Skip to content

আখেরাত - ইমাম গাজ্জালি

পৃষ্ঠা ০১ থেকে ১০

পৃষ্ঠা:০১

আখেরাত

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, মৃত ব্যক্তিকে কবরের মধ্যে রাখা হইলে কবর বলিতে থাকে হে অমুক! কিসে তোমাকে আমার ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলিয়া রাখিয়াছিল? তুমিতো জানিতে আমি পরীক্ষার ঘর, অন্ধকার স্থান, নির্জন প্রকোষ্ঠ এবং পোকামাকড়ের বাসা। আমার সম্পর্কে তোমাকে কিসে ধোঁকায় ফেলিয়া রাখিয়াছিল যে, তুমি আমার উপর দিয়া অহংকারের সাথে চলাফিরা করিতে? পক্ষান্তরে মৃত ব্যক্তি যদি নেককার হয়। তখন তাহার পক্ষ হইতে কেহ উত্তর দিতে থাকে যে, তুমি তো জাননা এই ব্যক্তি দুনিয়াতে থাকিয়া সৎকার্যের আদেশ করিত আর অসৎ কার্যে বাধা প্রদান করিত। তখন কবর বলে, তাহা হইলে আমি তাহার জন্য একটি সবুজ বাগানে পরিণত হইয়া যাইব। তাহার দেহ নূরে পরিণত হইয়া যাইবে এবং রূহ আল্লাহ্ পাকের কাছে চলিয়া যাইবে। হযরত উবায়দ ইবনে ওমাইর লায়ছী (রাঃ) বলেন যে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে দেওয়ার পর কবর তাহাকে বলিতে থাকে। আমি নিঃসঙ্গ, অন্ধকার এবং নির্জন ঘর। যদি তুমি আল্লাহ তা’আলার আনুগত্যে জীবন কাটাইয়া থাক তাহা হইলে আজ আমি তোমার জন্য রহমত হইয়া যাইব। পক্ষান্তরে যদি তুমি তাহার নাফরমানীতে জীবন কাটাইয়া থাক, তাহা হইলে আজ আমি তোমার জন্য আযাবে পরিণত হইব। আমি এমন এক ঘর, যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুগত হইয়া আমার ভিতর প্রবেশ করিবে সে খুশী হইয়া বাহির হইবে। আর যে ব্যক্তি নাফরমান হইয়া প্রবেশ করিবে সে ধ্বংস হইয়া বাহির হইবে। মুহাম্মদ বিন ছবীহ (রাঃ) বলেন যে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর যখন তাহার আযাব হইতে থাকে। তখন তাহার প্রতিবেশী মৃত ব্যক্তিরা তাহাকে লক্ষ্য করিয়া বলে, হে অমুক! তুমি তো দুনিয়াতে আমাদের প্রতিবেশী ছিলে। আমাদিগকে দেখিয়া তুমি কি শিক্ষা পাও নাই? তোমার পূর্বে যাহারা দুনিয়া ত্যাগ করিয়াছে তাহাদের অবস্থা সম্পর্কে তুমি কি কোন চিন্তা কর নাই? তুমি কি দেখ নাই যে, আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের সমস্ত আমল বন্ধ হইয়া গিয়াছে? তুমি তো অবকাশ পাইয়াছিলে- তুমি কেন এই গুলি পুরা করিয়া আস নাই যাহা তোমার আপন লোকেরা করিয়া যাইতে পারে নাই। যমীনের বিভিন্ন অংশ তাহাকে লক্ষ্য করিয়া

পৃষ্ঠা:০২

বলিতে থাকে- হে দুনিয়ার বাহ্যিক রূপ দেখিয়া ধোঁকায় নিমজ্জিত ব্যক্তি। তোমার পরিবার বর্গ ও আত্মীয় স্বজনের মধ্য হইতে যাহারা যমীনের উদরে উদরস্থ হইয়াছে তাহাদিগকে দেখিয়া তুমি শিক্ষা গ্রহণ কর নাই কেন? তোমার পূর্বে তাহাদিগকেও দুনিয়া ধোঁকা দিয়াছিল। অতঃপর তাহাদের মৃত্যু তাহাদিগকে কবরের ভিতর লইয়া আসিয়াছে। তুমি দেখিয়াছ যে তাহারা কাঁধে উঠিয়া গন্তব্যস্থলের দিকে চলিয়াছিল। আর সেখানে না গিয়া তাহাদের উপায় ছিল না। তুমি কি একটুও চিন্তা কর নাই যে তোমাকেও একদিন এইভাবে কবরের উদরে প্রবেশ করিতে হইবে? হযরত ইয়াযীদ রোকাশী (রহঃ) বলেন- আমি শুনিয়াছি যে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হইলে তাহার আমলসমূহ তাহাকে পরিবেষ্টন করিয়া লয়। অতঃপর আল্লাহ পাক ইহাদিগকে কথা বলার সুযোগ দেন। ইহারা বলিতে থাকে হে গর্তে একাকী পড়িয়া থাকা আল্লাহর বান্দা। তোমার পরিবার পরিজন ও বন্ধুবান্ধব তোমাকে ছাড়িয়া চলিয়া গিয়াছে। এখন আমাদের ছাড়া তোমার সঙ্গী কেহই নাই। হযরত কা’ব (রাঃ) বলেন যে, নেককার বান্দাকে যখন কবরে রাখা হয় তখন তাহার আমলসমূহ যেমন নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত, জিহাদ প্রভৃতি তাহাকে পরিবেষ্টন করিয়া লয়। আযাবের ফিরিশতা যখন তাহার পায়ের দিক হইতে আসার জন্য প্রস্তুত হয় তখন নামায বলিতে থাকে যে, তাহার থেকে দূরে থাক। কেননা এই ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে ইবাদতের উপর সারারাত্র দাঁড়াইয়া থাকিত। অতঃপর ফিরিশতা যখন তাহার মাথার দিক থেকে আসিতে প্রস্তুত হয় তখন রোযা তাহাকে বলিতে থাকে যে, এইদিক দিয়া তোমার আসার পথ নাই। এই ব্যক্তি রোযা রাখার কারণে দুনিয়াতে অনেক পিপাসিত থাকিত। অতঃপর এই ফিরিশতা শরীরের দিক থেকে আসার জন্য প্রস্তুত হয়। তখন হজ্জ্ব ও জিহাদ তাহাকে বলিতে থাকে যে, এখান থেকে পৃথক থাক। কেননা সে হজ্জ্ব করিবার জন্য এই শরীর দ্বারা বহু পরিশ্রম করিয়াছে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করিয়াছে। সুতরাং এই শরীরে তোমার কোন প্রভাব খাটিবে না। ফিরিশতা তাহার হাতের দিক থেকে আসার চেষ্টা করিবে। তখন যাকাত, দান প্রভৃতি বলিতে থাকিবে যে, আমার বন্ধু হইতে দূরে থাক কারণ এই হাতের দ্বারা সে বহু দান খয়রাত করিয়াছে। আর তাহার এই দান খয়রাত আল্লাহ পাক কবুল করিয়াছেন। অতপর এই নেককার মৃত ব্যক্তিকে বলা হইবে যে, তোমার প্রতি মোবারকবাদ। তুমি পবিত্র অবস্থায় জীবিত ছিলে আব্যর পবিত্র অবস্থায় মৃত্যুও বরণ করিয়াছ। অতঃপর রহমতের ফিরিশতা তাহার কাছে আগমন করে এবং তাহার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছাইয়া দেওয়া হয়। তাহাকে জান্নাতের জান্নাতী পোশাক পরিধান করাইয়া দেওয়া হয়। তাহার দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যায় ততদূর পর্যন্ত তাহার কবর প্রশস্ত করিয়া দেওয়া হয়। জান্নাত হইতে একটি ঝুলন্ত বাতি তাহার কবরে চলিয়া আসে। কবর হইতে হাশরের ময়দানে উঠার পূর্ব পর্যন্ত ইহার আলোর মধ্যে তিনি কবরে অবস্থান করেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন ইবায়দ বিন উমাইর (রাঃ) বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক জানাযায় শরীক হইয়া ছিলাম। তখন রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন যে মৃত ব্যক্তিকে কবরে উঠাইয়া বসানো হয়। সে তাহার সাথীদের পায়ের আওয়াজও শুনিতে পায়। তখন কবর ব্যতীত অন্য কোন কিছু কথা বলে না। কবর বলে- হে দুর্ভাগা। আমার সম্পর্কে কেহই ভয় প্রদর্শন করে নাই? অথচ আমি একটি ভয়ঙ্কর, দুর্গন্ধময় এবং পোকামাকড়ের সংকীর্ন ঘর। তুমি আমার ভিতর অবস্থান করার জন্য কি প্রস্তুতি গ্রহণ করিয়া আসিয়াছ?

কবর আযাব এবং মুনকীর নকীরের জিজ্ঞাসাবাদ: হযরত বারা ইবনে আযেব (রাঃ) বলেন যে, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক আনসারী ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ার জন্য গিয়াছিলাম। তাহার দাফনের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা নিচু করিয়া তাহার কবরের পার্শ্বে বসিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার নিম্নোক্ত দুআ করিলেন- “ইলাহি! আমি তোমার কাছে কবর আযাব হইতে আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি।” অতঃপর তিনি বলিলেন যে, ঈমানদার যখন ইহজগত ত্যাগ করিয়া আখেরাতের দিকে পাড়ি জমায় তখন আল্লাহ পাক তাহার প্রতি এক ফিরিশতা প্রেরণ করেন। তাহার চেহারা সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল হয়। তাহার সাথে খোশবু এবং কাফন থাকে। সে আসিয়া এই ব্যক্তির চোখের সামনে বসে। যখন তাহার রূহ দেহ ত্যাগ করিতে থাকে। তখন আসমান যমীনের মধ্যবর্তী সকল ফিরিশতা এবং আসমানে অবস্থানকারী সকল ফিরিশতা তাহার জন্য রহমতের দুআ করিতে থাকে। আসমানের দরজা সমূহ খুলিয়া যায়। প্রত্যেক দরজাই এই প্রত্যাশায় থাকে যাহাতে তাহার রূহ ইহার ভিতর দিয়া প্রবেশ করে। তাহার রূহ উপরে চলিয়া যাওয়ার পর ফিরিশতারা বলে- হে ইলাহি। সে আপনার অমুক বান্দা। তখন আল্লাহ পাক ফিরিশতাকে নির্দেশ দেন যে, যাও, তাহাকে লইয়া যাও। তাহার জন্য সম্মানসূচক যেসব আসবাবপত্র প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি। তাহা তাহাকে দেখাইয়া দাও। কেননা আমি তাহার সাথে ওয়াদা করিয়াছি যে-: مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أخرى .:“এই মাটি থেকে আমি তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছি। পুনরায় তোমাদিগব্দেe ইহার ভিতর ফিরাইয়া আনিব। আবার ইহা হইতেই তোমাদিগকে বাহির করিব। ।সূরা ত্বোয়া-হা, আয়াত ৫৪

পৃষ্ঠা:০৩

তাহাকে যাহারা কবরস্থ করিয়া ফেরত যাইতেছে, কবরে থাকিয়া সে প্রত্যাবর্তনকারী লোকদের জুতার আওয়াজ পর্যন্ত শুনিতে পায়। কবরে তাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় যে, তোমার প্রতিপালক (রব। কে? তোমার দ্বীন কি ছিল? তোমার নবী কে? সে উত্তর প্রদান করে যে, আমার প্রতিপালক আল্লাহ্ পাক। আমার দ্বীন ইসলাম। আমার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। প্রশ্ন করার সময় খুব কড়া ভাবে প্রশ্ন করা হইয়া থাকে। কারণ মৃত ব্যক্তির ইহাই শেষ যাচাই। সে জবাব দেওয়ার পর এক ঘোষক ঘোষনা করিতে থাকে যে, তুমি সত্য বলিয়াছ। আয়াত “আল্লাহ পাক ঈমানদার দিগকে দুনিয়া ও আখেরাতে একটি মজবুত কথার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন” এই আয়াতের অর্থ ইহাই। অতঃপর সুন্দর ও সুগন্ধিযুক্ত পোশাক পরিধানকারী একজন সুদর্শন ব্যক্তি তাহার কাছে আগমন করিয়া বলে যে- মহান পরোয়ার দিপারের পক্ষ হইতে অনুগ্রহের সুসংবাদ গ্রহণ কর। চিরস্থায়ী সুখ স্বাচ্ছন্দ ও ভরপুর জান্নাতের সুসংবাদও তোমার জন্য রহিয়াছে। প্রতিউত্তরে সে সুদর্শন ব্যক্তিকে বলে-তোমার মঙ্গল হউক। তুমি কে? পরিচয় দাও। সে বলিবে যে আমি তোমার নেক আমল। আল্লাহর কসম আমি তোমার অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত। তুমি আল্লাহর হুকুম পালনের ক্ষেত্রে ছিলে অগ্রগামী। আর নাফরমানীর ক্ষেত্রে ছিলে পিছটান। আল্লাহ পাক তোমাকে কল্যাণমূলক বিনিময় দান করুন। অতঃপর এক ঘোষক উচ্চস্বরে বলিতে থাকিবে যে, তাহাকে জান্নাতের বিছানা দান কর। জান্নাতের একটি দরজা তাহার দিকে খুলিয়া দাও। তখনই তাহার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছাইয়া দেওয়া হয় এবং জান্নাতের একটি দরজা তাহার কবরের দিকে খুলিয়া দেওয়া হয়। তখন সে বলে- ইলাহি। অতি তাড়াতাড়ি কিয়ামত সংঘটিত কর। যাহাতে আমি আপনজনের সাথে সাক্ষাৎ করিতে পারি। পক্ষান্তরে কাফিরের যখন মৃত্যু উপাস্থিত হয় তখন ভয়ংকর চেহারা বিশিষ্ট দুই ফিরিশতা তাহার কাছে অবতরন করেন। তাহাদের হাতে আগুনের বস্তু দুর্গন্ধযুক্ত জামা থাকে। তাহারা তাহাকে ঘিরিয়া বসে। তাহার প্রান বাহির হওযার সময় ভুমণ্ডল ও নভোমন্ডলের ফিরিশত্য তাহার প্রতি লা’নত করিতে থাকে। আসমানের দরজাসমূহ বন্ধ করিয়া দেওয়া হয়। প্রত্যেক দরজাই তাহার আত্মাকে ঘৃণা করে। ইহাদের ভিতর দিয়্য তাহার আত্মার প্রবেশকে ইহারা খুব খারাপ বলিয়া জানে। তাহার আত্মা যখন দরজা দিয়া উপরের দিকে আরোহনের চেষ্টা করে তখন ইহাকে নীচের দিকে নিক্ষেপ করিয়া দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় আল্লাহর কাছে বলা হয় যে, হে আল্লাহ। তোমার অমুক বান্দাকে আসমানেও কবুল করে নাই যমীনেও কবুল করে নাই। আল্লাহ পাক বলেন- ইহাকে সরাইয়া দাও। তাহার জন্য খারাপ আসবাবপত্র প্রস্তুত করিয়া রাখা হইয়াছে তাহাকে ইহা দেখাইয়া দাও। আমি তাহার কাছে ওয়াদা করিয়া ছিলাম যে, তাহাকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছি। আবার তাহাকে মাটি হইতে-ই পুনরায় উত্থিত করিব। তাহাকে কবর দিযা যাহারা ফেরত যাইতেছে কবরে থাকিয়া সে তাহাদের জুতার আওয়াজ পর্যন্ত শুনিতে পায়। অতঃপর কবরে তাহাকে প্রশ্ন করা হয় যে, তোমার প্রতিপালক কে? তোমার ধর্ম কি ছিল তোমার নবী কে? সে জবাব দেয় যে, আমি তো জানি না। তখন তাহাকে বলা হয় যে- হ্যাঁ, তুমি জান না। অতঃপর কুশ্রী, দুর্গন্ধযুক্ত ও ভীতিপ্রদ পোশাক পরিহিত একব্যক্তি তাহার কাছে আগমন করিয়া বলে যে, তোমার জন্য রহিয়াছে আল্লাহর গযব ও মর্মন্তদ আযাব। সে বলে- তুমি কে? তোমার নাশ হউক। অগান্তক বলে যে- আমি তোমার বদ আমল। তুমি তো দুনিয়াতে বদ আমল করিবার ক্ষেত্রে ছিলে সকলের অগ্রগামী, আর নেকআমল করিবার ক্ষেত্রে ছিলে পিছটান। আল্লাহ তোমাকে নিকৃষ্ট বিনিময় দান করিবেন। কবরবাসী অসন্তষ্ট হইয়া তাহাকে বলিবে যে আল্লাহ তোমাকেও নিকৃষ্ট বিনিময় দিবেন। অতঃপর তাহার জন্য একজন বধির ও বোবা ফিরিশতা নির্ধারন করা হয়, যাহার হাতে লোহার একটি গুর্মু থাকে। গুর্জটি এত ভারী যে, যদি মানুষ ও জ্বীন একত্রে মিলিয়াও উহা উঠাইতে চেষ্টা করে উঠাইতে পারিবে না। যদি উহা দ্বারা পাহাড়ের উপর আঘাত করা হয় তাহা হইলে পাহাড়ও ধূলায় পরিণত হয়ে যাইবে। এই ফিরিশতা ইহার দ্বারা কবরস্থ এই কাফিরকে মারিতে থাকে। অর্জুর আঘাতে সে মাটিতে মিশিয়া যায়। পরে আবার তাহার মধ্যে প্রান দেওয়া হয়। আর তাহার চোখের মধ্যে এমন একটি আঘাত করে। আঘাতের চোটে এই কাফির এতজোরে চিৎকার করে যে, মানুষ ও জ্বীন বাতীত অন্য সমস্ত সৃষ্টি ও জগৎ তাহার চিৎকারের আওয়াজ শুনিতে পায়। অতঃপর এক ঘোষক ঘোষনা করিয়া দেয় যে, তাহার জন্য অগ্নির বিছানা বিহাইয়া দাও। তাহার কবর হইতে জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলিয়া দাও। তখন তাহার কবরে অগ্নির বিছানা বিছাইয়া দেওয়া হয় এবং তাহার কবর হইতে জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলিয়া দেওয়া হয়। মুহাম্মদ ইবনে আলী (রহঃ) বলেন যে মৃত্যুর সময় মানুষকে তাহার নেক আমলসমূহ এবং বদ আমলসমূহ দেখানো হয়। তখন সে নেক আমলের দিকে দেখিতে থাকে আর বদ আমলের ক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করিয়া ফেলে। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন- ঈমানদার ব্যক্তির মৃত্যুর সময় এক ফিরিশতা একটি রেশমী কাপড়ে করিয়া তাহার জন্য মেশক এবং রায়হানের সুগন্ধ লইয়া তাহার কাছে আসে। তাহার দেহ হইতে তাহার আত্মাকে এত নরম ও কোমলভাবে বিচ্ছিন্ন করে যেমন আটা হইতে চুল বাহির করে। তাহাকে বলা হয়

পৃষ্ঠা:০৪

যে, হে শংকামুক্ত বাক্তি। স্বাল্লাহ পাক কর্তৃক প্রদত্ত সম্মান এবং আরামের দিকে চল। ভূমিও আল্লাহ পাকের প্রতি রাজী আর তিনিও তোমার প্রতি খুশী। তহ্যের প্রাণ বাহির করিরা মেশক ও সুগন্ধি দ্রব্যে অখিয়া একটি রেশমী কাপড় দ্বারা তাহা পেঁচাইয়া পওয়া হয়। অতঃপর ইহা ইল্লীয়ন বা উর্ধ্ব জগতে প্রেরণ করা হয়। পক্ষান্তরে কাফিরের মৃত্যুর সময় ফিরিশতারা চটের মধ্যে কতক জলন্ত অঙ্গার রাখিয়া তাহার কাছে আসে এবং খুব কষ্ট প্রদানের মাধ্যমে তাহার প্রাণ বহির করে। তাহাকে বলা হয়। হে খবিস (অপবিত্র। স্বাস্থ্য। আল্লাহ পাকের শাস্তি অপমান পাছনর দিকে চল। তুমি যেমন তাঁহার প্রতি সন্তুষ্ট নয়। তদ্রুপ তিনিও তোমার বলি যোগা হইয়া আছেন। তাহায় প্রাণ বাহির করিল তাহাদের সাথে আানীত এই সব জলন্ত অঙ্গারে রাখিয়া দেওয়া হয়। আর আম্মা ইহাতে ছটফট করিতে থাকে। অতঃপর ইহাকে চট সিয়া, পেঁচাইয়া সিজ্জীন বা করেন থানায় পৌঁছাইয়া দেওয়া হয়। হায়াত মুহাম্মদ ইবনে কা’র কুরী নরাময়। কোরআন কারীমের এই আয়াত পাঠ করেন-:حتى إذا جاء أحدهم الموت ، قال ربنا ارجعون – العلى أعمل صالحا بينا لوقت كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَبلها . “অতঃপর বলিলেন, কোন মানুষকে মৃত্যু ধরিয়া ফেলিলে আল্লাহ পাক ভাহ্যকে জিজ্ঞাসা করেন যে, তুমি এখন কি চাও? কিদের প্রতি তোমার আকর্ষন বহিয়াছে। তুমি কি সম্পদ জামা করিতে হাতা বাগান করিতে চাঙা দানান কোঠা নির্মীগ। যাল খনন কনিবার কি আকাংখা আছে? সে বলে যে, না, এই সব কিছুর ইচ্ছা নাই। বরং যাহা ছাড়িয়া আসিয়াছি উহ্য নেককাজে ব্যবহার করিব ।অবন আল্লাহ পাক বলেন যে- কখনো হইতে পারে না, মৃত্যুর সময় এইরূপ কথাই বলিয়া থাকে। (সূত্র মু’মিন, আয়াত ১২৪। হযরত আবু হোরায়রা (বা। বলেন যে, বাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন- ঈমানদার ব্যক্তি করবে একটি সবুজ বাগানে অবস্থান করিবে। জাহার কবর সরুর গল্প এশান্ত করিযা দেওয়া হয়। পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় আহার করর স্বালোকিত হয়। স্বতঃপর তিনি উপস্থিত সাহাবাদিগকে উদ্দেশ্য করিয়া বলেন: عمان له معيشة ضنكا: ‘নিশ্চয়ই ভায়ার জন্য সংকীর্ণ জীবিকা হবে।” (সূন্ন হেয়ায়, অন্তত ১২৩। অর্থ: এই আরাত কাহার সর্ম্পকে নামিল হইয়াছে তোমরা কি তাহা জান? উপস্থিত সাহাবাগণ বলিলেন যে আল্লাহ ও অদীয় রসুল তাহা ভাল জানেন। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন ইহাতে কাফিরদের কবর আযাবের কথা বলা হইয়াছে। কাফিরা করচে নিরানব্বইটি অজগর নিযুক্ত করা হইবে এবং এই সর্পের অবস্থা দান কি? ইহাদের প্রত্যেকটির সাতটি করিয়া ফন্য থাকিবে। ইহারা কিয়ামত পর্যন্ত তাহাকে দংশন করিতে থাকিবে।” এই হাদীছে নিরানব্বইটি অজগর সর্পের উল্লেখ করা হইয়াছে। ইহাতে বিশ্বয় প্রকাশ করার কোন কারণ থাকিতে পারে না। কেননা অনেক মানুষের মধ্যে বিভিন্ন বদ অভ্যাস ও বদ চরিত্রের সমাহার থাকে। যেমন অহংকার, শৌকিকতা, হিংসা-দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, গোত, লালসা প্রভৃতি। মৌলিক ভারে এইসব কুত্তবিএমূলক অভ্যাস বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। ইহাদের আবার শাখা-প্রশাখা রহিয়াছে। মৃত্যুর পর এইসব শাখা প্রশাখা অভ্যাসসমূহ স৭ ও বিষ্ণুতে পরিণত হইবে। আর ইহারা মারাত্মক অজগর স্যপে পরিগভ হইয়া তাহাকে দংশন করিতে থাকিবে। তাহলে দিল এবং নূরানী দৃষ্টি সম্পন্ন বাচিবগণ এই সব বাসোত্মক কুচরিত্র সমূহ এবং ইহাদের শাখা প্রশাখা সমূহ বাতেনী চোখের দেখিতে পান কিন্তু দূরে নবুয়ত্ব যাত্রীত অন্য কোন কিছুর দ্বারা ইহাদের সন্ধা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। সার কথা- এই সব ব্যাপারে যে বর্ণনা পাওয়া যায়। ইতার বাহ্যিক দিক সম্পূর্ণ সহীহ। কিন্তু ইহাতে গোপন রহস্য রহিয়াছে। যাহা নূরানী দৃষ্টি দাপন্ন লোকেরাই দেখিতে পাবে। সুতরাং যাহারা এইসহ বর্ণনা মূলতত্ব সম্পর্কে ওয়াকিফহাল নহে এবং ইহার গোপন রহস্য তাহাদের সামনে উদ্ভাসিত হয় নাই, তাহাদের ইহা অস্বীকার করা ঠিক নহে। বরং এইসব বর্ণনার প্রতি এস করিয়া মানিয় লওয়া উচিত। ইহা ঈমানের নিম্নস্তার।

অভিজ্ঞতা পরিপন্থী বিষয় সমূহে বিশ্বাস করা:এখন যদি কেহ আপত্তি উত্থাপন এরিয়া বলে যে, আমরা তো দীর্ষ দিন পর্যন্ত কাফিরদের কবর দেখিয়া আসিতেছি। কিন্তু ইহারে এমন কিছু কখনও দেখিতে পাই নাই। ঋতিজ্ঞতা পরিপন্থী বিষবের উপর কিভাবে ঈমান স্থাপন করি? এই ধরণের আপত্তির জবাব হইল যে, এই প্রকারের বিষয়ের প্রতি ঈমান স্থাপন করিবার তিনট পন্থা হইতে পাবে প্রথমতঃ অধিকতর বিষদ ও আপনি যুক্ত পন্থা হইল এই সে. কোন বাহ্যিক মুক্তিতর্কের পিছনে না পড়িয়া সত্য অন্তরে বিশ্বাল করা যে, করবে সাপ বিষ্ণু রহিয়াছে। ইহারা মৃত ব্যক্তিকে দংশন করে। কিন্তু আমরা তাহা দেখিতে পাই না। কারণ আমাদের দৃষ্টি শক্তিতে এইসব বিষয় দেখার যোগ্যতা নাই। এই সহ বিষয় এই দুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত নহে বরং এইগুলি পরকালীন বিষয়। এইসব অন্য অণতের ব্যবস্থাপনা, যাহা আমাদের বাহ্যিক দৃষ্টিতে বরা পড়ে না। লক্ষ্য করিয় দেখ যে, হরেও জিবরাইল (আচকে সাহাবলদ না দেখার পরও তাহার অবতরণের প্রতি তাহাদের কেমন দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। তাই দেখি নাই সব বিশ্বাস করিতে হইবে

পৃষ্ঠা:০৫

না এমন কথা তো নাই। যদি তোমরা কবরের সর্ব বিষ্ণুর প্রতি বিশ্বাস না করিয়ে পার তবে এই কথা তো সত্য যে ফিরিশতা এবং ওহীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতেই হইবে। ইয়া অপরিহার্য। যদি একটুকু বিশ্বাস কর। আর জাব যে, বর্ষী অনেক কিছু দেখিতে পান। তাহা হইবে বৃদ্ধ করিবাসরকে সর্ব বিষ্ণু যাপন করিতেছে বাঁধা নরী সংবাদ বিয়া থাকিলে যাহা কেন বিশ্বান করা দুইবে না কেননা নবী এমন সব দেবেন ওয়া আমরা সেখিনা। সুতরাং আমরা দেখিনা বাদিয়া পরী দেবেন না- ইহা বেগুন কথা। তবে ফিরিশতারা যেমন- মানুষ ও অন্যান্য অম্বুব শাষ হয় না তেমনি ভায়ে তো ওরয়েত সর্গ বিষ্ণুও দুনিয়ার সণ বিচ্ছুর ন্যায় না হওয়াটাই স্বাভাবিক। ইহাদের আয়ই অনন। কবরবাদীর যে সব ইন্দ্রিয়ের দ্বারা অনুধাবণ ও অনুতব করিয়া থাকে। ইহার ভিন্ন ।দ্বিতীয়তঃ তোমরা ঘুমন্ত অভির অবস্থার বিয়ে বন্ধ্য কর। কথার কথাও যে অনেক সময় স্বপ্নে দেখে যে, সর্ণ কবরা বিষ্ণু আয়াতে দংশন করিতেছে। আর এই সংশনের কারণে সে এক বেল্ট যাথা পায় যে চিৎকার দিয়া মহ পাড়। অনেক সময় ভাহার ললাট হইতে ধর্ম অরিয়া পড়িতে থাকে। অনেক সময় নাফ নিয়া বিয়ানা হইতে ছিটকাইয়ার পড়ে। ঘুমন্ত ব্যক্তি এইসব কিছু অনুতন করিতেছে। বাথা এই যোগ করিতেছে। সে আর্গরির ব্যক্তির ন্যায়ই এইসব বাধা ও এই অনুভব করিয়া থাকে। স্বজ গে নাড়াচড়া করিতেছে না। অনুবন্ধন করিতে রাহার মশে পাশে কোন দাশ বিস্তৃত পাওয়া য অংশেণ করিতেছে। আবার যে ইহার বাবার ঋনুষর করিয়েছে। কিন্তু তোমরা ত দেখিতে পাইতেছ না। তাহাতে কিভাগ্য করিলে সে বিজ্ঞায়িত বিবরণের যাদে কর্ণনা করিবে। তুমি না দেখিলেও ইহার সত্যতা মানিয়া লইতে প্রস্তুত থাকিবে। তাহা হইলে করবের অর্থ বিষ্ণুর দংশন মানিয়া লইবে না (কন্যতৃতীয়তঃ তোমরা জানিয়ে সর্ণ নিজে বাধা প্রদানকারী নহে গরং সর্গের বিষ হইতে বানায় সৃষ্টি হয়। বিষযুক্ত সর্ব দংশন করিলে ব্যথা হয় না। অধিকন্তু মুব বিদের এভরের বলেই তই হয়, বিষ হাম প্রর্যর বিষ্কার না ভরিতে পারে তাহ দেহের মধ্যে অনুরণ এজবি পাওয়া যায়। আহা হইতে সংশ্যই ওই অনুভব হইবে। আর এই কইটি সাদারণত্বর যে বস্তুর কারণে সৃষ্টি হয়, এখন এই বস্তু বিদ্যমান না থাকিলেও বলিবে যে, ইহা ঐ বস্তুর এই। উদাহরণ স্বরূপ, নাইর সাথে সহবাস করা বারীভর তাহারও মধ্যে সহকদের স্বাদ অনুভূত হইয়াছে। এখন যদি দে উক্ত স্বান কে প্রকাশ করিতে যায় হইয়ী সাথে সহবাদের স্বাদ’-এইজণ বলা বাহীর বিশ্রাতে একাশ করিবে? ইহা একাশ করিতে হইসে তাহাকে দংশাই বলিতে হইবে যে, ইহা নারীর সহিত সহবাস করার ফলে অনুভূত স্বাদ। অথচ এই ক্ষেত্রে নবীর সাথে সহবাস বাস্তব ক্ষেত্রে পাওয়া যায় নাই। অনুরূপভাবে ম্যাষের মধ্যে যে সব বাসযাত্মক বারণ অভ্যাসয়দি বাকে, বিস্তৃর বটের পায় হয়। কর্ণও বিস্তৃত ফালনের বটের বার বই অনুচুক হইতে খাকিবে অবঃ সর্ব বিষ্ণু কিছুই বিদ্যমান নাই। বিষয়ট ঋনর উলহায়ণের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করিয়া বুঝা যায়। প্রেমাস্পদের মৃত্যুর পর প্রেমিকের প্রেম তাহার জনা বঈনায়ক বিষয়ে পরিণত হয়। প্রথমে তো এই সম্পর্ক রতুই মথাসার ছিল, এখন প্রেমিকের এমন অবস্থার সৃষ্টি হইয়াছে যে তাহার সম্পর্কের কাঁদায়ক বিষয়ে পরিণত হইয়াছে। এমনকি সে এই সম্পর্কের ফলশ্রুতিতে অন্ত্যর আবাব প্রোগ কোপ করিবার করতে থাকযোদ করিতেছে। মনে এমন ভাবেঃ উদয় হইয়াছে যদি সে পূর্বে যেয়ের মধা ভোগ না বর্ণিত বা এহইলে তাহার কনা কর ভাল হইত। আজ তাহাকে সাস্তবিক আহার যোগ করিতে এইত না। মৃত বাভির অবরের আযাবের অবস্থাও বস্তুপ। সে পার্থিব যেয়ে নিজের ছিল। মাল দৌলয়, মান সম্মান, সন্তান সন্তুতি, পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বাস্তব, দর বাড়ী প্রকৃতির প্রেমে নিমজ্জিত দ্বিল। যদি কেয় উল্লিখিত জিনিসওগি থেথে কোন একটি জিনিষ ভাহার জীবদ্দশায় যাহার থেকে দ্বিবাইয়া পইক। আর যে মনে করিত যে এই জিনিষটি আয় করবও জিরিয়া পাইবে না। তখন অবস্থা সব প্রিয় জিনিলগুলিকে সাহার কাছ থেকে একেবারে ছিলইয়া বইয়া যায়। সুজায় প্রেমাশদের বিয়োগ বালাম যেমিক যেমন স্বসহনীয় আবার ও কষ্টে পড়িত হয়। এই ব্যক্তিও তাহার প্রিয় বস্তু অধিকন্তু এই আযাবের সাহবে আরও অধিক আযার যোগ হইতে থাকে। যেমন যে পরকালীন সম্পদ হইতে বঞ্চিত থাকার কারণে আফসোস করিতে থাকিবে। আল্লাহর সান্নিধ্যও অনুন্নাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হইয়া পর্দায় মধ্যে পড়িয়া থাকিতে হইবে কারণ পাহরন্মাহর প্রতি বলহাসা তাহাতে অম্লাহর নাকের নকল বিয় বস্তু থেকে তাহার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার মর্মভূত যন্ত্রণ পরকালীন সম্পর হইতে বঞ্চিত থাকা, আল্লাহর রহমত হইতে পর্দায় পড়িয়া খাবার অপমান ও গারুন্য বস্তুতি আহাতে চিরস্থায়ী অযাবে নিমজ্জিত করিবে। বজিতের অগ্নি জাহান্নামের অগ্নি থেকেও কঠোর। এই সম্পর্কে অল্লাহ পার ইরশাদ করেন “কখনও নহে, বিশ্যয়ই সেই দিন তাহাদেরকে স্বীয় শাসনকর্ত

পৃষ্ঠা:০৬

হইতে বিরত রাখা হইবে। অতঃপর অবশ্যই তাহাদেরকে আহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে।” পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পার্থিব জগতের সাথে ভালবাসা স্থাপন করে নাই। অল্লাহ পাক ব্যতীত অন্য কাহারও সাথে ভালবাসা করে নাই। আল্লাহর দর্শন সাত ও তাঁহার সন্নিধ্যে যাওবার জন্য আগ্রহ পোদনকারী। সে তো মৃত্যুর মাধ্যমে পার্থিব জগতের জেল খানা থেকে মুক্তি লাভ করে। এই দুনিয়াতে খাহেশাকের কই তেভাগ করার পর রেহাই লাভ করে। সর্বপ্রকার বাধা বিপত্তি অতিক্রম করিয়া স্বীয় প্রেমাস্পদের কাছে একান্তে আসিয়া পড়িবে। আর এখানে তাহার এই মিলন চিরস্থায়ী। নিঃসন্দেহে আশংকা মুক্ত ভাবে স্বীয় প্রেমাস্পদের সান্নিধ্য লাভ করিয়া আনন্দে ও চিত্ত তুষ্ট হইয়া কালাতিপাত করিতে থাকিবে। দুনিয়াতে এমন মানুষও আছে যে, তাহার একটি ঘোড়া আছে। এক অত্যাচারী শক্তিধর প্রক্তি তাহার ঘোড়াটি ছিনাইয়া বইতে চায়। কিন্তু সে ঘোড়া ছাড়িতে চাহে না। যদি অত্যাচারী বলে যে হয়ত ঘোড়া আমাকে দিতে হইলে অন্যথায় বিষ্ণুর দংশন সহ্য করিতে হইবে। তাহা হইলে সে বিষ্ণুর সংশনের ব্যথা সহ্য করিতে রাজী। তবুও মোড়া হস্তচ্যুত করিতে রাজী নয়। ইহা হইতে বুঝা যায় যে, বিচ্ছুর দংশনের ব্যাখা অপেক্ষা ঘোড়া হাজ য়াড়া হওয়ার ব্যখা তাহার কাছে অধিকতর প্রবল। মৃত্যু তো তাহয় ঘোড়া অন্যান্য বহন, ঘর, বাড়ী জমিজমা, স্ত্রী, বন্ধু বান্ধব, সব কিছু, ে হাত ছাড়া করিয়া দেয়। এমন কি তাহার হাত পা চক্ষু নাসিকা প্রকৃতি তাহার থেকে পৃথক অরিয়া দেব। আর এইগুলি এমন ভাবে পৃথক হয় যে কোন দিন তাহা ফিরিয়া পাওযার আশ্বও করা যায় না। যদি এই সকল জিনিস ব্যাতীত অন্য কিছুর সাথে তাহার গ্রোম বা ভালবাসা না থাকে। একমাত্র ইহাদের সাথেই স্বান্তরিক সম্পর্ক থাকে। আর এইগুলি ভাহার থেকে বীড়িয়া লওয়া হয় তাহা হইলে ইয়াদের বিয়োগ ব্যথা সাগ কিছুর দংশনের ব্যথা অপেক্ষা অধিক হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। দুনিয়াতে এইগুলি কাড়িবা পইলে তাহার বাধ্য হয়। আযাব অনুভর করে। অনুরূপভাবে মৃত্যুর মাধ্যমে কাড়িয়া লইলেও মৃত্যুর পর সে আমার অনুভব করিবে। আমরা তো ইতিপূর্বে উল্লেখ করিয়াছি যে, মানুষ যে কাজ কর্মের কারণে দুনিয়াতে অস্বস্থি বোধ করার পর্যায়ে পৌঁছে সেগুলো মানুষের মৃত্যুর সাথে মিটিয়া যাগ না বরং মৃত্যুর পর ইহারা আরও সভ্যগ হইয্য উঠে এবং ইহারা শক্ত আযাবে রূপান্তরিত হয়। পার্থিব জীবনে এইগুলিও প্রভাব বীতনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকাশ পাইলেও বিভিন্ন ভাবে হলে সান্ত্বনা পাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। যেমন অথান্য মানুষের কাছে এসিলে তাহারা হয়তো এই কাপারে সান্ত্বল দিত বা দূরীভূত করিবার স্বাশা প্রদান করিত। অথবা এইসব অভ্যাস পরিবর্তিত হওয়ার আশ্য করা যাইত- এই ভাবে সান্ত্বনা পাওয়ায় পন্থা ছিল। কিন্তু মৃত্যুর পরে সন্ত্বনা পাওয়ার উল্লিখিত সকল পন্থা একবারে বন্ধ। ইহাদের পরিবর্তন হওয়ার আশা তিরোহিত। সুতরাং আযাব শক্ত তো হইবেই। এক ব্যক্তি পার্থিব জীবনে স্বীয় জামা অথবা রথালের প্রতি এত অধিক মহব্বত বাগে যে, যদি জামা অথবা রুমালটি কেহ ছিনাইয়া নেয় তাহা হইলে সে ঘসে বাবা পায় এবং তাহার জামা বা জমাদ হস্তচ্যুত হইলে সে কই পাইবে, পরিভাগ করিবে। কিন্তু যদি ইহাদের প্রতি তাহার মহম্মত হালকা থাকে তখন ইহা হস্তচ্যুভ হইলে পূর্বের তুলনায় কতটুকু কষ্ট পাইবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন “পার্থিব সম্পদের প্রতি হালকা মহব্বত বাগে এমন ব্যক্তি মুক্তি পাইয়াছে।” পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পার্থিব সম্পদের প্রতি বেশী সংশক্ত হইয়াছে তাহার আযাবও বড়। উদাহরণ স্বরূপ এক ব্যক্তির একটি টাকা চুরি হইয়াছে। অপর ব্যক্তির ছবি হইয়াছে সশ টাকা দ্বিতীয় ব্যক্তির তুলনায় প্রথম বক্তির মনোকষ্ট ও ব্যথা অনেক হালকা হইবে। অনুরূপভাবে এক টাকা চুরি হইয়াছে এনে যুক্তির মনোকর দুই টাকা চুরি হইয়াছে এমন ব্যক্তির মনোকষ্ট অপেক্ষা অবশ্যই কম হইবে। মৃত্যুর সময় যে জিনিসটি বাবিয়া মৃত্যু বরণ করিবে মৃত্যুর পর সেই জিনিসটির জন্য পরিতাপ হইবে। এই আলোচনর পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করিয়া দেলা দরকার যে, দুনিয়ার সম্পদ অধিক থাকা ভাল না কম থাকা উত্তম। যদি সম্পদ অধিক থাকে তাহা হইলে পরিতাপের পরিমান বৃদ্ধি পাইবে। আর যদি কম থাকে তাহা হইলে পীঠের বোঝা হালকা হইবে। সাপ বিষ্ণু তো ঐসব ধনী ব্যক্তিদের কবরের মধ্যে থাকিবে যাহারা আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনকে প্রাধান দিয়াছে এবং ইহাকে সন্তুষ্ট রহিয়াছে। সারকথা- প্রকৃত পক্ষে সাপ কিন্তু তো আযাবের আকৃতি মাত্র। সুতরাং যত একারের আযাব আছে উহাসের উল্লিখিত তিনটি পন্থায়ই অনুধাবন করিয়া কবর আযাবের প্রতি ঈমান স্থাপন করিতে হইবে। এখন প্রশ্ন হইতে পারে যে উল্লিখিত তিনটি পন্থার মধ্যে সঠিক কোনটি? এই ক্ষেত্রে মানুষ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হইয়া পড়িয়াছে। কাহারও কাহারও অতিমত হইল যে প্রথম পন্থা সঠিক, অবশিষ্ট পন্থাষয় সঠিক নহে। কেহ কেহ অবশ্য প্রথম পন্থা অস্বীকার করিয়া দ্বিতীয় পন্থাকে সঠিক বলিয়া মত প্রকাশ করিয়াছে। আবার কেহ কেহ তৃতীয় পন্থাকে সঠিক বলিয়াছে। কিন্তু বাস্তব এই যে, এই তিন পন্থাই সম্ভব হইতে পারে। তবে যাহারা কোন কোন পন্থা অস্বীকার করিয়াছে তাহারা সংকীর্ন মনোভাবের বীরভূভ হইয়া এইরূপ বলিয়াছে। তাহারা আল্লাহ পাকের কুদরতের প্রশস্ততা সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না। এই জন্য আল্লাহ পাকের যে যে কাজগুলি তাহাদের নিরেট মুখ বিবেক সম্মত না হয় উহ্য অস্বীকার ওরিয়া বলে। ইয়া ভাহাদের অজ্ঞানতা এবং অনুব্যবন ক্ষমতার দুর্বলতার প্রকাশ। বরং বাস্তব এই যে বর্ধিত হিনট পন্থায়ই আযাব হইতে পারে। এইগুজি ৪৬। বলিয়া জানা অপরিহার্য।

পৃষ্ঠা:০৭

কোন ব্যক্তিকে হয়তো এক পন্থায় আবার প্রদান করা হয়। অনকে হয়তো অন্য পন্থায় প্রদান করা হয়। কাহাকে হয়তো তিন পন্থায়ই প্রদান করা হয়। অল্লাহ পাকের কাছে আমাদের এই কামনাই হওয়া উচিত তিনি য়েন কম হউক বা বেশী হউক উভয় প্রকার আজব হইতে আমাদিগকে বেহাই প্রদান করেন। অতএব কোন প্রমাণাদির পিছনে না পড়িয়া বর্নিত পছ্যুত্রন কে সত্য বলিয়া মানিয়া লওয়া বুদ্ধিমানের পরিচায়ক। কেননা ভূপৃষ্ঠে এমন কেহই নাই যে আযাব প্রদানের পন্থা সমূহের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারে। প্রন্থকার বলেন, আমি তোমাদিগকে উপদেশ প্রদাণ করিতেছি যে, এই বিষয় স্পর্কে অতিরিক্ত ঘটাচাটির দিকে দৃষ্টি দিবে না এবং ইয়ার তত্ত্ব সম্পর্কে গবেষণা করিবার কাজেও নিজকে নিয়োজিত করিবে না। বরং যে কোন প্রকারেই হউক না কেন নিজের উপর থেকে আযাব দূরীভূত করিবার চেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত করিবে। সুতরাং যদি ইবাদত এবং আমল ছাড়িয়া আযাব কি প্রকারে হইবে শুধু এই বিষয়ে নিজেকে নিয়োজিত কর, তাহা হইলে তোমাদের উদাহরণ এই হইবে যে দেশের বাদশাহ এক ব্যক্তিকে বৰী করিয়া আনিয়াছে। আহার নাক এবং হাত কর্তন করিবার নির্দেশ জারী করিয়া তাহাকে জেলখানায় বশী করিয়া রাখিয়াছে। বর্ণী জেবাখানায় বারিতর চিন্তা করিয়াছে যে তাহার নাক ও হাত কিসের দ্বারা কর্তন করা হইবে। খুরির জরা, না তলোয়ারের জরা, না শুন্য কিছুর জয়া কর্তন করিবে। কিন্তু সে এই শাস্তি থেকে নিজকে যুক্ত করিকর ব্যাপারে কোন চিন্তাই করে নাই। তাহার এই অবস্থানকে সকলেই তাহার মুখভার পরিচায়ক বলিয়া স্বীকার করিবে। বাশার মৃত্যুর পর যে এই দুই অবস্থার যে কোন এক অবস্থায় পতিত হইবে। কঠিন আমারে পতিত হইবে অথবা সুখ স্বাচ্ছনে অবস্থান করিবে। এই কথা সন্দেহাতীত ভাবে সত্য। সুতরাং বাশর উচিত কঠিন আযাব হইতে বেহাই পাওযার পন্থা অনুসন্ধান করা। আবার কি ভাবে হইবে। এই ঝাপারে বিস্তারিত আলোচনায় নিজকে লিপ্ত করা গুধু অনর্থক সময় নষ্ট করাই হইবে।

মুনকির-নকীর এর প্রশ্ন: হজরত আবু হোরাঘবা ।বা। হইতে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (সও। বলেন- মৃত্যুর পর বান্দাকে কবরে রাগার পর তাহার কাছে কৃষ্ণবর্ণ নীল চক্ষু বিশিয় দুই ফিরিশতা আগমন করেন। এক ফিরিশতার নাম মুনকির। অপর ফিরিশতার নাম নদীর। তাহারা তাহাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, তুমি নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কি বলিতে? বান্দা যদি ঈমানদার হয়, তখন সে বলে- আমি তাহাকে অয়াহর বান্দ এবং তদীয় বমূল গলিতাম। তখন তাহারা বলে যে, আমর পূর্বেই আনিতাম যে, তুমি এই উত্তরই প্রদান করিবে। অতঃপর তাহার কবর সহর পাঞ্জ দৈর্ঘ্য ও সত্তর গজ প্রশস্ত করিয়া দেওয়া হয়। কবর কে আলোকিত করা হয়। অতঃপর তাহাকে বলা হয় যে, তুমি ঘুমাইয়া পড়। সে বলে যে, আামাকে ছাড়িয়া দিন। আমি স্বীয় পরিবার পরিজনের কাছে যাইব এবং ভাহাদেরকে আমার অবস্থা বলিয়া আসি। ভাহাকে আবার বলা হয় যে, তুমি ঘুমাইয়া পড়। অতঃপর সে সদ্য বিবাহিতা যুবতীর ন্যায় ঘুমাইয়া পড়ে। তাহাকে তাহার সবচেয়ে প্রিয়তম জাগরিত করে। আর যদি বাশ্য মুনাফিক হয় তামা হইবে সে উত্তরে বলে আমি জানিনা তিনি ক্ষে। মানুষকে যাহা বলিতে কনিতাম আমিও আহাই বলিতাম। ফিরিশতায়ন বলেন আমরা পূর্ব থেকে জানি, তুমি এইরূপ উত্তর দিবে। অতঃপর দুই পার্থের ঘটি একসাথে মিলিয়া যাওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। মাটি তাহাকে এইভাবে চাপিয়া বরে যে, তাহার বুকের পাজবগুণি একটি অপরটির ভিতর ঢুকিয়া পড়ে। কিমামত পর্যন্ত এইভাবে তাহার আযাব হইতে থাকে। হযরত দাতা ইবনে ইয়াসির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সায়ায়ার আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ওমর ইবনুল খায়ার (রাঃ। কে বলেন- হে ওমরা ঐ সময় তোমার কি অবস্থা হইবে যদল তোমার দেহ পিজির হইতে প্রাণ পার্থী বাহির হইয়া পড়িবে। আর তোমার সম্প্রদায়ের লোকজন তোমাকে খাটে করিয়া কবর স্থানে লইয়া যাইবে। সেখানে তোমার জন্য তিন হাত রয়া এবং দেড় হাত প্রণয় একটি গর্ত খনন করা হইবে। তোমাকে গোসল দিয়া কাফন পরিধান করাইয়া সুগন্ধি ছিটাইয়া কাঁধে করিয়া শিয়া সে গর্তে রাখিয়া দেওয়া হইবে। অতঃপর তোমার উপর মাটি রাখিয়া দাফন করিয়া দেওয়া হইবে। ভাহারা কবর পরিভ্যাল করিয়া ফিরিয়া গেলে মুনকির নাকীর নামক দুইজন ফিরিশতা তোমার কাছে উপস্থিত হইবে। তাহাদের কথার আওয়াজ বন্ধু পানির ন্যায় বিকট হইবে। চক্ষু ঝলসানো বিজলীর ন্যায় হইবে। তাদের কেশরাজি মাটির উপর দিয়া হেঁচড়াইয়া আসিবে। তোমাকে ধমকাইয়া বিভিন্ন বিপদে গ্রেপ্তার করিবে। হে ওমর। তখন তোমার কি অবস্থা হইবে। হযরত ওমর। বলিলেন, ইয়া রাসূগুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমার বিবেক ঠিক থাকিবে কিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ। তখন হযরত ওমর (রাঃ) বলিলেন- তাহা হইলে আর কোন চিন্তা করিবেন না। আমি তাহাদের জন্য যথেষ্ট হইব।” এই হাদীছে পরিষ্কার ভাবে বর্ণিত হইয়াছে যে মৃত্যুর পর বিবেক পরিবর্তন হয় না। গুধু বাহ্যিক প্রত্যঙ্গগুণি পরিবর্তিত হইয়া যায়। মৃত ব্যক্তি বিবেক সম্পন্ন এবং বাধ্য ও সুখ বুঝার ক্ষমতা সম্পন্ন থাকে। তাহার বিবেকে কোন ত্রুটি দেখা দেয় না। বিবেক কোন দৈহিক অঙ্গ নয়; করং একটি অদৃশ্য জিনিস যাহার দৈর্ঘ্য এন্থ বাই। সে নিজে বিভক্ত হয় না। সে বিবিন্ন জিনিস অনুধাবন করে, বুরে। যদি মানুষের সকল

পৃষ্ঠা:০৮

অঙ্গ-প্রতঙ্গ বাংস হইয়া যায় আর শুধু কিছু আশ অবশিষ্ট থাকে ভখনও মানুষ সম্পূর্ণ বিবেক বাদ থাকে। মৃত্যুর পরও তাহার বিবেক পরিবর্তন হয় না। কারণ বিবেকের মৃত্যু হয় না। ইহা ধংস হয় না। মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির (রহয়। বলেন- আমি শুনিয়াছি যে, একটি অন্ধ ও বধির চতুষ্পদ জন্তু কাফিরের কবরে প্রেরণ করা হয়। তাহার হাতে লোহার একটি বেভ থাকে। ভাহার মাখা উটের কুজের ন্যায় হয়। সে এই বেত হারা কাফির কে কিয়ামত পর্যন্ত বেত্রাঘাত করিতে থাকিবে। সে কাফির কে দেখিতে পায় না এবং না জনি কফিরের চিৎকারে মমতার সৃষ্টি হয়, এই জন্য খনিতেও পায় না। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন- মৃত ব্যক্তিকে কররে রাখা হইলে তাহার নেক আমল সমূহ আসিয়া তাহাকে পরিবেষ্টন করিয়া লয়। আযাব মামার দিক থেকে আসিলে ভাহান কুরমাণ তিলাওয়াতের আমল আযাবের পথ এন্ড করিয়া বসে। আর পদবয়ের দিক থেকে আমিতে চাহিতে নামায় পড়ার জন্য নম্রয়মান থাকার আমল ইহার পথ রুদ্ধ করিয়া দেয়। যখন হস্তদ্বয়ের দিক থেকে আসার চেষ্টা চালায় তখন হওয়া বলিতে থাকে আল্লাহর কদম করিয়া বলিতেছি যে, এই ব্যাক্তি দান খয়রাত এবং দুম্মা করিতে আমাদিগকে ব্যবহার করিত। তুমি এই দিক দিয়া কোন বাস্তা পাইবে না। যদি মুখের দিক থেকে আসিতে চায় তাহ্য হইলে যিকির এবং রোযা ইহার পথে বারা হইয়া নাঁড়ায়। অনুরূপ অন্যান্য দিক থেকে আদিতে চাহিলে নামায় ও সবর ইহাকে প্রতিবোধ করিতে থাকে। ইহারা বলিতে থাকে যে, যদি ভায়ার মধ্যে কোন ত্রুটি দেখা যায় তাহা হইলে আমরা তাহার সাথে সাথে বাকিয়া ইহ। পূরণ করিস। হযরত সুফিয়ান বোঃ। বালেন যে, মানুষের নেক আমল ভাহার পক্ষে এই ভাবে বিতর্ক করিতে থাকে এবং আযাবকে এইভাবে প্রতিরোধ করিতে থাকে যেমন ভাবে কোন ব্যক্তি তাহার প্রতা ও পরিবার পরিজনের পক্ষালচন করতঃ পড়াই করিতে থাকে। অতঃপর তাহাকে বলা হয় যে, তোমার শয়নে আল্লাহ্ পাক বরকত দান করুন এবং তোমার বন্ধু ও সাথী বড় ভাল। হওকত হোযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে আমরা একনা রাসুলুল্লাহর সন্তারাহ আলাইহি প্রয়াসয়াম এর সাথে এক ব্যক্তির আনযার নামায়ে শরীক ছিলাম। তিনি কবরে তাহার মাথার দিকে বসিয়া ভিতরে কি জানি দেখিতে ছিলেন। অতঃপর বলিলেন মৃত ব্যক্তিকে কবরের প্রিকত এই ভাবে চাপিয়া ধরা হয় যে, তাহার বক্ষ, পাঁজর সমূহ দূর দূর হইযা যা। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লম আলাইহি ওয়্যাগয়াদ বলেন যে, জবর মৃত ব্যক্তিকে চাপিয়া ধরে। যদি ইহার চাপ থেকে কেই বেয়াই পাইত তাহা হইল দাদ ইবনে মুখায় বোঃ। রক্ষা পাইত। হযরত আনাস (রাঃ। বলেন, হযরত জয়নাব (রাঃ। ইনতিকাল করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাহার জানাযার সাথে চলিলেন। আমরা তাঁহার চেহারা মুবারকে সামান্য পরিবর্তন সেখিতে পাইলাম। আমরা কবর স্থানে পৌঁছিলাম। রাসূলুল্লাহ সান্তায়াজ আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়া করবে অবতরণ করিলেন। দেখিতে পাইলাম যে, তাঁহার চেহারা মুবারক মলিন হইয়া উঠিয়াছে। তিনি কবর থেকে বাহির হইয়া আসিবার পর তাঁহার চেহারা উজ্জ্বলতায় কলমল করিতেছিল। আমরা জিজ্ঞাসা করিলাম যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আমরা এখনই আপনার চেহারা মুবারকে বিভিন্ন অবস্থা দেখিতে পাইয়াছি। ইহার কারণ কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন যে, আমি স্বীয় কন্যার উপর চাপ আশংকা করিতে দিলাম। ইহাতে আমার মনে হইতেছিল যে, কররে তাহার শক্ত আযাব হইবে। কিন্তু আমি কবরে অবতরণ করিবার পরে আমাকে জানাইয়া দেওয়া হইয়াছে তাহার কবরে আযাব হালকা করিয়া দেওয়া হইয়াছে। তাহাকে একটুকু চাপ দেওয়া হইয়াছিল যে তাহার আওয়াজ মানুষ ও জ্বীন ব্যাতীত ভূপৃষ্ঠের সবকিছু অনিতে পাইয়াছিল। কাশফের মাধ্যমে কবরের যে সব অবস্থা জানা যায় কুরআন ও হাদীছ অধ্যয়নের ফলে মানুষের বিবেকের মধ্যে যে, নূর অর্জিত হয় উহার মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে মানুষের অবস্থা অনুধাবন করা যায়। সে নেককার না বদকার ইহার প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু ইহার ারা কোন ব্যক্তি বিশেষের অবস্থার কথা জানা যায় না। এই জন্য আমরা ব্যাহিকভাবে (উদাহরণ স্বরূপ। যাদে বা আমরের ঈমানের উপর নির্ভর করিয়া থাকি। কিন্তু কি অবস্থায় তাহার মৃত্যু হইবে। তাহার শেষ পরিনতি কি হইবে- তাহ। বলিতে পারি না। যদিও বাহ্যতঃ ভায়াতে নেককার বলিষ্য তাহার প্রতি সুধারণা রাখি- কিন্তু তাহার শেষ পরিনতি সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ। কারণ তাকওয়া- পরহেজগারীর প্রকৃত স্থান হইল অঞ্জয়। ইহা যুক্ত বিষয় যে তাকওয়া অবলক্ষনকারী নিজেও তাহার অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। সুতরাং অন্যরা কি করিয়া তায়াকে মুত্তাকী বলিতে পারিবে কেননা কাহারও আভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে আত হওয়া ব্যতীত তাহার সম্পর্কে সঠিক কিছু বলা যায় না, মানুষ মরিয়া যাওয়ার ফলে পার্থিব জগত হইতে গায়ের জগতে এবং ফিরিশতা শোকে গমন করে। আর সেখানে চর্মচোখ বা জাগতিক চোখে কিছুই দেখা যায় না। বরং খাতপ্রস্তরীণ এক চেখে দ্বারা দেখে। ইহা তাহার অঞ্জন চোখ। ইহার জন্ম অন্তরে। কিন্তু মানুষ কৃপবৃত্তির অনুসরণ এবং নিজেদের বদআত্মমগীর দ্বারা ইহার উপর খুব শক্ত পর্দা ফেলিয় রাখিয়াছে। এইজন্য এই চক্ষুর মাধ্যমে কোন কিছু দেখিতে পায় না। যতক্ষন গাড়ি খায়ব এক্ষু হইতে এই পর্দা দূরীভূত না করিবে

