেখা যাক। এখানে একজনের কথা বলছি যিনি এরকম উপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কয়েক বছর লাগে আমেরিকার একটি বড় মোটরগাড়ি তৈরির প্রতিষ্ঠানের এক বছরের মোটর গাড়ির কাজের জন্য সমস্ত জিনিসের প্রয়োজন হয়েছিল। তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে বলা হয়েছিল যে একটি নির্দিষ্ট দিনে তাদের তৈরী জিনিস-পত্রের নমুনা নিয়ে দেখা করতে এবং কন্ট্রাক্ট পাবার জন্যে আবেদন করতে।এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের যধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিস্টার র-বলে- ছিলেন যে, তিনি যেদিন মোটর তৈরী প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করতে গিয়ে ছিলেন সেদিন তাঁর প্রবল গলা ব্যথা। এত গলা ব্যথা বে কতকগুলো খাওয়াজ সাত্র করতে তিনি পেয়েছিলেন। অতএব তিনি ডিরেক্টর অব সেল্স, প্রেসিডেন্ট, টেক্সটাইল এনজিনিয়ার প্রভৃতির কাছে কাগজে লিখেছেন-ভদ্রনহোদয়গণ, আমি কথা বলতে অক্ষম। প্রেসিডেন্ট বলবেন, আমি অপনার হয়ে কথা বলছি। তিনি আমাদের জিনিসপত্রের নমুনা দেখাবেন এবং সেগুনির গুণাবলি বলতে লাগলেন।

পৃষ্ঠা:১১২

প্রেসিডেন্ট আমার হরে বলছিলেন, অতএব তিনি আমার জিনিসগুলি সম্পর্কে আমার হয়ে ওকালতি করছিলেন। এই অদ্ভুত যতার পর খাবি আশি লক্ষ টাকার কটুক্তি পেরেছিলাম। এত বেশী টাকার কন্ট্রাক্ট আামি ইতিপূর্বে পাইনি। আমার যদি গণ। না ভাঙত, তাহলে আমি যে কন্ট্রাক্ট পেতাম না। কারণ আমার সমস্ত ব্যাপার সম্পর্কে একটা ভুল ধারণা ছিল। আমি হঠাৎ আবিষ্কার করে ফেলনাম বে অন্য লোককে কথা বলতে দিলে কখনো বিরাট উপকার হয়। এরকম আবিষ্কার করেছিলেন আর একজন ভদ্রলোক। তাঁর নাব জোসেক এস ওয়েব। ইনি পেনসিলভ্যানিয়ায় ওলন্দাজ কৃষকদের গ্রামে গিয়ে দেখলেন তারা কেউ বিদুৎ ব্যবহার করছে না। তিনি তাদের সেই জেলার প্রতিনিধিকে এর কারণ জিজ্ঞেণ করলেন-কেন এরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে না। প্রতিনিধি বললেন, ওদের কথা আর বলবেন না। বিক্রি করা সম্ভব নয়। তাছাড়া কোম্পানীর বিরুদ্ধে আমি চেষ্টা করেছি-কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ওদের কাছে কিছুই ওরা খুব চটে আছে। কথাটা সত্যি জেনেও নিঃ ওরেব একবার চেষ্টা করে দেখতে চাইলেন। তিনি নিকটবর্তী খামারে গিয়ে কড়া নাড়লেই বিসেন তু কেগ্রড বেরিয়ে এলেন। কোম্পানীর প্রতিমিবি লিখছেন, বে মুহূর্তে মিসেল চুকেব্রড কোম্পানীর প্রতি- দিদিকে দেখতে পেলেন সেই মুহূর্তে তিনি মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিলেন। কেবল তাই নয়, তিনি কোম্পানীর বিরুদ্ধে যা খুশী তাই বলতে শুরু করলেন। আমি বললাম, মিসেস হ্রকেনগ্রড, আপনাকে বিরক্ত করবার অন্যে নাবি দুঃখিত-কিন্তু আমি তো বিদ্যুৎ বিক্রি করতে আসিনি আামি এসেছি কিছু ডিম কিনতে। মহিলাটি সন্দেহজনক ভাবে আমাকে দেখতে লাগলেন। আমি তাঁকে বললাম, সুন্দর কতকগুলি ডমিনিক জাতের মুরগী দেখলাম, তাদের টাটকা ডিম আমি কিনতে চাই। মহিলাটি জিজ্ঞেস করলেন, কি করে জানলেন ওগুলো ডমিনিক জাতের। আমি উত্তর দিলাম আমি নিজেই মুরগী পালন করি। কিন্তু এমন সুন্দর ডমিনিক মুরগী আমি জীবনে দেখিনি।

পৃষ্ঠা:১১৩

মহিলাটি তবু খানিক যশেহের সঙ্গে বললেন, তবে সেগুলোর ডিম কি দোষ করল? আমি বললাম, আমাদের মুরগীগুলো সাদা ভিন পাড়ে, কিন্তু আগনি তো জানেন, বাদামী রঙের ভিবের কাছে অন্য কোন ডিম লাগে না। কেক তৈরী করতে হলে বাদামী রঙের ডিম খুবই ভাল-আমার স্ত্রী ঐ রকম ভিষ পছশ করেন। এবারে মিসেস ঢুকেন্ড্রড দরজা খুলে ভাল যবে বাইরে এসে দাঁড়ালেন। আমি দেখদাম সেই চত্বরে একটি দুখ-শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। খামি তখন বললাম আমি নিশ্চর করে বলতে পারি, আপনার স্বামী দুগ্ধজাত জিনিস বিক্রি করে যত আর করেন, তার চাইতে বেশী আয় হয় ডিনের ব্যবসায়। তখন গড় গড় করে তিনি বলতে শুরু করলেন তাঁর কায়িনী। তিনি বলতে খুব আনশ পাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, কথাটি মিথ্যে নয়, কিন্তু তার স্বামীর যাথার সে কথা ঢোকে না। তিনি আমাকে হাঁস মুরগীদের থাকবার জায়গায় নিয়ে গেলেন। কত সধ এটা সেটা জিনিস নিজের হাতে তৈরী করেছেন। সেগুলি আমি সত্যিকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলান। আমি হাঁস মুরগীদের খাদ্য সম্বন্ধে পরামর্শ দিলাম-তাদের কি ধরণের উত্তাপে রাখতে হয়, তাও বললাম। আমিও তাঁর কাছ থেকে কিছু পরামর্শ নিলাম। আস্তে আস্তে আমরা নিজেদের অতিজ্ঞতা বিনিময় করতে আরম্ভ করলাম।

কিছু পরেই তিনি বললেন যে, পাড়া পরশীদের কেউ কেউ মুরগীর বাসায় বিদু্যুৎ ব্যবহার করে-শোনা যাচ্ছে ফল উলিই হচ্ছে। এ সম্বন্ধে তিনি আমার নিরপেক্ষ বক্তব্য জানতে চাইলেন। বিদ্যুতের ব্যবহারের ফলে কিছু উন্নতি সত্যি হবে কি? দু’সপ্তাহ পরেই বিসেস ঢুকেনব্রডের মুরগীগুল বিদ্যুতের আলোতে বেশ তুশি হয়ে উঠল। আমি অর্ডার পেলাম। বিদ্যুতের আলোতে তাদের আরাম যেমন বেশী হল তেমনি ভিষও বেশী পাড়তে লাগল। উভয় পক্ষই খুশি হলাম। আমার গল্পের বক্তব্য এই যে, মিসেস ক্রু কেমগ্রড নিজে থেকে এদি না কিনতে চাইতেন তাহলে আমি কখনই তা বিক্রি করতে পারতাম না। এ সমস্ত লোকদের কাছে কিছু বিক্রি করা সম্ভব নয়, এদের দিয়ে কেনানো প্রয়োজন।

পৃষ্ঠা:১১৪

একটি বিজ্ঞাপনে একজন অসাধারণ যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে কাজের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল। কুবেলিশ নামে একজন লোককে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হলে তিনি ব্যবসার অঞ্চলে গিয়ে যে লোকটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের কথা, তাঁর সম্পর্কে অনেক খোঁজখবর নিয়েছিলেন-তাঁর সম্পর্কে যতখানি জানা সম্ভব জেনে নিয়েছিলেন। সাক্ষাৎঞ্চারের সময় তিনি বলেছিলেন আপনার প্রতিষ্ঠানের যত জায়গায় কাজ করতে পারলে আমি গর্ববোধ করব। আমি শুনতে পাই যে আঠাশ বছর আগে যখন আপনি এই প্রতিজ্ঞাটিনকে তৈরী করেন, তখন একটিমাত্র ঘর ছিল আর একটি যাত্র টেনোগ্রাফার ডিল, কথাটা কি সত্যি? প্রায় সমস্ত সফল লোকই তাঁদের পুরানো দিনের দুঃখ দুর্দশার কথা বলতে ভালবাসেন। এ বোফটি পুরানো দিনের কথা বলতে ভালবাসতেন। ইনিও বলতে শুরু করলেন সামান্য দু’হাজার টাকারও কম অর্থ নিয়ে তিনি কেমন করে আরম্ভ করেছিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠানকে। তিনি বললেন কেষন করে তিনি লোকদের বাধা এবং ডাক্টার মধ্যেও কাজ করে গেছেন। রবিবারে এবং অন্যান্য ছুটির দিনেও তিনি কেমন করে দৈনিক বারো-চৌদ্দ ঘণ্টা কাজ করতেন। কেমন করে তিনি সমস্ত বাল কাটালেন এবং এখন সবচেয়ে বড় ব্যবসা প্রতিডাদের লোকেরা যে তার থেকে উপদেশ নিতে আসে, সেকথাও বললেন।

তিনি তাঁর হত অবস্থায় গর্ববোধ করেন। তাঁর অবশ্য গর্ববোর করবার অধিকার চিল। এ সমস্ত কথা বলে অবশেষে নিঃ কুবেলসিকে সংক্ষেপে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞেস করলেন-তারপর একজন ভাইস প্রেসিডেন্টকে ডেকে বললেন, আমরা এমন লোককেই খুঁজছিলাম। হিটার কুবেসিস সম্ভাব্য চাকুরী দাতার সম্পর্কে কষ্ট করে খোঁজখবর নিয়ে ছিলেন। তিনি অন্য লোককে বেশী কথা বলতে উৎসাহ দিয়েছিলেন-এর ফলে তার সম্পর্কে ধারণাও ভাল হয়েছিল। সত্যি কথা এই যে, আমাদেও বন্ধুরা পর্যন্ত তাঁদের নিজেদের বড় বড় করা বলতে ডলিবাসেন। আমাদের বড় নড় কথা তাঁরা গুনতে চান না। একজন ফরাগ। দার্শনিক বলেতেন, যদি শত্রু চান তবে গুণে বন্ধুদের অতিক্রম করুন। আর যদি বন্ধু চান, তবে বন্ধুদের শ্রেষ্ঠ শুতে দিন। কথাটা সত্যি কেন? আযাদের বন্ধুরা যখন আমাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ হন, তখন তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ববোধ হয়, কিন্তু বর্ণন আমরা বন্ধুদের চাইতে শ্রেষ্ট হই, তখন বন্ধুরা হীন মনে করে নিজেদের এবং হিংসে করে আমাদের।

পৃষ্ঠা:১১৫

জার্মানদের একটি প্রবাদ যাচে যার ভাবার্থ হল এই যে, মঘনা লোকে বিপদে পড়লে আমাদের যে আনন্দ, সেটাই খাঁটি আনন্দ। কথাটা স.তা-আপনাদের বন্ধুদের মধ্যে কিছু লোক ভাগনাদের জয়নাতের চাইতে আপনাদের দুর্দশা দেখে আনন্দ পান। অতএব আসুন, আমধা আমাদের ঘরবাডকে কম করে বলি। আমাদের সংযত হবার প্রয়োজন। এতে খুব ভাল ফল হয়। সারভিং কর এ ব্যাপারে খুব ভাল উপায় প্রয়োগ করতেন। একবার তাকে মাদাদতের সাক্ষী কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়-এসজন উকিল প্রশ্ন করেন, মিস্টার কব, আমি শুনতে পেলাম আপনি আমেরিকার সবচেয়ে বড় লেখক কথাটা কি সত্যি? কর উত্তর দিয়েছিলেন, হয়ত আমার না যৌগ্যতা, তার চাইতে আমার সৌভাগ্য বেশী। আমাদের নরম হওয়া উচিত, কারণ আপনি বা আমি কেউই বিশাল কিছু নই। আমরা আজ থেকে একশো বছর পরে মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যান। জীবনটা ছোট, অতএব অন্য লোককে যাহাদের সামান্য কথা বলে বিরক্ত করে প্রাত কি? এর চাইতে অন্যদের কথা বলতে দিন। ব্যাপারটা ভেবে দেখুন, আমাদের গত্যিই বড় গড় কথা বলার কিছু আছে কি? আপনার যঙ্গে একট বুধের পার্থয়। কতখানি জানেন? অতি সামান্য। আপনার খাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে পাঁচ নয়া পরলায় আইওভিন বার করে নিলে আপনার বুদ্ধি লোপ পায়। একজন ডাক্তার তা করতে পারেন। একটি পাগল এবং আপনার মধ্যে মাত্র পার্থক্য পাঁচ নরা পরসা পরিমাণ আইওডিন। এইটুকু সামান্য জিনিস? নিয়ে কি গর্ব করা ডাল দেখার। যদি অন্য লোককে আযাদের মতে আনতে হয়, তহনে: অন্য লোককে বেশী কথা বলতে দিন।

পৃষ্ঠা:১১৬

ষোড়শ অধ্যায়

সহযোগিতা পাবার উপায়:- নিজের আবিষ্কারে আপনার বেশী বিশ্বাষ না অন্যের আবিষ্কারে? নিশ্চয়ই নিজের আধিকারেই যাপনার বেশী দিশ্বাষ থাকা উচিত। বদি তাই হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে যে অন্য লোককে যাপনার জন্য মাবিষ্কার করানো ঠিক নয়। ঠি না বলে আভাস দেওয়া ডান-এর ফলে অন্যদের পক্ষে সিদ্ধান্তটা নিজেদেরই আবিষ্কার করতে হয় এবং ফল অনেক ভাল হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ফিলাডেলফিয়ার অ্যাডলফ সেলংজের কথা। কতকগুলি মোটর গাড়ি বিক্রেতার মধ্যে উৎসাহ জাগিয়ে তোলার প্রয়োজন ঘটেছিল। একটি সভা ডাকলেন তিনি। জিজ্ঞের করলেন তাঁরা তাঁর কাছ থেকে কি ধরনের ব্যবহার এবং গুণ আশা করেন? সবাই যার যার কথা বললে তিনি যেগুলি ব্লাক বোর্ডে লিখে রাখবেন। তারপর তিনি বললেন, আনি আপনাদের কথাযত ব্যবহার করব এবং এই সমস্ত গুণ আবি যথাসাধ্য আয়ত্ব করব-এবার যাবি জিজ্ঞেস করছি আপনাদেব-আামি আপনাদের কাছ থেকে কি আশা করতে পারি? তৎক্ষণাৎ উত্তর এল, খানুগত্য, যাবুষ, নিজের থেকে কাজ করা, আশা, দল বেঁধে কাজ করা, দৈনিক আট ঘণ্টা উৎসাহপূর্ণ কাণ্ড ইত্যাদি। একজন দৈনিক চৌদ্ধ ঘণ্টা কাজ করবেন বলে স্বোচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে জানালেন। নতুন সাহস, উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতা শেষ হল। মিস্টার সেলৎজ বলেছিলেন, আমি যতদিন আমার প্রতিজ্ঞা রাখব তারাও তাদের প্রতিজ্ঞা রাখতে গৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছিল, বিক্রিও বর্ণের বেড়ে গিয়েছিল। কোন লোকেই ভাবতে চায় না বে তাকে কোন জিনিস বিক্রি করা হয়েছে বা তাকে কোন কাজ করতে বলা হয়েছে। আমরা ডালবাসি যে আমরা নিজেদের পয়খনত কাজ করছি। নিজেদের ইচ্ছে, অভাব এবং চিন্তা সম্পর্কে মালোচনা করতে জামরা ভালবাসি। একজন ভদ্রলোকের কথা বলি-এর নাম মিস্টর বেসন। ইনি ব্যাপারটা জানতেন না বলে তাঁর বহু সহস্র চাকা ক্ষতি হরেছিল। ইনি ছবি আঁকেন। ছবি এঁকে স্টুডিওতে বিক্রি করেন-সেই ছবি থেকে কাপড়ের ছিটেও নক্স। তৈরি

পৃষ্ঠা:১১৭

হয়। তিনি একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানকে তাঁর নক্সা বিক্রি করতে চেষ্টা করেন-তিন বছর ধরে সপ্তাহে একবার তিনি সেখানে তাঁর নক্সা নিয়ে গেছেন। মিস্টার বেসন বলেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের লোক তাঁর সঙ্গে এখনও কথা বলতে নারাজ হননি-কিন্তু তিনি কোন দক্ষ্মাই কেনেন নি। তিনি প্রতিবারই নক্সাগুলিকে দেখেছেন এবং বলেছেন বিস্টার বেসন-এর থেকে কিছু নেওয়া সম্ভব হলনা। প্রায় একশো পঞ্জাশবার ব্যর্থ হবার পর তিনি ভেবে দেখলেন তাঁর নিশ্চয়ই কিছু গলদ আছে। তিনি মানুঘের সঙ্গে কি করে ব্যবহার করতে হয় সে বিষবে পড়াশুনা করলেন। তারপর তিনি তার শিল্পীদের আঁকা অসমাপ্ত নক্সাগুলি দিয়ে দেখা করলেন সেই অফিসে। এবার ধললেন, আমাকে একটু দয়া করে বলবেন ফি, কি ধরনের জিনিস আপনাদের প্রয়োজন? এই নক্সাগুলিকে কি ভাবে অন্তিম রূপ দেওয়া হবে। নব্রেতা এবারও নক্সাগুলিকে দেখলেন এবং বললেন, এগুলি আমাদের কাছে রেখে ধান-কদিন বাদে এসে খোঁজ দেবেন। তিন দিন পর বেসন আবার গেলেন-কেমন জিনিস তারা চায় তা তিনি শুনে। সেই মত ছবিগুলি আঁকিয়ে নিয়ে আবার তাদের কাছ গেলেন। এবারে সমস্ত নক্সাগুলিই তারা কিনে নিলেন। নয় মাস আগে এই ঘাটনাটি ঘটেছিল। তখন থেকে তিনি প্রচুর নক্সার অর্ডার পেয়েছেন। প্রচুর টাকাও পেয়েছেন। মিঃ বেসন বলেন, আমি এখন বুঝতে পারি কেন আমি বছরের পর বছর ব্যর্থ হয়েছি। আমি সর্বদা ক্রেতার কাছে গিয়ে বলেছি তাঁদের কি নক্সা নেওয়া উচিত। এখন আমি উলটো রকম ব্যবহার করি-এখন কি রকম নক্সা থামার করা উচিত তা তাদের কাছ থেকে জেনে নিই। এখন তার ধারণা যে নল্লাগুলি সে নিজেই পরিকল্পনা করেছেন। ব্যাপারটা তাই। এখন আমি বিক্রি করি না আমার কাছ থেকে নক্সা তারা কেনেন। এই ধরনের মনস্তত্ত্ব একজন রঞ্জনরশ্মি প্রস্তুতকারী ব্রুকলিনে তাঁদের জিনিসপত্র বিক্রি করতে ব্যবহার করেছিলেন। এই হাসপাতাল আমেরিকার সবচেয়ে ভাল রঞ্জনরশ্মি বিভাগ তৈরি করতে চেয়েছিল। বরনরশিশ্ম বিভাগের ডাক্তার এব-এর কাছে প্রচুর দালাল এসেছিল রঞ্জনরশ্মির জিনিসপত্র বিক্রি করতে। প্রত্যেকেই তাঁর জিনিসপত্রকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করতে চেষ্ট। করেছিলেন। একজন প্রস্তুতকারী অবশ্য একটু কৌশলী ছিলেন। তিনি মানুষের মন অন্যদের চাইতে ভাল করে জানতেন। তিনি এই ধরনের একটি চিঠি লিখলেন:

পৃষ্ঠা:১১৮

আমাদের কারখানায় সম্প্রতি রঞ্জনরশ্মির বন্ত্রপাতি তৈরি করছি। প্রথম তৈরি কতকগুলি যন্ত্র আমাদের অফিসে এসে পৌঁছেছে। এগুলি নিখুঁত হয়নি তা আমরা জানি। এগুনিকে ভান করে তৈরি করতে চাই। অতএব আপনার কাজে লাগবে এমনি ভাবে তৈরি করবার জন্য আর কি কি করা প্রয়োজন তা যদি সময় করে দেখে জানান তাহলে বিশেষ ভাবে বাবিত হব। জানি আপনারা ব্যস্ত-তাই আমাদের গাড়িতে রঞ্জনরশ্মির যন্ত্রপাতি নিয়ে আমরা আপনার নিদিষ্ট যে কোন সময়ে দেখা করতে পারি। ডাক্তার এল-বলেছিলেন, চিঠিটা পেয়ে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। আমি কেবল আশ্চর্য হয়েছিলাম তা নয়, আমি বেশ সম্মানিতও বোধ করেছিলাম। এর আগে কোন বজনরশ্মির যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী আমার উপদেশ শুনতে চাননি। আমি যদিও সে সপ্তাহে সব সন্ধ্যাবেলাই ব্যস্ত ছিলাম, তবুও একদিন আমি একটি রাত্রের খাবারের নিমন্ত্রণ নাকচ করে যন্ত্রপাতিগুলি দেখেছিলাম। আমি যত দেখলাম ততই সে জিনিসগুনি আমার পচন্দ হতে লাগল। কেউ আমাকে তা বিক্রি করতে চায়নি। আমার মনে হয়েছিল সে জিনিসগুলি আমার নিজের পছশমত দিনেছি। জিনিসগুলি ভাল বলে আমি সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি হাসপাতালে কিনবার ব্যবস্থা করলাম। কর্ণেল এডোয়ার্ড এম হাউস প্রসিডেনট উচু উইলসনকে পরামর্শ দিতেন। উনি আতীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যাপারে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। উচু উইলসন নিজের মন্ত্রী সভার চাইতেও কর্নেল হাউসের কথা বেশী শুনতেন। কর্নেল হাউসের কৌশল কি ছিল? কৌশনটি সৌভাগ্যক্রমে তিনি নিজেই ব্যক্ত করেছেন একটি সাপ্তাষিক পত্রিকায়। তিনি লিখেছেন- প্রেসিডেন্টকে ভাল করে জানবার পর আমি বুঝতে পারলাম তাঁকে দলে আনবার একমাত্র উপায় হল তাঁকে পরামর্শ দেওয়া-কিন্তু খুব কৌশলে, প্রার অজান্তে পরামর্শটি তাঁকে জানিয়ে দেওয়া। যাতে তিনি দিজে সে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবেন। এটা আমি হঠাৎ আবিষ্কার করি। আমি একবার হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলাম, তাঁকে এমন একটা উপায়ের কথা জানালাম যা ঠিক পংস্থ করলেন বলে মনে হল না। অথচ একদিন পরে ডিনার খেতে খেতে তিনি আমার পরামর্শটকে নিজের বলে বেমালুম চালিয়ে দিলেন। হাউস কি তাঁকে বাধা দিয়ে বলেছিলেন, ও বুদ্ধিটি আপনার নয়, আমার? না। হাউস বড়, চালাক লোক-তা তিনি করতে যাননি। তিনি প্রশংসার জন্য

পৃষ্ঠা:১১৯

ব্যস্ত ছিলেন না, তিনি ফলাফলের উপর বেশি জোর দিতেন। তিনি উইলসনকে অনুভব করতে দিলেন যে, বুদ্ধিটি তাঁর। কেবল তাই নয়, সাধারণের কাছেও তিনি উইলসনকে এই বুদ্ধির জন্য প্রশংসা করলেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আনার সঙ্গে যার দেখা হবে সেও হবে উইলসনের মতই মানুষ। অতএব আসুন আমরা কাল থেকে কর্নেল হাউসের মত ব্যবহার শুরু করি। কয়েক বছর আগে একজন এই কৌশন আমার উপর খাড়িয়েছিল। ফলটা তার পক্ষে ভবিই হয়েছিল। আমি নৌকা ভ্রমণ করে ছুটি কাটাব এই মর্মে একটি ভ্রমণ অফিসে চিঠি লিখেছিলাম। তারা আমার নাম ঠিকানা নিশ্চয়ই প্রপ্রকাশ করে দিয়েছিল কোন পত্রিকার, কারণ তারপর থেকে আামার কাছে প্রচুর চিঠিপত্র আসতে থাকে-মানা ক্যাম্প থেকে এবং নানা গাইডের কাছ থেকে। আমি হকচকিয়ে গেলাম। কোনটা ফেলে কোনটা রাখব? একজন ক্যাম্পের মালিক খুব চালাক ছিলেন। তিনি আমাকে কতকগুলি নিউয়র্কের বাসিন্দার নাম এবং টেলিফোন নম্বর দিয়েছিলেন। লিখেছিলেন ঐ লোকগুলি ইতিপূর্বে তাঁর ক্যাম্পে ছিলেন, অতএব তাঁর ক্যাম্প সম্বন্ধে যদি কিছু জানবার থাকে তবে তাঁদের কাছে আমি দিজ্ঞেণ করতে পারি। আামি অবাক হবে দেখলাম নামের তালিকায় একটি লোকের নাম বাঁকে আমি চিনি। তাঁকে টেলিফোন করে তার অভিজ্ঞতা থেনে নিলাম। তারপর ক্যাম্পের মালিককে টেলিগ্রাম করলাম কখন আমি পৌঁছুচ্ছি সে কথা জানিয়ে।

 

অন্যরা তাঁদের গুণ দেখিয়ে আমাকে কাত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এই লোকটি এখন ব্যবহার করেছিলেন যে, আমি নিজেই কাত হলাম। অতএব অন্য লোকদের মতে আনতে হলে অন্য লোকদের ভাবতে দিন বে, সে যতটা তাঁদেরই। পঁচিশশো বছর আগে একজন চীনদেশীর বিজ্ঞ ব্যক্তি ন্যাওৎসে যা বলে- ছিলেন তা এই বই-এর পাঠকেরা অনুধাবন করতে পারেন: শত শত নদী এবং সমুদ্রকে পাহাড়ের ঝরণাগুলি পূজো করে তার কারণ নদী এবং সমুদ্র নীচে অবস্থান করে। নীচে তার অবস্থান বলেই সে শাসন করতে পারে। বিজ্ঞ বোকও তাই উঁচুতে থাকবার জন্য নীচে তার আসন নিয়ে থাকেন। সামনে তাঁর বাবার ইচ্ছে বলেই তিনি পিছনে গিয়ে দাঁড়ান। তাই মানুষের উপরে তিনি থাকলেও কাউকে তার দেহ বইতে হয় না। তাই যদিও তার স্থান সামনের দিকে তার ফলে কেউ আঘাত পায় না।

পৃষ্ঠা:১২০

সপ্তদশ অধ্যায়

একটি আশ্চর্য নিয়ম:- মনে রাখবেন অন্যে পুরোপুরি ভুল করতে পারে, কিন্তু সে তা মনে করে না। তাকে খানাগাল করবেন না। যে কোন বোকাই তা করতে পারে। তাকে বুঝবার ঢেউ। করুন। কেবল জ্ঞানী, সহ্যশক্তি সম্পন্ন, অসাধারণ মানুষই তা করবার চেষ্টা করেন। অন্য লোকে যে কোন একটা কিছু চিন্তা করে বা কাজ করে তার কারণ আছে। সেই কারণটা বার করুন। তা হলে বুঝতে পারবেন তার বিশেষ কোন ব্যবহারের, কারণ কি? এর ফলে তার ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্র বুঝতে পারবেন। নিজেকে তার জায়গায় বলিয়ে দেখুন। যদি আপনি নিজেকে বলেন, তার মত অবস্থার আমি কি করতাম? তাতে অনেক সময় বেঁচে যাবে, অনেক ব্যথার হাত থেকেও আপনি বেঁচে যাবেন। কারণ, যদি কারণ খুঁজে বার করতে পারেন তাহলে সেই কারণসঞ্জাত ব্যবহারে অসন্তষ্ট না হবার সম্ভাবনাই বেশী। আর তা ছাড়া মানুষের সঙ্গে কেমন করে ব্যবহার করতে হয় সে সম্পর্কে জ্ঞানও হবে আপনার ক্ষুরধার।

 

একটি বইতে কেনেথে এই শুন্ড বলেছেন, একবার তেবে দেখুন আপনার নিজের কাজে আপনার কতখানি উৎসাহ। তুলনা করে দেখুন অন্য যে কোন ব্যাপারে আপনার উৎসাহ কত কম। জেনে রাখুন যে পৃথিবীর প্রত্যেকের সম্বন্ধেই এই কথা খাটে। তাহলে লিঙ্কন এবং রুসভেন্ট যেমন জানতেন, আপনিও জানলেন মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হবে। অবশ্য জেলের লোকদের কথা আলাদা। লোকদের সঙ্গে ব্যবহারের সাফল্য নির্ভর করে অন্য লোকদের চিন্তাধারা সম্পর্কে সদর মনোতাবের উপর। আমার বাড়ির কাছে একটি পার্ক আছে। বহু বছর যাবত আমি এই পার্কে বেড়িয়েছি। এই পার্কের একটি ওক গাছকে আমি এত ভাল বাসতাম যে, প্রায় তা পুজো করা বাকী রেখেছিলাম। তাই প্রত্যেক বছরে গাছে আগুন লেগে ছোট ছোট গাছ পুড়ে যাওয়া দেখে আমি খুব কষ্ট পেতাম। সাবধান হলে এ স্বাগুন লাগত না। এত আগুন অবশ্য অসাবধান ধূমপায়ীদের সিগারেট থেকে লাগত না। এগুলো লাগত গাছের তলায় ছোটদের ভিম ভেজে খাওয়ার জন্য। কোন কোন সময় আগুন এমন ভয়াবহ হয়ে উঠত যে দমকল ডাকতে হত।

পৃষ্ঠা ১২১ থেকে ১৪০

পৃষ্ঠা:১২১

একটি নোটিশ অবশ্য দেওয়া ছিল পার্কে যে, যে আগুন ধরাবে তার শাস্তি হবে। কিন্তু নোটিশটা কারো নজরে পড়ত না। একটি অশ্বারোহী পুলিসের পার্ক পাহারা দেবার কথা, কিন্তু সে তার কর্তব্য খুব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করত না। বছরের পর বছর আগুন লেগেই চলল। একদিন আমি যেই পুলিসতে এসে বললাম, পার্কে আগুন লেগেছে এবং সে যেন এখনি দমকলকে খবর দেয়। পুলিস উত্তর দিয়েছিল আগুন লাগল সংবাদ দেওয়া তার কাজ নয়। এর পর থেকে আমি যখন ঘোড়ায় চড়ে বেতাম তখন নিজেকে জনসাধারণের রক্ষাকারী হিসাবে তাবতাম। আমি ছোটদের তরফ থেকে ব্যাপারটা ভাববার চেষ্টাও করিনি। আমি ন্যায়সঙ্গত কাজ কবরবার আগ্রহে অন্যায় কাজ করেছিলাম। গাছের তলায় আগুন প্রবতে দেখলেই আমি ঘোড়া ছুটিয়ে সেখানে যেতাম এবং বেশ গম্ভীর কণ্ঠে আগুন নিভিয়ে ফেলতে আদেশ দিতাম। যদি তারা আগুন না নেভাও তাহবে তাদেরকে পুলিস দিয়ে ধরিয়ে দেবার ভয় দেখাতাম। এর ফলে তারা আগুন নিভিয়ে ফেলতো। গম্ভীরভাবে, অনিচ্ছার সঙ্গে তাঁরা খাগুন নেভাত এবং হয়তো আমি সেখান থেকে চলে যেতেই আবার তারা আগুন জ্বানাত। পার্কে আগুন লাগার ভয়টা থাকতই।

অনেক বছর পর আমি অন্যের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে জিনিসটা দেখতে চেষ্টা করলাম। ইতিমধ্যে আমার মানুষের সম্বন্ধে জ্ঞান একটু বেশী হয়েছে, কৌশলও কিন্তু রপ্ত হয়েছে। কয়েক বছর পর আমি ছোটদের বলতাম: বাঃ বেশ মজা করছ, তাই দয়। রাত্রের খাবারের জন্য তোমরা কি রাধছ? আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমি ভাগুন জ্বালাতে ভালবাসতাম-এখনও ভালবাসি। তবে পার্কে তা করা খুব বিপদজনক। আা।ই জানি তোমরা সেরকম কিছু করবে না, কিন্তু সব ছেলেরা তো তোমাদের মত অত সাবধান নয়। তারা এখানে এসে যখন দেখে তোমরা আগুন ধরিয়েছ, তাই দেখে তারাও আগুন বরায়। বাড়ি যাবার সময় আগুন নিভিরে রেখে যায় না। এর ফলে শুকনো পাতার আগুন যরে, আর গাড়গুলে। এর ফলে গালে যায়। যদি আমরা সাবধান না হই তাহলে এই পার্কে একটি গায়ও আর থাকবে না। এই আগুন বরানোর জন্য তোমাদের ফেল হতে পারে। কিন্তু আমি তোমাদের আমোদে বিঘ্ন ঘটাতে চাই না, বা হুকুমও করতে চাই না। যজা কর, কিন্তু যাবার সময় ভাল করে আগুন নিভিয়ে দেখে যেও। ভার ভবিষ্যতে যদি গাছগুলি থেকে দূরে ঐ পাছাড়ের উপরে আগুন জলাও তাহলে ভাল হয়। ধন্যবাদ তোমাদের। আমি চাই তোমরা বুব তোমরা জুডি করো বা আচ্ছা এবারে আসি?

পৃষ্ঠা:১২২

একটি আশ্চর্য নিয়ম:- এর ফলে ফি অদ্ভূত ব্যাপারই না হল। ছেলেরা সহযোগিতা করতে চাইল। তারা মুখ গোমড়াও করল না বা প্রতিবাদও করব না। তাদের আদেশ পালন করতে হল না-এর ফলে তাঁরা ভাল বোধ করল। আমি তাদের দৃষ্টিভঙ্গী বিচার করে দেখেছিলাম বলে এই রকম ফল হয়েছিল। কান কাউকে দিয়ে কিছু করানোর আগে তার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে ব্যাপারটা দেখবার চেষ্টা করুন না কেন? নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, কেন তারা এটা করতে চাইবে? এতে অবশ্য সময় লাগবে ফিত এর ফলে বন্ধুত্ব হবে-ফন ভাল হবে- কম চেষ্টায় এবং জুতোর তলা কম খরচ করেই কাজ হবে। কোন লোকের অফিসের রাস্তার ফুটপাতে দু’ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অফিসে গিয়ে কি বরতে হবে বিবেচনা করা ভাল। একেবারে কিছু না জেনে কোন অফিসে ফল করে ঢোকা ঠিক নয়। বাঁর অফিসে ঢুকছি তাঁর দৃষ্টতঙ্গী কি তা জেনে রাখা ভাল। কথাটা মনে রাখবার মত। এই বই পড়ে যদি একটিমাত্র উপকার হয়, আপনার আর তা হল অন্য লোকের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখা, তাহলে আপনার উন্নতির পথে তা হবে প্রয়োজনীয় সংযোজন। তাই অন্য লোককে না চাটরে ভদ্রভাবে যদি তাদের বদলাতে চান তাহলে: অন্য লোকের দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে প্রত্যেক ঘটনা বিচার করতে চেষ্টা করুন।

অষ্টাদশ অধ্যায়

সবাই কি চায়:- আপনি কি এমন একটি মন্ত্র জানতে চান যার ফলে তর্ক করবার প্ররোজন হবে না, শত্রুতার তাব দূর হবে, তাল সম্পর্ক স্থাপিত হবে এবং যার ফলে অন্যে আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে? তা যদি হয়, তাহলে সে কখানি হলো: আপনার মনোভাবের জন্য আবি এক বিষ্ণুও দোষ দিচ্ছিনা-আমি যদি আপনি হতাম তাহলে আমিও নিশ্চয়ই আপনার মতই অনুভব করতাম। এরকম উত্তর পেলে হুতুম-মুখো বুড়োরা পর্যন্ত ঠান্ডা হবে। কথাটা নিধ্যেও নয় কিন্তু। অন্য লোক যদি আপনি হতেন তাঁহলে আপনি তো তার মত ব্যবহার করতেনই। বুঝিয়ে বলছি ব্যাপারটা। অ্যান ক্যাপোনের কথা ধরা যাক। আপনার যদি অ্যান ক্যাপোনের যত শরীর এবং বন হত। যদি তার যত

পৃষ্ঠা:১২৩

আপনার অভিজ্ঞতা আর পরিবেশ হত। তাহলে আপনি ঠিক তার মতই হতেন? তার ভাগ্যে যা ঘটেছে আপনার ভাগ্যেও তা যচত। কারণ ঐ সমস্ত ব্যাপারের ফলেই অ্যাল ফ্যাপোন বা, তা যে হতে পেরেছে। আপনি গাঁট খট শব্দ বয় যাণ দন, তার একমাত্র কারণ জাগনার বাপ মা খাট এটে সাপ ছিলেন না। আপনি না তার জন্য আপনার কৃতিত্ব খুব বেশী নয়। যে লোকটি বিরক্ত এবং বিবেচনাহীন হবে আপনার কাছে আসে তার জন্য তার দোঘও বেশী নয়। খারাপ যারা তারা হতভাগ্য, তাদের প্রতি করুনা অনুভব করুন। তাদের প্রতি সদর হন। একজন বিখ্যাত ব্যক্তি মাতালকে বেতে দেখলে বলতেন ঈশ্বরের করুনা না হলে আমিও ঐ ব্যক্তির যত হতে পারতাম।

কাল যত লোকের সাথে আপনার দেখা হবে তাদের চার ভাগের তিন তাগ দয়া এবং সমবেদনা প্রত্যাশী। তা যদি আপনি তাদের দেন তাহলে তার আপনাকে ভালবাসবে। লিটল উইমেন-এর লেখিকা লুইসা অ্যালকট সম্বন্ধে আমি রেডিওতে একবার বক্তৃতা দিয়েছিলাম। আনি জানতাম তিনি ম্যাসাচুসেটসের কনকর্ড নামক স্থানে বাস করতেন। কিন্তু বক্তৃতায় দু’বার বলেছিলাম তিনি নিউ হ্যাম্পশিয়ারের বাসিন্দা। আমি একবার বললেও না হর হত। কিন্তু দু’দুবার নিউ হ্যাম্পশিয়ারের দাম উল্লেখে অনেকে বেশ চটে যান। চিঠি এবং টেলিগ্রামে আমি অভিভূত্র হয়ে পড়ি। এমন সব খোঁচা দেওয়া চিঠি এল, সে-গুলি আমার মাথার চারদিকে যেন মৌমাছির মত তন তন করতে লাগল। কেউ বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন, কেউ অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। একটি ভদ্রমহিলা এমন চটে গিয়েছিলেন যাতে মনে হতে পারত নিস অ্যানকটকে আমি নরণাদিকা বলেছি। সে চিঠিটা পড়ে আমি নিজেকে বলেছিলান ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, মহিলাটি আমার স্ত্রী মম। আমি ভাবলাম চিঠি লিখে তাঁকে জানাই যে ভূগোল সম্বন্ধে আমি ভুল করেছি সত্যি কিন্তু তিনি সাধারণ ভদ্রতা সম্বন্ধে আরো বেশী অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ‘আমি আমার বনের প্রকৃত ভাব প্রকাশ করে চিঠি দেব স্থির করে হাতা গুটিয়ে বসলাম। কিন্তু তা না করে শেষ পর্যন্ত নিজেকে সংযত করলাম। আমি ভাবনায়, যে কোন মাথা গরম লোক তা করতে পারে। আর অধিকাংশ বোকা তা করবেও নিশ্চয়। আমি বোকাদের মত ব্যবহার করতে চাইলান না। অতএব তাঁর শত্রুভাবকে বন্ধুত্বে রূপান্তরিত করতে সচেষ্ট হলাম। এ হবে এক ধরনের প্রতিযোগিতা-এ ধরনের খেলায় আমি আবোদ পাই। আমি নিজেকে বললাম, আমি যদি তিনি হতাম তা হলে হয়ত আমারও ব্যবহার ঐ রকম গারাগ

পৃষ্ঠা:১২৪

সবাই কি চায়:- হত। তাই আমি তাঁর মতকে সমর্থন করতে চাইলাম। এরপর আমি যখন শহর ফিলাডেলফিয়াতে যাই তখন তাঁকে তাঁও টেলিফোনে ডাকি। কথাবার্তা অনেকটা এই রকম হয়েছিল। আনি: নিযেন অমুক, কয়েক সপ্তাহ আগে আপনি ধামাকে একটা চিঠি লিখেছিলেন, সেজন্য আমি বন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি: (কালি কাটা ভদ্রগলা) আমি কার সঙ্গে কথা বলছি জানতে পারিকি? আমি: আমি আপনার অপরিচিত! আমার নাম ডেল কার্নেগি। কয়েক সপ্তাহ আগে আমি লুইসা যে অ্যালকট সম্বন্ধে একটি রেডিও বক্তৃতা দিয়েছিলাম। আপনি তা শুনেছিলেন। আমি বক্তৃতায় একটি যারান্তক ভুল করেছিলাম। দিস অ্যালকট সম্বন্ধে বলেছিলাম তিনি নিউ হ্যাম্পশিয়ারের লোক। এটা আমার পক্ষে বিরাট মূর্বতার পরিচর দেওয়া হয়েছে। আমি সেজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনি যে সময় নষ্ট করে আমাকে নিখেছেন তা দাপনার ককণারই পরিচয়।  তিনি: মিষ্টার কার্বেধি আমি দুঃখিত-ওরকম ভাবে লেখা আবার উচিত হয়নি। আমার মেজাজ স্থির ছিল না। আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আমি: না না, আপনি কেন ক্ষ্য প্রার্থনা করতে যাবেন? ক্ষমা প্রার্থনা করতে হলে আমিই করব। যে কোন স্কুলের ছেলে আমার চাইতে কর ভুল করত। আমি তার পরের রবিবারে বেতার ক্ষমা প্রার্থনা করেছি এবং এখন আপনার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাই। তিনি: আমি ব্যাসাচুসেটসের কনকর্ড নায়ক দারগায় জন্মগ্রহণকরেছি। আমাদের পূর্ব পূরুষেরা যেখানে দু’শো বছর বয়ে আছেন। সেজন্যে যখন আপনি লুইসা অ্যালকটের বাড়ী অন্য জায়গায় বলেছিলেন তখণ খুব দুঃখিত হয়েছিলাম। কিন্তু এখন ঐ চিঠি লিখবার জন্য আমি সত্যি সত্যি বজ্জিত। আমি: যাদি যাত্য বলছি আপনি যতখানি দুঃখিত তার চাইতে আমি দশগুণ বেশী দুঃখিত। আমার ভুলের জন্য ম্যাচুসেটসের কিছুতেই লাগেনি, লেগেছে আমার। আপনার যত সম্ভ্রান্ত বংশের যেয়ে খুব কমই রেডিও-র লোকদের কাছে চিঠি লেখেন। যদি ভবিষ্যতে আমার কোন ভুল হয় আপনি নিশ্চয়ই আবার লিখবেন। তিনি: আমার সমালোচনা আপনি যে ভাবে নিয়ছেন তা আমার খুব ভাল লেগেছে। আপনি নিশ্চয়ই একজন ভাল লোক। আমি আপনাকে আরো জানতে চাই।

