Skip to content

আল্লাহর পথে যাত্রা

পৃষ্ঠা ১ থেকে ১৫

পৃৃষ্ঠা:০১

প্রথম অধ্যায়

মহান বিধান

নীতিগতভাবে, জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার জন্য মানুষের সৎকর্ম যথেষ্ট নয়, বরং আল্লাহর দয়া ও ক্ষমার মাধ্যমেই এটা সম্ভব। কুরআন উল করীমের বহু জায়গায় এর স্বপক্ষে আয়াত আছে, যেমন তিনি বলেন, فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى بَعْضُكُم مِّن بَعْضٍ فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ ثَوَابًا مِّن عِندِ اللهِ وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বলেন, “আমি তোমাদের মধ্যে কর্মনিষ্ঠ কোন নর অথবা নারীর কর্ম বিফল করি না; তোমরা একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে, নিজ গৃহ হতে উৎখাত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে আমি তাদের পাপকাজগুলো অবশ্যই দূরীভূত করবো এবং অবশ্যই তাদেরকে দাখিল করবো জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। এটা আল্লাহর পক্ষ হতে পুরস্কার। উত্তম পুরস্কার আল্লাহ্রই নিকট।” [সুরা আলি-ইমরানঃ ১৯৫] يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُم بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ لَّهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُّقِيمٌ

পৃৃষ্ঠা:০২

তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সংবাদ দিচ্ছেন স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, যেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী সুখ-শান্তি। [সুরা তওবাঃ ২১] تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ এটা এই যে, তোমার আল্লাহ ও তাঁর রাসুলে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা জানতে। আল্লাহ তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই মহাসাফল্য। [সুরা সাঙ্কঃ ১১-১২] সফলতা ও জান্নাতে প্রবেশাধিকার ক্ষমা এবং দয়ার সাথেই উল্লেখ করা হয়েছে, যা এটাই প্রমান করে যে এগুলো ছাড়া জান্নাত অর্জন করা সম্ভব নয়। কিছু সালাফীদের মতে, “আখিরাতে থাকবে হয় আল্লাহর ক্ষমা না হয় আগুন; আর এই দুনিয়া হলো হয় আল্লাহর পক্ষ হতে হিদায়াহ অথবা ধ্বংস।” মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি মৃত্যুশয্যায় তার সাথিদের এই বলে আদেশ দেন যে,

পৃৃষ্ঠা:০৩

“তোমাদের উপর সালাম, হয় তোমরা আগুনে পতিত হও না হয় আল্লাহর পক্ষ হতে ক্ষমা অর্জন করো। “১০ وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে, তোমাদের কর্মের ফলস্বরুপ। [সুরা যুগ্মফঃ ৭২] كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ তাদেরকে বলা হবে, “পানাহার করো তৃপ্তির সঙ্গে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে।” [সুরা হাক্কাঃ ২৪] আলেমগন এই বিষয়টি সম্পর্কে দুইটি ভিন্ন মতে বিভক্ত হয়েছেন। ১) আল্লাহর দয়ার সম্মতিতে জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে, কিন্তু জান্নাতে একজন ব্যক্তির অবস্থান ও মর্যাদা তার কৃতকর্মের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।১১ ইবনে উয়ায়নাহ বলেন, “তাদের মত হচ্ছে, আল্লাহর ক্ষমা আগুন হতে পরিত্রান দিবে, তাঁর অনুগ্রহে জান্নাতে প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে এবং জান্নাতে প্রত্যকের মর্যাদার বণ্টন হবে তার কৃতকর্ম অনুসারে।”

পৃৃষ্ঠা:০৪

২) তিনি তার বক্তব্যে যে বাএর উল্লেখ করেছেন, “তোমরা যা করেছো তার বিনিময়ে, “অতীত দিনগুলোতে তোমরা যা করেছো তার বিনিময়ে এখানে বা ব্যবহৃত হয়েছে কারন সূচক (সাবাব) হিসেবে। কাজেই এর অর্থ হলো মানুষের কৃতকর্ম গুলোকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশের পাথেয় হিসেবে ধার্য করেছেন। বাকে এখানে না-বোধকভাবে ব্যবহার করে তিনি (সঃ) বলছেন, “কেবলমাত্র আমল দিয়ে একজন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা।” বা এখানে ইঙ্গিত করছে তুলনা এবং ক্ষতিপূরন (মুকাবালাহ) এবং একই মূল্যমানের দুইটি জিনিসের আদান-প্রদান (মুয়াউইদাহ) ১২। কাজেই এই হাদিসটির অর্থ দাঁড়ায়, কেউ তার কৃত সৎকর্মের শ্রেষ্ঠতার ভিত্তিতে জান্নাত পাবে না। কৃতকর্মের পুরস্কারই জান্নাত এমন ভ্রান্ত ধারনা এই ব্যাখ্যার মধ্যদিয়ে দূর হয়েছেঃ এমন ধারণা যে, একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র তার কৃত সৎকর্মের ফলস্বরুপ আল্লাহর জান্নাতে প্রবেশাধিকার পাবে; ঠিক যেমন একজন ক্রেতা কোন একটা প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য পরিশোধ করলেই বিক্রেতার কাছ থেকে তা পাওয়ার অধিকার অর্জন করে। এই ব্যাখ্যা এটা পরিষ্কার যে, প্রকৃত প্রবেশাধিকার আসে আল্লাহর দয়া এবং অনুগ্রহ থেকে, এবং এটাই হলো জান্নাতে প্রবেশের ভিত্তি।

পৃৃষ্ঠা:০৫

অতএব, প্রকৃতপক্ষে জান্নাতে প্রবেশ করাটা নির্ভর করে আল্লাহর অনুগ্রহ, তাঁর ক্ষমা এবং দয়ার উপরাঃ তিনি হলেন সেই একক স্বত্তা যে তার বান্দাকে রিযিক দেন এবং সেই রিযিকের পরিণতি দেন। সুতরাং, জান্নাতে প্রবেশ তাদের নিজস্ব আমলের সরাসরি ফলাফল নয়। সাহীহ হাদিসে উল্লেখ আছে নবী (সঃ) বলেছেন, “আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা জান্নাতকে বলেন, তুমি হলে আমার দয়া, আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তোমার মাধ্যমে দয়া প্রদর্শন করি।” গোলামের নাই তাঁর উপর কোন অধিকার যে তারে দিতে হবে তাঁর প্রতিদান, না, কখনই না! তাঁর দৃষ্টিতে, কারো চেষ্টা হয় না বিফল। যদি তারা পায় শাস্তি, সে হবে তার ন্যায়বিচার; যদি পায় স্বর্গসুখ, তবে সে হবে তাঁর বদান্যতা; তিনিই দয়ালু, তিনিই মহান।

পৃৃষ্ঠা:০৬

১.১ ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ সকল অনুগ্রহের সরবরাহকারী

এমন বলা হয় যে; কিন্তু হাবীব ইবনে আল-শাহীদ একে হাসান বলেছেন, বলেন, “আল-হামদুলিল্লাহ সকল অনুগ্রহের সরবরাহকারী এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহজান্নাতের সরবরাহক।” এই উক্তির মর্মার্থ বিশিষ্ট একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে রাসুল (সঃ) হতে আনাস (রাঃ), আবু যার (রাঃ) এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে। যদিও এই হাদিসগুলোর সবগুলো ইসনাদ দুর্বল১৩, আল্লাহর নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা এই উক্তির মর্মার্থ সমর্থিত হয়েছে,إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

পৃৃষ্ঠা:০৭

নিশ্চয়ই আল্লাহ মু’মিনদের নিকট হতে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে এর বিনিময়ে। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, নিধন করে ও নিহত হয়। তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনে এই সম্পর্কে তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কে আছে? তোমরা যে সওদা করেছো সেই সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং এটাই তো মহাসাফল্য। [সুরা তওবাঃ ১১১] এখানে জান্নাতকে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিসত্তা ও তার বিত্ত-বৈভবের মজুদ হিসেবে নির্ধারন করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা তাঁর বদান্যতা, ক্ষমা, দয়া এবং উদারতা দ্বারা তাঁর বান্দাদের এমন এক পথের দিকে ডাকছেন যা তাদেরকে তাঁর আজ্ঞা পালনে অনুপ্রাণিত করবে, এক্ষেত্রে তিনি এর সাথে এমন এক ভাষা ও ধ্যান-ধারনাকে সম্পর্কিত করেছেন যেন তারা অনায়াসে বুঝতে পারে। এক্ষেত্রে তিনি নিজেকে বসিয়েছেন একজন ক্রেতা ও ঋণী এর স্থানে, এবং তাদেরকে বসিয়েছেন বিক্রেতা ও ঋণদাতাদের স্থানে। এটাই তাদেরকে তাদের রবের ডাকে সাড়া দিতে সাহস যোগায় এবং দ্রুত বেগে তারা তাঁর আজ্ঞানুবর্তিতা গ্রহন করে। যে কোন উপায়েই হোক, বাস্তবিক পক্ষে, সবকিছুর মালিক আল্লাহ এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া হতে প্রদত্ত; প্রত্যেক ব্যক্তি ও তার সম্পত্তির মালিকানা তাঁর এবং এই কারনেই চরম দুর্দশার সময় তিনি আমাদেরকে এই বলতে আদেশ করেন যে, الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُواْ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعونَ

পৃৃষ্ঠা:০৮

যারা তাদের উপর বিপদ আপতিত হলে বলে, “আমরা তো আল্লাহ্রই এবং নিশ্চিতভাবে তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।” [সুরা বাকারাহঃ ১৫৬] মতা সত্ত্বেও, তিনি প্রশংসা করেন তাদেরকে যারা তাদের জান ও মাল ব্যয় করে আল্লাহর রাস্তায়, তাদেরকে তিনি তুলনা করছেন বিক্রেতা ও ঋণদাতাদের সাথে। সুতরাং এরকম একজন মানুষকে তুলনা করা হয়েছে এমন একজন ব্যক্তির সাথে যার বিক্রি করার মত সম্পদ আছে এবং যার সম্পদ নেই তাকে ধার দেয়ার মত সামর্থ রাখে। একইভাবে সমস্ত কার্য সংঘটিত হয় আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার ফলস্বরূপ, তথাপি তিনি তাদের প্রশংসা করেন যারা এগুলো সম্পাদন করে, ঐ কর্মগুলো দ্বারা তাদেরকে গুণান্বিত করেন এবং তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহের প্রতি বিনিময় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নির্ধারন করেন।

১.২ ‘অনুগ্রহ’ শব্দার্থের ব্যাখ্যা

ইবনে মাজাহতে উল্লেখ আছে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেন, “এমন আর কোন অনুগ্রহ নেই যা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে প্রদান করেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার কারনে, মেনে নেওয়া যে তিনি যা নিয়েছেন তা অপেক্ষা তিনি যা দিয়েছেন তা অধিক ভালো। “উমর ইবনে আব্দুল আজিজ” এবং সালাফদের মধ্যে অন্যান্যরা একে আল-হাসান” বলেছেন। অতীত ও বর্তমানের অসংখ্য আলেমগন এই হাদিসের মর্মার্থ নিয়ে সমস্যা তৈরি করেছেন, কিন্তু একে যদি পূর্বের আলোচনার আলোকে বুঝা যায় তাহলে এর অর্থ পরিষ্কার। হাদিসে উল্লেখিত অনুগ্রহ হচ্ছে দুনিয়াবী অনুগ্রহ এবং বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা করা অন্যতম ধর্মীয় অনুগ্রহ। দুনিয়াবী

পৃৃষ্ঠা:০৯

অনুগ্রহ অপেক্ষা ধর্মীয় অনুগ্রহ উত্তম। বান্দা আল্লাহর প্রশংসা স্পষ্ট করে উচ্চারন করার কারনে আল্লাহ বান্দার উপর অনুগ্রহ আরোপ করেছেন, বান্দার এই মৌলিক অনুগ্রহের জন্য আল্লাহ তাকে আরো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন অনুগ্রহের জন্য বিবেচনা করছেন। এই কারনেই ব্যাখ্যায় উল্লেখিত হয়েছে, ‘প্রশংসাসূচক আল-হামদুলিল্লাহ তাঁরঅনুগ্রহের জন্য উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত; তাঁর শাস্তি দমন করে; এবং তাঁর অতিরিক্ত সংযোজনের জন্য বিনিময় হিসেবে কাজ করে।’ এই আলোকে বুঝা যায়, প্রশংসাসূচক বাক্যের উচ্চারন হলো জান্নাতের জন্য মজুদস্বরূপ।

পৃৃষ্ঠা:১০

১.৩ কর্ম ও জান্নাত উভয় আসে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে

অতএব, আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার দ্বারা বিশ্বাসী বান্দাদের জান্নাত এবং কর্ম নির্ধারিত হয়। এ কারনেই জান্নাতের অধিবাসীরা সেখানে প্রবেশ করেই বলবে,وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلَّ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَنُودُواْ أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أورثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ…তারা বলবে, ‘প্রশংসা আল্লাহ্রই যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে পথ না দেখালে আমরা কখনও পথ পেতাম না। আমাদের প্রতিপালকের রাসুলগণ তো সত্যবাণী এনেছিলেন,… [সুরা আ’রাফঃ ৪৩] যখন তারা স্বীকার করবে যে, তাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহের দ্বারা এবং তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা তাদের মধ্যে ঐক্য নির্ধারন করা হয়েছিলো মুখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে একটি বিহিত করার জন্য, এর অর্থ হলো, তাঁর হিদায়াহ এবং তাঁর প্রশংসা করার পর তাদেরকে এই বলে পুরস্কৃত করা হবে যে,أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ… এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, ‘তোমরা যা করতে তারই জন্য তোমাদেরকে এই জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে।’ [সুরা আ’রাফঃ ৪৩]

পৃৃষ্ঠা:১১

তাদের কৃতকর্ম গুলোকে তাদের গুণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। সার্বিকভাবে বিবেচনার পর কোন কোন সালাফ বলেন, “যখন কোন বান্দা গুনাহ করে এবং বলে, ‘হে আল্লাহ, এটা তোমারই হুকুম!’ তখন আল্লাহ বলবে, ‘তুমিই সে, যে গুনাহ করলো এবং আমাকে অমান্য করলো!’ এখন বান্দা যদি বলে, ‘হে আল্লাহ, আমি ভুল করেছি, গুনাহ করেছি এবং মন্দ কাজ করেছি!’ তখন আল্লাহ এই বলে সাড়া দিবেন, ‘আমি তোমার উপর এটা হুকুম করেছি, আমি তোমাকে ক্ষমা করবো।”

১.৪ আল্লাহর ক্ষমা ও ন্যায়পরায়নতার মধ্য দিয়ে আসে

সুখ-দুঃখ

রাসুল (সঃ) এর বাণী, “শুধুমাত্র তোমাদের আমল তোমাদের কারোকে রক্ষা করবেনা।”””আমলনামা একা কখনই একজনের জান্নাতে প্রবেশ করার কারন হবেনা। “এগুলোর মর্মার্থ আরো ভালভাবে বুঝা যাবে যখন এটা অনুধাবন করা সম্ভব হবে যে, সৎকর্মের পুরস্কার, বহুসংখ্যক গুণ বেড়ে যায় শুধুমাত্র মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর বদান্যতা ও অনুগ্রহের কারনে। তিনি যাকে ইচ্ছা২০ সৎকর্মের জন্য পুরস্কৃত করেন দশ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত। যদি তিনি সৎকর্মের পুরস্কার সেই কর্মের সমান করতেন, যেমন্টা তিনি করেছেন অসৎ