পৃষ্ঠা:০৯

ততক্ষন পর্যন্ত সে ফিরিশতালোকের কোন কিছু দেখিতে পাইবে না। যেহেতু নবীগণের অন্তর চক্ষুর উপর এই পর্দা ছিল না তাই তাঁহারা ফিরিশতালোকের প্রতি নজর করিয়া এই জগতের বিশ্বয়কর জিনিসসমূহ দেখিতে পাইতেন। অধিকন্তু মৃত ব্যাক্তিরাও ফিরিশতা অপতে থাকে তাই নবীগণ তাহাদের অবস্থা অবলোকন করিয়া বর্ণনা করিতেন। এই জন্যই রাসূলুল্লাহ সাম্রাস্তাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত সাদ ইবনে মুআয (রাঃ) হযরত যয়নব (রাঃ) এর কবরের অবস্থা দেখিতে পাইয়াছিলেন যে, কবর তাহাদিগকে চাপ দিতেছে। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ-এর পিতা হযরত আবদুল্লাহ (রা) ওহুদের জিহাদে শহীদ হইয়া ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জাবের (রাঃ) কে তাঁহার পিতার অবস্থা গুনাইতেছিলেন যে অল্লাহ পাক তাহাকে স্বীয় সামনে পর্দা ব্যাতীত বসাইলেন। উভয়ের মধ্যে কোন পর্দা ছিল না। একবারে সরাসরি সামনে বসাইয়াছিলেন। নবীগণ এবং যে সকল আওলিয়া কেরাম নবীগণের করের কাছাকাছি পৌঁছিয়াছেন- তাহাদের ছাড়া অন্য কেহ এই অবস্থা অবলোকন করিতে পারে না। তবে আমাদের মত লোকদের দ্বারা অন্য এক প্রকার দুর্বল অবলোকন হইতে পারে। ইহাও নববী অবলোকন। ইহা হইল স্বপ্নে অবলোকন। ঋত্রে অবলোকন নবুয়তের দূরের এক আলোকচ্ছটা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- সত্য স্বপ্ন নবুয়তের হিয়াল্লিশ অংশের একাংশ। স্বপ্নের মাধ্যমেও অনেক কিছুর হাকিকত খুলিয়া সামনে আসে। সত্যিকার তত্ত্বজ্ঞান লাত হয় তখনই যখন অন্তরের উপর হইতে পর্দা সরিয়া পড়ে। এই জন্যই নেকচরিত্র সত্যানুসারী ব্যক্তির স্বপ্ন ব্যতীত অন্য কাহারও স্বপ্ন গ্রহণযোগ্য নহে। মিথ্যা স্বপ্ন সত্য হয় না। যে ব্যাক্তি বিভিন্ন ফাসাদী ও গোনাহের কাজে বেশী জড়িত তাহার অন্তর অন্ধকার হইয়া যায়। সুতরাং সে যাহা কিছু দেখিতে পাইবে বিব্রত হইতে থাকিবে। এইজন্যই ওজু অবস্থায় শয়ন করিতে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়াছেন। যাহাতে পবিত্র অবস্থায় তাহার নিদ্রা হয়। প্রকারান্তে এই নির্দেশে বাতেনী পবিত্রতার দিকে ইঙ্গিত করা হইয়াছে। আর বাতেনী পবিত্রতাই প্রকৃত পবিত্রতা। বাহ্যিক পবিত্রতা তো পবিত্রতার পূর্ণতার পর্যায়ের জিনিস। অন্তর যখন পরিষ্কার হয় তখন অন্তর চক্ষুর সামনে এমন সব জিনিস বুলিয়া আসে যাহা ভবিষ্যতে সংগঠিত হইতে যাইতেছে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুনরায় মকায় গমনের ব্যাপারটি তিনি স্বন্ত্রের মাধ্যমে পূর্বেই জানিতে পারিষা ছিলেন। এমনকি এই কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য আয়াতও অবতীর্ন হইয়াছে।:لَقَهُ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّونَا بِالْحَقِّ :’আল্লাহ পাক স্বীয় রাসূলকে স্বপ্ন সত্য করিয়া দেবাইয়াছেন।” (সুর সহ্য করায় ২ مية স্বপ্ন সত্য হওয়া এবং স্বপ্নের মাধ্যমে অদৃশ্য জগতের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া আল্লাহ পাকের বিষ্ময়কর কার্যের অন্তর্ভূক্ত এবং নশ্বর মানবের বিরল বিষয় সমূহের একটি অন্যতম বিষয়। ইহ্য ফিরিশতা জগতের উপর একটি উজ্জ্বল প্রমাণও বটে। মানুষ এই ব্যাপারে অসতর্ক। যেমন মানুষ অন্তরের সকল প্রকার বিশ্বয়কর জিনিস এবং বিশ্বনিখিলের অদ্ভুত ও আশ্চর্য বিষয় সমূহের ব্যাপারে অসতর্ক। স্বস্ত্রের হাকিকত বর্ণনা করা ‘উসুমে যুকাশাফা’ নামক বিষয়ের একটি সুদ্ধ কথা। আমাদের এই বাহ্যিক জগতের সাথে ইহার আলোচনা হইতে পারে না। ইহা একটি উদাহরণ বিশেষ। ইহার মাধ্যমে উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যায়। অন্তর একটি আয়নার ন্যায়। আয়নাতে বিভিন্ন জিনিসের আকৃতি ও হাকিকত প্রতিফলিত হয়। জগতের সৃষ্টি লগ্ন হইতে শেষ পর্যন্ত যাহা কিছু হইবে বলিয়া আল্লাহ পাক নির্ধারণ করিয়াছেন এই সব কিছু একটি স্থানে লিপিবদ্ধ রহিয়াছে। ইহাকে কুরআানে পাকে কখনও ‘লৌহমাহফুজ’, কখনও ‘কিতাবুম মুকিন’ আবার কখনও ‘ইমামুম মুবিন’ বলা হইয়াছে। অর্থাৎ বিশ্বনিখিলে যাহা কিছু হইয়াছে আর হইবে- সব ইহাতে লিপিবদ্ধ ও প্রতিফলিত হইয়া রহিয়াছে। যদিও ইহাতে প্রতিফলিত আকৃতি সমূহ নাগতিক দুনিয়ার প্রতিফলিত আকৃতির ন্যায় নহে। আর এই ধারণা করা ঠিক নহে যে ‘লৌহমাহফুজ’ কাঠ দ্বারা বা লোহা দ্বারা বা হাঁড় দ্বারা প্রস্তুত কোন জিনিস। অথবা ইহা কাগজ বা পাতা দ্বারা প্রস্তুত কোন পুস্তক বরং ইহার প্রতি বিশ্বাস বাখা প্রয়োজন যে, আল্লাহ পাকের কিতাব সৃষ্টির কিভাবের পৃষ্ঠার ন্যায় নহে। আবা জানি যে আল্লাহ পাকের সত্তা সৃষ্টির সভার ন্যায় নহে। আবার তাঁহার গুণাবলীও সৃষ্ট জীবের গুণাবলীর ন্যায় নহে। অনুরূপভাবে তাঁহার কিতাব ও কিতাবের পৃষ্ঠাগুলিও সৃষ্ট জীবের কিভাব ও কিতাবের পৃষ্ঠার ন্যায় নহে। লৌহ মাহফুজে কুরছান কিভাবে লিপিবদ্ধ আছে তাহা অনুধাবনের জন্য নিম্নোক্ত উদাহরণটি বুঝিয়া বইসে বিষয়টি অনেক সহজ হইয়া যাইবে। যাহারা কুরদানে পাক হিফজ করিয়াছে তাহাদের অন্তর ও স্মৃতিতে কুরআনের শব্দ এবং বর্ণাবলী লিপিবদ্ধ হইয়া থাকে। হাফেজ যখন কুরআন পড়িতে থাকে তখন সে যেন দেখিয়া দেখিয়া কুরআন পড়িতে খাকে। অথচ তাহার অন্তরে ও স্মৃতিতে শতবার অনুসন্ধান করিয়া দেখিলেও একটি হরফ বা ইহার নিশানা পাওয়া যাইবে না। অম্লল্লাহ পাকের সকল আদেশ নিষেব এবং অনুমোদন অনুরূপভাবে গৌহমাহফুজে লিপিবদ্ধ ও প্রতিফলিত থাকে। সৌহমাহফুজও একটি স্বায়নার ন্যায়। ইহাতে সবকিছুর স্বাকৃতি প্রতিফলিত আছে। যদি একটি আয়নার সামনে অপর একটি আয়না রাখা হয় তাহা হইলে প্রথম আয়নাতে প্রতিফলিত আকৃতি অপর আয়নাতেও প্রতিফলিত হয়। তবে পারস্পরিক প্রতিফলনের জন্য শর্ত হইল উভয় আয়নার মধ্যে কোন পর্দা না থাকা। যেহেতু

পৃষ্ঠা:১০

অন্তর একটি আয়না, ইহাতে ইলমের আকৃতির এডিবলন ঘটে। আবার সৌহমাহফুজর একটি স্বায়ন যাহাতে পূর্ব হইতেই ইলমের প্রতিফলন বিদ্যামান রহিয়াছে। অন্তর যখন বৃত্তাবৃত্তি ও দৈহিক পদ প্রতাদের চাহিদার উপর চলে তখন এই দুইয়ের মধ্যে পর্দা পড়িয়া যায়। এই জনাই লৌহ মাহফুজ দর্শন করা এবং ইহাতে লিপিবদ্ধ বিষন্ন সমূহ অবায়ন করা সম্ভব হয় না। যদি কখনঃ বায়ু প্রবাহ চালু যায়। আর উভয়ের মধ্যবর্তী পর্দা একটু গরিয়া যায়। ফলে উত্তয়ে সরামার যামনর সামনি হইয়া যায় তখন ফিরিশতা অপয়ে রক্ষিত সৌহয়াহফুজের মধ্য হইতে বিজলীর ন্যায় ইসমেহ বলত ঋড়য়ে আয়নাতে প্রতিষণিত হয়। ক কখন এই বপন স্থায়ী হয়। খাবার কবর করন খুব তাড়াতাড়ি মিটিয়ে যা। পার অধিকাংশক্ষেত্রে এই সিদীয় হইয়থকে যায় মানুষজন পড় আগবিদ থাকে ততক্ষন পর্যন্ত পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে এই বাহ্যিক ছণত হ তাহার অন্তরে অনেক কিছু পৌঁছে। অন্তর এই গুসোয়েই লির থাকে। আর এই দিব থাকার কারণেই ফিরিশতাসের জগৎ উর্ধ্ব জগত অেিড় পড়িয়া যায়। পক্ষান্তরে অন্তর যখন ঘুমন্ত হইয়া পড়ে। অন্তর ঘুমন্ত হইয়া পড়ার অর্থ হইল- পঞ্চইন্দ্রিয় যখন চুপচাপ হইয়া পড়ে। এবং ইহার স্বরর পর্যন্ত কোন কিছু না পৌঁছায় অধিকন্তু বখন পঞ্চইন্দ্রিয় এবং বিভিন্ন ধ্যাণবাচার এরাধ হইতে অবসর পায়। তখন ইহা পরিষ্কার হইয়া পড়ে এবং ইহারও গৌংমাহফুজের মধ্যে অবস্থিত পর্দাটি দূরীভূত হইয়া পড়ে। তখনই গৌরদাহভূষের মধ্যে অবস্থিত যে কোন জিনিস অয়ে প্রতিকশিত হয়। যেমন দুইটি আয়না, বামনা সামনি কাস্থিত হইতে এবং ইয়াদের হয়ে কোন পর্দা না বাকিতে এক খায়লার প্রতিদ্বলিত আকৃতি অপর আয়নাতের দেখা যায়। ইহাও বরুপ। কিন্তু ঘুমাইয়া পড়ার ফলে সকল বাহ্যিক ইন্দ্রিয়ের কর্ম বন্ধ হইয়া যায়। শুধু সোল (খরব্য বামক একটি পকি কর্মশীস থাকে। ঘুম কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টি করে না। সুতরাং যখনই স্বস্তরের মধ্যে কোন কিছু স্বাগমন হয়, এখন বোয়াল নামক শক্তি সৌড়াইয়া ঐ জিনিসের দিকে যায় এর ঐ জিনিসের স্কুল। ভড গুলি জিনিস নিজের মধ্যে সৃষ্টি এরিয়া গয়। কারণ খেমল হরয় ঐ জিনিগটা গ্রহণ করিতে পারে না। তাই ইহাকে কাছাকাছি যতগুলি জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত করিয়া “কুওআদে হায়েনা” নামক সভামাগীরে কাম্য করিয়া রাখে। মানুষ তথন ঘুম হইতে আগরিত হয় কমন খেয়াল নামক পড়িও খর্জিও বিষয়গুলি বাতীত কর কিছু খরণ করিতে পারেণ। শুধু বস্তুত জিনিসের তুল্য জিনিসগুলি আগে আসে। গন্ত্রের ভাবীর প্রদানকারী ভাষভাবে বস্তা করিবে যে পাদ্রী ব্যাক্তির খেয়ালে যে জিনিসওাণি সঞ্চিত বহিয়াছে শেখশি কোন বিষয়ের সাথে অধিকতর ভূল্য ও সম্পর্কযুক্ত। এই সম্পর্ক খুড়িয়া বাহির করিতে পারিলেই প্রকৃত বিষবটি বাহির হইয়া আনিবে। যাহরা ইগমে বাবীর সম্পর্কে আন রাগে তাহাদের সামনে এইসব বিষয় পরিষ্কার হইয়া রহিয়াছে। এখানে অসিয়া একটি উদাহরণ উল্লেখ করিতেছি। যেমন- এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখিতে পাইল যে, সে তাহাব হাজের আংটি খাবা পুরুষদের মুখের উপর আর নারীদের লজ্জাস্থানের উপর নীল মরিতেছে। সে মুহাম্মদ ইবনে শিত্রীদের কাছে তাহাব এই স্বপ্ন বর্ণনা করিল। ইবনে শিগ্রিীন ।রহঃ) বলিলেন আমার মাস হয় ভূমি মুয়াযযিন। রমজান মাসে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত হওয়ায় পূর্বেই বাগান দিয়া কেশ। সে যাক বদির বে হাই, আপনি ঠিক বলিয়াছেন। তিনি শ্রীগাবে ভাবীর বাহির অধিবেন যে, ে কিছুর উপর সীল মার হয় বাহাতে হতে যাঃ তোন ববার রাজ না হইতে পারে। সীদ মারার অর্থ আর কোন কাজ হইতে পারিবে না। কাজ এখানেই শেষ। উপাষরণে সীল মারিবার দ্বারা বুঝানো হইয়াছে যে, এই মোযায়দিন সময় থাকিতেই মানুষের খানাপির এবং সহবাস বন্ধ করিয়া দিয়েছে। যেহেতু যীল ক্যার অর্থ সামনে অবিক কাজ করিতে বাধার সৃষ্টি করা এবং কাজ হইতে ফিরাইয়া রাখা এই স্কর্যটি সাধারণতঃ মানুষের ধারণায় প্রাধান্য পাইয়া রহিয়াছে এই জন্য বিরত রাখা বা বাধা প্রদানের অর্থ বুঝাইবার জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক অবস্থা তাহার স্মৃতিতে ‘বুওয়াবে হাফেজা’ নামক সঞ্চযাগনে প্রস্তুত করা হইযাছে। আণে ‘কৃষাতে হাফেজা তে দৃষ্টান্তমূলক বিষয়গুলি ওমা থাকে। ইহা হইল স্বপ্ন সম্পর্কিত ইলমের সামান্য বর্ণনা। এই ইশদের বিশ্বয়কর বিষয়ভ কোন সীমারেখা নাই। ইহার সাহা। পার হইবেন কেনা ঘুমতো মৃত্যুর সদৃশ। মৃত্যু নিয়েই একটি বিশ্বয়কর বিষয়। স্বপ্ন যার মৃত্যুর মধ্যে এই সম্পৃশ্যতা আত্রে বলেই ভূমের মায়া অদৃশ্য জগতের অনেক কথ্য জানা যায়। এমনকি অনেক সময় ঘুমন্ত ব্যক্তি খাগামীবল্য কি হইবে- তাহাও জানিয়া খাতে। ঘুমন্ত অবস্থায় তো মাত্র বিছুক্ষনের জন্য পর্দা সরিয়া যায়। কিন্তু মৃত্যুর কারণে পর্দা সম্পূর্ণত্বণে দৃষ্টিভূত হইয়া পড়ে। সুতরাং মৃত্যুর পর যে তাহার সমুদয় অবস্থা জানিয়া যম। এমনকি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সাথে সাথে অনতিবিলঙ্গে সে তাহার নিজের সম্পর্কে সম্পূর্ন ভানিয়া পাত্র। অর্থাৎ যে বিপদাপদ ও লজ্জাকর অবস্থায় পতিত হইবে- তায়া ভাহার সামনে প্রকাশ হইয়া পড়ে। অথয়া সে যে সব স্থায়ী সম্পদ ওয়াইন রাজত্বের অধিকারী হইতে তাহা গাছে দেখিয়ে পায়। বাবের থেকেরা যবন নিজেদের গোচনীয় অবস্থা দেখিতে পাইতে এখন তাহপিতে ভরা হইতে যে “তুমি তো ইয়া সম্পর্কে সম্পূর্ন অনন্ত ছিলে, এখন আাটি তোমার ও ইয়ার মধ্যবর্তী পদ্য পুষিয়া বিয়াছি, খাজ তোমার চোখের দৃ খুব নগর। সুমরা তুমি স্বীয় অবস্থা খুব ভালরাতে দেখিয়া কয়। অন্য আয়াতে

পৃষ্ঠা ১১ থেকে ২০

পৃষ্ঠা:১১

তাহাদের দিকে ইঙ্গিত কাইয়া বলা হইয়াছে এয, وَبَدَا لَهُمْ مِنَ اللَّهِ مَالَمْ يَكُونُوا يَحْتَسِبُونَ . “আল্লাহর পক্ষ হইতে তাহাদের কাছে এমন সব জিনিন প্রকাশ পাইদ তাহারা বাহার ধারনাও হান্ডিত না (সূরা যুমার। কায়াদ  ৪৬ অর্থাৎ জায়াদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম এবং সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞাবান বাকিও মৃত্যুর পর এমন সব বিখ্যাত বিষয়সমূহ আত হইতে বাহান ধারণার আয়াসের বেথ বিবেকান বাক্তি জীবনে যদি শুধু এতটুকু চিন্তাই করে এক বৃদ্ধার মাধ্যমে তাহার চোখের সামনে থেকে পার্সা উটিয়া পেতে যে নিষের সয়ছে বাহা জানিতে। বাহ্য না জানি কেমন হয়? কি চিরস্থায়ী কণবতী ভায়ায় সামনে ভাসিয়া উঠে না চিরস্থায়ী সফলতা ভাসিয়া উঠে? তাহা এইসে তাহার একটুকু ি কারনাই তাহার জীবনের জন্য যথেষ্ঠ। রড় আশশ্চর্য্য হইতে হয় এইখন তা আমাদের এই সকল অভিবত বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও খামরা ঋসতর্ক। সবচেয়ে বড় আশ্চর্য্যের বিষম হইল এই যে, আমরা নিজেদের দন-সম্পদ, পরিবার পরিজন এবং সন্তানাদি এমনকি নিজের অঙ্গ এহাঙ্গ যথা কান নাক প্রভৃতি পাইয়া খুব আনন্দে দিন কাটাইতেছি শুন্য আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, একদিন না একদিন আমাদিগকে এইগুলি পরিত্যাগ করিয়া যাইতে হইবে। এ বাভি কেলাম, যাহার অডরে হাত মিলয়াইশ।স্বাঃ) ঐ কৰা দাগেন যাহা তিনি রাসূলুল্লাহ গভাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলিয়াছেন যাহাতে মনে চায় মহঞ্চত করুন: কিন্তু আনিয়া আপবতে তাহাতে মাড়িতেই হইবে। প্রভানি মনে মায় জীবিত থাকুন। তবে আপনাকে একদিন এরিতেই হইবে। যেমন আমল করিতে মনে চায় করুন। কয়ে জানিয়া রাখুন যে আপনাকে অবশ্যই আমলের বিনিময় দেওয়া হইবে।’ এই জনই কসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইইি ওআনয়ান পথিকের নাম জীবন যাপন করিয়াছেন। তিনি জীবরছে কখনও ইটের উপর ইট রাবেন নাই। গুনিয়া ত্যাগের সময় কোন একটি নীনার বা সোহাম বার্ণিয়া যান নাই। কাহাকেও আন্তরিক বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেন নাই। ভবে তাহার বাণী থেকে এইটুকু কথা পাওয়া পিয়াছে যে, “যদি কাহাকেও স্বান্তবিক বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করিতাম তাহা হইলে আবুবকরকে গ্রহণ করিয়ায় কিন্তু জানিয়া বাধ যে তোমাদের এই সঙ্গী আল্লাহ পাকের অন্তরঙ্গ বন্ধু।” এই হাইও হইতে বুঝা গিয়াছে যে মক্কাহ পাকের বন্ধুত্ব তাহার অন্তরে বানা বানাইয়া ছিল তাহার ভালবাল্য তাঁহার অন্তরকে আচ্ছন্ন করিয়া গুনিয়াছিল। এই কণাই ওর অন্নাতেও বস্তু বিসাতে গ্রহন করিবার স্থান বায়াত পড়তে ছিল না। বিদি স্বীয় উম্মাহকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছেন যে, তোমরা যদি আল্লাহ কে যংগত অনিতে চাও, তাহা হইসে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ পাক তোমাদিগকে মহথায় করিবেন। ঐ সকল বৃক্তিই খাঁহার উম্মত যাহারা তাঁহার অনুসরণ করে। আর অনুসরণ তাহারাই করে বাহারা পাবিবয়া হইতে মুখ ফিরাইয়া আখেরাত মুখী হইয়াছে। এই জন্যই তিনি মানুষকে আল্লাহ পাক ও পরায়াল ব্যবীয় অন্য কিছুর দিকে অম্লান করেন বাই। অবিকল্প শুধু পার্থিবয়া ও কুতকুত্তির অনুসরণ করা হইতে বাধা মিয়াছেন। সুতরাং তোমরা যতটুকু পার্লতয়া বিমুখ থাকিবে এবং চলবে। আর যতটুকু তাঁহার প্রদর্শিত পর অপচন অনুসারী হইবে। যতটুকু তাঁহাকে অনুসরন করিবে ততটুকুই তাঁহার উদ্ধে অন্তর্ভুক্ত হইবে। পক্ষান্তরে যে পরিমাণ দুনিয়ার দিকে খুবিয়া পড়িবে যে পরিমাণ তাহায় সল্লল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর হইতে সরিয়া পড়িবে এয়া খাঁ অনুসরন হইতে বিমুখ হইয়া পড়িবে। অধিকন্তু ঐ সকল লোকদের দলভুক্ত হবিঘ্ন। পরিগণিত হইবে যে, গাহাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলিয়াছেন- فات من طفى ، وأثر الحياة الدنيا ليان الجَحِيمَ فِي الساوي. – যে বক্তি বৃষ্টীয়া দেখাইয়াছে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়াছে। তাহার ঠিকানা হইণ সাহগ্রাম। সুভহয় গুসি তোমরা ধোকাবাজির পথ হইতে সরিয়া আসে এবং ইদগকের সাথে চিন্তা কর। শুধু তোমরা কেন আমায় তোমরা সকলেই তো একই পর্যায়ে। যদি ভাবিয়া দেখি ভাষ্য হইলে তো ইহাই দেখিতে পাইব যে দবল থেকে সন্ধা পর্যন্ত শুধু বিবেদের উপভোগ্য সামত্রী জোগাড় করিতে গৌড়াদৌড়ি করিয়েছি। আমাদের সার্বক্ষনিক চলাফেরা শুধু নম্বর পার্থিব জীবনের গাধাণ্য পূরণার্থে হইতেছে। ইহার পরত খাজনা তাঁহার উম্মত ও অনুসারীদের অন্তর্ভূক্ত হওনার দাবীদার কিভাবে হইতে পারি? বহে। কত দূরের ধারণা, কেমন বেমহল লিখা। আল্লায় পাকের ঐ যোজনর দিকে কি দৃষ্টি পড়ে না যেখানে তিনি বসিয়াছেন- التحمل المسلمين كالمجرمين مالكم كيد تعلمون “তবে কি আমি অনুগতদিগকে অপরাধীদের সম পর্যায়ভূক্ত এবিষ? তোমাদের কি হইল? ইতা তোমাদের কেমন সিদ্ধান্ত।”

পৃষ্ঠা:১২

মৃতদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু স্বপ্ন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে স্বপ্নে দেখাঃ অল্প যোগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দর্শন পাত যদি কাহারও ভাগ্যে ছুটিয়া যায়- তাহা হইলে তো সে সৌভাগ্যশালী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “অদি হে স্বপ্নযোগে আমার দর্শন লাভ করিয়া করে তাহা হইলে সে অবলাই আমার দর্শন লাভ করিয়াছে। কারণ শরমান আমার আকৃতি ধারন করিতে পারে না। হযরত ওমর (রাঃ) বলেন- আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ লাভ করিয়াছিল। দেখিলাম যে তিনি আমার দিকে চাহিতেছেন না। আমি বলিলাম। ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমার কি অপরাধ? আপনি আমার প্রতি দেখিতেছেন না কেন? তিনি বললেন- তুমি কি বোবা অবস্থায় স্বীয় স্ত্রীকে চুম্বন কর নাই। আমি বলিলাম- আল্লাহ পাকের নামে শশষ করিয়া বলিতেছি। আমি রেবা রানা অবস্থায় আর অগনত স্বীয় স্ত্রীকে চুম্বন করিব না। হযরত আব্বাস।রা বলেন যে, হযরত ওমরের (বাহ সাথে আমার বন্ধুত্ব ছিল। তাহাকে স্বপ্নে দেখিতে আমার বড় আকাঙ্খা ছিল। আয় এক বৎসর পর তাহাকে স্বপ্নে দেখিতে পাইলাম। দেখিলাম যে তিনি স্বীয় ললাট হইতে ঘাম মুছিয়া ফেলিতে ফেলিতে বলিতেছেন- এখন আমি অবসর হইয়াছি। যদি আমি আল্লাহ পাকের সান্নিধ্যে না আসিতাম তাহা হইলে আমার সিংহাসন ভাঙ্গিয়া পড়াই উপক্রম হইয়া পড়িয়াছিল। হযরত হাসান (গায় হইতে বর্ণিত। তাহাকে তাঁহার পিতা হযরত আলী বোচ বলিয়াছেন আজ কানে আমি বালুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে স্বপ্নে দেখিয়াছি। আমি তাঁহাকে বলিলাম যে, আপনার উত্থত থেকে আমি ভাল কিছু পাই পাই। বাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন যে, আহাদের জন্য দোখা কর। হধরত হয়রত আলী (রা বলেন যে আমি দোষাতে বলিলাম- হে আল্লাহ। তাহাদের পরিবর্তে আমাকে এমন সব লোক প্রদান করুন যাহার তাহাদের তুলনায় উত্তম। আর আমার বিনিময়ে তাহাদিগকে আমার অপেক্ষা খারাপ লোক প্রদান করুন। হযরত হাসানের না। কাজে এই স্বপ্ন বর্ণনা করিয়া তিনি ঘর হইতে বাহির হওয়ার পরই ইবনে মূলখিম নামক এক দুষ্ট ভাহাকে আহত করে। একজন মুহাদ্দিছ হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে- আমি স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওরাসাল্লাম কে দেখিতে পাইয়াছি। আমি আবেদন করিলাম যে ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার গোনাহ মাফের জন্য সোআ করুন। তিনি আমায় দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া নিলেন। আমি বলিলাম- ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সুফিয়ান ইবনে ওয়াইনা আমার কাছে হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। আর মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির আাহাব কাছে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (৩৫) হইতে গুনিয়াছেন যে আপনার কাছে কখনও এমন কোন জিনিস চাওয়া হয় নাই যে আপনি তাহ্য প্রদান করিতে ‘না’ বলিয়াছেন। ইহা শুনিয়া তিনি আমার দিকে ফিরিলেন একং আমার গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহ পাকের কাছে দোজা করিলেন। হযরত আঘাস।রা বলেন- আমার ও আবু লাহাবের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। দে আমার সাথী ছিল। সে মারিয়া যাওয়ার পর আল্লাহ পাক কুরআন পাকে তাহার অবস্থ্যর কথা শুনাইলেন। আমি তাহার জন্য খুব দুঃখিত হইলাম। ভাহার অবস্থা সম্পর্কে মনে নানা কথা জাগরিত হইতেছিল। আমি তাহাকে স্বপ্নে সেবার জন্য এক ফসের পর্যন্ত আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করিতে ছিলাম। একবারে স্বপ্নে দেখিলাম যে সে অগ্নিতে প্রজ্জ্বলিত হইতেছে। আমি তাঁহার অবস্থা জিজ্ঞাসা করিলাম। দে বলিল যে সে দোজখের আজবে পতিত হইযাছে। তাহার উপর আপতিত আযাব কমনও হালকা হয় না। কখনও একটু স্বস্থিও পায় না। তবে শুধু সোমবার রাত্রে তাহার আবার হালকা করা হয়। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম যে, ইহা কেন যে বলিল যে, ঐ রাত্রে মুহাম্মদ সাল্লায়ার আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করিযাছিলেন। অর্থাৎ জন্মলাভ করিয়া ছিলেন। এক বাঁদী আসিয়া আমাকে সুদংবাদ প্রদান করিল যে, আমের এক পুত্র সন্তান জন্মলাত করিয়াছে। আমি খুর্ণী হইয়া বাঁদীটি মুক্ত করিয়া দিয়াছিলাম। আল্লাহ পাক আমাকে এই কাজের বিনিময় প্রদান করিয়াছেন। প্রতি সোমবারে আমার উপর হইতে আযাব হালকা করিয়া দিয়ছেন। আবদুল ওয়াহিদ ইবনে হামদ রোঃ। বসেন- আমি হজ্জ্ব করিবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইলাম। পথিমব্যে একযক্তি আমার সাথী হইল। সে উঠাবলা, চলাফেরা সর্বাবস্থায় দরূদ শরীফ পাঠ করিতছিল। আমি তাহার এইরূপ করিবার কারণ ভিসাস্য করিলাম। সে বলিল- আমি যখন প্রথমবার মক্কা শরীফ যাইতেছিলাম। তখন আমার সাথে আমার পিতাও ছিলেন। আমরা যখন মক্কা শরীফ হইতে প্রত্যাবর্তন করিতেছিলাম। তখন পথিমধ্যে এক জনবিসে আসিয়া উত্তমে ঘুমাইয়া পড়িলাম। আমি ঘুমন্ত ছিলাম। স্বস্ত্রে দেখিতে পাইলাম যে এক ব্যক্তি আসিয়া আমাকে বলিল- উঠ। দেখ আল্লাহ পাক তোমার পিতাকে মৃত্যু দান করিয়াছেন এবং তাহার মুখমঙ্গল কৃষ্ণবর্ণ করিয়া বিয়াছেন। আমি ভয়ে ভয়ে ঘুম হইতে কামত এইসাম। পিভার

পৃষ্ঠা:১৩

মুখমণ্ডলের উপর হইতে কাপড় সরাইয়া তাহাকে মৃত ও তাহার মুখমণ্ডল কৃষ্ণবর্ণ সেখিতে পাইলাম। ভায়ার এই অবস্থা দেখিয়া আমার খুব ৩য় হইতেছিল। এই অবস্থায়ই আমি পুনরায় ঘুমাইয়া পড়িলাম। স্বপ্নে সেখিতে পাইলাম যে চারজন কৃষ্ণকায় হাবশী লোক গোহার চারটি হাতুড়ী সহ আমার পিতার মাথার কাছে দাঁড়াইয়া আছে। এমন সময় সবুজ বর্নের পোশাক পরিহিত একজন সুদর্শন বুযুর্গ্যাক্তি সেখানে উপস্থিত হইলেন। তিনি অাসিয়া ভাহাদিগকে বসিলেন- এখন হইতে সবিষয়া পড়। অতঃপর স্বীয় পবিত্র হজ দ্বারা আমার পিতার মুখমল মুহিয়া দিলেন এবং আমার কাছে আদিয়া বলিলেন উঠ। আল্লাহ পাক তোমার পিতার মুখমণ্ডল ক্ষঃবর্ন করিয়া সিয়াছেন। আমি তাহাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলাম- আপনার জন্য আমার পিতামাতা উৎসর্গ হউন। আপনি কে?পরিচয় দান করুন। তিনি বলিলেন, আমি মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি জাগ্রত হইলাম। পিতার মুখমাচলের উপর হইতে কাপড় সরাইয়া দেখিলাম যে বাস্তবিক পক্ষে আমার শিতার মুখমঙ্গল দুরানী হইয়া গিয়াছে। ঐ দিন হইতে আমি বালুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরুদ পাঠ করা ক্ষান্ত করি নাই। হযরত ওমর ইবনে আবদুল আযীয (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সরায়াছ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখিলাম। হযরত আবুবকর ও হযরত ওমর রোহকে তাঁহার সাথে দেখিলাম। আমি তাহাদিগকে সালাম করিয়া হযরত আবুবকর ও হযরত ওমরের না। মাঝখানে বসিয়া পড়িলাম। এমতাবস্থায় হবরত আলী ও হযরত মুআবিয়া রাঙ। তাঁহার নল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম-এব এবাবে উপস্থিত হইলেন। তাহাদিগকে আমার সামনে একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করিয়া রাণা হইল। কতক্ষন পর হয়তে আলী রোঃ। এইকথা বলিতে বলিতে বাহির হইয়া আসিলেন- “কাবার রবের কদম করিয়া বলিতেছি যে, আমার জন এই আনেশ হইয়াছে।” অতঃপর কিছুক্ষনের মধ্যেই হযরত মুর্খাবিয়া (রাঃ। এই কথা বদিতে বলিতে কহিন হইয়া আসিলেন- আমাকে মাফ করিয়া দেওয়া হইয়াছে।” একদা হযরত ইবনে আব্বাস।বারা ঘুমাইয়া ছিলেন। তিনি হঠাৎ করিয়া ঘুম হইতে জাগ্রত হইসেন। আার “ইন্না লিল্লাহ ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করিলেন এক বঙ্গিগেন যে আল্লাহর কসম। ইমাম হোসাইন (রাঃ) শহীদ হইয়াছেন। হযরত ইমাম হোসাইন (রায় করবালাতে শহীদ হওয়ার পর শহীদ হওয়ার সংবাদ মদিনাতে পৌঁছার পূর্বে হযরত ইবনে আচ্ছাস (বাঃ। এই খত্রুটি দেপবিষ্য ছিলেন। তিনি স্বপ্নটি বর্ণনা করিবার পর তাঁহার সাীবা স্বপ্নের নভাতা মনিয়া বইতে বাজী ছিল না। অথন তিনি বলিলেন যে- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে স্বপ্নে দেখিয়াছি। তাঁহার হাতে রক্ত শুরা একটি শিশি। তিনি সায়দ্রাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন- আামার মৃত্যুর পর আমার উম্মত কি করিয়াছে। তোমার তাহা জানা নাই। তাহারা আমার আওলাদ হোসাইনকে শহীদ করিয়া দিয়াছে। ইহা তাঁহার এবং তাঁহার সাথীদের রক্ত। ইহা আল্লাহ পাকের কাছে লইয়া যাইব। এই ঘটনার বিশ দিন পর তাহার শাহাদতের সংবাদ মদিনায় পৌঁছিল। হিসাব করিয়া দেখা গিয়াছে যে হযরত ইবনে আব্বাস।রা। যে দিন এই স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন সেদিনই তিনি শহীদ হইয়াছিলেন। এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর (রায়কে স্বপ্নে দেখিল। সে জিজ্ঞাসা করিল-যে। আপনি স্বীয় জিহরা লম্পর্কে বলিতেন যে ইহা নাকি আপনাকে ধংসের স্থানে পৌঁছাইয়া দিয়াছে। এখন অল্লাহ পাক আপনার সাসে কি ব্যবহার করিয়াছেন। হিনি বলিলেন- আমি এই জিহ্বা দ্বারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়িয়াধিলাম। তাই আমাকে জান্নাতে স্থান করিয়া দেওয়া হইযাছে।

মাশায়েখ গণের স্বপ্ন: কোন এক শাষণ বর্ণনা করেন যে তিনি মুতাক্ষীম দারবানী চহঃ। কে স্বপ্নে দেখিলেন তারাকে জিজ্ঞাসা করিলেন যে, আল্লাহ পাক আপনার সাথে কি- আাচরণ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন যে, আমাকে জান্নাত জলি ঘুরিয়া ঘুরিয়া দেখিতে বলিয়াছেন। পায়ণ জিজ্ঞাস্য করিলেন যে-জান্নাতের কোন জিনিস আপনার কাছে পছন্দ হইযাছে কি? তিনি বলিলেন, ‘না’। আল্লাহ পাক আমাকে বলিয়াছেন যে যদি তুমি জান্নাতের কোন জিনিসকে ঝাল বলিয়া জানিকে তারা হইলে আমি তোমাকে উহার সাথে সম্পৃক্ত করিয়া দিতাম। আমার কাছে পৌঁছাইতাম না। কোন এক ব্যক্তি হযরত ইউসুফ ইবনে হোসাইনকে স্বপ্নে দেখিতে পাইযা জিজ্ঞাসা করিল যে আল্লাহ পাক তোমার সাথে কি আচরন করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, আমাকে মাফ করিয়া দিয়ছেন। এই ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করিল যে-কোন আমলের কারণে মাফ করিয়া দিয়াছেন? তিনি বলিলেন যে-একটি সঠিক কথাকে আমি কখনও খামখেয়ালীর সাথে মিশ্রিত করিতাম না। মানছুর ইকনে ঈসমাইল ।রহ। বর্ণনা করেন যে আমি আবদুল্লাহ ইবনে বাবার (রয়াকে স্বপ্নে দেখিতে পাইলাম। তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম যে তোমার সাথে কি আচরন করা হইয়াছে? তিনি বলিলেন যে আল্লাহ পাক আমাকে ভাঁহার সামনে দাঁড় করাইয়াছেন। আমি তাঁহার দামনে দাঁড়াইয়া গন্ডগুলি গোনায় স্বীকার করিয়াছি ইহাদের প্রত্যেকটি মাফ করিয়া দিয়াছেন। কিন্তু একটি গোনাহ স্বীকার করিতে লজ্জাবোর হইতেছিল এই জন্য আমাকে ঘর্মের মধ্যে দাঁড় করিয়া রাখিলেন। ইহা এক শত্রু আজব ছিল যে আমার মুখমণ্ডলের গোশত পর্যন্ত বলিয়া পড়িয়াছিল।

পৃষ্ঠা:১৪

তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম যে ঐ গোনাহটি কিন তিনি বলিলেন- “আমি একনা একটি নাবালক দাঁড়িহীন সুদর্শন বালককে সেথিয়া ছিলাম। তাহাকে পছন্দ বালিয়াছিল। এই জন্য গোনাহটি স্বীকার করিতে আমার লাচ্চা হইতেছিল। আবু জাফর সাইদলানী (রহঃ) বলেন- আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওরাসাল্লাম কে স্বপ্নে দেখিলাম। একদল দরবেশ তাঁহার আশে পাশে বলা। এমন সময় আকাশ বিদীর্ণ হইল। জলতরী হাতে দুইজন ফিরিশতা অবতরণ করিস। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম এর সামনে তশতরী রাখিয়া দিল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্ত মুবারক বৌত করিয়া তশতরীটি আমার সামনে রাখিলেন। আমার দিকে লক্ষ্য করিয়া এক ফিরিশতা অন্যান্য ফিরিশতাদিগকে বলিল যে তাহাব হাতে পানি ঢালিবে না। কারণ সে তাহাদের অন্তর্ভূক্ত নহে। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লায়ার আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে লক্ষ্য করিয়া বলিলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনি কি বলেন নাই যে- যে যাহাকে মহম্মত করে সে তাহারই অন্তর্ভূক্ত। বাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন- হাঁ, তোমার কথা ঠিক। আমি বলিলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লারজ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি আপনাকে এবং এই সকল দরবেশকে মহাত করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওথাদল্লাম বলিলেন তাহায় হাতেও পানি ঢালা। কারণ দেও তাহাদের অন্তর্ভূক্ত। হযরত জুনামদ (রহঃ) বলেন- আমি স্বপ্নে দেখিলাম যে আমি লোকজনকে ওয়াজ নসিহত গুণাইকেছি। এমতাবস্থায় এক ফিরিশতা আমার কাছে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল- অল্লাহর নৈকট্য অনুসন্ধানকারী, যে সব কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে উহ্যদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা ফলপ্রদ কোন কাজটি। আমি বলিলাম লোকচক্ষুর অন্তবালে গোপনে গোপনে কৃত্ত আমল। ওজনের পাল্লাতে ইহার ওজন পুরাপুরি হয় অর্থাৎ খুব ভারী হয়। এই কথা শুনিয়া ফিরিশতা চলিয়া যাইতেছিল আয ঘোষনা করিতেছিল যে, আল্লাহর কসম। ইহা এমন এক বাক্তির কথা, যে এইরূপ কার্ডের ভাওফীক পাইয়াছে। হযরত মাজমা।রহ কে কেহ স্বপ্নে দেখিল এবং তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল যে, আপনার সাথে কেমন আচরণ কার হইয়াছে? তিনি উত্তর দিলেন- যাহারা দুনিয়াতে থাকিয়াও দুনিয়া বিমুখ ছিল তাহারা ইহকাল ও পরকালের কল্যান রাজ করিয়াছে। শামদেশীয় এক ব্যাক্তি আলা ইবনে যিয়াদ (বহয়।কে বলিল যে আমি স্বপ্নে আপনাকে জল্লাতে দেখিতে পাইয়াছি। হযরত আল ইবনে যিয়াদ (রহঃ। তখন বণ্যা হইতে উঠিয়া দে ব্যক্তির কাছে আদিয়া বলিলেন যে, এই ঋন্ত্রের ভাবীর হইল এই যে শয়তান আমাকে দিয়া একটি কাজ অরাইতে চাহিয়াছিল। কিন্তু আমি তাহা হইতে বঁচিয়া গিয়াছি। মুহাম্মদ ইবনে ওয়াছে ।রহ। যঙ্গেন যে স্বপ্ন মুমিন ব্যক্তিকে খুর্ণী করে। ভুলের মধ্যে ফেলে না। সালেহ ইবনে বশীর (রহঃ) বলেন যে আমি স্বাভা সালমাকে স্বপ্নে দেখিয়াছি। আমি তাহাকে বলিলাম- অল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। সুনিয়াতে ভো তুমি। অনেক চিন্তিত থাকিতে। তিনি বলিলেন যে- ইহার পর এখন তো আমার চিরস্থায়ী খুশী ও আরাম হইয়াছে। আমি বলিলাম যে, আপনি কোন পর্যায়ে আছেন। তদি বলিবেন আমি ঐ সকল লোকদের সাথে আছি আল্লাহ পাক যাহাদিগকে পুরস্কৃত করিয়াছেন। অর্থাৎ নবী, শহীদ ও নেককারদের সাথে। কোন এক ব্যক্তি হযরত যুবারাহ ইবনে আবু আওফা (রহঃ) কে স্বপ্নে সেবিয়া জিজ্ঞাসা করিল যে- আপনার কাছে কোন আমলটি উত্তম। তিনি বলিলেন আল্লাহ তা’আলার হুকুমের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং আশ্য গাটি করা। ইয়াহীদ ইবনে মাসউর (রহঃ। বলেন- আনি ইমাম আওযায়ী (রহঃ) কে স্বপ্নে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম যে আমাকে এমন একটি আমল বলিয়া দিন যাহা আমল করিয়া আমি অল্লাহর নৈকট্য অর্জন করিব। তিনি খলিলেন যে এখানে আলেমদের মর্যাদা এত বেশী যে অন্য কামারও মর্যাদা ততবেশী নয়। অতঃপর চিত্তান্বিত লোকদের মর্যাদা। বর্ণনাকারী বলেন যে, ইয়াযীদ ইবনে মাসটর খুব বৃদ্ধ ছিলেন। এই স্বপ্নের পর সর্বদা কাদ্রাকাটি করিতেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত স্বন্ধ হইয়া গিয়াছিলেন। হযরত সুফিয়ান ইবনে ওয়াইন (রহয়। বলেন যে আমি স্বীয় ভ্রাতাকে স্বপ্নে দেখিলাম এবং জিজ্ঞাসা করিলাম যে-ভাই। আল্লাহ পাক তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করিয়াছেন। তিনি বলিলেন- আমি যে সব গোনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছি আল্লাহ পাক আমাকে সেদ্ধশ্বাস মাফ করিয়া নিয়াছেন। আর যে সব গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি নাই, তাহা মাফ করেন নাই। আলী তালহী (রহঃ। বলেন- আমি স্বপ্নে এক নারীকে দেখিয়াছি। সে লুদিয়ায় অন্যান্য নারীর ন্যায় নহে। আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম। তোমার পরিচয় বল? সে বলিস- আমি হব। আমি তাহাকে বলিলাম যে তুমি আমার সাথে বিবাহ বন্ধনে স্বাবস্থা হও। সে বলিল- আমার সম্পর্কে খামার মালিকের কাছে আবেদন করুন। আর আমার মোহর প্রদান করুন। আমি বলিলাম যে তোমার মোহর কি? সে বঝিয় নিজকে সর্ব প্রকার অনিষ্ট জিনিস হইতে রক্ষা করা। ইবরাহীম ইবনে ইসহাক হরবী (রহঃ। বলেন যে আমি ঋগ্রে হয়রত যুবাইদা (বইঃ। কে দেনিয়াছি। তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম- জল্লাহ পাক আপনার সাথে কি ব্যবহার করিয়াছেন। তিনি

পৃষ্ঠা:১৫

বধিলেন আমাকে মাক কবিয়া দেওয়া হইয়ায়ে। আমি বলিলাম মকান পথে আপনি যে দান করিয়াছিলেন, উহার বিবিচতে এই অমা? তিনি বলিলেন আমি যে মান ওয়াক করিয়াছি উহার সওবাব তো মালিকের কাছে পৌঁছিয়া গিয়াছে। আমাকে তো শুধু নিয়াতের কারনে মাজ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। হযরত সুফিয়ান হাওরীর (এই। মৃত্যুর পর কোণ এক ব্যক্তি ভাহাকে স্বত্রে দেখিতে পাইবা জিজ্ঞাসা করিল যে আল্লাহ পাক আপনার সাথে কি আচরণ করিয়াছেন তিনি বলিশেণ স্বাধি এক জনম প্রাণিয়ছি পুৎবিয়াতে যায় ওপর কদম প্রথিয়ামি অন্নাতে। আহমদ ইয়ান আবুল হাওয়ারী রহ বলেন- ঋত্রে আমি রেটি বাণী দেখিয়াছি। তাহার অপেক্ষা অধিক সুন্নি নারী আমি ছাত্র বখনও দেখি নাই। তাহার মুখমন্ত্রণ হইতে দূর বিচ্ছুরিত হইতেছিল। আমি তাহাকে জিজ্ঞাস্য অরিণাম- তোমার মুখমন্ডল এক উজ্জ্বল হওয়ার কি করণ সে বলিল যে ভূমি একবাত্রে বাঁদিয়াছিলেন। আপনার কি যে কথা বাড়ল আছে। আমি বলিলাম- হাঁ, স্বরণ আছে। যে এবিধ যে তোমায় কম্প্যানের সময় আমি তোমার এবাহিত অশ্রু লইয়া নামার মুখমকালে মুমিতা দিলান। এই অন আজ আমায় মুখমন্ডল এত উজ্জ্বল ভাইয়াছে। ভারী রই। বলেন- একবারে আমি স্বপ্নে হযরত জুনাইদ যেহয়। কে দেখিয়ে পাইয়া জিজ্ঞাসা করিলছে- আল্লাহ পাক আপনার সাথে কি বানহায় রিয়ায়েন্দ তিনি বইিসেন আমায় ওয়াজ শরিয়ত বিছুই ভাজে আসে নাই। ইবাদতসম্বর ও ফলানায়ক হয় নাই। শুধু যে দুই রাকাত নামাজ রাত্রে পড়িতাম উহার বিনিময় পায় করিয়তি। কোন এক বাদি হযরত যুবাইগাতে স্বপ্নে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল যে আপনঃ কি আস্থা হইয়াছো তিনি বলিলেন যে মান চয়টি বকোর ওসিলায় আমি ক্ষমা পাইয়াছি। খড়াব ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নই। ইহার উপর আমি মৃ পর্যন্ত বাড়ির। অল্লাহ ভাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই। এই বিশ্বান পইয়াই কবরে শুরেশ করিব। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই। ইহা সাথে করিয়া নির্ভনয়। অকাষণ করিণ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই এই কলেমা সাদে বকের সাথে মিলিত হইব। বিশর ইবনে হারিছ (রহঃ) কে অনেক ব্যক্তি ঋত্র সেগিয়া জিজ্ঞাস্য করিল যে আল্লাহ পাক আপনার সাথে কি ব্যাবহার করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, আল্লাহ পাক আমার প্রতি এহন করিয়াছেন। তোমাদের কারও প্রশংসার দ্বারা আমার সবটুকু ক্ষতি হইয়াছে অন্য কিছুর দ্বারা কতটুকু ক্ষতি হয় নাই। আবু বকর ভয়াবহ। আসেন যে খাই স্বপ্নে এক যুবককে দেখিতে পাইবাম: তাহার অপেক্ষা উত্তম ও সুন্দর কোন পুরুন আমি মার কখনও দেখি নই। আমি বিজ্ঞায়া করিলাম যে তুমি কো দে জবাব দিল সে হইল ভাকওয়া। আমি বললাম তুমি কোথায় থাকা সে বলিল আমি চিন্তাযুক্ত অন্তরে থাকি। অতঃপর সেখিয়ে ঘুষের ন্যায় বৃদ্ধতায় এক নারী দেখিতে পাইলাম। স্বামি তাহাকে জিজ্ঞাষা করিলাম যে তুমি বেদ তোমার পরিচয় দাও। সে বলিল- আমি অন্তরের রাগ। ঘামি বিজ্ঞান্য করিলাম ভূমি কোথায় থাকা সে বলিল- যে অন্তর উল্লাগে মন্ড খাতে এল অহংকারী হয়, গাড়ি ভারাতে থাকি। অতঃপর আমি দলাও হইলাম এবং মনে মনে প্রতিজ্ঞা অনিলাম যে কোন ্যাপারে বাধা না হইলে আর কখনও হাসি না। আলু সাঈদ খারাহয় (রহঃ) বলেন যে এক রাত্রে আদি ঋতে দেখিয়েছি যে শয়তান আমার উপর আক্রমন করিতে চারিয়েছে। তখন আমি একটি পাট হা তাহাকে মারিতে উদ্যত হইয়াছি। কিন্তু সে ভয় পাইপ না। এমতাবস্থায় অংশ হইতে একটি প্রভহাজ ভনিতে পাইয়াই। কেহ বলিতেছে যে কাঠ দ্বারা হয় পাহ না বরং অন্তরের ভিতরে অবস্থিত একটি দূরকে তাহ পর। যাদুরী রহ হলেন- আমি স্বত্রে সেনিয়াছি যে শয়তান উলঙ্গ অবস্থার চিৎকার ওরিতে ওদিকে চলিয়া যাইতেছে। আমি তাহাতে বলিলাম যে এই সকল মানুষ দেখিয়া তোমার সজ্জা করে না। ভূমি উপক্ষ হইয়া চশিয়াছ? শয়তান বলিল- সুবযাদাল্লাহ। বদি তাহারা মানুষ হইত তাহা হইলো কি সকাল বিকাল আমি ভাহাদিগঞ্জে শিশুদের সেলার ফুটবলের মত ব্যবস্তুর কাঁটতে পারিতাম। বরং বাসুর হইল অন্য লোকেরা যাহারা আমাকে রোগগ্রস্থ করিয়া জেশিয়াছে। শয়তাে দৃষ্টিতে যাহারা মানুষ তাহাদিগকে বুঝাইতে দিয়া শয়তান সাবকদের দিয়ে হযরত আবু সাঈদ খামারবার রাতে বলেন আমি দামেস্ক শহরে ছিলাম। স্বত্রে বাদুল্লাহ সভায়াব আলীই ওপল্লাম কে দেখিতে পাইলাম। তিনি হযরত আবু বকনও হলেও ওজরের রোয়। উপর তর অবিধা আমার কাছে প্রণয়ন করিলেন। কখন আমি বিছু কথা বলিতে দিলাম এবং নিজের বক্ষদেশে হাত মারিতে দিলাম। অমৃন্মগ্রহ বস্ততাষ অলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ইহার কল্যাণের দিক অপেক্ষা অকল্যাণের দিকই অদিত। ইবনে ওয়াইন্য (৪৫) বলেন। আমি হয়রত সুফিয়ান হাওরীকে স্বপ্নে দেদিরে পাইলাম। তিনি অম্লাতের একবৃদ্ধ হইতে যপর বৃদ্ধে উড়িবা বেড়াইতেছেন। আর বলিতেছেন- এই বানো আাড়া ওর ইউটিক। আমি তাহাকে বলিলাম যে আমাকে কিছু উপদেশ প্রদান করুণ। তিনি হলিবেন- মানুষের সাথে পরিচয় কম করিও। শিবলীর গ্রহ। মৃত্যুর তিনদিন পর জনৈক ব্যাক্তি স্বগ্রে তাহার দর্শন লাভ করিল। সে জিজ্ঞাগ্য অরিত যে আল্লাহ পাক আপনার সাথে কি ধাচরণ করিয়াছেন। তিনি এলিগেন- আমার কাছে এমন কিছু চাহিদা অবিয়াহেন যে আমি তাহাতে নিরাশ হইয়া পড়িয়াছিলাম। যখন কিনি আমার মধ্যে নৈরাশ্য দেখি পাইতেন তখন স্বীয় বহমতের দ্বারা আমাকে আচ্ছাদিত করিয়া লইলেন। কী

পৃষ্ঠা:১৬

আমের বংশের মাজনুনের ইনতেকালের পর কোন ব্যাক্তি তাহাকে স্বপ্নে দেখিতে পাইয়া জিজ্ঞাসা করিল অল্লাহ পাও আপনার সাথে কিরণ আচরন করিয়াছেন? তিনি বলিলেন- “আল্লাহ পাক আমাকে মাফ করিয়া দিয়াহেন এবং বস্তু বান্ধবদের জন্য আমাকে গরীব বানাইছেন।” জনৈক ব্যাক্তি হাত বুকিয়াস ছাওরী বহগ্র। কে স্বপ্নে দেখিয়া ডিজ্ঞান্য অবিধ যে, আল্লাহ পাক থাপনার সাথে কি প্রবহার করিয়াছেন। তিনি জবান দিবেন আল্লাহ পাক আমার প্রতি রহম করিয়াছেন। সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মোলারকের অবস্থা কি? তিনি জবাব দিলেন। তিনি স্বীয় রবের আছে প্রতিদিন দুইবার করিয়া যান। জনৈক ব্যক্তি এক ধূষর্ণকে স্বপ্নে সেরিয়া তাহার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিল। রিমি বলিলেন, আমার থেকে খুব পুক্ত হিসাব গ্রহণ করা হইয়াছে। কিন্তু পাত্র নয়া করিয়া ছড়িয়া দিয়াছেন। এক আাজি হযরত আনাগ ইবনে মালেক যোগ্র। কে স্বপ্নে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল যে আপনার সাথে কি আচরণ করা হইয়াছে? তিনি জবাব দিলেন হযরত ওসমান ১৫। বৃদ্ধদের দেখিসেই সুবাণস্তাকি শ-ইয়ামুক্ত পড়িবেন। এই কলেমার ওদিলার আমাকে মাফ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। হমদ হাসান বসরী লাইন যে রাত্রে ইনতিকাল অবিনাতেন। ঐ রাতেই এক ব্যক্তি যন্ত্রে দেখিতে পাইত যে, মনে হইতেছে যেন আদনানের দরজা খুলিয়া দেওয়া হইয়াছে। অখন এক ঘোষক মোকন করিতেছিল যে হাসান বসরী আল্লাহর কাছে আনিয়াছে। আল্লাহ পাক তাহান প্রতিসন্তুষ্ট। হযরত জুনায়েদ (রয়। অভিশপ্ত শয়তানকে পত্রে দেখিতে পাইলেন। শয়তান এখন উলঙ্গ ছিল। তিনি বদিলো যে, এই অবস্থায় মানুষের সামনে আদিতে তোমার পড়া করে শ্য শহরান গদিল যে, এইসব লোক তো প্রকৃতপক্ষে মানুষ নাই। ককৃত মানুষ হইত বাগদাদে অর্থা অসৃজিতে অবিধীতে যাহাবা রহিযাছে। তাহারা তো আমাকে পীসভায় করিয়া জেশিয়াছে এর ধামার কবিতাকে পুড়াইীয় বাহার করিয়াছে। হয়রত জুবায়ের বেয়া বলেন যে, ঘুম হইতে আলাক হইয়া আামি উক্ত অসৃজিদে গেলাম। দেখিছে পাইলাম লোকজন হাটুর উপর মাথা রাখিয়া জিডিত্রে গাশিয়া আছে। ভাহায়া আমাকে সেখিয়া বলিল- এই খবিশের কথা গুনিয়া হোক্ষায় পড়িন না। বাসিরাবাদীর মৃত্যুর পর কোন এক গুড়ি মক্কা শরীকে তাহাকে স্বপ্নে দেখিল। সে বিজ্ঞাস্য করিল যে. আপনার উপর দিয়া কি অবস্থা অতিক্রান্ত হইয়াছে। তিনি প্রদিলেন যে, প্রথমে তো আমাকে বড় বড় সদরের শ্যায় প্রগর্সর করা হইয়াছিল। অতঃপর আমাকে ও মিলিত হইয়াছি। ওত্তব্য পাল্লান (রহঃ। স্বপ্নে একটি হয় সেবিতে পাইয়াছেন। হরটি সেবিতে খুবই সুশ্রী। হর তাহাকে পক্ষ্য করিয়া বলিয়েছে যে কতব্য। আমি তোমার অমিলা। তবে তুমি এমন কথা বলিও নল, যারা ছারা তোমায় ও আমার মধ্যে পর্যা পড়িয়া হয়। প্রথবা সহ্য। জবাব দিলেন যে, যতদিন পর্যন্ত তোমার পাবে হিলির না হইতে পরিব, ততদিনের জন্য দুনিয়াকে চিন আসতে সিয়াছি এবং তৃয় পর্যন্ত ইহল নিকে প্রত্যাবর্তন করিব না। এলিও আছে সে, আইবুর সনভিয়ানী রেহায় বোন এক গোনাহগার ব্যক্তির বাশ দেখিয়া ঘরের ভিতর ঢুকিয়া পড়িলেন। উদ্দেশ্য এই যে তিনি তাহার জানাযার নামার পড়িবেন না। কোন এক বাড়ি এই ঘৃষকে স্বপ্নে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল। দল। তোমার সাথে কি আচরণ করা হইয়াছে? মৃত ব্যক্তি বলিল যে, আল্লাহ তা’আলা আমাকে মাফ করিয়া দিয়াছেন এবং আইয়ুবকে শুনাইয়া দিও যে, “যদি আল্লাহর রহমতের বাজান তোমাদের হাতে এইত। তাহা হইলে পরচ হইয়া হাওয়ার ভয়ে তোমরা হাত ওটাইয়া পাইয়ে কোন এক বুদ্বুর্গ বলেন যে পষ্টদ অর্থে বই। যে জয়ে মৃত্যুবরণ করিয়াছেব ঐ বনেই আমি তাহাকে গ্রে দেবলায়। আমি বললাম যে পারখা তিনি বলিলেন যে, এখন শায়ন কলা হাড়িয়া দাও। ভূতুর্ণ বলেন যে, আপনার জীবনের যে সব অবস্থা দেখিয়াছি উহার বিি শায়ন বলিয়াছি। তিনি বলিলেন যে, ঐ সব শুবস্থা কোন কাজে আসে নাই। বুযুর্গ বলিবেন। ভাহা হইলে অল্লাহ পাক মাপনর নামে কিরূপ আচরন করিযায়েন? জিমি বলিলেন- তুমি জান যে অমুক বৃদ্ধা আমার কাছে জাসিয়া বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাগ্য করিত-ইয়ায় সওয়াবের বিনিময়ে আমাকে মাক্ত করিয়া দেওয়া হইয়াছে। ইবনে রাশেদ।এছ। বলেন যে খাদি আবদুল্লাহ ইবনুল মোবারক রইয়াকে অত্র দেশিয় বিজ্ঞাগ্য পলিমে যে আপনি নর মৃত্যুবরণ করিয়েছেন হিনি বণিতেন, হা। মামি বাঁহাতে জিজ্ঞাসা করিলাম আল্লাহ পার অপবার সাথে কি ব্যব তাঁহাকে সুফিয়ান যাওবারীর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিবেন যে তাঁহার কথা কি বর্ণিত। বিদি তো এই আয়াতের উপহাল। مع اللين العلم الله مكسهم من السيسين والبقية بين والشهداء والصالحين.  : ;লোকদের বলে রাহাদিগকে অল্লায় পাত্র পূরকৃত করিয়াছেন। তথ্য।