পৃষ্ঠা:১২৫

ক্ষমা প্রার্থনা করে, সমবেদনা প্রকাশ করার ফলে তিনিও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং সমবেদনাও প্রকাশ করলেন। আমার মেজাজ নিয়ন্ত্রিত করার ফলে আমার ভূ িহল। অপমানের পরিবর্তে দয়া দেখিয়ে সে তৃপ্তি আমি পেলাম। তাঁরে গোল্লায় যেতে বললে যতখানি আনন্দ বা উপকার হত তার চাইতে এতে অনেক বেশী আনন্দ হল আমার।    হোয়াইট হাউসে বিনে থাকেন তাঁকে রোজই মানুষের সঙ্গে ব্যবহারের সমস্যার কাঁটা ছড়ানো পথে চলতে হব। প্রেসিডেন্ট ট্যাফদেরও সমস্যা কর ছিল না। তিনি জানতেন কেমন করে হৃদয় রসায়নের পরিবর্তন করা যায়। উককে করা যায় মিষ্টি। ট্যাকট মজার উদাহরণ দিয়েছেন তাঁর বইতে-কেমন করে একজন অসওই মহিলাকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। ট্যাফট লিখেছেন: ওয়াশিংটনে একজন ভদ্রমহিলা চিলেন, বাঁর কিছু

রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ছিল। তিনি তাঁর ছেলেকে কোন একটি বিশেষ কাজে ঢুকিয়ে দেবার জন্য দু’সপ্তাহ ধরে আমাকে নানা কথা বলেছিলেন। অনেক বড় বড়লোকের কাছে তিনি এব্যাপারে তদ্বির করেন। কিন্তু কাজটির জন্য বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল বলে আমি সেই অফিসের কর্তাকে তার দিয়েছিবান উপযুক্ত বোক খুঁজে বার করতে। অতএব অন্য একটি লোককে এই কাজটি দিতে হয়েছিল। এরপর আমি সেই মায়ের কাছ থেকে চিঠি পাই। তাতে তিনি লিখেছিলেন যে, আমি বেজার অকৃতজ্ঞ লোক, ইচ্ছে করলেই আমি তাঁকে খুশি করতে পারতাম, কিন্তু আমি তা করিনি-ইত্যাদি। তিনি আরও লিখে- ছিলেন যে আমার জন্য তিনি অনেক খেটেছেন কোন এক ভোট সংগ্রহের ব্যাপারে। আর তা কি না এই পূরস্কার।

এরকম চিঠি পেলে প্রথমেই মনে হবে এমন লেখকের শাস্তি পাওয়া উচিত- কারণ এটা লেখকের পক্ষে একরকম অনধিকার চর্চা। তারপর একটা উচিত মত উত্তর লেখা। কিন্তু আপনি যদি চালাক হন, তাহলে চিঠিটা একটা জুয়াৰে তালা বন্ধ করে রাখবেন। দু’দিন এখন চিঠি ভাকে না দিলেও চলবে। তারপর যখন ঐ চিঠিটা দেখবেন স্কুলে, তখন আর সেটাকে পাঠাতে ইচ্ছে করবে না। ঠিক তাই আমি করেছিলাম। এরপর আমি যতখানি তন্ত্রভাবে সম্ভব তাকে উত্তর দিয়েছিলাম যে, এরকম ব্যাপারে যায়ের হতাশা কেমন হতে পারে তা আবি বুঝি কিন্তু ঐ পদে নিয়োগ করার ব্যাপারে কেবলমাত্র ব্যক্তিণাত পছন্দ অপছন্দের প্রশ্ন ছিল না। আমার প্রয়োজন ছিল ঐ কাজে একজন শিক্ষাপ্রাপ্ত লোকের। সে জন্য অফিসের কর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হরেছিল আমাকে। আমি

পৃষ্ঠা:১২৬

সবাই কি চায়:- আরো আশা প্রকাশ করেছিলাম যে, ছেলেটি তখন যেকাজ করছিল, সেই কাজেই সে যথেষ্ট উন্নতি করবে। এর ফলে যা নরম হলেন এবং আমাকে একটা চিঠি লিখলেন যে, আগের চিঠি লেখার জন্য তিনি দুঃখিত। আমেরিকার সঙ্গীতব্যবসায়ের একজন বিখ্যাত কর্ণধার হলেন মিষ্টার ছরক। কুড়ি বছর ধরে তিনি বিখ্যাত শিল্পীদের নিয়ে কারবার করছেন। তিনি বলেছেন, অনেক্ষ শিরীর প্রচুর পাগলামি খাকে। সেগুলিকে সমাদর করতে হর। সেগুলিকে হাসিমুখে সহ্য করতে হয়। ফেওডর চ্যানিয়াপিন শিশুর মত ব্যবহার করতেন। যে দিন তার গান গাইবার কথা সন্ধ্যাবেলায় সেদিন দুপুর বারোটার সময় করে বলেন, ভাই আবার গলা একেবারে ভেঙ্গে চৌচির। এর ফলে ছরক দি তার সঙ্গে তর্ক বিতর্ক শুরু করতেন? তিনি হরককে ফোন আজ, আমি গাইব না। তা করতেন না। তিনি সোজা চ্যালিরাপিনের হোটেলে গিয়ে হান্দির হতেন এবং বলতেন, কী দুঃখের কথা! ও েআপনার কী কষ্ট। না, আপনাকে এ অবস্থায় গান গাইতে হবে না। শনি এখুনি প্রোগ্রাম থেকে নাম কেরে দিচ্ছি? এর ফলে অবশ্য আপনার হাজার দশেক নিকা ক্ষতি হবে, কিন্তু সে কিছু নয়। আপনার খ্যাতির মূল্য আরো অনেক বেশি। তখন চ্যালিৰাপিন বলতেন, পরে বিকেলের দিকে একবার আসবেন-তখন দেখব আবার-গলাটা কেমন থাকে। পাঁচটার সময় হরক আবার হোটেলে ছুটতে ছুটতে গিয়ে উপস্থিত হন। তিনি গম্ভীর মুখে আবার সাদ্ধা প্রোগ্রাম বাতিল করতে চান। চ্যাবিয়াপিন আবার বললেন, সাড়ে সাতটার সময় আবার আসবেদ-তখন দেখব গলা কেমন আছে। সাড়ে সাতটার সমর চ্যালিয়াপিন গাইতে রাজী হন, কিন্তু একটি শর্তে। আগে ঘোষণা করতে হবে যে, চ্যালিয়াপিনের গলাটা ভাল নেই। ঠাণ্ডায় গলার অবস্থা শোচনীয়। প্ররক মিথ্যে করে বলতেন, হ্যাঁ তা বলব। তিনি জানতেন গায়ককে মঞ্চে আনবার ঐ একমাত্র উপায়। একজন ডাক্তার তাঁর বইতে লিখেছেন, মানুখ চায় সমবেদনা। একটি শিশু তার আধাতকে আগ্রহের সঙ্গে দেখার। অনেক সময় সমবেদনা পাবার জন্য তারা নিজেদের আহত করে। একই ব্যাপারের জন্য প্রাপ্তবয়স্করাও তাদের আঘাত দেখায়, তাদের দুর্বটনার কথা বলে, পীড়ার কথা আলোচনা করে, বিশেষ করে অস্ত্রপাচারের কথা আলোচনা করে। নিজেকে করুণা করা ব্যাপারটা প্রায় সমস্ত মানুষের মধ্যে কিছু না কিছু আছে। অন্যকে স্বমতে আনতে হলে অন্যের ইচ্ছের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করুন।

পৃষ্ঠা:১২৭

উনবিংশ অধ্যায়

সকলেই এই আবেদনে সাড়া দেবেন:- কেরারনিতে জেলি জেমসের খামার আছে। এরই কাছে একস্থানে আমি মানুষ হই। আমি এই খামারে গিয়েছি, সেখানে জেসি জেমসের ছেলে এখনো বেঁচে আছেন। তাঁর স্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, কেমন করে জেসি ট্রেন লুট করতেন, ব্যাঙ্ক ডাকাতি করতেন। জেসি জেমস কেমন ভাবে প্রতিবেশীদের টাকা বিলিয়ে দিতেন। সেই টাকা দিয়ে তারা বন্ধক দেওয়া সম্পত্তি নিজেদের করে দিত। জেসি জেমস নিজেকে সম্ভবত একজন আদর্শবাদী বলে ভাবতেন। ভাষ শুলৎসও তাই ভাবতেন। দু’ বন্দুকবালা’ ব্রুনি আর এ্যাল ফ্যাপোন ‘পুরুষ পর ঠিক তাই করেছিল। প্রতিট বোকেরহ নিজের সম্পর্কে শ্রদ্ধা খাবে- আপনারও আছে। নিজের বিচারে সে নিঃস্বার্থপর এবং সুন্দর থাকতে চায়। সে পিয়েরপণ্য যগ্যান বলেছিলেন, মানুষ কোন একটি কাজ করলে তার ট কারণ থাকে-একটি যা শুনতে ভাল লাগে, অন্যটি আবদ। মানুষ নিজে আসন ব্যাপার নিয়েই ভাববে-তাঁতে আদর্শের কোন স্থান নেই। এ ব্যাপারে ভাল করে বুঝিয়ে বলার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা সকলেই অন্তরে আদর্শবাদী হবার ফলে যে কথাটা শুনতে ভাল লাগে সেইটে সম্বন্ধে ভাবতে ভালবাসি। অতএব লোককে বদলাতে হলে কাজের মহৎ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আবেদন করা বিধেয়। ব্যবসায়ে তা ফি বেজায় বকনের আদর্শবাদী কাণ্ড বলে মনে হয়? দেখা যাক। মিষ্টার ফ্যাবেন একজন বাড়িওয়ালা। একজন অসন্তষ্ট ভাড়াটে তাঁর বাড়ি ছেড়ে দেবার নোটিশ দিয়েছেন। ভাড়াটে উঠে গেলে হাজার টাকা ক্ষতি হবে নিষ্টার ফ্যারেনের। কিন্তু শর্ত যাই হোক, তিনি বাড়ি ছেড়ে দেবার নোটিশ দিয়েছিলেন।

 

বিটার ফ্যারেল বলেছিলেন, এই ব্যক্তি সমস্ত শীতকালটা আমাদের বাড়িতে ভাড়াটে ছিলেন। আমি জানতাম শরতের আগে এ ঘর ভাড়া দেওয়া কঠিন হবে। স্পষ্ট দেখতে পেলাম আমার হাজার টাকার বেশী ক্ষতি হবে। আমি বেশ বাবড়ে গেলাম। সাধারণতঃ এরকম অবস্থায় আমি ভাড়াটের কাছে গিয়ে বনি ভাড়ার শর্তটা আবার পড়ে দেখতে। আমি গিয়ে বলি যে, এভাবে হঠাৎ উঠে গেলে বাকি টাকাড়াও তৰুনি দিয়ে যেতে হবে। এ টাকা পাবার জন্য আমাকে বাসস্থা অবলম্বন করতে হবে এবং করবও।

পৃষ্ঠা:১২৮

সকলেই এই আবেদনে সাড়া দেবেন:- যাই হউক, সে রকম হৈ চৈ কিছু না করে আমি অন্য কৌশল প্রয়োগ করতে চাইলাম। তাই আমি এভাবে কথা শুরু করলাম: মিঃ তো, আপনার বক্তব্য আমি শুনেছি। আমার বিশ্বাস হয় না। যে আপনি সত্যিই উঠে যেতে চান। বহু বছর বাড়ি ভাড়ার ব্যাপারে কারবার করছি আমি। তার ফলে আমার মানব চরিেেত্র অভিজ্ঞতা দাম হয়নি। প্রথমেই আমি আপনাকে দেখে বুঝেছিলায় আপনি কথার মূল্য দিয়ে থাকেন। আনি এ ব্যাপারে এত নিশ্চিত যে বাজী রাখতে পারি।

আমার প্রস্তাব এই, আপনি যে সিদ্ধান্ত করেছেন সে সম্পর্কে আপনি কিছু দিন ভেবে দেখুন। যদি আগামী মাসের পয়লা তারিখের আগে বলেন আপনি উঠে যাবেন, তাহলে আমার কিছুই বক্তব্য নেই। আপনাকে চলে যেতে দিতে আমার আপত্তি থাকবে না। আমি কেবল নিজেকে বলব এ ব্যাপারে আমার তুল হয়েছিন। কিন্তু আমি এখনও বিশ্বাস করি আপনি কথা দিয়ে কথা রাখেন এবং চুক্তি আপনি পালন করবেন। শেষ পর্যন্ত দেখা যায় আমরা মানুষ নয়ত ধীম। কে কোনটা হব আমাদের উপরই তা নির্ভর করে। নতুন মাস এলে এই ভদ্রলোক নিজে এসে তাড়া দিয়ে গেলেন। তিনি বলবেন, তিমি এবং তাঁর স্ত্রী এ ব্যাপারে কথাবার্তা বলে থাকাটাই স্থির করে- ছিলেন। তাঁরা বিদ্ধান্ত করেছিলেন বে যান বাঁচানোর একমাত্র উপায় হল চুক্তি যত কাজ করা। লর্ড নর্বক্সিফের একটি ছবি কোন খবরের কাগজে ছাপা হয়েছিল। এই ছবিটি ছাপা হোক তা তিনি চাইতেন না। তা বলে তিনি গরবরের কাগজের সম্পাদককে লেখেননি-যশাই আমার ঐ ছবিট পছল করিনা, অতএব ওটা ছাপাবেন না। তার বদলে তিনি লিখেছিলেন, আমার ঐ ছবিট স্থাপাবেন না, কারণ আমার

মা ঐ ছবিটি পদ্মন্স করবেন না। তিনি মাতৃভক্তি এবং শ্রদ্ধার কাছে আবেদন করেন। মাহন নামক স্থানের দরিদ্র ছেলে মাইরাস এইচ কে কার্টিস ‘স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট’ এবং ‘লেডিস হোম জার্নাল’ পত্তন করেন এবং কোটি কোটি টাকা আর করেন। কিন্তু প্রথমদিকে তিনি লেখকদের বেশি টাকা দিতে পারতেন না। তিনি তাই লেখকদের টাকার জন্য লিখতে বলতে পারতেন না। খুব বিখ্যাত লেখিকা লুইসা যে এ্যালকট এখন খ্যাতির শিখরে তগনে। তাঁর কাগজের জন্য তিনি তাঁর লেখা সংগ্রহ করেছেন। টাকা দিয়ে নয়-তিনি একশো ডলার দান করতে চেয়ে ছিলেন লুইস। এ্যালকটের পছন্দ মত কোন জায়গায়।

পৃষ্ঠা:১২৯

যাঁরা সন্ধেহ করতে অভ্যস্ত তার। বলবেন, বড় বড় লোকের সঙ্গে ঐ সব করা সম্ভব। কিন্তু, আমাদের অবস্থ। অন্য রকম। আমাদের যতো শক্ত লোকের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে হিমসিম খেয়ে যেতে হয়। হয়তো আপনি ভুল বলেন নি। সমস্ত ক্ষেত্রেই যে কাজ হবে তার কোন যাবে নেই। তবে একটা কথা–যদি এখন যা করেন তাতে আপনি সম্বষ্ট, তাহলে অন্য রকম কিছু করবার প্রয়োজন নেই। আর যদি আপনি এখনকার অবস্থার সন্তই, নন তাহলে পরীক্ষা করে দেখতে ক্ষতি কি? যদি লোকদের স্বমতে আনতে চান তাহলে: মানুষের মহত্বে আবেদন করুন।

বিংশ অধ্যায়

সিনেমা, রেডিও যা করে তা আপনিও করেন না কেন? কয়েক বছর আগে ‘ফিলাডেলফিয়া ইভনিং বুলেটিন’ সম্বন্ধে এক বিপদজনক গুজৰ বুখে মুখে ছড়ানো হয়। বিজ্ঞাপনদাতাদের বলা হয় যে, এই কাগজ বড় বেশী বিজ্ঞাপন ছাপে জারসে তুলনায় পাঠ্যবস্তু অনেক কম থাকায় অপছল করে। চট করে এরমক গুজব বন্ধ করতে হবে। পাঠকেরা এ কাগজ কিন্তু কেমন করে? এমন ভাবে তা করা হয়েছিল। এই খবরের কাগজটি একদিনের সংখ্যা থেকে সমস্ত পাঠ্যবস্তু নিয়ে একটি বই ছেপে বার করেছিল। বইটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘এক দিন’। এতে তিনশো সাত পুঞ্জা ছিল। প্রায় দশ টাকা বইটির দাম হতে পারত। অথচ বুলেটিন কেবল এই পাঠ্যবস্তু নয়, এর সঙ্গে বিজ্ঞাপন সমেত দশ নয়া পয়সায় বিক্রি করত।

এই ব্যাপারে নাটকীয় ভাবে প্রমাণ করা হয়েছিল যে খবরের কাগজটিতে প্রচুর পাঠ্যবস্তু ছিল। এর ফলে বক্তব্য পরিষ্কার ভাবে বোঝানো সম্ভব হয়েছিল। বক্তৃতা বা সংখ্যাতত্বের সাহায্যে এত সহজে তা প্রমাণ করা সম্ভব হত না।

পৃষ্ঠা:১৩০

যখন অন্য কোন কিছুতে কাজ হয় না তখন এটা চেষ্টা করুন এখন নাটকীয় ব্যাপারের বাজার। কেবলমাত্র সত্যি কথা বললে কাজ তেমন হয় না। সত্যকে স্পষ্ট এবং নাটকীয় করে তুলতে হবে। আপনাকে দেখানোর ব্যাপারে ওস্তাদ হতে হবে। সিনেমায় তা করা হব, রেডিওতে তা করা হয়- আপনার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করবার জন্য আপনাকেও তা করতে হবে। যারা দোকানের শো-কেস সাজানোর ব্যাপারে ওস্তাদ, তাঁরা এর কার্যকরী ক্ষমতা জানেন। একটি উদাহরণ দেওয়া যায়-একটি ইঁদুরের বিষ প্রস্তুতকারক তাঁদের শো-কেসে যেদিন দুটো জ্যান্তো ই’দুর রাখেন, সেদিন তাদের বিক্রি পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। কাজেই বলতে হয় আপনার ভাবধারা নাটকীয়ভাবে প্রকাশ করুন।

একবিংশ অধ্যায়

যখন অন্য কোন কিছুতে কাজ হয় না তখন এটা চেষ্টা করুন:- ঢার্লস শরাবের কারখানার একজন ম্যাদেদার ছিলেন, কারখানার কর্মচারীরা যতখানি কাজ করা উচিত তা করেছিলেন না। শাব ম্যানেজারকে দ্বিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনার যত উপযুক্ত লোক থাকা সত্বেও এ কারখানায় যতখানি কাজ হওয়া উচিত তা হচ্ছে না কেন? ম্যানেজার উত্তর দিয়েছিলেন, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি লোকদের নানারকম ভাবেই কাজ করানোর চেষ্টা করছি। ঝগড়া তর্ক করেছি, গালাগালি করেছি, চাকুরী থেকে বরখাস্ত করবার এর দেখেরেছি, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। তারা কাজ করবে না বলে স্থির করেছে।

 

দিনের কাজ তখন শেষ হয়ে আসছিল। রাত্রের কাজ শুরু হতে অল্প সম্বর বাকি ছিল। শয়ার বলেছিলেন, একটি চকগড়ি আমাকে দিন। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, আজ শ্রমিকরা কটা জিনিস তৈরী করেছে? উত্তর পেলেন, এ’টি। তিনি বড় বড় অক্ষরে ‘ছয়’ এই কথাটি যেফেতে লিখে চলে গেলেন। আর কোন কথা বললেন না। রাত্রের শ্রমিকরা এসে জিজ্ঞেস করল, ঐ ছয় দেখবার অর্থ কি? একজন বলেছিলেন যে বড় কর্তা এসেচিলেন সেখানে। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন কাটা

পৃষ্ঠা:১৩১

জিনিস আমরা তৈরী করেছি। আমরা বলেছিলাম ছ’টি। তাই তিনি মেঝেতে ছয় লিখেছেন। পরদিন শরাব কারখানার ভেতর যেতে যেতে দেখলেন রাত্রের শ্রমিকেরা ভয়কে মুছে সাত লিখে গেয়ে। পরদিনকার শ্রমিকেরা এনে দেখল মেঝেতে সাত লিখে গেছে। তারা এখন দেখল, রাত্রের শ্রমিকেরা তাদের চাইতে ভাল কাজ করেছে তখন তারা বলন, বটে, তাই নাকি? আমাদের চাইতে তারা তাল কাজ করবে? রাত্রের শ্রমিকদের কিছু শিক্ষা দিতেই হবে। সে দিন তারা এত কাজ করল যে বিকেলে তারা দশ লিখে বাড়ি গেল। কাজকর্ম সে কারখানায় ভালই হতে লাগল। এই কারখানায় তাল কাজ হচ্ছিল না কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিযোগিতায় সেখানকার অন। সমস্ত কারখানাকে হারিয়ে দিল। কি উপায়ে এটা করা সম্ভব হয়েছিল তা মিঃ, শরাবের কাছ থেকে শোনা যাক। শরাব বলেছিলেন, কাজ পেতে হলে প্রতিযোগিতার মনোভাবের প্রয়োজন আছে। টাকা বেশী পাওয়া যাবে সে রকম প্রতিযোগিতা নয়, অন্যের চাইতে ভাল কাজ করব এই বারণ। মনে আনা প্রয়োজন। অন্যের চাইতে তাল করা। মানুষ প্রতিযোগিতা ভালবাসে। প্রতিযোগিতার মনোভাব না থাকবে থিয়োডর রুসভেল্ট কখনই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না। তিনি কিউবা থেকে সবে এসে নিউ ইয়র্কের গতর্ণর হরেছেন। বিরোধীদল ইতিমধ্যে আবিষ্কার করেছে যে, তিনি নিউ ইয়র্কের আইনসঙ্গত নাগরিক নন। কনভেন্ট ওয় পেয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ফরতে চাইলেন। টমান কলিয়ার প্ল্যান্ট তাঁকে হঠাৎ বললেন, আপনি কি কাপুরুষ যে ওয়ে নাম প্রত্যাহার করবেন। রুলভেল্ট যুদ্ধে যোগ দিলেন। এর পরের ব্যাপার ইতিহাস হয়ে আছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে তিনি নিজেও বদলেছিলেন, দেশও বদলে গিয়েছিল। প্ল্যাট বা অ্যান গ্রিথের মত চার্লস শরাবও জানতেন প্রতিযোগিতার মনো-‘ ভাবের ফলে প্রচুর উপকার হয়। অ্যাল সি্যুপ খন নিউইয়র্কের গভর্নর তখন সিং সিং জেলে জঘণ্য সমস্ত কাও চলেছিল বলে তিনি খুব শক্ত একটি মানুষকে সেখানে পাঠাতে চেয়েছিলেন। এই জেলে কোন ওয়ার্ডেন ছিল না-তিনি এই পদের জন্য লুইস-ই নওসকে ডেকে পাঠালেন।