পৃৃষ্ঠা:১২

কর্মের শাস্তির ক্ষেত্রে, তাহলে কখনই সৎকর্মের প্রতিদান অসৎ কর্মগুলোকে বাতিল করতে পারতো না এবং একজন ব্যক্তি নিঃসন্দেহে ধ্বংস হয়ে যেত। সৎ আমলের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইবনে মা’সুদ (রাঃ) বলেন, “যদি একজন আল্লাহর ওলির পরমাণু পরিমাণ ভালো অবশিষ্ট থাকে, (পারস্পরিক হিসাব- নিকাশের পর), আল্লাহ তাকে বহুসংখ্যক গুন বাড়িয়ে দিত যেন সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। যদি সে এমন একজন হয় যার জন্য দুঃখ-দুর্দশা নির্ধারিত আছে, তখন ফেরেশতা বলে, ‘হে আল্লাহ, তার সৎ আমল শেষ হয়ে গিয়েছে, এখনও অনেক মানুষ আছে যারা ক্ষতিপূরন চাইছে (পারস্পরিক হিসাব-নিকাশ)। ‘তিনি উত্তর দিবেন, ‘তাদের গুনাহ গুলো নাও এবং সেগুলো তার আমলনামায় যোগ করো, তারপর তাকে আগুনের তীব্র যন্ত্রণাকর জায়গার জন্য প্রস্তুত করো। ২২ অতএব এটা পরিষ্কার যে আল্লাহ যাদেরকে সুখ দিতে ইচ্ছা করেন তাদের ভালো কাজ অনেক গুন বাড়িয়ে দেন যতক্ষন পর্যন্ত না তারা কোন শাস্তির চূড়ান্ত ঋণ পরিশোধ (এমন কোন একজনকে যে পারস্পরিক হিসাব-নিকাশ চায়) শেষ করে; এবং এই সবকিছুর পরে, যদি পরমাণু পরিমাণ ভালো

পৃৃষ্ঠা:১৩

অবশিষ্ট থাকে, আল্লাহ এটা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন যতক্ষন না সে এর দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করে। এই সবকিছু হবে তাঁর দয়া ও বদান্যতা দ্বারা! যেকোন উপায়ে হোক, আল্লাহর যে কারো জন্য দুঃখ-দুর্দশা নির্ধারন করেছেন; তাদের ভালো কাজ ঐ পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে না যেন সে শাস্তির চূড়ান্ত ঋণ পরিশোধ করতে পারে। বরং দুইয়ের মধ্যে পরে উল্লেখিত ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত কোন একটি ভালো কাজকে দশ গুণ করা হবে না, এগুলো তার দাবিদারদের মধ্যে ন্যায্যভাবে বন্টন করে দেয়া হবে যারা এগুলো গ্রহন করতে সম্মত হবে, তখন পর্যন্ত যদি অবশিষ্ট অবিচারের জন্য আরো অতিরিক্ত পরিশোধ বাকি থাকে, তাহলে তাকে তাদের অসৎ কর্মগুলোর ভার তার আমলনামায় বহন করতে হয়, এটাই তার আগুনে প্রবেশের কারন হয়ে দাঁড়ায়। এটা তাঁরই ন্যায়বিচার। ২৩

পৃৃষ্ঠা:১৪

এই আলোকে ইয়াহিয়া ইবনে মা’সুদ বলেন, “যখন তিনি তাঁর অনুগ্রহ প্রসারিত করেন, তখন ঐ ব্যক্তির একটিও মন্দকাজ অবশিষ্ট থাকে না!, যখন তার ন্যায়পরায়নতা সামনে চলে আসে, ঐ ব্যক্তির একটিও সৎ কর্ম অবশিষ্ট থাকে না। ২৪বুখারী এবং মুসলিমে উল্লেখ আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেন, “যার আমলনামা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করা হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।” অন্য বর্ণনায় এসেছে “…শাস্তি দেয়া হবে।” এবং অন্য আরেকটি বর্ণনায় এসেছে “…পরাভূত করা হবে। ২

পৃৃষ্ঠা:১৫

আবু নুয়াইম সংগৃহীত আলি (রাঃ) হতে বর্ণিত যে নবী (সঃ) বলেছেন, “বনি ইসরাইলের নবীদের মধ্য হতে একজন নবীকে আল্লাহ জানিয়ে দেন, ‘আপনার কওমের মধ্যে যারা আমাকে মান্য করে তাদেরকে বলুন, বিচারদিবসের জন্য তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের উপর অতিরিক্ত মাত্রায় ভরসা করো না, আমার বান্দাকে আমি শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা করলে আমি তার আমলনামার নিষ্পত্তি করবো না তাকে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত। আপনার উম্মতের মধ্যে যারা আমাকে অমান্য করে তাদেরকে বলুন, তারা যেন হতাশ না হয় কেননা আমি ইচ্ছা করলে অনেক বড় গুনাহ ক্ষমা করে দেই। ২৮ আব্দুল-আজিজ ইবনে আবু রাও-ওয়াদ বলেন, ‘আল্লাহ দাউদ (আঃ)কে এই বলে উতসাহিত করেন, “সুখবর দাও গুনাহগারদের আর সাদাকা দানকারীদের সতর্ক করো।” বিস্ময়কর। দাউদ বলেন, “হে আল্লাহ, আমি কেন গুনাহগারদের সুখবর আর সাদাকা দানকারীদের সতর্ক করবো? “তিনি উত্তর দিলেন, গুনাহগারদের এই সুখবর দিন যে এমন কোন নিদারুনগুনাহ আমি খুজে পাইনি যা ক্ষমার অযোগ্য এবং তাদেরকে সতর্ক করুন যারা এমনভাবে সাদাকা দেয় যে এমন কোন বান্দা নেই যার উপর আমি আমার বিচার ও রায় পরিমাপ করে দেইনি, তারা ছাড়া সে ধ্বংস হয়ে যাবে।

পৃষ্ঠা ১৬ থেকে ৩০

পৃৃষ্ঠা:১৬

ইবনে উয়ায়নাহ বলেন, “সুবিবেচনা বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে মন্দ কাজগুলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরিক্ষার মধ্য দিয়ে এমনভাবে অতিক্রম করানো যেন কোনকিছু অবশিষ্ট না থাকে। ” ইবনে ইয়াযিদ বলেন, “কঠিন হিসাব হলো সেটা যেখানে কোন ক্ষমা নেই আর সহজ হিসাব হলো সেটা যেখানে একজনের গুনাহগুলোকে ক্ষমা করা হয় এবং ভালো কাজগুলোকে গ্রহন করা হয়।” সবগুলো বিবরন থেকে দেখা যায়, ক্ষমাশীলতা, দয়া এবং ভুলত্রুটির উপেক্ষা ছাড়া বান্দা সফল হতে পারবেনা। এখানে আরো দেখা যায়, বান্দা নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হবে যদি আল্লাহ পুরোপুরি ন্যায়সঙ্গত ভাবে বিহিত করেন।

পৃৃষ্ঠা:১৭

১.৫ আল্লাহর নিয়ামত কখনই পরিশোধযোগ্য নয় আবারো তাঁর আয়াত থেকে পরিষ্কার হয় যে,

ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِএরপর অবশ্যই তোমাদেরকে নিয়ামত সম্মন্ধে প্রশ্ন করা হবে। [সুরা তাকাসুরাঃ ৮] এই আয়াত থেকে দেখা যায় বান্দাদের সেসব নিয়ামাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে যেগুলো তারা এই দুনিয়াতে ভোগ করেছেঃ তারা কি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিলো না করেনি? যে কেউ যার প্রয়োজন ছিলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রত্যেকটি নিয়ামতের জন্য যেমন ভালো স্বাস্থ্য, সুস্থ মন, ভালো জীবিকা, এবং তাছাড়া আদ্যপান্ত পরীক্ষিত হবে এবংজেনে রাখা উচিত যে তার সমস্ত সৎকর্ম একত্রে এসব নিয়ামতের কিছুসংখ্যকের ঋণও পরিশোধ করতে পারবে না। হতে পারে মানুষটি শাস্তির উপযুক্ত। খারাইতি, কিতাব আল-শুকুর, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর হতে উল্লেখ করেছেন যে নবী (সঃ) বলেন, “বিচারদিবসে বান্দাদের একত্র করা হবে এবং সে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। তিনি তাঁর ফেরেশতাদের বলবেন, ‘আমার বান্দার কৃতকর্মসমূহ এবং তার উপর আমার নিয়ামতসমূহ হিসাব

পৃৃষ্ঠা:১৮

করো।’ তারা দেখবে এবং বলবে, ‘তাকে আপনার পক্ষ থেকে যে নিয়ামতগুলো দেয়া হয়েছিলো এগুলোর সমষ্টি তার একটির সমান নয়।’ তখন তিনি বলবেন, ‘তার ভালোকাজ ও মন্দকাজের হিসাব করো।’ তারা হিসাব করবে এবং একই অবস্থা দেখবে যার ফলে তিনি বলবেন, ‘হে আমার বান্দা, আমি তোমার ভালো কাজগুলোকে গ্রহন করেছি এবং মন্দকাজগুলো ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি তোমাকে আমার অনুগ্রহ দান করেছি। ****তাবারানিতে উল্লেখ আছে ইবনে উমার (রদিয়াল্লাহু আ’নহুমা) হতে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেন, “বিচারদিবসে একজন ব্যক্তিকে এত সতকর্ম সহ আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে যে সেগুলোকে একটি পাহাড়ের উপর স্থাপন করলে তা পাহাড়ের জন্য বোঝা স্বরূপ হয়ে যেতো! তারপর আল্লাহর অনেক নিয়ামতের মধ্যে একটিমাত্র নিয়ামতকে হাজির করা হবে এবং তা তার প্রায় সমস্ত কৃতকর্মকে ধূলিসাৎ করে দিত যদি না আল্লাহ দয়া করে সেগুলোকে ফুলিয়ে-ফাপিয়ে না দিতেন। ৩৬

পৃৃষ্ঠা:১৯

ইবনে আবু আল-দানিয়া আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে নবী (সঃ) বলেন, “বিচারদিবসে সতকর্ম ও অসতকর্মের পাশাপাশি অনুগ্রহকে অগ্রবর্তী করা হবে। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহগুলোর মধ্যে শুধু একটি কথা বলবেন, ‘তুমি তোমার ন্যায্য পাওনা তার ভালো কাজগুলো থেকে নিয়ে নাও,’ এবং এটা তার সমস্ত ভালো কাজকে নিয়ে যাবে। ” তিনি আরো উল্লেখ করেন ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, ‘এক বান্দা পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন, আল্লাহ তাকে এই বলে অনুপ্রাণিত করেছিলেন যে “আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।”বান্দা জিজ্ঞাসা করলেন, “হে স্রষ্টা, আপনার ক্ষমা করার কি আছে? আমি কোন গুনাহ করি নাই!” অতঃপর আল্লাহ তার ঘাড়ের একটি শিরাকে হুকুম করলেন যন্ত্রণাদায়কভাবে স্পন্দন করতে যেন সে ইবাদত করতে না পারে এবং ঘুমাতে না পারে। অচিরেই এটি ভালো হয়ে গেলো এবং একজন ফেরেশতা তার কাছে আসলো এবং তার কাছে সে তার শিরা সম্পর্কে অভিযোগ করলো। ফেরেশতা তাকে বলল, “তোমার মহান ও সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা বলেন, তোমার গত পঞ্চাশ বছরের ইবাদাত তোমার ঐ শিরা উপশমের সমান।

পৃৃষ্ঠা:২০

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাকিম এ উল্লেখ আছে নবী (সঃ) বলেন যে জিবরাইল (আঃ) বলেন, “এক বান্দা পাঁচশত বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন পাহাড়ের উপরে এবং সমুদ্রের মধ্য হতে। এরপর সে আল্লাহর কাছে সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু কামনা করলেন। প্রত্যেক উঠানামার সময় আমরা তাকে অতিক্রম করতাম আর আমরা লিখিত পেতাম যে (প্রাক-অনন্তর জ্ঞান হতে) বিচারদিবসে সে পুনরুত্থিত হবে এবং মহান ও সর্বশক্তিমানআল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। আল্লাহ বলবেন, ‘আমার ক্ষমার উতকর্ষে আমার বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। ‘বান্দা বলবে, ‘হে আমার পালনকর্তা, বরং আমার কৃতকর্মের উতকর্ষে!’ এই ঘটনা তিনবার ঘটবে, তারপর আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলবেন, ‘তার কৃতকর্মের বিপরীতে আমার নিয়ামত ওজন কর,’ এবং তারা দেখবে যে দৃষ্টিশক্তির নিয়ামত একাই তার পাচশত বছরের ইবাদতকে নিয়ে নিয়েছে, শরীরের অন্যান্য নিয়ামত এখনও বাকি আছে। তিনি বলবেন, ‘আমার বান্দাকে আগুনে দাও।’ তাকে টেনে হিচড়ে আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে আর সে আর্তনাদ করতে থাকবে, ‘আপনার ক্ষমার উতকর্ষে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আপনার ক্ষমার উতকর্ষে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।’ এরপর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” জিবরাইল এই বলে চলে গেলেন, “হে মুহাম্মাদ, সবকিছু আল্লাহর ক্ষমার কারনেই ঘটে। ০৯

পৃৃষ্ঠা:২১

পূর্বে যা কিছু সংঘটিত হয়েছে তার সবকিছু যে বুঝে তারা প্রত্যেকে নিজেরাই উপলিব্ধি করবে যে তার কৃতকর্ম, তা যতই মহান হোক না কেন, তার সফলতার জন্য যোগ্যতারক্ষেত্রে এবং জান্নাতে প্রবেশের জন্য অথবা আগুন হতে নাজাতের জন্য পর্যাপ্ত নয়। উদাহরনস্বরূপ, সে আর কখনই তার কৃতকর্মের উপর মাত্রাতিরিক্ত ভরসা করবে না বা তাদের দ্বারা প্রভাবিত হবে না এমনকি যদিওবা তা মহান ও বিস্ময়কর হয়। যদি এই ঘটনা হয় বহুসংখ্যক মহৎ কাজের অবস্থা, তাহলে বহুসংখ্যক তুচ্ছ কাজ নিয়ে একজনের কি ভাবা উচিত? এই ধরনের মানুষের তার ইবাদতের হীনতা বিবেচনা করা উচিত এবং অনুতাপ ও অনুশোচনার মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখা উচিত।

পৃৃষ্ঠা:২২

১.৬ কৃতজ্ঞতা একটি অন্যতম বড় নিয়ামত

বহুসংখ্যক মহৎ কাজের অধিকারী যে তার সর্বদা অবশ্যই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ব্যস্ত থাকা উচিত, বান্দাকেকৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঙ্গতি দেয়া হল আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রতি অন্যতম বড় নিয়ামত। এটা তার উপর ফারদ যে সে কৃতজ্ঞতার সহিত এই কাজগুলো সম্পন্ন করবে এবং ন্যায্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভাব উপলব্ধি করবে। ওহাব ইবনে অবু ওয়ার্দকে যখন একটি বিশেষ কাজের প্রতিদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন, ‘এর প্রতিদান চেয়ো না, কিন্তু ঐ কাজ করার তৌফিক অর্জনের কারনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। **১ আবু সুলাইমান বলতো, ‘একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কিভাবে তার কৃতকর্ম দ্বারা অভিভূত হতে পারে? কৃতকর্মগুলো হচ্ছে আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত, বিনয় প্রদর্শন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যই এটা তার উপর অর্পন করা হয়। কেবলমাত্র কাদারিয়াহ-রাই তাদের কৃতকর্ম দ্বারা অভিভূত হয়।*** এরা হলো তারাই যারা বিশ্বাস করে না যে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার বান্দার কর্ম নির্ধারন করেন।