পৃষ্ঠা:১৭

পর আমি স্বপ্নে তাহাকে দেখিলাম। জিজ্ঞাসা করিলাম যে, আল্লাহ পাক আলনার সাথে কেমন আচরন করিয়াছেন্য তিনি বলিলেন- আমাকে একটি স্বর্নের চেয়ারে বলাইয়া আমার উপর সুন্দর সবুজ রংয়ের মোতি ছড়াইয়া দেওয়া হইয়াছে। হযরত হাসান বসরী (রহঃ। যে রাত্রে ভফাত পাইয়াছেন যে রানেই ভাহার এক মুরীদ ভ্যহাকে স্বপ্নে দেখিতে পাইলেন। দেখিলেন যে এক ঘোষক ঘোষনা করিতেছে- আল্লাহ পাক আদম, নূহ, ইবরাহীম (আঃ। এবং আলে ইমরানকে সফর মাখলুকের মধ্যে মকবুল বানাইয়াছেন, যার হাসান বসরীকে সমকালীন লোকদের মধ্যে উত্তম ও মকবুল বানাইয়াছেন। আবু ইয়াকুব কারী (রহঃ) বলেন যে আমি স্বপ্নে বাদামী বংয়ের দীর্ঘকায় এক ব্যক্তিকে দেখিতে পাইলাম। দেখিলাম যে মানুষ তাহার পিছনে পিছনে চলিতেছে। আমি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিলাম যে তিনি কে? তাহারা এলিগ যে তিনি হইলেন। ইদ্রীস কারনী (রহঃ।। আমিও কাহার পিছনে পিছনে চলিলাম। আমি বলিলাম যে আমাকে কিছু উপদেশ প্রদান করুন। তিনি বিরক্ত হইলেন। আমি বলিলাম যে আমি কোন বাস্তা পাইতেছি না। আপনার কাছে পথের দিশা চাহিতেছি। বদি আপনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেন কাহা হইলে আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করিবেন। এই কথা কলার পর তিনি আমার দিকে ফিরিয়া তাকাইলেন। তিনি আমাকে বলিলেন- আল্লাহর মহম্মত পাওয়ার জন্য জাহার রহমত তালাশ কর। তাহার নাফরমানী করিতে তাঁহাকে ভয়কর। তাঁহার থেকে নিরাশ হইও না। অতপরঃ তিনি মুখ ফিরাইয়া চলিতে লাগিলেন। আবু বকর ইবনে মরিয়ম। বহ্যা বলেন যে আমি ওরাকা ইবনে বশীর হজরমী বেহ্য। কে স্বপ্নে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম যে আপনার কি অবস্থাঃ রিনি বলিলেন অনেক কষ্টের পর মুক্তি পাইয়াছি। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম যে স্বাগনার কোন আমলটি উত্তম পাইয়াছেন। তিনি বলিলেন- আল্লাহর শুয়ে কখন করা। ইয়াযীদ ইবনে নু, আমাকে বলেন- যে মহামারীতে এক মহিলা মারা গিয়াছে। মহিলার পিতা তাহাকে স্বপ্নে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল বেটি। আমাকে আখেরাতের অবস্থা শুনাও। সে বলিল- শিতা। আমরা একটি সাংঘাতিক স্থানে পৌদিয়াছি, আমরা এবাদে বাকিয়া সব কিছু প্রত্যক্ষ করিতেছি। সব কিছুর ফজিলত আনি কিন্তু আমল করিতে পারি না। আর আপনার থামল করিতেছেন। কিন্তু আমলের দাম জানেন না। একবার বা দুইবার সুবহানাল্লাহ পড়া অথবা এক বা দুই রাকাত নামায, আমার আমল নামায় থাকা লুদিয়া এবং দুনিয়াতে বাহ্য কিছু আছে উয়া অপেক্ষা আমার কাছে অধিক প্রিয়। হযরত গুতবার (৪১) কোন এক মুইদ বলিল- আমি অতবাকে স্বপ্নে দেখিযা জিজ্ঞাসা করিলাম- আল্লাহ পাক আপনার সাথে কি আচরণ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন যে তোমার ঘরের মধ্যে যে দোআটি লিপিবদ্ধ রহিয়াছে উহার বরকতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করিয়াছি। মুরীদ বলিল, আমি আল্লাত হইযা ঘরে প্রবেশ করিলাম এবং দেওয়ালের উপর ওয়বার হাতের লিখা নিম্নোক্ত দোখাটি দেথিফে পাইলাম। দোঘটি এই:با هَادِي الْمُصَلِّينَ وَمَا أَرْحمَ الْمُغْنِينَ وَمَا مُقبل عشرات العابرين ارحم مبداد الخطر الْعَظِيمِ وَالْمُسْلِمِينَ كُلُّهُمْ جمَعِينَ وَاجْعَلْنَا مَعَ الأحياء السرد و مِنَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ علَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّين والصديقين والشهداء والصَّالِحِين امين ما رب العالمين .: “হে পথভ্রষ্টদের পথ প্রদর্শনকারী, হে গোনাহগারদের প্রতি রহমকার্ট, যে পদম্মলনকারীদের পদস্খলন মার্জনাকারী, আপনি মারাত্মক বিপদে পতিত বান্দার প্রতি এবং সকল মুসলমানদের প্রতি রহম করুন এবং আমাদিগকে আপনার পক্ষথেকে বিত্তিকলার জীবিতদের সাথী করিয়া দিন যাহাদিগকে আপনি পুংবৃত করিয়াছেন। অর্থাৎ নবীগণ, সিদ্দীক্ষণণ, শহীদগন এক নেককারগণদের সাথে। আমীন। হে বিশ্ব জগতের প্রতিপালক”। মুসা ইবনে হাম্মদ বলেন, আমি স্বপ্নে সুফিয়ান ছাওরীকে দেখিয়াছি। তিনি জন্ন্যুতে অবস্থান করিতেছেন। এক বৃক্ষ হইতে অপর বৃক্ষে উড়িয়া বেড়াইতেছেন। আমি জিজ্ঞাদা করিলাম যে হে আবু আবদুল্লাহ। কি কারণে আপনি এতবড় মর্যাদা লাভ করিয়াছেন। তিনি বলিলেন- তাকওয়ার জবা। আামি জিজ্ঞাসা করিলাম, আলী ইবনে আসেমের অবস্থা কি? তিনি বলিলেন যে, ভাহাকে তো নক্ষরের ন্যায় মানে হয়।কোন এক ভাবেয়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লায় কে গগ্রে সেখিসেন। জিজ্ঞাসা করিলেন- ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু উপদেশ প্রদান করুন। তিনি বলিলেন। “ক্ষতিকারক বিষয় সমূহের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখে না এমন ব্যক্তি সর্বদা ক্ষতিগ্রস্থ থাকে। আর যে ব্যাক্তি ক্ষতিগ্রস্থতায় পতিত হইয়াছে তাহার জন্য মৃত্যুই শ্রেয়। ইমাম শাফেয়ী রেঞ্জ। বলেন আমি এজন একটি বিষয়ে বিপদগ্রস্থ হইয়াছিলাম। যে ইহার কারণে আমি খুব বিরুর ছিলাম। আল্লাহ পাক ব্যস্তীত অন্য কেহ আমার

পৃষ্ঠা:১৮

এই বিপদ সম্পর্কে অবগত ছিল না। গতরাত্রে স্বপ্নে দেখিয়াছি যে এক বাক্তি আমায় সামনে আসিয়া আমাকে বলিল- হে মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস। তুমি এই সোথাটি পড় اللهم اني لا أملة لنفسي نفعا وَلَا حَوا ولا مولا وَلَا حَيَاةٌ ولا لورا ولا استطيع أن أحد إلا ما اعطيني وَلَا أَسْفَى إِلَّا مَا وقتي اللهم ويقنِي لِمَا يُحِبُّ وَتَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَالْعَملفي صافية. অনুবাদঃ হে অল্লাহ। আমি নিজের লাভ-ক্ষতি, হায়াত-মণ্ডতের ক্ষমতা রাখি না। মৃত্যুর পর পুনরুদ্ধাদের ও ক্ষমাতা রাবি বা আপনি যাহা প্রদান করেন তাহা ব্যতীত অন্য কিছু অবলম্বন করার শক্তি রাখি না। আপনি আমাকে যে যে ক্ষেত্রে হেফাজত না করেন, সেখান থেকে বাঁচিতেও পারি না। হে আল্লাহ! আপনি যে যে কথা ও কাজ পছন্দ করেন এবং যে যে কথা ও কাজের প্রতি সন্তুষ্ট আছেন আমাকে সেগুলির ভাওফীক দান করুন।”ইমাম শাফেনী (রহঃ) বলেন- যে আমি ঘুম থেকে জরাত হইয্য উল্লেখিত সোষাটি বার বার পড়া করিলাম। দুপুরের দিকে অম্লল্ল্যাহ পাক আমার উদ্দেশ্য পূর্ণ করিলেন। যে বিপদে ছিলাম তিনি ভাহ্য হইতে আমাকে রেহাই দিলেন। সুতরাং এই দোমাটি সর্বদা পাঠ করা তোমাদের উচিত। ইহা পড়িতে অসতর্ক হইও না। সিঙ্গাতে ফুৎকার দেওয়ার বিবরণ এই পর্যন্ত বিভিন্ন অধ্যায়ে মৃতদের বিভিন্ন অবস্থার বিবরণ গুনানো হইল। মৃত্যুযন্ত্রণা, শেষ নিঃশ্বাসের সময় শয়তানের প্রবঞ্চনা, কবরের অন্ধকারে পতিত হওয়া, ইহার পোকা মাকড়ের কষ্ট সহ্য করা, মুনকীর নকীরের প্রশ্ন, কবরের আমাদের কণা, প্রভৃতি যতগুলি অবস্থার বিবরণ আলোচিত হইয়াছে। ইহাদের অপেক্ষার অধিক বিপজ্জনক হইল আরও সামনের অবস্থা। যেমন ইস্রাফিলের সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়, কিয়ামতের দিনে উত্থান, অল্লাহ পাকের সামনে উপস্থিত হওয়া, কম হউক বা অধিক হউক প্রশ্নাদির সম্মুখীন হওয়া, আমলের পরিমাণ মাপার জন্য নিক্তি স্থাপিত হওয়া, পুলসিরাত তীক্ষ্ণ ও সরু হওয়া সত্ত্বেও ইহা পার হওয়া, নিজেদের ফয়সালার জন্য অর্থাৎ নেককার না বদকার এই ব্যাপারে ঘোষকের ঘোষনার অপেক্ষা করা, প্রভৃতি এইগুলি এমন কতক অবস্থা এবং বিপজ্জনক ঘাটি যাহাদের পরিচয় লাভ করা অভান্ত অপরিহার্য। অতঃপর ইহাদের অস্তিত্বের ও সংগঠনের প্রতি বদ্ধমূল বিশ্বাস স্থাপন আর ইহাদের সম্বন্ধে এমন চিন্তাভাবনা করা যাহাতে ইহাদের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কথা অত্তরে গাড়িয়া বদে। আমাদের অধিকাংশ লোকের অবস্থা হইল এই যে কিরামতের দিনের প্রতি ঈমান আমাদের অন্তরে বিশেষভাবে স্থান করিয়া লইতে পারে নাই। ইহা আমাদের কর্মের মাধ্যমেই পরিস্ফুটিত্ত হইয়া উঠে। কারণ গ্রীষ্মকালে গ্রীষ্মের ও শীতকালে শীতের প্রভাব হইতে বাঁচিবার জন্য আমরা কত প্রকারের আসবাব পত্র ও পোশাক পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করিবা থাকি এবং এই জন্য মাখা ধামাইতে থাকি। অথচ জাহান্নামের গরম ও ঠান্ডা সুনিয়ার গরম ও ঠান্ডা অপেক্ষা শতগুণ অধিক। ইহার কষ্ট ও বিপদ অনেক মারাত্মক। ইয়া সত্ত্বেও আমরা আহান্নাম হইতে বাঁচিবার প্রস্তুতি গ্রহণের ব্যাপারে অনেক অলসতা করিয়া থাকি। হায়, তবে এতটুকু কথা সত্য যে আমাদের কাছে আখেরাতের অবস্থা জিজ্ঞাস্য করা হইলে আমরা তাহা মুখে স্বীকার করি কিন্তু অন্তর অসতর্ক থাকে। আমাদের অবস্থাটি একটি উদাহরণের সাহায্যে স্পষ্ট করিয়া বুঝা যায়। এক ব্যক্তি অপরজনকে বলিল যে, কোমম্বর সামনে রাখা খাদ্যের মধ্যে বিয় রহিয়াছে। সে প্রথমোক্ত ব্যক্তির কথার সত্যতা স্বীকার করিল। বলিল যে, হ্যাঁ, ভূমি সত্য বলিয়াছ। ইহা বলিয়াও খাদ্য খাইয়া ফেলিল। দেখা এই ব্যক্তি মুখে মুখে প্রথমোক্ত ব্যক্তির কথার সত্যতা স্বীকার করিলেও কার্যক্ষেত্রে তাহায় কথা মিথ্যা প্রতিপাদন করিল। কার্যের মাধ্যমে কোন বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপাদন করা মুখে মুখে মিথ্যা প্রতিপালন করা অপেক্ষা অনেক মারাত্মক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ পাক বলেন যে, মানুষ আমাকে গালি দেয় এবং আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে। অন্য ইহা তাহাদের জন্য উটিভ নহে। আমাকে তাহাদের গালি দেওয়া হইল। রাহারা বলে যে আল্লাহর পুত্র সন্তান আছে। আর আমার প্রতি তাহাদের মিথ্যারোপ করা হইল তাহারা বলে যে আমি প্রথমে তাহাদিগকে যেভাবে সৃষ্টি করিয়াছি। পুনরায় সেভাবে তাহাদের পুনরুত্থান ঘটাইতে পারিব না। পুনরুত্থান সম্পর্কে তাহাদের বদ্ধমূল বিশ্বাস না বাকার পিছনে এক কারণ হইল- মানুষ এই জগতে এই ধরনের বিষহ কম অনুধাবন করিয়া থাকে। মনে করি যদি তাহারা এই দুনিয়াতে প্রাণীর সৃজন না দেখিত। আর তাহাদিগকে বল্য হইত যে, তোমাদের দৃষ্টিকর্তা সামান্য এক ফোঁটা নাপাক বীর্য্য হইতে বিবেকবান, বকল্টু এবং শক্তিমান মানুষ সৃষ্টি করেণ তাহা হইলে তাহাদের অন্তর ইহা সত্য বলিয়া গ্রহণ করিতে কষ্ট হইত।এইদিকে ইঙ্গিত করিয়া আল্লাহ পাক বলেন أَوَلَمْ يَرَ الْإِنْسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ نُطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ .”ভবে কি মানুষ দেখে নাই যে আমি তাহাকে এক ঘোট। বীর্য্য থেকে সৃষ্টি করিয়াছি। ইহা সত্ত্বেও সে প্রকাশ্য বিবাদকারী।” (নুর ইরানীন। আয়াত ২৭।

পৃষ্ঠা:১৯

তিনি আরও বলেন- تملى الحب ثمَّ كَانَ عَلَقَةٌ فَخَلَقَ فَسَوَّى فَجَعَلَ مِنْهُ الروحين الذكر والأنثى  “তবে কি মানুষ যাতনা করিভেছে যে, ভাহাকে স্বাধীন ছাড়িয়া দেওয়া হইবে। তবে কি যে নির্গত এক ফোটা বীর্য্য ছিল না। অতঃপর জমাট বাধা রক্ত। পরে তিনি তাহাকে সৃষ্টি করিয়া ঠিক করিয়া দিয়াছেন। অতঃপর তাহার থেকে নারী-পুরুষ জোড়জোড় সৃষ্ট করিয়াছেন?” দূরা দাহায। আয়াদ ৩৬-৩৯। মোট কথা- মানব সৃষ্টিতে যে সব বিশ্বয়কর শিল্প ও কারুকার্য্য রহিয়াছে যদি কেহ তাহা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করে সে কিভাবে আল্লাহ পাকের এই অসাধারণ প্রজ্ঞা ও কুদরন্ত অস্বীকার করিতে পারে? সুতরাং হে মানব। আল্লাহ পাক তোমাদিগকে পুনরায় জীবিত করিবেন। যদি এই ব্যাপারে ভোমাদের ঈমানে দুর্বলতা থাকে তাহ্য হইলে তোমরা নিজেদের প্রথম জন্মের কথা চিন্তা করিয়া দেখ যে, তিনি প্রথমে তোমাদিগকে কোন উদাহরণ না দেখিয়া সৃষ্টি করিয়াছেন। তাহা হইলে কি এখন উদাহরণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তোমাদিগকে আবার জীবন দিতে পারিবেন না। বরং দ্বিতীয় বার জীবন প্রদান করা। পূর্বাপেক্ষা অনেক সহজ। কারণ উদাহরণ না দেখিয়া কোন জিনিস প্রস্তুত করা অপেক্ষা উদাহরণ দেখিয়া প্রস্তুত করা অনেক সহজ। বিষয়টি এইভাবে বিবেচনা করিয়া ঈমান মজবুত করিয়া ৫৬। সুতরাং পুনরুদ্ধাদের ব্যাপারে তোমাদের ঈমান দৃঢ় হইয়া গেলে এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে যে সব বিপদাপদের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রহিয়াছে, উহার ভয় অন্তরে পষমা কর। এই ব্যাপারে এতটুকু চিন্তা ফিকির কর যেন অন্তর স্বস্থিরতা মুক্ত হইয়া পড়ে। আল্লাহ পাকের সামনে যাওযার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাক। সর্বপ্রথম ঐ ধ্বনি সম্পর্কে চিত্তা ফিকির কর যাহা কবরবাসীদের কর্ণকুহরে পৌঁছিবে। অর্থাৎ এত জোরে সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হইবে যে, ইহার প্রচন্ডতার কারণে কবরের মৃত ব্যক্তিরাও বাহির হইবা আসিবে। তুমি নিজকে ধারণা কর যে তুমি পরিবর্তিত চেহারা লইয়া আপাদমস্তক মাটি মিশ্রিত হইয়া দেহের মাটি বাড়িতে ঝাড়িতে কবর হইতে বাহির হইয়াছে। সিঙ্গায় ফুৎকারের প্রচন্ড আওয়াজে তুমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় এইয়া পড়িযাছ। আওয়াজ তোমার বিবেকে ঢোকল মরিয়াছে। দীর্ঘসময় করবের মধ্যে কাটানের পর এখন সমস্ত মাখলুক একসাথে কবর থেকে বাহির হইয়্য আসিয়াছে। কবরে থাকা অবস্থায় এক পেরেশানী ছিল, যে না জানি কখন হিসাব নিকাশ শুরু হয়। হিসাব নিকাশের জন্য অপেক্ষা করিবার কষ্টও কম নয়। কয়োপরি ইহা হইতে নিষ্কৃতি সাভের পর এখন অন বিপদ। এইসব অবস্থা নিজের জন্য এখনই চিন্তা করিতে থাক। সিঙ্গায় ফুৎকারের সময় মানুষ কিরূপ বিপদাপদের সম্মুখীন হইবে সেদিকে ইঙ্গিত করিয়া কুরআন পাকে বলা হইয়াছে: ونفخ في الصورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا من ماء الله لم يمع فيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَام ينظرُونَ . “এবং সিঙ্গীয় ফুৎকার দেওয়া হইবে। তখন আসমান ও যমীনের সকলে কেশে হইয়া পড়িয়া যাইবে। তবে আল্লাহ পাক যাহাকে ইচ্ছা করেন, এই অবস্থা হইতে রক্ষা করবেন।” (নূর ঘুমার) আয়াত ৩অতঃপর দ্বিতীয়বার ফুৎকার দেওয়া হইবে। তখন তাহারা তাকাইয়া থাকিবে।” অন্য এক আয়াতে আছে- میته علمی يوم قيالا تقر في الناقور قلاية يومية الكافرين عمر مسير “যখন সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হইবে। ঐ দিন কাফেরদের জন্য বড় কঠিন নিন। সহজ নয়।” (সূন্ন মুদ্দাক্ষির। আয়াত ১০ অন্য এক পাহাতে আছে- وسقولون متى هذا الوعد إن كُنتُمْ صَادِقِينَ – مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صيحة واحداً تاخذهم وهم يخصون ، فلا يستطيعون الوصية ولا إلى أهلهم يَرْجِعُونَ ونفخ في الصور مَاذَا هُم مِن الأحداث الي بتهم بتسلون ، فالو يا ويلنا من تَعْلَنَا مِنْ مَرْقَينَا هَذَا مَا وعبد الرحمن وصدق المرسلون . “তাহারা বলে- যদি তোমরা স্বীয় দাবীতে সত্যবাদী হও, তাহা হইসে বল তোমাদের প্রতিশ্রুত দিনটি কোথায়। স্বাল্লাহ পাক বলেন- তাহারা শুধু একটি শক্ত আওয়াজের অপেক্ষা করিতেছে, যাহা তাহাদিগকে পাইয়া বসিবে। অথচ তখনও তাহারা বাক-বিতন্ডার দিপ্ত গাড়িবে। এমন কি ভাহারা কোন কিছু বলিয়াও মরিতে পারিবে না এবং স্বীয় পরিবার পরিজ্ঞানের দিকে প্রত্যাবর্তনও করিতে পারিবে না এবং যখন সিঙ্গীয় ফুৎকার দেওয়া হইবে, আর তাহারা কবর হইতে উঠিয়া স্বীয়, প্রচুর দিকে অগ্রসর হইতে থাকিবে। তাহারা বদিবে-হায়। আমাদের দুর্ভাগ্য। আমাদিগকে স্বীয় কবর হইতে কে উঠাইয়াছে? তাহাদিগকে বলা হইবে- ইষ্যই

পৃষ্ঠা:২০

আল্লাহ পাকের প্রতিশ্রুত দিন এবং রাসূলগণ এই দিন সম্পর্কেই সত্য কথা বলিতেন।” সূরা ইয়াসীন। অমাত ৪৮১-৫১। ইহা এমন এক সিঙ্গী যে ইহার ফুৎকারের আওয়াজে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে বসবাসকারী সকল প্রাণন্ট মৃত্যুবরণ করিবে। তবে আল্লাহ পাক যাহাদিগকে বাঁচাইয়া রাখিবেন। অর্থাৎ কিছুসংখ্যক ফিরিশতা শুধু বাঁচিয়া থাকিবে। রাসুলুললাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আমি কিভাবে আরাম করিব। অথচ সিঙ্গায় ফুৎকার প্রদানকারী স্বীয় মুখে সিঙ্গী রাখিয়া প্রস্তুত হইয়া রহিয়াছে। মাথা নত করিয়া কান পতিয়া রহিয়াছে, অপেক্ষা করিতেছে যে কথন সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়ার নির্দেশআসিবে আর সিঙ্গীর ফুৎকার দিরে। হযরত মুঝাতিল বেষ। বলেন যে হযরত ইসরাফীল।আত্র যে সিঙ্গাটি মুখে পইয়া অপেক্ষা করিতেছেন- উহার মুখের পরিধি আসমান বর্মীদের প্রণয়তার ন্যায়। হযরত ইস্রাফীল (আঃ) সপ্তাহর আরশের দিকে চোখ মেলিয়া তাকাইয়া আছেন আর সিঙ্গায় প্রবয়বার ফুৎকার দেওয়ার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। প্রথমবার দিঙ্গীর ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথে আসমান বর্মীনের সকল প্রাণী ভয়ে আতংকে মরিয়া যাইবে। তবে শুধু তার ফিরিশতা জীবিত থাকিবেন। তাহারা হইলেন হযরত জিবরাইদ, হযরত ইস্রাফিল, হযরত মিকাইল ও হযরত আবরাইল (আঃ। অতঃপর আল্লাহ পাকের পক্ষ হইতে মৃত্যুর ফিরিশতার প্রতি নির্দেশ জারী হইবে যে প্রথম হযরত বিবরাইলের (মাঃ। প্রাণ বাহির কর। অতঃপর মিকাইলের। অতঃপর ইস্রাফিলের প্রাল বাহির করিবার নির্দেশ দেওয়া হইবে। অতঃপর মৃত্যুর ফিরিশভার প্রতি নির্দেশ জারী করা হইবে, সে যেন নিজেই মরিয়া যায়। প্রথমবার সিঙ্গায ফুৎকার দেয়ার পর চল্লিশ বৎসর পর্যন্ত আলমে বরযগে থাকার পর পুনরায় হয়রত ইশ্রুফিল (খায় কে জীবিত করা হইবে। তখন ভাহাকে দ্বিতীয় বার সিঙ্গায় ফুৎকার প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হইবে। কুরমান পাকে ইয়ার উল্লেখ করিয়া বলা হইয়াছে- تم تقع فيه اخرى فَإِذَا هُمْ قيام منظرُونَ .“অতঃপর ইহাতে আরও একবার ফুৎকার দেওয়া হইবে। তখন তাহারা সাঁড়াইয়া তাকাইয়া থাকিবে।” সূরা হুমাত। আবার ৬ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আল্লাহ পাক আমাকে সেরণের সাথে সাথেই হফরত ইস্যুফিল (আঃ। কে সিঙ্গা লইয়া প্রস্তুত থাকিতে বলিয়াছেন। তিনি দিঙ্গাটি মুখের সাথে লাগাইয়া বাখিয়াছেন, তাহার পা সামনে বাড়াইয়া এবং অন্যান্য দিগকে পিছনে ফেলিয়া সিঙ্গী ফুৎকারের নির্দেশ লাভের জন্য সম্পূর্ণ সতর্ক রহিয়াছেন। তোমায় তাহার সিঙ্গী ফুৎকার কে ভয় কর। এমতাবস্থায় সমস্ত মাখলুকের কি অবস্থা হইতে পারে? ভাহাদের অসহায়ত্ব, লাঞ্ছনা, ভগ্নমনোবল, নেকবখত না বদবখতে পরিগনিত- এই মীমাংণ্যর অপেক্ষা করা প্রকৃতি অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা করিয়া দেখ। সাথে সাথে নিজেকেও তাহাদের মধ্যে গণ্য কর। তোমারও তো এই অবস্থা হইবে। জাহারা যেমন সেখানে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হইবে তুমিও অন্ত্রণ হইবে। বরং যাহারা দুনিয়াতে আমীর, বিরশালী, আরাম আয়েশে জীবন যাপনকারী এবং রাজা বাদশাহ ছিল তাহারা সে দিন সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক লাঞ্ছিত, নীচ, ঘৃণিত এবং অপমানিতের উদাহরণ হইবে। সেদিন হিংগ্রে জন্তুগুলি পর্যন্ত পাহাড় অঙ্গল হইতে আসিয়া মাখা নীচু করিয়া তীত আতংকিত লোকদের সাথে মিলিত হইয়া পড়িবে। এমনকি সেদিনের শব্দ বিদারী আওয়াজ এবং ফুৎকারের ভীতরদ ধানির কারণে এই সকল অন্তুগুলি নিজেদের হিংস্রতা পর্যন্ত তুলিয়া যাইবে। আল্লাহ পাক কুরআন পাকে বলেন-واذا الموصول حشرت . “যখন হিংস্র জন্তুকলিও ভেবে। সমবেত হইবে।” (সূরা তাকরীয়। আয়াত ৪ অতঃপর বিপথগামী উদ্ধত শয়তান আল্লাহ পাকের সামনে আসিয়া মাথাবনয়। করিয়া গাঁড়া হইবে। কুরমাণে পাকে উল্লেখ করা ংইয়াছে- فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَتَهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنَحْضُرَنَّهُمْ حَولَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا . “আপেরর রবের শপথ। আমি অবশ্যই তাহাদিগকে ও শয়তানকে কিয়ামতের ময়দানে সমবেত করিব। অতঃপর তাহাদিগকে অধঃমুখ করিয়া জাহান্নামের কিনারে উপস্থিত করিব।”দিবা মারইয়াম। আয়াত ৬৮

হাশরের ময়দান:স্বতঃপর চিন্তা করিয়া দেব যে লোকদিগকে পুনরুত্থিত করিবার পর খালি পায়ে, উলঙ্গ ও খতনা বিহীন অবস্থায় তাহাদিগকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়াইয়া নেওয়া হইবে। হাশরের ময়দান সমতল, নরম ও শুদ্রভূমি হইবে। ইয়া উর্দু নীচু হইবে না। কোন টিলা থাকিবে না যে উহার পিছনে কেউ লুকাইযা খাকিবার সুযোগ পাইবে। কোন গর্ত থাকিবে না যে উহার প্রিভর কেহ আত্মগোপন করিতে পারিবে। বজ সমস্ত ভূমি সমতল হইবে। চারদিক থেকে লোকজনকে ইহার দিকে তাড়িত করা হইবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লল আলাইহি ওযাসাল্লাম বলেন- কিয়ামতের দিনে সকল লোক একটি সালা চূখন্ডের উপর একত্রিত হইবে। ইহা গোলাকৃতি পরিষ্কার ময়দান হইবে। ইহাতে কোন প্রকার ঘর-বাড়ি থাকিবে না

পৃষ্ঠা ২১ থেকে ৩০

পৃষ্ঠা:২১

যাহার ভিতর মানুষ আত্মগোপন করিতে পারে অথবা দৃষ্টির অন্তবাদে গাড়িতে পাবে। ইহাকে জগতিক ভূখন্ডের অনুরূপ ধারণা করা ঠিক নয়। বরং শুধু নামের দিক দিয়ে জাগতিক কুখন্ডের সাথে কুল্য। আল্লাহ পাক বলেন-يوم تبدل الأرض عبر الأرض والسموات.” সেদিন এই পৃথিবীকে অপর এক পৃথিবীতে পরিবর্তন করিয়া দেওয়া হইবে এবং আসমানসমূহকেও।” সূেরা ইবরাহীম। আয়াত রা “হফরত ইবনে আশ্বাস রক্ত বলেন যে, ভূমির মধ্যে কিছু বেশ কম হইবেতবে ইহার গাছপালা, পাহাড় পর্বত, বনজঙ্গল ও অন্যান্য জিনিসসমূহ থাকিবে না। ওকাজ বাজার চামড়ার ন্যায় প্রসারিত করা হইবে। তুমি রৌপ্যের ন্যায় শুর হইবে। আসমানের চন্দ্র-সূর্য্য থাকিবে না সুতরাং হে মিসকীন। এই দিনের মহাপ্রলয এবং কঠিনতা সম্পর্কে চিত্তা করিয়া দেখ যে যখন সমস্ত মাখলুককে ঐ ময়দানে একত্রিত করা হইবে, আসমানের নক্ষত্ররাজি বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িবে, চন্দ্র-সূর্বা আলোকহীন হইয়া পড়িবে। যমীনের বাতি নির্বাপিত হইয়া যাওয়ার কারণে তামাম যমীন তিমিরাচ্ছন্ন হইয়া পড়িবে। ফিরিশতারা আসমানের কিনারায় অবস্থান করিবে। আসমান যখন ফাটিয়া যাইবে তখন ইহার আওয়ালে তোমার কানে কি আতংকের সৃষ্টি হইবে- কে বলিতে পারে? সে দিনের কি অবস্থা হইবে যেদিন আসমান পুরু ও মোটা হইয়া ফাটিয়া পড়িয়ে এবং গলিত রৌপ্যের ন্যায় প্রবাহিত হইতে থাকিবে। অতঃপর ইহা হলুদ বর্ণ ধারণ করিবে। পরে গোলাপী ও বাল বর্ণের চামড়ার ন্যায় হইযা যাইবে। পাহাড় সমূহ ধূনা ভুলার নাম এবং মানুষ খালি পায়ে উলঙ্গ হইয়া চলিতে থাকিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ দিন মানুষ যালি পা, উলঙ্গ এবং খতনা বিহীন অবস্থায় হাশরের ময়দানে উপস্থিত হইবে। শরীর হইতে খাম করিতে করিতে মুখ পর্যন্ত ডুবিয়া যাইবে এবং কানের পতি পর্যন্ত পৌঁছিবে। হযরত আয়েশা (রাঃ) এ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন যে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করিলাম- ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! বড় লজ্জার কথা। আমরা একে অপরকে কিভাবে উলঙ্গ অবস্থায় দেখিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- সেদিন মানুষের ও চিন্তাই থাকিবে না। তাহারা অন্য চিন্তায় থাকিবে। একে অপরের প্রতি তাকাইবার সুযোগই পাইবে না। পবিত্র কুরআনে আছে- يكُلِّ امْرِ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنَ تُغْنِيهِ . “সেদিন প্রত্যেক রাক্তি নিজ নিজ চিন্তায় মশগুল থাকিবে। আর ইহাকেই লাগিয়া থাকিতে।” সুতাং ঐ দিনটি কর কঠিন হইবে? যে দিন মানুষ চরম পর্যায়ের বিপদের সন্ধুবীন হইবে। প্রভোকে নিজ নিজ মুক্তির ব্যাপারে এত বিব্রত ও বাস্ত থাকিবে যে অন্যান্যদের দিকে পক্ষ্য করিবারও সুযোগ পাইবে না। আর এই অবস্থা কেন হইবে না? করত লোক তো পেটে হেঁচড়াইয়া, আকার কতক লোকতো মাথা দিয়া মাটিবা চলিবে। এই সকল ব্যক্তির অন্যান্যদের দিকে লক্ষ্য করিবার সুযোগটিই কোথায়? হযরত আবু যোনায়না (উঃ) থেকে বর্ধিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- কিয়ামতের দিনে মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হইয়া উঠিবে। এক ভাগের লোক সওয়ার হইয়া উঠিবে। দ্বিতীয় তলে-পায়দল। আর তৃতীয় আল-মানা নীচে দিবা পা উপরে রাবিয়া উঠিবে। এক ব্যক্তি আরয করিল যে ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষ মাথা নীচে দিয়া পা উপরে দিয়া কিতাবে চলিব্যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন যে, যে সত্ত্বা তাহাদিগকে পায়ে হাটিয়া চলিবার শক্তি দিয়াছেন তিনি কি তাহাদিগকে মধ্য নীচে দিয়া চালাইবার শক্তি রাখেন না? মানুষ যাহা দেখে নাই সে ব্যাপারে আপত্তি উৎপান করা এবং অস্বীকার করা মানুষের জন্মগত স্বভাব। উদাহরণ স্বরূপ সাগ পেটের সাহায্যে খুব দ্রুত চলিতে পারে। মানুষ যদি তাহা না দেখিত তাহা হইলে দাগের এই চলন অধীকার করিয়া বসিত। যে সকল প্রাণী খায়ের সাহায্যে চলে যদি কেহ তাহা না দেখিত তাহা হইলে অবশ্যই এ চলনকেত অস্বীকার করিয়া বলিহ। সুতরাং কিয়ামতের দিনে যে নব বিশ্বয়কর ঘটনা সংঘটিত হইবে বলিয়া হাদীস শরীফে উল্লেখিত হইয়াছে। তাহ্য মানুষের চোখের সামনে নাই এবং দুনিয়ার কোথাও ইহার অস্তিত্ব নাই বিবায় ইহা অস্বীকার করার সুযোগ পাইয়াছে। কিন্তু সাগের চলন ও অন্যান্য প্রাণীর পায়ের সাহায্যে বেন না দেখার কারণে অস্বীকারের সুযোগ হইলেও বিষয়য়য় বাস্তব। ইহা অস্বীকার করা বাস্তবকে অগ্নীকার করার নামান্তর। অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিনে সংঘটিতব্য বিষয়গুলি অস্বীকার করাও বাস্তবকে অস্বীকার করা সুতরা। কিবামতের দিনে আমরা পা, উলঙ্গ অবস্থায় উত্থিত হইব। আমরা ভাগ্যবান না দুর্ভাগ ইহার মিমাংসার জন্য উক্ত ময়দানে অপেক্ষামান দাঁড়াইয়া থাকিতে হইবে। এইসব বিষয়ের উপর দৃঢ়বিশ্বাস পোষণ করিতে হইবে। ঘর্মের আলোচনাঃ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সকল বসবাসকারীরা এই দিনে এই ময়দানে সমবেত হইবে। অর্থস জিনিয়শতা, জ্বীন, মানুষ, শয়তান, বন্য পশু, হিংস্রজন্তু, পক্ষীকূল প্রভৃতি। ইহাদের মাথার উপর সূর্য তীব্র তেজে জ্বলিতে থাকিবে। এখানকার সূর্যের প্রখরতা তখনকার সূর্যের প্রখরতাব তুলনায় অনেক হালকা। সূর্য মাখার উপরে দুই তীরের পরিমাণ দূরত্ব অপেক্ষাও লাহে থাকিবে

পৃষ্ঠা:২২
আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া ওবায় থাকিবে না। অাল্লাহর বিয় বান্দাগণ ব্যতীত অন্যকেহ সে ছায়ার নীচে স্থান পাইবে না। সে দিন কিছু লোক আরশের ছায়ার নীচে অবস্থান করিবে। পক্ষান্তরে কিছু লোক সূর্যের প্রখর তাগে দপ্ত হইতে থাকিবে। এমন কি যৌদ্র ও গরমে কলিজা মুখের কাছে চলিয়া আসিবে। অধিকন্তু তথায় মাখলুকের এক কঠিন ভিড় হইবে যে শ্বাস গ্রহণ করিতে পর্যন্ত ই হইবে। আবার আল্লাহ পাকের সামনে উপস্থিত এইতে সীমাহীন অপমান ও বাদ্ধাবোধ করিবে। এই সব কারণে তাহারা নিজের মধ্যে অত্যধিক গরম বোখ করিতে থাকিবে। এক তো সূর্যের প্রাণ। অতঃপর সকলের স্বাদ প্রধশ্বাসের ঝাঁপ। তৃতীয়তঃ অন্তর জ্বালার তাপ। এইসব তাপ একত্রিত হওয়ায় পর তাহাদের শরীবের প্রতিটি লোমের গোড়া হইতে ঘর্ম বাহির হইয়া আনিতে থাকিবে। এমনকি হাশরের ময়দানের উপর দিয়া গর্মের প্রবাহ হইতে থাকিবে। অতঃপর ঘর্ম জমা হইতে হইতে ওপরের দিকে উঠিতে থাকিবে। মানুষের মর্যাদার পার্থক্যের কিভিতে ধর্ম উপরের দিকে উঠিবে। অর্থাৎ যাহাব পাপ অধিক তাহার শরীর অপেক্ষকৃত কম পাণী বন্দর ভূলনায় অধিক নিমজ্জিত হইবে। জাহারও কাহারও হাটু পর্যন্ত নিমজ্জিত হইবে। কাহারও আবার কোমর পর্যন্ত। তাহারও কান পর্যন্ত। কাহারও বা মালা পর্যন্ত। এক হাদীছে আছে যে মানুষ দাড়াইয়া চল্লিশ বৎসর পর্যন্ত আসমানের দিকে তাকাইয়া থাকিবে। কষ্ট ও আযাবের কারণে শরীয় থেকে যাম বাহির হইতে থাকিবে। এত অধিক যায় বাহির হইবে যে ঘাম তাহার মুখের অধ্যাপ পর্যন্ত নিমজ্জিত করিয়া ফেলিবে। মনে হইবে যে খামের দ্বারা তাহার মুখে গালাম পড়াইয়া দিয়াছে। হযরত ওকবা ইবনে আমের (রহঃ থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সম্রাতাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন। কিয়ামতের দিনে সূর্য মার্টিন অতি নিকটে আসিয়া পড়িবে। সূর্যের ভাপে মানুষের শরীর হইতে ঘাম নির্গত। হইতে থাকিবে। কাহারও কাহারও পায়ের সিরা পর্যন্ত, কাহারও পায়ের গোছায় অর্ধাংশ পর্যন্ত, কাহারও হাটু পর্যন্ত, কাহারও উরু পর্যন্ত, কাহারও কোমর পর্যন্ত আবার কাহারও মুখ পর্যন্ত যামে নিয়দিত হইয়া পড়িবে। এই সময় রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি ওথাসায়াম স্বীয় হাত মুখে লাগামের ন্যায় রাগিয়া মুখ পর্যন্ত ঘাম পৌঁছার প্রতি ইদিত করিয়া দেখাইয়াছেল। কোন কোন লোক যাফের মাধ্যে সম্পূর্ণরণে ডুব্যি যাইবে। তিনি মানার উপর হার প্রথিত্র বলিলেন যে, এইভাবে তাহাদের উপর দিয়া ঘামের প্রবাহ চলিবে। সুতরাং হে মিসকীন। হাশরের ময়দানের লোকদের ধর্ম নির্গত হওয়া এক তাহাদের এই ও আযাবের কথা ভাবিয়া দেখ। তাহাদের বই এর চরম পর্যায়ে গেছিরে । করএলোক তো আল্লাহর দরবারে অনয় করিয়া বসিবে যে, আম এলাহি। আমাদিগকে এই বিপদ ও অপেক্ষা করা হইতে মুক্তি দান করুন। যদিও আমাদিগকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয় তবুও এই অবস্থা হইবে মুক্তি দিন। তাহাদের এই কষ্ট, হিসাবের ও আযাবের পূর্ববর্তী সময়ের। অর্থাৎ হিসাবের জন্য পাঁড়াইখার পূর্বেই এইটুকু কষ্ট হইতে থাকিবে। সুতরাং যে শ্রোতা। তুমি নিজকে তাহাদের মধ্যো গণ্য কর। মনে কর ভুমিও এই ভই জোগকারীদের একজন। তুমি তো জান না যে, তোমার শরীর থেকে নির্গত ঘাম করুনূর পর্যন্ত পৌঁছিবে। মনে রানিবে যদি কাহারও যাম দুনিয়াতে অর্থাৎ হস্তু, জিহাদ, বোমা, নামায, কোন মুসলমানের সাহায্য সহযোগিতায়, সং কার্ডের আদেশ ও অসণ কার্য হইতে নিয়েৎ। করিবার কার্যে নির্গত না হয়। তাহা হইলে কিয়ামতের দিনে লজ্জা শরম ও কয়ের কাবগে তাহার শরীর হইতে ঘাম নির্গত হইবে। জানিয়া রাগ যে- আল্লাহর ইবাদতে কষ্ট ভোগ করা, যাম নির্গত করা অতি সহজ। আর স্বপ্ন সময়ের ব্যাপার। কিন্তু কিয়ামতের ময়দানে বিপদ ও কটের কারণে ঘাম নির্গত হওয়া বড় মারাত্মক এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। কারণ দিবসটি অত্যন্ত কষ্ট ও দীর্য সময়ের দিবস। কিয়ামতের দিবস কত বড় হইবে? ঐ দিন সমস্ত মাখলুক উপরের দিকে তাকাইয়া গাঁড়াইয়া থাকিবে। তাহাদের দপ্তর অত্যন্ত বিব্রত থাকিবে। কেন্তু তাহাদের সাথে কথা বলিবে না। তাহাদের সমস্যার দিকে কেহ কোন প্রকার খেয়াল করিবে না। এই সময়ের মধ্যে এক লোকমা খাদ্যও গ্রহন করিবে না এক এক ঢোক পানিও পান করিবে না। এমন কি ভাহাদের উপর দিয়া বাতাসও প্রবাহিত হইবে না। ভাহারা এমন এক জঘণ্য অবস্থার শিকার হইবে।
কুরমান পাকে ইরশাদ হইয়াছে  وم مكوم اللناس الرب العاليمين ঐ দিনের কথা স্বরণ কর যেদিন মানুষ জণতের প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মান হইবে।” হবেন্ত কা’ব এবং হয়রত কাতাদাহ (রাঃ। এই আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করিয়াছেন যে, এই অবস্থায় তাত্যদের পাঁড়াইয়া থাকিবার পরিমাণ হইবে তিনশত ঘটে কংসের। হয়রত ইবনে ওমর (রাঃ। বলেন যে, বাসুলুল্লাহ সরায়াহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত গায়াতটি পাঠ করেন। অতঃপর বলেন যে, তোমাদ্রের ভূখণ কি অবস্থা: হইবে যখন আল্লাহ পাক তোমাদিগকে এইভাবে সমবের করিবেন, সেইভাবে কুনীরের মধ্যে গ্রীদিয়া তীর ভর্তি করা হয় এবং তিনি পঞ্চাশ হাজার বৎসর তোমাদের দিকে দৃষ্টিপাত করিবেন না।

পৃষ্ঠা:২৩

হযরত হাসান বসরী (রহঃ) বলেন যে, এঐ দিন সম্পর্কে তোমাদের কি ধারনা যেদিন মানুষ পঞ্চাশ হাজার কাসেরের পরিমাণ সময় দাঁড়াইয়া থাকিবে? এই সময়ের মধ্যে এক লোকমা খাদনও গ্রহণ করিবে না আবার এক ঢোক পানিও পান করিবে না। এমনকি তাহাদের পিপাদ্য যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছিবে তখন আহাদিগকে জাহল্লামের গরম পানি পান করানো হইবে। এইভাবে তাহাদের কষ্ট যখন অসহনীয় হইয়া পড়িবে তখন একে অপরকে বলিতে থাকিবে ঢল। আমাদের পক্ষে সুপারিশ করিবার জন্য এমন এক ব্যক্তির অনুসন্ধান করি ঘিনি অল্লাহর কাছে মর্যাদাবান। সুতরাং তহ্যেরা এক এক করিয়া বিভিন্ন নবীর কাছে গমন করিবে। তাহারা উত্তর দিবেন যে, আমরা নিজের ব্যাপারেই বিব্রত রহিয়াছি। অন্যের সমস্যার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ নাই। তাহারা চকর পেশ করিয়া বলিবেন যে, আল্লাহ পাক আজ যে পরিমাণ রাগান্বিত আছেন পূর্বে কখনও এতটুকু রাগ হন নাই এবং কখনও এতটুকু রাগ হইবেন না। শেষ পর্যন্ত ভাহাবা বাসূলুল্লাহ সল্লায়ম আলাইহি ওয়াসম্রায় এর কাছে সুপারিশের আবেদন করিবে। তিনি যাহাদের জন্য সুপারিশ করিবার অনুমতি পাইবেন। সুপারিশ করিবেন। অল্লাহ পাক কুরআন পাকে বলেন- . يومية   অল্লাহ পাক যাত্যকে সুপারিশ করিবার অনুমতি দিয়াছেন। একমাত্র তাহার সুপারিশ উপকারে অদিবে।” পৃহা তোয়া-হ১/ আয়াত ১০৬। সুতরাং ঐ দিনের দীর্ঘ স্থায়ীত্বের কথা ভাবিয়া দেখ এবং ঐদিন হিসার নিকাশের জন্য অপেক্ষা করিতে যে কষ্ট হইবে উহ্যর কথা চিন্তা কর, যাহাতে ভূমি গোনাহ হইতে দূরে থাকিতে পার। এক হাদীছে আছে যে- ন নিনের দীর্ঘস্থায়ীত্ব সম্পর্কে রাসূদুল্লাহের কাছে জানিতে চাওয়া হইলে তিনি জবাব দিলেন, আল্লাহর শপথ করিয়া বলিতেছি যে- ঈমানদারের জন্য ঐ দিনটি অতি স্বপ্ন সময়ের বলিয়া মনে হইবে। মনে হইবে যেন একটি ফরয নামায পড়িবার সময়। এমনকি ইহা অপেক্ষাও হালকা মনে হইবে। সুতরাং ঈমানদারদের তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা কর। কেননা যতক্ষন পর্যন্ত জীবনের স্পষন অবশিষ্ট আছে এবং শ্বাস প্রশ্বাস চালু আছে কতক্ষন পর্যন্ত তোমার সমস্যা সমাধানে তোমার ক্ষমতা রহিয়াছে। ইহকালের এইসব ছোট দিন গুলিকে ঐ বড় নিনের জন্য কিছু না কিছু করিয়া লত। দেখিবে তখন তোমার এত অধিক উপকনা হইবে যে তুমি ইহার খুশীতে বাগ ব্যাগ হইয়া যাইবে। তুমি সারা জীবন কথং সুনিয়ার সৃষ্টিদা থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার বৎসর ইবাদতের মাধ্যমেও যদি কিয়ামতের ময়দানের পঞ্চাশ হাজার বৎসর অপেক্ষা করিবার কই হইতে বেহাই পাও। তাহা হইলেও জানিয়া রাখ যে ভূমি অতি সহজে এবং সস্তায় বেহাই পাইযা গেলে।

কিয়ামতের দিনের বিপদাপ “:হে নিঃস্ব। ঐ কর্মীন দিবসের জন্য প্রস্তুতি রাহণ করা যাহার স্থায়িত্বকাল হইবে খুব দীর্ঘ। ঐ দিনের বিচারক হইবেন মহাপরাক্রমশালী। সেদিশের সংঘটিত ঘটনাসমূহ একটি অপেক্ষা অপরটি হইবে মারাত্মক ও ভয়ানক। সেদিন আসমান দুবছর হইয়া পড়িবে। তারকা সমূহ হয়ে টুকরা টুকরা হইয়া পতিত হইবে। ইহাদের আলো নিষ্প্রভ হইয়া পড়িবে। সূর্যের আলো বে-নূব হইয়া যাইবে। পাহাড় পর্বতসমূহ স্থানচ্যুত হইয়া যাইবে। বাচ্চাওবালা গাভীগুলি এই দিক এই দিক ছুটাছুটি করিতে থাকিবে। জঙ্গলের হিংস্র জন্তুগুলি চিৎকার করিতে থাকিবে। জাহদ্রাম উত্তপ্ত করা হইবে। পাহাড় সমূষ উড়িতে থাকিবে। যমিন আরও প্রশস্ত হইবে। স্থলভাগের দিকে যখন দেখিবে তখন দেখিবে ইহ্য ভূমিকম্পের ন্যায় কাপিতে থাকিবে। ইহার নীচে বক্ষির স্বর্ণ রৌপ্য ও অন্যান্য সব কিছু বাহির কবিয়া ফেলিয়া দিবে। মানুষ জিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া দিক বিদিক ছুটাছুটি করিতে থাকিবে। নিজেদের আমলনামা সামনে দেখিতে পাইবে। ফিরিশতারা আসমানের কিনারায় অসিয়া পড়বে। আট ফিরিশতা তোমার প্রতিপালকের আরশ বহন করিবে। সেদিন কাহারও কোন কথা গোপন থাকিতে না। ঘর্মীন কাঁপিয়া উঠিবে। পাহাড় নমূহ টুকরা টুকরা হইযা উড়িয়া গিয়া নীচে পতিত হইবে। মানুষ পক্ষ পাশের ন্যায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ছুটটি করিবে। এমনকি মাতা যুদ্ধপোষ্য শিশুকে নিক্ষেপ করিয়া ফেলিয়া দিবে। গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হইবা যাইবে। মানুষকে দেখিয়া মনে হইবে যে তাহারা যেন নেশা পান করিয়া নেশাগ্রস্থ হইয়া পড়িয়াছে। অথ্য প্রকৃতপক্ষে তাহারা দেশয়াস্থ নয় বরং আল্লাহ পাকের আযাবের ভয়ে এই অবস্থার শিকার হইবে। বর্তমান ভূখন্ড পরিবর্তিত হইয়া অন্য এক ভূখন্ডে পরিনত হইবে। মহা পরাক্রমশালী অদ্বিতীয় আল্লাহর সামনে দভাবমান হইতে হইবে। সমস্ত ভূখন্ড একটি সমতল ভূমিতে পরিনত হইবে। কোথায়ও কোন প্রকার ইউঁচু নীচু বা টিস দেখিতে পাইবে না। পাহাড় টুকরা টুকরা হইয়া মেঘগতের ন্যায় উড়িতে দেখা যাইবে। আসমান ফার্টিয়া গোলাপী-সাল চামড়ার ন্যায় হইয়া যাইবে। প্রত্যেক রাক্তি তাহার মেজ বা বদ আমল সামনে উপস্থিত পাইবে। বদআমল দেখিয়া তাহার নিজের এবং বদ আমলের মধ্যে কোন প্রতিবন্ধক পড়িয়া যাওয়ার জন্ম গাজায়খা করিতে খাতিরে। দুনিয়া হইতে যে আমল গইয়া আসিয়াছে তাহা চানিয়ে। সেদিন বাকশক্তি রুদ্ধ হইবা যাইবে। হান্দ্র পা কথা বলিতে খাদিয়ে। ইহা এমন এক কঠিন