পৃষ্ঠা:১৩২

লওসকে তিনি বেশ খোশ মেজাজে বললেন, সিং সিং কারাগারে গিয়ে তার তার নেওয়া সম্পর্কে আপনার কি অভিমত? সেখানে একজন অতিজ্ঞ লোকের প্রয়োজন। লওস বেন অতলে তলিয়ে গেলেন। তিনি সিং সিং-এর বিপদের কথা জানতেন। এই কাজটা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক নেতাদের ইচ্ছে যত এখানে বেকিকে রাখা হয়। বহু ওয়ার্ডেন এখানে এসেছেন এবং গেচেন। একজন তো মাত্র তিন সপ্তাহ এখানে কাজ করেছেন। এরকম কাজ নেওয়া সঙ্গত হবে কি? নিতি বুঝতে পারলেন লণ্ডস দ্বিনায় পড়েছেন। তিনি একটু হাসলেন। তাবণর বললেন, আপনি যেতে যে ভর পাচ্ছেন তাতে অবশ্য আশ্চর্যের কিছু নেই। জায়গাটা বড়ই বিপদজনক তা ঠিক। ওখানে কেবল বিরাট সাহসী লোকেরাই যেতে চাইবে। সিতে যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতার তাকে আহ্বান করলেন। লন্ডস সে ডাকে সাড়া দিলেন। বিরাট সাহসী লোকের যাওয়া প্রয়োজন সেখানে-অতএব তিনি ব্যাপারাটা চেষ্টা করে দেখতে চাইলেন। তিনি সেখানে গেলেন। তিনি সেখানে থাকলেনও। এত বিখ্যাত ওয়ার্ডেন আর সিং সিং-এ হয়নি। তাঁর ‘সিং সিং-এ কুড়ি হাজার বছর’ বইখানা লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে। তিনি রেডিওতে কারাগার সম্বন্ধে বক্তৃতা দিয়েছেন। ছ’টি সিনেমার ছবি তোলা হয়েছে তাঁর গল্প থেকে প্রেরণা পেরে। বিখ্যাত রবার প্রস্তুতকারক হাতি এস ফায়ারস্টোন বলেছেন একমাত্র সাইনে দিয়ে গুণী লোককে সংগ্রহ করা যায় না। তারা নিজেরাই খেলতে চার, এবং খেরে জিততে চায়। সফন লোকেরা, খেলা ভালবাসে। নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ, নিজেকে উপযুক্ত প্রমাণ করার আগ্রহ, অন্যকে প্রতিযোগিতায় পরাস্ত করা এবং অন্যের চাইতে ভাল করার চেষ্টা, এ সমস্তই সকল লোকেরা করতে চায়। অতএব যদি শক্তিশালী লোককে জয় করতে চান তবে, তার মনে প্রতিযোগিতার ভাব জাগান।

পৃষ্ঠা:১৩৩

দ্বাবিংশ অধ্যায়

দোষ যদি ধরতেই হয় তবে এ ভাবে আরম্ভ করুন:- ক্যালতিন কুবিজের শাসনকালে আমার এক বন্ধু হোয়াইট হাউসে সপ্তাহ শেষের অতিথি ছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ঘরে যেতেই শুনতে পেলেন তিনি একজন মহিলা সেক্রেটারীকে বলছেন, তোমার এই পোশাকটি আজ বড়ই সুন্দর পরে এসেছ, তোমাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। রম্ভবত জীবনে ক্যালভিন এমন প্রশংসা কোন সেক্রেটারিকে করেন নি। ব্যাপারটা এতই আশ্চর্যজনক এবং অভাবনীয় ছিন যে, মেয়েটি লজ্জায় লাল হয়ে যে কি বলবে ভেবে পেল না। তখন শুলিজ তাকে বললেন ঘাবড়াবার কারণ নেই তোমার। আমি ওটা বলেছি তোমাকে খুশি করবার জন্য। আমি আসলে বলতে চাই তোমার লেখায় দাঁড়ি কমা ইত্যাদির যথাযথ ব্যবহার দেখতে চাই। উপায়টি অবশ্যই সোজাভুজি ধরনের। কিন্তু মনস্তত্বের দিক দিয়ে এটা ছিল খুবই ভাল। সব সময়েই আমাদের দিকটা তত অসহা মদে হয় না যদি আমাদের ভাল দিকটা আগে বলা হয়। নাপিত দাঁড়ি কামানোর আগে দাঁড়ি সাবানের জল দিয়ে নরম করে নেয়। ১৮৯৬ খ্রীষ্টাব্দে প্রেসিডেন্ট ম্যাক কিনলিও অনেকটা তাই করেছিলেন। তিনি তখন প্রেসিডেন্টের পদের জন্য প্রতিদ্বদ্বিতা করছিলেন। এইসমর তাঁর জন্য একজন একটা বক্তৃতা লিখে আনেন-খুব সুন্দর নির্বাচনী বক্তৃতা। সোট তিনি পড়ে দেখলেন। যদিও এর অনেক গুণ ছিল কিন্তু এতে লোকদের যথেষ্ট সমালোচনাও ছিল। এ বক্তৃতা তিনি দিতে পারেন না। অতএব তিনি লেখককে কৌশলে ললেন বন্ধু, এই বক্তৃতাটি খুব ভাল। এর চাইতে ভাল কেউ লিখতে পারত না। অনেক ক্ষেত্রে এই বক্তৃতা দিলে ভাবই হয়। কিন্তু এক্ষত্রে কি বক্তৃতার্ট কাজে লাগবে? ব্যাপারটা আমার তরফ থেকে দেখলেই তো চলবে না-আমার দলের তরফ থেকেও দেখতে হবে। এখন আপনি বাড়ীতে গিরে আাই যে ভাবে বলি সেই ভাবে বক্তৃতা লিখে আনুন। ব্যাক কিননি এ ব্যাপারে লেখককে সাহায্য করলেন। এবং নির্বাচন আন্দোলনে তাঁর বক্তৃতা খুব কাজে লেগেছিল।

পৃষ্ঠা:১৩৪

দোষ যদি বরতেই হয় তবে এ ভাবে ‘ধারন্ত করুণ:- লিঙ্কন একটা চিঠি নিগেছিলেন। চিঠির তারিখ ছাব্বিশে এপ্রিল, ১৮৬৩ খ্রীষ্টাব্দ। গৃহযুদ্ধের সময়কার খুব ভয়াবহ সেই দিনগুলি। লিঙ্কনের সৈন্যবাহিনীর গত মাঠারো মাস ধরে ঐবাগত পরাজয় ঘটে আসছে। ক্রমাগত অনর্থক লোক মারা যাচ্ছিল। সমস্ত জাতি এ ব্যাপারে স্তম্ভিত হয়েছিল-হাজার হাজার সৈন্য বালিয়ে যাচ্ছিল। এখন কি তাঁর দলেই অনেকে তাকে সরানোর কথা ভাব- ছিলেন। লিঙ্কন বলেছিলেন, আমরা প্রায় ধ্বংসের সম্মুখীন। খামার মনে হয় এমন কি ঈশ্বর পর্যন্ত আমাদের বিরুদ্ধে। আমি একটুও আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। খামি এই চিঠিটা এখানে ছাপছি এটা দেখানোর জন্য যে, একটি সঙ্কটময়। মুহূর্তে লিঙ্কন ফেবন করে জেনারেলের মতিগতি বদলাতে চেয়েন্ডিলেন। লিঙ্গনের চিঠিটা পড়লে বোঝা যাবে তিনি কত কৌশনী ছিলেন। এই চিঠিটা সম্ভবত তাঁর প্রেসিডেন্ট হবার পর সব চাইতে ধারালো। মেজর জেনাবেন রকারকে বেখা চিঠিটা এই: পটোম্যাকের সৈন্য বিভাগের শ্রেষ্ঠ আসনে আমি আপনাকে বসিয়েছি। অবশ্য তা করবার কারণ ছিল বলেই তা খামি করেছি, অথচ খামার মনে হয় আপনার এটা জানা উচিত যে সমস্ত দিথা দিয়ে আনি সম্ভই হতে পারিনি।

 

আামি বিশ্বাস করি আাপনি যাহসী আমার ভাল লাগে। আমি আরো রাজনীতি মেশানো-এটা খুবই ভান। তা প্রয়োজন, হয়তো একান্তভাবেই এবং কৌশলী সৈনিক-এ গুণগুলি বিশ্বাস করি যে আপনার কাজের সঙ্গে আপনায় নিজের উপর বিশ্বাস আছে- প্রয়োজন। আাগনি উচ্চাকাঙ্খী। যদি তার বীমা ছাড়িয়ে না যায় তাহলে খারাপের চাইতে ভালই হয়। কিন্তু আামার মনে হয় জেনারেল বার্নসাইডের কর্তৃত্বের সময় আপনার উচাশা এত প্রবল হয়ে উঠেছিল যে, তাঁর পরিকল্পনা আপনি বান চাল করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। এর ফলে আপনি দেশের ক্ষতি করে- ছিলেন-তা ছাড়া আপনি একজন বুষ্টিমান এবং সম্নামিপ্ত সহকর্মীকে বিপদে ফেলেছিলেন।

আমি খুব বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে জানতে পেরেছি যে আপনি সম্প্রতি বলেছেন সরকা এবং সৈন্য দুই এরই একজন ডিকটেটর প্রয়োজন। অবশ্য এর জন্য নয়, এটা জানা সত্ত্বেও আবি আপনাগরিকত্ব দিয়েছি। যে সমস্ত জেনারেল সফন হয় তারাই ডিকটে হতে পারে। আপনি যদি সামরিক সংস্য খাত করেন তাহলে থাপনার ডিউটির হবার ঝুঁকি ত্রে। ১০-

পৃষ্ঠা:১৩৫

সরকার যথাসাধ্য আপনাকে সাহাব। করবে এর আগে সরকার যে সাহায্য করেছে সেই রকম সাহাবা। অন্য সমস্ত কম্যান্ডারকেও একই প্রকার সাহাব্য করা হবে। আমার ছায় গ্রয় যে, আাপনি যে শূন্য কর্যাপ্তারদের সমালোচনা করার প্রবৃত্তি সৈন্যবাহিনীতে জাপিরে খুলেছেন এখন তার ফলে সৈন্যবাহিনীতে আপনার সমালোচনা হবে। এর ফলে আপনাকে বোকে বিশ্বাস করতে পারবে না। এরকম ব্যাপার যাতে দার না হয় তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। আপনি বা নেপোলিয়ন (তিসি যদি বেঁচে উঠতেন) এরকম আবহাওয়ার সৈন্যবাহিনী থেকে কোন সাহায্য লাত করতে পারতেন। এখন হঠাও কোন কাজ করে বসবেন না। অর্থহীন কোন কাজ না করে ভেবে চিন্তে আমাদের হয়ে কিছুটা যুদ্ধে পরলাত করুণ। আপনি কুনিজ নন, আপনি ম্যাককিনলি বা লিঙ্কন নন। আপনি জানতে চান দৈনন্দিন ব্যবসার ক্ষেত্রে এই উপায় কাজে লাগে কি না। দেখা যাক। ফিলাডেলফিয়াতে বার্ক কোম্পানী একটি বড় অফিস বাড়ি তৈরী করবার কন্ট্রাত পেরেছিলেন। কোন একটি বিশেষ দিনের আগে তা তৈরী করবার গর্চ। ছিল। সমস্ত কাজই ঠিকমত চলছিল। কিন্তু বাড়ির বাইরে সাদানোর জন্য দস্তার নক্সার কাথা সরবরাহ করবার তার ছিল যার উপর শেষ মুহূর্তে সে বনদে যে সময় মত সে সরবরাহ করতে পারবে না। এর ফলে সমস্ত বাড়ি তৈরী শেষ হতে দেরি হবে। অনেক টাকা ক্ষতি হবে, বদনাম হবে-কেবর একজনের জন্য। টেলিফোন করা হল-তর্ক হল, ঝগড়া হল-কিন্তু তাতে াজে হল না। তখন ধার্ত কোম্পানীর বিষ্টার গাও-কে পাঠানো হল নিউইয়র্কে দস্তা সরবরাহ- কারীর অফিসে গিয়ে তাঁকে আক্রমণ করে পরাস্ত করবার জন্য! মিষ্টার গাও যখন দস্তা কোম্পানীর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে গেনেন তখন তিনি প্রথমেই বললেন প্রেসিডেন্টকে, জানেন ফ্রাকবিনে আপনার নানে নাম এ রকম সার কোন ব্যক্তি নেট। প্রেসিডেন্ট আশ্চর্য হরে বলবেন, পাবি তা জানতাম না। মিষ্টার গাও বলবেন, আমি ট্রেন থেকে নেমে আপনার ঠিকানা পাবার জনা টেলিফোন বই দেখছিলাম-সেখানে দেখলাম আপনার যত আর গেন বোকের নাম সেই বইতে দেই। প্রেসিডেন্ট বলবেন, আমি তা কখনো জানতাম না। তিনি টেলিফোন এইটা আগ্রহের সঙ্গে দেখলেন। তিনি গর্বের সঙ্গে বেললেন, নামটা খুব সাধারণ ২য়। আমাদের পরিবার দুণ্যে বছর আগে হন্যাও থেকে এসেহিলেন নিউইয়র্কে

পৃষ্ঠা:১৩৬

লোম বদি এরতেই হয় তবে এ তাবে আরম্ভ করুন:- বসবাস করতে। তিনি তাঁর পরিবার এবং পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে কয়েক মিনিট আলোচনা করলেন। তাঁর কথ। শেষ হবে নিষ্টার গাও তাদের বিরাট কারখানার কথা বলে প্রশংসা করলেন-তা ছাড়া তিনি যে আরো অনেক এই জাতের কার- খাঁন্য দেখেছেন সেগুলির সঙ্গে তুলনা করে বর্তমানাটিকে বেশী তাল বললেন। গাঁও বললেন, এমন সুন্দর পরিষ্কার চিনছান কারখান। আর তাঁর নজরে পড়েনি। প্রেসিডেন্ট বললেন, আমার সমস্ত জীবন কেটেছে এই কারখানাদে গড়ে ভূগতে। আমি এজন্য প্রার্থিত। আপনি কি কারণানাটি ঘুরে দেখতে চান? ঘুরতে ধুরতে বিষ্টার গাও জিনিসপত্র তৈরি করার কৌশল সম্বন্ধে প্রশংসা করলেন। তিনি বললেন, কেন তাঁর কাছে বর্তমান কারখানাটি ভাল লেগেছে। অন্য কারধাৰাগুলির সঙ্গে কি পার্থক্য। বিষ্টার গাঁও কতকগুলি নতুন ধরনের যন্ত্রপাতি সম্পর্কে যন্তব্য করাতে প্রেসিডেন্ট বললেন, তিনি নিজে সেগুলি আবিষ্কার করেছেন। তিনি মিটার গাওকে অনেকক্ষণ ধরে বোঝালেন কেমন করে বেঞ্জপি কাজ করে-কেন সেগুলি অন্য যন্ত্রের চাইতে তান। তিনি মিষ্টার গাওকে লাঞ্চ খাবার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করবেন। মনে রাখবেন, এ পর্যন্ত নিষ্টার গাও তাঁর খাসবার উদ্বেশ্য সম্পর্কে একটি কথাও বলেননি। লাঞ্চের পর প্রেসিডেন্ট বললেন, এবার আসল কথায় আসা যাক। সাৰি জানি আপনি কেন এখানে এসেছেন-আমি আশাই করতে পারিনি যে, আমাদের সাক্ষাৎ এবন সুন্দর হবে। আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে ফিলাডেলফিয়াতে ফিরে যেতে পারেন। আমি প্রতিজ্ঞ। করছি আপনাদের কান্ডে মাল ঠিক সময়ে পৌচনোর ব্যবস্থ। করব-এর ফলে অন্য লোকের কাজে হয়ত দেরী হবে, তা সত্বেও। মিষ্টার গাও বা চেয়েছিলেন, তা না চাইতেই পেয়ে গিয়েছিলেন। দিস- পত্র ঠিক সময়ে এসে গিয়েছিল এবং বেদিন চুক্তি মত বাড়ি শেষ হবার কথা ছিল বাড়ি তৈরী সেদিনই শেষ হয়েছিল। নিস্টার গাও যদি এ ব্যাপারে কথা কাটাকাটি করতেন তাহলে কি রকম কল হত। সত্যিকারের প্রশংসা করুন, তাহলে লোকেরা আপনা থেকেই বদলাবে।

পৃষ্ঠা:১৩৭

ত্রয়োবিংশ অধ্যায়

স্বণার পাত্র না হয়েও সমালোচনা কেমন করে করতে হয়:- চার্লস শরাব একদিন ইস্পাত কারখানার ভেতর দিয়ে যেতে দেখলেন কতকগুলি লোক সিগারেট টানছে। তাদের উপরেই বিজ্ঞাপন লটকানো ছিল-খুন- পান নিষেধ। শরাব কি শ্রমিকদের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, দেখছ না লেখা রয়েছে ধূমপান নিদেব? না, শয়ান সেরকম লোকই নন। তিনি ঐ লোকদের কাছে গিয়ে প্রত্যেককে একটা করে সিগার দিলেন, তারপর বললেন, তোমরা যদি বাইরে গিয়ে এগুলি খাও তাহলে ভাল হয়। শ্রমিকেরা জানত বে শরাব জানতেন তারা নিয়ম মত কাজ করেনি। শ্রমিকদের তাঁর উপর এতে খুব ভক্তি হল, তিনি নিরন তাজা সম্বন্ধে কোন ধমক দিলেন না, উপরন্ত তাদের একটা করে সিগার উপহার দিয়ে তাদের গাতিরই করলেন। এরকম লোককে না ভালবেসে কি থাকা যায়? জন ধানাযেকারও একই রকম উপার প্রয়োগ করতেন। ফিলাডেলফিয়ার তাঁর বিশাল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মধ্য দিয়ে রোজ ঘুরতেন। একদিন এমনি মুরছেন, তিনি দেখতে পেলেন একটি মেরে দাঁড়িয়ে জিনিস কিনবার জন্য, অখচ কর্মচারীরা ধারেকাছে কেউ নেই। সবাই দুরে দাঁড়িয়ে জটলা করছে। বানানেকার কোন কথা না বলে মেয়েটি বা চাইল তা দিয়ে দাম নিয়ে কর্মচারীদের যে জিনিসটি প্যাক করতে দিয়ে একটি কথা না বলে সেখান থেকে চলে গেলেন।

১৮৮৭ খ্রীষ্টাব্দে ৬ই মার্চ সুন্দর বক্তণ হেনরী ওয়ার্ড বীচার মারা যান’। জাপানীদের ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয় নতুন পৃথিবীতে গেলেন। বাঁচারের মৃত্যুর পর লাইম্যান অ্যাবটকে গীর্ষাতে বলতে বলা হয়। লাইম্যান অ্যাবট খুব ভান বক্তৃতা দেবার জন্য ফুাবেয়ারের যত (ফরাসী লেখক-বাদাম বোভারি সির্বতে তাঁর তেরো শঢ়র সময় লেগেছিল-অনুবাদক) যত্ন নিয়ে তিনি বক্তৃতা লিখেছিলেন। সেটিকে ঘঘেমেজে তিনি স্ত্রীকে পড়ে শোনান। লেখা বক্তৃতা যা সাধারণত হয়ে থাকে-ভাল হয়নি। স্ত্রীর যদি বুদ্ধি কম গঞ্চেত তাহলে তিনি বলতেন, লাইম্যান, তোমার এই বক্তৃতা বিশ্রী লেখা হয়েছে-এটা তাল হবে না। এতে লোকেরা নিয়ে পড়বে। এটা ঠিক যেন বিশ্বকোষ একখানা। এত বছর ধর্মপ্রচারের পর তোমার এর চাইতে কিঞ্চিত বেশী বুদ্ধি থাকা উচিত ছিল। মানুষের মত বক্তৃত। তোষার মুখ থেকে কবে বেরুবে? স্বাভাবিক হতে পারনা, কেন তুমি? এয়ে বক্তৃতা পড়লে তোমর খাতির কনে যাবে।