পৃৃষ্ঠা:২৩

যেদিন দাউদ আল-তাই মারা গেলেন সেদিন কতই না সুন্দর কথা বলেছেন আবু বকর আল-নাহশালি। তার দাফনের পর ইবনে আল সাম্মাক দাঁড়িয়ে তার সতকর্মগুলোর প্রশংসা করেন এবং নিজে কাঁদলেন ও উপস্থিত সকলকে কাঁদালেন এবং শপথ করে বললেন যে তিনি যা বলেছেন তা সত্য বলেছেন… আবু বকল আল-নাহশালি দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন এবং তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করুন এবং তার কর্মের উপর তাকে ছেড়ে দিবেন না! যায়িদ ইবনে সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আবু দাউদে উল্লেখিত আছে যে আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেন, “আল্লাহ যদি দুনিয়া ও জান্নাতের অধিবাসীদের শাস্তি দিতে চাইতেন, তাহলে তিনি যেকোন উপায়ে কোন রকম নিষ্ঠুরতা ছাড়াই তা করতে পারতেন। যদি তাদের প্রতি দয়া দেখাতে চান, তাহলে তার তাঁর দয়া তাদের কৃতকর্ম অপেক্ষা উত্তম। ৪৫

পৃৃষ্ঠা:২৪

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাকিমে উল্লেখ আছে নবীজির কাছে একজন লোক আসলেন এবং বললেন, ‘পাপ! পাপা’দুই-তিনবার একই কথার পুনারাবৃত্তি করলেন। আল্লাহর রাসুল (সঃ) বললেন, “বল, হে আল্লাহ, আপনার ক্ষমাশীলতা আমার পাপের চেয়ে সুবিশাল এবং আমি আমার কৃতকর্মের চেয়ে তার উপর বেশি আশা রাখি।” সে তাই বলল এবং আল্লাহর রাসুল (সঃ) বললেন, “আবার বল।” সে তা করল এবং তাকে পুনরায় বলতে হুকুম করা হলে সে আবারও বলল। তারপর তিনি (সঃ) বললেন, “দাঁড়াও তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে। পাপের বিবেচনায় আমি ছিলাম প্রাচুর্যময়, কিন্তু আমার রবের ক্ষমা তার চেয়ে বেশি প্রাচুর্যময়ঃ আমার কর্মের কাছে ছিল না কোন প্রত্যাশা তবে আল্লাহর দয়া আমাকে দিয়েছে প্রতীক্ষা।

পৃৃষ্ঠা:২৫

১.৭ আল্লাহর অনুগ্রহের স্বীকারোক্তি

নিজেদের মধ্যেএখনযে উন্নত নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটাই এই কাজের পরিচিতি, আগুন হতে নাজাত এবং জান্নাতে প্রবেশকে অপরিহার্য করে তোলা নয়, জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে উত্তরণকে অপরিহার্য করে তোলাঃ তাদের স্তরে যা কাছে আনে এবং দুনিয়ার পালনকর্তার মুখ দেখা এবং এটা জানা যে শুধুমাত্র আল্লাহর দয়া, অনুগ্রহ ও ক্ষমাশীলতার মধ্যদিয়ে অতিক্রম করতে পারলে তা পাওয়া সম্ভব। এর জন্য এখন প্রয়োজন মুমিনদের স্বীয় কর্ম সম্পর্কে উচ্চ ধারনা ত্যাগ করা এবং শুধুমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামতের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা। একজন জ্ঞানীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, ‘কোন কাজটা উত্তম? তিনি উত্তর দিলেন, ‘মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর অনুগ্রহ অনুধাবন করা।’ কোন উপায়ে পারো কিছু পরিমাণে দান করতে, যোগসাজশ করবে সে অসাড়ের সাথে সুবিজ্ঞের। যখন সবকিছু বোধগম্য হয়, ইমানদার বান্দার জন্য এটা ফরজ; যে বান্দা আগুন থেকে নাজাত ও জান্নাতে প্রবেশ করতে চায়, যে তার প্রভুর নিক্টবর্তী হতে চায়, তাঁর মুখ দর্শন করতে চায়; এই সব পেতে হবে এমন এক উপায় গ্রহন করে যা অর্জন করবে আল্লাহর দয়া, অব্যাহতি, ক্ষমা, সন্তুষ্টি এবং ভালোবাসা। এই পথেই সে তাঁর বদান্যতা অর্জন করবে। আল্লাহর নির্ধারিত বিভিন্ন কর্মকান্ড করাই হল সেই পথঃ শুধুমাত্র সেইসব কাজ যেগুলোতিনি তাঁর রাসুলের (সঃ) উপর নাজিল করেছেনঃ শুধুমাত্র ঐসব কর্মকান্ড যা সম্পর্কে রাসুল (সঃ) বলেছেন আমাদেরকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যাবেঃ

পৃৃষ্ঠা:২৬

ঐসব কর্মকান্ড যা তিনি ভালোবাসেন এবং যা তাঁর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা অর্জন করে। মহান আল্লাহ বলেন,وَلا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ…নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মপরায়নদের নিকটবর্তী। [সুরা আ’রাফঃ ৫৬]وَاكْتُبْ لَنَا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ قَالَ عَذَابِي أَصِيبُ بِهِ مَنْ أَشَاء وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ….আমার শান্তি যাকে ইচ্ছা দিয়ে থাকি আর আমার দয়া-তা তো প্রত্যেক বস্তুতে ব্যাপ্ত। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করবো যারা তাকওয়া অবলম্বন করে…’ [সুরা আ’রাফঃ ১৫৬]সুতরাং একজন বান্দার উপর এটা ফারদ যে সে তাকওয়ার ঐসকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং ধার্মিকতা খুজে বের করবে যা আল্লাহ তাঁর কুরআন অথবা তাঁর রাসুলের (সঃ) উপর নাজিল করেছেন এবং তিনি যা কিছু নিজে করে গেছেন, এইসব আমল করার মাধ্যমে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া। একজন মুমিনের লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য এছাড়া আর কোন উপায় নেই।

পৃৃষ্ঠা:২৭

“তালক ইবনে হাবীবকে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা এমন যে তুমি আল্লাহকে মান্য করে আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত প্রাপ্ত হয়ে, আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার পাওয়ার আশায়। আল্লাহর অবাধ্যতা ত্যাগ করো আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত প্রাপ্ত হয়ে, আল্লাহর শাস্তিকে ভয় পেয়ে।’ ইবনে আল মুবারক, আল-যুহদ ৫৪৭৩ তে সহীহ ইসনাদসহ উল্লেখ করেছেন। ইবনে আল-কাইয়ুম, আল-রিসালাহ আল-তাবুকিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৭ এ বলেন, ‘তাকওয়া সম্পর্কিত সবচেয়ে ভালো সংজ্ঞা হলো নিশ্চয়ই প্রত্যেকটি কাজ শুরুর একটি কারন ও উদ্দেশ্য থাকতে হবে। আল্লাহরপ্রতি আজ্ঞানুবর্তিতা ও তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার কারন কখনই আমলহিসেবে গণ্য হতে পারেনা যতক্ষন পর্যন্ত না এর শুরুর অগ্রভাগ ও কারন হবে নিখাদ বিশ্বাস, না অভ্যাস, না আকংক্ষাভিত্তিক, না প্রশংসা ও অবস্থানের আশায়, না এই ধরনের অন্যকিছু। এর উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর পুরস্কার ও তাঁর সন্তুষ্টি, এটাই ইহতিসাব এর সংজ্ঞা। এই কারনেই মাঝে মাঝে আমরা এই দুইটি বুনিয়াদের যুগল উল্লেখ দেখতে পাই, যেমন তিনি (সঃ) বলেছেন, “যে ঈমানের সাথে রমাদানের সিয়াম পালন করবে এবং ইহতিসাব…” তার বক্তব্য ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত প্রাপ্ত হয়ে প্রথম বুনিয়াদ ঈমানকে ইঙ্গিত করে। তার বক্তব্য, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার আশা করা’ দ্বিতীয় বুনিয়াদ ইহতিসাবকে ইঙ্গিত করে।’

পৃৃষ্ঠা:২৮

দ্বিতীয় অধ্যায়

আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল

গ্রন্থের শুরুতে আয়শা (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে দুইটি হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে নবী (সঃ) আল্লাহর সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজের নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো হলোঃ

১। ঐসব ইবাদত যা অধ্যাবসায়ের সাথে একটানা করা হয় যদিওবা তা সংখ্যায় কম হয়। এটাই হলো নবী (সঃ) এবং তার পরে তার স্ত্রীগণ ও তার পরিবারের আমলের বিবরন। তিনি আমলের বিচ্ছিন্নতাকে নিষেধ করতেন এই বলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ইবনে আল-আস (রাঃ) “অমুক এবং অমুক এর মত হওয়ো না যে রাতে সালাত পড়তে থাকে এবং তারপর ছেড়ে দেয়। তিনি (সঃ) বলেন, “তোমাদের কারো দুয়ার উত্তর দেওয়া হবে যতদিন কেউ তাড়াহুড়া না করবে এবং অধৈর্য্য না হবে এই বলে যে, ‘আমি দুয়ার পর দুয়া করলাম কিন্তু কোন উত্তর পাইনি।’ তাই সে হতাশ হয়ে পড়ে এবং দুয়া করা ছেড়ে দেয়। “

পৃৃষ্ঠা:২৯

আল-হাসান বলেন, “যখন শয়তান দেখে আপনি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি অনুজ্ঞত্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অধ্যবসায়ী, তখন সে আপনাকে বিপথগামী করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে; যদি সে এরপরও আপনাকে অধ্যবসায়ী পায়, তাহলে সে চেষ্টা ছেড়ে দিবে এবং আপনাকে ত্যাগ করবে। কিন্তু, যদি সে আপনাকে এটা-ওটার মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করতে দেখে, সে আপনার ভিতর আশা খুজে পাবে।”

২। ঐসব ইবাদত যা করা হয় অটলতা, ভারসাম্য আর আরামের সাথে যা কষ্টকর পরিণরতি ও অযৌক্তিক সংগ্রাম বিরোধী। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন,شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ…. আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না…’ [সুরা বাকারাঃ ১৮৫]يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَينِ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا وَإِن كُنتُم

পৃৃষ্ঠা:৩০

مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مَّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لا مَسْتُمُ النِّسَاء فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ…. আল্লাহ তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না… [সুরা মায়িদাঃ ৬]وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاء عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ…. তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন। তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কোঠরতা আরোপ করেন নাই।…’ [সুরা আল-হাজ্জঃ ৭৮]

পৃষ্ঠা ৩১ থেকে ৪৫

পৃৃষ্ঠা:৩১

নবী (সঃ) বলতেন, “বাস্তবিক বিষয়গুলোকে সহজ করো এবং এগুলোকে কঠিন করে তুলো না। তিনি (সঃ) বলেন, “বাস্তবিক বিষয়গুলোকে সহজ করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে, এগুলোকে কঠিন করে তোলার জন্য তোমাদেরকে পাঠানো হয় নি। ৩১ আহমাদ এ উল্লেখ আছে ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহকে (সঃ) জিজ্ঞাসা করা হয়ছিলো যে ‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ধর্ম কি?’ তিনি উত্তর দিলেন, “সহজ ও স্বাভাবিক ধর্ম। ৩২ মিহজান ইবনে আল-আদ্‌রা হতে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, একজন লোককে সালাতরত অবস্থায় দাঁড়ানো দেখে নবী (সঃ) মাসজিদে প্রবেশ করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি তাকে সত্যবাদী মনে করেন?” বলা হয় যে, ‘আল্লাহর নবী, তিনি অমুক এবং অমুক, তিনি মাদিনার সবচেয়ে উত্তম বাসিন্দা এবং সালাত আদায়কারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়মিত!’

পৃৃষ্ঠা:৩২

তিনি বললেন, “তাকে শুনতে দিও না পাছে তুমি তাকে ধ্বংস করে দাও৫৩ (এই কথা তিনি দুই-তিনবার বললেন।) তোমরা হলে সেই উম্মত যাদের কাছ থেকে শান্তি কাম্য। অন্য বর্ণনায় কথাটা এভাবে এসেছে, “তোমার ধর্মের সবচেয়ে সহজ দিকটি হলো এর সবচেয়ে ভালো দিক। “কথাটি অন্য আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, “অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তা অতিক্রমের চেষ্টা করে তুমি বিষয়টি রপ্ত করতে পারবে না।

পৃৃষ্ঠা:৩৩

হুমায়দ ইবনে যানজাওয়াহ-ও এই হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং তার বিবরনে সংযোজন করেন, “… এমন আমল করো যা তুমি ধারন করার সমর্থ রাখো, কারন আল্লাহ (তোমার প্রতিদান) দিতে ক্ষান্ত হন না যতক্ষন না তুমি ক্লান্ত হও এবং ত্যাগ করো এবং তোমার জন্য রয়েছে সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের শেষ ভাগ আল্লাহর ইবাদত করার জন্য।”** আহমাদে উল্লেখ আছে বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি শুধুমাত্র রাসুলুল্লাহকে (সঃ) দেখতে গেলাম এবং তার সাথে যোগদান করলাম। আমরা আমাদের সামনে একজন লোককে অনেক সালাত পড়তে দেখলাম এবং তিনি (সঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার কি মনে হয় সে জাহির করছে?” আমি বললাম, “আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সবচেয়ে ভালো জানে।” তিনি আমার কাছ থেকে হাত ছাড়িয়ে নিলেন এবং দুই হাত একত্রিত করে তা উপর- নিচ করলেন আর বললেন, “মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, কারন যে কেউ এই ধর্মকে কঠিন করে তুলবে সে তাকে এর মধ্যে বিধ্বস্ত অবস্থায় খুজে পাবে। ৫৮

পৃৃষ্ঠা:৩৪

মুরসাল তথ্য হিসেবেও এই হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে এবং এখানে উল্লেখ করা হয় যে নবী (সঃ) বলেন, “এই ব্যক্তি কঠিন পথ বেছে নিয়েছে, সহজ পথ নয়।” অতঃপর তিনি লোকটির বুকে ধাক্কা দিলেন এবং চলে গেলেন এবং ঐ লোককে আর কোনদিন মাসজিদে দেখা যায়নি। এ যারা অনবরত সন্ন্যাসী জীবনযাপন করতে, খাসি হয়ে যেতে, সারারাত সালাত পড়তে, প্রতিদিন সিয়াম রাখতে, প্রতিরাতে সম্পূর্ণ কুরআন পড়তে যেমন পড়তেন আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস, উসমান ইবনে মাযু’ন, আল-মিকদাদ এবং অন্যান্যরা; তাদের বিষয়ে নবী (সঃ) আপত্তি করেছেন। তিনি (সঃ) বলেন, “… আমি সিয়াম পালন করি এবং ভঙ্গ করি; আমি রাতে সালাত পড়ি এবং ঘুমাই; এবং আমি বিয়ে করিঃ যে আমার সুন্নাহ থেকে সরে যাবে সে আমার অন্তর্ভুক্ত না।” পরিশেষে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে প্রতি সাতদিনে একবার কুরআন তিলাওয়াত করার পরামর্শ দেন এবং একটি বর্ণনায় উল্লেখ আছে তিনি প্রতি তিনদিনে সম্পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করার পরামর্শ দেন। তিনি (সঃ) বলেন,

