Skip to content

আলী রা: সম্পর্কে ১৫০ টি শিক্ষাণীয় ঘটনা

পৃষ্ঠা ১ থেকে ১০

পৃষ্ঠা-১

১.মা নাম রাখলেন হায়দার জন্মের সময় আলী তাঁর মা, তার নানা এর নাম ছিল আসাদ। আর তাঁর এই নামটি রাখেন আসাদ বিন হাশেমের নামানুসারে। তাইতো খায়বার যুদ্ধের দিন আলী -এর কণ্ঠে ছন্দ রচিত হয়েছিল, “আমি সেই লোক যার নাম রেখেছিল তার মা হায়দার, যেন নিকৃষ্ট এক পরিবেশে বনের রাজা।” আলী -এর জন্মের সময় তাঁর পিতা আবু তালেব উপস্থিত ছিলেন না। যখন তিনি বাসায় ফিরে আসলেন, তখন তিনি নাম রাখেন আলী। (রিয়াযুন নাযরাহ ফী মানাকীবে আশারাহ, পৃঃ ১৬৫)

২.নবী-এর বাড়িতে প্রতিপালিত আবু তালেব-এর পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল অনেক। তাই নবী কারীম তাঁর চাচা আব্বাস-কে বললেন, হে আমার চাচা আব্বাস! নিশ্চয়ই আপনার ভাই আবু তালেবের অনেক সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিবার। আর এখন খুব অভাব-অনটনের সময় চলছে। আসুন আমরা আবু তালেবের বাড়িতে যাই। দেখি, তাঁর পরিবারের বোঝা কিছু হালকা করতে পারি কি না। আর নবী পেশ করলেন যে, আব্বাস চাচা আব্বাস এবং নবী আব্বাস-এর কাছে এজন্য এ প্রস্তাব আর্থিক দিক দিয়ে অনেক স্বচ্ছল ছিলেন। দু’জন পরামর্শ করার পর নবী বললেন, আমি আবু তালেবের একটি সন্তান প্রতিপালন করব। আর আপনি একটি সন্তান প্রতিপালন করবেন। তখন আব্বাস বললেন, ঠিক আছে চল। অবশেষে চাচা-ভাতিজা দু’জনই আবু তালেব এর কাছে এসে পৌঁছলেন এবং বললেন, আমরা দু’জন তোমার দু’টি ছেলের দায়িত্ব নিয়ে তোমার পরিবারের বোঝা একটু হালকা করতে চাচ্ছি, এতে তোমার মতামত কি?

পৃষ্ঠা-২

তখন আবু তালেব বলেন, ঠিক আছে। আকীলকে রেখে বাকি যাদের ইচ্ছা নিয়ে যাও। তখন রাসূল নিলেন আলী-কে এবং আব্বাস নিলেন জাফরকে। এরপর থেকে আলী নবী-এর কাছে বড় হতে থাকেন। আর জাফর চাচা আব্বাস-এর বাড়িতে বড় হতে থাকেন। (আস সীরাতুন নাবুবিয়্যাহ লি ইবনে হিশাম, ১/২৪৬)

৩.আলী-এর ইসলাম গ্রহণ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই আলী ইবনে আবু তালেব খাদিজা -এর ইসলাম গ্রহণের পর নবী এর কাছে আসলেন। তিনি এসে নবী এবং খাদিজা প্লে কে নামাযরত অবস্থায় পেলেন। তখন তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! এটা কি? নবী উত্তর দিলেন, এটা হচ্ছে আল্লাহর এমন দ্বীন যা তিনি তার জন্য নির্বাচন করেছেন এবং যার জন্য তার রাসূলকে প্রেরণ করেছেন। অতএব আমি তোমাকে একমাত্র আল্লাহর দিকে এবং তাঁর ইবাদতের দিকে আহ্বান করছি; সাথে সাথে লাত ও উযযাকেও অস্বীকার করার জন্য আহ্বান করছি। তখন আলী বললেন, এটা তো এমন এক বিষয় যা ইতোপূর্বে কখনো শুনিনি। আমি এ বিষয়ে আমার পিতা আবু তালেবের সাথে আলাপ-আলোচনা না করে কিছু বলতে পারছি না। তার এরূপ কথা শুনে নবী একটু মন খারাপ করলেন এবং বললেন, ঠিক আছে আলী, তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ করতে না চাও তাহলে তোমার কাছে আমার এই ইসলামের দাওয়াতের বিষয়টি গোপন রাখবে। অতঃপর আলী ঐ দিন রাত্রি যাপন করলেন। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আলী-এর অন্তরে ইসলাম গ্রহণের অনুভূতি তৈরি করে দিলেন। তাই পরের দিন সকাল বেলা আলী রাসূল এর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি আমার কাছে কি পেশ করতে চাচ্ছেন? তখন নবী তাকে

পৃষ্ঠা-৩

বললেন, তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই। তুমি লাত ও উযযাকে অস্বীকার করবে এবং অংশীদারদের থেকে মুক্ত থাকবে। আলী তা-ই করলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করে তার পিতা আবু তালেব -এর ভয়ও পাচ্ছিলেন। কারণ তার পিতা তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। তাই আলী তার ইসলামকে গোপন রাখলেন। (আল বেদায়া ওয়ান নেহায়াহ, ৩/৪)

8. গিরিপথের মাঝে নামায কতিপয় জ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, যখন নামাযের সময় হতো তখন নবী মক্কার এক গিরিপথে চলে যেতেন। তখন আলী ইবনে আবু তালেবও গোপনে রাসূল এর সাথে বের হয়ে যেত। তারা সেখানে নামায আদায় করতেন। যখন বিকেল হত তখন ফিরে আসতেন। এভাবে অনেক দিন চলতে থাকে। অতঃপর কোনো একদিন আলী-এর পিতা আবু তালেব জানতে পারল এবং তাদেরকে গিয়ে নামাযরত অবস্থায় পেল। তখন সে রাসূল-কে বললেন, হে আমার ভাইয়ের ছেলে! এটা কোন দ্বীন, যে দিকে তুমি ডাক। তিনি উত্তর দিলেন, হে চাচা! এটা আল্লাহর দ্বীন, তাঁর ফেরেশতাদের দ্বীন, তাঁর রাসূলগণের দ্বীন এবং আমাদের পিতা ইব্রাহীম (আ)-এর দ্বীন। আল্লাহ আমাকে বান্দাদের প্রতি রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। আর যাদেরকে আমি নসীহত করছি এবং যাদেরকে আমি হেদায়াতের দিকে আহ্বান করছি তাদের মধ্যে আপনি হচ্ছেন অধিক হকদার। আর আমার ডাকে সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে এবং আমাকে এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার ক্ষেত্রেও আপনি অধিক হকদার। তখন আবু তালেব বলল, হে আমার ভাতিজা! আমি আমার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করতে পারব না।

পৃষ্ঠা-৪

অতঃপর সে আলী-কে বলল, হে আমার ছেলে! এটা কোন দ্বীন যাতে তুমি প্রতিষ্ঠিত আছ? তখন আলী বললেন, আমি ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা মেনে নিয়েছি। তাই আমি তাঁর সাথে সালাত আদায় করি এবং তাঁর অনুসরণ করি। তিনি আরো বলেন, হে আমার পিতা! আমি তোমাকে কখনো ত্যাগ করব না, তবে হকের কারণে অবশ্যই ত্যাগ করব। (আস সীরাতুন নাবুবিয়্যাহ লি ইবনে হিশাম, ১/২৪৬)

৫. আলী এ পিতার দাফন আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী-এর নিকট এসে বললাম, আবু তালেব মারা গেছেন। তখন নবী তাকে (চাদর দ্বারা) ঢেকে দাও। তখন আলী মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তখন নবী বললেন, যাও! এবং বললেন, তিনি তো • আবার বললেন, যাও! এবং তাকে ঢেকে রাখ। অতঃপর আমি তাকে ঢেকে নবী-এর কাছে ফিরে আসলাম। তখন তিনি বললেন, যাও এবং গোসল করাও। অত:পর কোনো প্রকার কথাবার্তা ব্যতীত আমার কাছে আস। অতঃপর আমি গোসল করালাম। এরপর নবী-এর কাছে আসলাম। অতঃপর তিনি আমার জন্য অনেক দোয়া করলেন, যা আমাকে এমন আনন্দ দিল যা লাল উট বা কালো উট লাভের চেয়েও বেশি আনন্দদায়ক।

পৃষ্ঠা-৫

আবু যার -এর মেহেমানদারীতে আলী সাহাবী আবু যার কর্তৃক রাসূল-কে স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে আলী এ ভূমিকা অতুলনীয়। আবু যার পূর্বে থেকেই জাহেলী যুগের অবস্থা অপছন্দ করতেন, মূর্তি পূজাকে অস্বীকার করতেন এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করত তাকে অপছন্দ করতেন। আর আবু যার টু ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিন বছর যাবত কোনো কিবলা নির্ধারণ করা ছাড়াই আল্লাহর জন্য সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি বলতেন, তিনি একনিষ্ঠ দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত। অতঃপর যখন নবী-এর ব্যাপারে শুনলেন, তখন মক্কায় আগমন করলেন; কিন্তু নবী সম্পর্কে কাউকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করলেন না। এমনকি রাত হয়ে গেল এবং ঘুমিয়ে গেলেন। তখন আলী তাকে দেখলেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে, এই লোক একজন অপরিচিত লোক। আলী তাকে মেহমান বানালেন, কিন্তু তিনিও কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করলেন না। অতঃপর পরের দিন সকালে মসজিদে হারামে অবস্থান করতে লাগলেন। এমনকি বিকাল হয়ে গেল। তখন আলী তাকে আবার দেখতে পেলেন। দ্বিতীয় রাত্রে তিনি আবু যার পুত্র-কে আবার মেহমান বানালেন। তৃতীয় রাত্রেও একই ঘটনা ঘটল। অতঃপর আলী আবু যার-কে তার মক্কায় আগমনের কথা জিজ্ঞাসা করলেন। যখন আবু যার আলী, এর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাসী হলো, তখন আবু যার বললেন, তিনি রাসূল এর সাথে সাক্ষাৎ করতে চান। তখন আলী দুম্ন বললেন, নিশ্চয়ই তিনি সত্য, তিনি আল্লাহর রাসূল। শোন! যখন আমি সকাল করব তখন তুমি আমার অনুসরণ করিও। যদি আমি রাস্তায় কোন কিছুর ভয়ের আশংকা করি তখন আমি পানি পান করার ভয়ে দাঁড়িয়ে যাব। অতঃপর যখন আমি সামনে চলতে থাকব তখন আমার পিছনে পিছনে আসিও। এরপর যখন

পৃষ্ঠা-৬

সকাল হলো তখন আলী দিলেন এবং আবু যার তার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করে তার অনুসরণ করলেন। এক পর্যায়ে রাসূল এর সাক্ষাৎ লাভ করলেন। অত:পর তাঁর (নবী-এর) কথা শুনলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর নবী তাকে বললেন, তুমি তোমার জাতির কাছে ফিরে যাও এবং তাদেরকে আমার বিষয়গুলো জানিয়ে দাও। (সহীহুস সীরাতুন নাবুবিয়্যাহ লি ইব্রাহীম আল আলী, পৃঃ ৭৩)

৭. হিজরতের রাতে হিজরতের রাতে নবী আলী কে বললেন, এই সবুজ রংয়ের চাদরটি গায়ে জড়িয়ে নিয়ে তুমি আমার বিছানায় শুয়ে যাও। আলী তাই করলেন। আর অপরদিকে কুরাইশরা রাত্রী যাপন করছিল বিভিন্ন বাগ-বিতণ্ডার মধ্য দিয়ে। কে বিছানাওয়ালার উপর আক্রমণ চালাবে। পরিশেষে তারা এ বিষয়ে এক সিদ্ধান্তে পৌঁছল। অতঃপর যখন সকাল হলো তখন তারা সেখানে গিয়ে যে লোক থাকার কথা ছিল তাকে পেল না, বরং আলী কে পেল। তখন তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, মুহাম্মদ কোথায়? তখন আলী বললেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তখন কুরাইশরা সহজেই বুঝতে পারল যে, মুহাম্মদ পালিয়ে গেছেন। তখন তারা আলী- এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে অনেক প্রহার করল। অতঃপর তারা তাকে মসজিদে ধরে নিয়ে গেল এবং এক ঘণ্টা আটক করে রাখল। এরপর ছেড়ে দিল। কিন্তু এসব কষ্ট আলী -কে আরো উৎফুল্ল করে দিল এজন্য যে, রাসূল তাদের কাছ থেকে চলে যেতে পেরেছেন। তাদের ষড়যন্ত্রে আলী একটুও দুর্বল হননি এবং শত কষ্ট দেয়ার পরও তিনি রাসূল-এর গন্তব্যস্থলের কথা বলে দেননি।

পৃষ্ঠা-৭

আলী-এর হিজরত যেদিন আলী হিজরত করেন, সেদিন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং রাত্রী গভীর হলে সফর শুরু করেন। অবশেষে মদিনায় পৌঁছলেন। আর দীর্ঘ পথ চলার কারণে তার দুটি পা ফুলে গিয়েছিল। যখন নবী তাকে দেখলেন, তখন তার প্রতি খুবই সদয় ও বিনয়ী হলেন। (আল কামেল, ২/১০৬)

৯. একজন মহিলা এবং সাহল বিন হানিফ এর কাহিনী আলী কুবায় অবস্থানকালে এমন একজন মহিলার সাক্ষাৎ পান যার স্বামী ছিল না। তিনি দেখেন একজন লোক প্রতি রাত্রে সে মহিলার ঘরে এসে দরজায় করাঘাত করে এবং ঘর থেকে বের হয়ে আসে। সে লোক সাথে করে কি যেন নিয়ে আসে এবং তা ঐ মহিলাকে দেয়, আর মহিলা তা গ্রহণ করে। আলী বলেন, আমি গোপনীয়ভাবে এই ঘটনার রহস্য জানতে চাইলাম। তারপর ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর বান্দী! ঐ লোকটি কে যে প্রতি রাত্রে তোমার দরজায় করাঘাত করে। আর তুমি দরজা খুলে দাও। অতঃপর সে তোমাকে কি জানি দেয়, আর তুমি তা গ্রহণ কর। অথচ তুমি একজন মুসলিম মহিলা, তদুপরি তোমার স্বামী নেই। তখন মহিলাটি বলল, এ হচ্ছে সাহল বিন হানিফ বিন ওহাব। সে জানে, আমি এমন একজন মহিলা যার কেউ নেই। তাই যখন সন্ধ্যা হয় তখন সে তার সম্প্রদায়ের মূর্তিগুলোর কাছে যায় এবং সেগুলোকে ভেঙ্গে ফেলে। অতঃপর সেগুলো নিয়ে আমার কাছে আসে আর বলে এগুলো তুমি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার কর। আলী মহিলার এরূপ বর্ণনা শুনে সাহল বিন হানিফের কাহিনীতে খুবই প্রভাবান্বিত হন। এমনকি সাহল বিন হানিফ আলী এর কাছেই ইরাকে মৃত্যুবরণ করেন। (মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ লি মুহাম্মদ সাদেক আরযুন, ২/৪২১)

পৃষ্ঠা-৮

আলী কর্তৃক ফাতেমা-কে বিবাহের প্রস্তাব আলী ইবনে আবু তালেব বলেন, ফাতেমার ব্যাপারে রাসূল-এর কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়। অতঃপর আমার একজন দাসী আমাকে বলল, আপনি কি জানেন ফাতেমা -এর ব্যাপারে রাসূল-এর কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আমি বললাম, না। তখন দাসীটি বলল, অবশ্যই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। দাসীটি আরো বলল, রাসূল-এর কাছে এ বিষয় নিয়ে যেতে কিসে আপনাকে বাধা প্রদান করছে? গেলেই তো আপনার সাথে ফাতেমা -এর বিয়ে দেয়া হবে। আলী বললেন, আমি বললাম, আমার কি আছে যে, আমার সাথে বিয়ে দিবে? তখন দাসীটি বলল, আপনি যেয়েই দেখেন না। অবশ্যই রাসূল আপনার সাথে বিয়ে দিবে। আলী বলেন, এরপর আমি প্রস্তাব নিয়ে রাসূল-এর কাছে গেলাম। কিন্তু যখন তার সামনে বসলাম, তখন লজ্জায় জড়োসড়ো হয়ে গেলাম। আল্লাহর কসম! এমতাবস্থায় আমি আমার কথাটি বলতে পারছিলাম না। তখন রাসূল বললেন, কেন এসেছ? কোনো প্রয়োজন আছে কি? তখন আলী ও চুপ থাকলেন। তখন রাসূল বললেন, তুমি ফাতেমার ব্যাপারে প্রস্তাব নিয়ে এসেছ? তখন আলী বললেন, জি হ্যাঁ। তখন রাসূল বললেন, তোমার কাছে এমন কিছু আছে কি যার দ্বারা তুমি মোহরানা দিবে? আলী স্র বললেন, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! কিছুই নেই। রাসূল বললেন, বদরের যুদ্ধে প্রাপ্ত তোমার সেই বর্মটি কোথায়? আলী বললেন, ঐ সত্ত্বার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই এটা তো একটা সামান্য জিনিস মাত্র, যার মূল্য চারশত দিরহাম মাত্র। আর তা তো আমার কাছেই আছে। তখন রাসূল ঐ বর্মের বিনিময়ে বিক্রিত অর্থের মাধ্যমে আলী ক্রে-এর সাথে ফাতেমা ন্দ্রে-এর বিয়ে পরিয়ে দেন। (দালাইলুন নাবুয়্যাহ লি বাইহাকী, ৩/১৫৯)

পৃষ্ঠা-৯

১১.উসমান-এর হাদীয়া আলী বলেন, আমি আমার বর্মটি নিয়ে বাজারে গেলাম। অতঃপর তা উসমান বিন আফফান ট্রে-এর কাছে চারশত দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিলাম। অতঃপর যখন বর্মটি দিতে গেলাম তখন উসমান বিন আফফান বললেন, হে আবুল হাসান! তুমি কি আমার কাছে তোমার বর্মের দিরহামের চেয়েও উত্তম নও? আলী বললেন, হ্যাঁ। তখন উসমান বললেন, তাহলে এই বর্মটি আমার পক্ষ থেকে তোমাকে হাদিয়া স্বরূপ দিয়ে দিলাম। আলী বলেন, অতঃপর আমি বর্ম এবং দিরহাম উভয়টি গ্রহণ করলাম এবং রাসূল-এর মুখোমুখি হলাম। অতঃপর সেগুলো রাসূল-এর সামনে রাখলাম এবং উসমান-এর সাথে যা ঘটল সব খুলে বললাম। তখন নবী দোয়া করলেন। (আলী ইবনে আবু তালেব লিস সালাবী, পৃ: ৮১) তার জন্য কল্যাণের

১২. ফাতেমা-এর বাসর রাত আসমা বিনতে উমাইশ টুদ্র বলেন, আমি ফাতেমা বিনতে রাসূল-এর বাসর ঘরে ছিলাম। অতঃপর যখন আমরা সকাল করলাম তখন নবী আমার দরজার কাছে এসে বললেন, হে উম্মে আয়মান! আমার ভাইকে ডেকে দাও। উম্মে আয়মান বলল, আপনার মেয়ের সাথে আলীর বিয়ে দিয়েছেন, তারপরও আপনার ভাই? তখন রাসূল বললেন, হ্যাঁ, হে উম্মে আয়মন। উম্মে আয়মান বলেন, অতঃপর আলী আসলে নবী তার গায়ে পানির ছিটা দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। অতঃপর বললেন, ফাতেমাকে আমার কাছে ডেকে আন। উম্মে আয়মন বলেন,

পৃষ্ঠা-১০

ফাতেমা লজ্জায় জড়সড় হয়ে আসলেন। অতঃপর রাসূল তাকে বললেন, থাক! আমি তোমাকে এমন এক লোকের সাথে বিয়ে দিয়েছি আহলে বাইতের মধ্যে যে আমার কাছে সবচাইতে প্রিয়। এরপর নবী পানির ছিটা দেন এবং তার জন্য দোয়া করেন। অতঃপর রাসূল তার গায়েও ফিরে আসেন এবং কালো রংয়ের কিছু একটা দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, কে? তখন সে বলল, আমি। রাসূল বললেন, আসমা নাকি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল আবার বললেন, আসমা বিনতে উমাইশ নাকি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল বললেন, তুমি কি রাসূলের মেয়ের বাসর ঘরে ঢুকছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর রাসূল করলেন। (ফাযায়েলুস সাহাবা, ২/৯৫৫) তার জন্য দোয়া

