Skip to content

মিশকাতে বর্ণিত জাল ও যইফ হাদিস - আলবানি(রাঃ)

পৃষ্ঠা ১ থেকে ২০

পৃষ্ঠা:০১

অধ্যায়: ঈমান

(1) عَنْ أَبِي ذَرِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَفْضَلُ الأَعْمَالِ الْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُعْضُ فِي اللَّهِ. أبو داود : كتاب السنة باب مُحَالِيَةٍ أَهْلِ الأَهْوَاء وَبَعْضِهِمْ. —(১) আবু যার বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, সর্বত্তোম কাজ হ’ল আল্লাহর জন্য ভালবাসা করা এবং আল্লাহ্ জন্য শত্রুতা করা। তাহক্বীক্ব: হাদীছটির সনদ যঈফ।’ (۲) عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ لِي رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَفَاتِحُ الْجَنَّةِ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ.(২) মু’আয ইবনু জাবাল বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাকে বলেন, জান্নাতের চাবি হচ্ছে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ বলে সাক্ষ্য দান করা।’ তাহক্বীক্ব: যঈফ।”(۳) عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُحَدِّثُ أَنْ رِجَالًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ حِينَ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ ﷺ حَزِنُوا عَلَيْهِ حَتَّى كَادَ بَعْضُهُمْ يُوَسْوِسُ قَالَ عُثْمَانُ وَكُنْتُ مِنْهُمْ فَبَيْنَا أَنَا جَالِسٌ فِي ظِلِّ أَطْمِ مِنْ الْأَطَامِ مَرَّ عَلَيَّ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَسَلَّمَ عَلَيَّ فَلَمْ أَشْعُرْ أَنَّهُ مَرَّ وَلَا سَلَّمَ فَانْطَلَقَ عُمَرُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ لَهُ مَا يُعْجِبُكَ أَنِّي مَرَرْتُ عَلَى عُثْمَانَ فَسَلِّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ السَّلَامَ وَأَقْبَلَ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ فِي وِلَايَةِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَتَّى سَلَّمَا عَلَيَّ جَمِيعًا ثُمَّ قَالَ أَبُو بَكْرٍ جَاءَنِي أَخُوكَ عُمَرُ فَذَكَرَ أَنَّهُ مَرَّ عَلَيْكَ فَسَلَّمَ فَلَمْ تَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ فَمَا الَّذِي حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ قَالَ قُلْتُ مَا فَعَلْتُ فَقَالَ عُمَرُ بَلَى وَاللَّهِ

পৃষ্ঠা:০২

لَقَدْ فَعَلْتَ ولكنها عبينَكُمْ يا بني أمية قَالَ قُلْتُ وَاللَّهُ مَا شَعَرْتُ أَنَّكَ مَرَرْتَ وَلَا سلمت قال أبو بكر صَدَقَ عُثْمَانُ وَقَدْ شَغَلَكَ عَنْ ذَلِكَ أَمْرٌ فَقُلْتُ أَحَلَّ قَالَ مَا هُوَ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ تَوَلَّى اللهُ عَزَّ وَجَلَّ نَبِيَّ ﷺ قَبْلَ أَنْ تَسْأَلُهُ عَنْ نَحَاهُ. (৩) ওছমান বলেন, নবী কারীম যখন মারা গেলেন তখন তাঁর ছাহাবীদের অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি তাদের কারো মনে দ্বিধা সৃষ্টি হল। ওছমান বলেন, আমিও তাদের অন্যতম। এমন সময় ওমর আমার নিকট দিয়ে গেলেন এবং আমাকে সালাম করলেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না। ওমর আবুবকর-এর নিটক গিয়ে অভিযোগ করলেন। অতঃপর উভয়ে আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে সালাম করলেন। অতঃপর আবুবকর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ওছমান কী হয়েছে? আপনি কেন আপনার ভাই ওমরের সালামের জবাব দিলেন না? আমি বললাম আমি তো এরূপ করিনি। ওমর বললেন, আল্লহর কসম! আমি এরূপ করেছেন। ওছমান বললেন, আল্লহর কসম! আমি বুঝতে পারিনি যে আপনি এই দিক দিয়ে গেছেন বা আমাকে সালাম দিয়েছেন। এরপর আবুবকর বললেন, ওছমান সত্য বলছেন। অতঃপর আবুবকর বললেন, নিশ্চয় আপনাকে কোন দুশ্চিন্তা এর থেকে বিরত রেখেছিল। আমি বললাম জি। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন সেটা কী? আমি বললাম, আল্লাহ তা’আ তাঁর নবী কারীম-কে তুলে নিলেন অথচ আমরা তাঁকে এই বিষয়টি সম্পর্কে বাঁচার উপায় সম্পর্কে জানতে পারলাম না। আবুবকর বললেন, দুশ্চিন্তার কারণ নেই আমি তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। একথা শুনে আমি তার দিকে অগ্রসর হলাম এবং বললাম আমার পিতা-মাতার আপনার উপর কুরবান হোক। আপনিই এর জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। আবুবকর বলেন, আমি একদা রাসূল-কে জিজ্ঞেস করলাম এর থেকে বাঁচার উপায় কী? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ঐ কালেমা গ্রহণ করল যা আমি আমার চাচার কাছে পেশ করেছিলাম; আর তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ঐটাই নাজাতে পথ। ১২ তাহক্বীকু: যঈফ।১০ (٤) عَنْ مُعاذ بن جبل أَنَّهُ سَأَلَ النبي ﷺ عَنْ أفضل الْإِيمَانِ قَالَ أَنْ تُحِبُّ لله وتبغض الله وتعمل لسانك في ذكر الله قَالَ وَمَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهُ قَالَ وَأَنْ تُحِبُّ للنَّاسِ مَا تُحِبُّ لَنَفْسِكَ وَتَكْرَهُ لَهُمْ مَا تَكْرَهُ لِنَفْسِكَ.

পৃষ্ঠা:০৩

(৪) মু’আয বিন জাবাল বলেন, তিনি একদা নবী করীম-কে জিজ্ঞেস করেন, কোন ঈমান শ্রেষ্ঠ? উত্তরে তিনি বলেন, কাউকে মিত্র ভাবলে আল্লাহর জন্যই ভাববে। আর কাউকে শুক্র ভাবলে তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভাববে। আর নিজের জিহ্বাকে আল্লাহর যিকিরে ব্যস্ত রাখবে। মু’আয বললেন, আল্লাহর রাসূল। সেটা কী। তিনি বললেন, অন্যের জন্য তাই পসন্দ করবে যা তোমার জন্য পসন্দ কর। এভাবে নিজের জন্য যা অপসন্দ করবে অন্যের জন্যও তা অপসন্দ করবে। ১ তাহক্বীকু: যঈফ। باب الكبائر وعلامات النفاق

অনুচ্ছেদ: কাবীরা গোনাহ ও মুনাফিকীর নিদর্শন

(٥) عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّال قَالَ قَالَ يَهودي لصاحبه اذْهَبْ بِنَا إِلَى هَذَا النَّبِيِّ فَقَالَ صَاحِبُهُ لَا تَقُل نَبِي إِنَّهُ لَوْ سَمِعَكَ كَانَ لَهُ أَرْبَعَةُ أَعْيُنِ فَأَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَسَأَلَاهُ عَن تسع آيات بينات فَقَالَ لَهُمْ لَا تُشْرِكُوا بِالله شَيْئًا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْلُوا وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا تَمْشُوا بِبَرِي إِلَى ذِي سُلْطَانِ لِيَقْتُلَهُ وَلَا تَسْحَرُوا وَلَا تَأْكلوا الربا وَلَا تَقْذِفُوا مُحْصَنَةٌ وَلَا تُوَلُّوا الْقِرَارُ يَوْمَ الرَّحْفَ وَعَلَيْكُمْ خَاصَّةُ الْيَهُودَ أَنْ لَا تَعْتَدُوا في السَّبْت قَالَ فَقَبَّلُوا يَدَهُ وَرَحْلَهُ فَقَالَا تَشْهَدُ أَنَّكَ نبي قَالَ فَمَا يَمْنَعُكُمْ أَن تَتَّبِعُونِي قَالُوا إِنْ دَاوُدَ دَعَا رَبَّهُ أَنْ لَا يَزَالَ فِي ذُرِّيَّتِهِ نَبِيٌّ وَإِنَّا نَخَافُ إِنْ تَبَعْنَاكَ أَنْ تَقْتُلْنَا الْيَهُودُ. الترمذي : كتاب الاستعلان والاذاب من رسول الله ﷺ باب ما جاء في قبلة اليد والرحل(৫) ছাফওয়ান ইবনু আস্সাল বলেন, একদিন এক ইহুদী তার সাথীকে বলল, এই নবীর কাছে আমাকে নিয়ে চল। তার সাথী বলল, তাকে নবী বলনা। কারণ তোমার মুখে এই কথা শুনলে সে আহলাদে আটখানা হয়ে যাবে। অতঃপর তারা উভয়ে রাসূল-এর নিকট আসল এবং তাঁকে মূসা (আঃ)-এর নয়টি মু’জিযা সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি উত্তরে বললেন, (১) আল্লহর সাথে কাউকে শরীক করবে না। (২) চুরি করবে না, (৩) ব্যভিচার করবে না, (৪) অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করবে না- যা আল্লাহ হারাম করেছেন (৫) কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে কোন ক্ষমাতাবান হাকিমের কাছে নিয়ে

পৃষ্ঠা:০৪

যাবে না- যাতে তিনি তাকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করেন, (৬) জাদু করবে না, (৭) সূদ খাব না, (৮) কোন সতী-সাধ্বীকে ব্যভিচারের অপবাদ দিবে না, (৯) জিহাদকালে পলায়ন করবে না এবং বিশেষ করে তোমরা ইহুদীরা শনিবারের নিয়ম করবে না। সাফওয়ান বলেন, তারা উভয়ে রাসূলে পদচুম্বন করল এবং বলল আমরা সাক্ষী দিচ্ছি যে আপনি সত্য নবী। রাসূল বললেন, তাহলে আমার অনুসরণে তোমাদের অন্তরায় কী? তারা বলল যে দাউদ এইকি আল্লহর নিকট দু’আ করেছিলেন যে নবী যেন বরাবর তাঁর বংশের মধ্যেই হন। সুতরাং আমাদের আশংকা হয় আমরা আপনার অনুসরণ করলে ইহুদীরা আমাদেরকে হত্যা করবে।” তাহক্বীক্ব: যঈফ।” (1) عن أنس بن مالك قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ ثَلَاثَةٌ مِنْ أَصْلِ الإِيمَانِ الْكَفَّ عمَّنْ قَالَ لا إله إلا الله ولا تكفره بذب ولا تخرجه من الإسلام بعمل وَالْجِهَادُ مَاضٍ منذ يعنى الله إلى أن يُقاتل آخِرُ أُمَّتِي الدَّجَّالَ لَا يُبْطِلُهُ حَوْرٌ حائِرٍ وَلَا عَدْلُ عَادِلٍ وَالإِيمَانُ بِالْأَقْدَارِ . أبو داود : الجهاد باب في الغزو مع الله الحور (৬) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, তিনটি বিষয় হচ্ছে ঈমানের বুনিয়াত বিষয়সমূহের অন্তর্গত। (১) যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালেমা পড়বে, তার প্রতি আক্রমণ করা হতে বিরত থাক; কোন গুনাহর দরুন তাকে কাফের বলে মনে করবে না এবং কোন আমলের দরুন তাকে ইসলাম হতে খারিজ করে দিবে না (যতক্ষণ স্পষ্ট কুফরী কাজ করে)। (২) জিহাদ- যে দিন হতে আল্লাহ আমাকে জিহাদের হুকুম দিয়েছেন, সে দিন হতে এ উম্মতের শেষ লোকেরা দাজ্জালের সাথে জিহাদ করা পর্যন্ত তা চলতে থাকবে, কোন অত্যাচারী শাসকের অত্যাচার বা কোন সুবিচারী হাকিমের সুবিচার জিহাদকে বাতিল করতে পারবে না। এবং (৩) তাকদীরে বিশ্বাস। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

পৃষ্ঠা:০৫

অনুচ্ছেদ: কুমন্ত্রণা

(۷) عَنْ عَبْدِ الله بْن مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِنَّ الشَّيْطَانَ لَمَّةٌ بِابْنِ آدَمَوَالْمَلَكَ لَمَّةٌ فَأَمَّا لَمَّهُ الشَّيْطَانِ فَإِيعَادُ بالشَّرِّ وَتَكْذِيبَ بِالْحَقِّ وَأَمَّا لَمَّةُ الْمَلَكِ فَإِيعَادُ بالخَيْرِ وَتَصْدِيقٌ بِالْحَقِّ فَمَنْ وَجَدَ ذَلِكَ فَلْيَعْلَمْ أَنَّهُ مِنْ اللَّهِ فَلْيَحْمَدُ اللَّهُوَمَنْ وَجَدَ الأُخْرَى فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ ثُمَّ قَرَأَ الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمْالْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِالترمذي : كتاب تَفْسِيمِ الْقُرْآنِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بَابِ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ (৭) ইবনু মাসউদ বলেন, রাসূল বলেছেন, রাসূল বলেছেন, মানুষের সাথে শয়তানের একটি লাম্বা (ছোঁয়া) আছে এবং ফেরেশতারও একটি লাম্বা (ছোঁয়া) আছে। শয়তানের লাম্বা হল অমঙ্গলের ভীতি প্রর্দশন (যথা দান- করিলে ধন কমে যাবে) এবং সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। পক্ষান্তরে ফেরেশতার লাম্বা হল মঙ্গলের সুসংবাদ প্রদান। (যথা- দানে তোমার ভাল হবে) এবং সত্যের প্রতি সর্মথণ জ্ঞাপন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দ্বিতীয় অবস্থা গ্রহণ করবে। সে যেন মনে করে যে, ইহা আল্লাহ পক্ষ হতে, আর ইহার জন্য আল্লাহ শোকরিয়া আদায় করে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অপর অবস্থা অনুভব করবে, সে যেন শয়তান হতে আল্লাহ নিকট পরিত্রাণ চায়।২০ ২১ তাহক্বীক্ব: যঈফ।”(۸) عَنْ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ أَنْ رَجُلًا سَأَلَه فَقَالَ إِنِّي أَهِمُ فِي صَلَاتِي فَيَكْثُرُ ذَلِكَ عَلَيَّ فَقَالَ لَهُ امْضِ فِي صَلَاتِكَ فَإِنَّهُ لَنْ يَذْهَبَ عَنْكَ حَتَّى تَنْصَرِفَ وَأَنْتَ تَقُولُمَا أَتْمَمْتُ صَلَاتِي.(৮) কাসেম ইবনু মুহাম্মাদ হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, নামাযের মধ্যে আমার সন্দেহ হয়। এটা আমার পক্ষে বড় কষ্টদায়ক হয়। কাসেম উত্তরে বলেন, তুমি তোমার ছালাত পূর্ণ করতে থাক। কারণ ঐটা তোমার থেকে দূর হবে না যতক্ষণ না নামায পূর্ণ কর এবং বল যে আমি নামায পূর্ণ করিনি।তাহক্বীকু: যঈফ।

পৃষ্ঠা:০৬

অনুচ্ছেদ: তাক্বদীরে বিশ্বাস 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۹) عن مسلم بن يسار قال مثل عمر بن الخطَّابِ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ وَإِذْ أَحَدٌ ربك من بني آدم من ظهورهم ذريتهم الآية قَالَ عُمَرُ سَمِعْتُ رَسُولَ الله ﷺ يُسْأَلُ عَنْهَا فَقَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِنَّ اللهَ خَلَقَ آدَمَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهُ بِيَمِينِهِ فَأَخْرَجَ منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للجنَّةِ وَبِعَمَل أَهْلِ الْجَنَّةِ يَعْمَلُونَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهُ فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للنار ووَيَعْمَل أَهْلِ النَّارِ يَعْمَلُونَ فَقَالَ رَجُل يَا رَسُولَ الله فَقِيم العمل قال فقال رسول الله ﷺ إِنَّ اللَّهَ إِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ اللجنة استعمله بعمل أهل الجنة حتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَل مِنْ أَعْمَال أَهْل الْجَنَّة فيُدْحَلهُ اللهُ الْجَنَّةَ وَإِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ النَّارِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالَ أَهْلِ النَّارِ فَيُدْخِلَهُ اللَّهُ النَّارَ (৯) মুসলিম ইবনু ইয়াসার বলেন, ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব-কে কুরআনের এই আয়াত সর্ম্পকে জিজ্ঞেস করা হল, ‘যখন তোমার প্রভু আদম সন্তানদের পিঠ হতে তাদের সমস্ত সন্তানকে বের করল’। ওমর বলেন, আমি শুনেছি, রাসূল-কে এ সর্ম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর আপন ডান হাত দ্বারা তাঁর পিঠে বুলালেন এবং সেখান থেকে তাঁর একদল সন্তান বের করলেন। অতঃপর বললেন, এদেরকে আমি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি, জান্নাতের কাজই তারা করবে। পুনরায় আদমের পিঠে হাত বুলালেন এবং সেখান থেকে আরেক দল সন্তান বের করলেন ও বললেন, এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং জাহান্নামীদের কাজই তারা করবে। এক ছাহাবী প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে আমল কেমন হবে? রাসূল বললেন, আল্লাহ তা’আলা যখন কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন তখন তার দ্বারা জান্নাতের কাজই করিয়ে নেন। অবশেষে সে জান্নাতীদের কোন কাজ করে মৃত্যু বরণ করে। আর আল্লাহ তা’আলা এর দ্বারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। অনুরূপ আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তার দ্বারা জাহান্নামের কাজই করিয়ে নেন। অবশেষে সে জাহান্নামীদের

পৃষ্ঠা:০৭

কোন কাজ করেই মৃত্যু বরণ করে এবং আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান। তাহক্বীকু: যঈফ। (۱۰) عَنْ أَبِي حَرَامَة عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَرَأَيْتَ رُقَى تَسْتَرْقِيهَا ودواء تتداوى به وثقاة تلقيها هَلْ تَردُّ من قدر الله شَيْئًا؟ قَالَ هِي مِنْ قَدر الله. الترمذي : كتاب الطب باب ما جاء في الرقى والأدوية ابو داود : كتاب القدر باب ما جاء لا ترد الرقى ولا الدواء من قدر الله ليلا ابن ماجة : كتاب الطب باب ما أنزل الله ذَاءَ إِنَّا أَنزَلَ لَهُ شَفَاء (১০) আবু খুযামা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আমি একদিন। রাসূল-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যে মন্ত্র পাঠ করে থাকি এবং কোন ঔষধি দ্বারা ঔষধ করে থাকি অথবা কোন উপায় দ্বারা আত্মরক্ষা করতে চেষ্টা করে, তা কি তাকদীরের কিছু প্রতিরোধ করতে পারে? তিনি বললেন, তোমাদের এ সকল চেষ্টাও তাকদীরের অন্তর্গত। তাহক্বীকু: যঈফ।(۱۱) عَنْ ابْنِ عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ صَنَّفَانِ مِنْ أُمَّتِي لَيْسَ لَهُمَا فِي الْإِسْلَامِ نَصِيبٌ الْمُرْحِنَةِ وَالْقَدَرِيَّةُ. الترمذي: كتاب القدر باب ما جاء في القدرية، ابن ماجة كتاب المقدمة باب في الإيمان(১১) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে দুই রকমের লোক রয়েছে, তাদের জন্য ইসলামের কোন অংশ নেই; মুর্জিয়া ও ক্বাদারিয়া। তাহক্বীক্ব: যঈফ।(۱۲) عَنْ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا تُجَالِسُوا أَهْلَ الْقَدَرِ وَلَا تُفَاتِحُوهُمْ.(১২) ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমরা ক্বাদারিয়াদের সাথে উঠা বসা করো না এবং তাদেরকে হাকিম নিযুক্ত করো না।”

পৃষ্ঠা:০৮

(۱۳) عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ سنة لَعَنَتُهُمْ وَلَعَنَهُمْ اللَّهُ وَكُلُّ بَي يجاب الزائد في كتاب الله وَالْمُكَذِّبُ بقدر الله وَالْمُتَسَلَّطُ بِالْحَبرُون ليعر أذل الله ويُذلَّ مَنْ أَعَرَّ الله وَالْمُسْتَحِل لَحرُمَ اللَّهُ وَالْمُسْتَحِلُ مِنْ عِتْرَتِي مَا حَرَّمَالله والتارك السنتي. الترمذي: كتاب القدر باب ما جاء في الرضا بالقضاء(১৩) আয়েশা বলেন, রাসূল বলেছেন, ছয় ব্যক্তি রয়েছে যাদের প্রতি আমি অভিশম্পাত করি এবং আল্লাহ তাদের প্রতি লা’নত করেন। আর প্রত্যেক নবীর দু’আই কবুল করা হয়। (১) যে ব্যক্তি আল্লহর কিতাবে কিছু অতিরিক্ত যোগ করে (২) যে ব্যক্তি তাকদীরে অবিশ্বাস করে (৩) যে ব্যক্তি এই উদ্দেশ্যে জোর করে ক্ষমতা দখল করে যে, আল্লাহ যাকে অপমানিত করিয়েছেন তাহাকে যে যেন সম্মান দান করতে পারে এবং আল্লাহ যাকে সম্মান দান করেছেন তাকে যেন অপমানিত করতে পারে (৪) যে ব্যক্তি আল্লাহ ঘর-মক্কায় এমন কাজ করে, যা তথায় করা আল্লাহ হারাম করেছেন (৫) আমার বংশে যে ব্যক্তি আল্লাহ করা কোন হারাম কাজকে হালাল করে এবং (৬) যে ব্যক্তি আমর সুন্নাত পরিত্যাগ করে।” তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٤) عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عَنْهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ تَكَلَّمَ فِي شَيْءٍ مِنْ الْقَدَرِ سُئِلَ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَمْ يَتَكَلَّمْ فِيهِ لَمْ يُسْأَلْ عَنْهُ.ابن ماجة: كتاب المقدمة باب في القدر(১৪) আয়েশা বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি, যে তাক্বদীর সম্পর্কে কিছু আলোচনা করবে, ক্বিয়ামতে তাকে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সে সম্পর্কে আলোচনা করবে না তাকে প্রশ্নও করা হবে না। তাহক্বীকু: যঈফ।

পৃষ্ঠা:০৯

(١٥) عَنْ عَلَى رَضى الله عَنْهُ قَالَ سَأَلت خديجة النَّبِيُّ ﷺ عَنْ وَلَدَيْنِ مَانَا لَهَا في الجاهلية فقالَ رَسُولُ الله هُمَا فِي النَّارِ قَالَ فَلَمَّا رَأَى الْكَرَاهِيَة في وجهها قَالَ لَوْ رَأيت مكانهما لأبعضتهما قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَوَلَدِي مِنْكَ قَالَ في الحنة قَالَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِنَّ الْمُؤْمِنِينَ وَأَوْلَادَهُمْ فِي الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمُشْرِكِينَ وَأَوْلَادَهُمْ فِي النَّارِ ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ الله : وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتَهُمْ درينَهُمْ بِإِيمَانَ الْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّاتِهِمْ.(১৫) আলী বলেন, একদিন খাদীজা জাহেলিয়াত যুগে তার যে দু’টি সন্তান মৃত্যুবরণ করেছিল তাদের সম্পর্কে নবী-কে জিজ্ঞেস করলেন, উত্তরে রাসূল বলেন, তারা উভয়ে জাহান্নামে রয়েছে। আলী বলেন, রাসূল যখন খাদিজার চেহারায় অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি বললেন, তুমি যদি দোযখে তাদের অবস্থান দেখতে, তবে নিশ্চয় তাদেরকে ঘৃণা করতে। অতঃপর খাদিজা জিজ্ঞেস করলেন, আপনার পক্ষের আমার যে সন্তান মারা গেছে তার অবস্থা কী? তিনি বললেন, সে জান্নাতে আছে। অতঃপর রাসূল বললেন, মুমিনগণ ও তাদের সন্তানগণ জান্নাতে থাকবে এবং কাফের, মুশরিক ও তাদের সন্তানরা থাকবে জাহান্নামে দোযখে। অতঃপর রাসূল কুরআনের এই আয়াত পাঠ করলেন, ‘যাহারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরা তাহাদের অনুসরণ করবে’।” তাহক্বীক্ব: যঈফ।(١٦) عَنْ أَبي بن كعب في قول الله عَزَّ وَجَلَّ وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظهورهم ذرياتهم وأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ الْآيَةَ قَالَ جَمَعَهُمْ فَجَعَلَهُمْ أَزْوَاحًا ثُمَّ صَوَّرَهُمْ فَاسْتَنطَقَهُمْ فَتَكَلَّمُوا ثُمَّ أَحَدَ عَلَيْهِمُ الْعَهْدَ وَالْمِيثَاقَ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أنفسهم الست بربكمْ قَالَ فَإِنِّي أَشْهدُ عَلَيْكُمُ السَّموات السبع وَالْأَرْضِين السبع وَأُشْهِدُ عَلَيْكُمْ أَبَاكُمْ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلام أَن تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَمْ تَعْلَمُ بِهَذَا اعْلَمُوا أَنَّهُ لَا إِلَهَ غَيْرِي وَلَا رَبَّ غَيْرِي فَلَا تُشْرِكُوا بِي شَيْئًا وَإِنِّي سَأُرْسِلُ إِلَيْكُمْ رُسُلِي يُذَكِّرُونَكُمْ عَهْدي وميثاقي وأُنْزِلُ عَلَيْكُمْ كُتبي قَالُوا شَهِدْنَا بِأَنَّكَ رَبُّنَا وَإِلَهُنَا لَا رَبَّ لَنَا غَيْرُكَ فَأَقَرُّوا بذلك وَرَفَعَ عَلَيْهِمْ آدَمَ يَنظُرُ إِلَيْهِمْ فَرَأَى الْغَنِيُّ وَالْفَقِيرَ

পৃষ্ঠা:১০

وحسن الصورة ودون ذلك فقال رب لولا سويت بين عبادك قال إني أحببت أن أشكر ورأى الأنبياء فيهم مثل السرح عَلَيْهِمُ النُّورُ حُصُوا بِمِيثَاقَ آخَرَ فِي الرسالة والنبوة وَهُوَ قَوْلُهُ تَعَالَى وَإِذْ أَخَذْنَا مِن النَّبيِّينَ مِيثَاقَهُمْ إلى قوله عيسى ابن مريم كَانَ فِي تِلْكَ الْأَرْوَاحِ فَأَرْسَلَهُ إِلَى مَرْيَمَ فَحَدَّثَ عَنْ أَبِي أَنَّهُ دَخَلَ مِنْ فِيهَا.(১৬) উবাই ইবনু কা’ব কা’ব আল্লাহ তা’আলার এই আয়াত- ‘যখন তোমার পরওয়ারদেগার আদম সন্তানদের পিঠ হতে তাদের সন্তানদের বের করলেন’ এর ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহ তা’আলা তাদের একত্রিত করলেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন রকম করে গড়তে ইচ্ছে করলেন। অতঃপর তাদের সেভাবে আকৃতি দান করলেন এবং তাদের কথা বলার শক্তি দিলেন। ফলে তারা কথা বলতে পারল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাদের নিকট হতে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করলেন এবং তাদেরকে নিজেদের সম্পর্কে সাক্ষী করলেন। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল, হ্যাঁ। অতঃপর আল্লাহ তায়াল বললেন, আমি তোমাদের একথার উপর সাত আসমান ও সাত যমীনকে সাক্ষী করছি এবং তোমাদের উপর তোমাদের পিতাকেও সাক্ষী করছি; তোমরা যেন কাল কিয়ামতের দিন এ কথা বলতে না পার যে, ইহা আমরা জানতাম না। তোমরা জেনে রাখ যে, আমি ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি ব্যতীত তোমাদের কোন প্রতিপালক নেই। সুতরাং তোমরা আমার সাথে কাউকে শরীক কর না। অতঃপর আমি তোমাদের প্রতি আমার রাসূলগণকে পাঠাব; তার তোমাদেরকে আমার এই অঙ্গীকার স্বরণ করে দিবে। এতদ্ব্যতীত আমি তোমাদের প্রতি আমার কিতাব নাযিল করব। তখন তারা বলল আমরা ঘোষণা করছি যে, নিশ্চয় তুমি আমাদের রব্ব ও আমাদের মা’বুদ, তুমি ব্যতীত আমাদের কোন রব্ব নেই তুমি ব্যতীত আমাদের কোন মা’বৃদ নেই। তারা ইহা স্বীকার করল। অতঃপর আদম (আঃ)-কে তাদের উপর উঠিয়ে ধরা হল, তিনি সকলকে দেখতে লাগলে। তিনি দেখলেন তার মধ্যে ধনী-দরিদ্র, সুন্দর-অসুন্দর সব রকম রয়েছে। তিনি বললেন আল্লাহ! যদি তুমি এদের সকলকে সমান করতে? আল্লাহ তা’আলা বললেন, এই ভেদের দরুন আমার কৃতজ্ঞতা করা হক, ইহা আমি চাই। এভাবে তিনি নবীগণকে দেখলেন, সকলের মধ্যে তারা চেরাগ, তাঁদের উপর আলো ঝলমল করছে। তাঁরা নবুঅত ও রিসালাত-এর কর্তব্য পালন সম্পর্কে বিশেষ অংগীকারেও আবদ্ধ হয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আমি যখন নবীদের নিকট হতে তাদের অংগীকার গ্রহণ করলাম ঈসা ইবনু মারইয়াম পর্যন্ত’। অতঃপর উবাই বলেন, সে সকল রূহের মধ্যে ঈসা (আঃ)-এর রূহও ছিল; আল্লাহ তা’আলা তা মারিয়াম

পৃষ্ঠা:১১

(আঃ)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। উবাই হতে এটাও বর্ণিত আছে যে, সে রূহ মারইয়াম (আঃ)-এর মুখ দিয়ে প্রবেশ করেছিল। তাহক্বীকু: যঈফ।(۱۷) عَنْ أَبي الدَّرْدَاء قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِندَ رَسُول الله ﷺ تَتَذَاكَرُ مَا يَكُونُ إِذْ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا سَمِعْتُمْ بِحَبْلٍ زَالَ عَنْ مَكَانِهِ فَصَدِّقُوا وَإِذَا سَمِعْتُمْ بِرَجُلٍ تَغَيَّرَ عَنْ خُلُقِهِ فَلَا تُصَدِّقُوا بِهِ وَإِنَّهُ يَصِيرُ إِلَى مَا حُمِلَ عَلَيْهِ(১৭) আবু দারদা বলেন, একদিন আমরা রাসূল-এর সাথে ছিলাম এবং দুনিয়াতে যা কিছু হচ্ছে সে সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন রাসূল বললেন, তোমরা যখন শুনবে যে, কোন পাহাড় তার জায়গা হতে ঢলে গেছে তা তোমরা বিশ্বাস করতে পার; কিন্তু যখন শুনবে কোন লোক তার (সৃষ্টিগত) সভাব হতে চলে গেছে, তা বিশ্বাস কর না। কারণ সে সেই দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে যার উপর তার সৃষ্টি হয়েছে।”তাহক্বীক্ব: যঈফ।”(۱۸) عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ لَا يَزَالُ يُصِيكَ كُلِّ عَامٍ وَجَعٌ مِنْ الشَّاةِ الْمَسْمُومة التي أكلت قَالَ مَا أَصَابَنِي شَيْءٌ مِنْهَا إِلَّا وَهُوَ مَكْتُوبٌ عَلَيَّ وَآدَمُ فِي طينته.ابن ماجة: كتاب الطب باب السحر(১৮) উম্মু সালামা হতে বর্ণিত, একদিন তিনি রাসূল-কে বললেন, হে আল্লহর রাসূল! আপনি যে বিষ মিশানো বকরীর গোশত খেয়েছিলে তা বরাবর প্রত্যেক বৎসরেই আপনাকে তার যন্ত্রণায় কষ্ট পান। তিনি বললেন, আমাকে উহার কোন কষ্ট পৌঁছেনা; কিন্তু কেবল তাই পৌঁছে যা আমার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। অথচ আদম তখন তার মৃত্তিকাতেই ছিলেন।” তাহক্বীক্ব: যঈফ।

পৃষ্ঠা:১২

অনুচ্ছেদ: কবরের আযাব 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۹) عن أبي سعيد قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ يُسَلِّطُ عَلَى الْكَافِر في قبره تسعة وَتَسْعُونَ تينا تنهشه وتَلْدَغُهُ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ وَلَوْ أَنْ تَنْيَنَا مِنْهَا نَفْخَفِي الْأَرْضِ مَا أَنْبَتَتْ حَضَرَاء. الترمذي: كتاب صفة القيامة والرقائق والورع باب منه(১৯) আবু সাঈদ বলেন, রাসূল বলেছেন, কাফেরের জন্য কবরে নিরানব্বইটি সাপ নির্ধারণ করা হয়। সেগুলো তাকে কিয়ামত পর্যন্ত কামড়াতে ও দংশন করতে থাকবে। যদি একটি সাপ যমীনে নিঃশ্বাস ফেলে, তাহলে যমীনে কখন তৃণ জন্মাবে না। তিরমিযীর বর্ণনায়, ৭০ টির কথা এসেছে।তাহক্বীক্ব: যঈফ।””

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۰) عَنْ جَابِرٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ إِلَى سَعْدِ بْنِ مُعَادَ حِينَ تُوُفِّيَ قَالَ فَلَمَّا صَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَوُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَسُوِّي عَلَيْهِ سَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ مسبحنا طويلًا ثُمَّ كَبَّرَ فَكَبَرْنَا فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهُ لَمَ سَبَّحْتَ ثُمَّ كَبَرْتَ قَالَلقَدْ تَضايق على هذا العبد الصالح قبره حَتَّى فَرَّحَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنْهُ.(২০) জাবের বলেন, সা’দ ইবনু মুআয যখন ইনন্তেকাল করেন, আমরা রাসূল-এর সাথে তাঁর জানাযায় হাজির হলাম। রাসূল কর্তৃক জানাযা পড়ার পর তাকে যখন তাকে যখন কবরে রাখা হল ও মাটি সমান করে দেওয়া হল, রাসূল সেখানে (দীর্ঘ সমায়) আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করলেন; আমরাও তাঁর সাথে দীর্ঘ সমায় তাসবীহ পাঠ করলাম। অতঃপর তিনি তাকবীর বললেন। আমরা ও (তাঁর সহিত) তাকবীর বললাম। এ সময় রাসূল জিজ্ঞাস করা হল; রাসূল কেন আপনে এরূপ তাসবীহ ও তাকবীর বললেন? রাসূল বললেনঃ এই নেক ব্যক্তির পক্ষে কবর অত্যন্ত সংর্কীণ

পৃষ্ঠা:১৩

হয়ে গিয়েছিল। (অতএব, আমি এরূপ করলাম,) এতে আল্লাহ তা’আলা তার কবরকে প্রশস্ত করে দিলেন। তাহক্বীক্ব: যঈফ। باب الاعتصام بالكتاب والسنة

কিতাব সুন্নাহকে দৃঢ় ভাবে আঁকড়ে ধরা

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۱) عَنْ رَبيعَة الْحُرَشِي قَالَ أَتى النبي ﷺ فَقِيلَ لَهُ لِتُمْ عَيْنَكَ وَلْتَسْمَعْ أُذُنَكَ وَلِيَعْقُلْ قلبكَ قَالَ فَنَامَتْ عَيْنِي وَسَمِعَتْ أَذْنَاى وَعَقَلَ قَلْبِي قَالَ فَقِيلَ لِي سَيِّدٌ بنى داراً فصنع مأدبة وَأَرْسَلَ دَاعِياً فَمَنْ أَجَابَ الدَّاعِي دَخَلَ الدَّارَ وَأَكَلَ مِنْ المادية ورضى عنه السيد ومَنْ لَمْ يُحب الداعي لَمْ يَدْخُلِ النَّارَ وَلَمْ يَطْعَمُ مِنَ المادية وسخط عَلَيْهِ السَّيِّدُ قَالَ فَاللَّهُ السَّيِّدُ وَمُحَمَّدٌ الدَّاعِي وَالدَّارُ الإِسْلَامُ وَالْمَأْذَيَةُ الْجَنَّةُ.(২১) রবী’আ জুরাশী বলেন, নবী কারীম-এর নিকট কতক ফেরেশ্তা আসল এবং কে বললেন, আপনার চোখ ঘুমাতে থাক, আপনার কান শুনতে থাক, আপনা অন্তর বুঝতে থাক। নবী বললেন, অতঃপর আমার চোখ দুটি ঘুমাল, আমার কান দুটি শুনল, আমার অন্তর বুঝল। তিনি বলেন, তখন আমাকে বলা হল- একজন মহৎ ব্যক্তি ঘর তৈরী করলেন এবং উহাতে যিয়াফতে আয়োজন করলেন। অতঃপর একজন আহ্বানকারী পাঠলেন। তখন যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল, সে ঘরে প্রবেশ করতে পারল, খাইতে পারল। আর মালিকও তার প্রতি সন্তুষ্ট হল। পক্ষান্তরে যে, ব্যক্তি আহ্বানে সাড়া দিল না সে ঘবে প্রবেশ করতে পারল না খেতেও পারলনা এরং মালিক তার প্রতি অসন্তুষ্ট হল। অতঃপর ফেরেশতা বললেন, মালিক হল আল্লাহ, আহ্বানকারী মুহাম্মাদ, ঘর হল ইসলাম এবং যেয়াফত হল বেহেশত।** তাহক্বীক্ব: যঈফ। (۲۲) عن العرباض بن سارية قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ أَيَحْسَبُ أَحَدُكُمْمتكنا على أريكته يظن أن الله لَمْ يُحَرِّمُ شَيْئًا إِلَّا مَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ أَنَا وَإِنِّي وَاللَّهِ قَدْ وَعَظْتُ وَأَمَرْتُ ونهيت عن أشياء إنها لمثلُ الْقُرْآنِ أَوْ أَكْثَرُ وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يُحِلُّ لَكُمْ أَن تَدْخُلُوا بُيُوتَ أهل الكتاب إلا بإذن وَلَا ضَرْبَ نِسَائِهِمْ وَلَا أَكلثمارِهِمْ إِذَا أَعْطُوكُمُ الَّذِي عَلَيْهِمْ.أبو داود: كتاب الخراج والإمارة والفر، باب في العشر أَهْلِ الذَّمَّةِ إِذَا اخْتَلَفُوا بِالنَّجارات(২২) ইরবায ইবনু রাবিয়া বলেন, একদিন রাসূল (আমাদের মধ্যে) দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার গদিতে ঠেস দিয়ে একথা মনে করে যে, আল্লাহ যাহা এই কুরআনে হারাম করেছেন তা ব্যতীত আর কিছুই হারাম করেনি। তোমরা জেনে রাখ, আমি কসম করে বলছি; নিশ্চয় আমি তোমাদের অনেক বিষয় আদেশ দিয়েছি; উপদেশ দিয়েছি এবং অনেক বিষয় নিষেধও করেছি। আমার এরূপ বিষয়ও নিশ্চয় কুরআনের বিষয়ের সমান; বরং তা হতেও অধিক হবে। তোমরা মনে রাখবে যে, অনুমতি ব্যতীত আহলে কিতাব যিম্মিদের বসত ঘরে প্রবেশ করা, তাদের নারীদের প্রহার করা এবং তাদের ফল শস্য খাওয়াকেও তোমাদের জন্য হালাল করেনিম। যদি তারা তাদের উপর নির্ধারিত কর আদায় করে দেয়। (অথচ এসব বিষয় কুরআনে নেই আমার মারফত আল্লাহ হারাম করেছেন)। তাহক্বীক্ব: যঈফ।(۲۳) عن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما حثت به.(২৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, রাসূল বলেছেন, কোন ব্যক্তি মুমিন হতে পারে না, যে পর্যন্ত না তার প্রবৃত্তি আমি যা এনেছি তার অধীন না হয়।” তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٢٤) عَنْ بلال بن الحارث الْمُرَنِى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ أَحْيَا سُنَّةٌ مِنْسننِي قَدْ أُمِينَت بَعْدِي فَإِنَّ لَهُ مِنَ الآخر مثلَ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصُ مِنْ

পৃষ্ঠা:১৪

أحورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ ابْتَدَعَ بِدْعَة ضَلَالَةٍ لَا يَرْضَهَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِمثل أَيَّامٍ مَنْ عَمِلَ بِهَا لا يَنقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَوْزارهم شَيْئًا.الترمذي: كتاب العلم باب ما جاء في الأحد بالسنة واجتناب البدع، ابن ماجة: كتابالمقدمة باب من أحيا سنة قد أمينت (২৪) বেলাল ইবনু হারেছ মুযানী বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতসমূহ হতে এমন সুন্নাত যিন্দা করেছে, যা আমার পর পরিত্যক্ত হয়ে ছিল, তার জন্য সে সকল লোকের ছওয়াবের পরিমাণ ছওয়াব রয়েছে, যারা ইহা আমল করবে, অথচ ইহা তাদের ছওয়াবের কোন অংশ হ্রাস করবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গোমরাহীর নতুন পথ সৃষ্টি করেছে, যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল রাজী নন, তাতে সে সকল লোকের গোনার পরিমাণ গুনাহ রয়েছে, যারা উহার সাথে আমল করবে, অথচ উহা তাদের গোনাহর কোন অংশ হ্রাস করবে না। তাহক্বীকু: যঈফ।(٢٥) عن عمرو بن عَوْفِ قَالَ قَالَ رَسُولَ الله ﷺ إِنَّ الدِّينَ لَيَأْرِزُ إِلَى الْحِجَارِ كَمَا تَأْرِرُ الْحَبَّةُ إِلَى حُجْرهَا وَلَيَعْقَلَنَّ الدِّين من الحجاز مَعْقِلَ الْأَرْوِيَّةِ مِنْ رَأْسِ الْحَبْلِ إِنَّ الدِّينَ بَدَأَ غَرِيبًا فَطُوبَى لِلْغُرْبَاءِ الَّذِينَ يُصْلِحُونَ مَا أَفْسَدَ النَّاسُ مِنْ بَعْدِي مِنْ مُنتِي.الترمذي: كتاب الإيمان باب ما جاء أَنَّ الْإِسْلامَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا(২৫) আমর ইবনু আওফ বলেন, রাসূল বলেছেনঃ দ্বীন হেজাজের দিকে ফিরে আসবে যে ভাবে সাপ (অবষেশে) তার গর্তের দিকে ফিরে আসে এবং দ্বীন হেজাযে আশ্রয় নেবে যেভাবে পাবর্ত্য মেষ পবর্ত শিখরে আশ্রয় নেয়। দ্বীন নিঃসঙ্গ প্রবারি ন্যায় যাত্রা শুরু করেছে, আবার প্রত্যাবর্তন করবে যে ভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। অতএব সে সকল প্রবাসির জন্য খোশখবর বয়েছে; তারা সে সকল লোক, যারা আমার পর মানুষ যেসকল সুন্নাতকে নষ্ট করে দিয়েছে সেসকলকে পুনঃ ঠিক করে লয়। তাহক্বীক্ব: যঈফ। 

পৃষ্ঠা:১৫

(٢٦) عن أنس بن مالك قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ الله ﷺ يَا بُنَيَّ إِنْ قَدَرْتَ أَنْ تُصْبِحُ وتمسي ليس في قلبك عن الأحد فَافْعَلْ ثُمَّ قَالَ يَا بُنَيَّ وَذَلكَ مِنْ مُنتَى وَمَنْ أَحَبَّ سُنتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ.الترمذي: كتاب العلم باب ما جاء في الأخذ بالله واجتناب البدع(২৬) আনাস বলেন, একদিন রাসূল আমাকে বললেন, হে বৎস! তুমি যদি এরূপে সকাল-সন্ধা কাটাতে পার যে, তোমার অন্তরে কারো জন্য হিংসা-বিদ্বেষ নেই, তবে তাই কর। অতঃপর রাসূল বললে; বাবা। ইহা তোমার সুন্নাতের অন্তর্গত এবং যে আমার সুন্নাত কে ভালবাসে সে আমাকে ভালবাসে, আর যে আমাকে ভালবাসিবে সে জান্নাতে আমার সহিত থাকবে।”” তাহক্বীকু: যঈফ।(۲۷) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله ﷺ : ” من تمسكبستني عند فساد أمني فله أحر مائة شهيد.(২৭) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি বিভ্রান্তির সময়আমার উম্মত আমার সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশত শহীদের ছওয়াব রয়েছে। তাহক্বীক্ব: যঈফ।(۲۸) عن أبي سعيد الْخُدْرِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ أَكَلَ طَيِّبًا وَعَمِلَ فِي سنة وأمِنَ النَّاسُ بَوَائِقَهُ دَخلَ الْجَنَّةَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا الْيَوْمَ فِيالناس لكثير قَالَ وَسَيَكُونُ فِي قُرُونَ بَعْدِي.الترمذي: كتاب صفة القيامة والرقائق والورع باب منه(২৮) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল খাবে এবং সুন্নাতের সহিত আমল করবে এবং যার অনিষ্ট হতে লোক নিরাপদ থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর

পৃষ্ঠা:১৬

রাসূল এরূপ লোকতো আজকাল অনেক। রাসূল বললেন, আমার পরবর্তী যুগে সমূহেও এরূপ লোক থাকবে। তাহক্বীক্ব: যঈফ।(۲۹) عن أبي هريرة قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِنَّكُمْ فِي زَمَانَ مَنْ تَرَكَ مِنْكُمْ عشر ما أمر به هَلَكَ ثُمَّ يَأْتِي زَمَانٌ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ يعشر ما أمر به نجا.الترمذي: كتاب الفتن باب ما جاء في النهي عن سب الرياح(২৯) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমরা এমন যামানায়। আছ, যে যামানা তোমাদের কেউ যদি তার প্রতি নির্দেশিত বিষয়ের এক দশমাংশের সাথেও আমল করে সে মুক্তি পাবে। ৬৪ তাহক্বীক্ব: যঈফ।(۳۰) عن أنس بن مالك أَن رَسُولَ الله ﷺ كَانَ يَقُوْلُ لَا تُشَدِّدُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ فَيُشَدَّدَ عَلَيْكُمْ فَإِن قَوْمًا شَدَّدُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ فَشَدَّدَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ فَتِلْكَ بَقَايَاهُمْ فِي الصوامع والديار ورهْبَانِيَّةٌ ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ. ابوداود: كتاب الأدب باب في الحمد(৩০) আনাস হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল এরূপ বলে থাকেন, (ইচ্ছা করে) নিজের উপর কঠোরতা এনো না; পরে আল্লাহ তোমার উপর কঠোর বিধান চাপিয়ে দেন। অতীতে একটি কাওম নিজেদের জন্য কঠোরতা এখতিয়ার করেছিল; ফলে আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর কঠোর বিধান চাপিয়ে দিলেন; গির্জায় ও পাদ্রীদের ধর্মশালায় এই যে লোকগুলো আছে, এরা তাদের উত্তরাধীকারী। (কুরআনে আছে) তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য ‘রাহবানিয়াত’ কে আবিস্কার করেছিল, যাহা আমি তাদের উপর বিধান করিনি। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

পৃষ্ঠা:১৭

(۳۱) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله ﷺ نزل القرآن على خمسة أوجه حلال وحرام ومحكم ومتشابه وأمثال فأحلوا الحلال وحرموا الحرام واعملوا بالمحكم وأمنوا بالمتشابه واعتبروا بالأمثال هذا لفظ المصابيح وروى البيهقي في شعب الإيمان ولفظه فاعملوا بالحلال واجتنبوا الحرام واتبعوا المحكم.(৩১) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, কুরআন পাঁচভাবে নাযিল হয়েছে-১. হালাল (সম্বলিত) ২. হারাম (সম্বলিত) ৩. মোহ্কাম ৪. মোতাশাবেহ্ এবং ৫. আমছাল (উপদেশপূর্ণ কাহিনী)। সুতরাং তোমরা হালাল কে হালাল জানবে, হারাম কে হারাম মনে করবে। মোতাশাবেহের সহিত ঈমান আনবে এবং আমছাল দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করবে। শোআবুল ঈমানে (সামান্য পার্থক্য আছে) তোমরা হালালের সহিত আমল করবে, হারাম হতে বেচে থাকবে এবং মোহকামের অনুসরণ করবে। তাহক্বীক্ব: যঈফ।(۳۲) عن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ الأمر ثلاثة أمر بين رشده فاتبعه وأمر بين فيه فاجتنبه وأمر اختلف فيه فكله إلى الله عز وجل.(৩২) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, শরী’আতের বিষয় তিন প্রকারঃ (১) যার হেদায়াত সম্পূর্ণ পরিষ্কার, সুতরাং তার অনুসরণ করবে (২) যার গোমরাহী সম্পূর্ণ পরিষ্কার, সুতরাং তা পরিহার করবে এবং (৩) যাতে মতানৈক্য রয়েছে। তাকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করবে। তাহক্বীক্ব: যঈফ। লেখক মুসানাদে আহমাদের উদ্ধৃতি পেশ করলেও তা পাওয়া যায়নি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۳) عَنْ مُعاذ بن جبل عَنْ رَسُول الله ﷺ إن الشيطان طلب الإنسان كذاب العلم يأخذ الشاةَ الْقَاصِيَةُ وَالنَّاحِيَةِ وَإِيَّاكُمْ وَالشَّعَابَ وَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ وَالْعَامَّةِ.

পৃষ্ঠা:১৮

(৩৩) মু’আয ইবনু জাবাল বলেন, রাসূল বলেছেন, শয়তান মানুষের নেকড়ে বাঘ- মেষপালের নেকড়ে বাঘের ন্যায়, সে মেষপাল মধ্যে যেটি দল হতে পৃথক থাকে বা যেটি খাদ্যের অন্বেষণে দূরে সরে যায় অথবা যেটি অলসতাবসত এক কিনারায় পড়ে থাকে, সেটিকেই নিয়ে যায়। সুতরাং সাবধান! তোমরা কখনও গিরি পথে যাবে না, আর জামাআ’তের সাথে থাকবে।” তাহক্বীকু: যঈফ।(٣٤) عَنْ غُضَيْفَ بْنِ الْحَارِثِ الثَّمَالِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ مَا أَحْدَثَ قَوْمٌ بِدْعَةً إِلَّا رَفَعَ مِثْلُهَا مِنَ السُّنَّةِ فَتَمَسُّكَ بِسُنَّةِ خَيْرٌ مِنْ إِحْدَاثَ بِدْعَة.(৩৪) গুযাইফ ইবনুল হারেছ ছুমালী বলেন, রাসূল বলেছেন, যখনই কোন সম্প্রদায় একটি বিদ’আত সৃষ্টি করেছে, তখনি একটি সুন্নাত লোপ পেয়েছে। সুতরাং একটি সুন্নতের সাথে আমল করা একটি বিদ’আত সৃষ্টি করা হতে উত্তম। তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٣٥) عن إبراهيم بن ميسرة قال قال رسول الله ﷺ من وقر صاحب بدعة فقدأعان على هدم الإسلام.(৩৫) ইবরাহীম ইবনু মায়সারা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন বিদআতীকে সম্মান দেখাল, সে নিশ্চয় ইসলামের ধ্বংস সাধনে সাহায্য করল।  তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٣٦) عن ابن عباس قال من تعلم كتاب الله ثم ابتع ما فيه هداه الله من الضلالة في الدنيا ووقاه يوم القيامة سوء الحساب وفي رواية قال من اقتدى بكتاب الله لا يضل في الدنيا ولا يشقى في الآخرة ثم تلا هذه الآية فمن اتبع هداي فلا يضل ولا يشقى.

পৃষ্ঠা:১৯

(৩৬) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, যে আল্লাহ কিতাব শিক্ষা করেছে, অতঃপর উহাতে যা আছে তার অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাকে দুনিয়ার গোমরাহী হতে বাঁচিয়ে রাখবেন এবং আখেরাতে তাকে হিসাবের কষ্ট হতে রক্ষা করবেন। অন্য বর্ণনায় আছে, যে আল্লাহ কিতাবের অনুসরণ করবে, সে দুনিয়াতে গোমরাহ্ হবে না এবং আখেরাতে হতভাগ্য হবে না।” তাহক্বীক্ব: যঈফ।”(۳۷) عن ابن مسعود قال من كان مستنا فليسن بمن قد مات فإن الحي لا تؤمن عليه الفتنة أولئك أصحاب محمد كانوا أفضل هذه الأمة أبرها قلوبا وأعمقها علما وأقلها تكلفا اختارهم الله لصحبة نبيه ولإقامة دينه فاعرفوا لهم فضلهم واتبعوهم على آثارهم وتمسكوا بما استطعتم من أخلاقهم وسيرهم فإنهمكانوا على الحدى المستقيم(৩৭) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, যে ব্যক্তি কারো তরিকা অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের তরীকা অনুসরণ করে যারা দুনিয়া থেকে চলে গেছে। কেননা, জীবিত ব্যক্তি ফিতনা হতে নিরাপদ নই। তাঁরা হচ্ছে রাসূল -এর সাহাবীগণ, যাঁরা এই উম্মতের শ্রেষ্টতম লোক ছিলেন। পরিচ্ছন্ন অন্ত ঃকরণ হিসাবে ও পরিপূর্ণ জ্ঞান হিসাবে এবং স্বল্পতম ছিলেন কৃত্রিমতার দিক থেকে। আল্লাহ তা’আলা তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্য এবং আপন দ্বীন প্রতিষ্টিত করার জন্য মেেনহীত করেছেন। সুতরাং তোমরা তাদের ফযিলত ও মর্যাদা উপলব্ধি করার চেষ্টা কর, তাঁদের পদচিহ্নের অনুসরণ করে চল এবং যথাসাধ্য তাঁদের আখলাক ও চরিত্র আঁকড়ে ধর। কেননা, তারা সরল সঠিক পথে ছিলেন।তাহক্বীক্ব: যঈফ।” ৮০ (۳۸) عن جابر قال قال رسول الله ﷺ كلامي لا ينسخ كلام الله وكلام اللهينسخ كلامي وكلام الله ينسخ بعضه بعضا.

পৃষ্ঠা:২০

(৩৮) জাবের বলেন, রাসূল বলেছেন, আমার কালাম আল্লাহ কালাম কে রহিত করে না; বরং আল্লহর কালাম আমার কালামকে রহিত করে। এছাড়া আল্লহর এক কালাম আপরা কালাম কে রহিত করে।” তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল।(۳۹) عن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ إن أحاديثنا ينسخ بعضها بعضاكنسخ القرآ.(৩৯) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, আমাদের কালামসমহের একটি অপরটিকে রহিত (মানসূখ) করে দেয়, যে ভাবে কুরআনে একটি বাণী অপর একটিকে রহিত (মানসূখ) করে।”” তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল।(٤٠) عَنْ أَبِي تَعْلَبَةَ الخشني قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ فَرَائِضَ فَلَا تضيعوها وحرم حرمات فلا تنتهكوها ، وحَدَّ حُدُودًا فَلَا تَعْتَدُوهَا، وَسَكَتَ عَنْأشياء مِنْ غَيْرِ نسيان فلا تبحثوا عنها.(৪০) আবু ছালাবা খুশানী বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা কতক জিনিষকে ফরযরূপে নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেগুলোকে ছাড়বে না। এভাবে কতক বিষয়কে হারাম করে দিয়েছেন সেগুলোকে করবেনা। আর কতগুলোকে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, ঐ গুলিকে লঙ্ঘন করবে না। আর কতগুলি বিষয়ে তিনি ভুলে নয় ইচ্ছাভাবে তিনি নীরব রয়েছেন, সে সকল বিষয় খুঁড়িয়ে যাবে না। তাহক্বীকু: যঈফ।

পৃষ্ঠা ২১ থেকে ৪০

পৃষ্ঠা:২১

ইলম অধ্যয় 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤١) عن أبي سعيد الْخُدْرِي قَالَ قَالَ رَسُول الله ﷺ إِنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعُ وَإِنْ رِجَالًا يَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الأَرْضِينَ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ فَإِذَا أَتَوكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا. الترمذي: كتاب العلم باب ما جاء في الاستيضاء بمن طلب العلم(৪১) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, একদা রাসূল আমদের বললেন, (আমার পর) লোক তোমাদের অনুসরণকারী হবে। আর দিকদিগন্ত হতে লোক তোমাদের নিকট দ্বীনের জ্ঞান লাভ করার উদ্দেশ্যে আসবে। সুতরাং যখন তারা তোমাদের নিকট আসবে তখন তোমরা তাদের সদুপদেশ দিবে।”

তাহক্বীক্ব: যঈফ।”(٤٢) عن أبي هريرة قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ الْكَلِمَةُ الْحِكْمَةُ صَالَةُ الْمُؤْمِنِفَحَيْتْ وَحَدَهَا فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا.الترمذي: كتاب العلم باب ما جاء في فضل الفقه على العبادة ابن ماجة : كتاب الزهد باب الحكمة(৪২) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর হারান ধন। সুতরাং যেখানে যার নিকটে তা পাবে সে-ই তার অধিকারী। তাহক্বীক্ব: যঈফ।( ٤٣) عن ابن عباس قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ فقيه واحدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلف عابد.الترمذي: كتاب العلم باب ما جاء في فضل الفقه على العبادة ابن ماجة : كتاب المقدمة باب فضلالْعُنِّسَاءِ وَالْحَتْ عَلَى طلب العلم(৪৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, একজন ফক্বীহ শয়তানের পক্ষে এক হাযার আবেদ অপেক্ষাও মারাত্মক।” তাহক্বীকু: হাদীছটি জাল।

পৃষ্ঠা:২২

(٤٤) عن أنس بن مالك قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مسلم وواضع العلم عند غَيْرِ أَهْلِهِ كمقلد الْخَنَازِيرِ الْحَوْهَرَ وَاللُّؤْلُوَ وَالذَّهَبَ. رواه ابن ماجه وروى البيهقي في شعب الايمان إلى قوله مسلم ، وقال : هذاحديث متنه مشهور وإسناده ضعيف وقد روي من أوجه كلها ضعيف. ابن ماجة : كتاب المقدمة باب فضل الْعَلَمَاءِ وَالْحَقِّ عَلَى طلب العلم(৪৪) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, ইলম তালাশ করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয এবং অপাত্রে ইলম স্থাপনকারী যেন শূকরের গলায় জহরত, মুক্তা বা স্বর্ণ স্থাপনকারী। তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٤٥) عَنْ سَحْبَرَة عن النبي ﷺ قَالَ مَنْ طَلبَ الْعِلْمَ كَانَ كَفَّارَةً لِمَا مَضَى.الترمذي: كتاب العلم باب فضل طلب العلم (৪৫) সাখবারা আযদী বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম তালাশ করবে তার জন্য উহা পূর্ববর্তী পাপ সমূহের কাফফারা হয়ে যাবে। তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল। (٤٦) عن أبي سَعِيدٍ الْخُدْرِي عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ لَنْ يَسْبَعَ الْمُؤْمِنُ مِنْ خَيْرٍيَسْمَعُهُ حَتَّى يَكُونَ مُنْتَهَاهُ الْجَنَّةُ.الترمذي: كتاب العلم باب ما جاءَ فِي فَضْلِ الْفِقْهِ عَلَى الْعِبَادَة.(৪৬) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, মুমিন কখনও ইলম শ্রবণে তৃপ্তি লাভ করে না যে পর্যন্ত না তার পরিণামে জান্নাত না পায়।** তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٤٧) عَنْ ابْنِ عَبَّاسِ عن النبي ﷺ قَالَ اتَّقُوا الحَدِيث عَلَى إِلَّا مَا عَلِمْتُمْ فَمَنْ كلبَ عَلَى مُتعمدا فليتبوأ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَأيهِ فَلْيَتَبوا

পৃষ্ঠা:২৩

مقعده من النار. ورواه ابن ماجه عن ابن مسعود وجابر ولم يذكر اتقواالحديث عني إلا ما علمتم.الترمذة : كتاب تفسير القرآن باب ما جاءَ فِي الَّذِي يُفسر القرآن برأيه(৪৭) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, আমার পক্ষ হতে হাদীছ বর্ণনার ব্যাপারে সতর্ক হবে, যে পর্যন্ত না তোমরা তা আমার বলে জানবে। কেননা, যে ব্যক্তি আমার প্রতি ইচ্ছাকৃক মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন তার স্থান জাহান্নামে করে নেয়। তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٤٨) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ قَالَ فِي القرآن برأيه فليتبوأ مقعده و في رواية من النَّارِ مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِغَيْرِ عِلْمٍفَلْيَتَوا مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ.الترمذي: كتاب تفسير القرآن باب ما جاءَ فِي الَّذِي يُفسر القرآن برأيه (৪৮) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে নিজের মন মত কোন কথা বলেছে, সে যেন তার স্থান জাহান্নামে তৈরী করে নেয়।১০১ তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٤٩) عَنْ جُنْدَبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ برأيهفَأَصَابَ فَقَدْ أَخطاً.الترمذي: كتاب تفسير القرآن باب ما جاء في الذي يفسر القرآن برأيه ابو داود كتاب العلم باب الكلام في كتاب الله بغير علم(৪৯) জুন্দুব বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআনের নিজের মতে কোন কথা বলেছে আর তাতে সে সত্যেও উপনীত হয়েছে, তথাপি সে নিশ্চই ভুল করেছে।১০০ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০৪

পৃষ্ঠা:২৪

(٥٠) عن بن مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ أنزل القرآن على سبعة أحرف لكل آية منها ظهر وبطن و لكل حد مطلع رواه في شرح السنة.(৫০) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, রাসূল বলেছেন, কুরআন সাত হরফে নাযিল হয়েছে। তার প্রত্যেক আয়াতের একটি বাইরের ও একটি ভিতর দিক রয়েছে। প্রত্যেক দিকেরই একটি হদ রয়েছে, আর প্রত্যেক হদেরই একটি অবগতি স্থান রয়েছে। ১০০ তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٥١) عَنْ عبد الله بن عمرو قَالَ قَالَ رَسُولَ الله ﷺ الْعِلْمُ ثَلَاثَةٌ آيَةٌ مُحْكَمَةٌ أَوْ سنة قائمة أَوْ فَرِيضَةً عادلةٌ وَمَا كَانَ سَوَى ذَلِكَ فَهُوَ فَضْلٌأبوداود: كتاب الفرائض باب ما جاء في تعليم الفرائض، ابن ماجة : كتاب المقدمة باب اجتناب الرأي والقياس(৫১) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, রাসূল বলেছেন, ইলম তিন ধরনের। মুহকাম আয়াত, প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত, ফরয আদেল। এর বাহিরে যা রয়েছে তা অতিরিক্ত। ১০৭ তাহক্বীক্ব: যঈফ।ورواه الدارمي عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده وفي روايته بدل أو مختال. আমর ইবনু শু’আইব তার পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, সেখানে মুখতাল শব্দের পরিবর্তে মুরা শব্দ রয়েছে। তাহক্বীক্ব: উক্ত মর্মে শব্দটি যঈফ।(٥٢) عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ نَهَى عَنْ الْخُلُوطَاتِ.ابوداؤد: کتاب العلم باب التوقي في الدنيا(৫২) মু’আবিয়া বলেন, নবী করীম বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কথা বলতে নিষেধ করেছেন।১০৯ তাহক্বীক্ব: যঈফ।১৯০

পৃষ্ঠা:২৫

(٥٣) عن أبي هريرةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ وَالْفَرَائِضَ وَعَلِّمُواالنَّاسَ فَإلى مقبوض.الترمذي: كتاب الفرائضقال أبو عيسى هذا حديث فيه اضطراب وروى أَبُو أَسَامَةً هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَوْفِ عَنْ رَجُلٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ حَدَّثَنَا . بذلك الْحُسَيْنُ بن حُرَيْث أخبرنا أبو أسامَةَ عَنْ عَوْفَ بِهَذَا بِمَعْنَاهُ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الأَسدِيُّ قَدْ ضَعْفَهُ أَحْمَدُ بْنُ حَبْلٍ وَغَيْرُهُ.(৫৩) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমরা ফারায়েয ও কুরআন শিক্ষা কর এবং লোকদের ইহা শিক্ষা দিতে থাক। কেননা, অতঃপর আমাকে উঠিয়ে নেওয়া হবে। ১১১ তাহক্বীক্ব: যঈফ।১১২(٥٤) عن أبي هريرة رواية يوشك أن يضرب النَّاسُ أَكْبَادَ الإبل يُطلبُونَ الْعَلم فَلا يَجِدُونَ أَحَدًا أَعْلَمَ مَنْ عَالم المَدِينَةِ. قَالَ ابْن عُبَيْنَةَ إِنَّهُ مَالَكَ مِنْ أَنسَ وَ مَثْلَهُ عن عبدر الرزاق قَالَ إِسْحَق بن مُوسَى سَمِعْتُ ابْنَ عُبَيْنَة أَنه قَالَ هُوَ الْعُمَرِيُّالزاهد وَاسْمُهُ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْن عَبْدِ الله(৫৪) আবু হুরায়রা রাসূল হতে বর্ণনা করেন যে, এমন সময় সমাগত প্রায় মানুষ ইলমের তালাশে দুনিয় ঘুরে বেড়াবে, কিন্তু কোথাও মদীনার আলেমের অপেক্ষা অধিক বিজ্ঞ আলেম পাবেনা।’ ১১০

তাহক্বীকু: যঈফ। ১১৪

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٥) عَنِ الْحَسَنِ مُرْسَلاً قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ حَاءَهُ الْمَوْتُ وَهُوَ يَطْلُبُ العلم ليحيى به الإسلام فبينه وبين النَّبِيِّينَ دَرَجَةً وَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ.(৫৫) হাসান বছরী (রহঃ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল বলেছেন, যার মৃত্যু এসে গেছে এমন অবস্থায়, যখন সে ইসলামকে জিন্দা

পৃষ্ঠা:২৬

করার উদ্দেশ্যে ইলম তালাশে মশগুল আছে, বেহেশতে তার ও নবীদের মধ্যে মাত্র এক ধাপের পার্থক্য থাকবে। ১১০ তাহক্বীকু: যঈফ।১৯৬(٥٦) عن علي رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ نعم الرجل الفقيه في الدين إن احتيج إليه نفع وإن استغني عنه أغنى نفسه رواه رزين. (৫৬) আলী বলেন, রাসূল বলেছেন, দ্বীনের আলেম কি উত্তম লোক! যদি তাঁর প্রতি লোক মুহতাজ হয় তিনি তাদের উপকার সাধন করেন; আর যখন তাঁর প্রতি লোকের কোন আবশ্যকতা থাকে না তখন তিনি নিজকে নিরপেক্ষ করে রাখেন।১১৭ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল। ১১৮ (٥٧) عَنْ وَائِلة بن الأسقع قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ فَأَدْرَكَهُ كَانَ لَهُ كَفَلانَ مِنَ الأَجْرِ فَإِنْ لَمْ يُدْرِكْهُ كَانَ لَهُ كَفْلَ مِنَ الآخر. (৫৭) ওয়াছেলা ইবনু আসত্ত্বা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম তালাশ করেছে এবং তা লাভ করতে পেরেছে, তার জন্য দুই গুণ ছওয়াব রয়েছে। আর যদি তা লাভ করতে না পারে, তাহলে তার জন্য একগুণ ছওয়াব রয়েছে। ১১৯ তাহক্বীক্ব: যঈফ।১৯ (٥٨) عَنِ ابْنِ عَبَّاس قَالَ تَدَارُسُ الْعِلْمِ سَاعَةً مِنَ اللَّيْلِ خَيْرٌ مِنْ إِحْيَاتِهَا. (৫৮) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাতের কিছু সময় ইলমের আলোচনা করা পূর্ণ রাত্রি জাগরণ অপেক্ষা উত্তম।১৭১

পৃষ্ঠা:২৭

(٥٩) عن عبد الله بن عمرو أن رَسُول الله ﷺ من بمجلسين في مسجده فقال كلاهُمَا عَلَى خَيْر وَأَحدهما أفضل من صاحبه أما هَؤُلاء فَيَدْعُونَ اللَّهَ وَيُرْغَبُونَ إِلَيْهِ فَإِنْ شَاءَ أَعْطَاهُمْ وَإِنْ شَاء مَعَهُمْ وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَتَعَلَّمُونَ الْفَقْةَ وَالْعِلْمَ ويُعَلِّمُونَ الْجَاهِلِ فَهُمْ أَفْضَلُ وَإِنَّمَا يُعَلِّتُ مُعَلِّمَا قَالَ ثُمَّ جَلَسَ فِيهِمْ. (৫৯) আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর বলেন, একদিন রাসূল তাঁর মসজিদে দুইটি মজলিসের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন রাসূল বললেন, উভয় মজলিসই ভাল কাজে আছে; তবে এক মজলিস অন্য মজলিস অপেক্ষা উত্তম। এই যে দলটি এরা অবশ্য আল্লাহ ডাকছে এবং আল্লাহর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের আশা পূর্ণও করতে পারেন আর ইচ্ছা করলে নাও করতে পারেন। কিন্তু এই যে (অপর) দলটি, তারা ইলম শিক্ষা করছে এবং যারা জানে না তাদের শিক্ষা দিচ্ছে: এরাই উত্তম। আর আমিও শিক্ষক হিসাবেই প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর রাসূল এই দলের সাথে বসে গেলেন। ১২০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১৯৪ (٦٠) عن أبي الدرداء قال مثل رسول الله ﷺ ما حد العلم الذي إذا بلغه الرجل كان فقيها ؟ فقال رسول الله ﷺ من حفظ على أمني أربعين حديثا في بعثه الله فقيها وكنت له يوم القيامة شافعا وشهيدا. أمر دينها (৬০) আবু দারদা বলেন, রাসূলকে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! ইলমের কোন সীমায় পৌঁছলে এক ব্যক্তি ফক্বীহ হতে পারে? উত্তরে রাসূল বললেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনের ব্যাপারে ৪০টি হাদীছ মুখস্থ করেছে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ফক্বীহরূপে ১২৫ উঠাবেন। এছাড়া কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী ও সাক্ষী হব। তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল। ১২৬ (٦١) عن أنس بن مالك قال قال رسول الله ﷺ هل تدرون من أجود جودا ؟ قالوا الله ورسوله أعلم قال الله تعالى أجود جودا ثم أنا أجود بني آدم وأجودهم من بعدي رجل علم علما فنشره يأتي يوم القيامة أميرا وحده أو قال أمة وحده.