পৃৃষ্ঠা:৩৫

“যে ব্যক্তি তিনদিনের কমে এটি তিলাওয়াত করবে সে এটা বুঝেনি।” সবশেষে তিনি (সঃ) সিয়াম সম্পর্কে তাকে পরামর্শ দিতে গিয়ে দাউদের সিয়াম নিয়ে বলেন, “এর থেকে উত্তম আর কোন সিয়াম নেই।” রাতের সালাত সম্পর্কে পরামর্শ দিতে গিয়ে দাউদের সালাতের কথা উল্লেখ করেন।

পৃৃষ্ঠা:৩৬

তৃতীয় অধ্যায়

“সাদ্দিদু ওয়াকরিবু” এর অর্থ

আবু হুরায়রাহ ও আয়শা (রাদি আল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত তার (সঃ) হাদিস “দৃঢ়, অবিচল ও মধ্যপন্থি হও৬২, সাদ্দিদু অর্থ বুঝায় দৃঢ়তা এবং সহিষ্ণুতার সাথে আমল করা। এর অর্থ হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, একজনের উপর যা কিছু ফরদ করা তা ত্যাগ করে অসম্পূর্ন না থাকা বা একজন যতটুকু বহন করতে পারে তার থেকে বেশি ভার না নেওয়া। নাদর ইবনে শুমায়ল বলেন, ‘আল-সাদাদ বলতে বুঝায় ধর্মপালনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা।”অনুরূপ, রুরিবু একই অর্থ বুঝায়ঃ অসম্পূর্নতা ও বাড়াবাড়ি এই দুইয়ের মাঝের পথ বেছে নেওয়া। দুইটি শব্দ অভিন্ন এবং অনুরূপ অর্থ। তিনি (সঃ) অন্য আরেকটি বর্ণনায় এটা বুঝাতে চেয়েছেন, “মধ্যম পথকে আকঁড়ে ধরো।”

পৃৃষ্ঠা:৩৭

তার (সঃ) বক্তব্য, “… যাদের জন্য রয়েছে সুখবর।” বুঝায় যে কেউ দৃঢ়তা ও মধ্যম পথে আল্লাহকে মান্য করবে, তার জন্য রয়েছে সুখবর, কারন সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে এবং তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে যে তার কর্মসাধনের জন্য মহান প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। দৃঢ়তা এবং মধ্যম পথ হলো অন্য আর সকল পথ থেকে ভালো; অন্যক্ষেত্রে কঠিন সংগ্রামের চেয়ে সুন্নাহ অনুসরনে মধ্যপন্থি হওয়া ভালো, “মুহাম্মদ (সঃ) এর পথনির্দেশই উত্তম পথনির্দেশ। যে কেউ তার পথ অনুসরন করবে অন্য যেকোন পথের চেয়ে আল্লাহকে সে বেশি কাছাকাছি পাবে। অনেক বেশি বাহ্যিক আমলের করে পুণ্য অর্জন সম্ভব নয়, বরং এটা অর্জন করা সম্ভব আল্লাহর প্রতি ইখলাস পুর্ন আমল এবং সুন্নাহ মোতাবেক সেগুলো যেন সঠিক হয় এবং অন্তরের জ্ঞান ও আমলের মাধ্যমে।যার আল্লাহ, তাঁর ধর্ম এবং তাঁর হুকুম-আহকাম সম্পর্কে বেশি জ্ঞান আছে, তারই তাঁর সম্পর্কে ভয়, ভরসা ও ভালোবাসা রয়েছে অন্য একজনের চেয়ে বেশি যে ঐ জ্ঞান অর্জন করতে পারে নাই, যদিওবা দ্বিতীয় ব্যক্তি বাহ্যিক আমল বেশি করে। এই ধারনাটি নেওয়া হয়েছে আয়শার (রাঃ) হাদিস হতে, “দৃঢ়, অবিচল ও মধ্যপন্থি হও, যার উপর সুসংবাদ আছে, নিশ্চয়ই শুধুমাত্র আমল একজনের জান্নাতে প্রবেশের কারন হবে না। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে সেটা যা একটানা এবং অধ্যবসায়ের সাথে করা হয়, যদিওবা তা সংখ্যায় কম।”

পৃৃষ্ঠা:৩৮

অতএব তিনি আমলের ক্ষেত্রে আমাদেরকে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে আদেশ করেছেন এবং জ্ঞানের সাথে এর সমন্বয় ঘটাতে বলেছেন, যা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল এবং তিনি আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন শুধুমাত্র আমল একজনের জান্নাতে প্রবেশের কারন হবে না।এটা এই কারনে যে কিছু সালাফ বলেন, ‘অনেক বেশি সিয়াম বা সালাতের গুণে আবু বকর তোমাদেরকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি, বরং এমনকিছু তার অন্তরের শিকড়ের ভিতর ছিলো যার কারনে সে তোমাদের ছাড়িয়ে গেছে। ১৬৪ তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, ‘আবু বকরের (রাঃ) অন্তরে যা ছিল তা হলো আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর বান্দার প্রতি ইখলাস।’কিছু জ্ঞানী বাক্তি বলেন, ‘এমন কেউ নেই যে ঐরকম উচ্চপর্যায়ে পৌছিয়েছে প্রচুর সিয়াম এবং সালাতের মাধ্যমে, বরং আত্মার উদারতা, অন্তরের সৌন্দর্য এবং উম্মাহর প্রতি আন্তরিকতা’ কেউ কেউ এর সাথে যোগ করেছেন, ‘এবং তাদের নিজেদের আত্মার সমালোচনা।’ তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, ‘তাদের মর্যাদার পার্থক্য নিহিত রয়েছে তাদের লক্ষ্যবস্তু ও নিয়্যতের ভিতর, সালাত ও সিয়ামের ভিতর নয়।’

পৃৃষ্ঠা:৩৯

ইসরাইলের অধিবাসীদের দীর্ঘ জীবন এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদের মহৎ প্রচেষ্টা আবু সুলাইমান উল্লেখ করেন, যা তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তোমার কাছ থেকে চায় সত্যিকার নিয়্যত যা তাঁর জন্য থাকে। ‘৬৬ ইবনে মাসু’দ তার সাথীদের বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদের (সঃ) সাহাবাদের চেয়ে বেশি সিয়াম পালন করো ও সালাত পড়ো কিন্তু তারা তোমাদের চেয়ে উত্তম।’ তারা জিজ্ঞাসা করলো, ‘তা কিভাবে?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘তারা তোমাদের চেয়ে এই দুনিয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি সংযমীএবং আখিরাতের ব্যাপারে উচ্চাভিলাষী ছিলো। *** অতঃপর তিনি ইঙ্গিত করলেন যে সাহাবাদের শ্রেষ্ঠতা নির্ভর করে আখিরাতের সাথে তাদের হৃদয়ের সংযোগের উপর, তার প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষা, এই দুনিয়া থেকে পরাম্মুখ হয়ে যাওয়া ও তা নিয়ে তাদের অল্প চিন্তাভাবনা যদিও তা তাদের জন্য সহজ প্রাপ্য ছিলো। তাদের হৃদয় ছিলো দুনিয়া শূন্য ও আখিরাতে পূর্ণ। এটাই তারা নবীর (সঃ) কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। তিনি (সঃ) ছিলেন একজনই যার হৃদয় ছিলো সবচেয়ে বেশি দুনিয়া বর্জিত ও আল্লাহর সাথে সংযুক্ত এবং আখিরাত ছিলো যার আবাসস্থল, তা সত্ত্বেও সৃষ্টিকুলের সাথে বাহ্যিকভাবে পারস্পরিক কর্মকান্ড সম্পাদন, নব্যুয়াতের দায়িত্বসমূহ পূর্ণভাবে পালন এবং ধর্মীয় ও দুনিয়াবি রাজনীতি বাস্তবায়ন।

পৃৃষ্ঠা:৪০

এটা ছিলো খুলাফা রাষ্ট্র যারা তার পরবর্তী সময়ে এসেছিলেন এবংতাদেরকে। যারা ধার্মিকতার ক্ষেত্রে অনুসরন করেছেন যেমন আল-হাসান ও উমার ইবনে আব্দুল-আজিজ। তাদের সময় এমন অনেক লোক ছিলো যারা তাদের চেয়ে অনেক বেশি সিয়াম পালন করতেন এবং সালাত আদায় করতেন কিন্তু তাদের। হৃদয়, দুনিয়া ত্যাগ, আখিরাতের দিকে ছুটে যাওয়া ও সেখানে বসতি স্থাপনের আকাঙ্ক্ষার যে স্তরে তারা উঠে গিয়েছিলো সেখানে পৌছাতে পারেনি।

৩. ১ একটি মহৎ নীতি

মানুষদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা নবীর (সঃ) পথ এবং তার সাহাবাদের প্রতিভা অনুসরন করেছে, যেমন ইবাদতের শারিরীক আমলের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন মধ্যপন্থি এবং অন্তরের হালচাল ও কাজ-কারবার শুদ্ধ করার ব্যাপারে তারা সংগ্রাম করেছেন। কারন শারিরীক যাত্রা নয়, অন্তর যাত্রা দ্বারাই। আখিরাতের যাত্রা সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব। এক জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে একজন লোক এসে বলল, ‘আমি অনেক যাত্রা করেছি এবং আপনার কাছে পৌছাতে কষ্ট হয়েছে।’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘এটা। দুঃসাধ্য যাত্রার ব্যাপার নয়, বরং, আপনার থেকে এক কদম নিচের দূরত্বে আপনার নিজের দূরত্ব এবং তারপর আপনি খুজে পাবেন লক্ষ্যকে।’

পৃৃষ্ঠা:৪১

আবু যায়দ বলেন, ‘আমি স্বপ্নে সর্বশক্তিমান স্রষ্টা দেখতে পেলাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আমার স্রষ্টা! একজন আপনার পথ কিভাবে অতিক্রম করবে? তিনি উত্তর দিলেন, “নিজেকে পরিত্যাগ কর এবং সাদরে চলে আসো!”” এই উম্মাহকে যা দেওয়া হয়েছে তা আর কোন উম্মাহকে দেওয়া হয়নি এবং পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার দিক দিয়ে দেওয়া হয়েছে নবীকে (সঃ)। তিনি সর্বোত্তম সৃষ্টি, তার দিক নির্দেশনা ছিলো সর্বোত্তম দিক নির্দেশনা, তার মাধ্যমে আল্লাহ ধর্মকে সহজ করেছেন এবং তার মাধ্যমে তিনি উম্মাহর অনেক দুর্ভোগ ও সমস্যা দূর করেছেন। যে তাকে অনুসরন করলো সে আল্লাহকে মান্য করলো এবং তাঁর পথনির্দেশনা মেনে চলল এবং এর বিনিময়ে তিনি তাকে ভালোবাসবে।

পৃৃষ্ঠা:৪২

৩. ২ এই ধর্মের সহজসাধ্যতা

কিছু সহজসাধ্যতা যা আমরা তার (সঃ) মাধ্যমে অর্জন করেছি তা হল, যে জামাতে ইসা সালাত আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত সালাত আদায় করলো এবং যে জামাতে ফজর সালাতআদায় করলো, সে যেন সারারাত সালাত আদায় করলো। সুতরাং, সে যখন বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলো তখন তা রাতের সালাত হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং এরকম আরো রয়েছে, যেমন, যদি সে উদুসহ ঘুমাতে যায় ও ঘুমের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আল্লাহর যিকির করে। যে মাসের তিনদিন সিয়াম রাখলো সে যেন সারা মাস সিয়াম পালন করলো। কাজেই মাসের বাকি দিনগুলোতে সে আল্লাহর কাছে সিয়াম পালনকারী হিসেবে গণ্য হবে যদিও সে খাওয়া-দাওয়া করেছে এবং “যে খায় এবং শুকরিয়া আদায় করে সে একজন ধৈর্যশীল সিয়াম পালনকারীর পুরস্কার পাবে।”৭১

পৃৃষ্ঠা:৪৩

যার রাতে উঠে সালাত আদায় করার নিয়্যত থাকে কিন্তু ঘুমের কারনে পারে না, তার আমলনামায় রাতের সালাতের সওয়াব লিখা হবে এবং ঐ ঘুম হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সাদাকাহ। ৭২ আবুল দারদা বলেন, ‘নিশ্চয়ই জ্ঞানীর ঘুম ও সিয়াম পালনে বিরতি উতকৃষ্ট! দেখ কিভাবে তারা প্রার্থনার জন্য রাত্রি জাগরনে এবং বোকাদের সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে যায়!’৭৩ এটা এই কারনে যে সহীহ হাদিসে উল্লেখ আছে, “এমনটা সম্ভব যে একজন রাত জেগে সালাত আদায় করে ক্লান্তি ছাড়া কিছুই অর্জন করতে পারলো না এবং একজন সিয়াম পালন করে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছাড়া কিছুই অর্জন করলো না।” তাবারানি ও আহমাদ। “

পৃৃষ্ঠা:৪৪

একজন বলেন, ‘এমন অনেকেই আছে যারা ক্ষমা প্রার্থনা করা কিন্তু তাদের নিয়তি হলো ক্রোধ এবং এমন অনেকেই আছে যারা চুপ থাকে কিন্তু তাদের নিয়তি হলো অনুগ্রহ। প্রথম জন ক্ষমা প্রার্থনা করে যদিও তার অন্তর থাকে একজন দুর্দমনীয় গুনাহগারের অন্তর আর দ্বিতীয়জন চুপ থাকে কিন্তু তার হৃদয় থাকে আল্লাহর যিকিরে নিমগ্ন।’ অন্যজন বলেন, ‘রাতে সালাত আদায় করাটা বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হলো একজন ঘুমিয়ে থাকে কিন্তু জাগ্রত ব্যক্তিদের অগ্রগামী দলকে ছাড়িয়ে যায়।’ এই বিষয়ে বলা হয়, তোমার এই দ্বিধাগ্রস্ত পথে আমার যা করণীয় সহজ পথে হেঁটে সমুখে তোমায় বরণীয়!