১৩.বিবাহের ওলীমা বুরায়দা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আলী ফাতেমা-কে বিবাহ করার জন্য রাসূল এর কাছে প্রস্তাব পেশ করলেন, তখন রাসূল বললেন, বিবাহের জন্য তো ওলিমা করতে হবে। তখন আলী পুত্র শত অভাব থাকা সত্ত্বেও একটি করে খেজুর, এক টুকরা রুটি, এক টুকরা পনির আর একটুখানি ঝোলের মাধ্যমে ওলিমার ব্যবস্থা করেন। আর এটাই ছিল সেকালের জন্য বড় ধরনের আয়োজন। উপস্থিত সবাই আহার শেষে প্রাণ ভরে দোয়া করলেন এবং রাসূলও দোয়া করলেন এভাবে যে, হে আল্লাহ! তুমি তাদের দুজনের মধ্যে বরকত দান কর এবং তাদের আগামী প্রজন্ম তথা তাদের সন্তান-সন্ততির উপর বরকত দান কর। (মুজামুল কাবীর লিত তাবরানী, ১১৫৩)

পৃষ্ঠা ১১  থেকে ২০

পৃষ্ঠা-১১

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রিযিক আলী ইবনে আবু তালেব বলেন, আমরা এমন কিছু দিন অতিবাহিত করলাম যে, আমাদের ঘরে কিছুই নেই এবং নবী-এর ঘরেও কিছুই নেই। আমি একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটতেছিলাম। হঠাৎ করে দেখি রাস্তায় একটি দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) পড়ে আছে। আমি চিন্তা করতে লাগলাম যে, এটা নিব নাকি নিব না। অনেক চিন্তা ভাবনা করে দিনারটি নিলাম। অতঃপর দিনারটি নিয়ে আটা বিক্রেতার কাছে এসে আটা ক্রয় করলাম। এরপর ফাতেমা -এর কাছে এসে বললাম, এগুলো ছেকে রুটি তৈরি কর। ফাতেমা এগুলো দিয়ে রুটি তৈরি করল। অতঃপর আমি নবী- এর কাছে আসলাম এবং সব কিছু খুলে বললাম। তখন নবী বললেন, এগুলো খাও। এগুলো হচ্ছে এমন রিযিক যা মহান আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন। (কানযুল উম্মাল, ৭/৩২৮)

১৫. এটা খাদেমের চাইতেও উত্তম একদিন আলী ফাতেমা -কে বললেন, আল্লাহ তায়ালা তোমার পিতাকে অনেক যুদ্ধ বন্দী দান করেছেন। তুমি তোমার পিতার কাছে গিয়ে একজন যুদ্ধ বন্দী চেয়ে নাও, যে আমাদের খেদমত করবে। তখন ফাতেমা বললেন, আল্লাহর কসম! আটা ছাঁনতে ছাঁনতে আমার হাতে ফোঁসকা পড়ে গেছে। তাই অবশ্যই আমরা রাসূল এর কাছে একজন খাদেমের জন্য যাব। যখন তারা দু’জন রাসূল এর কাছে গিয়ে খাদেম চাইল, তখন রাসূল বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে খাদেম দিতে পারব না। আমি যুদ্ধ বন্দীদেরকে বিক্রি করে এর মূল্য দ্বারা আহলে সুফফাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করব। ফলে ফাতেমা এবং আলী দু’জনই ব্যর্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসল।

পৃষ্ঠা-১২

পরবর্তীতে রাসূল ফাতেমা তাঁদের বাসায় গিয়ে দেখলেন যে, আলী এবং উভয়ে এমন একটি কাপড় পড়ে শুয়ে আছেন যা দ্বারা তারা তাদের মাথা ঢাকলে তাদের পা বের হয়ে থাকত এবং পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে থাকত। অতঃপর তারা রাসূল-কে দেখে উঠে আসার জন্য উদ্ধত হলো। কিন্তু রাসূল বললেন, ঠিক আছে, ঠিক আছে, তোমাদের জায়গাতেই থাক। অতঃপর বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন জিনিসের সংবাদ দিব না যা তোমরা আমার কাছে যা চেয়েছ তার চেয়েও উত্তম? তারা বলল, হ্যাঁ-অবশ্যই। তখন রাসূল বললেন, কতগুলো বাক্য উচ্চারণ করলেন, যা জিব্রাঈল (আ) শিখিয়ে দিয়েছেন। আর সেগুলো হলো, প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর দশবার ‘সুবাহানাল্লাহ’ পাঠ করবে এবং দশবার ‘আল হামদুলিল্লাহ’ পাঠ করবে। অতঃপর যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় আসবে তখন তেত্রিশ বার ‘সুবাহানাল্লাহ’ এবং তেত্রিশ বার ‘আল হামদুলিল্লাহ’ এবং চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে। (মুসলিম- ২৭২৭)

১৬. আলী কর্তৃক কবর যিয়ারত একদা আলী পুত্র কবর জিয়ারত করতে গেলেন। সেখানে গিয়ে আফসোস করে বলতে থাকেন, হে কবরবাসীরা! আমাদের দুনিয়ার অবস্থা তো এ রকম যে, বাড়ি-ঘরগুলোতে বাস করা হচ্ছে, সমস্ত ধন-সম্পদগুলো বণ্টন করে দেয়া হয়েছে। মেয়েগুলোকে বিবাহ করা হয়েছে। কিন্তু তোমাদের কাছে কি আছে? এরপর আলী বললেন, ঐ সত্ত্বার কসম! যদি এই কবরবাসীদেরকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হতো, তাহলে অবশ্যই তারা বলত, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে, তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। এরপর আলী কবর যিয়ারতের দোয়া পড়লেন এবং কবরবাসীদের জন্য মাগফিরাত কামনা করলেন। (আল আকদুল ফারীদ, ৩/১২)

পৃষ্ঠা-১৩

১৭. কানাকানি কথা বলার আয়াত ইসলামের প্রথম যুগে মানুষেরা বেশি বেশি কানাকানি কথা বলত। এক পর্যায়ে কানাকানি কথা বলার বিষয়টি এমন অবস্থায় দাঁড়ায় যে, লোকেরা ভালো-মন্দ সব বিষয়েই কানাকানি বা গোপনীয় ভাবে বলার মাত্রাটা বাড়িয়ে দেয়। তখন আল্লাহর পক্ষ হতে কানাকানি কথা বলার বিনিময়ে সদকা পেশ করার হুকুম আসে। পরবর্তীতে লোকদের সদকা পেশ করার অক্ষমতার দরুণ পূর্বের হুকুম বাতিল হয়ে যায়। আলী বলেন, আমিই সেই ব্যক্তি যে, কানাকানি কথা বলার জন্য রাসূলকে একটি দিরহাম দিতে গেলে আল্লাহর পক্ষ থেকে এ সদকা দেয়ার হুকুম বাতিল হয়ে যায়। (সূরা মুজাদালার ১৩ নং আয়াত দ্বারা) (আলী ইবনে আবু তালেব লি মাহমুদ বাদী, পৃঃ ৫০)

১৮. আলী এবং তাকদীরের বিষয়ে প্রশ্নকারী একজন লোক আলী-এর কাছে আসল এবং বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন। আলী উত্তর দিলেন, এটা হচ্ছে এমন অন্ধকার পথ যে পথে চলা যায় না। লোকটি আবার বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে অবগত করুন। আলী বললেন, এটা হচ্ছে এমন গভীর সমুদ্র যার তলদেশে পৌঁছা যায় না। লোকটি আবার বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে জানান। আলী বললেন, এটা এমন বিষয় যা আল্লাহ তোমার থেকে গোপন রেখেছেন; অতএব এ বিষয়ে খুঁজতে যেও না। লোকটি আবার বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে জ্ঞান দিন। আলী বললেন, হে প্রশ্নকারী! আল্লাহ তায়ালা আমাকে সৃষ্টি করেছেন তোমার ইচ্ছায় নাকি আল্লাহর নিজ ইচ্ছায়? লোকটি উত্তর দিল আল্লাহ তার নিজ ইচ্ছায় আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তখন আলী উত্তর দিলেন, তাহলে তোমার তাকদীর তার ইচ্ছায়ই নির্ধারিত হয়েছে এবং তিনিই এ বিষয়ে ভালো জানেন। (আলী ইবনে আবু তালেব লি মাহমুদ বাদী, পৃ: ৭১)

পৃষ্ঠা-১৪

নবী আলী এবং ফাতেমাকে ঘুম থেকে জাগাতেন আলী ইবনে আবু তালেব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল আমাকে এবং ফাতেমা-কে আমাদের বাড়িতে এসে রাত্রি বেলা নামায আদায় করার জন্য উঠাতেন। অতঃপর বাড়ি চলে যেতেন এবং রাতের কিছু অংশ সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আবার এসে আমাদেরকে জাগাতেন -এবং বাড়ি গিয়ে রাতের কিছু অংশ সালাত আদায় করতেন। কিন্তু আমরা উঠতাম না। একদিন নবী এসে বললেন, উঠ। উঠ! সালাত আদায় কর। আর তা ছিল তাহাজ্জুদের সালাত। আলী বলেন, আমি উঠে বসলাম এবং চোখ মলতে শুরু করলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম! আমাদের তাকদীরে যা লিখা হয়েছে তার চেয়ে বেশি তো আমরা নামায আদায় করতে পারব না। কারণ আমাদের নফস আল্লাহর হাতেই। অতএব তিনি আমাদের যখন উঠাবেন তখনই তো আমরা উঠব। আলী বললেন, আমার এসব কথা শুনে রাসূল চলে গেলেন। আর যাওয়ার সময় তিনি তার রানের উপর হাত দ্বারা মারছিলেন এবং বলছিলেন, আমাদের তাকদীরে যা লিখা হয়েছে তার চেয়ে বেশি তো আমরা নামায আদায় করতে পারব না। রাসূল আফসোস করে এসব কথা বলছিলেন। তাই তো মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, মানুষ বেশি বেশি যুক্তি প্রিয়। (সূরা কাহাফ- ৫৪) (আলী ইবনে আবু তালিব লিস সালাবী, পৃঃ ৮৩)

পৃষ্ঠা-১৫

২০. নবী হাসান-এর নাম রাখলেন আলী বলেন, যখন হাসান জন্মগ্রহণ করল, আমি তার নাম রাখলাম হারব। অতঃপর নবী এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার নাতির কি নাম রেখেছ? আলী বললেন, হারব। তখন নবী বললেন, না, বরং তার নাম হাসান। অতঃপর যখন হুসাইন জন্মগ্রহণ করল তখন আমি তার নাম রাখলাম হারব। নবী বললেন, না, বরং তার নাম হুসাইন। অতঃপর যখন তৃতীয় সন্তানটি জন্ম গ্রহণ করল, তখন আমি তার নাম রাখলাম হারব। নবী বললেন, না এর নাম হবে মুহসীন। এরপর নবী বললেন, আমি এদের তিন ভাইয়ের নাম রেখেছি হারুন (আ)-এর ছেলেদের নামের ধারাবাহিকতার সাথে মিল রেখে। কারণ হারুন (আ) এর তিন ছেলের নাম ছিল যথাক্রমে শাবার, শুবাইর, মুশাববির। (আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

২১. হাসান ইবনে আলী-এর দুধমাতা উম্মুল ফজল নামক এক মহিলা যার আসল নাম ছিল লুবাবা বিনতে হারেছ আল-হেলালিয়্যাহ, যিনি আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবের স্ত্রী ছিলেন। একদিন তিনি রাসূল-এর দরবারে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আপনার পরিবারের একটি সদস্য আমার কোলে লালিত-পালিত হচ্ছে। তখন নবী বলেন, ফাতেমা একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছে। আল্লাহ চাহে তো তুমি তার দায়িত্ব পাবে। মহিলাটি বলেন, এরপর আমি একদিন হাসান কে কোলে নিয়ে নবী এর দরবারে আসি। তখন হাসান স্রে ছোট ছেলে, তাই নবী-এর কাপড়ের উপর

পৃষ্ঠা-১৬

আলী সম্পর্কে পেশাব করে দেয়। অতঃপর আমি তা নিজের হাত দিয়ে মুছে দেই। তখন নবী বলেন, রাখ! রাখ! আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। তখন মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার লুঙ্গিটা খুলে ধুয়ে ফেলুন। তখন নবী বললেন, না। ছোট ছেলে তো এটা ধৌত করার দরকার নেই বরং পানির ছিটা দিলেই চলবে। অতঃপর বলেন, বাচ্চা যদি ছোট হয় এবং ছেলে সন্তান হয়, তাহলে সেখানে পানির ছিটা দিলেই চলবে। আর বাচ্চা যদি ছোট হয় এবং মেয়ে সন্তান হয়, তাহলে যে কাপড়ে পেশাব করবে তা ধৌত করতে হবে। (মুস্তাদরাকে হাকেম)

২২. আবু বকর হাসান -এর সাথে কৌতুক উকবা বিন হারেছ বলেন, নবী এর মৃত্যুর কয়েক দিন পর আমি আবু বকর-এর সাথে আসরের নামাযের পরে বের হয়েছিলাম। আর আমাদের সাথেই ছিল আলী। অতঃপর আবু বকর হাসান এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আর তখন হাসান ও অন্যান্য ছেলেদের সাথে খেলছিলেন। তখন আবু বকর তাকে কোলে তুলে নিলেন এবং তার হাঁটুর উপর বসালেন এবং বলতে লাগলেন ও আমার বাবারে, দেখতে তো তুমি নবী শুনে আলী -এর মতো হয়েছ, আলী -এর মত হও নি। এ কথা হাসছিলেন। (তাবাকাতু লি ইবনে সাদ)

পৃষ্ঠা-১৭

২৩. হাসান এবং হুসাইন জান্নাতে যুবকদের সর্দার সাহাবী হুজায়ফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মুহাম্মদের সাথে কখন থেকে তোমার যোগাযোগ গড়ে উঠেছে? আমি বললাম, উমুক দিন হতে। এ কথা শুনে আমার মা আমাকে অনেক গালি দিল। তখন আমি বললাম, এবার আমাকে ছাড়। আমি এখন নবী এর কাছে যাব এবং তাঁর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করব। এরপর ততক্ষণ পর্যন্ত আমি নবী এর কাছ থেকে আসব না যতক্ষণ না তিনি আমার এবং তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করেন। সাহাবী বললেন, অতঃপর আমি নবী-এর কাছে আসলাম এবং মাগরিবের নামায আদায় করলাম। অতঃপর নবী এশার সালাতও আদায় করলেন। এরপর চলে গেলেন। কিন্তু আমি তার পিছনে পিছনে গেলাম এবং দেখলাম, একজন লোক এসে নবী-এর কানে কানে কি যেন বলে আবার চলে গেল। এরই মাঝে নবী আমার আওয়াজ শুনতে পান। এরপর বলেন, কে? আমি বললাম, আমি হুজায়ফা। নবী বললেন, কি খবর? কেন এসেছ?   তখন বাড়িতে আমার মায়ের সাথে যা ঘটেছিল তা খুলে বললাম। সবকিছু শুনে নবী (সা:) বললেন, আল্লাহ তোমাকে এবং তোমার মাকে ক্ষমা করুন। এরপর নবী বললেন, একটু আগে আমার কাছে একজন লোক এসেছিল তুমি কি তাকে দেখনি? হুজায়ফা বললেন, হ্যাঁ- দেখেছি। নবী বললেন, ইনি হচ্ছেন এমন একজন ফেরেশতা যিনি আজকে এই রাত্রের পূর্বে আর কোনো দিন পৃথিবীতে নেমে আসেননি। তিনি এসে তার রবের কাছে অনুমতি চেয়েছিল আমাকে সালাম দেয়ার ব্যাপারে এবং আমাকে এই সুসংবাদ দিল যে, নিশ্চয়ই হাসান এবং হুসাইন প্লে জান্নাতে যুবকদের সর্দার হবেন এবং ফাতেমা মহিলাদের সর্দারণী হবেন। (আহমদ)

পৃষ্ঠা-১৮

২৪. পোশাকের কাহিনী শাহর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল-এর স্ত্রী উম্মে সালমা (রা:) থেকে শুনেছি, যখন উম্মে সালমা হুসাইন বিন আলী -এর কারবালা প্রান্তরে মৃত্যু সংবাদ শুনলেন তখন তিনি ইরাকবাসীদের প্রতি লানত করলেন এবং বললেন, ইরাকবাসীরা হুসাইনকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুক। তারা তাকে লাঞ্ছিত করেছে, আল্লাহ তাদের অভিশাপ বর্ষণ করুন। এরপর উম্মে সালমা ও বলেন, নিশ্চয়ই একদা খুব সকাল সকাল ফাতিমানবী-এর কাছে আসেন। তখন নবী (সা) জিজ্ঞাসা করেন, হে ফাতেমা! আমার চাচাতো ভাই কোথায়? ফাতেমা বললেন, তিনি বাড়িতে আছেন। তখন নবী বললেন, যাও! বাড়িতে গিয়ে তোমার স্বামী আলী এবং তোমার দুই ছেলে হাসান ও হুসাইন ডেকে নিয় আস। তখন ফাতেমা হাতে ধরে নিয়ে আসলেন। তখন রাসূল -কে বাড়িতে গিয়ে তার দুই ছেলেকে দুই হাসান এবং হুসাইন-কে নিজের কোলে বসালেন এবং ডান পাশে আলী ও বাম পাশে ফাতিমা -কে বসতে বললেন। উম্মে সালমা বলেন, এরপর রাসূল খায়বার যুদ্ধের একটি পোষাক আনালেন যা তাদের শয়নকক্ষে বিছানো হতো। এরপর রাসূল নিজেকে, আলীকে, ফাতিমাকে, হাসানকে এবং হুসাইনকে ঐ কাপড়টি দ্বারা জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহ! এরা আহলে বাইত। আপনি এদের থেকে অপবিত্রতা দূরভীত করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন। উম্মে সালমা বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল আমি কি আপনার আহল নই। নবী বললেন, হ্যাঁ-অবশ্যই। অতঃপর বললেন, আস, এই কাপড়ের ভিতরে আস। উম্মে সালমা বলেন, যখন রাসূল আলী, ফাতেমা, হাসান ও হুসাইন -এর জন্য দোয়া করা শেষ করলেন, তখন আমি এ কাপড় বা চাদরে প্রবেশ করি।

পৃষ্ঠা-১৯

২৫. মুবাহালার আয়াত এবং নাজরান এলাকার খ্রিস্টানরা নাজরান এলাকার একদল লোক রাসূল-এর কাছে এসে বলল, আমরা তো পূর্বে থেকেই মুসলমান ছিলাম। তখন নবী ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে তিনটি জিনিস: বললেন, তোমাদেরকে

১. তোমরা শূলিকে পূজা কর।

২. তোমরা শূকরের মাংস খাও।

৩. আর তোমরা আল্লাহর জন্য সন্তান সাব্যস্ত কর। এভাবে তাদের মাঝে এবং নবী-এর মাঝে কথা কাটাকাটি চলতে থাকে। যখনই তারা কিছু বলছে নবী তাদের সে কথাগুলোকে কুরআনের আয়াত দ্বারা খ-ন করছেন। তারা বলছিল, হে মুহাম্মাদ! তুমি তো এমন লোক যে, তুমি বল- আমাদের সাথী ঈসা (আ) আল্লাহর বান্দা। তখন নবী বলেন, অবশ্যই ঈসা (আ) আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল এবং তাঁর কালেমা, যা তিনি মরিয়াম (আ) এর প্রতি অবতীর্ণ করে ছিলেন। নবী এর এরূপ কথা শুনে তারা ক্ষেপে যায় এবং অনেক রাগ হয় এবং বলে, আচ্ছা পিতা ছাড়া কখনো সন্তান হতে পারে? হে মুহাম্মদ! তুমি যদি তোমার কথায় সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে এমন একটা দৃষ্টান্ত দেখাও তো দেখি যে, পিতা ছাড়া সন্তান হয়। তখন তাদের কথার প্রতি উত্তরে মহান আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত নাযিল করেন, إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ অর্থ, নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মত।”

পৃষ্ঠা-২০

কিন্তু এ খ্রিস্টান লোকেরা কোনো কথাই মানতে চাইল না; বরং তর্ক আরো বাড়িয়ে দিল। তখন নবী বললেন, ঠিক আছে, তোমরা যদি বিশ্বাস না কর চলো আমরা মুবাহালা করি। আর মুবাহালা বলা হয়, একদল অপর দলের প্রতি লানত করা। কারণ মহান আল্লাহই বলেছেন, فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ ابْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ “হে নবী! সঠিক জ্ঞান থাকার পর যারা আপনার সাথে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হতে চায় আপনি তাদেরকে বলুন, তোমরা আস! তোমাদের সন্তান- সস্তুতিকে, স্ত্রীদেরকে নিয়ে এবং তোমরা নিজেরাও আস। আমিও আমার সন্তান-সন্তুতি, স্ত্রী এবং আমি নিজেকে নিয়ে আসব এবং আমরা মুবাহালা (পরস্পর পরস্পরকে অভিশাপ দেওয়া) করব। অতঃপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হবে মিথ্যাবাদীদের উপর।” (সূরা আলে ইমরান-৬১) তখন নবী আলী, হাসান, হুসাইন, ফাতেমাসহ এক মাঠে আসলেন। কিন্তু তারা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিল যে, তারা আসবে না। কারণ তারা ভয় পাচ্ছিল যে, যদি সত্যি সত্যিই আল্লাহর গযব এসে যায় তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই তারা বলল, ঠিক আছে হে মুহাম্মদ! তুমি যা ভালো মনে কর তাই ঠিক। অর্থাৎ তারা মুবাহালা না করে দ্বীন ইসলাম মেনে নিল। (সীরাতুন নাবুবিয়্যাহ ফী যুইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ লি আবি শুবা, ২/৫৪৭) বি:দ্র: মুবাহালা বলা হয় কোনো এক মাঠে নিজেদের কথার চূড়ান্ত সত্যতার জন্য বের হয়ে যাওয়া এবং প্রত্যেকে এভাবে নিজেদের প্রতি অভিশাপ করা যে, যদি আমরা মিথ্যা বলে থাকি তাহলে আল্লাহ আমাদের ধ্বংস করবেন।