পৃষ্ঠা:২৮

(৬১) আনাস ইবনু মালেক বলেন, রাসূল একদিন আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি বলতে পার দানের দিক দিয়ে সর্বাপেক্ষা বড় দাতা কে? ছাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশী জানেন। রাসূল বললেন, দানের দিক দিয়ে আল্লাহই হচ্ছেন সর্বাপেক্ষা বড়। অতঃপর বনী আদমের মধ্যে আমিই সর্বাপেক্ষা বড় দাতা। আর আমার পর বড় দাতা হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যে ইলম শিক্ষা করবে এবং উহ্য করতে থাকবে; কিয়ামতের দিন সে একাই একজন আমীর অথবা একটি উম্মত হয়ে উঠবে। ১২৭ তাহক্বীত্ব: যঈফ। (٦٢) عَنْ عَوْنٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَنْهُومَان لَا يَشْبَعَانِ صَاحِبُ الْعِلْمِ وَصَاحِبُ الدُّنْيَا وَلا يستويان أما صاحب العلم فيزداد رضا لِلرَّحْمَنِ وَأَمَّا صَاحِبُ الدُّنْيَا فَيَتَمَادَى فِي الطَّغْيَانِ ثُمَّ قَرَأَ عَبْدُ الله كلاً إِنَّ الإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى قَالَ وقَالَ الآخَرُ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء. (৬২) আওন (রহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেছেন, দুই পিপাসু ব্যক্তি তৃপ্তি লাভ করে না- আলেম ও দুনিয়াদার। কিন্তু এই দুই জন আবার সমান নয়; আলেম-তার প্রতি তো আল্লাহর সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পেতে থাকে, আর দুনিয়াদার সে আল্লাহর অবাধ্যতার পথে অগ্রসর হতে থাকে। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ পাঠ করলেন ‘কখেেনই নয়, নিশ্চয়ই মানুষ নিজকে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেখে বলে অবাধ্যতা করতে থাকে (আলাকু ৫-৬)। বর্ণনাকারী আওন (রঃ) বলেন, এবং অপর ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি এ আয়াত পড়লেন, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিশ্চয় আলেমরাই আল্লহকে ভয় করেন’ (ফাতির ২৮)। ১২৯ তাহক্বীক্ব: যঈফ।১০০ (٦٣) عن ابن عباس عن النبي ﷺ قَالَ إن أناسًا من أمتي سيتفقهون في الدين وَيَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَقُولُونَ تَأتي الأمراء فَيُصِيبُ مِنْ دُنْيَاهُمْ وَتَعْتَزِلُهُمْ بِدِينَنَا وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ كَمَا لا يُحتنى من القناد إلا الشوك كَذَلِكَ لَا يُحْتَنَى مِنْ قُرْبِهِمْ إِلَّا قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَاحِ كَأَنَّهُ يَعْنِي الْخَطَايَا

পৃষ্ঠা:২৯

ابن ماجة : كتاب المقدمة باب الالتفاع بِالْعِلْمِ وَالْعَمَل بِهِ (৬৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, সেদিন বেশী দূরে নয় যখন আমার উম্মতের কতক লোক দ্বীনের জ্ঞান লাভে সচেষ্ট হবে ও কুরআন শিক্ষা করবে এবং বলবে যে, আমরা আমীরদের নিকট যাব এবং তাদের দুনিয়ার কিছু অংশ গ্রহণ করে পরে আমরা আমাদের দ্বীন নিয়ে তাদের নিকট হতে সরে পড়ব। কিন্তু তা কখনও হবে না। যথা (কন্টকময়) কানাদ গাছ উহা হতে যেমন কাঁটা ব্যতীত কোন ফল লাভ করা যায় না, তেমনই এদের নিকট হতে কোন ফল লাভ করা যায় না; কিন্তু…। ১০১ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৩২ (٦٤) عن الأَعْمَشِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَفَهُ الْعِلْمِ النِّسْبَانُ وَإِضَاعَتُهُ أَنْ تحدث به غير أهله. (৬৪) আ’মাশ (রহঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, ভুলে যাওয়া হচ্ছে ইলমের ১০০ পক্ষে আপদস্বরূপ। ইলমকে নষ্ট করা হচ্ছে অনুপযুক্ত লোককে বলা।” তাহক্বীক্ব: হদীছটি জাল। ১০৪ (٦٥) عَنْ سُفْيَانَ أَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضى الله عَنْهُ قَالَ لكَعْبِ مَنْ أَرْبَابُ الْعلم قَالَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِمَا يَعْلَمُونَ قَالَ فَمَا أَخْرَجَ الْعِلْمَ مِنْ قُلُوبِ الْعُلَمَاءِ؟ قَالَ الطَّمَعُ. (৬৫) সুফিয়ান ছাওরী থেকে বর্ণিত, ওমর একদা কা’বকে বললে, প্রকৃত আলেম কারা? তিনি বললেন, যারা ইলম অনুযায়ী আমল করে। তিনি পুনরায় বলেন, কোন জিনিষ আলেমদের অন্তর হতে ইলম বের করে দেয়? তিনি বললেন লোভ। ১০০ তাহক্বীকু: হাদীছটি মু’যাল বা যঈফ। ১০৬ (٦٦) عن الأحوص بن حكيم عن أبيه قال سألَ رَجُلُ النَّبِيُّ ﷺ عَنِ الشَّرِّ فَقَالَ لا تسألوني عن الشَّرِّ وَسَلُونِي عَنِ الْخَيْرِ يَقُولُهَا ثَلاثاً ثُمَّ قَالَ أَلَا إِنَّ شَرَّ الشر شرارُ الْعُلَمَاءِ وَإِنَّ خَيْرَ الْخَيْرِ حِيَارُ الْعُلَمَاءِ.

পৃষ্ঠা:৩০

(৬৬) আহ্ওয়াছ ইবনু হাকীম তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল-কে মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূল বললেন, মন্দ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস কর না; বরং আমাকে ভাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। এটা তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর বললেন, জেনে রাখ, সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক হল আলেমরা যারা খারাপ এবং সর্বাপেক্ষা ভাল হচ্ছে আলেমদের মধ্যে যারা ভাল। ১০৭ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি মু’যাল যঈফ। ১৩৮ (٦٧) عن أبي الدَّرْدَاء قَالَ إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِندَ اللَّهِ مَنْزِلَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عالماً لا ينتفع بعلمه. (৬৭) আবু দারদা হতে বর্ণিত, ক্বিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মন্দ সে ব্যক্তিই হবে, যে তার ইলম দ্বারা উপকৃত হতে পারেনি। ১৯ তাহক্বীকু: হাদীছটি নিতান্তই যঈফ। ১০০ (٦٨) عَنِ الْحَسَنِ قَالَ العلم علمان فعلم في القَلْبِ فَذَلِكَ الْعِلْمُ النَّافِعُ وَعِلْمٌ عَلَى النِّسَانِ فَذَلِكَ حُجَّةُ اللَّهِ عَلَى ابْنِ آدَمَ. (৬৮) হাসান বছরী (রহঃ) বলেন, ইলম দুই প্রকার। এক প্রকার ইলম হচ্ছে আত্মায়, আর এটাই হল উপকারী ইলম। আর এক প্রকার ইলম হচ্ছে মুখে, তা হল মানুষের বিরুদ্ধে আল্লহর পক্ষে দলীল। ১০১ তাহক্বীকু: বর্ণনাটি যঈফ ১৪২

(٦٩) عن أبي هريرة قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ تَعوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ حُبِّ الْحَزَنِ قَالُوا يا رَسُولَ اللهِ وَمَا حُبُّ الْحَزَنِ قَالَ وَادٍ فِي جَهَنَّمَ تَتَعَوَّذُ مِنْهُ جَهَنَّمُ كُلِّ يَوْمٍ مَالَةَ مرة قبل يَا رَسُولَ الله وَمَنْ يَدْخُلُها قَالَ الْقُرَّاء الْمُرَاءُونَ بِأَعْمَالِهِمْ. رواه الترمذي وكذا ابن ماجه وزاد فيه وإن من أبغض القراء إلى الله تعالى الذين يزورون الأمراء قال المحاربي يعني الجورة.

পৃষ্ঠা:৩১

الترمذي : كتاب الزهد باب ما جاء في الرياء والسمعة ابن ماجة : كتاب المقدمة باب الانتفاع بالعلم والعمل به (৬৯) আবু হুরায়রা বলেন, একদা রাসূল বললেন, তোমরা ‘জুব্বুল হোযন’ হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ‘জুব্বুল হোযন’ কী? রাসূল বললেন, জাহান্নামের মধ্যে একটি গর্ত, যা হতে স্বয়ং জাহান্নামও দৈনিক ৪ শতবার পানাহ চেয়ে থাকে। ছাহাবীগণ পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। কারা যাবে? রাসূল বললেন, সেসকল কুরআন অধ্যয়নকারী, যারা নিজেদের কাজ অন্যকে দেখিয়ে থাকে। -তিরমিযী: ইবনু মাজাহও এরূপ বর্ণনা করেছেন; কিন্তু তিনি কিছু অধিক বর্ণনা করেছেন (এবং বলেছেন যে, রাসূল ইহাও বলেছেন) “কুরআন অধ্যায়নকারীদের মধ্যে তারাই আলস্নাহর নিকট সর্বাপেক্ষা ঘৃণিত, যারা আমীর-ওমারাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে”।১০০ তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি নিতান্তই যঈফ। ১৪৪ (۷۰) عن علي قال قال رسول الله ﷺ يوشك أن يأتي على الناس زمان لا يبقى من الإسلام إلا اسمه ولا يبقى من القرآن إلا رسمه مساجدهم عامرة وهي خراب من الهدى علماؤهم شر من تحت أديم السماء من عندهم تخرج الفتنة وفيهم تعود. (৭০) আলী বলেন, রাসূল বলেন, অচিরেই মানুষের উপর এমন এক যুগ আসবে তখন নাম ব্যতীত ইসলামের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, অক্ষর ব্যতীদ কুরআনের কিছু বাকী থাকবে না। তাদের মসজিদ সমূহে আবাদ হবে কিন্তু তা হবে হেদায়াতশূন্য। তাদের আলেমরা হবে আকাশের নীচে সর্বনিকৃষ্ট লোক। তাদের নিকট থেকে ফেৎনা প্রকাশ পাবে। অতঃপর বিপর্যয় তাদের দিকেই ফিরে যাবে।১৯৫

পৃষ্ঠা:৩২

(۷۱) عَنْ ابْنِ مَسْعُود قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ وَعَلِّمُوهُ النَّاسَ تَعَلَّمُوا الْفَرَائِصَ وَعَلمُوهُ النَّاسَ تَعْلَمُوا الْقُرْآنَ وَعَلمُوهُ النَّاسَ فَإِنِّي امْرُؤٌ مَقْبُوضُ وَالْعِلْمُ سينتقص وتظهر الفتن حتى يختلف اثنان في فريضة لا يجدان أحداً يفصل بينهما. (৭১) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, একদা রাসূল আমাকে বললেন, তোমরা ইলম শিক্ষা কর এবং লোকদের তা শিক্ষা দিতে থাক। তোমরা ফারায়েয শিক্ষা কর এবং লোকদের উহা শিক্ষা দিতে থাক। তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং লোকদের উহা শিক্ষা দিতে থাক। কেননা, আমি এমন এক ব্যক্তি, যাকে উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং ইলমকে সত্বর উঠিয়ে নেওয়া হবে, আর ফেৎনা ও গোলযোগ সৃষ্টি হবে। এমন কি ফরয নিয়ে দুই ব্যক্তি মতভেদ করবে, অথচ এমন কাউকেও পাবে না যে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে। ১৭ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ৪৮ (۷۲) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَثَلُ عِلْمٍ لَا يُنْتَفَعُ بِهِ كَمَثَلِ كَثر لا يُنفق منه في سبيل الله. (৭২) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ইলম দ্বারা কারও উপকার সাধিত হয় না, উহা এমন এক ধন-ভাণ্ডারের ন্যায়, যা হতে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা হয় না। ১৯ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০০

পৃষ্ঠা:৩৩

 অধ্যায়: পবিত্রতা

অনুচ্ছেদ: ওযুর মাহাত্ম্য

(۷۳) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهِ عشر حسنات أبو داود : كتاب الطهارة باب الرجل يحدد الوضوء من غير حدث الترمذي : قارة باب ما جاء في الوضوء لكل صلاة (৭৩) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেন, যে ব্যক্তি ওষু থাকা অবস্থায় ওযু করবে তার জন্য দশটি নেকী রয়েছে। ১০ ১৫১ তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٧٤) عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مفتاح الْجَنَّةِ الصَّلَاةَ وَمِفْتَاحُ الصَّلاة الظهور (৭৪) জাবের বলেন, রাসূল বলেছেন, জান্নাতের চাবি হল ছালাত। আর ছালাতের চাবি হল পবিত্রতা। ১৯৬তাহক্বীক্ব: যঈফ। (٧٥) عن شيب بن أبي روح عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ أنه صلى صلاة الصبح فقرأ الرُّومَ فَالْتَبسَ عَلَيْهِ فَلَمَّا صَلَّى قَالَ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يُصَلُّونَ مَعَنَا لَا يُحْسِنُونَ الظُّهُورَ فَإِنَّمَا يَلْبِسُ عَلَيْنَا الْقُرْآنَ أُولَئِكَ. النسائي : كتاب الافتتاح باب القراءة في الصبح بالروم. (৭৫) শাবীব ইবনু আবূ রাওহা রাসূল-এর ছাহাবীগণের এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেন, রাসূল একবার ফজরের ছালাত আদায় করলেন এবং ‘সূরায়ে রুম’ পড়লেন। কিন্তু তেলাওয়াতে কিছু গোলমাল হয়ে গেল। যখন তিনি ছালাত শেষ করলেন এবং বললেন, তাদের কী হয়েছে যারা আমাদের সাথে ছালাত আদায় করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা লাভ করে না? এরাই আমাদের কুরআন পাঠে গোলযোগ সৃষ্টি করে।’ ১৫০

পৃষ্ঠা:৩৪

(٧٦) عَنْ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ قَالَ عَنْهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي يَدِي أَوْ فِي يده التسبيح نصف الميزان والْحَمْدُ لله يَمْلَؤُهُ وَالتَّكْبِيرُ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالصَّوْمُ نِصْفُ الصَّيْرِ وَالطُّهُورُ نِصْفُ الْإِيمَانِ. الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في عقد التسبيح باليد (৭৬) বানী সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন, একবার রাসূল এই পাঁচটি কথা আমার হাতে অথবা তাঁর নিজের হাতে গুণিয়া গুণিয়া বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ্’ বলা হল পাল্লার অর্ধেক আর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা পূর্ণ করে উহাকে এবং ‘আল্লাহু আকবার’ আসমান ও যমীনের মধ্যখানে যা আছে তাকে পূর্ণ করে। রোযা হল ধৈর্যের অর্ধেক এবং পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক।১০৭

তাহক্বীকু: যঈফ। ১০৮

باب ما يوجب الوضوء

অনুচ্ছেদ: যে যে কারণে ওযু করতে হয় 

দ্বিতীয় পরিচ্ছে

(۷۷) عَنْ مُعَاوِيَةَ بن أَبِي سُفْيَانَ أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّمَا الْعَيْنُ وَكَاءُ اللَّهِ فَإِذَا نَامَتِ الْعَيْنُ الطَّلَقَ الْوِكَاءُ. (৭৭) মু’আবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ান বলেন, নবী করীম বলেছেন, চক্ষুদ্বয় হল গুহ্যদ্বারের ঢাকনা। সুতরাং চক্ষু যখন ঘুমায় ঢাকনা তখন খুলে যায়। ১৫৯ তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি যঈফ। ১০০ উল্লেখ্য, তবে নিম্নক্ত হাদীছ ছহীহ (মিশকাত হা/৩১৬)। (۷۸) عن ابن عباس قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِنَّ الْوُضُوءَ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا فَإِنَّهُ إِذَا اضْطَجَعَ اسْتَرْحَتْ مَفَاصله. الترمذي : كتاب الطهارة باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِن النوم

পৃষ্ঠা:৩৫

(৭৮) আব্দুল্লহ্ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, নিশ্চয় ওষু সেই ব্যক্তির উপর ওয়াজিব যে কাত হয়ে ঘুমিয়েছে। কেননা যখন কেউ কাত হয়ে ঘুমায় তখন তার শরীরের বন্ধনসমূহ শিথিল হয়ে পড়ে। ১০১ তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি যঈফ। ১৯৬২

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۷۹) عَنْ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ أَهْدِيَتْ لَهُ شَاةٌ فَجَعَلَهَا فِي الْقَدْرِ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ مَا هَذَا يَا أَبَا رَافِعٍ فَقَالَ شَاةٌ أُهْدِيَتْ لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قطبتها فِي الْقَدْرِ فَقَالَ نَاوِلنِي الدَّرَاعَ يَا أَبَا رَافِعٍ فَنَاوَلْتُهُ الدَّرَاعَ ثُمَّ قَالَ نَاوَلَنِي الذراع الآخر فَتَاوَلته الدراع الآخرَ ثُمَّ قَالَ ناولني الدَّرَاعَ الْآخَرَ فَقَالَ يَا رَسُولَ الله إِنَّما للشاة دراعان فَقَالَ لَهُ رَسُولُ الله ﷺ أَمَا إِنَّكَ لَوْ سَكَتَ لَنَا وَلْتَنِي ذَرَاعًا فَذَرَاعًا مَا سَكَتْ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَمَضْمَضَ فَاهُ وَغَسَلَ أَطْرَافَ أَصَابِعَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ثُمَّ عَادَ إِلَيْهِمْ فَوَجَدَ عِنْدَهُمْ لَحْمًا بَارِدًا فَأَكَلَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى وَلَمْ يَمَسُّ مَاءً

(৭৯) আবু রাফে’ বলেন, একাদা তাঁকে একটা বকরী হাদিয়া দেওয়া হল এবং তিনি ডেগে রাখলেন। এমন সময় রাসূল তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন এবং কললেন, ডেগে কী রাখা হয়েছে হে আবু রাফে? তিনি বললেন, একটি বকরী আমাদেরকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। তা ডেগে পাক করেছি। রাসূল বললেন, আমাকে উহার একটি বাজু দাও। (আবু রাফে’ বলেন,) আমি তাঁকে একটি বাজু দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমাকে আর একটি বাজু দাও। সুতরাং আমি তাঁকে আরো একটি বাজু দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমাকে আর একটি বাজু দাও তখন আমি বললাম, হে রাসূল। বকরীর মাত্র দুইটি বাজু হয়ে থাকে। এটা শুনে রাসূল বললেন, তুমি যদি চুপ করে থাকতে তাহলে আমাকে বাজুর পর বাজু দিতে থাকতে, যে পর্যন্ত তুমি চুপ থাকতে। অতঃপর রাসূল পানি তলব করলেন এবং কুল্লি করলেন, আর আপন আঙ্গুলীসমূহের মাথা ধুয়ে ফেললেন। অতঃপর ছালাতের জন্য দাঁড়ালেন এবং ছালাত আদায় করলেন। অতঃপর রাসূল তাঁদের নিকট পুনরায় ফিরে আসলেন এবং তাঁদের নিকট ঠান্ডা গোশত পেলেন। তিনি

পৃষ্ঠা:৩৬

তা খেলেন, অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং ছালাত আদায় করলেন, কিন্তু পানি স্পর্শ করলেন না।১০০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১৬৪ (۸۰) عن عمر بن عبد العزيز قال قال تميم الداري قال رسول الله صلى الله عليه و سلم الوضوء من كل دم سائل. رواهما الدارقطني وقال عمر بن عبد العزيز لم يسمع من تميم الداري ولا رأه ويزيد بن خالد ويزيد بن محمد مجهولان. (৮০) ওমর ইবনু আব্দুল আযীয তামীমুদ দারী থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেন, প্রত্যেক প্রবাহমান রক্তের কারণেই ওযু করতে হবে। ১০৬৫ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ইমাম দারাকুৎনী (রহঃ) বলেন, ওমর ইবনু আব্দুল আযীয তামীমুদ্দারীর নিকট থেকে শুনেননি। আর ইয়াযীদ ইবনু খালেদ ও ইয়াযীদ ইবনু মুহাম্মাদ দুইজনই অপরিচিত। باب ادب الخلاء

অনুচ্ছেদ: পায়খানা প্রস্রাবের শিষ্টাচার

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۸۱) عن أَنَسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءِ نَزَعَ خَاتَمَهُ قَالَ أَبُو عيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَ قَالَ أَبُو دَاوُد هَذَا حَدِيثُ مُنْكَر وفي روايته وضع بدل نزع. أبو داود : كتاب الطهارة باب الخاتم يكون فيه ذكر الله تعالى يدخل به الخلاء، الترمذي : كتاب اللباس باب ما جاء في ليس العالم في اليمين النسائي : كتاب الزينة نزع العالم عند دخول الخلاء

পৃষ্ঠা:৩৭

(৮১) আনাস বলেন, রাসূল যখন পায়খানায় যেতেন, নিজের আংটিটি খুলে রাখতেন। ১০৮ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি মুনকার হিসাবে যঈফ। ১৬৯

(۸۲) عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ كُنتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ فَأَرَادَ أَنْ يَقُولَ فَأَتَى دمنا في أَصْلِ جَدَارٍ فَبَالَ ثُمَّ قَالَ إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقُولَ فَلْيَرْتَدَّ لِبَوْلِهِ مَوْضِعًا. أبو داود : كتاب الطهارة باب الرجل يتبوأ الموله  (৮২) আবু মুসা আশ’আরী বলেন, একদিন আমি নবী-এর সাথে ছিলাম, তিনি যখন পেশাব করার ইচ্ছা করলেন তখন একটি দেয়ালের গোড়ায় নরম জায়গায় গেলেন এবং পেশাব করলেন। অতঃপর বললেন, যখন তোমাদের কেউ পেশাব করতে ইচ্ছা করে, তখন যেন এরূপ স্থান তালাশ করে ১৭০ যাতে শরীরে পেশাবের ছিটা না পড়ে।’ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৭১ (۸۳) عن أبي هريرة عن النبي ﷺ قَالَ مَنْ اكْتَحَلَ فَلْيُوتِرُ مَنْ فَعَلَ فَقَدَ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا خَرَجَ وَمَنْ اسْتَحمَر فَليوتر مَنْ فَعَلْ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ وَمَنْ أَكَلَ فَمَا تَحلل فليلفظ وما لاك بلسانه فلْيبْتَلِعْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا خَرَجَ وَمَنْ أَتَى الْغَائِطِ فَلْيَسْتَر فَإِنْ لَمْ يَجِدُ إِلَّا أَنْ يَجْمَعَ كَثِيبًا مِنْ رَمْلٍ فليستديره فإنَّ الشَّيْطَانَ يَلْعَبُ بمقاعد بني آدم مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجٌ. أبو داود : كتاب الطهارة باب الاستثار في الخلاء، ابن ماجة : كتاب الطب باب من اكتحل ولرا (৮৩) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি সুরমা লাগায় সে যেন বিজোড় সংখ্যায় লাগায়। যে এইরূপ করল সে ভাল করল, আর যে করল না সে মন্দ করল না। আর যে ব্যক্তি ইস্তিঞ্জা করে সে যেন বিজোড় করে। যে এইরূপ করল সে ভাল করল, আর যে করল না সে মন্দ করল না। যে ব্যক্তি খানা খেল এং খেলাল দ্বারা দাঁত হতে কিছু বের করল, সে যেন তা বাইরে ফেলে দেয় এবং যা জিহ্বা দ্বারা মথিত করে তা যেন গিলে ফেলে। যে এইরূপ করল ভাল করল, আর যে করল না সে মন্দ করল না এবং যে ব্যক্তি

পৃষ্ঠা:৩৮

পায়খানায় যায়, সে যেন পর্দা করে, যদি সে পর্দা করতে বালি স্তূপীকৃত ব্যতীত কিছু না পায়, তাহলে স্তূপকে যেন পিঠ দিয়ে বসে। কেননা শয়তান মানুষের বসার স্থান নিয়ে খেলা করে। যে এইরূপ করল ভাল করল, আর যে না করল মন্দ করল না। ১৭২ তাহক্বীকু: যঈফ।… অতঃপর সেখানে গোসল বা ওযু করে। কারণ অধিকাংশ ধোঁকা সেখান থেকেই উৎপন্ন হয়। ১৭৪ তাহক্বীক্ব: উক্ত হাদীছের দুইটি অংশ। শেষের এই অংশটুকু যঈফ। (١٤) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا يَيُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي حُجْرٍ. النسائي : كتاب الطهارة باب كراهية البول في الحجر (৮৪) আব্দুল্লাহ ইবনু সারজেস বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন গর্তে পেশাব না করে। তাহক্বীকু: যঈফ।১৭০ (٨٥) عَنْ عُمَرَ قَالَ رَانِي رَسُولُ الله ﷺ وَأَنا أَبولُ قَائِمًا فَقَالَ يَا عُمَرُ لَا تَبَلْ قائمًا فَمَا يُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ. ابن ماجة : كتاب الطهارة ومنها باب في البول قاعدا (৮৫) ওমর বলেন, একবার রাসূল আমাকে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন, হে ওমর! দাঁড়িয়ে পেশাব করনা। অতঃপর আমি দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি। ১৭৭ তাহক্বীকু: যঈফ। ১৯

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٨٦) عن أبي هريرة أن النبي ﷺ قال جاءني جبريل فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِذا توضأت فالنصح قال أبو عيسى هذا حديث غَرِيبٌ قَالَ وَ سَمِعْتَ مُحَمَّدًا يَقُولُ الْحَسَنُ بْنُ عَلَي الْهَاشِمِيُّ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ. الترمذي : كتاب الطهَارَةِ بَاب مَا جَاءَ فِي النَّصْحَ بَعْدَ الْوُضُوءِ (৮৬) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, আমার নিকট জিবরীল এবিধ এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! যখন ওষু করবেন তখন পানি ছিটাবেন। তাহক্বীক্ব: যঈফ ও মুনকার।* (۸۷) عَنْ عَائِشَةَ قَالَت بَالَ رَسُولُ الله ﷺ فَقَامَ عُمَرُ خَلْفَهُ يَكُورُ مِنْ مَاءٍ فَقَالَ مَا هَذَا يَا عُمَرُ فَقَالَ هَذَا مَاءً تَتَوَضَّأُ بِه قَالَ مَا أُمِرْتُ كُلَّمَا بُلْتُ أَنْ أَتَوَضًا وَلَوْ فعلت لكانت سنة. أبو داود : كتاب الطهارة باب الاستبراء ابن ماجة : كتاب الطهارة وسنتهَا بَاب مَنْ قَالَ وَلَمْ يَمَسَّ مَاءً (৮৭) আয়েশা বলেন, একবার রাসূল পেশাব করলেন এবং ওমর তাঁর পিছনে পানির একটি পাত্র নিয়ে দাঁড়ালেন। রাসূল বললেন, ওমর, এটা কী? ওমর বললেন, পানি। আপনার ওযু করার জন্য। রাসূল বললেন, আমি এই জন্য আদিষ্ট হয়নি যে, যখনই পেশাব করব তখনই ওষু করব। যদি আমি সর্বদা এরূপ করি তাহলে এটা সুন্নাত হয়ে যাবে। তাহক্বীক্ব: যঈফ। (۸۸) عَنْ أَنَسِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذا خرج مِنَ الْخَلَاءِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَلَى الْأَذَى وَعَافَانِي. ابن ماجة : كتاب الطهارة بَاب مَا يَقُولُ إِذَا خَرَجَ مِنْ الْحَلَاءِ (৮৮) আনাস বলেন, রাসূল যখন পায়খানা হতে বের হতেন তখন বলতেন, ‘সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা যিনি আমার নিকট হতে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করলেন এবং আমাকে নিরাপদ করলেন।১৯০ তাহক্বীক্ব: যঈফ।باب السواك

পৃষ্ঠা:৩৯

অনুচ্ছেদ: মিসওয়াক করা 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۸۹) عن أبي أيوب قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ أربع مِنْ سُنَنِ الْمُرْسَلِينَ الْحَيَاءُ وَالتَعَطَّرُ والسواك والنكاح. الترمذي : كتاب النكاح باب ما جاءَ فِي فَضْلِ الترويج وَالْحَتْ عَلَيْهِ (৮৯) আবু আইয়ুব বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, চারটি বিষয় নবীদেরসুন্নাত। (ক) লজ্জা করা। (খ) সুগন্ধি ব্যবহার করা (গ) মিসওয়াক করা ও (ঘ) বিবাহ করা। ১৮৫ তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি যঈফ। উক্ত বর্ণনায় কয়েকটি ত্রুটি রয়েছে। আইয়ূব ও মাকহুলের মাঝে রাবী বাদ পড়েছে। হাজ্জাজ বিন আরত্বাহ নামক রাবীর দোষ রয়েছে। এছাড়াও এর সনদে আবু শিমাল রয়েছে। তাকে আবু ঘুর’আহ ও ইবনু হাজার আসকালানী অপরিচিত বলেছেন। ১৮৬

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۹۰) عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَا جَاءَنِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامِ قَطُّ إِلَّا أمرني بالسواك لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ أَحْفِي مُقَدَّمَ فِي. (৯০) আবু উমামা বলেন, রাসূল বলেছেন, যখনই জিবরীল আমার নিকট আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াক করার জন্য কলতেন, যাতে আমার ভয় হতে লাগল যে, আমি আমার মুখের সম্মুখ দিক ক্ষয় করে দিব। তাহক্বীক্ব: হাদীছটি নিতান্তই যঈফ। (۹۱) عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ تَفْضُلُ الصَّلَاةُ الَّتِي يُسْتَاكُ لَهَا عَلَى الصلاة التي لا يُستَاكُ لَهَا سَبْعِينَ ضعفًا. (৯১) আয়েশা হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন, যে ছালাত মিসওয়াক করে আদায় করা হয় সেই ছালাত মিসওয়াক করা বিহীন ছালাতের চেয়ে ৭০ গুণ বেশী নেকী হয়। ১৮৯

পৃষ্ঠা:৪০

তাহক্বীক্ব: ইমাম বায়হাক্বী উক্ত বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, وَقَدْ رَوَاهُ مُعَاوِيَةٌ مِّنْ يَحْيَى الصدفى عَنِ الزُّهْرَى وَلَيْسَ بِالْقَوَى وَرُوى من وجه آخر عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَة ومن وجه آخر عن عمرة عَنْ عَائِشَة وكلاهما ضعيف وَفِي طَرِيقِ الْوَجْه الآخر عَنْ عُرْوَةَ الْعَاقِدَى وَ هُوَ كَذَّابٌ. মু’আবিয়া ইবনু ইয়াহইয়া যুহরী থেকে বর্ণনা করেছে। সে নির্ভরযোগ্য নয়। অন্য সূত্রে উরওয়া আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছে। কিন্তু তারা উভয়েই যঈফ। অন্য সূত্রে উরওয়া আবেদী থেকে বর্ণনা করেছে কিন্তু সে মিথ্যুক।১০ باب سنن الوضوء

অনুচ্ছেদ: ওযুর সুন্নাতসমূহ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۹۲) عن أبي أمامة وذكر وُضُوءَ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَمْسَحُ الْمَأْفَيْنِ قَالَ وَقَالَ الأذْنَان من الرأس. رواه ابن ماجه وأبو داود والترمذي وذكرا قال حماد لا أدري : الأذنان من الرأس من قول أبي أمامة أم من قول رسول الله ﷺ. ابو داود : كتاب الطهارة باب صفة وضوء التي ك ابن ماجة : كتاب الطهارة باب الأذنان من الرأس (৯২) আবু উমামা একবার রাসূল ওযুর বর্ণনা করলেন এবং বললেন, ওযূতে তিনি দুই চক্ষুর কোণ মললেন এবং বললেন, কর্ণদ্বয় মাথারই অংশ। ১৯৯

তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(۹۳) عن أبي بن كعب عن النبي ﷺ قَالَ إِنَّ الْوُضُوءِ شَيْطَانَا يُقَالُ لَهُ الْوَلَهَانُ فَاتَّقُوا وَسْوَاسِ الماء رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي : هذا حديث

পৃষ্ঠা ৪১ থেকে ৬০

পৃষ্ঠা:৪১

غریب وليس إسناده بالقوي عند أهل الحديث لأنا لا تعلم أحدا أسنده غير خارجة وهو ليس بالقوي عند أصحابنا. الترمذي : كتاب الطهارة باب ما جاء في كراهية الإسراف في الوضوء بالماء ابن ماجة : كتاب الطهارة باب ما جاء في القصد في الوضوء وكرافة التعدي فيه. (৯৩) উবাই ইবনু কা’ব রাসূল হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, ওযুর জন্য একটি শয়তান রয়েছে, যাকে বলা হয় ‘ওলাহান’। সুতরাং পানির কুমন্ত্রণা হতে সতর্ক থাকবে।১০ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি নিতান্তই যঈফ। ১৬০ (٩٤) عَنْ مُعَاذِ بْنِ حَبْلٍ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا تَوَضَّأَ مَسَحَ وَجْهَهُ بِطَرْفِ توبه. الترمذي : كتاب الطهارة باب ما جاء في المندل بعد الوضوء (৯৪) মু’আয ইবনু জাবাল বলেন, আমি রাসূল-কে দেখেছি, যখন তিনি ওযু করতেন, আপন কাপড়ের কিনার দ্বারা নিজ মুখমণ্ডল মুছে ফেলতেন। তাহক্বীক্ব: যঈফ। (٩٥) عن عائشة قالت كان الرسول الله ﷺ حرفة يُنشف بِهَا بَعْدَ الْوُضُوء. الترمذي : كتاب الطهارة باب ما جاء في المستدل بعد الوضوء (৯৫) আয়েশা বলেন, রাসূল-এর একটি পৃথক কাপড় খণ্ড ছিল, যার দ্বারা তিনি ওযুর পরে তাঁর ওযুর অঙ্গসমূহ মুছে নিতেন। ১৯৭ তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

পৃষ্ঠা:৪২

(٩٦) عن ثابت بن أبي صفية قال قلت لأبي جعفر هُوَ مُحَمَّدٌ الْبَاقِرُ حَدَّثَكَ خابر أن النبي ﷺ توضاً مَرَّةً مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَثَلَاثًا ثَلَاثًا قَالَ نَعَمْ. الترمذي : كتاب الطهارة باب ما جاء في الوضوء مرة ومرتين وثلاثا ابن ماجة: كتاب الطهارة (৯৬) ছাবেত ইবনু আবী ছাফিয়া বলেন, আমি আবু জাফর মুহাম্মাদ আল-বাকেরকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাকে কি জাবের বলেছেন যে, নবী করীম ওযু করেছেন কখনও একবার কখনও দুই দুইবার: আবার কখনও তিন তিনবার করে। তিনি উত্তর করলেন, হাঁ। ১৯৯ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২০০ (۹۷) عن عبد الله بن زيد قال إن رسول الله ﷺ توضاً مرتين مرتين وقال هو نور على نور. (৯৭) আব্দুল্লাহ ইবনু যায়েদ বলেন, রাসূল একদা ওষু করলেন দুই দুইবার করে এবং বললেন, এটা এক নূরের উপর আর এক নূর।’ তাহক্বীকু: হাদীছটি জাল, ভিত্তিহীন। (۹۸) عَنْ أَبي هريرة وعن عبد الله بن مسعود و ابن عمر أن النبي ﷺ قَالَ إِذا تَطَهَّرَ أَحَدُكُمْ فَلْيَذْكُرِ اسْمَ اللَّهُ فَإِنَّهُ يَطْهُرُ حَسَدُهُ كُلُّهُ فَإِنْ لَمْ يَذْكُرْ أَحَدُكُمْ اسم الله على ظهوره لمْ يَطْهُرْ إِلَّا مَوْضَعَ الوُضُوء.  (৯৮) আবু হুরায়রা, ইবনু মাসউদ ও ইবনু ওমর নবী করীম হ’তে বর্ণন করেন যে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করল এবং বিসমিল্লাহ্ পড়ল, সে তার সমস্ত শরীরকে পবিত্র করল। আর যে ব্যক্তি ওযু করল অথচ বিসমিল্লাহ্ পড়ল না, সে কেবল তার ওযুর স্থানসমূহকেই পবিত্র করল। ২০০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১০৪ (۹۹) عن أبي رافع قَالَ كَانَ رَسُولُ الله ﷺ إِذَا تَوَضَّأَ وُضُوءَ الصَّلاةَ حَرَّكَ خاتمه في إصبعه، ابن ماجة : كتاب الطهارة ومنها باب الخليل الأصابع. (১৯) আবু রাফে’ বলেন, রাসূল যখন ছালাতের জন্য ওযু করতেন, তখন আপন আঙ্গুলে পরিহিত আংটিকে নেড়ে দিতেন। ২০০

পৃষ্ঠা:৪৩

অনুচ্ছেদ: গোসল 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۰۰) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنْ تَحْتَ كُلِّ شَعْرَةٍ حَنَابَةٌ فَاغْسِلُوا الشعر وألقوا البشر رواه أبو داود والترمذي وابن ماجه وقال الترمذي : هذا حديث غريب والحارث بن وحيه الراوي وهو شيخ ليس بذلك. أبو داود : كتاب الطهارة باب في العمل من الحناية ابن ماجة : كتاب الطهارة وسننها باب تحت كُلِّ الشعرة حابة. (১০০) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, প্রত্যেক কেশের নীচেই নাপাকী রয়েছে। সুতরাং কেশসমূহকে উত্তমরূপে ধৌত করবে এবং চর্মকে ভাল করে পরিষ্কার করবে।২০৭তাহক্বীক্ব: যঈফ। (۱۰۱) عَنْ عَلى رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ مَنْ تَرَكَ مَوْضِعَ شَعْرَة من حناية لم يغسلها فعل به كذا وكذا من النَّارِ قَالَ عَلَى فَمِنْ ثُمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي فَمِنْ ثُمَّ عَادَيْتُ رأسي ثلاثا، وَكَانَ يَحِرُّ شَعْرَهُ. ابو داود : كتاب الطهارة باب في العمل من الجنابة. (১০১) আলী বলেন, রাসূল পরিমাণ স্থানও ছেড়ে দিবে এবং তা বলেছেন, যে ব্যক্তি নাপাকীর এক চুল ধৌত করবে না তার সাথে আগুনের দ্বারা

পৃষ্ঠা:৪৪

এমন ব্যবস্থা করা হবে। আলী বলেন, সেই থেকে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করেছি, এই কথা তিনি তিনবার বললেন। ২০ তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি যঈফ। ২১০ (۱۰۲) عَنْ عَائِشَة قالت كان النبي يغسل رأسه بالخطمي وَهُوَ جنب يحتَرِئُ بِذَلِكَ وَلَا يَصُبُّ عَلَيْهِ الْمَاءِ داود : كتاب الطهارة باب في الحب يقل رأسه بخطي الجولة ذلك. ابو বলেন, নবী করীম খিতমী দ্বারা মাথা ধৌত নাপাক। একেই তিনি যথেষ্ট মনে করতেন মাথায় আর (১০২) আয়েশা করতেন, অথচ তিনি পানি ঢালতেন না। ১৯১১ তাহক্বীকু: যঈফ।২১২

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۰۳) عَنْ عَلَى قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ إِنِّي اغْتَسَلْتُ مِنَ الْحَنابَةِ وَصَلَّيْتُ الْفَجْرَ ثُمَّ أَصْبَحْتُ فَرَأَيْتُ قَدْرَ مَوْضِعِ الظُّفْرِ لَمْ يُصِبْهُ الْمَاءُ فَقَالَ رَسُولُ الله ﷺ لَوْ كُنت مسحت عليه بيدك أحراك. ابن ماجة : كتاب الطهارة ومنها باب من الحمل من الحنانة فيفي مِنْ جَسَدِهِ لتَعَةٌ لَمْ يُصِبهَا الْمَاء كيف يصنع. (১০৩) আলী বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নাপাকীর গোসল করেছি ও ফজরের ছালাত পড়েছি। অতঃপর দেখি এক নখ পরিমাণ জায়গায় পানি পৌঁছেনি, রাসূল বললেন, যদি তখন তুমি উহার উপর তোমার (ভিজা) হাত মুছে দিতে, তোমার পক্ষে যথেষ্ট হত। ২১০

পৃষ্ঠা:৪৫

(١٠٤) عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَتْ الصَّلَاةُ خَمْسِينَ وَالْغُسْلُ مِنْ الْحَنَابَةِ سبع مرارٍ وَغَسْلُ الْبَوْلِ مِنَ الثَّوْبِ سَبْعَ مِرَارٍ فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَسْأَلُ حَتَّى جعلت الصَّلَاةُ خَمْسًا وَالْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ مَرَّةً وَغَسْلُ الْبَوْلِ مِنَ الثَّوْبِ مَرَّةً. ابو داود : كتاب الطهارة باب في العمل من الجنابة. (১০৪) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর বলেন, ছালাত ছিল পঞ্চাশ ওয়াক্ত, নাপাকীর গোসল ছিল সাতবার এবং কাপড় হতে পেশাব ধোয়া ছিল সাতবার। রাসূল আল্লাহর দরবারে বারংবার প্রার্থনা করতে থাকেন, ফলে ছালাত করা হয় পাঁচ ওয়াক্ত, নাপাকীর গোসল করা হয় একবার এবং পেশাব হতে কাপড় ২১৫ ধোয়া হয় একবার।” তাহক্বীকু: যঈফ। ১২১৬ باب الغسل المسنون

অনুচ্ছেদ: শরী’আতে বিহিত গোসল সমূহ 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(١٠٥) عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ كَانَ يَغْتَسِلُ مِنْ أَرْبَعٍ مِنْ الْحَنَابَةِ وَيَوْمَ الْجُمُعَةِ وَمِنَ الْحِجَامَةِ وَمِنْ غُسل الميت. أبو داود : كتاب الطهارة باب في العمل يوم الجمعة. (১০৫) আয়েশা হতে বর্ণিত আছে, নবী করীম চারটি কারণে গোসল করতেন- নাপাকীর কারণে, জুম’আর দিনে, শিঙ্গা লাগানোর কারণে ও মুরদাকে গোসলদানের কারণে। ২১৭ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২১৯ باب مخالطة الجنب وما يباح له

অনুচ্ছেদ: অপবিত্র ব্যক্তির সাথে মিলামিশা ও তার পক্ষে যা বৈধ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

পৃষ্ঠা:৪৬

(١٠٦) عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَغْتَسِلُ مِنْ الْحَنَابَةِ ثُمَّ يَسْتَدْفَى بِي قبل أن أغتسل. ابن ماجة : كتاب الطهارة وسنها باب في الحب يستدعي بامرأته قبل أن تغسل. (১০৬) আয়েশা বলেন, রাসূল নাপাকীর গোসল করতেন, অতঃপর আমাকে জড়িয়ে ধরে শরীর গরম করতেন আমার গোসল করার পূর্বেই। তাহক্বীকু: যঈফ। ২২০ (۱۰۷) عَنْ عَلَى قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَخْرُجُ مِنْ الْحَلَاءِ فَيُقْرِلُنَا الْقُرْآنَ وَيَأْكُلُ معنا اللحْمَ وَلَمْ يَكُنْ يَحْجُبُهُ أَوْ قَالَ يَحْجِرُهُ عَنْ الْقُرْآنِ شَيْءٌ لَيْسَ الْحَنابَة. ابو داود : كتاب الطهارة تاب في الحب يقرأ القرآن النسائي : كتاب الطهارة باب حجب الحب من قراءة القرآن (১০৭) আলী বলেন, নবী পায়খানা থেকে বের হয়ে আমাদের কুরআন পড়াতেন এবং আমাদের সাথে গোশত খেতেন। তাঁকে অপবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছু কুরআন পড়া থেকে বিরত রাখত না। ২২১ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২২২ (۱۰۸) عن ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تَقْرَأ الْحَائِضِ وَلَا الْجَنبُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ. الترمذي : كتاب الطهارة باب ما جاء في الحب والحائض أَنَّهُمَا لَا يقرأن القرآن (১০৮) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, ঋতুবতী ও অপবিত্র ব্যক্তি কুরআনের কোন অংশ পড়বে না। ২০ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি মুনকার। (۱۰۹) عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ وَجهُوا هَذِهِ الْبُيُوتَ عَنِ الْمَسْجِدِ فَإِنِّي لا أُحِلُّ الْمَسْجِدَ لِحائِضِ وَلَا جُنب. ابو داود : كتاب الطهارة باب في الحلب يدخل المسجد.

পৃষ্ঠা:৪৭

(১০৯) আয়েশা বলেন, একদা রাসূল বললেন: এই সকল ঘরের দরজা মসজিদের দিক হতে (অন্য দিকে) ফিরিয়ে দাও। কারণ আমি মসজিদকে ঋতুবতী স্ত্রীলোক ও নাপাক ব্যক্তির জন্য জায়েয মনে করি না। ২২৪ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২২০ (۱۱۰) عَنْ عَلَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ وَلَا كلب ولا حلب. أبو داود : كتاب اللباس باب في الصور النسائي : كتاب الصيد والذبائح باب امتناع الملائكة من دخول بيت فيه كلب (১১০) আলী বলেন, রাসূল বলেছেন, (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না সেই ঘরে, যাতে কোন ছবি রয়েছে অথবা কুকুর বা নাপাক ব্যক্তি রয়েছে। ২২৬ তাহক্বীক্ব: যঈফ। (۱۱۱) عن نافع قال الطلقتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فِي حَاجَةٍ فَقَضَى ابْنُ عُمَرَ حَاجَتَهُ وكان من حديثه يومتد أن قَالَ مَرَّ رَجُلٌ في سكة من السَّكَ فَلَقَى رَسُولَ الله وَقَدْ خَرَجَ مِنْ غَائِطِ أَوْ بَوْلِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ حَتَّى إِذَا كَادَ الرَّجُلُ أن يتوارى في السكة ضرب بيديه على الحائط وَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ ثُمَّ ضَرَبَ ضربة أُخرى فَمَسَحَ ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ رَدَّ عَلَى الرَّجُلِ السَّلَامَ وَقَالَ إِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرَدَّ عَلَيْكَ السَّلَامَ إِلَّا أَنِّي لَمْ أَكُنْ عَلَى طُهْرٍ. أبو داود : كتاب الطهارة باب التيسم في الخضر. (১১১) নাফে বলেন, একবার আমি আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ)-এর সাথে তাঁরই কোন কাজে গেছিলাম। অতঃপর তিনি তাঁর কাজ সমাধা কররেন। সেই দিন তাঁর কথার মধ্যে এই কথাটি ছিল, তিনি বললেন, এক ব্যক্তি কোন এক গলিতে চলছিল এবং তথায় নবী-এর সাক্ষাৎ পেল। তিনি তখন পায়খানা বা পেশাব হতে বের হচ্ছিলেন। সে রাসূল-কে সালাম করল, কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। এমন কি, যখন লোকটি গলিতে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছিল, তখন রাসূল দুই হাত দেওয়ালের উপর মারলেন এবং উহা দ্বারা

পৃষ্ঠা:৪৮

মুখমণ্ডল মাসহে করলেন। তারপর লোকটির সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, আমি ওষু অবস্থায় ছিলাম না। আর তাই তোমার সালামের উত্তর দিতে আমাকে বাধা দিয়েছিল। তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২২৯ (۱۱۲) عَنْ شُعْبَةَ قَالَ إِنَّ ابْن عَبَّاسٍ كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْحِنَابَةِ يُفْرِغْ بَيَدِهِ اليمنى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى سَبْعَ مِرَارٍ ثُمَّ يَغْسِلُ فَرْحَهُ فَنَسِيَ مَرَّةً كَمْ أَفْرَغَ فَسَأَلَنِي فَقُلْتُ لَا أَدْرِي فَقَالَ لا أُمَّ لَكَ وَمَا يَمْنَعُكَ أَن تَدْرِي ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوعه للصلاة ثُمَّ يفيض على جلده الْمَاء ثُمَّ يَقُولُ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَتَطَهَّرُ. أبو داود : كتاب الطهارة باب في العمل من الحناية. (১১২) শু’বা বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস যখন নাপাকীর গোসল করতেন, তখন ডান হাত দ্বারা বাম হাতের উপর সাতবার পানি ঢালতেন, অতঃপর গুপ্তাঙ্গ ধৌত করতেন। একবার তিনি ভুলে গেলেন যে, পানি কতবার ঢেলেছেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম, আমি বলতে পারি না। তিনি বললেন, তুমি মাতৃহীন হও। কিসে তোমাকে ইহা জানতে বাধা দিল? তিনি তাঁর ছালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করেন, তারপর নিজের শরীরের উপর পানি ঢাললেন। একদা এইরূপ গোসল করলেন, অতঃপর বললেন, এইভাবে রাসূল পবিত্রতা লাভ করতেন। তাহক্বীকু: যঈফ। ২০১ باب احكام المياه

অনুচ্ছেদ: পানির বিধি-নিষেধ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۱۳) عن أبي زيد عن عبد الله بن مسعود أن النَّبِيُّ ﷺ قَالَ لَهُ لَيْلَةَ الْجِنِّ مَا في إِدَاوَتِكَ قَالَ نَبيد قَالَ تَمرة طيبة وماء طهور رواه أبو داود وزاد أحمد والترمذي فتوضاً منه وقال الترمذي أبو زيد مجهول. أبو داود : كتاب الطهارة باب الوضوء بالبيد الترمذي : كتاب الطهَارَةِ بَاب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ بِالنَّبِيد

পৃষ্ঠা:৪৯

(১১৩) আবু যায়েদ আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’উদ রাত্রিতে নবী করীম তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘নবীয’। রাসূল পানি পবিত্রকারী। ২০২ হতে বর্ণনা করেন, জিনের তোমার মশকে কী রয়েছে? বললেন, খেজুর পাক এবং তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২০০ (١١٤) عَنْ جَابِرٍ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ أَنتَوَضَّأُ بِمَا أَفْضَلَتِ الْحُمْرُ ؟ قَالَ : نَعَمْ وَبِمَا أَفْضَلَتِ السَّبَاعُ كُلَّهَا. (১১৪) জাবের বলেন, রাসূল-কে জিজ্ঞেস করা হল, আমরা কি গাধার উচ্ছিষ্ট পানি দ্বারা ওযু করতে পারি? উত্তরে তিনি বললেন, হাঁ; বরং সকল হিংস্র জন্তুর উচ্ছিষ্ট দ্বারাই। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١١٥) عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ خَرَجَ فِي رَكبَ فِيهِمْ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ حَتَّى وَرَدُوا حَوْضًا فَقَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ يَا صَاحِبَ الْحَوْضِ هلْ تَردُ حَوْضَكَ السَّباعُ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَا صَاحِبَ الْحَوْضِ لَا تُخْبَرَنَا فَإِنَّا نَرِد على السباع وترد علينا، وزاد رزين قال زاد بعض الرواة في قول عمر وإني سمعت رسول الله ﷺ يقول لها ما أخذت في بطونها وما بقي فهو لنا طهور وشراب. (১১৫) ইয়াহইয়া ইবনু আব্দির রহমান বলেন, একবার ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব এক কাফেলার সাথে বের হলেন, যাদের মধ্যে ‘আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ)ও ছিলেন। চলতে চলতে তারা একটি হাওযের নিকট পৌঁছলেন। তখন আমর ইনুল আছ বললেন, হে হাওযের মালিক! তোমার হাওযে কি হিংস্র জন্তরাও পান করতে আসে? এ সময় ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব বলেন, হে হাওযের মালিক! আমাদের এ সংবাদ দিও না। এই পানির ঘাটে কখনও আমরা আসি আর কখনও জন্তুরা আসে।

পৃষ্ঠা:৫০

(١١٦) عن أبي سعيد الخدري أن النبي ﷺ مثل عَنْ الْحَيَاضِ الَّتِي بَيْنَ مَكة والمدينة تردها السَّباعُ وَالْكِتَابُ وَالْحُمْرُ وَعَنْ الطَّهَارَةِ مِنْهَا فَقَالَ لَهَا مَا حملت في بُطُونِهَا وَلَنَا مَا غَيْرَ طَهُورٌ ابن ماجة : كتاب الطهارة ومنها باب الحياض (১১৬) আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত একদা রাসূল-কে জিজ্ঞেস কর হল, মক্কা ও মদীনার মধ্যে অবস্থিত কূপসমূহ সম্পর্কে, যাতে হিংস্র জন্তু, কুকুর ও গাধাসমূহ পানি পান করতে আসে। উহাদের পানি কি পাক? উত্তরে রাসূল বললেন, তাদের পেটে যা উঠিয়ে নিয়েছে তা তাদের জন্য আর যা অবশিষ্ট রয়েছে তা আমাদের জন্য পাক। ২৩৮ তাহক্বীক্ব: যঈফ। (۱۱۷) عَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَا تَغْتَسِلُوا بِالْمَاءِ الْمُتَمَّسِ فَإِنَّهُ يُورِثُ الْبَرص (১১৭) ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব গল্প হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রৌদ্রে গরম করা পানি দ্বারা গোসল করিও না। কেননা, ইহা শ্বেত-কৃষ্ঠা সৃষ্টি করে। ২০ 480 তাহক্বীকু: যঈফ। ২৪১ باب تظهير النجاسات

অনুচ্ছেদ: অপবিত্র হতে পবিত্রকরণ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۱۸) عَنْ عَائِشَعْرَضَى اللهُ عَنْهُ أَن رَسُولُ الله ﷺ أمر أن يستمتع بحقود الميتة إذا دبعت. (১১৮) আয়েশা হতে বর্ণিত আছে, রাসূল আদেশ দিয়েছেন মৃতের চামড়াসমূহ দ্বারা ফায়দা নিতে, যখন উহা পাকা করা হয়। ২৪২তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৪০

পৃষ্ঠা:৫১

باب المسح على الخفين 

মোজার উপরে মাসহে করা অনুচ্ছেদ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۱۹) عَنِ الْمُغيرة بن شعبة قال وضَأْتُ النبي ﷺ فِي غَزْوَة تَبُوكَ فَمَسَحَ أَعْلَى الخف وأسفله رواه أبو داود والترمذي وابن ماجه وقال الترمذي هذا حديث معلول وسألت أبا زرعة ومحمدا يعني البخاري عن هذا الحديث فقالا ليس يصحيح وكذا ضعفه أبو داود ابو داود : كتاب الطهارة باب كيف المسيح ابن ماجة : كتاب الطهارة ومنها باب ما جاء في مسح أعلى الحف وأسفله (১১৯) মুগীরা ইবনু শো’বা বলেন, আমি তাবুক যুদ্ধে নবী করীম- কে ওযু করিয়েছি। তিনি মোজার উপর দিক ও উহার নীচের দিক উভয়ই মাসহে করেছেন। তাহক্বীকু: যঈফ। (۱۲۰) عن المغيرة بن شعبة أن رسول الله ﷺ مَسَحَ عَلَى الْحُفْيْنِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ الله أنسيت قَالَ بَلْ أَنت نسيت بهذا أَمْرَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ. ابو داود : كتاب الطهارة باب المسح على الخفين (১২০) মুগীরা বলেন, রাসূল একদা মোজাদ্বয়ের উপরে মাসাহ করলেন। আমি আল্লহর রাসূল তুমিই ভুলে গেছ। এরূপ করার দিয়েছেন যিনি মহান ও সম্মানিত। আপনি কি ভুলে গেছেন? তখন বললেন জন্যই আমার প্রতিপালক আমাকে নির্দেশ

পৃষ্ঠা:৫২

ঋতু অনুচ্ছেদ 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۲۱) عَنْ مُعاد من حمل قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَمَّا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنْ امرأته وَهِيَ حَائِضَ قَالَ فَقَالَ مَا فَوْقَ الْإِزَارِ وَالتَّعَفُّفُ عَنْ ذَلِكَ أَفْضَلُ رَواه رزين وقال محيى السنة إسناده ليس بقوي (১২১) মু’আয ইবনু জাবাল রাসূল! আমার স্ত্রীর সাথে বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর আমার কী কী করা হালাল যখন সে ঋতুবতী থাকে? উত্তরে তিনি বললেন, তহবন্দের উপর (যা করতে চাও তা হালাল)। কিন্তু এ থেকে বিরত থাকাই উত্তম। ১৮ তাহক্বীকু: যঈফ। ইমাম আবুদাউদ বলেন, (۱۲۲) عَنْ ابْنِ عَبَّاسِ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا وَقَعَ الرَّجُلُ بِأَهْلِهِ وَهِيَ حَائِضِ فَلْيَتَصَدَّق ينصف دينار. الترمذي : كتاب الطهارة باب ما جاء في الكفارة في ذلك ابو داود : كتاب الطهارة باب في إليان الخالص ابن ماجة : كتاب الطهارة وسنتها باب من وقع على امرأته وهي خالص (১২২) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন সে যেন অর্ধ দীনার খয়রাত করে। তাহক্বীক্ব: যঈফ। উল্লেখ্য, যে হাদীছে এক দীনার বা অর্ধ দীনার উল্লেখ রয়েছে সে হাদীছ ছহীহ। ২০২ (۱۲۳) عن ابن عباس عن النبي ﷺ قَالَ إِذا كانَ دَما أَحْمَرَ فَدِينَارٍ وَإِذَا كَانَ دَمَّا أَصْفَرَ قنصف دينار. الترمذي : كتاب الطهارة باب ما جاء في الكفارة في ذلك

পৃষ্ঠা:৫৩

(১২৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাসূল হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যখন রক্ত লাল থাকে তখন এক দীনার আর যখন রক্ত পীত রং ধারণ করে তখন অর্ধ দীনার। ২০৩ তাহক্বীক্ব: যঈফ।***

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٢٤) عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنتُ إِذا حضتُ نَزَلْتُ عَنْ الْمَثالِ عَلَى الْحَصِيرِ فَلَمْ تقْرُبَ رَسُولَ اللهِ ﷺ وَلَمْ نَدْنُ مِنْهُ حَتَّى تَطْهُرَ. ابو داود : كتاب الطهارة باب في الرجل يُصيب منها ما دون الجماع বলেন, যখন আমি ঋতুবতী থাকতাম, তখন বিছানা (১২৪) আয়েশা হতে মাদুরে নেমে আসতাম। তখন আমরা তাঁর নিকট যেতেম না, যে পর্যন্ত না আমরা পবিত্র হতাম। ২৫৫ তাহক্বীকু: হাদছিটি যঈফ। ২৫৬ كتاب الصلوة 

ছালাত অধ্যায়

باب فضائل الصلوة

অনুচ্ছেদ: ছালাতের ফযীলত ও মাহাত্ম্য 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٢٥) عن عبد الله بن عمرو بن العاص عن النبي ﷺ أَنَّهُ ذَكَرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَقَالَ مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا وَبُرْهَانَا وَنَجَاةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظ عَلَيْهَا لَمْ تَكُنْ لَهُ نُورٌ وَلَا بُرْهَانَ وَلَا تَحَاةٌ وَكَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ وَفَرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَأَبِي بْنِ خَلْفَ. (১২৫) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল ‘আছ হতে বর্ণিত, রাসূল একদিন ছালাতের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, যে ব্যক্তি ছালাতের সংরক্ষণ

পৃষ্ঠা:৫৪

করবে কিয়ামতের দিন তা তার জন্য জ্যোতি, প্রমাণ ও মুক্তির উপায় হবে। আর যে তার হেফাযত করবে না তার জন্য তা জ্যোতি, প্রমাণ ও মুক্তির উপায় হবে না। ক্বিয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরআউন, হামান ও উবাই ইবনু খালাফের সাথে হবে। ২৫৭ তাহক্বীকু: যঈফ। ১৫৮ উল্লেখ্য, উক্ত হাদীছকে মিশকাতে ছহীহ বলা হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত তাহক্বীকে যঈফ প্রমাণিত হয়েছে। ৫৯ باب مواقيت الصلوة

অনুচ্ছেদ: ছালাতের সময়সমূহ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٢٦) عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى عُمَّالِهِ إِنْ أَهَمَّ أمركم عندى الصَّلاةُ مَنْ حفظها و حافظ عَلَيْهَا حَفَظَ دِينَهُ وَمَنْ ضَيَّعَهَا فَهُوَ لما سواها أَصْبَعُ ثُمَّ كَتَبَ أَن صَلُّوا الظهر إنْ كَانَ الْقَيْءِ دَرَاعًا إِلَى أَنْ يَكُونَ ظل أحدكم مثله والعصر والشمس مرتفعة بيضاء نقيَّةٌ قَدْرَ مَا يَسِيرُ الرَّاكِبُ فرستين أو ثلاثة وَالْمَغْرِبَ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءُ إِذَا غَابَ الشَّفَقَ إِلَى ثلث اللَّيْلِ فَمَنْ نَامَ فَلا نَامَتْ عَيْنَهُ فَمَنْ نَامَ فَلا نَامَتْ عَيْنَهُ فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عينه والصُّبْحَ وَالنُّجُومُ بَادِيَة مُشتبكة. (১২৬) ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব হতে বর্ণিত, তিনি নিজ প্রশাসকদের নিকট লিখলেন, আমার নিকট আপনাদের সমস্ত কাজের মধ্যে ছালাতই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যে তার হোফাযত করেছে এবং যথাযথভাবে তাকে রক্ষা করেছে, সে তার দ্বীনকে রক্ষা করেছে। আর যে তাকে বিনষ্ট করেছে সে তা ব্যতীত অপরগুলোর পক্ষে আরও অধিক বিনষ্টকারী সাব্যস্ত হবে। অতঃপর তিনি লিখলেন, যোহর আদায় করবে যখন ছায়া এক হাত হবে, তোমাদের প্রত্যেকের ছায়া সমান হওয়া পর্যন্ত, আছর আদায় করবে যখন সূর্য উচ্চে পরিষ্কার সাদা থাকে, যাতে একজন (উট) সওয়ার সূর্য অদৃশ্য হবার পূর্বেই দুই বা তিন ‘ফর্সখ’ অতিক্রম করতে পারে এবং মাগরিব আদায় করবে যখনই সূর্য

পৃষ্ঠা:৫৫

ডুবে যাবে। এশা আদায় করবে যখন ‘শফকু’ ডুবে যাবে রাত্রের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। যে ঘুমাবে এর পূর্বে তার চক্ষু না ঘুমাক। যে ঘুমাবে এর পূর্বে তার চক্ষু না ঘুমাক !! যে ঘুমাবে এর পূর্বে তার চক্ষু না ঘুমাক! এবং ফজর আদায় করবে যখন তারকারাজি পরিষ্কার হয় এবং চমকে। ২০০ তাহক্বীকু: যঈফ। ২০১ باب تعجيل الصلوة

অনুচ্ছেদ: জলদি ছালাত আদায় করা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۲۷) عَنْ عَلى أَن النَّبِيِّ ﷺ قَالَ يَا عَلَى ثَلَاثَ لَا تُؤَخِّرُهَا الصَّلَاةُ إِذَا أَنتَ وَالْجَنَازَةُ إِذَا حَضَرَتْ وَالْأَيْمُ إِذَا وَحَدَّتَ لَهَا كُفْتا. الترمذي : كتاب الصلاة باب مَا جَاءَ فِي الْوَقْتِ الْأَوَّلِ مِنَ الْفَضْلِ (১২৭) আলী হতে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন, হে আলী। তিনটি বিষয়ে বিলম্ব কর না। ছালাত, যখন তার সময় আসে, জানাযা যখন উপস্থিত হয়, স্বমীহারা নারী, যখন তুমি সমগোত্র ও সমশিল্প বর পাও। ১৬২ তাহক্বীকু: যঈফ। ২৬০ (۱۲۸) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْوَقْتُ الْأَوَّلُ مِنَ الصَّلَاةِ رِضْوَانُ الله وَالْوَقْتُ الْآخِرُ عَفْو الله. الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاءَ فِي الْوَقْتِ الْأَوَّلِ مِنَ الْفَضْلِ (১২৮) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, ছালাতের প্রথম সময় হচ্ছে আল্লাহর সন্তোষ এবং শেষ সময় হচ্ছে আল্লাহর ক্ষমা। তাহক্বীকু: হাদীছটি জাল। ২০০ باب فضائل الصلوة

অনুচ্ছেদ: ছালাতের ফযীলত

পৃষ্ঠা:৫৬

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۲۹) عَنْ زَيْدُ بْن ثابت وَعَائِشَةَ قَالاً صَلَاةَ الْوُسْطَى صَلاة الظهر. (১২৯) যায়েদ ইবনু ছাবেত ও আয়েশা বলেন, ‘ওসতা’ ছালাত যোহরের ছালাত। ২৬৬ তাহক্বীকু: যঈফ। ২০৭

(۱۳۰) عن مالك بلغه أن علي بن أبي طالب وعبد الله بن عباس كانا يقولان صَلاةُ الْوُسْطَى صلاة الصبح. رواه في الموطأ (১৩০) ইমাম মালেকের নিকট বিশ্বস্ত সূত্রে পৌঁছেছে, আলী ও আব্দুল্লাহ ইবনু ২৬৮ আব্বাস বলতেন, ‘ওছতা ছালাত’ ফজরের ছালাত। তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২৬৯ (۱۳۱) عَنْ سَلْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ غَدًا إِلَى صَلَاةِ الصُّبْحِ غَدًا بِرَايَةِ الْإِيمَانِ وَمَنْ غَدًا إِلَى السُّوقِ غَدًا بَرَايَةِ إِبليس. ابن ماجة : كتاب التجارات باب الأسواق ودخولها (১৩১) সালমান বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ভোরে ফজরের ছালাতের দিকে গেল, সে ঈমানের পতাকা নিয়ে গেল। আর যে ভোরে (ছালাত না আদায় না করে) বাজারের দিকে গেল, সে শয়তানের পতাকা নিয়ে গেল। ২৭০ তাহক্বীক্ব: নিতান্তই যঈফ। ২৭১ باب الاذان

অনুচ্ছেদ: আযান

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۳۲) عَنْ بِلَالٍ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تُتَوبَنَّ فِي شَيْءٍ مِنَ الصَّلَوَاتِ إِلَّا

পৃষ্ঠা:৫৭

في صلاة الفجر، رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي أبو إسرائيل الراوي ليس هو بذاك القوي عند أهل الحديث. الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في الويب في الفخر (১৩২) বেলাল বলেন, রাসূল আমাকে বলেছেন, কোন ছালাতই ‘তাসবীব’ করবে না ফজরের ছালাত ব্যতীত। ২৭২ তাহক্বীক্ব: যঈফ। (۱۳۳) عن حجابِرٍ أَنْ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ البِلال يَا بَلَالُ إِذَا أَذْنَتَ فَتَرَسَلٌ فِي أَذَانَكَ وَإِذَا أَقَمْتَ فَاحْذَرْ وَاجْعَلْ بَيْنَ أَذَانَكَ وَإِقَامَتِكَ قَدْرَ مَا يَفْرُغُ الْأَكِلُ مِنْ أكله والشارب من شربهِ وَالْمُعْتَصِرُ إِذا دخل لِقَضَاءِ حَاجَتِهِ وَلَا تَقُومُوا حَتَّى تروني روه الترمذى وقال لا تعرفه إلا من حديث عبد المنعم وَهُوَ إِسناد مجهول. (১৩৩) জাবের বলেন, রাসূল বেলালকে বললেন, যখন আযান দিবে, ধীরে ধীরে দিবে এবং যখন ইকামত বলবে, তাড়াতাড়ি বলবে এবং তোমার আযান ও ইক্বামতের মধ্যে এই পরিমাণ সময় রাখবে, যাতে খাওয়ার হাজতী তার খাওয়া হতে, পানের হাজতী তার পান হতে এবং পায়খানা-প্রস্রবের হাজতী যখন তার হাজত পূর্ণ করতে গিয়েছে, তার হাজত হতে অবসর গ্রহণ করে সারে এবং তোমরা ছালাতের জন্য দাঁড়বে না যে পর্যন্ত না আমাকে দেখ।  তাহক্বীক্ব: যঈফ। (١٣٤) عَنْ زِيَادِ بْنِ الْحَارِثِ الصَّدَائِي قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ أَوَذْنَ فِي صلاة الفجرِ فَأَذَنْتُ فَأَرَادَ بِلال أَنْ يُقِيمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنْ أَحَا صَدَاءٍ قَدْ أَذْنَ وَمَنْ أَذَنَ فَهُوَ يُقِيمُ الترمذي : كتاب الصلاة باب مَا جَاءَ أَنَّ مَنْ أَذْنَ فَهُوَ يُقِيمُ

পৃষ্ঠা:৫৮

(১৩৪) যিয়াদ ইবনু হারিছ ছুদাঈ বলেন, রাসূল আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, ফজরের ছালাতের আযান দাও। ফলে আমি আযান দিলাম। অতঃপর বেলাল ইক্বামত দিতে চাইলে রাসূল বলেন, ভুদাঈ আযান দিয়েছে। আর যে আযান দিবে সেই ইক্বামত দিবে। ২৭৬ তাহক্বীকু: যঈফ। ২৭৭

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٣٥) عن أبي بكرة قَالَ خَرَجْتُ مع النبي لصلاة الصبح فَكَانَ لَا يَمُرُّ يرَجُلٍ إِلَّا نَادَاهُ بِالصَّلَاةِ أَوْ حَرَّكَهُ بِرِحْلِهِ. ابو داود : كتاب الصلاة باب الاضطباع بعدها (১৩৫) আবু বাকরা বলেন, একদা আমি রাসূল-এর সাথে ফজরের ছালাতের জন্য বের হলাম। তখন তিনি যার নিকট দিয়ে যেতেন তাকে ছালাতের জন্য আহ্বান করতেন অথবা স্বীয় পা দ্বারা তাকে নেড়ে দিতেন। ২৭৬তাহক্বীক্ব: যঈফ। (١٣٦) عن مالك بلغه أن المؤذن حاء عمر يؤذنه لصلاة الصبح فوحده نائما فقال الصلاة خير من النوم فأمره عمر أن يجعلها في نداء الصبح. (১৩৬) ইমাম মালেকের নিকট বিশ্বস্ত সূত্রে এই হাদীছ পৌঁছেছে যে, জনৈক মুআয্যিন ওমর-এর নিকট আসল তাঁকে ফজরের ছালতের জন্য জাগাতে এবং তাঁকে নিদ্রিত অবস্থায় পেল। সে বলল, ‘ছালাত নিদ্রা অপেক্ষা উত্তম’, তখন ওমর তাকে তা ফজরের ছালাতের আযানেই সংযোগ করতে বললেন।

পৃষ্ঠা:৫৯

(۱۳۷) عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعْدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ سَعْدِ مُؤَذِّنَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حدثني أبي عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَدَّه أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَمَرَ بِلَالًا أَنْ يَجْعَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ وَقَالَ إِنَّهُ أَرْفَعُ الصوتك. ابن ماجه كتاب الأذان والسنة فيه باب السنة في الأذان (১৩৭) আব্দুর রহমান ইবনু সা’দ ইবনু আম্মার ইবনু সা’দ রাসূল-এর মুআয্যিন বলেন, আমার পিতা তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে সা’দ হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূল বেলালকে হুকুম দিলেন তাঁর দুই আঙ্গুল তাঁর দুই কানের মধ্যে সংস্থাপন করতে এবং বললেন, এটা তোমার স্বরকে উচ্চ করবে। তাহক্বীকু: যঈফ।

باب فضل الأذان وإجابة المؤذن

অনুচ্ছেদ: আযানের মাহাত্ম ও এবং মুআযযিনের জবাব দেওয়ার বিবরণ

 দ্বিতীয় অধ্যায়

(۱۳۸) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنْ أَذْنَ سَبْعَ سِنِينَ مُحْتَسِبًا كُبَتْ لَهُ براءة من النار. الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في فضل الأذان ابن ماجة : كتاب الأذان والسنة فيه باب فضل الْأَذَانِ وَثَوَابِ الْمُؤدِّيين (১৩৮) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি ছওয়াবের নিয়তে সাত বছর আযান দিবে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন হতে ২৮৪ মুক্তি নির্ধারিত। তাহক্বীকু: যঈফ। ২৮৫ ( ۱۳۹) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ ثَلاثَةٌ عَلَى كُتبَانَ الْمَسْكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عبد أَدَّى حَقَّ الله وَحَقَّ مَوَالِيهِ وَرَجُلٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ بِهِ رَاضُونَ وَرَجُلٌ ينادي بالصلواتِ الْخَمْسِ فِي كُل يَوْمٍ وَلَيْلة.