পৃষ্ঠা:২৪

দিন যাহার ক্ষরণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বৃদ্ধ করিয়া ছাড়িযাছে। একদা হযরত আবু বকর কোয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লস্নাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সরাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি দেখি বৃদ্ধ হইয়া গিয়াছেন, তিনি বলিলেন যে আমাকে সুরায়ে হল, সুরামে ওয়াংকেন্ড, সুরায়ে মুরসালাত, সুরায়ে নাবা প্রভৃতি সূরা বৃদ্ধ করিয়া ছাড়িয়াছে। সুতরাং হে অসহায় পাঠক। তুমি তো কুরআন পাকের শব্দরাশি ঘুষে উচ্চারণ করিতেছ। অন্যথায় তুমি যাহা পাঠ করিতেছ। যদি ইহার অর্থ সম্পর্কে চিন্তা ভাবন করিতে- তাহা হইলেতো তোমার কলিজা ফাটিয়া দইত। কিয়ামতের কষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ খাদাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল নানা হইয়া গিয়াছে। কিন্তু তোমার কিছুই এইতেছে না। সুতরর তুমি শুধু মুখে মুখে কুরআান উচ্চারণ করাকে অথেষ্ঠ মনে করিয়া ক্ষান্ত হইয়া গাছ্যে। তুমি তো কুরআন পাকের ফলাফল হইতে বঞ্চিত থাকিতের। লক্ষ্য কর, কুরআন পাকে যে সকল বিষয়ের আলোচনা হইয়াছে কিয়ামতের আলোচনাও তন্মধ্যে একটি। অল্লাহ পাক ঐ দিনের কোন কোন বিপদের কথাও উল্লেখ করিয়াছেন। ইহার অনেক নাম উল্লেখ করা হইয়াছে, যাহাতে বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে ইহার মর্মার্থ অনুধাবন করা যায়। অনেক নাম উল্লেখ করিবার ফসে ইহার অনেক নাম আছে ইহা বুঝানো উদ্দেশ্য নহে বরং বিবেক সম্পন্ন অক্তিদের সতর্ক করা উদ্দেশ্য। কারণ কিয়ামতের প্রত্যেক নামের মধ্যে এক একটি রহস্য বিদ্যমান। ইহার প্রতিটি ঋণ বাচক নামে এক একটি অর্থ নিহিত রহিয়াছে। যদি তুমি ইয়ার নামসমূহের পরিচয়ে স্বাগ্রহী হয়। তাহা হইলে আমি তোমাকে ইহার নামসমূহ বলিয়া দিতে পারি।(১। নিয়ামতের দিবস। (২) হাসরের দিবস অর্থাৎ পরিতাপের দিবস। (৩) গজ্জিত হওয়ার দিন। (৪) হিসাব প্রদানের মন। (৫) হিসাব গ্রহণের দিন। ১৬। প্রশ্নের সিন। (৭) জাগে বড়িয়া যাওয়ার দিন। ৮। অগড়ার দিন। (৯) ভয়ের সিন। (১০। ভূকম্পের দিন। (১১। উল্টাইয়া দেওয়ার দিন। (১২। বিজলীয় দিন। (১৩) সংঘটিত হওয়ার দিন। (১৪) শক্ত খটখট খাওয়াজের দিন। ।১৫। কাঁপাইয়া দেওয়ার দিন।।১৩৮ এক ফুৎকারের পিছনে দ্বিতীয়ত্তর ফুৎকারের দিন। (১৭। আচ্ছন্ন করিবার দিন। ১১৬৮। বিপদের দিন। (১১৯। মিলাইয়া দেওয়ার দিন। (২০) রোডে হাক্ক। মর্থত বিপদাপদের দিন। ১২১। রোজে য়াবখা অর্থাৎ এমন শত্রু আওয়াকের দিন যে আওয়াজ কবর বানাইয়া ছাড়ে। (২২। মিলনের দিন। (২৫) পৃথকতার দিন। (28) পিছন দিক হইতে তাড়াশের দিন।।২৫। কদয়া সওয়াব দিন। (১৬) আছান করুর মিন। (২৭। আনয়ন কারী চিন।।২৮। আমাদের দিন। (২৯। পলায়ন করার দিন। ৩০। মজাতের দিন। ১৩১। সিদ্ধান্তের দিন। তিন। বিনিময় বলানের দিন। (৫৩। আপদের দিন। ১৩৪। ক্রন্দনের নিন। (৩৫। সমবেত হওয়ার দিন। ১৩৬। পুরুত্থানের দিন। (৫৭। ধমকি প্রদানের দিন। (৩৮) উপস্থাপিত করার দিন। ২৩৯। এজন সেওমার দিন। ৪০। সত্য দিন। ৪১। নির্দেশ প্রদানের দিন। ৪২। মর্যাদয় দিন। ৪৩। মো হওয়ার দিন। ৪৪। পুনরায় জীবিত করার দিন। ৬৫। বিজয়ের দিন। ১৪৬। সদ্ধার দিন। ৪৭। বড় দিন। (৪৮) কঠিন দিন। ১৪১। প্রতিদান প্রদানের দিন। ১৫০। বিশ্বাসের দিন। ।৫১। শৃংকারের দিন। ১৫২। কম্পনের দিন। বেঙ। ধমক প্রদানের সিন। ।৫৪। অস্থিরতার দিন। (৫৫। শেষ দিন। (৫৬। গন্তব্যস্থলের দিন। ১৫৭। প্রতিশ্রুত দিন। (৫৮। সতর্ক দৃষ্টি রাখার দিন। ৫৯। পোরেশানীর দিন। (be) নিমজ্জিত হওয়ার দিন। ১৯১) মুখাপেক্ষীতার দিন। (৬২। বিক্ষিপ্ততার দিন। (651 এলোমেলো হইয়া যাওয়ার দিন। (৬০) নিমজ্জিত হওবার দিন। ১৯১। মুখাপেক্ষীতার দিন। (৬২। বিক্ষিপ্তভার দিন। (৬৫। ঝলোমল্যে হইয়া যাওয়ার দিন। (৬৪। চন্দ্র-সূর্য কাটিয়া যাওয়ার দিন। (৬৫) দাঁড়াইয়া থাকার দিন। (৬৬) নির্গত হওয়ার দিন। ১৬৭) স্থায়ী হওয়ার দিন। ১৬০৮। এতে অপরকে ক্ষতিগ্রস্থ করার দিন। ১৬৯। চেহারা কিবর্ণ হওয়ার দিন। (৭০) নির্ধারিত দিন। ।৭১। প্রতিশ্রুত দিন। (৭২) উপস্থিত রুবিবার দিন। (৭৩। সন্দেহহীন দিন।।৭৪। অন্তরের গোপনীয় বিষয়সমূহের পরীক্ষার দিন। ১৭৫১ এমন দিন বেদিনে একে অন্যের উপকারে আসিবে না। (৭৬) যেদিন চক্ষু উপরের দিকে তাকাইয়া থাকিবে। (৭৭। যেদিন কোন বন্ধু কোন কাজে আসিবে না।।৭৮। যেদিন কেহ বাহারও কোন কল্যাণ করিতে পারিবে না। (৭৯) যেদিন ধাক্কা দিয়া জায়ান্নামে ফেলিয়া দেওয়া হইবে। ৮০। যেদিনে অধঃমুখ করিয়া জাহস্রামে নিক্ষেপ কর হইবে। ৮১। যেদিন পিতা পর্যন্ত পুত্রের কোন উপকারে আসিবে না। ।৮২। যেদিন মানুষ স্বীয় ভ্রাতা, মাতা, পিতা প্রভৃতিকে ছাড়িয়া পলায়ন করিতে থাকিবে। ইহা এমন একদিন যেদিনে কেহই আযাব ফিরাইতে পারিবে না। এই দিনে মানুষকে অগ্নিঝরা শাস্তি পদান করা হইবে। সহায়সম্পত্তি ও সন্তানাদি এই দিনে কোন উপকারে আসিবে ন্য। এই দিনে অত্যাচারীর কোনরূপ গুজর প্রহণযোগ্য হইবে না। তাহার অভিশপ্ত হইবে এবং ভাহাদের গন্তব্যস্থলঃ হইবে খুবই খারাপ। ইহা এমন একদিন যেদিন ওজর গ্রহণযোগ্য হইবে না। অন্তরের গোপন কথা যাচাই হইবে এবা প্রকাশিত হইয়া পড়িবে। যেদিন চক্ষু কোটীর ভিজর চলিয়া যাইবে। আওয়াজ চুপ হইয়া পড়িবে। একে অপরের দিকে খুব কম দেখিতে। গোপন করা প্রকাশিত হইয়া পড়িবে। তুল ত্রুটি সামনে দেখা যাইবে। মানুষকে বিতাড়িত করা হইবে। এই দিন্যে কাঠিরস্কার চাপে বাবক বৃদ্ধে পরিনত হইবে। বয়স্কদের নেশাগ্রস্থ বলিয়া মনে হইবে। পাপ পূণ্য ওজন ররিবার অন্য নাঁড়ি শ্যা স্থাপন করা হইবে। অমল নামা খুলিয়া দেওয়া হইবে। জায়াগ্রাম সামনে

পৃষ্ঠা:২৫

আনমন করা হইবে। দিপাদিতকে প্রচন্ড গরম পানি পান করিতে দেওয়া হইবে। অগ্নি দপ দপ করিয়া জ্বলিতে থাকিবে। কাফেরর নিরাশ হইয়া পড়িবে। চোজ বিবর্ণ হইয়া পড়িবে। নির্বাক দাঁড়াইয়া থাকিবে। হাত পা থরথর করিয়া কাঁপিতে থাকিবে। সুতরাং হে ভানুষ। তোমাদিগকে কিসে যোগ্য পাম্পর্কে ধৌখায় ফেশিয়া বাবিয়াহের হোমরা দরজা বন্ধ করিয়া, পর্দায় পিছনে পুজাইয়া, মানুষের অন্তরালে থাকিয়া গেনাহ করিয়াছ, এখন তোমাদের অন-এয়াত সমূহ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করিয়াছে। এখন বল তোমরা কি করিবে? আমাদের কাল উপায় কি? কেননা আল্লাহ পাক আমাদের সর্বশ্রেণীর মানুষের কাছে সাইয়েদুল মুরসালীন সাল্লাল্লন আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রেরণ করিয়াছেন। তাহার উপর প্রকাশ্য জিতবে অবতীর্ণ করিয়া কিয়ামতের নিবদের সমস্ত অবস্থ। আমাদের সামনে বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর জামাদিগকে পরর্করার নিকওলিও নির্দেশ করিয়াছেন اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ مُعْرِضُونَ . مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ ذِكْرٍ مِنْ رَبِّهِمْ مُحْدَثٍ إِلَّا اسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ .لاهِيَة قُلُوبُهُمْ .:“মানুসের হিসাবের সময় নিকটে আসিয়া পড়িয়াছে। অথচ তাহারা এখনও গাফলতির মধ্যে পড়িয়া রইয়াছে। তাদের কতুর পক্ষ হইতে তাহাদের কোন নতুন উপদেশ আদিতে যাহার ভাহা এমন গুরুত্বতীপ ভাবে শ্রবন জয়ে হে দেন। তিনি আরো বলেন اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَأَنْشَنَّ الْقَمَرُ বিবাদক নিকটে স্বাসিবাছে। মার চন্দ্র বিদীর্ণ হইয়াছে।” (সূরা স্থামার খায়।বিনি এই সম্পর্কে আরও বলেন:النهم لمرونة معسلا لمرة غيرت “তাহারা ইহাতে দূরে এলিয়া মনে করে ক্ষন্ড আছিম ইহাকে নিকটে দেখিতে: وما لقرية العالى الثانية تكون قريت “তুমি কি জানা হয়তো বা কিয়ামত নিজটে।”কুমেনে করীমে ফোন তোন হাল আমধ্যে কর যমে, আমাদের উচিত তাহা জানিয়া আমল করা। অধিকন্তু কুরআনে করীমে কি কণ্য হইয়াছে সে সম্পর্কে চিন্তা না করা, ইহাতে বিয়ায়তের যে সকল নাম ও গুণাবলী বর্ণনা করা হইয়াছে সেদিকে লক্ষ্য না করা। এমনকি ঐ বিশেয় বিপদাপদ হইতে মুযুক্তি বাডের উত্তা ফিকির না করা আমাদের কলস টানিয়া আনিয়ে। অম্লল্লাহ পাক যেন এই ধরনের পাচশতি থেকে আমাদিগারামতের স্বর 

জিজ্ঞাসাবাদের আলোচনা:হে মিসকীনং ভূমি একটু ভাবিয়া দেশ এয কিয়ামতের মাঠে সরাসরি ভোমেেক কিজ্ঞাসাবাদ করা হইবে। তোমারও খোসারে পাকের মধ্যে কোন মাধ্যম থাকিবে না। জিজ্ঞাসাবাদ কমবেশী যাহাই হউক না কেন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়েও পূাধুশহণে জিজ্ঞাস্যগণ এইয়ে। যখন ভূমি ঐ দিবসে চরম পর্যায়ের ওই ও শরীর হইতে বিগত অর্থের বিশ্বষ এজ অনান্য আপদ বিপদে নিমজ্জিত থাকিবে, রবন বিপ্লাটিকায় কড়া ও কদমেজারী ফিরিশতারা আসমানের বিনায় হইতে উি ঋদিয়ে। তাহারা গোনাহগার গোকদের কে কপারদের উপরিভাগের ভূষের গোছা এতিয়া টানিয়া মহারতাপশালী বিভাকে আল্লাম পাকের নামবে কাঠগড়ায় উপস্থিত পরিবার জন্য আদিষ্ট হইে রাসুলুল্লাহ নারায়ায় স্বালাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আল্লাহ পাকের কাছে এক চিরিশরা আছে। বাধার চক্ষুর এক পারা হইতে অপর পারা পর্যন্ত, এক বৎসর লক্ষণ করিবায় ওস্তা পরিমান দূরত্ব। এখন বল, যদি তোমাকে বন্দী এরিয়া অল্লাহর অন্য এমন একটি ফিরিশতা তোমার কাছে প্রেরণ করা আমা হইসে কখন বোমার বি বিয়াটিকায় জিনিশরা হ ঐ বিবিপয়াসের উপর ঐ দিনের কাঠিন্যাভার প্রভাব এবং আল্লাহ পাকের গোখার প্রভাব পরিলক্ষিত হইবে। ইয়ার এভাবে মানুষও প্রভাবান্বিত হইবে। এই সবল ফিরিশতাদের স্বরভারন দেখিয়ে নরী, দিদীক বেকবান্সা পণ নিগ্রনায় পড়িয়া যাইবে। তাহাদের ওর হইবে না জানি আজ কাহাকে চোরার দরিয়া জেলে। এই গয়া আল্লাহর নৈওটা বার বান্দাদের অবস্থা যখন এমন এইবে তাহা হইলে গোনাহগার নাফরমানদের অবস্থা কি হইতে পারে? চিন্তা করিয়া কি ইহান বিনারা। পাতই। বাইকে পাবে। ভয়ে আতংকে বীভ হইয়া কখন কোন এক বাক্তি এই সকল দ্বিবিশরদিগতে জিজ্ঞাসা করিয়া বানিয়ে হে আমাদের পরেয়ারদিগার কি আপনাদের মতে দেন। কারণ তথন সময় মানুষ তাহাদের হয়ে প্রীয়াহীনতায় হইয়া পড়িবে। ফিরিশতারা ভায়াদের প্রশ্ন অনিয়া তুই পাইতে এবং উচ্চতা এদিরে-আমাদের পরোয়ারদিগার পড়িত্র। তিনি আমাদের মধ্য হইতে বেহই নহেন। কিন্তু তাদের এই তুল ধারনা বরন করিবার উদ্দেশে ফিরিশতল। স্বল্লাহ ঋকের পবিত্রতা কীনা ঋক্ত অরিনে এজ উচ্চস্বরে বণিতে যে, মিনি আমাদের মধ্য হই

পৃষ্ঠা:২৬

কেহ নহেন, বরং তিনি আরও পবিত্র। তিনি পরে আসিবেন। অতঃপর তাহারা চারদিক হইতে বাদ্যাদিগকে পরিবেষ্টন করিয়া দারিবদ্ধ হইয়া দাড়াইয়া যাইবে। সকল লোক অপমান ও লাঞ্ছনায় আচ্ছাদিত হইয়া পড়িবে। তখন আল্লাহ পাকের নিম্নোক্ত বানীর সত্যতা প্রমাণিত হইবে।খারাহ পাকের বানী:فَلَتَالَ الَّذِينَ أُرْسِلَ اليهم ولسلة المُرْسَلِينَ النقصعليهمْ بِعِلْمٍ وَمَا كُنَّا فَالِينَ .“সুতরাং বাহাদের কাছে রাসুল প্রেরণ করা হইয়াছে আমি অবশ্যই তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিব এবং রাসূলগণকেও জিজ্ঞাস্য করিব। অতঃপর আমি আমার আনা থেকে তাহাদিগকে তাহাদের অবস্থা শুনাইব। আমি অনুপস্থিত ছিলাম عقلا অন এক আয়াতে বলেন-فورية للستان هم اجمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ .“আপনার রবের কসম। আমি অবশ্যই কাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিব তাহারা যাহা আমল করিত সেই সাপর্কে।সুরা ছিজন? আয়াত ১১-৯২। নবীগণকে জিজ্ঞাসা করিকর মাধ্যমে জিজ্ঞাসার সূচনা হইবে। যথা- يوم يجمع الله الرسل منقول مَاذَا أَجِبْتُمْ قَالُوا لَا عِلْمَ لَنَا إِنَّكَ أنت علام العيوب .“ই সিদের কথা স্বরণ কর, যেদিন আল্লাহ পাক নবীগণকে একত্রিত করিয়া জিজ্ঞাস্য করিবেন যে তোমাদিগকে কি উত্তর দেওয়া হইয়াছে? তাহারা বলবেন যে এই সম্পর্কে আমরা অরণত নহি। আপনি তো অদৃশ্য সকল গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে অকাত।” (সূরা মা-হিদাহ/ আয়াত ১০৮০ সুতরাং ঐ দিন তো নবীগণ পর্যন্ত হশ হারাইয়া ফেলিবেন। হয়ে আতংকে তাহাদের জাত বিষয় পর্যন্ত তুলিয়া বাইকেন। ইহা হইতে বুঝা যায়- সেদিন অবস্থা কতটুকু চরম পর্যায়ে পৌঁছিবে। কারণ নবীগণকে যখন জিজ্ঞাসা করা হইবে যে আপনাদিগকে তো মানুষের প্রতি প্রেরণ করা হইয়াছিল। আপনারা তাহাদিগকে দাওয়াত দেওয়ার পর তাহারা আপনাদিগকে কি উত্তর প্রদান করিয়াছিস। তাহার। ইহ্য জানা সত্ত্বেও অলিতে পারিবেন না। কারণ ঐ দিশ্যে অবস্থা দেখিয়া এতই উতে হইয়া পড়িবেন যে তাহাদের বিবেক পর্যন্ত হাওইয়া যাইবে। কি বলিবেন স্থির করিতে পারিবেন না। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া বলিয়া উঠিবেন যে আয় বব আমরা কিছুই জানিনা। আপনি তো সকল অনুশা বিষয়য়াবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন। বান্ধবে তাহাদের এই উত্তর তখন সঠিক ও সত্য। কেননা তখন তো তাহাদের অবস্থা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকিবে না। ভাহ্যদের বিবেক বুদ্ধি পর্যন্ত বিন্তুয় হইয়া পড়িবে। জানা বিষয়ও ভুলিয়া যাইবেন। সুতরাং অজ্ঞানতা প্রকাশ করা বাতীত আর কি উপায়ইব্য অবিশষ্ট থাকিবে? হযরত নূহ (আয়কে ডাকিয়া খাবা হইবে এবং জিজ্ঞাসা করা হইবে যে আপনি কি আপনার প্রতি আমার বেয়িত কথাগুনি মানুষের কাছে পৌঁছাইয়া দিয়াছেন। হযরত নূহ (আঃ। গলিবেন জি। টা। অতঃপর তাহার উষ্মরদিগকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করা হইবে যে কোন নবী তোমাদের কাছে পয়গাম পৌঁছাইয়া দিয়াছেন কিঃ তাহারা জবাব দিবে যে আমাদের কাছে কোন সতর্ককারী (নবী। স্থাগমন করেন নাই। হযরত ঈসা (আয়াকে ডাকিয়া আনিয়া মিন্দানা করা হইবে যে, আমাকে বদ দিয়া আপনাকে ও মাগনার মাতাকে স্বাল্লাহ বসিয়া বিশ্বাস করিবার অন্য আপনি কি মানুষকে বলিয়া ছিবেন। তিনি বহু কনিয়াই পেরেশান হইয়া পড়িবেন। সুতরাং যে দিন নবীগণকেই এই ধরণের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হইতে হইবে সেদিনের বিপদ সম্পর্কে কি বারনা করা যাইতে পারে? অতঃপর ফিরিশতারা উপস্থিত হইবেন। একজন একজন করিয়া নাম সইয়া লইয়া ডাকিতে থাকিবেন। হে অয়্যুকর পুন অমুক। সামনে আসিয়া দন্ডায়মান হয়। ফিরিশতার ডাক শুনিরার সাথে সাথে কছের গোশত সমূহ বাফাইতে থাকিবে। হাত পা কাঁপিতে কাঁপিয়ে শক্তিহীন হইয়া পড়িবে। বিবেক বুদ্ধি বিলুপ্ত হইয়া পড়িবে। এইরূপ পরিস্থিতি দেখিয়া কেয় কেহ এই থাকাল্টাও করিতে থাকিবে যে আমাকে যদি হিসারের জন্য ন ডাকিয়া জাহান্নামে নিক্ষেপ করিভ। তাহা হইলেও আমার জন্য কতইনা ভাল হইত।। কেননা এইরূপ হইলে তো আমার বদ আমলগুলি তাহাদের সামনে পেশ করিতে হইত না এবং সকলের সামনে এইগুলি প্রকাশ হইত না। জিজ্ঞাসাবাদের পূর্বে আল্লাহ পাকের আরশের খুব প্রকাশ পাইবে। এই নূর ধরা হাশরের ময়দান আলোকিত হইয়া পড়িবে। তখন প্রত্যেক বান্দার এই বারমা হইবে যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আল্লাহ পাক এই দিকে মনোনিবেশ করিয়াছেন। প্রত্যেকে ধারনা করিবে যে তাহার ছাড়া অন্য কেই ইয়া দেখিতে পাইতেছে না। শুধু তাহাকেই ধর-পাকড় করা হইবে। অন্য কাহাকেও করা হইবে না। তখন এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করিতে। মহাপরাক্রমশালী আরাহ পাক হযরত জিবরাইল (আঃ।কে নির্দেশ দিবেন, জাহান্নাম ভাহার কাছে বইয়া অস্তর জ। হয়রত জিবরাইল।অঃ হায়দ্রামের কাছে স্বাসিয়া বলিবেন যে স্বীয় সৃষ্টিকর্ত

পৃষ্ঠা:২৭

মালিকের নির্দেশ পালন কর। তাঁহার কাছে উপস্থিত হও। এ সময় আহল্লাম গোয়া ও রাগান্বিত থাকিবে। হযরত জিবরাইলের (আঃ। এই আহবান গুনিয়া গোম্বার পরিমান আরও বাড়িয়া যাইবে। বাদে ফাটিয়া পড়িবার উপক্রম হইবে। মাকলুকের দিকে মনোনিবেশ করিয়া জোরে জোরে হস্কার দিতে থাকিবে। লোকজন ইহার জোশ ও বিকট ধ্বনির হুক্কার শুনিতে থাকিবে। যাহারা আল্লাহর নাফরমানী করিয়াছে, আমামের রক্ষক তাহায়দের প্রতি রাগ ও গোষায় অগ্নি শর্মা হইবা উঠিবে। মুষরা। চিন্তা করিয়া দেখ ঐ পরিস্থিতিতে মানুষের অন্তরের অবস্থা কি হইবে। ভয় ও আত্মাকে অন্তর প্রায় কাটিয়। যাওয়ার উপক্রম হইবে। উপুড় হইবা হাটু নীচে দিয়া পড়িয়া যাইবে। পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিয়া উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াইতে থাকিবে। নাফরমান ও আলেম ব্যক্তিরা আফসোস করিয়া বলিতে থাকিবে যে হায়। আমরা ব্যাগ হইয়া গেলাম। এমতাবস্থায় জাহান্নাম দ্বিতীয় বার হস্তার দিয়া উঠিবে। তথন মানুষের প্রয় ও আতাক দ্বিয়ণ হইয়া উঠিবে। তাহারা শক্তি হারাইয়া ফেলিবে। তাহারা পেষ্ট বুঝিতে পারিবে যে এখন তাহাদিগকে হেপ্তার করা হইবে। জাহান্নাম। তৃতীয়বর হক্কার দিবে। ফলে মানুষ উপুড় হইয়া অধোমুখে পতিত হইবে। তাদে আলেমদের আত্মা যেন তাহাদের গলা পর্যন্ত আসিয়া পড়িবে। নেককার বদকার সকলের বিবেক নষ্ট হইয়া পড়িবে। অতঃপর আল্লাহ পাক নবী বাসুলদের দিকে মনোনিবেশ করিবেন। তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিরেন যে দুনিয়াতে যানুন তোমাদের বাচ্যাতের কিভাবে জবাব দিয়াছেন? নবী বাসূলগণের এমন কড়া জিজ্ঞাসাবাদ সেখিয়া গোনাহগারদের মধ্যে সীমাহীন জাতণক সৃষ্টি হইবে। তখন পিতা পুত্র হইতে, ভাই ভাই হইতে, স্বামী-স্ত্রী হইতে পলায়ন করিতে থাকিবে। প্রকোষে নিজ নিজ চিন্তাষ থাকিবে যে না জানি কি হয়? তাহাদিগকে একজন একজন করিমা বরিয়া আল্লাহর দামনে তাহাদের ছোট বড় প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হইবে। তাহাদের হাত, পা এবং সবল শুঙ্গ-প্রতঙ্গ সম্পর্কে নিমামাবাদ করা হইবে। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ। থেকে বর্ণিত আছে যে, লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসান্তায় কে জিজ্ঞাসা কবিণ, ইয়া বাসূলুল্লাহ সায়ারাহ ঝালাইয়ি বব্যনাল্লাম কিয়ামতের দিনে আমরা কি স্বীয় প্রতিপালক কে দেখিকে পাইব? তিনি উত্তর দিলেন- হ্যাঁ, দুপুরে যদি সুর্য্য মেঘে ঢাকা না থাকে তাহা হইলে কি তোমাদের দুর্গা মেখিয়ে কোন অসুবিধা হয়। তাহারা বলিল না। রাসূলুল্লাহ সারভাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার বলিসেন- পূর্নিমার রাত্রে যদি চন্দ্র মেঘে ঢাকা না থাকে তাহা হইলে এই চন্দ্র যেদিকে তোমাদের কোন অসুবিধা হয় কি? তাহারা বদিন না। তিনি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ঐ সত্ত্বার কসম করিয়া বলিতেছি যাহার হাতে আমার জীবন যে, আল্লাহকে দেখিতে তোমাদের কোন সন্দেহ সংশয় ও দ্বিধা করিতে হইবে না বরং স্পষ্ট লেখিতে পাইবে। অতঃপর বান্দাদের সথে তাঁহার সাক্ষাৎ হইবে। তিনি বলিবেন আমি কি তোমাকে সম্মানিত কবি নাই। তোমাকে নেতৃত্ব দেই নাই। তোমাকে সহধর্মিনী প্রদান করি নাই। ঘোড়া উট প্রকৃতি জন্তু তোমার অধীন করিয়া দেই নাই। বালা বলিরে র‍্যাঁ, আমাকে এই সব নিয়ামার প্রদান করিয়াছেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করিবেন, তোমাকে আমার সামনে দাঁড়াইতে হইবে, এই বিশ্বাস রাবিতে কি? সে বলবে না। অখন আল্লাহ পাক বলিবেন যে তুমি আমাকে ভুলিয়া গিয়াছিলে। সুভঙ্গ আমিও তোমাকে তুলিয়া যাইতেছি। সুতরাং যে মিসকীন! একটু ভাবিয়া দেখ-যান ফিরিশতা তোমার বাহুদ্বয শক্ত করিবা ধরিতে। আর তোমাকে আল্লাহ পাকের দামনে দন্ডায়মান করিবে। স্ক্রিনি তোমাকে সম্মুখে প্রথিয়া সরাসরি জিজ্ঞাসা করিবেন, আমি কি তোমাকে যৌবন দান করিয়াছিলাম ন্যা এখন বল- তোমার যৌবন কিভাবে কাটাইয়াছ? তোমার জীবনে তোমাকে দুর্যোগ নিয়াছিলাম না ইয়। তুমি কিদের মধ্যে ব্যয় করিয়াছ? আমি তোমাকে যে বন-সম্পদ প্রদান করিয়াছিলাম তাহা কোথায় কোথায় হইতে অর্জন করিয়াছিলে। এবং এইগুলি কোন কোন ক্ষেত্রে খরচ করিয়াছ। আমি তোমাকে জানের যে সম্পদ দিয়াছিলাম, ইয়া জরা তুমি কি কি আমল করিয়াছ। সুতবাঃ তুমি খুব ভাবিয়া দেন যে যখন আল্লাহ পাক এইঙ্গবে তোমার প্রতি বসন্ত নিয়ামতসমূহ আর তেমার নাফরমানী গুলি গননা করিয়া করিয়া বলিতে থাকিবেন, তখন তুমি কেমন গজ্জায় পতিত হইবে? যদি তুমি অস্বীকার করিতে চাও। আহা হইলেও তুমি সাড়িয়া যাইতে পরিবে না। কারণ তখন তোমার অঙ্গ প্রত্যঙ্গসমূহ তোমার বদ আমল গুলি প্রকাশ করিয়া দিভে খাকিবে। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- একন্য আমরা রাসূলুল্লাহ সায়াতুজ আসাইছি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। হিমি হাসিলেন। স্বতঃপর আমাদিগকে বলিলেন, আমি কি জ্য হাসিয়াছি তোমরা তাহা জন্য আমরা বলিলাম যে আল্লাহ ও তদীয় রাসুল অধিক হল জানেন। তিনি বললেন যে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ পাকের সাথে বাশার যে সব কথ্য বার্তা হইবে কন্যধ্যে এক ব্যক্তির কথ্যস্ততার কথা ঘরণ হইয়াছে। বালা বলিবে- আয় এলাহি। আপনিতো আমার প্রতি যুলুম করিবেন না। আল্লাহ পাক বলিবেন- হ্যাঁ। কোন প্রকারের কুলুম হইবে না। যে বলিবে, আয় অল্লাহ। আমি যখন কোন কথা বলিয় তখন ইহার সায়ী যেন আমার মধ্য থেকে বওয়া হয়। অয়্যাহ পাক বলেন, “আজ হিসাব গ্রহণের জন্য তুমিই যথেষ্ঠ। কেরামান কাতেবীনই যথেষ্ট সাক্ষী। অন্তরূপর বাশার মুখে সীল

পৃষ্ঠা:২৮

নাগাইয়া দেওয়া হইবে এবং ভারার স্বঙ্গ-প্রতঙ্গকে বলিতে নির্দেশ দেওয়া হইবে। অঙ্গ প্রতঙ্গ গুলি তাহার সমস্ত আমলের করা খুলিয়া ধুলিয়া বর্ণনা করিবে। অতঃপর যখন তাহার মুখের উপর হইতে সীল দরাইধা সভ্য হইবে। তখন সে স্বীয় অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলিকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিবে, তোমাদের ধ্বংস হউক। তোমরা আমাদের পক্ষে কথ্য বঙ্গ নাই। এস্তকার বলেন যে আমাদের অঙ্গসমূহ আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করিয়া আমাদিগকে মাখলুকের সামনে লজ্জিত করা হইতে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। তবে আল্লাহ পাক ওযাসা করিয়াছেন যে তিনি মুমিনদের এই অবস্থাকে ঢাকিয়া রাখিবেন এবং তাহাদের অবস্থা তাহাদের ছাড়া অন্য কাহাকের প্রকাশ করিবেন না। কোন এক ব্যক্তি হযরত ইবনে ওমর (রা) এর কাছে জিজ্ঞাসা করিলেন যে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ পাক কোন কোন বাশার সাথে কানে কানে কথা বলিবেন বলিয়া বর্ণিত আছে। ইহা কিরূপ হইকে এই সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহর সারাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কি শুনিয়াছেন। ইবনে ওমর (বায়। বলিলেন, রাসূসূল্লাহ সরায়াহ আলাইহি ওখাসাল্লাম বলিয়াছেন যে তোমাদের মধ্যে এক বাক্তি আল্লাহ পাকের এত নিকটবর্তী হইবে যে তিনি এই ব্যক্তির কন্ধের উপর দ্বিতীয় হাত রাখিবেন এবং তাহাকে জিজ্ঞাসা করিবেন চে তুমি কি অমুক অমৃত জগরাণ কর নাই। সে স্বীকার করিবে এবং বলিতে যে হ্যাঁ, করিয়াছি, তখন আল্লাহ পাক বলিবেন যে আমি দুনিয়াতে তোমার এই সকল অপত্তাব সমূহ গোপন করিয়া রাবিয়াছি, তখন অল্লাহ পাক বলিবেন যে আমি দুনিয়াতে তোমার এই সকল অপরূরসমূহ গোপন করিয়া রাখিয়াছি। কারারও কাছে প্রকাশ হইতে দেই নাই। আজ আমি তোমায় এইসব অশয়ার ক্ষমা করিয়া দিতেছি। হাদীস শরীফে আছে, রাসুলুল্লাহ সারপ্রাছ ঝালাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দোষ গোপন রাখিবে কিয়ামতের দিনে আল্লাহ পাক তাহার দোষসমূহ গোপন করিয়া রাখিবেন। এই হাদীছে, এমন লোকের কথা বলা হইয়াছে যে অন্য লোকের দোষ গোপন করিয় রাখে। যদি অন কেহ তাহার নিজের বেলায়ও কোন অপরাধ করিয়া বসে এবং সে তাহা সহ্য কবিয় থাকে মানুষের কাছে তাহা প্রকাশ না করে। তাহার অনুপস্থিতিতে এমন কথা বলেনা বাহা শুনিলে সে অনন্তুষ্ট হইও- এই প্রকারের বরক্তিও কিয়ামাতের দিনে হাদীছে উল্লিখিত বিনিময় লাভ করিবে।যদি মনে কর কোন রাক্তি কাহারও দোষ গোপন করিয়াছে। কিন্তু ঘটনাচক্রে তোমার কর্ষে পৌঁছিয়াছে। এখন ইহার হেফাজত করা এবং গোপন করিয়া রানা তোমার জন্যও একান্ত উচিত। তোমারও স্বীয় গোনাহের জন্য ভয় করা উচিত। কেননা বিবামতের দিনে তো তোমাকেও মাথার চুল ধরিয়া টানিয়া হেচড়াইয়া নেওয়া হইবে। তখন তোমার অবস্থা কি হইবো তোমার অন্তর কি বলিতে থাকিবে? তখন কি তোমার আবল উড়িয়া যাইবে না? তোমার হাত পা ভয়ে জড়সড় হইয়া পড়িবে না, তোমার দেহের বা পরিবর্তিত হইয়া পড়িবে না? তোমাকে তো মানুষের সারির মধ্য দিয়া টানিয়া লইয়া যাওয়া হইবে। সমস্ত মাখলুক তোমার দিকে চাহিয়া থাকিবে। হে মায়া! মনে কর ঐ অবস্থাটি তোমার হইবে। তুমি খুব ধ্যান করিয়া দেখ যে ফিরিশতা তোমাকে এই অবস্থার গ্রেপ্তার কবিঘা লইয়া যাইবে। এমনকি শেষ পর্যন্ত আল্লাহ পাকের আরশের সম্মুখে নাঁড় করাইবে। আল্লাহ পাক তোমাকে জাকিয়া বলিবেন হে আদম সন্তান। আমার কাছে আসে। এখন ভূমি বিষন্ন বদনে, অস্থির চিত্রে, ভীত ও আতংকিত অবস্থায়, অবনত দৃষ্টিতে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হইয়া তাঁহার নিকটে যাইবে। আল্লাহ পাক তোমার আমল লম্বা তোমার হাতে প্রদান করিবেন। ইহাতে ছোট বড় সকল গোনাহই লিপিবদ্ধ থাকিবে। তুমি অনেক অপরব ও বদমামল ভূলিয়া গিয়াছিলে। কিন্তু স্বাজ আমলনামা দেখিয়া ঐ সবল রসআমল এখন স্মরণ হইবে। জত ইবাদতে কত ক্ষতি করিয়ায় আজ তাহা পুঙ্খানুপুঙ্গ রূপে আমল নামায় দেখিতে পাইবে। এই সময় তুমি কতটুকু লাঞ্ছিত হইবে? তুমি কতটুকু সাহস হারা হইয়া পড়িবে। তোমার কতটুকু অপারগতা ও অসহায়ত্ব বকাশ পাইবে কে জানে। অতঃপর তুমি কোন পায়ে আল্লাহ পাকের সামনে দন্ডায়মান থাকিবে, কোন মুখে কথা বলিকে আর যাহা বলিবে তাহা কোন অন্তর যারা বুঝিবে। কে জানের এখন তুমি উল্কা করিয়া দেখ, যখন অল্লাহ্ পাক সামনা সামনি তোমার সকল গোনাহগুলি তোমাকে স্মরণ করাইয়া দিবেন। তখন তুমি কতটুকু রজ্জায় নিমজ্জিত হইবে? অর্থাৎ আল্লাহ পাক যখন বলিবেন যে হে আমার বান্দা। তোমার কি আমায় সাপর্কে একটুও সজ্জা হইল ন্যং এখন এইসব দোষত্রুটি লইয়া আমার সামনে আসিয়াছ? তুমি তো আমার মাখলুকের সম্পর্কে বদ্জ্জা করিয়াছিলে যাহার জলে তাহাদের জন্য প্রাণ ভাল কাজগুলি করিয়াছ। তবে কি তুমি আমার বান্দাদের তুলনায় আমাকে নীচভত্ত মনে করিয়াছ? আমি তোমাকে সর্বদা দেখিতে পাইতাম, ইহাকে তুমি হালকা মনে করিয়াছ। আমার দর্শনের কোন পরোয়া কর নই। আামার তুলনায় অন্যের দর্শন বড় মনে করিয়াছ। আমি কি তোমাকে অনেক। নেয়ামত প্রদান করি নাই? কিসে আমার সম্পর্কে তোমাকে ধোকায় ফেশিয়া বাবিয়াছিল। তোমার কি এই ধারুন ছিল যে আমি তোমাকে দেখিতেছি না এর তোমাকে আমার সান্ধবে আসিতে হইবে নাঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ পাক প্রত্যেক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিবেন। তথন

পৃষ্ঠা:২৯

আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে কোন পর্দা থাকিবে না এবং তাহাদের মধ্যে কোন দোভাষীও খাকিবে না। এক হাদীয়ে আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়ালল্লাম বলেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে আল্লাহর সম্মুখে দন্ডায়মান হইতে হইবে। ঐ সময় অল্লায় পাক ও বাশার মধ্যে কেস পদ্য থাকিবে না। ভবন অল্লাহ পাক বান্দাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিবেন যে আমি কি তোমাকে নেয়ামত দান করি নাই? আমি কি তোমাকে বন-সম্পদ নেই নাই? দে বলিবে- কেন দিবেন না। আপনি এই সব কিছুই দিয়াছেন। আল্লাহ পাক আবার জিজ্ঞাসা করিবেন যে আমি কি তোমার কাছে রাসূল প্রেরণ করি নাই। সে বলিবে নিশ্চয়ই প্রেরণ করিয়াছেন। অতঃপর সে ডান দিকে দেখিবে অগ্নি কতীও অন্য কিছুই পাইবে না। বাম দিকে দেখিবে শুধু অল্লিই দেখিতে পাইবে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের উচিত ঐ অস্ত্র হইতে বড়িয়া থাকা। লান করার মাধ্যমে অগ্নি হইতে বাঁচা যায়। যদি অধিক না পার তাহা এইলে অর্ধটি খেজুর হইলেও দান করিয়া অগ্নি হইতে বাঁচিবার উপায় অফলগুন কর। যদি ইহাও সম্ভব না হয় তাহা হইলে পবিত্র ও নেক কথা বলিয় হইলেও জাহান্নাম হইতে আত্মরক্ষা কর। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, তোমরা পূর্নিমার চাঁদের সামনে নাড়াইলে যেমন অতোকে পৃথক পৃথকভাবে পুর্নিমার চাঁদের সামনে দাঁড়াইয়ায় বলিয়া মনে হয়, ঠিক এই ভাবেই তোমরা পৃথক পৃথক ভাবে আল্লাহ পাকের সামনে সাঁড়াইতে হইবে। তখন অল্লাহ পাক বলিবেন, হে ইবনে আদম! কি জিনিসে তোমাকে খামার সন্ধছে থোকায় ফেলিয়াছে। হে ইবনে আদম। তুমি যাহা জানিয়াহ সে অনুযায়ী কি কি আমল করিয়াছ? হে ইবনে আদমা তুমি পয়গম্বর দিগকে কি জবাব দিয়াছ? হে ইবনে আদম। যে জিনিস দেখা আমি তোমার জন্য অবৈধ করিয়া ছিলাম তুমি যখন তাহা দেখিতেছিলে এখন কি আমি তোমার চক্ষু দেখিতে পাইয়াছিলাম না। আমি যেসব বিষয় শ্রবন করা তোমার জন্য অবৈধ করিয়াছিলাম তুমি যখন তাহা শ্রবন করিয়েছিলে কনন কি আমি তোমার কর্ন দেখিতে পাইয়াছিলাম না। এইভাবে জিজ্ঞাসা করিতে থাকিবেন। এমনকি তাহার সকর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সম্বন্ধে অনুরূপ জিজ্ঞাস্যবাদ করিবেন। হযরত মুজাহিদ।বহয়। বলেন যে, বাদ্য যতক্ষন পর্যন্ত চারটি প্রশ্নের জবাব না দিতে পারিবে ততক্ষন পর্যন্ত দে আল্লাহর সামনে থেকে পা উঠাইতে পারিবে না। (১) তাহার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইবে। কিভাবে জীবন যাপন করিয়াছে। (২। তাহার ইলম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইবে যে সে ইলম অনুযায়ী করুটুকু আমল করিয়াছে। ২৩। সেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইবে। কি কাজের মঞ্চে আহার দেহ নিম্ন ছিল। ৪। ভায়ার ৩০-লম্পন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইবে। কোথায় থেকে উপার্জন করিয়াছে এবং কোথায় বায় করিয়াবে।। যুভরা হে মিসকীন। এই জিজ্ঞাসাবাদের সময় তোমার কতটুকু লজ্জা হইয়ে, ভাবিয়া নেগিয়াছ কি? তুমি করবড় আশংকায় ভূগিবে। কেনন দুই অবস্থার যে কোন এক অবস্থা তোমার জন্য হইতে বাধ্য। হয়তো তোমাকে বলা হইবে যে- দুনিয়াতে যেভাবে খামি তোমার গোনাহসমূহ গোপন করিয়া রাখিয়াছিলাম। আজ তাহা ক্ষমা করিযা নিয়ছি। এই অবস্থায় তুমি খুব আনন্দে থাকিয়ে। পূর্বাপর সকলে তোমার প্রতি ঈর্ষা করিতে থাকিবে। কারণ তুমি সবচেয়ে বড় পুরষ্কার পাইয়ছ। অথবা ফিরিশতাদিগকে নির্দেশ দেওয়া হইবে তমারা যেন তোমাকে বন্দী করিয়া গলায় বেড়ী পরাইয়া দেয়। অতঃপর জাহান্নামে প্রবিষ্ট করায়। এই অবস্থান গদি আসমান ধর্মীও তোমার অবস্থা দেখিয়া ক্রন্দন করে তথন তোমার বিপদ আরও অধিক হইবে এবং তোমার আফসোস আরও বৃদ্ধি পাইবে। এই জন্য যে ভূমি অম্লাহর ইবাদতে গাফলতি করিয়াজ ও নশ্বর পৃথিবীর কারণে আখেরাত বরবাদ করিয়াছ।

আমলের ওজন: আমাদের ওজন সম্পর্কে চিন্তা ফিকির করিবার ক্ষেত্রে অসতর্ক ও উদাসীন থাকা উচিত নহে। আমলনামা প্রদানের সময় আমলনামা ডান হাতে আসে না বাম হাতে আসে এই ব্যাপারের বেথবর থাকা ঠিক নয়। আল্লাহ পাক মানুষকে জিজ্ঞসাবাস করার পর মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হইয়া পড়িবে। এক প্রকারের শোক যাহাদের আমল নামায় কোন সওমার নাই। কৃষ্ণ গ্রীবা বিশিষ্ট এক প্রাণী ভাহানের উদ্দেশ্যে জাহান্নাম হইতে বাহির হইয়া অদিয়ে। পাখী যেভাবে স্বীয় ঠোঁটি দ্বারা দান্য তুলিয়া নয় এই প্রাণীটি তাহাদিগকে এইভাবে একটি একটি করিয়া ভূলিয়া আহস্রামে নিক্ষেপ করিবে। জাহান্নাম তাহাদিগকে গলধঃকরন করিবে। তাহাদিগকে আহ্বান করিয়া বলা হইবে যে তোমরা চিরদিনের জন্য দুর্ভাগ কখনও তোমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হইবে না। দ্বিতীয় প্রকারেণ লোক, যাহাদের আমল নামায় কোন বদআমল বা গোনাহ খাড়িবে না, এক ঘোষক যোজনা করিবে যে যাহারা সর্বদা আল্লাহ পাকের প্রশংসা করিত তাহারা দাড়াইয়া যাও। এই ঘোষনা অনিয়া আল্লাহ পাকের প্রশংসাকারীরা দাড়াইরে এবং জান্নাতে প্রবেশ করিবে। তাহাজ্জুদের নামায পাঠকারীদের সাথেও অনুরূপ আচরন করা হইবে। অতঃপর যাহাদের ব্যবসা বাণিজ্য ভাহাদিগকে আল্লাহর ক্ষরণ হইতে বিরত রাখিতে পারে নাই। তাহাদের জন্যও অনুরূপ ঘোষণা দেওয়া হইবে। তাহাদের সৌভাগ্যশালীতার কথা ঘোষণা করিষ্য দেওয়া হইবে। ইহাও বলিয়া দেওয়া হইবে যে কোনদিন তারারা দুর্ভাগ্যের গন্ধবীন হইবে না। তৃতীয় একারের লোক বাহাদের আমল সং ও অসৎ আমলের দ্বারা মিশ্রিত। কিছু সৎ আমলও করিয়াছে। আবার কিছু অসৎ আমলও করিয়াছে। তাহাদের সমুদয় আমল সম্পর্কে তাহাদের নিজেদের জানা থাকিবে না।

পৃষ্ঠা:৩০

অথচ অল্লাহ পাকের সামনে তাহাদের কোন আমল গোপন থাকিবে না। সব কিছু প্রকাশিত থাকিবে। আল্লাহ পাক কিয়ামতের ময়দানে তাহাদের সমুদয় অবস্থা তাহাদের সামনে খুলিয়া নিবেন। তিনি যদি তাহাদের ক্ষমা করিয়া দেন তাহা হইলে তাহারা নিজেদের আমলনামা দেখিয়াই যেন বুঝিতে পারে যে, একমাত্র আল্লাহ পাকের দয়া ও অনুগ্রহের কারণেই ক্ষমা পাইয়াছে। আর যদি তাহাদিগকে শাড়ি প্রদান করেন ভাহা হইলে তাহারা যেন বুঝিতে পারে যে তিনি তাহাদের প্রতি অবিচার করেন নাই। বল তাহারা প্রকৃত পক্ষেই এই শাস্তি পাওয়ার যোগ্য ছিল। তাহাদের প্রতি ন্যায়বিচারই করা হইয়াছে। এইজন্যই তাহাদের আমলনামা উড়াইয়া দেওয়া হইবে। নেকী-বলী ওজন করিবার পাল্লা কায়েম করা হইবে। সকসে উচুদ্ধ আমলনামার দিকে তাকাইয়া দেখিতে থাকিবে আর আমলনামা ডান হাতে পড়ে না বাম হাতে পড়ে, এই চিন্তার দিশাহারা থাকিবে। এই দিকে কাটার দিকে দেখিতে থাকিয়ে যে নেক আমলের পাল্লা কারী হয় না হালকা হয়। এই সময়টা বড়ই সংকটপূর্ণ ও ভীতিকর সময়। ভয়ভীতির কারণে মাখলুকের বিবেক পর্যয় বিলুপ্ত হইয়া পড়িবে। অপর এক স্থান হইল গুলদিগ্রত। হযরত আনাস (রাঃ। বলেন, যাহার পাপ-পুণা ওজন করা হইবে- হুজন করিবার সময় সাহাকে পাল্লার মধ্যকাণে আনিয়া দাঁড় করিয়া দেওয়া হইবে। তাহার জন্য একজন ফিরিশতা নির্ধারণ করা হইবে। যদি তাহার নেকীর পাল্লা ভারী হয় তখন ফিরিশতা অতি উচ্চস্বরে ঘোষনা করিতে থাকিবে। মাঠে উপস্থিত জরুল মাখলুক ফিরিশতার যোজনা গুনিতে পাইবে। সে ঘোষণা করিবে যে, অমুক বান্ডি বেভাগ্যশালী। এমন সৌভাগ্য নাভ করিয়াছে যাহা কখনও বিলুপ্ত হইয়ে না। সে আর কখনও দূর্ভাগ্যের মুষও দেখিবে না। যদি তাহার শেকীর পড়া হালকা হয়। আর পাশের পাল্লা ভারী হব। তাহা হইলে এই ফিরিশতা মানুষকে শুনাইয়া ঘোষণা করিবে যে, অমুক ব্যক্তি দুর্ভাগা। সে কথদণ্ড সৌভাগ্যের অধিকারী হইবে না। বেকীর অল্লা হালকা হইলে জাহান্নামের ফিরিশতা লোহার অর্জু হাতে লইয়া এবং অগ্নির পোশাক পরিধান করাইয়া ভাহাদিগকে যোরার করিবে এবং তাহাদিগকে আবাদামে বইয়া যাইবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ স্বালাইহি এব্যসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক হযরত আদম মোঃ। কে ভাকিয়া বলিবেন, হে আদম। যাহারা আহস্থ্যমে প্রবেশ ভরিবার লোক ভাহাদিগকে জাহান্নামে প্রেরণ কর। হযরত আদম খোঃ। বলিবেন, আরাহ। এত সংখ্যক লোক আাহামে যাইবে। স্বাল্লাহ পাক বলিবেন যে প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই গুন। পাহাবাগণ ইয়া গুনিয়া হতবাক হইয়া পড়িবেন। তাহাব। চিন্তাযুক্ত হইয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ সল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তোমরা স্বপ্নেগ্রাদ্দ্যম হইওনা। সাহস হারাইয়া ফেলিও না। কেননা সময় মানুষের মধ্যে ইয়াজুজ মাজুজ সম্প্রদায়ের লোক সংখ্যা এত অধিক হইবে যে ভাহাদের প্রতি হাযাবের তুলনায় তোমরা হইবে একজন। আল্লাহর কসম ওরিয়া বলিতেছি যে, যত লোক জান্নাতে প্রবেশ করিবে তন্মধ্যে তোমরা হইবে এক তৃতীয়াংশ। বর্ণনাকারী বলেন যে সাহাবাগন এই ঘোষণা শুনিয়া আল্লাহ পাকের প্রশংসা করিলেন এবং আল্লাহ আকবর স্বানি দিলেন। অতঃপর নবী করীম গয়াল্লহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুল্লায় বলিবেন ঐ সত্ত্বার শপথ করিয়া বলিতেছি গাহার কুদরতী হাতে আমার জীবন, আমি আশা করি যে তোমরাই হইয়ে অধিক জন্নাতী। তোমাদের সংখ্যাকে ইয়াজুজ মাজুজ্যের সংখ্যার তুলনা করিয়া এইভাবে বলা যায় যে মনে কর একটি গরুর সমস্ত দেহ কাল, বিষ্ণু ইহার দেহে একটি মাত্র দোম লাসা, গরুর দেহের সালা লোমটি হইল তোমাদের সংখ্যার উলাহরণ। অর ইহার দেহের সমস্ত কাল সোমবলি হইল তাহাদের সংক্ষার উদাহরণ।

অন্যান্যদের হক প্রদানের আলোচনা:দেকী ও পাগ গুান করিবার সময় মানুষ কতটুকু তীর ও আতংকিত থাকিবে- ইহার আলোচনা তো হইয়াছে। প্রত্যেকেই স্ব স্ব আমলের ভজনের সময় পাল্লায় কাঁটার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাতাইয়া থাকিবে। না জানি তাহার আমদের পড়ার কি অবস্থা হয়। যদি তাহার আমলের পন্নরা ভাবী হয় তাহা হইলে সে অস্থিরতা যুক্ত হইল। আর যনি পাল্লা হালকা হয় ভাহা হইলে তো প্রজ্জ্বলিত অগ্নিই তাহার জন তবে যাহারা কিয়ামতের ময়সাশের হিসাব নিকাশ ও আমলের জজদের আশংকায় আতংকিত হইয়া দুনিয়ার জীবনেই নিজের হিসাব নিজে গ্রহণ করিয়াছে এজ নিজের আমল ও কথাবার্তা শরীয়তের ওজন করিয়া চলিয়াছে, আজ তাহারা মুক্তিলাভ করিবে। হয়ছে অথবাঃ। বলেন, তোমার হিসাব গ্রহণ করিবার পূর্বে তুমি নিজেই নিজের হিসাব গ্রহণ কর। তোমাকে ওজন করিবার পূর্বে দিজে নিম্নতে এজন কর। কেন ব্যক্তি দিরের হিসাব নিজে গ্রহণ করার অর্থ মৃত্যুর পূর্বে খালেদ্ধ ভাবে তাওবা করা। অল্লাহ পাকের পক্ষ হইতে গান্সার প্রতি যেনর ফরজ নাইকাম নির্ধারিত ছিল, এই সবে কোন প্রকার ত্রুটি থাকিলে তাহা পূর্ণ করিয়া গওয়া। যাহার কোন প্রকার হক গাইবে, তাহা পুরপুরিভাবে আমায় করিনা দেওলা। যু ও হাতের ঘানা যাহাদের ইজ্জত সম্মান নষ্ট করিয়াছে এবং অন্তর ছরা যাহাদের প্রতি বুবাবনা করিয়াছে, সেগুলি ক্ষমা করাইয়া লওয়া। মানুষের মন খুশী রাখা। এমনকি মৃত্যুর সময়ও সেন কাহারো হক বা অধিকার ঘাড়ে না থাকে। এমন বাজি হিসাব ব্যতীতই আন্নাতে প্রবেশ করিবে।

পৃষ্ঠা ৩১ থেকে ৪০

পৃষ্ঠা:৩১

তাহার দায়িত্বে অন্যান্য লোকের যে সমস্ত হক ছিল যদি তাহা পরিশোর করিবার পূর্বে মরিয়া যায়, তাহা হইলে কিয়ামতের দিন হকদারেরা তাহাকে বিরিয়া ধরিবে। কেহ তাহার হাত ধরিবে। কেহ তাহার মাথার চুল বরিবে। কেহবা তাহার জামার কলার ধরিয়া বলিবে, ভূমি আমার প্রতি অত্যচার করিয়াছিলে। কেহ বলিবে, তুমি আামাকে গুলি দিয়াছিলে, কেহ বলিবে, তুমি আমাকে বিদ্রুপ করিয়াছিলে, কেহ বলিবে, বেচাকেনা করুর সময় তুমি আমাকে বোকা দিয়েছিলে, কেহ বলিবে- ভূমি আমার বন-সম্পদ লুট করিয়াছিলে, বেচাকেনার সময় তোমার জিনিসের দোষত্রুটি গোপন রাখিয়া আমার প্রতি প্রবঞ্চন করিয়াছিলে, কেহ বলিবে ও তুমি বিক্রি করিবার দময় তোমার জিনিসের মুন্ধ্য বালতে গিয়া মিথ্যা বলিয়াছিলে, কেহ বলিবে, তুমি জানিতে যে আমি অভাবী ছিলাম সার তোমার কাছেও থামাকে প্রদানের মত সম্পন ছিল কিন্তু তুমি আমাকে এক বেলা খাদ্যর দাও নাই। কেহ বদিবে, তুমি জানিতে যে আমি অত্যাচারীও ছিলাম। তোমার অত্যাচার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু তুমি আমার সহায়তা কর নাই এবং অত্যাচারীকে ক্ষমার চোখে দেখিয়াছ। সুতরাং যে আত্মা। ঐ সময় তোমার কি অবস্থা হইবে যখন হকনার তোমার দেহে তাহার নখ গাড়িয় বনিবে। তোমার জামার কলর চাপিয়া ধরিবে। এইভাবে যখন দেখিবে যে তোমায় কাছে হক পাওনাদারের সংখ্যা অধিক তখনতো তুমি অস্থিয় ও বিব্রত হইয়া পড়িবে। এমন কি তুমি সুনিয়াতে থাকাবস্থায় যাহার সাথে এক টাকারও লেনদেন করিয়াছ অথবা কাহারও সাথে এক বৈঠকে বসিমাজ অথচ সে তোমাক কাজে কিন্তু পাইবে বা সে তোমার কাছে কোন কিছুর হকদার। তুমি তাহার গীবত করিয়াছ বলিয়া বা তাহার কোন কিছুর খেয়ানত করিয়ায় নলিয়া অথবা বৃদৃষ্টিতে তাহাকে দেখিয়াছ বলিয়া বা অন্য যে কোন কারণেই হউক না কেন দে তোমার কাছে কোন না কোন ভাবে হকদার। এই সল হকনার যখন তোমাকে থিরা ধরিবে। তখন তুমি স্বীয় প্রচুর প্রতি স্বীয় গর্দান বুকাইয়া দিবে এই আশায় যে তিনি তোমাকে তাহাদের হাত থেকে ছুটাইয়া দিবেন। তখন তেমোর কর্নে অল্লাহ পাকের এই ঘোষণা পৌঁছতে।اليوم تجري كل نفس بما كنت لا تعلم اليوم.অর্থাৎ প্রত্যেকে ব্যক্তি যাহা করিযাছে আজ ইহার বিনিময় পাইবে। আজ কোন সুরা মু-মিন/ আয়াত ১৩০প্রকার জুলুম হইবে না।” প্রখন তো তোমার কলিজা কাটিয় যাওয়ার উপক্রম হইবে। তোমার বিশ্বাস হইয়া যাইবে যে, তোমার কোন উপায় নাই। তুমি ধ্বংসের পথে চলিয়াছ। তখন তোমার ঐ কথা খরণ হইবে যাহ্য তোমাকে উপদেশ প্রদান করিবার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওহংসাল্লাম এর জবানে তোমাকে শুনাইয়া ছিলেন تَحْسَبَنَّ الله قايلا ممَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا الاخيرهم اليوم تشخص فيه الأنصار مُهْطِعِينَ مُعي لديهم لا يريد اليهم طرقهم والدتهم هواء “আলেমরা যাহা করিতেছে স্বাল্লাহকে তোমরা তাহা হইতে বেখবর মনে করিবে না। তিনি তাহাদিগকে ঐ দিন পর্যন্ত সময় লিখাছেন যেদিন চোখ উপরের দিকে তাকাইয়া থাকিবে। তাহায় উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াইতে থাকিবে। নিজেদে। দিকেও দৃষ্টি ফিনাইতে পারিবে না এবং তাহাদের অন্তর উড়িয়া যাইবে।” অতএব মানুষের ইংযত সম্মান নষ্ট করিয়া এবং তাহাদের ঘন লম্পদ লুটপাট করিয়া যত খুশীই হওনা কেন যেদিন তোমাকে ইনসাফের কাঠগড়ায় দাঁড় করাইয়া শাসনের ভাবায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হইবে। সেদিন না জানি আজকের খুশীর তুলনায় তোমাকে কর অধিক পরিতাপ করিতে হয়। তখন তো তুমি হইবে দিঙ্গে অসয়ার, মুখাপেক্ষী এবং অপমানিত ও লাঞ্ছিত। একদিকে হকও পরিশোধ করিতে পারিতেছ না আবার কোন ওজর আপত্তি গ্রহযোগ্য করিয়া ভুলিতে পারিতেছ না। অধিকন্তু যে নেত্রী গুলি উপার্জন করিবার জন্য তোমার সারাটা জীবন ব্যথ করিয়াছ আজ ভাহ্য হয়নারদের হক আদায় করিবার বিনিময়ে ভাহাদিগকে দিয়া। দিতে হইতেছে। হাত আবু হোরায়রা (রায়। হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারাবাদিগকে বলিয়াছেন, কোন ব্যক্তি নিঃস্ব তাহা তোমর বলিতে পার কিং সাহাবাগন বলিলেন যে ধাতার হাতে টাকা পয়সা বা মাল দৌলত নাই যে হইল নিঃস্ব। প্রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লম আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমার উম্মতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি নিয়ে যে নামায, রোফ, হজ্ব যাকাত প্রকৃতি আমল লইয়া কিয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হইবে। কিন্তু এই বাক্তি হয়তো বা কাহাকেও গালি দিয়াছে বা কারারর প্রতি অপবাদ সেপন করিয়াছে বা কাহারও মাল আত্মাসার করিয়াছে বা কাহাকেও খুন করিয়াছে বা কাহাকেও মারিয়াছে। এই কারণে তাহার হকদারদের প্রত্যেককে তাহার সেরা গুলি বন্টন করিয়া দেওয়া হইবে। যদি তাহার শেকীর ছারা হকদাদের হক আলায় পুরা না হয়। তাহা হইলে হকলারদের গোনাহগুলি তাহার উপর অর্পন করা হইবে এবং তাহাকে জাহান্নামে ফেলিয়া দেওয়া হইবে। হে আত্ম্য। ঐ দিন তুমি কি বিপদে পতিত হইবে- বিষয়টি একটু গভীরভাবে উত্তা করিয়া দেখ। প্রথমত্তঃ তুমি যে সকল আমল করিতেছ যে গুলিতে বিষা বা