পৃষ্ঠা ২১  থেকে ৩০

পৃষ্ঠা-২১

২৬. তুমি অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিক হকদার সাহাবীরা এবং খুলাফায়ে রাশেদীনরা রাসূল-এর পরিবারের লোকদের সম্মান রক্ষা করে চলতেন। একদা উমর হুসাইন বিন আলী-কে বললেন, হে বৎস! তুমি যদি একদিন আমাদের বাসায় আসতে তাহলে ভালো হতো। অতঃপর একদিন হুসাইন উমর -এর বাড়ীতে গেলেন এবং দেখেন যে, দরজায় পর্দা লাগানো। আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর দরজায় দাঁড়িয়ে আছে এবং তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তখন হুসাইন ফিরে আসলেন। পরবর্তীতে কোনো একদিন হুসাইন-এর সাথে উমর -এর সাক্ষাত হয়। তখন উমর বলেন, হে হুসাইন! তুমি কেন আমার বাড়িতে যাও নি। হুসাইন স্রে উত্তর দিলেন, আমি গিয়েছিলাম। তখন আপনার ঘরে পর্দা টাঙানো ছিল। আর আপনার ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে দেখলাম দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না, তাই আমি ফিরে এসেছি। তখন খলিফাতুল মুসলিমীন যিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর স্র বললেন, তুমি তো অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ বিন উমর গুল্ল থেকেও বেশি হকদার। কারণ তুমি হলে আহলে বাইত। উমর পুত্র আরো বললেন, আমাদের কাছে সবচাইতে বড় এবং সম্মানের অধিকারী হচ্ছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। অতঃপর তোমরা অর্থাৎ নবী-এর পরিবারের লোকেরা। একথা বলে উমর তার হাতটা হুসাইন -এর মাথায় রাখলেন।

পৃষ্ঠা-২২

২৭. আল্লাহর কসম! এখানে পড়ার মতো কোনো কাপড় নেই আলী ইবনে হুসাইন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার উমর -এর কাছে ইয়ামান দেশ থেকে কিছু কাপড় আসে। তখন উমর ট্রে এগুলো মানুষদেরকে দিয়ে দেন এবং কিছু কাপড় দিয়ে সামিয়ানা তৈরি করেন। লোকেরা সেখানে এসে বিশ্রাম গ্রহণ করত। উমর পুত্র ও সেখানে বসে থাকতেন। লোকেরা এসে তাকে সালাম দিত এবং তার জন্য দোয়া করত। একদিন হাসান এবং হুসাইন বের হয়ে আসলেন। কিন্তু তখন উমর টু-এর কাছে কোনো কাপড় ছিল না। তাই তাদেরকে দেখে উমর (রা) চোখ দুটো একটু নিচু করে নিলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহর কসম! এখানে এমন কোনো পোশাক নেই যা আমি তোমাদের পড়তে দেব। তখন হাসান ও হুসাইন বললেন, আপনি আপনার প্রজাদের পড়াচ্ছেন, এটা কতইনা ভালো হয়েছে। আমাদের প্রয়োজন নেই। তখন উমর (রা) বললেন, না এ হতে পারে না। তোমরা এসে চলে যাবে আর তোমাদের পোশাক দিতে পারব না, এটা হতে পারে না। অতঃপর উমর ইয়ামানের রাজার কাছে চিঠি লিখলেন, দুটি পোশাক পাঠিয়ে দিতে। যখন দুটি পোশাক ইয়ামান থেকে আসল তখন উমর ও হাসান এবং হুসাইন টু-কে পোশাক পরিয়ে দেন। বিঃদ্রঃ এ পোশাক ছিল এক ধরনের ইউনিফর্ম জাতীয় পোশাক। (আল ইসাবাতু লি ইবনে হাজার, ১/১০৬)

পৃষ্ঠা-২৩

২৮. উমর হাসান এবং হুসাইনকে আগে দিতেন আবু জাফর হতে বর্ণিত। যখন আল্লাহ তায়ালা উমর-কে বিজয় দান করলেন, তখন তিনি মানুষদেরকে কিছু উপঢৌকন দেয়ার ইচ্ছা করলেন এবং মানুষদেরকেও ডাকলেন। আব্দুর রহমান বিন আউফ বলেন, হে উমর! আপনিই প্রথমে নেয়া শুরু করুন। তখন উমর বললেন, না। সর্বপ্রথম যারা রাসূল-এর পরিবারের লোক তথা আহলে বাইত তারা নিবে। এক্ষেত্রে তিনি হাসান ও হুসাইন-কে প্রাধান্য দেন। এরপর অন্যান্যদের মাঝে বণ্টন করেন। (তারীখু দামেশকুল কাবীর, ১৪/৬০)

২৯. তাদেরকে দিয়েছেন তাদের ছেলের চেয়েও বেশি ১৬ হিজরীতে সাদ বিন আবু ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে পারস্যের রাজধানী বিজিত হওয়ার পর অনেক গণিমতের মাল অর্জিত হয়। আর তখন ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা হলেন উমর । গণিমতের মাল অর্জিত হওয়ার পর খলিফা তা হতে সবচাইতে বেশি দেন আহলে বাইতের অন্তর্ভূক্ত হাসান ও হুসাইন -কে। তাদের প্রত্যেককে এক হাজার দিরহাম করে দেন। যা তার নিজের ছেলেকেও দেননি। তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ-কে দিলেন পাঁচশত দিরহাম। (মাকামাতুল উলামা লিল গাযযালী, পৃ: ১৬১)

৩০. উসমান-কে অবরোধের সময় হাসান-এর অবস্থান বিদ্রোহীরা যখন উসমান গুল্লু-এর ব্যাপারে খুব কঠোর হয়ে উঠল, এমনকি মসজিদে এসে নামায পড়তেও নিষেধ করল তখন অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে এগুলো মেনে নিয়েছিলেন উসমান। আর রাসূল-এর বাণী, হে উসমান! তোমার প্রতি কঠিন বিপদ আসবে। এসব কথা উসমান টু-কে ঈমানের উপর অটল থাকতে সাহস যোগায়। বিদ্রোহীরা যখন তাদের

পৃষ্ঠা-২৪

বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে এক পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, তারা উসমান-কে হত্যা করবে তখন অত্যন্ত দৃঢ়তার কণ্ঠে হাসান ঘোষণা করলেন যে, আমি তোমাদের এই সিদ্ধান্তে একমত নয়। তোমরা কি এমন লোককে হত্যা করতে চাও, যে নাকি রাসূল এর সাহচর্য পেয়েছে? যে রাসূল-এর সামনে বড় হয়েছে? সাহাবীদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদের সাহাবী আজকে তার প্রায় আশি বছর বয়সে তোমাদের এ কেমন আচরণ। আর উসমান হাসানকে খুব ভালোবাসতেন তাই উসমান (রা) হাসান -কে বললেন, হে আমার ভাইয়ের ছেলে বাড়ি ফিরে যাও। নয়তো বা তোমাকেও আমার মতো এরূপ বিপদ গ্রাস করতে পারে। (আল হাসান বিন আলী বিন আবু তালেব লি আলী মুহাম্মদ মহাম্মাদ আল সালাভী, পৃঃ ১৪৬)

৩১. হাসান ও হুসাইন-এর প্রতি আলীর ওয়াসিয়ত যখন আলী -এর মৃত্যু ঘনিয়ে আসল তখন আলী হাসান ও হুসাইন -কে ডাকলেন এবং তাদের দুই ভাইকে লক্ষ করে বললেন,

১. আল্লাহকে ভয় করবে।

২. সত্য কথা বলবে।

৩. ইয়াতিমদের প্রতি রহম করবে।

৪. আখিরাতের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

৫. অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

৬. মাযলুমকে সহযোগিতা করবে।

৭. আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমল করবে।

৮. আল্লাহর হুকুম পালন করতে গিয়ে কোনো নিন্দাকারীর নিন্দা যেন তোমাকে দুর্বল করে না দেয়। এভাবে অনেকগুলো অসিয়াত করেন।

পৃষ্ঠা-২৫

হাসান এবং তার পিতার হত্যাকারী ইতিহাস বলে, যখন আলী ইন্তিকাল করেন, হাসান ইবনে মুলজিমের কাছে যান। তখন ইবনে মুলজিম হাসানকে বলেন, হে হাসান! তোমার কি ভালো কোনো উল্লেখযোগ্য অভ্যাস আছে? আমার অভ্যাস হলো, আমি যখনই আল্লাহকে কোনো ওয়াদা দেই তখনই তা পূরণ করে থাকি। আমি ওয়াদা করছিলাম যে, আমি আলী ﷺ এবং মুয়াবিয়া না হয় দুজনকে রেখেই মারা যাব। (তারীখুত তাবারী, ৬/৬৪) কে হত্যা করব

৩৩. পিতা হত্যার পর হাসান-এর খুতবা উমর বিন হাবসী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী মৃত্যুর পর হাসান এক খুতবা পেশ করেন। যাতে তিনি বলেন, উপস্থিত শ্রোতাম-লী, গতকাল তোমাদের মধ্য হতে এমন এক মহান ব্যক্তি চির বিদায় গ্রহণ করে চলে গেছেন, যিনি বিদ্যাবত্তার ক্ষেত্রে ইতোপূর্বে সমকক্ষ আর কেউ ছিল না। আর ভবিষ্যতেও এমন বিদ্যাধর তেমন হবে বলে আশা করা যায় না। রাসূল যুদ্ধ ক্ষেত্রে তার হাতে পতাকা প্রদান করতেন। তিনি কোনো যুদ্ধেই বিফল হয়ে ফিরে আসেননি। তিনি পরিত্যক্ত সম্পত্তিরূপে স্বর্ণ-রৌপ্য কিছুই রেখে যাননি। কেবল দৈনন্দিন প্রাপ্ত ভাতা থেকে বাঁচিয়ে সাতশত দিরহাম রেখে গেছেন। (ফাযায়েলুস সাহাবা, ২/৭৩৭)

পৃষ্ঠা-২৬

৩৪. খলিফা হিসেবে হাসান-এর বাইয়াত আলী বিন আবু তালেব-এর মৃত্যুর পর হাসান চার তাকবীরে তাঁর পিতার জানাযার সালাত আদায় করেন। এবং তাঁর পিতাকে কুফায় দাফন করা হয়। এরপর সর্বপ্রথম যিনি বাইয়াত করেন, তিনি হলেন, কাইস বিন সাদ। তিনি বলেন, আপনার হাত প্রসারিত করে দিন, আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত অনুযায়ী বাইয়াত করব। এই বলে তিনি বাইয়াত করেন। যখন ইরাক বাসীরা বাইয়াত করতে এল তখন হাসান তাদেরকে বললেন, নিশ্চয়ই তোমরা শুনবে ও মানবে। যে নিরাপত্তা দেয় তাকে নিরাপত্তা দেব। যে যুদ্ধ করবে তার সাথে যুদ্ধ করবে। তারীখুত তাবারী, ৬/৭৩-৭৭)

৩৫. আলী এবং হাসান ইতিহাসের উপর লিখিত কিতাবগুলো সাক্ষ্য দেয় যে, নিশ্চয়ই আলী হাসান ট্রে-কে মানবিকতা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করেন। আলী আমার ছেলে! বলতো, সঠিকতা বা যথার্থতা কি? তার ছেলে বলেন, হে হাসান বলেন, সঠিকতা হচ্ছে অন্যায়কে ভালো কিছুর মাধ্যমে প্রতিহত করা। আলী বলেন, সম্মান/মর্যাদা কি? হাসান টুদ্র বলেন, আপনজন তৈরি করা ও পাপ বহন করা। আলী বলেন, মানবিকতা কি? হাসান করে দেয়া। বলেন, ক্ষমা করে দেয়া এবং অবস্থানুযায়ী মানুষকে সংশোধন আলী বলেন, হীনতা বা তুচ্ছতা কি?

পৃষ্ঠা-২৭

হাসান বলেন, সচ্ছলদের প্রতি দৃষ্টি রাখা এবং অসচ্ছলদেরকে দূরে রাখা। আলী বলেন, উদারতা বা মহানুভবতা কি? হাসান বলেন, সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয়াবস্থায় খরচ করা। আলী বলেন, কৃপণতা কি? হাসান বলেন, যা নিজের কাছে আছে তা ভালো মনে করা এবং যা খরচ করা হয় তা ধ্বংস হচ্ছে বলে মনে করা। আলী বলেন, ভ্রাতৃত্ব কি? হাসান বলেন, সচ্ছল ও অসচ্ছল সর্বাবস্থায় বিশ্বস্ততা রক্ষা করা। আলী বলেন, ভীরুতা বা কাপুরুষতা কি? হাসান বলেন, বন্ধুর কাছে সাহস দেখানো। আর শত্রুর কাছে ভীতু হওয়া। আলী বলেন, গণিমত কি? হাসান: আল্লাহ ভীতির ক্ষেত্রে উৎসাহী হওয়া। দুনিয়া বিমুখ হওয়া। আলী: ধৈর্য কি? হাসান: রাগকে সংবরণ করা এবং নফসের রাজত্ব করা। আলী: ধনাঢ্যতা কি? হাসান আল্লাহ যা দিয়েছেন তার উপর সন্তুষ্ট থাকা যদি তা পরিমাণে কম হয়। কারণ যে মনের ধনী সে-ই বড় ধনী। আলী: অভাব কি? হাসান: যে কোনো জিনিসে লোভী হওয়া। আলী: অপমান বা লাঞ্ছনা কি?

পৃষ্ঠা-২৮

হাসান: সত্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ঘাবড়িয়ে যাওয়া। আলী: সাহসিকতা কি? হাসান: বন্ধু বা সমকক্ষদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া। আলী: আসক্ত বা আকৃষ্টতা কি? হাসান: যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে কথা না বলা। আলী: সম্মান কি? হাসান: ঋণীকে দেয়া এবং পাপীকে ক্ষমা করা। আলী: জ্ঞান বা বুদ্ধি কি? হাসান: অন্তরকে সংরক্ষণ করা, তুমি যার দায়িত্ব পেয়েছ তা থেকে। আলী: বোকামী কি? হাসান: নেতার জায়গায় বসতে চাওয়া এবং তার কথার উপর কথা বলা। আলী: কৃতজ্ঞতা কি? হাসান: ভালো জিনিস গ্রহণ করা এবং খারাপ জিনিস পরিত্যাগ করা। আলী: মান-মর্যাদা কি? হাসান: অন্যান্য ভাইদের সাথে সমতা রাখা এবং প্রতিবেশিকে সংরক্ষণ করা। আলী: গাফলতি বা অমনোযোগিতা কি? হাসান: মসজিদ ছেড়ে দেয়া এবং বিপর্যয়কারীর আনুগত্য করা। আলী: বঞ্চিত হওয়া কি? হাসান: নিজের ঐ অংশ ছেড়ে দেয়া যা নেয়ার জন্য বলা হয়।

পৃষ্ঠা-২৯

৩৬. পায়ে হেঁটে হাসান-এর হজ্জ্ব হাসান বেশি বেশি হজ্জ্ব পালন করতেন। তিনি পায়ে হেঁটে হজ্জ পালন করতেন এবং বলতেন, আমি লজ্জাবোধ করি যে, আমি আমার রবের সাথে সাক্ষাৎ করব, অথচ পায়ে হেঁটে যাব না। (তারীখে ইবনে আসাকীর, ১৪/৭২)

৩৭. যে ব্যক্তি নিজেকে আপনার জন্য দান করেছে হাসান একজন গোলাম বা একজন দাসকে মদিনার একটি বাগানে এক লোকমা রুটি খেতে দেখেছেন যার সাথে একটি কুকুরও রুটির লোকমা গ্রহণ করছে। তখন হাসান ট্রে বললেন, কিসে তোমাকে এই খানা থেকে -রুটি খেতে উদ্বুদ্ধ করল? তখন গোলামটি বলল, আমি লজ্জাবোধ করি যে, আমি খাব অথচ কাউকে খাওয়াতে পাব না। তাই আমি কুকুরের সাথে খাচ্ছি। তখন হাসান বললেন, আমি না আসা পর্যন্ত তুমি এখানে অবস্থান করবে। অতঃপর হাসান ঐ গোলামের মালিকের কাছে গেল এবং ঐ গোলামকে তার মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করে নিল এবং ঐ বাগানটিও ক্রয় করে নিল যে বাগানের গোলামটি ছিল। এরপর ঐ গোলামকে মুক্ত করে দিলেন। এরপর ঐ গোলামকে ঐ বাগানের মালিক বানিয়ে দিলেন। তখন গোলামটি বলল, হে আমার মনিব! আপনি বাগান দান করলেন এমন ব্যক্তিকে যে ব্যক্তি তার নিজেকে আপনার জন্য দান করেছে। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ১১/১৯৬)

পৃষ্ঠা-৩০

৩৮. হাসান এবং শাম দেশের একজন লোক ইবনে আয়েশা! উল্লেখ করেছেন, নিশ্চয়ই একজন শাম দেশি লোক বলেন যে, আমি মদিনার একেবারে খুব ভিতরে প্রবেশ করি। তখন একজন লোককে দেখলাম খচ্চরে সওয়ারী হয়ে আসতেছে। আমি ইতিপূর্বে এত সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট লোক আর দেখিনি। এত বৈশিষ্টপূর্ণ, এত সুন্দর পোশাকের অধিকারী, এত সুন্দর সওয়ারীতে আরোহিত আর – কাউকে দেখিনি। আমার অন্তর তার দিকে আকৃষ্ট হয়ে গেল। তাই আমি তার সম্পর্কে জানতে চাইলাম। আমাকে বলা হলো, ইনি হচ্ছেন, হাসান বিন আলী বিন আবু তালিব। যখন তার পরিচয় পেলাম তখন ক্রোধে আমার অন্তর পরিপূর্ণ হয়ে গেল এবং খুবই ঈর্ষা করলাম এ জন্য যে, এত সুন্দর সন্তান আলীর ঘরে জন্মেছে। অতঃপর আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম, তুমি আলী ইবনে আবু তালেবের ছেলে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, আমি সব সময় তোমাকে এবং তোমার পিতাকে খারাপ জানতাম। অতঃপর যখন আমার কথা শেষ হলো তখন হাসান আমাকে বললেন, আপনাকে দেখে খুবই অপরিচিত লাগছে? তখন শাম দেশের লোকটি বলল, হ্যাঁ। আমি শাম থেকে এসেছি। কিন্তু আমি যখন তার কাছ থেকে ফিরে যাই তখন আমি আমার কাছে তার চেয়ে অধিক প্রিয় যমীনে আর কাউকে দেখিনি। সব সময় চিন্তা করি তিনি কি করেন। সব সময় তার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি এবং আমর অন্তর তাকে নিয়ে চিন্তা করতে থাকে।

পৃষ্ঠা ৩১  থেকে ৪০

পৃষ্ঠা-৩১

৩৯.নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারীদের ভালোবাসেন না একদিন হাসান স্রে একদল দরিদ্র লোকদের পার্শ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আর ঐ লোকেরা রাস্তা থেকে রুটির টুকরা কুড়াচ্ছিল এবং ঐগুলো খাচ্ছিল। লোকেরা হাসানকে দেখে বলল, আপনি আমাদের সহযোগিতা করুন অর্থাৎ আপনিও আমাদের সাথে রুটি সংগ্রহ করুন। হয়ত তারা হাসান চিনতে পারেনি তাই তারা তাকে রুটি কুড়ানোর জন্য ডাকছিল। -কে যাহোক হাসান বিন আলী তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের সাথে রুটি কুড়াতে শুরু করেন এবং তিনি বলতেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না। অতঃপর যখন খাদ্য সংগ্রহ শেষ হয় তখন হাসান তাদের সকলকে তার বাড়িতে দাওয়াত দেন এবং তাদেরকে খাওয়া-দাওয়া করান। তাদের কাপড় দেন, সর্বোপরি তাদের প্রতি অনেক দয়া ও সুন্দর ব্যবহার করেন। (হায়াতুল ইমাম ইবনে হাসান ইবনে আলী, ১/২৯১)