পৃৃষ্ঠা:৪৫

চতুর্থ অধ্যায়

“সকাল”, “সন্ধ্যা”, ও “রাতের শেষাংশ” এর অর্থ

তার (সঃ) হাদিসের, “সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের শেষাংশে ভ্রমণ (আল্লাহর ইবাদাত) করো” অর্থ তার (সঃ) অন্য আরেকটি হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায়, “আল্লাহর পথে ভ্রমণ (ইবাদত) করে সাহায্য প্রার্থনা করো সকাল, সন্ধ্যা এবং রাতের শেষাংশে।” এর অর্থ হলোযে এই তিনটি নির্দিষ্ট সময়সীমা হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগ্যতের সাথে আমলের মাধ্যমে তাঁর দিকে যাত্রা (ইবাদাত) করার উপযুক্ত সময়। এগুলো হলো রাতের শেষে, দিনের শুরুতে এবং দিনের শেষে। মহান আল্লাহ, তাঁর বাণীতে এই সময়গুলোর বিষয়ে উল্লেখ করেছেন, وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةً وَأَصِيلًا وَمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ لَهُ وَسَبِّحْهُ لَيْلًا طَوِيلًا ‘এবং তোমরা প্রতিপালকের নাম স্মরণ করো সকালে ও সন্ধ্যায়।’ রাত্রির কিয়দংশে তাঁর প্রতি সিজদাবনত হও, আর রাত্রির দীর্ঘ সময় তাঁর পরিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো।’ [সুরা ইনসানঃ ২৫-২৬] فَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا وَمِنْ آنَاءَ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَى

পৃষ্ঠা ৪৬ থেকে ৬০

পৃৃষ্ঠা:৪৬

‘সুতরাং তারা যা বলে, সে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারন করো, এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং রাত্রিকালে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং দিবসের প্রান্তসমূহেও, যেন তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো।’ [সুরা তা-হাঃ ১৩০]فَتَوَلَّى بِرُكْنِهِ وَقَالَ سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ وَهُوَ مُلِيمٌ‘অতএব তারা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্যধারন কর এবং তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে।’ [সুরা কাফঃ ৩৯] ‘তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর রাত্রির একাংশে এবং সালাতের পরেও।’ [সুরা কাকঃ ৪০] সর্বোচ্চ মার্যাদাসম্পন্ন আল্লাহ, তাঁর বইয়ের বহু সংখ্যক জায়গায় দিনের দুই শেষভাগে তাঁকে স্মরণ করার কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيراًوَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর।’ [সুরা আহযাবঃ ৪১] ‘এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।’ [সুরা আহযাবঃ ৪২]

পৃৃষ্ঠা:৪৭

فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ‘অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা সন্ধ্যায়।’ [সুরা গাফিরঃ ৫৫]وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِم مِّن شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِم مِّن شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ‘যারা তাদের প্রতিপালককে প্রাতে ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভার্থে ডাকে তাদেরকে তুমি বিতাড়িত কর না। তাদের কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব তোমার নয় এবং তোমার কোন কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব তোমার নয় যে, তুমি ভাদেরকে বিতাড়িত করবে; করলে তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ [সুরা আন আমঃ ৫২]যাকারিয়ার (আলাইহিস সালাম) যিকির সম্পর্কে তিনি বলেন, فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا ‘অতঃপর সে কক্ষ হতে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের নিকট আসলো এবং ইঙ্গিতে তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে বলল।’ [সুরা মারিয়ামঃ ১১]

পৃৃষ্ঠা:৪৮

قَالَ رَبِّ اجْعَل لِّيَ آيَةً قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ إِلَّا رَمْزًا وَاذْكُر رَّبَّكَ كَثِيراً وَسَبِّحْ بِالْعَشِيِّ والإِبْكَارِ ‘সে বলল, হে আমার প্রতিপালকা আমাকে একটি নিদর্শন দাও।’ তিনি বললেন, ‘তোমার নিদর্শন এই যে, তিন দিন তুমি ইঙ্গিত ব্যতীত কথা বলতে পারবে না, আর তোমার প্রতিপালককে অধিক স্মরণ করবে এবং সন্ধ্যায় ও প্রভাতে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে।” [সুরা আলি-ইমরানঃ ৪১] এই তিনটি সময় ছাড়া আর আছে দুইটি সময় সেগুলো হলো দিনের শুরু এবং দিনের শেষ। এই দুই সময়ে একজন ফারদ এবং নফল উভয় আমল করতে পারেন। ফারদ দুইটি আমলের মধ্যে রয়েছে ফযর ও আসর এর সালাত এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মধ্যে এই দুই সালাত সবচেয়ে উত্তম। এই দুই সালাত আদায় করা হয় সবচেয়ে “শান্ত সময়ে” এবং যে কেউ এই দুই সালাত। সংরক্ষন করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” এই দুইটি সালাতকে বলা হয় “মধ্যবর্তী সালাত”।” নফল আমলের ক্ষেত্রে আল্লাহর যিকির করা যাবে ফজর সালাতের পর থেকে সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত এবং আসর সালাতের পর

পৃৃষ্ঠা:৪৯

থেকে সূর্য ডুবার আগ পর্যন্ত, এর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে বহু বর্ণনা রয়েছে। একইভাবে সকালে ও বিকালে এবং ঘুমানোর সময় ও ঘুম থেকে উঠার পর আল্লাহর যিকিরের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে বহু বর্ণনা এসেছে। ইবনে উমার বলেন যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “হে আদম সন্তান, আমাকে দিনের শুরুতে এক ঘন্টা এবং দিনের শেষে এক ঘন্টা স্মরণ কর এবং এই দুইয়ের মাঝে সংঘটিত তোমার গুনাহ আমি ক্ষমা করে দিবো, বড় গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা কর যার জন্য তোমাকে অনুশোচনা করতে হয়।”** সালাফরা দিনের শুরুর চেয়ে দিনের শেষের উপর বেশি জোর দিত। ইবনে আল-মুবারক বলেন, ‘আমাদের কাছে এটা উপনীত হয়েছে যে দিনের শেষে একজন আল্লাহর যিকির করলে তাকে সারাদিনের যিকিরের সওয়াব দেওয়া হবে।’ আবুল জালদ বলেন, ‘আমাদের কাছে এটা উপনীত হয়েছে যে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মহান আল্লাহ সবচেয়ে নিচের আসমানে নেমে আসেন এবং আদম সন্তানদের আমল দেখেন।’ একজন সালাফ স্বপ্নে দেখেন আবু জাফর আল-কারি তাকে বলেছেন, ‘আবু হাযিম আল-আ’রাজকে-কঠোর তপস্বী ও অত্যন্ত সুস্পষ্ট ব্যক্তি বল যে আল্লাহ ও তাঁর ফেরেস্তারা সন্ধ্যায় তোমাদের জনসভা দেখেন। এটা স্পষ্ট যে দিনের শেষে সাধারনত আবু হাযিম লোকদের গল্প শুনাতেন।

পৃৃষ্ঠা:৫০

একটি হাদিস আছে, “ফজরের পরে আল্লাহর যিকির চারজন দ্বাস মুক্তির চেয়ে বেশি প্রিয় এবং আসরের পরে আল্লাহর যিকির আটজন দ্বাস মুক্তির চেয়ে উত্তম। “১৯ জুমু’আ বারের দিনের শেষ দিনের শুরু থেকে উত্তম কারন এটি এমন একটা ঘন্টা সময় ধারন করে যখন দুআ কবুল হয়।” আরাফাহ দিনের শুরুর চেয়ে দিনের শেষের দিক উত্তম কারন দিনের শেষের সময়টা হল কেয়ামতের সময়। সালাফদের মতে রাতের শুরুর চেয়ে রাতের শেষ উত্তম এবং প্রমাণ স্বরূপ তারা অবতরণের হাদিসটি দখিল করেন। এই সমস্ত তথ্যগুলো এই মতকে শক্তিশালী করে যে আসর ‘মধ্যবর্তী সালাত’। তৃতীয় সময়টি হচ্ছে দুলজাহ, রাতের শেষাংশের যাত্রা। এখানে এর অর্থ হল রাতের শেষে আমল করা যেটা হল ক্ষমা চাওয়ার সময়। মহান আল্লাহ বলেন,

পৃৃষ্ঠা:৫১

الصَّابِرِينَ وَالصَّادِقِينَ وَالْقَانِتِينَ وَالْمُنفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بالأَسْحَارِ…. এবং শেষ রাত্রে ক্ষমাপ্রার্থী।’ [সুরা আলি-ইমরানঃ ১৭] وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ ‘রাত্রির শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।’ [সূরা যারিয়াতঃ ১৮]এই আয়াতগুলোতে যে সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে তা হল অবতরণের শেষ সময় যখন যারা কিছু চায় আল্লাহ তাদের অভাব পুরন করেন এবং অনুতপ্তদের ক্ষমা মঞ্জুর করেন। রাতের মধ্যভাগ সংরক্ষিত সেইসব প্রেমিকদের জন্য যারা তাদের প্রিয় আল্লাহর সাথে অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে চান এবং রাতের শেষভাগ সংরক্ষিত গুনাহগারদের জন্য যারা তাদের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে চান। যে কেউ রাতের গভীরে প্রেমিকের মত সংগ্রাম করতে অপারগ সে যেন অন্ততপক্ষে রাতের শেষভাগে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়ান।কিছু বিবরনে এসেছে যে রাতের শেষাংশে রাজসিঙ্গাসনও শিহরিত হয়। তাওউস বলেন, ‘রাতের শেষভাগে কেউ ঘুমিয়ে থাকতে পারে আমি এটা কল্পনাই করতে পারি না। ‘৮২ তিরমীযির একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, “যে ভয় পায় সে রাতে ভ্রমন করবে আর যে রাতে ভ্রমন করবে সে তার গন্তব্যে পৌছে যাবে। **

পৃৃষ্ঠা:৫২

রাতের শেষভাগের যাত্রা দুনিয়া ও আখিরাতের যাত্রাকে সংক্ষিপ্ত করে দেয়, মুসলিম হাদিস গ্রন্থে এরকম একটি হাদিস রয়েছে, “যখন তুমি যাত্রা করবে, রাতের শেষভাগে যাত্রা কর কারন রাতে দুনিয়া ছোট হয়ে আসে।”** জ্ঞানিদের একজন বলেছেন, রাতের যাত্রা কর ধৈর্য সহকারে, সকাল ফিরে আসুক তোমার দৃঢ় বাধ্যতা সহকারে। হয়ো না দুর্বল হৃদয়, ছেড়ো না বাসনা, ক্রোধ ও হতাশার করতে পারলে সমাধান জানি আমি দেখা মিলবে সেই দিনের এই ধৈর্য হল সত্যিকার সফলতা বলঃ বাসনার তরে যে করেছে সমর, ধৈর্যকে সাথী করে, এনেছে সফলতা।

পৃৃষ্ঠা:৫৩

সংগৃহীত আছে যে রাতে ঘুম থেকে উঠে আল-আশতার আলি ইবনে আবু তালিবের (রাঃ) কাছে প্রবিষ্ট হলেন এবং তাকে সালাতরত অবস্থায় পেলেন। তিনি বলেন, ‘হে বিশ্বাসীদের নেতা, দিনে সিয়াম পালন, রাতে সালাত আদায় এবং এই দুইয়ের মাঝে কঠোর পরিশ্রম!’ যখন তিনি তার সালাত শেষ করলেন তখন তিনি বললেন, ‘আখিরাতের যাত্রা দীর্ঘ এবং রাতের যাত্রার মধ্য দিয়ে এই যাত্রাকে সংক্ষিপ্ত করা প্রয়োজন।’ এটিই হলো দুলজাহ। হাবীবের স্ত্রী-আবু মুহাম্মদ আল-ফারিসি-তাকে রাতে জাগিয়ে তুলতেন এবং বলেতেন, ‘হে হাবীব জেগে উঠো, কারন পথ দীর্ঘ এবং আমাদের প্রস্তুতি খুবই নগণ্য। সতকর্মশীলদের কাফেলা আমাদেরকে রেখে এগিয়ে গিয়েছে এবং আমরা পিছনে পড়ে রয়েছি!’ হে ঘুমন্ত আর কত থাকবে তুমি শুয়ে? হে আমার প্রিয় জেগে ওঠো প্রতিশ্রুত সময় এসেছে নিকটে। রাতের অংশে কর তোমার প্রভুর ইবাদাত- ঘুম হতে না পাবে বিরাম না পাবে শান্তি। রাত্রিযাপন করে যে গভীর সুখনিদ্রায়, সমর হীন পৌঁছাবে না সে ঠিক গন্তব্যে।

পৃৃষ্ঠা:৫৪

পঞ্চম অধ্যায়

সংযম এর অর্থ

তার (সঃ) হাদিস, “সংযম! সংযম! এর মাধ্যমেই গন্তব্যে পৌছাতে পারবে!” ইবাদতের ক্ষেত্রে সংযমের অনুপ্রেরণা বহন করে যেন একজন অতিরিক্ত না করে এবং ঘাটতি না রাখে। তিনি (সঃ) দুইবার এই কারনেই পুনরাবৃত্তি করেছেন। আল-বাযযার এই হাদিসটি উল্লেখ করেন হুযায়ফা (রাঃ) হতে যে নবী (সঃ) বলেন, “নিশ্চয়ই দরিদ্রতার ক্ষেত্রে সংযম উতকৃষ্ট। নিশ্চয়ই প্রাচুর্যের ক্ষেত্রে সংযম উতকৃষ্ট। নিশ্চয়ই ইবাদাতের ক্ষেত্রে সংযম উতকৃষ্ট। মুতাররাফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখিরের এক ছেলে ছিলো সে এত বেশি ইবাদাত করতো যে তিনি তাকে বলেন, ‘মধ্যবর্তী কাজকর্ম হলো উত্তম, দুইটি খারাপ আমলের মধ্যে একটি ভালো আমল থাকে এবং সবচেয়ে খারাপ যাত্রা হলো সেটা যেখানে সে এত বেশি সংগ্রাম করে যে সে তার শীর্ষ অবস্থানকে ধ্বংস করে এবং অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকে। ১৮৬ আবু উবায়দাহ বলেন, তিনি বুঝিয়েছেন অতিরিক্ত ইবাদাত খারাপ, ঘাটতি খারাপ এবং সংযম প্রশংসনীয়।

পৃৃষ্ঠা:৫৫

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর’ (রাঃ) বর্ণিত একটি হাদিস এই অর্থকে সমর্থন করে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “এটি ক্ষমতাশীল ধর্ম তাই একে বিনয়ের সহিত অনুসরন কর” এবং আল্লাহর ইবাদাত যেন তোমার জন্য বোঝাস্বরূপ না হয়, কারন যে অনিশ্চিত এবং নিয়মিত হতে অপারগ না সে এই ভ্রমণকে সংক্ষিপ্ত করতে পারে না সে তার শীর্ষ অবস্থানকে ধরে রাখতে পারে। যে মানুষ মনে করে সে বৃদ্ধ বয়সে মারা যাবে সেটা কাজের কাজ এবং যে মনে করে সে আগামীকাল মারা যাবে সেটা হুশিয়ারি।” ইবনে যানজাওয়ায়হ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। বারংবার সংযমের ব্যাপারে তার (সঃ) আদেশ এই ইঙ্গিত বহন করে যে একজন মানুষের অবিরাম সংযমের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। কারন একটি কষ্টকর যাত্রা যেখানে প্রবল সংগ্রাম করা হয় সেটা হঠাত করে অসমাপ্ত অবস্থায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবনতা থাকে; একটি সংযমী যাত্রা, যে কোন উপায়ে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। এই কারনেই রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন যে সংযমের ফলশ্রুতিতেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর কৃতিত্ব অর্জন করা সম্ভব, “এবং যে রাতের যাত্রা করবে সে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।”