পৃষ্ঠা:৩২

লৌকিকতা থাকার কারণে এবং শয়তানের ধোকা ও প্রবঞ্চনার কারণে দেখলি ফলদায়ক টিকিয়ায় থাকিতে পারিতেছে না। অনেক দিন মেইন্নত পরিশ্রম করার ফলে ঘামি দুই একটি আমল নিরাপদে টিকিয়াও যায় তাহাও আবার হকদারেরা ইহার পিছনে পড়িয়া লইয়া যাইবে। যদি তুমি সিনভর বোলা রাগ আর বারে জাগিয়া নামাব গড় ইহার পরও নিজের কথাবার্তা, চলাফেরা, কাজ কর্ম হিসাব করিয়া দেন, সম্ভবতঃ তোমার ইহাই খরণ হইবে যে হয়তো এমন কোন দিন যায় নাই, যে দিন তোমার জিহ্বা কাহারও না কাহারও গীবত করে নাই। পাহা তোমার সমস্ত নেকী গুলি খাইয়া ফেলিয়াছে। আর অন্যান্য পাপরার্থ তো আছেই। কোন খানে হয়তো হারাম খাইয়াছ। কোন খানে হয়তো সন্দেহযুক্ত অর্থ উপার্জন করিয়াছ। হয়তবা ইবাদতে অলসতা করিয়াছ। এমতাবস্থায় কিয়ামতের দিনে সওয়ারের মাধ্যমে অন্যের হক পরিশোধ করিবার কি আশা হইতে পারে? ইহা কো এমন এক দিন যেলিন শিং বিহীন প্রাণী শিং বিশিষ্ট প্রণী থেকেও প্রতিশোধ বাহল করিবে। হযরত আবু সারদা রেয়া থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাররাম আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি ছাগল কে বড়াই করিতে দেখিলেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি জান যে ইহারা কেন বড়াই করিতেছে। আমি বলিলাম, না। তিনি খদিচোন, কিন্তু আল্লাহ পাক আনেন। তিনি অভিসত্বর কিয়ামতের দিনে ইহাদিগের মধ্যে ফয়সালা করিবেন। কুনাষাণ মন্ত্রীসে আছে- وما من دابة في الأرض ولا طاير لله محتاحت الا أمم امثالكم .“জমীনের উপর যে সব জন্তু বিচরণ করে এবং যে সব পক্ষী ডানা মেলিয়া উড়ে, ইহারা প্রত্যেকে তোমাদের মত এক এক জাতি।” (সুরা আনহুম। আয়াত ৩৮)হযরত আবু মোরাঘবা বোঃ। এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, কিয়ামতের দিন সকল মাখলুকের পুনরুত্থান হইবে। চতুষ্পদ জন্তু, পাখী প্রভৃতিও। অল্লাহ পাক ইনস্যকের সাথে বিচার করিতে থাকিবেন। এমনকি শিংবিহীন জন্তুও শিংবিশিষ্ট জন্তু হইতে প্রতিশের গ্রহণ করিবে। অতঃপর আল্লাহ পাক ইহদিগকে বলিবেন যে তোমরা মাটি হইয়া যায়। তখন কাফেররা আফসোস করিয়া বলিতে গাকিবে হায়। আমরাও যদি মাটি হইয়া যাইতাম। সুতরাং হে মিসকীন আত্মা। যদি সেদিন তোমার আমলনামাতে কেন সওয়াব দেখিতে না পাঁচ মেনিন তোমার অবস্থা কি হইবে? তুমি তো দুনিয়াতে অনেক কই ওবিয়া সভয়ার উপার্জন করিয়াছিতে তখন আয়লনামা শুন্য দেখিয়া বলিয়া উঠিবে- আমার এত কষ্টের সওয়াব গুলি কোথায়? তোমাকে বলা হইবে যে তোমার সওয়ারসমূহ তোমার কাছে পাওনাদারদের আমল নামাতে চলিয়া গিয়াছে। তুমি দেখিবে যে তোমার আমলনামা পাপে ভরপুর। অথচ দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় পাপ হইতে বাচিবার জন্য কতইনা কষ্ট সহ্য করিয়াছিলে। তুমি বলিবে যে আয় পরোয়ারদিগার। আমি বো এই সবল পাপ কখনও করি নাই। তিনি উত্তর দিবেন যে এই সকল পাপ তোমার কৃত নয়। বরং ঐ সকল লোকের পাগ তুমি দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় যাহাদের গীবত করিয়াছিলে, যাহাদিগকে গালিগালাজ করিয়াছিলে, কই দিয়াছিলে, বেচাকেনা, সঙ্গে থাকা, কথাবার্তা বলা, অঙ্গাণ আলেচনা, নসীহত করা, শিক্ষা প্রদান করা এবং অন্যান্য বিষয়ে সীমাতিক্রম করিয়াছিলে। ইহাদের বিনিময়ে তাহাদের পাপসমূহ তোমাদের আমলনামায় চলিয়া আসিয়াছে। হববত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসায়াম বলেন, অরব দেশে আকর প্রতিমা পূজা হওয়ার ব্যাপারে শয়তান নিরাশ হইয়া পড়িয়াছে। কিন্তু সে এখন কোমাসের দ্বারা এমন কাজ হওযার উপরই সন্তুষ্ট থাকিবে যারা প্রতিমা পূজার তুলনায় ছোট কিন্তু তাহা বরংসাত্মক। সুতরা যথাসপ্তব জুলুম অত্যাচার হইতে বাঁচিয়া থাক। কেননা মানুষ পাহাড়সম ইবাদত বন্দেণী লইয়া কিয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হইবে। সে ধারনা করিবে যে এই সব ইবাসতের বিনিময়ে আল্লাহপাক ভাহাকে রেহাই দিয়া দিবেন। এমতাবস্থায় অন্য এক বাচি আসিয়া যঙ্গিবে যে এলাহি। অমুক ব্যক্তি আমার প্রতি জুলুম করিয়াছিল। বল প্রয়োগ করিয়া আমার টাকা পয়সা ছিনাইয়া লইযাছিশ। অল্লাহ পাক বলিবেন এয- তাহার প্রাণোর বিনিময়ে তাহার সওয়াব হইতে কিছু সভয়ার তাহাকে দিয়া দাচ। এইভাবে একজন একজন করিয়া হকদার হকের দাই করিবে। হকের দাবী মিটাইতে শিয়া আহার সওয়াবের এক এক গ্রংশ প্রত্যেক হকদারকে দিতে থাকিবে। শেষ পর্যন্ত তাহার কাছে একটি সওয়াবও অবশিষ্ট থাকিবে না। ইহা একটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝা যায়। যেমন- কয়েকজন মুসাফির। এক হৃদযে উপস্থিত হইল। তাহাদের কাছে লাকড়ি ছিল না। সকলে এই নিক ঐদিক থেকে গাকড়ি জমা করিল। স্বতঃপর আগুন জ্বালাইয়া লাকড়িগুপি পুড়াইয়া ছারবার করিয়া ফেনিল। মানুষের গোনাহও অনুরূপ। নিমিষের মধ্যে সমস্ত উপার্জন যতম করিয়া দেবে। ميت واهم ميسون لم إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ الله تخصصون:সামনে আপনারা ঝগড়া করিবেন।” (সূদ্র কুমার “নিশ্চয়ই আপনি মারিবেন। তাহারাও মারবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন বরেরযে সব হক অপর বাল্যর দায়িত্বে থাকিবে। ইহা হইতে তাড়াতাড়ি মুক্তিলাভ করা মুশকিল যদিও কাহারও দায়িত্বে অন্য কাহারও হক থাকে। অথবা বলপূর্বক কাহারও অর্থ ছিলাইয়া লইয়াছে। কিন্তু পরবর্তী কালে তরুয়া করিলেও হরনার হইতে মাফ করাইতে পারে নাই বা মাফ করাইবার কোন পথ ছিল না। এমতাবস্থায় তাহার উচিত বেশী বেশী সওয়ার উপার্জন করা যাহাতে অন্যের হক আদায় করছঃ মুক্তিলাভের ক্ষেত্রে সওয়ার গুণি কাজে আসে। কিছু নেককাজ এমন রহিয়াছে যাহা বালা পুরা এখলাসের সাথে করে। সে এজ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেহ এই সম্পর্কে অবগত থাকে না। এমন কাজের দ্বারা বালা আল্লাহ পাকের বিশেষ মেহেরবানীর অধিকারী হয়। আর এই মেহেরবানীর ফলে আল্লাহ পাক বান্দার উপর অন্যের যে হক রহিয়াছে তাহা হইতে মুক্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেন। হযরত আনাস (রাঃ। হইতে বর্ণিত। একদা আমবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে বদিয়া ছিলাম। হঠাগ তিনি হাসিলেন। এমনকি হাসির কারণে তাঁহার দন্ত মোবারকও দেখা যাইতেছিল।। হযরত ওমর রাঃ। বদিসেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ সরাল্লাছ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবন হউক। ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি কি জন হাসিলেন। তিনি বলিলেন, আমার উম্মতের মধ্য হইতে দুইজন লোক অল্লাহ পাকের সামনে নতজানু হইয়া বসিল। তন্মধ্যে একজন আল্লাহ পাকের দরবারে আরম করিল যে ইয়া আল্লাহ: আমি ইহার কাছে কিছু পাওনা আছি। সুতরাং তাহার দ্বারা আমার হক আমাকে আদায় করাইযা দিন। অম্লাহ পাক অণী ব্যাক্তিকে বলিলেন, তুমি তাহার হক তাহাকে দিয়া দাও। যে যলিবে, ইয়া আল্লাহ। আমি তাহা কিভাবে খাদায় করিষ্য আমার কাছে তো কোন সওয়াব নাই। আল্লাহ পাক পাওনাদার কে বলিগেন- তুমি এখন কি করিবে? তাহার কাছে তো কোন সওয়ার নাই। সে উত্তর দিবে যে তাহা হইলে সে আামার পাপের বোঝা বহন করুক। বর্ণণাকারী হয়রত আনাস (রাঃ। বলেন যে, এই কথা বলার সমব বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলইহি ওয়াসাল্লাম এর চক্ষুষৎ অশ্রু ভরাক্রান্ত হইয়া পড়িল, তিনি কাঁদিয়া ফেলিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন এই দিনটি বড়ই সংকটপূর্ণ দিন। এই দিনে স্বীয় গোনাহের বোঝা অনাকেহ বহন করুক ইয়ার মুখাপেক্ষী হইবে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সারাহাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদের বিতর্কের অবস্থা পুনরায় বর্ণনা করিলেন, আল্লাহ পাক পাওনসারকে বলিলেন, তুমি মাথা উঠাইয়া জান্নাতের দিকে তাকাইয়া দেখা দে মাথা উঠাইয়া জান্নাত দেখিয়া বলিল যে ইয়া আল্লাহ। ইহা তো ৗেপ্যের একটি শহর এবং শহরে স্বর্ণের মনিমুক্তা খচিত একটি অট্টালিকা বলিয়া মনে হইতেছে। ইহা কি কোন নদীর এই আঘাত অবতীর্ণ হওয়ার পর হযরত যুবায়র (রাঃ। জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া বাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। দুনিয়াতে আমরা একে অপরের সাথে যে আচরন করিযাছি। তাহাও কি গোনাহের সাথে যোগ করা হইবে। রাসূলুল্লাহ। সপ্তাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ, আচার আচরন ও লেনদেনের অনার ভূগিতে হইবে। এমনকি প্রত্যেক হকদারের হক পরিশোধ হইবে। হযরত যুবায়র (রাঃ) বলিলেন, আল্লাহর কসম তাহা হইলেও তো বিষয়টি বড় কঠিন।” সুতরাং এ দিনের কাঠিন্যতা। কত মারাত্মক হইবে যে দিন একটি কদমও মার্জনায় দৃষ্টিতে লেখা হইবে না এবং একটি গল্পর, এক লোকমা খাদ্য এবং একটি শব্দও গুচাই। বিহীন ছাড়িয়া দেওয়া হইবে না। বরং অত্যাচারিত অত্যাচারী হইতে এরপূর জিনিসেরও প্রতিশোধ যাহণ করিবে। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সারকাস আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক মানুষকে খতনাবিয়ীন, উলঙ্গ ও কাঙ্গাল অবস্থায় উত্থিত করিবেন। সাহাবাগন জিজ্ঞাসা করিলেন যে ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঙ্গাল কি বুঝানো হইয়াছে। তিনি বলিলেন যে কাঙ্গাল অর্থ তাহাদের কাছে কেন কিছু থাকিবে না। অতঃপর আল্লাহ পাক তাহাদিগকে ডাক দিবেন। কাছের এবং দূরের সকল গোক তাহার ডাকের আওযাজ সমভাবে শুনিতে পাইবে। তিনি বলিবেন, আমি বাদশাহ। আমি কাহারও থেকে প্রতিশেন গ্রহণ করি না। তবে যদ কোন বাক্তি জান্নাতে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করিয়াছে অথচ কোন জাহান্নামী হুন্ডি তাহার কাছে কোন কার হক পাইবে। জাহান্নামী ব্যক্তি এই আন্নাতী হইতে যতক্ষণ পর্যন্ত স্বীয় হক আলায় না করিবে ততক্ষন পর্যন্ত জারী ব্যক্তি জাতে প্রবেশ করিতে পারিবে না। অনুরূপভাবে কোন অন্নাতী ব্যক্তি কোন জায়ান্নামী ব্যক্তি হইতে কোন হক পাইবে, জাহান্নামী ব্যক্তিকে জাহাগ্রামে দেওয়ার পূর্বেই অম্লানী ব্যক্তি মাহদুামী হইতে স্বীয় হক আদায় করিয়া ছাড়িবে। এমনকি একে অপরকে একটি চড় মারিয়া বাকিলেও ইহার প্রতিশোধ গ্রহণ করিবে। হয়রত আনাস বলেন যে আমরা জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা উলঙ্গ খঙনা বিহীন ও কাঙ্গাল অবস্থায় উত্থিত হইলে অপরের হক আদায় করিব কিভাবে? জিনি সাল্লাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন যে এই আদায় সওয়াব ও গোনাহ বিনিময় করার মাধ্যমে হইবে। সুতরাং হে আল্লাহর বান্দারা। অল্লাহকে ভয় কর। বান্দাদের হক অর্থাৎ তাহাদের মাল না হক ভাবে কুক্ষিগত করা হইতে, আহাদিগকে অসমান করিতে, ভাহাদের অন্তরে কষ্ট দেওয়া হইতে এবং তাহাদের সাথে অসদাচরণ করা হইতে বাঁচিয়া থাক। কেননা ভাল্লাহ সাথে বাশার যে সব অপরাধ হইরে এই সম্বের সাথে আল্লাহর ক্ষমা ও মার্জনা অতিসত্বর সম্পর্কিত হইবে। পক্ষান্তরে বাপার

পৃষ্ঠা:৩৪

জন্য নির্ধারিত হইয়াছে? অথবা কোন সিদ্দীক বা কোন শহীদের জন্য। আল্লাহ পাক বলিলেন, ইহা এমন এক ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত যে ইহার মূল্য দেয়। সে জিজ্ঞসা করিল যে ইহার ফুলা কে প্রদান করিতে পারো এবং কাহাকে প্রদান অরিে অল্লাহ পাক বলিলেন যে কোমার কাছে ইহার মূল্য আছে। যে বলিল, ইহার ফুল। বিদ অম্লাহ পাক বলিলেন, স্বীয ত্রাতার হক মাফ করিয়া দেওয়া। যে বলিল, ইবা এলাহি। আমি ভগ্নাকে মাফ করিয়া দিলাম। আল্লাহ পাক বলিশেন, তাহা হইলে তাহার হাত ধরিয়া জান্নাতে প্রবেশ কর। অতঃপর বাসুলুল্লাহ সল্লায় আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মানুষকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, যে মানুষ: আল্লাহ ভয কর এবং নিজেদের মধ্যে মিল নহবত রাগ। অল্লাহ পাক নিজেও ঈমানদারদের মধ্যে মিল মহব্বত করান। এই হাদীছে ইঙ্গিত করা হইয়াছে যে অল্লাহ পাকের গুণাবলী ও চরিত্র অবলম্বন করার মাধ্যমে মানুষ এই মর্যাদা লাভ করে। অর্থাৎ একের সাথে অপরের মিল মহম্মত করানো বা অন্যান্য গুণাবলী অবলম্বন কর। সুতরাং তুমি নিজের সম্পর্কে কাবিয়া দেখ যে যদি তুমি কাহসও হক মারিয়াছ বলিয়া তোমার আমল নামায় কোন কথা উল্লেখ না থাকে এবং আল্লাহ পাক বিশেষ মেহেরবানীর মাধ্যমে তোমাকে ক্ষমা করিয়া দেন। ঝার তুমি চিরস্থায়ী সৌভান্টের অধিকারী হও তাহা হইলে হিসাব নিকাশ শেষে সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করিবার সময় তুমি কত্ত খুশী হইবে? তোমাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির ভূষন পরিধান করানে হইবে। এমন দৌভাগ্য লইয়া প্রত্যাবর্তন করিবে যাহা পরিবর্তিত হইয়া কখনত পূর্বাগ্যে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকিবে না। এমন সম্পদ লাভ করিবে যাহা কখনও খপ্তম হইবে না। তখন খুশী ও আনন্দ মনে হইবে যেন তোমায় অন্তর উড়িয়া বেড়াইতেছে। তোমার চেহারা শুভ্র কোমল ও দূরানী হইয়য় পূর্ণিমার চন্দ্রের ন্যায় ঝলমল করিতে খাকিবে। তখন তোমার কি অবস্থা হইবে তুমি নিজেই কল্পনা করিয়া দেব। তখন তো তুমি অধিমানের সাথে চলিতে থাকিবে। তোমার পীঠ তখন গোনাহ মুক্ত। আল্লাহর সন্তুষ্টির শীতল হাওয়া তোমার দেহে দোলা খাইতে থাকিবে। পূর্বাপর সকল মাখলুক তোমাকে দেখিতে থাকিবে। তোমার রূপসৌন্দর্য্য দেখিয়া তাহারা কর্থ করিতে থাকিবে। তাহারা দেখিবে যে তোমার আগে পিছে ফিরিশতা। ভাজার তোমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিয়া তোমাকে বইয়া এইতেছে। অধিকন্তু তাহারা সকল মানলুকদের মাঝে ঘোষণা দিতে থাকিবে যে তিনি অমুকের পুত্র। আল্লাহ পাক তাহার প্রতি সন্তুষ্ট এল তাহাকেও সন্তুষ্ট করিয়া দিয়াছেন। তিনি মেন সৌভাগ্য লাভ করিযাছেন যাহা কখনও হাতছাড়া হইবে না।এখন শোন। দুনিয়ার মানুষের কাছে তুমি যে মর্যাদা অর্জন করিয়াছ, ইহা কি সুনিয়ার মর্যাদা হইতে অধিক উচ্চ নহে। সুদিয়ার মর্যাদা অর্জন করিবার জন্য কত প্রকার সৌকিকতা, বাহান করিয়া থাক অথচ দ্বীনের কার্যে অলসতা এবং বানোয়াট করিতেছ। আফসোস। যদি তুমি বুঝিতে পারিতে যে আখেরাতের মর্যাদ্য দুনিয়ার মর্যাদার তুলনায় কর উত্তম বরং দুনিয়ার মর্যাদা তো উহার সাথে তুলনা দেওযারও মত নয়। অতঃপর যদি আখেরাতের মর্যাদা অর্জন করিবার জন্য খালেঃ নিয়তে কাজ করিতে তাহা হইলে কতইনা উত্তম হইত। বাস্তবিক পক্ষে ইখলাসও বিশুদ্ধ নিয়ত ব্যতীত ইহা অর্জনও নয় না। পক্ষান্তরে অবস্থাটি যদি বিপরীত হন। অর্থাৎ তোমার আমল নামাতে এমন কোন গোনাহ থাকে যাহাকে তুমি হালকা মনে করিতে অথচ আল্লাহ পাকের কাছে ইহা বড় মারাত্মক গোনাহ। আর এই কারণে আল্লাহ পাক তোমাকে বসিয়া দেন যে হে আমার বান্দা। আমার পক্ষ হইতে তোমার এভি লা’নয়, আমি তোমার ইবাদত কবুল করি নাই। তখন তো এই কথা শুনিয়াই তোমার মুখ কাল হইয়া ওইবে। অল্লাহ পাকের বাণের কারণে ফিরিশতারাও বাগ হইয়া বলিতে যে তোমার প্রতি আমাদের পক্ষ হইতে একং সমস্ত সৃষ্টির পক্ষ হইতেও পানত। তখন আহদ্রামের ফিরিশতারাও আল্লাহ পাকের রাগ দেখিয়া তোমার প্রতি গোখা হইয়া তোমাকে অয়ামুখ করিয়া নিদিয়া টাশিয়া লইয়া যাইবে। সকল মানুষ তখন তোমার বিষণ্ণ ও কালমুষ দেখিতে পাইবে। তুমি স্টীয় গাংসের জনা আফদোদ করিয়া চিৎকার করিতে থাকিবে। ফিরিশতারা বদিবে, একটি মান ফাংসের অন্য কামিতেছ? এই ভাবে তোমার জন্য তো অনেক ব্যাংস অপেক্ষা করিয়েছে। উহ্যদের জন্য কাঁদ। ফিরিশতারা তাহাকে লইয়া যাওয়ার সময় ঘোষণা দিতে থাকিবে যে সে অমুকের পুত্র। আল্লাহ পাক ভাহার সজ্জাকর বিয়য়গুলি খুলিয়া দিয়াছেন। তাহার অপরাধের কারণে আহার প্রতি পানত ধর্ষণ করিয়াছেন। সে এমন দুর্ভাগা যে কখনও সৌভাগ্যের অধিকারী হইবে না।গ্রন্থকার বলেন, এখানে যতগুলি অপমান ও পঞ্ছনার কথা বর্ণনা করা হইল এই সব কিছু তো মাত্র একটি গোনাহের কারণেই হইতে পারে, যাহ্য তুমি মানুষের ভয়ে করিয়াছ। অথাবা আহাদের অন্তরে স্থান করিয়া পওয়ার জন্য করিযাহ অববা ভাহাদের সামনে লজ্জিত হইবে বলিয়া করিয়াছ। যদি সভিাই এই সব কারণেই করিয়া থাক তাহা হইলে ভাবিয়া দেখ যে তুমি কতবড় জাহেল। আল্লাহর কয়েকটি বান্দার সামনে লজ্জিত হওয়া থেকে বাঁচিয়া থাকিতেষ অথচ ইহা হইতে কোটি কোটি গুণ বড় সমাবেশে লজ্জিত হওয়া থেকে বঁচিবার চেই। করিতেছ না। সেখানে তো আল্লাহ পাকের গোগাদ হইবে আরও অনেক বেশী। তাহায় শাড়িও হইবে অনেক শত্রু। অধিকন্তু ফিরিশতার হাতে বলী হইয়া চলিবে জাহান্নামের দিকের কিয়ামতের ময়দানের যে ভয়ঙ্কর বিপদের কথা আলোচিত হইল ইহা অপেক্ষা অধিককর ভয়ঙ্কর হইল সামনের অবস্থা অর্থাৎ পুলসিরাতের অবস্থা।

পৃষ্ঠা:৩৫

পুলসিরাত

নিম্নোক্ত আয়াতছয় সম্পর্কে একটু চিন্তা কর। আল্লাহ পাক বলেন:يوم نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلى الرحمن وفدا وتسوق المحرمينإلى جهنم ودها . ” যেদিন আমি পরহেজগারদিগকে মেহেরবান অল্লাহ শাকের কাছে মেহমানের ন্যায় জামাত জমার সমবেত করিব এবং অপরাধী দিগকে পিশাসিত অবস্থায় আহান্নামের দিকে চালিত করিব।”সূরা মারইয়াম। আয়াত ৮৫-৮৬১ فَاهْدُوهُمْ إِلَى صِرَاطِ الْجَحِيمِ وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ . “তাহাদিগকে আাহল্লামের পথে চালিত কর এবং তাহাদিগকে থামাও কারণ ভায়াদিগংকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হইবে।” ।সুক হাফ্ফাত। আয়াত ২৪। কিয়ামতের ময়দানের এই সব ভয়ঙ্কর অবস্থা অতিবাহিত হওয়ার পর ভাহাদিগকে পুলসিরাতের প্রতি তাড়িত করা হইবে। পুলসিরাত একটি খুল। ইহা আহান্নামের উপর প্রস্তুত করা হইবে। তরবারী অপেক্ষাও অধিক ধারাল এবং ভুল অপেক্ষায় অধিক সরু হইবে। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে হেবায়েতের পথে চলিবে আখেরাতে পুলসিরাতের উপর সে হালকা হইবে, মুক্তিলাভ করিবে। পক্ষান্তরে যে বাক্তি দুনিয়াতে হেদায়েতের রাস্তা হইতে মরিয়া যাইবে এবং গোনাহের মাধ্যমে স্বীয় পীঠ ভারী করিবে। পুলসিরাতে কসম দেওয়ার সাথে সাথে তাহার পদস্খলন এইয়া যাইবে। সে ধাংল হইবে। সুতরাং তুমি একবার নিজের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা করিয়া দেখ, যখন তুমি পুরদিরাত সামনে দেখিবে। ইহার বার ও মুগ্ধতার উপর তোমার দৃষ্টি পতিত হইবে। ইহার নচি জাহল্লামের ঘোর অন্ধকার তোমার চোখে পড়িতে। অগ্নি হয়ার দিতে থাকিবে। তখন তোমার অন্তরে কি পরিমাণ আতংক ও ওয় হইতে পারে? এই অবস্থায়ও ইহার উপর দিয়া চলিবার জন্য তোমাকে বলা হইবে। অথচ তুমি তখন দুর্বল, ক্লান্ত, অস্থির, পদদ্বয় এয় থর করিয়া কাঁপিয়েছ। গোনাহের কারণে তোমার পীঠ ভারী। একতারী যে এই বোঝা লইয়া তুমি যমীনের উপর চলিতেই অক্ষম। পুগদিল্লতে তো আরও মুশকিল। কিন্তু তবুও তোমাকে ইহা অতিক্রম করিতেই হইরে। অতিক্রম না করিয়া উপায় নাই। অনিচ্ছা সত্বেও বাধ্য হইয়া তুমি ইহার উপর এক পা রাখিবে। পা রাখিবার সাথে সাথে ইহার তীক্ষ্ণ যার তোমার পাযে অনুন্নত হইবে। ইহসত্বেও দ্বিতীয় পা উঠাইয়া সামনে চলিতে বাধ্য হইবে। অন্য এক আয়াতে বলেন- এই চরম সংকট পূর্ণ অবস্থায়ও তুমি দেখিতে পাইবে যে যাহারা এই পুল অতিক্রম করিতে সামনে গিয়াছে তাহারা পিছলাইয়া পিছলাইয়া নীচে পড়িত হইতেছে। জাহান্নামের ফিরিশতারা কাঁটা ও হকের সাহায্যে তাহাদিগকে উঠাইয়া আনিতেছে। তুমি দেখিবে যে যাহারা নীচে পতিত হইয়াছে। তাহারা অগ্নিতে ভুলিয়েছে অথচ আহাসের মাথা নীচের দিকে আর পা উপরের দিকে। তুমি কি মনে কর? তখন তোমার কেমন ভয় পাণিবে। কেমন মারাত্মক স্থানে চড়িতে তোমাকে বাধ্য করা হইবে? কেমন রাস্তা দিয়া তোমাকে চলিতে হইবে? এখন তুমি নিজের সম্পর্কে ভাবিয়া দেখ যে তোমার পীঠে গোনাহের বিরাট বোমা। যাহা বহন করা খুব কষ্টসাধ্য। এমতাবস্থায় তোমাকে এক দুর্গম পথ অতিক্রম করিতে হইবে। অধিকন্তু তোমার ডান ও বাম পার্শ্ব হইতে পিচ্ছিল বাইযা খাইয়া মানুষ আহান্নামে পতিত হইতেছে। তুমি এখানে আকিয়াই জাহাদ্রামের অতল গর্ভে ওলাইয়া যাওয়া মানুষের করুন আর্তনাদ শুনিতে পাইতেষ। এমতাবস্থায় যদি তোমার পদক্ষ্মলন হইয়া যায়। তখন তোমার পরিতাপ কোন কাজে আসিবে না। এই অবস্থা হইতে মুক্তি পাওয়ার জন্য বারবার করুন আর্তনাদ করা অনর্থক সাব্যস্ত হইবে। তুমি হয়তো এই বলিয়া পরিতাপ করিতে থাকিবে যে হায়। যদি আমি এই কালো দিবস কে ভয় করিতাম। হায়। যদি জীবনে এই দিবসের জন্য কিছু করিয়া পইতাম। যদি রাসূলের পথ অবলম্বন করিতাম। যদি অমুককে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ না করিতাম। হায়। যদি মাটি হইয়া যাইতাম। যদি নিঃশেষ হইয়া যাইতাম। যদি আমার মান্ডা আমাকে জন্মই না দিবেন। এই সময় হয়ত জলন্ত অতি অনিয়া তোমাকে ছোবল মারিয়া লইয়া যাইবে। এক ঘোষক ঘোষণা করিয়া দিবে। “অপমানিত ও লাঞ্ছিত হইয়া ইহাতে পড়িয়া থাক। আমার সাথে কথা বলিবে না।” লুকবার এই অবস্থায় চিৎকার করা। হায় হায় করা, দীর্ঘ শ্বাস গ্রহণ আর পরিভাগ করা ব্যাতীত আর কিছুই করিবায় থাকিবে না।  অতএব তোমার বিবেককে ভূমি কেন দৃষ্টিতে দেখিতেছ কে জানে। অথচ এই বিষয়গুলির আশংকা তোমায় সামনে রহিয়াছে। যদি এইসব বিষয়ের প্রতি তোমার ঈমান না থাকে তাহা হইলে বুঝিতে হইবে যে তুমি বহুদিন পর্যন্ত জাহান্নামে। গর্ভে খাকিতে ইচ্ছা করিতেছ। যদি তোমার ঈমান আছে এবং তুমি অলসতা করিয়া পরকালের জন প্রস্তুতি গ্রহনে অলসতা করিতেছ। তাহ। হইলে বুঝিতে হইবে যে তুমি ঔদ্ধত্ব প্রকাশকারী। তুমি সীমা লংমণকারী। যে ঈমান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনে তোমার কোন কাজে আনে না। সে ঈমান দিয়া তোমার কি লাভ? রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, খুলনিয়াত জাহান্নামের মধ্যখানে স্থাপন করা হইবে। বাসূলের মধ্যে আমিই সর্ব প্রথম স্বীয় উষ্মত লইয়া

পৃষ্ঠা:৩৬

থাকিবে, তখন খামিয়া যাইবে। অতঃপর তিনি পুলসিরাতের উপর দিয়া অতিক্রম কবার কর কালেচনা করিলেন। লোকজন প্রশ্ন দূর অনুপাতে ইহার উপর দিয়া পথ চলিবে। কেহ কেহ চোখের পলকের নাম, কেহ কেহ বিদ্যুতের ন্যায়, কেহ কের মেঘমালার ন্যায়, কেহ কেহ বায়ুর গতিতে, কেহ দ্রুতগামী অশ্বের ন্যায় অতিক্রম করিবে। কোন কোন ব্যক্তি সৌড়াইয়া পার হইবে। এমনকি যাহার পায়ে নূর থাকিবে সে দুই হাত, দুই পা এবং মুখ মাটিতে হৌড়াইয়া হেচড়াইয়া চলে এমন যুক্তির ন্যায় অতিক্রম করিবে। এক হাও সামনে বাড়াইলে দ্বিতীয় হাত আটকাইয়া পড়িবে। এক পা সামনে বাড়াইলে দ্বিতীয় পা পিছলাইয়া যাইবে। অগ্নি তাহার উওয় পার্শ্ব স্পর্শ করিবে। এইভাবে চলিতে চলিতে পার হইবে। ইহা অতিক্রম করিবার পর দাঁড়াইয়া বলিবে আল্লাহ পাকের শোকরিয়া। তিনি আমাকে এইভাবে মুক্তি দিয়াছেন যে অন্য কাহাকেও এইভাবে মুক্তি দেন নাই। অতঃপর তাহাকে জড়াতের করওয়াজার সম্মুখে একটি প্রদ্রবনের কাছে গাইব্য যাওয়া হইবে। ইহাতে ভাহাকে গোসল করানো হইবে। হরেক আনাস ইবনে মালেক (রা। বর্ণনা করেন যে রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন- পুলসিরাত করবারীর অথবা ছুরির ন্যায় ধারাল। ফিরিশভায় মুমিন নারী পুরুরদিগকে ইহ্য হইতে বাঁচাইতে একিবে। হযরত জিবরাইল (আঃ) আামার কোমর ধরিয়া থাকিবে আর আমি বলিতে থাকিব হে এলাহি। মুক্তিদান করুন। এইগুলো হইল পুলসিরাতের অবস্থা ও সেখানকার বিপদ। তাবিয়া দেখ যে, পুলদিরাতের অবস্থা এবং তখনকার বিশদ কিয়ামতের ভাংঙ্কর অবস্থা অণেক্ষার মারাত্মক। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় ইহা সম্পর্কে অধিক চিন্তা ভাবনা করিবে, সেই এই বিপদ হইতে রেহাই পাইরে পারিবে। কেননা আল্লাহ্ পাক কোন ব্যক্তির মধ্যে দুইটি কষ একত্রিত করিবেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় কিয়ামত ও পুলসিরাতের ভয়ঙ্কর অবস্থা সম্পর্কে প্রীত হইবে। পরকালে ভয়ঙ্কর অবস্থা হইতে নিরাপদ থাকিবে। এখানে ভব শব্দ উল্লেখ করিয়া নারীদের ভয় করার ন্যায় ভয় করা বুঝানো হয় নাই। নারীরা তো কোন কথা শুনার পর ভাহাদের অন্তর বিগলিত হইয়া পড়ে। কিছুক্ষন কান্নাকাটিও করে। কিন্তু পরক্ষণেই স্বাবার এই সব কিছু গুলিয়া হাসি খুশিতে লাগিয়া যায়। এই ধরনের বাহ্যিক ওই আমাদের আলোয়। তয়ের অন্তর্ভুক্ত নহে। বরং এখানে ভয় করার কথা বলিয়া এমন তত্র যুবানো হইয়াছে যে যখন কোন ব্যক্তি কোন জিনিসকে ভয় করে তখন সে উহা হইতে পধারন করে। আর যে জিনিদের আশা করে তাহা পাইবার চেষ্টা চালাইতে থাকে। এই ধরণের ভয়ের কারণে সে কিয়ামতের দিনে মুক্তি লাভ করিবে। এই ভয়ের কারণেই মানুষ আল্লাহর নাফরমানী হইতে বিরত থাকে। তাহার নির্দেশ পালনার্থে প্রস্তুত হয়। করীদের তদের তুলনায় আহমক ও বেকুফসের তর আরও অর্থহীন। আহমক ও ইহা অতিক্রম করিব। সেদিন নবী রাসুলগণ ব্যতীত অন্য কেহ কথা বলিবে না। প্রত্যেক নবী বলিতে থাকিবে আয় আল্লাহ্। নিরাপত্তা দান করুন। আম অল্লাহ। নিরাপত্তা দান করুন। জাহদ্রামের কন্টকগুলো ‘সালান’ বৃক্ষের কন্টকের ন্যায় হইবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসস্তাম সাহাবাদিগকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, তোমরা কি ‘সাদান’ বৃক্ষ চিন্য তাহারা বলিলেন, হ্যাঁ রাসূলুল্লাহ সাল্লায়ার খাবাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, জাহান্নামের কণ্টক ইহার স্বাকৃভিই হইবে। তবে ইহা কি পরিমান বড় হইবে তাহা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেহ জানে না। মানুষের আমলের অনুপাতে কণ্টকগুলি তাহাদিগতে ছোবল মারিবে। কোন কোন লোক তো তাহার আমদের কারণে সম্পূর্ণরূপে ধারন হইয়া বাইবে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী যোঃ। বলেন, যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, মানুষ জাহান্নামের পুলের উপর দিয়া অতিক্রম করিবে। ইহার উপর হকের ন্যায় কাঁটা থাকিবে। মানুষ যখন পুলের উপর দিয়া অতিক্রম করিতে থাকিবে। তখন এই সকল কাঁটা ডান ও বাম দিক থেকে মানুষকে জড়াইয়া ধরিবে। ইহার উত্তর পার্থে সাড়ীনো ফিরিশতা বলিতে খাকিবে, হে যোগা। বাঁচাও। হে গোদা বাঁচার। ে কোন লোক তো বিদ্যুতের ন্যায় পার হইয়া যাইবে। কোন কোন হোক ায়ুর ন্যায়, কোন কোন লোক দ্রুতগামী ঘোড়ার ন্যায়, কেহ কেহ সৌড়াইয়া পার হইয়া যাইবে। আবার কোন কোন লোক পায়ে হাটিয়া, কেহ কেহ হাটুর উপর প্রব করিয়া, আবার কেহ কেহ নিভান্ত হেচড়াইয়া হেঁচড়াইয়া পার হইবে। জাহান্নাম বাসীয়া যাহারা পুল হইতে ভাবগ্রামে পতিত হইবে তাহারা গোনাহের কারণে জ্বলিয়া পুড়িয়া করলা হইয়া যাইবে। অতঃপর তাহাদের জন্য সুপারিশ করিবার অনুমতি হইবে। হযরত ইবেন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন আল্লাহপাক কিয়ামাতের দিন পূর্বাপর সকল মানুষকে একত্রিত করিবেন। আহায়া চল্লিশ কলর পর্যন্ত চোখ উপরের দিকে উঠাইয়া চাহিয়া থাকিতে এবং ইহ্য জানিবার জন্য অপেক্ষা করিতে থাকিবে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মানউন (বাঃ। এই হাদীমের আরও কিছু অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করিয়াছেন, ইহাতে বর্ণিত আছে যে ঈমানদারগণ স্বল্লাহর উদ্দেশ্য নিম্নদা করিবে। অতঃপর আল্লাহ পাক ঈমানদারদিগকে মাধ্য উঠাইতে নির্দেশ দিবেন আর তাহার মাথা উঠাইবে। তথন তাহাদিগকে নিজেদের আমল অনুপাতে নূর প্রমান করা হইবে। কোন কোন ব্যক্তিকে তো বড় পাহাড় পরিমাণ নূর প্রদান করা হইবে, যাহা আহার সামনে সামনে চলিতে থাকিবে। কেহ কেহ ইহা অপেক্ষা কম প্রাঙ হইবে। এই ভাবে পর্যায়ক্রমে কমিতে খাকিবে। এমনকি শেষ পর্যন্ত এক বাক্তির পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে নূর হইবে। ইহাও কখনও খাংলো দিবে আবার কখনও বা নির্বাপিত থাকিবে। যখন আলো দিবে তখন সামনে চলিবে। আবার যতন বিধাশিয়

পৃষ্ঠা:৩৭

বেকুক এমন ব্যাক্তি যে কিয়ামাতের ভয়ঙ্কর অবস্থার কথা শুনিতেই মুখে নাউজুবিল্লাহ পাঠ করে। বধিতে থাকে, আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি। তাঁহার কাছে মাফ চাহিতেছি। আয় আল্লাহ। আমাকে বাঁচাও। ইহা সত্ত্বেও সে গোনাহ হইতে বিরত হয় না। এই ধরনের লোকদিগকে দেখিয়া শরতান হাসিতে থাকে। এই ব্যক্তির অবস্থা একটি উপহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট হইয়া উঠে। এক ব্যক্তি জঙ্গলে ছিল, একটি হিংস্র বানী ভাহ্যকে আক্রমন করিল। তাহার পিছনে একটি সুদৃঢ় দুর্গ। অখন যে সূত্রে খাকিয়। দেখিতে পাইল যে প্রানীটি ভাহাকে আক্রমন করিবার জন্য হয়ার সিতেছে। তখন সে বলিতে লাগিল- তোমাকে এই দুর্গের দোহাই দিতেছি। ঘুষে ঘুখে ইহা বলিতেছে। কিন্তু দূর্গে প্রবেশ করিতেছে না। এমন কি স্বীয় অবস্থান হইতেও সরিতেছে না। ভাহা হইলে তাহার এইসব দোহাইয়ের কারনে হিংস্র প্রানীটি কি তাহাকে আক্রমন করা হইতে বিরত থাকিবে? কখনও তাহা হইবে না। পরকাশের অবস্থাও তরুণ। আখেরাতের দুর্গ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ব্যতীত অন কিছু নহে। কিন্তু শুধু মুখে মুখে পাঠ করিলে কাজ হইবেন। বরং ইহা সত্য বলিয়া জানিতে হইবে। অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছু, মানুষের উদ্দেশ্য হইতে পারে না। এবং তাঁহার ছাড়া অন্য কাহাকেও মাবুদ বলিয়া মানা যাইবে না। যে ভক্তি স্বীয় মনের রাহিলা অনুযায়ী চলিয়াছে সে তাওহীদের রাস্তা হইতে দূরে আছে। তাহার অবস্থা বিপজ্জনক। যদি মানুষ এতটুকু না করিতে পারে তাহা হইলে তাহার উচিত, সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মহন্ত করে, তাঁহার সুন্নতের অনুষরণ করে। উম্মতের নেককার লোকদের অন্তরের সন্তুষ্টি অর্জন করে। ভাহাদের দোখা থেকে বরকত হাসিল করে। হয়তবা এই কারণে তাঁহার শাফাআত নদীর হইতে পারে। যদি নিজের কাছে কোন পুক্তি না থাকে তারা হইলে শাফাআতের দ্বারা মুক্তি পাত করিতে পারে।শাফাআতের আলোচনা: কতক ঈমানদার এমন হইবে যাহাদের আযাব হইবে বলিয়া প্রমান রহিয়াছে। অধিকন্তু নবীগণ, দিদীকগণ, শহীদগণ ও নেককারগণ তাহাদের জন্য সুপারিশ করিবেন। আল্লাহপাক ও স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়ার দ্বারা তাঁহাদের সুপারিশ কবুল করিবেন। তাহারা স্বাত্মীয়স্বজন, নিকটবর্তীলোক, বন্ধু বান্ধব ও পরিচিত অন্যে জন্য সুপারিশ করিবেন। সুতরাং প্রত্যেকের উচিত উল্লেসিত লোকজনের থেকে সুপারিশ পাওয়ার মর্যাদায় উন্নীত হওয়া, কোন ব্যক্তিকে তুচ্ছ জ্ঞান বা করা। কারণ অল্লাহ পাক তাহাকে ওলী বানাইয়াছেন তাহা গোপন রাগিয়াছেন। তুমি হয়তো কাহাকেও তুচ্ছ জ্ঞান করিতেছ। অথচ সে অম্লাহর ওলী। কোন গোনাহকে ছোট মনে না করা। কেননা বান্দর নাফরমানীর অন্তবাদে অল্লাহ্পাকের গোজা  লুকাইত রহিয়াছে। হয়তব্য তুমি কোন নাফরমানী কে তুচ্ছ জ্ঞান করিতেছ অথচ আল্লাহ পাক ইহাতে অসন্তুষ্ট। ইহার মধ্যে তাঁহার গোয়া নিহিত। কোন ইবাদতকে ছোট মনে করিবেনা। কেনন আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের মধ্যে তাহার সন্তুষ্টি নিহিত রহিয়াছে। হয়তবা ঐ ইকদতেই তাঁহার সন্তুষ্টি রহিয়াছে যাহা ভূমি ছোট মনে করিমা ছাড়িয়া নিয়াছ। কুরআান ও হাদীছে শাফাআতের অনেক দলীল রহিয়াছে।আল্লাহপাক বলেন وَلَسَوْنَ ” অতিসত্বর আপনার রব আপনাকে দান করিবেন এবং আপনি সন্তুষ্ট হইয়া যাইবেন।” হযরত আমার ইবনুল স্বাস (বাঃ। থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাতাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ইবরাহীমের (আঃ) নিম্নেক্ত উক্তিটি পাঠ করেন- رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّيوَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ . ومن عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيم. “আয় রব। ইহারা অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করিয়াছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার পথে চলিয়াছে। সে আমার লোক। আর যে আমার কথা মানে নাই। সুতরাং আপনি তো ক্ষমাশীল দয়াময়।”(সুরা ইবরাহীম। আয়াত ৩৬।অনুরূপ ভাবে হযরত ঈসার (আঃ। উক্তিও পাঠ করিয়াছেন-إِن تُعَذِّبَهُمْ فَيَانَهُمْ عِبَادَكَ .“যদি আপনি তাহাদিগকে আয়ান প্রদান করেন। তাও আপনার ইনসায় কেননা তাহারা আপনারই বান্দ্য।” অতঃপর তিনি হতে উত্তোলন করিয়া বলিলেন” আমার উম্মত।” এই কথা বলিয়া তিনি কাদিতে লাগিলেন। আল্লাহ পাক হবরত জিবরাঈল (আঃ) কে বলিলেন হে জিবরাঈল। তুমি আমার বন্ধুর কাছে যাও এবং তিনি কেন কাঁসিতেছেন জিজ্ঞাসা কর। হয়রত বিবরাঈল (আঃ। তাঁহার সামনে উপস্থিত হইয়া জশন করিবার কারণ সম্পর্কে জানিতে চাহিলেন। তিনি ইয়াত বলিলেন যে আল্লাহ পাক ক্রন্দনের কারণ জানিতে চাহিয়াছেন। তিনি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভরাব দিলেন যে উখভের চিন্তায় কাদিতেছি। হযরত জিবরাঈল (আঃ) আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হইয়া তাহাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উত্তর অবগত করিলেন। আল্লাহ্ পাক বলিলেন, যান্ডা আমার বন্ধুকে বলিয়া দাও যে আমি তাহাকে তাঁহার উম্মতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করাইব। তাহাতে অসন্তুষ্ট রাখিব না।এক হাদীছে আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অল্লাহ

পৃষ্ঠা:৩৮

পাক আমাকে বিশেষভাবে পাঁচটি জিনিস দান করিয়াছেন। হাহা অন্য কাহাকেও দান করেন নাই।এক। যাহারা এক মাদের দুরত্ব পর্যন্ত স্থানেও অবস্থান করিতেছে। তাহাদের অন্তরে আমার ওয় প্রবিষ্ট করাইয়া দেওবা হইয়াছে। দুেই। আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হইয়াছে। আমার পূর্বে অন্য কাহারও জন্য হালাল করা হয় নাই। (কিন। সমগ্র পৃখিবী আামার উম্মতের অন্য নামাযের স্থান হিসাবে নির্ধারন করা হইয়াছে। নামাযের জন্য কোন বিশেষ স্থান শর্ত করা হয় নাই। পৃথিবীর যে কোন স্থানে নামায পড়িতে ইচ্ছা হয় সে স্থাণ পবিত্র হইলে যেখানে নামায পড়িতে পাবে। আমার উন্মতের জন্য মাটিকে পবিত্রকারও স্থির করা হইয়াছে। নামাযের সময় হইয়াছে, কিন্তু গুজু করিবার জন্য পানি নাই। এমতাবস্থায় মাটি দ্বার তায়ামুম করিয়া নামায আদায় করিতে পারিবে। চোর। প্রত্যেক নবীকে বিশেষ করিয়া তাঁহার নিজের সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করা হইযাছে। আর আমি মুনিয়ার সবল মানুষের প্রতি থেরত হইযাছি। এক হাদীছে আছে যে, কিয়ামতের দিনে আমি সকল নবীদের শেস্তা হইব। তাঁহাদের পক্ষ থেকে আমি বথা বলিব। আমার ধারা অনান্য নবীগন শাফাআত করিবায় মর্যাদা লাভ করিবেন। অবশ্য আমি ইহা অহংকার করিয়া বলিতেছি না। এক হাদীছে আছে যে আমি সকল আদম সন্তানের নেতা। ইহা আমার অহংকার নহে। ধর্মীদ ফাটিয়া মাটি বেদ করির গুহারা কর হইতে উদিত হইবে ভাহাসের মধ্যে আছি প্রথম বাকি। সর্বপ্রথম আমি সুপারিশ করিব। আর আমার সুপাবিশই সর্বামো কবুল হইবে। আল্লাহ পাকের প্রশংসার পরাকা আমার হতে থাকিবে।এক হাদীছে আছে যে বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রত্যেক নবীর একটি বিশেষ দু’শা কবুল হয়। আমি চাহিতেছি যে পরকালে আমার উম্মতের সুপারিশ করার ক্ষেত্রে যেন আমার দু’আটি করুন হয়। এই জন্য আমি উক্ত দু’আ এখন না করিয়া ঐ সময়ের জন রাবিয়া দিয়েছি। হযরত ইবনে আম্মান বোঃ। বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসিয়াছেন, সকল নবীগণনাকে বসার জন্য স্বর্নের মিম্বর দেওয়া হইবে। সকরেই ও ও মিম্বরে বসিবেন। কিন্তু আমার মিম্বর খালি থাকিবে। আমি ইহাতে বসির না। বরং আমি স্বীয় পরেয়ারদিগান্ডের সামনে দণ্ডায়মান থাকিব। এই আশ্চরায় যে যদি আমাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট অরিয়া দেওয়া হয়। তাহা হইলে না জানি কোন দিক দিয়া আমার কোন উম্মত পিছনে পড়িয়া থাকে। আমি তথন আল্লাহর দরবারে আরয করিব, আম বব। আমার উত্থত। আল্লাহ পাক বলবেণ, যে মুহাম্মদ। আপনি কি চাদ আপনার উম্মতের সাথে যে ধরনের আচরণ করিবার ইচ্ছা করেন আমি সে ধরনের আচরণই করিব। আমি আবেদন করিব, আয় ইলাহি। আমি চাহিতেছি, তাহাদের হিসাব যেন তাড়াতাড়ি হইয়া যায়। অতঃপর আমি সুপারিশ করিতে থাকিব। এমনকি যাহাদিগকে জাহান্নামে পাঠাইয়া দেওয়া হইয়াছিল আমার সুপারিশে ভাহাদেরও মুক্তির সনদ মিলিবে। আহান্নামের এহবী মালিক বলিবে, অস মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনি স্বীয় উম্মতের জন্য এইভাবে সুপারিশ করিয়াছেন যে, আল্লাহর সোম্বার কারণে অগ্নি তাহাদিগকে প্রজ্জলিত করিবার যে হকটুকু ছিল, তাহাও আদায় করিবার সুযোগ দেন নাই। এক হাদীছে আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওরাসাল্লাম বলিয়াছেন যে- ভূপৃষ্ঠের উপর যতগুলি পাথর হিয়াছে, আমি কিবামতের দিনে তাহা অপেক্ষাও অধিক সংখ্যক বার সুপারিশ করিব। হযরত আবু হুরায়রা রা: বলেন যে একলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ানল্লাম এর কাছে গোশত আসিল। ভাগদের বন্ধ্য করা উরু তাহার সামনে রাখা হইল। তিনি ইহা আহার করিতে খুব পছন্দ করিতেন। তিনি ইহা দাঁতে কাটিয়া আহার করিলেন। অতঃপর বলিলেন, কিয়ামতের দিনে আমি মানুষের নেতা হইব। তোমরা কি ইহার কারণ জান? কারণ হইল, আল্লাহ পাক পূর্বাপর সকল লোকদিগকে এক ময়দানে সমবেত করিবেন। এক ঘোষক ঘোষণা করিবে। তাহাদের সকলের দৃষ্টি সামনে থাকিবে। সূর্য্য একবারে কাছে আসিয়া পড়িবে। মানুষের কষ্ট সহ্যসীমা অতিক্রম করিবে। কোন উপায় না দেখিতে পাইয়া একে অপরকে বলিতে থাকিবে যে আমর কি মারাত্মক অবস্থায় পতিত হইয়াছি। এখন এমন কাহাকেও তালাশ করা প্রয়োজন। যিনি আমাদের মুক্তির জন্য অদ্ভাহ পাকের কাছে সুপারিশ করিবেন। তাহারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করিয়া হযরত আদমের (আঃ।। কাছে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত করিবে। সুতরাং তাহারা হধলভ আদমের (আঃ) কাছে গমন করিবে এবং তাহাকে বলিবে, আপনি সকল মানুষের পিয়া। আল্লাহ পাক স্বীয় কুদরতী হাতে আপনাকে সৃষ্টি করিয়াছেন। আপনায় মধ্যে এহ কুকিয়া দিয়াছেন। ফিরিশতাদের দ্বারা আপনাকে দিজনা করাইয়াছেন সে আমাদের কি অবস্থা। তাই স্বীয় পক্রেমারদিগারের কাছে আমাদের ভন সুপারিশ করুন। হযরত আদম (আাচ তাহাদের আবেদন শ্রবন করিয়া বলিবেন, আজ আমার পরোয়ারদিগার এত বেশী রাগান্বিত হইয়াছেন যে ইয়ার পূর্বে কখনও এক রাগান্বিত হন নাই। তিনি আমাকে একটি বৃক্ষের ফল ভক্ষন করিতে নিষেধ

পৃষ্ঠা:৩৯

করিয়াছিলেন। কিন্তু আমার সেক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটিয়াছিল। তাই আমার নিজের জবাই কর হইতেছে। তোমরা অন্য কোথাও যাও। আমার দ্বারা ইহা সম্ভব হইতেছে না। তোমরা দুহের (আঃ। কাছে যাও। তাহারা হযরত নূহের (ঝারা কাছে যাইবে। তাহাকে বলিবে যে দুনিয়াতে আপনিই প্রথম রাসূল। আল্লাহ পাক আপনাকে “কৃতজ্ঞ বাশার” উপাধি দিয়াছেন। আপনি আমাদের এই কঠিন অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করুন এবং এই অবস্থা হইতে আমাদের মুক্তির জন্য পরোয়ারদিগারের কাছে সুপারিশ করুন। তিনি উত্তর দিবেন যে আল্লাহ পাক আজ এত বেশী রাগান্বিত হইয়াছেন যে ইয়ার পূর্বে কখনও এত বেশী রাগান্বিত হন নাই। আমি স্বীয় সম্প্রদায়ের জন্য একদা বদ দু’আ করিয়াছিলাম। এখন আমি নিজের চিন্তায় আছি। কি করিয়া নিজকে বাঁচাইতে পারি। তোমরা আমার ছাড়া অন্য কাহারও কাছে যাও। বিশেষ করিয়া হযরত ইবরাহীমের (আঃ) কাছে যাও। তাঁহার পরামর্শে তাহারা হযরত ইবরাহীম (আঃ। এর কাছে গমন করিবে। তাহারা বলিবে, আপনি অল্লাহ পাকের পয়ণদ্বয়। আল্লাহর জমীনে তাহার গুলীল। আমাদের এই দুরবস্থার প্রতি লক্ষ্য করুন। আর এই অবস্থা হইতে আমাদের মুক্তির জন্য পরোয়ালদিশারের কাছে সুপারিশ করুন। হযরত ইবরাহীম (আঃ) জবাব দিবেন যে আজ। পরোয়ারদিগার এত রাগান্বিত হইয়াছেন যে ইহার পূর্বে কখনও এক বেশী রাগান্বিত। হন নাই। ভবিষ্যতের অবনত এতোধিক রাগান্বিত হইবেন না। আমি জীবনে তিনটি কথা সরাসরি না বলিয়া ঘুরাইয়া ফিরাইয়া বলিবাজি। অতঃপর তিনি এই কথারলি তাহাদের সামনে বুলিয়া বর্ণনা করিয়া বলিগেন, আমি তো এখন নিজের জন্য ভাবিতেছি। তোমরা অন্য কাহারও কাছে যাও। তোমরা মুলার (আয়। কাছে যাও। তাহারা হযরত মুসার (আঃ) কাছে আগমন করিয়া বলিবে, আপনি মোসার রাসুল। আল্লাহ পাক আপনাকে স্বীয় রাসূল বানাইয়াছেন। আপনার সাথে কথা বলিয়া অন্যান্য মানুষের তুলনায় আপনাকে উচ্চ মর্যাদা দান করিয়াছেন। আমাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করুন। এই অবস্থা হইতে আমরা যেন মুক্তি পার করিতে পারি, যে জন্য পরোয়ারদিগারের কাছে সুপারিশ করুন। হযরত মুসা (আঃ) উত্তর দিবেন যে পরোয়ারদিগার আজ এত গোস্বা হইয়াছেন যে ইতিপূর্বে কখনও এতোধিক গোখা হন নাই। এমনকি ভবিষ্যতেও কখনও এতোবেক গেগাথা হইবেন না। আমার হাভে এক ব্যক্তি নিহত হইযাছিল। অথচ তাহাকে মারিষর নির্দেশ ছিল না। তাই আদ আমি নিজের চিন্তায় আছি। তোমক অন্য কাহারও কাছে যাও। হযরত ঈসান (আঃ) কাছে যাও। মানুষ হযরত ঈসার (আাঃ। এর নিকট যাইবে। তাহারা তাহাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিবে যে আপনি আল্লাহর রসূল, তাহার কালিমা। আপনাকে আল্লাহর রূহ ওল্য হইয়াছে। আপনি দোলনায় থাকা অবস্থায় মানুষের সাথে কথা বলিয়াছেন। আমাদের চরমাবস্থা সেখুন। স্বীয় তবের কাছে আমাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করুন। হয়তে ঈসা (আাংও জবাব নিবেন- আমার বর আজ এতোধিক রাগান্বিত আছেন যে তিনি কখনও এতোধিক রাগান্বিত হন নাই। অধিকন্তু এবিষাতেও হইবেন না। তিনি স্বীয় কোন পদস্থলনের কথা উল্লেখ করিবেন না ভবে তিনি ইহার অপরাশতা প্রকাশ করিয়া বলিবেন যে আমি নিজের চিন্তাষ আছি। কোমনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কছে শুভ। অতঃপর তাহারা আমার ভাছে আসিবে। বলিবে, আষ মুহাম্মদ সারল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনি আল্লাহর রাসুল, শেষনবী। আল্লাহ পাক আপনার পূর্বাপর সমস্ত গোনাহ মাফ করিয়া সিয়াছেন। আমাদের জন্য স্বীয় রবের কাছে সুপারিশ করুন। আামাদের সংকট অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। তিনি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তাহাদের আবেদন শুনিয়া আল্লাহ পাকের দিকে অগ্রসর হইব। তাঁহার আরশের নীচে আদিব। অতঃপর সিজদায় পতিত হইয়া তাঁহার প্রশংসা করিতে থাকিব। অবশ্য এই প্রশংসাগুলি কি কি? আমি এখন তাহা জানিব। ঐ সময় আল্লাহ পাক আমাকে শিক্ষা দিবেন। খামার পূর্বে কাহাকেও এইওবি শিক্ষা দেন নাই। ইহার পর আল্লাহ পাক বলিবেন- হে মুহাম্মদ। মালা উঠায়। কি চাওয়ার আছে রণ, তোমাকে প্রদান করা হইবে। সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হইবে। ইহা শুনিয়া আমি মামা উঠাইব এবং বলিব, আমার উম্মত। আমার উম্মত। অর্থাৎ হে এলাছি। আমার উত্থিতকে মাজ করিয়া দিন। এখন আমাকে বলা হইবে, হে মুহাম্মদ। তোমার উম্মতের মধ্যে যাহাদের হিসাব গ্রহণ করা হইবে না তাহাদিগকে জান্নান্ডের ভাণ দরজা দিয়া ভিতবে পৌঁছাইয়া দাও। জয় অন্যান্য দরজা তোমার উম্মত ও অন্যান উষ্মন- উভয়ের জন্য। তিনি আরও বলেন যে অল্লাহ পাকের কদম। প্রতেকে দরজার চৌকাঠ হয়ের মধ্যে হেমইয়ার হইতে মক্কা শরীফ পর্যন্ত আাবা মক্কা শত্রুফ হইতে বদরা পর্যন্ত দূরত্বের সমপরিমান দূরত্ব। অন্য এক হাদীছে অনুরূপ কণাই উল্লেখ করা হইয়াছে। তবে এই হাদীছে হযরত ইবরাহীম (আয়। যে-যে কথা সরাসরি না বলিয়া ঘুরাইয়া বলিয়াছেন, উত্তার বর্ণনা আসিযাবে। তন্মধ্যে তাহার প্রথম কথা হইল তাররা সম্পর্কে। তিনি তারকা দেখিয়া বলিয়া ছিলেন “ইহা আমার প্রতিপালক’ তখনকার লোকেরা ভারকা পুজারী ছিল। আরকাকে প্রতিপালক মনে করিয়া তাহাদের মতবাদ যাতিল প্রমাণের উদ্দেশ্যে তিনি তাহাদের সামনে বাহ্যিকভাবে বলিয়াছিলেন যে ইহং আমার প্রতিবাদত। অর্থাৎ তোমরা তো ইহাকে অভিপালক বল। মনে কর, তোমাদের সাথে আমিও প্রতিপালক বলিয়া মানিয়া লইলাম। তাহা হইলে এখন দেখার বিষয় যে ইহা তো আন্ত যায়। আর যাহা অর যমে তাহা কি করিয়া প্রতিপালক হইতে পারে? দ্বিতীয় কথাঃ তিনি কাফেরদের সকল প্রতিমা কপি ভাঙ্গিয়া বড় প্রতিমাটি অবশিষ্ট রাদিয়া দিয়াছিলেন। আহার কাঁধে কুঠার ফুলাইড নিয়াছিলেন। কাষেনরা