80. আমি ভয় করি তার মর্যাদা নষ্ট হওয়াকে নিশ্চয়ই একজন লোক হাসান বিন আলী কে একটা পা-লিপি পেশ করল এবং বলল, আমি এটা সম্পূর্ণ পড়েছি। আপনি যদি এটা সম্পাদনা করে দিতেন তাহলে চির কৃতজ্ঞ থাকতাম। আসলে ঐ লোক শুধুমাত্র হাসান এর নাম সম্পাদনায় দিতে চাচ্ছিল পা-লিপিটি হাসান টুল্ল কর্তৃক বিনা পড়ায়। তখন হাসান বলেন, আমি ভয় করি যে, একজনের সম্মান নষ্ট হোক। আমি যদি এই পান্ডুলিপিটি না পড়ে শুধু সম্পাদনায় আমার নাম ব্যবহার করতে বলি আর যদি এতে ভুল থেকে যায় তাহলে তো মানুষের কাছে লেখকের সম্মান নষ্ট হবে।

পৃষ্ঠা-৩২

৪১. নবী বংশের প্রতি আগ্রহী হওয়া একদা হাসান কোনো প্রয়োজনে বাজারে গেলেন, তিনি যে জিনিসটি চেয়েছিলেন দোকানদার সে জিনিসের দাম বাড়িয়ে বলল। অতঃপর দোকানদার জানতে পারল যে, ইনি হচ্ছেন হাসান বিন আলী, যিনি রাসূল-এর নাতি। তাই তার পরিচয় পাওয়ার পর তার সম্মানার্থে দ্রব্যের দাম কমিয়ে দিল। কিন্তু হাসান এ দোকানদার থেকে তার প্রয়োজনীয় জিনিসটি কিনলেন না। বরং বললেন, আমি রাসূল-এর নাতি বলে আমার কাছে দাম কম রাখতে চাচ্ছ? আমি চাই না যে, আমার বংশগত স্থানের কারণে আমি এ দ্রব্য কম মূল্যে গ্রহণ করি। তিনি এ দ্রব্য আর গ্রহণ করলেন না। বরং এটাকে গুরুত্বহীনভাবে দেখলেন। (আল মুরতাযা লিন নাদার্জী, পূঃ ২২৮)

৪২. আমি কি আমার সম্মান ক্রয় করব না একলোক মদিনায় এসেছিল। এই লোক আলী-এর প্রতি খুবই অসন্তোষ্ট ছিল বা খারাপ চোখে দেখত। কিন্তু মদিনায় আসার পর ডাকাতেরা তার সওয়ারী ডাকাতী করে নিয়ে যায়। তাই ঐ লোক মদিনায় কিছু লোকদের কাছে বলতে লাগল, আমার সওয়ারী তো ডাকাতেরা নিয়ে গেছে। এখন কি করা যায়? আমি কি করে বাড়িতে পৌঁছব। লোকেরা তাকে পরামর্শ দিল যে, তুমি এ ব্যাপারে হাসান বিন আলী-এর সাথে যোগাযোগ করতে পার। তখন লোকটি যে আলী -কে খারাপ জানতো পরিশেষে বাধ্য হয়ে সেই আলী -এর ছেলে হাসান -এর কাছে গেল সওয়ারীর জন্য। হাসান ন্দ্রে তাকে একটি সওয়ারী দিয়ে দিলেন।

পৃষ্ঠা-৩৩

জনৈক লোক বলল, হে হাসান যে লোক আপনাকে ও আপনার পিতাকে খারাপ বলে আপনি তাকে সওয়ারী দিয়ে দিলেন? তখন হাসান বলেন, আমি কি একটি সওয়ারীর বিনিময়ে আমার সম্মান ক্রয় করব না বা ফিরিয়ে আনব না। (তারীখে ইবনে আসাকীর, ১৪/৭৬)

৪৩. হতদরিদ্র ব্যক্তির সাথেও ভদ্রতা রক্ষা একদা হাসান বিন আলী টু কোনো জায়গায় বসেছিলেন। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর উঠে যাওয়ার চিন্তা করলেন। ঠিক ঐ মুহূর্তেই একজন গরীব লোক হাসান এর কাছে আসল। লোকটি আসার পর হাসান পুত্র তাকে স্বাগতম জানালেন এবং তার খোঁজ-খবর নিলেন। এরপর বললেন, আপনি এমন সময় এসেছেন, যে সময় আমাকে একটু যেতে হবে। আপনি কি আমাকে যাওয়ার অনুমতি দিবেন? দরিদ্র লোকটি বলল, অবশ্যই। আপনি চলে যান হে রাসূল-এর মেয়ের ছেলে। (তারীখুল খুলাফাই লিস সুয়ূতী, পৃ: ৭৩)

88. এক ইয়াহুদী লোকের প্রশ্ন হাসান গোসল সেরে বাড়ি থেকে বের হলেন কোনো এক সফরে। এমন সময় তার গায়ে ছিল খুব দামী সুন্দর পোশাক, গায়ে উন্নত সুগন্ধির ঘ্রাণ। দেখতে খুব চমৎকার লাগছিল। হঠাৎ করে রাস্তার মধ্যে এক খুবই দরিদ্র ইহুদীর সাথে সাক্ষাৎ হলো। যার চামড়া ছিল খুবই খসখসে, চেহারা দেখতে তেমন ভালো না। গায়ের পোশাকটি একেবারে নগণ্য। এই লোকটি হাসান -কে বলল, হে মুহাম্মদ-এর নাতি! তোমার কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে? হাসান বললেন, কি প্রশ্ন তোমার বল। দরিদ্র ইয়াহুদী লোকটি বলল, তোমার নানা বলেছিল, দুনিয়া হলো মুমিনদের জন্য জেলখানা আর কাফেরদের জন্য জান্নাতস্বরূপ। এখন আমি কাফের আর তুমি মুমিন। কিন্তু তুমি কত স্বাচ্ছন্দে চলছ আর আমি

পৃষ্ঠা-৩৪

কত কষ্ট করছি। তাহলে তোমার নানা মুহাম্মদ এর বলা কথার বাস্তবতা কোথায়? তখন হাসান বললেন, ওহে শোন! তুমি যদি দেখতে আখিরাতে কত রকম নেয়ামত রয়েছে তাহলে অবশ্যই আমার এই চাল-চলনকে জেলখানার মতো মনে করতে। আর যদি জানতে আখিরাতে কত শান্তি আছে তাহলে তোমার এই চাল-চলনকে জান্নাতের মতো মনে করতে। (আস হাসান ওয়াল হুসাইন লি মুহাম্মদ রশীদ রেজা, পৃঃ ৩২)

৪৫. হাসান ও হুসাইন-এর প্রতি আব্বাসের সম্মান মুদরিক আবু যিয়াদ বলেন, আমরা ইবনে আব্বাসের বাগানে ছিলাম। অতঃপর সেখানে ইবনে আব্বাস, হাসান এবং হুসাইন আসলেন। তারা এসে বাগান পরিদর্শন করলেন এবং একটি ছোট খাল বা পুকুরের কাছে এসে বসলেন। অতঃপর হাসান আমাকে বললেন, হে মুদরিক! তোমার কাছে কি কোনো খাবার আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন বললেন, দাও। তখন আমি রুটি এবং এর সাথে কিছু ঝোল দিলাম। এরপর হাসান আমাকে বললেন, হে মুদরিক! খেতে খুবই ভালো লাগছে। অতঃপর হাসান তার খাদ্যগুলো নিয়ে আসলেন যা ছিল খুবই মজাদার। এনে আমাকে বললেন, হে মুদরিক! বাগানের সব বাচ্চাদের ডেকে নিয়ে আস। আমি বাচ্চাদের ডেকে আনার পর বাচ্চারা খেল। আমি বললাম, আপনি খাবেন না? তিনি বললেন, হে মুদরিক! তুমি আমাকে যে খাবার দিয়েছ তা-ই খুব ভালো লাগছে। এরপর উঠে গেলেন এবং অজু করলেন। অতঃপর হাসান-এর সওয়ারী আনা হলে ইবনে আব্বাস সওয়ারীতে উঠা থেকে বিরত থাকলেন এবং হাসান ড্রেসওয়ারীতে উঠলেন। এরপর হুসাইন এর সওয়ারী আনা হলে ইবনে আব্বাস ষ্ট্রে সওয়ারীতে উঠা থেকে বিরত থাকলেন। অতঃপর যখন হাসান ও হুসাইন ও চলে গেলেন। মুদরিক ইবনে আব্বাসকে বললেন, আপনি হাসান ও

পৃষ্ঠা-৩৫

হুসাইন থেকে বয়সে বড় তারপরেও কেন তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলেন? তখন ইবনে আব্বাস বললেন, হে মুদরিক! তুমি কি জান এরা কারা? এরা হলো, রাসূল-এর দু’জন প্রিয় নাতি, যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামতপ্রাপ্ত। আমি কি তাদের সম্মান থেকে বিরত থাকব? (তারীখে ইবনে আসাকীর, ১৪/৬৯)

৪৬. কোনো মহিলা তার মতো গঠন করতে পারেনি আব্দুল্লাহ ইবনে উরওয়া বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর-কে দেখেছি প্রচ- শীতের সকালে হাসান ইবনে আলী-এর পাশে বসে আছেন। আল্লাহর কসম! তিনি ঐখান থেকে উঠে আসেনি ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না তার কপাল ঘামে সিক্ত হয়। (অর্থাৎ সূর্য উঠে) আব্দুল্লাহ ইবনে উরওয়া বললেন, এ বিষয়টি আমাকে আশ্চর্য করল। অতঃপর আমি তার কাছে যাই এবং বলি যে, হে আমার চাচা! তিনি আমাকে বললেন, কি চাচ্ছ? আমি বললাম, আমি আপনাকে কখন থেকে হাসান বিন আলী- এর কাছে বসে থাকতে দেখেছি এখন সূর্য উঠে আপনার কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়ছে। তারপরেও আপনি এখানে বসে আছেন। বিষয়টি বুঝলাম না। তখন তিনি বললেন, হে আমার ভাতিজা! ইনি হচ্ছেন, ফাতেমা -এর ছেলে। আল্লাহর কসম! কোনো মহিলা হাসান পত্রে -এর মত সন্তান গঠন করতে বা গড়তে পারেনি। (যাখাইরুল আকাবী লিল মুহিব্বুল তাবারী, পৃঃ ৩৩৭

পৃষ্ঠা-৩৬

৪৭. পিতা-মাতা, নানা-নানীর দিকে দিয়ে সম্মানিত মুয়াবিয়া বলেন, মানুষের মধ্যে সবচাইতে সম্মানিত লোক কে? পিতা- মাতা, দাদা-দাদী, ফুফা-ফুফী, খালা-খালুর দিক দিয়ে? তখন নুমান বিন আজলান আজ-জুরকানী দাঁড়িয়ে গেলেন এবং হাসান-এর হাত ধরে নিয়ে এসে বললেন, ইনি হচ্ছেন মানুষের মধ্যে সবচাইতে সম্মানিত। কারণ তাঁর পিতা হচ্ছেন, আলী। আর মাতা হচ্ছেন, ফাতেমা এবং নানা হচ্ছেন, মুহাম্মদ এবং নানী হচ্ছেন, খাদিজা এবং ফুফা হচ্ছে, জাফর। আর ফুফী হচ্ছে উম্মে হানি বিনতে আবু তালেব। খালু হচ্ছেন, কাসেম এবং খালা হচ্ছেন, যয়নব।

৪৮. (তারীখে ইবনে আসাকীর, ১৪/৭০) হাসান-কে গুপ্ত হত্যার প্রচেষ্টা হাসান ভূ-কে গুপ্ত ভাবে হত্যা করার জন্য বহু চেষ্টা করে। আর এই প্রচেষ্টা শুরু হয় হাসান খেলাফতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই। ইবনে সা’দ বর্ণনা করেন, হাসান-এর হত্যার জন্য বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। তবে সর্বপ্রথম পর্যায় হচ্ছে, হাসান যখন খেলাফত লাভ করেন তখন একদিন নামাযে দাঁড়ান। তখন শত্রুরা তাকে বর্ষা দ্বারা আঘাত করে। আর এমতাবস্থায় হাসান সিজদারত ছিলেন। আর শত্রুরা মনে করেছিল নিশ্চয়ই তার পিছনের রাস্তায় আঘাত লেগেছে। যাহোক এ আঘাতের পর তিনি কয়েক মাস অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর একদিন মেম্বারে আরোহন করে তিনি বললেন, হে ইরাকবাসী! আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের নেতা, আমরা তোমাদের আপ্যায়ন করাই। আমরা আহলে বাইয়াত। যাদের বাইত থেকে অপবিত্রতা দূরীভূত করেছেন এবং পবিত্র করেছেন। হাসান (রা:) এভাবে মসজিদে খুৎবা দিতে থাকেন। তার খুৎবার ফলে মসজিদের সবাই কেঁদে ফেলে। (আত তাবাকাতু লি ইবনে সাদ, ১/৩২৩)

পৃষ্ঠা-৩৭

৪৯. হাসান-এর মৃত্যু যখন হাসান-এর মৃত্যু ঘনিয়ে আসলো তখন হাসান হুসাইন-কে বলল, আমাকে নবী-এর পাশে কবর দিও। তবে যদি রক্তপাতের আশংকা থাকে তাহলে বিরত থেক। আমার কারণে রক্তপাত করিও না। আমাকে মুসলামনদের কবরস্থানে দাফন করিও। অতঃপর যখন হাসান মৃত্যুবরণ করলেন তখন হুসাইন অস্ত্র নিয়ে তৈরি হয়ে গেলেন এবং সবাইকে একত্রিত করলেন। তখন আবু হুরাইয়া বললেন, হে হুসাইন! তুমি কেন তোমার ভাইয়ের অসিয়ত ভুলে গেলে? তোমার ভাই কি বলেনি যে, যদি রক্তপাতের আশংকা থাকে তাহলে তাকে নবী-এর পাশের পরিবর্তে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করতে। আবু হুরায়রা-এর কথা শুনে হুসাইন ফিরে আসলেন এবং হাসান -কে মদিনার গারকাদ নামক কবর স্থানে দাফন করা হয়। (আত তাবাকাত লি ইবনে সাদ, ১/৩৪০)

৫০. হাসান এর জানাযা যখন হাসান মৃত্যুবরণ করলেন, তখন আবু হুরায়রা মসজিদে নববীর পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন এবং উঁচু আওয়াজে বলতে লাগলেন, হে মানুষ সকল! আজকে মৃত্যু বরণ করেছেন রাসূল-এর প্রিয় ভালোবাসার পাত্র। অতএব তোমরা কাঁদ। আর হাসান-এর জানাযায় এত সংখ্যক লোক হয়েছে যে, বাকীফুল গারকাদ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। বলা হয়ে থাকে যে, যদি একটি সুই ঐখানে নিক্ষেপ করা হতো তাহলে তা মানুষের পায়ে যেয়ে পড়ত। অর্থাৎ সমস্ত কবরস্থান লোকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেল। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ১২/২১১)

পৃষ্ঠা-৩৮

৫১. হাসান এবং সদকার খেজুর হাসান ছোট অবস্থায় একদা সদকার একটি খেজুর নিয়ে মুখে দেন। তখন রাসূল তার মুখ থেকে বের করে আনেন। যখন রাসূল-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন, নিশ্চয়ই মুহাম্মদের পরিবারের জন্য সদকা হালাল নয়। (উসদুল গাবাহ, ২/১৩)

৫২. হাসান ও হুসাইন-এর জন্য ভালোবাসা নবী হাসান ও হুসাইন-কে অনেক বেশি ভালোবাসতেন। তিনি তাদের সাথে অনেক আনন্দ করতেন। জাবের বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই তিনি একদিন রাসূল যে, হাসান ও হুসাইন তখন জাবের এর দরবারে উপস্থিত হন। তখন দেখতে পান নবী এ পিঠের উপর সওয়ারী হয়ে আছেন। বলেন, কতইনা উত্তম ঐ উট যে উট তোমাদের দু’জনকে বহন করেছে এবং কতইনা সুন্দর সওয়ারী তোমরা দু’জন। যুবাইদা বর্ণনা করেন, একদা নবী খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় হাসান ও হুসাইন আসলেন। তাদের গায়ে তখন লাল জামা ছিল। তারা আসছিল আর হোঁচট খাচ্ছিল। তখন রাসূল মেম্বার থেকে নেমে আসলেন এবং তাদের দু’জনকে তার সামনে বসালেন। এরপর বললেন, মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন- إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَاللَّهُ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ “তোমাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততী ফিতনাস্বরূপ। আর আল্লাহর নিকট আছে মহান পুরস্কার।” (সূরা তাগাবুন: আয়াত-১৫) এরপর বললেন, আমি খুৎবারত অবস্থায় এই শিশু দুটিকে দেখলাম যে, তারা হোঁচট খেয়ে খেয়ে আসতেছে। আর আমি ধৈর্য ধরে থাকতে পারলাম না তাদের এখানে নিয়ে আসা পর্যন্ত। (উসদুল গাবাহ, ২/১২)

পৃষ্ঠা-৩৯

৫৩.নবী হাসান ও হুসাইন-কে পান করান একদিন নবী আলী-এর বাড়িতে গেলেন এবং আলী ও ফাতেমা -কে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলেন। আর তার দুই নাতির একজনকে দেখলেন যে, পান করতে চাচ্ছে। নবী আলী ও ফাতেমা-এর ঘুম ভাঙ্গালেন না। তিনি একটি হালকা-পাতলা ছাগল দেখতে পেলেন। অতঃপর দুধ দহন করলেন। এরই মাঝে ফাতেমা উঠে গেলেন। উঠে রাসূলকে দেখতে পেলেন আর রাসূল হাসান ও হুসাইন-কে দুধ পান করাচ্ছেন। যখন হাসান ও হুসাইন-এর দুধ পান করা শেষ হলো তখন নবী বললেন, হে ফাতেমা! আমি ও তুমি এবং এই দুজন (হাসান ও হুসাইন) এবং এই ঘুমন্ত ব্যক্তি (আলী) কিয়ামতের দিন একই জায়গায় থাকব। (জামউল জাওয়ামি লিস সুযুতী-৩৭৪)

৫৪. যুদ্ধের ময়দানে আলী ইবনে আবু তালিব আম্মার বিন ইয়াছার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আলী যুল- আশিরা নামক যুদ্ধে এক সাথে ছিলাম। যখন রাসূল ফুল আশিরাহ নামক যুদ্ধে অবতরণ করলেন তখন আমাদের ঝাণ্ডা দিলেন বানী মুদলিজ গোত্রের কিছু লোকের কাছে। তারা একটা খেজুর বাগানে কাজ করত। অতঃপর আলী বললেন, হে আবুল ইয়াকজান! তুমি আমার সাথে আসবে? আমরা দেখব যে, এই লোকেরা কেমন কাজ করে। আবুল ইয়াকজান বলেন, আমরা গেলাম। অতঃপর কিছুক্ষণ তাদের কাজ দেখলাম। এরপর আমাদেরকে ঘুমে পেয়ে বসল। আমরা খেজুর বাগানের পার্শ্বে একটি মাঠে গিয়ে শুয়ে গেলাম। যেখানে কোনো ঘাস ছিল না, শুধু মাটি ছিল। আল্লাহর কসম! আমাদেরকে কেউ জাগ্রত করেনি একমাত্র রাসূল ছাড়া। তিনি এসে আমাদেরকে

পৃষ্ঠা-৪০

তার পা দ্বারা নাড়া দিলেন। আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাদের শরীরে অনেক মাটি লেগে আছে। তখন আলী-কে লক্ষ্য করে রাসূল বললেন, হে আবু তোরাব! অর্থাৎ হে মাটির পিতা! তখন থেকেই আলী-এর নাম হয় আবু তোরাব। (ফাযায়েলুস সাহাবা, ২/৭৫৫)