পৃষ্ঠা:১৩৮

স্ত্রী একথা বলতে হয়ত পারতেন। স্ত্রী তা জানতেন-তাই তিনি কেবল বলে- ছিলেন, নর্ম অ্যামেরিকান রিভিউ পত্রিকার পক্ষে এটি ডান বচনা হয়েছে। ডিগি তাঁকে প্রশংসা করেছিলেন এবং সেই সঙ্গে একখাও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বে বক্তৃতা হিসাবে তা একেবারেই অচল। লাইম্যান অ্যাবট ব্যাপারটা বুঝে তার স্বযত্বে রচিত বক্তৃতা চিড়ে কোন কিছু না লিখেই সোজা বক্তৃতা দিয়েছিলেন।সোজাসুজি ভাবে লোকের স্কুল দেখাবেন না।

চতুবিংশ অধ্যায়

নিজের ভুলের কথা আলোচনা করুন:- আমার ভাইঝি জোসেফিন কার্নেগি তার বাড়ি কামযাস সিটি থেকে নিউইয়র্কে এসেছিল আনার সেফ্রেটারি হয়ে। তার বয়স তখন উনিশ। তিন বছর আগে সে উচচ বিদ্যালয় থেকে পাস করেচে-এবং ব্যবসাবুদ্ধি তার প্রায় ছিলই না। কিন্তু আজ তার যত সেক্রেটারি পাওয়া ভার। প্রথম দিকে যে অনেক কিছু জানত না। একদিন আামি যখন তাকে সমালোচনা করতে নাচ্ছিলাম, তখন নিজেকে বলেছিলাম ডেল কার্নেরি, এক মিনিট অপেক্ষা কর। তোমার জোসেফিদের চাইতে দ্বিগুণ বরব। তার চাইতে তোমার দশ হাজার গুণ বেশী বাবসায় অভি- জ্ঞতা আছে। কেমন করে সে তোমার মত তাবতে পারবে, তোমার যত বৃষ্টি- ভঙ্গী তার হতে পারবে? তোমার যত বিচার-বুদ্ধি, তোমার যত কাজ করবার আগ্রন্থ হতে পারবে, যদিও তোমার ও-গুণগুলি খুবই সাধারণ। খার একটা কথা শোন ডেল কার্ণেগী, উনিশ বচর বরংস তুমি কি করছিলে? গাধার মত ভুলের কথা মনে পড়ে? কত যে হাস্যকর ভুল করেচ, তার কি ইরয়া’ আছে? সে সব কথা মনে রেখ। ব্যাপারটা সৎ এবং নিরপেক্ষভাবে ভাববার পর আমি বুঝতে পারলাম উদিশ বছর বয়সে জোসেফিনের যা ভুল হচ্ছে, তাঁর চাইতে আামাত ভুল সেবয়সে অনেক বেশী হত। কিন্তু তাতেও তাকে বিশিষ্ট প্রশংসা করা হল না। তার দারো অনেক গুণ আছে। অতএব এর পর আমি যখন জোসেফিদের ভুল দেখিয়ে দিতাম তখন আমি এভাবে বলতাম-জোসেফিন তুমি একটা ভুল কন্দ্রে। কিন্তু উপুর জানেদ

পৃষ্ঠা:১৩৯

আমার স্কুলনার তোমার ভুল অতি ক্ষুদ্র। তুমি বিচারবুদ্ধি নিয়ে জন্যাওনি। অতিজ্ঞতা হলে লাস্তে আস্তে বিচারবুদ্ধি আসে-তোনা। বয়সে আমি যাবো খারাপ চিনান। আমি নিজে এত ভুল করেছি যে, কাউকে সমালোচনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু ভেবে দেখ, তুমি যদি অন্যরক্ষন করতে, তাহলে ভাল হত নাকি? নিজের ত্রুটির কথা বক্ত। যদি প্রথমেই বলে নেয়, তাহলে সমালোচনা শোনা শ্রোতার পক্ষে সহ্য হব।

১৯০৯ খ্রীষ্টাব্দে ভই ফন বুলো এরকম উপায় প্রয়োগ করবার ভীষণ পুরো- -ঘন বোধ করেছিলেন। তিনি ছিলেন জার্মানীর ইম্পিত্তিরার চ্যানসেলও। সিংহাসন্দে তখন দ্বিতীয় উইলহেলন। ইনি খুব বদরাগী ছিলেন। ইনি ছিলেন শেষ কাইজার। ইনি যহ। শক্তিশালী সেনা এবং নৌবাহিনী তৈরী করেছিলেন। এর পরে কিন্তু প্রচুর আশ্চর্য ব্যাপার ঘটল। কাইজার অদ্ভুত সব কথা বলতে শুরু করলেন। এর ফলে সহন্ত মহাদেশ সচকিত হয়ে উঠল। সমস্ত পৃথিবীতে শোনা গেল তার প্রাউননি। ব্যাপারটা আরো জটিল করে তুললেন কাইজার নিজেই। প্রকাশ্যে তিনি নির্বোধ, আন্বন্তরী বক্তৃতা দিলেন। তিনি তখন ইংল্যাণ্ডে অতিথি। তিনি ডেইলি টেলিগ্রাফে তার বক্তৃতা ছাপাবার অনুমতি দিলেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় তিনি বলেছিলদে যে, তিনিই একমাত্র আর্যান, যে ইংরেজদের পছন্দ করে। আর সবাই শত্রু। তাছাড়া তিনি জাপানের বিরুদ্ধে নৌবাহিনী প্রয়োগ করবেন। তিনি একাই রাশিয়া এবং ফ্রান্সের হাত থেকে ইংল্যায়কে রক্ষা করেছেন। তার পরিকল্পনায় আফ্রিকায় বোয়ার যুদ্ধে ইংরেজরা জিতেছে-ইত্যাদি। একশো বছরের মধ্যে শান্তির সময় এবন অদ্ভুত কথা কোন ইউরোপের রাজ। উচারণ করেননি। সযন্ত মহাদেশে এ নিয়ে হৈ চৈ পড়ে গেল। ইংল্যান্ডে সবাই চটে লাল হল। জার্মান রাজনীতিকদের ঘৃণার গা’ বি বি করতে লাগল। এই রকম বিপদের সময় কাইজার তর পেয়ে গেলেন। তিনি প্রিন্স বুলোকে ডেকে বললেন যেন তিনি এর সমস্ত দোষ গ্রহণ করেন। কাইজার আরে বললেন বে, বুলোকে সমস্ত দায়িত্বও নিতে হবে। ফন বুলো প্রতিবাদ করে বলেন, এখানে বা জার্মানীতে কেউই বিশ্বাস করবে না যে, আমি রাজাকে এরকম উপদেশ দিতে পারি। যে মুহূর্তে ফন বুলো সে কথা উচচারণ করলেন, সে মুহূর্তে তিনি বুঝলেন একটি গুরুতর স্কুল তার হরেছে। কাইজায় রেখে ফেটে পড়লেন।

পৃষ্ঠা:১৪০

বাইজার বলবেন, আপনি আমাকে কি গাধা মনে করেন? আপনি বা করতে পারতেন না সেরকম ভুন আমি করতে পারি বলে কি আপনি মনে করেন? কন বুলো জানতেন, সমালোচনা করার আগে তার প্রশংসা করা উচিত ছিল। ভাবে তা যখন তিনি সমরনত করতে পারেননি তখন তিনি সেই অবস্থার গণচেরে ভাল জিনিস করেছিলেন। তিনি সমালোচনা করবার পর প্রশংসা করেছিলেন। এর ফলে উপকার হল খুব-প্রশংসা করলে প্রারই না হয়ে থাকে। তিনি শ্রদ্ধা ভরে বললেন, আমি তা মোটেই বলছি না। আপনি আমার চাইতে অনেক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ। নৌ সৈনাবাহিনী ব্যাপারের জ্ঞানই কেবনযাত্র নর, সবচেয়ে বড় জ্ঞান আপনার বিজ্ঞানে? আপনি যখন ব্যারোমিটার বা বেতার টেলিগ্রাম সম্পর্কে বুঝিবে দিয়েছিলেন তখন আাযি শ্রদ্ধার সঙ্গে তা শুনেছি। আমি বিজ্ঞান সম্পর্কে লজ্জাকর ভাবে অজ্ঞ। আমি রক্তনয়নি। সম্পর্কে এফ কণাও জানি না। আমি রসারন বিদ্যা জানি না পদার্থবিদ্যা জানি না। আমি প্রাকৃতিক কোন ব্যাপারেই কিছু জানি না। তবে এর কিছুটা ক্ষতিপূরণ স্বরূপ সম্ভবত আমার কিছুটা ঐতিহাসিক বিদ্যা আছে এবং হয়ত কিছু গুণ আছে যা রাঘনীতি এবং কূট বুদ্ধিতে কিছু কাজে লাগে। কাইজারের মুখ হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। ফন বুলো যে তাকে প্রশংসা করছেন। বুলো তাকে উওচাসনে বসিয়ে নিজেকে নামিরে এনেছেন। কাইজার অতএব এরপর তার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করলেন। তিনি উৎসাহের সঙ্গে বললেন, আপনাকে সর্বদা বলেছি, যে আমরা দুজনের বিখ্যাত পরিপূরক? দুজনে একসঙ্গে থাকা উচিত এবং আমরা তা পাকবও। আয়াদের তিনি ফন বুলোর করবদন করলেন-একবার নয়, কয়েকবার। পরে সে দিন তিনি হাত দুটো বুঠো করে বলেছিলেন, যদি কেউ ফল ৰুলো সম্পর্কে খারাপ কথা বলে তবে তার নাকে আমি মুদি মারব।

ক্ষন বুলো সময় যত নিজেকে বাঁচিয়েচিলেন। কিন্তু খুব চালাক লোক হরেও তিনি একটি ভুল করেছিলেন। তাঁর উচিত ঢিল নিজেকে সমালোচনা করে কথা শুরু করা এবং উইলহেলমের প্রশংসা করা। যা ফাইজারের রাগকে জল করে দিয়ে শত্রুকে বন্ধুতে পরিণত করেছিল তা আম:দের লোকদের সঙ্গে ব্যবহারে দৈন।পন জীবনযাত্রার কতখানি কাজ করতে পারে। খুব সঠিক ভাবে ব্যবহার করণে এর ফলে মানুষের সঙ্গে ব্যবহারে আমূল পরিবর্তন জানবে। অন্ত লোককে সমালোচনা করার আগে নিজেকে সমালোচনা করুন।

পৃষ্ঠা  ১৪১ থেকে ১৬৩

পৃষ্ঠা:১৪১

পঞ্চবিংশ অধ্যায়

হুকুম কেউই ভালবাসে না:- সম্প্রতি আমেরিকার লোকদের জীবনী লেখক-লেখিকাদের ডীন মিস ইঙ। চার- খেলের সঙ্গে ডিনারে বাবায় সৌভাগ্য হয়েছিল। আমি তাঁকে এই বইখানা বিখছি সেকথা জানিয়েছিলাম। তখন আমরা লোকদের সঙ্গে মিশবার এবং কাজ ফরবার সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেছিলাম। তিনি জামিয়েছিলেন যে, ওরেন ডিইরং-এর জীবনী লিখবার সময় তাঁকে একজন ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা করতে হব। এই ভদ্রলোক মিস্টার ইরঙের সঙ্গে এক অফিসে তিন বছর কাজ করেছিলেন। তিনি জানান সমঞ্চ সহরের মধ্যে একবার তিনি নিস্টার ইয়ংকে সোজাসুজি হুকুম দিতে শোনেননি। তিনি সব সময় হুকুমের বদলে উপদেশ দিতেন। ইরং কখনও বলতেন না, এই করো, তাই করে। বা এটা করে। না-সেটা করো না। তিনি এর বদলে বলতেন ভূমি এটা তেবে দেখতে পার অথবা তোমার কি ধারণা এতে কাজ হবে? প্রায়ই তিনি একটি চিঠি টেনোকে মুখে বলে দিয়ে সেটা লেখা শেষ হলে জিজ্ঞেণ করতেন, কেমন হয়েছে চিঠিটা। কোন কোন ফ্যাসিস্টান্টের চিঠি পড়ে হয়ত বলতেন, যদি আমরা চিঠির তাগা একটু বদলাই তাহলে কেমন হয়? তিনি সব সময়েই অন্য লোককে মিছে থেকে কাজ করবার সুযোগ দিতেন। তিনি অ্যাসিস্টান্টদের কখনো বলতেন না ফি করতে হবে-ভুল কবে তাঁরা শিখুক তাই তিনি চাইতেন। সোজাসুজি হুকুম না করে প্রশ্ন করুন।

ষড়বিংশ অধ্যায়

অন্য লোককে মুখরক্ষা করতে দিন:-  বড় বছর আগে জেনাবেল ইলেকট্কি কোম্পানী চার্ল স্টাইনমেন্টৎসবে একট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচপদ থেকে সরাতে চেয়েছিলেন। ব্যাপারটা খুব সহজ ছিল না। হিসাবরক্ষা বিভাগের কর্তা হিসাবে স্টাইনমেটৎস ছিলেন একেবারে আনাড়ি, কিন্তু বৈদুতিক ব্যাপারে তাঁর ছিল অসাধারণ জ্ঞান। অথচ তাঁকে কোম্পানী কোনব্রুনেই আঘাত দিতে চানান। তাঁকে ভাড়া কোম্পানীর চলবে না, অথচ তিনি খুব সামান্য ব্যাপারেই স্বাধাত পান-অতএব কোম্পানী তাঁকে একটা নতুন উপাৰি দিল-জেনারের ইলেকট্রিক কোম্পানীর উপদেশকারী।

পৃষ্ঠা:১৪২

অন্য নেকিকে মুখরক্ষ। করতে দিন:-  এই কাজই তিনি আাগে করছিলেন। কিন্তু তাঁর উদাবি বদলে যাওয়াতে অন্য একজন লোক ডিপার্টমেন্টের তার নিদেন। স্টাইনবোটৎস এতে খুশি হয়েছিলেন। জেনাবেল ইলেকট্রিকের অফিসাররাও খুব খুশি হয়েছিলেন এ ব্যাপারে। কোন রকম গোলমান না করেই তাঁরা কাজ হাসিল করেছিলেন এবং এতে স্টাইন- মেটএসেরও মুখরক্ষ। হয়েছিল। অন্য বোককে মুখরক্ষ। করা বে কি বিরাট ব্যাপার। অথচ আসাদের মধ্যে ক’জনে এমন চিন্তা করে থাকি। আমরা অন্যের অনুভূতিকে চিন্তাহীন তাবে আঘাত করি। আমাদের নিজেদের কাজ হাসিল করি-অন্যের দোষ খুঁজি, অন্যকে হুমকি দিই। একটি শিশুকে বা একটি কর্মচারীকে অন্যের সামনে অপদস্থ করি। এতে যে অন্যলোকের গর্বে আঘাত লাগতে পাবে তা ডাবিনা। অথচ কয়েক মিনিট চিন্তা করলেই ব্যাপারটা কত সহজে সমাধান করা যায়। দুই একটি সমূদয় কথা, অন্যের মনোভাব ভাল করে বুঝলে এরকম দুর্ঘটনা কত সহজে এড়ানো যার। এরপর কোন চাকর বা কোন কর্মচারীকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেবার প্রয়ো- জন হলে আমাদের চিন্তা করে দেখা উচিত। রোককে কর্মচ্যুত করার মানন্স কম। নিজে কর্মচ্যুত হওয়া আরো কম আনন্দের। কথাটি আমার নয়, কথাটি একটি চিঠিতে আয়ে। চিঠিটি লিখেছেন বিষ্টার গেজার নামক এক ভদ্রলোক। তিনি একজন পাবলিক অ্যাকাউনট্যান্ট। তিনি যারো লিখেছেন: আমাদের ব্যবসার সরগুনের পর যখন মন্দ। গড়ে তখন বার্চ যাতে আমাদের লোক প্রচুর ছাঁটাই করতে হয়। আমাদের পেশার একার্ট চলতি কথা আছে, যার মানে হল কেউ কুড়ুল চালিয়ে আনন্দ পায়না। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিটরে ফেলা হয় অনেকটা এই তাবে মিটায় নিম্নখ, আর আপনাকে প্রয়োজন নেই। যথাস্তুম শেষ হয়ে গিয়েছে-ত। দাড়া আপনাকে তো সামরিক ভাবেই দেওর। হরেছিল, ইত্যাদি। যাকে এমন কথ। বন। হত তার কাছে বলাই বাহুল্য এ কথাগুল্যে খুব শ্রুতি- যবুর হত না, তারা ভাবতো তাদের বেশ ঠকানো হয়েছে। কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই হিসাবপত্রের কাজে তাদের সমন্ত, জীয়ন ফাটিয়েছে-তাই বে প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মচ্যুত করত-সে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের কোন রকম ভক্তি শ্রদ্ধা হত না। সম্প্রন্তি দ্বির করেছিলাম যে বাড়তি লোকদের যেতে বলার সময় আমি একটু কৌশল অবলম্বন করব। আমি শীতের সময় প্রত্যেকট লোক কি কাজ

পৃষ্ঠা:১৪৩

করেছে দেখে প্রাতটি লোককে আলাদা করে ঢাকলাম। দাবি অনেকটা এ তাবে বলেছিলান: বিষ্টার স্নিখ, আপনি খুব ভাল কাজ করেছেন (যদি অবশ্য তিনি ভাল কাজ করে থাকেন)। সেই যে আপনাকে নিষ্ট আর্কে পাঠিয়েছিলাম সেলারে সেটা বেশ শক্ত কাজ ছিল। খাপনায় বেশ কষ্ট হয়েছিল কিন্তু আপনি সফলতার সঙ্গে সে কাজ করেছিলেন। আপনাকে জানাতে চাই যে এই প্রতি- চান আপনার জন্য গর্ব অনুভব করে। আপনি জানেন কাজ কেমন করে করতে হর। আপনি জীবনে যখের উন্নতি করবেন-তা বেখানেই কাজ করুন না কেন। এই প্রতিষ্ঠান আপনাকে বিশ্বাস করে এবং যখনই সম্ভব আপনাকে নেওয়া হবে এটা আপনি কিছুতেই ভুলবেন না।

এর ফলে কি হয়। এর ফলে লোকেরা কর্মচ্যুত হরেও অনেকাটা ভাল বোধ করে। তাদের ঠকানো হয়েছে মনে করেন। তাঁরা জানেন যে কাজ খানি থাকলে তাঁদেরই ডাকা হবে। এরপর বর্তন তাঁদের আবার ডাকা হয় তখন। তাঁরা বুণী মনেই আসেন-ব্যাঞ্জনত ভাবে তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্ধুদ্ধ হয়ে বার। -ভূতপূর্ব জোরাই মরে। দুই ঘোর শত্রুর মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে আশ্চর্য ওস্তাদ ছিলেন। কেমন করে তিনি তা করতেন? তিনি খুব বিচার বিবেচন। করে দেখতেন দু’পক্ষের বক্তব্য দু’পঞ্চ যাতে সত্যিকারের বিচার পায়, সেজন্য তিনি উত্তর পক্ষের গুণাগুলি তুলে ধরতেন। বিচারে যা রায় হত তা হত, কিন্তু কোন লোফকে ভুল প্রমাণ করা হত না। যে কোন বিচারক তা জানেন-লোকের মুখরক্ষা একান্ত প্রয়োজনীয়। সত্যিকারের বাঁর। বড়, পৃথিবীময় নিজেদেশ জরলাত নিয়ে বেশী সমর চিত্তা করে তার। যানন্দ পান না। মুস্তাফা কামাল বুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এই বলে, আাপনাদের রক্ষ্য ভূনব্য- সাগর। তুরস্কের সঙ্গে দারুণ যুদ্ধে গ্রীকদের পরাজয় ঘটে। গ্রীসের দুই সেনা- পতিকে বখন কার্যাবের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন রাস্তার সবাই ওয়ানক। তাবে তাঁদের পরাজিত শত্রু বলে গালাগালি করছিল। কিন্তু কামাদের ব্যবহারে জয়ের ভাব ছিল না মোটেই। তিনি তাঁদের হাত জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ভদ্রমহোদয়গণ, আপনারা বলুন, নিশ্চয়ই আপনারা শ্রান্ত। তারপর যুদ্ধ সম্পর্কে ভালভাবে আলোচনা করে বললেন, যুদ্ধ এক রকমের খেলা, এ খেলার সব সময় শ্রেষ্ঠ সৈন্যদের জয় হয় না। বিজয়ের চরম মুহুর্তেও কামাল তুলেন নি যে, অন্যদের মুখরক্ষা করতে দেওয়া উচিত। –

পৃষ্ঠা:১৪৪

সপ্তবিংশ অধ্যায়

সাফল্য লাভ করানো:- বি পীট বারলোকে চিনতাম। উনি কুকুর এবং ঘোড়ায় খেলা দেবিরে এক দেশ থেকে অন্যদেশে ঘুরতেন। আমি দেখতাম কেমন করে পীট নতুন কুকুর- দের খেলা শেখাতেন। যে কুকুরটি সামান্য উন্নতিও দেখাত, বারলো তার পিট চাপড়ে আদর করতেন এবং যহাখাতির করে মাংস খেতে দিতেন। ব্যাপারটা নতুন নয়, অস্তদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য উপায় বহু শত বছর ধরে চলে আসছে। আমরা কুকুরদের বদলানোর জন্য যে ব্যবহার করি তা আমরা কেন মানুষের বেধায় ব্যবহার করি না? আমরা চাবুকের বদলে মাংস দেবার ব্যবস্থা কারণ। কেন? আমরা গালাগালের পরিবর্তে প্রশংসা কেন করি না? আসুন আমরা সামান্য উন্নতি দেখানো মাত্র প্রশংসা করি। এর ফলে অন্য ব্যক্তির উন্নতি করবার উৎসাহ বাড়ে। ওরার্ডেন লুইস ই লন্ডন দেখেছেন যে সামান্য উন্নতি করবে তাঁর জন্য প্রশংসা করলেও কাজ হয়। দিং সিং-এর শক্ত গার্থীরাও প্রশংসা করলে উন্নতি করন্ধে সচেষ্ট হয়। তিনি বলেছেন, আমি দেখেছি যে তাদের দোমের জন্য গালাগালি করার চাইতে সামান্য ভান কাজের প্রশংসা করনে তাদের সহযোগিতা বেশী পাওয়া যায়। তারা নগদ দেন থেকে বেরোয় তখন পুনর্বাসনও তাদের পক্ষে। সহজ হরে আসে। আমাকে সিং সিং-এ ভর্তি করা হয়নি-অন্তত এখনো হয়নি। আমি যখন আমার বাল্যকালের কথা ভেবে দেখি তখন মনে পড়ে করেকটি ভার কথার আমার জীবনের মোড় মুড়ে গেছে। আপনার নিজের সম্পর্কে কি তা বলতে পারেন না? সমস্ত ইতিহাসে এরকম ঘটনার অভাব নেই-প্রশংসার ফলে ভাল কাথ হয়। উদাহরণ দিই একটা। পঞ্চাশ বছর আগে দশ বছরের একটি ছেলে নেপ লসের একটি কারখানার কাজ করছিল। সে গায়ক হতে চেয়েছিল, কিন্তু তার প্রখম শিক্ষক এ ব্যাপারে দিরুৎসাহ কথোইলেন তাকে। তিনি বলেছিলেন, তোমার মোটেই গলা নেই। ডোমার গলার আওয়াজ আর জানালার খরণরির ভেতর থেকে আস। বাতাসের শব্দের সঙ্গে কোন তফাত নেই।