পৃষ্ঠা:৪০

তাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিবার পর তিনি জবাব দিলেন- “তোমাদের বড় মুর্তিটি ইহা করিয়াছে।”তৃতীয় কথাঃ কাফেররা কাহাকে মেলায় যাইতে বলার পর তিনি বলিয়াছিলেন, “আমি অসুস্থ” এই পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফাআতের আলোচনা হইল। শুধু তিনিই নহেন বরং তাহার উম্মতের অনেক বেক বাপারার বাফাষাত করিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাজ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের মাত্র এক ব্যক্তির শাফাআতের বাবা রবীআা এবং মুজার সম্প্রদায় ঘরের চেকসাখা অপেক্ষাও অধিক লোক জান্নাতে প্রবেশ করিবে। এক হাদীছে আছে যে রানুল্লাহ সাল্লাল্লহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিযাছেন, যে ব্যক্তিকে বলা হইবে উঠ এবং সুপারিশ করিতে থাক। সে উঠিয়া স্বীয় সম্প্রদায়, বাড়ী ঘরের গোক এবং অন্যান্য এক দুই ব্যক্তির জন্য স্বীয় আয়শ অনুপাতে সুপারিশ করিবে। হযরত আনাস (রঃ। বলেন কিয়ামতের দিনে এক জান্নাতি ব্যক্তি উকি দিয়া এক জাহান্নাম ব্যক্তিকে দেখিবে। জাহান্নামী ব্যক্তি তাহাকে ভাক দিয়া বলিবে, যে অমুকা তুমি কি আমাকে চিন? জান্নাতী ব্যক্তি বলিবে, আমি তো চিনি না। তুমি কে? পরিচয় দাও। জাহস্রাব্দী ব্যক্তি বশিবে, দুনিয়াতে অমুক দিন ভূমি কোথায়ও যাইতেছিলে। আমার কাছে দিখা যাইতেছিলে। তুমি আমায় কাছে পানি চাহিয়াছিলে। আমি তোমাকে পানি পান করাইয়াছিলাম। তখন জান্নাতী বলিবে, হ্যাঁ, আমি তোমাকে চিনিরে পারিয়াছি। জাহান্নামী বলিবে, তাহা হইলে ঐ পানি পানের বিনিময়ে তুমি আল্লাহর কাছে আমার জন্য সুপারিশ কর। অন্নাতী ব্যক্তি তাহার অবস্থা বর্ণন্য করিবার জন্য আল্লাহ পাকের কাছে অনুমতি অর্থন করিবে। অতঃপর বলিবে, আয় লোহি। আমি আহাল্লাম বাগীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়াছিলাম। এক জাহান্নামী ব্যক্তি আদাকে সম্বোধন করিমা জিজ্ঞাসা করিল আমি তাহাকে চিনি কিনা? আমি উত্তর দিলাম যে আমি তাহাকে চিনি না। সে ভাহার পরিচয় দিতে গিয়া বলিল যে দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় একলা পানি পান করিবার জন্য তাহার কাছে পদি চাহিয়াছিলাম। কে আমাকে পানি পান করাইযাছিল। তখদ আমার প্রতি তাহার অনুন্নাহের জবা আমার ঘরণ হইল। এখন যে ঐ পানির বিনিময় স্বরূপ আপনার কাছে তাহার অন্য সুপারিশ করিবার দাবী করিতেছে। আায় এলারী। আপনি তহ্যের জন্য আমার সুপারিশ কবুল করুন। রাসুলুল্লাহ সারারার আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে তথন আল্লাহ পাক ভাহার সুপারিশ কবুল করিবেন। জাহান্নামী ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বাহির হইয়া আনার নির্দেশ দিবেন। ফলে সে জাহগ্রাম থেকে মুক্তি লাভ করিবে। হযরত আনাস (রায়। বর্ণনা করেন যে রাসূল্লাহ সল্লাল্লর সশ্যইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, মানুষ যখন কবর হইতে উত্তিক হইতে থাকিবে তখন আমিও কবর হইতে উঠিব। তবে আমি সকলের আগে উঠিব। তাহারা আমার কাছে আসিবে। আমি তাহাদের পক্ষ হইতে কথা বলিতে থাকিব। তাহাদের জন্য আল্লাহর দরবাবে প্রক্ষত্র পেশ করিতে থাকিব। তাহারা যখন নিরাশ হইয়া পড়িবে তখন আমি তাহাদিগকে সুসংবাদ প্রদান করিব। আল্লাহর প্রশংসার পতাকা আমার হাতে থাকিবে। আমি অল্লাহ কাছে সকল আদম সন্তান অপেক্ষা অধিকতর সম্মানিত হইর। ইহা আমার অহংকার নয়। এক হাদীছে আছে যে জালুলুল্লাহ সান্তায়াজ আলাইহি গুদানাল্লাম বলিলেন, আাড়ি স্বীষ রবের সামনে দাড়াইব। তখন আমি জান্নাতী পোষাক পরিহিত থাকিব। অতঃপর আরশের ডানদিকে দন্ডায়মান হইব। আমার ছাড়া অন্য কোন মাখলুক সেখানে সম্রায়মান হইবে না। হযরত ইবনে আদ্যাগ (বার্ড) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ তাঁহার অন্য অণেক্ষ্য করিতেছিলেন। বিনি কোন কারণে বাহিরে পিয়াছিলেন। অতঃপর ফিরিয়া আসিবেন। তিনি তাহাদের নিকটে পৌঁছিয়া শুনিতে পাইলেন যে তাহারা কথাবার্তা বলিতেছেন। রাসুলুল্লাহ দারুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদের আলাপ আলোচনা অনিতে ছিলেন। কোন একজন বলিলেন, বড়ই গাশ্চর্য কথ্য। আল্লাহ হযরত ইবরাহীম মেয়াকে স্বীয় খালীদ (বন্ধু। রূপে গ্রহণ করিলেন। অন্য একজন বসিলেন যে ইহা তো হয়রত মুসা (আ এর ঘটনা হইতে অধিক বিশ্বয়কর নহে? কারণ আল্লাহ পাক তহ্যের সাথে সরাসরি কথা বলিয়াছেন। অন্য একজন বলিলেন যে হযরত ঈসন গেড। ব্যাপারটি ভাবিজ্ঞ দেখা তিনি তাঁহাকে কলেমানুল্লাহ এবং রণপ্তাহ বলিয়াছেন। অর একজন বলিলেন যে হযরত আদমকে (আঃ। আল্লাহ পাক পছন্দ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সারারায় আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার সামনে আসিয়া নালাম দিলেন এবং বলিবেন আমি তোমাদের আলাপ আলোচনা শুনিয়াছি। হযরত ইবরাহীম (আর। আল্লাহর শরীর হইয়াছেন বলিয়া তোমাদের আশ্চর্য। বোধ হইতেছে। নিঃসন্দেহে তিনি আল্লাহর খলীল। হযরত আদম (আঃ। নিঃসন্দেহে অল্লাহর পছন্দনীয় বান্দা। এখন শুন, আমি অল্ল্যাহর হাবীব। ইয়া আমার অহংকার নহে। বরং ইহা বাস্তব। কিয়ামতের দিন আামার হাতে আল্লাহ পাকের প্রশংসার ঝাড়া থাকিবে। ইয়া আমি অহংকারের ভিত্তিতে বলিতেছি না। অমিই সর্বত্রথম সুপারিশকার। আমার সুপারিশই সর্কবলম কবুল হইবে। ইহা আমার অহংকার নহে। যানলুকের মধ্যে আমিই সর্বপ্রবম জান্নাতের দরজার কড়া নাড়িব। আল্লাহ পাক খামার জন্য দররা খুলিয়া দিবেন। আমি ভিতরে প্রবেশ করিব। আামার সাথে ঈমানদার গরীব মানুষ থাকিবে। ইহা কোন ঝংকার নহে। আমি পূর্বাপর সকলের অপেক্ষা অধিকতর মর্যাদার অধিকারী হইব। ইহা কোন অহংকার নায়।

পৃষ্ঠা ৪১ থেকে ৫০

পৃষ্ঠা:৪১

হাউজে কাওছার

অপেক্ষাও অধিক মিষ্টি। মিশর অপেক্ষায় অধিক সুগন্ধিত। ইহা মনি মানিক্যের পাথরের উপর দিয়া প্রবাহিত হয়। হাউজে কাওছার আল্লাহ পাকের একটি বিরাট দান। ইহা আমাদের জন্যই নির্ধারন করিয়াছেন। হাদীছে ইহার বিভিন্ন গুণাবলীর বিবরণ রহিয়াছে। আল্লাহ পাকের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হইশ, তিনি যেন আমাদিগকে দুনিয়াতে ইহা দম্পর্কে জ্ঞান দান করেন এবং পরকালে ইহার স্বাদ গ্রহণ করিবার সৌভাগ্য দান করেন। কারণ যদি কেহ ইহার পানি মাত্র একবার পান করে, সে আর কখনও পিপাসিত হইবে না। হযরত আনাস (রায় বলেন যে একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালকা ভাবে ঘুমাইয়া ছিলেন। ঘুম হইতে জাগ্রত হইয়া ভিনি মুচকি হাসিলেন। উপস্থিত লোকজন জিজ্ঞাসা করিল ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হাসিলেন কেন? তিনি বলিলেন যে এখনই আমার প্রতি এক সূরা অবর্তীর্ণ হইয়াছে। তিনি বিসমিল্লাহ পাঠ করিয়া সূরাটি তিশাওয়াত করিলেন। ইহা হইল সূরায়ে কাওছার। অতঃপর তিনি উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিলেন যে তোমরা কি জাল। কাওছার কি? তাহারা উত্তর দিলেন ইহ্য সম্পর্কে আল্লাহ এক আল্লাহর রাসূলই ভাল বদিতে পারিবেন। তিনি ইহার বিবরণ প্রদান করিতে লিয়া বলিলেন, ইহা একটি নহর। আল্লাতে খামাকে প্রদান করিবেন বলিয়া আল্লাহ পাক ওয়ালা করিয়াছেন। ইহা খুব বরকতপূর্ণ। ইহাতে একটি চৌবাচ্চা রহিয়াছে। কিয়ামতের দিনে আমার উম্মতরা এই চৌবাচ্চা হইতে পানি পান করিবে। ইহাতে আসমানের তারকা পুঞ্জের সমসংবাক শিয়ালা থাকিবে। হযরত আনাস (রাঃ। হইতে বর্ণিত আছে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ খালাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জান্নাতে এমন করিতেছিলাম। এমন করিতে করিতে একটি নহরের কাছে জানিয়া পৌঁছিলাম। ইহার দুই পার্শ্ব মনি মুক্তয় বস্তুত গম্বুজের দ্বারা বাধানো। গুম্বজ গুলি গোলাকৃতি। ভিতরের অংশ খোলা। আমি জিবরাইলকে জিজ্ঞাসা করিলাম যে ইহা কি? তিনি বলিলেন, ইহা কাওছার। আপনার পরেয়ারদিগার ইহা আপনাকে দান করিয়াছেন। অতঃপর ফিরিশতা ইহার মধ্যে হাত রাখিয়া দেখিতে পাইলেন যে ইহার মাটি মিশক যারা প্রস্তুর। উল্লেখিত বর্ণনাকারী বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহার আরও অধিক বিবরণ দিতে গিয়া বলিয়াছেন, আমার হাউজের উভয় পার্শ্বের তুমি পাথর দ্বারা বাঁধানো। মদিনা হইতে ইয়ামেনের সানাখা পর্যন্ত। অথবা মদিনা হইতে সিরিয়ার আন্ধান শহর পর্যন্ত যে দীর্ঘ দূরত্ব রহিয়াছে উক্ত হাউজের উতষ তীরের দূরত্ব ততটুকু। হযরত ইবনে ওমর (রাঃ। বর্ণনা করেন যে সূরায়ে কাওছার অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লথ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কারহার দ্যুতের একটি নহরের নাম। ইহার উটরছন স্বর্ণের বাঁধালো। ইহার পানি দুধ অপেক্ষাও অয়। মধু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুক্ত মাস ছাওবান বর্ণনা করেন যে বাবুল্লাহ সম্ভায়াহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমার হাটা আদন হইতে সিরিয়ার শহর আমান পর্যন্ত বিস্তৃত হইবে। ইহার পানি দূর অপেক্ষা অধিক অভ্র, মধু অপেক্ষা অধিক মিষ্টি, এবং ইহাতে আকাশের তারকারাজির সমসংখ্যক গেয়লা থাকিবে। যে ব্যক্তি ইহা হইতে এক ঢোক পরিমাণ পানি পান করিবে সে কখনও। পিপাসিত হইবে না। পরীব মুহাদ্দিররা সর্ব প্রথম ইহা হইতে পানি পান করিবে। হযরত ওমর (রাঃ। জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাহারা কাহাবা। রাসূলুল্লাহ সাপ্তাহুম আলাইহি ওযাসাল্লাম অব্যব দিবেন, ভাহারা এমন লোক দারিদ্রতার কারণে আহাদের মমার চুল উদকু খুদকু। পোষাক পরিচ্ছন ময়লাযুক্ত। বিরশালী সুখী স্বচ্ছল পরিবারে তাহাদের বিবাহ হয় না। এবং বিষশালীরা তাহাদের ঘরের সরজাও খুলে না। এই হাদীস শুনিয়া হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয গ্রহ বলেন যে, আফসোস। আমি বাদশাহ আবদুল মারেকের করা ফাতিমাকে বিবাহ করিয়াছি। সে তো বিয়শালী সুধী পরিবারের কন্যা। অধিকন্তু আমার জনর এইসব শোক ঘরের সাজা খুলিয়া দেয়। খামার কোন উপায় নাই। তবে যদি আল্লাহ পাক আমার প্রতি অনুগ্রহ করেন। এখন থেকে আমি মাথায় তৈল ব্যবহার করিব না। তাহা হইরে আমার মাথার মূল উসকু মূসকু হই এবং কাপড় ধৌত করাইব না যাহাতে কাপড় ময়লাযুক্ত হইয়া পড়িবে। এই দুটি কাজ আমার ক্ষমতাধীন। তাই কম পক্ষে এই দুইটির উপর খাফল করিতে খাতির। হযরত আবু যর (রঃ) হইতে বর্ণিত যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহ আলাইহি ওধ্যসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করিলেন যে ইয়া রাসূলুল্লার সাপ্তাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হাউজে কাওছার হইতে যে পাত্র দ্বারা মানুষ পানি পান করিবে তাহা করতপি হইবে। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়ালল্লাম বলিলেন, অধ্যহর কসম! বাজের অন্ধকারে মেঘমুক্ত স্বচ্ছ ও পরিয়ার আকাশে যে অসংণা তারকারাজি দেখা যায় ইহার পাকের সংখ্যা অস্যগেক্ষাও অধিক। কোন ব্যক্তি ইহা হইতে পানি পান করিলে দ্বার কখনও সে পিপাসিত হইবে না। ইহা হইতে দুইটি নালা জান্নাতে পতিত হইয়াছে। ইহার বৈধ্য গ্রন্থ সমান সমান। আমান হইতে আয়শা নামক স্থান দ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান ইহার দুই পার্শ্বের দুরত্ব। ইহার পানি দুখ অপেক্ষাও শুভ্র এবং মবু অপেক্ষাও মিট। হযরত সামুবা ।বাঃ হইতে বর্ণিত আছে যে নবী করীম সল্লাল্লাজ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রত্যেক নবীর জন্য পৃথক পৃথক হাউজ বকিতে। যাহার হার্টজে

পৃষ্ঠা:৪২

বেশী লোক আসিবে তিনি অন্যান্য নবীর উপর গৌরব করিবেন। আমি আশা করি যে আমার হাউজেই সর্বাধিক লোক আসিবে।” গ্রন্থকার বলেন, দেখা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওবাসাল্লাম তি আশা করিয়াছেন। সুতরাং আমাদেরও প্রত্যেকের উচিত হইল রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাউজে আগমন করার আশা করা এবং এই জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। তাহা হইলেই আশা ফলপ্রসু হইবে। কেনন, কোন ব্যক্তি ভূমিতে বীজ বপন করিয়া ভূমিকে আগাছা মুক্ত করিয়া জমিতে পানি প্রদান করতঃ বীজের উদ্‌গমনের কলা ঘরে বসিয়া আল্লাহর অনুযহের আশা করে, তখন সে ব্যাক্তি বর্মীনের ফসল তোগ করিতে পারিবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি জমি চাষ করে নাই। জমিতে বীজ রাখে নাই। জমি আগাছা মুক্ত করে নাই। পানি সেচন করে নাই। এমন ব্যক্তি যদি এই আশায় বসিয়া থাকে সে আল্লাহ পাক স্বীয় অনুগ্রহে জমিতে শস্য নিয়া নিবেন। তাহা হইলে ইহা এই ব্যক্তির আশা- আশা হইল না বরং দে ভূলের মধ্যে পড়িয়া আছে। আমাদের অধিকাংশ লোকের স্বাশা এইরূপ। বেকুষের মত তুলে নিমজ্জিত রহিয়াছে। এই বরনের ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। কেননা মানুষ পরকালের ক্ষেত্রে অধিক ভুজের মধ্যে ডুবিয়া আছে। জাহান্নাম ও ইহার বিভিন্ন অবস্থার বিবরণ হে মানুষ! তোমরা এই নশ্বর জগতের পিছনে পড়িয়া বোকা খাইয়া নিজের সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন হইয়া বহিরাহ। এমন জিনিন সজ্জিত করিবার চিন্তা ভাবনা পরিভ্যাস কর, যাহা ছাড়িয়া যাইতে হইবে। স্বীয় মেধা, চিন্তাশক্তি ও কার্যাবলী সবই এমন এক স্থানের উদ্দেশ্যে যায় কর, যেখানে তোমাদিগকে পৌঁছিতে হইবে। তোমরা অবশ্যই জানিতে পারিয়াছ যে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে জাহান্নামের অগ্রি অভিক্রম করিবা যাইতে হইবে। ইহা অতিক্রম করা ব্যতীত কোন উপায় হইবে। না। কুরআন মজীদে আছে যে, তোমাদের এমন কেহ নাই, যাহাকে জাহান্নামের উপর দিয়া অতিক্রম করিতে হইবে না। وَإِنَّ مِنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّةَ حَلَمًا مَنْيا ثُمَّ نُنَجِّي الذين ألقوا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا مِنها . ইত্য তোমার প্রতিপালকের অপরিহার্য নির্ধারিত সিদ্ধান্ত। অতঃপর আমি মুত্তাকীলিগকে মুক্তি দান করিব আর জাসেমদিগকে অধঃমুখ করিয়া ইহাতে ছাড়িয়া দিব।” (মুরা মারইয়াম/ আয়াত ৭১-৭২১ এই আয়াতের দ্বারা বুঝা গেল যে প্রত্যেককে অবশ্যই জাহান্নামে পতিত হইতে হইবে। ইহাতো অপরিহার্য। ইহা হইতে কেহই বাদ পড়িবে না। তবে ইহা হইতে মুক্তিলাভ অপরিহার্স নহে বরং সম্ভাবনাময়। সুতবা। ইহাতে প্রবিষ্ট হওয়ার পর কি মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হইবে তাহা একটু ভাবিয়া দেখ- হয়তবা তোমার এই ভাবন তোমাকে মুক্তির দিশা দিতে পারে। এ সময় মানুষ কি সংকটাপন্ন অবস্থায় পতিত হইবে- চিন্তা করিয়া দেখ। কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় অবর্ননীয় বিপণ মানুষকে দিশাহারা করিয়া ছাড়িবে। কিয়ামতের ময়দানের মহাবিপদের পরিসমাধির পরও যখন ইহান ভয়াবহতার প্ররাব তখনও দুরীভূত হয় নাই। এই অবস্থায় ইহাব মারাত্মক প্রভাবে আবর্ত নিমশ্রিত থাকা অবস্থায়ও নিজেদের প্রকৃত অবস্থা এবং সুপারিশকারীর সুপারিশ গ্রাহ্য ২০বার সিদ্ধান্ত শুনার অধব আল্লাহে যখন সকলে অপেক্ষামান থাকিবে ঠিক সেই মুহূর্তে চারদিক থেকে ঘোর অন্ধকার, অপরাধীদিগকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিবে। চারদিক হইতে বিকট শব্দ করিতে করিতে ক্ষুধার্ত পাগলের ন্যায় অগ্রযুক্ত তাহাদের দিকে বাবিত হইে খাকিবে। মনে হইবে যেন অগ্নিকুন্ড গোস্তায় ও রাগে ফাটিয়া পড়িতেছে। ইহাদের অদম্য ও অপ্রতিরোধ্য শক্তির বলে যেন চরম প্রতিশোধ গ্রহণের জন অগ্রসর হইতেছে। তখন অপরবীদের দৃঢ়বিশ্বাদ হইয়া যাইবে যে তাহাদের ধ্বংস নামিয়া আসিযাছে। এমতাবস্থায় তাহাবা বভঙ্গানু হইয়া বেহুশ অবস্থায় পড়িষা যাইবে। যাহারা এই মারাত্মক ও বাংসাত্মক পরিস্থিতির আওতামুক্ত থাকিবে তাহারাও নিজেদের শেষ পরিনতি সম্পর্কে ভীত ও আতংকিত থাকিবে। এই সময় জাহান্নামের ফিরিশতাদের মধ্য হইতে এক ফিরিশতা উচ্চস্বরে ঘোষণা দিতে থাকিবে যে, অমুকের পুত্র অমুক কোথায়? সে তো পুনিয়াতে থাকা অবস্থায় নীর্মাশা গোদন করিও। আখেরাতের অবস্থা সম্পর্কে সন্দেহ পোষন করিত। অবৈধ কার্যে নিজের জীবনটি বাংল করিয়াছে। অতঃপর ফিরিশতা সোমার কচ্ছু লইয়া তাহার উপর আক্রমন করিবে। তাহাকে ধমকি প্রদান করিবে। মারাত্মক শ্যাক্তির মধ্যে ফেলিবে। অধঃমুখ তরিা জাহদ্রামের গর্তে নিক্ষেপ করিবে। যার বিরয়ায়ের গরে বলিতে থাকিবে যে স্বাদ গ্রহণ কর। ভূমি তো সুনিয়াতে নিজকে সম্মানিত ও মর্যাদাবান মনে করিতে। এখন একটি সংকীর্ণ, অন্ধকার ও বাংসাত্মক ঘরে পড়িয়া থাক। এই যবে যে প্রবেশ করে দে চিরদিন এইঘরেই থাকে এবং সর্বদা অগ্নিতে পুড়িতে থাকে। ইহাতে বন্দীদিগকে গরম ফুটন্ত পানি পান করিতে দেওয়া হয়। এখানে আগুনের ফিরিশতাও তাহাকে পৃথকভাবে গুর্থ মরিজ আমার দিতে থাকে। অগ্নি তাহাকে জড়াইয়া ধরে। সে মৃত্যুর কামনা করিতে থাকে। কিন্তু কোথায় মৃরুণ? জাহার পদদ্বয় মাখার কেশের ছানা বাঁধিয়া বাখা হইবে। গোনাহের অন্ধকারে আহার মুখমন্ডল কৃষ্ণবর্ণ হইযা যাইবে। সে চিৎকার কবিতে করিতে বলিতে

পৃষ্ঠা:৪৩

থাকিবে, হে মালিক। আমাদিগকে যে স্বাযাব দেওয়ার কথা ছিল তাহা তো পুরা হইয়াছে। আমাদের হাতে পায়ে লাগানো বেড়ী তো খুব ভারী লাগিয়েছে। আমাদের গায়ের চামড়া পুড়িয়া হামখার হইয়াছে। জামাদিগকে এখান থেকে বাহির করিয়া নাও। আর কখনও এইরূপ করিব না। জাহান্নামের দারোগা মালিক কর্কশ মরে এমকি দিয়া বলিবে, চুপ থাক নিরাপদ প্রকার দিন ফুরাইয়া গিয়াছে। অপমান ও অপণস্থতার এই ঘর হইতে বাহির হওয়ার তোমাদের জন্য আর কখনও সম্ভব হইবে না। ইহাতেই গড়িয়া থাক। আমার সাথে আর কথা বলিও না। যদি তোমাদিগকে এই অবস্থা হইতে মুক্তিদান করা হয় এবং দ্বিতীযয়নার দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়। তাহা হইলেও তোমরা ঐ আামলই করিবে যাহা করিয়াছ। তোমরা বিরত হইবে না। আবার পূর্বের ন্যায়ই আমল করিবে। তাহার জবাব গুনিয়া জাহান্নামীর নিরাশ হইয়া পড়িবে। অতঃপর নিজেদের কৃত আমলের জন্য পরিতাপ করিতে থাকিবে। কিন্তু কি করিয়ে এখন তো কোন কিছু করার সুয়োগ নাই। কোন প্রজব অপতি কাজ করিতেছে না। লজ্জিত হওয়া য্যারাও কোন লাভ হইতেছে না বরং তাহারা অবনত মন্ত্রক হইয়া পড়িবে। এমতাবস্থার অস্ত্রিব লিজির গলার মধ্যে পড়িবে। সামনে, পিছনে ডানে, বামে শুধু আগুন আর আগুন। মোট কথা- অগ্নিডে নিমজ্জিত থাকিবে। খাদ্য হইবে আগুন, পানীয় হইবে আগুন, পোশাক হইবে গাগুন, বিছানা হইবে আগুন, হাতে পায়ে ভারী বেড়ী রাকিবে। জাহান্নামের সংকীর্ণ রাস্তাতে চিৎকার করিতে করিতে দৌড়াইতে গতিবে। অস্থির হইয়া আশে পাশে ছুটাছুটি করিবে। জলন্ত চুলার উপর বসানো হাঁড়িয় পানি যেমন উত্তপ্ত হইয়া শৈবণ করিতে থাকে জাহান্নামের অগ্রিম তন্ত্রণ ফুটিতে থাকিবে। আর তাহারা বাসে হইতে বাঁচার জন্য, এই অবস্থা হইতে মুক্তির জন্য ফরিয়াদ করিতে থাকিবে। যখনই ফরিয়াদ করিবার জন্য কোন শব্দ মুখ থেকে বাহির করিবে তথনই আাহার মাখার উপর ফুটন্ত পানি গলিয়া দেওয়া হইবে। ফলে তাহার নাড়ী কুড়ি এবং চামড়া জ্বলিয়া-গলিয়া নীচে পন্ডিত হইবে। অধিকন্তু আবার লোহার অর্থ ধারা মারাও হইতে বাকিরে। মারের চোটে তাহার যুক্ত চূর দূর হইয়া মুখ দিয়া পূজ বাহির হইতে থাকিবে। পিপালায় কারণে কলিজা ফাটিয়া টুকরা টুকরা হইয়া। বাইবে। চোখের পুতলি বাহির হইয়া গালের উপর খুলিয়া পড়িবে। প্যালের ও হাড পায়ের মাংস ও লোম সর্বকিছু করিয়া পড়িবে। চামড়া ভুলিয়া যাওয়ার পর আবার নতুন চামড়া যোগ করা হইবে। শরীরের গোশতের ভিতর হাঁড় থাকিবে না। শিরা উপশিরা এবং ধমনির মধ্যে জীবন থাকিবে। এমতাবস্থায় তাহারা মৃত্যু কামনা করিতে থাকিরে কিন্তু তাহাদের মৃত্যু আসিবে না। সুতরাং হে শ্রোতা! যখন তোমরা আহান্নামীদিগকে দেখিতে পাইবে যে তাহাদের মুখমণ্ডল করবা অপেক্ষাও অবিক কৃষ্ণবর্ণ, চোখ অন্ধ, জবান বন্ধ, বোবা, হাঁড় মাংস চুজুর হইয় গিয়াছে, কর্ণ কর্তিত, গায়ের চামড়া ফাটিয়া দিয়াছে। হাতের বেড়ী গলার আটকাইয়া পড়িয়াছে। মাথার চুল যারা পদদ্বয় বাধা, আগুনের মধ্যে পুড়িয়া মুখমণ্ডল জ্বলিয়া হারবার হইকেছে, লোহা কাটন দ্বারা স্বীয় চোখের পুরলী সরাইতেছে। তখন ইহা সেথিয়া তোমাদের কি অবস্থা হইবে? তোমরা তো পরিষ্কার দেখিতে পাইনে যে তাহাদের দেহের প্রতিটি কনিকাতে অগ্নিশিখা দৌড়াইতেছে। দেহের বাহ্যিক প্রতিটি জংশে সর্গ জড়াইয়া আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহদ্রামের মায়ণন সম্পর্কে বলিয়াছেন- যে জাহান্নামের মধ্যে সত্তর হাজার ময়দান রহিয়াছে। প্রত্যেক ময়দানে সত্তর হাজার অংশ রহিয়াছে। প্রত্যেক অংশে সত্তর হাজার সর্প ও বিষ্ণু বহিয়াছে। কাফের ও মুনাফিকরা যতক্ষন পর্যন্ত এইগুলি প্রত্যেকটির পাঁচে না পড়িবে ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের পূর্ণ পরিণতি বুঝিতে পারিবে না।  রাসুলুল্লাহ সল্লাতাহ খালাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, “ওয়ানীয়ে হবন হইলে আশ্রয় প্রার্থনা কর। উপস্থিত সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করিলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। “ওয়ানীয়ে হুজন’ কি? তিনি উত্তর দিলেন যে ইহা জাহদ্রগ্রামের একটি ময়দান। জাহল্লাম নিজেই প্রতিদিন ইহ্য হইতে সত্তরবার অশ্রয় প্রার্থনা করে। আল্লাহ পাক ইতা বিষাকারীদের জন্য প্রস্তুত করিয়াছেন।” মানুষ দেহের সাতটি অঙ্গের দ্বারা গোনাহ করে। ভায়াগ্রামের স্তরের সংখ্যার সারিট। অধিকন্তু স্তর সমূহের মধ্যে পার্থক্য রহিয়াছে। সবচেয়ে উপরের অর হইল আহাল্লাম নামক দোজগ। স্বতঃপর সাকার। তৃতীয়প্তরে বাযা। চতুর্থ হোতামা। অভঃপর সায়ীর অতঃপর ভাহীম। সর্ব নিম্নস্তরে যাবিয়া। এখন ভাবিযা দেব হাবিয়া নায়ক। দোজখের পর্থরতা কর হইতে পারে? ইহা কি করন করা সম্ভব? ইহার পরীরতা সীমাহীন। যেমন দুনিয়ার মানুষের চাহিদাও সীমাহীন। অর্থাৎ মুনিয়াতে মানুষের এক চাহিদা পূরা না হইতেই যেমন আর এক চাহিলা আসিয়া হাদির হয়। অনুত্তণভাবে এক দোজখের গভীররা শেষ না হইতেই আর এক দোজখের গভীরতা এক হইয়া যায়। হযরত আবু হোরায়রা (নায়। বর্ণনা করেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ সারারাছ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। হঠাৎ করিয়া ‘তম করিয়া একটি খাওয়াজ হইল। আমরা তাহা শুনিতে পাইলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ অসাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন- তোমরা কি জান ইহা কিসের আওয়াজ। আমরা বলিসাম যে আল্লাহ ও অদীয় রাসূল ইহার সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন যে, ইহা একটি পামান। সরর কথের পূর্বে জাহান্নামের উপর হইতে ছাড়িনা দেওয়া হইয়াছে। আর এখন ইহার অপদেশে পৌছিয়াছে। অতঃপর দোজখের বিভিন্ন স্তরের পরস্পরের পার্থক্য সম্পর্কেও চিন্তা তারনা

পৃষ্ঠা:৪৪

করিয়া দেখ। দুনিয়াতে মানুষের যেমন শ্রেণী বিভাগ রহিয়াছে। কাহারও মর্যাদা অনেক বেশি। আবার কাহারও কাহারও অপেক্ষাকৃত কম। পক্ষান্তরে কেহ কেহ কো দুনিয়াতে একেবারে নিমজ্জিত হইয়া পড়িয়াছে। অর কেহ কেহ তো একটি নির্ধারিত জাগতিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ হইয়া পড়িয়াছে। অনুরূপভাবে জাহল্লামে প্রবেশকারীদেরও শ্রেণী বিভাগ রহিয়াছে। একেক শ্রেণীর পোক একেক জাহান্ত্রামে প্রবেশ করিবে। একেক জাহান্নামে আতবের পর্যায়ও একেক শ্রেণীর হইবে। কেননা আল্লাহ পাক তো বান্দার প্রতি সামান্য ভুলুম ও করিবেন না। ইহ্য হইকে বুঝা যায় যে- কোন এক আহস্লামে প্রবেশ করিলেই তাহায় একের পর এক সর্ব প্রকারের আযাবই আপতিত হইবে- এমন নয়। বরং প্রত্যেক ব্যক্তির অপরাধ। অনুযায়ী তাহার উপর নাযার আপতিত হইবে। অবশ্য জাহান্নামে যাহার সবচেয়ে কম আমার হইবে তাহার অবস্থা বুঝিবার জন্য একটি উদাহরণ উপস্থাপিত করা যাইতে পারে। যেমন-এ ব্যক্তি যদি নিবিল বিশ্বের মালিক হইয়া থাকে, তাহা হইলেও সে তাহার সব কিছু দিয়া এই আযাব থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রস্তুদ থাকিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে ব্যক্তির সবচেষে কম আযাব হইরে তাহাতে আগুনের দুইটি জুতা পরিধান করাইয়া দেওয়া হইবে। কলে তাহার মাথার মগজ ফুটয় পানির ন্যায় টগবগ করিতে থাকিবে।” এই হালীছে। একটু চিন্তা করিয়া দেখ যে যাহার আজর সবচেয়ে কম, তাহারই অবস্থা এইরূণ। আর যাহার আযাব শক্ত, তাহার কি অবস্থা হইবে। আঞ্চনের দ্বারা স্বাযাব হইলে আযাব যে কত কঠিন ও মারাত্মক হয় যদি এই ব্যাপারে তোমাদের কোন সন্দেহ হয় তাহা হইলে দুনিয়ার আগুনে স্বল্প সময়ের জন্য আমূল রাখিয়া পরীক্ষা করিয়া দেখ না। অধিকন্তু ইহাও জানিয়া রাখ যে- তোমাদের এই পরীক্ষা দ্বারা কিন্তু সঠিক তথ্য পাইবে না। কেননা জাহস্রামের আগুনের সাথে দুনিয়ার আগুনের তো তুলনাই হয় না। যেহেতু দুনিয়াতে যত প্রকারের শাস্তিই প্রদান করা হউক না কেন ইহাদের কোনটিই আরুন দ্বারা আযাব দেওয়ার তুল্য হইতে পারে না। আগুনের আযাবের ন্যায় মারাত্মক কোন আযাব হইতে পারে না। কিছুটা অনুধাবন করাইবার জন্য জাহড্রামের আবাবকে দুনিয়ার আগুনের জরা প্রদত আযাবের সাথে তুলনা করা হইয়াছে। যদি জাহান্নামীদিগকে ব্যহল্লামের আযাবের পরিবর্তে দুনিয়ার আগুনের দ্বারা আযাব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তাহা হইলে তাহারা খুশিতে পেঁৗড়াইয়া আসিয়া ইহাকে পতিত হইবে। কেননা সুনিয়ার আগুন ঘরা প্রদয় আযাবের তুলনায় ওই অনেক বেশি। জাহান্নামে আগাবের স্কুলনায় দুনিয়ার আগুন যেন আরাম করিবার স্থান। এক হানছে আছে যে, জাহান্নামের অগ্নি রহমতের পানি যারা সত্তরবার ধৌত করিবার পর দুনিয়ার মানুষের কাজ কর্মের জন্য দেওয়া হইয়াছে। এক হালীছে আছে যে, জাইদ্রামের আগুনকে হাজার কসর পর্যর জ্বালাইয়া জ্বালাইয়া আরও তেজদীর করা হইয়াছে। শেষ পর্যন্ত ইহা কৃষ্ণবর্ণ ধারন করিয়াছে। বর্তমানে ইহা কৃষ্ণবর্ণ ঘোর অন্ধকার। এক হালীতে আছে যে, আহল্লাম আল্লাহ পাকের কাছে করিয়াদ করিয়াছে যে, হে আল্লাহ, আমার একাংশ অপরাংশকে কক্ষন করিয়া ফেলিতেছে। তখন জাহান্নামকে অনুমতি প্রদান করা হইয়াছে দুইটি নিঃশ্বাস ফেলিবার জন্য। একটি নিরশ্বাস শীতকালে। অপরটি গ্রীষ্মকালে। সুতরাং গ্রীষ্মকালে তোমধ্য যে প্রকার পরম অনুভব কর তাহা রী নিশ্যাসেরই গরম। পক্ষান্তরে শীতকালে যে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয় তাহাও ঐ নিঃশ্বাসেরই কারণে। হয়রত আনাস (রাঃ। হইতে বর্নিত আছে যে, দুনিয়াতে ধনদৌলতের প্রাচুর্যো পড়িয়া যে কাজের সবচেয়ে বেশি সুখ ও আরাম করিযাছে তাহাকে উপস্থিত করা হইবে। তাহানা সম্বন্ধে বলা হইবে যে, তাহাকে আহান্নামের আগুনে একবার ডুবাইয়া তুলিয়া আন। তুলিয়া আনার পর ভাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইবে যে, তুমি কি দুনিয়াতে কখনও সুখানুভর করিয়াছ? দে বলিবে ন্যং অতঃপর যে মুসলমান দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি কই প্রোগ করিয়াছে ভাহাকেও উপস্থিত করা হইবে। কাহার নম্বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হইবে যে তাহাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করাইয়া আন। জান্নাতে এবিচ করাইয়া ফেরত আনিয়ার পর কাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইবে যে, তুমি কি কখনও কোন কষ্ট করিয়াছ? যে বলিবে না। হযরত আবু হোরাইরা (রাঃ) বলেন যে, যদি একটি মসজিদে একলক্ষ বা কতোধিক মানুষ থাকে। আর এক জাহন্ত্রার্থী ব্যক্তি তাহার নিঃশ্বাসটি মসজিদে হাড়ে। ভাহা হইলে তাহার নিশ্বাসের গরমের তাপে সকলে মৃত্যুবরণ করিবে। কোন কোন ভয়সীর কার এই স্বায়াতের তফলল্টীর করিতে নিয়া বলেন যে তাহাদের মুখমন্ডলে অগ্নির লেলিহান শিখা এইভাবে কাঁপটাইয়া পড়িবে যে ইহাতে তাহাদের দেহ হইতে গোশত ফুসিয়া নিয়ে পড়িত হইবে। করং তাহাদের পায়ের গোড়ালি খসিয়া পড়িবে। হে শ্রোতা। তথন জাহান্নামীর শরীর এবং হাঁড় হইতে যে পুঁজ বাহিয়া পড়িবে ইহর দুর্গন্ধ কি পরিমাণ হইতে পারে এই সম্পর্কে একটু ভাবিয়া দেখ। তাহার শরীর হইতে পুঁজ পড়িতে পড়িতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হইবে যে যে পূজে নিমজ্জিত হইয়া পড়িবে। এই পুঁজের নাম “গাসলাক।” হযরত আবু সাঈদ খুদরী (বাঃ। হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যদি জাহান্নামের ‘গ্যাসসাক” নামক পুদ্ধ হইতে এক বালতি খুঁজ দুনিয়াতে ফেলিয়া দেওয়া হয় তাহা হইলে ইহার দুর্গন্ধে সমস্ত দুনিয়াবাদী মরিয় যাইবে। জাহান্নামীদের পানীয় হইবে এই পুজ। তাহারা যখন পিপাসায় কাতর

পৃষ্ঠা:৪৫

হইয়া বার বার ফরিয়াদ করিতে থাকিবে। তখন ইত্য ভাহাদিগকে পান করিবার জন্য প্রদান করা হবে । কুরআন মজিদে আছে وَيُسْقَى مِن مَاءٍ حَدِيدٍ يَتَجَرعُهُ وَلَا يَكَادُ يُسِيغُهُ وَيَاتِهِالموتُ مِن كُلِّ مَكَانٍ وَمَا هُوَ بِمَيِّةٍ .করালে মইবে পুঁদ যাহা ঘটঘট ভত্তিয়া পান করিবে। কিন্তু তায়া পান করা মুসোবা হইতে এরা সব স্থান থেকে তাহার মৃত্যু খাসিবে কিন্তু সে মরিবে না। ইয়াতীম। আয়াত ১৬-১৭ খর এক স্থানে বসিয়ে وَإِنْ تَسْتَغِيلُوا يُغَالُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوَى الْوُجُوهُ بِئْسَالشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا . বলি তাহারা ফরিয়াদ কবে তাহা হইলে তাহাদিগকে দেবের গাদের ন্যায় পানি দেওয়া হইবে, খায়া ওবামাতে ভুনা বরিয়া ফেলিবে। ইহ্য। পানীয় এবং কত খারাপ ঠিকানস্বয়ংপর ভয়দের গদ্যের দিতে বান্ধ্য কর। তাহ্য কত নিকৃষ্ট বস্তু হইবে।ثمَّ إِنَّكُمْ أنهَا الصالون المعلمون اللون من شعر من الومسجون منها المكون الكارتون ملون الجسم مقيدةشرب الهيم.“অধঃপর হে পদতই মিছু্যুকরা তোমরা যাককুন বৃদ্ধ ভক্ষণ করিতে। ধার ইহা দ্বারাই উদর পূর্ণ করিয়ে। অতঃপয় বোমা বিগলিত ইংটির বাম কুটন্ত গরম إنها شجرة تخرج في أصل الحجم طلعها كان للاس الشَّيَاطِينِ ، فَإِنَّهُمْ لَاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِؤُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا الشَّوْمًا مِنْ حَمِيمٍ – ثُمَّ إِنَّ مَرْجِعُهُمْ لِإِلَى الْجَحِيمِ . ইহা একটি বৃক্ষ যাহা জাহল্লামের মূল স্থান হইবে বাহির হইয়া আদিয়াছে।ইহার উপবিলাপ যেন শয়তানের মাথা। তাহারা এই বৃক্ষ রক্ষন অধিবে। আর ইহা স্বালাই নিজেলের উদর পূর্ণ করিবে। অরংপর ইহার সাথে হইবে গরম পানির মিশ্রণ। স্বরঃপর যাহাদের গয়নাগুণ হইবে জাহান্তমআরও বলা হইবাছেتعلى ناراً عامة النفى من علي الية চন্দ্র কেকণীর বগ্রিতে নিক্ষেপ করা হইবে এবং ভূটর পানির প্রস্রবণ হইতে পদ করলো হইবে। إِنَّا لَدَيْنَا أَنْكَالًا وَجَحِيمًا وَطَعَامًا ذَاقَةٍ وَعَذَابًا ) اليما . “নিশ্চত আমার কাছে বড় শক্ত বেড়া, অনন্ত মল্লিকৃত, পদধঃকরণের সময় পরাজ২৬৫ও আবদুল্লাহ ইবনে আমান ।রাঁয়। থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন- “যদি বারুস্তুম বৃক্ষের এক মোটা পুনিয়ায় গড়গ্র সমুহে পরিত হয়, তাহা হইসে মানুষের জীবনধারণ অক্ষম হইয়া পড়িবে।” সুমহাল ওই বৃদ্ধ ব্যাহলিকে খাদ্য হিসাবে দেওয়া হইবে, তাহাদের অবস্থা কি হইবো একটু রাবিয়া দেখা দরকার। সেবাও বাগাদ।৫১। থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সরোয়ার অশাইহি ওয়াসস্থান বলিয়াছেন যে, আল্লাত পাক যে সব জিনিসের প্রন্থি মোতাচিপতে অভর্থী হইতে বলিয়াছেন, সে দর বিনিদের প্রতি আগ্রহী হন্ড। পক্ষান্তরে গোর জিনিন ফাপর্কে ওয় প্রদর্শন করিয়াছেন- ঐ সব জিনিসকে ওয় জব। অর্থাৎ তাহার স্বাযাব ও শাড়িতে ভয় করিতে থাক। জায়গ্রামকে ভয় পান্ড। তোমরা এখন যে দুনিয়াতে আছ, এই দুনিয়াতে যদি জান্নাতের সামান্য পরিমাণ জিনিসও তোমাদের সাথে খাকে তাহা হইলে ইহা তোমাদের দুনিয়াকে সুন্দর এবং আরামদায়ক করিয়া ফেলিবে। আর যদি জাহান্নামের এক ফোঁটা পরিমাণ ছিমিন তোমাদের সাথে থাকে তাহা হইলে ইয়া আোমনেই ধুনিয়াকে প্রবর্জনাময় এক খারাপ করিয়া ছাড়িবে। হযরত আবু সায়লা (বায়া থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাব সায়ায়াহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জাহন্তামবার্থীদের মায় পিপাসা সৃষ্টি করিয়া দেওয়া হইতে তাহাতে আয়াতের এই পুরাপুরি অনুভব করিতে পারে। তাহারা বাসা চাহিবে তখন ভাহাদিগকে খাদ্য হিসাবে করাটা দেওয়া এইরে যাহা তাহাদের দেহকে মোটামাজা করিয়ে না আবার বাজার ক্ষুধায় পৃীিভূত করিবে না। অতঃপর পানীয় জিনিসের চাহিদা ওরিয়ে। তখন ফুটন্ত পানির পাত্র লোহার হকের মাধ্যমে হইয়া তাহাদের মুখের দিকটারী করা হইবে। মুখের নিরটন্ত্রী করার পাতে

পৃষ্ঠা:৪৬

লাবে তাহাদের মুখমন্ডল শুনা হইয়া যাইবে অভ্যপর পানি তাহাদের পেটে পৌঁছিয়া পেটের নাড়ীভূড়ি টুকরা টুকরা এরিয়া ফেলিবে। অতঃপর তাহারা একজন অপরজনকে বলিবে যে, জাহান্নামের দারোগার কাছে আবেদন কর। তাহারা আহান্নামের দারোগাকে সম্বোধন করিয়া তাহার কাছে আবেদন করিবে যে আপনি আল্লাহ পাকের কাছে আমাদের জন্য দু’আ করুন। যাহাতে তিনি একদিনের জন্য আমাদের আযাব হালকা করিয়া সেন। জাহান্নামের দারোগা তাহাদিগকে বলিবে যে। কোন নবী তোমাদের কাছে মোজেনা বইয়া যান নাই? তাহার বলিবে নিয়াছিলেন। কিন্তু তাঁহার থেকে বিমুখ ছিলাম। দারোগা বলিবে “তাহা হইলে চিৎকার করিতে। থাক।” কাফেরদের চিৎকার পথষ্টতার চিৎকার। অতঃপর তাহারা জাহান্নামের পায়িত্ব প্রাপ্ত ফিরিশতা মালিককে ডাক দিয়া বলিবে যে আপনার প্রভু আমাদের যে নির্দেশ প্রদান করার তাহ্য তো করিয়া দিয়াছেন। এখন ইহা হইতে নিষ্কৃতির তি উপাছা মালিক বলিবে যে, তোমরা জাহান্নামেই থাকিবে। হাদীছের বর্ণনাকারী ইমাম আ’মাশ বলেন যে, আমি শুনিয়াছি যে তাহারা মালিককে ডাকান এক হাজার বছর পর মালিক তাহাদের জবাবে উপরোক্ত মন্তব্য করিবে। অতঃপর মালিক বলিবে যে নিজের প্রভুকে ডাকিতে থাক। তাহা অপেক্ষা উত্তম কেহই নাই। শেদ পর্যন্ত তাহারা আল্লাহ পাকের কাছে আবেদন করিবে যে ইয়া আল্লাহ। দুর্ভাগ্য আমাদের উপর প্রধান্য কিয়াধ করিযাছে। আমরা পরশ্রী ছিলাম। আয় এলাহি। আমাদিগকে এই বিপদ হইতে মুক্তি প্রসান করুন। পুনরায় যদি আমরা এইরূপ করি, তাহা হইলে আমরা অভ্যাচার সাব্যস্ত হইব। আল্লাহ পাক তাহাদের জরবে বলিবেন অপমানিত ও লাঞ্ছিত হইয়া জাহান্নামেই পড়িয়া থাক। আমার সাথে জন্য বলিও না। জবাব অনিয়া আহারা আহাদের প্রতি কল্যাণ করা সম্পর্কে নিরাশ হইয়া পড়িবে। ভষন তাহারা চিৎকার করিতে এবং পরিভাগ করিতে শুরু করিবে। হজরত আবু উসামা ।রা বলেন-وتسقى من ماء حديد بتجرعه ولا يكاد يسبقهএই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করিতে গিয়া রাসুলুল্লাহ সম্ভাল্লাহ অপাইছি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, পানি যখন তাহার কাছে আনা হইবে ওখন সে ভাই অপছন করিবে। এই পানি পান করিবার সাথে সাথে নাড়াকুড়ি কাটিয়া টুকরা টুকরা হইযা অহ্যজন দিয়া কাহির হইয়া আসিবে। এই ব্যাখ্যার সার কথা অন্য এক আমাতেওسكوا ما سيما تلمع أَنْعَاهُمْ ভাহাদিগকে পান করলো হইবে গরম ফুটন্ত পানি। আর এই পানি তাহাদেরনাড়ীভূড়ি কাটয়া ফেলিবে। অন্য এক আয়াতে বলা হইয়াছে যাহা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হইয়াছে যে গদি তাহারা ফরিয়াদ করে তাহা হইলে তাহাদিগকে তৈলের গাদের ন্যায় গরম পানি প্রদান করা হইবে যাহা তাহাদের চেহারাসমূহ কে তথ করিয়া ছাড়িবে।” এখন দক্ষ কর জাহান্নামের সাপ বিচ্ছুর প্রতি, ইহারা লম্বা দেহ বিশিষ্ট খুব বিষাক্ত এবং কৃর্ত্তী হইবে। যাহা আহস্রামের জন্য নির্ধারিত থাকিবে। ইহাদিগকে তাহাদের প্রতি সেলাইয়া দেওয়া হইবে। তাহাদিগকে একের পর এক দংশন করিতে থাকিবে। এক নিশ্বাস পরিমান সময়ও অবসর দিবে না, অনবরত দংশদ করিতে থাকিবে। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ। থেকে বর্ণিত বালুলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি গুয়াল্লাম বলেন যে স্বাদ্রাহ পাক যাহাকে মলদৌলত দিয়াছেন অথচ সে যাকাত আদায় করে না। তাহার মাস দৌলতকে কিয়ামতের দিনে অভগর সর্পের ঝাকৃতি প্রদান করা হইবে। ইহার মাথার উপর কাল দুইট ফোটা হইবে। সর্গটি ঐ ব্যক্তির পণ্য পেডাইয়া ধরিবে এবং তাহার মুখের দুই পার্শ্ব চাপিয়া ধরিয়া বলিবে আমি তোমার মাল দৌলত আমি তোমার ঘন ভান্ডার। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করিলেন:ولا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَسْعَلُونَ بِمَا أَتاهم الله من تطلبه همخَيْرٌ لَهُمْ بَلْ هُوَ شَمَّرَ لَهُمْ طَوقون ما يحلوا به يوم القيامة.“আল্লাহ পাক যাহাদিগকে স্বীয় অনুগ্রহ। বনদৌলত। দান করিয়াছেন ইহা সন্তক্ষে ভাবাদের কৃপণতা করাকে তোমরা কখনও তাহাদের জন্য কল্যাণকর বলিয়া ধারণা করিও না বরং এইরূপ করা তাহাদের জন্য বড়ই অমঙ্গল জনক। তাহারা যাহা সম্বন্ধে কৃপণতা করিয়াছে অতি সত্বর কিয়ামতের দিনে ইহা তাহাদের গলার বেড়ীতে পরিণত হইবে।” (সুরা আল ইমরান। আমা৪ ১০০ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- জাহান্নামের দংশনকারী সর্প সমূহ উটের ন্যায় শির বিশিষ্ট হইবে। কাহাকেও একবার দংশন করিলে ইহার একরার দংশনের বিষব্যাখ্য চল্লিশ বৎসর পর্যন্ত অনুভূত হইবে। ইহার বিষ্ণু, বোকা বহনকারী খতরের ন্যায় হইবে। দুনিয়াতে যাহারা কৃপণ, অসচ্চরিত্র এবং অন্যকে কই প্রসাদকারী, এইসব সর্গ-বিষ্ণু তাহাদের জন্য নিয়োজিত। কিন্তু যাহারা এইসব কার্য হইতে বাঁচিয়া রহিয়াছে তাহারা এই সব সর্প-বিষ্ণু হইতেও বাঁচিয়া থাকিবে। অতঃপর জাহান্নামীদের দেহাকৃতির প্রতি মনোনিবেশ কর। আল্লাহ পাক তাহাদের সেহ দৈর্ঘ্য গ্রন্থ উত্তর দিক দিয়া বাড়াইয়া দিবেন। যাহাতে দেহ বড় হওয়ার কথাগ আযাবও বেশী অনুত্তর হয় এবং সর্ণ কিন্তু অধিক দংশন করিবায় স্থান পায়। হযরত (সূরা মুযাখন। আমার ১৫০আবু হোরায়রা (রাঃ। বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সল্লায়াম আলাইতি ওয়াসাল্লাম বলেন।