৫৫.চাচাতো ভাই আমাকে অনুগ্রহের অনুরোধ করল উহুদ যুদ্ধের সময় কঠিন লড়াই শুরু হলো। আলী উসমানের মাঝে। আর তালহা বিন উসমানের কাছে ছিল। অতঃপর সে বীরবিক্রমে বের হয়েছিল। আলী করার জন্য বের হলেন। তালহাকে আলী এবং তালহা বিন মুশরিকদের ঝাণ্ডা তার সাথে যুদ্ধ বললেন, আল্লাহর কসম! আমি থাকব না যতক্ষণ না আমার এই তরবারী দ্বারা তোমাকে হত্যা করে জাহান্নামে না পাঠাই ততক্ষণ পর্যন্ত। অথবা তোমার তরবারী দ্বারা আমি শহীদ হয়ে জান্নাতে না যাই ততক্ষণ পর্যন্ত। আলী তাকে মেরে তার পা কেটে দেন। ফলে সে মাটিতে পড়ে যায় এবং তার লজ্জাস্থান প্রকাশ পেয়ে যায় অর্থাৎ তার পায়ের কাপড় খুলে পড়ে যায়। ঐ অবস্থায় তালহা বিন উসমান বলল, হে আমর চাচাতো ভাই আলী! আমি তোমার কাছে দয়ার বা অনুগ্রহের অনুরোধ করছি। তুমি আমার প্রতি দয়া কর। তখন আলী তাকে আর আঘাত করেন নি। তখন রাসূল তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করলেন। কিছু সংখ্যক সাহাবী আলী-কে বললেন, হে আলী! তুমি কেন তার প্রতি আঘাত করনি বা কেন তাকে মেরে ফেলনি। তখন আলী বলেন, নিশ্চয়ই আমার চাচাতো ভাই আমার কাছে অনুগ্রহের মিনতি করেছে আর ঐ অবস্থায় তার গায়ের কাপড় খসে পড়ে তার লজ্জাস্থান বের হয়ে গেছে। তাই আমি ঐ অবস্থায় তার প্রতি আঘাত করতে লজ্জাবোধ করছিলাম।

পৃষ্ঠা ৪১  থেকে ৫০

পৃষ্ঠা-৪১

৫৬. সে তোমার জন্য গিয়েছে বনী নজির এর যুদ্ধে সাহাবীরা আলী-কে খুঁজে পাচ্ছিল না। তখন রাসূল সাহাবীদেরকে বললেন, সে তোমাদের জন্য বের হয়ে গেছে। মূলত আলী শত্রুদের প্রতি অতর্কিতভাবে হামলা চালানোর জন্য গিয়েছিলেন। (ইমতাউল আসমা’ লির মাকরিযী, ১/১৭০)

৫৭. আমি তোমাদের আহ্বান করছি যুদ্ধের দিকে খন্দকের যুদ্ধে আলী প্লে-এর ভূমিকা অপরিসীম। খন্দক যুদ্ধে শত্রুদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেছিল আমর বিন ওদ। সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আহত হওয়ার পর উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু খন্দক যুদ্ধে আবার অংশগ্রহণ করেছে। শত্রু বাহিনীকে খন্দক নামক জায়গা দেখিয়ে দেয়ার জন্য সে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। অতঃপর আমর বিন ওদ বলল, কে আমার সাথে লড়বে তখন আলী তার বিপক্ষে লড়ার জন্য আসলেন। আলী তাকে বললেন, হে আমর! তুমি তো আল্লাহর কসম করে এর আগে বলেছিলে যে, তোমাকে কেউ ইসলামের দিকে বা যুদ্ধের দিকে ডাকেনি? আমর বিন ওদ বলল, হ্যাঁ-তাই। তখন আলী বললেন, আজ আমি তোমাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করছি। সে বলল, না। আমার ইসলামের প্রয়োজন নেই। আলী বললেন, তাহলে আমি তোমাকে যুদ্ধের দিকে আহ্বান করছি। তখন আমর বলল, কেন হে আমার ভাইয়ের ছেলে? আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে হত্যা করতে পারব না। তখন আলী (র:) বললেন, কিন্তু আমি তোমাকে হত্যা করবই। ফলে দুজনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় এবং আলী পেয়ে আমর বিন ওদকে হত্যা করে ফেলে। (আস সীরাতুন নাবুবিয়্যাহ লি ইবনে হিশাম, ৩/৩৪৮)

পৃষ্ঠা-৪২

৫৮.হে ঈমানদার দল ইবনে হিসাম বলেন, নিশ্চয়ই খায়বার যুদ্ধে আলী এবং যুবাইর বিন আওয়ায য়ে সামনে অগ্রসর হলেন এবং আলী য়ে বললেন, হে ঈমানের দল! আল্লাহর কসম! আমরা হয় মরব না হয় সব কেল্লা বা দুর্গগুলো দখল করব। তখন কাফেররা বলল, হে মুহাম্মদ! আমরা সা’দ বিন মুয়ায যে ফায়সালা দিবে তা মেনে নেব। সাদ বিন মুয়ায হুকুম দিল যে, যারা মুসলমানদের হত্যা করেছে তাদের হত্যা করা হবে। মহিলাদের বন্দী করা হবে। ধন-সম্পদ বণ্টন করা হবে। ফলে যারা হত্যার কাজে নিয়োজিত ছিল তারা হলো আলী ও যুবাইর। (উসমান ইবনে আফফান লিস সালাভী, পূঃ ১০০)

৫৯. সে হচ্ছে জুতা সেলাইকারী হুদায়বিয়ার যুদ্ধের সময় রাসূল বললেন, হে কুরাইশরা! তোমরা তোমাদের কার্যকলাপ থেকে বিরত হও। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের প্রতি এমন একজন প্রেরণ করবেন, যে তরবারী দ্বারা তোমাদের গর্দানগুলো কেটে ফেলবে। তখন সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, কে সে হে আল্লাহর রাসূল! তখন রাসূল বললেন, সে হলো- জুতা সেলাইকারী, অর্থাৎ এর দ্বারা রাসূল আলী -কে বুঝিয়েছেন। (খিলাফাতু আলী বিন আবু তালিব লি আব্দুল হামীদ আলী নাসের, পৃ: ৩০)

পৃষ্ঠা-৪৩

৬০. সে আল্লাহকে ভালোবাসে, আল্লাহও তাকে ভালোবাসে খায়বার যুদ্ধে রাসূল চৌদ্দশত সৈন্যের একজন নেতা তৈরি করার জন্য বললেন, আমি এই ঝাণ্ডা আগামীকাল এমন একজন লোকের কাছে দিব, যার মাধ্যমে অবশ্যই বিজয় আসবে এবং যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও রাসূল ও তাকে ভালোবাসে। অতঃপর সবাই চিন্তা করতে করতে রাত্রিযাপন করছিল। কাকে জানি এই ঝাণ্ডা দেয়া হয়। যখন সকাল হলো, সবাই রাসূল-এর কাছে আসল। তখন রাসূল বললেন, আলী কোথায়? বলা হলো, তাঁর চোখের সমস্যার কারণে তিনি আসতে পারেন নি। তখন তাকে ডেকে আনতে বলা হলো। অতঃপর তাকে নিয়ে আসা হলো। অতঃপর রাসূল তার দুই চোখে থু থু দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। ফলে তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন। মনে হচ্ছিল তার কোনো অসুখই ছিল না। অতঃপর রাসূল তার হাতে যুদ্ধের ঝাণ্ডা বা পতাকা দিলেন। তখন আলী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাদের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করতেই থাকব যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইসলাম গ্রহণ না করে। রাসূল বললেন, হে আলী! তাদেরকে তুমি দাওয়াত দিতে থাকবে। কারণ তোমার মাধ্যমে একজন হিদায়াতের পথ পেলে তা হবে খুবই উত্তম। (মুসলিম- ১৮০৭)

৬১. আলী, যায়েদ এবং জাফর-এর মধ্যে বিতর্ক কাযা ওমরা আদায় করার পর নবী যখন মক্কা থেকে বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন তখন হামযা ও মেয়ে বললেন, হে চাচা! আমাকে নিয়ে যাও। তখন আলী তার হাত ধরে তাকে নিয়ে যেতে লাগলেন এবং ফাতেমা-কে বললেন, হে আমার মা! এটা হচ্ছে আমার চাচার

পৃষ্ঠা-৪৪

মেয়ে। সুতরাং সে আপনার অধীনে থাকবে। কিন্তু এ বিষয়ে আলী, যায়েদ, জাফর এরা তিনজন তর্ক শুরু করল। আলী বললেন, আমি এই মেয়েকে নিব। কারণ সে হচ্ছে, আমার চাচার মেয়ে। জাফর বললেন, আমি তাকে গ্রহণ করব। কারণ সে আমার চাচার মেয়ে। এবং তার খালাকে আমি বিবাহ করেছি। যায়েদ বললেন, সে আমার দায়িত্বে থাকবে। কারণ সে আমার ভাই এর মেয়ে। অতঃপর রাসূল মিমাংসা দিলেন এভাবে যে, সে তার খালার কাছে থাকবে। কারণ খালা হচ্ছে তার মায়ের মতো। এরপর নবী আলীকে বলেন, তুমি আমার থেকে আর আমি তোমার থেকে। তারপর জাফরকে বললেন যে, তুমিতো আমার মতোই গড়ে উঠেছ। এরপর যায়েদ-কে বলেন, তুমি তো আমাদের ভাই এবং আমাদের বন্ধু। অতঃপর আলী রাসূল -কে বলেন, হে রাসূল! আপনি তো হামযার মেয়েকে বিয়ে করে নিতে পারেন। তখন নবী উত্তরে বলেন যে, সে তো আমার দুধ ভাইয়ের মেয়ে। সুতরাং সে আমার ভাতিজী। তাই তাকে বিয়ে করা আমার জন্য জায়েয় হবে না। (বুখারী- ৪২৫১)

৬২. প্রতিফল দান আবু তালেব এর মেয়ে এবং আলী -এর বোন উম্মে হানি বলেন, যখন রাসূল দূরে আছেন তখন বনী মাখযুম গোত্রের দুজন লোক আমাদের বাড়িতে আসল। তখন আমার ভাই আলী তাদেরকে দেখে বলল, আমি অবশ্যই তাদেরকে হত্যা করব। কিন্তু আমি আমার বাড়িতে দরজা বন্ধ করে দেই।এরপর রাসূল এর কাছে আমি এসে দেখি যে, তিনি একটি পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করছেন। আর ফাতেমা ন্দ্রে একটি কাপড় দিয়ে তাকে

পৃষ্ঠা-৪৫

ঢেকে রেখেছেন। অতঃপর যখন তিনি গোসল শেষ করলেন, তখন শরীর মুছলেন। এরপর আট রাকাত চাশতের সালাত আদায় করলেন। এরপর আমার কাছে এসে বললেন, হে উম্মে হানি! তোমাকে স্বাগতম ও শুভেচ্ছা। কি খবর? কেন এসেছ? উম্মে হানি বলেন, তখন আমি বললাম, ঐ দুই ব্যক্তি এবং আমার ভাই আলী-এর সম্পর্কে। তখন রাসূল আমাকে বললেন, তুমি আমাকে এমন সংবাদ দিলে যার প্রতিদান বা প্রতিফল আমরা দিয়ে দিয়েছি। অতএব সে তাদেরকে হত্যা করবে না। অর্থাৎ রাসূল তাকে বুঝালেন যে, আলী সম্পর্কে আমি জানি, সে তাদের হত্যা করবে না। (সহীহুস সীরাতুন নাবুবিয়্যাহ, পৃঃ ৫২৬)

৬৩.নবী তাকে মদিনার প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন নবী যখন তাবুক যুদ্ধে বের হলেন, তখন আলী -কে মদিনার দায়িত্ব দিয়ে গেলেন। আর ঐ সময় মুনাফিকদের মধ্য হতে যারা যুদ্ধে যায়নি তারা বলতে লাগল যে, নিশ্চয়ই আলী প্লে-কে রাসূল রেখে গেলেন এ জন্য যে, সে অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে গেছে। ঠিক ঐ মুহূর্তে আলী তাদের কথা শুনলেন এবং একদল লোক পেলেন। যারা যুদ্ধে যাচ্ছিল, তখন আলী (বা:) তাদেরকে বলে পাঠালেন যে, তোমরা রাসূলকে বলবে, আপনি কি আমাকে শিশু এবং মহিলাদের সাথে মদিনায় রেখে গেছেন? আমি যুদ্ধে আসতে চাচ্ছি। রাসূল উত্তর দিলেন, হে আলী। তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, আমি তোমাকে হারুন (আ)-এর স্থানে রেখে এসেছি। অর্থাৎ মূসা (আ) যখন তুর পর্বতে গিয়েছিলেন তখন তিনি হারুন (আ)-কে তার জাতির দায়িত্বভার দিয়েছেন। তোমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। তবে পার্থক্য এতটুকু যে, হারুন (আ) নবী ছিলেন কিন্তু তুমি নবী নও। কারণ আমি নবীর পরে তো আর নবী আসবে না। (বুখারী-২৪০৪)

পৃষ্ঠা-৪৬

৬৪. রাসূল-কে গোসল এবং দাফন করার সৌভাগ্য আলী বলেন, নবী এর মৃত্যুর পর আমি তাকে গোসল দেই। এবং বলি আপনি জীবিত এবং মৃত উভয়াবস্থায় সন্তুষ্ট হোন বা সুখে থাকেন। এবং যারা রাসূল এর লাশ কবরে নামান তারা হলেন, আলী, ফজল বিন আব্বাস, কুসম বিন আব্বাস এবং রাসূল-এর দাস শাকরান । (আস সীরাতুন নাবুবিয়্যাহ লি ইবনে হিশাম, ৪/৩২১)

৬৫. আবু বকর -এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করলেন আলী বিন আবু তালেব য়ে তার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। একজন লোক এসে তাকে বলল, আবু বকর বাইয়াতের জন্য বসে আছেন। তখন গায়ের কাপড়টি পড়েই তিনি মসজিদে চলে গেলেন যেটা লুঙ্গিও ছিল না। কোনো চাদরও ছিল না এবং খুব তাড়াতাড়ি গেলেন। এ জন্য যে, বাইয়াত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে দেরি হয়ে যাচ্ছে। এরপর এসে আবু বকর এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করলেন। অতঃপর বসে যান। এরপর বাড়ি থেকে তার চাদর নিয়ে আসা হয়। এই চাদর তিনি তার ঐ কাপড়ের উপর পড়েন যা পড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছিলেন। (তারীখুল তাবারী, ৩/২০৭)

৬৬. কোন মানুষ সবচেয়ে উত্তম মুহাম্মদ বিন হানাফিয়্যাহ গুল্লে বলেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, রাসূল -এর পরে মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কে? তিনি বললেন, আবু বকর। এরপর কে? তিনি বললেন, উমর ফারুক পড়ে। অতঃপর মনে মনে ভাবছিলাম এরপর প্রশ্ন করলে হয়ত বা উসমান গণি -এর কথা বলবেন। তাই আমি প্রশ্ন করলাম এরপর কি আপনি? তিনি উত্তরে বললেন, আমি নই বরং মুসলমানদের মধ্য হতে একজন লোক (উসমান)। (বুখারী)

পৃষ্ঠা-৪৭

৬৭. সবচেয়ে সাহসী কে মুহাম্মদ বিন আকিল বিন আবু তালেব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আলী আমাদের মাঝে বক্তব্য দেন এবং বলেন, মানুষদের মধ্যে সবচাইতে সাহসী মানুষ কে? আমরা বললাম, আপনিই তো হে আমীরুল মুমিননীন! তখন আলী বললেন, তিনি হচ্ছেন, আবু বকর শুনে রাখ! যখন বদরের যুদ্ধ হয়েছিল, আমরা আবু বকরকে রাসূল এর ছাদ স্বরূপ রেখেছিলাম। যখনই শত্রু বাহিনী রাসূল-কে আক্রমণ করতে আসে তখনই আবু বকর তরবারী নিয়ে প্রস্তুত। কুরাইশরা কাবার কাছে রাসূলকে পেয়ে বলল, তুমি তো এমন লোক যে সমস্ত ইলাহগুলো এক ইলাহকে পরিণত করেছ। আল্লাহর কসম! তখন আবু বকর উপস্থিত হয়ে যেতেন। বদরের যুদ্ধের দিন আবু বকর তার মাথায় বেশী গাথে। একটি দিয়ে রাসূল-কে হেফাজত করে আরেকটি দিয়ে শত্রুদের প্রতিহত করে। আবু বকর শত্রুদের বলে, তোমরা কি এমন একজন লোককে হত্যা করতে চাও যে বলে, আমার রব আল্লাহ। এসব কথা আলী জনগণের সামনে উপস্থাপন করে বলেন, এখন তোমরা বিবেচনা কর। আবু বকর এর চাইতে বেশি সাহসী কে হতে পারে? (মুসতাদরাক, ৩/৬৭)

পৃষ্ঠা-৪৮

৬৮. আল্লাহ তোমাকে খুশি করুন আবু বকর রুমবাসীদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। এতে কেউ মতামত পেশ করলেন, যুদ্ধের স্বপক্ষে কেউ বিপক্ষে। অতঃপর আবু বকর আলী-এর পরামর্শ চাইলেন। তখন আলী গ্রে যুদ্ধ করার জন্য পরামর্শ দিলেন। এবং বললেন, আপনি যদি যুদ্ধ করেন সফলকাম হবেন। তখন আবু বকর বললেন, তুমি তো ভালো সংবাদ দিলে। অতঃপর আবু বকর মানুষদের মাঝে খুৎবা দিলেন এবং বললেন, হে মানুষ সকল! তোমরা রুমবাসীর সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হও। অন্য বর্ণনায় আছে যে, আবু বকর আলী-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আলী! তুমি কিভাবে এবং কোথায় থেকে এ সংবাদ পেয়েছ যে, আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করলে বিজয়ী হব? আলী বললেন, নবী শুনেছি। যখন তিনি আপনাকে এ সংবাদ দেন। তখন আবু বকর হাসানের পিতা আলী! আমাকে তুমি যে সংবাদ শুনালে তা দিয়েছে। আল্লাহ তোমাকে খুশি করুন। (তারীখুল ইয়াকুৰী, ২/১৩৩) হতে এ সংবাদ বলেন, হে খুবই আনন্দ

৬৯. ফাতেমা আবু বকর -কে অনুমতি দিলেন যখন ফাতেমা অসুস্থ হয়ে গেলেন, তখন আবু বকর তার কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। তখন আলী বললেন, হে ফাতেমা! এই হচ্ছে, আবু বকর। তিনি তোমার কাছে আসার অনুমতি চাইছেন। তখন ফাতেমা পুল্লা বললেন, হে আমার স্বামী! আপনি পছন্দ করেন যে, আমি তাকে আসার অনুমতি দেই? তখন আলী বললেন, ঠিক আছে। ফাতেমা আবু বকর কে আসার অনুমতি দিলেন। আবু বকর য় এসে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আমার ঘর বাড়ি, ধন-সম্পদ, আহাল- আত্মীয়-স্বজন সবকিছু রেখেছি শুধুমাত্র আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আহলে বাইয়াতের সন্তুষ্টির জন্য। অতঃপর তিনি ফাতেমা-কে অনেক আনন্দ দেন এবং তাকে খুশি করেন। (আস সুনানুর কুবরা লি বাইহাকী, ৬/৩০১)

পৃষ্ঠা-৪৯

१०. ফাতেমা-এর জানাযা পড়ান আবু বকর ফাতেমা মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। অতঃপর উপস্থিত হন আবু বকর, উমর, উসমান, যুবাইর, আব্দুর রহমান বিন আউফ । যখন ফাতেমা চে-এর লাশ রাখা হলো, তখন আলী বললেন, হে আবু বকর! আপনি সামনে যান এবং জানাযা পড়ান। তখন আবু বকর বললেন, হে হাসানের পিতা আলী! আপনি জানাযা পড়ান। তখন আলী বললেন, হে আবু বকর। আল্লাহর কসম করে বলি, আপনি ছাড়া কেউ তার জানাযা পড়াবে না। অতঃপর আবু বকর এবং রাত্রিবেলা দাফন করা হয়। জানাযা পড়ান মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় আছে যে, ফাতেমা -এর জানাযার সালাত পড়ান আলী। আর এটাই নির্ভরযোগ্য মত। (আলী ইবনে আবু তালিব লিস সালাবী, পৃঃ ১৪৩)

৭১. আমাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে আলী আবু যবইয়ান আল-জুনুবী হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই উমর ইবনে খাত্তাব এমন একজন মহিলার কাছে আসলেন যে মহিলা যিনা করেছে। তখন উমর ফারুক তাকে রজম করার বা পাথর মেরে হত্যা করার আদেশ দিলেন। লোকেরা ঐ মহিলাকে রজম করার জন্য মাঠে নিয়ে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে ঐ লোকদের সাথে সাক্ষাত হলো, আলী টু-এর। আলী বললেন, এ মহিলার কি হয়েছে? তখন লোকেরা বলল, এ মহিলা যিনাকারিণী। তাই উমর ফারুক তাকে পাথর মেরে হত্যা করতে বলেছেন। আলী ঐ মহিলাকে তাদের হাত থেকে কেড়ে নিলেন এবং তাদেরকে ফিরিয়ে দিলেন। তারা উমর-এর কাছে ফিরে গেল। তখন উমর তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিল? তারা বলল, আলী বললেন, কিসে আমাদেরকে ফিরিয়ে

পৃষ্ঠা-৫০

দিয়েছে। তখন উমর ফারুক বললেন, নিশ্চয়ই আলী এ বিষয়ে কিছু জানেন তাই তোমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। তখন উমর খুব রেগে আলী-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আলী! তুমি কেন তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছ? তখন আলী বললেন, হে উমর। তুমি কি জাননা যে, রাসূল কাছ থেকে। বলেছেন, কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে তিন ব্যক্তির