পৃষ্ঠা:১৪৫

কিন্তু তার মা বললেন তার গান গাইবার ক্ষমতা আছে। কেবল তাই নয় অনেক দারিদ্র্য সহ্য করে তিনি চেনেকে গান গাইতে শেখালেন। সেই চাষী- মা-এর প্রশংসার ফলে ছেলেটির জীবন পরিবর্তিত চারে গিরেছিল। আপনারা তার নাম শুনে থাকবেন-কাকনো। বহু বছর আগে লওনে একজন লেখক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছুতেই তিনি কিছু করতে পারছিলেন না। তিমি চার বছরের বেশী ক্ষুব্ধল পড়তে পারেননি। তাঁর পিতার জেল হয়েছিল দেনার দায়ে। এই তরুণকেও যাশে মাঝে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। অবশেষে তিনি ইধুরে তরা গুনান যতে বোতলে লেখেন আটবার চাকুরী নিলেন। দরিমের সঙ্গে এবং লঞ্চনের খুব খারাপ বস্তীর দুই ছেলের সঙ্গে তিনি একত্রে থাকতেন। তাঁর নিজের লেখার শক্তির উপর এত কম বিশ্বাস ছিল রে তিনি ভোর বেলা উঠে গোপনে গড় ডাকে পাঠাতেন। গল্প ফেরত আসত, আবার তিনি পাঠাতেন। একদিন একটা গল্প অনুমোদিত হব। যদিও একটি শিলিংও তাঁর জোটেনি এজন্য, কিন্তু তাতে কি হয়েছে একটি সম্পাদক তাঁর গল্প ছেপেছে, একটি সম্পাদকের প্রশংসা তিনি পেরেছিলেন। তিনি এতে আস্থে উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন কে লণ্ডনের রাস্তার ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। একটি গয় ছাপার অক্ষরে দেখা মানে তাঁর শক্তিকে স্বীকার করে নেওয়া। তার ফলে তার জীবনই বদলে গেল একেবারে। যদি তাঁর ঐ গল্পটি ছাপা ন্য হত: তাহলে হয়তো কখনই তাঁর লেখক হওয়া হত ন্য-বোতলে লেবেলই মারতে হাত চিরকাল। এই নাম শুনে থাকবেন আপনারা-চার্লস ডিকেনস। পঞ্চাশ বছর আগে লগুনে শুকনো যানের দোকানের একজন কেরানীর কথা বলছি। তাঁকে সকাল পাঁচটার উঠতে হত, ঘর গান দিতে হত এবা তারপর চৌখ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করতে হত। এরকম কষ্টকে তিনি খুণ। করতেন। তাঁর অসহ্য হয়ে উঠল এমন ভাবে কাজ করা। একদিন সকালে উঠে ব্রেকফাষ্ট না খেয়ে পোদের মাইল হেঁটে তার হাকে এসে বললেন সব কথা। তার মা একটি বাড়ি দেখাশুনা করতেন। তিনি প্রায় উন্মাদ হয়ে যায়ের কাছে মিনতি করতে লাগলেন, তিনি কেঁদে ফেললেন। বললেন যে দোকানে থাকার চাইতে আন্তহত্যা করাও তিনি শ্রেয় যমে করেন। তিনি পুরানো ক্ষুষ মাষ্টারকে তার করুণ কাহিনী লিখে পাঠালেন। পূরানো স্কুল মাষ্টার তাকে একটু প্রশংসা করলেন এবং লিখলেন যে তিনি তাকে স্কুল মাষ্টারের পদে গ্রহণ করতে রাজি আছেন।

পৃষ্ঠা:১৪৬

বাফনা নাত করানো:- তার বলে একটি লোকের জীবন গেল বদলে। সেই প্রশংসার ফলে ইংরেজী সাহত্যি চিরকালের জন। হলো সমৃদ্ধতর। সেই ছেলেটি পরে সাতাত্তরটি বই লিখেচিলেন-এবং প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা আয় করেছিলেন। তার সাম আপনারা জানেন, এইচ, জি. ওয়েলস। ক্যালিফোদিয়ার লরেন্স টিবেটের জীবনের যোড় ফিরেছিন রূপার্ট হিউসেব কখায়। রূপার্ট হিউস বলেছিলেন, আপনার গলা ডাল-ভবিষ্যতে বড় হবার সম্ভাবনা গাছে-আপনার নিউইয়র্কে গান শেখা উচিত। এর ফলে তিনি বারো হাজার টাকা ধার করে পূর্ব দিকে যাত্রা করেন। লোকদের আামরাও বদলাতে পাবি। তাদের লুপ্ত গুনগুনিকে কাদে লাগানোর জন্য প্রেরণা দিলেই তা হতে পারে। এটা করলে আমরা সত্যি সত্যি আক্ষরিক ভাবে লোকদের বদলাতে পারি। শাড়িয়ে বলছি কি? তাহলে হার্ভার্ডের উইলিয়াম জেমসের কথা শুনুন। আমাদের না হওয়া উচিত তার কেবল অর্দেক সম্বন্ধে আযরা সচেতন। আমরা কেবল আমাদের শারীরিক এবং মানসিক শাক্তর অংশমাত্র ব্যবহার করছি। সোজাসুজি বলতে গেলে বলতে হয় যে মানুষ তার শক্তির সামান্য অংশ যাত্র ব্যবহার করছে। মানুষের অনেক শক্তি আছে, কিন্তু সে প্রায়ই তা ব্যবহার করে না। হ্যাঁ, আাপনার নানারকম ক্ষনতা যাছে-অথচ আপনি তা প্রায়ই ব্যবহার করেন না। আর আপনার যে অন্য লোকদের প্রশংসা করবার ক্ষমতা আছে তাও হয়ত আপনি পুরোপুরি ব্যবহার করছেন মা। তা করলে লোকদের কৃপ্ত- শুণ সম্বন্ধে তারা নিজেরা বাইত হবে। এর ফলে তারা কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হবে। সামান্য উন্নতি দেখলেই প্রশংসা করুন-যেটুকু উন্নতি দেখছেন তারই প্রশংসা করুন।

অষ্টাবিংশ অধ্যায়

প্রশংসা করা ভালো আমার এক বন্ধুর নাম মিসেস আার্নেস্ট জেন্ট। নিউইয়র্কে এর বাড়ি। তিনি একটি ঝিকে সোনবার থেকে কাজ রেতে বলেছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি সেই থি যাদের বাড়ীতে এর পূর্বে কাজ করেছিল তাদেন বাড়ীতে ফোন করে জানবেন ঝি-টি সব বিষয়ে ভাল দত্র। ত্বি যখন কাজ করতে এল তখন মিসেস জেন্ট তাকে বললেন, মেলি, “তোমার সম্পআেটি খোঁজ খবর নিয়ে ই-এর আগে যাদের বাড়ীতে কাজ করতে তাদের কড়া ঢেকে। তারা বললেন জুটি এৎ এবং

পৃষ্ঠা:১৪৭

বিশ্বাসযোগ্য-কিন্তু তারা বললেন তুমি ভাল করে পোশাক পর না এবং ঘর বাড়ি মোটেই পরিষ্কার রাখ না। এখন আমার বনে হচ্ছে তাঁয়া ঠিক কথা বলেন দি। স্পষ্টই দেখছি তোমার পোষাক খুব পরিষ্কার, তুমি নিজেও বথেষ্ট ছিমছান। সবাই এ বিষয়ে একষত হবে। তুমি যে বাড়িঘরও পরিষ্কার রাখবে সে বিষয়েও পামি নিঃসন্ধেহ। তোমার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভাল হবে বলেই আমরা মনে করি। সম্পর্ক ভালই হয়েছিল পরে। নেলিকে গ্যাতি বজায় রাখতে হত। এবং বিশ্বাস করুন সে তার খ্যাতিকে বন্ধার রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করত। সে বাড়িটা ঝকঝকে করে রাখত। যে বাড়ির জন্য অতিরিক্ত ঘন্টাখানেক পরিশ্রম করত। নিসেস মেন্টের ধারণা যা ছিল সে ধারণা যাতে ভেঙে না যায় সে জন্য সে যথেষ্ট চেষ্টা করত। বলম্ভইন লোকোমোটিভ ওয়ার্কসের প্রেসিডেন্ট সামুয়েল তাউক্রেইন বলে- ছিলেন সাধারণত লোককে যদি কেবল বিশেষ গুণের অধিকারী বলে সম্মান দেওয় হয় এবং সেজন্য তাকে শ্রদ্ধা করা হয় তাহলে সে সেই কাজ করতে বিশেষ ভাবেই চেষ্টা করবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে-যদি কোন লোককে বিশেষ ব্যাপারে উন্নতি করানো আামাদের ইচ্ছে হয় তাহলে এখন ভাবে ব্যবহার করা উচিত বেন তার সে গুণর্টি বর্তমান। শেক্সপীরর বলেছিলেন, যদি ঋণ না থাকে, তাহলে তার অভিনয় কর। বে লোকটির যে বিশেষ গুণ নেই, তা যদি আছে বলে ধরে নেওয়া হয় তাহলে বে তান নেই খ্যাটিকে বাঁচিরে রাববার চেষ্টা করে। আপনাকে হতাশ করবার চাইতে সে প্রাণপণ চেষ্টা করবে আপনার ধারণা যত মানুষ হবার। একটি পুরানো প্রবাদ ‘খায়ে, এপটি শুকুরকে বদনাম দেওরা মানেই তাকে প্রায় কাঁসি দেওরা কিন্তু একটি শুরুংকে প্রশংসা ঢন-এর ফলে কি হয় নিজেই দেখুন। প্রায় সবাই বলাকা এ. গরী। ডিনারী, তোর যে কেউই হোক না কেন, একবার তাদের সৎ ব্যাদে ভান সৎ হই চেটা করবে। সিং লিঃ বন্দীশালার ওয়ার্ডেন লন্ডস বরেছেণ, কোন পূর্ব ত্তের সঙ্গে ব্যবহারের একটি যাত্র উপায় খাছে-তা ঋণ তাকে সম্মানিত ভদ্রলোক বলে গণ্য করা। এর কথে তবে হারা তান কাজ করানো সম্ভব। বকে দিন, লোকটি সৎ-বনে কোন খ্যাচ নেই। যে এমন ব্যবহারে এত অভিভূত হয়ে পড়বে যে, যে হরত সৎ হবে বেতেও পারে। যে গর্ববোধ করবে এই ভেবে যে একজন তাকে অন্ততঃ বিশ্বাস করে। লোককে ভাল করে প্রশংসা করুন। এর ফলে সে ভাল হবার চেষ্টা করবে।

পৃষ্ঠা:১৪৮

ঊনত্রিংশ অধ্যায়

ভ্রম সংশোধন করুন:- কিছুদিন আগে আমার একজন চল্লিশ বছর বয়সের অবিবাহিত বন্ধু বিয়ে করবে স্থির করেছিল। ভাবী স্ত্রী তাকে নাচ শিখতে বলেছিল। বন্ধুটি আমাকে বলেছিলেন আমার নাচ শিখবার প্রয়োজন ছিল, কারণ কুড়ি বছর আগে যেমন খারাপ নাচতাম এখনও সে অবস্থার কিছুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। প্রথম, যে শিক্ষকের কাছ থেকে নাচ শিখেছিলাম তিনি হয়ত ঠিকই বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন ‘খাবার কিছুই ঠিক হচ্ছে না-জাবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। একখায় আমার মন ভেঙে গিয়েছিল-নাচ শিখবার উৎসাহ আমার বম্পূর্ণরূপে দোগ পেরেছিল। আমি নাচ শেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। গরে যিদি আমাকে নাচ শেখাচ্ছিলেন তিনি হয়ত সাত্যৰখা বলছিলেন না, কিন্তু তাঁকে আমার পছন্দ হয়ছিল। তিনি আামাকে গম্ভীর ভাবে বলেছিলেন যে, আমার সাচের কারদাতা পুরানো হয়ত, কিন্তু ভুল নয়। তিনি আমাকে বলে ছিলেন কতকগুাদ নতুন কারদা শিখতে ক্ষতি দেই। প্রথম শিক্ষক আমাকে আমার ভূনটোর উপর জোর দিয়েছিলেন, কিন্তু নতুন শিক্ষক ঠিক তার উটে। করলেন। আমি যেগুলি ঠিকমত করছিলাম সেগুলো সম্পর্কে তিনি প্রচুর প্রশংসা করতিছেন এবং ভুলগুলোকে প্রায় বর্তব্যের মধ্যেই আনছিলেন না। তিান আমাকে বলেছিলেন, তোমার জন্ম সম্বন্ধে স্বাভাবিক ধারণা আছে। তুমি বেন নাচিয়ে হয়েই জন্মেছ। আমার সাধারণ জ্ঞান বেদে আদি বুঝতে পারি যে আমি কোনদিনই চতুর্থ শ্রেণীর নাচিরের চাইতে ভাল ছিলাম না এবং ডাল হবও না। অথচ বামার অন্তরে একথাটা মনে হয় বে হয়ত ভীর ধারণা ঠিক। সত্যি কল্প বলতে কি তাঁকে ঐ কথা বলার জন্যই তো আামি টাকা দিচ্ছিনান। সেকখ। উল্লেখ করছি কেন? সেকথা উল্লেখ করছি বাণ সামি জানি জামাকে বদি ঐ রকম ভাবে এবং ঐ রকর ভাষায় প্রশংসা করা না হত তাহলে আাজ আমি যেমন নাচতে স্মরি, তার চাইতে অনেক খারাপ নেচেই আমাকে সন্তুষ্ট থাকতে হত। যে কোন লোককে বলা যায় সে বোকা, কোন একটি কাজও তার দ্বারা হন্ডে পারেনা, সে ভুল করে-ইত্যাদি কথা শুনলে উন্নতি করার তার সামান্য স্পৃহাষ্ট্র- কুন্ড বিনষ্ট হয়। ঠিক এর উলটো ব্যবহার করলে কিন্তু উপকার হয়। এক

পৃষ্ঠা:১৪৯

প্রশংসা করা কাজটা খুব কঠিন নয় এবং তা করলে কাজ হয়। বলা উচিত তার একাদে সাফল্য হবেই এবং একাজে তার স্বাভাবিক দখল আছে। এসব কথা শুনলে যে প্রাশগণ চেষ্টা করবে উন্নতি করবার। লোয়েল উযাশ এই ধরণের উপদেশ দিয়ে থাকেন। মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত সে সম্পর্কে রোয়েল টমাসের অগাধ পাণ্ডিত্য আছে। তিনি আপনাকে তৈরী করে তোলেন, আপনাকে বিশ্বাস দেন, তিনি আপনাকে সাহস দেন। একটা ঘটনা বললে বোঝা যাবে। সম্প্রতি আমি নিস্টার এবং হিসেগ টমাসের আতিথ্য গ্রহণ করি সপ্তাহান্তের জন্য। সেখানে শনিবার রাত্রে মিস্টার টমাস আমাকে ব্রীজ খেলতে বললেন। ব্রীজ পেলব আামি? মা-না সে হতে পারে না। আমি কিছুই জানি না সে খেলা সম্বন্ধে। ঐ খেলাটি চিরকালই আমার কাছে রহস্যখন বয়ে গেল। নানা খামার দ্বারা ও-খেলা সম্ভব নর। ভেল, এতে কৌশন নেই কিছুই লোয়েল উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন ব্রীজ খেলায় প্রয়োজন স্মৃতিশক্তি এবং বিচার বুদ্ধি-এ দুই-ই তোমার আছে। তোমর পক্ষে ব্রীজ খেলা সহজ।এবং আশ্চর্য ব্যাপার কি করছি ভাল করে বুঝবায় আগেই দেখলাম জানি ব্রীজের টেবিলে বসেছি-এর একমাত্র কারণ যে আমাকে বলা হয়েছির ডানার পক্ষে ব্রীজ বেলা সহজ-খেলাটাকে শত্রু বলে মোটেই যনে হরনি। শ্রীজের কথায় এসে কালবার্টসনের কথা যদে পড়ল। কালবার্টসন তাগ্যের জন্য নান্য ব্যবসা ধরেছিলেন-তিনি সমাজবিদ্যা এবং দর্শন শেখাতে চেয়ে- ছিলেন-পারেন নি, করলা বিক্রি করার চেষ্টা করেছিলেন, ফিন্তু সুবিবে হরনি। শেষে বাড়ী বিক্রি করতে গিয়েও ব্যর্থ হলেন। অবশেষে একটি মেয়ে তাকে শ্রীজ বেলা শেণাতে বসে-প্রেষণা দেয়। এলি কালবার্টসনের শ্রীজ সম্পকীয় বই দশ লক্ষেরও বেশী বিক্রি হয়েছে। অন্য গোনকে না ঢাঁটবে তাদের ঠিক পথে আনবার জন্য উৎসাহ দিন। যেটা ত্রুটি তা সংশোধন করা কঠিন নয় একথা বলুন।

পৃষ্ঠা:১৫০

ত্রিংশ অধ্যায়

আপনি যা চান:- ১৯১৫ যালে ইউরোপে বৃদ্ধ হব। এমন রক্তাক্ত ৰুদ্ধ তার আগে পার হয়নি। এ যুদ্ধ কি থামানো যায়না? তা বরা কাতর পক্ষেই সম্ভব ছিল না। উড়ো উইলসন চেষ্টা করে দেখবেন সঙ্কর করেছিলেন। এর জন্য সেক্রেটারি অফ স্টেট প্রারাদের যাবার কথা, কিয় উইলসন তার বন্ধুকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইউরোপে পাঠাতে চাইলেন। তার নাম কর্ণের হাউস। তার প্রখম কাজ হল সেক্রেটারী অফ স্টেটকে গিরে এই অপ্রীতিকর খবরটি দেওয়া। তার কারণ সেক্রেটারী অফ স্টেট ব্রায়ান শান্তি প্রতিষ্ঠা করবার জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন। হাউস তার ভারেরিতে লিখেছেন, ব্রারান আমার কথা শুনে হতাস হবেন। তিনি নিজে এ কাজ করবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। আমি তাই তাঁকে বললাম প্রেসিডেন্ট চান না যে এ ব্যাপারে সরকারীভাবে কিছু করা হউক। আপনি। গেলে বিরাট কৌতূষণের সৃষ্টি হবে। লোকেরা ভাবতে শুরু করবে আপনি কেন গেলেন সেখানে। ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন? হাউস বায়ানকে এমন কথা বলবেন যাতে এ কথা বুঝিয়ে দেওরা হল যে, কাজটা সামান্য, শ্রাযানের মত বিরাট ব্যক্তির সে গানে যাবার প্রয়োজন নেই। হাউস চালাক লোক। অন্যকে খুশি করবার ক্ষমতা ছিল; মানুষের এমন ক্ষমতা প্রয়োজন। এক প্রকাশক এই ব্যাপারটা ভাল করেই জানতেন। ও’হেনরির প্রকাশক ছিলেন তবলতে পেজ। এই প্রতিষ্ঠান ‘ও’হেনরির কোন গর এখন তাখায় প্রত্যা- খ্যান কয়তেন, এমন সুন্দর ব্যবহার করতেন এবং প্রশংসা ফরতেন যে অন্য কোন প্রকাশক তার গল্প প্রকাশের জন্য গ্রহণ করলে স্তখানি খুশি হতেন-ডকলডে পেজ প্রত্যাখ্যান করলে ও’হেনরি তার চাইতে বেশী ধুণী হতেন। একটি বড় প্রতিধামে একদ। সেকানিক ছিলেন। তার কাজ ছিল টাইপ- বাইটার এবং অর্থ্যান্য যন্ত্রপাতি ঠিকমত চর্মক্ষম করে রাখা। তাকে বহুক্ষণ কাজ করতে হত। তিনি প্রায়ই অভিযোগ করতেন যে একা এত কাজ করতে পারবেন না, একজন সহকারী প্রজেন।।