পৃষ্ঠা:৪৭

জাহদ্রামের মধ্যে কাফেরদের দাঁত উহুদ পাহাড় পরিমান রক্ত হইবে। তাহাদের সেহের চামড়া তিন দিন পব চলিয়া যত দূরত্ব অতিক্রম করা যায় ভতটুকু শুক হইবে। এক হাদীছে আছে যে, কাফেরের নীচের ঠোঁটটি ভাহার বুক পর্যন্ত আসিয়া পড়িবে। আর উপরের ঠোঁটটিও নীচে স্কুলিয়া পড়িবে ফলে তাহার মুখ ঢাকা পড়িয়া যাইবে। এক হাদীছে আছে যে, কিয়ামতের দিনে কাকেরের জিহ্বা জাহান্নামের কয়েন খানায় গড়াগড়ি খাইবে। আর মানুষ তাহা পায়ের নীচে রাখিয়া পিষ্ট করিবে। সেহ এক প্রকান্ড হওয়ার পর অগ্নি বার বার ইহা স্পর্শ করিবে। ফলে গোশত পুড়িতে থাকিবে আর নতুন নতুন গোশত ও চামড়া দেহের সাথে যুক্ত হইতে হযরত হাসান বসরী (রহঃ)- عشرها. كلما  এই আয়াতের ব্যাখ্যা করিতে গিয়া বলেন- প্রতিদিন জাহান্নামের অগ্র জাহান্নামীকে সত্তর হাজার বার পুড়াইয়ে। যখন একবার গুড়াইবে তখন দেহকে বলা হইবে যে পূর্বের দায় হইয়া যাও। দেহ তৎক্ষণাৎ পূর্বের ন্যায় হইয়া যাইবে। এই ভাবে চলিতে থাকিবে।অতঃপর জাহান্নামী ক্রন্দনের ব্যাপারে চিন্তা করিয়া দেখ। তাহাদের কান্নাকাটি চিৎকার এবং নিজেদের কংযের জন্য বার বার আকাঙ্খায় কনা ভাবিয়া দেখ। তাহাদিগকে অন্ত্রিতে নিক্ষেপের সাথে সাথে এইসব কিছু শুরু হইবে। অসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই সিন জাহান্নামকে টানিয়া টানিয়া লইয়া আনা হইবে। তখন ইহা সদয় হাজার শিকল দ্বারা বাবা থাকিবে। আর প্রত্যেক শিকলে সত্তর হাজার ফিরিশতা নিয়োজিত থাকিবে। হযরত আনাস (রাঃ। বলেন- জাহান্নামীয় এতোধিক ক্রশন করিবে যে শেষ পর্যন্ত ভায়াদের চোখে অন্ত্র থাকিবে না। তাই রক্তের অশ্রু বর্ষা করিবে। এমনকি মুখমণ্ডলে ইহার ছাগ পরিলক্ষিত হইবে। তাহাদের কাঁদায় কারণে এতোধিক অশ্রু প্রবাহিত হইবে যে যদি এই প্রবাহিত অশ্রুতে নৌকা ছাড়িয়া দেওয়া হয় ভায়া হইলে নৌকাও ভাসিয়া চলিবে। তবে তাহাদের এই ক্রন্দন, পরিতাপ, ভাহারা প্রভৃতি ততক্ষণ পর্যন্ত চলিবে ফতক্ষণ পর্যন্ত ইহার অনুমতি থাকিবে। আর এই গুলির ফলে ভাঙার কিছু আরাম ও ভোগ করিবে। কিন্তু পরে একবার এই সব করিতে নিষেধও করিয়া দেওয়া হইবে। হজরত মুহাম্মদ ইবনে কা’ব করেন যে, জাহান্নামীদের পাঁচ বার দু’আ করিবার দুয়োল হইবে। চার বার আল্লাহ পাক তাহাদের দু’খার জবাব দিবেন। পঞ্চম বারো মাখায় তাহাদের আর কোন কিছু বলার সুযোগ হইবে না। প্রথম তাহারা বলিবে :رَبَّنَا آمَتَنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْبَبْتَنَا النَّتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا   فهل إلى خروج من سبيل . “হে আমাদের প্রতিপালক। আপনি আমাদিগকে দুইবার মৃত অবস্থায় রাবিয়াহেন এবং দুইবার আমাদিগকে জীবন দান করিয়াছেন। নিজেদের অপরাব স্বীকার করিতেছি। এখন এখান থেকে বাহির হওয়ার কোন পথ আছে কি? (সূন্ন মুমিন অ১১)তাহাদের জবাবে আল্লাহ পাক বলিবেন-الكم بأنه إذا وعلى الله وحده كفر كم وأن يشركه به تو منوافَالْحُكْمُ اللهِ الْعَلِيِّ الْكَسْمِ.“হে মানুষ! ইহার কারণ এই যে, যখন শুধু মাত্র অদ্বিতীয় আল্লাহ পাকের নাম লওয়া হইত, তখন তোমরা তাওহীদ অস্বীকার করিতে। আর যদি তাঁহার সাথে কাহাকেও শরীক করা হইত। তাহা হইরে তোমরা ইহা মনিয়া লইতে অভএব এফন ফয়সালা আল্লাহ পাকের হাতে। তিনি বড় শান ওয়ালা বড় মর্যাদাবান।”দ্বিতীয় কর তাহারা বলবে-ربنا انصرنا وسمعنا ما رجعنا نعمل صَالِحًا .“হে আমাদের প্রস্তু। আমরা দেখিয়াছি এবং স্বীয় কর্ণে শুনিয়াছি। সুতরা এখন আমাদিগকে দুনিয়ায় ফেরত পাঠাইয়া দিন। আমরা সেখানে পিয়া নেক আমল করিব।” সুেরা সাজনাহ, আয়াত-১২) তখন আল্লাহ পাক জবাব দিবেন- أولم تكونوا المهم من قبل مَالَكُم مِن زوالي .“ভবে কি তোমরা ইতিপূর্বে সুেনিয়াতে থাকা অবস্থায়। কসম করিয়া বগিতে ছিলেনর যে তোমাদের ধানে আদিবে নয়” (সূরা ইব্রাহীম। আহারা তৃতীয় বার বলিবে- ربنا اخر هنا تعمل صالحا عمير الذي كنا نعمل.“ত্রে আমাদের পরোয়ারদিগার। এখন আমাদিগকে এখান থেকে বাহির করুন। আমরা পূর্বে যাহা করিয়াছি উহার বিপরীত নেক আমল করিব।” (সূরা জারির আয়াত ৫৭) আল্লাহ পাক জবাব দিবেনأولم لعمركم ما تناكم به من تلكم وحاكم السليم تلوموا تما للطاليين من نعت

পৃষ্ঠা:৪৮

‘আমি কি তোমাদিগকে এতটুকু বয়স প্রদান করি নাই, যে সময় যাহারা উপদেশ গ্রহণ করার ভাহারা উপদেশ গ্রহণ করিতে পারে। অতঃপর তোমাদের কাছে কি কোন ভায় প্রদর্শন্দকারী (নবী) আগমন করেন নাই। সুতরাং যথন করা স্থান নাই তাহা হইলে এখন স্বাদ গ্রহণ কর। এখানে জালেমদের কোন সাহায্যকারী নই। তাহারা আবার আবেদন করিবে (সূরা ফাতির আয়াত-৩৭) رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقَونَنَا وَكُنَّا قَوْمًا حَالِينَ رَبَّنَا أخرجنا منْهَا فَلَةٌ مِّنَا فَإِنَّا فَالسَّرة .“হে আমাদের প্রস্তু। সুর্ভাগ্য আমাদের উপর প্রাধান্য বিস্তার করিয়াছিল। নিঃসন্দেহে আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রভু। এখন আমাদের আকোন হইল এই যে এখন আমাদিগকে এই অগ্নি থেকে বাহির করিয়া দিন। যদি আমরা পুনরায় অনুরূপ আজই করি। তাহ্য হইলে নিশ্চয়ই আমরা অত্যাচারী।”(সুরা মুমিনুন/ আয়াজ ১০৮-১০৭। আল্লাহ পাক জবাবে বলিবেন المسؤوا  “দূর হইয়া যাও। অপমান ও অপদস্থ হইবা অগ্নিতে গড়িয়া থাক। আমার সাথেকথা বলিবে না।(সূরা মুমিনুন। আয়ার ১৮ইত্যুর পর তাহারা আর কোন কথা বলিতে পারিবে না। বলিতে না দেওয়া আবেদন করিবার সুযোগ না দেওয়াই তো এক কঠিন আযাব।প্রচলিত প্রবাদ্য “আরও কানিবার সুযোগ প্রদান না করাইতো শক্ত মার।”মালেক বিন আমাল রেহ। বলেন যে হয়বত যায়দ ইবনে আদলাম রো ستواء علمنا أجزعنا أَمْ صَبَرْنَا مَا لَنَا مِن محيص:এই আয়াতের অনুবাদঃ আমধ্য উর্মিপ্রত্য প্রকাশকরি আর ধৈর্য্য ধারণ করি- উন্নয় দিও আমাদের ফেলার সমান। আমাদের মুক্তি নাই (সূরা ইবরাহীম। আয়াত (১) এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করিতে গিয়া বলেন যে, একশত বৎসর উদ্বিগ্ন থাকবে এবং একশত কসের ধৈর্য্য ধারণ করিবার পর তাহারা এই কথা বলিয়াছে। রাসুলুল্লাহ সারারাজ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন আল্লাহ পাক মৃত্যুকে সাদা একটি ভেড়ার আকৃতিতে উপস্থিত করিবেন। অতঃপর ইহা জান্নাত ও জাহল্লামের মধ্যে যবেহ করিয়া দেওয়া হইবে। জান্নাত ব্যানীদিগকে জলিয়া দেওয়া হইবে যে এখন থেকে সর্বদা এখানেই পর্বতবে। তোমাদের গান কখনও মৃত্যু আদিবে না। আখেরাত জাহান্নামীদিগকে গুনাইয়া দেওয়া হইবে যে এখানেই তোমাদের চিরস্থায়ী বসবাস। কোশদিন তোমাদের মৃত। আসিবে না। হযরত হাসান বসরী (রহঃ। হইতে বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি এক হাজার বৎসর পর জাহান্নাম হইতে বাহির হইয়া আনিবে। অতঃপর ফিনি বলেন যে যদি আমিই সে ব্যক্তি হই, তাহা হইলে কতইনা প্রাণ হইবে। একলা কোন এক ব্যক্তি দেখিতে পাইপ যে হযরত হাসান বসরী রেহয়। এক কোপে বসিয়া কাঁদিতেছেন। সে জিজ্ঞাসা করিল, আপনি কাদিতেছেন কেন? তিনি উত্তর দিলেন যে আমার কয় হইতেছে যে না জানি আমাকে জহদ্রামে বিক্ষেণ করিয়া ফেলিয়াই দেন এবং এই ব্যাপারে কোন পরওয়াই করেন না। এই ভয়ে কাঁদিতেছি।জাহান্নামীদের আযাব বিভিন্ন প্রকারের হইবে:জাহান্নামীদের আযাবের সাথে সাথে তাহাদের বড় পরিতাপের বিষয় হইল, জান্নাত ও জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন না পাওয়ার পরিতাপ এবং আল্লাহ পাকের স অর্জন না করিতে পারার পরিতাপ। তাহারা সেখানে জানিতে পারিবে যে অম্লাতের এবং অল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এই সকল নেয়ামত শুধু দুনিয়ার সামান্য কয়েকদিনের প্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে হাত ছাড়া হইয়াছে। অধিকন্তু দুনিয়ার এই কয়েকটা দিনও স্বযার দুঃখ এই বিবর্তিত ছিল না। একবারে নির্ভেজাল সুধ অবশ্যই ছিল না। বরং রেঝাল মিশ্রিত সুখের এই দিনগুলির কারণে আজ এই অবস্থা। এই জন্য তাহারা পরিতাপ করিতে থাকিবে যে হায়। আমরা স্বীয় পরোয়ারদিগারের নাফরমানী করিয়া কিভাবে নিজের জীবনকে বাদে করিয়াছি। সমান করেওটা দিন কেন ধৈর্যধারণ করিবার কইটুকু বরণ করিলাম না। যদি আামরা ধৈর্য্য ধারনের কষ্টটুকু বরন করিতাম তবুও তো আমাদের দিনগুলি অতিক্রান্ত হইত আর এখন আমরা আরাম আয়েশে আল্লাহ পাকের ছায়ায় থাকিতাম।” সুতরাং, এখন যখন আখেরাতে সুখভোগ তাহাদের হাতছাড়া হইয়াছে এবং মনের চাহিদার পরিপন্থি অপছন্দনীয় অবস্থায় পতিত হইয়াছে। অধিকন্তু দুনিয়ার আরাম আয়েশ ও সুখ-স্বাচ্ছন কিছুই এখন অবশিষ্ট নাই। তাই তাহাদের পরিতাপের কি কোন সীমা থাকিতে পারে? যদি তাহারা জান্নাতের সুখ স্বাচ্ছন্দ নিজ চোখে না দেখিত তাহা হটলে হয়তো অতোধিক পরিতাপ হইত না। জান্নাতের বসন্ত তাহাদের সামনে উপস্থাপিত করা হইবে। তাহাদিগকে সেখানে হইবে। যাহাতে তাহাদের পরিভাগ আরও বৃদ্ধি পায়। বাসুলুল্লাহ সল্লারছ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন- কিয়ামকের দিনে কথকলোর সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হইবে যে অহাদিগকে জান্নাতের দিকে লইয়া যাও। ভাহাদিগকে জান্নাতের কাছে লইয়া যাওয়া হইবে। আহার্য অন্নাতের

পৃষ্ঠা:৪৯

সুগন্ধ গ্রহণ করিবে। ইহার ভিতরের ঘরবাড়ি দেখিবে। আল্লাহ পাক আন্নাতবাসীদের জন্য যাহা কিছু প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন তাহা স্বচক্ষে অবলোকন করিবে। এমভাবস্থায় এক আওয়াজ ভাসিয়া আসিবে যে তাহাদিগকে এখান থেকে সরাইয়া ফেল। জড়াতে তাহাদের কোন অংশ নাই। তাহাদিগকে সরাইয়া লওয়ার সময় তাহারা এমন পরিতাপের সাথে সরিয়া অসিতে বাধা হইবে যাহা তাহাদের ছাড়া অন্য কেহ অনুভব করিতে পারিবে না। তখন তাহারা আল্লাহ পাকের দরবারে আবেদন করিবে যে ইয়া এলাহি। যদি আপনি আমাদিগতে ইহার পূর্বেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করিতেন। আপনার প্রিয় বান্দাদের সুখ স্বাচ্ছন্দের জন্য যে সকল আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিস প্রস্তুত করিয়াছেন, যদি এইসব কিছু আমাদিগকে না দেখাইতেন তাহা হইলে জাহান্নামে প্রবেশ করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হইত। আল্লাহ পাক ইরশাদ করিবেন- আমি ইচ্ছা করিয়াই এইসব কিছু করিয়াছি। কেননা তোমরা দুনিয়াতে থাকিতে যখন মানুষ হইতে পৃথক থাকিতে, তখন আমার সামনে অনেক নাকবমান করিতে। পক্ষান্তরে যখন মানুষের সাথে একত্রিত হইতে তখন তাহাদের সামনে নরম ও কোমলভাবে কথা বলিতে। তাহাদর সাথে তাল আচরণ করিতে। ভাহাদিগকে দেখাইবার জন্ম এবং তাহাদের মনোতুষ্টির প্রতি খেয়াল রাবিয়া কথা বলিতে কিন্তু আমার দন্তুষ্টি লাভের জন্য বলিতে না। তোমরূ মানুষকে কত গাইতে কিন্তু আমাকে ভয় পাও নাই। তাহাদিগকে সম্মান করিতে কিন্তু আমাকে করিতে না। ভাহাদের ভালবাসা পাওয়ার জন্য কোন জিনিস ছাড়িয়া দিতেও দ্বিধাবোর করিতে না কিন্তু আমার জন্য ছাড়িতে না। তাই আমি তোমাদিগকে মর্মন্তদ আযাবের স্বাদ উপােণ করাইব। চিরস্থায়ী সওয়াব হইতে বঞ্চিত রাখিব। আহমদ ইবলে হরব বলেন যে, আমাদের কোন কোন কাজ বিষয়কর। যেমন আমরা রৌদ্র ছাড়িয়া ছায়া অবলম্বন করি। রৌদ্রের উপর ছায্যকে প্রাধান্য দিয়া থাকি। কিন্তু অম্লাদকে জাহান্নামের উপর প্রাধান্য দেই নাই। হয়রত ঈসা (আঃ) বলিয়াছেন- অনেক সুঠামদেহ, চিত্তাকর্ষক স্বাকৃতি, গাঞ্জল ও মনোমুগ্ধকর বক্তৃতা প্রদানকারীর মুখ জাহান্নামের ভলদেশে পড়িয়া করিয়ান করিতে থাকিবে। হরেক দাউদ (আঃ বলিভেন, আয় আল্লাহ। আমি তো আপনার সূর্যের ভাগই সহ্য করিতে পারি না। কাহা হইলে জাহান্নামের তাপ কি করিয়া সহ্য করিব? আপনার রহমতের ঘোষনার পরেও আপনার দয়া লাভের জন্য ধৈর্যধারন করিতে পারিনা। আপনার আয়াবে কিভাবে ধৈর্যধারণ করিবা অতএব, হে মিসকীন নফল। আল্লাহ পাক জাহান্ত্রামে যেসব বিপদাপদ রাবিয়াছেন সেগুলির দিকে লক্ষ্য কর। অধিকন্তু তিনি জাহান্নামের বাসিন্দাও সৃষ্টি:والسيرهم يوم العشرية مُحِ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وهم لا يؤمنون. “আপনি ভাহাদিগকে পরিতাপের দিন সম্পর্কে ভর প্রদর্শন করুন, যেদিন জান্নাত ও জাহান্নামের ফয়সালা হইবে অথচ তাহারা আজ অতসর্ক। তাহারা তো বিশ্বাস করে না।” (সূরা মারইযাম। আয়াত ৫১। অত্র আমাতে কিয়ামতের দিনের প্রতি ইঙ্গিত করা হইয়াছে। কিন্তু পরিতাপকারীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত সেদিন হইবে না। সিদ্ধান্ত তো পূর্বেই হইয়া রহিয়াছে। কিয়ামতের দিনে সিদ্ধান্তের প্রকাশ হইবে মাত্র। হে আত্মা। তোমার অবস্থা সেবিয়া আমি বিখয়াভিভূত হইয়া পড়ি। কেন না তুমি তো হাসি ভায়াশ, এবং দুনিয়ার ঘূর্ণিত জিনিদের মোহে শিল্প রহিয়াছ। অথচ তুমি জান না যে তোমার সম্বন্ধে কি সিদ্ধান্ত হইযাছে। এখন যদি তুমি জিজ্ঞাসা কর যে, তোমার অবতরন কোরায হইবে? জান্নাতে না জাহান্নামে তোমার ঠিকানা কোথায় হইবো তোমার শেষ পরিণতি কি? তোমার সন্ধত্বে একদীরে কি সিদ্ধান্ত আছে। এই সব প্রশ্নের উত্তর তো ইহাই যে ইয়ার একটি পরিচিতি আছে। একটি নিদর্শন আছে। যাহা ফর ইহার সঠিক অবস্থা বুঝা যাইতে পারে। তাহা এই যে, ভূমি স্বীয় হালত এবং আমলের প্রতি দৃষ্টি প্রদান কর। কেকর কোন ব্যক্তিকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হইয়াছে, সে উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য তাহাকে তদানুযায়ী আমল করার সুযোগর প্রদান করা হয়। সুতরাং যদি তোমার অবস্থা এমন হয় যে তুমি সৎ পথের আমল করার সুযোগ পান এবং এই পক্ষের আামল তোমার জন্য সহজ করিয়া দেওয়া হয়। তাহা হইলে তুমি আনন্দিত হও যে তোমাকে জাহগ্রাম হইতে দূরে রাখা হইবে। আর যদি অবস্থা এমন হয় যে,তুমি তো দেক কাজ করিবার ইচ্ছা কর কিন্তু তোমার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় আর যদি খারাপ কাজের ইচ্ছা কর তখন সাথে সাথে ইহা করা তোমার জন্ম সহজ হইয়া যায়। তাহা হইলে অনিয়া রাখ যে, তোমার সিদ্ধান্ত অন্য দিকে হইয়াছে। কোন এলাকায় বৃষ্টি হইয়াছে, ইহা ইঙ্গিত করে যে- ঐ এলাকার বেত খামারে চারা জন্মইবে। দূরে ধোয়া দেখা বিষাছে ইহা ইঙ্গিত করে যে, সেখানে অগ্নি আছে। নেক কাজের তাওফিক পাওয়া, আর না পাওয়ার জাহান্নাম হইভে দূরে থাকা আর না থাকার প্রতি অনুরূণ ইঙ্গিত বহন করিয়া থাকে।আল্লাহ পাক বলেন إن الأبرار لفي نعيم وَإِنَّ التجار  .

পৃষ্ঠা:৫০

“নিশ্চয়ই নেককার লোকেরা জান্নাতে থাকিবে, আর বদকার লোকেরা জাহান্নামে থাকিবে।” তুমি নিজকে এই আমাতের উভয়াংশের সামনে উপস্থাপিত কর। উল্লেবিত স্থানদ্বয়ের মধ্যে তোমার স্থাস কোনটি, তাহা বুঝিয়া লইতে পারিবে। বেহেশতের অবস্থা এবং ইহার বিভিন্ন নেয়ামত এই পর্যন্ত যে ঘরের বিব্রতকর অবস্থা এবং বিপদাপদের করা আলোচনা হইল। ইহর পাশাপাশি বিপরীতধর্মী আরও একটি ঘর রহিয়াছে। ইহায় সুখ স্বাচ্ছন্দ এবং আরাম আয়েশ সম্বন্ধেও আলোচনা হওয়া উচিত। কেননা কোন বাক্তি এই ঘরয়যের, কোন একটি হইতে যখন ছিটকাইয়া পড়িবে, তখন অবশ্যই দ্বিতীয়টিতে অবস্থান করিতে হইবে। সুতরাং হে আত্মা। আহান্নামের বিপদাপদ ও ভয়ংকর অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করিয়া তোমার অন্তরে ইহার ভয় সৃষ্টি করা এবং জান্নাতবাসীদের জন্য যে শাস্তি ও সুখ স্বাচ্ছন্দের ওয়াদা করা হইয়াছে উহা সম্পর্কে চিন্তা ফিকির করিয়া ইহার কামনা অন্তরে সৃষ্টিকরা তোমার অপরিহার্য কর্তης নিজকে জয়ের বের ধারা আমার কর এবং স্বতি। বাকা রাস্তা হইতে টানিয়া সকল পথে আনয়ন কর। ফলে তুমি বহু বড় রাজত্বের অধিকারী হইবে। মর্মন্তদ আযাব হইতে নিবাগদ হইয়া যাইবে। অতঃপর অন্নাতবাসীদের অবস্থা সম্পর্কেও চিন্তা কর। তাহাদের মুখমন্ডলে থাকিবে সুখস্বাচ্ছন্স ও সতেজতার ছাপ। সীদ করা বোরদের পানীয় ভাড়াদিগকে পান করানো হইবে। শুভ্র মণি-মুক্তার বস্তুত তাবুর অভ্যন্তরে সবুজ বর্ণের ইয়াকুত পাথরের তৈরী মিম্বরে তাহারা উপবিষ্ট থাকিবে। সবুজ ছাপার বিছানা ভায়ানের তাবুতে বিছাইয়া বাঘা হইবে। তাহারা দিহাননে হেলান দিয়া বসা থাকিবে। শরাব এবং মধুর প্রবাহিত প্রস্রবণের তীরে তাহাদের তাবু ভলি বাটানো হইবে। তাবুর ভিতরে তাহাদের সেবা সুশ্রুষার জন্য হবগণ এবং ছোট ছোট বালকদিগকে নিয়োজিত কয় হইবে। অনিন্দ সুন্দরী ডাগর চোখা উত্তম চরিত্রের ও সর্বাধিক সৌন্দর্যের অধিকারিনী যুবতী অতুলনীয় সাজে সন্ধিতে হইয়া সামনে উপস্থিত থাকিবে। জান্নাতের হরদিগকে দেখিতে মনে হইবে যেন ইয়াকুত পাথর এবং মণি-মুক্তা দ্বারা তাহাদিগকে প্রস্তুত করা হইয়াছে। দেখিলে মনে হইবে যেন ইতিপূর্বে তাহাদিগকে অন্য কেহ দেখে নাই। তাহাদের দেহে শুভ্র। রেশমী চাদর জড়ানো থাকিবে। সেখিয়া চোন পর্যন্ত বিষয়ারিকৃত হইয়া পড়িবে। মণি মুক্তা পচিক মুকুট তাহাদের শিরের উপর শোভা পাইবে। আখি কোনে লাল বর্গের রেখা, প্রেমের আলোকচ্ছটা নিঃসরণকারী নয়ন বিশিষ্ট, লাল ইয়াকুরের আসাদের ভিতর পর্দার অন্তরালে, পদ্ধা-শরমে নীচের দিকে দৃষ্টিপারকারিণী এই গফল হব তাহাদ্দের প্রসাদ জান্নাতের বাগিচার মধ্যখানে অবস্থিত। সেখামে পরী-পুরুহ সুসজ্জিত খাটে সামনা সামনি বসিয়া আলাপ আলোচনায় বত থাকিতে। শুভ্র নির্ভেজাল শরাব পান করানো হইবে, যাহাতে অভাবনীয় এক প্রকার স্বাম অনুভূত হইবে। মুক্তার দানার ন্যায় উজ্জ্বল ও চকচকে বালকরা শরব ও অন্যান্য পানীয় প্রব্যের পেয়ালাগুলি হাতে লইয়া তাহাদের সামনে পরিবেশন করিবে। এইসব কিছু তাহাদের সুনিয়াতে উপার্জনের বিনিময়। প্রবাহিত প্রদ্রবনের তীরে যে সকল বাগান শোভা পাইতে থাকিবে। এই সকল বাগানের মধ্যে যাহাদের মুখের এইসব ঘরগুলি অবস্থিত হইবে। প্রভাবশালী সম্রাটের নার তাহারা কথায় অবস্থান করিবে। তাহাদের এই উপভোগের প্রভাব তাহাদের চেহারার মধ্যে স্পষ্টভাবে ফুটিয়া উঠিবে। কোন প্রকার মলিনতা বা অসন্তুষ্টি তাহাদিগকে স্পর্শত করিতে পারিবে না। বরং সম্মানিত সুধী ও প্রভুর অতিধির ন্যায় দেখা যাইবে। পরোয়ারদিগারের পক্ষ হইতে বিভিন্ন রং ও স্বাদের অগনিত তোহফা তাহাদের খেদমতে উপস্থাপিত করা হইবে। সারকথা তাহাদের মনোবাসনা, আকাঙ্খা ও কামনা পূর্ণ করিবার সর্ব প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। সেখানে কোন প্রকার সুখ।দেন, ভয়ভীতি এবং স্বাফসোস থাকিবে না। মৃত্যুর সন্ধাবনা মুক্ত হইয়া আরুম ও সুখের সাথে জীবন যাপন করিতে থাকিবে। তাহাদিগকে আহার্য্যকস্তু হিসাবে যাহা প্রদানকরা হইবে, তাহা রক্ষন করিয়া দুধ, শরাব ও মনুর প্রবাহিত অদ্রবণ হইতে পান করিবে। প্রদ্রবনের তলদেশ রৌপ্যের বখানো হইবে। ইহাতে মনিমুক্তা বংকর হিসাবে ব্যবহৃত হইবে। ইহার মাটি হইবে মেশক, আযফার এবং সবুজ বংয়ের জাফরানের। এই সব প্রদ্রবনে মিষ্টি পানির বারি বর্ষিত হইবে। বৃষ্টির পানি কর্পূরের টিলার উপরও বর্ষিত হইবে। পানি পানের পেয়ালাগুলি মনিমুক্তা দ্বারা খচিত হইসে। তাহাদিগকে যে পানীয় পান করিতে দেওয়া হইবে তাহ) বিশেষ পাত্রে রাখিয়া পাত্রের মুখে কর্ক আটিয়া দল করিয়া দেওয়া হইবে। সঙ্গনাবিল নায়ক অস্ত্রবন হইতেও পানীয় দ্রব্যের মিশ্রন ভাহাদের পরীয় প্রব্যের সাথে যোগ করিয়া দেওয়া হইবে। পানগুলি এত বদ্ধ পদার্থের তৈয়াবী হইবে যে স্বদ্ধতার কারণে ইহাদের মধ্যে রক্ষিত পানীয় দ্রব্যের লালয় উজ্জ্বলদা এবং সুক্ষ্মতা পরিষ্যর ভাবে দেখাইবে। দেখিয়াই মনে হইবে যে এইগুলি কেস মানুষের প্রস্তুত নহে। কেনন ইহাদের প্রস্তুতিতে কোন প্রকার ত্রুটি বা দুর্বলতা দেখা যাইবে না। যে সকল সেখও এইগুলি পরিবেশন করিবে তাহাদের চেহারার জ্যোতি সূর্যের আলোয় জ্যোতির ন্যায় হইবে। তবে তাহাদের স্বাকৃতির কোমলতা, কেশগুচ্ছের ি মনোহর সৌন্দর্য্য এবং নয়ন যুগলের লাবন্যময় মাতধন এইদিক থেকে তো সূর্য্যও তাহাদের কাছে পরাজিত। অধিকন্তু ইহা এমন এক ঘর যাহার বদরাসকসীর মৃত নাই। কোন প্রকার আপদবিন্দ, অসুস্থতার করণ এখানে নাই। ইহার বাসিশাদের কোন রকম আবর্তন বিবর্তন, পরিলক্ষিত হইবে না। এমন ঘরের প্রতি যাহাদের ঈমান ও বিশ্বাস রহিয়াছে তাহাদের সম্বন্ধে এই জন্যই আশ্চর্য্য হইতে হয় যে

পৃষ্ঠা ৫১ থেকে ৬২

পৃষ্ঠা:৫১

কাহারা কিভাবে এই নশ্বর অস্থায়ী গরের প্রতি অন্তর লাগাইয়া রাখিয়াছে। ইহাতে জীবনযাপন করা কিভাবে আনন্দদায়ক ও আরামপ্রদ হইতে পারে? অথচ অল্লাহ পাক নিজেই ইহার অস্থায়ীত্বতা সম্পর্কে ঘোষণা দিয়া দিয়াছেন। মনে কর, যদি জান্নাতে স্বাস্থ্য সুস্থ থাকা এবং মৃত্যু, ক্ষুধা, পিপাসা প্রভৃতি হইতে নিরাপদ থাকা ব্যতীত অন্য কোন কিছু নাও পাওয়া যাইত, তবুও এই নশ্বর, অস্থায়ী, দুঃখ ক্রুশের আবাসভূমি সুনিয়া কোন অবস্থায়ই জান্নাকের উপর প্রাধান্য পাওয়ার যোগ নহে। অন্নাতবাসীয় তো বাদশাহ। সর্ব প্রকার অনিষ্টকর বিষয় হইতে নিরাপদ, সর্ব প্রকার আনন্দ উপভোগে আহলাদিত, মনের সর্ব প্রকার চাহিদার উপভোজা, প্রতিদিন ঘরের বাহিরে আসিয়া আল্লাহর দর্শন লারকারী। আর অম্লাতে বড় স্বাদ উপভোগ করিবে জন্মব্যে আল্লাহ পাকের দর্শনের স্বাদ অতুলনীয় এবং সর্বাধিক আমদদায়ক বরং আল্লাহ পাকের দর্শন লাভের মোকাবিলায় অন্যান্য সমস্ত স্বাদ ও উপভোগ অর্থহীন। অধিকন্তু জান্নাতের নিয়ামত সমূহ, হাতছাড়া হওয়ার শংকা যুক্ত। এতকিছুর পরও দুনিয়াতে মন লাগানো, ইহার প্রতি আসক্ত হওয় নির্বুদ্ধিতা ব্যাতীত আর কিছু নয়।হযরত আবু হোরায়রা (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লপ্তাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, এক ঘোষক ঘোষণা করিবে যে হে জান্নাতবার। তোমরা এমন এক সুস্থতার অধিকারী হইযায়, যাহা কখনও নষ্ট হইয়া অসুস্থতা আসিবে না। তোমরা এমন এক জীবন লাভ করিয়ায় যে তোমাদের আর কখনও মৃত্যু আসিবে না। তোমাদের মধ্যে এমন এক যৌবন বিরাজ করিতেছে, যাহা কখনও বার্ধক্যে জপান্তরিত হইবে না। ভোমরা এমন বিত্তশালী হইয়াছ যে আর কখনও মুখাপেক্ষী হইবে না। আল্লাহ পাক বলেন:ونُودُوا إِن يَلْكُمُ الْجَنَّةِ التُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ.:“তাহাদিগকে আহবান করিয়া বলা হইয়াছে যে ইহাই জান্দ্রাভ। তোমরা স্বীয় কর্মের বিনিময়ে ইহার মালিক হইয়ার।” (সূরা আ-রাদ) আল্লত তা জান্নাত সম্পর্কে অধিক জানার আগ্রহ হইলে কুরবান পাক পাঠ কর। দেখিবে কত বিস্তারিতভাবে সেখানে অল্লাতের আলোচনা করা ولمن حال سلام ريم جشانরু করিয়া সূরায়ে আয়-রাহমানের শেষ পর্যন্ত এবং সূরায়ে এবাকেয়া প্রভৃতি জান্নাতের বর্ণনায় ভরপুর। হাদীছে পাক থেকে যদি অস্রাতের বর্ণনা জানিয়ে রাও। তাহা হইলে কয়েকটি দিক থেকে জান্নাতের আলেচনা করা যায়। (এক) উপযে উল্লেবিত অযাতে বলা হইয়াছে যে কিয়ামতের দিনে আল্লাহর সামনে দাঁড়াইয়া জনাবদিহি করিতে হইবে। যে ব্যক্তি ঐ অবস্থানকে বর করে ভায়াতে দুইটি ভাত প্রদান করা হইবে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাত হয় সম্পর্কে আলোচনা করিতে গিয়া বলেন যে, জান্নাত বৌপ্যের হইবে। ইহার মধ্যে পানাহারের পাত্রসমূহ এবং অন্যান্য জিনিস ও রৌপ্যের হইবে। অনুরূপভাবে আরও দুইটি অন্নাত, যাহার মধ্যে পানাহারের পাত্র এবং অবাস্য জিনিসও স্বর্ণের প্রস্তুত হইবে। ইহাতে প্রবশেকারীদের এবং তাহাদের পরোয়ারদিগারের মধ্যে আল্লাহ পাকের বড়ত্বের পর্দা ব্যতীত অন্য কিছু থাকিবে না। বেহেশতের দ্বার সমূহ।:(দুই) মৌলিক নাফরমানী অনুসারে আহদ্রামের দরজা রহিয়াছে। অনুজপভাবে মৌলিক ইবাদত অনুসারে জান্নাতের দরজা হইবে। অর্থাৎ মৌলিক ইবাদত হতগুলি জান্নাতের দরজার ভতগুলি। হযরত আবু হোগাযরা। রয়। হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় দুইটি জিনিস ব্যয় করে তাহাকে অম্লাতের যার সমূহের মধ্য দিয়া এবেশ করিবার জন্য আহবান করা হইবে। জান্নাতের দ্বার আটটি। সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি নামাযী হয় তাহা হইলে তাহাকে “বাবুসসনাত” বা “নামাযের দরজা দিয়া প্রবেশ করিবার জন্য আহবান করা হইবে। যে ব্যক্তি রোযাদার হইবে তাহাকে “বাবুর রাইয়ান” বা তৃপ্তির ঘার দিয়া প্রবেশ করিবার জন্য আহ্বান করা হইবে। যে ব্যক্তি দানশীল হয় তাহাকে ‘বাবুস সদকা অর্থাৎ দানের দরজা দিয়া প্রবেশ করিবার জন্য মাহহ্বান করা হইবে। আর মুজাহিদ দিগকে ‘বাবুদ্ধজিহাদ অর্থাৎ জিহাদের দরজা দিয়া প্রবশে করিবার জন্য আহ্বান করা হইবে।হযরত আবু বকর (রাঃ। জিজ্ঞাসা করিলেন যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাঙ্কল্পম আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আদ্রাহ এমন কোন মানুষও কি আছে যাহাকে জান্নাতের সকল দরজা দিয়া প্রবেশ করিবার জন্য আয়ান করা হইবে। তিনি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ। এমন লোকও আছে যাহাকে জান্নাতের সকল দরজা দিয়া প্রবেশ করিবার আহ্বান জানানো হইবে। আমার আশা যে তুমি তাহাদের একজন।হযরত আসেম ইবনে দমরা বেহঃ। হয়রত আলী রাঃ এর বরাত দিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন যে, হযরত আলী রাঃ। আহান্নামের আলোচনা করিয়াছেন। দীর্ঘ আলোচনা করিয়াছেন কিন্তু যে কথাগুলি ঘরণ নাই। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করিলেন:وسين الدين القَوْا رَبُّهُم إِلى الجَنَّةِ زُمَرًا .“যাহারা স্বীয় প্রভুকে ভয় করিত তাহাদিগকে দলে দলে জান্নাতের দিকে চালিত কর হইবে।”(সূরা যুমান। আয়াত ৭৩০

পৃষ্ঠা:৫২

এই সকল জান্নাতীদের সম্পর্কে তিনি বলেন যে, এখন তাহারা জান্নাতের কোন এক দরজার কাছে পৌঁছিবে। তখন দরজার কছে একটি বৃক্ষ দেখিতে পাইবে। আরও দেখিবে যে বৃক্ষের মুলের নিকট দিয়া দুইটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হইতেছে। তাহারা আদেশপ্রাপ্ত হইয়া একটি প্রদ্রবনের কাছে দিয়া ইহার প্রবাহিত পানি পান করিবে। পানি পান করিবার সাথে সাথে তাহাদের বই ক্লান্তি অথবা অনন যে কোন অসুবিধা দূরীভূত হইয়া যাইবে। অতঃপর দ্বিতীয় প্রস্রবনের কাছে যাইবে। ইহার পানিতে গোসল করিবে। তখন তাহাদের দেহ হইতে আরাম ও প্রশান্তির আলো বিচ্ছুরিত হইতে থাকিবে। অতঃপর জাহানের দেহ চিরদিনের জন্য সুবিন্যাস্ত, পাবনাময় হইয়া যাইবে। তাহাদের কেশগুদ্ধে কোন এলোমেলোভাব দেখা যাইবে না। দেহে কখনও ময়না পরিলক্ষিত হইবে না। ভাহাদিগকে সেথিদে সর্বদাই এখন মনে হইবে যেন তাহাদের দেহ তেলে দিরু রহিয়াছে। অতপের তাহারা অম্লাত পর্যন্ত পৌঁছিবে। জান্নাতের রক্ষণাবেক্ষনে দায়িত্বলান্ত ফিরিশতা তাহাদিগকে বলিবে-سلام عليكم عيتُمْ مَا خُلُوهَا خَالِدين . “তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক। তোমরা পবিত্র। সুতরাং চিরদিনের জন্যইহাতে প্রবেশ কর।”অতঃপর স্বপ্ন বয়ত বালকেরা তাহাদিগকে অভিবাদন জানাইয়া গান করিবার জন্য আগমন করিবে। তাহারা আগস্তকদের উভয় পার্শ্বে এইভাবে অবস্থান লইয়া চলিতে থাকিবে যেমন দুনিয়াতে কোন আপনজন বহুদিন বিদেশ অবস্থানের পর বাড়ী স্বাসিলে আত্মীয় স্বজনরা তাহার উতহগার্থে নাকিয়া তাহাকে অভিবাদন জানাইয়া বাড়ী লইয়া আসে। পথ চলিতে চলিতে বালকরা বলিতে থাকিবে যে আল্লাহ পাক আপনাদের জন্য যেসব সম্মানজনক উপহার প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন সেগুলি লাভের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। বালকদের মধ্য হইতেও এক বালক আগে বাড়িয়া যাইবে এবং যে জান্নাতের জন্য যে হর নির্ধাবন করা হইয়াছে, তন্মধ্যে এক ব্যক্তির হরকে বলিবে, অমুক ব্যক্তি আসিয়াছে। দুনিয়াতে এই জান্নাতীর যে নাম ছিল হরের সামনে ঐ নামটিই উল্লেখ করিবে। হয় বলিবে, তুমি তাহাকে সেনিয়ায় কি? বালক যাদিবে, হ্যাঁ, দেখিয়াছি। সে আমার পিছনেই আসিতেছে। হয় ইহা গুনিয়া আনন্দে উল্লাসে ফাটিনা পড়বে। ঘরের দরজার সামনে বারান্দায় অসিয়া সাড়াইরে। এই জান্নাতী স্বীয় ঘরে প্রবেশ করিয় দেখিবে যে পাথরের স্থলে তাহার ধব মনিমুক্তা দ্বারা প্রস্তুত করা হইয়াছে। এখানে একটি সুউচ্চ অট্টালিকা মাথা উচু করিয়া দাঁড়াইয়া আছে। ইহা দাদ, সবুজ, হলদে প্রভৃতি রংয়ের মনিমুক্তা ধরা প্রস্তুত কর হইয়াছে। শির উপরের দিকে উত্তোলন করিষ্যর পর দেখিতে পাইবে যেইহার ছাদ বিজলীর ন্যায় ঝলমল করিতেছে। আল্লাহ পাক যদি তাহার দৃষ্টি শক্তিতে শক্তিদান না করিতেন তাহা হইলে হয়ত ইহার উজ্জ্বলতায় তহ্যের সৃষ্টিশক্তি নষ্ট হইল যাইত। অতঃপর সে নীচের দিকে চাহিয়া দেখিবে যে তাহার পার্শ্বে তাহার সহধর্মিনীরা পেয়ালা হাতে সাঁড়াইয়া আছে। তাহার জন্য বিছানা বিছাইয়া রাখা হইয়াছে। হেলান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হইয়াছে। সে হেলান দিয়া বলিয়া বলিবে যে আল্লাহ পাকের শোকরিয়া। তিনি আমাকে ইহার প্রতি পথ প্রদর্শন করিয়াছেন। তিনি যদি পথ প্রদর্শন না করিতেন তারা হইলে এখান পর্যন্ত পৌঁছা আমার জন্য কোন অবস্থায়ই সম্ভব ছিল না। অতঃপর এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করিতে যে তোমরা এখানে চিরকাল জীবিত থাকিবে। কখনও তোমাদের মৃত্যু আসিতে না। এখানেই সর্বল থাকিবে। এখান থেকে সরিতে হইবে না। সর্বদা এইরূপ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী থাকিবে। কখনও অনুস্থতা আসিবে না।রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বিযামরের দিনে আমিই প্রবাহ অন্নাতের দরজার কাছে অসিব এক ইহাকে ধূপাইব। জাগ্রডের প্রহরী জিজ্ঞাসা করিবে আপনি কে। স্বায়ি বলিব যে আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ। সে বলিবে, আপনার পূর্বে অন্য কাহারও উদ্দেশ্যে সরজা না গোলার জন্য আমাকে নির্দেশ করা হইয়াছে। জান্নাতের সু-উচ্চ মহলসমূহের আলোচনা:(তিন) পরকালে মানুষের মধ্যে মর্যাদার পার্থক্য হইবে এবং বড় বড় পার্থক্য হইবে। যেমনভাবে দুনিয়াতে মানুষের জাহেরী ইবাদত ও বাতেনী ইবাদছে। পার্থক্য হইয়া থাকে, এমনিভাবে ভাহারা ইবাদতের বিনিময়ে সওয়াব লাভ করিবে ইহাতেও পার্থক্য হইবে। সুভরদ কেহ যদি পরকালে সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করিতে চাখ তাহা হইলে তাহাকে ইহার জন্য ডেটা করিতে হইবে, যেন অন্য কেহ তাহার অপেক্ষা অধিক ইবাদত্ত না করিতে পারে। কেননা ইবাদতে আগে বাড়িবার জন্য এবং এই ক্ষেত্রে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করিবার জন্য আল্লাহ পাক নিজেই উল্লেখ করিবাছেন। তামনسابكوا “তোমরা স্বীয় প্রতিপালকের মার্জনার দিকে আলাইয়া এল।” অন্য এক স্থানে কণা হইয়াছে  وَفِي ذَالِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ “এবং ইহাতে অন্নহীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।” যদি কোন ব্যক্তির সমকক্ষ অন্য কোন রান্ডি বা তাহার কোন প্রতিবেশী ঢিাকা পরস্য বা খব নির্মাণের দিক মিয়া তাহাব থেকে আগে গাড়িয়া যায়। তাহা হইলে

 পৃষ্ঠা:৫৩

ইহা তাহার জন্য বড় এইদায়ক হয়। হিংসা ও ঈর্ষার কারণে দে জ্বলিতে থাকে। তাহারই এই সমকক্ষ বা প্রতিবেশী যদি জান্নাতের ক্ষেত্রে ভাহার আগে শুড়িয়া চলে তাহা হইলে তাহার কোন দুঃখ হয় না। হিংসা বা ঈর্যার অগ্নিকে পুড়ে না। অথচ জান্নাতের একটি সাধারণ বন্ধু সমগ্র পুনিয়া অপেক্ষার অনেক মুল্যবান। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন জান্নাতবাসীরা তাহাদের উপরের কক্ষে অবস্থিত জান্নাতব্যানীদিগকে এমন দেখিবে যেমন তোমরা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে চলন্ত নক্ষত্র রাজিকে দেখিতে পাও। তাহারা তাহাদিগকে এইরূপ দেখার কারণ হইল, পদ্রাহীদের উল্লোসিত উভষ ঝরের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে অনেক পার্থক্য হইবে। উপস্থিত সাহাবাগণ আরব করিলেন যে ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এই মওসায় তো শরীগণই পৌছতে পারিবেন। ভায়াদের ছাড়া অন্য কেজ হয়ত এই মর্যাদায় পৌঁছিতে পারিবে না। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিংজেন, কেন, অন্য কেহ পৌঁছিতে পারিবেন না যে সত্ত্বার হাতে আমায় জীবন আমি তাঁহার কসম করিয়া বলিতেছি যে যাহারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনিয়াছে এবং রাসূলগণকে সত্য বলিয়া স্বীকার করিয়া লইয়াছে ভাতারা এই মর্যাদায় পৌঁছিবে। এক হাদীছে আসিয়াছে যে জল্লাতে উচ্চমর্যাদা প্রাপ্ত ব্যক্তি দিগকে অপেক্ষাকৃত নীচময়লা সম্পন্ন লোক এমন দেখিবে যেমন তোমরা আকাশের তারকারাজিকে দেখ। আবু বকর ও ওমর ।বা। এই সকল উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন লোকদের অন্তর্ভুক্ত। হযরত জাবের (রাঃ। বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদিগকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, আমি কি তোমাদের কাছে জান্নাতের উচ্চ কক্ষের লোকদের কথা বর্ণনা করিয্যআমি বলিলাম, আমার পিতা মাতা যাপনার জন্য উৎসর্গ। ইয়া রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইহা আমাদের জন অনেক ভাল হইবে। তিনি বলিলেন, অস্রাতে উচ্চ স্থানে হীরার তৈবারী কক্ষসমূহ থাকিবে। তাহা এমন আশ্চর্যজনক হইবে যে ইহার ভিতরের দিক বাহির আর বাহিরের দিক ভিতর বলিয়া মনে হইবে। ইহাতে এত বেশী আরাম ও প্রশান্তি এইবে- যাহা কেহ কখনও চোখে দেখে নাই, আবার কেহ কখনও কানে শুনে নাই। এমনকি কেছ অন্তরেও কল্পনা করে নাই। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ সপ্তাড়াহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাহারা এই সব কক্ষের অধিকারী হইবে? জিনি বলিলেন, ঐ সকল লোক এই সব কক্ষের অধিকারী হইবে যাহারা সালামের প্রথা প্রসার করিবে। অনকে আহার করাইবে। সর্বদা রোযা রাখিবে এবং রাত্রে মানুষ যখন নিদ্রায় থাকে তখন নামায পড়ে। হযরত জাবের (রাঃ) বলেন যে এই সকল আমল করা কি কাহারও জন্য সম্ভব্য কোন ব্যক্তি কি এইসব আমলের শক্তি রাখে। তিনি বলিলেন যে, আমার উম্মতের লোকেরা এইসব আমদের শক্তি রাখে। এখনা আমি তোমাদিগকে ইহার ব্যাখ্যা শুনাইতেছি। কোন ব্যক্তি যখন তাহার মুসলমান ভ্রাতার সাথে সাক্ষাৎকালে সালাম পেশ করে অথবা সালামের জবাব প্রদান করে তাহা হইলে সে সালাম প্রচার ও প্রসারকারী সাব্যস্ত হয়। যদি কোন শুক্তি স্বায়া পরিবার পরিজন এবং স্বীয় স্বজনকে পেট ভরিয়া আহার করায়। কখন সে অন্যাকে স্বাহার করাইযাছে বলিয়া সাব্যস্ত হইবে। যে ব্যক্তি রমযান মাসে কেয়া রাখে। অতঃপর প্রতিমাসে তিন দিন গ্রোয়া প্রখে সে সর্বলা রোযা পালনকারা সাবান্ত হইল। যে ব্যক্তি ফরজ ও ইশার নামাজ জামাতের সাদে পড়িল, সে সারা রাত নামায পাঠকারি সাব্যস্ত হইল।কোন এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ومساكن عَدْنٍই আয়াতাংশের ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করিলে তিনি জবাক দিলেন যে “মাসরাকিন’ শব্দের যার মনি যুক্তা নির্মিত বাড়ীকে বুঝানে হইযাছে। প্রতিটি বাড়ীতে লাল ইয়াকুরের সত্তরটি ঘর থাকিবে। প্রতিটি ঘরে সত্তরটি কামর এবং সরটি পালয় থাকিবে। প্রতিটি পালঙ্কে বিভিন্ন রংয়ের সত্তরটি বিছানা বিছানের থাকিবে। প্রত্যেক বিছানাতে একটি একটি ঘর থাকবে। প্রতি কামবাদে সত্তরটি দস্তরখানা বিছানো থাকিবে। প্রতি দপ্তর খানায় সত্তর রংয়ের খান্য রাখা হইবে। প্রতি কামরায় আবার সত্তরটি খাদেমা নিয়োজিত থাকিবে। ঈমানদার প্রতিদিন তাহাদের সকলের সাথে সহবাস করিবার ক্ষমতা লাভ করিবে। জান্নাতের দেয়াল, ভূমি, গাছপালা এবং নহরসমূহ :(চার) যাহারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে তাহারা জান্নাতের এইসব কিছু সেবিয় কতইনা খুশী হইবে। পক্ষান্তরে যাহারা জল্লাতে প্রবেশ করিবার সৌভাগ্য লাক করিবে না, তাহারা এইসব কিছু থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে কতইনা পরিতাপ করিবে। হযরত আবু হোয়াবরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন জান্নাতের দেয়ালের ইঞ্চিশি হইবে স্বর্ণ ও রৌপোর। একটি ইট হইবে স্বর্ণের। আর অপরটি হইবে রৌপোর। ইহার মৃত্তিকা হইবে জাফরানের মসলা হইবে মেশকের। কোন এক বাক্তি, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জান্নাতের মাটির বিতরণ জানিতে চাইলে তিনি বলিঙ্গেন, অভ ময়সার ন্যায়। নির্ভেজাল মেশক মিশ্রিত। হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করে যে আল্লাহ পাক তাহাকে শরাব পান করান। তাহা হইলে তাহার উচিত দুনিয়ার শরাব পান না করা। যদি কোন ভান্ড ইচ্ছা করে যে আল্লাহ পাক তাহাকে রেশমী কাপড় পরিধান করান

 পৃষ্ঠা:৫৪

তারা হইলে তাহানা দুনিয়াতে রেশমী কাপড় পরিধান করা বর্জন করা উচিত। জান্নাতের নহরগুলি মেশকের টিল্য বা মেশকের পাহাড়ের ভলদেশ দিয়া প্রবাহিত। এক ছাঈছে আছে যে জান্নাতী লোকদের মধ্যে যাহারা কাছে সবচেয়ে কম অলংকার খাকিবে। যদি তাহার অলংকারগুলি দুনিয়ার সমস্ত অলংকারের সাথে তুলনা দেওয়া হয়। তাহা হইলে আল্লাহ পাকের প্রদর আখেরাতের অলংকারগুলি দুনিয়ার সমস্ত অলংকারের চেয়ে উত্তম সাব্যস্ত হইবে। হযরত আবু হোরাজয়া ।রা হইতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, জান্নাতে একটি বৃক্ষ এমনও আছে যাহার ছায়া একজন তেজী অশ্বারোহী একশত বৎসরেও অতিক্রম করিতে পারিবে না। অতঃপর তিনি বলেন যে, বদি তোমরা ইচ্ছা কর তাহা হইলে কুরছান পংকর নিয়োজ আয়াতটি পাঠ কর – وَظِلَّ مَمْدُودٍ  অর্থ এবং দীর্ঘ ছায়া।হযরত আবু উমামা (রাঃ। বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহারাগণ বশিরেন যে, গ্রামা লোকজন একং তাহাদের মাসঙ্গালা জিজ্ঞাসা আমাদের নূষ উপকারে অসিত। একদা একজন গ্রাম্য লোক আসিয়া বলিল যে ইয়া রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ পাক কুরমান মজীদে একটি কষ্টদায়ক বৃক্ষের আলোচনা করিযাছেন। জান্নাতেও এইরূপ কষ্টদায়ক বৃক্ষ থাকিতে পারে তাহা আমার জানা ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, সে বৃক্ষটির নাম কি যাহার কথা তুমি বলিতেছ, গ্রাম্য লোকটি বলিল, ইহা স্কুল বৃক্ষ। ইহার কাঁটা হর। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ। আল্লাহ পাক কুরআন পাকে বলিয়াছেন, “তাহারা কুল বাগানে থাকিবে যে কুল বৃক্ষ কাঁটা যুক্ত হইবে। তিনি বলেন যে আল্লাহ পাক কুল বৃক্ষের কাঁটা কাটিয়া দিবেন। প্রতিটি কাটার স্থানে একটি একটি ফল লাগাইয়া দিবেন। প্রতিটি ফলে বাহাত্তর প্রকার মক্কা হইবে। এক প্রকার যজা অপর প্রকার হইতে সম্পূর্ণ পূন্নত হইবে। হযরত খবর ইবনে আব্দুল্লাহ।গ। বলেন যে, আমরা চেফাহ নামক স্থানে কায়েলা থামাইয়া বিশ্রাম করিতেছিলাম। দেখিতে পাইলাম যে অনুবেই জনৈক ব্যক্তি একটি বৃক্ষের নীচে ওইয়া আছে। তাহার উপর যৌদ্র আসার গ্রাম কাছাকাছি ছিল। আমি আমার দাসকে বলিলাম যে চামড়ার এই বিছানাটি লইয়া সেখানে যাও এবং তাহার উপর ছায়ার ব্যবস্থা করিয়া আস। সে ভাহার কাছে গিয়া ছায়ার ব্যবস্থা করিল। তিনি জরতে হইলে জানিতে পারিলাম যে তিনি হযরত সালমান ফারসী (রাঃ)। স্বামি তাঁহার কাছে গিল্প সালাম দিলাম। তিনি বলিলেন, হে জরটার। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নরম হইয়া যান। যে জক্তি অল্লাহকে সন্তুষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে নিজকে ছোট কবিয়া প্রকাশ করে আল্লাহ পাক খাতাকে পরকালে উল্ক মর্যাদা দান করিবেন। কিয়ামতের ময়দানে কি কি কারণে অন্ধকার মানুষকে আসন্ন করিয়া ফেলিবে, তুমি কি তাহা জান? হযরত ভরীর (রাঃ) বলেন, আমি বলিলাম, না। তখন তিমি বলিলেন, একে অপরের উপর অত্যাচার করার কারণে এবং একটি অতি ক্ষুদ্র কাঠ ক্ষুদ্র বলিয়া ইহাতে একটি শুন্ধু বলিয়া বিবেচনা করে নাই এমন একটি কাঠ লইয়া যাওয়াও অন্ধকারের কারণ। হে অষ্টীয়। তুমি যদি অস্রাতে এক ক্ষুদ্র একটি কাঠও অনুসন্ধান কর তাহা দেখানে পাইবে না। হযরত জরীর বলেন, আমি বলিলাম, ভাহা হইসে যেজুর বৃক্ষ থেকেও কি কাঠ হইবে ন৮ ডিস বলিলেন, সে সব বৃক্ষ কাঠের হইবে না বরং ইহারা মনি মুক্তা ও স্বর্ণের হইবে। জান্নাতীদের পোশাক, বিছানা, পালঙ্ক, আসন এবং তাবু (পাঁচ) অল্লাহ পাক বলেন معلون فيها من أساور من ذهب ولولا ولباسهم يشها حرير . “সেখানে তাহাদিগকে স্বর্ণ ও মনি-মুক্তার চুরি পরিধান করানো হইবে এবং তাহাদের পোশাক হইবে রেশমী কাপড়ের।” (সুন্ন হচ্ছ। অযাত ২রা অনুরূপ অন্যান্য আঘাত এবং হাদীছেও ইহার বিবরণ খালিয়াছে। যেমন হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে অম্লাতে প্রবেশকারী বক্তিকে বিভিন্ন নেয়ামত প্রনান করা হইবে। সেখানে যে কোন কিছুর অভাব অনুভব করিবে না। আহার কাপড় চোপড় পুরানো হইবে না। তাহার যৌবনে ভাটা পড়িবে না। প্রস্রাতে এমন এমন নেয়ামত থাকিবে যাহা কখনও চোখে লেখে নাই, যাহা সম্পর্কে কখনও কোন কান শুনে নাই এমনকি কোন মানুষের অন্তরে ইহার করনাও আসে নাই। এক যান্ডি জিজ্ঞাসা করিল, ইয়া রাসূলুল্লাহ সারারাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জান্নাতের পোশাক সম্বন্ধে আমাদিগকে অবগত করুন। ইহা কি জন্নাতীদের দেহে এথনিভেই সৃষ্টি করিয়া দেওয়া হইবে। বুনিয় প্রস্তুত করা হইবে? রাসূলুল্লাহ সস্তায়ল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার প্রশ্ন গুনিয়া চুপ করিয়া রহিলেন। উপস্থিত জনতার মধ্য থেকে কেহ কেহ তাহার প্রশ্ন গুনিয়া হাসিলেন। রাসূলুল্লাহ সঞ্চাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদিলেন, তোমরা হাসিতেছ কেন? যে যান্ডি ভাদেন। সে যে ব্যক্তি জানে তাহার কাছে জিজ্ঞাসা করিয়াছে বলিয়া হাসিতেছ। অতঃপর তিনি বলিলেন যে তাহাদের পোশাক অল্লাতের ফল থেকে বাহির কবিয়া আনা হইবে। হজরত আবু হোরাষরা ।রমা থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লম আলাইছি ওয়াসাল্লাম বলেন, সর্ব প্রথম যে দলটি মন্ত্রোকে প্রবেশ করিবে তাহাদের মুখমন্ডল পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হইবে। বাহরা জান্নাতে প্রবেশ করিয়া খুক ফেলিবে না এবং হাচিও দিবেন। তাহারা পায়খানা প্রস্তাবও করিবে না। তাহাদের ব্যবহৃত পাত্র ও চিরুনী সমূহ স্বর্ণের দ্বারা প্রস্তুত