পৃৃষ্ঠা:৫৬

এই দুনিয়াতে একজন মুমিন ততক্ষন পর্যন্ত তার রবের দিকে ভ্রমণ করে যতক্ষন না সে তাঁর কাছে পৌছায়, يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَى رَبِّكَ كَدْحًا فَمُلَاقِيهِ হে মানুষ। তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌছানো পর্যন্ত কঠোর সাধনা করে থাকো, পরে তুমি তাঁর সাক্ষাত লাভ করবে।’ [সুরা ইনশিকাকঃ ৬] وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ ‘তোমার মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদাত কর।’ [সুরা হিজরঃ ৯৯] আল-হাসান বলেন, ‘হে মানুষ! অধ্যবসায়, অধ্যবসায়! নিশ্চয়ই আল্লাহ মৃত্যুর আগে আমল বিচারের জন্য একটি শেষ সময় নির্ধারন করেছেন,’ এবং তারপর তিনি এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেন। তিনি আরো বলেন, ‘তোমার অন্তর হলো তোমার শীর্ষ অবস্থান কাজেই তোমার শীর্ষের যত্ন নাও, এভাবে এটা তোমাকে তোমার মহান ও সর্বশক্তিমান প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যাবে।’ একজনের শীর্ষগুলোর যত্ন নেওয়ার সহজঅর্থ হল এগুলোকে উপযুক্ত ও সুস্থ রাখাএবং তাদেরকে অতিরিক্ত বোঝা না দেওয়া। অতএব যদি কেউ মনে করে তার আত্মা যাত্রা বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে, যত্নটা নিতে হবে এই যাত্রা শেষ করার অভিপ্রায় বা বাসনা তৈরি করার মাধ্যমে অথবা যাত্রা শেষ করতে না পারার ভয় তৈরির মাধ্যমে, পরিস্থিতি অনুসারে। একজন সালাফ বলেন, ‘আশা হচ্ছে পথনির্দেশক এবং ভয় হচ্ছে চালক এবং আত্মা হল এই দুয়ের

পৃৃষ্ঠা:৫৭

মাঝে স্বেচ্ছাচারী প্রানি।’ সুতরাং যখন পথনির্দেশক ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং চালক এর প্রভাব সামলাতে অপারগ হয়, আত্মা বন্ধ হয়ে যাবে এবং এর মৃদু চিকিতসা লাগবে এবং তার যাত্রা পুনরায় শুরু করার জন্য একটি ‘গান’ লাগবে। এক্ষেত্রে উট চালক তার উট পাল চালাতে এই গানটি গান, কাল তুমি দেখতে পাবে কলা আর পর্বত। ভয় হচ্ছে অনেকটা চাবুকের মত, যখন কেউ কোন পশুকে চাবুক দিয়ে অতিরিক্ত আঘাত করে, তখন সে মারা যেতে পারে। যেমন একজনের অবশ্যই আশার “গান” গেয়ে সেটাকে অনুপ্রাণিত করা উচিত, এটা তাকে তার প্রচেষ্টার প্রাণশক্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে প্রবলভাবে অনুপ্রণিত করবে যতক্ষন না সে তার গন্তব্যে পৌঁছায়। আবু ইয়াযিদ বলেন, ‘আমি বিরামহীন আমার আত্মাকে আল্লাহর দিকে পরিচালিত করেছি, সব পথেই সে ছিলো অবনত, এরপর আমি তাকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করলাম যতক্ষন না এটা হেসে উঠে। বলা হয়, যখন এটা ভ্রমণের বোঝা নিয়ে অভিযোগ করে, সে শপথ করে। আগমনের উদ্বেগ লাঘব করতে যেন তার প্রচেষ্টা পুনরুদ্ধার করতে পারে।

পৃৃষ্ঠা:৫৮

৫. ১ মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর পথে চলা

খুলায়েদ আল-আসারি বলেন, ‘সব প্রেমিক তার প্রিয় মানুষের সাথে দেখা করতে চায়, তাই তোমার প্রতিপালককে ভালোবাসো এবং সুন্দর ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তাঁর পথে চলোঃ না দুঃসাধ্য না ঢিলেঢালা। এই যাত্রা মুমিনকে তার রবের কাছে নিয়ে যাবে এবং যে তার রবের পথ সম্পর্কে জানে না সে তা অতিক্রম করতে পারবে না এবং এই ধরনের মানুষ ও পশুর মধ্যে কোন তফাৎ নেই। ১৯১ ফুল-নুন বলেন, ‘তারাই পথভ্রষ্ট, যারা তাদের রবের পথ চিনে না এবং তারা তা চিনতে চেষ্টা করে না। ‘৯২

পৃৃষ্ঠা:৫৯

আল্লাহর দিকে অতিক্রান্ত পথ হলো তাঁর সরল পথ যে পথে তিনি তাঁর রাসুলকে (সঃ) প্রেরণ করেছেন এবং যার জন্য তিনি তাঁর বই নাজিল করেছেন।১০ এটাই হলো সেই পথ যে পথে তিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকুলকে চলতে বলেছেন। ইবনে মা’সুদ বলেন, ‘সরলপথঃ মুহাম্মদ (সঃ) এর এক প্রান্ত রেখে গেছেন আমাদের কাছে আর অপর প্রান্ত রয়েছে জান্নাতে। পথটি দুইটি শাখায় বিন্যস্ত, ডান এবং বাম, যেখানে মানুষ দাঁড়িয়ে অন্য পথচারীদের আহবান করছে। যে কেউ তাদের পথ অনুসরন করবে আগুনে যাবে কিন্তু যে সরল পথে থাকবে সে জান্নাতে যাবে।’ তারপর তিনি তিলাওয়াত করেন, وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

পৃৃষ্ঠা:৬০

‘এবং এই পথই আমার সরলপথ। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে। এইভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা সাবধান হও।’ [সুরা আন আমঃ ১৫৩] ইবনে জারির ও অন্যান্যরা এটা উল্লেখ করেন।* অতএব আল্লাহর দিকে একটা পথ, সরলপথ, অন্য সব পথ হল শয়তানের পথ, যে কেউ এসব পথে চলবে সে আল্লাহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং শেষে এর ফলাফল হবে তাঁর অসন্তুষ্টি, ক্রোধ ও শাস্তি।

পৃষ্ঠা ৬১ থেকে ৭৫

পৃৃষ্ঠা:৬১

৫. ২ আমলের সমাপ্তি দ্বারা আমল নির্ধারন

এমন হতে পারে একজন তার জীবনের শুরুতে সরল পথে চলল, তারপর তা থেকে সরে গেলো এবং শয়তানের কোন একটা পথে ভ্রমণ করলো, অতঃপর সে আল্লাহর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ধ্বংস হয়ে যায়। “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে কেউ জান্নাতের অধিবাসীদের আমল করবে যে পর্যন্ত তার ও জান্নাতের মধ্যে দূরত্ব হবে এক থেকে চার হাত পরিমাণ এবং তারপর সে জাহান্নামের অধিবাসিদের আমল করবে ও তাতে প্রবেশ করবে। ০১৬ বিপরীতক্রমে এমন হতে পারে যে একজন তার জীবনের শুরুতে শয়তানের পরিচালিত কোন পথে চলল এবং তারপর তার জীবনে সৌভাগ্য আসলো এবং সরল পথে চলল এবং আল্লাহর কাছে পৌঁছে গেলো। এটা অপরিহার্য যে একজন ব্যক্তি তার যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দৃড়তার সাথে সরল পথে ভ্রমণ করবে, ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ ‘এটা আল্লাত্রই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।’ [সুরা জুমু আঃ ৪]

পৃৃষ্ঠা:৬২

وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَن يَشَاء إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।’ [সুরা ইউনুসঃ ২৫] অনেকেই আছে যারা যাত্রার কিছু অংশ ভ্রমণের পর পিছু হটে যান এবং যাত্রা পরিত্যাগ করে। পরম দয়াশীলের দুই আঙ্গুলের ফাঁকে থাকে কল্ব, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُواْ بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وفِي الآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاء ‘যারা শাশ্বত বাণিতে বিশ্বাসী তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন…’ [সুরা ইব্রাহিমঃ ২৭] হে আমার প্রিয়! মরুপথে দ্বিধাগ্রস্থরা সংখ্যায় অনেক, কিন্তু গন্তব্য পৌছে খুবই কমসংখ্যক।

৫.৩ আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব

হাদিসে কুদসীতে উল্লেখ আছে, “যেকেউ আমার দিকে হাত-বিঘত দৈর্ঘ্য এগিয়ে আসে আমি তার দিকে একহাত এগিয়ে যাই। যেকেউ আমার দিকে একহাত এগিয়ে আসে আমি তার দিকে চারহাত এগিয়ে যাই।

পৃৃষ্ঠা:৬৩

যেকেউ আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌঁড়ে যাই।” আহমাদের ব্যাখ্যায় আরো যোগ করা হয়েছে, “এবং আল্লাহ অধিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং মহৎ; আল্লাহর অধিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং মহৎ। ১৯৯ আহমাদের অন্য হাদিসে আছে, মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন, “হে আদম সন্তান! আমার সামনে দাঁড়াও এবং আমি তোমার দিকে হেঁটে আসবো। আমার দিকে হেঁটে আসো এবং আমি তোমার দিকে দৌঁড়ে যাবো। “১০০যে আমাদের (আল্লাহ) দিকে ফিরবে, দূর হতে তাকে আঁমা স্বেচ্ছায় বরন করবো আমাদের চাওয়া যার কামনা, তার চাওয়া আমাদের কামনা যে আমাদের কাছে চায় আঁমা তাকে আরো এবং আরো দিবো যে কেউ আমাদের সাহায্য প্রার্থনা করবে, আঁমা তার জন্য লোহা নরম করে দিবো।

পৃৃষ্ঠা:৬৪

হে মানবসন্তান! আপনি গভর্নরের দরজায় গেলে, সে আপনাকে সাদরে গ্রহন অথবা কোন মনোযোগ প্রদর্শন করতো না, হয়ত সে আপনাকে তার কাছে যাওয়া থেকে বাধা প্রদান করতো। কিন্তু রাজাররাজা বলছে, “যেকেউ আমার দিকে হেঁটে আসবে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাবো,” তথাপি তুমি তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং অন্যের পিছনে ছুটো! আপনি আদব-কায়দার দিক থেকে নিকৃষ্টতম ভাবে ধোকা পেতে পারেন এবং কঠিন পথগুলোতে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন! আল্লাহর শপথ, আমি আঁপনার সাথে কখনো দেখা করতে আসি না তখন ছাড়া যখন এই দুনিয়া আমার জন্য ছোট হয়ে আসে, এবং কখনই আপ্নার দরজা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেই নাই, নিজের কাছে হোঁচট খাওয়া ছাড়া! আপনাদের মধ্যে যারা তাঁর সাক্ষাত কামনা করেন, পথকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাহলে কেন বিলম্ব করা আর পিছনে পড়ে থাকা? পথকে তোমার সামনে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সত্যই, যার তোঁমাকে পাওয়ার বাসনা নেই তাকে খুজতে হবে!

قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٍّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى قَالُوا إِنْ أَنتُمْ إِلا بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَن تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ

পৃৃষ্ঠা:৬৫

…. আল্লাহ সম্বন্ধে কি কোন সন্দেহ আছে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন তোমাদের পাপ মার্জনা করার জন্য এবং নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দিবার জন্য…’ [সুরা ইব্রাহিমঃ ১০]

يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرُكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

‘হে আমাদের সম্প্রদায়। আল্লাহর দিকে আহবানকারীর প্রতি সাড়া দাও…’ [সুরা আহকাফঃ ৩১]

ও হতভাগা আত্মা! হিদায়াহ এসেছে তোমার দিকে, সাড়া দাও! এই হল আল্লাহর আহবানকারী ডাকছে তোমায়।

বহুবার তোমায় ডাকা হয়েছে হিদায়াতের পথে তথাপি তুমি চলেছ মুখ ফিরিয়ে কিন্তু তুমি জানতে চেয়েছ তুমি কি বিপথগামী পথনির্দেশক যখন সে তোমায় ডেকেছে!

৫.৪ আল্লাহর কাছে পৌছানোর রাস্তা সমূহ

আল্লাহর কাছে দুই ভাবে পৌঁছানো সম্ভব, একটা ঘটে দুনিয়াতে এবং আরেকটা ঘটে আখিরাতে। দুনিয়াতে তাঁর কাছে পৌঁছানোর অর্থ হল অন্তরে

পৃৃষ্ঠা:৬৬

তাঁর জ্ঞানার্জন করা এবং যখন এমনটা হয়ে যায়, তা (অন্তর) তাঁকে ভালোবাসে, তাঁর কাছ থেকে স্বান্তনা নেয়, তাঁর সাথে ঘনিষ্টতা অনুভব করে, এবং তাঁর কাছ থেকে তৎক্ষণাৎ তার দুআর ফল পেয়ে যায়। একটি বর্ণনায় আছে, “হে আদম সন্তান, আমাকে খুঁজো, তাহলে আঁমাকে তুমি পাবে। যখন সে আমাকে খুজে পাবে সে সবকিছু খুজে পাবে, আর যদি সে আমাকে খুজে না পায় তাহলে সে সবকিছু হারাবে।”

তুমি আমাদের খুজলেই পেয়ে যাবে। বড় হৃদয়টি আমাদেরকে ধারন করার জন্য যথেষ্টঃ ধৈর্য্যশীল ও পরিতৃপ্ত আঁমাদের থেকে এই সবকিছুই তারা পাবে। যুল-নুন প্রায়শই রাতে বাইরে গিয়ে আকাশ দেখতেন এবং আকাশ দেখে সকাল পর্যন্ত নিচের কবিতার লাইন গুলোই আওড়াতেন, খুজে ফেরো নিজেকে আমারই মত খুজে পাবে তুমি। আমি যেখানে পেয়েছি খুজে প্রশান্তি তাঁর ভালোবাসা নিয়ে নেই তাঁর কোন দ্বিধাঃ দূরে সরলে আমি কাছে টেনে নেন তিনি আর কাছে সরলে আমি, তিনি হন আরো কাছাকাছি। ১০১

পৃৃষ্ঠা:৬৭

আখিরাতে তাঁর কাছে পৌছানোর অর্থ হল জান্নাতে প্রবেশ করাঃ আল্লাহর অনুগ্রহের আবাসস্থল। কিন্তু জান্নাতের অনেক গুলো স্তর রয়েছে এবং এর অধিবাসীদের আল্লাহর সাথে ঘনিষ্টতার মর্যাদা নির্ধারিত হবে এই দুনিয়াতে তাঁর জ্ঞানকে বাস্তবায়নের স্তরের উপর, তাদের ঘনিষ্টতা এবং তাদের সাক্ষ্যপ্রদানের উপর, كُنتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ. وَأَصْحَابُ الْمَسْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَسْأَمَةِ. وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ. أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ. এবং তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিনটি শ্রেণীতে। ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল। এবং বামদিকের দল; কত হতভাগ্য বামদিকের দল। আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত-‘ [সুরা ওয়াকিয়াহঃ ৭-১১] শিবলি যখন তার নিজ গৃহে বিক্ষোভ করছিলেন, তখন তিনি নিচের এই শ্লোক আওড়েছিলেন, কেউ ধৈর্য্যশীল হতে পারবে না যতক্ষন তুমি থাকবে বহুদূরে  সে পরিচিত হবে যখন ঘনিষ্টতা হবে। তোঁমা হতে কেউ অবগুণ্ঠিত হবে না যখন সে তৌমার প্রেমে মজে যাবে। যদিওবা তার নয়ন তোঁমায় দেখেনি হৃদয় তোঁমায় আকড়ে ধরবে।