পৃষ্ঠা:১৫১

আপনি বা চান:- যেই প্রতিষ্ঠান ডাকে সহকারী দেয় নি, কাজও কমারনি, কিন্তু বা ব্যবস্থা করেছিল তাতে মেকানিকটি সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। কেমন করে তা করা সম্ভব হয়েছিল? তার নিজস্ব একটি অফিস দেওয়া হরেছিল-এবং তার দরজার উপরে লেখা ছিল সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার। এখন তিনি আর কেবল একজন খেয়ানতকারী নন-রীতিমত একজন ব্যানেজার-তাকে রাম, শ্যান, যদু, সধুর আদেশ পালন করতে হবে না আর। এর ফলে সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ববোধ তিনি পেরেছিলেন। এরপর তিনি কাজ সম্বন্ধে কোন অভিযোগ করেন নি। হরতে। এ ছেলেমানুষী। লোকে নেপোলিয়নকেও ছেলেমানুষ বলেছিল যখন বেপোলিয়ন ফরাসীদেশে লীজিয়ন অফ অনার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সৈন্যদের ১৫৫০টি পদক দেন। তার আঠায়দন জেনারেলকে ক্রাম্পের মার্শাল বলে অভিহিত করেন। তিনি তাঁর সৈন্যবাহিনীকে মহান সৈন্যবাহিনী নাম দেন। তাঁকে সমালোচনা করা হয়েছিল এই বলে যে, তিনি যুদ্ধে ওস্তাদ সৈন্য- দের থেরনা দিচ্ছেন। নেপোলিয়ন বলেছিলেন, মানুষকে পুতুলেরাই চালায়। এরকম উপাধি দেওয়ার কৌশল নেপোলিয়নের খুব কাজে লেগেছিল। এরকম কৌশল নেপোলিয়নের যেমন কাজে লেগেছিল তেমনি আপনারও কাজে লাগবে। নিউইথকে আমার এক পরিচিতা ভদ্রমহিলা আছে। তাঁর পাঁৰ বিসেন জেন্ট। তীর সুন্দর লনের উপরে ছেলেরা খুব দৌড়াদৌড়ি করে তচনচ করত। তিনি সমালোচনা করে দেখেছেন কাজ হয়নি, তিনি অনুরোধ উপরোধ করেছেন, তিনি ভর দেখিয়েছেন কোন ফল হয়নি তাতে। অবশেষে তিনি একটি ‘ডিটেকটিভ’ নিয়োগ করলেন। এই ডিটেকটিড়টি হল ছেলেদের মধ্যে সব চেয়ে দুর্দান্ত-এ নিজেই লনের ঘাস নষ্ট করেছে অনেক। তিনি তাকে বাজে বোক বাড়ে রনে ঢুকতে না পারে তা দেখতে অনুরোধ করলেন।

তারপর থেকে লনের উপর ভার কোন অত্যাচার হত না। হলেও এই ডিটেকটিভূট্ট তা প্রতিরোধ করতো?বাবুবের এই রকম চরিত্রে। একবার হোয়ার কর এবং আমি ড্রাগের ভেতর মোটর গাড়ীড়ে যেতে দেতে পর্ব হারিয়ে ফেলি। আমাদের পুরানো গাড়িটিকে খানিয়ে স্বানরা এক দল কৃৎত্বকে নিকটবর্তী শহরের পথ কোথায় জিঞ্জেল করেছিলাম। এই প্রশ্নের ফলে খুব স্মাশ্চর্য এক কাও ঘটেছিল। গ্রামবাসীরা মোটর গাড়ি খুবই কম দেখেছে সে অঞ্চলে। তা ছাড়া ভায়া সমস্ত অ্যােিমরিকানদের ভাবে বুঝি তার। হেনরী ফোর্ডের খুঁড়তো ভাই-তাদের কোটি কোটি টাকা।

পৃষ্ঠা:১৫২

রাখনি যা ভাস:- কিন্তু তা সখেও তারা এখন একাটা জিনিস জানত বা শাহরা জানতাম না। আবরা জানতাম না শহরে যাবার গণ। এর ফলে তাদের শ্রেষ্ঠত্ববোধ জেগেছিল। তাদের মধ্যে একজন নিজে পুরোপুরি হক্কা উপভোগ করবার জন্য সবাইকে খানিয়ে দিয়ে পথ কল দিচ্ছিল। এটা একবার আপনি পরীক্ষা করে দেখুন। কোন নতুন শহরে গিয়ে আপনার চাইতে কম প্রতিষ্ঠাসম্পন্ন কাউকে পথ জিজ্ঞেস করুন এইভাবে; দর। ফরে অমুক রাস্তার কেষান করে যাব তা দেখিয়ে দেবেন ফি? বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন একজন শত্রুকে এভাবে বস্তুতে পরিণত করেন। সে সময় ক্রাঙ্কলিনের শব্স কম-তিনি একটি ছাপাখানায় তাঁর সমন্ত টাকা নিয়োগ করেছিলেন। তিনি কোন উপায়ে ফিলাডেলফিয়ার জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে কেরানী হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই পদ পাওয়ার ফলে তিশি সরকারী সমন্ত ছাপার কাজ করবার ক্ষমতা দাত করেছিলেন। সে কাজে রাত ছিল প্রচুর। বেনজামিন ফ্ল্যাঙ্কলিন সে কাজ করবার জন ব্যগ্র ছিলেন। কিন্তু একটা বিপদ দেখ। দিল-অ্যাসেম্বলিতে একজন তাঁর ধনী শত্রু জুটলেন। এই ব্যক্তি বেনজানিন জ্যাঙ্কলিনকে বেজায় ঘৃণা করতেন। প্রকাশ্যেও তাঁকে বেশ নিন্দা করতেন। ব্যাপারটা খুব সুবিধের ছিল না বলাই বাজল্য। তাই ফ্র্যাঙ্কলিন স্থির করলেন শত্রুকে তিনি বর্ণ করবেন।

কিন্তু কেমন করে? সমস্যা তো সেখানেই। তাঁর শত্রুকে কোন কাজ করে দিয়ে কৃতজ্ঞতা সঞ্চার করানো। না ভাতে সন্দেহ উপস্থিত হবে-ঘৃণ উপস্থিত হওয়াও বিচিত্র নয়। ফ্র্যাঙ্কলিন খুবই চালাক ছিলেন, ড্রাগীও ছিলেন বেশ- তিনি এমন কাও করবেন না কখনই। তিনি ঠিক উলটো ব্যাপার করলেন। তিনি তাঁর পড়কে অনুরোন করবেন একটি উপকার করবার জন্য। ফ্র্যাঙ্কলিন সেজন্য দশ তলার ধার চেয়ে বসলেন না। না! ক্যাগুলির এমন একটি জিনিস চাইলেন যার ফলে সেই ব্যক্তি খুণি হলেন। এর ফলে তাঁকে সম্মান করা হল বলে তিনি বুঝতে পারবেন। এর ফলে তাঁর শিক্ষা, তাঁর কাজ ইত্যাদি সম্পর্কে ফ্র্যাঙ্কলিনের যে শ্রদ্ধা নাছে তাও প্রমাণিত হল। কখাটা ফ্র্যাঙ্কলিনের ভাষায় বলা হচ্ছে: বখন শুনলাম ভদ্রলোকের লাইব্রেরীতে পুরানো দুষ্প্রাপ্য সব বই আছে তখন আমি তাকে একটি চিঠি দিগলায়। তাতে তাকে জানালাম যে তার

পৃষ্ঠা:১৫৩

একখানা বই আমার প্রয়োজন, গেষ্টি যদি তিনি দিন কয়েকের জন্য ধার দেন তো বড় তাদ হয়। তিনি তাড়াতাড়ি সে বই পাঠিয়ে দিবেন। আমি প্রায়, এক সপ্তাহের মধ্যে শে বই ফেরৎ পাঠিয়ে তাকে বিশেষ ধন্যবাদ দিয়ে একখানা চিঠি লিখলাম। এরপর যখন সরকারী ভবনে তার সঙ্গে আমার দেখা হল তিনি নিজে থেকেই আমার সঙ্গে কথা বললেন (এর আগে তিনি কখনও তা বলেননি)। তিনি দেশ ভদ্র ব্যবহারও করলেন। সেই থেকে আরম্ভ করে তাঁর মৃত্যুকাল পর্যন্ত তিনি আমাকে সাহায্য করেছেন এবং আমাদের মধ্যে তাল বন্ধুত্ব ছিল। আমার একজন ছাত্র ঠিক এই উপারেই উপকার পেয়েছিলেন। আমার হাত্রের নাম মিস্টার অ্যানসেল। ইনি পাইপ এবং ঘর গরম করবার যন্ত্রপাতি বিক্রি করতেন। একজন লোকের কাছে তিনি কিছুতেই তাঁর জিনিস কখনও বিক্রি করতে পারেন নি। সে অফিসে গেলে সেই ভদ্রলোক সর্বদাই বলতেন, না, কিছু চাইনা আমার-আমার সময় নষ্ট করবেন না। পথ দেখুন। মিস্টার অ্যামবেল একদিন নতুন উপায় প্রয়োগ করবেন স্থির করলেন। এই নতুন উপারের ফলে নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু হল। এর ফলে বন্ধুত্বও হন।

অ্যানসেল যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন যে প্রতিষ্ঠান লং-স্বীপে একটি নতুন শাখা দোকান, কিনবার কথা ভাবছিলেন। এই অঞ্চলটি সম্পর্কে মিস্টার ক-এর (যিনি একদিন নিষ্টার অ্যানসেলকে রুজু ভাষায় বিদায় করেছেন) জ্ঞান ছিল ভাল। অতএব এর পর নিষ্টার অ্যামসেল যখন বিষ্টার ক-এর সঙ্গে দেখা করলেন তিনি বললেন, মিষ্টার ক, আজ আমি আপনার কাছে পাইপ বিক্রি করতে আসিনি। আপনি কি আমাকে আপনার এক মিনিট সময় দিতে পারবেন। এ মিষ্টার ক-রুথ থেকে সিগার একটু সরিয়ে বললেন, বলবার যা আছে বনে ফেলুন। মিষ্টার অ্যামসেল বললেন, আমাদের প্রতিজ্ঞান বং দ্বীপে একটি দোকান কনবার কথা ভাবছেন-কাপনি ঐ অঞ্চল সম্পর্কে ওলকেবহাল। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করতে এসেছি সেখানে দোকান কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে কি না? এটা একটা রসুন ব্যাপার। এই বিক্রেতাকে তিনি বারবার ফিরিয়ে দিয়ে ছেন কিছু কিনবেন না বলে। কিন্তু এখন যে তো কিছু বিক্রি করতে আসেনি। রূপ এসেছে তার প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে তাঁর কাছে একটা উপদেশের জন্য। তিনি বললেন, বহুন! একথা বলে তিনি একটি চেরায় দিলেন এগিয়ে। এর পর এক ঘণ্টা ধরে তিনি লং আইল্য ণ্ডে দোকান, কেনা উচিত কিনা কে

পৃষ্ঠা:১৫৪

গৃহ জীবনে সুধী হবার উপায়:- সম্পর্কে অনেক কথা বললেন। তিনি বললেন সে অঞ্চলে দোকান কেনা খুবই প্রয়োজনীয়। কেবল তাই নয়, তিনি বিষ্টার অ্যানসেলকে কেবল সে অঞ্চলে কেমন ভাবে জবি কিনতে হয় তা বললেন না, তিনি কেমন করে যে অঞ্চলে ব্যবসা করতে হয় সে সম্পর্কেও প্রচুর কার্যকর উপদেশ দিলেন। মিষ্টার অ্যাবসেন বলেছেন; যখন আমি সন্ধ্যে বেনা তাঁর কান্ড থেকে চলে আনি তখন আমার পকেটে কেবল অনেক টাকার অর্ডারই ছিলনা; আবার সঙ্গে তার বন্ধুত্বও হয়ে গিয়েছিল। যে লোক এতদিন আমাকে কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে তাড়িয়ে দিয়েছে তাঁর কাছ থেকে সামান্য করুণা তিক্ষা করতেই কতখানি কাজ হন। কারণ এতে শ্রেষ্ঠত্ববোধকে প্রশ্নর দেওয়া হয়েছিল।

একত্রিংশ অধ্যায়

গ্রহ জীবনে সুখী হবার উপায়:- ফ্রাম্পের তৃতীয় নেপোলিয়ন ছিলেন নেপোলিয়ন বোনাপার্ট-এর আন্তীয়। পঁচাত্তর বছর আগে তিনি নারী ইউজেনি ইগদেন অর্থায়াইম দে যস্তিনো নাহক বেরেটির প্রেমে পড়েন। এই মহিলাটি অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন। তৃতীয় নেপো লিয়ন এই মহিলাটিকে বিয়ে করেন। তাঁর পরামর্শদাতা অবশ্য বললেন, এ ঠিক রাজযোটক হয়নি, কারণ মেয়েটি তো কেবল একজন স্পেন দেশের কাউন্টের মেয়ে। তৃতীয় নেপোলিয়ন বললেন, তাতে কি হয়েছে, মেয়েটি সুন্দরী, তার সুন্দর কথাবার্তা চাল চলন স্বর্গীয়। সিংহাসনে বসে তিনি যে ঘোষণা করেন তা ছিল দেশের তৎকালীন মতের পরিপন্থী। তিনি বললেন, আমি এমন একটি নেরেক বেছে নিয়েছি যাকে ভালবাসি এবং শ্রদ্ধা করি। আমি অচেনা কোন বেয়ের চাইতে এরকম বেয়ে বেশী পছন্দ করি।

নেপোলিয়ন এবং তার বধুর কি না ছিল? স্বাস্থ্য, ধন, শক্তি, খ্যাতি, সৌন্দর্য, প্রেম এ সমস্তই চিন। ক্ষিপ্ত তা সত্ত্বেও সে-বিয়ে সুখের হয়নি। নেপো- লিরন ইউজেনিকে রাণী করেছিলেন, কিন্তু ইউজেনির ধ্যান ধ্যান করা তাতে বন্ধ হয়নি। ইউজেনি উর্ধ্যপরায়ণা ছিলেন। সন্দেহে তিনি সর্বদা জলতেন। নেপো লিয়নের আদেশ তিনি অমান্য করতেন, এক মুহুর্ত তাঁকে একা থাকতে দিতেন না। রাজ কাজে ব্যস্ত থাকার সময়ও ইউজেনি নেপোলিয়নের ধরে ঢুকে বুব

পৃষ্ঠা:১৫৫

জরুরী জালোচনার ব্যাখ্যত খাটাতেন। কখনো ইউজেনি তাঁকে একা থাকতে দিতেন নয়। সব সমর ভাবতেন বোধ হর জন্য কোন মেয়ের সঙ্গে নেপোলিয়ন সময় কাটাচ্ছে। প্রায়ই ইউজেনি তাঁর বোনের কাছে গিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানা- তেন। অভিযোগ করতেন, কাঁদতেন, ঘ্যানর ধ্যানর করতেন, এখন তপ্ত দেখা- তেন যে, যে নেপোলিয়নের বারোটি সুন্দর প্রাসাদ ছিল, সেই নেপোলিয়নের নিজের আব্বা ছিল সেগুলি থেকে নির্বাসিত। এ সমস্ত করে ইউজেনির কি লাভ হয়েছিল? এর উত্তর এখানে দেওয়া হচ্ছে। আমি রাইনহার্টের লেখা বই থেকে উদ্ধৃত করছি। বইখানা নেপোলিয়ন এবং ইউজেনি সম্পর্কে লেখা। অবশেষে ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়ে গেল যে নেপোলিয়ন প্রায়ই রাত্রির অন্ধ- কারে লুকিরে প্রায় নিজের চোখ পর্যন্ত নরম স্টুপিতে ঢেকে সত্যি সত্যিই একটি সুন্দরী যেয়ের কাছে যেতেন একজন সঙ্গীকে নিয়ে। অথবা তিনি কেবল একটু হেঁটে আসতেন রাস্তায়। শহরে সেই পুরানো রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বেড়াতেন। একজন সম্রাটের পক্ষে এমন রাস্তার কথা কেবল রূপকথাতেই পড়া সম্ভব। তীৎ মনে হত, আহা এমন জীবন যদি তীর হত। ইউজেনির ঘ্যানর ঘ্যানর স্বভাবের জন্য সম্রাট নেপোলিয়নের এখন অবস্থা হয়েছিল। এটা সতা যে ইউজেনি ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেছিলেন। তিনি ছিলেন অপূর্ব সুন্দরী। কিন্তু রূপ বা রাজত্ব সবই ব্যর্থ হয় যদি বিষাক্ত য্যানর খ্যানরের ধোঁয়ায় সমস্ত আচ্ছাল্ল হয়ে থাকে।

প্রাচীনল্কালে ঘৰ বেষন বিলাপ করছিলেন, ইউজেনি তেষনি বিলাপ করতে পারতেন: যা ভয় করেছিলেন তাই ঘটেছে। ঘটেছে? হ্যাঁ ঘটেছে বৈকি। এবং ইউজোন নিজেই তা ঘটিয়েছেন। ঈর্ণা এবং ধ্যানর ঘ্যানর করার ফলেই ৬৮ ঘটেছে। নরকের শয়তান যতগুলি উপায় উদ্ভাবন করেছে প্রেষ-ভালবাসা বিনষ্ট করবার জন্য ধ্যানর ঘ্যানর করা তাঁর মধ্যে সবচেয়ে নিশ্চিত উপায়। এতে কোন সময়েই প্রেষ গড়ে উঠে না। গোখরো সাপের বিষাক্ত কামড়ের মত সব সময়েই এ ধবংস এবং নূন্ধু। ডেকে আনে। কাউট লিও টলষ্টরের স্ত্রী তা বুঝতে পেরেছিলেন-কিন্তু বুঝতে তাঁর দেরি হয়েছিল একটু। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর বেয়েদের কাছে সনন্ত স্বীকার করে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের বাবার মৃন্ধুর জন্য দায়ী। বেরেরা কোন উত্তর সেয়ান। তারা তখন কাঁদছিল। তারা জানতো মা সংতা

পৃষ্ঠা:১৫৬

কাই বলছিলেন। তারা জানতো তাদের বান্ধেয় সর্বদা অভিযোগ এবং ব্যানর খ্যানরের ফলে তাদের বাবার মৃত্যু ইয়েছে। অথচ কাউণ্ট লিও টলষ্টর এবং তার চীরই তো সবচেরে সুন্দ্বী হবার কথা। তিনি পৃথিবীর পর্বকালের সর্ব বিখ্যাত ঔপন্যাসিক। তার দুখানা শ্রেষ্ঠ বই ‘যুদ্ধ এবং শাস্তি’ এবং ‘আনা কারেনিনা’ পৃদ্ধির্মীয় সাহিত্যের ইতিহাসে উষ্মাণ অক্ষরে লেখা থাকবে।টনষ্টয় এমন বিখ্যাত ছিলেন যে তাঁর ভক্তেরা তার সমস্ত কথা পট হ্যান্ডে লিখে রাখতেন। সে কথা সামান্য হলেও তা লিখতেন তাঁরা-যেমন, আবার এখন শুতে বেতে ইচ্ছে হচ্ছে। এখন রাশিয়ার সরকার তাঁর সমস্ত লিখিত কথা ছাপছেন। একশো খণ্ড পুস্তকের প্রয়োজন হবে সেজন্য।

কেবল যশ নয়, তাঁদের টাকাকড়ি ছিল। তাঁদের সামাজিক প্রতিষ্ঠ। ছিন, ছেলে যেয়ে ছিল। এমন সুন্দর বিয়ে আর হতনি। প্রথম দিকে তাঁদের মিলন হয়েছিল অত্যন্ত গভীর এবং সুন্দর ভাবে। তারা হাঁটু গেড়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন তীদের এমন সুখ বরাবর থাকে। এর পর এক আশ্চর্য কাণ্ড ঘটে যায়। টলস্টয় আস্তে আস্তে বদলে যেতে • থাকেন। তিনি সম্পূর্ণ অন্য মানুষ হরে গেলেন। তিনি তাঁর মহাদ বইগুলো সম্পর্কে বজ্জাবোধ শুরু করেন। সে সময় থেকে তিনি প্রচার পুস্তিকা লিখতে শুরু করলেন। সে পুস্তিকায় তিনি লিখলেন কেষন করে শাড়ি খানা বায়- বুদ্ধকে এবং অভাবকে জগৎ থেকে দূর করা যায়। একনা এই মানুষটি স্বীকার করেছিলেন তিনি সমস্ত রকম পাপ করেছেন এমন কি খুন পর্যন্ত তিনি অবশেষে যীতুর শিক্ষাকে অনুসরণ করতে আরম্ভ করলেন। তিনি তাঁর সমস্ত জমি দান করে দিয়ে অভাবের মধ্যে জীবন কাচাতে লাগলেন। তিনি মাঠে কাজ করতে লাগলেন, কাঠ খন্ড কাটতে লাগদেন। তিনি নিজের জুতো নিজে তৈরী করতে লাগলেন, নিজেই ঘর ঝাঁট দিয়ে পড়ি- স্কার করতে শুরু করলেন। তিনি কাঠের পাত্রে খাদ্য খেতে শুরু করলেন প্রার শত্রুদের ভালবাসবার চেষ্টা করলেন। লিও টলস্টয়ের জীবনটা করুণ। এর কারণ তাঁর বিবাহ। ভার গ্রী ভাল ডাব জিনিস পছন্দ করতেন-কিন্তু তিনি তাহা শূণা করতেন। স্ত্রী পশুন্দ করতেন যশ এবং সামাজিক খ্যাতি কিন্তু লিও টপক্টর ঐ সমস্ত সামান্য জিনিল আদৌ আমন দিতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন টাকা পয়সা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি রাখা পাপ।

পৃষ্ঠা:১৫৭

বছরের পর বছর টিনষ্টয়ের স্ত্রী টলষ্টয়কে গালাগালি, ধ্যানর ব্যানর করেছেন। কারণ বই লিখে যে প্রাপ্য হত তা টলষ্টয় নিতে অস্বীকার করতেন-কিন্তু স্ত্রীর ইচ্ছে ছিল সে টাকা নেওয়া। যখন তিনি তার স্ত্রীর বিরোধীতা করলেন তখন স্ত্রী রেগে অস্থির হলেন। তিনি আফিঃ হাতে নিয়ে মেঝেতে গড়াতে পড়াতে চেঁচাতে বাগদেন যে তিনি মার জীবন রাখবেন না। তিনি কুরোতে লাফিয়ে আরহত্যা করবারও তয় দেখিয়েছিলেন।