পৃষ্ঠা:৬০

الترمذي : كتاب البر والصلة باب ما جاء في فضل المملوك الصالح (১৩৯) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, তিন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন মেশকের (কস্তুরীর) স্তূপের উপর হবে। (১) যে ক্রীতদাস আল্লাহ তা’আলার ও আপন প্রভুর হক ঠিকমত আদায় করে। (২) যে ব্যক্তি কোন জাতির ইমামতি করে আর তারা তাঁর প্রতি সন্তুষ্টি এবং (৩) যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের জন্য প্রত্যেক দিনে ও রাত্রে আযান দেয়। ১৬৬ তাহক্বীক্ব: যঈফ। (١٤٠) عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضى الله عَنْهَا قَالَتْ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ أَقُولَ عِنْدَ أَذَانِ الْمَغْرِب اللهمَّ إِنْ هَذَا إِقْبَالُ لَيْلكَ وَإِدْبَارُ نَهَارِكَ وَأَصْوَاتُ دُعَاتِكَ فَاغْفِرْ لي. ابو داود : كتاب الصلاة باب مَا يَقُولُ عِنْدَ أَذان المغرب (১৪০) উম্মে সালামা বলেন, রাসূল আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আমি যেন মাগরিবের আযানের সময় বলি اللهُمَّ إِنْ هَذَا إِقْبَالُ لَيْلَكَ وَإِدْبَارُ نَهَارِكَ وَأَصْوَاتُ دُعَاتِكَ فَاغْفِرْ لِي. হে আল্লাহ! ইহা তোমার রাত্রের আগমন, তোমার দিনের প্রস্থান এবং তোমার মুআযযিনদের আযানের সময়। আমাকে ক্ষমা কর। ২৮৮ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২৬৮৯ (١٤١) عَنْ أَبِي أَمَامَةً أَوْ بَعْضٍ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِنَّ بِلَالًا أَحَدَ فِي الْإِقَامَةِ فَلَمَّا أَنْ قَالَ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَقَامَهَا اللَّهُ وَأَدَامَهَا وَ قال في سائر الإقامة كنحو حديث عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي الْأَذَانِ. أبو داود : كتاب الصَّلَاةِ بَاب مَا يَقُولُ إِذَا سَمِعَ الْإِقَامَةِ

(১৪১) আবু উমামা অথবা রাসূল-এর জনৈক ছাহাবী বলেন, একদা বেলাল ইক্বামত দিতে আরম্ভ করলেন। যখন তিনি বললেন, ‘ক্বাদক্কা-মাতিছ ছালাহ্’, রাসূল বললেন, ‘আক্কা-মাহাল্লাহু ওয়াআদামাহা’। আল্লাহ উহাকে

পৃষ্ঠা ৬১ থেকে ৮০

পৃষ্ঠা:৬১

(ছালাতকে) সুপ্রতিষ্ঠিত করুন ও স্থায়ী করুন। বাকী সমস্ত ইকামতে ওমর বর্ণিত হাদীছে আযানের জওয়াবে যেরূপ উল্লেখ রয়েছে সেরূপই বললেন। ১৯০ তাহক্বীকু: যঈফ। ২৯১ باب فيه فصلان

অনুচ্ছেদ: আযানের সংশ্লিষ্ট বিষয়

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٤٢) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ حَصَلَتَانِ مُعَلَّقَتَانِ فِي أَعْنَاقِ الْمُؤَذِّنِينَ لِلْمُسْلِمِينَ صَلَاتُهُمْ وَصِيَامُهُمْ. ابو داود : كتاب الأذان والسنة فيه باب السنة في الأذان (১৪২) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, মুসলিমদের দুইটি বিষয় মুআযযিনদের ঘাড়ে ঝুলে বয়েছে। রোযা এবং তাদের ছালাত। ২৯২তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল। ১৯০ باب المساجد ومواضع الصلاة 

মসজিদ ও ছালাতের স্থানসমূহ 

দ্বিতীয় অধ্যায়

(١٤٣) عن أنس بن مالك قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ عُرَضَتْ عَلَى أُحُورٌ أُمَّني حَتَّى الْقَدَاةُ يُخرجها الرَّجُلُ من المسجد وعُرضَتْ عَلَيَّ ذُنُوبُ أُمَّتِي فَلَمْ أَرْ ذَنْبًا أَعْظَمَ مِنْ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ أَوْ آيَةٍ أُوتِيَهَا رَجُلٌ ثُمَّ نَسِيَهَا. أبو داود : كتاب الصلاة باب في كس المسجد الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء كيف كانت قراءة التي كل. (১৪৩) আনাস বলেন, রাসূল উম্মতের সমস্ত নেকী উপস্থিত করা হয়, যা কেউ মসজিদ হতে বের করে দেয়। বলেছেন, আমার নিকট আমার এমনকি একটি খড়-কুটার ছওয়াবও, এইরূপে আমার নিকট উপস্থিত করা

পৃষ্ঠা:৬২

হয় আমার উম্মতের গুনাহসমূহ, তখন আমি এই গুনাহ্ অপেক্ষা বড় কোন গুনাহ্ দেখিনি যে, কোন ব্যক্তিকে কুরআনের একটি সূরা অথবা একটি আয়াত the দেওয়া হয়েছে, অতঃপর সে তা ভুলে গেছে। তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২৯ (١٤٤) عن أبي سعيد قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يَتَعَاهَدُ الْمَسْجِدَ فَاشْهَدُوا لَهُ بِالْإِيمَانَ فَإِنَّ الله تَعَالَى يَقُولُ إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهُ مَنْ آمَنَ بِاللَّه وَالْيَوْمِ الآخِرِ وأقام الصلاة وآتى الزكاة الآية (১৪৪) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমরা কাউকে দেখবে, সে নিয়মিত মসজিদে আসা যাওয়া করে এবং তত্ত্বাবধান করে, তখন তার ঈমান আছে বলে সাক্ষী দিবে। কেননা, আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আল্লাহর মসজিদ সমূহকে আবাদ করে ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে। তাহক্বীক্ব: যঈফ। (১৪৫) ওছমান ইবনু মাযউন হতে বর্ণিত, একদা তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে খোজা হইতে অনুমতি দিন। রাসূল বললেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মত নয়, যে কাউকে খোজা করেছে অথবা নিজে খোজা হয়েছে। আমার উম্মতের খোজাত্ব হল ছিয়াম। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল। আমাদেরকে ভ্রমণ করতে অনুমতি দিন: রাসূল বললেন, আমার উম্মতের ভ্রমণ হল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। অতঃপর তিনি বললেন, আমাদেরকে বৈরাগী হওয়ার অনুমতি দিন। রাসূল বললেন, আমার উম্মতের বৈরাগ্য হচ্ছে ছালাতের অপেক্ষায় মসজিদে বসে থাকা।তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল। (١٤٦) عن أبي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِذَا مَرَرْتُمْ بِرِياضِ الْجَنَّةِ فَارْتَعُوا قُلْتُ يَا رَسُولَ الله وَمَا رِيَاضُ الْجَنَّةِ قَالَ الْمَسَاجِدُ قُلْتُ وَمَا الرَّبُّعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ.

পৃষ্ঠা:৬৩

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في عقد المسيح باليد (১৪৬) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমরা জান্নাতের বাগান সমূহের নিকট দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন তার ফল খাবে। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের বাগান কী? রাসূল বললেন, মসজিদ সমূহ। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হল, তাতে ফল খাওয়া কি? سبحانَ الله وَالْحَمْدُ للهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا الله والله أكبر 1971 বলা। তাহক্বীক্ব: যঈফ।৩০১ (١٤٧) عن فاطمة بنت الحسين عن حدتها فاطمة الكبرى رضي الله عنهم قالت كان النبي ﷺ إذا دخل المسجد صلى على محمد وسلم وقال رب اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك وإذا خرج صلى على محمد وسلم وقال رب اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب فضلك . رواه الترمذي وأحمد وابن ماجه وفي روايتهما قالت إذا دخل المسجد وكذا إذا خرج قال بسم الله والسلام على رسول الله بدل صلى على محمد وسلم وقال الترمذي ليس إسناده بمتصل وفاطمة بنت الحسين لم تدرك فاطمة الكبرى. (১৪৭) ফাতেমা বিনতে হুসাইন আপন দাদী ফাতেমায়ে কুবরা হতে বর্ণনা করেন যে, ফাতেমা কুবরা বলেছেন, নবী করীম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন মুহাম্মদের প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করতেন এবং বলতেন, ‘হে পরওয়ারদেগার! আমার গুনাহসমূহ মাফ কর এবং তোমার রহমতের দ্বার সমূহ আমার জন্য খুলে দাও। যখন মসজিদ হতে বের হতেন, মুহাম্মাদের উপর দরূদ ও সালাম পাঠ করতেন, আর বলতেন, হে আমার প্রতিপালক! আমার গুনাহসমূহ মাফ করে দিন এবং আমার জন্য তোমার অনুগ্রহের দ্বারসমূহ খুলে দিন। ৩০২

পৃষ্ঠা:৬৪

(١٤٨) عَنْ ابْن عُمَرَ قَالَ نَهى رَسُولُ الله ﷺ أَن يُصلى في سبعة مواطن في المزيلَةِ وَالْمَحْررة والمقبرة وقارعة الطريق وفِي الْحَمَّامِ وَفِي مَعَاطِنِ الْإِبْلِ وفوق ظهر بيت الله الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في كراهية ما يصلى إليه وفيه ابن ماجة : كتاب المساجد والجماعات باب المواضع التي تكره فيها الصلاة (১৪৮) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল নিষেধ করেছেন সাত জায়গায় ছালাত আদায় করতে, আবর্জনা ফেলার স্থানে, যবেহখানায়, কবরস্থানে, পথিমধ্যে, গোসলখানায়, উটশালায় এবং বায়তুল্লাহর ছাদে। তাহক্বীকু: যঈফ। (١٤٩) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ زَائِرَاتِ الْقُبُورِ وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدُ والسُّرج. أبو داود : كتاب الجنائز باب في زيارة النساء القبور الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في كراهية أن يتحد على القبر مسجد النسائي : كتاب الجنائز التغليظ في الحاد الشرح على الصور (১৪৯) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল অভিশাপ করেছেন ঐ সকল স্ত্রীলোকের প্রতি, যারা কবর যিয়ারত করতে যায় এবং ঐ সকল লোকের প্রতি, যারা কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করে বা বাতি জ্বালায়। ৩০০ তাহক্বীক্ব: যঈফ। (١٥٠) عن أبي أمامة قال إن خيرا من اليهود سأل النبي ﷺ أي البقاع خير ؟ فسكت عنه وقال أسكت حتى يجيء جبريل فسكت وجاء جبريل عليه السلام فسأل فقال ما المسؤول عنها بأعلم من السائل ولكن أسأل ربي تبارك وتعالى ثم قال جبريل يا محمد إني دنوت من الله دنوا ما دنوت منه قط قال وكيف كان

পৃষ্ঠা:৬৫

يا جبريل ؟ قال كان بيني وبينه سبعون ألف حجاب من نور فقال شر البقاع أسواقها وخير البقاع مساجدها. (১৫০) আবু উমামা বাহেলী বলেন, ইয়াহুদীদের একজন আলেম নবী করীম-কে জিজ্ঞেস করলেন, জমিনের মধ্যে উত্তম স্থান কোনটি? রাসূল নীরব থাকলেন এবং বললেন, তুমি নীরব থাক যে পর্যন্ত না জিবরীল ি আসেন। অতঃপর সে নীরব থাকল এবং জিবরীল শাীি আসলেন। তখন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। জিবরীল উত্তর করলেন, জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা জিজ্ঞাসিত অধিক জ্ঞাত নন, কিন্তু আমি আমার পরওয়ারদেগার তাবারাক ওয়াতা’লাকে জিজ্ঞেস করব। অতঃপর জিবরীল বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি আল্লহর এত নিকটে হয়েছিলাম, যত নিকটে ইতঃপূর্বে কখনও হয়া। রাসূল জিজ্ঞেস করলেন, কিরূপে ও কত নিকটে হয়েছিলেন, হে জিবরীল! তিনি বললেন, তখন আমার মধ্যে ও তাঁর মধ্যে মাত্র সত্তর হাজার নূরের পরদা অবশিষ্ট ছিল। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, পৃথিবীর নিকৃষ্টতর স্থান বাজারসমূহ এবং উৎকৃষ্টতর স্থান হল মসজিদমূহ’। তাহক্বীকু: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٥١) عن الحسن مرسلا قال قال رسول الله ﷺ يأتي على الناس زمان يكون حديثهم في مساجدهم في أمر دنياهم فلا تجالسوهم فليس الله فيهم حاجة رواه البيهقي في شعب الإيمان… (১৫১) হাসান বছরী মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ আসবে, যখন মসজিদে তাদের আলোচনা হবে দুনিয়াদারীর বিষয় সম্পর্কে। সুতরাং তাদের সঙ্গে বস না। তাদের সাথে আল্লাহ তা’আলার কোন আবশ্যকতা নেই।১০ তাহক্বীক্ব: যঈফ।১ حبل أن ن النبي ﷺ كَانَ يَسْتَحِبُّ الصَّلَاةَ فِي الْحِيطَانِ رواه غريب لا تعرفه تعرفه إلا مِنْ حَدِيثِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ (١٥٢) عَنْ مُعَاذ هذا حديث الترمذي وقال وَالْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ قَدْ ضَعَفَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَغَيْرُهُ.

পৃষ্ঠা:৬৬

الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في الصلاة في الحيطان (১৫২) মু’আয বিন জাবাল আদায় করতে ভালবাসতেন। বাগান। ৩১২ বলেন, নবী করীম ‘হীতান’-এ ছালাত রাবীদের কেউ কেউ বলেছেন ‘হীতান’ অর্থতাহক্বীকু: যঈফ।৩০০ (١٥٣) عَنْ أَنس بن مالك قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ صَلَاةُ الرَّجُلِ فِي بَيْته بصلاة وصلاته في مسجد القبائل بخمس وعشرين صلاةَ وَصَلَاتُهُ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي يُجمع فيه بخمس مائة صلاة وَصَلَاتُهُ في المسجد الأَقْصَى بِخَمْسِينَ أَلْفَ صَلاة وصلاته في مسجدي بخمسين ألف صلاة وصلاة في المسجد الحرام بمائة ألف صلاة. ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب ما جاء . ا جاء في الصلاة في المسجد الجامع (১৫৩) আনাস ইবনু মালেক বলেন, রাসূল বলেছেন: কারও এক ছালাত আপন ঘরে এক ছালাতের সমান, আর ওয়াক্তিয়া মসজিদে এক ছালাত পঁচিশ ছালাতের সমান, আর তার এক ছালাত মসজিদে আকসায় ৫০ হাজর ছালাতের সমান, আর আমার এই মসজিদে এক ছালাত ৫০ হাজার ছালাতের সমান, আর তার এক ছালাত মসজিদুল হারামে এক লক্ষ ছালাতের সমান।১ তাহক্বীকু: যঈফ। ৩০০ باب الستر

অনুচ্ছেদ: আচ্ছাদন 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(١٥٤) عَنْ أَبِي هُرَيْرَة قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ يُصَلَّى مُسْلًا إِزَارَهُ إِذْ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهَ اذْهَبْ فَتَوَضَّاً فَذَهَبَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ جَاءَ ثُمَّ قَالَ اذْهَبْ فَتَوَضَّأَ فَذَهَبَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ الله مَا لَكَ أَمَرْتَهُ أَن يَتَوَضَّأَ ثُمَّ سَكَتْ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّهُ كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ مُسْئِلٌ إِزَارَهُ وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَا يَقْبَلْ صَلَاةَ رَجُلٍ مُسْلِ إِزَارَهُ.

পৃষ্ঠা:৬৭

أبو داود : كتاب الصلاة باب الإسبال في الصلاة كتاب الناسِ بَاب ما جاء في إسبال الإزار (১৫৪) আবু হুরায়রা বলেন, একদা এক ব্যক্তি ছালাত আদায় করছিলেন, তখন তার তহবন্দ ছিল বেশী বিলম্বিত। রাসূল তাকে বললেন, যাও, ওষু কর, সে গেল এবং করল অতঃপর আসল। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল। কেন তাকে ওযু করতে (ও ছালাত পুলঃ আদায় করতে) বললেন? রাসূল উত্তর করলেন; সে ছালাত আদায় করছিল তার তহবন্দ বিলম্বিত করে, অথচ আল্লাহ কবুল করেন না তার ছালাতকে, যে আপন তহবন্দ বিলম্বিত করে (লটকিয়ে) দেয়।০১৬ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৭ (١٥٥) عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهَا سَأَلَتْ النَّبِيُّ ﷺ أَتصَلَّى الْمَرْأَةُ فِي دِرْعَ وَحَمَارِ لَيْسَ عَلَيْهَا إِزَارٌ قَالَ إِذَا كَانَ الدَّرْعُ سَابِعًا يُغَطَّى ظُهُورَ قَدَمَيْها رواه أبو داود وذكر جماعة وقفوه على أم سلمة أبو داود : كتاب الصلاة باب في كم تصلي المرأة (১৫৫) উম্মে সালাম হতে বর্ণিত তিনি একবার রাসূলকে জিজ্ঞেস করলেন, স্ত্রীলোক কি শুধু জামা ও উড়নিতে ছালাত আদায় করতে পারে লুঙ্গি ব্যতীত? তিনি বললেন, যদি জামা বড় হয় এবং পায়ের পাতা ঢেকে দেয়। ৩১৮ তাহক্বীক্ব: যঈফ। باب السترة

অনুচ্ছেদ: অন্তরাল

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(١٥٦) عن أبي هريرة قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إذا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ تَلْقَاء وجهه شَيْئًا فَإِنْ لَمْ يَجِدُ فَلْيَنْصِبْ عَمَّا فَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ عَضًا فَلْيَحْطُطْ حَظًّا ثُمَّ لَا يَضُرُّهُ مَا مَرَّ أَمَامَهُ.

পৃষ্ঠা:৬৮

ابو داود : کتاب الصلاة باب الخط إذا لم يجد فضا ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب ما يستر المصلي (১৫৬) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ ছালাত আদায় করে সে যেন তার সম্মুখে কিছু স্থাপন করে। যদি কিছু না পায় তাহলে যেন একটা রেখা টেনে দেয়। অতঃপর যা তার সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করবে তা তার ক্ষতি করবে না। ৩২০ তাহক্বীকু: যঈফ। (١٥٧) عن المقداد بن الأسود قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يُصَلَّى إِلَى عُود وَلَا عمُودٍ وَلَا شَجَرَة إِلا جَعَلَهُ عَلَى حاجبه الأَيْمَنِ أَوْ الْأَيْسَرِ وَلَا يَصْمُدُ لَهُ صَمْدًا. ابو داود : كتاب الصلاة باب إذا صلى إلى سارية أو نحوها أَينَ يَجْعَلُهَا مِنْهُ (১৫৭) মিকুদাদ ইবনু আসওয়াদ বলেন, আমি যখনই রসূল-কে কোন কাঠ বা স্তম্ভ অথবা কোন গাছকে সম্মুখে রেখে ছালাত আদায় করতে দেখেছি, তখনই দেখেছি তিনি উহাকে আপন ডান ভ্রু অথবা বাম ভ্রুর সম্মুখেই রেখেছেন, সোজাসুজি নাক বরাবর সম্মুখে রাখেননি। ৩২২ তাহক্বীকু: যঈফ।২০ (١٥٨) عَنْ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَنَحْنُ فِي بَادِيَةٍ لَنَا وَمَعَهُ عباس فصلى في صحراء ليس بين يديه سترة وحمارَةٌ لَنَا وَكَلْبَةٌ تَعْبَنَانِ بَيْنَ يَدَيْهِ فَمَا بَالَى ذلك. ابو داود : كتاب الصلاة باب من قال لا يقطع الصلاة في النسائ : كتاب القبلة التشديد في المرور بين يدى المصلي وبين سترنه (১৫৮) ফযল ইবনু আব্বাস বলেন, একদা রাসূল আমাদের নিকট আসলেন, আর আমরা তখন বনে অবস্থান করছিলাম। আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন (আমাদের পিতা) আব্বাস (রাঃ)। তখন তিনি ম্যাঠে ছালাত আদায় করছিলেন, অথচ তাঁর সম্মুখে কোন আড়াল ছিল না। আর আমাদের একটি

পৃষ্ঠা:৬৯

গাধী ও একটি কুকুরী তাঁর সম্মুখে খেলা করছিল, কিন্তু তিনি ইহার প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না। ৩২৪ তাহক্বীক্ব: যঈফ। (١٥٩) عَنْ أَبي سعيد قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ لَا يَقْطَعُ الصَّلَاةَ شَيْءٌ وَادْرَعُوا مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانَ. باب مَنْ قَالَ لَا يَقْطَعُ الصَّلاةَ شَيْءٌ(১৫৯) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, কোন কিছুই ছালাত নষ্ট করতে পারে না, তথাপি বাধা দিবে সম্মুখ দিয়ে গমকারীকে তোমাদের সাধ্যানুযায়ী। নিশ্চয়ই উহা শয়তান। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٦٠) عن أبي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَوْ يَعْلَمُ أَحَدُكُمْ مَا لَهُ فِي أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يدي أحبه معترضا في الصلاة كان لأن يقيم مائة عام خَيْرٌ لَهُ مِنْ الْخَطْوَةِ الَّتِي خَطَاهَا. ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها بَاب الْمُرُورِ بَيْنَ يَدَى الْمُصلى (১৬০) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যদি তোমাদের কেউ জানত, ছালাতের মধ্যে তার মুছল্লী ভাইয়ের সম্মুখ দিয়ে এলোপাতাড়ি গমনে কী ক্ষতি রয়েছে, তাহলে সে একশত বছর দাঁড়িয়ে থাকাকে উত্তম মনে করত।২৮ তাহক্বীকু: যঈফ। (١٦١) عن ابن عباس قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إذا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى غَيْرِ سُتْرَة فَإِنَّهُ يَقْطَعُ صَلَاتَهُ الْحَمارُ وَالْخِنْزِيرُ وَالْيَهُودِي وَالْمَجُوسِيُّ وَالْمَرْأَةَ وَيُحْرِى عَنْهُ إِذَا مَرُّوا بَيْنَ يَدَيْهِ عَلَى قَذَفَةٍ بِحَجَرٍ. ابو داود : کتاب الصلاة باب ما يقطع الصلاة

পৃষ্ঠা:৭০

(১৬১) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ আড়াল ব্যতীত ছালাত আদায় করে, তখন তার ছালাত নষ্ট করে গাধা, শূকর, ইয়াহুদী, মাজুসী ও স্ত্রীলোক। অবশ্য তার ছালাত ত্রুটিমুক্ত থাকে, যখন ওরা কাঁকর নিক্ষেপ পরিমাণ দূর দিয়ে গমন করে।০০০  তাহক্বীকু: যঈফ।০০১ باب صفة الصلوة

অনুচ্ছেদ: ছালাতের পদ্ধতি

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(١٦٢) عَنْ وَائل بن حجر أنه أبصر النبي ﷺ حِينَ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حتى كانتا بخيال منكبيه وحادى بإبهاميه أذنيه ثم كبر. رواه أبو داود وفي رواية له يرفع إلهاميه إلى شحمة أذنيه ابو داود : كتاب الصلاة باب رفع اليدين في الصلاة (১৬২) ওয়ায়েল ইবনু হুজর হতে বর্ণিত আছে, তিনি নবী করীম-কে দেখেছেন যখন তিনি ছালাতের জন্য দাঁড়ালেন, দুই হাত উঠালেন যাতে উভয় হাত কাঁধ বরাবর হয়ে গেল এবং বৃদ্ধাঙ্গলীদ্বয় কান বরাবর করলেন, অতঃপর তাকবীর বললেন। ০০২ তাহক্বীক্ব: যঈফ।৩০০ (١٦٣) عَن الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ الصَّلَاةُ مَثْنَى مَثْنَى تَشَهدُ في كل ركعتين وتخشع وتضرع وتمسكن ثم تَفْتَعُ يَدَيْكَ يَقُولُ تَرْفَعُهُمَا إِلَى ربِّكَ مُستقبلا يبطونهما وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كذا وكذا و في رواية فهو خداج. الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في التخلع في الصلاة (১৬৩) ফষল ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, ছালাত দুই দুই রাকআত এবং প্রত্যেক দুই রাক’আতেই তাশাহহুদ, ভয় বিনয় ও দীনতার ভাব

পৃষ্ঠা:৭১

রয়েছে। অতঃপর তুমি তোমার দুই হাত উঠাবে। ফযল বলেন, তুমি তোমার দুই হাত তোমার রবের নিকট উঠাবে হাতের বুকের দিকে তোমার চেহারার দিকে করবে এবং বলবে, হে আল্লাহ! আর যে এইরূপ করবে না তার ছালাত এইরূপ এইরূপ। ৩৪ তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٦٤) عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ بن مَسْعُودٍ أَلَا أُصَلِّي بِكُمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ قَالَ فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلَّا مَرَّةً واحدةً مع تكبير الافتتاح رواه الترمذي وأبو داود والنسائي قال أبو داود هذا حديث مختصر مِنْ حَدِيثٍ طَوِيلٍ وَلَيْسَ هُوَ بِصَحِيحٍ عَلَى هَذَا اللفظ. ابو داود : كتاب الصلاة باب من لم يذكر الرفع عند الركوع الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء أن النبي كلا لم يوقع إلا في أول مرة النسائ : كتاب التطبيق باب الرخصة في ترك ذلك (১৬৪) আলকামা বলেন, একদা আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ আমাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূল এর ছালাত আদায় করে দেখাব না? অতঃপর তিনি ছালাত আদায় করলেন, কেবল একবার তাকবীরে তাহরীমার সময় ব্যতীত। ৩০৬ অথচ হাত উঠালেন না তাহক্বীক্ব: উক্ত হাদীছকে মুহাদ্দিছগণ যঈফ বলেছেন। এছাড়া শত শত ছহীহ হাদীছের বিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন। যেমন ইমাম আবুদাউদ বলেন, হাদীছটি ছহীহ নয়। শায়খ আলবানী বলেন, হাদীছটিকে ছহীহ মেনে নিলেও তা ‘রাফ’উল ইয়াদায়েন’-এর পক্ষে বর্ণিত ছহীহ হাদীছ সমূহের বিপরীতে পেশ لأنه ناف وتلك مثبتة ومن المقرر في علم الأصول أن C اثثبت مقدم على الناف ‘এটি না বোধক এবং ঐগুলি হাঁ-বোধক। ইলমে হাদীছ-এর মূলনীতি অনুযায়ী হাঁ-বোধক হাদীছ না-বোধক হাদীছের উপর

পৃষ্ঠা:৭২

অগ্রাধিকার যোগ্য’। ৩০৮ তাছাড়া শায়খ আলবানী রাফ’উল ইয়াদায়েন-এর হাদীছকে মুতাওয়াতির বলেছেন। উক্ত হাদীছ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, هَذَا أَحْسَنُ خَيْرٍ رَوَى أَهْلُ الْكُوفَةِ فِي نَفي رفعِ الْيَدَيْنِ فِي الصَّلَاةِ عِندَ الرَّكوعِ وعند الرفع منه، وهو في الحقيقة أضْعَفُ شَيْءٍ يُعَوَّلُ عَلَيْهِ، لَأَنْ لَهُ عَلَلا يُبْطِلُهُ ‘রাফ’উল ইয়াদায়েন’ না করার পক্ষে কুফাবাসীদের এটিই সবচেয়ে বড় দলীল হ’লেও এটিই সবচেয়ে দুর্বলতম দলীল, যার উপরে নির্ভর করা হয়েছে। কেননা এর মধ্যে এমন সব বিষয় রয়েছে, যা একে বাতিল গণ্য করে’। ৩৪০ باب ما يقرأ بعد التكبير

অনুচ্ছেদ: তাকবীরে তাহরীমার পর পঠিতব্য বিষয় 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(١٦٥) عَن جبير بن مطعم عَنْ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللهِ ﷺ يُصَلِّى صَلَاةَ قَالَ اللهُ أكبر كبيرا الله أكبر كبيرا الله أكبر كبيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَالْحَمْدُ لله كثيرًا وَسُبْحَانَ الله بُكْرَةً وَأَصِيلًا ثَلَاثًا أَعُوذُ بِالله مِن الشَّيْطَانِ من نفخه ونفثه وهمزه رواه أبو داود وابن ماجه إلا أنه لم يذكر والحمد لله كثيرا . وذكر في آخره من الشيطان الرحيم وقال عمر رضي الله عنه نَفْحه الكبر و نَفْلَهُ الشَّعْرُ وَهَمْرُهُ الْمُوتَة. أبو داود : كتاب الصلاة باب ما يستفتح به الصلاة من الدعاء (১৬৫) জুবাইর ইবনু মুত’ইম কর্তৃক বর্ণিত আছে, একবার তিনি রাসূল -কে এক ছালাত পড়তে দেখেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ অতি মহান, অতি মহান, আল্লাহ অতি মহান, অতি মহান, আল্লাহ অতি মহান। আল্লহর জন্য বহু প্রশংসা, আল্লাহর জন্য বহু প্রশংসা, আল্লাহর জন্য বহু প্রশাংসা, আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সকাল-সন্ধ্যায়, তিনবার (বললেন)। আমি

পৃষ্ঠা:৭৩

আল্লহর নিকট পানাহ চাচ্ছি বিতাড়িত শয়তান হতে অর্থাৎ তার অহমিকা, তার জাদু ও তার কুমন্ত্রণা হতে। ৩৪১ তাহক্বীক: যঈফ। (١٦٦) عَنْ سَمرة بن جندب أَنَّهُ حَفَظَ عَنْ رَسُول الله ﷺ سكتين سكتَةً إِذَا كبر وسكنه إِذا فَرَغَ مِنْ قِراءة غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَصَدَّقَهُ أَبَى بن كعب. رواه أبو داود وروى الترمذي وابن ماجه والدارمي نحوه. ابو داود : كتاب الصلاة باب السكتة عند الافتتاح الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في السكتين في الصلاة. (১৬৬) সামুরা ইবনু জুনদুব হতে বর্ণিত, তিনি রাসূল-এর দুইটি চুপ থাকা স্মরণ রেখেছেন। একটি চুপ থাকা হল যখন তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলতেন। আর অন্য চুপ থাকাটি হল যখন তিনি ‘গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায য-ল্লীন’ পড়ে ফেলতেন তখন। সামুরার এই হাদীছ যখন উবাই ইবনু কা’বের নিকট পৌঁছল, উবাই ইবনু কা’ব এর সত্যতা স্বীকার করলেন। ৩০০ তাহক্বীক: যঈফ।باب القراة في الصلوة

অনুচ্ছেদ: ছালাতের মধ্যে ক্বিরাআত পড়া

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(١٦٧) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَفْتَتِحُ صَلَاتُهُ بَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرحيم. الترمذي : كتاب الصلاة باب من رأى الجهر با بسم الله الرحمن الرحيم (১৬৭) আব্দুাল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল ‘বিসমিল্লাহ’র সাথে ছালাত আরম্ভ করতেন। ৩৪৫

পৃষ্ঠা:৭৪

(١٦٨) عَنْ أَبي زُهَيْرِ النَّمَيْرِي قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ قَدْ أَلَحٌ فِي الْمَسْأَلَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَوْحَبَ إِنْ حَتَمَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ بِأَيِّ شَيْءٍ يَحْتُمُ قَالَ بِآمِينَ. أبو داود : كتاب الصلاة باب التأمين وراء الإمام (১৬৮) আবু যুহাইর নুমায়রী বলেন, একবার আমরা রাত্রে রাসূল- এর সাথে বের হলাম এবং এমন এক ব্যক্তির নিকট পৌঁছলাম, যে ব্যক্তি আল্লহর নিকট অতি কাকুতি-মিনতির সাথে দু’আ করছিল। এ সময় নবী বললেন, সে নিজের জন্য জান্নাত নির্ধারিত করে নিল, যদি সে এতে মোহর লাগায়। লোকের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! কিসের দ্বারা মোহর লাগাবে? রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘আমীন’ দ্বারা। তাহক্বীক: যঈফ। (١٦٩) عن جابر بن سمرة قال كان النبي ﷺ يقرأ في صلاة المغرب ليلة الجمعة قل يا أيها الكافرون و قل هو الله أحد رواه في شرح السنة ورواه ابن ماجه عن ابن عمر إلا أنه لم يذكر ” ليلة الجمعة. (১৬৯) জাবের ইবনু সামুরা বলেন, রাসূল বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যায় মাগরিবের ছালাতে ‘সূরা কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ ও ‘সূরা কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পড়তেন। তাহক্বীক: হাদীছটি নিতান্তই যঈফ। 200 (۱۷۰) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ قَرَأَ مِنْكُمْ وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونَ فَانْتَهَى إلى آخرها أليس الله بأحكم الحاكمِينَ فَلْيَقُلْ بَلَى وَأَنَا عَلَى ذَلِكَ مِنْ الشاهِدِينَ وَمَنْ قَرَأَ لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَانْتَهَى إِلَى أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ

পৃষ্ঠা:৭৫

يُحْيِي الْمَوْتَى فَلْيَقُلْ بَلَى وَمَنْ قرأَ وَالْمُرْسَلَاتِ فَبْلَغَ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ فَلْيَقُل آمنا بالله. ابو داود : كتاب الصلاة باب مقدار الركوع والسجود الترمذي : كتاب التفسير القرآن باب ومن سورة اللين (১৭০) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ ‘সূরা ওয়াত্তীনি ওয়াযযায়তুন’ পড়ে এবং এই পর্যন্ত পৌঁছে ‘আল্লাহ কি আহকামুল হাকেমীন নন? তখন সে যেন বলে, ‘নিশ্চয়ই, আমিও ইহার সাক্ষ্য প্রদানকারীদের মধ্যে আছি’। এবং যখন সে ‘সূরা লা উকসিমু বিইয়াওমিল কিয়ামাহ’ পড়ে; আর এ পর্যন্ত পৌঁছে- ‘তিনি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন? তখন সে যেন বলে, ‘নিশ্চয়; আর যখন সে ‘সূরা ওয়াল মুরসালাত’ পড়ে এবং এ পর্যন্ত পৌছে তখন সে যেন বলে, ‘আমরা আল্লহর প্রতি ঈমান আনলাম। ৩০১ তাহক্বীক: যঈফ। উল্লেখ্য, তবে সূরা ক্বিয়ামাহ শেষে ‘সুবহা-নাকা ফাবালা’ বলার হাদীছ ছহীহ। ৩৫৩

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۷۱) عن عروة قال إن أبا بكر الصديق رضي الله عنه صلى الصبح فقراً فيهما ب سورة البقرة في الركعتين كلتيهما ، رواه مالك (১৭১) উরওয়া বলেন, আবুবকর একবার ফজরের ছালাত পড়লেন এবং এর উভয় রাক’আতেই সূরা বাক্বারা পড়লেন। ৩০ তাহক্বীক্ব: যঈফ। (۱۷۲) عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَدَّهِ قَالَ مَا مِنَ الْمُفَصَّلِ سُورَةُ صَغِيرَةٌ ولا كبيرة إلا وقد سمعت رسول الله ﷺ يَوْمُ النَّاسِ بِهَا فِي الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبة. أبو داود : كتاب الصلاة باب من رأى التخفيف فيها (১৭২) আমর ইবনু শু’আইব তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি মুফাছছাল সূরার (সূরা হুজরাত হতে নাস

পৃষ্ঠা:৭৬

পর্যন্ত) ছোট বা বড় সব কয়টি দ্বারাই ফরয ছালাতের ইমামতি করতে রাসূল -কে দেখেছি। তাহক্বীক: যঈফ। باب الركوع

অনুচ্ছেদ: রুকু

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۷۳) عَنْ عُقبة بن عامر قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ قَالَ رَسُولٌ الله ﷺ اجْعَلُوهَا فِي ركوعكُمْ فَلَمَّا نَزَلَت سبح اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى قَالَ اجْعَلُوهَا في سجودِكُمْ. أبو داود : كتاب الصلاة باب ما يقول الرحل في ركوعه وسعوده ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب التسيح في الركوع والسجود (১৭৩) ওকবা ইবনু আমের বলেন, যখন নাযিল হল- ‘ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল আযীম’ ‘তোমার মহান প্রভুর নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর’। তখন রাসূল বললেন, ইহাকে তোমাদের রুকুর মধ্যে স্থান দাও। এরূপে যখন নাযিল হল, ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’ ‘তোমার উচ্চ মর্যাদাবান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর’। তখন রাসূল বললেন, একে তোমরা তোমাদের সিজদার মধ্যে স্থান দাও। তাহক্বীক: হদীছটি যঈফ। ৩৫৯

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٧٤) عَنِ ابْنِ حُبَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنسَ بْنَ مَالِكِ يَقُولُ مَا صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَحَدٍ بَعْدَ رَسُول الله ﷺ أشبه صَلَاةَ بِرَسُول الله ﷺ مِنْ هَذَا الْفَتَى يَعْنِي عُمَرَ بْنَ عَبْدِ العزيز قَالَ فَخَزَرْنَا رُكُوعَهُ عَشْرَ تَسْبيحات و سُجُودَهُ عَشْرَ تَسْبيحات. أبو داود : کتاب مقدار الركوع والسعود النساء : كتاب التطبيق عند الشيخ في السعود.

পৃষ্ঠা:৭৭

(১৭৪) ইবনু জুবাইর (রঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনু মালেক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূল-এর পর আমি এই যুবক অর্থাৎ ওমর ইবনু আব্দুল আযীয অপেক্ষা রাসূল-এর ছালাতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ছালাত পড়তে আর কাউকে দেখিনি। ইবনু জুবাইর বলেন, আনাস বলেছেন, আমি তাঁর রুকুর অনুমান করেছি দশ তাসবীহ পরিমাণ সময় এবং তাঁর সিজদার অনুমানও দশ তাসবীহ পরিমাণ সময়। ৩৬০ তাহক্বীক: যঈফ। ৩৬১ باب السجود وفضله

অনুচ্ছেদ: সিজদা ও তার মাহাত্ম্য

 

(١٧٥) عن وائل بن حُجْرٍ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا سَجَدَ وَضَعَ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ وَإِذا نهض رفع يديه قبل ركبتيه. أبو داود : كتاب الصلاة باب كيف يضع ركبتيه قبل يديه الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في وضع الركبتين قبل اليدين في السعود النساني : كتاب التطبيق باب أول ما يصل إلى الأرض من الإنسان في سجوده ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب السعود (১৭৫) ওয়ায়েল ইবনু হুজর বলেন, আমি রাসূল-কে দেখেছি, তিনি যখন সিজদা করতেন, হাতের পূর্বে হাঁটু যমীনে রাখতেন এবং যখন উঠতেন তখন হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন। ০৬২  তাহক্বীক: যঈফ।৬০

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٧٦) عَنْ عَلَى رَضى اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَا عَلَى إِنِّي أُحِبُّ لَكَ مَا أحِبُّ لِنَفْسِي وَأَكْرَهُ لَكَ مَا أَكْرَهُ لِنَفْسِي لَا تُفْعِ بَيْنَ السَّحْدَتَيْنِ. الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في كراهية الإقعاء بين السجدتين

পৃষ্ঠা:৭৮

(১৭৬) আলী বলেন, একদিন রাসূল আমাকে বললেন, হে আলী! আমি তোমর জন্য ভালবাসি যা আমার জন্য ভালবাসি এবং তোমার জন্য অপসন্দ করি যা আমার জন্য অপসন্দ করি। তুমি দুই সিজদার মধ্যখানে হাত খাড়া করে নিতম্বের উপরে বসবে না। ৩৬৪ তাহক্বীক: যঈফ। باب التشهد

অনুচ্ছেদ: তাশাহ্হুদ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۷۷) عن عبد الله بن الزبير قال كان النبي ﷺ يُشير بأصبعه إِذَا دَعَا وَلَا يُحَرِّكُها رواه أبو داود والنسائي وزاد أبو داود ولا يجاوز بصره إشارته. ابو داود : كتاب الصلاة باب الإشارة في المشهد (১৭৭) আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র বলেন, নবী করীম তর্জনী দ্বারা ইশারা করতেন যখন তাশাহহুদ পড়তেন, কিন্তু সেটাকে নাড়তেন না। ০৬০ তাহক্বীক: হদীছটি যঈফ। ৩৬৭ (۱۷۸) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ الله أَن يَجْلِسَ الرَّجُلُ فِي الصَّلَاةِ وَهُوَمعتمد على يده رواه أحمد وأبو داود وفي رواية له نهى أَنْ يَعْتَمدَ الرَّجُلُ عَلَى يَدَيْهِ إِذَا نَهَضَ فِي الصَّلاةِ ابو داود : كتاب الصلاة باب كراهية الاعتماد على اليد في الصلاة (১৭৮) ইবনু ওমর নিষেধ করেছেন। অন্য নিষেধ করেছেন। ০৬৮ বলেন, রাসূল ছালাতে ঠেস দিয়ে বসতে বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল হাতের উপর ভর দিতে

পৃষ্ঠা:৭৯

(۱۷۹) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ كَأَنَّهُ عَلَى الرَّضْفَ حَتَّى يَقُومُ. ابو داود : كتاب الصلاة باب في تخفيف القعود الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في مقدار القعود في الركعتين الأولين النسائي : كتاب التطبيق باب التخفيف في التشهد الأول (১৭৯) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, নবী প্রথম দুই রাক’আতের পরের বৈঠক হতে এত তাড়াতাড়ি উঠতেন যেন তিনি উত্তপ্ত পাথরের উপর ৩৭০ বসেছেন। তাহক্বীকু: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۸۰) عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُعَلِّمُنَا النَّشَهدَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَة من القرآن بسم الله وبالله التحيات لله والصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَسْأَلُ اللَّهُ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ النَّارِ. النسائ : كتاب التطبيق باب نوع آخر من التشهد (১৮০) জাবের বলেন, রাসূলল্লাহ আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি আমাদেরকে কুরআনের কোন সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, অল্লাহর নামে, অল্লাহর সাহায্যে- সমস্ত সম্মান সমস্ত বন্দেগী, সমস্ত পবিত্র বিষয় অল্লাহর জন্য। হে নবী! অল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত আপনার প্রতি বর্ষিত হোক। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের উপর এবং অল্লাহর বন্দাদের উপর। আমি ঘোষণা করছি, অল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুহম্মাদ অল্লাহর বন্দা ও তাঁর রাসূল। আমি অল্লাহর নিকট বেহেশত প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ চাচ্ছি। ০৭২

পৃষ্ঠা:৮০

অনুচ্ছেদ: নবী (ছাঃ)-এর উপর দরূদ ও তার ফযীলত

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۸۱) عن أبي هريرة عن النبي ﷺ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَكْتَالَ بالمكيال الْأَوْفَى إِذَا صَلَّى عَلَيْنَا أَهْلَ الْبَيْت فَلْيَقُلْ اللهمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّد وَأَزْوَاجه أُمهات الْمُؤْمِنِينَ وَذُرِّيَّته وأهل بيته كما صليت على آل إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. أبو داود : كتاب الصلاة باب الصلاة على التي ك بعد المشهد. (১৮১) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ মাপে (ছওয়াব) পেতে ভালবাসে, সে যখন আমার উপর এবং আহলে বায়তের উপর দরূদ পাঠফ করে, তখন যেন বলে, اللهم صل على محمدن التي الامی وازواجه CR ISIRI امهات المؤمنين وحريته واهل بيته كما صليت على ابراهيم انك حميد مجيد. উম্মী নবী মুহাম্মাদ, তাঁর বিবিগণ যাঁরা মুমিনগণের মাতা, তাঁর বংশধর ও পরিজনবর্গের উপর রহমত নাযিল কর, যেভাবে তুমি ইবরাহীমের পরিজনদের উপর রহমত নাযিল করেছ। ৩৭৪ তাহক্বীকু: যঈফ (১৮২) নাফে’ (রহঃ) বলেন আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর যখন সালামের পর বসতেন, তখন উভয় হাত উভয় জানুর উপরে রাখতেন এবং শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। এ সময় তিনি দৃষ্টি অঙ্গুলীর প্রতি নিবদ্ধ রাখতেন। অতঃপর ইবনু ওমর বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয়ই এটা শয়তানের উপর লোহার তীর অপেক্ষাও অধিক কঠিন। তাহক্বীকু: যঈফ। (۱۸۳) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ من صلى على عند قبري سمعته ومن صلى على نائيا أبلغته. (১৮৩) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, যে আমার কবরের নিকট এসে আমার উপর দরূদ পাঠ করবে আমি তা সরাসরি শুনব, আর যে দূরে থেকে আমর উপর দরূদ পাঠ করবে তা আমার নিকট পৌঁছান হবে।

পৃষ্ঠা ৮১ থেকে ১০০

পৃষ্ঠা:৮১

(١٨٤) عبد الله بن عَمْرُو قَالَ مَنْ صَلَّى عَلَى النَّبِيِّ ﷺ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ  وملائكته سبعين صلاة. (১৮৪) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, যে ব্যক্তি নবী করীম এর উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ তার উপর ৭০ বার দরূদ পাঠ করবেন।৮০তাহক্বীক্ব: মুনকার। (١٨٥) عَنْ رويفع أَنْ رَسُول الله ﷺ قَالَ مَنْ صَلَّى عَلَى مُحَمَّدٍ وَقَالَ اللهُم أَنْزِلَهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِندَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي. (১৮৫) রুওয়াইফে ইবনু ছাবেত আনছারী বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের উপর দরূদ পাঠ করবে এবং বলবে, ‘হে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁকে আপনি আপনার নিকট সম্মানিত স্থান দান করুন’ তার জন্য আমার শাফা’আত অবধারিত হবে।৩৬২ তাহক্বীকু: যঈফ। باب الدعاء في التشهد

অনুচ্ছেদ: তাশাহহুদের মধ্যে দু’আ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(١٨٦) عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَقُولُ فِي صَلاته اللهمَّ إِنِّي أسألك الثبات في الأمر والعزيمة على الرشد وأسألُكَ شُكُرَ نِعْمَتَكَ وَحُسْنَ عبادتك وأسألك قلبا سليما ولسانا صادقا وأسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ وَأَعُوذُ بِكَ من شر ما تعلم وأستغفرك لما تعلم. السائ كتاب السهو نوع آخر من الدعاء

পৃষ্ঠা:৮২

(১৮৬) শাদ্দাদ ইবনু আওস বলেন, রাসূলুল্লাহ তাঁর ছালাতের মধ্যে এরূপ দু’আ করতেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কাজে স্থায়িত্ব ও সৎ পথের দৃঢ়তা চাই। আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি আপনার অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা ও আপনার ইবাদত উত্তমরূপে করার শক্তি। আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি সরল অন্তর ও সত্য বাক। আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি যা তুমি ভাল বলে জানেন এবং আমি আপনার নিকট তা থেকে পানাহ চাই যা আপনি মন্দ বলে জানেন। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি আমার সেসকল অপরাধের জন্য, যা আপনি অবগত। ৩৬৪ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি যঈফ। ৩৮৫ (۱۸۷) عَنْ سَمُرَةَ قَالَ أَمْرِنَا رَسُولُ الله ﷺ أَن تَرَدَّ عَلَى الْإِمَامِ وَأَنْ تَتَجَابُ وَأَنْ يُسَلَّمَ بَعْضُنَا عَلَى بَعْضٍ أبو داود : كتاب الصلاة باب الرد على الإمام (১৮৭) সামুরা ইবনু জুনদুব বলেন, রাসূল আমাদেরকে ইমামের সালামের উত্তর দিতে, অন্যকে ভালবাসতে ও সালাম দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ৬   তাহক্বীকু: যঈফ।

(বঙ্গানুবাদ মিশকাত ২য় খণ্ড সমাপ্ত)

পৃষ্ঠা:৮৩

অনুচ্ছেদ: ছালাতের পর যিকির তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۸۸) عن علي رضي الله عنه قال سمعت رسول الله ﷺ على أعواد المنير يقول من قرأ آية الكرسي في دبر كل صلاة لم يمنعه من دخول الجنة إلا الموت ومن قرأها حين يأخذ مضجعه آمنه الله على داره ودار جاره وأهل دويرات حوله رواه البيهقي في شعب الإيمان وقال إسناده ضعيف. (১৮৮) আলী বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি, তিনি এই মিম্বরের কাঠে দাঁড়িয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ছালাতের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ব্যতীত আর কিছুই বাধা দিতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি শয়নকালে ওটা পড়বে, আল্লাহ তা’আলা তার ঘর, প্রতিবেশীর ঘর এবং আশেপাশের অন্যান্য ঘরকেও নিরাপদে রাখবেন। তাহক্বীক্ব: হাদীছটির প্রথমাংশ ছহীহ, যা নাসাঈতে বর্ণিত হয়েছে। আর অপর অংশটি জাল।  (۱۸۹) عن عبدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْم عَنْ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ مَنْ قَالَ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ ويني رحله من صلاة المغرب والصبح لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بيده الخَيْرُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشَرَ مرات كتب لَهُ بِكُلِّ واحدة عشر حَسَنَاتٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتِ وَرُفِعَ لَهُ عشر درجات وكانت حرزًا من كل مكروه وحَرْزًا من الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ وَلَمْ يحل لذتب يُدْرِكُهُ إِلَّا الشَّرْكَ فَكَانَ مِنْ أَفضل النَّاسِ عَمَلًا إِلَّا رَجُلًا يَفْضُلُهُ يَقُولُ أفضل ممَّا قال. الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في فضل التسليح والتكبير والتهليل والتحميد (১৮৯) আব্দুর রহমান ইবনু গানম হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম বলেছেন, যে মাগরিব ও ফজরের ছালাতের সালাম ফিরানোর পর

পৃষ্ঠা:৮৪

পা প্রসারিত করার পূর্বে দশবার বলবে, ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই তিনি একক তাঁর কোন অংশীদার নেই। তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই জন্য সমস্ত কল্যাণ, তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি সমস্ত বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। তার জন্য প্রত্যেক শব্দের পরিবর্তে দশটি নেকী লেখা হবে, তার দশটি গোনাহ্ মুছে দেওয়া হবে, দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। এতদ্ব্যতীত ইহা তার জন্য প্রত্যেক মন্দ কাজ হতে রক্ষাকবচ স্বরূপ হবে এবং বিতাড়িত শয়তান হতেও রক্ষাকবচ হবে। অধিকন্তু এর বদৌলত তাকে কোন গোনাহ্ স্পর্শ করতে পারবে না শিরক ব্যতীত এবং সে হবে সমস্ত মানুষ অপেক্ষা উত্তম। ১তাহক্বীকু: যঈফ। (۱۹۰) عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَن النبي ﷺ بَعَثَ بَعْثًا قَبْلَ نَحدِ فَعْلِمُوا غَنائم كثيرة وأَسْرَعُوا الرَّحْعَةَ فَقَالَ رَجَلٌ مِمَّنْ لَمْ يَخْرُجْ مَا رَأَيْنَا بَعْثًا أَسْرَعَ رَحْعَةً وَلَا أَفْضَلَ غَنِيمَةٌ مِنْ هَذَا الْبَعْثِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَنَا أَدُلُّكُمْ عَلَى قَوْمٍ أَفْضَلُ غَنِيمَةٌ وَأَسْرَعُ رَحْعَةً قَوْم شَهدُوا صلاة الصبح ثُمَّ جَلَسُوا يَذْكُرُونَ اللَّهَ حَتَّى طَلَعَتْ عَلَيْهِمُ الشَّمْسُ أُولَئِكَ أَسْرَعُ رَحْعَةً وَأَفْضَلُ غَنِيمَةٌ. الترمذي : كتاب الدعوات باب في دعاء التي ك (১৯০) ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব বলেন, রাসূল একবার নজদের দিকে একটি অভিযান প্রেরণ করলেন। তারা বহু গনীমতের মাল লাভ করল এবং দ্রুত ফিরে আসল। এটা দেখে আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি- যে এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেনি যে বলল, এই অভিযান অপেক্ষা এত দ্রুত প্রত্যাবর্তনকারী এবং শ্রেষ্ঠ গনীমত লাভকারী আর কোন অভিযান আমরা দেখিনি। এটা শুনে নবী (ছঃ) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক দলের কথা বলব না, যারা এদের অপেক্ষাও গনীমত লাভে শ্রেষ্ঠ ও প্রত্যাবর্তনে দ্রুত? তারা সেই দল যারা ফজরের জামা’আতে শামিল হয়েছে। অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকির করেছে, এরাই হল প্রত্যাবর্তনে দ্রুত এবং গনীমত লাভে শ্রেষ্ঠ।

পৃষ্ঠা:৮৫

অনুচ্ছেদ: যে সকল কাজ ছালাতের মধ্যে করা নাজায়েয এবং যা করা জায়েয

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۱۹۱) عن أبي ذَرِّ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ لَا يَزَالُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مُقْبِلًا عَلَى الْعَبْدِ وَهُوَ فِي صَلَاتِهِ مَا لَمْ يَلْتَفِتْ فَإِذَا الْتَفَتَ انْصَرَفَ عَنْهُ. أبو داود : كتاب الصلاة باب الالتفات في الصلاة (১৯১) আবু যার গেফারী বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দার দিকে দৃষ্টি করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা ছালাতে রত থাকে এবং এদিক সেদিক না দেখে। যখন সে এদিক সেদিক দেখতে থাকে তখন আলাহ্ তা’আলা আপন দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন। তাহক্বীক্ব: যঈফ। এর সনদে আবুল আহওয়াছ নামে একজন অপরিচিত রাবী আছে। ১৯৬ (۱۹۲) عن أنس أن النبي ﷺ قال يا أنس اجعل بصرك حيث تسجد (১৯২) আনাস হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম বলেছেন, হে আনাস! তোমার দৃষ্টিকে তথায় নিবদ্ধ রাখবে যেথায় তুমি সিজদা দাও। তাহক্বীকু: যঈফ। উল্লেখ্য, সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখার বিষয়টি অন্য ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। ৩৯৯ (۱۹۳) عَنْ أَنَسِ قَالَ لِي رَسُولُ الله ﷺ يَا بُنَيَّ إِيَّاكَ وَالالْتِفَاتَ فِي الصَّلَاةَ فَإِنَّ الالتفات في الصَّلاةَ هَلَكَةٌ فَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ فَفِي التَّطَوُّعَ لَا فِي الْفَرِيضَةِ. الترمذي : كتاب الجمعة باب ما ذكر في الالتفات في الصلاة (১৯৩) আনাস বলেন, একদা রাসূল বললেন, বৎস। নামাযের মধ্যে কখনও এদিক সেদিক দেখবে না। ছালাতের মধ্যে এদিক সেদিক দেখা Boo ধক্ষংসের কারণ। একান্তই যদি দেখতে হয় তাহলে নফলে, ফরযে নয়।

পৃষ্ঠা:৮৬

(١٩٤) عَنْ عَدِي بن ثابت عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَدَّهِ رَفَعَهُ قَالَ الْعُطَاسُ وَالنَّعَاسُ وَالتَّناؤُبُ فِي الصَّلاةَ وَالْحَيْضُ وَالْقَيْءِ وَالرُّعَافُ مِنَ الشَّيْطَان. الترمذي : كتاب الأدب باب ما جاء أن العطاس في الصلاة من الشيطان (১৯৪) আদী ইবনু ছাবেত তার পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন, হাঁচি, তন্দ্রা ও হাই তোলা ছালাতের মধ্যে আর হায়েয ও বমি আসা এবং নাক হতে রক্ত পড়া শয়তানের পক্ষ হতে। ৪০৯ তাহক্বীকু: যঈফ।০০ (١٩٥) عَنْ أَبِي ذَرِّ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَلَا يَمْسَحُ الحصى فَإِن الرَّحْمَة تواجهه. أبو داود : كتاب الصلاة باب في مسح الخصى في الصلاة، الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في كراهية مسبح الخصى في الصلاة النسائ : كتاب الشهر اللهي من منح الحصى في الصلاة (১৯৫) আবু যর গেফারী বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ ছালাতে দাঁড়ায় তখন সে যেন তার সম্মুখের কংকর মুছার চেষ্টা না করে। কারণ আল্লাহর রহমত তার সম্মুখীন রয়েছে। ০৪ তাহক্বীকু: যঈফ।০৫ (١٩٦) عَنْ أُم سلمة قالت رأى النَّبِيُّ ﷺ علامًا لَنَا يُقَالُ لَهُ أَفْلَحُ إِذَا سَجَدَ نَفْحَ فَقَالَ يَا أَفْلَحُ تَرَب وَجْهَكَ. الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في كراهية النفخ في الصلاة (১৯৬) উম্মু সালামা বলেন, রাসূল আফলাহ নামক আমাদের এক যুবককে দেখলেন, সে যখন সিজদা করতে যায় ফুঁ দেয় তখন রাসূল বললেন, হে আফলাহ! তোমার মুখমণ্ডলে ধূলাবালি লাগতে দাও।০

পৃষ্ঠা:৮৭

(۱۹۷) عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله ﷺ الاختصار في الصلاة راحة أهل النار رواه في شرح السنة. (১৯৭) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, ছালাতের মধ্যে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ান জাহান্নামীদের শান্তি লাভের চেষ্টাতুল্য।” তাহক্বীকু: যঈফ।০৯ (۱۹۸) عَنْ عَلَى بْن طَلْقٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ إِذَا فَسَا أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فلينصرف فَلْيَتَوَضَّا ولبعد الصَّلاةَ. أبو داود : كتاب الطهارة باب من يحدث في الصلاة (১৯৮) তালক ইবনু আলী বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমাদের কেহ ছালাতের মধ্যে বায়ু নির্গত করে, সে যেন সরে যায় এবং ওযু করে নেয়। অতঃপর ছালাত পুনরায় পড়ে। *১০ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১১ (۱۹۹) عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَمْرُو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا أَحْدَثَ أَحَدُكُمْ وَقَدْ جلس في آخر صلاتهِ قَبْلَ أَنْ يُسَلَّمَ فَقَدْ حَازَتْ صَلَاتُهُ قال أبو عيسَى هَذَا حَدِيث إِسْنَادُهُ لَيْسَ بِذَاكَ الْقَوِيُّ الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في الرجل يحدث في التشهد (১৯৯) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ আপন ছালাতের শেষ দিকে সালামের পূর্বক্ষণে বসে বাতকর্ম করে, তাহলে তার ছালাত হয়েছে। ৪১২

পৃষ্ঠা:৮৮

অনুচ্ছেদ: সহো সিজদা 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۰۰) عن عمران بن حصين أن النبي ﷺ صَلَّى بِهِمْ فَسَهَا فَسَجَدَ سَجَدَتَيْنِ ثُمَّ تَشَهدَ ثُمَّ سَلَّمَ. أبو داود : كتاب الصلاة باب محدثي الشهر فيهما تشهد وتسليم الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في التشهد في مسجدتي السهر (২০০) ইমরান ইবনু হুছাইন নবী তাদের ইমামতি করলেন এবং ছালাতে ভুল করলেন। অতঃপর দুইটি সিজদা করলেন তারপর তাশাহহুদ পড়লেন এবং সালাম ফিরালেন। ১৪ তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি শাষ বা যঈফ। ৪১৫ باب سجود القرآن

অনুচ্ছেদ: কুরআনের সিজদা 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۰۱) عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَقْرَأَهُ خَمْسَ عَشْرَةً سَحْدَةً فِي الْقُرْآنِ مِنْهَا ثلاث فِي الْمُفصَّلِ وَفِي سُورَةِ الْحَجِّ سَحْدَتَانِ. أبو داود : كتاب الصلاة باب منه ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب عدد سجود القرآن (২০১) আমর ইবনুল ‘আছ বলেন, রাসূল আমাকে কুরআনের পনেরটি সাজদা পড়িয়েছেন। তন্মেধ্যে তিনটি ‘মুফাছছাল’ সূরা সমূহে এবং সূরা হজ্জে দুইটি।

পৃষ্ঠা:৮৯

(۲۰۲) عَنْ عُقبة بن عامر قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ فَضْلَتْ سُورَةُ الْحَجَّ بِأَنَّ فِيهَا سجدتين قَالَ نَعَمْ وَمَنْ لَمْ يَسْجُدُهُمَا فَلَا يَقْرَأَهُما رواه أبو داود والترمذي وقال هذا حديث ليس إسناده بالقوي وفي المصابيح فلا يقرأها كما في شرح السنة. أبو داود : كتاب الصلاة باب منه الترمذي : كتاب الجمعة باب ما جاء في السجدة في الحج (২০২) উল্কা ইবনু আমের বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! সূরা হজ্জের মর্যাদা মধিক যেহেতু ওতে দুইটি সাজদা রয়েছে। তিনি বললেন, হ্যাঁ, যে ব্যক্তি সেই দুটি সিজদা না করে, সে যেন সেই দুটি না পড়ে। ১৮ তাহক্বীকু: হদীছটি যঈফ। ১৯ (۲۰۳) عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ سَجَدَ فِي صَلَاةِ الظَّهْرِ ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ فَرَأَوْا أَنَّهُ قرأ تنزيل السجدة. أبو داود : كتاب الصلاة باب قدر القراءة في صلاة الظهر والعصر (২০৩) ইবনু ওমর বলেন, একবার রাসূল যোহরের ছালাতে একটি সিজদা করলেন। অতঃপর দাঁড়ালেন, তারপর রুকু করলেন। এতে সকলে মনে করল, রাসূল সূরা ‘তানযীলুস সিজদা’ পাঠ করেছেন। ২০ তাহক্বীকু: যঈফ।২১ (٢٠٤) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ الله ﷺ يَقْرَأُ عَلَيْنَا الْقُرْآنَ فَإِذَا مَرَّ بالسجدة كبر وسعد وسعدنا معه. أبو داود : كتاب الصلاة باب في الرجل يسمع السجدة وهو راكب وفي غير الصلاة (২০৪) ইবনু ওমর বল বলেন, রাসূল আমাদেরকে কুরআন পড়ে শুনাতেন। যখন তিনি সিজদার আয়াতের নিকট পৌছতেন তাকবীর বলতেন এবং সিজদা করতেন। আর আমরাও তাঁর সাথে সিজদা করতাম।২২

পৃষ্ঠা:৯০

(٢٠٥) عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَرَأَ عَامَ الْفَتْحِ سَحْدَةً فَسَجَدَ النَّاسُ كلهم منهم الرَّاكِبُ والسَّاجِدُ فِي الْأَرْضِ حَتَّى إِنَّ الرَّاكِبَ لَيَسْجُدُ عَلَى يَدِهِ. أبو داود : كتاب الصلاة باب في الرحل يسمع السجدة وهو راكب وفي غير الصلاة (২০৫) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল মক্কা বিজয়ের বছর একটি সিজদার আয়াত পাঠ করলেন, তখন সমস্ত লোক সিজদা করল। তাদের মধ্যে কেউ সওয়ারীর উপরই সিজদা করল আর কেউ যমীনে সিজদা করল। এমনকি কোন কোন সওয়ারী ব্যক্তি তার হাতের উপরই সিজদা করল। ২৪ তাহক্বীকু: যঈফ।২ (٢٠٦) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ لَمْ يَسْجُدْ فِي شَيْءٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ مُنْذُ تحول إلى المدينة. أبو داود : كتاب الصلاة باب من لم ير السجود في التفصل (২০৬) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল ‘মুফাসসাল’ সমূহের কোন সূরায়ই সিাজদ করেননি। ২৬ মদীনায় আগমনের পর তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২ باب أوقات النهي

অনুচ্ছেদ: নিষিদ্ধ সময় সমূহ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۰۷) عن أبي هريرة أن النبي نهي عن الصلاة نصف النهار حتى تزول الشمس إلا يوم الجمعة رواه الشافعي (২০৭) আবু হুরায়রাপ হতে বর্ণিত, রাসূল মধ্যাহ্ণে সূর্য স্থির হওয়ার সময় ছালাত পড়তে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না সূর্য ঢলে যায়, জুম’আর দিন ব্যতীত।৪২

পৃষ্ঠা:৯১

(۲۰۸) عَنْ أَبي الخليلِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ عَن النبي ﷺ أَنَّهُ كَره الصلاة نصف النَّهَارِ إِلَّا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَقَالَ إِنْ جَهَنَّمَ تُسَخَّرُ إِلَّا يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ مرسل مجاهد أكبر من أبي الخليل وأبو الْخَلِيلِ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي فَنَادَةً. أبو داود : كتاب الصلاة باب الصلاة يَوْمَ الْجُمُعَةِ قبل الزوال (২০৮) আবু খলীল বলেছেন, রাসূল ছাহাবী আবু কাতাদা হতে বর্ণনা করেন, তিনি মধ্যাহ্ েছালাত পড়াকে অপসন্দ করতেন, যতক্ষণ না সূর্য ঢলে যায়, তবে জুম’আর দিনে নয়। তিনি আরও বলেন, মধ্যাহ্ণে জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয় জুম’আর দিন ব্যতীত। তাহক্বীকু: যঈফ।০১ باب الجماعة وفضلها

অনুচ্ছেদ: জামা’আত ও তার ফযীলত

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۰۹) عن ثوبان قال قَالَ رَسُولُ الله ﷺ ثَلَاثَ لَا يَحِلُّ لِأَحَد أَنْ يَفْعَلَهُنَّ لَا يَوْمُ رَجُلٌ قَوْمًا فَيَحْصُ نَفْسَهُ بِالدُّعَاءِ دُونَهُمْ فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ خَانَهُمْ وَلَا يَنظُرُ فِي قَعْرِ بيت قبل أن يَسْتَأْذِنَ فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ دَخلَ وَلَا يُصَلِّي وَهُوَ حَمَنْ حَتَّى يتخفَّف. ما جاء في أبو داود : كتاب الطهارة باب أيصلي الرحل وهو حافي الترمذي : كتاب الصلاة كراهية أن يخص الإمام نفسه بالدعاء ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنَّةَ فِيهَا بَابِ لَا يَخْصُ الْإِمَامُ نفسة بالدعاء (২০৯) ছাওবান বলেন, রাসূল বলেছেন, তিনটি কাজ কারও জন্য জায়েয নয়। (ক) কোন ব্যক্তি মানুষের ইমামতি করবে অথচ তাদের বাদ দিয়া সে শুধু নিজের জন্য দু’আ করবে। যদি করে তাহলে সে তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। (খ) কেউ কারও ঘরের ভিতরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে তাদের নিকট হতে অনুমতি গ্রহণের পূর্বে। যদি সে ইহা করে তাহলে সে তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করল। (গ) কোন ব্যক্তি ছালাত পড়বে অথচ সে প্রস্রাব-পায়খানার চাপ ধারণ করছে যাবৎ না সে ওটা হতে হাল্কা হয়।

পৃষ্ঠা:৯২

তাহক্বীক্ব: হাদীছটি অত্যন্ত দুর্বল; বরং দু’আ সংক্রান্ত অংশটুকু জাল। ইবনু খুযায়মাহ (২২৩-৩১১) বলেন, ‘এর প্রথম অংশটুকু জাল’। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, ‘এ হাদীছের সূত্রে বিশৃংখলা ও বর্বরতা রয়েছে। ইবনু তায়মিয়াহ এবং ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) যঈফ হওয়ার পক্ষে কঠোরতা ব্যক্ত করেছেন’। ৩০ এতদ্ব্যতীত তিনি যঈফ আবুদাউদ ও যঈফ তিরমিযীতেও বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন। অনুধাবনযোগ্য: উক্ত হাদীছকে এদেশে বিদ’আতী মুনাজাতের পক্ষে পেশ করা হয়। অথচ বর্ণনাটি একদিকে জাল অন্যদিকে এটা ছালাতের মাঝের ঘটনা। এখানে দলবদ্ধভাবে হাত তুলে দু’আ করার কথা বলা হয়নি। (۲۱۰) عن جابر قال قال رسول الله ﷺ لا تؤخروا الصلاة لطعام ولا لغيره رواه في شرح السنة. (২১০) জাবের ইবনু আব্দুল্লহ বলেন, রাসূল বলেছেন, ছালাত দেরী করে আদায় করবে না- খাওয়ার জন্য হোক অথবা অপর কোন আবশ্যকে। ৪৩৬ তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۱۱) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَوْلَا مَا فِي الْبُيُوتِ مِنَ النِّسَاءِ والذرية لأقمتُ الصَّلاة صلاة العشاء وأمرت فتيانِي يُحْرِقُونَ مَا فِي الْبُيُوتِ بِالنَّارِ، (২১১) আবু হুরায়রা রাসূল বলেছেন, যদি ঘরসমূহে স্ত্রীলোক ও বালক-বালিকারা না থাকত, তাহলে আমি এশার ছালাতের জামা’আত কায়েম করে আমার যুবকদের আদেশ দিতাম তারা যেন ঘরে যা আছে সব আগুনে জ্বালিয়ে দেয়।

পৃষ্ঠা:৯৩

(۱۱۲) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا كُنتُمْ فِي الْمَسْجِدِ فَنُودِيَ بالصلاة فَلَا يَخْرُجْ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُصَلِّى. (২১২) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যখন তোমরা মসজিদে থাকবে আর তথায় আযান দেওয়া হবে, তোমাদের কেউ যেন তথা হতে চলে না যায় যাবৎ না ছালাত আদায় করে। ৩৯ তাহক্বীকু: যঈফ। (۲۱۳) عن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ اثْنَانِ فَمَا فَوْقَهُمَا جَمَاعَةٌ. ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب الأنان جماعة (২১৩) আবু মূসা আশ’আরী বলেন, রসূল বলেছেন, দুই ব্যক্তি বা 882 তদপেক্ষ অধিক সংখ্যক হলেই জামা’আত হয়।”তাহক্বীকু: বর্ণনাটি যঈফ। ৪২ باب تسوية الصف

অনুচ্ছেদ: কাতার সোজা করা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٢١٤) عَنْ الْبَراء بن عازب قَالَ كُنا نقوم في الصفوف عَلَى عَهْدِ رَسُولِ الله طويلا قبل أن يُكبر قال وَقَالَ إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَلُونَ الصفوف الأولَ وَمَا مِنْ خُطوة أَحَبُّ إِلَى الله مِنْ خَطْوَة يَمْشِيهَا يَصلُ بِهَا صَفًّا. أبو داود : كتاب الصلاة باب في الصلاة لقَامُ وَلَمْ يَأْتِ الْإِمَامُ يَنظُرُونَهُ قُعُودًا (২১৪) বারা ইবনু আযেব বলেন, রাসূল বলতেন, আল্লাহ্ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ ‘ছালাত’ পাঠান সেই সকল লোকের প্রতি যারা প্রথম কাতারের নিকটবর্তী এবং আল্লাহর নিকট সেই পা বাড়ানোর ন্যায় কোন পা বাড়ানই এত অধিক প্রিয় নয় যা কাতার ঠিক করার নিমিত্ত বাড়ানো হয়ে থাকে। ৪০

পৃষ্ঠা:৯৪

(٢١٥) عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى مَيَامِنِ الصفوف. بو داود : كتاب الصلاة باب من يستحب أن على الإمام في الصف وكراهية التأخر (২১৫) আয়েশা বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ ‘ছালাত’ পাঠান কাতারের ডান দিকের লোকদের প্রতি। তাহক্বীকু: হদীছটি যঈফ। ৪৪৬ (٢١٦) عن أنس قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُولُ عَنْ يَمِينِهِ اعْتَدِلُوا سَرُّوا صُفُوفَكُمْ وَ عَنْ يَسَارِهِ فَقَالَ اعْتَدِلُوا سَرُّوا صُفُوفَكُمْ بو داود : كتاب الصلاة باب التسوية الصفوف (২১৬) আনাস বলেন, রাসূল আপন ডান দিকের প্রতি লক্ষ্য করে বলতেন, সোজা হয়ে দাঁড়াও তোমাদের ছফ ঠিক কর। এইরূপে বাম দিকের প্রতি লক্ষ্য করে বলতেন, সোজা হয়ে দাঁড়াও তোমাদের ছফ ঠিক কর। ৪৪৭ তাহক্বীকু: যঈফ। তবে উক্ত মর্মে অনেক ছহীহ হাদীছ আছে। باب الموقف

অনুচ্ছেদ: ছালাতে দাঁড়ানোর স্থান 

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۱۷) عن سمرة بن جندب قَالَ أَمْرِنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا كُنَّا ثَلَاثَةٌ أَنْ يَتَقَدَّمَنَا أَحَدُنَا. الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاءَ فِي الرَّجُلِ يُصَلِّي مَعَ الرَّحْلَين (২১৭) সামুরা ইবনু জুনদুব বলেন, রাসূল আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা যখন তিনজন হব তখন আমাদের মধ্য হতে একজন যেন সামনে যায়। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

পৃষ্ঠা:৯৫

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۱۸) عَنْ أَبي مالك الأشعري ألا أحدثكم بصلاة النَّبِيِّ ﷺ قَالَ فَأَقَامَ الصَّلَاةَ وصف الرِّجَالَ وَصَف خَلْفَهُمُ الْعَلمَانَ ثُمَّ صَلَّى بهِمْ فَذَكَرَ صَلَاتَهُ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا صَلَاةُ قَالَ عَبْدُ الْأَعْلَى لَا أَحْسَبُهُ إِلَّا قَالَ صَلَاةٌ أُمَّتِي. أبو داود : كتاب الصلاة باب مقام الصبيان من الصف (২১৮) আবু মালেক আশ’আরী একদা জনগণকে বললেন, আমি কি আপনাদেরকে রাসূল-এর ছালাত কেমন ছিল তা শিক্ষা দিব না? পরবর্তী রাবী বলেন, অতঃপর তিনি ছালাত কায়েম করলেন। প্রথমে পুরুষের সারি দাঁড় করালেন এবং তার পিছনে ছেলেদের সারি। অতঃপর তিনি তাদের ছালাত পড়ালেন এবং তারপর তিনি রাসূল-এর ছালাতের বর্ণনা দিলেন এবং বললেন, রাসূল বলেছেন, এইরূপই আমার উম্মতের ছালাত। ১ ৪৫১ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২ باب الإمامة

অনুচ্ছেদ: ইমামতি করা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۱۹) عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِيُوَدِّنَ لَكُمْ حَيَارُكُمْ وَلْيَوْمَكُمْ قراؤُكُمْ. أبو داود : كتاب الصلاة باب من أحق بالإقامة ابن ماجة : كتاب الأذان والسنة فيه باب فضل الأذان وثواب المؤذنين (২১৯) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, উত্তম লোকেরাই যেন তোমাদের আযান দেয় এবং তোমাদের ইমামতি যেন তোমদের ক্বারীগণই করে। ৪৫৩

পৃষ্ঠা:৯৬

(۲۲۰) عن ابْنِ عَمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَةٌ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُمْ صَلَاهُم مَنْ تَقَدَّمَ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ وَرَجُلٌ أَتَى الصَّلاةَ دَبَارًا وَالدَّبَارُ أَنْ يَأْتِيَهَا بَعْدَ أَنْ تفوتُهُ وَرَحلَ اعْتبَد مُحرره. أبو داود : كتاب الصلاة باب الرحل يوم القوم وهم له كارفون ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ (২২০) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, তিন ব্যক্তি – তাদের ছালাত কবুল হবেনা (১) যে লোকদের ইমাম হয়েছে অথচ তারা তাকে অপসন্দ করে (২) যে ছালাত আদায় করতে আসে ‘দেবারে’ আর দেবার বলে (উত্তম) সময় চলে যাওয়ার পর ছালাতে আসে (৩) যে কোন স্বাধীন নারীকে দাসীতে পরিণত করে। তাহক্বীক্ব (হা/১০৫৪)। হদীছটি যঈফ। ১৫৬ উল্লেখ্য, হাদীছটির প্রথম অংশ ছহীহ (۲۲۱) عن سلامة بنت الْحُرِّ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ أَشْرَاطَ السَّاعَةِ أَنْ يتدافع أَهْلُ الْمَسْجِد لَا يَحِدُونَ إِمَامًا يُصلى بهم. أبو داود : كتاب الصلاة باب في كراهية التدافع على الإمامة (২২১) সালামা বিনতে হুর বলেন, রাসূল বলেছেন, ক্বিয়ামতের আলামত সমূহের মধ্যে এটাও একটি। মসজিদে সমবেত মুছলীগণ একে অন্যকে ঠেলে দিবে; কিন্তু তাদের ছালাত পড়াতে পারে এমন কোন উপযুক্ত ইমাম পাবে না। তাহক্বীকু: যঈফ। (۲۲۲) عن أبي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ الْجِهَادُ وَاحِبٌ عَلَيْكُمْ مَعَ كُلِّ أمير برا كَانَ أَوْ فَاجِرًا وَالصَّلَاةُ وَاحِبَةٌ عَلَيْكُمْ خَلْفَ كُلِّ مُسْلِمٍ بَرًّا كَانَ أَوْ فَاجِرًا وَإِنَّ عَمِلَ الكبائر والصَّلاةُ وَاحِبَةً عَلَى كُلِّ مُسلِم بَرًّا كَانَ أَوْ فَاجِرًا وَإِنْ عَمِلَ الْكَبَائِرَ.