১. ঘুমন্ত ব্যক্তির কাছ থেকে যতক্ষণ না সে ঘুম থেকে জাগ্রত না হয়।

২. ছোট শিশু থেকে যতক্ষণ না সে বড় হয়।

৩. পাগলের কাছ থেকে যতক্ষণ না তার বিবেক ফিরে আসে। তখন উমর বললেন, হ্যাঁ, এ হাদীস তো আমি শুনেছি। তখন আলী (রা) বললেন, এই মহিলা অমুক গোত্রের পাগল মহিলা। তখন উমর আমি জানতাম না যে, এই মহিলা পাগল। বললেন, (মুসনাদে আহমদ আল মাওসুআতুল হাদীসিয়্যাহ-১৩২৮)

৭২. আলী না থাকলে উমর ধ্বংস হয়ে যেত উমর এর কাছে অবৈধ গর্ভধারী এক মহিলাকে আনা হল তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিভাবে সে গর্ভবতী হয়েছে? তখন মহিলাটি তার পাপের কথা স্বীকার করল অর্থাৎ সে যিনা করেছে এই কথা বলল। তখন উমর তাকে রজম করার আদেশ দিলেন। অতঃপর ঐ মহিলার সাথে আলী -এর সাক্ষাত হলো। তখন আলী বললেন, এই মহিলার কি হয়েছে? তখন লোকেরা বলল, আমিরুল মুমিনীন উমর তাকে রজম করার আদেশ দিয়েছেন। আলী এই সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন। এরপর বললেন, হে উমর। আপনি কি এই মহিলাকে রজম করার আদেশ দিয়েছেন? উমর টু বললেন, হ্যাঁ। এই মহিলা তার পাপের কথা স্বীকার করেছে। তাই আমি রজম করতে বলেছি। তখন আলী বললেন, হে উমর! আপনি এই মহিলার বিচার করলেন, কিন্তু

পৃষ্ঠা ৫১  থেকে ৬০

পৃষ্ঠা-৫১

এই মহিলার গর্ভে যা আছে তার বিচার কেমনে করলেন? এরপর বললেন, আপনি কি রাসূল-কে বলতে শুনেননি যে, এমন লোকের উপর হল বা শরীয়তের শান্তি কায়েম করা যাবে না যে বিপদে পড়েছে। এ কথাও বলেছেন যে, কয়েদী হয়েছে তার স্বীকৃতি গৃহীত হবে না। তখন উমার তাকে শাস্তি থেকে মুক্ত করে দিলেন এবং বললেন, যদি আলী না থাকত তবে উমর ধ্বংস হয়ে যেত। (সুনানে সাঈদ বিন মানসুর- ২০৮৩)

৭৩.তারা জাহেলিয়াতকে সুন্নাতের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে উমর এমন এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে মহিলা তালাক প্রাপ্তা ছিল এবং তার তিন মাস সময়সীমা বা ইদ্দত শেষ না হওয়ার আগেই অন্য লোকের সাথে বিয়ে বসে যায়। উমর যখন শুনলেন, তখন তাদের বিয়ে ভেঙ্গে দেন এবং তাদের বিয়ের যে মোহর ছিল তা বাইতুল মাল তথা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করে রাখেন এবং তাদের দুজনকে বললেন, তোমরা আর কখনো একত্রিত হবে না। এ খবর পৌঁছে গেল। আলী-এর কাছে। তখন তিনি বললেন, যদিও তারা ইদ্দত শেষ না হওয়ার আগে বিয়ে বসে অন্যায় করেছে কিন্তু মোহর পাবে ঐ মহিলা। কারণ ঐ মহিলার লজ্জাস্থানকে ব্যবহার করা হয়েছে। মোহর বাইতুল মালে জমা করা যাবে না। আর তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ করাও ঠিক আছে কিন্তু ইদ্দত বা সময়সীমা শেষ হলে তারা দুজন পরস্পর প্রয়োজনে আবার বিয়ে বসতে পারবে। তখন উমর মানুষদের মাঝে খুতব্য দিয়ে বললেন, সফল মানুষ যেন জাহিলিয়াতের নিয়ম ছেড়ে দিয়ে সুন্নাতের নিয়মে আসে এবং উমর ঐ মহিলার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আলী-এর সিদ্ধান্তে ফিরে আসেন। (আল মাগনী ওয়াশ শারহুল কাবীর, ১১/৬৬, ৬৭)

পৃষ্ঠা-৫২

৭৪. আলী রাসায়নিক পরীক্ষা চালালেন উমর -এর কাছে এমন একজন মহিলা আসল যে মহিলা আনসারী এক যুবকের সাথে অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে চেয়েছিল। কিন্তু ঐ যুবক সুযোগ না দেয়ায় ঐ মহিলা বিকল্প এক পদ্ধতি অবলম্বন করল। সে মহিলা একটি ডিম ভেঙ্গে তার কাপড়ে এবং তার দুই রানের মাঝে মাখল। এরপর উমর -এর দরবারে চিৎকার করতে করতে গেল এবং বলল, হে আমিরুল মুমিনীন, এই যুবক আমার সাথে অবৈধ কাজ করেছে এবং সমাজে আমার সম্মান নষ্ট করেছে। এই দেখেন তার অবৈধ কাজের আলামত বা লক্ষণ। তখন উমর মহিলাদেরকে বললেন, হে মহিলারা দেখতো এই মেয়েটির গায়ে কিসের আলামত? তখন মহিলারা বলল, হে আমিরুল মুমিনীন, এসব হলো বীর্য বা শুক্রকিটের আলামত। তখন উমর টুল্লে বুঝলেন যে, এই যুবকের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু ঐ যুবক কাকুতি-মিনতি করতে লাগল এবং বলতে লাগল যে, হে আমিরুল মুমিনীন! আমি এ কাজ করিনি। বরং এ মহিলা আমার সাথে অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে চেয়েছিল। আর আমি আমার নিজেকে সংরক্ষিত রেখেছি। অতঃপর উমর বললেন, হে আলী। আপনি এদের ব্যাপারে কি মনে করেন। এরপর আলী ইত্রে কাপড়টা দেখলেন এবং খুব গরম পানি নিয়ে আসতে বললেন। অতপর ঐ পানি কাপড়ের উপর মারলেন। এতে করে ঐ ডিম জমে গেল। আলী পূদ্র তা মুখে দিলেন এবং ডিমের স্বাদ পেলেন। এভাবে রসায়ানিক পরীক্ষার মাধ্যমে আসল ঘটনা উদঘাটন করলেন এবং ঐ মহিলাকে খুব শাসালেন। ফলে ঐ মহিলা সব কিছু স্বীকার করল। (আতু তুরুকুল হকমিয়্যাহ, পৃ: ৪৯)

পৃষ্ঠা-৫৩

৭৫. খলিফার দৈনন্দিন খরচ উমর ইবনে খাত্তাব যখন খেলাফতের দায়িত্ব নিলেন তখন বাইতুল মাল থেকে কোনো কিছু নিতেনও না এবং খেতেনও না। কিন্তু প্রজাদের ব্যাপারে অনেক সময় দেয়ার কারণে তিনি তার ব্যবসায়ও সময় দিতে পারলেন না। তাই তিনি সাহাবীদের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করলেন। তখন উসমান বিন আফফান বললেন, আপনি বাইতুল মাল থেকে খান এবং খাওয়ান। সাঈদ বিন যায়েদ এবং আমর বিন নুফাইল ও এ পরামর্শ দিলেন। এরপর উমর আলী -কে বললেন, হে আলী! এ বিষয়ে আপনি কি পরামর্শ দেন? তখন আলী ট্রেবললেন, আপনি সকাল ও বিকালের খাবারের খরচ গ্রহণ করুন। তখন উমর পরমর্শ গ্রহণ করলেন। (আল খিলাফাতুর রাশিদাহ, পৃঃ ২৭০) আলী-এর

৭৬. হিজরী সন রাষ্ট্রের কার্যাদী সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য খলিফা উমর ইবনে খাত্তাব একটি স্থায়ী লিখিত তারিখ বা সন তৈরি করতে চাইলেন। তাই তিনি এ বিষয়ে লোকদের ডাকলেন এবং বললেন, কোনো দিন হতে আমরা তারিখ লিখতে পারি? তখন আলী বললেন, যে দিন থেকে রাসূল মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছেন সেদিন থেকে। উমর (রা:) তাই করলেন। (আত তারীখুল কাবীর, ৯/১)

পৃষ্ঠা-৫৪

৭৭. আমাকে এটা পড়িয়েছে আমার বন্ধু আবু সাফর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী -কে এমন একটি ডোরা- কাটা চাদরের ব্যাপারে স্বপ্ন দেখানো হলো, যে চাদরটি তিনি বেশি বেশি পড়তেন। স্বপ্নে বলা হলো যে, হে আলী! নিশ্চয়ই আপনি এ চাদরটি বেশি বেশি পড়েন, তাই না? তখন আলী বললেন, হ্যাঁ। নিশ্চয়ই এই ডোরা কাটা চাদরটি আমাকে পড়িয়েছে আমার বন্ধু উমর ইবনে খাত্তাব কেঁদে ফেলেন। (আল মুসান্নাফ লি ইবনে আবি শায়বাহ, ১২০৪৭) এরপর

৭৮. অবরোধকারীদেরকে প্রতিহত করতে চেয়েছেন আলী উসমানকে বললেন, হে খলিফাতুল মুসলিমীন! নিশ্চয়ই আমার কাছে পাঁচশত বর্ম আছে যা যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আপনি আমাকে অনুমতি দেন এগুলো দিয়ে আমি শত্রুদের প্রতিহত করি। কারণ আপনি জানেন না আপনার পিছনে অনেক লোক লেগে আছে আপনাকে হত্যা করার জন্য। তখন উসমান বললেন, হে আলী! আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এবং আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি কিন্তু আমি চাচ্ছি না যে, রক্তপাত হোক। (তারীখে দিমাশক, পৃঃ ৪০৩)

৭৯. আলী প্রতিহত করেন সুয়াইদ বিন গাফলা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শিয়া সম্প্রদায়ের কিছু লোকদের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং দেখলাম তারা পরস্পরে আলোচনা করছে যে, আবু বকর এবং উমর ট্রে -এর ব্যাপারে এমন কিছু খারাপ কথা রটাবে যা তারা করেনি। তখন আমি আলী-এর কাছে ছুটে গিয়ে এগুলো বলি। ঐ মুহূর্তে আলী ও আমার হাত ধরে কেঁদে

পৃষ্ঠা-৫৫

ফেললেন। এবং সাথে সাথে মসজিদের মেম্বারে চড়ে বলতে থাকেন হে মানুষেরা। তোমরা কি এমন দুই ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করতে চাও, যারা সত্যতার ব্যাপারে রাসূল-এর সাথী ছিলেন। যারা সৎ কাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন। যাদের মতো আর কাউকে রাসূল ভালোবাসতেন না। যাদেরকে পাপী, খারাপ মনের মানুষেরা ব্যতীত শুধুমাত্র মুমিন, পরহেজগার ব্যক্তিরাই ভালোবাসতো। যাদের প্রতি রাসূল সন্তুষ্ট ছিলেন। যারা মৃত্যুর পরেও তাদের প্রতি মুমিনরা খুশি আছেন। এভাবে তীব্র জ্বালাময়ী বক্তব্যের মাধ্যমে আলী প্লে আবু বকর ও উমর এর সম্মান রক্ষা করতে চেয়েছেন। (উসমান ইবনে আফফান লিস সালাবী, পৃঃ ১৭৬)

৮০. উসমান বিন আলী আবু সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন একটি ছোট ছেলেকে দেখলাম যার গালগুলো মাংসে পরিপূর্ণ ছিল এবং দেখতে নব- যৌবনে পদার্পণ করতে যাচ্ছে এমন মনে হচ্ছিল। আল্লাহর কসম! সেদিন আমি মারাত্মক সন্দেহের মধ্যে পড়ে যাই এজন্য যে, আমি বুঝতে পারছিলাম না সে কি ছেলে না মেয়ে? আবু সাঈদ খুদরী গায় বলেন, অতঃপর আমি অতিক্রম করি পূর্বে দেখা ছেলের চাইতেও অধিক অধিক সুন্দর একটি সাবালক ছেলের পার্শ্ব দিয়ে যে ছেলে বসে ছিল আলী এর কাছে। তখন আমি বললাম, হে আলী! আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখুন। আপনার পার্শ্বে এই ছেলেটি কে? তিনি বললেন, এ হচ্ছে উসমান বিন আলী । (মুসনাদে আহমদ- ৭৬৯)

পৃষ্ঠা-৫৬

৮১. আবু বকর এবং উমর -এর ব্যাপারে আলীর সাক্ষ্য আবু বকর ও উমর-এর ব্যাপারে আলী বলেন, আল্লাহর কসম! আবু বকর ও উমরা এমন ব্যক্তি ছিলেন, কোনো মুমিন ও পরহেজগার ব্যক্তি ছাড়া কেউ তাদেরকে ভালোবাসতে পারে না। এবং তাদের প্রতি রাগ হয় কেবলমাত্র পাপী, বদ লোকেরা। তারা দুজন রাসূল-এর সাথী ছিল সততার ক্ষেত্রে। কোনো বিষয়ে তারা দুজন মতামত দিলে রাসূল সেই মতামত কখনো ফেলে দিতেন না, যদি তা কুরআন, হাদীসসম্মত হত। রাসূল তাদের মতামতের মতো অন্য কারো মতামতকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন না। তাদের দুজনের মত কাউকে ভালোবাসতেন না। আল্লাহর রাসূল তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থেকেই কোনো সিদ্ধান্ত দিতেন। তাদের মৃত্যুর পর মুমিনরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আছেন। এভাবে বিশাল বক্তব্যের মাধ্যমে আলী আবু বকর উম্বর-এর ব্যাপারে ভালো সাক্ষ্য প্রদান করেন। (উসমান ইবনে আফফান লিস সালাবী, পৃঃ ২৩৪) উসমান প্লে-কে পানি পান করালেন যুবাইর ইবনে মুতইম বলেন, উসমান বিন আফফানকে যখন বয়কট করা হলো, এমনকি কাফেররা যা খায় তা খেতে হচ্ছিল। তখন আমি আলী বিন আবু তালেব টু-এর কাছে যাই এবং বলি যে, হে আলী! উসমান ট্রেকে বয়কট করা হয়েছে। তাকে ফকির-মিসকিনদের খাবার খেতে হচ্ছে। এসব দেখেও কি আপনি সন্তুষ্ট হয়ে রয়েছেন। তখন আলী প্লে বলেন, সুবহানাল্লাহ, তারা উসমান -এর ব্যাপারে এত নিম্নে নেমে গিয়েছে? তখন যুবাইর তখন আলী বলেন, বরং তার চেয়েও আরো অধিক নিচে নেমেছে। ৮২.

পৃষ্ঠা-৫৭

৮৩. আলী এবং একজন হিংসুক ইহুদী লোক একজন ইহুদী আলী -কে বলল, তোমরা তো তোমাদের নবী-কে দাফন করার সময় অনেক ইখতিলাফ বা মতানৈক্যে পতিত হয়েছ। তখন আলী বলেন, আমরা নবীর দাফনের ব্যাপারে মতানৈক্য করেছি ঠিক কিন্তু আমরা তার আনীত ধর্মের ব্যাপারে মতানৈক্য করিনি। তোমরা তো তোমাদের শরীয়তের ব্যাপারে একমত হতে পারনি। তোমরা তোমাদের নবীকে বলেছিলে- قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ “হে মুসা! আমাদের একটা ইলাহ বা মূর্তি বানিয়ে দাও। যেমনিভাবে তাদের অনেকগুলো ইলাহ আছে। তোমরা তো মূর্খ জাতি।” সূরা আরাফ: আয়াত-১৩৮) (আত তাষকীরাতুল হামদুনিয়্যাহ, ১৬৪) (

৮৪. প্রতিশোধ গ্রহণ করার জন্য নাজিয়াতুল কুরশী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা বলেন, এক লোক আলী ট্রে-কে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! দুজন লোক ঝগড়া করছে। ঘটনা তদন্ত করতে গেলে দুজনের একজন বলে, এই লোক আমার কাছ থেকে বকরী কিনেছে। বিক্রির সময় আমি বলেছিলাম আমাকে অর্জিনাল দিরহাম দিতে হবে। কিন্তু সে তা না দিয়ে অন্য দিরহাম দিয়েছে। ফলে আমি তা ফিরিয়ে দিয়েছি। তাই সে আমাকে লাথি মারে। এরপর আলী অপরজনকে জিজ্ঞেস করে। তুমি কিছু বলবে? সে বলল, আমার বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ঠিক। তখন আলী বললেন, তাহলে তুমি তার শর্ত পূরণ কর। এরপর যে লাথি মারল তাকে বলল, তুমি বস।

পৃষ্ঠা-৫৮

আর যাকে লাথি মারা হলো তাকে বললেন, এখন তুমি লাথি মেরে প্রতিশোধ নিয়ে নাও। কিন্তু সে লোক বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আমি তাকে মাফ করে দিলাম। এরপর আলী অপরাধী ব্যক্তিটিকে ধরল এবং পনের দুররা মারার আদেশ দিলেন। আর বললেন, এটা হচ্ছে বিচারকের হক। (তারীখে তাবারী, ৬/৭৩)

৮৫. এটা সে কোথায় পেল আবু রাফে হতে বর্ণিত। তিনি আলী-এর খেলাফতকালে বাইতুল মাল বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের রক্ষী ছিলেন। তিনি বলেন, একদিন আলী বাড়িতে এসে তার মেয়ের পড়নে মণি-মুক্তা জড়িত কিছু দেখলেন। যেটা দেখেই আলী বুঝতে পরলেন যে, এটা বাইতুল মালের সামগ্রী। এরপরও তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কোথা থেকে এসেছে? আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দেব। আবু রাফে বলেন, যখন তার প্রচ- রাগ দেখলাম, তখন আমি বললাম, হে আমিরুল মুমিনীন! আমি এটা আমার ভাইয়ের মেয়ের জন্য বাইতুল মাল থেকে এনেছি। তখন তিনি বললেন, আমি যদি জন্ম না দিতাম কোথা থেকে তুমি ভাতিজি পেতে? তখন আবু রাফে চুপ হয়ে যায়। মূলত আলী টু বাইতুল মাল থেকে এসব আনা মোটেও পছন্দ করেন নি তাই তিনি রেগে গিয়েছিলেন। (তারীখে তাবারী, ৬/৭২)

পৃষ্ঠা-৫৯

৮৬. একজন ইয়াহুদী কাজীর শুরাই এর দরবারে সুরাই আল-কাজী বলেন, আলী যখন মুয়াবিয়া -এর সাথে যুদ্ধ করার জন্য বের হলেন তখন একটি বর্ম যা নিজেকে সংরক্ষণ করার জন্য যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় তা তিনি হারিয়ে ফেললেন। যখন যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় তখন আলী কুফাতে ফিরে আসেন। এসে একদিন বাজারে গিয়ে দেখেন যে, তার হারানো বর্মটি একজন ইয়াহুদী বিক্রি করছে। তখন আলী বললেন, হে ইয়াহুদী! এই বর্ম তুমি কোথায় পেলে? এটাতো আমার বর্ম। তখন ইয়াহুদী বলল, না এটা আমার বর্ম। আলী বললেন, আমরা কাজীর কাছে যাব। আলী এবং ইয়াহুদী দুজনই কাজীর কাছে গেল। কাজী হলেন, শুরাই। শুরাই জিজ্ঞাসা করল, কি ঘটনা? আলী (র:) বললেন, এটা আমার বর্ম। তখন কাজী বললেন, আপনার প্রমাণ কি? তখন আলী (রাঃ) বললেন, আমার দাস কানবার, আমার ছেলে হাসান ও হুসাইন সাক্ষ্য দেবে যে, এটা আমার বর্ম। তখন বিচারক বলল, ছেলের সাক্ষ্য পিতার জন্য জায়েয নয়। তখন জনৈক লোক বলল, যে হাসান ও হুসাইন সম্পর্কে রাসূল বলেছেন এরা দুজন জান্নাতে যুবকদের সর্দার হবে। তাদের সাক্ষ্যও গৃহিত হবে না? এটা কেমন কথা? ইহুদী লোকটি এসব কার্যকলাপ দেখে আশ্চর্য হচ্ছে এবং বলছে, দেশের একজন নেতা হয়ে আলী তার নিয়োজিত কাজীর কাছে এভাবে ছোট হয়ে বিচার চাচ্ছে। এ দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করল এবং সে মুসলমান হয়ে গেল। এবং স্বীকার করল যে, হে আমিরুল মুমিনীন, এই বর্ম আপনারই। আমি এটা আপনার কাছ থেকে চুরি করেছিলাম।