 পৃষ্ঠা:৫৫

করা হইবে। তাহাদের শরীর থেকে নির্গত যর্থের গন্ধ মেশকের গন্ধের ন্যায় হইবে। তাহাদের প্রত্যেকের জন্য দুইজন দুইজন করিয়া সহধর্মিনী থাকিবে। তাহাদের পায়ের গোছার ভিতরের মগজ এত সুন্দর, স্বচ্ছ ও সুক্ষ্ম হইবে যে ব্যাহির হইতে গোলকের প্রিজর দিয়া পরিষ্কার দেখা যাইবে। সেখানে কোন প্রকার বাকবিতণ্ডা ও মত পার্থক্য থাকিবে না। একের প্রতি অপরের কোন প্রকার হিংসা-দ্বেষ থাকিবে না। বরং সকলে এক অন্তর হইয়া সকাল সন্ধা আল্লাহ পাকের জিকিরে লিপ্ত থাকিবে। এক যেওমায়েতে আছে যে প্রত্যেক সহধর্মিনী সত্তর হাজার পোশাক পরিধান করিবে। উপরে উল্লেখিত আয়াভের কাখ্যা প্রদান করিতে গিয়া নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওযাসাল্লাম বলেন, তাহাদের মাথার মুকুটের একটি সাধারন মুক্তাও এত উজ্জ্বল হইবে যে ইহার একটি মাত্র কলক পৃথিবীতে পড়িঙ্গে পূর্ব হইতে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র দুনিয়া উজ্জ্বল হইয়া যাইত। এক ৗেওয়ায়েতে আছে যে জন্নাতীদের কাবু যে মুক্তা যারা নির্মান করা হইবে, ইহাদের মধ্যভাগ খোলা থাকিবে। ভাবুর উচ্চতা যাট মাইল হইবে। ইহার প্রত্যেক কোনে মুমিনের স্ত্রী অবস্থান করিবে। কিন্তু এক স্ত্রীকে স্বপর স্ত্রী দেখিতে পাইবে না। হযরত ইবনে আম্মান (রাঃ। বলেন যে, জান্নাতীদের তাবুর মুক্তা ভিতরের দিক দিয়া বোলা হইবে। ইহার দৈর্ঘ্য লন্থ ডিশ মাইল এবং স্বর্ণ নির্মিত চার হাজার দরজা থাকিবে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম وقرئي مرفوعة আয়াতাংশের ব্যাখ্যা প্রদান করিতে গিয়া বলেন যে, জান্নাতীদের দুইটি বিছানার মধ্যে যমীন থেকে আনমান পর্যন্ত দূরত্বের সমান দূরত্ব থাকিবে। জান্নাতীদের আহার (ছয়) কুরআনে করীমে তাহাদের খাদ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হইযাছে। তাহাদের খাদ্য হইবে ফল, পাথী, মাল্লা, সালওয়া, মধু, দুধ, পানি খারও অগনিত বিভিন্ন যাগ্য। অল্লায় পাক বলেন-كلما ريقها منها من المرة رِزْقًا قَالُو هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ:“যখন তাহাদিগকে জান্নাতের বাগান হইতে ফল আহার করিতে দেওয়া হইবে তখন আহারা বলিবে ইহা তো ঐ ফল, যাহা ইতিপূর্বে আমাদিগকে খাদ্য হিসাবে প্রদান করা হইযাছিল। তাহাদেরকে যে ফলগুলি প্রদান করা হইবে তাহা দেখিতে একটি অপরটির অনুরূপ।”জান্নাতীরা কি কি জিনিস পান করিবে আল্লাহ পাক কুরআন পাকের বিভিন্ন স্থানে উবার বিবরণ দিয়াছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরমুক্তিপ্রান্ত গোলাম হরেক ছওবান (রাঃ) বলেন যে, একনা আমি বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নাঁড়ানো ছিলাজ। তখন এক ইহুদী স্বাদেম আগমন করিল। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে কজগুলি বস্তু রাখিল। তন্মধ্যে এক প্রশ্ন ইহাও ছিল যে সর্ব প্রথম কে পুলসিরাত অতিক্রম করিফে বাল্লুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, গরীব মুহাজিররা। ইহণী আবার জিজ্ঞাসা করিস যে তাহারা জান্নাতে প্রবেশ করিবার পর কি কি পুরস্কার প্রার হইবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লজ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন যে, মাছের কলিজা ভূনা কাবার। সে আবার বলিল, ইহায় পর তাহাদের খাদ্য কি হইবে? তিনি জব্বার দিবেন জান্নাতের বাড়। ইহারা জাদ্রাতের আশে পাশে থাকিয়া যাস পানি খাইবে। এইগুলি তাহাদের জন্য যবেহ করা হইবে। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল যে জান্নাতীদের পানীয় কি হইবে? তিনি জবাব দিলেন জান্নাতে সালসাবিদ নামক ‘একটি বর্ণা আছে ভাহারা উত্তায় পানি পান করিবে। ইহুদী আলেম বলিল যে, আপনি সত্য বলিয়াছেন।হববত যায়দ ইবনে আরকাম (রাজ বলেন যে, একদা এক ইহুদী নবী করীম সয়াল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আগমন করিযা বলিল যে হে আবুল কাশেম। আপনি বলিয়াছেন যে জান্নাতী গোকজন পানাহার করিবে। অধিকন্তু আপনি স্বীয় সার্থী দিগকে বলিয়া নিয়াছেন যে যদি আপনি এই কথাগুলি আমার কাছে প্রকাশ করেন তাহা হইলে আমি নাকি আপরি উত্থাপন করিব? নবী করীম সান্তারাজ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ, ঐ সত্ত্বার কসম করিয়া বলিতেছি যাহার হাতে আমার জীবন, প্রত্যেক জান্নাতী এক শও ব্যক্তির পানাহার ও সহবাসের ক্ষমতা লাভ করিবে। ইহণী বলিল, আহার করিলে তো পায়খানা করিবার বয়োজন হয়। জান্নাতে পায়খানা করিবে কোথায় তিনি জবাব দিলেন যে পায়খানা করিতে হইবে না। বরং পায়খানার পরিবর্তে তাহাদের পিছন দিক দিয়া ধর্ম বাহির হইয়া আসিবে। যাহা মেশকের ন্যায় দুগন্ধ যুক্ত হইবে। ইহাতে পেট পরিষ্কার হইয়া যাইবে।হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, তুমি জান্নাতে পার্থী দেখিতে পাইয়া ইহার গোশত আহার করিবার মাকাঙ্খা করিবে। ভবন উহা যবেহ এবং কুনা হ তোমার সামনে উপস্থিত হইবে।والوا بِهِ مُتَشَابِها .(সূরা বাবুনাহ। অয়ত ২৫।হযরত হুযাইফা (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, অাদাতে এমন কতক পার্থী রহিয়াছে যাহা বোখারী উটের ন্যায় বড় বড়। হযরত আবু বকর (রাঃ। বলিসেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সল্লারছ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইহা করই না সুন্দর। রাসূলুল্লাহ সারাজ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন। যে ব্যক্তি ইহা গ্রাহার করিবে সে তো ইয়া বইতেও সুন্দর। হে গাবু করুর। যাহারা এই শাঝ আহার করিবে, তুমি তাহাদের একজন।

 পৃষ্ঠা:৫৬

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ। বলেন। مقال عليهم بصحابي  “পেয়ালা তাহারে সামনে ঘুরিয়া ঘুরিয়া পেশ করা হইবে।” আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করিতে গিয়া বলেন যে স্বর্ণ নির্মিত সত্তরটি পেয়ালা দিয়া জান্নাত বাসীদের খাদ্য পরিবেশন করা হইবে। এক পেয়ালার খাদ্য আহার করিয়া অপর পেয়ালায় খাদ্য আহার করিতে থাকিবে। আর খালি পেয়ালা পুনরায় শুর্তি হইয়া তাহাদের সামনে আসিবে। প্রত্যেক পেয়ালাতে খাদ্য আহার করিতে থাকিবে। আার খালি পেয়ালা পনুরায় ভর্তি এইয়া তাহাদের সামনে আসিবে। প্রত্যেক পেয়ালাতে নতুন নতুন খাদ্য হইবে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউومزاجه من تشييم “ইহার মিশ্রণ হইবে ভসনীয়ের” আয়াত সম্পর্কে বলেন যে সাধারণ জন্নার্থীদের জন্য ইহার মিশ্রণ প্রদান করা হইবে। আর আল্লাহর নিকটতম বান্দা এই অর্নার এটি পানি কোন রকম মিশ্রন ব্যাতীত গান করিবে। হযরত আবু দাউদ বলেন- ইহার নীল হইবে মেশকের।” ওয়াতের জাফর্দীর করিতে লিয়া বলেন যে ইহা রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র এক প্রকার শরায়। পেকেট করিয়া সীল লাগাইয়া জান্নাত বানীদের জন্য রাখা হইবে। যদি কোন দুনিয়াবাসী ইহার ভিতরে হাত দিয়া হাত বাহির করিয়া আনে তাহা হইলে পৃথিবীর এমন কোন প্রাণী অবশিষ্ট থাকিবে না যাহার কাছে ইহার সুগন্ধি পৌঁছিবে না। বেহেশতের হুর এবং বালকদের বিবরণ (সাত) হযরত আনাস (রায়) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এক সকাল বা এক সন্ধ্যা আল্লাহর রাস্তায় যাওয়া দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যাহা কিছু আছে, তাহা হইতেও উত্তম।” আন্নাকে তোমাদের কাহারও এক কামান পরিমান বা এক পা রাখিবার পরিমাণ স্থান দুনিয়া। এবং দুনিয়ার মধ্যে যাহা কিছু আছে, ভাহা অপেক্ষাও উত্তম। যদি অম্লাতের কোন নারী দুনিয়ার দিকে চাহিয়া দেখে আহা হইলে আসমান ও যমীদের মধ্যভাগ উজ্জ্বল হইয়া যাইবে এবং খুশবু দ্বারা শুরিয়া যাইবে। তাহার মালার ওড়না দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যাহা কিছু আছে আহা অপেক্ষাও উত্তম।হযরত আবু খুদরী বধুরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি বোলল্লাম বলেন- كانهم البامون والسرحانঐ এই সকল মেম্মাগণ। প্রবাল ও পদ্মবাগ সদৃশ। আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করিতে পিয়া বলেন, পদায় ভিতরে থাকার পরও তাহাদের আকৃতি আয়না অপেক্ষ্য অধিক পরিষ্কার শ্রাবে দেখা যাইবে। ভাহাদের অলংকারের সাধারণ মুক্তাও পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র সুনিয়া উজ্জ্বল করিয়া ফেলিবে। তাহাদিগকে সত্তর পণ্য কাপড় পরিধান করানো হইবে। কাপড়গুলি এড হালকা ও সুদ্ধ হইবে যে ইহার ভিতর দিয়া মানুষের দৃষ্টি অতিক্রম করিয়া তাহাদের দেহ লেখা বাইনে। এমনকি ভাহাদের পায়ের গোছার ভিতর মণদ পর্যন্ত দেখা যাইবে। হযরত আনাস (রাজ কর্তৃনা করেন যে বাসুলুল্লাহ সাল্লাল্ল্যাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, স্বামি মিরাজের রাত্রে জান্নাতের ভিতর “বায়যাখ নামক স্থানে গিয়াছিলাম। ইহার ভিতর থেকে কতক নারী আমাকে উদ্দেশ্য করিয়া বদিল ‘আসলামু আলাইকা। ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি জিবরাইলকে বলিলাম, এই খাওযাজ প্রদানকাহিনী নারী কাহার? তিনি বলিলেন, তাহারা তাবুব ভিত্তর পর্দার অন্তবাগে অবস্থান কারিনী নারীরা। আপনাতে সালাম দেওয়ার জন্য ভাহারা স্বীয় পবোয়ারদিগারের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিল আল্লাহ পাক তাহাদিগকে অনুমতি নিয়াছেন। অতঃপর তাহারা বলিতেছিল যে আময়া বাদী আছি। কখনও নাবাজ হইব না। আমরা চিরস্থায়ী কখনও দরিয়া পড়িব না। অতঃপর রাসূলুল্লার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম الجياع احمد منصورات في তাবুর মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখে।” আয়াতটি পাঠ করেন। হরত মুজাহিদ নয়; পবিত্র্য স্ত্রীগণ আয়াতাংশের শ্রখ্যা প্রদান করিতে শিখা বরেন, তাহারা পবিত্র। অর্থাৎ মাসিক ঋতু প্রসাব, পায়খানা, খুক, সিংগাইল, বীর্য্য, প্রসব প্রভৃতি হইবে পরিনা। فی شکل تيرن  স্বায়ালাপে সম্পর্কে বলেন যে তাহারা কুমারী যুবতীদের যৌবনের পর্দা ছিড়িবে। এক ব্যক্তি রাসুদুল্লাহ। সরারাত আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞাসা করেন যে ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জান্নাতীয়াও সহবাস করিবে? তিনি জবাব দিলেন যে তোমাদের সভর ঋনের সহবাস ক্ষমতা অপেক্ষার অধিক ক্ষমতা প্রতিটি অদ্রাতী প্রতিদিন পাত করিবে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ। বলেন, জান্নাতীদের মধ্যে সর্বাধিক নিম্নস্তরের ব্যাক্তিরও এক হাযার খাদেম থাকিবে। প্রত্যেক খাদেমের জন্য পৃথক পৃথক সেবা বণ্টন করা থাকিবে। রাসুলুল্লাহ সঙ্কল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসিয়াছেন, একজন মান্নাতী পাঁচশত হব, চার হাবার কুমার বুকতী এবং আর্ট হাযার বিধবা নারী বিবাহ করিবে জান্নাতী ব্যক্তি তাহাদের প্রত্যেকের সাথে এতদীর্ঘ সময় মোয়ানাকা করিবে স্বত সময় সে সুনিয়াতে জীবিত ছিল। এক হাদীছে আছে যে জান্নাতে একটি ছাট বসিবে। ইহাতে নারী ও পুরুষের আকৃতি বা ফটো বাতীত অন্য কোন কিছু কোকেনা হইবে না। যখন কোন ব্যক্তির কোন আকৃতি বা ফটোর কামনা মনে আসা হইবে তখন সে ঐ ঘাটে যাইবে। ন হাটে ডাগর চোখা হরেরা সমবেত থাকিবে। আহারা উচ্চস্বরে বলিতে থাকিবে

 পৃষ্ঠা:৫৭

আমরা চিরস্থায়ী, কখনও বায়াস হইব না, আমরা নেয়ামকের অধিকারিনী, কখনও মুখাপেক্ষী হইব না, আমরা আনন্দিত, কখনও রাগ হই না। ঐ ব্যক্তি বড়ই ভাগ্যবান যে আমাদের হয় আর আমরা তাহার হই। হযরত আনাস (রার। হইতে বর্ণিত আছে যে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, জল্লাতের মধ্যে হরেরা গান গাইতে থাকে এবং বলিতে থাকে যে আমরা পরমাসুন্দরী যুবতী। পরিত্র ও ভদ্র পুরুষদের জন্য আমাদিগকে শুকাইয়া রাখা হইয়াছে। হযরত আবু উমামা বাহেলী (রাঃ। বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সততই আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কোন ব্যক্তি রজস্রাতে প্রবেশ করিলে তাহার শির ও পায়ের কাছে ঋদ্রাতের দুইটি হর বসিয়া সুন্দর স্বরে তাহাকে গান শুনাইতে থাকে। ঐ গান শয়তানের বাঁশীর ন্যায় হয় না বরং আল্লাহ পাকের প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা সম্বলিত হয়। জান্নাত এবং ইহার বিভিন্ন অবস্থাহযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ। হইতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সারারজ আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবাদিগকে উদ্দেশ্য করিয়া বলেন, তোমাদের মধ্যে কেহ আছে কি? যে জান্নাতের জন্য প্রস্তুত হইবে। জান্নাতে কোন প্রকার ওয় ও আব্দকা নাই। কাবার রবের কসম করিয়া বলিতেছি যে ইহা একটি চমকদার উজ্জ্বল দুর, মনোমুগ্ধকর ফুলের একটি ডালি, মজবুত অট্টালিকা, এখানে রহিতছে প্রবাহিত নহর ও পাকা ফলের প্রাচুর্য, অনিন্দ সৌন্দর্য্য ও অনুপম রূপের অধিকারিনী সহধর্মিনিয় মনতুষ্টিকর আচরন, নেয়ামতের চিরস্থায়ী ভান্ডার। সাহাবাগণ বলিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমরা ইহার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে সম্পূর্ণরূপে তৈয়ার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, কোমর ইনশাআল্লাহ বল। অতঃপর তিনি জিহাদের কথা আলোচনা করিলেন এবং ইহার প্রতি উৎসাহ প্রদান করিলেন। অন্য এক যাক্তি রাসুলুল্লাহ সারায়ার আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হইয়া জারয করিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে ঘোড়াও পাওয়া ঘাইবে? ঘোড়া আমার খুব পছন্দ। তিনি বলিলেন, তোমার কাছে ঘোড়া পছন্দ লাগে। জান্নাতের মধ্যে ভূমি লাল ইয়াকুতের একটি ঘোড়া পাইবে। তুমি যেখানে যাইতে চাও, ঘোড়া তোমাকে লইয়া ভগায়ই যাইবে। অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করণ যে ভাবা হইলে জারতে উটও থাকিবে। তিনি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি জান্নাতে প্রবেশ করিলে সেখানে তুমি যাহা ইন্দ্য করিবে এবং অহা যারা তোমার চোখ জুড়াইবে, এমন সব কিছুই পাইবে। হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ। হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জাম্রার্থী ব্যক্তি যদি সন্তান লাভের ইচ্ছা করে তাহা হইলে তাহার সন্তান লাও হইবে। সন্তানের গর্তে আসা, প্রসব হওয়া এবং যৌবন পৌছা প্রভৃতি অতি অল্পসময়েই সম্পন্ন হইয়া যাইবে। এক হাদীসে আছে যে অন্নাত বাসীরা জান্নাতে অবস্থানের পর একে অপরের সাথে অর্থাৎ বন্ধু বান্ধবের সাথে সাক্ষাৎ করিবার আগ্রহ করিবে। খাগ্রহ করিবার সাথে সাথে এক জনের পলয় অপর জনের কাছে চলিয়া যাইবে। একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করিবে। তাহারা কথাবার্তা শুরু করিবে। সুনিয়াতে থাকা অবস্থায় ঈকয়ের মধ্যে যে কথাবার্তা হইয়াছিল ঐ গুলির রোমন্থন করিবে। একজন বসিবে। ভাই। তোমার ক্ষরণ আছে যে আমরা অমুক দিন অমুক মজলিসে বসিয়া উভয়ে দু’খা করিতেছিলাম। আজ অল্লাহ আমাদিগকে মাজ করিয়া দিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাত বাসীদের সেহ লোম যুক্ত হইবে। তাহারা শত্রু বিহীন, শুভ, কুকড়ানো কেশ বিশিষ্ট, ভোগে সুরমা লাগানো, তেত্রিশ বৎসর বযক হইবে। অঙ্গ বিন্যাস হযরত আদম (আঃ) এর ন্যায়। যাট হাত লম্বা এবং সার হার প্রশস্ত। এক হাদীসে আছে যে সর্বাধিক নিম্নমানের জান্নাতীরও আশি হাযার খাদেম এবং বাহাত্তর জন স্ত্রী থাকিবে। ভাহার ভাবুটি মনিমুক্তা, যবরজন ও ইমাকৃত পাথরের প্রস্তুত হইবে। জাবিরা নামক স্থান হইতে সানআ পর্যন্ত দূরত্ব পরিমাণ স্থান জুড়িয়া এই ভাবুটি ঘাটানো হইবে। তাহার মালাম মুক্তার মুকুট পড়ানো থাকিবে। ইহার সাধারণ একটি মুক্তার নূর পূর্ব হইতে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র দুনিয়া উজ্জ্বল করিয়া ফেলিবে। তিনি আরও বলেন যে আযি জান্নাত দেখিয়াছি, ইহার এক একটি ডালিম উটের হাওদার ন্যায়। এক একটি পক্ষী বোগতী উটের ন্যায়। সেখানে এক হর দেখিয়ায়। আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম যে তুমি কাহার জন্য নির্ধারিতঃ বলিল, আমি যায়েদ ইবনে হাবিয়ার জন্য নির্ধারিত। অম্লাতের মঞ্চে যেসব জিনিস আমার দৃষ্টিগোচর হইয়াছে উহাদের প্রত্যেকটিই এমন মনে হইল যে এই সব জিনিস কখনও কোন চোষ দেখিতে পায় নাই। ইহাদেব প্রকৃত বিবরণ কোন কান কখনও কনে নাই। এমনকি কোন মানুষের অন্তরে ইহাদের কল্পনাও আসে নাই। হযরত কা’ব (বাঃ। বলেন যে, আল্লাহ পাক হযরত আদম (আয়কে স্বীর কুদরতী হাতে সৃষ্টি করিয়াছেন। তৌরাত স্বীয় হস্তে লিপি বন্ধ করিয়াছেন। জান্নাতের বৃদ্ধ নিজ হাতে বোপন করিয়াছেন। অতঃপর আল্লাতকে বলিলেন যে তুমি কথা বল। জান্নাত বলিল ‘নিশ্চয়ই ঈমানদাররূ সফলতা লাও করিয়াছে।” হযরত হাসান বসরী (রহঃ। বলিয়াছেন যে, আল্লাকের তালিম গুলি বড় বালতির ন্যায়। ইহা কণার পানি বাসি হয় না। সুধের ঋণী দুইটি। ইহার স্বাদ কখনও পরিবর্তিত হয় না। পরিষ্কার ও স্বদ্ধ মধুর অর্গা রহিয়াছে। শরাবেরও স্বর্ণা

 পৃষ্ঠা:৫৮

রহিয়াছে। ইহার শরাব পান কারীয়া শুধু স্বাদই পাইতে থাকে মনে আনন্স, ও স্ফূর্তি পাইতে থাকে। নিদ্রার পরম আনন্দ খতম হয় না। মাথায় চরব আসে না। জান্নাতে এমন বসন্ত রহিয়াছে যাহা কোন চৌখ কোন দিন দেখে নাই। কোন কানও উহার আলোচনা গুনে নাই। এমনকি কোন মানুষের অন্তরে ইহার করনাও আসে নাই। ইহাতে বসবাসকারীরা নিয়ামতের মধ্যে ডুবন্ত থাকিবে। তাহাদের বয়স হইবে তেত্রিশ বৎসর। সকলে সমবয়স্ক হইবে। ভাহাদের দেহের উচ্চতা হইবে যায় হাত। চোখের সুরমা লাগানো থাকিবে। দেহে কোন লোম থাকিবে না। আযাব হইতে থাকিবে নিরাপদ। ইহার-অনা সমূহ যবরজন ও ইয়াকুত পাথরের দ্বারা বাধানো হইবে। ইহার বৃক্ষ, আচ্ছন্ন হইবে মুক্তার। আল্লাহ পাক ব্যতীত অন্য কেহ ইহার ফলমূলের অবস্থা জানেনা। পাঁচশত বৎসরের রাস্তা দূরে থাকিয়াও ইহার সুগন্ধি পাওয়া যায়। জান্নাত বাসীদের জন্য দ্রুতগামী ও মন্থরগতি উভয় প্রকারের ঘোড়া ও উট থাকিবে। ইহাদের ভলোয়ারের কোষ, লাগাম, বলার গদি এই সব কিছু ইয়াকুকের তৈয়ারী হইবে। তাহারা ঘোড়া ও উটের সাহায্য জান্নাতে ভ্রমণ করিতে থাকিবে। হরেরা হইবে তাহাদের সহধর্মিনী। হরগুলি দেখিলে মনে হইবে যেন তাহাদিগকে মুক্তা দিয়া জড়াইয়া রাখা হইয়াছে। তাহারা দুই হাতের আঙ্গুলের জরা সরুর পালা পোশাক পরিবধান করিবে। তাহাদের পায়ের গোছার ভিতর যে হাঁড় রহিয়াছে। ঐ হাঁড়ের ভিতরের মগজ এইসব পোশাকের ভিতর দিয়াও বাহির হইডে দেখা যাইবে। আল্লাহ পাক তাহাদের চরিত্র অসততা হইতে এবং তাহাদের দেহ মৃত্যু হইতে মুক্ত করিযাছেন। জান্নাতের মধ্যে তাহসা নাও সাফ করিবে না। পায়খানা পেশাবও করিবে না। বরং ইহাদের পরিবর্তে মেশকের ন্যায় ঘার্ম বাহির হইয়া আসিবে। সকাল বিকাল তাহাদিগকে রিষক দেওয়া হইবে। কিন্তু অন্নাতে বার থাকিবে না। দকালের পর বিকাল আবার বিকালের পর সকাল এইভাবেই চলিতে থাকিবে। সকলের পরে যে ব্যক্তি অন্নাতে প্রবেশ করিবে এবং সেখানে সর্বনিম্ন মর্যাদার অধিকার হইবে এমন ব্যক্তির অবস্থা নিম্নে বর্ণনা করা হইল। যে চোখ উঠাইয়া একশত বৎসরের রাস্তার সমদূরত্ব পর্যন্ত দেখিতে পাইবে। তাহার রাজত্বে স্বর্ণ রৌপ্যের নির্মিত অট্টালিকা এবং মনিমুক্তা নির্মিত তাবু থাকিবে। আল্লাহ পাক ভাহার দৃষ্টি শক্তিকে এক বিশেষ ক্ষমতা দিবেন। ইহার ফলে দে দূরের এবং কাছের উভয় জিনিস সমান দেখিতে পাইবে। জন্নাতীদের কাছে সকালে সভর হাযার স্বর্ণের পেয়ালা আবার বিকালে সপ্তর হাযার স্বর্ণের পেয়ালা দিয়া খাদা পরিবেশন করা হইবে। প্রত্যেক পেয়ালাতে পৃথক পৃথক খাদ্য থাকিবে। তাহারা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকটি পেয়ালার যাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করিবে। জান্নাতে ইয়াকুত পাথরের নির্মিত একটি বাড়ী রহিয়াছে। এই বাড়ীতে সরব হাযার ঘর রহিয়াছে। প্রত্যেক যবে সত্তর হাজার কক্ষ রহিয়াছে। ইহারা ছিদ্র যুক্ত। হযরত মুজাহিদ (রহঃ। বলেন যে জল্লাতে সর্বনিম্ন মর্যাদা অধিকারী ভূক্তিও। স্বীর রাজত্বে একহাজার কসের সফর করিতে পারিবে। সে নিকটের ও দূরের জিনিসপত্র সমান দেখিবে। জান্নাতীদের মধ্যে সর্বাধিক উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ঐ ব্যক্তি হইবে যে সকাল বিকাল আল্লাহ পাকের দর্শন লাভ করিবে। হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (রাঃ। বলেন যে প্রত্যেক কান্নাকীর হাতে তিনটি করিয়া চুরি থাকিবে। একটি পর্ণের, একটি মুক্তার, একটি রৌপ্যের। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন যে জান্নাতে ‘আয়না’ নামী এক হর আছে। সে যখন চলিতে থাকে তখন তাহার। ডানে ও বামে সত্তর হাজার দাসী চলিতে থাকে। সে খলিতে থাবে যে ঐ ব্যক্তি কোথায় যে ভাল কাজের আদেশ করে এবং যারাণ কাজ থেকে বিরত থাকিতে বলে। হযরত ইয়াহিয়া ইবনে মুদ্দায (রহঃ) বলেন যে পার্থিবতা বর্জন করা শক্ত কাজ বটে কিন্তু অন্নাও হাতছাড়া করা গারও অনেক শক্ত। পার্থিরতা বর্জন করাই আখেরাতের নীল লাগানো। তিনি আরও বলেন যে পার্থিবত্য ভালাশ করা অপমান ও অপদস্থতা। পক্ষান্তরে আর্থেরাও তালাশ করা সম্মান লাভের উপায়। ঐ ব্যক্তিত্ব জন্য বিশ্বয় যে নশ্বর একটি জিনিসের পিছনে পড়িয়া সম্মান হাতছাড়া করে। হাদীছের আলোকে জান্নাতীদের গুনাবলী আল্লাহ পাক বলেন- يلون  সৎকাজ করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে মঙ্গল ও অতিরিক্ত কিছু” (সুরা ইট গয়াত ১৫) এখানে অতিরিক্ত কিছু বলিয়া আল্লাহ পাকের দর্শন লাভের প্রতি ইঙ্গিত করা হইয়াছে। আল্লাহ পাকের দর্শন পাশু কুরআান ও হাদীছ যারা প্রমাণিত। হযরত জরীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ। বর্ণনা করেন যে একদা আমবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বলিয়া ছিলাম। তিনি পূর্নিমার রাকের চাঁদ দেখিয়া বলিলেন যে তোমরা যেভাবে এই চাঁদ দেখিতে পাইতেছ ঠিক এই রাবেই আল্লাহ পাককেও দেখিতে পাইবে। চাঁদ সেখিরে গিয়া তো তোমরা ভীড়ের মধ্যে পড়িয়া যাও না। অর্থাৎ কিব কষ্টে সকলেই চাঁদ সেবিকে গাইতেছ। অনুরূপভাবে অল্লাহকে দেখিতে দিয়াও তোমরা ভীড়ের মধ্যে পড়িবে না। ফিল কষ্টে, বিনা বাক্কা থাকিতে তাঁহাকে দেখিতে পাইবে। যদি তোমাদের জন্য সম্ভব হয় তাহা হইলে সূর্যোদয়ের পূর্বের ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামায সম্পর্কে তোমরা যেন অলসতায় না পড়িয়া যায়। এই দুই নামাযকে ঠিকমত আদায় করিও। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করিয়া গুনাইলেন। وسيع بخشي ربك قبل طلوع الشمس وقبل غروبها .সূর্যোদ্বয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে তোমাদের প্রতিপালকের প্রশংসার ভাসবীহ পাঠ কর।” সূয় দোয়া-হ্যা আয়াত ১৩০। 

 পৃষ্ঠা:৫৯

এই হাদীছটি বোখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হইয়াছে। অবশ্য মুসলিম শরীফে হযরত সুহায়ব (রাঃ। হইতে বর্ণিত হইয়াছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আযাত পাঠ করিয়াছেন, للذين  অতঃপর বলিয়াছেন, যে জান্নাতী যখন জান্নাতে আর জাহান্নামীরা যখন জাহান্নামে প্রবেশ করিবে তখন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করিবে যে হে অন্নাতী। আল্লাহ পাক তোমাদের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়া ছিলেন। তিনি আজ তাহা পূর্ণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছেন। তাহারা বলিবে যে ইহা কোন প্রতিশ্রুতি? তিনি তো আমাদের আমলের ওজন তারী করিয়াছেন। আমাদের মুখ উজ্জ্বল করিয়াছেন। আমাদিগকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করিয়াছেন। জাহান্নাম হইতে মুক্তি দিয়াছেন। তাহাদের এই কথা বলার পর আল্লাহ পাক তাঁহার ও জান্নাতের মাঝখানের পর্দা উঠাইয়া লইবেন। তাহারা আল্লাহ পাকের দিকে দেখিতে থাকিবে। এমনকি তাহারা এমন এক অবস্থায় পৌঁছিবে যে আল্লাহ পাকের দর্শন ব্যতীত অন্য কোন কিছু তাহাদের কাছে প্রিয় লাগিবে না। অল্লাহ পাকের দর্শন সম্পর্কিত হাদীছ কয়েকজন সাহাবা হইতে বর্ণিত আছে। মেটকথা, পরোয়ার দিগারের দর্শন লাভ সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেয়ামত। জাস্নাতীদের স্বাদ উপভোগ সম্পর্কে যতগুলি বিষয়ের কথা আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করিয়াছি, আল্লাহ পাকের দর্শনের স্বাদের মোকাবিলায় অন্নাতীদের ঐ সব স্বাদ উপভোগ বিস্মৃতির অতল তলে হারাইয়া যাব। জান্নাতীরা আল্লাহ পাকের দর্শন লাতের সময় সীমাহীন খুশী হইবে এবং দর্শন লাকের স্বাদের সাথে জান্নাতের বিভিন্ন নেয়ামতের স্বাদের কোন তুলনাই হইতে পারে না। আল্লাহ পাকের রহমত আমাদের আমল এমন নহে যে আমরা নিজেদের আমল আল্লাহর সামনে পেশ করিয়া মাফ পাওয়ার আশ্য করিতে পারি। তবে আমরা তাঁহার রহমত ও দয়ার দিকে তাকাইয়া এতটুকু আশা রাখিতে পারি যে তিনি আমাদের দুনিয়া ও আবিরাতের শেষ পরিনতি তালই করিবেন। আর এই সুবাদেই আমরা তাঁহার রহমতের আলোচনার মাধ্যমে আমাদের এই গ্রন্থের যবনিকা টানিতে চাহিতেছি। তিনি নিজেই বলেন-إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ إِنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَالِكَ لِمَنْ يَشَاءُ. “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তাঁহার সাথে শিরক করা কে ক্ষমা করিবেন না। তবে ইহা ব্যতীত অন্য অপরাধ যাহাকে ইচ্ছা করেন মাফ করিবেন। “(সূয়া নিষ/ আয়াত ১১৪) অন্য এক স্থানে বলেন- قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ . “আপনি এই কথা পৌঁছাইয়া দিন যে হে আমার এঐ সকল বান্দা যাহারা নিজেদের ক্ষেত্রে সীমাতিক্রম করিয়াছ তোমরা অল্লাহর রহমত হইতে নিরাশ হইও না। আল্লাহ পাক সব গুনাহ মাফ করিয়া দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল দয়াবান।” (সূরা যুমার/ আয়াত ৫৩) একস্থানে বলেন- অন্য وَمَن يَعْمَلْ سُومًا أَوْ يُظلِمُ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللهَ يَجِدِ اللهَ غَفُورًا رَّحِيمًا . “যে ব্যক্তি খারাপ আমল করে অথবা নিজের উপর জুলুম করে। অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল দয়াবান পায়।” (সূরা নিসা/ আয়াত১১০)রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, আল্লাহ পাকের একশত দয়া রহিয়াছে। তন্মধ্যে মানুষ, জ্বীন, পশুপাথী এবং মাটির সমস্ত কীট পতঙ্গকে একটি মাত্র দয়া বন্টন করিয়া দিয়াছেন। ইহার ফলেই ইহারা প্রত্যেকে একের প্রতি অপরে দয়া করিয়া থাকে। অবশিষ্ট নিরানথই দয়া আল্লাহ পাক অবশিষ্ট রাখিয়াছেন। কিয়ামতের দিনে আল্লাহ পাক এই দয়াগুলির দ্বারা স্বীয় বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করিবেন। এক রেওয়ায়েতে আছে যে কিয়ামতের দিনে আল্লাহ পাক স্বীয় আরশের নীচ হইতে একটি লিখিত কাগজের টুকরা বাহির করিয়া আসিবেন। ইহাতে লিখা থাকিবে আমার রাগের উপর আমার দয়া এধান্য পাইয়াছে। আমি সকল দয়াবান অপেক্ষা অধিক বড় রহমত ওয়ালা।এক হাদীছে আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ পাক আমাদের উদ্দেশ্যে হাদিয়া হাসিয়া তাজাল্লী দিবেন। তিনি বলিবেন, হে মুসলমান জাতি! তোমাদের জন্য খুণীর কথা যে তোমাদের প্রত্যেকের বিনিময়ে ইহুদী ও খৃষ্টানদিগকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ পাক একচেটিয়া বনী আদমের জন্য হযরত আদমের (আঃ। সুপারিশ কবুল করিবেন। এক হাদীছে আছে যে কিয়ামতের দিনে আল্লাহ পাক ঈমানদারদিগকে জিজ্ঞাসা করিবেন, আমার সাক্ষাৎ তোমাদের কাছে কি প্রিয় ছিল? তাহারা বলিবে আয় আল্লাহ! নিশ্চয়ই প্রিয় ছিল। আল্লাহ পাক জিজ্ঞাসা করিবেন, কেন তাহারা জবাব দিবে, আমরা আপনার ক্ষমা ও মার্জনার আশা করিতাম। আল্লাহ পাক বলিবেন, আমি তোমাদের জন্য ক্ষমা ও মার্জনা অপরিহার্য করিয়াছিলাম। এক হাদীছে আছে যে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ পাক নির্দেশ দিবেন, যে ঐ সকল লোকদিগকে জাহান্নাম হইতে বাহির করিয়া আন যাহারা আমাকে একদিন হইলেও স্মরণ করিয়াছে অথবা কোন এক

 পৃষ্ঠা:৬০

স্থানে আমাকে তব করিয়াছে। এক হাদীছে আছে যে জাহান্নামীদের জাহল্লামে প্রবিষ্ঠ করা হইবে। তাহাদের সাথে কতক মুসলমানও জাহান্নামে যাইবে। অখন কাফেররা মুসলমানদিগকে জিজ্ঞাসা করিবে যে তোমরা না মুসলমান ছিলে।মুসলমানরা জবাব দিবে হ্যাঁ, আমরা মুসলমান ছিলাম। তখন কাফেররা বলিবে, তোমাদের ইসলাম ভোমাদের কোন কাজে আসে নাই। তাই তোমরা আমাদের সাথে জাহান্নামে আসিয়াছ। তাহারা জবাব দিবে যে আমাদের গোনাহ অনেক। এই জন্য আমাদিগকে বর-পাকড় করা হইয়াছে। আল্লাহ পাক তাহাদের কথা বার্তা শুনিবেন। অতঃপর নির্দেশ দিবেন যে মুসলমানদের যাহারা জাহান্নামে আছে তাহাদিগকে বাহির করিয়্য আন। আল্লাহ পাকের নির্দেশে তাহারা বাহির হইয়া আসিবে। কাফেররা ইহা দেখিয়া পরিতাপ করিয়া বলিবে যে হায়। আমর যদি মুসলমান হইতাম। তাহা হইলে তাহাদের ন্যায় আমরাও তো বাহির হইতে পাড়িতাম। এক হাদীছে আছে যে কোন দয়াময়ী মাতা স্বীয় সন্তানের প্রতি যতটুকু মমতা রাখে আল্লাহ পাক মুসলমান বান্দার প্রতি তদাপেক্ষা অধিক দয়া রাখেন। হবরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ। রান্না বলেন যে, কিয়ামতের দিনে যাহার সওয়ার পাণ হইতে অধিক বলিয়া সাব্যস্ত হইবে সে কিনা হিসাবে জান্নাতে পৌঁছিয়া হইবে। অর যাহার পথ ও নেকী সম্বাদ সমান হইবে কাহার থেকে সামান্য হিসাব লওয়া হইবে অভঃপর সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুপারিশ তো ঐ ব্যক্তির জন্য যে নিজেকে বাংল করিয়াছে। গোনাহ হার পীঠ ভারী করিয়াছে। এক রেওয়ায়েতে আছে যে আল্লাহ পাক হযরত মুসা (আঃ। কে বলেন, হে মূল্য। কারুন তো তোমার কাছে একটি ফরিয়াদ করিয়াছিল। কিন্তু তুমি ভাহার ফরিয়াদ কবুল কর নাই। আমার ইজ্জতের কসম করিয়া বলিতেছি যে বনি দে আমার কাছে ফরিয়াদ করিত তাহা হইলে আমি তাহার ফরিয়াদ কবুল করিতাম এবং তাহার অপরাধ মাফ করিয়া সিতাম। সাঈদ ইবনে বিলাল ।রহঃ। বলেন যে কিয়ামতের দিনে দুই ব্যক্তিকে জাহান্নাম হইতে বাহির করিয়া মানিবার নির্দেশ দেওরা হইবে। তাহাদিগকে বাহির করিয়া আনিবার পর আল্লাহ পাক বলিবেন যে, ইহা তোমাদের কৃতকর্মের বিনিময়। আমি বাপাসের উপর জুলুম করা বৈধ রাখি না। ইহা বলিয়া তাহাদিগকে, পুনরায় জাহান্নামে পইরা যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিবেন। এই নির্দেশ শুনার পর তাহাদের একজন স্বীয় বেড়ীসহ জাহান্দ্রামের দিকে দৌড়াইতে থাকিবে। এমনকি সে আহল্লাম প্রবেশ করিবে। আর অপর ব্রক্তি শুধু পা মড়াইতে থাকিবে। যাওয়ার তাদ করিয়াও যাইতে চাহিবে না। এমতাবস্থায় তাহাদিগকে ফের আনার নির্দেশ দেওয়া হইবে। তাহারা এইরূপ করিল কেন তাহা জানিকে চাওয়া হইবে। যে বাক্তি দৌড়াইয়া আহস্রামের দিকে চলিয়া গিয়াছিল সে জবাব দিবে যে আমি তো পূর্ব নাফমানীর মছিবতে প্রাকার। এখন ভব পাইরেছি যে না জানি আপনার নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় নাফরমানী হইয়া যায়। তাই আপনার নির্দেশ তাড়াতাড়ি পালনার্থে সৌড়াইতে ছিলাম। যে ব্যক্তি বামিয়া থামিয়া চলিতেছিল যে বলিল যে- এলাহি। আমার এইগুণ করার পিছনে আপনার প্রতি আমার দুধারনা কাজ করিয়াছে। আপনি যথন আমাকে জাহল্লাম হইবে বাহির করিয়া আনিয়াছেন আমার ধারণা হইল যে আপনি দ্বিতীয়বার আমাকে জাহান্নামে প্রেরন করিবেন না। অতঃপর আল্লাহ পাক তাহাদের উভয়কে জান্নাতে প্রেরনের নির্দেশ দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের নীচ থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করিতে থাকিবে যে হে উম্মতে মুহাম্মদ। তোমাদের দায়িত্বে আমার যে সব হক ছিল। আমি সেগুলি মাফ করিমা দিয়াছি। এখন তোমাদের একের দায়িত্বে অপরের যে হক রহিয়াছে। তোমরা একে অপরকে মাফ করিয়া নিয়া জান্নাতে প্রবেশ কর। হযরত জুনাবেহী (রহঃ। বলেন যে হযরত উবাদাহ ইবনে স্যামেত (রাঃ)। খুব অসুস্থ ছিলেন। আমরা তাহাকে দেখিতে গেলাম। আমরা তাঁহার জন্য কাঁদিলাম। তিনি বলিলেন, বাদ। কাঁদিতেছ কেন? আল্লাহর কদম। আমি যে সব হাদীছ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে শুনিয়াছি আর ইহাতে তোমাদের কল্যাণ দেখিয়াছি তাহ্য আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করিয়া দিয়াছি। কিন্তু একটি হালীছ বর্ণনা করি নাই। তাহাও আজ বসিবা দিতেছি। আমি শুনিয়াছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ’ এই কলেমার সাক্ষ্য প্রদান করে আল্লাহ পাক তাহাব জন্য জাহান্নাম হারাম করিয়া সেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ নাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক আমার উম্মতের বিশাল সমাবেশের সামনে এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করিবেন। তাহার আমল নামার নিরানব্বইটি খাতা খোলা হইবে। চোখের দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যায় প্রত্যেকটি খাতা প্রসারিত করিলে তত দূর পর্যন্ত প্রসারিত হইবে। আল্লাহ পাক তাহাকে জিজ্ঞাসা করিবেন যে এই খাতাখলিতে তোমার যে সব অপরাধ লিখা হইয়াছে তাহাতে তোমায় কোন আপত্তি নাই তেল যে সকল ফিরিশতারা এইগুলি সখিয়াছে তাহারা অন্যায় ভাবে কিছু লিখে নাই তো? সে জবাব দিবে, খায় আল্লাহ। না। অন্যায় ভাবে অতিরিক্ত কিছু লিখে নাই। আল্লাহ পাক জিজ্ঞাসা করিবেন যে, এখানে তোমার কোন ওজর আপত্তি আছে কি? সে বলিবে না। তথন আল্লাহ পাক বলিবেন, হাঃ তোমার একটি নেক কাজ আমার কাছে রহিয়াছে। আজ তোমায় প্রতি কোন জুলুম করা হইবে না। তখন অল্লাহ পাক কামাজের একটি ছোট টুকরা বাহির করিবেন। ইহাতে লিখা

 পৃষ্ঠা:৬১

রহিয়াছে যে “আমি সাক্ষ্য সিতেছি যে অল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই” এবং ইহাও সাক্ষ্য দিতেছি যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।” সে বলিবে, ইয়া এলাহি। এই ছোট্ট কাগজের টুকরাটি এতদীর্ঘ আমল নামার মোকাবিলায় কি কাজে আসিবে? আল্লাহ পাক বলিবেন, তোমার প্রতি অবিচার করা হইবে না। এই বিশাল আমলনামা এক পদ্মায় রাখ। স্বার এই ছোটট টুকরাটি অপর পাল্লায় রাখ। রাখার পর দেখা যাইবে যে আমল নামার পল্লা হালকা প্রমানিত হইবে আর ছোট্ট কাগজের টুকরার পন্থাটি তার প্রমানিত হইবে। কেননা আল্লাহর নামের সমকক্ষ কোন কিছুই হইতে পারে না। এএক লম্বা হাদীছে আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের এবং পুলসিরাতের বর্ণনা দিয়াছে। শেষ পর্যন্ত বলিয়াছেন যে, অল্লাহ পাক ফিরিশতাদিগকে বলিবেন, আহস্রাম বাসীদের মধ্যে যাহার অন্তরে এক বীনার পরিমাণও নেক কাজ রহিয়াছে। তাহাদিগকে জাহান্নাম থেকে বাহির করিয়া আন। এইভাবে অনেক মানুষকে জাহান্নাম হইতে বাহির করিরা আন্য হইবে। অবশেষে ফিরিশতারা বলিবে যে খায় এলাহি। আপনি যাহাদের সম্বন্ধে নির্দেশ দিয়াছেন- তাহাদের মধ্য হইতে কাহাকেও বাদ দেই নাই। সকলকেই বাহির করিয়া আনিয়াছি। অতঃপর আল্লাহ পাক পুণরায় নির্দেশ দিবেন যাও যাহারা বিন্দু পরিমাণও নেক কাজ করিয়াছে তাহাদিগকের বাহির করিয়া আন। এই বারও অনেক লোক বাহির হইয়া আসিবে। তাহারা পুনরায় বলিবে- হে খোসা আপনি যাহাদের সম্বন্ধে নির্দেশ দিয়াছেলেন তাহাদের মধ্য হইতে কাহাকেও বাদ দেই নাই। সকলকেই বাহির করিয়া আনিয়াছি। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন যে, যদি এই হাদীছ বর্ণণায় তোমব্য আমাকে কথা বলিয়া মনে না কর, তাহা হইলে কুবখান শাকের নিম্নোক্ত আয়াতটি পাঠ কর। ইহার সত্যতা বুঝিতে পারিবে। আয়াতটি এই إِنَّ اللَّهَ لَا يَعْلَمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنَّ لَهُ حَسَنَةٌ مُنَافِقُهَا وَمُوتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا –  আল্লাহ পাক বিন্দু পরিমানও জুলুম করেন না। বদি কোন সওয়াব থাকে তাহা এইলে ইহাকে দুই ঋণ করিয়া দেন এবং নিজের পক্ষ হইতে বড় সওয়াব দান করেন। (সুরা নিসা আয়াত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- অতঃপর আল্লাহ পাক বলেন যে, ফিরিশতারা সুপারিশ করিয়াছে, নষ্টগণ ও মুমিনগণ সুপারিশ করিয়াছে। এখন আমি ব্যতীত অন্য কেহ সুপারিশকারী অবশিষ্ট নাই। তখন আল্লাহ পাক মুষ্ঠি ভরিয়া জাহান্নাম, হইতে লোকধিণককে বাহির করিবেন। তাহারা এমন এক শ্রেণীর লোক যাহার সামান্য পরিমাণ ও নেক কাজ করে নাই। দোজখে জ্বালিয়া তুলিয়া কয়লা হইয়া গিয়াছে। ভবন তাহাদিগকে বেহেশতের সুন্মুখ মিয়া প্রবাহিত এক প্রদ্রবনে নিক্ষেপ করা হইবে। ইহাকে নহরে হায়াত বলা হয়। অতঃপর তাহারা ইহার পানিতে ডুবদিয়া বাহির হইয়া আসিবে। তখন তাহাদের চেহারা ভূমি হইতে সদ্য নির্গত চারার ন্যায় দেখা যাইবে। তোমরা কি এমন চারা দেখ নাই যে সদ্য নির্ণয় হইয়া সূর্যের দিকে মুখ করিয়া আছে। ইহার রং সাদা ও হলদে মিশ্রিত হয়। আর ইহার মানার অংশটুকু সালা হয়। তাহারা এই রং সইয়া বাহির হইয়া আসিবে। কিন্তু তাহাদিগকে দেখিতে মুক্তার ন্যায় দেখা যাইবে। কিন্তু তাহাদের জীব্য দেশে সীল দাগানো থাকিবে। তাহাদের এই নীল দেখিয়া অম্লাবীবা তাহাদিগকে চিনিতে পারিবে। জান্নাতীরা বধিবে যে এই সকল শোকদিগকে আল্লাহ পাক যুক্ত করিয়াছেন।। কোন নেক আমল ছাড়াই আল্লাহ পাক তাহাদিগকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করাইয়াছেন। আল্লাহ পাক তাহাদিগকে জান্নাতে প্রবেশ করিবার নির্দেশ দিবেন এবং বলিবেন যে তোমরা সেখানে যাহা কিছু দেখিতে পাইবে ভাই। সবই তোমাদের জন্য। তাহারা বলিবে যে আয় আল্লাহ। আপনি আমাদিগকে এমন জিনিস দিয়াছেন যাহা অন্য কাহাকেও দেন নাই। আল্লাহ পাক বলিবেন- তোমাদের জন্য আমার কাছে ইহা অপেক্ষাত উত্তম জিনিস বহিয়াছে। তাহারা বলিবে আম আল্লাহ। ইহা অপেক্ষা উত্তম আর কি হইতে পারে। আল্লাহ পাক বলিবেন, তোমাদের প্রতি আমার সন্তুষ্টি। এখন থেকে তোমাদের প্রতি আমি আর কখনও অসন্তুষ্ট হইব না। বুকরী-মুসলিম।। বোখারী শরীফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আনাস রাঃ। হইতে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, একদা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের খয়ে আসিলেন। তিনি বলিবেন, আমার সামনে সকল উম্মতকে উপস্থিত করা হইয়াছে। আমি লেখিতে পাইলাম যে, এক নবী, যাহার সাথে মাত্র এক ব্যাক্তি। অন্য এক নদীকে দেখিতে পাইলাম, যাহার সাথে ছিল মাত্র দুইজন মানুষ। অন্য এক নবীকে দেখিলাম। তাহার সাথে কোন মানুষ ছিল না। কোন কোন নবীর সাথে পাঁচ/দশ জন ছিল। অতঃপর একস্থানে বই লোক সমবেত সেদিকে পাইলাম। রাবিলাম যে তাহারা হয়ত আমার উত্থত। তখন আমাকে বলা হইল যে তাহারা হইল মুসা (আঃ) এবং তাঁহার উত্থত। অতঃপর আমাকে বলা হইল যে আপনি এই দিকে চাহিয়া দেখুন। অগনিত লোক দেখিতে পাইলাম। তাঁহারা আকাশের দিগন্ত পর্যন্ত ছড়াইয়া রহিয়াছে। আমাকে বলা হইল যে তাহারা আপনার উম্মত। তাহাদের মধ্য হইতে সত্তর হাযার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সপ্তদ্রাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৈঠক হইতে উঠিয়া চলিয়া গেলেন। কিন্তু এই সতর হাজার কাহারা এই সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাবে কিছু বলেন নাই। তাই সাহাবাগণ নিজেরাই এই ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করা শুরু করিলেন। কেহ কেহ বলিলেন যে এই সরর হাজারে আমরা অন্তর্ভুক্ত নহি। কারণ আমরা এখম জীবনে শিরক করিয়াছি। অতঃপর মুসলমান হইযাছি তাই আমরা হইতে পারি না। তবে আমাদের সন্তানরা তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইবে। বাসূলুল্লাহ সাহুড়াহ আলাইহি

 পৃষ্ঠা:৬২

ওআসাল্লাম তাহাদের আলোচনা শুনিতে পাইদেন। তাই তিনি বললেন, তাহারা ঐ সকল দোক যাহারা শরীবে দাগ লাগাইয়া চিকিৎসা করে না ঝাড়ফুক করে নাই। কোন জিনিসের মধ্যে শুভ্র গন্ডত আছে বলিয়া বিশ্বাস করে নাই এবং সর্বদা অম্ল্যাহর উপর ভরসা করিয়া আছে। হযরত উকাশা ইবনে মেহসান (রা। শাঁড়াইয়া বলিবেন যে ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লার আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন দু’য়া করুন। অল্লাহ যেন আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন তুমি তাহাদের একজন। অতঃপর অন্য একব্যাক্তি গাঁড়াইয়য় অনুরূণ আবেদন করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন উল্কাশ্য তোমার চেয়ে আগে বাড়িয়া গিয়াছে। তাহার জন্য দু’য়া কবুল হইয়া গিয়াছে। হযরত আমর ইবনে হয়ম আনসারী (বাঃ। হইতে বর্ণিত আছে যে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিন পর্যন্ত আমাদের চোখের আড়ালে ছিলেন। শুধু নামায়ের জন্য বাহির হইয়া আসিতেন। নামায শেয়ে চলিয়া যাইতেন। চতুর্থ দিনে তিনি আমাদের সামনে আসিলেন। আমরা বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিন পর্যন্ত আপনি আমাদের আড়ালে ছিলেন। আমরা ধারনা করিয়াছি যে হয়তোবা নতুন কোন কিছু ঘটিয়াছে। রাসূলে করীম সাল্লাল্ল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, নতুন কিছু ঘটিয়াছে সন্ধা। তবে তাহা কল্যাণকর। অকল্যাণকর কিছুই নয়। আমার পয়েয়ারদিগার আমার কাছে ওয়াদা করিয়াছেন যে তিনি আমার উত্থত হইতে সরব হাযার থেকে বিনা হিসাবে জান্নাতে পারিষ্ট করিবেন। আমি এই তিন দিন পর্যন্ত তাঁহার কাছে আবেদন রাখিয়াছি যে তিনি যেন এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করেন। আমি স্বীয় পরোয়ারদিগারকে বড় দয়ালু পাইয়াছি। তিনি এই সত্তর হাজার লোকদের মধ্য হইতে প্রত্যেকের সাথে আরও সত্তর হাযার করিয়া বৃদ্ধি করিয়াছেন। আমি বলিলায়, আয় রব। আমার ইক্ষত কি এই সংখ্যা পর্যন্ত পৌঁছিবে? তিনি বলিসেন, আমি তোমার এই সংখ্যাটি শুধু আরব থেকেই পূর্ণ করিব। হযরত আবু যর (রায়) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে মদিনার বাহবে সমতল ভূমিতে হয়বত জিবরাইল (আঃ) আমার কাছে আগমন করিয়াছিলেন। তিনি আমাকে বলিলেন যে আপনার উম্মতের মধ্যে যে কোন ব্যাক্তি শিরক করা ব্যস্তীভ দুনিয়া ত্যাগ করিবে সে জান্নাতে পৌঁছিবে। আমি বলিলাম, হে জিবরাইল। যদিও বিনা করে, যদিও খুবি করে। হরের জিবরাইল (আঃ) বলিলেন যে হাং, যদিও চিনা করে। যদিও চুরি করে তবুও। আমি আবার জিজ্ঞানা করিলাম- যদিও চিনা করে, যদিও চুরি করে? হযরত জিবরাইল মোঃ। বলিলেন যে হ্যাঁ, যদিও জিনা করে যদিও চুরি করে? আমি আাবা রবলিদাম, বলিও ফিন্য করে, স্বণিও চুরি করে? হৎরত জিবরাইল (আঃ। বলিলেন, হ্যাঁ, যদিও ফিল করে, যদিও চুরি করে। হযরত আবু দারদা (রাঃ। বর্ণনা করেন যে একদা রাসুলে করীম সরড়হ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতপন  ولِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ ) সরড়হ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতপন ربه نشان خان مقام ব্যক্তি স্বীয় রবের সামনে দাঁড়াইতে হইবে বলিয়া ভয় করে তাহার জন্য দুইটি জান্নাত।” আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যদিও যদিও ঝিনা করে, যদিও চুরি করে? তিনি আবার এই আয়াত পাঠ করিলেন। আমি বলিলাম, ইয়া বাসুলুল্লাহ সল্লাল্লল আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদিও যিনা করে, যদিও চুরি করে? তিনি পুনরায় এই আয়াত পাঠ করিলেন। আমি আবার বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যদিও বিনা করে, যদিও চুরি করে? তিনি এই বার বলিলেন হ্যাঁ, যদিও আবু সারসার পছন্দ না হয়। তবুও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক ঈমানদারের হাতে বিজাতীয় একজন লোক অর্পন করা হইবে। আর বলা হইবে, ইহ্য কাহল্লামের জন্য তোমার বিনিময়। হযরত আবু কুবলা (রাহ হযরত অথব ইবনে আবদুল আযীয়ের (রহঃ। দরবারে এক হাদীছ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, আামার পিতা আবু মুসা আশমারী (বা আমার কাছে এই হাদীছ বর্ণনা করিযাছেন। তিনি বাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে শুনিয়াছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কোন মুসলমান বাক্তি মারা গেলে আল্লাহ পাক তাহার পরিবর্তে এক ইহুদী বা এক খৃষ্টানকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন।” হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীম (রহঃ) হযরত আকু কুরসা।গাকে তিনবার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করিতান যে সত্যিই কি তোমার পিতা এই হাদীছ রাসূলে করীম সাল্লাল্লছ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনিয়া তোমার কাছে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি তিনবার বলিলেন যে হ্যাঁ। আমার কাছে এই ভাবেই বর্ণনা করিয়াছেন। বর্ণিত আছে যে এক শিশু কোন এক যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়াইয়াছিল। সেদিন প্রচন্ড গরম ছিল। এক মহিলা তাবুর ভিতর হইতে এই শিশুকে দেখিতে পাইল। দেখিয়াই দৌঁড়াইয়া আদিল। মহিলার অকথাৎ দৌড় দেখিয়া মহিলার সাথীরাও তাহার পছনে পিছনে আসিল। দে আসিয়া শিশুকে কোলে ভুলিয়া লইল। তাহাকে স্বীয় বুকের সাথে লাগাইল। আদর করিতে লাগিল। এই পাথরী মাটির প্রচন্ড গরম হইতে তাহাকে বাঁচাইবার জন্য সর্ব প্রকার চেষ্টা করিল। স্বার বলিতে ছিল, ইহা আমার শিশু। এমতাবস্থায়-রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় উপস্থিত হইলেন, উপস্থিত লোকজন ঘটনা কন্যইল। তিনি সেই মুহূর্তে তাহাদিগকে সুসংবাদ শুনাইলেন এবং বলিলেন যে, এই মহিলা স্বীয় সন্তানের প্রতি যে দয়ামায়া প্রদর্শন করিযাছে, তাহাতে ভোমরা আশ্চর্য্য বোধ করিতেছ। অথ্য মহিলা স্বীয় সন্তানের প্রতি যতটুকু দয়া প্রদর্শন করিয়াছে আল্লাহ পাক তোমাদের সকলের প্রতি ইহা অপেক্ষা অনেক বেশী সয়ালু। এই কথা ভূনিয়া মুনলমানরা অতি গুণী আনন্দের সাথে সেখান থেকে প্রস্থান করিল। আল্লাহ পাকের মেহেরবাণীতে সমাপ্ত।

হোম
ই-শো
লাইভ টিভি
নামাজ শিক্ষা
গেইমস
চাকুরি