পৃষ্ঠা:৯৭

ابو داود : كتاب الصلاة باب في العزو مع الئمة الحور (২২২) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, জিহাদ তোমাদের উপর ফরয প্রত্যেক ইমাম বা নেতার সাথে চাই সে ভাল লোক হোক বা খারাপ- যদিও সে কবীরা গোনাহ্ করে। এইরূপে ছালাত তোমাদের উপর ফরয প্রত্যেক মুসলমানের পিছনে, চাই সে ভাল হোক কি মন্দ-যদিও সে কবিরা গোনাহ্ করে এবং প্রত্যেক মুসলিম মৃতের জানাযার ছালাত পড়া ফরয -চাই সে ভাল হোক কি মন্দ, যদিও সে কবীরা গোনাহ্ করে থাকে। তাহক্বীকু: যঈফ। ৪৬০

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۲۳) عن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ ثلاثة لا ترفع لهم صلاتهم فوق رؤوسهم شبرا رجل أم قوما وهم له كارهون وامرأة بانت وزوجها عليها ساخط وأخوان متصارمان. (২২৩) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, তিন ব্যক্তির তাদের ছালাত তাদের মাথার উপর এক বিঘৎ উঠান হয় না। (১) যে ব্যক্তি লোকের ইমামত করে, অথচ মুক্তাদীরা তার উপর অসন্তুষ্ট, (২) সেই স্ত্রীলোক যে রাত্রি যাপন করে অথচ তার স্বামী তার উপর (সংগত কারণে) নাখোশ এবং (৩) সেই দুই ভাই যারা পরস্পরে বিচ্ছিন্ন। তাহক্বীক্ব: যঈফ। এর প্রথম বক্তব্য ছহীহ হাদী দ্বারা প্রমাণিত। (বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১০৫৪)। باب ما على المأموم من المتابعة وحكم المسبوق

অনুচ্ছেদ: মুক্তাদী ও মাসবুকের করণীয়

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٢٤) عَن أبي هريرة أنه كان يَقُولُ مَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ فَقَدْ أَدْرَكَ السَّحْدَةَ وَمَنْ فانه قراءةُ أُمِّ الْقُرْآنِ فَقَدْ فَانَّهُ خَيْرٌ كَثِيرٌ.

পৃষ্ঠা:৯৮

(২২৪) আবু হুরায়রাপ হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলতেন, যে রুক্ পেয়েছে সে পূর্ণ রাক’আতই পেয়েছে, আর যারা সূরা ফাতেহা ছুটে গেছে তার বহু কল্যাণই ছুটে গেছে। ৪৬০ তাহক্বীক: যঈফ। (٢٢٥) عَن أبي هريرة أَنَّهُ قَالَ الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَحْفِضُهُ قَبْلَ الْإِمَامِ فَإِنَّمَا ناصيته بيد شيطان. (২২৫) আবু হুরায়রা বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে মাথা উঠায় বা নামায় নিশ্চয় তার মাথা শয়তানের হাতে রয়েছে।  তাহক্বীকু: যঈফباب من صلى صلاة مرتين

অনুচ্ছেদ: এক ছালাত দুবার পড়া

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٢٦) عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسد بن خزيمة أَنَّهُ سَأَلَ أَيَا أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يُصَلِّى أحدنا في منزله الصَّلاةَ ثُمَّ يأتي المسجد وتقام الصَّلَاةُ فَأَصَلِّي مَعَهُمْ فَأَحَدُ فِي نفسي من ذلك شَيْئًا فقال أبو أيوب سألنا عن ذلكَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ ذَلِكَ لَهُ سَهُمْ جَمْعِ أبو داود : كتاب الصلاة باب فيمن صلى في منزله ثُمَّ أَدْرَكَ الْجَمَاعَةِ يُصلَّى معهم (২২৬) আসাদ ইবনু খোযায়মা গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত, সে ছাহাবী আবু আইয়ুব আনছারীকে জিজ্ঞেস করল এবং বলল, আমাদের মধ্যে কেউ ঘরে ছালাত পড়ে মসজিদে আসে এবং তথায় ছালাত শুরু হয়েছে দেখে তাদের সাথে ছালাত পড়ে অর্থাৎ, আমিই এরূপ করি; কিন্তু এতে মনে যেন কেমন একটা অস্বস্তি বোধ করি। তখন আবু আইয়ুব নবী কারীম-কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি জামা’আতের অংশবিশেষ। ৪৬৭ বললেন, আমরা এসম্পর্কে বলেছেন, এটা তার জন্য

পৃষ্ঠা:৯৯

(۲۲۷) عَنْ يَزِيدَ بْن عَامِرٍ قَالَ حنت وَالنَّبِيُّ ﷺ فِي الصَّلَاةِ فَخَلَسْتُ وَلَمْ أَدْخِلْ معَهُمْ في الصَّلاةِ قَالَ فَانْصَرَفَ عَلَيْنَا رَسُولُ الله ﷺ فَرَأَى يَزِيدَ حَالَسًا فَقَالَ أَلَمْ تسلم يَا يَزِيدُ قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ الله قَدْ أَسْلَمْتُ قَالَ فَمَا مَنَعَكَ أَنْ تَدْخُلَ مَعَ الناس في صلاتهمْ قَالَ إِنِّي كُنتُ قَدْ صَلَّيْتُ في منزلي وَأَنَا أَحْسَبُ أَنْ قَدْ صليتُمْ فَقَالَ إِذا حنت إلى الصلاة فوحدت النَّاسِ فَصَلِّ مَعَهُمْ وَإِنْ كُنتَ قَدْ صليت تكُن لك نافلة وهذه مكتوبة. أبو داود : كتاب الصلاة باب فيمن على في منزله ثُمَّ أَدْرَكَ الْجَمَاعَةَ يُصَلِّي مَعَهُمْ (২২৭) ইয়াযীদ ইবনু আমের পদ বলেন, একদা আমি রাসূল-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি ছালাতে ছিলেন। আমি বসে ছিলাম এবং তাঁদের সাথে ছালাতে শামিল হলাম না। যখন রাসূল ছালাত শেষ করে আমাদের দিকে ফিরলেন, আমাকে বসা দেখলেন এবং বললেন, হে ইয়াযীদ! তুমি কি মুসলিম নও? আমি উত্তর করলাম, হে অল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আমি মুসলিম হয়েছি। রাসূল বললেন, তাহলে তুমি তাদের সাথে ছালাতে শামিল হলে না কেন? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল আমি আমার আবাসে ছালাত পড়ে নিয়েছি। আমি মনে করেছি আপনারা ছালাত পড়ে ফেলেছেন। তখন রাসূল বললেন, যখন তুমি কোন ছালাতের স্থানে পৌঁছবে আর লোকদেরকে ছালাতে দেখবে তখন তাদের সাথে ছালাতে শামিল হবে যদিও তুমি ছালাত পড়ে ফেলেছ। তোমার এই ছালাত নফল হবে এবং ঐ ছালাত ফরয হবে। ৩১৯ তাহক্বীক্ব: যঈফ। باب السنن وفضائلها

অনুচ্ছেদ: সুন্নাত ছালাত ও তার ফযীলত

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۲۸) عَنْ عَلِيٌّ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ يُصَلِّي قَبْلَ الْعَصْرِ ركعتين. أبو داود : كتاب الصلاة باب الصلاة قبل العصر (২২৮) আলী বলেন, রাসূল আছরের পূর্বে দুই রাক’আত (নফল) ছালাত আদায় 893

পৃষ্ঠা:১০০

(۲۲۹) عن أبي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ صَلَّى بَعْدَ الْمَغْرِبِ ست ركعات لم يتكلم فِيمَا بَيْنَهُنَّ بِسُوءٍ عُدِلْنَ لَهُ بِعِبَادَةِ تَتْني عَشْرَةَ سَنَةً، حَدِيثٍ غريب لا تعرفهُ إِلَّا مِنْ حَدِيث زَيْدِ بْنِ الْحُبَابِ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي حَنْعَمْ قَالَ وَ سبعْتَ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَعِيلَ يَقُولُ عُمَرُ بْن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حَنْعَم مُنْكَرُ الْحَدِيثِ وَضَعْفَهُ جدا الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في فضل التطوع وست ركعات بعد المغرب، ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسلة فيها باب ما جاء في الست ركعات بعد المغرب (২২৯) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে মাগরিবের পর ছয় রাক’আত ছালাত পড়েছে, ঐ সময়ে ওদের মধ্যে সে কোন মন্দ বাক্য উচ্চারণ করেনি, তার সেই ছালাত বার বছরে ইবাদতের সমান গণ্য করা হবে। ৭৩ তাহক্বীকু: যঈফ। (۲۳۰) عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ صَلَّى بَعْدَ الْمَغْرِبِ عِشْرِينَ رَكْعَةً بَنِي اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ. الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في فضل التطوع وست ركعات بعد المغرب (২৩০) আয়েশা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের পর বিশ রাক’আত ছালাত পড়েছে, আল্লাহ্ তা’আলা তার জন্য জান্নাতে একখানা ঘর তৈরী করবেন। তাহক্বীক: হাদীছটি জাল। 898 (۲۳۱) عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ الْعِشَاءَ قَدْ فَدَخَلَ عَلَيَّ إِلَّا صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتِ أَو ست ركعات. أبو داود : كتاب الصلاة باب الصلاة بعد العشاء

পৃষ্ঠা ১০১ থেকে ১২০

পৃষ্ঠা:১০১

(২৩১) আয়েশা বলেন, রাসূল যখনই এশার ছালাত পড়ে আমার ঘরে প্রবেশ করতেন তখনই তিনি চার রাক’আত অথবা ছয় রাক’আত ছালাত পড়তেন। (۲۳۲) عن ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِدْبَارُ النُّجُومِ الرَّكْعَتَانِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَإِدْبَارُ السُّجُودِ الرَّكْعَتَانِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ الترمذي : كتاب تفسير القرآن باب ومن سورة الطور (২৩২) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, তারকা রাজির অস্ত যাওয়ার সময় যে ছালাতের কথা বলা হয়েছে, তা হল মাগরিবের ফরয ছালাতের পরের দুই রাক’আত। আর সিজদার পরে যে ছালাতের কথা বলা হয়েছে তা মাগরিবের ছালাত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۳۳) عَنْ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ أَرْبَعُ قَبْلَ الظَّهْرِ بَعْدَ الزَّوَالِ تحسب بمثلِهِنَّ فِي صَلَاةِ السَّحْرِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَلَيْسَ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا وَيُسَبِّحُ الله تلك الساعة ثُمَّ قرأ يتقيَّا ظِلَالُهُ عَن الْيَمِينِ وَالسَّمَائِلِ سُجَّدًا لِلَّهِ وَهُمْ داخرون الآية كلها. (২৩৩) ওমর বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি, সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যোহরের পূর্বে চার রাক’আত- ছওয়াবে শেষ রাত্রির চার রাক’আত ছালাতের সমান গণ্য করা হয়। সেই সময় কোন বস্তুই আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা ছাড়া থাকেনা। অতঃপর রাসূল এই আয়াত পাঠ করলেন, ‘যার ছায়াসমূহ ডানে-বামে ঢলে থাকে আল্লাহর সিজদায়, তাঁর প্রতি নতি স্বীকার করে ৪৮১

পৃষ্ঠা:১০২

(٢٣٤) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُطِيلُ الْقِرَاءَةَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ المغرب حَتَّى يَتَفَرَّقَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ. أبو داود : كتاب الصلاة باب ركعتي المغرب أبن الصليان (২৩৪) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল রাকা’আত সুন্নাতে ক্বিরাআত এত দীর্ঘ করতেন যে, মসজিদ হতে বিদায় হয়ে যেত।: মাগরিবের পর দুই ততক্ষণে সমস্ত লোক তাহক্বীকু: যঈফ। (٢٣٥) عن مكحول يبلغ به أن رسول الله ﷺ قال من صلى بعد المغرب قبل أن يتكلم ركعتين وفي رواية أربع ركعات رفعت صلاته في عليين مرسلا (২৩৫) মাকহুল (রহঃ) রাসূল-এর নাম করে বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের পর কথা বলার পূর্বে দুই রাক’আত অপর বর্ণনায় চার রাক’আত ছালাত পড়েছে, তার সেই ছালাত ‘ইল্লিয়ীনে’ উঠান হবে। ১৮৫ তাহক্বীকু: যঈফ। (٢٣٦) عن حذيفة نحوه وزاد فكان يقول عجلوا الركعتين بعد المغرب فإنهما ترفعان مع المكتوبة. (২৩৬) হুযায়ফা রাসূল অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এটাও বলেছেন, বলতেন, মাগরিবের পর দুই রাক’আত তাড়াতাড়ি পড়বে। কেননা, উহা ফরযের সাথে উপরে উঠান হয়।

পৃষ্ঠা:১০৩

অনুচ্ছেদ: রাতের ছালাত

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۳۷) عَنْ يَعْلَى بْن مَمْلَك أَنَّهُ سَأَلَ أُمَّ سَلَمَةَ عَنْ قراءة رَسُول الله ﷺ وَصَلاته فَقَالَتْ وَمَا لَكُمْ وَصَلَاتُهُ كَانَ يُصَلَّى وَيَنَامُ قَدْرَ مَا صَلَّى ثُمَّ يُصَلِّي قَدْرَ مَا نَامَ ثُمَّ يَنَامُ قَدْرَ مَا صَلَّى حَتَّى يُصبح وتعنت قراءته فَإِذَا هِي تَنْعَتُ قِرَاءَتَهُ حَرْفًا حَرْفًا. ابو داود : كتاب الصلاة باب استحباب الترتيل في القراءة الترمذي : كتاب فضائلِ الْقُرْآنِ بَاب مَا جَاءَ كيف كانت قراءة النبي النسائي : كتاب قيام الليل وتطوع النهار باب ذكر صلاة رسول الله ﷺ بالليل. (২৩৭) ইয়া’লা ইবনু মামলাক হতে বর্ণিত, তিনি একবার রাসূল-এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাঃ)-কে নবী করীম-এর ছালাত ও ক্বিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা তাঁর ছালাত দিয়ে কী করবে? তিনি ছালাত পড়তেন অতঃপর ঘুমাতেন যে পরিমাণ সময় ছালাত পড়তেন, দ্বিতীয়বার ছালাত পড়তেন যে পরিমাণ সময় ঘুমাতেন আবার ঘুমাতেন যে পরিমাণ সময় ছালাত, যতক্ষণ না ছুবহে ছাদেক হত। ১৯১ তাহক্বীক: যঈফ। باب ما يقول إذا قام من الليل

অনুচ্ছেদ: রাসূল রাত্রিতে উঠলে যা বলতেন

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۳۸) عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنْ اللَّيْلِ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ اللهُم أَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي وَأَسْأَلُكَ رَحْمَتَكَ اللهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا وَلَا تُزِغْ قَلْبِي بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي وَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ. أبو داود : كتاب الأدب بَاب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا تَغَارُ مِنَ اللَّيْلِ

পৃষ্ঠা:১০৪

(২৩৮) আয়েশা বলেন, রাসূল যখন রাতে জাগ্রত হতেন, তখন বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি আপনার প্রশংসার সাথে। আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাই আমার অপরাধের জন্য এবং প্রার্থনা করি আপনার রহমত। হে আল্লাহ! বৃদ্ধি করুন আমার জ্ঞান, আমার অন্তরকে বিপথগামী করবে না যখন আপনি দেখাচ্ছেন আমায় সৎপথ এবং দান করুন আমায় আপনার পক্ষ হতে রহমত। কেননা, আপনি হলেন বড় দাতা। ৪৯১ তাহক্বীকু: যঈফ। باب التحريض على قيام الليل

অনুচ্ছেদ: রাতে উঠার জন্য উৎসাহ দান দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۳۹) عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثَلَاثَةٌ يَصْحَكُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ الرَّجُلُ يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ وَالْقَوْمُ إِذَا صَفُوا لِلْقَتَالِ. (২৩৯) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, তিন ব্যক্তি রয়েছে- তাদের প্রতি আল্লাহ তা’আলা হাসেন। (১) কোন ব্যক্তি যখন সে রাতে ছালাতের জন্য উঠে (২) লোক যখন তারা ছালাতের জন্য কাতার বাঁধে এবং (৩) গাযীদল যখন তারা শত্রু রধের জন্য সারিবদ্ধ হয়। ৩ তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٤٠) عن عثمان بن أبي العاص قال سمعت رسول الله ﷺ يقول كان الداود عليه السلام من الليل ساعة يوقظ فيها أهله يقول يا آل داود قوموا فصلوا فإن هذه ساعة يستجيب الله عز وجل فيها الدعاء إلا لساحر أو عشار. (২৪০) ওছমান ইবনু আবুল ‘আছপ বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি, দাউদ-এর রাতে একটি নির্দিষ্ট সময় ছিল, সে সময় তিনি পরিবারের লোকদেরকে জাগিয়ে দিতেন এবং বলতেন, হে দাউদ এশাই-এর

পৃষ্ঠা:১০৫

পরিবারের সদস্যবৃন্দ। উঠ ছালাত পড়! কেননা এটা এমন সময় যে সময় আল্লাহ তা’আলা দু’আ কবুল করেন জাদুকর ও অন্যায়ভাবে ট্যাক্স উদ্বুলকারী ব্যতীত। তাহক্বীক: যঈফ। باب الوتر

অনুচ্ছেদ: বিতর

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٤١) عن بريدة قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله ﷺ يَقُولُ الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتَرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرُ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوَتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا. أبو داود : كتاب الصلاة باب فيمن لم يوتر (২৪১) বুরায়দা বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি, বিতর হক; সুতরাং যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বিতর হক, সুতরাং যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বিতর হক, সুতরাং যে বিতর পড়বে না সে আমাদের দলের অন্তর্ভুক্ত নয়।৯৭ তাহক্বীকু: যঈফ। (٢٤٢) عَنْ مَالك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَن رَجُلًا سَأَلَ ابْنَ عُمَرَ عَنْ الْوَتْرِ أَوَاحِبُ هُوَ فَقَالَ عبد الله بن عُمَرَ قَدْ أوثر رسول الله ﷺ وأوثرَ الْمُسْلِمُونَ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يُرَدِّدُ عَلَيْهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَقُولُ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَوْثَرَ الْمُسْلِمُونَ. (২৪২) ইমাম মালেক (রহঃ) হতে বর্ণিত, তাঁর নিকট এই হাদীছ পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করল, বিতর কি ওয়াজিব? তিনি বললেন, রাসূল বিতর পড়েছেন এবং মুসলিমরাও বিতর পড়েছেন। লোকটি বার বার তাঁকে এই প্রশ্ন করতে লাগল আর তিনি বরাবরই বলতে লাগলেন যে, রাসূল বিতর পড়েছেন এবং মুসলিমরাও পড়েছেন।

পৃষ্ঠা:১০৬

يَقْرَأُ فِيهِنَّ يتسع سُورٍ مِنْ عَنْ (٢٤٣) عَلى قال كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُوتر بثلاث بثلاث يقرأ الْمُفَصَّلِ يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَة بِثَلَاثِ سُوَرٍ آخِرُهُنَّ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ. الترمذي: كتاب الصلاة باب ما جاء في الوثر بثلاث (২৪৩) আলী বলেন, রাসূল বিতর তিন রাক’আত পড়তেন যাতে মুফাছছাল সূরা সমূহের নয়টি সূরা পড়তেন। প্রত্যেক রাক’আতে তিনটি করে যার শেষ সূরা ছিল ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’। ২০১তাহক্বীকু: হাদীছটি অত্যন্ত যঈফ। باب القنوت

অনুচ্ছেদ: দু’আ কুনূত

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٤٤) عن الحسن أن عمر بن الخطاب جمع الناس على أبي بن كعب فكان يصلي هم عشرين ليلة ولا يقنت بهم إلا في النصف الباقي فإذا كانت العشر الأواخر تخلف فصلى في بيته فكانوا يقولون أبق أبي. (২৪৪) হাসান বছরী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব লোকদেরকে উবাই ইবনু কা’ব ছাহাবীর পিছনে একত্রিত করেন। ব্যতীত কোন দিন কুনূত পড়তেন না। যখন রামাযানের শেষ দশ দিন উপস্থিত হত তিনি বিতত থাকতেন এবং নিজের ঘরে ছালাত আদায় করতেন। এতে লোকেরা বলত, উবাই পলায়ন করেছে।তাহক্বীকু: শায বা যঈফ। ৩০৪ باب قيام شهر رمضان

অনুচ্ছেদ: রামাযানের রাত্রির ছালাত

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

عن عائشة قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فإذا هو بالبقيع فقال ” أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله ؟ قلت يا رسول الله إني

পৃষ্ঠা:১০৭

ظننت أنك أتيت بعض نسائك فقال إن الله تعالى ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيغفر لأكثر من عدد شعر غنم كلب. رواه الترمذي وابن ماجه وزاد رزين ممن استحق النار وقال الترمذي : سمعت محمدا يعني البخاري يضعف هذا الحديث. (২৪৫) আয়েশা বলেন, একদা রাত্রিতে আমি রাসূল-কে পেলাম না। দেখি, তিনি বাকী নামক গোরস্থানে আছেন। তিনি বললেন, আয়েশা! তুমি কি মনে করেছ যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করেন? আয়েশা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি আপনার অপর কোন স্ত্রীর ঘরে গিয়েছেন। তখন রাসূল বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা অর্ধ শা’বানের রাত্রিতে এই নিকটতম আসমানে অবতীর্ণ হন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশম-সংখ্যারও অধিক ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন। তাহক্বীকু: যঈফ। ৩০৬

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٤٦) عَن عائشة قالت فقدتُ رسول الله ﷺ لَيْلَة فَخَرَجْتُ فَإِذَا هُوَ بالبقيع فَقَالَ أَكنت تخافين أن يحيف الله عَلَيْكَ وَرَسُولُهُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي ظَنَنْتُ أنك أتيت بَعْضَ نِسَالِكَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْزِلُ لَيْلَةَ النَّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السماء الدنيا فيغفر لأكثر من عدد شعر علم كلب. الترمذي : كتاب الصوم باب ما جاء في ليلة النصف من شعبان (২৪৬) আয়েশা হতে বর্ণিত আছে, একদা রাসূল তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আয়েশা। তুমি জান কি এ রাত্রিতে অর্থাৎ শবে বরাতের রাতে কি কি ঘটে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল তাতে কি ঘটে? রাসূল বললেন, উহাতে নির্ধারিত হয় এই বছর মানুষের যত সন্তান জন্মাবে। এতে নির্ধারিত হয় এই বছরে মানুষের মধ্যে যারা মারা যাবে। এতে উঠানো হয় মানুষের কর্মসমূহ এবং ওতে অবতীর্ণ করা হয় মানুষের রিযিকসমূহ। অতঃপর আয়েশা রাসূল-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসূল কোন ব্যক্তি কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না আল্লাহ আ’আলার রহমত ব্যতীত? রাসূল তিনবার করে বললেন, কোন ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না আল্লাহ তা’আলার রহমত ব্যতীত। আয়েশা বলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস

পৃষ্ঠা:১০৮

করলাম, আপনিও নন হে রাসূল? তখন তিনি তাঁর মাথার উপর হাত রেখে বললেন, আমিও না; কিন্তু যদি আল্লাহ তা’আলা আপন রহমত দ্বারা আমায় ঢেকে দেন এটা তিনবার বললেন। ৫০৭তাহক্বীকু: যঈফ। (٢٤٧) عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِي عَنْ رَسُول الله ﷺ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَيَطْلُعُ فِي لَيْلَةِ النصف من شعبان فَيَغْفِرُ الجميع خلقه إلا المشرك أو مشاحن، رواه ابن ماجه ورواه أحمد عن عبد الله بن عمرو بن العاص وفي روايته إلا اثنين مشاحن وقاتل نفس ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب ما جاء في ليلة النصف من شعبان (২৪৭) আবু মূসা আশ’আরী হতে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন, অর্ধ শা’বানের রাত্রিতে আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ হন এং মাফ করে দেন তাঁর সকল সৃষ্টিকে মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ব্যতীত। তাহক্বীকু: যঈফ। ১০ (٢٤٨) عَنْ عَلى قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النَّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا فَإِنَّ اللهَ يَنزِلُ فِيهَا الغُرُوبِ الشَّمْسَ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ أَنَا مِنْ مُسْتغْفِر لِي فَأَغْفِرَ لَهُ أَنَا مُسْتَرْزِقُ فَأَرْزُقَهُ أَنَا مُبْتَلَى فَأَعَافِيَهُ أَلَّا كَذَا أَلا كَذَا حَتَّى يَطْلُعَ الْفَحْرُ.ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسلة فيها باب ما جاء في ليلة النصف من شعبان (২৪৮) আলী বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন অর্ধ শা’বান আসবে, তখন সেই রাত্রিতে তোমরা ছালাত আদায় করবে এবং দিনে ছিয়াম রাখবে। কেননা ওতে সূর্যাস্তের সাথে সাথেই আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন এবং বলতে থাকেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি যাকে আমি ক্ষমা করে দেই কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি যাকে আমি রিযিক দেই এবং কোন বিপন্ন ব্যক্তি আছ কি যাকে আমি বিপদ মুক্ত করি। এভাবে আরও আরও ব্যক্তিকে ডাকেন যাবৎ না ফজর হয়।

পৃষ্ঠা:১০৯

অনুচ্ছেদ: চাশতের ছালাত দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٤٩) عن أنس قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ صَلَّى الضُّحَى ثنتي عشرة ركعة بنى الله لَهُ قَصْرًا من ذهب في الجنة رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي هذا حديث غريبٌ لَا تَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في صلاة الصحي، ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب ما جاء في صلاة الصحي (২৪৯) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি পূবাহ্ণের বার রাক’আত ছালাত পড়বে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতে স্বর্ণের একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন। ১০ তাহক্বীক্ব: যঈফ। (٢٥٠) عَنْ مُعَادَ بْنِ أَنَسِ الْجُهَنِي أَن رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ مَنْ قَعَدَ فِي مُصَلَّاهُ حين يتصرف من صلاة الصبح حتى يسبح ركعتي الضُّحَى لَا يَقُولُ إِلَّا خَيْرًا غفِرَ لَهُ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ أَكْثَرَ مِنْ زَبَدِ الْبَحْرِ أبو داود : كتاب الصلاة باب صلاة الصحي (২৫০) মু’আয ইবনু আনাস জুহানী বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত হতে অবসর গ্রহণ করে যোহর ছালাত পড়া পর্যন্ত তার মুছল্লায় বসে থাকবে এবং ভাল কথা ছাড়া কোন কথা বলবে না, তার গোনাহ্ সমূহ মাফ করা হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার চেয়েও বেশী হয়। ১৯

পৃষ্ঠা:১১০

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٥١) عَن أبي هريرَةً قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ حَافَظَ عَلَى شُفْعَةِ الضُّحَىغفِرَ لَهُ ذُنُوبُهُ وإن كانت مثل زبد البحر.الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في صلاة الصحي، ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها بابما جاء في صلاة الصحي(২৫১) আবু হুরায়রাপ বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি যোহারদুই রাক’আত ছালাত পড়ার প্রতি লক্ষ্য রাখবে, তার গোনাহ্ মাফ করা হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়। ০১৭তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৯(٢٥٢) عن أبي سعيد قَالَ كَانَ رَسُولَ الله يُصلِّي الضُّحَى حَتَّى تَقُولَ لَايدعُ وَيَدَعُهَا حَتَّى تَقُولُ لَا يُصَلِّي الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في صلاة الصحي(২৫২) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল যোহার ছালাত পড়া আরম্ভ করতেন, যাতে আমরা মনে করতাম যে, তিনি আর ওটা ছাড়বেন না। আবার উহা ছেড়ে দিতেন, যাতে আমরা মনে করতাম যে, তিনি আর উহা কখনও পড়বেন না। ১৯ তাহক্বীকু: যঈফ। ২০

অনুচ্ছেদ: নফল ছালাত

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٥٣) عَن عبد الله بن أبي أوفى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ كَانَتْ لَهُ إِلَى اللَّهِ حاجَةٌ أَوْ إِلَى أَحَدٍ مِنْ بَنِي آدَمَ فَلْيَتَوَضَّأُ فَلْيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ثُمَّ لِيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ ليين على الله وَلْيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ لِيَقُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ الله رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ

পৃষ্ঠা:১১১

وعزائم مغفرتك والغَنِيمَة مِن كُلِّ بِرِّ وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمِ لَا تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتُهُ وَلَا هَمَّا إِلَّا فَرَّحْتَهُ وَلَا حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلَّا قَضَيْنَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ الترمذي : كتاب الصلاة باب ما جاء في صلاة الحاجة ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب ما خاء في صلاة الحاجة(২৫৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আবি আওফা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তির আল্লাহর নিকট অথবা কোন মানুষের নিকট কোন হাজত রয়েছে, সে যেন প্রথমে ওযু করে এবং উহা উত্তমরূপে করে, অতঃপর দুই রাক’আত ছালাত আদায়, তারপর আল্লাহর কিছু প্রশংসা করে এবং রাসূল-এর প্রতি কিছু দরূদ পড়ে অতঃপর সে যেন বলে, ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, তিনি ধৈর্যশীল, মহামহিম। আমি মহান আরশের প্রভু পতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর নিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার রহমত আকর্ষণের কারণসমূহ, আপনার ক্ষমা লাভের সংকল্পরাজি, প্রত্যেক সৎ কাজের সার এবং অসৎ কাজ হতে শাস্তি। হে আরহামুর রাহিমীন! তুমি আমার কোন অপরাধকে ছাড়না ক্ষমা করা ব্যতীত, কোন বিপদকে রেখনা বিদূরিত করা ছাড়া এবং কোন হাজতকে রেখ না পূর্ণ করা ব্যতীত, যে হাজত তোমার সন্তোষ লাভের কারণ হয়। তাহক্বীকু: যঈফ। ২১তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল। ২২(٢٥٤) عَنْ ابْن عباس أَنْ رَسُول الله ﷺ قَالَ للعباس بن عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّاهُ أنا أعطيك ألا أمنحك أنا أحبوك أنا أفعل بك عشر حصال إِذا أَنتَ فَعَلْتَ ذلك غفر الله لك ذنبك أوله وآخره قديمه وحديثه خطأه وعنده صغيره وكبيره سره وعلانيته عشر حصال أن تصلي أربع ركعات تقرأ في كل ركعة فاتحة الكتاب وَسُورَةً فَإِذَا فَرَغْتَ مِنْ القراءة في أول ركعة وأنت قائم قُلْتَ سُبْحَانَ الله وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ خمس عشرة مرةً ثُمَّ تَرْكَعُ فَتَقُولُها وأنت راكع عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ الركوع فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَهْوِي سَاجِدًا فَتَقُولُها وأنت ساجد عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنْ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ فَتَقُولُهَا عَشْرًا فَذَلِكَ خَمْسَ

পৃষ্ঠা:১১২

وسبعون في كل ركعة تفعل ذلك في أربع ركعات إِنْ اسْتَطَعْت أَنْ تُصَلِّيهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّةً فَافْعَلْ فَإِن لم تفعل ففي كل جمعة مرَّةً فَإِن لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي عُمُرِكَ مَرَّةً.أبو داود : كتاب الصلاة باب صلاة الشيخ ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب ما جاء في صلاة الشيخ(২৫৪) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত আছে, একদা রাসূল আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালেবকে বললেন, হে আব্বাস, হে আমার চাচা! আমি কি আপনাকে দিব না, আমি কি আপনাকে দান করব না, আমি কি আপনাকে বলব না, আমি কি করিব না আপনার সাথে দশপি কাজ যখন আপনি উহা করবেন, আল্লাহ্ আপনার গোনাহ মাফ কওে দিবেন প্রথমের গোনাহ্ শেষের গোনাহ্ এবং পুরান গোনাহ্ নূতন গোনাহ অনিচ্ছাকৃত গোনাহ্ ইচ্ছাকৃত গোনাহ্ ছোট গোনাহ ও বড় গোনাহ এবং গুপ্ত গোনাহ ও প্রকাশ্য গোনাহ্? আপনি চার রাক’আত ছালাত পড়বেন, যার প্রত্যেক রাকআতে কোরআনের সূরা ফাতেহা এবং যে কোন একটি সূরা পড়বেন। যখন আপনি প্রথম রাকআতের কেরাআত শেষ করবেন, দাঁড়ান অবস্থায় বলবেন, ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়ালহামদু লিল্লা-হি, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর” ১৫ বার; অতঃপর বুকূ করবেন এবং রুকূ অবস্থায় উহা বলবেন উহা ১০ বার অতঃপর রুকু হতে মাথা উঠাবেন এবং সজদা অবস্থায় বলবেন উহা ১০ বার অতঃপর নীচের দিকে সজদায় যাইবেন এবং সজদা অবস্থায় বলবেন উহা ১০ বার অতঃপর সজদায় যাবেন এবং বলবেন উহা ১০ বার অতঃপর মাথা উঠাবেন এবং বলবেন উহা ১০ বার। সুতারাং প্রত্যেক রাকাআতে ইহা হল ৭৫ বার। এইরূপ আপনি চার রাকআতে ইহা করবেন। যদি আডনিপ্রত্যেক দিন এক বার এইরূপ ছালাত পড়তে পারেন পড়বেন, যদি হা করতে না পারেন তাহলে প্রত্যেক সপ্তাহে একবার করবেন; যদি তাও করতে না পারেন তাহলে প্রত্যেক সপ্তাহে একবার করবেন; যদি তাও করতে না পারেন তাহলে বছরে একবার, আর যদি তা করতে না পারেন তবে অন্তত নিজের জীবনে একবার করবেন। ২০ তাহক্বীক্ব: ছালাতুত তাসবীহর হাদীছকে অধিকাংশ মুহাদ্দিছ যঈফ ও মুনকারصلاة التسبيح بدعة وحديثها ليس بثابت بل هو منكر وذكره بعض | ACE أهل العلم في الموضوعات

পৃষ্ঠা:১১৩

করেছেন যে, ‘ছালাতুত তাসবীহ’ বিদ’আত। এর হাদীছ প্রমাণিত নয়; বরং মুনকার বা অস্বীকৃত। কোন কোন মুহাদ্দিছ জাল হাদীছের মধ্যে একে উল্লেখ করেছেন। ২৪ এ সম্পর্কিত ইবনু আব্বাস বর্ণিত হাদীছকে ‘মুরসাল’ কেউ ‘মওকূফ’ কেউ ‘যঈফ’ কেউ ‘মওষু’ বা জাল বলেছেন। যদিও শায়খ আলবানী (রহঃ) উক্ত হাদীছের যঈফ সূত্র সমূহ পরস্পরকে শক্তিশালী করে মনে করে তাকে হাসান ছহীহ বলেছেন এবং ইবনু হাজার আসকালানী ‘হাসান’ স্তরে উন্নীত বলেছেন। এরূপ বিতর্কিত ও সন্দেহযুক্ত হাদীছ দ্বারা ইবাদত সাব্যস্ত করা যায় না। ২০(٢٥٥) عن أبي أمامة قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ ما أذن الله لعبد في شَيْءٍ أَفْضَلَ مِنْ ركعتين يُصَلِّيهما وَإِنَّ الْبِرَّ لَيُذَرُ عَلى رأس العيدِ مَا دَامَ فِي صَلَاتِهِ وَمَا تَقَرَّبَ الْعِبَادُ إِلَى الله بمثل ما خَرَجَ مِنْهُ قَالَ أَبُو النَّصْرِ يَعْنِي الْقُرْآنَ.الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء فيمن قرأ حرفًا من القرآن ماله من الأخر(২৫৫) আবু উমামা বলেন, রাসূল বলেছেন, বান্দা যে দুই রাকা’আত ছালাত পড়ে, তদপেক্ষা উত্তম কোন আমল নেই যার প্রতি আল্লাহ তা’আলা কর্ণপাত করতে পারেন। বান্দা যতক্ষণ ছালাতে থাকে ততক্ষণ নেকী তার মাথার উপর ঝরতে থাকে। ছালাতে বান্দার মুখ হতে যা বের হয় অর্থাৎ কুরআন, তার অনুরূপ কোন জিনিস দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেনা। ২৬তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২باب صلاة السفر

অনুচ্ছেদ: সফরের ছালাত

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٥٦) عن عائشة رضي الله عنها قالت كان ذلك قد فعل رسول الله ﷺ قصرالصلاة وأتم رواه في شرح السنة(২৫৬) আয়েশা বলেন, রাসূল সবই করেছেন, ক্বছরও করেছেন এবং পূর্ণও পড়েছেন।

পৃষ্ঠা:১১৪

(٢٥٧) عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنِ قَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَشَهِدَتْ مَعَهُ الْفَتْحَ فَأَقَامَ بمكة ثَمَانِي عَشرَةً لَيْلَةً لَا يُصَلِّي إِلَّا رَكْعَتَيْنِ وَيَقُولُ يَا أَهْلَ الْبَلَدِصَلُّوا أَرْبَعًا فَإِنَّا قَوْمٌ سَفَرٌ.الترمذي : كتاب الصلاة باب متى يتم المسافر(২৫৭) ইমরান ইবনু হুছাইন বলেন, আমি রাসূল-এর সাথে যুদ্ধ করেছি এবং তাঁর সাথে মক্কা বিজয় অভিযানেও হাযির ছিলাম। তিনি মক্কায় ১৮ রাত অবস্থান করেছিলেন। সে সময় তিনি দুই রাক’আত ছাড়া ছালাত পড়তেন না। তিনি মুকীমদের বলে দিতেন, হে শহরবাসীগণ, তোমরা চার রাক’আত পূর্ণ কর। আমরা মুসাফির।তাহক্বীকু: যঈফ।৩১(٢٥٨) عن ابن عمر قال صلبت مع النبي ﷺ فِي الْخضَرِ وَالسَّفَرِ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ فِي الحضر الظهر أربعا وبعدها ركعتين وصليت معه في السَّفَرِ الظهر ركعتينِ وَبَعْدَهَا ركعتين والعصر ركعتين وَلَمْ يُصَلِّ بَعْدَهَا شَيْئًا وَالْمَغْرِبَ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ سَوَاءٌ ثَلَاثَ ركعات لا تنقص في الحضر ولا في السفر هي وثر النهار وبعدها ركعتين.الترمذي : كتاب الجمعة باب ما جاء في كراهية رفع الأيدي على المنبر(২৫৮) ইবনু ওমর বলেন, আমি রাসূল-এর সাথে সফরে দুই রাক’আত যোহর পড়েছি এবং উহার পর দুই রাক’আত পড়েছি। অপর এক বর্ণনায় আছে, ইবনু ওমর বলেন, মুক্বীম ও সফরে আমি রাসূল-এর সাথে ছালাত পড়েছি। হযরে তাঁর সাথে যোহর পড়েছি দুই রাক’আত এবং উহার পর দুই রাক’আত। আছর পড়েছি দুই রাক’আত। উহার রাসূল কোন ছালাতে হযর ও সফর কোন অবস্থাতেই বেশী বা কম হয় না। উহা হচ্ছে দিনের বিতর আর তারপর পড়েছেন দুই রাক’আত। ৩২

পৃষ্ঠা:১১৫

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٥٩) عَنْ ابْنِ عَبَّاسِ وَابْنِ عُمَرَ قَالَا مَنْ رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلَاةَ السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِوَهُمَا تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرِ وَالْوِتْرُ فِي السَّفَرِ سُنَّةٌ.ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها باب ما جاء في الولد في السفر(২৫৯) ইবনু আব্বাস ও ইবনু ওমর বলেন, রাসূল সফরের ছালাত দুই রাক’আত পড়ার নিয়ম প্রবর্তন করেছেন এবং এই দুই রাক’আতই হল পূর্ণ ছালাত, কুছর নয়। এতদ্ব্যতীত সফরে বিতর পড়াও রাসূল-এর নিয়ম।তাহক্বীক্ব: যঈফ। 200(٢٦٠) عَنْ مَالك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ الله بن عباس كَانَ يَقْصُرُ الصَّلاةَ في مثل ما بين مكة والطائف وفي مثل مَا بَيْنَ مَكةَ وَعُسْقَانَ وَفِي مَثْلِ مَا بَيْنَ مَكَّةَ وَحُدَّةً قَالَ مَالِكَ وَذَلِكَ أَرْبَعَةُ يُرد(২৬০) ইমাম মালেকের নিকট এই কথা পৌঁছেছে, ইবনু আব্বাস মক্কা ও উসফানের ব্যবধানে এবং মক্কা ও জিদ্দার ব্যবধানে ছালাত কছর পড়তেন। ইমাম মালেক বলেন, এটা চার ডাক পরিমাণ (প্রায় ৪৮ মাইল)। ৫০৬তাহক্বীকু: যঈফ।(٢٦١) عن البراء بن عازب الأنصاري قال صحبت رَسُولَ الله ﷺ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَفَرًا فَمَا رَأَيْتُهُ تَرَكَ رَكْعَتَيْنِ إِذَا زَاغَتْ الشَّمْسُ قَبْلَ الظَّهْرِأبو داود : كتاب الصلاة باب التطوع في السفر، الترمذي : كتاب ) الجمْعَةِ بَاب مَا جَاءَ فِي التَّطوع في السفر(২৬১) বারা বলেন, আমি ১৮টি সফরে রাসূল-এর সঙ্গী ছিলাম। কোন সফরেই আমি তাঁকে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর এবং যোহরের পূর্বে দুই -রাক’আত (নফল) ছালাত ছেড়ে দিতে দেখি নাই। ৩৮

পৃষ্ঠা:১১৬

(٢٦٢) عَنْ نَافِعٍ قَالَ إِنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَرَى ابْنَهُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِيتنقل في السفر فلا ينكر عليه.(২৬২) নাফে’ বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনু ওমর তাঁর পুত্র ওবায়দুল্লাহকে সফরে নফল ছালাত পড়তে দেখতেন, কিন্তু তাঁকে বাধা দিতেন না। 50 050 তাহক্বীকু: যঈফ। ৪১

অনুচ্ছেদ: জুম’আর ছালাত

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٦٣) عن أبي لبابة بن عَبْد الْمُنْدَر قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ وَأَعْظَمُهَا عِنْدَ اللهِ وَهُوَ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ مِنْ يَوْمِ الْأَصْحَى وَيَوْمِ الْفَطْرِ فِيهِ حَمْسُ حَلَال خَلَقَ الله فيه آدم وأهبط الله فيه آدم إِلَى الْأَرْضِ وَفِيهِ تَوَلَّى اللَّهُ آدَمَ وفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ اللهُ فِيهَا الْعَبْدُ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ مَا مِنْ مَلَكَ مُقَرَّبَ وَلَا سَمَاء وَلَا أَرْضِ وَلَا رِيَاحِ وَلَا جِبَالٍ وَلَا بَحْرٍ إِلَّاوَهُنَّ يُشْفَقْنَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ.ابن ماجة : كتاب إقامة الصلاة والسنة فِيهَا بَاب فِي فَضْل الجمعة(২৬৩) আবু লুবাবা ইবনু আব্দুল মুনযির বলেন, রাসূল বলেছেন, জুমু’আর দিন সকল দিনের সর্দার এবং সকল দিন অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত দিন। উহা কুরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিন অপেক্ষাও আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। উহাতে পাঁচটি বিষয় রয়েছে। ওতেই আল্লাহ পাক আদমকে সৃষ্টি করেছেন, ওতেই আল্লাহ্ তাঁকে যমীনে প্রেরণ করেছেন এবং ওতেই তিনি তাঁকে মৃত্যু দান করেছেন। ওতেই এমন একেটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কোন বান্দা সে মুহূর্তে আল্লাহ্ও নিকট কিছু যাঞ্চা কওে তিনিতাকে উহা নিশ্চয় দান করেন, যে পর্যন্ত না সে হারাম কিছু যাঞ্চা করে এবং তাতেই ক্বিয়ামত কায়েম হবে। এমন কোন সম্মানিত ফেরেশতা নেই, আসমান নেই, যমীন নেই, বাতাস নেই, পাহাড় নেই ও সমুদ্র নেই, যে জুমু’আর দিন সম্পর্কে ভীত নয়। ৪২

পৃষ্ঠা:১১৭

(٢٦٤) عن أبي هريرة قال قبل النبي ﷺ لأي شيءٍ سُمَّى يَوْمُ الْجُمُعَةِ قَالَ لِأَنَّ فيها طبعت طينة أبيك آدم وفيها الصعقة وَالْبَعْثَةُ وَفِيهَا الْبَطْشَةُ وَفِي آخِرِ ثَلَاثِ ساعَاتِ مِنْهَا سَاعَةً مَنْ دَعَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيهَا استجيب لَهُ.(২৬৪) আবু হুরায়রা বলেন, একদিন রাসূল-কে জিজ্ঞেস করা হল, জুমু’আর দিনকে জুমু’আর দিন বলা হয়? রাসূল বললেন, কেননা সেইদিন তোমার পিতা আদমীি-এর কাদামাটি একত্র করা হয়েছে, তাতেই বিশ্বের ধ্বংস সাধন ও জীবকুলকে পুনরায় উঠান হবে, ওটাতেই কঠোরভাবে কাফেরদের পাকড়াও করা হবে এবং উহারই শেষ তিন মুহূর্তের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কেউ তখন আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। 88তাহক্বীক: যঈফ। 200(٢٦٥) عن أنس قال كان رسول الله ﷺ إذا دخل رجب قال اللهم بارك لنا في رجب وشعبان وبلغنا رمضان قال وكان يقول ليلة الجمعة ليلة أغر ويومالجمعة يوم أزهر رواه البيهقي في الدعوات الكبير.(২৬৫) আনাস বলেন, যখন রজব মাস আসত, রাসূল বলতেন, আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য রজব ও শা’বান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রামাযান পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখুন। রাবী বলেন, তিনি আরও বলতেন, জুম’আর রাত্রি একটি উজ্জ্বল রাত্রি এবং জুম’আর দিন একটি উজ্জ্বল দিন। ৫৪৬তাহক্বীকু: যঈফ।باب وجوبها

অনুচ্ছেদ: জুম’আর ছালাত ফরয

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٦٦) عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فليتصدق بِدِينَارٍ فَإِنْ لَمْ يَجِدُ فَيُنصف دينار.

পৃষ্ঠা:১১৮

أبو داود : كتاب الصلاة باب كفارة من تركها(২৬৬) সামুরা ইবনু জুনদুব বলেন, রাসূল বলেছেন, যে বিনা ওযরে জুম’আর ছালাত ছেড়ে দিয়েছে, সে যেন এক দীনার দান করে। যদি তাতে সমর্থ না হয় তবে, অর্ধ দীনার। ৪৮ তাহক্বীকু: যঈফ।(٢٦٧) عن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرُو عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْجُمُعَةُ عَلَى كُلِّ مَنْ سَمِعَالنداء.أبو داود : كتاب الصلاة باب من لحب عليه الجمعة(২৬৭) আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাসূল হতে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি আযান শ্রবণ করেছে তার উপর জুম’আর ছালাত ফরয। ৩০ তাহক্বীক্ব: যঈফ।০১(٢٦٨) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ الْجُمْعَةُ عَلَى مَنْ أَوَاهُ اللَّيْلُ إِلَىأهله وهذا حديث إِسْنَادُهُ ضَعيفكتاب الجمْعَةِ بَابِ مَا جَاءَ فِي وَقْتِ الْجُمُعَةِ(২৬৮) আবু হুরায়রাহ গাড়ি থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন, জুম’আর ছালাত তার উপর ফরয, যে রাতে আপন বাড়ীতে পৌছতে পারে।২ তাহক্বীকু: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٦٩) عن ابن عباس أن النبي ﷺ قال من ترك الجمعة من غير ضرورة كتب منافقا في كتاب لا يمحى ولا يبدل وفي بعض الروايات ثلاثا ، رواه الشافعي (২৬৯) ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রয়োজন ছাড়া জুমু’আর ছালাত ছেড়ে দিল সে মুনাফিক বলে লেখা হয়েছে

পৃষ্ঠা:১১৯

এমন কিতাবে, যার লিখা মুছিয়ে ফেলা যায় না এবং পরিবর্তন করাও হয় না। অপর বর্ণনায় আছে, তিনবার ছেড়ে দিয়েছে।তাহক্বীক্ব: যঈফ।(۲۷۰) عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولُ الله ﷺ قَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَعَلَيْهِ الْجُمُعَةُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَّا مَرِيضُ أَوْ مُسَافِرٌ أَوِ امْرَأَةً أَوْ صَبِيٌّ أَوْ مَمْلُوكَ فَمَنِ استغنى بلهو أو تجارة اسْتَغْلَى اللَّهُ عَنْهُ وَاللَّهُ عَلَى حَمِيدٌ.(২৭০) জাবির (রা) থেকে বর্ণিত রাসূল বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের বিশ্বাস রাখে তার উপর জুম’আর জুম’আর ছালাত রোগী, মুসাফির, স্ত্রীলেঅ, মুসাফির, বলক, উন্মাদ এবং ক্রীতদাস ব্যতীত। যে ব্যক্তি খেলাধুলা ও ব্যবসা নিয়ে জুম’আর ছালাত হতে বিমুখ থাকবে আল্লাহ তা’আলাও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন। আল্লাহ হলেন অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত। ৫৫৬তাহক্বীকু: যঈফ।باب صلاة الخوف

অনুচ্ছদ: ভয়ের সময় ছালাত

عن جابر أن التي كان يصلي بالناس صلاة الظهر في الخوف ببطن نخل فصلى بطائفة ركعتين ثم سلم ثم جاء طائفة أخرى فصلی هم ركعتين ثم سلم.জাবের বলেন, নবী করীম (ছাঃ) ‘বতনে নখল’ যুদ্ধে লোকদের নিয়ে যোহরের ছালাত ভয়ের অবস্থায় পড়ছিলেন। তিনি এক দলকে নিয়ে দুই রাক’আত পড়লেন এবং সালাম ফিরালেন। অতঃপর দ্বিতীয় দল আসল এবং তিনি তাদের নিয়েও দুই রাক’আত পড়লেন এবং সালাম ফিরালেন। ৮باب التنظيف والتبكير

অনুচ্ছেদ: পরিচ্ছন্নতা লাভ করা এবং সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۷۱) عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ تَكَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَحْطُبُ فَهُوَ كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا وَالَّذِي يَقُولُ لَهُ أَنْصِتْ لَيْسَ لَهُ جُمُعَةٌ.

পৃষ্ঠা:১২০

(২৭১) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু’আর দিনে ইমামের খুৎবা দানকালে কথা বলে, সে হল গাধার ন্যায়, যে বোঝা উঠায় এবং যে তাকে বলে ‘চুপ কর’ তার জন্যও জুমু’আ নেই।তাহক্বীকু: যঈফ। ৫৬০(۲۷۲) عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَقٌّ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَنْ يَغْتَسِلُوا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلْيَمَسُّ أَحَدُهُمْ من طيب أَهْلِهِ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَالْمَاءِ لَهُطيب.الترمذي : كتاب الجمعة باب ما جاء في السواك والطيب يَوْمَ الْجُمعة(২৭২) বারা বলেন, রাসূল বলেছেন, মুসলিমদের দায়িত্ব হল, তারা যেন জুমু’আর দিনে গোসল করে এবং তাদের প্রত্যেকে যেন আপন পরিবারে কোন সুগন্ধি থাকলে তা গ্রহণ করে। ৬১ তাহক্বীকু: যঈফ।باب صلاة العيدين

অনুচ্ছেদ: দুই ঈদের ছালাত

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۷۳) عن جعفر بن محمد مرسلا أن النبي ﷺ وأبا بكر وعمر كبروا في العيدين والاستسقاء سبعا وخمسا وصلوا قبل الخطبة وجهروا بالقراءة . رواهالشافعي (২৭৩) জা’ফর ছাদেক ইবনু মুহাম্মাদ মুরসালসূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল এবং আবুবকর ও ওমর দুই ঈদ এবং ‘ইস্তিস্কা’-এর ছালাতে সাতবার ও পাঁচবার তাকবীর বলেছেন এবং ছালাত পড়েছেন খুৎবার পূর্বে আর ক্বিরাআত পড়েছেন বড় করে।৬০

পৃষ্ঠা ১২১ থেকে ১৪০

পৃষ্ঠা:১২১

(٢٧٤) سعيد بن الْعَاصِ سَأَلَ أَبَا مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ وَحُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ الله ﷺ يُكَبِّرُ فِي الْأَصْحَى وَالْفِطْرِ فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَانَ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا تَكْبِيرَهُعلى الجنائز.أبو داود : كتاب الصلاة باب التكبير في العيدين :(২৭৪) সাঈদ ইবনুল ‘আছ বলেন, আমি একবার আবু মূসা আশ’আরী ও হুযায়ফা ইবনু ইয়ামানকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল কুরবানীর ঈদে ও ঈদুল ফিতরে কিরূপে তাকবীর বলতেন? আবু মূসা বললেন, চার তকবীর বলতেন যেরূপে তিনি জানাযায় তাকবীর বলতেন। এটা শুনে হুযায়ফা বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেল।” ৫৬৫ তাহক্বীকু: যঈফ। ঈদের তাকবীর বই ১৯-২০(٢٧٥) عن عطاء مرسلا أن النبي ﷺ كان إذا خطب يعتمد على عنزتهاعتمادا، رواه الشافعي.(২৭৫) আতা হতে মুরসালসূত্রে বর্ণিত আছে, নবী কারীম যখন খুৎবা দান করতেন, আপন লাঠির উপর ভর দিতেন। ৫৬৭ তাহক্বীকু: যঈফ।(٢٧٦) عن أبي هريرة أَنَّهُ أَصَابَهُمْ مَطَر في يوم عيد فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ ﷺ صَلَاةَالعيد في المسجد.ابن ماجة : كتاب إقامة أبو داود : كتاب الصلاة باب يصلي بالناس العيد في المستجدالصلاة والسنة فيها باب ما جاء في صلاة العيد في المسجد إذا كان مطر(২৭৬) আবু হুরায়রা হল। তাই রাসূল হতে বর্ণিত, এক ঈদের দিনে তাঁদের সেখানে বৃষ্টি তাঁদের নিয়ে ঈদের ছালাত মসজিদে পড়লেন।” ৫৬৯

পৃষ্ঠা:১২২

(۲۷۷) عن أبي الحويرث أن رسول الله ﷺ كتب إلى عمرو بن حزم وهو بنجران عجل الأضحى وأخر الفطر وذكر الناس . رواه الشافعي(২৭৭) আবুল হুওয়াইরিছ হতে বর্ণিত, রাসূল নাজরানে অবস্থিত আমর ইবনু হাযরে নিকট লিখেছিলেন, বকরা ঈদ তাড়াতাড়ি করবে আর রোযার ঈদ গৌণ করবে এবং লোকদের ওয়াষ-নসীহত করবে। ০৭১তাহক্বীক্ব: যঈফ।

অনুচ্ছেদ: কুরবানী

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۷۸) عن جابر قال ذبح النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ الذبح كَيْتَيْنِ أَقْرَتَيْنِ أَمْلَحَيْنِ مُوحَأَيْنِ فَلَمَّا وَجَّهَهُمَا قَالَ إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِي لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ عَلَى مِلَّة إبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا أَنا من الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لله رب العالمين لا شَريكَ لَهُ وبذلك أمرت وأنا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللهُمَّ مِنْكَ وَلَكَوَعَنْ مُحَمَّد وَأُمَّتَهُ بِاسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ ذَبَحَ.أبو داود : كتاب الصحايا باب ما يستحب من الصحايا ابن ماجة : كتاب الأضاحي باب أضاحي رسول الله ﷺ(২৭৮) জাবের বলেন, রাসূল এক কুরবানীর দিনে দুইটি ধূসর রংয়ের শিংওয়ালা খাসী দুম্বা যবাহ্ করলেন এবং যখন ওদের কেবলামুখী করলেন, বললেন, ‘আমি আমার চেহারাকে ফিরে নিলাম তাঁর দিকে যিনি নিজেকে ইবরাহীম -এর দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত করে; আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নয়। উপরন্তু আমার ছালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সবই জগৎ সমূহের প্রতিপালক আল্লাহর উদ্দেশ্যে। তাঁর কোন শরীক নেই। আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্ত র্গত। হে আল্লাহ! আপনার পক্ষ হতে প্রাপ্ত এবং আপনারই জন্য উৎসর্গিত। কবুল করুন মুহাম্মদের পক্ষ হতে এবং তার উম্মতগণের পক্ষ হতে। অতঃপর রাসূল বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবর’ বলে যবহ করলেন।

পৃষ্ঠা:১২৩

উল্লেখ্য, উক্ত হাদীছের শেষের অংশ ছহীহ। যেমন- কবুল করুন মুহাম্মদের পক্ষ হতে এবং তার উম্মতগণের পক্ষ হতে। অতঃপর রাসূল বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবর’ বলে যবহ করলেন।(۲۷۹) عن حنش قَالَ رَأَيْتُ عَليًّا يُضحى بكبتَيْنِ فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَوْصَانِي أَنْ أُضحى عَنْهُ فَأَنَا أَضحى عَنْهُ.أبو داود: كتاب الضحايا باب الأضحية من الميت الترمذي : كتاب الأضاحي باب ما جاء في الأضحية عن البيت (২৭৯) হানাশ (রহঃ) বলেন, আমি আলীকে দুইটি দুম্বা কুরবানী করতে দেখলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, এই কি? তিনি উত্তর করলেন, রাসূল আমাকে ওছিয়ত করে গেছেন, আমি যেন তাঁর পক্ষ হতে কুরবানী করি? সুতরাং আমি তাঁর পথ্য হতে (একটি) কুরবানী করছি। তাহক্বীকু: যঈফ। মূলত: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করার কোন ছহীহ হাদীছ নেই।(۲۸۰) عن علي قال أمرنا رسول الله ﷺ أن تستشرف الْعَيْنَ وَالْأُذُنَ وَأَنْ لَا تُصَحىبمقابله ولا مُدَائِرَة وَلَا شَرِّقاء ولا حرقاء.أبو داود : كتاب الصحابة باب ما يكره من الضحايا الترمذي : الترمذي : كتاب الأضاحي باب ما بكرة من الأضاحي(২৮০) আলী বলেন, রাসূল আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা যেন চোখ ও কান উত্তমরূপে দেখে নেই এবং আমরা যেন কুরবানী না করি যে পশুর কানের অগ্রভাগ কাটা গিয়েছে, যার কানের শেষ ভাগ কাটা গেছে অথবা যার কান গোলাকারে ছেদিত হয়েছে বা যার কান পাশের দিকে ফেড়ে গিয়েছে তার দ্বারা। 

পৃষ্ঠা:১২৪

(۲۸۱) عَنْ عَلَى بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ فِي رَسُولُ الله ﷺ أن نضحى بالحضب القرنوالأذن.الترمذي : كتاب الأضاحي باب ما يُكرة من الأضاحي(২৮১) আলী বলেন, রাসূল ও কান কাটা পশু দ্বারা কুরবানী না করি। নিষেধ করেছেন, আমরা যেন শিং ভাঙ্গাতাহক্বীক্ব: যঈফ।(۲۸۲) عن أبي هريرة قال سمعت رسول الله ﷺ يَقُولُ نَعمَ أَوْ نعمتالأَصْحَيَّةُ الْجَدْعُ مِن الضَّأْن.الترمذي : كتاب الأضاحي باب ما جاء في الجذع من العان في الأضاحي(২৮২) আবু হুরায়রা পঙ্গু বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি, ছয় মাস পূর্ণ ভেড়া কি উত্তম কুরবানী।১তাহক্বীকু: যঈফ।(۲۸۳) عَنْ عَائِشَة أَنْ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى الله من إهراق الدم إنها لتأتي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونَهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَخْلَافَهَا وَأَنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِن الله بمكان قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الْأَرْضِ فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًاالترمذي : كتاب الأضاحي باب ما جاء في الجذع من الضأن في الأضاحي(২৮৩) আয়েশাবলেন, রাসূল বলেছেন, কুরবানীর দিনে বনী আদম এমন কোন কাজ করতে পারে না যা আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত করা অপেক্ষা প্রিয়তর। কুরবানীর পশুর শিং, পশম ও খুরসহ কিয়ামতের দিন এসে হাযির হবে এবং কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর নিকট সম্মানের স্থানে পৌঁছে যায়।

পৃষ্ঠা:১২৫

(٢٨٤) عن أبي هريرة عن النبي ﷺ قَالَ مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عشر ذي الحجة يعدل صيام كل يوم منها بصيام سنة وقيام كل ليلة منها بقيام ليلة القدر.الترمذي : كتاب الصوم باب ما جاء في العمل في أيام العشر(২৮৪) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, দিনসমূহের মধ্যে এমন কোন দিন নেই যা আল্লাহর ইবাদত করা তাঁর প্রিয়তর হতে পারে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন অপেক্ষা। এর প্রত্যেক দিনের ছিয়াম এক বছরেরর ছিয়ামের সমান এবং প্রত্যেক রাত্রির ছালাত ক্বদরের রাত্রির ছালাতের সমান। ৫৮ তাহক্বীকু: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۸۵) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ أَقَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُصَحي.الترمذي : كتاب الأضاحي باب الدليل على أن الأضحية سنة(২৮৫) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল মদীনায় দশ বছর বছর অবস্থান করেছেন আর বরাবর কুরবানী করেছেন। ৫৮৭ তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٢٨٦) عَنْ زَيد بن أرقم قال قال أَصْحَابُ رَسُول الله ﷺ يَا رَسُولَ اللَّهُ مَا هَذه الأضاحي قَالَ سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ قَالُوا فَمَا لَنَا فِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِكُلِّ شَعَرَةٍ حَسَنَةٌ قَالُوا فَالصُّوفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِكُلِّ شَعَرَةٍ مِنْ الصُّوفِ حَسَنَةٌ.ابن ماجة : كتاب الأضاحي باب ثواب الأضحية(২৮৬) যায়দ ইবনু আরকাম বলেন, এক দিন রাসূল-কে ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। এই কুরবানী কী? তিনি বললেন, তোমাদের পিতা ইব্রাহীম-এর সুন্নত। তাঁরা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এতে আমাদের কী রয়েছে হে আল্লাহর রাসূল? রাসূল বললেন,

পৃষ্ঠা:১২৬

কুরবানীর পশুর প্রত্যেক লোমের পরিবর্তে একটি নেকী রয়েছে। তাঁরা আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পশমওয়ালা পশুদের পরিবর্তে কি হবে? রাসূল বললেন, পশমওয়ালা পশুর প্রত্যেক পশমের পরিবর্তেও একটি নেকী রয়েছে।তাহক্বীক্ব: যঈফ কিংবা জাল।باب في العتبرة

অনুচ্ছেদ: রজব মাসের কুরবানী

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۸۷) عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى عيدًا جَعَلَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لهذه الأُمَّةِ قَالَ الرَّجُلُ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَحَدٌ إِلَّا أَضْحِيَّة أننى أفأضحى بها قَالَ لا وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ وَأَظْفَارِكَ وَنَقُصُّ شَارِبَكَوتَخْلُقُ عَانَتَكَ فَتِلْكَ تَمَامُ أَصْحَينَكَ عِندَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.أبو داود : کتاب الصحايا باب ما جاء في إنجاب الأضاحي النسائ : كتاب الصحايَا بَاب مَنْ لَمْ يُحد الأمية(২৮৭) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, রাসূল বলেছেন, আমি অহী প্রাপ্ত হয়েছি যে, আল্লাহ তা’আলা কুরবানীর দিনকে এই উম্মতের জন্য ঈদরূপে পরিণত করেছেন। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল। আমি যদি মাদী ‘মানীহা’ ব্যতীত অপর কোন পশু না পাই, তবে কি উহা দ্বারা কুরবানী করব? রাসূল বললেন, না; কিন্তু তুমি (কুরবানীর দিনে) তোমার চুল ও নখ কাটবে, তোমার গোঁফ খাট করবে এবং নাভির নীচের কেশ খৌরী করবে- এটাই আল্লাহর নিকট তোমার পূর্ণ কুরবানী।

পৃষ্ঠা:১২৭

অনুচ্ছেদ: সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের ছালাত 

প্রথম পরিচ্ছেদ

(۲۸۸) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللهِ ﷺ حِينَ كَسَفَتْ الشَّمْسُ ثَمَانَ ركعات في أربع سَجَدَاتِ وَعَنْ عَلَى مِثْلُ ذلك. مسلم : كتاب الكشوف باب ذكر من قال إنه رفع ثمان ركعات في أربع مخدات(২৮৮) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল ছালাত আদায় করলেন যখন সূর্যগ্রহণ হল আট রুকূ ও চার সিজদা দ্বারা। আলী হতেও অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।তাহক্বীকু: যঈফ।৯০

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۸۹) عَنْ سَمرة بن جندب قَالَ صلى بنا النبي ﷺ فِي كُوفَ لَا تَسْمَعُ لَهُ صَوتا. الترمذي : كتاب الجمعة باب ما جاء في صفة القراءة في الكسوف النسائي : كتاب ) الكسوف الركالجهر فيها بالقراءة(২৮৯) সামুরা ইবনু জুনদুব বলেন, রাসূল আমাদেরকে নিয়ে এক গ্রহণে ছালাত পড়লেন, অথচ আমরা তাঁর কোন শব্দ শুনতে পেলাম না। তাহক্বীক্ব: হদীছটি যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۹۰) عَنْ أَبي بن كعب قال الكسفت الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَإِنْ النبي صلى بهم فقراً بسورة من الطول وَرَكَعَ خَمْسَ رَكَعَاتِ وَسَجَدَ سَحْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ الثانية فقرأ سورة من الطول ورَكَعَ خَمْسَ رَكَعَاتِ وَسَجَدَ سجدتين ثُمَّ جَلَسَ كَمَا هُوَ مُستقبل القبلَةِ يَدْعُو حَتَّى الْحَلَى كُسُوفَهَا.أبو داود : كتاب الصلاة باب من قال أربع ركعات

পৃষ্ঠা:১২৮

(২৯০) উবাই ইবনু কা’ব বলেন, রাসূল-এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন তিনি তাঁদের নিয়ে ছালাত পড়লেন এবং তেওয়ালে মুফাছছাল’ দ্বারা ক্বিরাআত পড়লেন। অতঃপর পাঁচটি রুকু করলেন এবং দুইটি সিজদা করলেন, তারপর দ্বিতীয় রাক’আতের জন্য দাঁড়ালেন এবং তেওয়ালে মুফাছছালের একটি সূরা দ্বারা ক্বিরাআত পড়লেন, অতঃপর পাঁচটি বুকু করলেন এবং দুইটি সাজদা দিলেন। তৎপর কিবলামুখী হয়ে বসে রইলেন এবং দু’আ করতে থাকলেন যাবৎ না সূর্যের গ্রহণ ছাড়িয়ে গেল। ১৯৬তাহক্বীকু: যঈফ।(۲۹۱) عَنْ النَّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ كَفَتْ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فجعل يصلي ركعتين ركعتين ويسأل عنها حتى الحلت رواه أبو داود وفي رواية النسائي أن النبي صلى حين انكسفت الشمس مثل صلاتنا يركع ويسجد وله في أخرى أن النبي ﷺ أَنَّهُ خَرَجَ يَوْمًا مُسْتَعْجِدًا إِلَى الْمَسْجِدِ وَقَدْ الكَسَفَتْ الشَّمْسُ فَصَلَّى حَتَّى الحَلَت ثُمَّ قَالَ إِن أَهْلَ الْجَاهِلِيَّةِ كَانُوا يَقُولُونَ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْخَسِفَانِ إِلَّا لِمَوْتِ عَظِيمٍ مِنْ عُظَمَاء أَهْلِ الْأَرْضِ وَإِنْ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنخسفان لموت أحد ولا لحياته وَلَكِنَّهُمَا خَلِيقَتَانِ مِنْ خَلْقَه يُحدث الله في خلقه مَا يَشَاءُ فَأَيُّهُمَا الْخَسَفَ فَصَلُّوا حَتَّى يَنْحَلِي أَوْ يُحدثلله أمراءأبو داود : كتاب الصلاة باب من قال يركع ركعتين النسائ : كتاب الكسوف باب نوع اخر(২৯১) নু’মান ইবনু বাশীর বলেন, রাসূল-এর যামানায় একবার সূর্য গহণ লাগল। তিনি দুই দুই রাক’আত করে ছালাত পড়তে থাকলেন এবং গ্রহণের অবস্থা জিজ্ঞেস যতক্ষণ না তা পরিষ্কার হল। নাসাঈর বর্ণনায় রয়েছে, যখন সূর্যগ্রহণ হল তখন রাসূল আমাদের রুকু সিজদার ন্যায় তিনি ছালাত পড়লেন। অন্যত্র এসেছে, রাসূল একদিন তাড়াতাড়ি মসজিদের দিকে বের হলেন। তখন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। এ সময় তিনি ছালাত পড়তে লাগলেন। যতক্ষণ তা পরিষ্কা না হল। অতঃপর বললেন, জাহেলী যুগে বলত, চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণগ্রস্ত হয় না পৃথিবীর মহান ব্যক্তিদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তি মারা গেলে

পৃষ্ঠা:১২৯

হয়। অথচ কারো মরণের কারণে সূর্য-চন্দ্র গ্রহণ হয় না। এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা তাই করেন। সুতরাং সূর্য-চন্দ্র যেটাই গ্রহণ লাগুক তোমরা ছালাত পড়তে থাক, যতক্ষণ তা আলোকিত না হয়। ১৯৮ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি মুনকার হিসাবে যঈফ।باب في سجود الشكر