পৃৃষ্ঠা:৬৮

ষষ্ঠ অধ্যায়

ইসলাম, ঈমান, ইহসান

এই দুনিয়াতে, সরল পথ তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত হয়েছেঃ ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান। যে কেউ আমৃত্যু ইসলামের উপর বহাল থাকবে, অনন্তকাল আগুনে দহন থেকে সে মুক্তি পাবে এবং সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিওবা, সে পূর্বে, আগুনে শাস্তি ভোগ করবে। যেকেউ আমৃত্যু ঈমানের উপর বহাল থাকবে, তাকে আগুন থেকে সম্পূর্ণভাবে নিবৃত্ত করা হবে, কারন ঈমানের আলো প্রজ্জ্বলিত অগ্নিশিখাকে এমন এক ব্যাপ্তিতে দমন করে যে বলা হয়, ‘হে মুমিনগণ, আপন পথে চল! তোমার আলো আমার অগ্নিশিখাকে দমন করেছে! ১০২আহমাদে উল্লেখ আছে জাবির হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “এমন কোন সতকর্মশীল ব্যক্তি বা গুনাহগার নেই যে ছাড়া এতে প্রবেশ করবে। এটা হবে শান্তির উৎস এবং মুমিনদের জন্য শান্তি যেমনটা ইব্রাহীমের ক্ষেত্রে হয়েছিলো এমন এক পর্যায়ে যে আগুন নিজেই তার বিরুদ্ধাচারনে শোরগোল করে উত্তোলিত হয়েছিলো। “১০০ আল্লাহ প্রেমিকরা উত্তরাধিকার সূত্রে এটা পেয়েছে ইব্রাহিমের (আঃ) এর কাছ থেকে।

পৃৃষ্ঠা:৬৯

প্রেমিকের আগুন হলো ভালোবাসার অগ্নিশিখা দোযখের প্রচন্ড উত্তাপ হল সবচেয়ে শীতল অংশ।

যে কেউ আমৃত্যু ইহসানের স্তরে থাকবে সে আল্লাহর কাছে পৌঁছাবে, لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

‘যারা কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ এবং আরো অধিক। …’ [সুরা ইউনুসঃ ২৬]

একটি সহীহ হাদিসে উল্লেখ আছে, “যখন জান্নাতের অধিবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিবেন, ‘হে জান্নাতের অধিবাসী, আল্লাহ আপনাদের একটি পদোন্নতি করেছেন যা তিনি পূর্ণ করতে চান।’ তারা বলবে, ‘সেটা কি? তিনি কি আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেন নাই? তিনি কি আমাদের জীবিকা বৃদ্ধি করেন নাই? তিনি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশের সম্মতি দান করেন নাই এবং আগুন হতে রক্ষা করেন নাই?’ কাজেই তিনি পর্দা সরিয়ে দিবেন এবং তারা তাঁর দিকে তাকাবে, ওয়াল্লাহি, এর থেকে প্রিয় আর কোন কিছুই তিনি তাদের দিতে পারেন না, এবং এর থেকে আর কোন

পৃৃষ্ঠা:৭০

কিছুই তাদের দৃষ্টিকে এত সন্তুষ্ট করতে পারবে না! এই হলো সংযোজন। “তারপর তিনি উপরের আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। ১০৪জান্নাতের সকল অধিবাসীদৃশ্য দেখতে পাবে কিন্তু তাঁকে দেখার ক্ষেত্রে নিকটবর্তীতা এবং দেখার সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকবে। প্রবৃদ্ধির দিন জান্নাতের সব মানুষ তাঁকে দেখতে পাবে যা হবে জুমুয়া বার’* এবং তাদের মধ্যে অভিজাত যারা তারা দিনে দুইবার আল্লাহর মুখ দর্শন করতে পারবে, একবার সকালে ও একবার সন্ধ্যায়। জান্নাতে জনসাধারনের জন্য দিনে দুইবার সংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সকালে এবং সন্ধ্যায়, যেহেতু অভিজাতরা সকালে ও সন্ধ্যায় তাঁকে দেখতে পান। জ্ঞানবাদীকে না প্রাসাদ প্রিয় আল্লাহর কথা ভুলিয়ে দিতে পারে, না নদীর পানি তার তৃষ্ণা মিটাতে পারে।

পৃৃষ্ঠা:৭১

তাদের মধ্যে একজন প্রায়ই বলেতেন, “যখন আমি ক্ষুধার্ত হই, তাঁর যিকির আমার খাদ্য, এবং যখন আমি তৃষ্ণার্ত হই, তাঁকে দেখা হল আমার ইচ্ছা ও পরিতৃপ্তি। “১০৬

একজন সৎকর্মশীলকে স্বপ্নে দেখা যায় এবং তাকে দুইজন আলেমের কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দেন, ‘এই সময়ে আমি তাদেরকে আল্লাহর কাছে রেখে এসেছি খাওয়া-দাওয়া, পানীয় ও সুখ উপভোগের জন্য।’ তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘আপনি?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘তিনি জানেন খাদ্যের প্রতি আমার অনীহা আছে তাই পরিবর্তে আমাকে তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি দিয়েছেন।’

যখন আমি পান করতে চাই, তুমি আমার আকণ্ঠ তৃপ্তি, আর যখন আমি খাবার চাই, তুমি আমার তুষ্টিকর খাবার।

পৃৃষ্ঠা:৭২

আহমাদে উল্লেখিত হাদিসে আছে ইবনে উমার থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “জান্নাতের নিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন অধিবাসীর তার রাজত্বের কাছের সীমা থেকে দূরের সীমা দেখতে সময় লাগবে দুই হাজার বছর, এবং সে তার স্ত্রীগণ ও খাদেমদের দেখতে পাবে। উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি মহান আল্লাহ তা’আলার মুখদর্শন করবে দিনে দুই বার। “১০* তিরমীযিতে এই হাদিস বর্ণিত হয়েছে এভাবে যে, “জান্নাতে নিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি তার বাগান, স্ত্রীগণ, আল্লাহর অনুগ্রহ, দাস-দাসী এবং গদিযুক্ত আসন দেখতে পাবে এক হাজার বছর যাত্রা করে। তাদের মধ্যে যারা উত্তম তারা সকালে ও সন্ধ্যায় আল্লাহর মুখদর্শন করবে। এরপর রাসুলুল্লাহ তিলাওয়াত করেন,

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ. ‘সেদিন কোন কোন মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে।’ [সুরা কিয়ামাহঃ ২২-২৩]

পৃৃষ্ঠা:৭৩

জারির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি হতে বর্ণিত সহীহ হাদিসে এই কারনেই রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “বিচারদিবসে তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবে যেমন তোমরা আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখো, তোমাদের তাঁকে দেখতে কষ্ট হবে না। “এরপর তিনি বলেন, “তাই যদি তোমরা এমন কোন পর্যায়ে পরাভূত না হও যে সালাত আদায় করতে পারছোনা, সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগে সালাত আদায় কর।” অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করেন,فَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ…. তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে। ১০৮ [সুরা কাফঃ ৩৯]

পৃৃষ্ঠা:৭৪

৬.১ সকাল এবং সন্ধ্যার সময়

জান্নাতে অভিজাতদের জন্য এই দুইটি সময় সংরক্ষিত আছে আল্লাহর সাথে সশ্রদ্ধ সাক্ষাতের জন্য, এবং এই দুনিয়াতে তিনি (সঃ) এই দুই সময়ের সালাত সংরক্ষনের জন্য অনুপ্রাণিত করেন। অতএব যে কেউ দুনিয়াতে এই দুই সালাত সবচেয়ে উত্তম পন্থায়, আত্মসমর্পিত অবস্থায়, হৃদয়ের উপস্থিতিতে, এবং সকল আহকামগুলো পালনের মাধ্যমে আদায় করবে, আশা করা যায় যে সে তাদের মধ্যে একজন হবে যে জান্নাতে এই দুই সময়ে আল্লাহকে দেখবে। এরচেয়ে বেশি ভালো হয় যদি কেউ এই সময়ে আল্লাহর যিকিরকে এবং অন্যান্য ইবাদতকে আকঁড়ে ধরে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে। বান্দা যদি এর সাথে রাতের শেষভাগের যাত্রা যোগ করেন, তাহলে সে তিনটি সময়েই যাত্রা করলোঃ রাতের শেষভাগ, সকাল এবং সন্ধ্যা, এবং যদি সে সত্যবাদী হয়, অবশ্যই এর দ্বারা অনুসৃত হবে মহান লক্ষ্যের জন্য কার্য সম্পাদন,فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِرٍ ‘যোগ্য আসনে, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী আল্লাহর সান্নিধ্যে।’ [সুরা কামারঃ ৫৫]যে কেউ দৃড়তা ও সততার সাথে তার যাত্রায় অনুগত থাকে তার জন্য সুসংবাদ রয়েছে,

পৃৃষ্ঠা:৭৫

أكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَا إِلَى رَجُلٍ مِّنْهُمْ أَنْ أَنذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِندَ رَبِّهِمْ قَالَ الْكَافِرُونَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ مُّبِينٌ…. এবং মুমিন্দেরকে সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে উচ্চ মর্যাদা!… [সুরা ইউনুসঃ ২] একজন প্রেমিক সব সময় তার প্রিয়জনের কথা জিজ্ঞাসা করে, তার সাথে সংশ্লিষ্ট খবরের অনুসন্ধান করে, যেকোন ছোট তথ্য টেনে বের করে নিয়ে আসে, এবং ভ্রমণের জন্য সেই গতিপথ অনুসরন করে যে পথ তাকে তাঁর কাছে নিয়ে যায়। হে অন্বেষী! কেউ কি আছে যে জওয়াব দিতে পারে? একসাথে আমাদের কাটানো সময়ের মত পরম সুখ আর কিছুতেই নেই! তার পরিবারের টাঙানো তাঁবুর সন্ধান কেবল যদি আমি জানতাম। আল্লাহর ভূমির কোথায় তারা পথ হারিয়ে রয়েছে, বাতাসের মতই তার কাছে আমরা ছুটে জেতাম। এই সুখসন্ধানে ছুটে যেতাম যদিওবা তা তারাকে অতিক্রম করে যেত!  নিশ্চয়ই সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা উত্তম যার লক্ষ্য হল আল্লাহ এবং নিশ্চয়ই তার আত্মা পবিত্র যার প্রিয় হচ্ছেন তিনি।

পৃষ্ঠা ৭৬ থেকে ৮৯

পৃৃষ্ঠা:৭৬

আল্লাহ বলেন,وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِم مِّن شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِم مِّن شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ

‘যারা তাদের প্রতিপালককে প্রাতে ও সন্ধ্যার তাঁর সন্তুষ্টি লাভার্থে ডাকে তাদেরকে তুমি বিতাড়িত করো না।…’ [সুরা আন আমঃ ৫২]

পৃৃষ্ঠা:৭৭

৬. ২ যারা দুনিয়া আকঁড়ে ধরে এবং যারা আখিরাত আকঁড়ে ধরে

একজন মানুষের যোগ্যতা বিচার করা হয় সে কি অন্বেষণ করে তার উপর ভিত্তি করে। এমন একজনকে কেউ বিচার করতে পারে না যে আল্লাহকে অন্বেষণ করে কেননা তা অপরিমেয়। যে দুনিয়া অন্বেষণ করে সে এত মূল্যহীন যে তাকে বিচার করা যায় না। শিবলি বলেন, ‘যেকেউ এই দুনিয়াকে আকঁড়ে ধরবে সে এর অগ্নিশিখা দ্বারা পুড়তে থাকবে যতক্ষন না সে ছাই হয়ে বাতাসে উড়ে যায়। যেকেউ আখিরাতকে আকঁড়ে ধরবে সে এর আলো দ্বারা এমনভাবে পুড়তে থাকবে যে সে গুণগতমানসম্পন্ন খাঁটি স্বর্ণে পরিণত হয় এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়। যেকেউ আল্লাহকে আকঁড়ে ধরবে সে তাওহীদের আলো দ্বারা দাহ্য হবে  এবং সে অমূল্য মণিতে পরিণত হবে।’ উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে তার, বৃহত্তমটি হল অনন্ত; আর ক্ষুদ্রতমটি, সময় নিজেই তাকে খুঁজে পায় অস্পৃশ্য। আল-শিবলিকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘প্রিয়জনের সাথে সাক্ষাত করার আগে এমন আর কিছু কি আছে যা কখনও প্রেমিকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে? নিচের শ্লোক দিয়ে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ওয়াল্লাহি! যদি তুমি আমায় মুকুট পরিয়ে দিতে ছসরএস এর মুকুট, পূর্বের রাজা, আর সম্মুখে হাজির করতে সৃষ্টজীবের ধন-সম্পদ- আজকের ও গতকালের ধন-সম্পদ আমায় বলা হল ‘কিন্তু তোমার সাথে আমরা একবার দেখা করবনা।’- হেপ্রভূ, তোঁমার সাথে সাক্ষাতেই আমার হৃষ্ট সম্মতি!