পৃষ্ঠা-৬০

৮৭. সর্বপ্রথম তিনি যা বললেন খেলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে সর্ব প্রথম আলী ড্র যা বললেন তা হলো, নিশ্চয়ই এটা হচ্ছে তোমাদের বিষয়। এ বিষয়ে কারো কোনো হক নেই। তোমরা যাকে আদেশ দিবে সে ছাড়া। এটা তোমরা ছাড়া আমার কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়। (তারীখুত তাবারী, ৫/৪৫৩)

৮৮.প্রজাদেরকে সৎকাজের প্রতি উৎসাহিত করতেন খলিফা খেলাফতে আসীন হওয়ার পর প্রজাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন। খলিফা একদিন খুৎবায় দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, হে মানুষেরা! তোমাদের পূর্বে যারা ধ্বংস হয়েছে তাদের কারণ ছিল, তারা পাপের কাজ করতো কিন্তু তাদের ধর্মজাজকরা নিষেধ করত না। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি তাদেরকে গ্রাস করেছিল। অতএব তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মত শাস্তি আসার পূর্বেই সৎকাজ কর এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাক। জেনে রেখ, নিশ্চয়ই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ রিযিকও কমায় না এবং বয়সও কমায় না। (তাফসীরে ইবনে কাসীর, ২/৬০৪)

৮৯. আরবী ও অনারবী লোকদের মাঝে খলিফার ন্যায় বিচার আলী য় দুইজন মহিলার মাঝে খাদ্য এবং দিরহাম সমান ভাগে ভাগ করে দিলেন। একজন মহিলা ছিল আরব দেশের। আরেকজন ছিল অনারব তথা আরব দেশের বাহিরের। আরবী দেশের মহিলাটি বলল, আমি আরব দেশের লোক আর সে আরব দেশের নয়। এরপরও কেনো আপনি সমান সমান দিলেন? তখন আলী ট্রে উত্তর দিলেন, ইসমাঈল বংশের লোক এবং ইসহাক বংশের লোকদের মাধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পৃষ্ঠা ৬১  থেকে ৭০

পৃষ্ঠা-৬১

৯০. মুসলমানদের খলিফার হাতে বাইয়াত গ্রহণ উসমান-কে হত্যা করার পর লোকেরা আলী-এর কাছে এসে বলল, আপনাকে আমাদের খলিফা হতে হবে। তখন আলী বললেন, না তোমরা আমাকে এ দায়িত্ব দিতে যেও না। জনগণ বলল, আল্লাহর কসম! আমরা আপনাকে ছাড়া আর কাউকে খলিফা হওয়ার উপযুক্ত মনে করি না। তখন আলী বললেন, ঠিক আছে, তোমরা যদি আমাকেই খলিফা বানাতে চাও তাহলে আমার বাইয়াত গোপনে হবে না। তাই তিনি মসজিদে গেলেন, সব লোকেরা তার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করল।(কিতাবুস সুন্নাহ লি আবি বাকার, পৃঃ ৪১৫)

৯১.প্রথম খুতবা যেদিন সবাই বাইয়াত গ্রহণ করবে সেদিন আলী বাড়ি থেকে বের হলেন ভালো পোশাক পরে। এরপর আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই খিলাফত এমন দায়িত্ব যাতে কারো কোনো হক নেই তোমরা যাকে আদেশ দিবে সে ব্যতীত। তোমাদের মাধ্যমেই এসব কিছু বাস্তবায়িত হবে। এরপর উচ্চকণ্ঠে বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট আছ? সবাই বলল, হ্যাঁ। তখন আলী বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো। এরপর মুসলমানেরা বাইয়াত গ্রহণ করল। (দেরাসাত ফী আহদিন নাকুবিয়্যাহ, ২৮২)

পৃষ্ঠা-৬২

৯২. অবাধ্যতার প্রতিদান আমিরুল মুমিনীন আলী বলেন, অপরাধের প্রতিদান হচ্ছে, ইবাদতের ক্ষেত্রে দুর্বলতা আসবে। জীবনে চলার ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা আসবে। স্ত্রীর কাছে মনোবাসনা পূরণের জন্য গেলে ঘাটতি আসবে। আলী আরো বলতেন, যে ব্যক্তি সম্মান চায় কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক ব্যতীত এবং যে ব্যক্তি আভিজাত্য চায় কোন আধিক্যতা ব্যতীত এবং যে ব্যক্তি ধনি হতে চায় মাল ব্যতীত সে যেন পাপ থেকে বাঁচে এবং আনুগত্যশীল হয়।

(তারীখুল ইয়াকুবী, ২/২০৩)

৯৩. মুনাফিকের লক্ষণ আলী -এর মতে, মুনাফিকদের জন্য রয়েছে তিনটি আলামত।

১. এরা যখন একা একা থাকে তখন খুব অলস হয়।

২. যখন মানুষের কাছে আসে তখন খুব কর্মঠ বা পটু হয়।

৩. তার কাজের প্রশংসা করলে কাজ বেশি করে করতে থাকে। আর কাজের নিন্দা জানানো হলে, এরা কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

(আল কাবাইর লিয যাহাবী, পৃঃ ১৪৯)

৯৪. বাজারে অনুসন্ধানমূলক চক্কর হুর বিন জুরমুজ আল-মারাদী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তার পিতা বলেন, আমি আলী -কে দেখেছি যে, তিনি বাড়ি থেকে বাজারের দিকে বের হয়ে যেতেন। তখন তার হাতে একটি লাঠি থাকত। বাজারে গিয়ে বলতেন, আল্লাহকে ভয় কর, ব্যবসা-বাণিজ্য সুন্দর পন্থায় কর। ওজনে কম-বেশি করিও না। এভাবে বাজারে গিয়ে প্রায়ই সতর্ক করতেন এবং খোঁজ খবর নিতেন। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ৪/৭)

পৃষ্ঠা-৬৩

৯৫.মুসলমানদের বাজার আসবাগ বিন নাবাতাহ বলেন, আমি আলী-এর সাথে বের হলাম। তখন লোকেরা বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! বাজারের লোকেরা প্রত্যেকে তারা তাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে। তখন আলী বাজারের উদ্দেশ্যে বললেন, হে বাজারবাসীরা শোন! নিশ্চয়ই মুসলমানদের বাজার মুসলমানদের নামাযের স্থানের মতো। যে আগে আসবে সে যে স্থান গ্রহণ করবে ঐ দিনের ঐ জায়গা তার। পরবর্তী দিন আবার যে আগে আসবে তার জন্য সে জায়গা হয়ে যাবে। (আল আমওয়াল লি আবি উবাইদাহ, পৃঃ ১২৩)

৯৬.সাহাবীদের প্রশংসা করতেন আবু আরাকাহ বলেন, আমি আলী-এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করলাম। এরপর আলী মসজিদে বসে রইলেন। অতঃপর সূর্য যখন মসজিদের বারান্দায় এসে গেল তখন তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম! আমি মুহাম্মদ-এর সাহাবীদের যেমন দেখতাম আজকে ঐ রূপ দেখতে পাই না। নবী-এর সাহাবীরা সকাল করতেন শূন্য হাতে, এলোমেলো চুল নিয়ে, অনুন্নত কাপড় পড়ে মুসাফিরের মতো। তারা রাত্রী কাটাত মহান আল্লাহর ইবাদত করে। তারা কুরআন তেলাওয়াত করত কঠিন বাতাসের সময় গাছ-পালা যেমন দ্রুত গতিতে উড়ে যায় তেমন ছিল সাহাবীদের আমলের ক্ষেত্রে আগ্রহ ও উদ্দীপনা। আল্লাহর কসম। মানুষ আজ খুবই গাফেল হয়ে গেছে। এভাবে খলিফা তার প্রজাদেরকে ইবাদতের ক্ষেত্রে আগ্রহী হওয়ার জন্য বলতেন।

পৃষ্ঠা-৬৪

৯৭.নিশ্চয়ই আমি ঐ রকম নই আবু বুখতারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক আলী-এর কাছে আসল এবং আলী-এর খুব প্রশংসা করল। আর লোকটি ছিল খারাপ প্রকৃতির, যা আলী জানতেন। ঐ লোকটি যখন আলী -এর প্রশংসা করল, তখন আলী া বললেন, নিশ্চয়ই আমি ঐ রকম নই। যেমন তুমি বলতেছ। বরং তোমার অন্তরে যা আছে আমি তার চেয়েও উপরে। খলিফা এজন্যই একথা বললেন, ঐ লোকের মুখে ছিল এক কথা এবং অন্তরে ছিল আরেক কথা। (তারীখুল ইসলাম লিখ যাহাবী, পৃ: ৬৪৬)

৯৮. উৎকৃষ্ট বান্দাদের গুণাবলি আলী -কে উৎকৃষ্ট বান্দাদের গুণাবলি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এরা হলো এমন লোক:

১. ভালো কাজ করলে খুশি হয়।

২. খারাপ কাজ করলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়।

৩. বিপদ আসলে ধৈর্য ধারণ করে।

৪. রাগ উঠলে নিজেকে সংবরণ করে এবং মাফ করে দেয়।

৫. তাদের অন্তরগুলো চিন্তিত থাকে।

৬. নফসগুলো সংযমী।

৭. তাদের প্রয়োজনগুলো হালকা।

৮. রাত্রি অতিবাহিত করে তাহাজ্জুদ সালাতের মাধ্যমে।

৯. চাল-চলন হয় বিনয় সম্পন্ন ও নম্রতা পূর্ণ।

১০. তাদের জন্য বিপদ থাকা সত্ত্বেও সহজে বুঝা যায় না। এভাবে আলী (রা) অনেকগুলো গুণ বর্ণনা করেন। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ৬/৮)

পৃষ্ঠা-৬৫

৯৯. নিশ্চয়ই তোমরা সক্ষম হবে না আসেম বিন যামরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলী-কে নবী-এর দিনের বেলার নফল সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তখন আলী বললেন, তোমরা এগুলো আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমরা বললাম, আপনি বলুন, আলী যে উত্তর দিলেন, তার সার সংক্ষেপ হচ্ছে নবী দিনের বেলায় বিভিন্ন পর্যায়ে ষোল-রাকাত নফল সালাত আদায় করতেন। যে সালাতগুলো সময়গত দিক বিবেচনা করলে কারো পক্ষে তা আদায় করা সহজে সম্ভব নয়। তাই আলী তাদেরকে প্রথমে বলেছিলেন, তোমরা এগুলো আদায় করতে সক্ষম হবে না।

১০০. (মুসনাদে আহমদ, ২/৬২) আমি সফর করব আল্লাহর উপর আস্থা রেখে আলী যখন খারেজীদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য সফর করার ইচ্ছা করলেন, তখন মুনজিম নামক এক লোক এসে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি এ সময় সফর করবেন না। কারণ এ সময়ে বের হলে আপনার সাহাবীরা বিজয়ী হতে পারবে না। আলী বললেন, আমি আল্লাহর উপর আস্থা রেখে এবং তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করে এখনই সফর করব। অতঃপর সফর করলেন। ফলে সফরে বরকত হলো। তিনি খারিজীদের হত্যা করেন। অপর বর্ণনায় আছে যে, যখন আলী নাহরাওয়ান থেকে ফিরে আসেন তখন আল্লাহর প্রশংসা করেন। এরপর বলেন, যদি আমরা ঐ সময় বের হতাম যেই সময়ে বের হবার জন্য মুনজিম আমাদেরকে বলেছিল তাহলে মুর্খ লোকেরা বলতো, মুনজিম যে সময়ে বলেছে সে সময়ে সফর করার জন্যই বিজয় এসেছে।

পৃষ্ঠা-৬৬

১০১.একদল আলী-কে প্রভু দাবি আব্দুল্লাহ ইবনে শারীফ আল-আমেরী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তার পিতা বলেন, আলী -কে বলা হলো, নিশ্চয়ই মসজিদের কাছে একদল লোক আছে যারা আপনাকে তাদের রব হিসেবে দাবি করে বা মানে। তখন আলী তাদের ডাকলেন এবং বললেন, তোমরা ধ্বংস হও, তোমরা এসব কি করছ? তারা বলল, আপনি আমাদের প্রভৃ, আপনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, আপনি আমাদের রিযিকদাতা। তখন আলী বললেন, তোমরা ধ্বংস হও। আমি তোমাদের মতোই আল্লাহর একজন বান্দা। আমি খাই যেমন তোমরা খাও। আমি পান করি যেমন তোমরা পান কর। আমি যদি আল্লাহর আনুগত্য করি তাহলে আল্লাহ চাহে তো আমাকে নেকী দিবেন আর আমি যদি তার অবাধ্য হই তাহলে আমি ভয় পাই যে, তিনি আমাকে শাস্তি দিবেন। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। এবং তোমাদের এই ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে প্রত্যাবর্তন কর। তারা অস্বীকার করল। তারা তাদের মতের উপর অটল থাকল।যখন একদিন চলে গেল, দ্বিতীয় দিন আলী-এর দাস কামরায় এসে বলল, হে আলী! আল্লাহর কসম! ঐ লোকেরা তাদের মতের উপর অটল আছে। তখন আলী বললেন, তাদের আসতে বল। তারা এসে তাদের পূর্বের কথাই বলল। অতঃপর যখন তৃতীয় দিন হলো, তখন আলী তাদেরকে বললেন, তোমরা যদি আবার এসব কথা বল, তবে আমি তোমাদেরকে অতীব নিকৃষ্টভাবে হত্যা করব। তারা আগে যা বলল, তার উপরই অটল থাকল। অতঃপর আলী-এর আদেশে আলী-এর বাড়ি এবং মসজিদের মাঝে গর্ত করা হলো। এরপর আলী তাদেরকে বললেন, এখনও সময় আছে তোমরা তোমাদের ভ্রান্ত মত থেকে ফিরে আস না হলে এই গর্তে তোমাদের নিক্ষেপ করব। তারা তাদের বিশ্বাস থেকে ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানাল। তখন আলী তাদেরকে গর্তে ফেলে দিতে বললেন। পরিশেষে তাদেরকে ঐ গর্তের মধ্যে পুড়িয়ে মারা হয়।

পৃষ্ঠা-৬৭

১০২.আমি আলী-কে জিজ্ঞেস করব মুকাদ্দিম বিন শুরাই তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেন, আমি আয়েশা -কে বললাম, হে আয়েশা! আমাকে নবী-এর সাহাবীদের মধ্যে হতে এমন একজনের সম্পর্কে বলেন, যাকে আমি মুজার উপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। তখন আয়েশা বললেন, তুমি আলী -এর কাছে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর। বর্ণনাকারীর পিতা বলেন, অতঃপর আমি আলী -এর কাছে আসলাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন আলী বললেন, রাসূল আমাদেরকে সফর অবস্থায় মুজার উপর মাসেহ করার আদেশ দিয়েছেন। (মুসনাদে আহমদ, ২/১৯৫)

১০৩.মুয়াবিয়াহ’ -কে জিজ্ঞাসা করা হয় মুয়াবিয়াহ বিন আবু সুফিয়ানকে আলী-এর মৃত্যুর পর আলী (রা:) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আবু তালেবের ছেলে আলী রাষ্ট্র-এর মৃত্যুতে ‘বুঝ’ এবং ‘জ্ঞান’ বিদায় নিয়েছে। (আল ইসতিআব- ১১০৪)

১০৪.আলেমের হক খলিফাতুল মুসলিমীন আলী আলেমদের কিছু হক বর্ণনা করেন যেগুলো হলো:

১. তাকে বেশি প্রশ্ন করা যাবে না।

২. উত্তরের জন্য বাড়াবাড়ি করা যাবে না।

৩. যখন একজন আলেম ক্লান্ত হয়ে যাবেন তখন তাকে বিরক্ত করা যাবে না।

৪. যখন আলেম সাহেব কোনো বৈঠক থেকে উঠে চলে যেতে চাইবেন তখন তার কাপড় টেনে ধরা যাবে না।

পৃষ্ঠা-৬৮

৫. তার গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করা যাবে না।

৬. তার সামনে কারো নিন্দা করা যাবে না।

৭. তার ভুল অন্বেষণ করা যাবে না।

৮. যদি কখনো তার কোনো অসুবিধা আসে তখনো তাকে সম্মান করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর আদেশের হেফাজত করবেন।

৯. তার সামনে বসা বাঞ্ছনীয়। (বিশেষ পরিস্থিতিতে)

১০. যদি কখনো তার কোনো প্রয়োজন দেখা দেয় তখন তার খেদমতে অগ্রগামী হতে হবে। (জামেউন বায়ানুল ইলম ওয়া ফায়লিয়ী, ১/৫২০)

১০৫.হে স্বর্ণ! হে রৌপ্য!আলী বিন রাবীয়াহ আল-ওয়ালিবী হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই ইবনুন-নাবা নামক এক লোক আলী-এর কছে এসে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! মুসলমানদের বাইতুল মাল বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার স্বর্ণ ও রৌপ্য পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। তখন আলী ম্নে বললেন, আল্লাহু আকবার! অতঃপর ইবনুন-নাবার উপর ভর দিয়ে তিনি দাঁড়ালেন, এরপর মুসলমানদের বাইতুল মালের কাছে গেলেন। এবং বললেন, হে ইবনুন নাবা, আমার দায়িত্ব হচ্ছে, এগুলো কুফাবাসীদের মধ্যে দিয়ে দেয়া। তখন সমস্ত লোকদেরকে ডাকা হলো। অতঃপর মুসলমানদের বাইতুল মালে যা কিছু ছিল সবকিছু লোকদেরকে দিয়ে দিলেন এবং বলছিলেন, হে স্বর্ণ, হে রৌপ্য! আমাকে ছাড়াই উজ্জ্বল হয়ে গেল। এমনকি সবাইকে দিতে দিতে সবই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপর আলী স্রে এ জায়গাতে পানি ঢেলে দিতে বলেন। অতঃপর ঐ স্থানে তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করেন।বিঃ দ্রঃ আলী অতি আনন্দে বলেছিলেন, হে স্বর্ণ, হে রৌপ্য! আমাকে ছাড়াই উজ্জ্বল হয়ে গেল? যেহেতু তিনি সবার হাতে তা পৌঁছাতে পেরেছেন তাই এ আনন্দে এ কথা বলেছেন।

পৃষ্ঠা-৬৯

১০৬.এটা আমার নির্বাচিত হারুন বিন আনতারা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তার পিতা বলেন, আলী যখন কুফার শহরের খাওরানক নামক জায়গাতে ছিলেন, তখন আমি তার কাছে যাই। গিয়ে দেখি পুরাতন একটি কাপড় তার গায়ে জড়ানো আছে এবং তিনি প্রচুর ঠাণ্ডার কারণে কাঁপছিলেন। তখন আমি বললাম, হে আমিরুল মুমিনীন! নিশ্চয়ই আল্লাহ এই বাইতুল মাল আপনার জন্য এবং আপনার পরিবারের জন্য করে দিয়েছেন। এই বাইতুল মাল থেকে আপনি তো ইচ্ছা করলে গ্রহণ করতে পারেন। তখন আলী পুত্র বললেন, আল্লাহর কসম! আমি সামান্যতম মাল তোমাদের বাইতুল মাল থেকে গ্রহণ করব না। আর জেনে রাখ, এই যে আমার গায়ে জড়ানো কাপড়টি দেখছ এই কাপড়টি পড়েই আমি মদিনা থেকে বের হয়েছিলাম। এটা আমার নির্বাচিত কাপড়। (সিফাতুস সাফওয়াহ, ১/৩১৬)

১০৭. কেনো আপনার জামাতে তালি দিয়েছেন উমর ইবনে কায়েস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী টু-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি আপনার কাপড়ে তালি দিয়েছেন কেন? তিনি উত্তরে বলেন, এতে অন্তর বিনয়ী হবে এবং মুমিনরা এর অনুসরণ করবে।

পৃষ্ঠা-৭০

১০৮. পরিবারের কর্তা আলী হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই তিনি একদিন খেজুর কিনলেন এবং নিজেই তা বহন করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন লোকেরা বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! দেন, আমরা নিয়ে যাই। তখন আলী পুত্র বললেন, না! পরিবারের জিনিস পরিবারের কর্তাকে বহন করা বেশি উপযুক্ত। (আয যুহদু লিল ইমাম আহমদ, পৃঃ ১৩)

১০৯. আমার পক্ষ থেকে সন্তুষ্ট থাক আব্বাস -এর দাস সুহাইব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলীকে দেখেছি আব্বাস-এর হাতে ও পায়ে চুমা দিতে এবং এ কথা বলতে যে, হে আমার চাচা! তুমি আমার পক্ষ থেকে সন্তুষ্ট থাক। (আসহাবুর রাসূল লি মাহমুদ আল মিসরী, ১/২২৪)