অনুচ্ছেদ: কৃতজ্ঞতার সাজদা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۹۲) عن أبي جعفر أن النبي ﷺ رأى رجلا من النغاشين فخر ساحا ، رواهالدارقطني مرسلا وفي شرح السنة لفظ المصابيح.(২৯২) আবু জা’ফর বলেন, রাসূল একদিন এক বামনকে দেখলেন এবং তৎক্ষণাৎ সিজদায় পড়ে গেলেন।০০ তাহক্বীক্ব: যঈফ।১(۲۹۳) عن سعد بن أبي وقاص قال خرجنا مع رسول الله ﷺ من مكة نُرِيدُ الْمَدِينَةَ فَلَمَّا كُنَّا قَرِيبًا مِنْ عَرُورًا نَزَلَ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَدَعَا اللَّهَ سَاعَةً ثُمَّ حَرَّ ساجدا ممكن طويلًا ثُمَّ قَامَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَدَعَا اللَّهَ سَاعَةً ثُمَّ خَرَّ سَاجِدًا فَمَكَثَ طوِيلًا ثُمَّ قَامَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ سَاعَةً ثُمَّ حَرَّ سَاجِدًا ذكَرَهُ أَحْمَدُ ثَلَاثًا قَالَ إِنِّي سَأَلْتُ ربي وشفعت الأمني فأعطاني ثلث أُمَّتِي فَخَرَرْتُ سَاجِدًا شُكْرًا لِرَبِّي ثُمَّ رَفَعْتُ رأسي فَسَأَلْتُ رَبِّي لأُمَّتِي فَأَعْطَانِي ثلث أُمَّتِي فَخَرَرْتُ سَاجِدًا لِرَبِّي شَكْرًا ثُمَّ رفعت رأسي فَسَأَلْتُ رَبِّي لِأُمَّتِي فَأَعْطَانِي الثلث الْآخِرَ فَخَرَرْتُ سَاجِدًا لِرَبِّي.ابو داود : كتاب الجهاد باب في سعود الشكر(২৯৩) সা’দ ইবনু আবু ওয়াক্কাছ বলেন, একবার আমরা রাসূল-এর সাথে মক্কা হতে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। যখন আমরা গাযওয়াযা নামক স্থানের নিকটে পৌঁছলাম, রাসূল সওয়ারী হতে অবতরণ করলেন, অতঃপর

পৃষ্ঠা:১৩০

দুই হাত উঠালেন এবং আল্লাহর নিকট কতক সময় দু’আ করতে রইলেন, তারপর সিজদায় পড়লেন এবং দীর্ঘ সময় থাকলেন। অতঃপর দাঁড়ালেন এবং কতক সময় হাত উঠিয়ে রাখলেন। পুনরায় সিজদায় পড়লেন এবং দীর্ঘ সময় এতে থাকলেন। আবার উঠে দাঁড়ালেন এবং কতক সময় হাত উঠিয়ে রাখলেন। তারপর সিজদায় গেলেন। তিনি বললেন, আমি আমার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম এবং আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ করলাম। তিনি আমাকে আমার উম্মতের এক-তৃতীয়াংশ দান করলেন। তাই আমি আমার প্রতিপালকের শোকর আদায়ের জন্য সিজদায় পড়লাম। অতঃপর আমি আমার মাথা উঠালাম এবং আমার উম্মতের জন্য পুন: প্রার্থনা করলাম। এবার তিনি আমাকে আমার উম্মতের আরেক তৃতীয়াংশ দান করলেন। তাই আমি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আবার সিজদায় পড়লাম। ৬০২তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০০باب الاستسقاء

অনুচ্ছেদ: বৃষ্টি প্রার্থনার ছালাত

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٩٤) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال سمعت رسول الله ﷺ يقول خرج نبي من الأنبياء بالناس يستسقى فإذا هو بنملة رافعة بعض قواتهما إلى السماء فقال ارجعوا فقد استجيب لكم من أجل هذه النملة رواه الدارقطني.(২৯৪) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল-কে বলতে শুনেছি, নবীগণের মধ্যে এক নবী লোকদের নিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনায় বের হলেন। দেখলেন একটি পিঁপড়া নিজের পা দুইটি আকাশের দিকে উঠিয়ে রেখেছে। এটা দেখে নবী বললেন, তোমরা ফিরে যাও। এই পিঁপড়াটির কারণে তোমাদের প্রার্থনায় সাড়া দেওয়া হয়েছে। 

পৃষ্ঠা:১৩১

অনুচ্ছেদ: ঝড়-তুফান ও মেঘ-বৃষ্টিকালীন করণীয় 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٢٩٥) عن ابن عباس قال ما هبت ريح قط إلا حنا البي على ركبتيه وقال اللهم اجعلها رحمة ولا تجعلها عذابا اللهم اجعلها رياحا ولا تجعلها ربحا قال ابن عباس في كتاب الله تعالى ( إنا أرسلنا عليهم ريحا صرصرا) و ( أرسلنا عليهم الريح العقيم ) ( وأرسلنا الرياح لواقح ) و ( أن يرسل الرياح مبشرات) رواه الشافعي والبيهقي في الدعوات الكبير.(২৯৫) ইবনু আব্বাস বলেন, যখন বায়ু প্রবাহিত হতে আরম্ভ করত, রাসূল জানু ঠেক দিয়ে বতেন এবং বলতেন ‘আল্লাহ্! একে রহমতস্বরূপ করুন, আযাবস্বরূপ কর না। আল্লাহ্! একে বাতাসে পরিণত করুন এবং ঝড়ে পরিণত করবেন না’। ৬০৬ তাহক্বীকু: যঈফ।(٢٩٦) عَنِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا سَمِعَ صَوْتَ الرَّعْدِ وَالصَّوَاعِقِ قَالَ اللهم لا تقتلنا بغضبكَ وَلَا تُهْلَكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافَنَا قَبْلَ ذلك.الترمذي : كتاب الدعوَاتِ بَاب مَا يَقُولُ إِذَا سَمِعَ الرَّحْدَ(২৯৬) ইবনু ওমর হতে বর্ণিত, রাসূল যখন মেঘের গর্জন ও বজ্রপাতের শব্দ শুনতেন, তখন বলতেন, আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার রোষের দ্বারা হত্যা করবেন না এবং আপনার আযাবের দ্বারা আমাদের ধ্বংস করবেন না: বরং এর পূর্বেই আমাদের শান্তি দান করুন।১০তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(বঙ্গানুবাদ মিশকাত তৃতীয় খণ্ড সমাপ্ত)

পৃষ্ঠা:১৩২

كتاب الجنائز

অধ্যায়: জানাযা

باب عيادة المريض وثواب المرض

অনুচ্ছেদ: রোগীকে দেখতে যাওয়া ও রোগের সওয়াব 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۲۹۷) عن أنس بن مالك قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءِ وَعَادَ أَخاهُ الْمُسْلِمَ مُحتسبا يوعد من جهنم مسيرة سبعين خريفا.أبو داود : كتاب الجنائز باب في فضل العيادة على وضوء(২৯৭) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে উত্তমরূপে ওযু করে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে তার কোন মুসলিম ভাইকে দেখতে যাবে, তাকে জাহান্নাম হতে ষাট বছরের পথ দূরে রাখা হবে। ১১০ তাহক্বীকু: যঈফ।১১(۲۹۸) عن ابن عباس أن النبي ﷺ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْحُمَّى وَمِنَ الْأَوْحَاعِ كلها أَن يَقُول بسم الله الكبير أعوذ بالله العظيم مِنْ شَرِّ كُلِّ عَرْقِ نَجَّارِ وَمِنْ شر حر النار . رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب لا يعرف إلا من حديثإبراهيم بن إسماعيل وهو يضعف في الحديث .الترمذي : كتاب الطب باب ما جاء في البريد الحمى بالماء(২৯৮) ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত, নবী কারীম তাদেরকে জ্বর এবং যাবতীয় বেদনার জন্য এইরূপ বলতে শিক্ষা দিয়েছেন- ‘মহান আল্লাহর নামে -মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি সমস্ত রক্তপূর্ণ শিরার অপকার হতে এবং দোযখের উত্তাপের অপকার হতে’।

পৃষ্ঠা:১৩৩

(۲۹۹) عَنْ أَبي الدَّرْدَاء قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله ﷺ يَقُولُ مَنْ اشْتَكَى مِنْكُمْ شَيْئًا أَوْ اشْتَكَاهُ أَنَّ لَهُ فَلْيَقُل ربنا الله الذي في السَّمَاءِ تَقَدَّسَ اسْمُكَ أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ اغْفِرْ لَنَا حُوبُنَا وَحَطَايَانَا أَنتَ رَبُّ الطيبين أنزل رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ وَشَفَاء مِنْ شَفَاتِكَ(২৯৯) আবু দারদা বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোন বেদনা অনুভব করে অথবা তার কোন মুসলিম ভাই তার নিকট বেদনার অভিযোগ করে, তখন সে যেন বলে, “আমাদের রব্ব আল্লাহ যিনি আসমানে আছেন। হে আমার প্রতিপালক! আপনার নাম পবিত্র। তোমার নির্দেশ আসমান যমীন উভয়ে প্রযোজ্য যেভাবে আসমানে তোমার অশেষ রহমত রয়েছে, সেভাবে তুমি যমীনেও অশেষ রহমত বিস্তার কর। হে আমার প্রতিপালক! আপনি ক্ষমা করুন আমাদের ইচ্ছাকৃত অপরাধ ও অনিচ্ছাকৃত অপরাধসমূহ। আপনি পবিত্র লোকদের রব্ব। প্রেরণ করুন আপনি আপনার রহমত সমূহ হতে বিশেষ রহমত এবং আপনার আরোগ্যসমূহ হতে বিশেষ আরোগ্য এই বেদনার প্রতি, এতে তার বেদনা সেরে যাবে। 638عَلَى هَذَا الْوَجَعِ فَبَيْراً.أبو داود : كتاب الطب باب كيف الرقي(۳۰۰) عَنْ عَلي بن زيد عَنْ أُمَيَّةَ أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ عَنْ قَوْلَ اللَّهُ تَعَالَى إِنْ تبدوا ما في أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبُكُمْ بِهِ اللَّهُ وَعَنْ قَوْلِهِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْرَ به فَقَالَتْ ما سألني عَنْهَا أَحَدٌ مُنْذُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ هَذِهِ مُعَاتَبَةُ اللَّهِ الْعَبْدَ فِيمَا يُصيبه من الحمى والنكبة حتَّى الْبَضَاعَةُ يَضَعُهَا فِي كُم قميصه فَيَفْقِدُهَا فَيَفْزَعُ لَهَا حَتَّى إِنَّ الْعَبْدَ لَيَخْرُجُ مِنْ ذُنُوبِهِ كَمَا يَخْرُجُ النَّبْرُ الْأَحْمَرُ مِنْالكبير.الترمذي : كتاب القسم القرآن باب ومن سورة البقرة

পৃষ্ঠা:১৩৪

(৩০০) আলী ইবনু যায়দ ইয়াইয়া হতে বর্ণনা করেন যে, উমাইয়া আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন এই আয়াত সম্পর্কে, যদি তোমরা প্রকাশ কর যা তোমাদের অন্তরে আছে অথবা গোপন রাখ উহাকে, আল্লাহ সে সম্পর্কে তোমাদের হিসাব নিবেন’ এই আয়াত সম্পর্কে ‘যে অন্যায় কাজ করবে সে তার সাজা ভোগ করবে। তখন আয়েশা বললেন, আমি এ ব্যাপারে রাসূল-কে জিজ্ঞেস করার পর এ যাবৎ কেউ আমাকে এটা জিজ্ঞেস করেনি। রাসূল বলেছেন, এই দুই আয়াতে যে সাজার কথা বলা হয়েছে, তা হচ্ছে (দুনিয়াতে) বান্দার প্রতি যে জ্বর ও দুঃখ প্রভৃতি পৌছে, তা দ্বারা আল্লাহ যে সাজা দেন তা এমনকি বান্দা তার জামার জেবে যে মাল রাখে, অতঃপর এটা হারিয়ে ফেলে এবং তজ্জন্য অস্থির হয়ে যায়। অবশেষে বান্দা তার গোনাহসমূহ হতে বের হয়, যেভাবে স্বর্ণ হাপরের আগুনে সাফ হয়ে বের হয়। ৬১৬ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ৬১৭(۳۰۱) عن أبيه أبي مُوسَى أَنْ رَسُول الله ﷺ قَالَ لَا يُصِيبُ عَبْدًا نَكْبَةٌ فَمَا فَوْقَهَا أَوْ دُونَها إِلا بذلب وَمَا يَعْفُو الله عنه أكثَرُ قَالَ وَقَرَأَ وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْمصيبة فيما كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ. كتاب التفسير القرآن باب ومن سورة حم عسق(৩০১) আবু মূসা আশআরী হতে বর্ণিত আছে, নবী করীম বলেছেন, বান্দার প্রতি যে দুঃখ পৌঁছে থাকে চাই তা বড় হোক চাই ছোট, তা নিশ্চয় অপরাধের কারণে এবং যা আল্লাহ ক্ষমা করে দেন তা ইহা অপেক্ষা অধিক। ইহার সমর্থনে রাসূল এই আয়াত পাঠ করলেন। ‘তোমাদের প্রতি যে বিপদ পৌঁছে তা তোমাদের কৃতকর্মের দরুন, আর আল্লাহ ক্ষমা করে দেন অনেক’।১৮ তাহক্বীকু: যঈফ। ১৯(۳۰۲) عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ وَهُوَ بِالْمَوْتِ وَعِنْدَهُ قَدَحٌ فِيهِ مَاءً وَهُوَ يُدْخِلُ يَدَهُ فِي الْقَدْحِ ثُمَّ يَمْسَحُ وَجْهَهُ بِالْمَاءِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ أَعِنِّىعَلَى غَمَرَاتِ الْمَوْتِ أَوْ سَكَرَاتِ الْمَوْتِ. الترمذي : كتاب الجنائز باب ما جاء في التشديد عند الموت ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في ذكر مُرضِ رَسُولِ الله .

পৃষ্ঠা:১৩৫

(৩০২) আয়েশা বলেন, আমি নবী করীম-কে দেখেছি যখন তিনি মৃত্যু বরণ করছিলেন। তাঁর নিকট একটি পানি ভর্তি বাটি ছিল, তিনি সেই বাটিতে বার বার হাত ডুবাতেন, অতঃপর উহা দ্বারা আপন মুখ মণ্ডল মুছতেন এবং বলতেন, “আল্লাহ! তুমি আমাকে সাহায্য কর মউতের কষ্টে” ৬২০তাহক্বীকু: যঈফ। ১৯১(۳۰۳) عن عامر الرام قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللهُ الْأَسْقَامَ فَقَالَ إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَصَابَهُ السَّقَمُ ثُمَّ أَعْفَاهُ الله مِنْهُ كَانَ كَفَّارَةً لما مَضَى مِنْ ذُنُوبِهِ وَمَوْعِظَةً لَهُ فِيمَا يَسْتَقْبِلُ وَإِنَّ الْمُنَافِقَ إِذَا مَرْضَ ثُمَّ أَعْنِي كَانَ كَالْبَعِيرِ عَقَلَهُ أَهْلُهُ ثُمَّ أَرْسَلُوهُ فَلَمْ يدر لم عَقَلُوهُ وَلَمْ يَدْر لَم أَرْسَلُوهُ فَقَالَ رَجُلٌ مِمَّنْ حَوْلَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الأَسْقَامُ وَالله مَا مَرِضْتُ قَط فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَمْ عَنَّا فَلَسْتَ مِنَّاأبو داود : كتاب الجنائز باب الأمراض المكفرة المذكوب(৩০৩) আমের রাম বলেন, রাসূল একবার রোগ সম্পর্কে আলোচনা করলেন এবং বললেন, মুমিনের যখন রোগ হয়, অতঃপর আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করেন, ইহা তার অতীতের গোনাহর জন্য কাফফরা এবং ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার বস্তু হয়; কিন্তু মুনাফিক যখন রোগাক্রান্ত হয়, অতঃপর তাকে আরোগ্য দান কর হয়, সে সেই উটের ন্যায় হয় যাকে তার মালিক বেঁধেছিল অতঃপর ছেড়ে দিল। সে বুঝিল না যে, কেন তাকে বেঁধেছিল এবং কেন তাকে ছেড়ে দিল। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রাসূল! রোগ আবার কি? আল্লাহর কসম, আমি তো কখনও রোগাক্রান্ত হই নি। রাসূল বললেন, আমাদের নিকট হতে উঠে যাও! তবে আপনি আমাদের অন্ত র্ভুক্ত নন। ৬২২তাহক্বীকু: যঈফ।(٣٠٤) عن أبي سعيد الْخُدْرِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ إِذَا دَخَلْتُمْ عَلَى الْمَرِيضِ فَنَفْسُوا لَهُ فِي أَجَلِهِ فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَرْدُّ شَيْئًا وَيُطَيِّبُ نَفْسَهُ.

পৃষ্ঠা:১৩৬

الترمذي : كتاب الطب باب التداوي بالرماد ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في عيادة المريض(৩০৪) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমরা যখন কোন রোগীর নিকট যাবে, তার জীবন সম্পর্কে তাকে সান্ত্বনা দান করবে। ইহা নিয়তির কোন কিছু উল্টাতে পারবে না; কিন্তু তার মন সান্ত্বনা লাভ করবে। ২৪ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৯৫

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٠٥) عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِذا كَثُرَتْ ذُنُوبُ الْعَبْدِ وَلَمْ يَكُنْ لهُ مَا يُكَفِّرُهَا مِنَ الْعَمَلِ ابْتَلَاهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِالْحُزْنِ لِيُكَفِّرَهَا عَنْهُ.(৩০৫) আয়েশা বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন বান্দার গোনাহ্ অধিক হয়ে যায় এবং সে সকলের প্রায়শ্চিত্তের মত তার কোন নেক আমল না থাকে, আল্লাহ তা’আলা তাকে বিপদ ও চিন্তাগ্রস্ত করেন যাতে তার সে সকল গোনাহর প্রায়শ্চিত্ত করে দিতে পারেন। ১২২৬ তাহক্বীকু: যঈফ। ৩২৭(٣٠٦) عَنْ تَوْبَانَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمُ الْحُمَّى فَإِنَّ الْحُمَّى قطعة من النَّارِ فَلْيُطْفتها عَنْهُ بِالْمَاء فَلْيَسْتَنفع نَهْرًا جَاريًا لِيَسْتَقبل حريتَهُ فَيَقُولُ بسم الله اللهم اشف عَبْدَكَ وَصَدِّقَ رَسُولَكَ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ فَلْيَعتمس فيه ثلاث عمسات ثلاثة أَيَّامٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأَ فِي ثَلَاثَ فَخَمْسٍ وَإِنْ لَمْ يَبْرَأَ فِي خَمْسٍ فَسَبْعٌ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأُ فِي سَبْعِ فَتَسْعٍ فَإِنَّهَا لَا تَكَادُ تُحَاوِرُتسعا بإذن الله.الترمذي : كتاب الطب باب ما جاء في التداوي بالعسل

পৃষ্ঠা:১৩৭

(৩০৬) ছাওবান হতে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন, যখন তোমাদের কারও জ্বর হয়। নিশ্চয় জ্বর আগুনের একটা অংশ। সুতরাং উহাকে যেন পানি দ্বারা নিভান হয়। সে যেন ফজরের ছালাতের পর সূর্যোদয়ের পূর্বে নদীতে ঝাঁপ দেয় এবংভাটার দিকে অগ্রসর হচ। অতঃপর যেন বলে, ‘হে আল্লাহ! আরোগ্য দান কর তোমার বান্দাকে এবং সত্যবাদী প্রমাণ কর তোমার রাসূল-কে। সে যেন নদীতে তিন দিন তিনটি করে ডুব দেয়। এতে যদি না সারে, তবে পাঁচ দিান। তাতেও যদি না সারে, তবে সাত দিন। সাত দিনেও যদি না সারে, তবে নয় দিন। আল্লাহর হুকুমে জ্বর ইহার অধিক অগ্রসর হবে না। তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১২৯(۳۰۷) عن أنس أن رسول الله ﷺ قال إن الرب سبحانه وتعالى يقول وعزبي وحلالي لا أخرج أحدا من الدنيا أريد أغفر له حتى أستوفي كل خطيئة في عنقهيسقم في بدنه وإقتار في رزقه.(৩০৭) আনাস হতে বর্ণিত আছে, রাসূল বলেছেন, পরওয়ারদেগারে আলম সুবহানাহু ও তা’আলা বলেন, আমার মহিমা ও প্রতাপের কসম, আমি দুনিয়া হতে কাউকেও বের করব না, যাকে আমি ক্ষমা করে দেওয়ার ইচ্ছা রাখি, যাবৎ না তার ঘাড়ে অবস্থিত প্রত্যেক অপরাধকে তার শরীরে কোন রোগ অথবা রিযিকের কমি দ্বারা বিনিময়রূপে করে নেই। ৬০০ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২০১(۳۰۸) عن شقيق قال مرض عبد الله بن مسعود فعدناه فجعل يبكي فعوتبفقال إني لا أبكي لأحل المرض لأني سمعت رسول الله ﷺ يقول المرض كفارةوإنما أبكي أنه أصابني على حال فترة ولم يصبني في حال اجتهاد لأنه يكتب للعبد من الحر إذا مرض ما كان يكتب له قبل أن يمرض فمنعه منه المرض. (৩০৮) শাকীক বলেন, একবার আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ অসুস্থ হয়ে পড়লেন, আর আমরা তাঁকে দেখতে গেলাম। তিনি কাঁদতে লাগলেন। এতে কেউ তাঁকে ভর্ৎসনা করল। তখন তিনি বললেন, আমি রোগের কারণে কাঁদতেছি না। কেননা, আমি শুনেছি, রাসূল বলেছেন, রোগ হচ্ছে গোনাহর

পৃষ্ঠা:১৩৮

কাফফরা। আমি এই জন্য কাঁদছি যে, ইহা আমার বৃদ্ধকালে আমাতে পৌছল এবং আমার শক্তির যুগে পৌঁছল না। কারণ বান্দা যখন রোগক্রান্ত হয়, তার জন্য সেই সওয়াব লেখা হয়, যা তার রোগক্রান্ত হওয়ার পূর্বে তার জন্য লেখা হত, আর রোগ তাকে তা করতে বাধা দিয়েছে। ৬৩২তাহক্বীকু: যঈফ। ৬০০ (۳۰۹) عن أنس بن مالك قَالَ كَانَ النَّبِيُّ لَا يَعُودُ مَرِيضًا إِلَّا بَعْدَ ثَلَاثَ. كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في عيادة المريض (৩০৯) আনাস দেখতে যেতেন না। ৬০৪ বলেন, নবী করীম তিন দিনের পূর্বে কোন পীড়িতকে তাহক্বীকু: হাদীছটি জাল। ৬০০ (۳۱۰) عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا دَخَلْتَ عَلَى مَرِيضٍ فَمَرْهُ أَنْ يَدْعُو لَكَ فَإِنْ دُعَاءَهُ كَدْعَاءِ الْمَلَائِكَةِ. ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في عيادة المريض (৩১০) ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তুমি কোন রোগীর নিকট যাবে, তখন তাকে তোমার জন্য দু’আ করতে বলবে। তার দু’আ ফেরেশতাদের দু’আর ন্যায়। তাহক্বীক্ব: যঈফ।৬০৭ (۳۱۱) عن ابن عباس قال من السنة تخفيف الجلوس وقلة الصخب في العيادة عند المريض قال وقال رسول الله ﷺ لما كثر لغطهم واختلافهم قوموا عني رواه رزین (৩১১) ইবনু আব্বাস বলেন, রোগী দেখার সুন্নাত হচ্ছে তার নিকট স্বল্পক্ষণ বসা এবং সেখানে গোলমাল না করা। অতঃপর তিনি বলেন, মৃত্যু-

পৃষ্ঠা:১৩৯

শয্যায় যখন রাসূল ধ-এর নিকট লোকের কথাবার্তা ও মতভেদ বেশী হয়ে গিয়েছিল, তখন তিনি বললেন, আমার নিকট হতে উঠে যাও। ৬৩৮ তাহক্বীকু: যঈফ। ১০৯۳۱۲) عن أنس قال قال رسول الله ﷺ العيادة فواق ناقة وفي رواية سعيد بن ( المسيب مرسلا أفضل العيادة سرعة القيام . رواه البيهقي في شعب الإيمان. (৩১২) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, রোগী দেখা স্বল্পক্ষণ। সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাবের বর্ণনায় রয়েছে, উত্তম রোগী দেখা হল ত্বরিত উঠে যাওয়া। ৬৪০ তাহক্বীকু: যঈফ। ২০১ (۳۱۳) عن ابن عباس أن النبي ﷺ عَادَ رَجُلًا فَقَالَ مَا تَشْتَهِي قَالَ أَشْتَهِي خُبْزَ بر قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ كَانَ عنده خبر بر فليبعث إِلَى أَخِيهِ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اشتهى مُرِيضُ أَحَدِكُمْ شَيْئًا فَلْيُطْعِمْهُ. ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في عيادة المريض. (৩১৩) ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত আছে, একবার নবী করীম জনৈক রোগীকে দেখতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার কী খেতে ইচ্ছা হয়? সে বলল, গমের রুটি খেতে ইচ্ছা হয়। তখন নবী করীম যার নিকট গমের রুটি আছে, সে যেন তার এই ভাইয়ের জন্য উহা পাঠায়। অতঃপর নবী করীম বললেন, তোমাদের কোন রোগী কিছু খেতে চাইলে দিতে বলা হয়েছে, অথবা যার পূর্ণ ‘তাওয়াক্কুল’ রয়েছে। কোন কোন সময় এটাও দেখা গেছে যে, রোগী যা খেতে চায়, তা খাওয়ালে সে ভাল হয়ে যায়।তাহক্বীক্ব: যঈফ। (٣١٤) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَوْتُ غُرْبَةٍ شَهَادَةً. ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء فيمن مات غريبا

পৃষ্ঠা:১৪০

(৩১৪) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, সফরের মউত শাহাদত। তাহক্বীকু: যঈফ।৬৪০ (٣١٥) عن أبي هريرة قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ مَاتَ مَرِيضًا مَاتَ شَهِيدًا ووقي فتنة القبر وعدي وريح عليه برزقه من الجنة. ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء فيمن مات مريضًا (৩১৫) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে রুগ্নাবস্থায় মারা গেছে, সে শহীদ হয়ে মারা গেছে, তাকে কবর-আযাব হতে রক্ষা করা হবে এবং সকাল-সন্ধ্যা তাকে বেহেশতের রিযিক দেওয়া হবে। ১৪৬ তাহক্বীক্ব : জাল। ৬৪৭ باب تمني الموت وذكره অনুচ্ছেদ: মৃত্যু প্রত্যাশা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣١٦) عَنْ مُعاذ بن جبل قَالَ رَسُولُ الله ﷺ إِن شَئْتُمْ أَنْبَاتُكُمْ مَا أَوَّلُ مَا يَقُولُ الله عَزَّ وَجَلَّ لِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَا أَوَّلُ مَا يَقُولُونَ لَهُ قُلْنَا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهُ قَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ هَلْ أَحْبَبْتُمْ لِقَانِي فَيَقُولُونَ نَعَمْ يَا رَبَّنَا فَيَقُولُ لم فَيَقُولُونَ رَحوْنَا عَفْوَكَ وَمَغْفرتك فَيَقُولُ قَدْ وَجَبَتْ لَكُمْ مَغْفِرَتي (৩১৬) মু’আয ইবনু জাবাল বলেন, রাসূল একদিন বললেন, তোমরা যদি চাও আমি তোমাদেরকে বলবে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা মুমিনদেরকে প্রথমে কী বলবেন এবং মুমিনগণ আল্লাহ তা’আলকে প্রথমে কী বলবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল বললেন, আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের বলবেন, তোমরা কি আমার সাক্ষাৎ লাভকে ভালবেসেছিলে? তারা উত্তর করবে, হাঁ, নিশ্চয়ই হে আমাদের প্রতিপালক! তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, কেন ভালবেসেছিল? তারা বলবে, আমরা আপনার ক্ষমা ও মার্জনার আশা রাখছিলাম। তখন আল্লাহ বলবেন, তবে আমার ক্ষমা তোমাদের জন্য অবধারিত হয়ে গেল। ৬৪৮

পৃষ্ঠা ১৪১ থেকে ১৬০

পৃষ্ঠা:১৪১

(۳۱۷) عن عبد الله بن عمرو قال ك قال رسول الله ﷺ تحفة المؤمن الموت رواه البيهقي في شعب الإيمان(৩১৭) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, রাসূল বলেছেন, মৃত্যু হল মুমিনের তোহফা। তাহক্বীক্ব: যঈফ।৬১

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۱۸) عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تَمَنَّوْا الْمَوْتَ فَإِنَّ هَوْلَ الْمَطْلَعِشَدِيدٌ وَإِنَّ مِنَ السَّعَادَةِ أَنْ يَقُولَ عُمْرُ الْعَبْدِ وَيَرْزُقُهُ اللَّهُ الْإِتَابَةَ.(৩১৮) জাবের বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমরা মৃত্যু কামনা করবে না। কেননা, মৃত্যুর ভয়াবহতা বড় শক্ত। এছাড়া বান্দার হায়াত দীর্ঘ হওয়া এবং আল্লাহ তা’আলা তাকে তওবার তওফীক দেওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। ২ তাহক্বীক্ব: যঈফ।(۳۱۹) عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ جَلَسْنَا إِلَى رَسُول الله ﷺ فَذَكِّرْنَا وَرَفَقْنَا فَبَكَى سَعْدُ بن أبي وقاص فأكثر البكاء فقال يا ليتني من فقالَ النَّبِيُّ ﷺ يَا سَعْدُ أَعندي تتمنى الْمَوْتَ فَرَدَّدَ ذلك ثلاث مرات ثُمَّ قَالَ يَا سَعْدُ إِنْ كُنْتَ خَلَقْتَ لِلْجَنَّةِ فَمَا طَالَ عُمْرُكَ أَوْ حَسُنَ مِنْ عَمَلِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ(৩১৯) আবু উমামা বাহেলী বলেন, একদিন আমরা রাসূল-এর নিকট বসেছিলাম। তিনি আমাদেরকে স্মরণ করালেন এবং আমাদের অন্তরকে গলিয়ে দিলেন। এতে সা’দ ইবনু আবু ওয়াক্কাছ কাঁদতে লাগল এবং বহু কাঁদল। অতঃপর বলল, আহা, যদি মরে যেতাম! এ কথা শুনে নবী করীম বললেন, সা’দ, তুমি আমার সম্মুখ থেকেও মৃত্যু কামনা করছ? রাসূল এই

পৃষ্ঠা:১৪২

কথা তিনবার বললেন। অতঃপর বললেন, হে সা’দ! যদি তুমি জান্নাতের জন্য সৃষ্ট হয়ে থাক, তাহলে তোমার হায়াত যত দীর্ঘ হবে এবং তোমার আমল যত নেক হবে, ততই তোমার জন্য মঙ্গল হবে। ১৫৪তাহক্বীকু: যঈফ। ১০০باب ما يقال عند من حضره الموت

অনুচ্ছেদ: মুমূর্ষ ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয় 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۲۰) عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ اقْرَءُوا بِسَ عَلَى مَوْتَاكُمْ. أبو داود : كتاب الجنائز باب القراءة عند الميت ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في الأوقات التي لا يُصلَّى فِيهَا عَلَى الْمَيِّتَ وَلَا يُدْفَن(৩২০) মা’কেল ইবনু ইয়াসার বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের নিকট ‘সূরা ইয়াসীন’ পড়বে। ১০৬৬৫৭ তাহক্বীকু: যঈফ।(۳۲۱) عَنْ حُصَيْنِ بن وَحوَحٍ أَنْ طَلْحَةَ بْنَ الْبَرَاءِ مَرْضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ يَعُودُهُ فَقَالَ إِنِّي لَا أَرَى طَلْحَة إِلَّا قَدْ حَدَثَ فِيهِ الْمَوْتُ فَادْنُونِي بِهِ وَعَجِلُوا فَإِنَّهُ لَاينبغي الحيفة مسلم أن تُحبس بين ظهراني أهله.ابو داود : كتاب الجنائز باب التعجيل بالجنازة وكراهية حبيبها(৩২১) হুসাইন ইবনু ওয়াহয়াহ হতে বর্ণিত আছে, তালহা ইবনে বারা রোগাক্রান্ত হলে নবী করীম তাকে দেখতে আসলেন এবং বললেন, আমি দেখতেছি, তালহার মৃত্যু আসন্ন। সুতরাং তোমরা আমাকে সংবাদ দিও এবং তাড়াতাড়ি করিও! কেননা, কোন মুসলিমের লাশ তার পরিবারের মধ্যে আটক রাখ উচিত নয়।

পৃষ্ঠা:১৪৩

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۲۲) عن عبد الله بن جَعْفَر قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَقُنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله الْحَلِيمُ الكَرِيمُ سُبْحَانَ الله رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ قَالُوا يا رَسُولَ الله كيف للأَحْيَاء قَالَ أَحْوَدُ وَأَحْوَدُ.ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في تلقين البيت لا إله إلا الله(৩২২) আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফর বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃত্যু আসন্ন ব্যক্তিদেরকে তালকীন করাব, ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, যিনি বড় সহিষ্ণু ও দয়ালু। আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, যিনি মহান আরশের। আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা যিনি জগৎ সমূহের প্রতিপালক প্রভু। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা জীবিতদের ৬৬০ জন্য কেমন হবে? রাসূল বললেন, খুব ভাল খুব ভাল। তাহক্বীকু: যঈফ। ৬৬১(۳۲۳) عن عبد الرحمن بن كعب عن أبيه قَالَ لَمَّا حَضَرَتْ كَعْبَا الْوَفَاةُ أَنتَهُ أم بشر بنت البراء بن مَعْرُورِ فَقَالَتْ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنْ لَقِيتَ فَلَانَا فَاقْرَأْ عَلَيْهِ مني السَّلَامَ قَالَ غَفَرَ اللهُ لَكَ يَا أُمَّ بِشَرِ نَحْنُ أَشْغَلُ مِنْ ذَلِكَ قَالَتْ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَمَا سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ إِنْ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فِي طَيْرٍ حُضْرٍتعلق بشجر الجنَّةِ قَالَ بَلَى قَالَتْ فَهُوَ ذَاكَ.ابن ماحة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاءَ فِيمَا يُقَالُ عِندَ الْمَرِيضِي إِذَا حُضِرَ(৩২৩) আব্দুর রহমান ইবনু কা’ব তাঁর পিতা কা’ব সম্পর্কে বলেন, যখন (আমার পিতা) কা’ব ইবনে মালেকের মৃত্যু আসন্ন হল, তখন তাঁর নিকট উম্মে বিশর ইবনু বারা ইবনে মা’রূর এসে বললেন, হে আবু আব্দুর রহমান। যদি সেখানে অমুকের সাক্ষাৎ পাও তাকে আমার সালাম দিও! তখন তিনি বললেন, হে উম্মে বিশর, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন! তখন আমাদের ব্যস্ততা তোমার এই কাজ অপেক্ষা অধিক থাকবে। এ সময় উম্মে বিশর বললেন, আবু আব্দুর রহমান! আপনি কি শুনেননি যে, রাসূল বলেছেন, মুমিনগণের রূহ্

পৃষ্ঠা:১৪৪

সবুজ পাখীর মধ্যে হবে এবং জান্নাতের ফল খাবে। তিনি উত্তর করলেন, হ্যাঁ। তখন উম্মে বিশর বললেন, আমি তো তাই বলছি।তাহক্বীক্ব: হাদীছটি যইফ। ৬৬০(٣٢٤) عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَهُوَ يَمُوتُفقُلْتُ اقْرَأْ عَلَى رَسُول الله ﷺ السلام.ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء فيما يُقَالُ عند المريض إذا حصر(৩২৪) মুহম্মাদ ইবনু মুনকাদির (রহঃ) বলেন, আমি ছাহাবী জাবের ইবনু আব্দুল্লাহর নিকট পৌঁছলাম, তখন তিনি মুমূর্ষ অবস্থায়। আমি বললাম, রাসূল-কে আমার সালাম দিবেন। ৬৬৪তাহক্বীকু: যঈফ।باب غسل الميت وتكفينه 

অনুচ্ছেদ: মৃতের গোছল ও কাফন দান 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٢٥) عَنْ عَلَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تَعَالَوْا فِي الْكَفَنِ فَإِنَّهُ يُسْلَبُهُ سَلْبًاسريعا.أبو داود : كتاب الجنائز باب كراهية المغالاة في الكفر(৩২৫) আলী বলেন, রাসূল বলেছেন, কাফনে বেশী দামী কাপড় ব্যবহার কর না। কারণ এটা অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে। ৬৬৬ তাহক্বীকু: যঈফ।১৯৭(٣٢٦) عَنْ عُبَادَة بن الصامت عَنْ رَسُول الله ﷺ قَالَ خَيْرُ الْكَفَنِ الْحُلَّةُ وَخَيْرٌالأضحية الكبش الأقرن.

পৃষ্ঠা:১৪৫

أبو داود : كتاب الجنائز باب كراهية المغالاة في الكفر ابن ماجة : كتاب الأضاحي باب مَا يُستحب من الأضاحي(৩২৬) উবাদা ইবনু ছামেত রাসূল হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, উত্তম কাফন হচ্ছে হুল্লাহ্ এবং উত্তম কুরবানীর পশু হচ্ছে শিংওয়ালা দুম্বাতাহক্বীকু: যঈফ।৬৬৯(۳۲۷) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقْتَلَى أَحَدٍ أَنْ يُنْزَعَ عَنْهُمْ الْحَدِيدُ وَالْجُلُودُ وَأَنْ يُدْفَنُوا بدمائهم ونيابهم.أبو داود : كتاب الجنائز باب في الشهيد يغسل ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في الصلاة على الشهداء وتعنهم(৩২৭) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল ওহুদ যুদ্ধের শহীদগণের শরীর হতে সামরিক লৌহ বস্ত্র ও চর্ম বস্ত্র খুলে ফেলতে এবং তাঁদেরকে রক্তের সাথে ও তাঁদের পরিধেয় বস্ত্রে দাফন করতে বলেছিলেন।তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৭১المشي بالجنازة والصلاة عليها

অনুচ্ছেদ: লাশ নিয়ে চলা ও তার জানাযার ছালাত

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۲۸) عن عبد الله بن مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْحَبَارَةُ مَتَّبوعة وَلَيْسَتْ بتابعة ليس منها من تقدمها.الترمذي : كتاب الجنائز باب ما جاء في المشي خلف الجنازة ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب مَا جَاءَ فِي الْمَنِّي أمام الجنازة

পৃষ্ঠা:১৪৬

(৩২৮) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, রাসূল বলেছেন, লাশের অনুগমন করা হয়। লাশ কারও অনুগমন করে না। যে ব্যক্তি লাশের আগে চলেছে, সে তার সাথে নয়। ১৭২তাহক্বীকু: যঈফ। ৬৭০(۳۲۹) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ تَبِعَ حَنَازَةً وَحَمَلَهَا ثلاث مرات فَقَدْ قَضَى ما عليه من حقها. رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب وقدروى في شرح السنة أن التي حمل حبارة سعد ابن معاذ بين العمودينالترمذي : كتاب الجنائز باب ما جاء في فضل الصلاة على الحارة(৩২৯) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাযার অনুগমন করেছে এবং তিনবার জানাযার লাশ বহন করেছে, সে এ ব্যাপারে তার প্রতি আরোপিত কর্তব্য সমাধা করেছে। ৬৭৪ তাহক্বীকু: যঈফ।(۳۳۰) عن ثوبان قال خَرَجْنَا مَعَ رَسُول الله ﷺ في جنازة فَرَأَى نَاسًا رُكْبَانًا فَقَالَ أَلا تَسْتَحْيُونَ إِنَّ مَلَائِكَةَ الله عَلَى أَقْدَامِهِمْ وَأَنتُمْ عَلَى ظُهُورِ الدَّوَابالترمذي : كتاب الجنائز باب ما جاء في كراهية الركوب خلف الحارة(৩৩০) ছাওবান বলেন, একবার আমরা নবী করীম-এর সাথে এক জানাযায় বের হলাম। তিনি কতক লোককে আরোহীরূপে দেখে বললেন, তোমরা কি লজ্জা করে না যে, আল্লাহর ফেরেশতাগণ পায়ে হেঁটে চলেছেন আর তোমরা পশুর পিঠে আরোহণ করেছ? ৬৭৬ ৬৭৭ তাহক্বীক্ব: যঈফ।(۳۳۱) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اذْكُرُوا مَحَاسِنَ مَوْتَاكُمْ وَكُفُوا عن مساويهم.

পৃষ্ঠা:১৪৭

ابو داود : كتاب الأدب باب في النهي عن سب المولى الترمذي : كتاب الجنائز باب مَا جَاءَ فِي قَتْلَىأحد وذكر(৩৩১) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের ভাল কার্যসমূহের উল্লেখ করবে এবং তাদের মন্দ কার্যসমূহের উল্লেখ হতে বিরত থাকবে।তাহক্বীকু: যঈফ। ১৭৯

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۳۲) عَنْ أَبِي مُوسَى أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا مَرَّتَ بِكُمْ حِنَازَةُ يَهُودِي أَوْ نصراني أَوْ مُسْلِمٍ فَقُومُوا لَهَا فَلَسْتُمْ لَهَا تَقُومُونَ إِنَّمَا تَقُومُونَ لِمَنْ مَعَهَا مِنْالملائكة.(৩৩২) আবু মূসা আশ’আরী হতে বর্ণিত আছে, রাসূল বলেছেন, যখন তোমাদের নিকট দিয়ে কোন লাশ অতিক্রম করবে, ইহুদী, খৃস্টানের, মুসলিমের হোক, তোমরা তার জন্য দাঁড়াবে। কারণ তোমরা তার সম্মানে দাঁড়াচ্ছো না, দাঁড়াচ্ছো তার সাথে যে সকল ফেরেশতা রয়েছেন তাঁদের সম্মানার্থে। তাহক্বীকু: যঈফ।৬৬১(۳۳۳) عن أبي هريرة عن النبي ﷺ في الصلاة على الجنازة اللهم أنت ربهاوأنت خلقتها وأَنتَ هَدَيْنَهَا الْإِسْلَام وأنت قبَضْتَ رُوحَهَا وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِسِرِّهَاوعلانيتها حتنَاكَ شُفَعَاء فَاغْفِرْ لَهُ. أبو داود : كتاب الجنائز باب الدعاء للميت (৩৩৩) আবু হুরায়রা নবী করীম হতে জানাযার ছালাত সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম এতে এরূপ দু’আ করতেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতিপালক, তুমি তাকে সৃষ্টি করেছ, তুমি তাকে ইসলামের প্রতি পথ

পৃষ্ঠা:১৪৮

প্রদর্শন করেছো এবং তুমি তার প্রাণ সংহার করেছ। তুমি তার গুপ্ত ও ব্যক্ত সকল কিছু জান। আমরা সুপারিশকারীরূপে এসেছি, তুমি তাকে ক্ষমা কর। ৩৬২باب دفن الميت

অনুচ্ছেদ: মৃতকে দাফন করা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٣٤) عن عروة بن الزبير قال كان بالمدينة رجلان أحدهما يلحد والآخر لا يلحد فقالوا أيهما جاء أولا عمل عمله فجاء الذي يلحد فلحد الرسول الله ﷺرواه في شرح السنة.(৩৩৪) উরওয়া ইবনু যুবায়র বলেন, মদীনায় দুই ব্যক্তি ছিল। এক ব্যক্তি লহদী কবর খুঁড়ত আর অপর ব্যক্তি লহদী কবর খুঁড়ত না। ছাহাবীগণ রাসূল-এর কবর সম্পর্কে একমত হতে না পেরে বললেন, এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যে প্রথমে আসবে সেই তার কাজ করবে। ঘটনাক্রমে যে লাহদ করত, সেই প্রথমে আসল। সুতরাং রাসূল-এর জন্য লাহদ করা হল। ** তাহক্বীকু: যঈফ।(٣٣٥) عن ابن عباس قال سل رسول الله ﷺ من قبل رأسه رواه الشافعي.(৩৩৫) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল-কে তাঁর মাথার দিক হতে কবরে নামানো হয়েছিল। ১৬৬তাহক্বীক্ব: যঈফ।(٣٣٦) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ قَبْرًا لَيْلًا فَأَسْرِجَ لَهُ سِرَاجٌ فَأَخَذَهُ مِنْ قَبْلِ الْقَبْلَةِ وَقَالَ رَحِمَكَ اللَّهُ إِنْ كُنْتَ لَأَوَّاهَا ثَلَاءَ لِلْقُرْآنِ. الترمذي : كتاب الجنائز باب ما جاء في الدين باليل

পৃষ্ঠা:১৪৯

(৩৩৬) ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত, একবার নবী করীম একটি কবরে প্রবেশ করলেন রাতে। তাই তাঁর জন্য বাতি জ্বালান হল, অতঃপর তিনি মুর্দাকে কিবলার দিক হতে গ্রহণ করলেন এবং বললেন, আল্লাহ তোমায় রহম করুন! তুমি ছিলে বড় কোমল প্রাণ, বড় কুরআন তেলাওয়াতকারী।**তাহক্বীকু: যঈফ।(۳۳۷) عن القاسم بن محمد قال دخلت على عَائِشَةَ فَقُلْتُ يَا أُمَّهُ اكشفي لي عن قبرِ النَّبِيِّ ﷺ وَصَاحِبَيْهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فَكَشَفَتْ لِي عَنْ ثَلَاثَةِ قُبُورٍ لَا مشرفة ولا لاطئة مبطوحة ببطحاء العرضة الحمراء.أبو داود : كتاب الجنائز باب في التسوية القبر(৩৩৭) কাসেম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকর বলেন, আমি একবার আমার ফুফু বিবি আয়েশার নিকট গেলাম এবং বললাম, আম্মা! আমাকে নবী করীম এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ের কবর দেখান। তখন তিনি পর্দা সরিয়ে আমাকে তিনটি কবর দেখালেন, যা অধিক উঁচুও নয় এবং যমীনের সাথে সমানও নয় যাতে আরসার লাল কাঁকর ঢালা হয়েছিল। তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৯১

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

فلا (تحبسوه وأسرعوا به إلى قبره وليقرأ عند رأسه فاتحة البقرة وعند رجليه بخاتمةالبقرة رواه البيهقي في شعب الإيمان. وقال والصحيح أنه موقوف عليه (৩৩৮) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মরবে, তাকে ঘরে আবদ্ধ রাখবে না তাড়াতাড়ি তাকে কবরে পৌঁছে দিবে। তার মাথায় নিকট সূরা বাকারার প্রথমাংশ এবং পায়ের দিকে বাকারার শেষের দিক পাঠ করবে।১৯২ 

পৃষ্ঠা:১৫০

(۳۳۹) عن عبد الله بن أبي مليكة قال توفى عبدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْر بحيشي قَالَ فَحُمِلَ إِلَى مَكةَ فَدُونَ فِيهَا فَلَمَّا قَدِمَتْ عَائِشَةُ أَنتَ قَبْرَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أبي بكر فقالت وكنا كندماني حديقة حقبة من الدَّهْرِ حَتَّى قِيلَ لَنْ يَتَصَدَّعَا فَلَمَّا تَفَرَّقْنَا كَأَنَّى مَالِكًا لِطُولِ اجْتِمَاعِ لَمْ تَبَتْ لَيْلَةً مَعَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ لَوْ حضرتكَ مَا دُفَلْتَ إِلَّا حَيْثُ منْ وَلَوْ شَهِدَتكَ مَا زُرتُكَ.الترمذي : كتاب الجنائز باب ما جاء في الرخصة في زيارة القبور(৩৩৯) ইবনু আমি মুলাইকা (রহঃ) বলেন যখন আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর ‘হুবশিয়া’ নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁকে মক্কায় আনা হয় এবং তথায় দাফন করা হয়। অতঃপর বিবি আয়েশা যখন মক্কা গমন করেন, আব্দুর রহমান ইবনু আবু বকরের কবরের নিকট যান এবং আবৃত্তি করেন, “দীর্ঘ দিন যাবৎ আমরা জাযীমার দুই সহচরের ন্যায় কাল যাপন করছিলাম, যাতে বলা হয়েছিল যে, তারা আর কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না কিন্তু আমরা যখন বিচ্ছিন্ন হলাম, দীর্ঘ দিন এক সাথে থাকা সত্ত্বেও মনে হচ্ছে যে, আমরা এক রাত্রিও এক সাথে বাস করি নাই। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! যদি আমি আপনার মৃত্যুকালে উপস্থিত থাকতাম, তাহলে আপনি যেখানে ইন্তেকাল করেছেন, সেখানে ছাড়া অন্য কোথাও আপনাকে দাফন করতাম না। যদি আমি দাফনে উপস্থিত থাকতাম, তবে এখন আপনার যেয়ারতেও আসতাম না। ৬৯৪তাহক্বীকু: যঈফ।(٣٤٠) عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ سَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ سَعْدًا وَرَضٌ عَلَى قَبْرِهِ مَاءً.ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في إدخال الميت القير(৩৪০) আবু রাফে’ বলেন, রাসূল সা’দ ইবনে মুআযকে কবরে নামিয়েছিলেন এবং তাঁর কবরের উপর পানি ছিটিয়ে ছিলেন।৮৬

পৃষ্ঠা:১৫১

অনুচ্ছেদ: মৃতের জন্য রোদন 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٤١) عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ النَّائِحَةَ وَالْمُسْتَمِعَة.ابوداود : كتاب الجنائز باب في النوح(৩৪১) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল অভিশাপ দিয়েছেন বিলাপকারিণীকে ও শ্রবণকারিণীকে।তাহক্বীকু: যঈফ।(٣٤٢) عن أنس قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلَّا وَلَهُ بَآيَانِ بَابٌ يَصْعَدُ منْهُ عَمَلُهُ وَبَابٌ يَنزِلُ مِنْهُ رِزْقُهُ فَإِذَا مَاتَ بكيا عَلَيْهِ فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَحَلَّ فَمَابكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ.الترمذي : كتاب تفسير القرآن باب ومن سورة الدخان(৩৪২) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, প্রত্যেক মু’মিনের জন্যই দুইটি দরজা রয়েছে, একটি দরজা যা দিয়ে তার আমল উপরের দিকে যায়। দ্বিতীয় দরজা যা দিয়ে তার রিযিক অবতীর্ণ হয়। যখন সে মৃত্যুবরণ করে দরজা দুইটি তার জন্য রোদন করে। এটা আল্লাহর এই বাণীর অর্থ “তাদের (কাফেরদের) প্রতি আসমান ও যমীন রোদন করে না যখন বলা হয়েছে, তখন বিপরীতভাবে বুঝা গেছে যে, ম’মিনদের প্রতি তারা রোদন করে। একে শরীঅতের পরিভাষায় ‘মাফহুমে মুখালেফ’ বলে।তাহক্বীকু: যঈফ। ২০১(٣٤٣) عَنِ ابْن عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ كَانَ لَهُ فَرَطَانَ مِنْ أُمَّتِي أَدْخَلَهُ اللهُ بِهِمَا الْجَنَّةَ فَقَالَتْ عَائِشَة فَمَنْ كَانَ لَهُ فَرَطٌ مِنْ أُمَّتِكَ قَالَ وَمَنْ كَانَ لَهُ فَرَطٌ يَا مُوفِّقَهُ قَالَتْ فَمَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ فَرَطٌ مِنْ أُمَّتِكَ قَالَ فَأَنَا فَرَطٌ أُمَّنِي لَنْيُصابوا بمثلي.

পৃষ্ঠা:১৫২

الترمذي : كتاب الجنائز باب ما جاء فِي ثَوَابِ مَنْ قَدَّمَ وَلَدًا(৩৪৩) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তির দুইটি মৃত সন্তান থাকবে, তাদের দ্বারা আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাত দান করবেন। এটা শুনে আয়েশা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উম্মতের যার একটি মৃত সন্তান থাকবে? রাসূল বললেন, যার একটি সন্তান থাকবে, হে আয়েশা! আয়েশা আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উম্মতের মধ্যে যার একটি মৃত সন্তানও থাকবে না তার কি হবে? রাসূল বললেন, আমিই আমার উম্মতের মৃত সন্তান। হে আয়েশা! আমার মৃত্যুর মছীবত-তুল্য মছীবতে তারা কখনও পড়বে না। ৭০২ তাহক্বীকু: যঈফ।৭০০(٣٤٤) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ عَزَّى مُصَابًا فَلَهُ مثل أخره رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي هذا حديث غريب لا نعرفه مرفوعا إلا من حديث علي بن عاصم الراوي وقال ورواه بعضهم عن محمد بنسوقة بهذا الإسناد موقوفا.ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء في ثواب مَنْ عَزَّى مصابًا(৩৪৪) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দান করে, তার বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির ন্যায় ছওয়াব রয়েছে। তাহক্বীকু: যঈফ। ৭০৫(٣٤٥) عن أبي بَرْزَةً قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ عَزَّى تَكَلَى كُسِيَ بُرْدًا فِي الجنة.الترمذي: كتاب الجنائز باب آخر في فضل التعرية

পৃষ্ঠা:১৫৩

(৩৪৫) আবু বারযা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন সন্তানহারা স্ত্রীলোককে সান্ত্বনা দান করবে, তাকে বেহেশতে একটি ডোরাদার কাপড় পরান হবে। ৭০৬ তাহক্বীকু: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٤٦) عن أبي هريرة قال مات ميت من آلِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَاجْتَمَعَ النِّسَاءُ يبْكِينَ عَلَيْهِ فَقَامَ عُمَرُ يَنْهَاهُنَّ وَيَطْرُدُهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ دَعْهُنَّ يَا عُمَرُ فَإِنْالْعَيْنَ جَامِعَة وَالْقَلْبَ مُصَابٌ وَالْعَهْدَ قَرِيبٌ. النسائ : كتاب الجنائز باب الرخصة في البكاء على الميت(৩৪৬) আবু হুরায়রা বলেন, একবার রাসূল-এর পরিবারের এক ব্যক্তি মারা গেলেন, আর তার জন্য স্ত্রীলোকেরা একত্র হয়ে কাঁদতে লাগল। ওমর তাদেরকে বাধা দিতে লাগলেন এবং তাড়াতে লাগলেন। তা দেখে রাসূল বললেন, হে ওমর! ছাড় এদেরকে। কেননা তাদের চক্ষু অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে, অন্তর বিপদগ্রস্ত এবং বিপদ আসন্ন। তাহক্বীকু: যঈফ।(٣٤٧) عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا مَاتَتْ زَيْنَبُ بنتُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَبَكَتْ النِّسَاءُ فَجَعَلَ عُمَرُ يَضْرِبُهُنَّ يَسَوْطه فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بَيَدِهِ وَقَالَ مَهْلًا يَا عُمَرُ ثُمَّ قَالَ ابْكِينَ وَإِيَّاكُن وتعيق الشَّيْطَانِ ثُمَّ قَالَ إِنَّهُ مَهُمَا كَانَ مِنَ الْعَيْنِ وَالْقَلْبِ فَمِنْ اللهعَزَّ وَجَلَّ وَمِنْ الرَّحْمَةِ وَمَا كَانَ مِنْ الْيَدِ وَاللَّسَانِ فَمِنْ الشَّيْطَانِ(৩৪৭) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল-এর কন্যা যয়নব মারা গেলে লোকেরা কাঁদতে লাগল এবং ওমর তাদেরকে চাবুক দ্বারা মারতে লাগলেন। তখন রাসূল তাঁকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, আস্তে হে ওমর! অতঃপর মেয়েলোকদেরকে বললেন, খবরদার তোমরা শয়তানের ন্যায় চীৎকার কর না। পুনরায় বললেন, দেখ যা চক্ষু হতে বের হয় এবং যা অন্তর অনুভব করে, তা

পৃষ্ঠা:১৫৪

আল্লাহর পক্ষ হতে রহমত, আর যা হাত ও মুখ হতে প্রকাশিত হয়, তা শয়তানের পক্ষ হতে। ৭১০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১১(٣٤٨) عَنْ عمران بن الحصين وأبي برزة قالا خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي جنازة فرأى قَوْمًا قَدْ طَرَحُوا أَرْدِينَهُمْ يَمْشُونَ فِي قُمُصَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أبفعل الجاهلية تأخُذُونَ أو يصنع الجاهلية تَشَهُونَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَدْعُوَ عَلَيْكُمْ دَعْوَةً تَرْجِعُونَ فِي غَيْرِ صُورِكُمْ قَالَ فَأَخَذُوا أَرْدِيَتَهُمْ وَلَمْ يَعُودُوا لِذَلِكَ.ابن ماجة ما جاء في الجنائز باب ما جاء في النهي عن السلب مع الحارة(৩৪৮) ইমরান ইবনে হুছাইন ও আবু বারযা বলেন, একদা আমরা রাসূল এর সাথে এক ব্যক্তির জানাযাতে গেলাম। রাসূল একদল লোককে দেখলেন, তারা নিজেদের গায়ের চাদর সমূহ ফেলে দিয়েছে এবং শুধু একটি জামা পরে চলফেরা করছে, তা দেখে রাসূল বললেন, তোমরা কি জাহেলিয়াতের অনুরূপ করছ? আমি ইচ্ছা করেছি তোমাদের জন্য এমন বদ দু’আ করব, যাতে তোমরা তোমাদের অন্য আকৃতিতে পরিবর্তন হয়ে যাও। রাবী বলেন, এটা শুনে তারা নিজেদের চাদর গায়ে দিল এবং আর কখনও ইহার পুনরাবৃত্তি করল না। ১১২ তাহক্বীকু: জাল। ১১০(٣٤٩) عَنْ مُعاذ بن حَبْل قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمَيْنَ يُتَوَفَّى لَهُمَا ثَلَاثَةٌ إِلَّا أَدْخَلَهُمَا الله الحنة بفضل رحمته إِيَّاهُمَا فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْ اثْنَانِ قَالَ أَوْ اثْنَانِ قَالُوا أَوْ وَاحِدٌ قَالَ أَوْ وَاحِدٌ ثُمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ النِّقْطَلبحر أمه بسرره إِلَى الْجَنَّةِ إِذا احتسبته.(৩৪৯) মু’আয ইবনু জাবাল বলেন, রাসূল বলেছেন, যে কোন মুসলিম পিতা মাতার তিনটি সন্তান মারা যাবে নিশ্চয়ই তাদেরকে আল্লাহ তা’আলা তার অনুগ্রহ ও রহমতের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। যদি দুইটি সন্তান মরে

পৃষ্ঠা:১৫৫

যায়? রাসূল বললেন, অথবা দুইটি সন্তান মারা যায়। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, অথবা একটি মরে যায়? তিনি বললেন, অথবা একটি মরে যায়। অতঃপর রাসূল বললেন, আল্লাহর কসম, একটি মৃত-প্রসবিত সন্তানও তার মাকে আপন নাভী-লতা দ্বারা জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবে যদি সে ছওয়াবের আশা রাখে। ৭১৪ তাহক্বীক্ব: উক্ত হাদীছের রেখাযুক্ত অংশটুকু যঈফ। উপরের অংশটুকু ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, যা এই হাদীছের পূর্বের হাদীছ। ১৬(٣٥٠) عن عبد الله بن مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ قَدَّمَ ثَلَاثَةٌ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلْمَ كَانُوا لَهُ حصنا حصينا من النَّارِ قَالَ أَبو ذَرِّ قَدَّمْتُ اثْنَيْنِ قَالَ وَاثْنَيْنِ فَقَالَ أبي بْنُ كَعْبِ سَيِّدُ الْقُرَّاءِ قَدَّمْتُ وَاحِدًا قَالَ وَوَاحِدًا.الترمذي : كتاب الجنائز باب ما جاء في ثواب من قدم ولذا ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز بابما جاء في ثواب من أصيب بولده(৩৫০) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনটি নাবালেগ সন্তান পাঠিয়েছে, তারা তার জন্য মযবুত কেল্লা স্বরূপ হবে, তাকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করার জন্য। এ সময় আবু যর গিফারী বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল। আমি আমার দুইটি সন্তান পাঠিয়েছি। রাসূল বললেন, হাঁ, যে দুাইটি পাঠিয়েছে। অতঃপর কারীকুল শ্রেষ্ঠ আবুল মুনযির উবাই ইবনে কা’ব বললেন, হে আল্লাহর রাসূল। আমি একটি সন্ত ান পাঠিয়েছি। রাসূল বললেন, হ্যাঁ যে একটি সন্তানও পঠিয়েছে। ১ তাহক্বীকু: যঈফ। ১৮(٣٥١) عَنْ عَلى قَالَ قَالَ رَسُول الله ﷺ إن السقط لبراعم رَبُّهُ إِذَا أَدْخَلَ أَبويه النار فَيُقَالُ أَيُّهَا السقط المُراعَمُ رَبَّه أدخل أبويك الْجَنَّةَ فَيَحُرُّهُمَا بِسرره حَتَّىيدخلهما الجنة.ابن ماجة : كتاب ما جاء في الجنائز باب ما جاء فيمن أصيب يسقط

পৃষ্ঠা:১৫৬

(৩৫১) আলী বলেন, রাসূল বলেছেন, মৃত প্রসবিত সন্তানও আল্লাহর নিকট আবদার করবে। যখন দেখবে, তার মাতা-পিতাকে তিনি জাহান্নামে প্রবেশ করাচ্ছেন, তখন তাকে বলা হবে; হে প্রতিপালকের নিকট আব্দারকারী ছেলে, তুমি তোমার পিতা-মাতাকে জান্নাতে নিয়ে যাও! অতঃপর সে তাদেরকে আপন নাভী দ্বারা টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে। ১৯ তাহক্বীকু: যঈফ। ১২০(٣٥٢) عن الحسين بن علي عن النبي ﷺ قَالَ مَا مِنْ مُسْلِم وَلَا مُسْلِمَةٍ يُصَابٌ بمصيبة فيذكرهَا وَإِنْ طَالَ عَهْدُهَا قَالَ عَبَّادٌ قَدَّمَ عَهْدُهَا فَيُحْدِثُ لذلك اسْتَرْجَاعًا إِلَّا حَدَّدَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ ذَلِكَ فَأَعْطَاهُ مِثْلَ أَحْرِهَا يَوْمَ أُصِيبَ بِهَا(৩৫২) হুসাইন ইবনু আলী নবী করীম হতে বর্ণনা করেন, তিনি ‘কোন মুসলিম পুরুষ বা নারী কোন বিপদে পড়বে, অতঃপর উহাকে স্মরণ করবে যদিও দীর্ঘ দিন পরে হয় এবং তার জন্য ‘ইন্নালিল্লা-হি’ পড়বে, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাকে তখন নতুন করে ছওয়াব দিবেন, যেদিন সে বিপদে পড়েছিল সে দিনের পরিমাণ ছওয়াব। ১২১তাহক্বীক্ব: যঈফ। ২২(٣٥٣) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ إذا انقطع شمع أحدكم فليسترجع فإنه من المصائب رواه البيهقي في شعب الإيمان.(৩৫৩) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমাদের কারও জুতার ফিতা ছেঁড়ে যাবে, তখন সে যেন ‘ইন্নালিল্লা-হি’ পড়ে! কারণ ইহাও বিপদের অন্তর্ভুক্ত।তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৯৪(٣٥٤) عن أم الدرداء قالت سمعت أبا الدرداء يقول سمعت أبا القاسم ﷺ يقول إن الله تبارك وتعالى قال يا عيسى إني باعث من بعدك أمة إذا أصابهم ما

পৃষ্ঠা:১৫৭

يحبون حمدوا الله وإن أصابهم ما يكرهون احتسبوا وصبروا ولا حلم ولا عقل . فقال يا رب كيف يكون هذا لهم ولا حلم ولا عقل ؟ قال أعطيهم من حلميوعلمي رواهما البيهقي في شعب الإيمان (৩৫৪) আবু দারদার মাবলেন, আমি (আমার স্বামী) আবু দারদাকে বলতে শুনেছি, আমি আবুল কাসেম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা ঈসাকে বলেন, হে ঈসা! আমি তোমার পর এমন একটি উম্মতের সৃষ্টি করব, যাদের নিকট যখন সুখবর কিছু পৌঁছবে, তখন তারা আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং যখন তাদের প্রতি দুঃখের কিছু বর্তাবে, সবর করবে এবং সওয়াবের আশা রাখবে। অথচ তখন তাদের সহ্যশক্তি ও বুদ্ধি থাকবে না। ঈসা একি বললেন, হে আমার প্রভু! ইহা তাদের পক্ষে কী করে সম্ভবপর হবে, যখন তাদের না সহ্যশক্তি থাকবে না বুদ্ধি? তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমি তাদেরকে আমার সহ্যশক্তি ও আমার বুদ্ধি হতে কিছু দান করব। ২৫ তাহক্বীকু: যঈফ। ১২৬باب زيارة القبور

অনুচ্ছেদ: কবর যিয়ারত

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٥٥) عَنْ ابْنِ عَبَّاس قَالَ مَرَّ رَسُولُ الله ﷺ يَقُبُورِ الْمَدِينَةِ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمْ بِوَجْهِهِ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ الله لَنَا وَلَكُمْ أَنتُمْ سَلَقْنَا وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ.الترمذي : كتاب الجنائز باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا دَخَلَ الْمَقَابِرَ(৩৫৫) ইবনু আব্বাস বলেন, একদা নবী করীম মদীনার কবরের নিকট পৌঁছলেন, অতঃপর তাদের দিকে ফিরে বললেন, সালাম হোক তোমাদের প্রতি হে কবরবাসী! আল্লাহ আমাদের এবং তোমাদের ক্ষমা করুন। তোমরা আমাদের পূর্বগামী এবং আমরা তোমাদের পরে আসছি। ৭২৭

পৃষ্ঠা:১৫৮

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٥٦) عن محمد بن النعمان يرفع الحديث إلى النبي ﷺ قال من زار قبر أبويه أو أحدهما في كل جمعة غفر له وكتب برا رواه البيهقي في شعب الإيمان مرسلا (৩৫৬) মুহাম্মাদ ইবনু নু’মান (রহঃ) নবী করীম-এর নাম করে বলেন যে, নবী করীম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুম’আ বারে আপন মা-বাপের অথবা তাঁদের মধ্যে একজনের কবর যিয়ারত করবে, তাকে মাফ করে দেওয়া হবে এবং মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহারকারী বলে লেখা হবে।তাহক্বীকু: জাল।(٣٥٧) عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ كُنتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيارَةِ الْقُبُورِ فَرُورُوهَا فَإِنَّهَا تُرَهْدُ فِي الدُّنْيَا وَتُذَكِّرُ الْآخِرَةَابن ماجة باب ما جاء في زيارة القبور باب ما جاء في زيارة القبور(৩৫৭) ইবনু মাসউদ হতে বর্ণিত আছে, রাসূল বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করছিলাম। এখন তোমরা তা করতে পার। কেননা, তা দুনিয়ার আসক্তিকে কমায় এবং আখেরাতকে স্মরণ করায়। ৭৩১

পৃষ্ঠা:১৫৯

অধ্যায়: যাকাত

(٣٥٨) عن ابن عباس قال لما نزلت هذه الآيَةُ وَالَّذِينَ يَكْتَرُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّة قَالَ كبر ذلك عَلَى الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَا أَفَرِّجُ عَنْكُمْ فَانْطَلَقَ فَقَالَ يَا نَبِيُّ اللَّهُ إِنَّهُ كَبُرَ عَلَى أَصْحَابِكَ هذه الآيَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يفرض الزكاةَ إِلا لِيُطَيبَ مَا بَقِي مِنْ أَمْوَالِكُمْ وَإِنَّمَا فَرَضَ الْمَوَارِيثِ لِتَكُونَ لِمَنْ بَعْدَكُمْ فَكير عمر ثُمَّ قَالَ لَهُ أَلا أخبرك بخير مَا يَكْثُرُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حَفَظَتْهُ.أبو داود : كتاب الزكاة باب في حقوق المال(৩৫৮) ইবনু আব্বাস বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হল, ‘যারা সোনা ও রূপা সংরক্ষণ করে, (শেষ পর্যন্ত) মুসলিমদের তা ভারীবোধ হল। এটা দেখে ওমর বললেন, আমি আপনাদের এ কষ্ট দূর করব। অতঃপর তিনি নবী করীম-এর নিকট গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর নবী।এই আয়াতটি আপনার ছাহাবীরা কষ্ট মনে করছে? রাসূল বললেন, আল্লাহ তা’আলা এ জন্যই যাকাত ফরয করেছেন, যাতে তোমাদের অবশিষ্ট মালকে পবিত্র করে নেন। আল্লাহ তা’আলা মীরাছকে ফরয করেছেন, যাতে উহা তোমাদের পরবর্তীদের জন্য হয়। রাবী বলেন, মীরাছের পর রাসূল আর একটি কথা বলেছেন। পুনরায় রাবী বলেন, ইহা শুনে ওমর খুশীতে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে উঠলেন। অতঃপর নবী করীম বললেন, আমি কি তোমাকে বলে দিব না যে, মানুষ যা সংরক্ষণ করে, তার মধ্যে উত্তম জিনিস কি? উত্তম জিনিস হল নেক স্ত্রী। যখন সে তার দিকে দৃষ্টি করে, সে তাকে সন্তুষ্ট করে, যখন সে তাকে কোন নির্দেশ করে, সে তা পালন করে এবং যখন সে তার নিকট হতে দূরে থাকে, সে তার হজ্ব সংরক্ষণ করে। ১০০

পৃষ্ঠা:১৬০

(٣٥٩) عن جابر بن عتيك عَنْ أَبِيهِ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ سَيَأْتِيكُمْ رُكَيْبٌ مُبْغَضُونَ فَإِنْ جَاءُوكُمْ فَرَحبُوا بِهِمْ وَحَلُّوا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَبْتَغُونَ فَإِنْ عَدْلُوا فَلأَنفسهم وإن ظَلَمُوا فَعَلَيْهَا وَأَرْضُوهُمْ فَإِنْ تَمَامَ زَكَاتِكُمْ رِضَاهُمْ وَلْيَدْعُوا لَكُمْ.بو داود : كتاب الزكاة باب رضا المصدق(৩৫৯) জাবের ইবনু আতীক বলেন, রাসূল বলেছেন, শীঘ্র তোমাদের নিকট কতক সওয়ারী আসবে, যাদেরকে তোমরা পসন্দ করবে না। কিন্তু যখন তারা আসবে, তাদেরকে স্বাগতম জানাবে এবং তারা যা চাইবে, তা তাদেরকে দিবে। যদি তারা তোমাদের সাথে ইনছাফ করে, তাদের মঙ্গল হবে, আর যদি যুলুম করে, তা তাদের অমঙ্গলের কারণ হবে। কিন্তু তোমরা তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করবে। কেননা, তাদের অসন্তুষ্টির মধ্যেই তোমাদের যাকাতের পূর্ণতা রয়েছে এবং তারাও যেন তোমাদের জন্য দু’আ করে, তার নির্দেশ কুরআনে রয়েছে। তাহক্বীকু: যঈফ। ১০৬(٣٦٠) عن بشير ابن الخصاصية قال قلنا إن أهْلَ الصَّدَقَةِ يَعْتَدُونَ عَلَيْنَا أَفَنَكْتُمْمِنْ أَمْوَالنَا بِقَدْرِ مَا يَعْتَدُونَ عَلَيْنَا فَقَالَ لَا.بوداود : كتاب الزكاة باب دعاء التصدق لأهل الصدقة(৩৬০) বশীর ইবনু খাছাছিয়া বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! যাকাত উসূলকারীগণ আমাদের প্রতি অবিচার করে থাকেন। সুতরাং আমরা কি অবিচার পরিমাণ আমাদের মাল গোপন করে রাখতে পারি? রাসূল বললেন, না। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٣٦١) عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَدَّهِ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ خَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ أَلا مَنْ وَلي يَتِيمًا لَهُ مَالٌ فَلْيَتحر فيه ولا يتركه حَتَّى تَأْكلهُ الصَّدَقَة. رواهالترمذي وقال في إسناده مقال لأن المثنى بن الصباح ضعيفالترمذي : كتاب الزكاة باب ما جاء في زكاة مال اليتيم

পৃষ্ঠা ১৬১ থেকে ১৮০

পৃষ্ঠা:১৬১

(৩৬১) আমর ইবনু শু’আইব তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, নবী করীম একদা খুৎবা দান করলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি এমন কোন ইয়াতীমের অভিভাবক হয়েছে যার মাল রয়েছে, সে যেন তা ব্যবসায় লাগায় এবং ফেলে না রাখে, যাতে যাকাত তাকে শেষ করে দেয়। ১৯ তাহক্বীকু: যঈফ। ১০

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٦٢) عن عائشة رضى الله عنها قالت سمعت رسول الله ﷺ يقول ما خالطت الزكاة مالا قط إلا أهلكته. رواه الشافعي والبخاري في تاريخه والحميدي وزاد قال يكون قد وجب عليك صدقة فلا تخرجها فيهلك الحرام الحلال وقد احتج به من يرى تعلق الزكاة بالعين هكذا في المنتقى وروى البيهقي في شعب الإيمان عن أحمد بن حنبل بإسناده إلى عائشة وقال أحمد في خالطت تفسيره أن الرجل يأخذ الزكاة وهو موسر أو غني وإنما هي للفقراء.