পৃৃষ্ঠা:৭৮

যেকারো মহৎ উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে সে কেবলমাত্র আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলাকে খুঁজার মাঝেই সন্তুষ্টি খুঁজে পাবে। ইতস্তত আমার প্রত্যেক যাত্রা সকালে ও সন্ধ্যায়- আর তোঁমার যিকিরও -আমার জীবনের শ্বাস, সতেজ মৃদু হাওয়া আর ভেঙ্গে ফেলে নিস্তব্ধতা। তুমি আমার উচ্চাভিলাষ আমার সব, আমার লক্ষ্য আমার সফলতা। হে আমার আশ্রয় ও ত্রাণকর্তা, আমায় সংশোধন করে হিদায়াতের পথে রাখো।

পৃৃষ্ঠা:৭৯

সপ্তম অধ্যায়

অপ্রত্যাশিত মুকাবিলা

আল্লাহ তা’আলা বলেন, وَلَوْ أَنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لافْتَدَوْا بِهِ مِن سُوءِ الْعَذَابِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَبَدَا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مَا لَمْ يَكُونُوا يَحْتَسِبُونَ …. তাদের জন্য আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা তারা কল্পনাও করে নাই।’ [সুরা যুমারঃ ৪৭]ভীত জ্ঞানীদের জন্য এই আয়াতটি প্রচন্ডভাবে প্রযোজ্য কেননা তা বর্ণনা করে যে যখন কিছু বান্দা আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে তখন তারা এমন কিছু জিনিসের মুকাবিলা করবে যা তারা কোনদিন কল্পনা করেনি। উদাহরনস্বরূপ তার হাত কি গুনাহ করছে সে ব্যাপারে সে অসচেতন হতে পারে, হতে পারে এদিকে সে কোন মনযোগ দিচ্ছে না, তারপর যখন ঢাকনা তোলা হয় সে এই ভয়ঙ্কর বিষয় দেখতে পায়, এবং এমন জিনিসের মুকাবিলা করতে হয় যার জন্য সে কখনও প্রস্তুত ছিলো না। এই কারনেই উমার (রাঃ) বলেন, ‘যদি আমি পুরো দুনিয়ার রাজত্ব পেতাম তাহলে অপ্রকাশ্য গুনাহের ভয়ঙ্কর আতঙ্ক থেকে মুক্তির জন্য খুশিমনে একে মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিতাম। ১১০

পৃৃষ্ঠা:৮০

একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, “মৃত্যুর আশা কর না কেননা অপ্রকাশ্য গুনাহের আতঙ্ক অনেক বেশি। একজন ব্যক্তির জন্য এটা পরম সুখ যে আল্লাহ তাকে দীর্ঘ জীবন দিয়েছেন এবং ধৈর্য্যের সাথে তাকে লালনপালন করেছেন। “১১১ সালাফদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বিচার দিবসে একজনকে যে কত সংখ্যক দুঃখের সময় মুকাবিলা করতে হবে তা সে কোনদিন চিন্তাও করেনি।’ এই সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন, لَقَدْ كُنتَ فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَذَا فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ তুমি এই দিবস সম্বন্ধে উদাসীন ছিলে, এখন আঁমি তোমার সামনে থেকে পর্দা উন্মোচন করেছি। অদ্য তোমার দৃষ্টি প্রখর।’ [সুরা কাফঃ ২২]

৭. ১ এমন ধরনের আমল যা হবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার

মতপ্রথমঃপূর্বে উল্লেখিত বিষয়ের চেয়ে আরো সাধারন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং এর মধ্যে একটি হল আমল যা থেকে সে ভালো কিছু আশা করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো বিক্ষিপ্ত ধূলিকণাতে পরিণত হয় এবং সব অসৎ আমলে পরিবর্তিত হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন, وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ الظَّمْآنُ مَاء حَتَّى إِذَا جَاءهُ لَمْ يَجِدُهُ شَيْئًا وَوَجَدَ اللَّهَ عِندَهُ فَوَفَّاهُ حِسَابَهُ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ

পৃৃষ্ঠা:৮১

‘যারা কুকরী করে তাদের কর্ম মরুভূমির মরীচিকাসদৃশ, পিপাসার্ত যাকে পানি মনে করে থাকে, কিন্তু সে তার নিকট উপস্থিত হলে দেখবে তা কিছু নয় এবং সে পাবে সেখানে আল্লাহকে, অতঃপর তিনি তার কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দিবেন। আল্লাহ হিসাব গ্রহনে তৎপর।’ [সুরা নূরঃ ৩৯] وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءِ مَّنثُورًا আঁমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি লক্ষ্য করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।’ [সুরা ফুরকানঃ ২৩] এই আয়াত সম্পর্কে ফুদায়েল বলেন, “তাদের জন্য আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা তারা কল্পনাও করে নাই, “”তারা আমল করেছে এই ভেবে যে এগুলো ভালো কাজ হবে কিন্তু বাস্তবে সেগুলো ছিলো খারাপ কাজ। দ্বিতীয়ঃ উপরেরটার কাছাকাছি; বান্দা কোন গুনাহর কাজ করে যার দিকে সে কোন মনযোগ দেয় না, ভাবে যে তুচ্ছ, এবং এই গুনাহই তার সর্বনাশের কারন হবে যেমনটা আল্লাহ বলেন, وذْ تَلَقَّوْنَهُ بِالْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ …. তোমরা একে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে, বদিও আল্লাহ্র নিকট এটি ছিল গুরুতর বিষয়।’ [সুরা নূরঃ ১৫]

পৃৃষ্ঠা:৮২

একজন সাহাবা বলেন, ‘তুমি একটি কাজ করছো, তোমার চোখে সেটা একটি চুলের থেকেও তুচ্ছ, পক্ষান্তরে রাসুলুল্লাহর (সঃ) সময় একে ধ্বংসাত্মক গুনাহ বিবেচনা করতাম! ‘১১২ তৃতীয়ঃ পূর্বাবস্থার চেয়ে বেশি খারাপ; একজন যার কাছে তার নিজের অসৎ আচরণ গুলোকে সন্তোষজনক মনে হয়, আল্লাহ তা’আলা বলেন, قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا . الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ في الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا. ‘বল, আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দিবো কর্মে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্থদের?’ এরাই তারা, পার্থিব জীবনে বাদের প্রচেষ্টা পন্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সতকর্মই করছে,” [সুরা কাহ্নঃ ১০৩-১০৪]ইবনে উয়ায়নাহ বলেন, ‘মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির মৃত্যুর সময় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন এবং তাই লোকজন আবু হাযিমকে ডেকে পাঠালেন এবং তিনিআসলেন। ইবনে আল-মুনকাদির তাকে বলেন, “আল্লাহ বলেন, ‘তাদের জন্য আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা তারা কল্পনাও করে নাই।’ এবং আমি ভয় পাই যে সবকিছু আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং আমাকে এমন কিছুর সম্মুখিন হতে হবে যা আমি কখনও আশা করি নাই। “তারপর তারা দুইজনই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।’ ইবনে আবু হাতিম এটা বর্ণনা করেন এবং ইবনে আবু আল-

পৃৃষ্ঠা:৮৩

দুনিয়া তার বর্ণনায় যোগ করেন, ‘তাই তার পরিবার বলল, “আমরা আপনাকে ডাকলাম এই জন্য যেন আপনি তাকে স্বান্তনা দিতে পারেন কিন্তু আপনি তার উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিলেন।” তখন তাদেরকে বললেন যে তিনি কি বলেছেন। ১১১০ ফুদায়েল ইবনে ইয়াদ বলেন, ‘আমাকে জানানো হয় যে সুলায়মান আল- তায়মিকে বলা হয়েছে, “আপনি! কে আছে আপনার মত!” তিনি বলেন, “চুপ! এই কথা বল না! আমি জানি না আল্লাহর কাছ থেকে আমার সামনে কি দৃশ্যমান হবে, আমি জানি আল্লাহ বলেন, ‘তাদের জন্য আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা তারা কল্পনাও করে নাই। ১১৪ চতুর্থঃ সুফিয়ান আল-সাওরি এই আয়াত সম্পর্কে বলেন, ‘দুঃখ হয় লোকদেখানো মানুষগুলোর জন্য। ‘১১” এটা দেখা যায় সেই হাদিসে যেখানে বলা হয়েছে তিন ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম আগুনে নিক্ষপ করা হবেঃ আলেম, সাদাকা দানকারী এবং মুজাহিদ। ১১৬

পৃৃষ্ঠা:৮৪

পঞ্চমঃ একজন ব্যক্তি সতকর্ম করেছে কিন্তু পাশাপাশি অন্যদের উপর জুলুম করেছে এবং সে মনে করে যে তার কৃতকর্ম তাকে রক্ষা করবে, তাই সেখানে এমন কিছুর মুখোমুখি হতে হবে যা সে কোনদিন আশা করেনি। তার সব সতকর্ম তাদের মধ্যে ন্যায্যভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে যাদের উপর সে জুলুম করেছিলো, এরপর আরো কিছু জুলুম বাকি থাকবে পরিশোধের জন্য, এবং কাজেই তাদের গুনাহ তার উপর স্তূপাকার করা হবে এবং ফলে তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। ১১৭ ষষ্ঠঃ তার আমলনামা এমন পর্যায়ে তদন্ত করা হতে পারে যে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তার উপর যেসব নিয়ামত দেওয়া হয়েছিলো তার জন্য সে কতটা কৃতজ্ঞ ছিলো। তার আমল সর্বনিম্ন নিয়ামতের সাথে সমতা বিধান করবে এবং ওজনহীন বাকি নিয়ামতগুলো ওজনে তাদের থেকে অনেক বেশি হবে! এই কারনেই রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “যার আমলনামা তদন্ত করা হবে সে শাস্তিভোগ করবে” অথবা “ধ্বংস হয়ে যাবে। ১১৮ সপ্তমঃ সে গুনাহ করতে পারে যা তার কিছু সতকর্মকে বা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আমলকে, যা তাওহীদকে সংরক্ষন করে ধ্বংস করে দিতে পারে, যার ফলশ্রুতিতে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সাওবান হতে বর্ণিত ইবনে মাজাহ একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “আমার উম্মাহর মধ্যে এমন লোক আছে যারা পাহাড়সম আমল নিয়ে আসবে এবং আল্লাহ

পৃৃষ্ঠা:৮৫

সেগুলোকে বিচার করবেন বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মত।” এই হাদিসটি উল্লেখ করা যায়, “এরা হলো সেসব লোক যারা আপনার বর্ণের, (আপনার ভাষায় কথা বলে)১১৯, তারা রাতের কিছু অংশ সালাতে ব্যয় করে যেমন আপনি করেন, কিন্তু তারা হচ্ছে সেসব লোক, যখন তারা একা থাকে তখন তারা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে। ১২০সালিম, আবু হুযায়ফাহর মুক্ত করা দাস, হতে বর্ণিত ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ ও ইবনে আবু আল দুনিয়া উল্লেখ করেন যে রাসুলুল্লাহ বলেন, “বিচারদিবসে একদল লোক আনা হবে যাদের আমল হবে তিহামাহ পাহাড়ের সমান এবং আল্লাহ সেগুলোকে ধূলো হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং এদেরকে সর্বপ্রথম আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।” সালিম বলেন, “আমি ভয় পাই, আমি তাদের মধ্যে একজন!” তিনি (সঃ) বলেন, “তারা সিয়াম পালন করতো, সালাহ আদায় করতো এবং রাতের কিছু অংশ ইবাদতে ব্যয় করতো, কিন্তু গোপনে, যখন নিষিদ্ধ কোনকিছু করার সুযোগ আসতো, তারা সেই সুযোগটা নিতো যেন আল্লাহ তাদের এই কর্ম বাতিল করে দিবে।” একজন ব্যক্তির কৃতকর্ম অকার্যকর হয়ে যেতে পারে তার অহংকার ও জাহির করার কারনে এবং এরা এখনও সচেতন নয়!

পৃৃষ্ঠা:৮৬

৭. ২ দুনিয়ার বিষণ্নতা এবং আখিরাতের দুর্দশা

দায়মান, একজন ধর্মপ্রাণ ইবাদাতকারী, বলেন, ‘আখিরাত যদি মুমিনের জন্য সুখ বয়ে না আনে তাহলে দুইটা বিষয় তার জন্য একত্রিত হয়ঃ দুনিয়ায় বিষন্নতা এবং আখিরাতে দুর্দশা।’ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘একজন ব্যক্তি যে দুনিয়াতে কঠোর সংগ্রাম করলো সে কেমন করে আখিরাতে সুখের মুখ না দেখে থাকে?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘স্বীকৃতি কি? নিরাপত্তা কি? কত সংখ্যক মানুষ যারা মনে করে যে তারা সতকর্ম করছে যদিও বিচারদিবসে সেগুলোকে একত্রিত করা হবে এবং তাদের মুখে ছুড়ে মারা হবে। *১২১ এটা এই কারনে যে আমির ইবনে আব্দুল কায়স ও অন্যান্যরা এই আয়াতের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকতেন, وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقْبَلَ مِن أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِين …. অবশ্যই আল্লাহর মুত্তাকীদের কুরবানি কবুল করেন।’ [সুরা মায়িদাহঃ ২৭]

পৃৃষ্ঠা:৮৭

ইবনে আওন বলেন, ‘বিশাল নেক আমল নিয়ে নিরাপদ বোধ করো না কেননা তুমি জানো না সেগুলো গ্রহনযোগ্য হবে কি হবে না। তোমার গুনাহ নিয়েও নিরাপদ বোধ করো না কেননা তুমি জানো না সেগুলোর প্রায়শ্চিত্ত করা হয়েছে কি হয়নি। কারন তোমার সকল আমল তোমার কাছে অদেখা এবং তোমার কোন ধারনা নেই আল্লাহ সেগুলো দিয়ে কি করবেন।’ নাখাই তার মৃত্যুর সময় কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহর (সঃ) অপেক্ষায় আছি এবং আমার কোন ধারনা নেই তিনি আমাকে জান্নাত নাকি জাহান্নামের সুসংবাদ দিবেন। ১২২ অন্য আরেকজন মৃত্যুর সময় উদ্বিগ্ন অনুভব করেছিলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘আপনি উদ্বিগ্ন কেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘এটা হচ্ছে সেই সময় যার সম্পর্কে আমার কোন ধারনা নেই যে আমি কোন দিকে চালিত হব।’ একজন সাহাবা মৃত্যুর সময় উদবিগ্নতার আতিশয্যে পরাভূত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাকে তার পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন, ‘আল্লাহ দুই হাত মুষ্টি করে তাঁর সৃষ্টিগুলোকে নিয়েছেন, এক মুষ্টি জান্নাতের জন্য এবং এক মুষ্টি জাহান্নামের জন্য এবং আমার ধারনা নেই আমি কোন মুষ্টিতে অন্তর্ভুক্ত হবো। ১২০

পৃৃষ্ঠা:৮৮

৭. ৩ সতর্ক, সতর্ক।

আদম সন্তান তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ভীতিকর পরিস্থিতির স্বীকার হবে মৃত্যু, কবর, বারযাখ১, পুনরুত্থান, পুলসিরাত এবং সবচেয়ে বড় ভীতি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো এবং আগুন, যে কেউ এটা বিবেচনা করে, যেহেতু তা বিবেচ্য বিষয়, সে নিজেকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় খুজে পাবে। সে শেষমুহুর্তে তার ঈমান হারানোর এবং অপরাধী হিসেবে পরকালে শাস্তি পাওয়ার ভয়ে থাকবে। সত্যিকারের মুমিন কখনও এই সকল বিষয় থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করবে না। أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ …. বস্তুত ক্ষতিগ্রস্থ সম্প্রদায় ব্যতীত কেউ আল্লাহর কৌশল হতে নিরাপদ মনে করে না।’ [সুরা আরাফঃ ৯৯]এই সকল বিষয়গুলো আদম সন্তানকে আরাম ও শিথিলতা থেকে নিবৃত্ত করা উচিত। স্বপ্নে একজন ব্যক্তি বলছিলো, চোখ দুটি ঘুমায় কি করে শান্তভাবে? এখনও জানা নেই বসবাস করবে তারা কোন আবাসে? নেই কোন যার জামিনদার।

পৃৃষ্ঠা:৮৯

একজন ধর্মপ্রান ইবাদাতকারীকে তার মৃত্যু শয্যায় তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, তখন তিনি বলেন, কেউ জানে না কবরে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে রক্ষা কর আল্লাহ, তিনি একক যিনি কবরের নেতা। এই বিষয়ে তাদের একজন বলেন, ওয়াল্লাহি, যদি মানুষ জানতো কেন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, না সে ঘুমাতো না সে কর্তব্যে অবহেলা করতো। তাকে এমন কিছুর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে যা হবে নিশ্চিত, না সে বিপথগামী হত না সে ঘুমাতো যদি তার হৃদয় তা দেখতো; মৃত্যু, কবর, পুনরুত্থানঃ শোচনীয় তিরস্কার, আতঙ্ক ভীতিকর। মানুষকে জাহির করা হবে হাশরের ময়দান, সালাত ও সিয়াম গভীর উত্তেজনায়! যখন আদেশ বা নিষেধ আসে আমরা কিন্তু, গুহার মানুষদের মতঃ সজাগ কিন্তু ঘুমন্ত। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বুল আল আমিন। শান্তি ও মঙ্গল বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তার পরিবার ও তার সকল সাহাবাদের উপর।

হোম
ই-শো
লাইভ টিভি
নামাজ শিক্ষা
গেইমস
চাকুরি