  • তাঁদের জীবনের সবচেয়ে করুণ ব্যাপার আমার মনে হয় এই বে, যখন তাঁদের বিয়ে হরোঈল তখন তাঁরা খুব সুখী ছিলেন, কিন্তু আটচত্রিশ বছর পর তাদের অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে পরস্পর মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে গেল। এক একদিন সন্ধ্যায় বৃদ্ধা এবং ভগ্ন হৃদয়া স্ত্রী টিয়ের পায়ের কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসতেন এবং পঞ্চাশ বছর আাগে টলষ্টয় তীর ভায়েরীতে যে প্লেনের কথা বিখেছিলেন তার সমন্ধে তা পড়ে শুনাতে বলতেন। যখন টলষ্টয় সেই হারিয়ে যাওয়া শুন্দর দিনগুলির কথা পড়তেন তখন দুজনের চোখেই জল এসে যেত – তাঁরা কাঁদতেন। তাঁদের প্রেষষয় অতীতের স্বপ্নের সঙ্গে তুলনায় বর্তমান জীবনের কতখানি পার্থক্য।

বিরাশি বছর বয়সে টলষ্টর পারিবারিক জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এক তুষারময় অক্টোবর রাত্রিতে বাড়ী থেকে বেরুলেন। অন্ধকারে ঠাণ্ডার তিনি কোথায় বে বাচ্ছেন খেয়াল রাখেন নি। এগারো দিন পর তিনি একটি রেলওয়ে ষ্টেশনে নিউমোনিয়া হয়ে সারা নান। সরবার সময় তিনি বলেছিলেন তার যুক্তদেহের কাছে বেন অর জীকে আসতে দেওয়া না হয়। য্যানর ঘ্যানর করবার ফল কাউন্টেস উলষ্টর এমন ভাবেই পেরেছিলেন। পাঠকেরা মনে করতে পারেন যে উলইয়ের স্ত্রী ব্যানর কারণ ছিল। স্বীকার করে নেওয়া গেল দেতা ছিল। হচ্ছে তার ফলে ফি তার অবস্তার উন্নতি হয়েচিলও না আরো খারাপ করে তোলা হয়েছিল ধ্যানর করবার অদেক কিন্তু তা নয়-ক্ষণ। কি পারাণ ব্যাপারফে কাষ্টটেন টলষ্টর বলেছিলেন আমার মনে হয় আমি পাগল চিলাম। কিন্ত অনেক পরে তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। আব্রাহাম লিঙ্কনের জীবনের দুঃখের কাহিনীও ঐ-তার বিবাহ। তাকে বে হত্যা করা হয়েছিল তার চেয়েও তার বিবাহ ছিল দুঃখের। বুখ যখন লিঙ্কনকে গুলি করেছিলেন লিঞ্চন টেরই পাননি তাকে গুলি করা হয়েছে কিন্তু বাইশ বছর ধরে তার জীবনের দাম্পত্য দিষরের বীজ রোপিত হয়েছে।

পৃষ্ঠা:১৫৮

লিঙ্কনের স্ত্রী সব সময়েই একটা না একটা নালিশ নিয়েই ছিলেন। সব সময়ে স্বামীকে সমালোচনা করতেন-লিঙ্কন সর্বদাই ভুল করেছেন। লিঙ্কনবে চলার ভঙ্গী ডান ছিল না, তিনি নাকি রেড় ইত্তিবানদের যত গল গল করে চলতেন। তাঁর চলার ধরন রাজকীর ছিল না। নিঙ্কনের স্ত্রী বলতেন নিঙ্কনের কানের আকৃতি ডাল ছিল না, নাক বাঁক্ষা ছিল, নীচের ঠোট বেরিয়ে থাকত, তাঁকে যক্ষ্মা রোগীর যত দেখাত, তার পা এবং হাত অস্বাভাবিক বন্ধা ছিল আর তুলনায় মাথা ছোট ছিল। স্বানী এবং স্ত্রী ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত। লিঙ্কনের স্ত্রী কেবল বাক্যবলই ব্যবস্থার করতেন তা নয়, তিনি বাহুবলেও কয় যেতেন না। এ সম্পর্কে নানা প্রমাণ আছে। একবার তারা এক ভদ্রলোকের বাড়িতে অতিষ্ট হিসেবে গিয়ে- ছিলেন। হঠাৎ নিঙ্কনের স্ত্রী ব্রেকফাষ্ট পেতে রেগে ওঠেন রেগে গিরে গরম কাফ লিঙ্কনের মুখে ছুঁড়ে যারেন। পরে লিঙ্কনের স্ত্রী পাগল হয়ে যান। হরত পাগল তিনি বরাবরই ছিলেন। ফিঙ্কন তাকে যথাসাধ্য পরিষার করতেন। কখনও তিনি মাসের পর মাস বাড়িতে না কিরে অন্যত্র যোটেলে খাকতেন। হোটেলের অবস্থা তখনকার আনলে খুব ভাল ছিল না-কিন্তু স্ত্রীর কাছে আসবার চাইতে তিনি তা পছন্দ করতেন। মিসেস লিঙ্কন রাখী ইউজেনি, কাউন্টেস উনষ্টর এরা ঘ্যানর ঘ্যানর করে। তাদের সবচেয়ে প্রিয়দের ধ্বংস করেছিলেন। আদালতেও দেখা যায় বিবাহ বিচ্ছেদের প্রধান কারণ হচ্ছে ঘ্যানর ধ্যানর অতএব, কখনও ঘ্যান ঘ্যান করবেন না।

দ্বাত্রিংশ অধ্যায়

ভালোবাসা:- ডিসরেলি বলেছিলেন, জীবনে হয়ত অনেক ভুল করব কিন্তু ভালবাসার অন্য বিয়ে কখনও করব না। তিনি তা করেননি। পঁয়ত্রিশ বছর পর্যন্ত তিনি অবিবাহিত ছিলেন, তার- পর তিনি তার চাইতে পনের বছর বড় এক পঞ্জকেণ এই বৃদ্ধাকে ভিসরেলি ভালবাসতেন না। ধনী বিধবাকে বিশ্বে করেন। ডিসরেলির স্ত্রী তা জানতেন। তিনি আরও জানতেন যে টাকার জন্যই ডিসরেলি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।

পৃষ্ঠা:১৫৯

সেজন্য তিনি একটি মাত্র অনুরোধ করেছিলেন–তিনি এক বস্তুর সময় চেয়ে- ছিলেন, ডিগবেলিৰ চকিত্র বুঝতে। তারপর তিনি ডিলরেলিকে বিয়ে করেন। খুক গদ্যসর, ব্যবসারিক কথাবার্তা বলে সথে হয়, তাই না? অথচ তার খিবে খানেক বিয়ের চাইতে সুখের হয়েছিল-শতি উজ্জল তাবেই সে বিরে সকল হয়েছিল। ভিসরেলি বাকে পছন্দ করেছিলেন, সেই ধনী বিধবার বরণ কষ ছিল না, দেখতে তাল ছিলেন না, এমন কি বুদ্ধিও বেশী ছিল তা নয়। তার কথাবার্তার সাহিত্যিক এবং ঐতিহাসিক প্রসঙ্গে এমন সব মন্তব্য করতেন’ যে শ্রোতার পক্ষে হাসা ছাড়া কোন গতি ছিল না। তিনি জানতেন না স্ত্রীকেরা প্রথমে এসেচে না রোমানেরা প্রথমে এসেছে। তার পোশাক ছিল জঘন্য, তাঁর ঘর সাজানো খুবই খারাপ ছিল। অথচ তিনি একদিক দিয়ে ছিলেন ওস্তাদ। তিনি জানতেন কেমন করে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হয়-বিয়েতে যেটা সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয়। বুদ্ধি দিরে তিনি ডিসরেলিকে পরাস্ত করতে চাননি। ডিসরেলি বখন চতুরা ডাচেলদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে পরিশ্রান্ত এবং বিরক্ত, শুখন তার স্ত্রীর সরল কথাবার্তার তিনি আরাম পেতেন। দিন দিন তার বাড়িকে ভাল লাগতে শুরু করে-তার মনকে যেন সুখ দিয়ে ঘিরে রাখত সে বাড়ী। তাঁর স্ত্রী মেরী ‘খ্যানের যত্নে তিনি পেতেন সহৃদয়তা। বৃদ্ধা স্ত্রীর সঙ্গে যে সনও তাঁর কাটত-তা ছিল তাঁর জীবনে পরম সুখকর। স্ত্রী ছিলেন তীর সঙ্গী, সনন্ত কথা বলতেন ডিসরেলি তাঁর স্ত্রীকে। স্ত্রী তাঁকে উপদেশ দিতেন। আর সবচেয়ে বড় কথা-যে সমস্ত কাজের ভার নিতেন তাও স্ত্রীকে বলতেন। মেরী অ্যান কখনই বিশ্বাস করতেন না যে ডিসরেলি কোন কাজ করতে অসমর্থ হবেন। তিরিশ বছর মেরী অ্যান বেঁচে ছিলেন কেবল ডিসবেলির জন্য। তাঁর টাকা যা ছিল তাও তিনি ডিসরেলির আরামের জন্য বার করতেন। এর পরিবর্তে তিনি ছিলেন ডিসবেলির নায়িকা। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ডিসরেনি ভার্ন উপাৰি পান, কিন্তু কখন তিনি সাধারণ লোক ছিলেন, তখন তিধি রাণী ভিক্টোরিয়াকে বলে তাঁর স্ত্রীর অন্য একটি উপাধি সংগ্রহ করেন। এর ফলে তিনি ১৮৬৮ খ্রীষ্টাব্দে ভাইকাউন্টে বিকনস্ ফিল্ড নামে পরিচিত হন। জনসাধারণের কাছে হয়ত তিনি ছিলেন বোক।। কিন্তু তা সত্বেও ডিসরেনি কখনও স্ত্রীকে সমালোচনা করতেন না। তিনি কখনও একটা কড়া কথা বলতেন

পৃষ্ঠা:১৬০

ভালোবাসা:- না। যদি কেউ স্ত্রীকে ১৪। করত তাহলে তন্ত্রমি তিনি স্ত্রীকে সমর্থন করবার জনন ব্যস্ত হতেন। মেরী অ্যানের কনেক কার্য: হিল, কিন্তু তিরিশ বছর ধরে তিনি তাঁর স্বানীর কথা বলে গেছেন ক্লান্ত না হয়ে। প্রশংসা করেছেন সর্বদা। তার কম্বল কি হয়েছিল? ডিসরেলি বলেছিলেন, আমরা ত্রিশ বছর বিবাহিত জীবন যাপন করেছি, কিন্তু কখনো তা একঘেয়ে লাগেনি। (অথচ কিছু নৌক ভাবেন যে মেরী অগন বেছেতু ইতিহাস জানতেন না অতএব স্তিনি বুর্ধ্ব ছিলেন)। ডিসরেলি প্রায়ই বলতেন যে তাঁর জীবনে মেরী অ্যানি সবচেয়ে বড় ব্যাপার। এর ফলে কি হয়েছিল? মেরী অ্যান তাঁর বন্ধুদের বরতেন, আমার জীবনে এসেছে কেবল আনন্দের পর আনন্দ। তাঁদের মধ্যে একটা রসিকতা প্রচলিত ছিল। ডিসরেলি স্ত্রীকে বলতেন জান, আমি তোমাকে তোমার টাকার জন্যই বিয়ে করেছি।হাসতে হাসতে মেরী ম্যান বলতেন, যদি এখন তোমাকে আবার বিয়ে করতে হয় আমাকে তাইলে তালবাসার জন্য বিয়ে করবে তো?ডিসরেলিকে তা স্বীকার করতেই হত।মেরী অ্যান ত্রুটিহীনা ছিলেন না, কিন্তু ডিসরেলি তাঁকে তার জীবন যাপনে কোন বাধা দিতেন না।হেনরী জেমস বলেছেন অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে গেলে এটা জানা প্রধান প্রয়োজন যে অন্য লোকদের সুখী হবার বিশেষ উপায়গুলি সম্পর্কে কোন রকম বাবা না হব। অবশ্য যদি সে উপায়গুলির ফলে আমাদের সুখে ব্যাঘাত ঘটে তাহলে স্বতন্ত্র কথা।কথাটা ফর্বে রাখবার মত।বেল্যাও ফাটার উড তার লেখা বিবাহ বিষয়ক বইতে সাফল্য নির্ভর করে সঠিক লোক খুঁজে বের করবার উপর। হওয়াটাও কন জরুরী নয়। লিখেছেন, বিয়েতে অবশ্য সঠিক লোকবিয়েতে সুখী হতে গেলে সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে অধিকার করবার চেষ্টা করবেন না।

পৃষ্ঠা:১৬১

ত্রয়ত্রিংশ অধ্যায় 

সমালোচনা করবেন না:- আাপনারা নিশ্চয়ই ছোটদের সমালোচনা করার কথা ভাবেন-হয়ত ভাবছেন আমি বলব সমালোচনা করবেন না। কিন্তু তা আমি বলতে চাইনা। আবি কেবল ছোটদের সমালোচনা করবার আগে আমেরিকার সংবাদিকতার একাট চমৎকার উদাহরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। ভবন লিভিংস্টোন দার- বেড-এর লেখা ‘Father forgets’ থেকে খানিকটা সংক্ষিপ্তাকারে উদ্ধৃত করছি। এই লেখাটি বহুবার নানাস্তানে মুদ্রিত হয়েছে। ‘শোনো থোকা-তুমি এখন মুবিয়ে আছ-আর দামি তোমাকে বলছি। তোমার একখানা ছাত তোমার গালের তলায়, তোমার সোনালি চুলগুলি যাবে ভিজে কপালের সঙ্গে আটকে রয়েছে। আমি তোমার যবে চুপি চুপি এসেছি একা। কয়েক মিনিট আগে আমি যখন লাইব্রেরীতে বসে পড়ছিলাম তখন অনুশোচনার তরে গেল মন। দোষীর মত আামি এসেছি তোমার বিছানার কাছে। মানি এই কথাগুলি তাবছিলাম। আমি তোমার প্রতি বিরক্ত হয়েছি। তুমি স্কুলে যাবার আগে আমি বকেছিলাম, ফারণ তুবি তোরালে দিয়ে মুখ না মুয়ে কেবল তোরালেখান। মুখে ছুইরেছিলে। তুমি জুতো পরিষ্কার করনি বলে আমি বকেছিলাম। থাকি চেঁচিয়েছিলাম যখন তুমি কোন জিনিস মেঝেতে ফেলেছিলে।ব্রেকফাক্টের সময়েও আমি তোমার দোষ ধরেছি। তুমি খাবার ছড়িয়েছিলে, না চিবিয়ে তুমি খেরেছিলে। তুমি তোমার খুঁতনি টেবিলের উপর রেখেছিলে- কটিতে প্রচুর মোটা করে মাখন নাখিয়েছিলে। যখন তুমি খেলতে যাচ্ছিলে এবং ‘আামি ট্রেন ধরতে ছুটছিলাম তখন তুমি আমাকে বলেছিলে চললাম বাবা। বিকেলেও আবার একই ব্যাপার শুরু হল। রাস্তা দিয়ে আসতে আসতে ‘আামি দেখলাম তুমি হাঁটু দুটো মাটিতে রেখে গুলি খেলছ। তোমার যোগায় অনেক গর্ত। আমি তোমার বন্ধুদের সামনে তোমাকে আপমান করেছিলাম- আমি তোমাকে আধার সামনে হাঁটিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম বাড়ীতে। মোজার দাম আছে-নিজেকে যোজা কিনতে হলে আরো যত্ন নিতে হয়ত। বাবার কাছ থেকে এমন কথা শুনতে হল!

পৃষ্ঠা:১৬২

সমালোচনা করবেন না:- এরপরে তোমার মনে আছে? এরপর আমি যখন লাইব্রেরীতে বসে পড়ছিলাম ভূমি কেমন তরে তয়ে এলে, যেন চোখ বিষাদগ্রস্ত। আমি যখন কাগজ নামিয়ে তোষাকে দেখলাম তখন তোমার আসবার জন্য যে বাধ্য পেলাম তার জন্য অবৈর্য হয়ে বললাম, কী চাও আমার আছে। তুমি কিছু বলনি। তুমি ছুটে এসে আমাকে ধরে চুৰু গেরেছিলে। আবি তোমাকে মোটেই আমল দিইনি, কিন্তু তা সত্বেও তোমার ছোট হাত দুটি দিয়ে আমাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে বরেছিলে। তোমার হৃদয়ে যে প্রেম ঈশ্বর দিয়েছেন তা ক্ষয়ে যায়নি। তারপরই তুমি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গিয়েছিলে। এর কিছু পরেই আামার হাত থেকে কাগজ পড়ে যায়। একটি অদ্ভুত পীড়াদায়ক চিন্তা আমাকে পেয়ে বসে। আমি এ কেমন অভ্যাস করছি। ক্রমাগত, দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছি, বকুনি দেবার অভ্যাস-তোমাকে কেবল বকুনিষ্ট দিচ্ছি। খামি তোমাকে ভালবাসি না তা নয়, কিন্তু তরুণদের কাছে থেকে আনি অনেক বেশী চেয়েছি। আামার বয়সের মাপকাঠি দিয়ে তোষাকে বিচার করছি। অথচ তোমার চরিত্রে রয়েছে-ভালব-রয়েছে সূক্ষ্মতা। তোমার ছোট হৃদয়টি পাহাড়ের উপর ভোরের আলোয় মতই মহৎ। তার প্রমাণ তুমি আমাকে এসে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলে। আজ আয় কিছু ভাবতে পারছি না-তাই এই অন্ধকারে তোমার কায়ে হাঁটু গেড়ে বসেছি। নিজেকে অপরাধী মনে করছি। এতে করে তোমার ব্যথা সামান্য কমবে। আমি জানি একখা তুমি জেগে থাকার সময় বললে বুঝতে পারতে না। কিন্তু কাল থেকে আমি হব সত্যিকারের বাবা। আমি তোমার সঙ্গে বন্ধুর যত কথা বলব। তোমার কষ্টের সময় জাবি কষ্ট পাব-তুমি হাসলে আবি হাসব। রেগে কোন কথা বললে আমি তখুনি দিজের জিত কামড়াব। ময়ের যত আমি আবৃত্তি করতে থাকব-ও ছোট ছেলে-একটি ছোট চেলে বই তো কিছুটা নয়।আমি তোমাকে পূর্ণবয়স্ক মানুষ তেবে ভুল করেছি। এখন দেখে মনে হচ্ছে তুমি কেবল একটি নিস্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে খাটে খুনিয়ে আছ। এই তো সেদিন তুমি তোমার মায়ের কোলে চিনে, তোমার মাথা তার কাঁধে দিয়ে। আমি তোমার কাছ থেকে অনেক চেয়েছি-অনেক বেশি’চেয়েছি। এত বেশী চাওয়া আমার উচিত হয়নি।’

পৃষ্ঠা:১৬৩

চতুত্রিংশ অধ্যায়

স্কুলের ভাষা:- অতীতকাল থেকেই ক্ষুর তালবাসার ডামার অক্ষর হয়ে আছে। ফুলের দায় কম-বিশেয় বরগুনী ফুল। অথচ র জনই বা স্ত্রীর জন্য বাড়ীতে স্কুল কিনে নিয়ে যায়। এতে মনে হয় যেন ফুলের কতই না দায়। মনে হয় স্কুল বুঝি পাওয়াই যায় না। কালই স্ত্রীর জন্য কয়েকটি গোলাপ কিরুন। আপনি পরীক্ষা করে দেখুন কি হয়।ব্রডওয়েতে জর্জ এম কোহান খুব ব্যস্ত থাকা সয়েও তাঁর মাকে দিনে দুবার টেলিফোন করতেন। কেন করতেন? রোজই কি খবর দেবার যত অদ্ভূত সমস্ত কাণ্ড ঘটত? না তা নয় এরকম চোটিখাটো ব্যাপারে মনোযোগ দিলে প্রমাণ হয় যে, নাকে আপনি তালবাসেন তার জন্য আপনি সর্বদা চিন্তা করেন। আরো প্রমাণ হয় যে আপনি তাকে সন্তুষ্ট করতে চান। তার সুখ, আনন্দ ইত্যাদি ব্যাপারে আপনার খুবই আগ্রষ।রবার্ট ব্রাউনিত্তের সঙ্গে এলিজাবেথ ব্যারেট ব্রাউনিত্তের জীবন বোধ হয় সবচেয়ে স্বর্গীয়। বৰার্টি ব্রান্টনিং ছোটখাটো ব্যাপারে মনোযোগ দিতে সর্বদা ভালবাসতেন। তিনি তাঁর পঙ্গু স্ত্রীকে এমন সহৃদয়ভাবে যত্ন করতেন যে এলিজাবেথ তাঁর বোনদের কাছে লিখেছিলেন, এখন আমি ভাবছি আমি সত্যি- কারের পরী কেন হতে পারব না।বহুলোক ছোটখাটো রনোযোগগুলির রূগা জুরে যায়। এগুলিকে পুয়োজনীর মনে করে না। সংক্ষেরে বলতে গেলে

১। খ্যান রান রুরবেন না।

২। সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে জয় করবার চেষ্টা করবেন না।

৩। সমালোচনা করবেন না।

৪। সত্যিকারের পুশ্নংস। করুন।

৫। ছোটরাটো ব্যাগারে মনোযোগ দিন।

৬। ভদ্র ব্যবহার করুন।

৭। বিবাহ বিষয়ক ভাল বই পড়ন।

শেষ

হোম
ই-শো
লাইভ টিভি
নামাজ শিক্ষা
গেইমস
চাকুরি