(৩৬২) আয়েশা বলেন, রাসূল-কে বলতে শুনেছি, যে মালে যাকাত মিশ্রিত হবে নিশ্চয়ই উহাকে ধ্বংস করে দিবে। বুখারী তাঁর তারীখে ও হুমায়দী বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হুমায়দী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, রাসূল বলেছেন, তোমার উপর যাকাত ফরয হল, আর তুমি উহা বের করলে না। তখন এই হারাম হালাল মালকে ধ্বংস করবে। এই দ্বারা ঐ সকল লোক দলীল গ্রহণ করেন যারা বলেন যে, যাকাতের সম্বন্ধ আসল বস্তুর সাথে। ৭৪১

باب ما يجب فيه الزكاة

অনুচ্ছেদ: যে সম্পদে যাকাত ফরয

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٦٣) عَنْ عَتاب بن أسيد أن النبي ﷺ قال في زَكَاةِ الْكُرُومِ إِنَّهَا تَخْرَص كما يُعْرَضُ النَّحْلُ ثُمَّ تُؤَدَّى زَكَاتُهُ زَبيبًا كَمَا تُؤَدَّى زَكَاةً النَّحْلِ تَمْرًا.

পৃষ্ঠা:১৬২

الترمذي : كتاب الزكاة باب ما جاء في الحرص

(৩৬৩) আত্তাব ইবনু আসীদ হতে বর্ণিত আছে, নবী করীম আঙ্গুরের যাকাত সম্পর্কে বলেছেন, তা অনুমান করা হবে যেভাবে খেজুর অনুমান করা হয় গাছে। অতঃপর তার যাকাত দেওয়া হবে ‘যাবীব’ অবস্থায় যেভাবে খেজুরের যাকাত দেওয়া হয়, ‘তামর’ অবস্থায়।

তাহক্বীকু: যঈফ। 988

(٣٦٤) عن سهل بن أبي حَكْمَة حَدَّثَ أَن رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ إِذَا حَرَصْتُمْ فَحْذُوا وَدَعُوا الثلث فَإِنْ لَمْ تَدَعُوا أَوْ تَجُذُوا الثلث فَدَعُوا الربع.

ابو داود : كتاب الزكاة باب في الخرص الترمذي : كتاب الزكاة باب ما جاء في الحرص النسائي : کتاب الزكاة كم يترك الحارم

(৩৬৪) সাহল ইবনে আবু হাসমাল হতে বর্ণিত আছে, তিনি এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন, রাসূল বলতেন, যখন তোমরা অনুমান করবে, (দুই তৃতীয়ংশ) গ্রহণ করবে এবং এক তৃতীয়াংশ ছেড়ে দিবে। যদি এক তৃতীয়াংশ না ছাড়, অন্তত: এক চতুর্থাংশ ছাড়বে। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٣٦٥) عَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَبْعَثُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ

روَاحَة إِلَى يَهُودَ فَيَحْرُضُ النَّخْلَ حِينَ يَطِيبُ قَبْلَ أَنْ يُؤْكل مِنْهُ.

أبو داود : كتاب الزكاة باب متى يحرص الشعر

(৩৬৫) আয়েশা বলেন, রাসূল খয়বরের ইহুদীদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাকে পাঠাতেন। তিনি তাদের খেজুর অনুমান করতেন, যখন খেজুরে মিষ্টি আরম্ভ হত-খাওয়ার যোগ্য হবার পূর্বে।

পৃষ্ঠা:১৬৩

(٣٦٦) عَنْ سَمُرَةَ بْنِ حُنَدُبٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ تُخْرِجَ الصَّدَقَة

من الذي تعد للبيع.

أبو داود : كتاب الزكاة باب العروض إذا كانت للتجارة هل فيها من زكاة

(৩৬৬) সামুরা ইবনু জুনদুব হতে বর্ণিত, রাসূল আমাদের আদেশ দিতেন- আমরা যা বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখি তার যেন যাকাত দান করি। ৭৪ তাহক্বীকু: যঈফ।

(٣٦٧) عَنْ ربيعة بن أبي عبد الرَّحْمَنِ عَنْ غَيْر وَاحِدٍ أَنْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَقْطَعَ بِلَالَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِي مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّة وَهِي مِنْ نَاحِيَةِ الْفُرْعِ فَتِلْكَ الْمَعَادِنُ لَا

يُؤْخَذُ مِنْهَا إِلَّا الزَّكَاةُ إِلَى الْيَوْمَ. أبو داود : كتاب الخراج والإمارةِ وَالْقَيْءِ بَاب فِي اقْطَاعِ الْأَرْضِينَ

(৩৬৭) রবীয়া ইবনু আবু আব্দুর রহমান একাধিক ছাহাবী হতে বর্ণনা করেন, রাসূল বিলাল ইবনু হারেছ মুযানীকে ‘ফুর’ এর দিকের কাবালিয়া নামক স্থানের খনিসমূহ জায়গীররূপে দান করছিলেন। সে সকল খনির যাকাত ছাড়া আজ পর্যন্ত কিছুই উসূল করা হয় না।১ তাহক্বীকু: যঈফ। ২

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٦٨) عن علي أن النبي ﷺ قال ليس في الخضراوات صدقة ولا في العرايا صدقة ولا في أقل من خمسة أوسق صدقة ولا في العوامل صدقة ولا في الجبهة

صدقة . قال الصقر الجبهة الخيل والبغال والعبيد . رواه الدارقطني.

(৩৬৮) আলী হতে বর্ণিত আছে, নবী করীম বলেছেন, শাক- সবজিতে যাকাত নেই, আরিয়ায় যাকাত নেই, পাঁচ ওসাকের কমে যাকাত নেই। কাজের উট গরুতে যাকাত নেই এবং ঘোড়া, খচ্চর, কৃতদাসে যাকাত নেই।

পৃষ্ঠা:১৬৪

অনুচ্ছেদ: ফিতরা

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٦٩) عن ابن عباس قال في آخر رمضان أَخْرِجُوا صَدَقَةً صَوْمِكُمْ فَرَضَ رَسُولُ الله هذه الصَّدَقَة صَاعًا مِنْ تَمْرِ أَوْ شَعِيرٍ أَوْ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ قَبْحِ عَلَى كُلِّ حُرِّ أَوْ مَمْلُوكَ ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ.

أبو داود : كتاب الزكاة باب من روى نصف صاع من فتح

(৩৬৯) ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত আছে, তিনি রামাযানের শেষে বললেন, তোমরা তোমাদের ছিয়ামের যাকাত আদায় কর। রাসূল প্রত্যেক স্বাধীন ব্যক্তি ও কৃতদাস, পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড় সকলের উপরে এই যাকাত এক সা’ খেজুর ও যব অথবা আধা সা’ গম নির্ধারণ করেছেন।

তাহক্বীক্ব: যঈফ। ৭৫৬

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۷۰) عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن حده أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ بَعَثَ مُنَادِيًا في فحاج مكةَ أَلا إِنَّ صَدَقَةَ الْفَطْرِ وَاحِبَةً عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى حَرِّ أَوْ عَبْدِ صغير أو كبير مدانِ مِنْ فَمْحٍ أَوْ سَوَاءٌ صَاعٌ مِنْ طَعَامٍ.

الترمذي : كتاب الزكاة باب ما جاء في صدقة الفطر

(৩৭০) আমর ইবনে শু’আইব তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম একবার মক্কার গলি সমূহে ঘোষণাকারী পাঠিয়ে ঘোষণা করলেন, জেনে রাখ। ছাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও নারী, আযাদ ও গোলাম এবং ছোট ও বড় সকলের উপর দুই ‘মুদ’ গম বা তা ছাড়া অন্য কিছু বা এক ছা খাদ্য।

পৃষ্ঠা:১৬৫

(۳۷۱) عن عبد الله بن ثعلبة أو ثعلبة بن عبد الله بن أبي صغير عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ صَاعٌ مِنْ بُرِّ أَوْ قَمْح عَلَى كُلِّ اثْنَيْنِ صَغيرِ أَوْ كَبِيرٍ حُرِّ أَوْ عبد ذكر أو أنثى أَمَّا عَلَيْكُمْ فَيُزَكِّيهِ اللهُ وَأَمَّا فَقِيرُكُمْ فَيَرُدُّ اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ أَكْثَرَ

مما أعطاه.

أبو داود : كتاب الزكاة باب من روى نصف صاع من فتح

(৩৭১) আব্দুল্লাহ ইবনু ছা’লাবা অথবা ছা’লাবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু সুআইর তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন, এক ছা গম প্রত্যেক দুই ব্যক্তির পক্ষ হতে ছোট হোক বা বড় এবং পুরুষ হোক বা নারী। তোমাদের মধ্যে যে ধনী পবিত্র করবেন; কিন্তু যে দরিদ্র তাকে আল্লাহ ফেরত তা হতে অধিক। আযাদ হোক বা গোলাম তাকে আল্লাহ ইহা দ্বারা দিবেন যা সে দিয়েছিল

یاب ممن لا تحل له الصدقة

অনুচ্ছেদ: যার জন্য যাকাত হালাল নয়

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۷۲) عن زياد بن الحارث الصَّدَائِي قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَبَايَعْتُهُ فَذَكَرَ حَدِيثًا طَوِيلًا فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَعْطني من الصَّدَقَةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَرْضَ بحكم نبي ولا غيره في الصدقات حَتَّى حَكَمَ فِيهَا هُوَ فَجَرَّأَهَا ثمَانِيَةَ أَحْزَاء فَإِن كُنتَ مِنْ تِلْكَ الْأَجْزَاء أَعْطَيْتُكَ حَفَكَ.

أبو داود : كتاب الزكاة باب مَن يُعطى مِن الصَّدَقَةِ وَحَدَّ الْعَني

(৩৭২) যিয়াদ বিনে হারেস সুদায়ী বলেন, আমি নবী করীম-এর নিকট এসে তাঁর হতে বায়আত গ্রহণ করলাম। পরবর্তী রাবী বলেন, অতঃপর যিয়াদ এক দীর্ঘ বর্ণনা দান করেন তৎপর বলেন যে, নবী করীমের নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে অল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু যাকাতের মাল দিন! তখন রাসূল বললেন যাকাত সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা নবী বা অপর

পৃষ্ঠা:১৬৬

কারও নির্দেশের অপেক্ষা করেন নেই। বরং তিনি সে সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে আট ভাগে বিভক্ত করেছেন। দেখ, যদি তুমি ঐ আট রকমের কোন এক রকমে পড়ে থাক, তাহলে আমি তোমাকে দিতে পারি। ১

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۷۳) عن زيد بن أسلم قال شرب عمر بن الخطاب رضي الله عنه لبنا فأعجبه فسأل الذي سقاه من أين هذا اللين ؟ فأخبره أنه ورد على ماء قد سماه فإذا نعم من نعم الصدقة وهم يسقون فجلبوا من ألبانها فجعلته في سقائي فهو هذا فأدخل عمر يده فاستقاءه رواه مالك والبيهقي في شعب الإيمان

(৩৭৩) যায়েদ ইবনু আসলাম বলেন, একবার ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব কিছু দুধ পান করলেন যা তাঁর নিকট খুব ভাল লাগল। অতঃপর যে তাঁকে তা পান করিয়েছেন তাকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এই দুধ কোথায় পেলে? সে তাঁকে একটি কূপের নাম করে জানাল যে, সে তথায় পৌঁছলে কতক যাকাতের উট দেখতে পেল, যাদেরকে রক্ষকরা সেখানে পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের দুধ দোহন করছে। অতঃপর সে বলল, আমি উহা আমার মশকে পুরেছি, সেই দুধ। এ কথা শুনে ওমর আপন হাত গলায় প্রবেশ করালেন এবং জোরপূর্বক বমি করে বের করে ফেললেন।

باب من لا تحل له المسألة ومن تحل له

অনুচ্ছেদ: যার পক্ষে সওয়াল করা হালাল নহে এবং যার পক্ষে হালাল

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٧٤) عَنْ حُبشي بن حُنَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ لِغَنِيٌّ ولا لذي مرة سوي إلا لذي فقر مدفع أو غُرْمٍ مُقْطِع وَمَنْ سَأَلَ النَّاسِ لِيُثْرِيَ بِهِ

পৃষ্ঠা:১৬৭

مَالَهُ كَانَ حُمُوتًا في وجهه يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَرَضفًا يَأْكُلُهُ مِنْ جَهَنَّمَ وَمَنْ شَاءَ

فليقل وَمَنْ شَاء فليكثر.

الترمذي : كتاب الزكاة باب مَا جَاءَ مَنْ لَا تَحلُّ لَهُ الصَّدَقَة

(৩৭৪) হুবশী ইবনু জুনাদা বলেন, রাসূল বলেছেন, সওয়াল হালাল নয় গনী ব্যক্তির জন্য, আর না অবিকলাঙ্গ সক্ষম পুরুষের জন্য। দুই ব্যক্তি ব্যতীত ১. সর্বনাশা অভাবে পতিত ব্যক্তি ও ২. অপমানকর ঋণে আবদ্ধ লোক। যে ব্যক্তি মাল বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে মানুষের নিকট সওয়াল করবে কিয়ামতের দিন সওয়াল তার মুখমণ্ডলে ক্ষতিস্বরূপ হবে এবং মাল জাহান্নামে উত্তপ্ত প্রস্তর-খণ্ডরূপ হবে যা সে খেতে থাকবে। যে চায় ছওয়াল কম করুক আর যে চায় বেশী করুক। ১০০ তাহক্বীকু: যঈফ।

(٣٧٥) عن أنس بن مالك أَن رَجُلًا مِن الأَنْصَارِ أَتَى النَّبِيُّ ﷺ يَسْأَلُهُ فَقَالَ أَمَا ففِي في بينك شَيْءٌ قَال بلى جلس تليس بَعْضَهُ وتبسط بَعْضَهُ وَقَعْبٌ نَشْرَبُ فِيهِ مِنْ الماء قال التي بهما قَالَ فَأَتَاهُ بِهِمَا فَأَخَذَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَيَدِهِ وَقَالَ مَنْ يَشْتَرِي هَذَيْنِ قَالَ رَجُلٌ أَنَا آخَذُهُمَا بِدَرْهَم قَالَ مَنْ يَرِيدُ عَلَى دِرْهَم مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا قَالَ رَجُلٌ أَنَا أَخُذُهُمَا بِدَرْهَمَيْنِ فَأَعْطَاهُمَا إِيَّاهُ وَأَحَدَ الدَّرْهَمَيْنِ وَأَعْطَاهُمَا الْأَنْصَارِي وَقَالَ اشتر بأحدهما طَعَامًا فَانْبَدَهُ إِلَى أَهْلِكَ وَاشْتَرِ بِالْآخِرِ قَدُومًا فأتني به فأتاه به فشَدَّ فيه رَسُولُ الله ﷺ عُودًا يده ثُمَّ قَالَ لَهُ اذْهَبْ فَاحْتَطَبْ وبع ولا أرينَّكَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا فَذَهَبَ الرَّجُلُ يَحْتَطِبُ وَيَبيعُ فَجَاءَ وَقَدْ أَصَابَ عَشْرَةً دَرَاهِم فَاشْتَرى بعضها ثوبًا وَبَعْضِهَا طَعَامًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ هَذَا خَيْرٌ لَكَ مِن أن تجيء المسألة لكتة في وجْهَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تصلح إلا لثلاثة لذي فقر مدقع أو لذي غُرْمٍ مُقطع أَوْ لِذِي دَم موجع. أبو داود : كتاب الزكاة باب ما تحوز فيه المسألة

পৃষ্ঠা:১৬৮

(৩৭৫) আনাস হতে বর্ণিত আছে, আনছারীদের এক ব্যক্তি নবীকরীম এর নিকট সওয়াল করার জন্য আসল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার ঘরে কি কিছু নেই? সে বলল, একটি কম দামী কম্বল আছে যার এক দিক আমরা গায়ে দেই আর অপর দিক বিছিয়ে দেই এবং একটি কাঠের পেয়ালা আছে যাতে করে আমরা পানি পান করি। রাসূল বললেন, উভয়টি আমার নিকট নিয়ে আস। সে উভয়টি তাঁর নিকট নিয়ে আসল। রাসূল উভয়টিকে নিজের হতে নিয়ে বললেন, এ দুইটি জিনিস কে খরিদ করবে? এক ব্যক্তি বলল, আমি উভয়টি এক দিরহামে নিতে পারি। রাসূল দিরহাম দুইটি নিলেন এবং আনছারীকে দিয়ে বললেন, যাও এক দিরহাম দিয়ে খাদ্য খরিদ কর এং উহা নিজের পরিবারকে দাও, আর অপর দিরহাম দ্বারা একটি কুড়াল খরিদ কর এবং উহা আমার নিকট নিয়ে আস। কথা মতে সে উহা নিয়ে আসল। রাসূল আপন হাতে তাতে কাঠের বাট লাগালেন। অতঃপর বললেন, যাও, কাঠ কাট আর বিক্রয় কর। খবরদার, এখানে না দেখি। সে ব্যক্তি গেল এবং সে মতে কাঠ কাটতে ও বিক্রয় করতে লাগল। সে রাসূলের নিকট আসল তখন সে দশ দিরহামের মালিক। অতঃপর সে উহার কিছু দ্বারা বস্ত্র খরিদ করল এবং কিছু দ্বারা খাদ্য। এ সময় রাসূল বললেন, ইহা তোমার জন্য ভিক্ষা করা অপেক্ষা উত্তম অথচ সওয়াল কিয়ামতের দিন তোমার চেহারায় দাগস্বরূপ হবে। মনে রেখ, তিন ব্যক্তি ব্যতীত কারও পক্ষে সওয়াল করা সঙ্গত নয়-সর্বনাশা অভাবে পতিত ব্যক্তি, অপমানকর ঋণে আবদ্ধ ব্যক্তি এবং পীড়াদায়ক রক্তপণের জন্য দায়ী ব্যক্তি। তাহক্বীকু: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٧٦) عَنْ ابْنِ الْفَرَاسِي أَنَّ الْفَرَاسِي قَالَ قُلْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَسْأَلُ يَا رَسُولَ

الله فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَا وَإِنْ كُنْتَ سَائِنَا لَا بُدَّ فَاسْأَلُ الصَّالِحِينَ.

أبو داود : كتاب الزكاة باب في الاستعفاف النسائ : كتاب الزكاة سؤال الصالحين

(৩৭৬) ইবনু ফেরাসী হতে বর্ণিত আছে, তার পিতা ফেরাসী বলেছেন, আমি একদা রাসূল-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল আমি কি কারও নিকট কিছু চাইতে পারি? নবী করীম বললেন, যদি অগত্যা তোমার তা চাইতে হয়, তবে নেক ব্যক্তিদের নিকট চাইবে।

পৃষ্ঠা:১৬৯

অনুচ্ছেদ: দানের প্রশংসা ও কৃপণতার নিন্দা 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۷۷) عن أبي هريرة قال قَالَ رَسُولُ الله ﷺ قَالَ السَّحَيُّ قَرِيبٌ مِنَ اللَّهِ قَرِيبٌ من الجنة قريب من الناس بعيد من النار والبحيل بعيد الله من به بعيد من الحلة بعيد من الناس قريب من النار وتجاهل صحي أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ عَالَم بَخِيل.

الترمذي : كتاب البر والصلة باب ما جاء في السخاء

(৩৭৭) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, দাতা ব্যক্তি আল্লাহরও নিকটে, জান্নাতেরও নিকটে, মানুষেরও নিকটে অথচ জাহান্নাম হতে দূরে এবং কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ হতেও দূরে, বেহেশত হতেও দূরে, মানুষ হতেও দূরে অথচ দোযখের নিকটে। নিশ্চয় মূর্খ দাতা কৃপণ সাধক অপেক্ষা আল্লাহর নিকট ৭৭১ অধিক প্রিয়। তাহক্বীকু: যঈফ।

(۳۷۸) عن أبي سعيد الخدري قال رسول الله ﷺ لَأَنْ يَتَصَدَّقَ الْمَرْءُ فِي حياته بدرهم خير له من أن يتصدق بمائة درهم عند موته.

أبو داود : كتاب الوصايا باب ما جاء في كراهية الإضرار في الوصية

(৩৭৮) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, কারও আপন জীবনকালে এক দিরহাম দান করা তার মৃত্যুকালে একশত দিরহাম দান করা অপেক্ষা অধিক উত্তম। ৭৭০

তাহক্বীকু: যঈফ।

(۳۷۹) عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ مثل الذي يتصدق عند موته أو يعتق كالذي يهدي إذا شبع.

পৃষ্ঠা:১৭০

(৩৭৯) আবু দারদা বলেন রাসূল বলেছেন, যে মৃত্যুকালে দান করে অথবা দাসদাসী আযাদ করে, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির, যে পেট ভরে খাওয়ার পর হাদিয়া দেয়। তাহক্বীকু: যঈফ।

(۳۸۰) عن أبي سعيد الْخُدْرِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَصَلْتَانِ لَا تَجْتَمَعَانِ

فِي مُؤْمِنِ الْبَحْلُ وَسُوءِ الْخَلْقِ. الترمذي : كتاب البر والصلة باب مَا جَاءَ فِي البحيل

(৩৮০) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, এই দুইটি স্বভাব কোন মু’মিনের মধ্যে একত্র হতে পারে না- কৃপণতা ও দুর্ব্যবহার।” তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(۳۸۱) عَنْ أَبِي بَكْرِ الصَّدِّيقِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ حِبُّ وَلَا مَنَّانَ وَلَا بَخِيل

الترمذي : كتاب البر والصلة باب ما جاء في البحيل

(৩৮১) আবুবকর ছিদ্দীকু করবে না প্রতারক, কৃপণ এবং যে বলেন, রাসূল বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশ ব্যক্তি দান করে খোটা দেয়। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۸۲) عَنْ أَبِي ذُرِّ أَنَّهُ جَاءَ استأذن على عُثمانَ فَأَذِنَ لَهُ وَبَيْدِهِ عَصَاهُ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَا كَعْبُ إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ تُوفِّيَ وَتَرَكَ مَالًا فَمَا تَرَى فِيهِ فقال إن كان يصل فيه حَقَّ الله فلا بَأْسَ عَلَيْهِ فَرَفَعَ أَبُو ذَرِّ عَصَاهُ فَضَرَبَ كَعْبًا وَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله ﷺ يَقُولُ مَا أُحِبُّ لَوْ أَنَّ لِي هَذَا الْجَبَلَ ذَهَبًا أَنْفِقُهُ

পৃষ্ঠা:১৭১

ويتقبل مني أَذَرُ خَلْقِي مِنْهُ مِت أَوَافٍ أَنْشُدُكَ اللَّهُ يَا عُثْمَانُ أَسْمِعْتَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ نَعَمْ.

(৩৮২) আবু যার গিফারী হতে বর্ণিত আছে, একদা তিনি খলীফা ওসমানের দরবারে প্রবেশ করতে অনুমতি চাইলেন। খলীফা তাঁকে অনুমতি দিলে সেখানে প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর হাতে ছিল একটি ছড়ি। এ সময় ওসমান কা’ব আহবারকে জিজ্ঞেস করলেন, আব্দুর রহমান মারা গিয়েছেন এবং অনেক ধন সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন, এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? কা’ব উত্তর করলেন, যদি তিনি আল্লাহর হক আদায় করে থাকেন, তাহলে ইহাতে কোন ভয় নেই। এটা শুনে আবু যার ছড়ি উঠালেন এবং কা’বের গায়ে মারলেন আর বললেন, আমি রাসূল-কে বলতে শনেছি, তিনি বলেছেন, যদি এই পাহাড় পরিমাণ সোনাও আমার হয় অতঃপর আমি উহা দান করতে থাকি আর আমার হতে উহা কবুলও করা হয়- তাহলেও আমি পসন্দ করি না যে, তার মাত্র ছয় উকিয়া সোনাও আমি ছেড়ে যাই। হে ওছমান! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আপনি কি এটা শুনেননি? তিনি এটা তিনবার জিজ্ঞেস করলেন। ওছমান বললেন, হ্যাঁ। ১ তাহক্বীকু: যঈফ। ৭৮২

(۳۸۳) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ السخاء شجرة في الجنة فمن كان سخيا أخذ بغصن منها فلم يتركه الغصن حتى يدخله الجنة والشح شجرة في النار فمن كان شحيحا أخذ بغصن منها فلم يتركه الغصن

حتى يدخله النار البيهقي في شعب الإيمان.

(৩৮৩) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, দানশীলতা বেহেশতের একটি বৃক্ষ স্বরূপ। যে ব্যক্তি দানশীল সে যেন উহার একটি শাখা ধরেছে আর শাখা তাকে ছাড়বে না, যে পর্যন্ত না তাকে জান্নাতে পৌছিয়ে দেয়। এবং কৃপণতা হচ্ছে জান্নাতের একটি বৃক্ষ। যে ব্যক্তি কৃপণ সে যেন উহার একটি শাখা ধরেছে আর শাখা তাকে ছাড়বে না, যে পর্যন্ত না তাকে জান্নাতে পৌছিয়ে দেয়। ও

পৃষ্ঠা:১৭২

(٣٨٤) عن علي رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ بادروا بالصدقة فإن البلاء لا يتخطاها رواه رزين

(৩৮৪) আলী বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমরা দানের ব্যাপার তাড়াতাড়ি করবে। কারণ বিপদাপদ তাকে অতিক্রম করতে পারে না।

باب فضل الصدقة

অনুচ্ছেদ: দানের মাহাত্ম্য

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٨٥) عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ الصَّدَقَةَ لَتَطْفِئُ غَضَبَ

الرَّبِّ وَتَدْفَعُ عَن ميتة السوء. الترمذي : كتاب الزكاة باب ما جاء في فضل الصدقة

(৩৮৫) আনাস রাসূল বলেছেন, দান আল্লাহ তা’আলার ক্রোধকে প্রশমিত করে এবং মন্দ-মৃত্যু রোধ করে।** তাহক্বীকু: যঈফ।

(٣٨٦) عن أبي سعيد الخدري عن النبي ﷺ قَالَ أَيُّمَا مُسْلِمٍ كَسَا مُسْلِمًا ثَوْبًا على عري كساه الله من حضر الْجَنَّةِ وَأَيُّمَا مُسْلِمٍ أَطْعَمَ مُسْلِمًا عَلَى جُوعِ أَطْعَمَهُ الله مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ وَأَيُّمَا مُسْلِمٍ سَقَى مُسْلِمًا عَلَى ظَلَمَةٍ سَقَاهُ اللَّهُ مِنْ

الرحيق المختوم.

أبو داود : كتاب الزكاة باب في فضل سقي الماء

(৩৮৬) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, যে কোন মুসলিমকে তার উলঙ্গতায় কাপড় পরাবে, আল্লাহ তাকে বেশেতের সবুজ জোড়া পরাবেন; আর যে কোন মুসলিম কোন মুসলিমকে তার মুখে অন্ন দান করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল খাদ্যরূপে দান করবেন এবং যে কোন

পৃষ্ঠা:১৭৩

মুসলিম কোন মুসলিমকে তার পিপাসায় পানি পান করাবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে মুখ বন্ধ করা বোতলের স্বচ্ছ পানি পান করাবেন।  তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(۳۸۷) عن فاطمة بنت قيس قالت سألت أو مثل النَّبِيُّ ﷺ عَن الزَّكَاةَ فَقَالَ إِنَّ فِي المال لحقا سوى الزكاة ثم تلا هذه الآية التي في الْبَقَرَةِ لَيْسَ الْبَرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ.

الترمذي : كتاب الزكاة باب ما جاء أن في المال حقا سوى الزكاة

(৩৮৭) ফাতেমা বিনতে কায়স বলেন, রাসূল বলেছেন, যাকাত ছাড়াও মালের মধ্যে হবু রয়েছে, অতঃপর রাসূল করলেন, তোমরা (ছালাতে) পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ নেক কাজ নয়..। ৭৯১ এই আয়াতটি পাঠ ফিরাবে (শুধু) ইহাই তাহক্বীকু: যঈফ।

(۳۸۸) عَنْ بُهْسَهُ عَنْ أَبيها قَالَتْ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الشَّيْءُ الَّذِي لَا يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ الْمَاء قَالَ يَا لَبِيُّ اللَّهِ مَا الشَّيْءُ الَّذِي لَا يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ الْمَلْحُ قَالَ يَا رسول الله ما الشيء الذي لا يحل مَنْعُهُ قَالَ أَنْ تَفْعَلَ الْخَيْرَ خَيْرٌ لَكَ.

أبو داود : كتاب الزكاة باب ما لا يجوز منعه

(৩৮৮) বুহায়সা তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, একদা তিনি রাসূল-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে কোন জিনিস যা যাঞ্চাকারীকে না দেওয়া হালাল নয়? রাসূল বললেন, পানি। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর! আর কোন জিনিস যা না দেওয়া হালাল নয়? রাসূল বললেন, লবণ। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আর কোন জিনিস যার দানে নিষেধ করা হালাল নয়? রাসূল বললেন, যেকোন ভাল কাজ করাই তোমার পক্ষে ভাল।

পৃষ্ঠা:১৭৪

الله بْنِ مَسْعُودٍ يَرْفَعُهُ قَالَ ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُم الله رحل قام من الليل (۳۸۹) عن عبد يَتْلُو كِتَابَ الله وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ صَدَقَةٌ بيمينه يُخفيها بهَا . أَرَهُ قَالَ من شماله ورحل كان في سرية فالهرم أَصْحَابه فاستقبل العدو رواه الترمذي وقال : هذا حديث

غير محفوظ أحد رواته أبو بكر بن عياش كثير الغلط. الترمذي : كتاب صفة الجنة باب ما جاء في كلام الحور العين

(৩৮৯) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ এর নাম করে বলেন যে, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ ভালবাসেন-১. যে ব্যক্তি রাতে উঠে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, ২. যে ব্যক্তি ডান হাতে কিছু দান করে এবং গুপ্ত রাখে উহাকে রাবী বলেন, আমি মনে করি, তিনি বলেছেন-আপন বাম হতে এবং ৩. যে ব্যক্তি সৈন্য দলে ছিল আর তার সহচরগণ পরাজিত হল; কিন্তু সে শত্রম্নর দিকে অগ্রসর হল (এবং তাদেরকে পরাজিত করল অথবা শহীদ হল। ১৯৫

তাহক্বীকু: যঈফ।

وثلاثة يبعضهم قَالَ ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمْ الله (٣٩٠) عَنْ أَبِي ذُرِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله اللهُ فَأَمَّا الَّذِينَ يُحِبُّهُم الله فرحل أتى قَوْمًا فَسَأَلَهُم بِاللَّهُ وَلَمْ يَسْأَلُهُمْ بِقَرَابَة بَيْنَهُ وبَيْنَهُمْ فَمَتَعُوهُ فَتَخَلَّفَ رَجُلٌ بِأَعْقَابِهِمْ فَأَعْطَاهُ سِرًّا لَا يَعْلَمُ بعطيته إِلَّا اللهُ وَالَّذِي أَعْطَاهُ وَقَوْمٌ سَارُوا لَيْلَتَهُمْ حَتَّى إِذَا كَانَ النَّوْمُ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِمَّا يُعْدَلُ بِهِ نَزَلُوا فَوَضَعُوا رُءُوسَهُمْ فَقَامَ أَحَدُهُمْ يَتَمَلَّقَنِي وَيَتْلُو آيَاتِي وَرَجُلٌ كَانَ فِي سَرِيَّهِ فَلَقِي الْعَدُوَّ فَهُرِمُوا وَأَقْبَلَ بِصَدْرِهِ حَتَّى يُقْتَل أَوْ يُفْتَحَ لَهُ وَالثَّلَاثَةُ الَّذِينَ يُبْعَضُهُمُ اللَّهُ

الشيخ الزَّانِي وَالْفَقِيرُ الْمُحْتَالُ وَالْغَنِيُّ الظُّلُومُ.

الترمذي : كتاب صفة الجنة باب ما جاء في كلام الحور العين

(৩৯০) আবু যর গেফারী বলেন, রাসূল বলেছেন, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা’আলা ভালবাসেন, আর তিন ব্যক্তির উপর আল্লাহ তা’আলা ক্রদ্ধ হন। যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা ভালবাসেন। তারা হলেন-১. কোন ব্যক্তি এক দল লোকের নিকট আসল এবং তাদের নিকট আল্লাহর নামে কিছু চাইল, তার ও তাদের মধ্যে যে আত্মীয়তা রয়েছে, উহার নামে নয়; কিন্তু তারা তাকে কিছু দিল না। অতঃপর তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি তাদের পিছনে সরে আসল এবং চুপে চুপে তাকে কিছু দিল যা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা এবং যাকে সে দিল সে ব্যতীত অপর কেউ কিছু জানে না। ২. একদল লোক রাতে

পৃষ্ঠা:১৭৫

সফর করল এমন কি যখন নিদ্রা তা অপেক্ষা সমস্ত জিনিসের তুলনায় তাদের নিকট প্রয়তম হয়ে গেল, তারা সকলেই (নিদ্রার জন্য) নিজেদের মাথা যমীনে রাখল। কিন্তু তাদের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল এবং আমার নিকট অনুনয় বিনয় করতে লাগল, আর আমার আয়াত পাঠ করতে লাগল এবং ৩. যে ব্যক্তি কোন সৈন্য দলে ছিল এবং শত্রুর সম্মুখীন হল অতঃপর তার সঙ্গীগণ পরাজিত হল; কিন্তু সে সম্মুখে বুক পেতে রইল যাবৎ না নিহত হল অথবা জয়লাভ করল। যে তিন ব্যক্তির উপর আল্লাহ ক্রদ্ধ হন, তারা হল-১. বুড়া অথচ যেনাকার, ২. ফকীর অথচ দাম্ভিক এবং ৩. ধনবান অথচ যালিম। (অর্থাৎ, ধনবান হইয়াও ধনের জন্য মানুষের প্রতি যুলুম করে এবং ধার নিলে ঠিক মত দেয় না।

তাহক্বীকু: যঈফ।

(۳۹۱) عن أنس قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَالَ لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْأَرْضَ جَعَلَتْ تَمِيدُ فَخَلَقَ الْحَبَالَ فَعَادَ بِهَا عَلَيْهَا فَاسْتَقَرَّتْ فَعَجَبَتْ الْمَلَائِكَةُ مِنْ شَدَّة الحَبَالِ قَالُوا يَا رَبِّ هَلْ مِنْ خَلْقَكَ شَيْءٌ أَشَدُّ من الجبال قَالَ نَعَمُ الْحَدِيدُ قَالُوا يَا رَبِّ فَهَلْ من خلقك شَيْءٌ أَشَدُّ من الحديد قال نعم النَّارُ فَقَالُوا يَا رَبِّ فَهَلْ مِنْ خَلْقِكَ شَيْء أَشَدُّ من النار قال نعم الْمَاء قَالُوا يَا رَبِّ فَهَلْ مِنْ خَلْقِكَ شَيْءٌ أَشَدُّ مِنْ الْمَاءِ قَالَ نَعَمُ الرِّيحُ قَالُوا يَا رَبِّ فَهَلْ مِنْ خَلْقِكَ شَيْءٌ أَشَدُّ مِنَ الرِّيحِ قَالَ نَعَمْ

ابن آدم تصدق بصدقة بيمينه يخفيها من شماله.

كتاب الفسير القرآن بَاب وَمِن سورة المعوذتين (৩৯১) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন আল্লাহ তা’আলা যমীন সৃষ্টি করলেন এবং উহার উপর শলাকাস্বরূপ মারলেন। যমীন স্থীর হল। ফেরেশতাগণ পাহড়ের এই শক্তি দেখে অশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, পরওয়ারদেগার! তোমার সৃষ্টিতে পাহাড় অপেক্ষা শক্তিশালী কোন জিনিস আছে কি? তিনি বললেন হাঁ আছে, লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, পরওয়ারদেগার! তোমার সৃষ্টিতে লোহা অপেড়ণা কোন শক্তিশালী বস্তু আছে কি? তিনি বললেন হাঁ, আগুন। (আগুন লোহাকেও গলিয়ে দেয়)। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন পরওয়ারদেগার! তোমার সৃষ্টিতে আগুন অপেক্ষাও কোন শক্তিশালী বস্তু জিনিস আছে কি? তিনি বললেন হাঁ পানি। অতঃপরতারা জিজ্ঞেস করলেন, পরওয়ারদেগার! তোমার সৃষ্টিতে পানি অপেক্ষাও শক্তিশালী

পৃষ্ঠা:১৭৬

কোন জিনিস আছে? তিনি বললেন, হাঁ আছে-বনি আদম, যে আপন ডান হাতে দান করে আর বাম হাত হতেও উহাকে গুপ্ত রাখে। sha তাহক্বীক্ব: যঈফ। ৮০০

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۹۲) عن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ من وسع على عياله في النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته قال سفيان إنا قد حربناه فوجدناه كذلك . رواه رزين وروى البيهقي في شعب الإيمان عنه وعن أبي هريرة وأبي سعيد وجابر وضعفه

(৩৯২) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, রাসূল বলেছেন, যে আশুরার তারিখে নিজের পরিবারের প্রতি প্রশস্ততার সাথে খরচ করবে, আল্লাহ তা’আলা সারা বছর তার প্রতি আপন দান প্রশস্ত রাখবেন। সুফিয়ান ছাওরী বলেন, আমরা এর পরীক্ষা করেছি এবং ব্যপারটিকে এরূপই পেয়েছি। ৮০১

তাহক্বীকু: যঈফ।

(۳۹۳) عن أبي أمامة قال قال أبو ذر يا نبي الله أرأيت الصدقة ماذا هي ؟ قال

أضعاف مضاعفة وعند الله المزيد رواه أحمد

(৩৯৩) আবু উমামাহ্ বলেন, একদা আবু যার গেফরী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। বলুন, দান কি? রাসূল অনেক গুণ এবং আল্লাহর নিকট এরও অধিক রয়েছে।”” বললেন, উহার

باب أفضل الصدقة

অনুচ্ছেদ: শ্রেষ্ঠ দান

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٩٤) عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا يُسْأَلُ بِوَحْهِ اللَّهِ إِلَّا الْجَنَّةُ.

পৃষ্ঠা:১৭৭

أبو داود : كتاب الزكاة باب كراهية المسألة يوجه الله تعالى

(৩৯৪) জাবের বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহর নামে কিছু চাওয়া যায় না জান্নাত ব্যতীত। ৮০৫

তাহক্বীকু: যঈফ। ৮০৬

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٩٥) عن أنس قال قال رسول الله ﷺ أفضل الصدقة أن تشبع كبدا حائعا

رواه البيهقي في شعب الإيمان. বলেন, রাসূল বলেছেন, কোন ভুখা প্রাণীকে তৃপ্তি (৩৯৫) আনাস করে খাওয়ানোই হল শ্রেষ্ঠ দান।৮০৭তাহক্বীকু: যঈফ।

باب صدقة المرأة من مال الزوج

অনুচ্ছেদ: স্বামীর মাল হতে স্ত্রীর দান

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٣٩٦) عَنْ سَعْدِ قَالَ لَمَّا بَايَعَ رَسُولَ الله النِّسَاءُ قَامَتْ امْرَأَةٌ خَلِيلَةٌ كَأَنَّهَا من نساء مصر فقالت يا نبي الله إِنَّا كُلَّ عَلَى آيَاتِنَا وَأَبْنَائنا وأزواجنا فما يحل لنا

من أموالهم ؟ قال الرطب تأكلنه وتهدينه.

ابو داود : كتاب الزكاة باب المرأة التصدق من بيت زوجها

(৩৯৬) সা’দ বলেন, যখন রাসূল স্ত্রীলোকদের বায়আত গ্রহণ করছিলেন, একজন ভদ্র মহিলা দাঁড়িয়ে গেলেন, দেখতে যেন মোযার গোত্রের মহিলা বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমরা মহিলা সমাজ আমাদের পিতাদের ও স্বমীদের পক্ষে বোঝাস্বরূপ। সুতরাং তাদের মাল হতে আমাদের পক্ষে কি মাল হালাল হবে? রাসূল বললেন, সহজে পঁচনশীল মাল তা তোমরা খেতেও পার এবং অপরকে হাদিয়াও দিতে পার।

পৃষ্ঠা:১৭৮

অধ্যায়: ছিয়াম 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(۳۹۷) عن سلمان قال : خطبنا رسول الله ﷺ في آخر يوم من شعبان فقال يا أيها الناس قد أظلكم شهر عظيم مبارك شهر فيه ليلة خير من ألف شهر جعل الله تعالى صيامه فريضة وقيام ليله تطوعا من تقرب فيه بخصلة من الخير كان كمن أدى فريضة فيما سواه ومن أدى فريضة فيه كان كمن أدى سبعين فريضة فيما سواه وهو شهر الصبر والصبر ثوابه الجنة وشهر المواساة وشهر يزداد فيه رزق المؤمن من فطر فيه صائما كان له مغفرة لذنوبه وعتق رقبته من النار وكان له مثل أجره من غير أن ينقص من أجره شيء ” قلنا : يا رسول الله ليس كلنا يجد ما نفطر به الصائم . فقال رسول الله ﷺ يعطي الله هذا الثواب من فطر صائما على مذقة لبن أو ثمرة أو شربة من ماء ومن أشبع صائما سقاء الله من حوضي شربة لا يظماً حتى يدخل الجنة وهو شهر أوله رحمة وأوسطه مغفرة وآخره عتق من النار ومن خفف عن مملوكه فيه غفر الله له وأعتقه من

النار، رواه البيهقي.

আমাদেরকে শা’বান (৩৯৭) সালমান ফারসী বলেন, একবার রাসূল মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন হে মানবমন্ডলি। তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে একটি মহান মোবারক মাস, এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ্ তার ছিয়মসমূহকে করেছেন (তোমাদের উপর) ফরয এবং উহার রাত্রিতে ছালাত পড়াকে করেছেন (তোমাদের জন্য) নফল। যে ব্যক্তি সে মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি নফল কাজ করল, সে ঐ ব্যক্তির সমান হল, যে অন্য মাসে একটি ফরয আদায় করল। আর যে ব্যক্তি সে মাসে একটি ফরয আদায় করল, সে ঐ ব্যক্তির সমান হল, যে অন্য মাসে সত্তরটি ফরয আদায় করল। তা সবরের মাস আর সবরের ছওয়াব হল জান্নাত। উহা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস যাতে মু’মিনের রিযিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যে ঐ মাসে কোন ছায়েমকে ইফতার করাবে, তার জন্য তার গোনাহসমূহের ক্ষমা স্বরূপ

পৃষ্ঠা:১৭৯

হবে এবং জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার ছওয়াব হবে সেই ছিয়াম পালনকারী ব্যক্তির সমান অথচ ছায়েমদের ছওয়াবও কম হবে না। ছাহাবীগণ বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো এমন সামর্থ্য রাখে না, যার দ্বারা ছিয়াম পালনকারীকে ইফতার করাতে পারে? রাসূল বললেন, আল্লাহ তা’আলা এই ছওয়াব দান করবেন যে ছায়েমদেরকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দ্বারা অথবা একটি খেজুর দ্বারা অথবা এক চুমুক পানি দ্বারা। আর যে ব্যক্তি কোন ছায়েমদেরকে তৃপ্তির সাথে খাওয়ায়, আল্লাহ তা’আলা তাকে আমার হাওয হতেই পানীয় পান করাবেন যার পর পুনরায় সে তৃষ্ণার্ত হবে না জান্নাতে প্রবেশ পর্যন্ত। উহা এমন মাস যার প্রথম দিক রহমত, মধ্যম দিক মাগফিরাত আর শেষ দিক হচ্ছে দোযখ হতে মুক্তি। আর যে এই মাসে আপন দাস- দাসীদের (অধীনদের) প্রতি কার্যভার লাঘব করে দিবে আল্লাহ তা’আলা তাকে মাফ করে দিবেন এবং তাকে দোযখ হতে মুক্তি দান করবেন।৮১১ তাহক্বীকু: যঈফ। ১২

(۳۹۸) عن ابن عباس قال كان رسول الله ﷺ إذا دخل شهر رمضان أطلق

كل أسير وأعطى كل سائل رواه البيهقي.

(৩৯৮) ইবনু আব্বাস বলেন, যখন রমযান মাস উপস্থিত হত, রাসূল সমস্ত কয়েদীকে মুক্তি দিতেন এবং প্রত্যেক যাঞ্চাকারীকে দান করতেন।১১০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১

(۳۹۹) عن ابن عمر أن النبي ﷺ قال إن الجنة تزخرف لرمضان من رأس الحول إلى حول قابل قال فإذا كان أول يوم من رمضان هبت ريح تحت العرش

من ورق الجنة على الحور العين فيقلن يا رب اجعل لنا من عبادك أزواجا تقر

هم أعيننا وتقر أعينهم بنا روى البيهقي.

পৃষ্ঠা:১৮০

(৩৯৯) ইবনু ওমর বলেন, নবী করীম বলেছেন, রামাযানের জন্য জান্নাত সাজান হয়। বছরের প্রথম হতে পরবর্তী বছর পর্যন্ত। তিনি বলেন, যখন রামযান মাসের প্রথম দিন উপস্থিত হয়, জান্নাতের গাছের পাতা হতে আরশের নীচে বড় বড় চক্ষুধারিণী হুরদের প্রতি এক হাওয়া প্রবাহিত হয়। তখন তাঁরা বলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার বান্দাদের মধ্যে হতে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্দিষ্ট করুন। যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়াবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়াবে। ৮১৫ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি মুনকার।১৬

(٤٠٠) عن أبي هريرة عن النبي ﷺ أَنه قَالَ يُغْفَرُ لَهُمْ فِي آخر لَيْلَة قَبْلَ يَا رَسُولَ الله أهي لَيْلَةُ الْقَدْرِ قَالَ لَا وَلَكِنَّ الْعَامِلَ إِنَّمَا يُوَفَّى أَخْرَهُ إِذَا قَضَى عَمَلَهُ.

(৪০০) আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, নবী কারীম বলেছেন, তাঁর উম্মতকে মাফ করা হয় রমযান মাসের শেষ রাতে। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল। এটা কি কদরের রাত্রি? রাসূল ছাঃ) বললেন, না; বরং এই কারণে যে, কর্মচারীর বেতন দেওয়া হয় যখন সে তার কর্ম শেষ করে। ৮১৭

باب رؤية الهلال

অনুচ্ছেদ: নতুন চাঁদ দেখা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٠١) عن ابن عباس قَالَ جَاءَ أَعْرَابِي إلى النبي ﷺ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْهَلَالَ يَعْنِي رَمَضَانَ فَقَالَ أَتَشْهَدُ أَنْ لا إلهَ إِلَّا اللهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَتَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدًا

رَسُولُ اللَّهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ يَا بِلَالُ أَذَنْ فِي النَّاسِ فَلْيَصُومُوا غَدًا.

أبو داود : كتاب الصوم باب في شهادة الواحد على رؤية هلال رمضان الترمذي : كتاب الصوم باب ما جاء في الصوم بالشهادة النسائ : كتاب الصوم باب قبول شهادة الرحل الواحد على هلال شهر رمضان وذكر الاختلاف فيه على سفيان في حديث سماك

পৃষ্ঠা ১৮১ থেকে ২০০

পৃষ্ঠা:১৮১

(৪০১) ইবনু আব্বাস বলেন, নবী-এর নিকট এক বেদুইন এসে বলল, আমি চাঁদ দেখেছি। রাসূল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এই সাক্ষ দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই? সে বলল, হাঁ। পুনরায় রাসূল জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূল বললেন, হে বেলাল! লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও, তারা যেন (কাল) ছিয়াম রাখে। ৮১৯

باب في مسائل متفرقة من كتاب الصوم

অনুচ্ছেদ: সাহারী ও ইফতারী

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٠٢) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَحَبُّ عِبَادِي

إِلَى أَعْجَلُهُمْ فَطَرًا.

الترمذي : كتاب الصوم باب ما جاء في تعجيل الإفطار

(৪০২) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে আমার নিকট অধিকতর প্রিয় তারাই যারা শীঘ্র শীঘ্র ইফতার করে।’ ৮২১ তাহক্বীকু: যঈফ। উল্লেখ্য, তাড়াতাড়ি ইফতার করার ব্যাপারে অনেক ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ২০

(٤٠٣) عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ يَبْلُعُ بِهِ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقْطِرْ عَلَى

تمرٍ فَإِنَّهُ بَرَكَةً فَإِنْ لَمْ يَجِدْ تَمْرًا فَالْمَاءِ فَإِنَّهُ.

الترمذي : كتاب الزكاة باب ما جاء في الصدقة على ذي القرابة

(৪০৩) সালমান ইবনু আমের বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে, কেননা,

পৃষ্ঠা:১৮২

উহাতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না পায়, তবে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তা হল পবিত্রকারী। ৮২৪ ৮২৫ তাহক্বীকু: যঈফ। ২০

(٤٠٤) عَنْ مُعَادَ بْنِ زَهْرَةَ قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ اللهُمَّ لَكَ

صُمْتُ وَعَلَى رِزْقَكَ أَفْطَرْتُ.

أبو داود : كتاب الصوم باب القول عند الإفطار

(৪০৪) মু’আয ইবনু যুহরা বলেন, নবী যখন ইফতার করতেন বলতেন, আল্লাহ আমি তোমারই জন্য ছিয়াম রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিযিকে ছিয়াম খুলেছি। ৮২৬ 

باب تنزيه الصوم

অনুচ্ছেদ: ছিয়ামের পবিত্রতা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٠٥) عَنْ عَائِشَة أن النبي ﷺ كان يُقبلها وَهُوَ صَالِمٌ وَيَمُصُّ لِسَانَهَا قَالَ ابْنُ

الأَعْرَابِي هَذَا الْإِسْنَادُ لَيْسَ بِصَحِيح

أبو داود : كتاب الصوم باب الصائم يبلغ الريق

(৪০৫) আয়েশা হতে বর্ণিত, নবী করীম করতেন এবং তার জিহ্বা চুসতেন। ছিয়াম অবস্থায় তাঁকে চুম্বন

তাহক্বীকু: যঈফ।

৮২৯

(٤٠٦) عن عامر بن ربيعة قَالَ رَأيت النبي ﷺ مَا لَا أَحْصِي يَتَسَوَّكَ وَهُوَ صَائِمٌ. الترمذي : كتاب الصوم باب ما جاء في السواك للصائم

পৃষ্ঠা:১৮৩

(৪০৬) আমের ইবনু রবী’আ বলেন, আমি নবী করীম-কে ছিয়াম অবস্থায় অসংখ্যবার মিসওয়াক করতে দেখেছি। ৮৩০ তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٠٧) عَن أنس قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ اشْتَكَتْ عَيْنِي أَفَأَكْتَحِلُ

وَأَنَا صَائِمٌ قَالَ نَعَمْ.

الترمذي : كتاب الصوم باب ما جاء في الكحل للصائم ৪০৭) আনাস বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম-এর নিকট এসে বলল, রাসূল! আমার চোখে ব্যথা করে, আমি কি উহাতে সুর্মা ব্যবহার করতে পারি ছিয়াম অবস্থায়? রাসূল (ছঃ) বললেন, হ্যাঁ, পার। ৮৩২

তাহক্বীক্ব: যঈফ।

( ٤٠٨) عن أبي هريرة قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ فِي

غَيْرِ رُحْصَةٍ رَحْصَهَا اللَّهُ لَهُ لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صِيَامُ الدَّهْرِ.

ابو داود : کتاب الصوم باب التغليط في من أفطر عمدا الترمذي : كتاب العلوم باب ما جاء في الإفطار متعمداً، ابن ماجة : كتاب الصوم باب ما جاء في كفارة من أفطر يوما من رمضان

(৪০৮) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে রমযানের একটি ছিয়াম ভেঙ্গেছে ওযর ও রোগ ব্যতীত, তার উহা পূরণ করবে না সারা জীবনের ছিয়াম- যদিও সে সারা জীবন ছিয়াম রাখে। তাহক্বীকু: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٠٩) عن أبي سعيد الْخُدْرِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثَلَاثَ لَا يُفْطَرْنَ الصَّائم

الحجامة وَالْقَيْء والاحتلام رواه الترمذي وقال هذا حديث غير محفوظ وعبد

الرحمن بن زيد الراوي يضعف في الحديث

পৃষ্ঠা:১৮৪

الترمذي : كتاب الصوم باب مَا جَاءَ فِي الصَّائِمِ يَدْرَعَهُ الْقَيِّء

(৪০৯) আবু সাঈদ খুদরী ছায়েমদের ছিয়াম নষ্ট করে না- বলেন, রাসূল বলেছেন, তিন জিনিস শিঙ্গা লাগানো, বমি করা, স্বপ্নদোষ। ৮৩৬

باب صوم المسافر

অনুচ্ছেদ: মুসাফিরের ছিয়াম

(٤١٠) عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ أَدْرَكَهُ رَمَضَانُ لَهُ حُمُولَةٌ تَأْوِي إِلَى شِبْع فَلْيَصُمْ رَمَضَانَ حَيْثُ أَدْرَكَهُ.

أبو داود : كتاب الصيام باب من اختار الصيام

(৪১০) সালামা ইবনু মুহাব্বাক বলেন, রাসূল বলেছেন, যার এমন বাহন রয়েছে যা তাকে আরামের সাথে সাথে ঘরে পৌঁছে দিবে, সে যেন ছিয়াম রাখে যেখানেই সে ছিয়াম পায়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٤١١) عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ صَائِمُ رَمَضَانَ فِي

السفرِ كَالْمُفْطِرِ فِي الْحَضَرِ.

ابن ماجة : كتاب الصيام باب ما جاء في الإفطار في السفر

(৪১১) আব্দুর রহমান ইবনে আওফ বলেন, রাসূল বলেছেন, সফর অবস্থায় রামাযানের ছিয়াম মুক্বীম অবস্থায় ইফতারকারীর ন্যায়।

পৃষ্ঠা:১৮৫

অনুচ্ছেদ: ছিয়ামের ক্বাযা

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤١٢) عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَلْيُطْعَمْ عَنْهُ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينَ.

الترمذي : كتاب الصيام باب ما جاء من الكفارة ابن ماجة : كتاب الصيام بَاب مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامُ

رمضان قد فرط فيه

(৪১২) নাফে’ আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর হতে বর্ণনা করেন, নবী করীম বলেছেন, যে রমযানের ছিয়াম মাথায় রেখে মরে গেছে, তার পক্ষ হতে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে যেন একজন মিসকীনকে খানা খাওয়ান হয়।৮৪২

صيام التطوع

অনুচ্ছেদ: নফল ছিয়াম

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤١٣) عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ الله ﷺ يَصُومُ من الشهر السبت وَالْأَحَدَ

والاثنينِ وَمِن الشهر الآخرِ الثَّلَاثَاءِ وَالْأَرْبِعَاءِ وَالْخَمِيس. الترمذي : كتاب الصوم باب ما جاء في صوم يوم الاثنين والخميس

(৪১৩) আয়েশা বলেন, রাসূল এক মাসের শনি, রবি ও সোমবার ছিয়াম রাখতেন আর অপর মাসের মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤١٤) عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ

كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلُهَا الاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ.

পৃষ্ঠা:১৮৬

أبو داود : كتاب الصوم باب من قال الانين والخميس

(৪১৪) উম্মু সালাম বলেন, রাসূল আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রত্যেক মাসে তিন দিন ছিয়াম রাখতে যার প্রথম দিন সোমবার অথবা বৃহস্পতিবার হয়। ৩৬ তাহক্বীক্ব: মুনকার।

(٤١٥) عَنْ مُسْلِمِ الْقُرَشِي قَالَ سَأَلْتُ أَوْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ صِيَامِ الدَّهْرِ قَالَ إِنَّ لِأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا صُمَّ رَمَضَانَ وَالَّذِي يَلِيهِ وَكُلَّ أَرْبِعَاءَ وَحَمِيسٍ فَإِذَا

أنت قد صمت الدهر كله.

الترمذي : كتاب الصوم باب ما جاء في صوم يوم الأربعاء والخميسي أبو داود : كتاب الصيام باب في صوم سوال

(৪১৫) মুসলিম কুরায়শীপ বলেন, আমি রাসূল-কে জিজ্ঞেস করলাম অথবা কারও কর্তৃক তিনি জিজ্ঞাসিত হলেন (রাবীর সন্দেহ) সারা বছর ছিয়াম রাখা সম্পর্কে। উত্তরে তিনি বললেন, তোমার উপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে। সুতরাং তুমি সিয়াম রাখবে রমযান মাস এবং উহার সাথে যে মাস রয়েছে তাতে, এ ছাড়া প্রত্যেক বুধবার ও বৃহস্পতিবার। তখন তুমি সারা বছর ছিয়াম রাখলে। ৮৪৮ তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤١٦) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْ صَوْمٍ يَوْمٍ عَرَفَةَ بِعَرَفَة.

أبو داود : باب في صوم يوم عرفة بعرفة

(৪১৬) আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত আছে, রাসূল আরাফার দিনে আরাফার ময়দানে ছিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন।

পৃষ্ঠা:১৮৭

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٤١٧) عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ الله ﷺ يَصُومُ يَوْمَ السَّبْت وَيَوْمَ الْأَحَد أَكْثَرَ مَا يَصُومُ مِنَ الأَيَّامِ وَيَقُولُ إِنَّهُمَا عِيدًا الْمُشْرِكِينَ فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَخَالَفَهُمْ

(৪১৭) উম্মু সালামা বলেন, রাসূল অপর দিনে ছিয়াম রাখার চেয়ে শনি-রবিবারেই অধিক ছিয়াম রাখতেন এবং বলতেন, এ দুইদিন মুশরিকদের পর্বের দিন। অতএব, এ ব্যাপারে আমি তাদের খেলাফ করাকে ভালবাসি। ৮৫২ তাহক্বীকু: যঈফ।৮৩৩

(٤١٨) عَنْ حَفْصَة قَالَتْ أَرْبَعُ لَمْ يَكُن يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَيَامَ عَاشُورَاءَ وَالْعَشْرَ

وثلاثة أيامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ.

النسائي : كتاب الصيام باب كيف يصوم ثلاثة أيام من كل شهر وذكر اختلاف الناقلين الخير في ذلك

(৪১৮) হাফছা বলেন, চারটি বিষয় এমন যেগুলিকে নবী করীম কখনও ছাড়তেন না-আশুরার ছিয়াম, যিলহজ্জের প্রথম দশকের ছিয়াম, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের ছিয়াম এবং ফজরের পূর্বের দুই রাকাত সুন্নত। res তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤١٩) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا يُفْطِرُ أَيَّامَ الْبَيضَ فِي حَضَرٍ ولا سفر

النسائي : كتاب الصيام باب علوم التي بأبي هو وأمي وذكر اختلاف الناقلين للخير في ذلك

(৪১৯) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল ও হযরে কোথাও ছাড়তেন না। ৮৫৬ আইয়ামে বীযের ছিয়াম সফরে তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٢٠) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِكُلِّ شَيْءٍ زَكَاةً وَزَكَاةُ الْحَسَدِ الصَّوْمُ.

كتاب الصيام باب في الصوم زكاة الحسد

পৃষ্ঠা:১৮৮

(৪২০) আবু হুরায়রা বলেন রাসূল বলেছেন, প্রত্যেক জিনিসের যাকাত রয়েছে এবং শরীরের যাকাত হল ছিয়াম।তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٢١) عن أبي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ مَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاء وَجْهِ اللَّهِ بَعْدَهُ اللَّهُ مِنْ جَهَنَّمَ كَبُعْدِ غُرَابِ طَارَ وَهُوَ فَرْخٌ حَتَّى مَاتَ هَرِمًا.

(৪২১) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে আল্লাহর সন্তোষ লাভের উদ্দেশ্যে এক দিন ছিয়াম রাখবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জাহান্নাম হতে দূরে রাখবেন একটি কাক বাচ্চা কাল থেকে অতি বৃদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত যতদূর উড়ে যেতে পারে ততদূরে।৩০

তাহক্বীকু: যঈফ।

باب في الإفطار من التطوع

অনুচ্ছেদ: নফল ছিয়াম ভঙ্গ করা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٢٢) عَنْ الزُّهْرِي عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ صَالِمَتَيْنِ فَعُرِضَ لَنَا طَعَامُ اشْتَهَيْنَاهُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَبَدَرَتْنِي إِلَيْهِ خَفْصَةٌ وكانت ابنة أبيها فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا كُنَّا صَالِحَتَيْنِ فَعُرِضَ لَنَا طَعَامُ اشْتَهَبْنَاهُ

فأكلنا منهُ قَالَ اقْضِيَا يَوْمًا آخَرَ مَكَانَهُ.

الترمذي : كتاب العلوم باب ما جاء في إنجاب القضاء عَلَيْهِ

(৪২২) যুহরী উরওয়া হতে, উরওয়া আয়েশা হতে বর্ণনা করেন, আয়েশা বলেছেন, একদিন আমি ও হাফসা ছিয়াম রাখছিলাম। এ অবস্থায় আমাদের নিকট কিছু খানা উপস্থিত করা হল যা অমরা পসন্দ করি। আমরা সেখান থেকে খেলাম। অতঃপর হাফসা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ছিয়াম অবস্থায় ছিলাম এমন সময় আমাদের নিকট খানা

পৃষ্ঠা:১৮৯

উপস্থিত করা হল, যা আমরা পছন্দ করি। অতঃপর তা আমরা খেয়েছি। রাসূল বললেন, এর স্থলে অপর একদিন ছিয়াম রেখে দিও!৮৬তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٢٣) عَنْ أَمْ عُمَارة بنت كعب أن النبي ﷺ دَخَلَ عَلَيْهَا فَدَعَتْ لَهُ طَعَامًا فَقَالَ كُلى فَقَالَتْ إِلى صَائِمَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ الصَّالِمَ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ صلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يَفْرُعُوا.

الترمذي : كتاب الصوم باب ما جاء في فضل الصائم إذا أكل عنده

(৪২৩) উম্মু উমারা বিনতে কা’ব হতে বর্ণিত আছে, একদা নবী করীম তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি নবী করীম এর জন্য খানা আনলেন। নবী করীম বললেন, তুমিও খাও! তিনি বললেন, আমি ছিয়াম রেখেছি। নবী করীম বললেন, যখন ছায়েমদের নিকট খানা খাওয়া হয় ফেরেশতাগণ তার জন্য দু’আ করতে থাকেন। যতক্ষণ খানা হতে অবসর গ্রহণ ৮৬৪ না করে। তাহক্বীকু: যঈফ। ১৮৬৫

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٢٤) عن بريدة قال دخل بلال على رسول الله ﷺ وهو يتغدى فقال رسول الله ﷺ الغداء يا بلال قال إني صائم يا رسول الله فقال رسول الله ﷺ نأكل رزقنا وفضل رزق بلال في الجنة أشعرت يا بلال أن الصائم نسبح عظامه وتستغفر له الملائكة ما أكل عنده ؟ رواه البيهقي في شعب الإيمان. (৪২৪) বুরায়দা আসলামী নিকট পৌছলেন, তখন রাসূল বললেন, বেলাল খানায় শরীক আমি ছিয়াম রেখেছি। বলেন, একবার বেলাল রাসূল দুপুরের খানা খাচ্ছিলেন। তখন রাসূল এর হয়ে যাও! বেলাল বললেন, হে আল্লাহর রাসূল রাসূল বললেন, আমরা আমাদের রিযিক

পৃষ্ঠা:১৯০

খেয়ে ফেলছি আর বেলালের রিযিক বেহেশতে উদ্বৃত্ত থাকছে। বেলাল! তুমি কি জান ছায়েমদের হাড়সমূহ আল্লাহর তাসবীহ্ করে থাকে এবং তার জন্য ফেরেশতাগণ ক্ষমা চাইতে থাকেন যাবৎ তার নিকট খানা খাওয়া হতে থাকে। ৮৬৬ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল।

باب ليلة القدر

অনুচ্ছেদ: লায়লাতুল কুদর

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٢٥) عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سُبُلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ

فَقَالَ هِي فِي كُلِّ رَمَضَانَ.

أبو داود : كتاب الصلاة باب من قال هي في كل رمضان

(৪২৫) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর বলেন, একবার রাসূলকে শবে কদর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, উহা পূর্ণ রমযানেই রয়েছে।

তাহক্বীকু: যঈফ।৬৯

(٤٢٦) عن أنس قال قال رسول الله ﷺ إذا كان ليلة القدر نزل جبريل عليه السلام في كبكبة من الملائكة يصلون على كل عبد قائم أو قاعد يذكر الله عز وحل فإذا كان يوم عيدهم يعني يوم فطرهم باهى هم ملائكته فقال يا ملائكتي ما جزاء أخير وفي عمله ؟ قالوا : ربنا جزاؤه أن يوفى أجره . قال : ملائكتي عبيدي وإمالي قضوا فريضتي عليهم ثم خرجوا يعجون إلى الدعاء وعزبي وحلالي وكرمي وعلوي وارتفاع مكاني لأحببنهم . فيقول ارجعوا فقد غفرت لكم وبدلت سيئاتكم حسنات ، قال فيرجعون مغفورا لهم رواه البيهقي في شعب الإيمان

পৃষ্ঠা:১৯১

(৪২৬) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন শবে কদর আরম্ভ হয়, তখন জিবরীল পা ফেরেশতাদের দল সহ অবতীর্ণ হন এবং আল্লাহর স্মরণ করতে থাকে। অতঃপর যখন বান্দাদের ঈদের দিন হয়, তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের ব্যাপারে আপন ফেরেশতাদের নিকট ফখর করেন এবং জিজ্ঞেস করেন যে, হে আমার ফেরেশতাগণ! বল দেখি, সে শ্রমিকের প্রতিদান কি হতে পারে, যে আপন কার্য সম্পন্ন করেছে? তাঁরা উত্তর করলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! তার পারিশ্রমিক পূর্ণরূপে দেওয়াই হচ্ছে তার প্রতিদান। তখন আল্লাহ বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ! আমার বান্দা ও বান্দীগণ তাদের প্রতি আমার অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছ। অতঃপর আজ আমার নিকট দু’আ করতে করতে ঈদগাহে বের হয়েছো। আমার ইজ্জতের কসম! জেনে রাখ, আমি তাদের দু’আ নিশ্চয়ই কবুল করব। অতঃপর বলেন, আমি নিশ্চয়ই তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের গোনাহসমূহকে নেকীতে পরিণত করলাম। রাসূল বলেন, অতঃপর তারা বাড়ী ফিরে ক্ষমা প্রাপ্ত হয়ে। ৮৭০ তাহক্বীকু: হাদীছটি জাল।

باب الاعتكاف

অনুচ্ছেদ: ই’তিকাফ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٢٧) عَن عائشة قالت كان النبي ﷺ يَعُودُ المريضَ وَهُوَ مُعْتَكَفَّ فَيَمُرُّ كَمَا

هُوَ فَلَا يُعَرِّجُ يَسْأَلُ عَنْهُ .

أبو داود : كتاب الصوم باب المعتكف يعود المريض

(৪২৭) আয়েশা বলেন, নবী করীম ই’তেকাফ অবস্থায় হাঁটতে পথের এদিক সেদিক না গিয়ে ও না দাঁড়িয়ে রোগীর অবস্থা জিজ্ঞেস করতেন। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

পৃষ্ঠা:১৯২

(٤٢٨) عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ إِذَا اعْتَكَفَ طُرِحَ لَهُ فَرَاشُهُ أَوْ

يُوضع لَهُ سَرِيرُهُ وَرَاءَ أَسْطُوَانَة التَّوْبَة.

ابن ماجة : كتاب الصيام باب في المعتكف يلوم مكانا من المستجد

(৪২৮) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর যখন এ’তেকাফ করতেন, তাঁর তথায় তাঁর জন্য তাঁর খাটিয়া অনুতাপের খুঁটির পিছনে। প্রমুখাৎ নবী করীম হতে বর্ণিত, তিনি জন্য মসজিদে তাঁর বিছানা পাতা হত এবং স্থাপন করা হত ‘উদ্ভওয়ানায়ে তওবা’ বা

তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٢٩) عن ابن عباس أَنْ رَسُول الله ﷺ قَالَ في المعتكف هو يعكف الذُّنُوب وَيُجْرَى لَهُ مِنَ الْحَسَنَاتِ كَعَامِلَ الْحَسَنَاتِ كلها.

ابن ماجة : كتاب الصيام باب في ثواب الاعتكاف

(৪২৯) ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল ই’তেকাফকারী সম্পর্কে বলেছেন, সে গোনাহসমূহ হতে বেঁচে থাকে এবং তার জন্য নেকীসমূহ লেখা হয় ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে (বাহিরে থেকে) যাবতীয় নেক কাজ করে। তাহক্বীকু: যঈফ।

(বঙ্গানুবাদ মিশকাত চতুর্থ খণ্ড সমাপ্ত)

পৃষ্ঠা:১৯৩

অধ্যায়: কুরআনের ফযীলত

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٣٠) عن عبد الرحمن بن عوف عن النبي ﷺ قال ثلاثة تحت العرش يوم القيامة القرآن يحاج العباد له ظهر وبطن والأمانة والرحم تنادي ألا من وصلني

وصله الله ومن قطعني قطعه الله.

(৪৩০) আব্দুর রহমান ইবনু আওফ রাসূল হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, তিনটি জিনিস কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের নীচে থাকবে। (১) কুরআন, উহা বান্দাদের পক্ষে আরয করবে। উহার বাহির-ভিতর দুই-ই রয়েছে। (২) আমানত এবং (৩) আত্মীয়তা-বন্ধন। ফরিয়াদ করবে, যে আমাকে রক্ষা করেছে, আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন এবং যে আমাকে ছিন্ন করেছে, আল্লাহ তাকে ছিন্ন করুন। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٣١) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ الَّذِي لَيْسَ فِي خَوْفِهِ شَيْءٌ

مِنَ الْقُرْآنِ كَالْبَيْتِ الْحَرب.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء فيمن قرأ حرفًا مِنَ الْقُرْآنِ مَالَهُ من الآخر

(৪৩১) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে পেটে কুরআনের কোন অংশ নেই, তা শূন্য ঘরতুল্য।

তাহক্বীকু: যঈফ।***

(٤٣٢) عن أبي سعيد قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ يَقُولُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ شَغَلَهُ القرآن وذكري عن مسألتي أعطيته أفضل ما أُعْطِي السَّائِلِينَ وَفَضْلُ كَلَامِ اللَّهِ

على سائررِ الْكَلَامِ كَفَضْلِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء كيف كانت قراءة النبي .

পৃষ্ঠা:১৯৪

(৪৩২) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, কুরআন যাকে আমার যিকর ও আমার নিকট যাঞ্চা করা হতে বিরত রেখেছে, আমি তাকে দান করব যাঞ্চাকারীদের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ দান। কারণ আল্লাহ্র কালমের শ্রেষ্ঠত্ব অপর সকল কালামের উপর, যেমন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর সৃষ্টির উপরে।*** তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(٤٣٣) عَنِ الْحَارِثِ الأعور قال مررت في المسجد فَإِذَا النَّاسُ يَخُوضُونَ فِي الأحاديث فَدَخَلْتُ عَلَى عَلى فَقُلْتُ يَا أمير الْمُؤْمِنِينَ أَلَا تَرَى أَنَّ النَّاسَ قَدْ خاضوا في الأحاديث قَالَ وَقَدْ فَعَلُوهَا قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَمَا إِنِّي قَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ الله ﷺ يَقُولُ أَلا إنها ستكون فتنة فَقُلْتُ مَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ كتاب الله فيه تباً مَا كَانَ قَبْلَكُمْ وَعَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ وَهُوَ الْفَضْلُ لَيْسَ بِالْهَزْل من تركه من حبار قَصَمَهُ الله وَمَنْ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ وَهُوَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَنِين وَهُوَ الذكرُ الْحَكِيمُ وَهُوَ الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ الَّذِي لَا تزيع به الأَهْوَاء وَلَا تَلْتَبِس به الألسنة وَلَا يَشبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ وَلَا يَخْلَقُ عَلَى كَثَرَة الرَّدُ وَلَا تنقضي عجالبُهُ هُوَ الَّذِي لم تنته الجِن إِذْ سَمِعْتُهُ حَتَّى قَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إلى الرشد فمنا به من قال به صَدَقَ وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُخِرَ وَمَنْ حكم به عدَلَ وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هَدَى إِلَى صِرَاط مستقيم هذا حديث وإسناده مَجْهُولٌ وَفِي الْحَارِثِ مَقَالَ.

الترمذي : كتاب فضائل القُرْآنِ بَاب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الْقُرْآنِ

(৪৩৩) হারেছ আ’ওয়ার (রহঃ) বলেন, আমি মসজিদে পৌঁছলাম, দেখলাম লোকেরা বাজে কথায় মশগুল। অতঃপর আমি আলী এর নিকট গিয়ে তাঁকে এই সংবাদ দিলাম। তিনি বললেন, তারা কি এরূপ করছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, সাবধান! অচিরেই দুনিয়াতে ফাসাদ আরম্ভ হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে রাসূল! তা হতে বাঁচার উপায় কী? তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাব, উহাতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের খবর রয়েছে এবং তোমাদের মধ্যকার বিতর্কের মীমাংসা। উহা

পৃষ্ঠা:১৯৫

সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী এবং নিরর্থক নয়। যে অহংকারী উহাকে ত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অহংকার চূর্ণ করবেন; যে উহার বাইরে হেদায়াত তালাশ করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। উহা হল আল্লাহর মজবুত রজ্জু, প্রজ্ঞাময় যিকর এবং সত্য-সরল পথ। এটার অবলম্বনে বিপথগামী হয় না প্রবৃত্তি কষ্ট হয় না উহাতে জবানের। বিতৃষ্ণা হয় না ইহা হতে জ্ঞনীগণ। বার বার পাঠ করাতে তা পুরাতন হয়না। অন্ত নেই তার বিস্ময়কর তথ্যসমূহের। তা শুনে স্থির থাকতে পারে না জিনরা। এমনকি তারা বলে উঠেছে, শুনেছি আমরা এমন এক বিস্ময়কর কুরআন, যা সন্ধান দেয় সৎপথের। অতএব ঈমান এনেছি আমরা উহার উপর। যে উহা বলে সত্য বলে, যে উহার সাথে আমল করে পুরস্কার প্রাপ্ত হয়, যে উহার সাথে বিচার করে ন্যায় করে এবং তার দিকে ডাকে সে সরল পথের দিকে ডাকে। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(٤٣٤) عَنْ مُعَادَ الْجُهَنِي قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَعَمِلَ بِمَا فيه البس والدَاهُ تَاحًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْءُهُ أَحْسَنُ مِنْ ضَوْءِ الشَّمْسِ فِي بُيُوتِ الدُّنْيَا لَوْ كَانَتْ فِيكُمْ فَمَا ظَنَّكُمْ بِالَّذِي عَمِلَ بِهَذَا.

أبو داود : كتاب الصلاة باب في ثواب قراءة القرآن (৪৩৪) মু’আয জুহানী রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করেছে এবং তার উপর আমল করেছে, তার মাতা-পিতাকে ক্বিয়ামতের দিন এমন একটি তাজ পরানো হবে, যার কিরণ সূর্যের কিরণ অপেক্ষাও উজ্জ্বল হবে, যদি সূর্য তোমাদের দুনিয়ার ঘরে তোমাদের মধ্যে থাকত। এখন তার সম্পর্কে তোমাদের কি ধারণা যে তার সাথে আমল রয়েছে?।’

তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٣٥) عَنْ عَلى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَاسْتَظْهَرَهُ فَأَجَلَّ حَلَالَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ أَدْخَلَهُ الله به الجَنَّةَ وَشَفَعَهُ فِي عَشْرَة مِنْ أَهْلِ بَيْنَه كُلُّهُمْ قَدْ وحبت له النار. رواه أحمد والترمذي وابن ماجه والدارمي وقال الترمذي :

পৃষ্ঠা:১৯৬

هذا حديث غريب وحفص بن سليمان الراوي ليس هو بالقوي يضعف في

الحديث.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء في فضل قارئ القرآن

(৪৩৫) আলী বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন পড়েছে এবং সেটাকে মুখস্থ রেখেছে অতঃপর তার হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম জেনেছে, তাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন দশ ব্যক্তি সম্পর্কে তার সুপারিশ কবুল করবেন, যাদের প্রত্যেকের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছিল। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(٤٣٦) عن أبي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ وَاقْرَءُوهُ وَارْقُدُوا فَإِنْ مَثَلَ الْقُرْآنِ وَمَنْ تَعَلَّمَهُ فَقَام به كمثل حراب مَحْشُو مِسْكًا يَفُوحُ رِيحُهُ كُلِّ مكان ومثل مَنْ تَعَلَّمَهُ فَرَقَدَ وَهُوَ فِي حوفه كمثل جراب أو كي على مسك.

(৪৩৬) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, কুরআন শিক্ষা কর এবং তা পড়তে থাক। কুরআনের উপমা- যে তা শিক্ষা করে, তা পড়ে এবং তা নিয়ে রাতে ছালাতে দাঁড়ায় তার উপমা মেশকে পূর্ণ থলির ন্যায়, যা সুগন্ধি ছড়ায় চারদিকে। আর যে তা শিক্ষা করে এবং পেটে নিয়ে রাত্রিতে ঘুমায়, তার উপমা ঐ মেশকে পূর্ণ থলির ন্যায়- যার মুখ বন্ধ করা হয়েছে ঢাকনি দ্বারা। ৮৯০

তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٣٧) عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ مَنْ قَرَأَ حم الْمُؤْمِنَ إِلَى إِلَيْهِ الْمَصِيرُ وَآيَةَ الْكُرْسِي حِينَ يُصْبِحُ حفظ بهما حَتَّى يُمْسِي وَمَنْ قَرَأَهُمَا حِينَ يُمْسِي حُفَظَ بِهِمَا حَتَّى يُصْبِحَ.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء في فضل سورة البقرة وآية الكرسي

(৪৩৭) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে সূরা হা-মীম আল-মুমিন-‘ইলাইহিল মাছীর এবং আয়াতুল-করসী পড়বে, তার দ্বারা

পৃষ্ঠা:১৯৭

তাকে হেফাযতে রাখা হবে সন্ধ্যা পর্যন্ত আর যে তা সন্ধ্যায় পড়বে, তার দ্বারা তাকে হেফাযতে রাখা হবে সকাল পর্যন্ত।৮৯২ তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٣٨) عن أبي الدَّرْدَاء عَن النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ قرأَ ثلاث آيَاتِ مِنْ أَوَّلِ الْكَهْفِ

عصم من فتنة الدجال.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء في فضل سورة الكهف

(৪৩৮) আবু দারদা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথমের তিন আয়াত পড়বে, তাকে দাজ্জালের ফেতনা হতে নিরাপদে রাখা হবে। তাহক্বীকু: শাষ বা যঈফ।

(٤٣٩) عَن أنس قال قال النبي إن لكلِّ شَيْءٍ قَلْبًا وَقَلْبُ الْقُرْآنِ بَس وَمَنْ قرأ يس كتب الله لَهُ بِقَرَاءَتِهَا قِرَاءَةَ الْقُرْآنِ عَشْرَ مَرَّات.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء في فضل يس

(৪৩৯) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, প্রত্যেক জিনিসের একটি কূলব রয়েছে, আর কুরআনের কলব হল ‘সূরা ইয়াসীন’। যে সেটা পড়বে, আল্লাহ তা’আলা তার বিনিময়ে দশ বার কুরআন খতমের ছওয়াব নির্ধারণ করবেন। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(٤٤٠) عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إن الله تبارك وتعالى قرأ طه و

يس قبل أن يخلق السموات والأرض بألف عام فلما سمعت الملائكة القرآن قالت طوبي لأمة ينزل هذا عليها وطوب الأحواف تحمل هذا وطوب الألسنة تتكلم بهذا.

(৪৪০) আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ

পৃষ্ঠা:১৯৮

করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেটা যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে। তাহক্বীকু: যঈফ, মুনকার।

(٤٤١) عن أبي هريرة قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ قرأَ حم الدُّحَانَ فِي لَيْلَة أصبح يستغْفِرُ لَهُ سَبعون ألف ملك رواه الترمذي وقال : هذا حديث غريب وعمر بن أبي ختعم الراوي يضعف وقال محمد يعني البخاري هو منكر

الحديث.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء في فضل حو الدخان

(৪৪১) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ‘সূরা হা-মীম দুখান’ পড়ে সকালে উঠে এমতাবস্থায় তার জন্য সত্তর হাযার ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রর্থনা করতে থাকেন।”” তাহক্বীক্ব: জাল। ৯০১

(٤٤٢) عن أبي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ قَرَأَ حم الدُّحَانَ فِي لَيْلَةٍ

الْجُمُعَةِ غُفِرَ لَهُ.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء في فضل حم الدخان

(৪৪২) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে জুম’আর রাতে ‘সূরা হা-মীম দুখান’ পড়বে, তাকে মাফ করা হবে। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٤٣) عَنْ عرباض بن سارية أَن رَسُولَ الله كَانَ يَقْرَأُ الْمُسَحَاتِ قَبْلَ أَنْ

يَرْقُدَ وَقَالَ إِنَّ فِيهِنَّ آيَةً أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ آيَة.

الترمذي : كتاب فضائلِ الْقُرْآنِ بَابِ مَا يُقَالُ عِنْدَ اليَوْمِ

পৃষ্ঠা:১৯৯

(৪৪৩) ইরবায ইবনু সারিয়া হতে বর্ণিত, রাসূল শয়নের পূর্বে ‘মুসাব্বিহাত’ (হাদীদ, হাশর, ছফ, জুমু’আহ, তাগাবুন) পাঠ করতেন এবং বলতেন, ঐ আয়াতগুলোর মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যা হাযার আয়াত অপেক্ষাও উত্তম। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(٤٤٤) عن ابن عباس قال ضَرب بعض أصحاب النَّبِيِّ ﷺ حَيَاءَهُ عَلَى قَبْرِ وَهُوَ لا يَحْسِبُ أَنَّهُ قَبر فإذا فيه إنسان يقرأ سورة تَبَارَكَ الَّذِي يَدِهِ الْمُلْكُ حَتَّى حتمهَا فَأَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي ضَرَبْتُ حَبَائِي عَلَى قَبْرٍ وَأَنَا لَا أَحْسِبُ أَنَّهُ قَبْرٌ فَإِذَا فِيهِ إِنْسَانُ يَقْرَأُ سورة تبارك الْمُلْكِ حَتَّى حَتَمَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ هِيَ الْمَانِعَةُ هِيَ الْمُنْحِيَةُ تنحيه مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء في فضل سورة الملك

(৪৪৪) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, একবার রাসূল-এর কোন এক ছাহাবী একটি কবরের উপর তাঁবু টাঙ্গালেন। তিনি জানতেন না যে, সেখানে একটি কবর। হঠাৎ তিনি দেখেন একটি লোক সূরা ‘তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক’ পড়ছে। এমনকি সূরা শেষ করে ফেলল। অতঃপর সে রাসূল-কে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন, এটা হচ্ছে (কবরের আযাব হতে) বাধাদানকারী এবং মুক্তিদানকারী, যা পাঠককে আল্লাহর আযাব হতে মুক্তি দিয়ে থাকে।

(٤٤٥) عن معقل بن يَسَارِ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ ثَلَاثَ مَرَّات

أعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرحيم وقرأَ ثَلَاثَ آيَاتٍ مِنْ آخر سورة الْحَشْرِ وَكُل الله به سبعينَ أَلْفَ مَلَك يُصَلُّونَ عَلَيْهِ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ مَاتَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ مَاتَ شَهِيدًا وَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُمْسِي كَانَ بِتِلْكَ الْمَنْزِلَةِ.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء فيمن قرأَ حَرْفًا مِنَ الْقُرْآنِ مَالَهُ مِنَ الآخر

(৪৪৫) মা’কেল ইবনু ইয়াসার নবী করীম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে উঠে তিনবার বলবে ‘আউযুবিল্লাহিস সামীঈল

পৃষ্ঠা:২০০

আলীমি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম’ অতঃপর সূরা হাশরের শেষের তিন আয়াত পড়বে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য সত্তর হাযার ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন। যারা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু’আ করতে থাকবেন। আর যদি সে এই দিনে মারা যায়, তাহলে শহীদরূপে মারা যাবে। আর যে ব্যক্তি তা সন্ধ্যায় পড়বে, সেও হবে অনুরূপ মর্তবার অধিকারী।তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(٤٤٦) عَنْ أَنس عن النبي ﷺ قَالَ مَنْ قرأَ كُلِّ يَوْمٍ مَاتَني مَرَّة قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ محي عنه ذنوب خمسين سنة إلا أَن يَكُونَ عَلَيْهِ دين. رواه الترمذي والدارمي

وفي روايته خمسين مرة ولم يذكر إلا أن يكون عليه دين.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء في سورة الإخلاص

(৪৪৬) আনাস রাসূল হতে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন দুইশতবার সূরা ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পড়বে, তার পঞ্চাশ বছরের গোনাহ্ মুছে দেওয়া হবে, যদি তার উপর ঋণের বোঝা না থাকে।০ তাহক্বীকু: যঈফ।১০

(٤٤٧) عَنْ أَنَسٍ عَن النبي ﷺ قَالَ مَنْ أَرَادَ أَن يَنَامَ عَلَى فَرَاشِهِ فَنَامَ عَلَى يمينه ثُمَّ قَرَأَ قُلْ هُوَ الله أَحَدٌ مِائَةَ مَرَّة فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ يَقُولُ لَهُ الرَّبُّ تَبَارَكَ

وتعالى يا عبدِي ادْخُلْ عَلَى يَمِينكَ الْجَنَّةَ.

الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء في سورة الإخلاص

(৪৪৭) আনাস হতে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি ঘুমানোর ইচ্ছা করে বিছানায় যাবে এবং ডান কাতে শয়ন করবে, অতঃপর একশ’ বার সূরা ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পড়বে যখন ক্বিয়ামতের দিন আসবে, তখন আল্লাহ তাকে বলবেন, হে আমার বান্দা! তুমি তোমার ডান দিক দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর। ১১১

তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১১২

পৃষ্ঠা ২০১ থেকে ২২০

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

পৃষ্ঠা:২০১

(٤٤٨) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ أعربوا القرآن

واتبعوا غرائبه وغرائية فرائضه وحدوده رواه البيهقي في شعب الإيمان. (৪৪৮) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, স্পষ্ট ও শুদ্ধ করে কুরআন পড় এবং অনুসরণ কর উহার ‘গারায়েব’ বিষয়ের। আর ‘গারায়েব’ হল ফারায়েয ও হুদুদ। ১১০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১৪

٤٤٩) عن عائشة رضي الله عنها أن النبي ﷺ قال قراءة القرآن في الصلاة

( أفضل من قراءة القرآن في غير الصلاة وقراءة القرآن في غير الصلاة افضل من التسبيح والتكبير والتسبيح أفضل من الصدقة والصدقة أفضل من الصوم

والصوم جنة من النار رواه البيهقي في شعب الإيمان.

(৪৪৯) আয়েশা বলেন, রাসূল বলেছেন, ছালাতে কুরআন পড়া ছালাতের বাইরে কুরআন পড়া অপেক্ষা উত্তম; ছালাতের বাইরে কুরআন পড়া তাসবীহ্ ও তাকবীর পড়া অপেক্ষা উত্তম। ছিয়াম হচ্ছে জান্নামের আগুনের পক্ষে ঢালস্বরূপ। তাহক্বীকু: যঈফ।১১

(٤٥٠) عَنْ عُثْمَانَ بن عبد الله بن أوس الثقفي ، عَنْ حَدَّهِ ، قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ قراءة الرَّجُلِ الْقُرْآنَ فِي غَيْرِ الْمُصْحَفِ أَلْفُ دَرَجَةٍ ، وَقِرَاءَتُهُ فِي

الْمُصْحَفِ يُضَاعَفْ عَلَى ذَلِكَ إِلَى أَلْفَيْ دَرَجَة.

(৪৫০) ওছমান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আওস ছাক্বাফী তাঁর দাদা আওস হতে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন, কোন ব্যক্তির মাছহাফ ব্যতীত মুখস্থ কুরআন পড়া এক হাযার মর্যাদা রাখে। আর মাছহাফে পড়া মুখস্থ পড়ার দ্বিগুণ।

পৃষ্ঠা:২০২

(٤٥١) عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله ﷺ إن هذه القلوب تصدأ كما يصدأ الحديد إذا أصابه الماء قبل يا رسول الله وما جلاؤها ؟ قال

كثرة ذكر الموت وتلاوة القرآن.

(৪৫১) ইবনু ওমর বলেন, একদা রাসূল বলেছেন, এই অন্তরসমূহে মরিচা ধরে যেভাবে লোহায় মরিচা ধরে, যখন তাতে পানি লাগে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এর পরিষ্কারকরণ কী? রাসূল বললেন, বেশী বেশী মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কুরআন তেলাওয়াত। তাহক্বীকু: যঈফ, মুনকার। ১২০

(٤٥٢) عن أيقع بن عبد الكلاعي قال قال رجل يا رسول الله أي سورة القرآن أعظم؟ قال قل هو الله أحد قال فأي آية في القرآن أعظم ؟ قال آية الكرسي ( الله لا إله إلا هو الحي القيوم قال فأي آية يا نبي الله تحب أن تصيبك وأمتك ؟ قال خاتمة سورة البقرة فإنها من خزائن رحمة الله تعالى من تحت عرشه أعطاها هذه الأمة لم تترك خيرا من يخر الدنيا والآخرة إلا اشتملت عليه، رواه الدارمي.

(৪৫২) আইফা’ ইবনু আবদ কালাঈ বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কুরআনের কোন্ সূরা অধিকতর মর্যাদাবান? তিনি বললেন, কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। ঐ ব্যক্তি পুনরায় জিজ্ঞেস করল, কুরআনের কোন আয়াত অধিকতর মর্যদাবান? তিনি বললেন, আয়াতুল কুরসী ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’। সে আবার জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল! কুরআনের কোন্ আয়াত এমন, যার বরকত আপনার এবং আপানার উম্মতের প্রতি পৌছতে আপনি ভালবাসেন? তিনি বললেন, সূরা বাক্বারার শেষের দিক। কারণ আল্লাহ তা’আলা তাঁর আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে তা এই উম্মতকে দান করেছেন। দুনিয়া ও আখেরাতের এমন কোন কল্যাণ নেই যা তাতে নেই। ১২১ তাহক্বীকু: যঈফ।। উল্লেখ্য যে, আয়াতুল কুরসী সংক্রান্ত অংশটুকু ছহীহ, যা অন্যত্র ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। ১২৩

পৃষ্ঠা:২০৩

(٤٥٣) عن عبد الملك بن عمير مرسلا قال قال رسول الله ﷺ في فاتحة الكتاب

شفاء من كل داء. (৪৫৩) আব্দুল মালেক ইবনু ওমায়রা মুরসালরূপে বর্ণনা করেন যে, রাসূল বলেছেন, সূরা ফাতেহায় সকল রোগের চিকিৎসা রয়েছে।২৪ তাহক্বীকু: যঈফ। (٤٥٤) عن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال من قرأ آخر آل عمران في ليلة

كتب له قيام ليلة رواه الدارم  (৪৫৪) ওছমান ইবনু আফফান বলেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা আলে ইমরানের শেষের দিক পড়বে, তার জন্য পূর্ণ রাত্রি ছালাতে অতিবাহিত করার ছওয়াব লেখা হবে।২৬ তাহক্বীকু: যঈফ। (٤٥٥) عن جبير بن نفير رضي الله عنه أن رسول الله ﷺ قال إن الله ختم سورة البقرة بأيتين أعطيتهما من كنزه الذي تحت العرش فتعلموهن وعلموهن

نساءكم فإنها صلاة وقربان ودعاء. (৪৫৫) জুবায়র ইবনু নুফায়র (রহঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা সূরা বাক্বারাকে এমন দুইটি আয়াত দ্বারা সমাপ্ত করেছেন, যা আমাকে আল্লাহর আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে দান করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা তা শিক্ষা করবে এবং তোমাদের নারীদেরকেও শিক্ষা দিবে। কারণ তাতে রয়েছে ক্ষমা-প্রার্থনা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। ১২৮ তাহক্বীকু: যঈফ।১৯৯ (٤٥٦) عن كعب رضي الله عنه أن رسول الله ﷺ قال اقرؤوا سورة هود يوم الجمع. (৪৫৬) কা’ব ইবনু মালেক দিন তোমরা সূরা হুদ পড়বে। ১০০ হতে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন, জুম’আর

পৃষ্ঠা:২০৪

(٤٥٧) عن خالد بن معدان قال اقرؤوا المنجية وهي الم تنزيل فإن بلغني أن رحلا كان يقرؤها ما يقرأ شيئا غيرها وكان كثير الخطايا فنشرت جناحها عليه قالت رب اغفر له فإنه كان يكثر قراءتي فشفعها الرب تعالى فيه وقال اكتبوا له بكل خطيئة حسنة وارفعوا له درجة وقال أيضا إنها تجادل عن صاحبها في القبر تقول اللهم إن كنت من كتابك فشفعني فيه وإن لم أكن من كتابك فاتحني عنه وإنها تكون كالطير تجعل جناحها عليه فتشفع له فتمنعه من عذاب القبر وقال في تبارك مثله، وكان خالد لا يبيت حتى يقرأهما . وقال طاووس : فضلنا

على كل سورة في القرآن بستين حسنة.

(৪৫৭) খালেদ ইবনু মা’দান (রহঃ) বলেন, পড় তোমরা মুক্তিদানকারী সূরা। সেটা হল ‘সূরা আলিফ-লাম-মীম তানযীল’ (সূরা সাজদা)। কেননা, বিশ্বস্তসূত্রে আমার নিকট এ কথা পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি উক্ত সূরা পড়ত এবং এটা ছাড়া অপর কিছু পড়ত না। আর সে ছিল বড় গোনাহগার ব্যক্তি। উক্ত সূরা তার উপর ডানা বিস্তার করে এবং বলতে থাকে, হে আল্লাহ তাকে মাফ কর। কারণ আমাকে বেশী বেশী পড়ত। সুতরাং আল্লাহ তার সম্পর্কে ওর শাফা’আত কবুল করেন এবং বলেন, তার প্রত্যেক গোনাহর স্থলে এক একটি নেকী লেখ এবং তার মর্যাদা বুলন্দ কর। তিনি এটাও বলেন যে, উক্ত সূরা কবরে ওর পাঠকের জন্য আল্লাহ্র নিকট আবেদন করে বলবে, হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার কিতাবের অংশ হয়ে থাকি তাহলে তার ব্যাপারে তুমি আমার শাফা’আত কবুল কর, আর যদি আমি তোমার কিতাবের অংশ না হয়ে থাকি, তবে আমাকে তা হতে মুছে ফেল। তিনি বলেন, উহা পাখীর ন্যায় হয়ে তার উপর আপন পাখা বিস্তার করবে এবং তার জন্য সুপারিশ করবে। ফলে তাকে কবরের আযাব হতে রক্ষা করবে। তিনি সূরা তাবারাকাললাযী’ সম্পর্কেও এইরূপ বলেছেন। খালেদ এই সূরা দুইটি না পড়ে শয়ন করতেন না। তাউস বলেন, এই দুই সূরাকে কুরআনের প্রত্যক সূরা অপেক্ষা ষাট গুণ অধিক নেকী লাভের মর্যাদা দান করা হয়েছে। ৩২

পৃষ্ঠা:২০৫

(٤٥٨) عن عطاء بن أبي رباح قال بلغني أن رسول الله ﷺ قال من قرأ بس

في صدر النهار قضيت حوائجه رواه الدارمي مرسلا

(৪৫৮) আতা ইবনু আবু রাবাহ্ (রহঃ) বলেন, আমার নিকট বিশ্বস্ত সূত্রে একথা পৌঁছেছে যে, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনের প্রথম দিকে ‘সূরা ইয়াসীন’ পড়বে, তার সমস্ত হাজত পূর্ণ হবে। ১৫৪ তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(٤٥٩) عن معقل بن يسار المزني رضي الله عنه أن النبي ﷺ قال من قرأ يس

ابتغاء وجه الله تعالى غفر له ما تقدم من ذنبه فاقرؤوها عند موتاكم.

(৪৫৯) মা’কেল ইবনু ইয়াসার মুযানী বলেন, রাসূল বলেছেন, যে শুধু আল্লাহর সন্তোষ লাভের উদ্দেশ্যে ‘সূরা ইয়াসীন’ পড়বে, তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করা হবে, সুতরাং তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের নিকট সূরা ইয়াসীন পড়। ৬ তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٦٠) عن عبد الله بن مسعود أنه قال إن لكل شيء سناما وإن سنام القرآن

سورة البقرة وإن لكل شيء لبابا وإن لباب القرآن المفصل . رواه الدارمي

(৪৬০) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, প্রত্যেক জিনিসের একটি শীর্ষস্থান রয়েছে, আর কুরআনের শীর্ষস্থান হল সূরা বাক্বারাহ এবং প্রত্যেক জিনিসের একটি সার রয়েছে, আর কুরআনের সার হর ‘মুফাছছাল’ সূরা সমূহ। তাহক্বীত্ব: যঈফ।

(٤٦١) عن علي رضي الله عنه قال سمعت رسول الله ﷺ يقول لكل شيء

عروس و عروس القرآن الرحمن

পৃষ্ঠা:২০৬

(৪৬১) আলী বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক জিনিসের একটি শোভা রয়েছে, আর কুরআনের শোভা হল ‘সূরা আর- রহমান’। ১৪০ তাহক্বীকু: হাদীছটি মুনকার। ১৪১

(٤٦٢) عن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ من قرأ سورة الواقعة في كل ليلة لم تصبه فاقة ابدا وكان ابن مسعود يأمر بناته يقرآن بها في كل ليلة.

(৪৬২) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক রাতে সূরা ওয়াক্বি’আ পড়বে, কখনও সে দারিদ্র্যে পতিত হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ তার মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে এটা পড়তে বলতেন। ।৮৪২ তাহক্বীকু: যঈফ।১০০

(٤٦٣) عَنْ عَلَيَّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ الله ﷺ يُحِبُّ هَذه السورة سَبِّحُ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى

(৪৬৩) আলী বলেন, রাসূল সূরা সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লাকে ভালবাসতেন। তাহক্বীক্ব: যঈফ।

(٤٦٤) عَن عبد الله بْنِ عَمْرُو قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ أَقْرِلْنِي يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ لَهُ اقرأ ثلاثا من ذات الر فَقَالَ الرَّجُلُ كَبِرَتْ مِنِّي وَاشْتَدَّ قَلبي وغلط لساني قَالَ فَاقْراً من ذات حم فقال مثل مَقَالَتِهِ الْأُولَى فَقَالَ اقْرَأْ ثَلَاثًا مِنْ المسحات فقال مثل مقالته فقال الرَّجُلُ ولَكنْ أَقْرَلْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ سُورَةً جامعة فَأَقْرَأَهُ إِذَا زُلْزِلَتْ الْأَرْضَ حَتَّى إذا فرغ منها قَالَ الرَّجُلُ الَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أريد عَلَيْهَا أَبَدًا ثُمَّ أَدْبَرَ الرَّجُلُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَفْلَحَ الرُّويحل أفلح الرويجل.

পৃষ্ঠা:২০৭

(৪৬৪) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ! আমাকে কিছু শিক্ষা দিন! তিনি বললেন, ‘আলিফ-লাম-রা’ যুক্ত সূরাসমূহের মধ্য হতে তিনটি সূরা পড়িও। সে বলল, আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি এবং আমার অন্তর কঠিন ও জিহ্বা শক্ত হয়ে গেছে। তখন তিনি বললেন, তবে তুমি ‘হা-মীম’ যুক্ত সূরা হতে তিনটি পড়িও! সে পূর্বের ন্যায় উত্তর দিল। অতঃপর বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ব্যাপক অর্থযুক্ত একটি সূরা শিখিয়ে দিন। তখন রাসূল তাকে সূরা ‘ইযা যুল যিলাত’ শেষ পর্যন্ত পড়িয়ে দিলেন। এবার সে বলল, তাঁর কসম, যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পঠিয়েছেন আমি এরই উপর কখনও কিছু বাড়াব না। অতঃপর সে প্রস্থান করল, আর রাসূল, দুইবার বললেন, লোকটি কৃতকার্য হল, লোকটি কৃতকার্য হল। ১৯৪৬তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٦٥) عن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ ألا يستطيع أحدكم أن يقرأ ألف آية في كل يوم قالوا ومن يستطيع أن يقرأ ألف آية في كل يوم ؟ قال أما يستطيع أحدكم أن يقرأ ألهاكم التكاثر.

(৪৬৫) ইবনু ওমর বলেন, একদিন রাসূল বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি প্রত্যহ হাযার আয়াত পড়তে পারে না? ছাহাবীগণ বললেন, কে প্রত্যহ হাযার আয়াত পড়তে পারবে? তখন তিনি বললেন, হতে কি তোমাদের কেউ প্রতিদিন সূরা ‘আলহা-কুমুততকাছুর’ পড়তে পারে না? ১৩৮

তাহক্বীকু: যঈফ। ৯৪৯

(٤٦٦) عن سعيد بن المسبب مرسلا عن النبي ﷺ قال من قرأ قل هو الله أحد عشر مرات بني له بها قصر في الجنة ومن قرأ عشرين مرة بني له بها قصران في الجنة ومن قرأها ثلاثين مرة بني له بها ثلاثة قصور في الجنة فقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه والله يا رسول الله إذا لنكترن قصورنا . فقال رسول الله الله أوسع من ذلك.

পৃষ্ঠা:২০৮

(৪৬৬) সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব (রহঃ) মুরসালসূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন, যে দশবার ‘কুলহুওয়াল্লাহু আহাদ’ পড়বে তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করা হবে। যে ব্যক্তি বিশবার পড়তে তার জন্য দুই প্রাসাদ তৈরি করা হবে। যে ত্রিশবার পড়বে তার জন্য তিনটি প্রাসাদ তৈরি করা হবে। এ কথা শুনে ওমর বললেন, তাহলে তো আমরা অনেক প্রাসাদ পাব। তখন রাসূল বললেন, আল্লাহর দয়া এর আরো অধিক প্রশস্ত।তাহক্বীক্ব: যঈফ।১

(٤٦٧) عن الحسن مرسلا أن النبي ﷺ قال من قرأ في ليلة مائة آية لم يحاجه القرآن تلك الليلة ومن قرأ في ليلة مالتي آية كتب له قنوت ليلة ومن قرأ في ليلة خمسمائة إلى الألف أصبح وله قنطار من الأجر قالوا وما القنطار قال اثنا عشر ألفا. (৪৬৭) হাসান বাছরী মুরসালরূপে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে একশতটি আয়াত পড়বে, কুরআন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে না ঐ রাতে। আর যে ব্যক্তি রাতে দুইশত আয়াত পড়বে তার জন্য লেখা হবে এক রাত্রির ইবাদত। আর যে ব্যক্তি রাতে পাঁচশত হতে হাযার আয়াত পর্যন্ত পড়বে সে ভোরে উঠে এক ‘কিন্তার’ সওয়াব দেখবে। তারা জিজ্ঞেস করল, রাসূল, ‘কিন্তার’ কি? তিনি বললেন, ১২ হাযার (দীনার পরিমাণ ওযন)। ১৫২

باب آداب التلاوة ودروس القرآن

অনুচ্ছেদ: কুরআনের প্রতি শিষ্টাচার ও কুরআন পাঠের নিয়মাবলী

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٦٨) عَن أبي سعيد الخدري قال جلست في عصابة من ضُعَفَاء المهاجرين وَإِنَّ بَعْضَهُمْ لَيَسْتَتر بعض من العري وقارئ يقرأُ عَلَيْنَا إِذْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَامَ عَلَيْنَا فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ الله ﷺ سكت القارئ فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ مَا كُنتُمْ تَصْنَعُونَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهُ إِنَّهُ كَانَ قَارِئ لَنَا يَقْرَأُ عَلَيْنَا فَكُنَّا نَسْتَمِعُ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ الْحَمْدُ لله الذي جعل من أمتي من أمرت أن أصبر نفسي

পৃষ্ঠা:২০৯

مَعَهُمْ قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ الله ﷺ وسطنا ليعدل بنفسه فِينَا ثُمَّ قَالَ بيدِه هَكَذَا فَتَخَلَّقُوا وَبَرَزَتْ وُجُوهُهُمْ لَهُ قَالَ فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَرَفَ مِنْهُمْ أَحَدًا غَيْرِي فَقَالَ رَسُولُ الله ﷺ أَبْشَرُوا يَا مَعْشَرَ صَعاليك الْمُهَاجِرِينَ بِالنُّورِ النَّامَ يَوْمَ القِيامَةِ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أغنياء النَّاسِ بنصف يَوْمٍ وَذَاكَ خمس مائة سنة.

أبو داود : كتاب العلم باب في القصص বলেন, একদিন আমি দরিদ্র মুহাজিরদের এক (৪৬৮) আবু সাঈদ খুদরী দলে বসলাম, তখন তারা এক অন্যের সাথে কাছাকাছি বসেছিল নিজের নগ্নতা ঢাকিবার উদ্দেশ্যে। এ সময় একজন পাঠক আমদের সম্মুখে কুরআন পাঠ করছিল। এমন সময় রাসূল আসলেন এবং আমদের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন পাঠক চুপ হয়ে গেল। রসূল আমাদের সালাম দিলেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কী করছিলে? আমরা বললাম, আমরা আল্লাহর কিতাব শুনছিলাম। তখন রাসূল রাসূল বললেন, আল্লাহর শোকর যিনি আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক সৃষ্টি করেছেন, যাদের সাথে নিজেকে শামিল রাখার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। আবু সাঈদ বলেন, অতঃপর তিনি আমাদের মধ্যে বসে গেলেন যেন আমাদের সাথে শামিল করে নেন। অতঃপর আপন হাতের দ্বারা ইশারা করলেন, তোমরা বৃত্তাকার হয়ে বস। (রাবী বলেন,) তারা বৃত্তকার হয়ে বসলেন এবং তাদের চেহারা রাসূলের দিকে হয়ে গেল। এ সময় তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর তোমরা হে গরীব মুহাজির দল পূর্ণ নূরের ক্বিয়ামতের দিনে: তোমরা ধনীদের অর্ধ দিন পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর তাহলো পাঁচশত বছর।তাহক্বীক্ব: যঈফ। (٤٦٩) عن سعد بن عُبَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ امْرِئٍ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ ثُمَّ

يَنْسَاهُ إِلَّا لَفِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحْدَمَ.

أبو داود : كتاب الصلاة باب التشديد فيمن حفظ القرآنَ ثُمَّ نسية

(৪৬৯) সা’দ ইবনু ওবাদা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে ভুলে গেছে, ক্বিয়ামতের দিন সে অঙ্গহীনরূপে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।

পৃষ্ঠা:২১০

(٤٧٠) عن صهيب قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَا آمَنَ بِالْقُرْآنِ مَنْ اسْتَحَلَّ مَحَارَمَهُ. الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء فيمن قَرَأَ حَرْفًا مِنَ الْقُرْآنِ مَالَهُ مِنَ الْآخِرِ

(৪৭০) জুহায়ব বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআনের হারামকে হালাল মনে করেছে, সে কুরআনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনি। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٧١) عن الليث بن سعد عن ابن أبي مليكة عَنْ يَعْلَى بْنِ مَمْلَكَ أَنَّهُ سَأَلَ أَمَّ سلمة عن قراءة التي وصلاته فإذا هي تَنْعَتْ قِرَاءَةٌ مُفَسَّرَةً حَرْفًا حَرْفًا الترمذي : كتاب فضائل القرآن باب ما جاء كيف كانت قراءة النبي و النسائ : كتاب الافتاحيات تربين القرآن بالصوت

(৪৭১) লাইছ ইবনু সা’দ ইবনু আবী মুলাইকা হতে, তিনি ইয়া’লা ইবনু মামলাক (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, ইয়’লা একদা বিবি উম্মে সালামকে রাসূল এর কুরআন পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন দেখা গেল, তিনি তা প্রকাশ করছেন অক্ষর অক্ষর পৃথক করে।১০ তাহক্বীকু: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٧٢) عن حذيفة قال قال رسول الله ﷺ اقرؤوا القرآن بلحون العرب وأصواتها وإياكم ولحون أهل العشق ولحون أهل الكتابين وسيحي بعدي قوم يرجعون بالقرآن ترجع الغناء والنوح لا يجاوز حناجرهم مفتونة قلوبهم وقلوب

الذين يعجبهم شأنهم. (৪৭২) হুযায়ফা বলেন, রাসূল বলেছেন, কুরআন পড় আরবদের সুরে সুরে এবং যারা গান তাদের থেকে ও আহলে কিতাবদের সুর হতে। শীঘ্রই আমার পর এমন লোকেরা আসবে যারা গান ও বিলাপের সুর ধরে

পৃষ্ঠা:২১১

কুরআন পড়বে। কুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তাদের অন্তর হবে দুনিয়ার মোহগ্রস্ত এবং অনুরূপভাবে তাদের অন্তরও যারা তাদের পদ্ধতিকে পসন্দ করবে। ৯৬২

তাহক্বীক্ব: হাদীছটি যঈফ। ১৯৬৩

باب اختلاف القراءات وجمع القرآن

অনুচ্ছেদ: বিভিন্নভাবে কুরআন পঠন ও সঙ্কলন 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٧٣) عن بريدة رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ من قرأ القرآن يتأكل

به الناس جاء يوم القيامة ووجهه عظم ليس عليه لحم.

(৪৭৩) বুরায়দা আসলামী বলেন, রাসূল বলেছেন, যে কুরআন পড়ে মানুষের নিকট খাবার মাগিবে, কিয়ামতে সে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার চেহারায় হাড় থাকবে, উহার উপর গোশত থাকবে না।১৬৪তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল।

(আলবানী মিশকাত প্রথম খণ্ড সমাপ্ত)

পৃষ্ঠা:২১২

অধ্যায়: দু’আ 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٧٤) عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الدُّعَاءُ مُخُ الْعِبَادَة.

الترمذي : كتاب الدعَوَاتِ بَاب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الدُّعَاءِ

(৪৭৪) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, দু’আ হল ইবাদতের মগজ ১৬৬

তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٧٥) عن ابن مسعود قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ سَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلٌ يُحِبُّ أَن يُسْأَلَ وَأَفْضَلُ الْعِبَادَةِ انْتِظَارُ الْفَرَج.

الترمذي : كتاب الدعوات باب في النظار الفرج وغير ذلك

(৪৭৫) ইবনু মাসউদ বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমরা আল্লাহর নিকট অনুগ্রহ চাও। তিনি তাঁর নিকট চাওয়াকে পসন্দ করেন। আর মছীবত হতে মুক্তির অপেক্ষা করা শ্রেষ্ঠ ইবাদত।

তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১৬৯

(٤٧٦) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ فُتِحَ لَهُ مِنْكُمْ بَابُ الدُّعَاءِ فتحت لَهُ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ وَمَا سُئل الله شَيْئًا يَعْنِي أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يُسْأَلَ الْعَافِيَةَ.

الترمذي : كتاب الدعوات باب في دعاء النبي .

(৪৭৬) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, যার জন্য দু’আর দরজা খোলা, তার জন্য রহমতের দরজাই খোলা হয়েছে এবং আল্লাহর নিকট ৯৭০ নিরাপত্তা অপেক্ষা প্রিয়তর কোন জিনিসই চাওয়া হয় না।”

পৃষ্ঠা:২১৩

(٤٧٧) عن مالك بن يسار قال قال رسول الله ﷺ إذا سألتم الله فاسألوه يبطون أكفكم ولا تسألوه بظهورها وفي رواية ابن عباس قال صلوا الله يبطون أكفكم ولا تسألوه بظهورها فإذا فرغتم فامسحوا بها وجوهكم، رواه داود.

أبو داود : كتاب الصلاة باب الدعاء

(৪৭৭) মালেক ইবনু ইয়াসার বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তোমরা আল্লাহর নিকট কিছু চাইবে, তোমাদের হাতের ভিতর দিক দ্বারা চাইবে এবং হাতের পিঠ দ্বারা চাইবে না। ইবনু আব্বাসের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল বলেছেন, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে তখন তোমাদের হাতের পেট দ্বারা করবে এবং তাঁর নিকট হাতের পিঠ দ্বারা প্রার্থনা করবে না। অতঃপর যখন তোমরা দু’আ শেষ করবে, মুখমণ্ডলে হাত মাসাহ করবে। ৯৭২ তাহক্বীক্ব: হাদীছের প্রথমাংশ ছহীহ। কিন্তু পরের অংশ যঈফ। কারণ হাত মুখে মাসাহ করার কোন ছহীহ ছহীহ হাদীছ নেই। ১৭০

(٤٧٨) عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا رَفَعَ

يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ لَمْ يَحْطُهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ.

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في رفع الأيدي عند الدعاء

(৪৭৮) ওমর বলেন, রাসূল যখন দু’আয় হাত উঠাতেন উহা দ্বারা আপন মুখমণ্ডল মাসেহ করা ছাড়া নামাতেন না। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٧٩) عَنْ عبد الله بن عمرو بن الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِنَّ أَسْرَعَ

الدعاء إجابة دعوة غائب الغائب.

أبو داود : كتاب الصلاة باب الدعاء بظهر الغيب

(৪৭৯) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, রাসূল বলেছেন, অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য অনুপস্থি ব্যক্তির দু’আইসত্বর কবুল হয়

পৃষ্ঠা:২১৪

(٤٨٠) عن عمر بن الخطاب قال استأذنت النبي ﷺ فِي الْعُمْرَةِ فَأَذِنَ لِي وَقَالَ لا تَنْسَنَا يَا أَحَى مِنْ دُعَائِكَ فَقَالَ كَلِمَةٌ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ لِي بِهَا الدُّنْيَا قَالَ شُعْبَةً ثُمَّ لَقِيتُ عَاصِمًا بَعْدُ بِالْمَدِينَةِ فَحَدَّثَنِيهِ وَقَالَ أَشْرِكْنَا يَا أُحَيَّ فِي دُعَائِكَ.

أبو داود : كتاب الصلاة باب الدعاء

(৪৮০) ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব বলেন, একদা আমি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)- এর নিকট ওমরা করার অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন এবং বললেন, হে ভাই! তোমার দু’আতে আমাকে অন্তর্ভুক্ত কর, ভুলে যেওনা। ওমর রাসূল আমাকে এমন একটি কথা বললেন যার পরিবর্তে আমাকে দুনিয়া পরিমাণ কিছু দেওয়া হলে আমি এতো খুশি হতাম না। ১৭৮

তাহক্বীকু: যঈফ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٨١) عن أنس رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ ليسأل أحدكم ربه حاجته كلها حتى يسأله شسع نعله إذا انقطع زاد في رواية عن ثابت البناني مرسلا حتى يسأله الملح وحتى يسأله شسعه إذا انقطع رواه الترمذي

الترمذي : كتاب الدعوات باب ليسأل الحاجة مهما صغرت

(৪৮১) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই যেন নিজের আবশ্যকীয় বিষয় ভিক্ষা করে, এমনকি যখন তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে যাবে চায়। ছাবেত বুনানীর মুরসাল বর্ণনায় অধিক রয়েছে, এমনকি তাঁর নিকট লবণও ভিক্ষা করে, এমনকি জুতার ফিতাও ভিক্ষা করে, যখন তা ছিঁড়ে যায়। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٨٢) عن السائب بن يزيد عن أبيه أن النبي كان إذا دعا فرفع يديه مسح

وجهه بيديه.

পৃষ্ঠা:২১৫

(৪৮২) সায়েব ইবনু ইয়াযীদ আপন পিতা উয়াযীদ হতে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম যখন হাত উঠিয়ে দো’আ করতেন, তখন হাত দ্বারা চেহারা মাসেহ করতেন। ১৮২ তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٨٣) عن ابن عمر أنه يقول إن رفعكم أيديكم بدعة ما زاد رسول الله ﷺ

على هذا يعني إلى الصدر.

(৪৮৩) ইবনু ওমরণ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের এভাবে হাত উঠানো বিদ’আত। রাসূল কখনও সিনা বরাবরের অধিক উঠান নেই। ১৮৪ তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٨٤) عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي ﷺ قال خمس دعوات يستجاب لمن دعوة المظلوم حتى ينتصر ودعوة الحاج حتى يصدر ودعوة المجاهد حتى يقعد ودعوة المريض حتى يبرأ ودعوة الأخ لأخيه بظهر الغيب ثم قال وأسرع هذه الدعوات إجابة دعوة الأخ لأخيه بظهر الغيب

(৪৮৪) ইবনু আব্বাস নবী করীম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, পাঁচ ব্যক্তির দু’আ কবুল হয়, মাযলুমের দু’আ যতক্ষণ সে প্রতিশোধ না নেয়, হজকারীর দু’আ যতক্ষণ সে বাড়ী না ফিরে, জিহাদকারীর দু’আ যতক্ষণ না সে বসে পড়ে, রোগীর দু’আ যতক্ষণ না সে ভাল হয় এবং মুসলিম ভাইয়ের দু’আ সত্বর কবুল হয় ভাইয়ের দু’আ ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে। **

পৃষ্ঠা:২১৬

অনুচ্ছেদ: আল্লাহর স্মরণ করা ও তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٨٥) عن أم حبيبة قالت قال رسول الله ﷺ كل كلام ابن آدم عليه لا له إلا

أمر بمعروف أو نهي عن منكر أو ذكر الله.

(৪৮৫) উম্মে হাবীবা বলেন, রাসূল বলেছেন, আদম সন্তানের প্রত্যেক কথাই তার পক্ষে ক্ষতিকর, কল্যাণকর নয়। সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ হতে নিষেধ অথবা আল্লাহর যিকির ব্যতীত।** তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٨٦) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ لَا تُكْثَرُوا الْكَلَامَ بِغَيْرِ ذِكرِ اللَّهِ فَإِنْ كثرة الكلام بغير ذكر الله قسوة القلب وإن أَبْعَدَ النَّاسِ مِنَ اللَّهِ الْقَلْبُ الْقَاسِي.

الترمذي : كتاب الزهد باب ما جاء في حفظ اللسان

(৪৮৬) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহর যিকির ছাড়া বেশী কথা বল না। কারণ আল্লাহর যিকির ছাড়া বেশী কথা দিল শক্ত হওয়ার কারণ। আর শক্ত দিল ব্যক্তিই হচ্ছে আল্লাহ হতে অনেক দূরে।

তাহক্বীকু: যঈফ।১৯১

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٨٧) عن أبي سعيد أن رسول الله ﷺ مثل أي العباد أفضل وأرفع درجة عند الله يوم القيامة ؟ قال الذاكرون الله كثيرا والذاكرات قبل يا رسول الله ومن الغازي في سبيل الله ؟ قال لو ضرب بسيفه في الكفار والمشركين حتى ينكسر ويختصب دما فإن الذاكر الله أفضل منه درجة.

পৃষ্ঠা:২১৭

(৪৮৭) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, একবার রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট বান্দাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ ও অধিক মর্যাদাবান হবে? তিনি বললেন, আল্লাহর যিকিরকারী পুরুষ ও নারী। আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী অপেক্ষাও কি? তিনি বললেন হ্যাঁ, যদি সে আপন তরবারি দ্বারা কাফের ও মুশরিকদেরকে খতম করে এমনকি তার তরবারি ভেঙ্গে যায়, আর সে নিজে রক্তাক্ত হয়, তা হতেও আল্লাহর যিকিরকারী শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান। তাহক্বীক্ব: যঈফ।১৯০

(٤٨٨) عن مالك قال بلغني أن رسول الله ﷺ كان يقول ذاكر الله في الغافلين كالمقاتل خلف الفارين وذاكر الله في الغافلين كغصن أخضر في شجر يابس وفي رواية مثل الشجرة الخضراء في وسط الشجر وذاكر الله في الغافلين مثل مصباح في بيت مظلم وذاكر الله في الغافلين يريه الله مقعده من الجنة وهو حي وذاكر الله في الغافلين يغفر له بعدد كل فصيح وأعجم والفصيح بنو آدم

والأعجم : البهائم .

(৪৮৮) ইমাম মালেক (রঃ) বলেন, আমার নিকট বিশ্বস্তসূত্রে পৌঁছেছে যে, রাসূল বলতেন, গাফেলদের মধ্যে যিকিরকারী যেমন যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়নকারীদের মধ্যে যুদ্ধকারী। গাফেলদের মধ্যে যিকিরকারী যেমন শুষ্ক গাছের মধ্যে কাঁচা ডাল তেমন। অপর বর্ণনায় আছে, যেমন শুদ্ধ গাছপালার মাঝে। গাফেলদের মধ্যে যিকিরকারী যেমন অন্ধকার ঘরে বাতি। গাফেলদের মধ্যে যিকিরকারীকে জীবদ্দশায়ই তার জান্নাতের স্থান দেখানো হবে এবং গাফেলদের মধ্যে যিকিরকারীর গোনাহ মানুষ ও পশুর সংখ্যা পরিমাণ মাফ করে দেওয়া হবে।

পৃষ্ঠা:২১৮

অনুচ্ছেদ: সুবহা-নাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু আল্লাহু আকবার বলার ছওয়াব দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٨٩) عن الزبير قال قال رسول الله ﷺ ما من صباح يصبح العباد فيه إلا مناد ينادي سبحوا الملك القدوس

(৪৮৯) যুবায়র বলেন, রাসূল বলেছেন, এমন কোন ভোর নেই যাতে আল্লাহর বান্দারা উঠেন, আর একজন ঘোষণাকারী এরূপ ঘোষণা না করেন, পবিত্র বাদশাহর পবিত্রতা বর্ণনা কর। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٩٠) عن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ الحمد رأس الشكر ما

شكر الله عبد لا يحمده.

(৪৯০) আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর বলেন, রাসূল বলেছেন, প্রশংসা করা হল সেরা কৃতজ্ঞতা। যে বান্দা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে তাঁর প্রশাংসা করে না। তাহক্বীকু: যঈফ।

(٤٩١) عن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ أول من يدعى إلى الجنة يوم

القيامة الذين يحمدون الله في السراء والضراء. (৪৯১) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন প্রথমে যাহাদেরকে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে, তারা হবেন ঐ সমস্ত লোক যারা সুখে-দুঃখে সকল সময় আল্লাহর প্রশংসা করে থাকেন। ১০০০

পৃষ্ঠা:২১৯

(٤٩٢) عن أبي سعيد الخدري قال قال رسول الله ﷺ قال موسى عليه السلام يا رب علمني شيئا أذكرك به وأدعوك به فقال يا موسى قل لا إله إلا الله فقال يا رب كل عبادك يقول هذا إنما أيد شيئا تخصني به قال يا موسى لو أن السماوات السبع وعامرهن غيري والأرضين السبع وضعن في كفة ولا إله إلا

الله في كفة المالت بهن لا إله إلا الله.

(৪৯২) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, একদা মূসা বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমন একটি বাক্য বলে দাও যার দ্বারা আমি তোমার যিকর করতে পারি অথবা বলেছেন, তোমার নিকট দু’আ করতে পারি। আল্লাহ বললেন, তুমি বলবে, ‘লা ইলাহা ইল্লাললহ’। তখন মূসা বললেন, পরওয়ারদেগার! তোমার সকল বন্দাই তো এই বলে েথাকে। আমি তো তোমার নিকট একটি বিশেষ বাক্য চাচ্ছি। তখণ আল্লাহ বললেন, মূসা। যদি সপ্ত আকাশ আর আমি ভিন্ন উহার সমস্ত অধিবাসী এবং সপ্ত পৃথিবী এক পাললায় রাখা হয়, আর ‘লা ইলাহা ইল্লালহু’ অপর পাল্লায় রাখা হয়, তবে নিশ্চয়, ‘লা ইলাহ ইল্লাললাহু’-এর পাল্লা ভারী হবে।১০০২

তাহক্বীকু: যঈফ। ১০০০

(٤٩٣) عن سعد بن أبي وقاص أنه دخل مع النبي ﷺ على امرأة وبين يديها نوى أو حصى تسبح به فقال ألا أخبرك ما هو أيسر عليك من هذا أو أفضل سبحان الله عدد ما خلق في السماء وسبحان الله عدد ما خلق في الأرض وسبحان الله عدد ما بين ذلك وسبحان الله عدد ما هو خالق والله أكبر مثل ذلك والحمد لله مثل ذلك ولا إله إلا الله مثل ذلك ولا حول ولا قوة إلا بالله

مثل ذلك.

(৪৯৩) সা’দ ইবনু আবু ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত আছে, তিনি একদা রাসূলের সাথ একটি স্ত্রীলোকের নিকট পৌঁছলেন, তখন স্ত্রীলোকটির সম্মুখে কতক খেজুর বিচি অথবা বলেছেন কংকর ছিল, যার দ্বারা সে তসবীহ

পৃষ্ঠা:২২০

গুণতেছিল। রাসূল বললেন, আমি কি তোমাকে বলব না যা এটা অপেক্ষা তোমার পক্ষে সহজ অথবা বলেছেন উত্তম? তা হচ্ছে এইরূপে বলা, ‘সুবহা- নাল্লাহ’ অর্থাৎ, আল্লাহর পবিত্রতা যে পরিমাণ তিনি আসমানে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, ‘সুবহা-নাল্লাহ’ যে পরিমাণ তিনি যমীনে মখলুক সৃষ্টি করেছেন, ‘সুবহা-নাল্লাহ’ যে পরিমাণ উহাদের মধ্যখানে রয়েছে এবং ‘সুবহা-নাল্লাহ’ যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন সে পরিমাণ। ‘আল্লাহু আকবার’ উহার অনুরূপ, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ উহার অনুরূপ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু’ উহার অনুরূপ এবং লা হাওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ ও উহার অনুরূপ। ১০০৪

তাহক্বীকু: যঈফ। ১০০৫

(٤٩٤) عَنْ عَمْرو بن شعيب عن أبيه عن حده قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ سبح الله مائة بالغداة ومائة بالعشي كان كَمَنْ حَجَّ مِائَةَ مَرَّةٍ وَمَنْ حَمِدَ اللَّهُ مالة بالغداة ومائة بالعشي كان كمن حمل على مائة فرس فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ قَالَ غزا مائة غزوة وَمَنْ هَللَ الله مائة بالغداة ومائة بالعَشِيِّ كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ مالة

رقبة من ولد إسمعيل ومن كبر الله مائة بالغداة ومائة بِالْعَشِيِّ لَمْ يَأْتِ في ذلك الْيَوْمِ أَحَدٌ بِأَكْثَرَ مِمَّا أَتَى بِهِ إِلَّا مَنْ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ عَلَى مَا قَالَ.

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في فضل التشيح والتكبير والتهليل والتحميد

(৪৯৪) শু’আইব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, যে তাঁর দাদা বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে একশত বার ও বিকালে একশত বার ‘সুবহা-নাল্লাহ’ বলবে, সে তাঁর ন্যায় হবে, যে একশত হজ্জ করেছে। যে ব্যক্তি সকালে একশত বার ও বিকালে একশত বার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলবে, সে তাঁর ন্যায় হবে, যে একশত ঘোড়ায় একশত মুজাহিদ রওয়ানা করে দিয়েছে। যে ব্যক্তি সকালে একশত বার ও বিকালে একশত বার ‘লা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে তাঁর ন্যায় হবে, যে ইসমাঈল বংশীয় একশত দাস মুক্ত করেছে। যে সকালে একশত বার ও বিকালে একশত বার ‘আল্লাহু আকবর’ বলবে, সে দিন তার অপেক্ষা অধিক ছওয়াবের কাজ আর কেউ করতে পারবে না। অবশ্য সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে এরূপ বলেছে, এই অপেক্ষা বেশী বলেছে। ১০০৬

পৃষ্ঠা ২২১ থেকে ২৪০

পৃষ্ঠা:২২১

(٤٩٥) عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرُو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ التَّسْبِيحُ نِصْفُ الْمِيزَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ يَمْلَؤُهُ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ لَيْسَ لَهَا حِجَابٌ دُونَ اللَّهَ حَتَّى تَخْلُصَ إِلَيْهِ رواه الترمذى و قَالَ هَذَا حَدِيثٍ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ.

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في عقد المسيح باليد

(৪৯৫) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, রাসূল বলেছেন, ‘সুবহা-নাল্লাহ’ হল পাল্লার অর্ধেক, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ উহাকে পূর্ণ করে এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু’ এর সম্মুখে কোন পর্দা নেই, যতক্ষণ না তা আল্লাহর নিকটে পৌছে। ১০০৮ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০০৯

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٩٦) عَنْ مَكْحُول عَن أبي هريرة قال قال لي رَسُولُ الله ﷺ أَكْثَر مِنْ قَوْل لا حَوْلَ وَلَا قُوَّة إلا بالله فَإِنَّهَا كَثر من كنوز الْجَنَّةِ قَالَ مَكْحُولٌ فَمَنْ قَالَ لَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بالله ولا منحاً من الله إلا إليه كَشَفَ عَنْهُ سَبْعِينَ بَابًا مِن الضر

أَدْنَاهُنَّ الْفَقْرُ رَوَاهُ الترمذى و قَالَ هَذَا حَدِيث لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ وَمَكْحُولٌ

لم يسمع من أبي هريرة.

الترمذي : كتاب الدعوات بَاب فَضْلِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

(৪৯৬) মাকহুল আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন, রাসূল একবার আমাকে বললেন, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াত ইল্লা বিল্লাহ’ বেশী বেশী বলবে; কেননা, উহা জান্নামের ভান্ডারের বাক্য বিশেষ। মাকহুল বলেন, যে বলবে; ‘লা হাওলাওয়ালা কুওয়াত ইল্লা বিল্লা-হি ওয়ালা মানজাআ মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি’ আল্লাহ

তার সত্তরটি কষ্ট দূর করে দিবেন, যার তুচ্ছটা হল দারিদ্র। ১০১০

পৃষ্ঠা:২২২

(٤٩٧) عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ لا حول ولا قوة إلا بالله دواء

من تسعة وتسعين داء أيسرها الهم.

(৪৯৭) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ হল নিরানব্বইটি রোগের ঔষধ, যাদের সহজটা হল চিন্তা। ১০১০

باب الاستغفار والتوبة

অনুচ্ছেদ: ক্ষমা চাওয়া ও তওবা করা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٤٩٨) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ لَزِمَ الاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمْ فَرَحًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ.

أبو داود : كتاب الصلاة باب في الاستغفار، ابن ماجة : كتاب الأدب باب الاستغفار

(৪৯৮) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সর্বদা ক্ষমা চায় আল্লাহ তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে একটি পথ বের করে দেন এবং প্রত্যেক চিন্তা হতে তাকে মুক্তি দেন। আর তাকে রিযিক দান করেন এমন স্থান থেকে যা সে ভাবেইনি। ১০১৫তাহক্বীকু: যঈফ।১০১৬

(٤٩٩) عن أبي بكر الصديق قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا أَصَرُّ مَنْ اسْتَغْفَرَ وَإِنْ

عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّة

أبو داود : كتاب الصلاة باب في الاستغفار الترمذي: كتاب الدعوات باب في دعاء النبي ..

(৪৯৯) আবুবকর ছিদ্দীকু করেনি যে ক্ষমা চেয়েছে, যদিও বলেন, রাসূল বলেছেন, সে বারবার পাপ ১০১৭ সে দৈনিক সত্তর বার পাপ করে।”

পৃষ্ঠা:২২৩

(٥٠٠) عَنْ أَسْمَاء بنت يزيد قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقْرَأُ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا وَلَا يُبَالِي.

الترمذي : كتاب التفسير القرآن باب ومن سورة الزمر

(৫০০) আসমা বিনতে ইয়াযীদ বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে কুরআনের এই আয়াত পড়তে শুনেছি, যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়োনা। কারণ আল্লাহ সমস্ত পাপ মাফ করেন। (সূরা যুমার ৫৩)। আর তিনি কারও পরওয়া করেন না। ১০১৯ তাহক্বীকু: যঈফ। ১০২০

(٥٠١) عن أبي ذَرِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ صَالَ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُهُ فَسَلُونِي الْهُدَى أَهْدِكُمْ وَكُلُّكُمْ فَقِيرٌ إِلَّا مَنْ أَغْنَيْتُ فَسَلُونِي أرزُقُكُمْ وكلكم مُذنب إِلَّا مَنْ عَافَيْتُ فَمَنْ عَلَمَ مِنْكُمْ أَنِّي ذُو قُدْرَةِ عَلَى الْمَغْفِرَةِ فَاسْتَغْفَرَنِي غَفَرْتُ لَهُ وَلَا أُبَالِي وَلَوْ أَنْ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَحَيَّكُمْ وَمَيْنَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَاتِسَكُمْ اجْتَمَعُوا عَلَى أَتْقَى قَلْبِ عَبْدِ مِنْ عِبَادِي مَا زَادَ ذلك في ملكي جناح بعوضة وَلَوْ أَنْ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَحَيْكُمْ وَمَيْتَكُمْ وَرَطْبَكُمْ ويابسكُمْ اجْتَمَعُوا عَلَى أَشْقَى قلب عبد من عبادي ما نقص ذلك من ملكي حناح بعوضة وَلَوْ أَنْ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَحَيْكُمْ وَمَيْتَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمْ احْتَمَعُوا في صعيد واحد فسأل كُلُّ إِنْسَانَ مِنْكُمْ مَا بَلَغَتْ أُمْنِيَّتُهُ فَأَعْطَيْتُ كُل سائل منكُمْ مَا سَأَلَ ما نقص ذلكَ مِنْ مُلْكِي إِلَّا كَمَا لَوْ أَنْ أَحَدَكُمْ مَرَّ بِالْبَحْرِ فَغَمس فيه إبرة ثُمَّ رفعها إليه ذلكَ بِأَنِّي جَوَادٌ مَاجِدٌ أَفْعَلُ مَا أريد عطائي كلامٌ وَعَذَابِي كَلامٌ إِنَّمَا أَمْرِي لشَيْءٍ إِذَا أَرَدْتُهُ أَنْ أَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ.

كتاب صفة القيامة والرقائق والورع باب ما جاء في صفة أواني الحوض، ابن ماجة : كتاب الزهد باب ذكر القوية

পৃষ্ঠা:২২৪

(৫০১) আবু যর বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আমার বান্দারা। তোমরা সকলেই পথহারা, কিন্তু আমি যাকে পথ দেখিয়েছি। সে ছাড়া। সুতারাং আমার নিকট পথের সন্ধান চাও, আমি তোমাদেরকে পথ দেখাব। তোমাদের প্রত্যেকেই অভাবী, কিন্তু আমি যাকে অভাবমুক্ত করেছি সে ছাড়া। সুতরাং আমার নিকট চাও, আমি তোমাদেরকে রিযিক দিব। তোমাদের প্রত্যেকেই অপরাধী, কিন্তু আমি যাকে নিরাপদে রেখেছি (বা বাঁচিয়েছি) সুতরাং তোমদের মধ্যে যে বিশ্বাস করে যে, আমি ক্ষমা করার ক্ষমতা রাখি, অতঃপর সে আমার নিকট ক্ষমা চায়, আমি তাকে ক্ষমা করি এবং আমি কারও পরওয়া করি না। যদি তোমাদের আওয়াল ও আখের, জীবিত ও মৃত, কাঁচা, শুকনা সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সর্বপেক্ষা পরহেযগার ব্যক্তির অত্মরের ন্যায় এক অন্তর হয়ে যায়- ইহা আমার রাজ্যে একটি মাছির পালক পরিমাণও বাড়াতে পারবে না, আর যদি তোমাদের আওিয়াল ও আখের, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনা সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা হতভাগ্য ব্যক্তির অন্তরের ন্যায় এক অন্তর হয়ে যায়- তাও আমার রাজ্যে এক মাছির পালক পরিমাণও কমাতে পারবে না। যদি তোমাদের আলওয়াল ও আখের জীবিত ওমৃত এবং কাঁচা ও শুকনা সকলেই এক প্রান্তরে একত্র হয় অতঃপর তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তার আকাঙ্খা অনুযায়ী আমার নিকট চায়, আর আমি তোমাদের প্রত্যেক সওয়ালকারীকে দান করি তা আমার রাজ্যে কিছুমাত্র কমাতে পারবেনা। যেমন, যদি তোমাদের কেউ সমুদ্রে পৌঁছে আর তাতে একটি সুই ডুবে যায় অতঃপর তা উঠায়। ইহা এই জন্যই যে, আমি বড় দাতা প্রশস্ত; আমি করি যা ইচ্ছা করি। আমার দান হল আমার কালাম মাত্র, আমার শাস্তি হল আমার হুকুম মাত্র, আর আমার কোন বিষয়ের হুকুম হল যখন আমি ইচ্ছা করি। আমি বলি, ‘হয়ে যাও’ তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়। ১০২১ তাহক্বীকু: যঈফ। ১০২২

(٥٠٢) عن أنس عن النبي ﷺ أَنَّهُ قَالَ فِي هَذِهِ الْآيَةَ هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَة قَالَ قَالَ الله عَزَّ وَجَلَّ أَنَا أَهْل أَن أَتَّقَى فَمَنْ الْقَانِي فَلَمْ يَجْعَلْ مَعِي إِلَهَا فَأَنَا أَهْلَ أَنْ أَغْفَرَ لَهُ.

الترمذي : كتاب التفسير القرآن باب ومن سورة المدثر ابن ماجة : كتاب الزهد باب ما يُرجى من رحمة الله يوم القيامة

পৃষ্ঠা:২২৫

(৫০২) আনাস রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, একদা তিনি এই আয়াত পাঠ করে ‘তিনি (আল্লাহ) হলেন ভয়ের অধিকারী ও ক্ষমার অধিকারী’। বললেন, তোমাদের প্রতিপালক বলেন, আমি লোকের ভয় পাওয়ার অধিকারী: সুতরাং যে আমাকে ভয় করল, আমি তাকে ক্ষমা করারও অধিকারী। ১০২৩ তাহক্বীকু: যঈফ। ১০২৪

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٠٣) عن عبد الله بن عباس قال قال رسول الله ﷺ ما الميت في القبر إلا كالغريق المتغوث ينتظر دعوة تلحقه من أب أو أم أو أخ أو صديق فإذا الحقته كان أحب إليه من الدنيا وما فيها وإن الله تعالى ليدخل على أهل القبور من دعاء أهل الأرض أمثال الجبال وإن هدية الأحياء إلى الأموات الاستغفار لهم. (৫০৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, নিশ্চয় মৃত ব্যক্তি হল সাহায্য প্রার্থী পানিতে পড়া ব্যক্তির ন্যায়, সে তার বাপ, মা, ভাই- বন্ধুর দু’আ পৌঁছার অপেক্ষায় থাকে। যখন তার নিকট উহা পৌঁছে, তখন উহা তার নিকট সমগ্র দুনিয়া ও উহার সামগ্রী অপেক্ষাও প্রিয়তর হয় এবং আল্লাহ তা’আলা কবরবাসীদেরকে যমীনবাসীদের দু’আর কারণে পর্বত-সমতুল্য রহমত পৌঁছান, আর জীবিতদের পক্ষ হতে মুর্দাদের জন্য হাদিয়া হল তাদের জন্য ক্ষমা চাওয়া। ১০২৫ তাহক্বীক্ব: হাদীছটি মুনকার। ১০২৮

(٥٠٤) عن عائشة أن النبي ﷺ كَانَ يَقُولُ اللهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا

اسْتَبْشَرُوا وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا.

این ماجه : كتاب الأدب باب الاستغفار

(৫০৪) আয়েশা বলেন, রাসূল বলতেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর, যারা ভাল কাজ করে খুশী হয় এবং মন্দ কাজ করে ক্ষমা চায়। ১০২৭

১০২৮

পৃষ্ঠা:২২৬

(٥٠٥) عن علي قال قال رسول الله ﷺ إن الله يحب العبد المؤمن المفتن التواب

(৫০৫) আলী বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ ভালবাসেন সেই মুমিনকে যে পাপ করে তওবা করে। ১০২

তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল। ১০০০(٥٠٦) عن ثوبان قال سمعت رسول الله ﷺ يقول ما أحب أن لي الدنيا بهذه الآية يا عبادي الذين أسرفوا على أنفسهم لا تقنطوا الآية ” فقال حل فمن أشرك ؟ فسكت النبي ﷺ ثم قال ألا ومن أشرك ثلاث مرات(৫০৬) ছাওবান বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, এই আয়াতের পরিবর্তে সমগ্র দুনিয়া লাভ হওয়াকেও আমি ভালবাসি না, “আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না”। এ সময় এক ব্যক্তি বলে উঠিল, যে শিরক করেছে? রাসূল কিছুক্ষন চুপ থাকলেন, অতঃপর তিনবার করে বললেন, যে শিরক করেছে সেও। ১০০১তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০০২

(٥٠٧) عن أبي ذر قال قال رسول الله ﷺ إن الله تعالى ليغفر لعبده ما لم يقع

الحجاب قالوا يا رسول الله وما الحجاب ؟ قال أن تموت النفس وهي مشركة. (৫০৭) আবু যর বলেন, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাকে মাফ করে দেন, যাবৎ পর্দা না পড়ে। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)। পর্দা কী? তিনি বললেন, কোন ব্যক্তির মুশরিক অবস্থায় মরা। ১০০০

পৃষ্ঠা:২২৭

অনুচ্ছেদ: আল্লাহর দয়ার অসীমতা

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٠٨) عن عامر الرام فَقَالَ بَيْنا نَحْنُ عِندَهُ يعنى عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ عليه كساء وفي يده شَيْءٍ قَدْ الْتَفَّ عَلَيْهِ فَقَالَ يَا رَسُولُ اللَّهِ فَمَرَرْتُ بِغَيْضَة شعر فسمعت فيها أصوات فراح طائر فَأَخَذْتُهُنَّ فَوَضَعْتُهُنَّ فِي كَسَائِي فَجَاءَتْ أُمُّهُنَّ فَاستدارت على رأسي فكشفت لَهَا عَنْهُنَّ فَوَقَعَتْ عَلَيْهِنَّ مَعَهُنَّ فَلَقَفْتُهُنَّ بكسائي فَهُنَّ أُولَاء مَعي قَالَ ضَعْهُنَّ عَنْكَ فَوَضَعْتُهُنَّ وَأَبَتْ أُمُّهُنَّ إِلَّا لُزُومَهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ الله الأَصْحَابه أَتَعْجِبُونَ الرَّحْم أَمِّ الْأَفْرَاحَ فِرَاحَهَا قَالُوا نعم يَا رَسُولَ الله ﷺ قَالَ فَوَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ اللَّهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ مِنْ أُمِّ الْأَفْرَاحِ بفراحها ارجع بهنَّ حَتَّى تَضعَهُنَّ مِن حيث أخذتْهُنَّ وَأُمُّهُنَّ مَعَهُنَّ فَرَجَعَ بِهِنَّ.

أبو داود : كتاب الجنائز باب الأمراض المكفرة للكوب

(৫০৮) আমের রাম বলেন, একদা আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে পৌঁছল, যার গায়ে একটি চাদর ছিল এবং হাতে চাদর জড়ানো একটি জিনিস। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি বনের ধার দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তাতে পাখী ছানার শব্দ শুনলাম। আমি উহাদের নিয়ে আমার কাপড়ে রাখলাম। এ সময় তাদের মা আসল এবং আমার মাথার উপর ঘুরতে লাগল। আমি তাদের খুলে দিলাম, আর সে তাদের মধ্যে পড়ল। আমি সাথে সাথে তাদের সকলকে আমার চাদরে জড়িয়ে ফেললাম। উহারা এই আমার সাথে। রাসূল বললেন, উহাদের ছেড়ে দাও। আমি ছেড়ে দিলাম; কিন্তু উহাদের মা তাদের ছেড়ে গেল না। তখন রাসূল বললেন, বাচ্চার মায়ের বাচ্চার প্রতি দয়া দেখে তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছ? ঐ সত্তার কসম তাঁর যিনি আমাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন- নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি ছানাদের মায়ের ছানাদের প্রতি দয়া অপেক্ষাও অধিক দয়াবান। উহাদের নিয়ে যাও এবং যেখান হতে নিয়ে এসেছ সেখানে রেখে দাও। সুতরাং সে উহা নিয়ে গেল। ১০০০

পৃষ্ঠা:২২৮

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٠٩) عَن عبد الله بن عُمَرَ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُول الله ﷺ في بعض غزواته قمر بِقَوْمٍ فَقَالَ مَنْ الْقَوْمُ فَقَالُوا نَحْنُ الْمُسْلِمُونَ وَامْرأَة تَحْصب تنورها ومعها ابن لَهَا فَإِذا ارتفع وهج التنور تنحت به فأنت النبي ﷺ فَقَالَتْ أَنتَ رَسُولُ الله قال نعم قالت بأبي أنت وأمى أليس الله بأرحم الرَّاحِمِينَ قَالَ بَلَى قَالَتْ أَوَلَيْسَ الله بأَرْحَم بعباده من الأم بِوَلَدِهَا قَالَ عَلى قَالَتْ فَإِنَّ الْأَمَّ لَا تُلْقِي وَلَدَهَا فِي النَّارِ فأكب رسول الله ﷺ يتكى ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَيْهَا فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يُعَذِّبُ مِنْ عِبَادِ إِلَّا الْمَارِدَ الْمُتَمَرِّدَ الَّذِي يَتَمَرَّدُ عَلَى اللَّهُ وَأَبِي أَنْ يَقُولَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ.

ابن ماجة : كتاب الزهد باب ما يوحى من رحمة الله يوم القيامة

৫০৯) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর বলেন, আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। তিনি একদল লোকের নিকট গেলেন এবং বললেন, এরা কোন্ দলের লোক? তারা বলল, আমরা মুসলিম। তখন একটি স্ত্রীলোক তার প্রডগের নীচে আগুন ধরাচ্ছিল, আর তার সাথে ছিল তার একটি শিশু সন্তান। যখন আগুনের একটি ফুলকি উপরে উঠল অমনি সে তার সন্তনকে দূরে সরাল। অতঃপর সে নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আপনিই কি রাসূল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন সে বলল, আপনার প্রতি আমার মা-বাপ কুরবান হয়ে যাক! বলুন, আল্লাহ কি সর্বাপেক্ষা অধিক দয়ালু নন? রাসূল বললেন, নিশ্চয়ই। সে বলল, তবে কি আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি মায়ের তার সন্তনের অপেক্ষা অধিক দয়ালু নন? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। তখন সে বলল, মা তো কখনও আপন সন্তানকে আগুনে ফেলে না! এটা শুনে রাসূল নীচের দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে তার দিকে চেয়ে বললেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে এমন অবাধ্য সারকাশ ব্যতীত কাহাকেও শাস্তি দেন না-যে আল্লাহর সাথে সারকাশী করে এবং আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই বলতেও অস্বীকার করে। ১০৩৭

তাহক্বীক্ব: হাদীছটি জাল। ১০০৮

باب ما يقول عند الصباح والمساء والمنام

অনুচ্ছেদ: সকাল সন্ধ্যা ও সয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

পৃষ্ঠা:২২৯

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥١٠) عَنْ بَعْضَ بنات النبي ﷺ أن ابنه النبي ﷺ حَدَّثَنَهَا أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ كَانَ يُعَلِّمُهَا فَيَقُولُ قولي حين تصبحين سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ مَا شَاءَ اللهُ كَانَ وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ فَإِنَّهُ مَنْ قَالَهُنَّ حِينَ يُصْبِحُ حُفَظَ حَتَّى يُمْسِي وَمَنْ

قَالَهُنَّ حِينَ يُسسي حفظ حَتَّى يُصبح.

أبو داود : كتاب الأذب بَاب مَا يَقُولُ إِذا أَصبح

(৫১০) নবী করীম (ছাঃ)-এর কোন কন্যা হতে বর্ণিত, রাসূল তাঁকে শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন, তুমি বলবে, যখন ভোরে উঠবে, আল্লাহর পবিত্রতা বণংনা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে; নেই কোন শক্তি নেই কোন ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া, যা আল্লাহ চান তাই হয়। আর যা তিনি চান না, তা হয়না। আমি জানি, আল্লাহ সমস্ত বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। আর আল্লাহ সমস্ত জিনিসকে জ্ঞান দ্বারা ঘিরে রেখেছেন”। যে এই দু’আ বলবে সে সকালে নিরাপদে উঠবে এবং সন্ধ্যা ঐভাবে থাকবে। আর যে সন্ধ্যায় বলবে সে সকাল পর্যন্ত হেফাযতে থাকবে। ১০০৯ তাহক্বীকু: যঈফ। ১০০

(٥١١) عَنْ ابْنِ عَبَّاس عَنْ رَسُول الله ﷺ أَنَّهُ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ فَسُبْحَانَ الله حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظهِرُونَ إلى وكذلك تُخْرَجُونَ أَدْرَكَ مَا فَاتَهُ فِي يَوْمِهِ ذَلِكَ وَمَنْ قَالَهُنَّ

حين يمسي أَدْرَكَ مَا فَاتَهُ فِي لَيْلَتِه. أبو داود : كتاب الأدب بَاب مَا يَقُولُ إِذا أَصبح

(৫১১) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি এই আয়াত পড়বে যখন সকালে উঠবে, “সুতরাং আল্লাহর পবিত্রতা যখন তোমরা সন্ধা্যায় উপনীত হও এবং যখন তোমরা সকালে উঠ: এবং আসমান ও যমীনে প্রশংসা একমাত্র তারই জন্য আর বিকালে এবং যখন তোমরা দুপুরে উপনীত হও-‘এইরূপে তোমরা বের করা হবে’-পর্যন্ত। সে লাভ করবে ঐ দিনে যা তার ফণ্ডত হয়ে গেছে। যে সন্ধ্যায় পড়বে সে তাই লাভ করবে যা তার ঐ ১০৪১ রাতে ফওত হয়ে গেছে।”

পৃষ্ঠা:২৩০

(٥١٢) عَنْ الْحَارِثِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ أَسَرَّ إِلَيْهِ فَقَالَ إِذَا الصرفت من صلاة المغرب فقل اللهم أجرني من النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتَ فَإِنَّكَ إِذَا قلت ذلك ثم من في ليلتك كتب لك جوارٌ مِنْهَا وَإِذَا صَلَّيْتَ الصُّبْحَ فَقُلْ كَذَلِكَ فَإِنَّكَ إِن مِن فِي يَوْمَكَ كُتِبَ لَكَ حِوَارٌ مِنْهَا.

أبو داود : كتاب الأدب بَاب مَا يَقُولُ إذا أصبح

(৫১২) হারেছ ইবনু মুসলিম তামিমী তার পিতা হতে, তিনি রাসূল হতে বর্ণনা করেন, একদা তিনি (রাসূল) তাকে চুপে চুপে বললেন, তখন তুমি মাগরিবের ছালাত হতে অবসর গ্রহণ করবে, কারও সাথে কথা বলবার পূর্বে সাতবার বলবে: ‘আল্লা-হুম্মা আজিরনী মিনান্না-র’। ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম হতে বাঁচাও’ যখন তুমি এটা বলবে অতঃপর ঐ রাতে মারা যাবে তখন তোমার জন্য জাহান্নাম হতে ছাড়পত্র লেখা হবে। অনুরূপ যখন তুমি ফজরের ছালাত পড়বে এবং দিনে মারা যাবে, তোমার জন্য জাহান্নাম হতে

১০৪০ ছাড়পত্র লেখা হবে।’

তাহক্বীকু: যঈফ। ১০৪৪

(٥١٣) عن أنس قال قال رسول الله ﷺ من قال حين يصبح اللهم أصبحنا تشهدك ونشهد حملة عرشك وملائكتك وجميع خلقك أنك أنت الله لا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك وأن محمدا عبدك ورسولك إلا غفر الله له ما أصابه

في يومه ذلك من ذنب.

(৫১৩) আনাস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে সকালে উঠে বলবে, ‘হে আল্লাহ! আমি সকালে সাক্ষী করি আপনাকে এবং আপনার আরশ বহনকারীদেরকে, আপনার অন্য ফেরেশতাদেরকে, আপনার সমস্ত সৃষ্টিকে। আপনিই আল্লাহ, আপনি ব্যতীত কোন ম’বুদ নেই, আপনি এক, আপনার কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ আপনার বান্দা ও রাসূল’, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে মাফ করবেন তার ঐ দিনে যে গোনাহ্ ঘটবে। আর যদি সে বলে উহা সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে, আল্লাহ মাফ করে দিবেন তার ঐ রাতে যে গোনাহ্ সংঘটিত হবে। ১০৪৫

পৃষ্ঠা:২৩১

(٥١٤) عَنْ تَوْبَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا مِنْ عَبْدِ مُسْلِم يَقُولُ إذا أصبح وَإِذَا أَمْسَى ثلاثا رَضِيتُ بالله ربًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا كَانَ

حَقًّا عَلَى اللَّهُ أَنْ يُرْضِيَهُ.

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء فِي الدُّعَاءِ إِذَا أَصْبَحَ وَإِذَا أَسنى

(৫১৪) ছওবান বলেন, রাসূল বলেছেন, যে কোন মুসলিম বান্দা সন্ধ্যায় পৌঁছে এবং সকালে উঠে তিনবার বলবে- ‘রাযীতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলামী দ্বীনাও ওয়া বি মুহাম্মাদিন নাবীয়্যান’, ‘আমি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন ও মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে নবী হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। নিশ্চয় আল্লাহর প্রতি অবধারিত হবে, তিনি কিয়ামতের দিন তাকে খুশী করেন। ১০৪৭ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০৪৮

(٥١٥) عَنْ عَلَى أَنَّ رَسُول الله ﷺ كَانَ يَقُولُ عِندَ مَضْجَعَهُ اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بوجهك الكريم وكلماتك الثامة من شر ما أنتَ أخذ بناصيته اللهمَّ أَنتَ تَكْشِفُ الْمَغْرَمَ وَالْمَأتم اللهم لا يُهْزَمُ حندكَ وَلَا يُخْلَفُ وَعْدُكَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا

الحد منكَ الْحَدُّ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ.

أبو داود : كتاب الأدب باب ما يقال عند النوم

(৫১৫) আলী বলেন, রাসূল ঘুমানোর সময় বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার মহান সত্তার ও পূর্ণ কালামের আশ্রয় চাচ্ছি যা আপনার অধীনে আছে তার মন্দ হতে: আপনি দূরীভূত করুন ঋণের চাপ ও গোনাহের ভার। হে আল্লাহ! আপনার দল পরাভূত হয় না, আপনার অঙ্গিকার কখনও ভঙ্গ হয় না এবং কোন সম্পদশালীর সম্পদ তাকে আপনার হতে রক্ষা করতে পারে না। প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। ১০৪৯ তাহক্বীক্ব: যঈফ।১০০

(٥١٦) عن أبي سعيد رضي اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يَأْوِي إِلَى فراشه أستغفر الله العظيم الذي لا إلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ ثَلَاثَ

পৃষ্ঠা:২৩২

مَرَّاتٍ غَفَرَ اللهُ لَهُ ذُنُوبَهُ وإِن كانت مثل زبد الْبَحْرِ وَإِنْ كَانَتْ عَدَدَ وَرَقِ الشَّجَرِ وَإِنْ كَانَتْ عَدَدَ رَمْلٍ عَالِجٍ وَإِنْ كَانَتْ عَدَدَ أَيَّامِ الدُّنْيَا

الترمذى : كتاب الدعوات باب ما جاء في الدُّعاء إذا أوى إلى فراشه

(৫১৬) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূল বলেছেন, যে বিছানায় আশ্রয় গ্রহণকালে তিনবার বলে, ‘আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কায়ি্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি’ ‘আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি যিনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও চির প্রতিষ্ঠাতা এবং আমি তাঁর নিকট তওবা করি’। তাহলে আল্লাহ তার অপরাধ ক্ষমা করেন যদিও হয় অপরাধ সমুদ্র-ফেনার ন্যায় অথবা বালু স্তূপের ন্যায় অথবা গাছের পাতার সংখ্যা অথবা দুনিয়ার দিন সমূহের সং্যখ্যার ন্যায় অধিক হয়।১০৩১

তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০০২

(٥١٧) عَنْ شَدَّادَ بْنَ أَوْس قَالَ قَالَ رَسُولُ الله مَا مِنْ مُسْلِم يَأْخُذُ مَضْجَعَهُ يقرأ سورة من كتاب الله إلا وكل اللهُ بِهِ مَلَكًا فَلَا يَقْرَبُهُ شَيْءٌ يُؤْذِيهِ حَتَّى يَهْ

متى هب.

الترملي : كتاب الدعوات باب ما جَاءَ فِيمَنْ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ عِنْدَ الْمَنَامِ

(৫১৭) শাদ্দাদ ইবনু আওস বলেন, রাসূল বলেছেন, যে কোন মুসলিম কিতাবুল্লাহর কোন একটি সূরা পড়ে শয্যা গ্রহণ করবে, নিশ্চয় আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দিবেন। সুতরাং কোন কষ্টদায়ক জিনিস তার নিকটে আসতে পারবে না, যতক্ষণ না সে জাগরিত হয়, যখন জাগরিত হয়। ১০৫

তাহক্বীকু: যঈফ।১০৫৪

(٥١٨) عَن عبد الله بن عَنَّامٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ اللهم ما أصبح بي من نِعْمَةٍ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشكر فقد أدى شكر يومه ومن قال مثل ذلك حين يُمْسِي فَقَدْ أَدى شكر ليلته.

পৃষ্ঠা:২৩৩

أبو داود : كتاب الْأَدَبِ بَاب مَا يَقُولُ إِذَا أَصْبَحَ

(৫১৮) আব্দুল্লাহ ইবনু গান্নাম বলেন, রাসূল বলেছেন, যে সকালে উঠে বলবে, হে আল্লাহ! আমার প্রতি এবং অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি আপনার যে অনুগ্রহ পৌঁছেছে তা শুধু আপনার পক্ষ থেকেই। এতে কারো কোন শরীক নেই। সুতরাং আপনারই প্রশংসা এবং শোকর। সে তার ঐ দিনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। আর যে সন্ধ্যায় বলল, সে ঐ রাত্রির কৃতজ্ঞতা আদায় করল। ১০৫৫

তাহক্বীকু: যঈফ।১০৬

(٥١٩) عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ شَكا خالد بن الوليد الْمَحْرُومِيُّ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ الله مَا أَنَامُ الليل من الأرق فَقَالَ النَّبِيُّ إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فَرَاشِكَ فَقُلْ اللهم رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْع وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبُّ الْأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَتْ وَرَبَّ الشياطين وما أضلت كُن لي حارًا من شر خلقك كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَى أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَن يُبْغِى عَزَّ حَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ رواه الترمذي وقال هذا حديث ليس إسناده بالقوي والحكم بن ظهير الراوي قد

ترك حديثه بعض أهل الحديث

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في عقد الشبيح باليد

(৫১৯) বুরায়দা হতে বর্ণিত, একদা খালেদ ইবনু ওলীদ রাসূল (ছাঃ)- এর নিকট অভিযোগ করলেন, হে আল্লাহর নবী (ছাঃ)! রাতে আমার ঘুম আসে না। তখন রাসূল বললেন, যখন তুমি বিছানায় আশ্রয় নিবে, বলবে, ‘হে আল্লাহ! তিনি সপ্ত আসমানের ও তারা যাকে ছায়া দিয়েছে তার প্রতিপালক প্রভু এবং যমীনসমূহ ও তারা যাকে ধারণ করেছে তার প্রভু; শয়তান সকল ও তারা যাদের গোমরাহ করেছে তাদের প্রভু তুমি আমাকে নিরাপত্তা দানকর, তোমার সমস্ত সৃষ্টির মন্দ প্রভাব হতে তাদের কেউ যে আমার উপর প্রভাব বিস্তার করবে অথবা আমার প্রতি অবিচার করবে। বিজয়ী সে যাকে তুমি নিরাপত্তা দান করেছো। মহান তোমার প্রশস্ত। আপনি ছাড়া কোন মা’বুদ নেই নেই, আপনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।

পৃষ্ঠা:২৩৪

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٢٠) عن أبي مالك أن رسول الله ﷺ قَالَ إِذا أَصْبَحَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ أَصْبَحْنَا وأَصْبَحَ الْمُلْكُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَا الْيَوْمِ فَتْحَهُ وَنَصْرَهُ وثوره وبركته وَهُدَاهُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ ثُمَّ إِذَا أَمْسَى

فليقل مثل ذلك.

أبو داود : كتاب الأذب بَاب مَا يَقُولُ إِذا أصبح

(৫২০) আবু মালেক আশআরী বলেন, রাসূল বলেছেন, যখনতোমাদের কেউ সকালে উঠে সে যেন বলে, “আমরা সকালে উপনীত হলাম আর ারাজ্যও সকালে উপনীত হল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ। আমি তোমার নিকট চাই এই দিনের মঙ্গল উহার কামিয়াবী ও সাহায্য, উহার জ্যোতি, উহার বরকত ও উহার হেদায়ত এবংতোমার নিকট আশ্রয় মাগি উহাতে যা অমঙ্গল রয়েছে তা হতে এবং এর পরে যে অমঙ্গল রয়েছে তা হতে”। অতঃপর যখন সে সন্ধ্যায় উপনীত হয় তখনও যেন এরূপ বলে। ১০৫৮ তাহক্বীক: যঈফ। ১০০৯

(٥٢١) عن عبد الله بن أبي أوفى قال كان رسول الله ﷺ إذا أصبح قال أصبحنا

وأصبح الملك الله والحمد لله والكبرياء والعظمة الله والخلق والأمر والليل والنهار وما سكن فيهما الله اللهم اجعل أول هذا النهار صلاحا وأوسطه نجاحا وآخره

فلاحا يا أرحم الراحمين . ذكره النووي في كتاب الأذكار برواية ابن السني

(৫২১) আব্দুল্লাহ ইবনু আবু আওফা বলেন, রাসূল যখন সকালে উপনীত হতেন, বলতেন, “আমরা সকালে উপনীত হলাম, আর সকালে উপনীত হল রাজ্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে। আল্লাহর জন্য প্রশংসা। আল্লাহর জন্য বড়াইর অধিকার ও সম্মান। আল্লাহর জন্য সৃষ্টি ও (উহার) পরিচালন, রাত্রি ও দিন এবং উহাতে যা বসতি করে। আল্লাহ! তুমি এইদিনের প্রথমাংশকে কর কল্যাণযুক্ত ও মধ্যমাংশকে কর কামিয়াবীর কারণ এবং শেষাংশকে কর সাফল্যময়। ইয়া আরহামার রাহেমীন। ১০৬০

পৃষ্ঠা:২৩৫

অনুচ্ছেদ: বিভিন্ন সময়ের দু’আ

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٢٢) عَنْ مُعَادُ بن حَبْلٍ قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ ﷺ رَجُلًا يَدْعُو يَقُولُ اللهُمَّ إِنِّي أسْأَلُكَ تَمامَ النَّعْمَةِ فَقَالَ أَيُّ شَيْءٍ تَمَامُ النَّعْمَةِ قَالَ دَعْوَةٌ دَعَوْتُ بِهَا أَرْجُو بِهَا الْخَيْرَ قَالَ فَإِنَّ مِنْ تَمَامِ النِّعْمَةِ دخول الْجَنَّةِ وَالْفَوْزُ مِنْ النَّارِ وَسَمِعَ رَجُلًا وَهُوَ يَقُولُ يَا ذَا الْحَلَالِ والإِكْرَامِ فَقَالَ قَد استجيب لكَ فَسَلٌ وَسَمِعَ النَّبِيُّ ﷺ رَجُلًا وَهُوَ يَقُولُ اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصَّبْرَ فَقَالَ سَأَلْتَ اللَّهُ الْبَلَاءِ فَسَلَّهُ الْعَافِيَةَ.

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في عقد التسبيح باليد

(৫২২) মু’আয ইবনু জাবাল বলেন, নবী করীম এক বক্তিকে দু’আ করতে এবং এই বলতে শুনলেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট চাই পূর্ণ নিয়ামত’। রাসূল বললেন, পূর্ণ নিয়ামত কি? সে বলল হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এই দু’আ দ্বারা আমি মাল লাভ করবার আশা রাখি। রাসূল বললেন, পূর্ণ নিয়ামত তো হল বেহেশতে প্রবেশ ও দোযখ হতে মুক্তি লাভ করা। তিনি অপর এক ব্যক্তিকে বরতে শুনলেন, ‘ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম’ ‘হে মহত্ত্ব ও সম্মানের অধিকারী আল্লাহ”। তিনি বললেন, তোমার প্রার্থনা কবুল করা হবে, তুমি প্রার্থনা কর। নবী করীম আর এক ব্যক্তিকে শুনলেন সে তো আল্লাহর নিকট বিপদ চাইলে। তুমি তাঁর নিকট কুশল কামনা করা। ১০৬২ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০৬০

(٥٢٣) عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا سَافَرَ فَأَقْبَلَ اللَّيْلُ قَالَ يَا أَرْضِ ربي وربك الله أعوذ بالله من شرك وشَرِّ ما فيك وَشَرِّ مَا خُلِقَ فِيكَ وَمِنْ شَرِّ مَا يَدِبُّ عَلَيْكَ وَأعُوذُ بِالله مِنْ أَسَدٍ وَأَسْوَدَ وَمِنَ الْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ وَمِنْ سَاكِنِ

الْبَلَدِ وَمِنْ وَالدَ وَمَا وَلَدَ.

أبو داود : كتاب الجهاد باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا نَزَلَ الْمُنْزِلُ

পৃষ্ঠা:২৩৬

(৫২৩) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল যখন সফর করতেন, আর রাত্রি উপস্থিত হত, তিনি বলতেন, ‘হে ভূমি! আমার প্রতিপালন ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। সুতরাং আমি আল্লাহ্র নিকট তোমার মন্দ হতে, তোমাতে যা আছে উহার মন্দ হতে, তোমাতে যা সৃষ্টি করা হয়েছে ডার মন্দ হতে এবং যা তোমার উপর চলাফেরা করে উহার মন্দ হতে পানাহ্ চাই। আমি আরও আল্লাহর নিকট পানাহ চাই সিংহ, ব্যাঘ্র, কাল সাপ ও সাপ-বিচ্ছু হতে এবং শহরের অধিবাসী ও পিতা পুত্র হতে। ১০০৬৪  তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০০০

(٥٢٤) عن أبي مالك الأشعري قال قال رسول الله ﷺ إذا ولج الرحل بيته فليقل اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج بسم الله ولجنا وعلى الله ربنا

توكلنا ثم ليسلم على أهله.

(৫২৪) আবু মালেক আল-আশ’আরী বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে তখন সে যেন বলে, ‘আল্লাহ আমি তোমার নিকট আগম ও নির্গমনের মঙ্গল চাই। তোমার নামে আমি প্রবেশ করি। আমাদের রব্ব আল্লাহর নামে ভরসা করলাম’। অতঃপর যেন আপন পরিবারের লোকদের প্রতি সালাম দেয়।১০৬৬ তাহক্বীকুঃ হাদীছটি যঈফ। ১০৬৭

(٥٢٥) عن أبي سعيد الخدري قَالَ قَالَ هُمُوم لرمَتْنِي وَدُيُونَ يَا رَسُولَ اللَّهُ قَالَ أَفَلَا أَعْلَمُكَ كَلَامًا إذا أَنتَ قُلْتَهُ أَذْهَبَ الله عَزَّ وَجَلَّ هَمَّكَ وَقَضَى عَنْكَ دَيْنَكَ قَالَ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ الله قَالَ قُلْ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بك من الهم وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بك من الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْحُبْنِ وَالْبَحْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبة الدين وقهر الرِّجَالِ قَالَ فَفَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَذْهَبَ اللَّهُ

عزَّ وَجَلَّ هَمِّي وَقَضَى عَلَى دَيْنِي.

أبو داود : كتاب الصلاة باب في الاستفادة

পৃষ্ঠা:২৩৭

(৫২৫) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূল। আমাকে চিন্তায় ধরেছে এবং ঋণ আমার ঘাড়ে চেপেছে। তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি বাক্য বলে দিব না- যদি তুমি উহা বল, তবে আল্লাহ তোমার চিন্তা দূর এবং ঋণ পরিশোধ করবেন। সে বলে, আমি বললাম, হ্যাঁ, বলুন রাসূল! তখন তিনি বললেন, যখন তুমি সকালে উঠবে এবং যখন তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হবে, বলবে, ‘আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চিন্তা-ভাবনা হতে পানাহ্ চাই। অপারগতা ও অলসতা হতে পানাহ চাই; কৃপণতা ও কাপুরুষতা হতে পানাহ চাই এবং ঋণের চাপ ও মানুষের জবরদস্তি হতে পানাহ চাই”। সে বলে, অতঃপর আমি তা করলাম, আর আল্লাহ আমার চিন্তা দূর এবং আমার ১০৬৮ ঋণ পরিশোধ করলেন।’

তাহক্বীক্ব: যঈফ।১০৯

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٢٦) عَنْ قَتَادَة أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا رَأَى الْهِلَالَ قَالَ هَلَالُ خَيْرٍ ورشد هلال خَيْرٍ وَرُشد هلال خَيْرٍ وَرُشد آمَنْتُ بِالَّذِي خَلْفَكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ

يَقُولُ الْحَمْدُ لله الذي ذهب بشهر كَذَا وَجَاءَ بِشهر كذا. أبو داود : كتاب الأدب باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا رَأَى الْهَلَالَ

(৫২৬) কাতাদা (রহঃ) বলেন, তাঁর নিকট বিশ্বস্ত সূত্রে পৌঁছেছে যে, রাসূল যখন নতুন চাঁদ দেখতেন, বলতেন, কল্যাণ ও হেদায়তের চাঁদ, কল্যাণ ওহেদায়তের চাঁদ, কল্যাণ, ও হেদায়তের চাঁদ। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন আমি তাঁর প্রতি ঔমান আনলা। ইহা তিনবার বলতেন। অতঃপর বলতেন, “আল্লাহর প্রশংসা, যিনি অমুক মাস শেষ করলেন এবং এই মাস আনলেন”।১০৭০ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০৭০

(٥٢٧) عن بريدة قال كان النبي ﷺ إذا دخل السوق قال بسم الله اللهم إني

أسألك خير هذه السوق وخير ما فيها وأعوذ بك من شرها وشر ما فيها اللهم إني أعوذ بك أن أصيب فيها صفقة خاسرة

পৃষ্ঠা:২৩৮

(৫২৭) বুরায়দা বলেন, নবী করীম যখন বাজারে প্রবেশ করতেন, বলতেন, “বিসমিল্লাহ আল্লাহ! তোমার কাছে আমি এই বাজারের মঙ্গল এবং এতে যা রয়েছে তার মঙ্গল চাই এবং আমি পানাহ্ চাই উহার অমঙ্গল হতে এবং উহাতে যা আছেতার অমঙ্গল হতে। আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পানাহ্ চাই উহাতে যেন কোন লোকসানজনক চেচাকেনার ফাঁদে না পড়ি। ১০৭২

তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০৭০

باب الاستعاذة

অনুচ্ছেদ: আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় চাওয়া 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٢٨) عَنْ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَعَوَّذُ مِنْ خَمْسٍ مِنَ الْحُبْنِ وَالْبَحْلِ وَسُوءِ

العُمرِ وَفِتْنَةِ الصَّدْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ.

أبو داود : كتاب الصلاة باب في الاستفادة

(৫২৮) ওমর প বলেন, রাসূল পাঁচটি বিষয় হতে পানাহ চাইতেন- কাপুরুষতা, কৃপণতা, বয়সের মন্দতা, অন্তরের ফিতনা ও কবরের আযাব হতে। ১০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১৭৫

(٥٢٩) عن أبي هُرَيْرَةَ إِنَّ رَسُولُ الله ﷺ كَانَ يَدْعُو يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ

من الشقاق والنفاق وسوء الأخلاق.

أبو داود : كتاب الصلاة باب في الاستعادة النسائ : كتاب الاستعادة باب الاستفادة من الشقاق والنفاق وسوء الأخلاق

(৫২৯) আবু হুরায়রাপ হতে বর্ণিত আছে, রাসূল বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সত্যের বিরুদ্ধাচরণ, কপটতা ও চরিত্রের অসাধুতা হতে পরিত্রাণ চাই’। ১০৭০

পৃষ্ঠা:২৩৯

(٥٣٠) عن معاذ عن النبي ﷺ قال أستعيذ بالله من طمع يهدي إلى طبع.

(৫৩০) মু’আয নবী করীম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, তোমরা আল্লাহর নিকট পানাহ চাও লালসা হতে, যা মানুষকে দোষের দিকে নিয়ে যায়। ১০৯ তাহক্বীকু: যঈফ। ১৭৯

(٥٣١) عَنْ عمران بن حصين قال قال النبي ﷺ تأَبِي يَا حُصَيْنُ كَمْ تَعْبُدُ الْيَوْمَ بْن النَّبِيُّ إِلَها قَالَ أَبِي سَبعة سنة فِي الْأَرْضِ وَوَاحِدًا في السَّمَاءِ قَالَ فَأَيُّهُمْ تَعُدُّ لِرَغْبَتِكَ وَرَهْبَتِكَ قَالَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ قَالَ يَا حُصَيْنُ أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَسْلَمْتَ عَلَّمْتُكَ كلمتين تنفعَاتِكَ قَالَ فَلَمَّا أَسْلَمَ حُصَيْنٌ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَّمْنِي الْكَلِمَتَيْنِ اللَّتَيْنِ وَعَدْتَنِي فَقَالَ قُلْ اللَّهُمَّ الْهِمْنِي رُشدِي وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي.

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في جامع الدعوات عن النبي .

(৫৩১) ইমরান ইবনু হুছাইন বলেন, একদা নবী করীম আমার পিতা হুসাইনকে জিজ্ঞেস করলেন, কতজন মা’বুদকে তুমি এখন পূজা কর? আমার পিতা জবাবে বললেন, সাতজনকে ছয়জন যমীনে একজন আসমানে। তিনি বললেন, আশা ও ভয়ে এদের মধ্যে কাউকে ঠিক রাখ? আমার পিতা বললেন, যিনি আসমানে আছেন তাঁকে। রাসূল বললেন, তবে শুন হুসাইন, যদি তুমি মুসলিম হও, আমি তোমাকে দুইটি বাক্য শিক্ষা দিব যা তোমাকে উপকার দিবে। ইমরান বলেন, যখন আমার পিতা হুসাইন মুসলিম হলেন, বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমাকে সেই দুইটি বাক্য শিক্ষা দিন, যারওয়াদা আপনি আমাকে দিয়েছিলেন। রাসূল বললেন, ‘আল্লাহ! আমার অন্তরে সৎপথের সন্ধান দাও এবং আমাকে আমার মনের অপকারিতা হতে পানাহ্ দাও।১০৮০

পৃষ্ঠা:২৪০

(٥٣٢) كان عبد الله بن عمرو يعلمها من بلغ من ولده ومن لم يبلغ منهم

كتبها في صك ثم علقها في عنقه.

(৫৩২) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর তার সন্তানদের মধ্যে যারা বালেগ তাদেরকে ইহা শিখিয়ে দিতেন, আর যারা বালেগ নয় কাগজে লিখিয়া তাদের গালায় ঝুলিয়ে দিতেন। ১০৮২তাহক্বীকু: যঈফ।১০৮০

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٣٣) عن أبي سعيد قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ الْكُفْرِ وَالدِّينِ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَعْدِلُ الدِّينَ بِالْكُفْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ نَعَمْ.

النسائ : كتاب الاستفادة باب الاستفادة من الدين

(৫৩৩) আবু সাঈদ খুদরী বলেন, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ! আমি তোমার শরণ করছি কুফরী ও করয হতে”। এক ব্যক্তি বলে উঠল, রাসূল (ছাঃ)! করযকে আপনি কুফরীর সমান মনে করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অপর বর্ণনায় আছে, “আল্লাহ! আমি তোমার শরণ নিচ্ছি কুফরী ও পরমুখাপেখ্যিতা হতে”। তখন এক ব্যক্তি বলল, হুযুর। এই দুইটা কি সমান ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ১০৬৪

তাহক্বীকু: যঈফ। ১০৮৫

باب جامع الدعاء

অনুচ্ছেদ: ব্যাপক দু’আ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٣٤) عن أنس بن مالك أَن رَجُلًا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الدُّعَاءِ أَفْضَلُ قَالَ سَلِّ رَبَّكَ الْعَافِيَةَ وَالْمُعَافَاةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ثُمَّ أَتَاهُ فِي الْيَوْمِ الثاني فَقَالَ يَا رَسُولَ الله أَيُّ الدُّعَاءِ أَفْضَلُ فَقَالَ لَهُ مثل ذلك ثُمَّ أَتَاهُ فِي الْيَوْمِ الثالث فَقَالَ لَهُ مثل ذلك قَالَ فَإِذَا أُعطيت العافية في الدُّنْيَا وَأَعطيتها في الآخِرَةِ فَقَدْ أَفْلَحْتَ.

পৃষ্ঠা ২৪১ থেকে ২৫৯

পৃষ্ঠা:২৪১

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في عقد التسبيح باليد

(৫৩৪) আনাস হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ র রাসূল (ছাঃ)! কোন দু’আ শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, তোমার প্রভুর নিকট ইহ-পরকালের শান্তি ও নিরাপত্তা চাও। অতঃপর সে দ্বিতীয় দিন এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)। কোন দু’আ শ্রেষ্ঠ? তিনি তাকে ইহার ন্যায়ই উত্তর দিলেন। অতঃপর সে তৃতীয় দিন এসে জিজ্ঞেস করল, আর তিনি তাকে ঐরূপই উত্তর দিলেন এবং বললেন, ইহ পরকালে যখন শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করলে, তখন নাজাত লাভ করলে। ১০৮৬ তাহক্বীকু: যঈফ।১০৯৭

(٥٣٥) عن عبد الله بن يزيد الْخَطْمِي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي دعائه اللهم ارزقني حبك وحب من ينفعني حبه عندَكَ اللهُم مَا رَزَقْتَنِي مِمَّا أحِبُّ فَاجْعَلْهُ قُوَّة لي فيما تُحِبُّ اللهم وما رويتَ عَلَى مِمَّا أَحِبُّ فَاجْعَلْهُ فَرَاعًا

لي فيما تُحِبُّ.

الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في عقد المسيح باليد

(৫৩৫) আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ খাতমী রাসূল হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আপন দু’আয় বলতেন, হে আল্লাহ! আমাকে তোমার মহব্বত তোমার নিকট আমাকে কাজ দিবে তার মহব্বত দান কর। আল্লাহ! আমি ভালবাসি এমন যা তুমি আমাকে দান করেছ, এতে তুমি আমার পক্ষে অবলম্বন স্বরূপ কর যা তুমি ভালবাস তার জন্য। হে আল্লাহ! আমি যা ভালবাসি তার জন্য সুযোগস্বরূপ কর। ১০৬৮ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১০৮৯

(٥٣٦) عَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أُنزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْي سمع عند وجهه كدوي النحل فأنزِلَ عَلَيْهِ يَوْمًا فَمَكَتَنَا سَاعَةً فَسُرِّي عنْهُ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَقَالَ اللهُمَّ زِدْنَا وَلَا تَنقُصْنَا وَأَكْرِمْنَا وَلَا تَهَنَّا

পৃষ্ঠা:২৪২

وأَعْطِنَا وَلَا تَحْرِمْنَا وَآتَرْنَا وَلَا تُؤثِرُ عَلَيْنَا وَارْضِنَا وَارْضَ عَنَّا ثُمَّ قَالَ أُنْزِلَ على عشر آيات من أَقَامَهُنَّ دَخلَ الْجَنَّةَ ثُمَّ قَرَأَ قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ حَتَّى حَتمَ

عشر آيات.

الترمذي : كتاب تفسير القرآن بَاب وَمِنْ سُورة الْمُؤْمِنُونَ

(৫৩৬) ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব বলেন, যখন নবী করীম (ছাঃ)-এর উপর ওহী নাযিল হত তাঁর মুখগুলের দিক হতে মৌমাছির গুণগুণ শব্দের ন্যায় একরকম শব্দ শুনা যেত। এইরূপে একদিন তাঁর উপর অহী নাযিল করা হয়। আমরা ততক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তিনি প্রকৃতিস্থ হলেন, অতঃপর কেবলার দিকে ফিরলেন এবং হাত উঠিয়ে বললেন, ‘আল্লাহ! আমাদেরকে বৃদ্ধি করে দিন কমিয়ে দিবেন না; আমাদেরকে সম্মানিত করুন, অপমানিত করবেন না: আমাদেরকে দান করুন বঞ্চিত করবেন না; আমাদেরকে গ্রহণ করুন, আমাদের বিপক্ষে কাউকেও গ্রহণ কর না। আমাদেরকে খুশী কর এবং আমাদের প্রতি খুশী থাক”। অতঃপর বললেন, এখন আমার উপর দশটি আয়াত নাযিল হল, যে তা প্রতিষ্ঠা করবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর তিনি (সূরা মুমিনন) পাঠ করতে লাগলেন, ‘মুমিনগণ কৃতকার্য হয়েছে’ যাতে দশটি আয়াত শেষ করলেন। ১০৯০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১০৯১

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٣٧) عن أبي الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ كَانَ مِنْ دُعَاءِ دَاوُدَ يَقُولُ اللهُمَّ إلى أسألك حبَّكَ وَحُبُّ مَنْ يُحِبُّكَ وَالْعَمَلَ الَّذِي يُبَلِّغُنِي حَبَّكَ اللهُمَّ اجْعَلْ حبَّكَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ نَفْسِي وَأَهْلي وَمِنْ الْمَاءِ الْبَارِدِ قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا ذَكَرَ دَاوُدَ يُحَدِّثُ عَنْهُ قَالَ كَانَ أَعْبَدَ الْبَشَرِ. الترمذي : كتاب الدعوات باب ما جاء في عقد التشيح باليد

(৫৩৭) আবু দারদা বলেন, রাসূল বলেছেন, নবী দাউদের দু’আ ছিল এই, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার ভালবাসা চাই, আর যে তোমাকে ভালবাসে তার ভালবাসা এবং ঐ কাজের শক্তি চাই, যা আমাকে তোমার ভালবাসার দিকে নিয়ে যাবে। আল্লাহ তোমার ভালবাসাকে আমার কাছে

পৃষ্ঠা:২৪৩

আমার জান, আমার মাল, আমার পরিজন এবং ঠান্ডা পানি অপেক্ষাও অধিক প্রিয় কর। আবু দারদা বলেন, রাসূল কাহিনী বর্ণনা করতেন বলতেন, সর্বাপেক্ষা অধিক ইবাদত-গোযার। ১০৯২ যখন দাউদের স্মরণ করতেন ও তাঁর দাউদ পাবী ছিলেন (আপন যুগের) তাহক্বীকু: যঈফ। ১০৯০

(٥٣٨) عن أبي هريرة قال دعاء حفظته من رسول الله ﷺ لا أدعه اللهم

اجعلني أعظم شكرك وأكثر ذكرك وأتبع نصحك وأحفظ وصيتك.

(৫৩৮) আবু হুরায়রা বলেন, একটি দু’আ আমি রাসূল হতে ইয়াদ করেছি, যা আমি কখনও ছাড়ি না। হে আল্লাহ! আমাকে এরূপ করুন যাতে আমি সম্মানের সাথে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, বেশী করে আপনাকে স্মরণ করতে পারি, আপনার উপদেশ পালন করতে পারি এবং আপনার হুকুম রক্ষা করতে পারি। ১০৯৪ তাহক্বীকু: ১০৯৫

(٥٣٩) عن عبد الله بن عمرو قال كان رسول الله ﷺ يقول اللهم إني أسألك

الصحة والعفة والأمانة وحسن الخلق والرضى بالقدر.

(৫৩৯) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলতেন, হে আমি আপনার নিকটে স্বাস্থ্য, পবিত্রতা, আমানতদারী, উত্তম চরিত্র ও আপনার নির্দেশের উপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীকু কামনা করছি। ১০৬৬

তাহক্বীক্ব: যঈফ।১০

(٥٤٠) عن أم معبد قالت سمعت رسول الله ﷺ يقول اللهم طهر قلبي من النفاق وعملي من الرياء ولساني من الكذب وعيني من الخيانة فإنك تعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور.

পৃষ্ঠা:২৪৪

(৫৪০) উম্মে মা’বাদ বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরকে কপটতা হতে, আমার কাজকে লোক দেখানো হতে, আমার যবানকে মিথ্যা হতে এবং আমার চক্ষুকে খেয়ানত করা হতে পবিত্র করুন। আপনি অবগত আছেন চক্ষুর লুকোচুরি ও অন্তরের কারসাজির ব্যাপারে। ১০৮

তাহক্বীকু: যঈফ।১৯৯

(٥٤١) عَنْ عُمَرَ قَالَ عَلَّمَنِي رَسُولُ الله ﷺ قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ اجْعَلْ سَرِيرَتي خَيْرًا من علانيتِي وَاجْعَلْ عَلانيتي صالحة اللهمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ صَالِحٍ مَا تُؤْتِي النَّاسَ مِنَ الْمَالَ وَالْأَهْلِ وَالْوَلَدِ غَيْرِ الضَّالِّ وَلَا الْمُضِلَّ.

الترمذي : كتاب الدعوات باب في دعاء يوم عرفة

(৫৪১) ওমর বলেন, আমাকে রাসূল এই দু’আ শিক্ষা দিয়েছেন, তুমি বল, হে আল্লাহ! আপনি আমার ভিতরকে বাহির হতে উত্তম করুন এবং বাহিরকে পুন্যময় করুন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট চাই তুমি যা মানুষকে ভাল দান করেছেন তা পরিবার, মাল ও সন্তান, যারা পথভ্রষ্ট বা পথভ্রষ্টকারী নয়।১১০০

كتاب المناسك

অধ্যায়: হজ্জ

অনুচ্ছেদ: হজ্জের ফরযিয়ত, ফযীলত ও মীকাত ইত্যাদি

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٤٢) عَنْ عَلَى قَالَ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ مَنْ مَلَكَ زَادًا وَرَاحِلَةٌ تُبَلِّغُهُ إِلَى بَيْتِ الله وَلَمْ يَحُجَّ فَلَا عَلَيْهِ أَنْ يَمُوْتَ يَهُودِيًا أَوْ نَصْرَانِيًّا وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ فِي كتابه ولله عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنْ اسْتَطَاعَ إِلَيْه سبيلا. رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب وفي إسناده مقال وهلال بن عبد الله مجهول والحارث

يضعف في الحديث.

পৃষ্ঠা:২৪৫

الترمذي : كتاب الحج باب ما جاء في التغليظ في ترك الحج

(৫৪২) আলী বলেন, রাসূল বলেছে, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ পৌঁছার পথ খরচের মালিক হেেয়ছে, অথচ হজ্জ করেনি, সে ইহুদী খ্রীস্টান হয়ে মারা যাক; এতে কিছু আসে যায় না। এজন্য যে, আল্লাহ বলেন, মানুষের প্রতি বায়তুল্লাহর হজ্জ ফরয, যখন সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য লাভ করেছে’।১১০২ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১০০

(٥٤٣) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا صُرُورَةً فِي الْإِسْلَامِ.

أبو داود : كتاب المناسك باب لا ضرورة فِي الْإِسْلام

(৫৪৩) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল বলেছেন, হজ্জ না করে থাকা ইসলামে নেই। ১১০৪ তাহক্বীকু: যঈফ।

(٥٤٤) عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يُوجِبُ

الْحَجَّ قَالَ الزَّادُ وَالرَّاحِلَة.

الترمذى اكتاب الحج باب ما جاء في إنجاب الحج بالزاد والراحلة

(৫৪৪) ইবনু ওমর বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! কিসে হজ্জ ফরয হয়? তিনি বললেন, পথের পাথেয় ও বাহনে। ১১০৬ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১১০

(٥٤٥) عَنْ ابْنِ عُمر قال سأل رجل رسول الله ﷺ فقال ما الحاج ؟ فقال الشعث النفل فقام آخر فقال يا رسول الله أي الحج أفضل ؟ قال العج والتج

পৃষ্ঠা:২৪৬

فقام آخر فقال يا رسول الله ما السبيل ؟ قال زاد وراحلة رواه في شرح السنة

لم يذكر الفصل الأخير. و روی این ماجه في سنته إلا أنه

(৫৪৫) ইবনু ওমর বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! হাজী কে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তির এলোমেলো কেশ এবং দুর্গন্ধ শরীর। অতঃপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে রাসূল (ছাঃ)! কোন হজ্জ উত্তম? তিনি বললেন, তালবিয়ার সাথে আওয়ায উচ্চ করা এবং হাদঈর রক্ত প্রবাহিত করা। অতঃপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! কুরআনে যে বলা হয়েছে ‘যে সাবীলের সামর্থ্য রাখে’। সাবীল অর্থ কী? তিনি বললেন, পাথেয় ও বাহন। ১১০৮ তাহক্বীকু: যঈফ। ১৯০৬

(٥٤٦) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَقتَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِأَهْلِ الْمَشْرِقِ الْعَقِيق.

أبو داود : كتاب المناسك باب في المواقيت الترمذي : كتاب الحج باب ما جاء في مواقيت الإحرام لأقل الافاق

(৫৪৬) ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল পূর্ব দেশবাসীদের (ইরাকীদের) জন্য আকীককে মীকাত নির্ধারণ করেছেন। ১১১০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১১১

(٥٤٧) عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَت سمعتُ رَسُولَ الله ﷺ يَقُولُ مَنْ أَهَلَّ بِحَجَّةِ أَوْ عمرة مِنَ الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى إِلَى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ غَفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ أَوْ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ.

أبو داود : كتاب المناسك باب في المواقيت

(৫৪৭) উম্মে সালামা বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বায়তুল মাকুদাস হতে বায়তুল হারামের দিকে হজ্জ বা উমরার ইহরাম বাঁধবে, তার আগের পরের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে অথবা তিনি বলেছেন, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। ১১১২

পৃষ্ঠা:২৪৭

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٤٨) عن أبي أمامة قال قال رسول الله ﷺ من لم يمنعه من الحج حاجة ظاهرة أو سلطان جائر أو مرض حابس قمات ولم يحج فليمت إن شاء يهوديا وإن شاء

نصرانيا.

(৫৪৮) আবু উমামা বলেন, রাসূল বলেছেন, যাকে শক্ত অভাব অথবা অত্যাচারী শাসক অথবা গুরুতর রোগ বাধা দেয় নেই, অথচ সে হজ্জ না করে মরতে বসেছে, মরুক সে যদি চায় ইহুদী হয়ে আর যদি চায় নাসারা হয়ে। ১১১৪ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১১১৫

(٥٤٩) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النبي ﷺ أَنَّهُ قَالَ الْحُجَّاجُ وَالْعُمَّارُ وَقَدُ اللَّهِ إِنْ دَعَوْهُ

أَجَابَهُمْ وَإِنَّ اسْتَغْفَرُوهُ غَفَرَ لَهُمْ.

ابن ماجة : كتاب المناسك باب فضل دعاء الحاج

(৫৪৯) আবু হুরায়রা নবী করীম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, হজ্জ ও উমরাকারীদের হচ্ছে আল্লাহর দাওয়াতী যাত্রীদল। অতএব তারা যদি তাঁর নিকট দু’আ করেন তিনি তা কবুল করেন এবং যদি তাঁর নিকট ক্ষমা চায় তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন।’ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১১৭

(٥٥٠) عَن ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا لَقِيتَ الْحَاجَ فَسَلَّمْ عَلَيْهِ وَصَافَحْهُ وَمُرْهُ أَنْ يَسْتَغْفِرْ لَكَ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بَيْنَهُ فَإِنَّهُ مَغْفُورٌ لَهُ.

(৫৫০) ইবনু ওমর বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন তুমি কোন হাজীর সাক্ষাৎ পাবে তখন তাকে সালাম করবে, মুছাফাহা করবে প্রবেশের পূর্বে। কারণ হাজী হল গোনাহ্ মাফ করা পবিত্র ব্যক্তি। ১১১৮

পৃষ্ঠা:২৪৮

অনুচ্ছেদ: ইহরাম ও তালবিয়া

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٥١) عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ لَبَدَ رَأْسَهُ بِالْعَلِ.

ابو داود : كتاب المناسك باب التليد (৫৫১) ইবনু ওমর হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম দ্বারা মাথার চুল জড় করেছিলেন। আঠাল জিনিস ১১২০

তাহক্বীকু: যঈফ।১১২১

(٥٥٢) عن عمارة بن خزيمة بن ثابت عن أبيه عن النبي ﷺ أنه كان إذا فرغ من تلبيته سأل الله رضوانه والجنة واستعفاه برحمته من النار ، رواه الشافعي

(৫৫২) উমারা ইবনু খুযায়মা ইবনু ছাবেত তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম যখন তালবিয়া হতে অবসর গ্রহণ করলেন, আল্লাহর নিকট তাঁর সন্তোষ প্রার্থনা করলেন ও জান্নাত চাইলেন। অতঃপর তাঁর নিকট জান্নামের আগুন হতে ক্ষমা চাইলেন তাঁর রহমতের উসীলায়। ১১২২

باب دخول مكة والطواف

অনুচ্ছেদ: মক্কায় প্রবেশ ও তাওয়াফ

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٥٣) عَنْ الْمُهَاجِر المكي قَالَ سُئل جابر بن عَبْدِ اللَّهِ عَنْ الرَّجُلِ يَرَى الْبَيْتَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فَقَالَ وَقَدْ حَجَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَلَمْ يَكُنْ يَفْعَلُهُ. أبو داود : كتاب المناسك باب في رفع اليدين إذا رأى البيت

পৃষ্ঠা:২৪৯

(৫৫৩) মুহাজেরে মাক্কী বলেন, একদা জাবের (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ দেখবে সে দু’আয় হাত উঠাবে কি-না? উত্তরে তিনি বললেন, আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর সাথে হজ্জ করেছি; কিন্তু এইরূপ করিনি। ১১২৪ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১২৫

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٥٤) عن أبي هريرة أن النبي ﷺ قال وكل به سبعون ملكا الركن اليماني فَمَنْ قَالَ اللهُم إلى أسألك العفو والعافية فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حسنة وفي الآخرة حسنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ قَالُوا آمين.

ابن ماجة : كتاب المناسك باب فضل الطواف (৫৫৪) আবু হুরায়রাপ হতে বর্ণিত আছে যে, নবী বলেছেন, রোকনে ইয়ামানীর সাথে সত্তর জন ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছেন। যখন কোন ব্যক্তি বলে, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও কুশল প্রর্থনা করি। হে প্রতিপালক। আমাদেরকে দুনিয়াবী কল্যাণ ও পরকালীন কল্যাণ দান করুন এবং জান্নামের শাস্তি হতে আমাদেরকে রক্ষা কর, তখন তারা আমীন বলেন! আল্লাহ তুমি কবুল কর। ১১২৬ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১২৭

(٥٥٥) عن أبي هريرة أن النبي ﷺ قَالَ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا وَلَا يَتَكَلَّمُ إِلَّا بسُبْحَانَ الله وَالْحَمْدُ لله ولا إله إلا الله والله أكبرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّه محبت عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتِ وَكُتبَتْ لَهُ عَشْرٌ حَسَنَاتٍ وَرُفِعَ لَهُ بِهَا عَشْرَةً دَرَجَاتٍ وَمَنْ طَافَ فَتَكَلَّمَ وَهُوَ فِي تلك الْحَالِ حَاضَ فِي الرَّحْمَةِ برحليه كخالص

الماء برحليه.

ابن ماجة : كتاب المناسك باب فضل الطواف (৫৫৫) আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, নবী করীম বলেছেন, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ সাত বার তওয়াফ করেছে এবং তাতে এছাড়া কোন কথা বলেনি, “সুবহানাল্লা-হি ওয়াল-হামদুলিল্লা-হি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার;

পৃষ্ঠা:২৫০

ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। তার দশটি গোনাহ্ মুছে দেওয়া হবে এবং দশটি নেকী তার লেখা হবে, অধিকন্তু তার দশটি মর্যদা বাড়িয়ে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি তওয়াফের অবস্থায় কথা বলেছে, সে আল্লাহর রহমতে আপন পা দিয়ে ঢেউ দিয়েছে, যেমন কোন ব্যক্তি আপন পা দ্বারা পানিতে ঢেউ দিয়ে থাকে। ১১২৮

باب الوقوف بعرفة

অনুচ্ছেদ: আরফাতে অবস্থান

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٥٦) عن طلحة بن عبيد الله بن كريز أن رسول الله ﷺ قال ما رتي الشيطان يوما هو فيه أصغر ولا أدخر ولا أحقر ولا أغيظ منه في يوم عرفة وما ذاك إلا لما يرى من تنزل الرحمة وتجاوز الله عن الذنوب العظام إلا ما رئي يوم بدر فقيل ما رئي يوم بدر ؟ قال فإنه قد رأى جبريل يزع الملائكة رواه مالك مرسلا وفي شرح السنة بلفظ المصابيح

(৫৫৬) তালহা ইবনু ওবায়দুল্লাহ ইবনু কারীয হতে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন, শয়তানকে কোনদিন এত অধিক অপমানিত, অধিক ধিকৃত, অধিক হীন ও অধিক রাগান্বিত দেখা যায় না আরাফার দিন অপেক্ষা। যেহেতু সে দেখতে থাকে যে, বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত নাযিল হচ্ছে এবং তাদের বড় বড় পাপ মাফ করা হচ্ছে; কিন্তু যা দেখা গিয়েছিল বদরের দিনে: জকৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, বদরের দিন কী দেখা গিয়েছিল? উত্তরে তিনি বললেন, সেদিন সে নিশ্চিতরূপে দেখেছিল যে, জিবরীল করতেছেন।১১০০ ফেরেশাদেরকে সারিবন্দী

পৃষ্ঠা:২৫১

(٥٥٧) عن جابر قال قال رسول الله ﷺ إذا كان يوم عرفة إن الله ينزل إلى السماء الدنيا فيباهي بهم الملائكة فيقول انظروا إلى عبادي أتوني شعثا غيرا ضاحين من كل فج عميق أشهدكم أني قد غفرت لهم فيقول الملائكة يا رب فلان كان يرهق وفلان وفلانة قال يقول الله عز وجل قد غفرت لهم قال رسول الله ﷺ فما من يوم أكثر عتيقا من النار من يوم عرفة رواه في شرح

السنة.

(৫৫৭) জাবের বলেন, রাসূল বলেছেন, যখন আরাফার দিন হয়, তখন আল্লাহ তা’আলা এই নিকটতম আসমানে আসেন এবং হাজীদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট ফখর করেন এবং বলেন যে, দেখ আমার বান্দাদের দিকে, তারা আমার নিকট এসেছে এলোমেলো কেশে ধুলা-বালি গায়ে, ফরিয়াদ করতে করতে বহু দূর-দূরান্তর হতে। আমি তোমাদেরকে সাখ্যী করছি, আমি তাদেরকে মাফ করে দিলাম। তখন ফেরেশতাগণ বলেন, হে পরওয়ারদেগার! অমুককে তো বড় গোনাহগার বলা হয়, আর অমুক পুরুষ ও অমুক স্ত্রীকেও। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি তাদেরও মাফ করে দিলাম। রাসূল বলেন, আমি তাদেরও মাফ করে দিলাম। রাসূল বলেন, এমন কোন দিন নেই যাতে জাহান্নাম হতে অধিক মুক্তি দেওয়া হয়ে থাকে আরাফার দিন অপেক্ষা। ১১০২

তাহক্বীকু: যঈফ। ১১০০

 তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٥٨) عباس بن مرداس السلمي أن أَبَاهُ أَخبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ دَعَا لِأُمَّتِهِعشية عرفة بالمَغْفِرَة فَأُحِيبَ إِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ مَا حَلَا الظَّالِمَ فَإِنِّي أَخَذْ المظلوم مِنْهُ قَالَ أَي رَبِّ إِن شئتَ أَعْطَيْتَ الْمَظْلُومَ مِنَ الْجَنَّةِ وَغَفَرْتَ لِلظَّالِمِ فَلَمْ يُحَبِّ عَشِيَّتَهُ فَلَمَّا أَصْبَحَ بِالْمُزْدَلِفَة أَعَادَ الدُّعَاءِ فَأُحِيبَ إِلَى مَا سَأَلَ قَالَ فضحك رَسُولُ الله ﷺ أَوْ قَالَ تَبَسَّمَ فَقَالَ لَهُ أَبو بَكْرٍ وَعُمَرُ بِأَبِي أَنتَ وَأُمِّي إِنْهذه لسَاعَةٌ مَا كُنتَ تَضْحَكَ فِيهَا فَمَا الَّذِي أَضْحَكَكَ أَضْحَكَ اللَّهُ مِنَّكَ قَالَ

পৃষ্ঠা:২৫২

إِنَّ عَدُوٌّ اللَّهِ إِبْلِيسَ لَمَّا عَلمَ أَنَّ الله عَزَّ وَجَلَّ قَدْ اسْتَجَابَ دُعَائِي وَغَفَرَ لِأُمَّتِي أَحَدُ التَّرَابَ فَجَعَلَ يَحْثُوهُ عَلَى رَأْسِهِ وَيَدْعُو بِالوَيْلِ وَالنُّبُورِ فَأَضْحَكَى مَا رَأَيْتُ مِنْ جَزَعَه.

ابن ماجة : كتاب المناسك باب الدعاء بعرفة

(৫৫৮) আব্বাস ইবনু মিরদাস হতে বর্ণিত, রাসূল আরাফার দিন বিকালে আপন উম্মত (হাজী)-দের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। উত্তর দেওয়া হল, অন্যের প্রতি অত্যাচার ব্যতীত সমস্ত গোনাহ্ আমি ক্ষমা করে দিলাম; কিন্তু আমি অত্যাচারিতের পক্ষে তাকে পাকড়াও করব। রাসূল বললেন, হে আল্লাহ! যদি আপনি চান, অত্যাচারিতকে জান্নাতে দিতে পারেন এবং অত্যাচারীকে ক্ষমা করতে পারেন; কিন্তু সেই দিন বিকালে তার কোন উত্তর দেওয়া হল না। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূল যখন মুযদালিফায় ভোরে উঠলেন পুনরায় সেই দু’আ করলেন, তখন তিনি যা চেয়েছিলেন তা তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। আব্বাস বলেন, তখন রাসূল হেসে উঠলেন, অথবা তিনি বলেছেন, মুচকি হাসলেন। এ সময় আবুবকর ও ওমর বললেন, আমাদের পিতামাতা আপনার প্রতি কুরবান হোক হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এটা তো এমন একটি সময় যাতে আপনি কখনও হাসেন না, আজ কেন হাসলেন? আল্লাহ সর্বদা আপনাকে খুশি রাখুন! তখন রাসূল বললেন, আল্লাহর শত্রু ইবলীস যখন জানতে পারল যে, আল্লাহ আমার দু’আ কবুল করেছেন এবং আমার উম্মতকে ক্ষমা করেছেন, তখন মাটি নিয়ে নিজের মাথায় মারতে লাগল এবং বলতে লাগল, হায় আমার পোড়া কপাল, হায় আমার বদ নছীব! তার এই অস্থিরতাই আমার হাসির কারণ হল। ১১০৪

باب الدفع من عرفة والمزدلفة

অনুচ্ছেদ: আরাফাত ও মুযদালিফা হতে প্রত্যাবর্তন

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٥٩) عن محمد بن قيس بن مخرمة قال خطب رسول الله ﷺ فقال إن أهل الجاهلية كانوا يدفعون من عرفة حين تكون الشمس كأنها عمائم الرجال في وجوههم قبل أن تغرب ومن المزدلفة بعد أن تطلع الشمس حين تكون كأنها

পৃষ্ঠা:২৫৩

عمائم الرجال في وجوههم، وإنا لا تدفع من عرفة حتى تغرب الشمس وتدفع

من المزدلفة قبل أن تطلع الشمس هدينا مخالف لهدي عبدة الأوثان والشرك.

(৫৫৯) মুহাম্মাদ ইবনু কায়েস ইবনে মাখরামা বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাদের ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, জাহেলিয়াতের লোকেরা আরাফাত হতে রওয়ানা হত যখন সূর্যাস্তের পূর্বে মানুষের চেহারাতে মানুষের পাগড়ির ন্যায় দেখাত এবং মুযদালিফা হতে রওয়ানা হত যখন সূর্যোদয়ের পর মানুষের চেহারায় ঐরূপ মানুষের পাগড়ির ন্যায় দেখাত, আর আমরা আরাফাত হতে রওয়ানা হব না, যাবৎ না সূর্য ডুবে যায় এবং মুযদালিফা হতে রওয়ানা হব সূর্য উঠার পর। আমাদের নিয়ম মূর্তিপূজক ও শিরকপন্থীদের নিয়মের বিপরীত। ১১০৬ তাহক্বীক্ব: যঈফ, মুরসাল। ১১০৭

(٥٦٠) عَنْ عَائِشَةَ أَنها قَالَتْ أَرْسَلَ النبي ﷺ بِأُمِّ سَلَمَةَ لَيْلَةَ النَّحْرِ فَرَمَتْ الْحَمْرَةَ قَبْلَ الْفَجْرِ ثُمَّ مَضَتْ فَأَفَاضَتْ وَكَانَ ذَلِكَ الْيَوْمُ الْيَوْمَ الَّذِي يَكُونُ

رَسُولُ اللَّهِ ﷺ تَعْنِي عِنْدَهَا.

أبو داود : كتاب المناسك باب التعجيل من جمع

(৫৬০) আয়েশা বলেন, কুরবানীর পূর্ব রাত্রিতে নবী করীম উম্মে সালামাকে (মিনায়) পাঠিয়ে দিলেন। উম্মে সালামা উষার পূর্বেই কংকর মারলেন, অতঃপর মক্কায় গিয়ে তওয়াফে ইফাযা করে আসলেন। সেই দিন ছিল তার রাসূল নিকট থাকতেন। ১১তাহক্বীকু: যঈফ। ১১০৯

(٥٦١) عن ابن عباس عن النبي ﷺ قَالَ يُلبي الْمُعْتَمِرُ حَتَّى يَسْتَلِمَ الْحَجَرَ. أبو داود : كتاب المناسك باب متى يقطع المعتمر التلبية

(৫৬১) ইবনু আব্বাস বলেন, মক্কাবাসী অথবা বাহিরের আগন্তুক উমরাকারী ‘লাব্বাইকা’ বলতে থাকবে যে পর্যন্ত না ‘হাজারে আসওয়াদ’ স্পর্শ করে। ১১৪০

পৃষ্ঠা:২৫৪

অনুচ্ছেদ: কংকর মারা

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٦٢) عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّمَا جُعِلَ رَبِّيُّ الْحِمَارِ وَالسَّعْيُ بَيْنَ

الصفا والمروة لإقامة ذكر الله.

الترمذي : كتاب الحج باب ما جاء كيف لرمي الجمار

(৫৬২) আয়েশা নবী করীম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, কংকর মারা ও ছাফা মারওয়ার মধ্যে সাঈ করা আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠা করার জন্যই প্রবর্তিত হয়েছে। ১১৪২ ১১৪৩ তাহক্বীক্ব: যঈফ।’

(٥٦٣) عَنْ عَائِشَة قَالَتْ قُلْنَا يَا رَسُولَ الله أَلا نَبْنِي لَكَ بَيْنَا يُظلُّكَ بِمَنِّي قَالَ لَا

منى مُنَاحُ مَنْ سَبَقَ.

الترمذي : كتاب الحج باب ما جاء أن منى متاح من سبق ابن ماجة : كتاب المناسك باب النزول يمنى

(৫৬৩) আয়েশা বলেন, আমরা ছাহাবীগণ আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমরা কি মিনায় আপনার জন্য একটি বাড়ী তৈরি করব না যা আপনাকে সর্বদা ছায়া দিবে? তিনি বললেন, না। মিনায় সেই ডেরা গাঁড়িতে ১১৪৪ পারবে যে প্রথমে আসবে।’

باب الحلق

অনুচ্ছেদ: মস্তক মুণ্ডন

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٦٤) عَنْ عَلى وَ عَائِشَة قَالَا نَهَى رَسُولُ الله ﷺ أَنْ تَخْلَقَ الْمَرْأَةُ رَأْسَهَا. الترمذي : كتاب الحج باب ما جاء في كراهية الخلق للنساء

পৃষ্ঠা:২৫৫

(৫৬৪) আলী ও আয়েশা বলেন, রাসূল (ছাঃ), স্ত্রীলোককে মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন। ১১৪৬ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১১৪৭

باب ما يجتنبه المحرم

অনুচ্ছেদ: মুহরিম যা হতে বেঁচে থাকবে

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٦٥) عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّونَ بنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ محرمات فَإِذَا جَادُوا بِنَا سَلَلَتْ إِحْدَانَا حِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا عَلَى وَجْهِهَا فَإِذَا

حَاوَرُونَا كشفناه.

أبو داود : كتاب المناسك باب في المحرمة تغطي وجهها

(৫৬৫) আয়েশা বলেন, আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম, আর আরোহী দল আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করত। যখন তারা আমাদের বরাবরে আসত, আমাদের প্রত্যেকেই আপন মাথার চাদর চেহারার উপর লটকিয়ে দিত, আর যখন অতিক্রম করত আমরা উহা খুলে দিতাম। ১১৪৮ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১৪৯

(٥٦٦) عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَن النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَدْهِنُ بِالزَّيْتِ وَهُوَ مُحْرِمٌ غَيْرِ الْمُقَدَّتِ.

الترمذي : كتاب الحج باب مَا جَاءَ فِي الحجر الأسود

(৫৬৬) ইবনু ওমর বলেন, নবী করীম তৈল ব্যবহার করতেন। ১১৫০ ইহরাম অবস্থায় অ-খোশবুদার

পৃষ্ঠা:২৫৬

অনুচ্ছেদ: মুহরিম শিকার হতে দূরে থাকবে 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٦٧) عن جابر رضي الله عنه أن رسول الله ﷺ قال لحم الصيد لكم في الإحرام حلال ما لم تصيدوه أو يصاد لكم

(৫৬৭) জাবের হতে বর্ণিত আছে, রাসূল বলেছেন, শিকারের গোশত ইহরামেও তোমাদের জন্য হালাল-যদি না তোমরা নিজেরা উহা শিকার কর অথবা তোমাদের জন্য শিকার করা হয়। ১৫২ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১৫৩

(٥٦٨) عن أبي هريرة عن النبي ﷺ قال الجراد من صيد البحر. (৫৬৮) আবু হুরায়রা সমুদ্রের শিকারের অন্তর্ভুক্ত। ১১৫৪ হতে বর্ণিত, নবী করীম বলেছেন, ফড়িং তাহক্বীকু: যঈফ। ১১০০

(٥٦٩) عن أبي سعيد الخدري عن النبي ﷺ قال يقتل المحرم السبع العادي. (৫৬৯) আবু সাঈদ খুদরী নবী করীম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মুহরিম হিংস্র জন্তু হত্যা করতে পারে। ১১৫৬ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১৫৭

(٥٧٠) عن خزيمة بن جزي قال سألت رسول الله ﷺ عن أكل الضبع . قال أو يأكل الضبع أحد وسألته عن أكل الذئب ، قال أو يأكل الذئب أحد فيه خير رواه الترمذي وقال ليس إسناده بالقوي

পৃষ্ঠা:২৫৭

(৫৭০) খুযাইমা ইবনু জাযী বলেন, আমি একদিন রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, যাবু’উ খাওয়া সম্পর্কে। তিনি বললেন, কেউ কি যাবু’উ খায়? অতঃপর জিজ্ঞেস করলাম, নেকড়ে খাওয়া সম্পর্কে। তিনি বললেন, নেকড়ে কি কেউ খায় যাতে কল্যাণ রয়েছে? ১১৫৮ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১১০৯

باب الإحصار وقوت الحج

অনুচ্ছেদ: বাধা প্রাপ্ত হওয়া ও হজ্জ ফউত হওয়া

(٥٧١) عن ابن عباس أَن رَسُولَ اللهِ ﷺ أَمر أَصْحَابَهُ أَنْ يُبَدِّلُوا الْهَدْيَ الَّذِي تحروا عامَ الْحُدَييَةِ فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ.

أبو داود : كتاب المناسك باب الإحصار

(৫৭১) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ তাঁর সাহাবীগণকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, হুদায়বিয়ার বৎসর তাঁরা যে পশু কুরবানী করেছিলেন (পরবর্তী বৎসরের) কাযা উমরায় তার পরিবর্তে অন্য পশু কুরবানী করতে।১১৬০ তাহক্বীকু: যঈফ। ১১৬১

باب حرم مكة حرسها الله تعالى

অনুচ্ছেদ: মক্কার হেরেমে হারাম হওয়

 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٧٢) عن يعلى بن أمية قال إن رسول الله ﷺ قال احتكار الطعام في الحرم

إلحاد فيه. (৫৭২) ইয়া’লা ইবনু উমাইয়া বলেন, রাসূল বলেছেন, হেরেমে মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাদ্যশষ্য ধরে রাখা হল এলহাদ।’ ১১৬২

পৃষ্ঠা:২৫৮

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٧٣) عَنْ عَيَّاشٍ بن أبي ربيعة الْمَحْرُومِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا تَزَالُ هَذِهِ الأُمَّهُ بِخَيْرٍ مَا عَظْمُوا هَذِهِ الْحُرْمَةَ حَقَّ تَعْظِيمُهَا فَإِذَا ضَيْعُوا ذَلِكَ هَلَكُوا.

ابن ماجة : كتاب المناسك باب فضل مكة

(৫৭৩) আইয়াশ ইবনু আবু রবীয়া মাখযুমী বলেন, রাসূল বলেছেন, এই উম্মত কল্যাণের সাথে থাকবে, যাবৎ তারা মক্কার এই সম্মান পূর্ণভাবে বজায় রাখবে। যখন তারা ইহা বিনষ্ট করবে ধ্বংস হয়ে যাবে।১১৬৪

তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১১৬০

باب حرم المدينة حرسها الله تعالى

অনুচ্ছেদ: মদীনার হেরেমে হারাম হওয়া

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٧٤) عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ آخر قرية من قرى الإسلام

خرابا المدينة.

(৫৭৪) আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল বলেছেন, ইসলামী জনপদ সমূহের মধ্যে মদীনা সবশেষে ধ্বংস হবে। ১১০০ তাহক্বীক্ব: যঈফ। ১১৬৭

(٥٧٥) عن جرير بن عبد الله عن النبي ﷺ قال إن الله أوحى إلي أي هؤلاء الثلاثة نزلت فهي دار هجرتك المدينة أو البحرين أو قنسرين.

(৫৭৫) জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ বাজালী নবী করীম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা আমার প্রতি ওহী করেছিলেন, এই তিনটির মধ্যে যেটিতেই আপনি অবতরণ করবেন সেটিই হবে আপনার হিজরতস্থল- মদীনা, বাহরাইন ও কিন্নাসরীন। ১৯৬৬

পৃষ্ঠা:২৫৯

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(٥٧٦) عن رجل من آل الخطاب عن النبي ﷺ قال من زارني متعمدا كان في حواري يوم القيامة ومن سكن المدينة وصبر على بلائها كنت له شهيدا وشفيعا يوم القيامة ومن مات في أحد الحرمين بعثه الله من الآمنين يوم القيامة.

(৫৭৬) খাত্ত্বাব পরিবারের এক ব্যক্তি নবী করীম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যে কেবল আমার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে এসে আমার যিয়ারত করবে, ক্বিয়ামতের দিন সে আমার পার্শ্বে থাকবে, আর যে মদীনাতে বসবাস এখতিয়ার করবে এবং উহার কষ্টে ধৈর্যধারণ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী হব এবং যে দুই হেরেম শরীফের কোন একটিতে মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে আল্লাহ তা’আলা বিপদমুক্তদের অন্তর্গত করে উঠাবেন। ১১৭০

তাহক্বীকু: যঈফ। ১১৭১

(٥٧٧) عن ابن عمر مرفوعا من حج فرار قبري بعد موني كان كمن زارني في حياتي.

(৫৭৭) ইবনু ওমর রাসূল (ছাঃ)-এর নাম করে বলেন, তিনি বলেছেন, যে হজ্জ করে পরে আমার যিয়ারত করেছে আমার মউতের পরে, সে হবে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আমার জীবনে আমার যিয়ারত করেছে।

হোম
ই-শো
লাইভ টিভি
নামাজ শিক্ষা
গেইমস
চাকুরি