১১০.মানুষদেরকে তাদের যথার্থ স্থানে রাখ এক লোক আলী ট্রে-এর কাছে এসে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার কাছে আমার একটা প্রয়োজন আছে। যদি আপনি আমার প্রয়োজনটি পূরণ করে দেন তাহলে আমি আল্লাহর প্রশংসা করব এবং আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করব। আর যদি আমার প্রয়োজনটি পূরণ করে না দেন, তাহলে আল্লাহর প্রশংসা করব এবং আপনাকে আমার এ অভাবের জন্য দায়ী করব। তখন আলী বললেন, ঠিক আছে তোমার প্রয়োজনটি মাটিতে লিখে দেখাও। কারণ আমি অপছন্দ করি তোমার মুখে তোমার চাওয়ার অপমান হোক। তখন সে লোক মাটিতে লিখল। নিশ্চয়ই

পৃষ্ঠা ৭১  থেকে ৮০

পৃষ্ঠা-৭১

আমি অভাবী। তখন আলী তাকে একটি চাদর দিলেন। ঐ লোকটি সেটি নিল এবং পরিধান করল। অতঃপর লোকটি একটি কবিতা আবৃত্তি করল। যে কবিতার মাধ্যমে বুঝা গেল সে লোক অভাবী ছিল না। অতঃপর আলী বললেন, ওহে! এই চাদরের বিনিময়ে দিনার দিতে হবে। তখন লোকটি একশত দিনার দিল। তখন আসবাহ বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! একটি চাদর দিয়ে আপনি একশত দিনার নিলেন যে? বুঝলাম না। তখন আলী বললেন, হে আসবাহ! আমি রাসূল থেকে শুনেছি, মানুষদেরকে তাদের যথার্থ স্থানে রাখ। আমি প্রথমে লোকটিকে অভাবী মনে করেছি, কিন্তু পরে বুঝতে পারি লোকটি ধনী। তাই এই লোকের কাছে চাদরেরর বিনিময়ে দিনার গ্রহণ করাই তার যথার্থ স্থান। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ৮/৯) এটা আলী -এর গুণাবলি যিরার বিন যামীরা আলী প্লে-এর গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আলী (রা:) ছিলেন দুনিয়া বিমুখী। তিনি ছিলেন আখিরাত মুখী। তিনি রাত্রে উঠে ক্রন্দন করতেন এবং হে প্রভু! হে প্রভু! বলে আল্লাহকে আহ্বান করতেন। দুনিয়াকে লক্ষ করে বলতেন, হে দুনিয়া! দূর হও, দূর হও। তোমার সময় তো খুব অল্প, তোমার স্থান তো তুচ্ছ, তোমার ক্ষতি তো খুব সহজে আসে। এ রকম ভাবে যিরার বিন আলী-এর গুণ বর্ণনা করছিলেন তখন আবু সুফিয়ান-এর ছেলে মুয়াবিয়া দু’ চোখের পানি ছেড়ে কাঁদছিলেন। উপস্থিত সবাই কেঁদে দিয়েছিল। (হুলইয়াতুল আউলিয়াই, ১/৮৫)

পৃষ্ঠা-৭২

১১২. আখিরাতের সফর লম্বা আলী যখন রাত্রি বেলা সালাত আদায় করছিলেন তখন আশতার আন নাখবী বললেন, রাত্রি বেলা সাহরী খেয়ে সারা দিন রোযা রাখা এ বিশাল সময়ে অনেক কষ্ট হয়। অতঃপর আলী যখন নামায শেষ করলেন। তখন বললেন, হে আশতার! আখিরাতের সফর তো অনেক লম্বা হয়। অর্থাৎ আখিরাতে শাস্তি পেতে চাইলে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হবে। (উসমান ইবনে আফফান লিস সালারী, পৃঃ ২২৭)

১১৩.হে জ্ঞানের ধারক-বাহকেরা আলী বিন আবু তালেব বলেন, হে জ্ঞানের ধারক-বাহকেরা! জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আলেম হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে তার জ্ঞানানুযায়ী আমল করে। এবং তার জ্ঞানের সাথে আমলের মিল থাকে। অতি শীঘ্রই এমন কিছু লোক বের হবে যাদের ইলম তাদের কণ্ঠনালীর নিচে যাবে না। তারা বলবে এক রকম, আর করবে অন্য রকম। তারা গোল হয়ে বসবে। বসে একে অন্যের উপর জ্ঞানের বাহাদুরী করবে। অবস্থা এমন হবে যে, দুই জনের মধ্যে ঝগড়া করবে। এরা এমন লোক যাদের পরিত্যাগ করবে। এরা এমন লোক যাদের আমল আল্লাহর কাছে পৌঁছাবে না।

পৃষ্ঠা-৭৩

১১৪. এমন লোক যার দোয়া কবুল হয় এক ব্যক্তি আলী-কে কোনো এক বিষয়ে খবর দেয়। তখন আলী লোককে বললেন, তুমি তো এমন লোক যে শুধু মিথ্যা সংবাদ দিয়ে থাক। তখন লোকটি বলল, না আমি এরূপ করি না। তখন আলী আছে, আমি তোমায় বদ-দোয়া করি যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও ক্ষতি হবে। লোকটি বলল, ঠিক আছে। তখন আলী ঐ লোকের ক্ষতি হয়। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ৮/৬) বললেন, ঠিক তাহলে তোমার বদ-দোয়া করাতে

১১৫.খাবারের হক ইবনে আবুদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী আমাকে বললেন, হে ইবনে আবুদ! তুমি কি জান খাবারের হক কি? আমি বললাম হে আবু তালেবের পুত্র আলী। খাবারের হক আবার কি? তখন আলী ফ্রে বললেন, তুমি যখন খাওয়া শুরু করবে তখন বলবে, বিসমিল্লাহ এবং বলবে হে আল্লাহ! তুমি আমাদের যে রিযিক দিয়েছ তাতে বরকত দাও। আলী বললেন, হে ইবনে আবুদ! তুমি কি জান খাবারের কৃতজ্ঞতা কি? তখন ইবনে আবুদ বলল, খাদ্যের কৃতজ্ঞতা কি? আলী গাত্র বললেন, তুমি বলবে, আল হামদুলিল্লাহ অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর যে আল্লাহ আমাদেরকে খাওয়ালেন এবং পান করালেন। (মুসনাদে আহমদ, ২/৩২৯)

পৃষ্ঠা-৭৪

১১৬.দ্বীনের স্থায়িত্ব ও পতন কিসে একদিন আলী বাজারে গিয়ে দেখলেন যে, একজন লোক কিসসা- কাহিনী বর্ণনা করতেছেন। তখন আলী বললেন, তুমি কি বর্ণনা করছ তাড়াতাড়ি বল। অন্যথায় তোমাকে আমার হাতের এই লাঠি দিয়ে প্রহার করব। তুমি বল তো দ্বীনের স্থায়িত্ব কি এবং দ্বীনের পতন কিসে? তখন লোকটি বলল, দ্বীনের স্থায়িত্ব হচ্ছে তাকওয়া। আর দ্বীনের পতন হচ্ছে বেশি বেশি আশা করা। তখন আলী আছে তুমি তোমার কিসসা বর্ণনা করতে থাক। বললেন, সুন্দর বলেছ। ঠিক (আল মুনতাযিম ফী তারীখুল মুলুক ওয়াল উমাম লি ইবনুল জাওযী, ৫/৭০)

১১৭. তোমরা কি লজ্জাবোধ করবে না আলী লোকদেরকে বললেন, হে মানুষেরা! তোমরা কি লজ্জা করবে না। এটা কেমন বিষয় যে, তোমাদের মহিলারা বাজারে গিয়ে মানুষদের সাথে ভীর করে। (মুসনাদে আহমদ, ২/২৫৫)

১১৮. পাপাচার লোকদেরকে আটকিয়ে রাখ যখন সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো খারাপ লোক দেখতেন তখন আলী তাকে ধরে বন্দী করে রাখতেন। সে লোকের প্রতি নিজের মাল হতে খরচ করতেন আর যদি আলী-এর কাছে কোনো মাল না থাকত তখন বাইতুল মাল থেকে খরচ করতেন এবং বলতেন, যদিও এই ধরনের দুষ্ট লোকদের বন্দী করে রেখে অনেক খরচ হচ্ছে তবে জনগণ এ ধরনের লোকদের অনিষ্ট থেকে তো রক্ষা পাচ্ছে। (আল খারাজ লি আবি ইউসুফ, পৃঃ ১৫০)

পৃষ্ঠা-৭৫

১১৯.নামায নামায আলী নামাযের ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দিতেন। তিনি যখন রাস্তায় চলতেন, তখন ডেকে ডেকে বলতেন, নামায, নামায। এভাবে তিনি ফজরের সালাতে লোকদেরকে উঠাতেন। খুবই চিন্তার বিষয় যে, একজন খলিফা হয়েও এভাবে জনগণকে নামাযের জন্য ডাকতেন। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ৭/৩৩৯)

১২০. হত্যাকৃত এক ব্যক্তির বিচারে আলী একজন যুবক একদল লোকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করল যে, নিশ্চয়ই এই লোকগুলোর সাথে তার পিতা গিয়েছিল। কিন্তু যখন লোকেরা ফিরে আসে তখন যুবকটি তার পিতার কথা তাদের জিজ্ঞাসা করে। তারা উত্তর দিয়েছিল, এ যুবকের পিতা মারা গেছে। তখন যুবক বলল, আমার পিতার সাথে তো অনেক দ্রব্য সামগ্রী ছিল। এগুলো কোথায়? লোকেরা বলল, সে কিছু রেখে যায়নি। লোকেরা যখন এভাবে অস্বীকার করল। তখন আলী তাঁর একজন লেখককে ডাকল এবং ঐ লোকদের মধ্যে হতে সবাইকে এক এক করে ডাকতে লাগল এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করতে লাগল। ফলে তাদের একজন স্বীকার করে ফেলল যে, এই যুবকের পিতা মারা গিয়েছে ঠিক, কিন্তু তার দ্রব্য সামগ্রী আমরা সব নিয়ে নিয়েছি। এভাবে কৌশল অবলম্বন করে আলী প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করেন।

পৃষ্ঠা-৭৬

১২১. ঋতুবতী মহিলার সাথে সহবাস উমর আলী-কে জিজ্ঞাসা করেন, হে আলী! এমন লোক সম্পর্কে আপনি কি জানেন, যে লোক ঋতুবতী অবস্থায় তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে? তখন আলী উত্তর দিলেন, ঐ লোকের উপর কোনো কাফফারা নেই। তবে সে আল্লাহর কাছে তাওবা করবে। এবং পারলে এক দীনার সদকা করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, ১/৫৯)

১২২.ঈদের সালাত আলী যখন খেলাফতে অধিষ্ঠিত হলেন এবং কুফায় অবস্থান করছিলেন, তখন কোনো এক ঈদের সময় জনগণ বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! নিশ্চয়ই মদিনায় অনেক বৃদ্ধ এবং দুর্বল লোক রয়েছে। মাঠে গিয়ে নামায পড়া তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে যায়। তখন আলী টু একজন লোক ঠিক করে দেন যেন সে দুর্বল লোকদের নিয়ে মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করে। আলী জনগণের সাথে মাঠে গিয়ে ঈদের সালাত আদায় করেন। (উসমান ইবনে আফফান লিস সালাবী)

১২৩. অহংকারের যবাই জারুদ বিন সুবরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন অহংকারী কবি একটি উট যবাই করল। যার গোশত জনগণ ভক্ষণ করবে। তখন আলী (রাঃ) বললেন, হে লোকেরা! তোমরা এ গোশত খেয়ো না। নিশ্চয়ই এ উট কোনো দেবতার নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। (ফিকহুল ইমাম আলী, ১/৪৬৭)

পৃষ্ঠা-৭৭

১২৪. পদ্ধতি শিক্ষা দিলেন আলী-এর খেলাফতকালে এক মহিলা যিনায় লিপ্ত হওয়ার কারণে জনগণ বাজারে গর্ত করে ঐ মহিলাকে রজম করার ব্যবস্থা করল। আর লোকেরা ঐ মহিলাকে হাসি-ঠাট্টা করছিল। তখন আলী ঐ লোকদেরকে লাঠি দিয়ে মারলেন এবং বললেন, শোন! এভাবে রজম করার ক্ষেত্রে প্রথম ইমাম সাহেব পাথর মারবে। তারপর যে চারজন সাক্ষ্য দিয়েছে তারা পাথর মারবে। এরপর প্রথম কাতার পাথর মারবে। এরপর দ্বিতীয় কাতার। এভাবে পাথর মারতে হবে। (মাসান্নাফে ইবনে আব্দুল বার, ১০০৩৫)

১২৫. যিনার ক্ষেত্রে অপছন্দনীয়তা এক মহিলা উমর ইবনে খাত্তাব -কে এসে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আমি যিনা করেছি, আমাকে রজম করুন। তখন উমর ঐ মহিলাকে ফিরিয়ে দেন। পরবর্তীতে ঐ মহিলা চারজন সাক্ষী যোগাড় করার কারণে উমর তাকে রজম করে হত্যা করার আদেশ দেন। তখন আলী বললেন, হে উমর ইবনে খাত্তাব! আপনি এই মহিলাকে রজম করার আদেশ দিবেন না। মনে হচ্ছে এই মহিলা কোনো বিপদে পড়ে যিনায় লিপ্ত হয়েছিল। তখন ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কেন তুমি যিনায় লিপ্ত হয়েছিলে? মহিলা বলল, নিশ্চয়ই আমার একজন পাড়াপড়শি লোক ছিল। সে উট নিয়ে মাঠে যেত যে উটের স্তনে দুধ ছিল এবং সে সাথে পানি নিয়ে যেত। আর আমিও উট নিয়ে মাঠে যেতাম কিন্তু উটের স্তনে দুধ ছিল না এবং আমি সাথে পানি নিয়ে যেতাম। কিন্তু হঠাৎ করে আমার পানি শেষ হয়ে যায় এবং আমার খুব পিপাসা লাগে। তখন আমি ঐ লোকটির কাছে পানি চাই। কিন্তু বলে, তার সাথে অবৈধ কাজে লিপ্ত হলে পানি দিবে। কিন্তু আমি রাজী হলাম না। পরবর্তীতে সে আমার সাথে অবৈধ কাজ

পৃষ্ঠা-৭৮

করেই ফেলে। এভাবে আমার সাথে যিনা হয়। তখন আলী এসব কথা শুনে বলে উঠলেন, আল্লাহু আকবার! যে বিপদে পড়ে এ কাজ করেছে তার আবার কিসে রজম? কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে এর সমাধান দেন। (কানযুল উম্মাল, ১৩৫৯৬)

১২৬. রমযান মাসে মদ পানকারী আতা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই আলী নাজ্জাশী আল হারেছী নামক একজন কবিকে রমযান মাসে মদ পান করার কারণে আশিটি বেত্রাঘাত করেন এবং তাকে বন্দী করে রাখেন। পরবর্তী দিন তাকে ছেড়ে দেন এবং বিশটি বেত্রাঘাত করেন এবং বলেন, এই বিশটি বেত্রাঘাত করা হলো এ জন্য যে, তুমি আল্লাহর সাথে নাফরমানী করেছ এবং রমযানের রোযা ভেঙ্গেছ। (মুসনাদে ইমাম আহমদ, ১০২৪)

১২৭. কে তোমাদের হাত কেটেছে? হুজাইয়্যা বিন আদী হতে বর্ণিত। আলী চোরদের হাত কেটে দিতেন। পরবর্তীতে ঐ চোরদের ডেকে বলতেন, তোমরা তোমাদের হাতগুলো তোমাদের রবের দিকে উত্তোলন কর। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করতেন, তোমাদের হাত কেটেছে কে? লোকেরা বলল, আলী। তিনি বললেন, কেন? লোকেরা বলল, চুরি করার কারণে। তখন আলী বলেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক। এভাবে দুবার বললেন। (কানযুল উম্মাল, ১৩২৬)

পৃষ্ঠা-৭৯

১২৮. তার চোখে লাথি মারা সুন্দর হয়েছে উমর ইবনে খাত্তাব এবং আলী এক সাথে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন। এমন সময় এক লোক এসে উমর ট্রে-কে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আলী আমার চোখে লাথি মেরেছে। আপনি তার বিচার করুন। তখন উমর প্লে আলী-কে বললেন, হে আলী! আপনি কি তার চোখে লাথি মেরেছেন? বললেন, হ্যাঁ। কেন মেরেছেন? আলী বললেন, এই লোক যাতে মুসলমানদের বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে গোলমাল সৃষ্টি হয় এ পন্থা খুঁজছিল। তাই আমি তাকে লাথি মেরেছি। তখন উমর (রা) বললেন, হে হাসানের পিতা! ভালোই করেছেন। (আর রিয়াযুন নাযরাহ, ২/১৬৫)

১২৯. তাদের দুজনকে ক্ষমা করে দিলেন আমিরুল মুমিনীন আলী-এর দরবারে এমন একজন লোককে নিয়ে আসা হলো, যার হাতে চাকু ছিল এবং যার সামনে একজন লোক মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। সারা গা রক্তে মাখা। তখন যার হাতে চাকু ছিল তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এই রক্ত মাখা লোকটিকে কে হত্যা করেছে? লোকটি বলল, আমি হত্যা করেছি। তখন খলিফা তার লোকদের বলল, যাও! একে নিয়ে যাও এবং তাকে হত্যা কর। লোকেরা যখন তাকে হত্যা করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল তখন একজন লোক দৌঁড়ে ছুটে এসে বলল, হে লোকেরা! তোমরা একে হত্যা কর না। তোমরা একে নিয়ে আমিরুল মুমিনীন আলী-এর কাছে যাও। যখন লোকেরা গেল তখন যেই লোকটি দৌড়ে ছুটে আসল সে বলল, হে আমিরুল মুনিনীন! এই লোক মৃত লোকটিকে হত্যা করেনি বরং আমিই তাকে হত্যা করেছি। একে ছেড়ে দিন। আলী যেই লোকটিকে হত্যা করার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? তাহলে তুমি কেন বললে যে, তুমি তাকে হত্যা করেছ? লোকটি বলল, হে

পৃষ্ঠা-৮০

আমিরুল মুমিনীন! আমি একজন কসাই মানুষ। আমি অন্ধকারে একটি গরু জবাই করি। জবাই করার পর আমি পেশাব করার জন্য একটু সাইটে গেলাম। আর এমন সময় আমার চাকু আমার হাতেই ছিল। পেশাব করতে গিয়ে দেখি এক লোক রক্তের মধ্যে গড়াগড়ি খাচ্ছে। তখন আমি আমার চাকু হাতে নিয়েই ঐ লোকটিকে সাহায্য করতে গেলাম। ঠিক এমন সময় আপনার সৈন্য এসে হাজির হয়। আর আমার হাতে চাকু দেখে আমি খুন করেছি মনে করে। তাই আমি ভাবলাম, যেখানে আপনার এতগুলো সৈন্য আমার বিপক্ষে সাক্ষী স্বরূপ আছে আমি একা কথা বলে হয়তো বা কোনো লাভ হবে না। তাই আমি নিরূপায় হয়ে স্বীকার করেছি যে, আমি হত্যা করেছি। এরপর খলিফা দ্বিতীয় লোকটিকে, যে লোকটি এসে বলল, আমি হত্যা করেছি তাকে বললেন, তোমার কি ব্যাপার? তুমি কেন বলছ যে, তুমি হত্যা করেছ? তখন সে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আমি যখন ঐ লোকটিকে হত্যা করেছি তখন রাত্রের পাহাড়াদারকে দেখতে পেলাম। তখন আমি পালিয়ে যাই। এমন সময় এই কসাই লোকটি আসে যার তাতে চাকু ছিল। আপনার সৈন্যরা এসে যখন তার হাতে চাকু দেখল তখন তাকে ধরে নিয়ে আসল। কিন্তু আমি যখন শুনলাম, এই কসাই লোকটিকে আপনারা হত্যা করার আদেশ দিলেন তখন ছুটে আসলাম। আমি ভাবলাম, এমনিতেই একজনকে খুন করেছি। এরপর আমার জন্য অন্য আরেকজনকে হত্যা করা হবে। আমি এসব মানতে পারলাম না। তাই ছুটে আসলাম। তখন আলী হাসান প্লে-কে বললেন, হে হাসান! এই ব্যাপারে তুমি কি বল? তখন আমি বললাম হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি একে ছেড়ে দেন। কারণ যদিও সে একজনকে হত্যা করেছে কিন্তু আরেকজনকে হত্যা করা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কারণ আল্লাহ বলেন, যে একজনকে বাঁচালো সে যেন সমস্ত সৃষ্টিকে বাঁচালো। এরপর আলী ত্রে দুজনকে মাফ করে দেন এবং যাকে হত্যা করা হয়েছিল তার আত্মীয়-স্বজনকে বাইতুল মাল হতে জরিমানা দিয়ে দেয়া হলো। (আত তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পূঃ ৫৬)

পৃষ্ঠা ৮১  থেকে ৮৮

পৃষ্ঠা-৮১

১৩০. বেত্রাঘাত করা হবে এক লোক বলল, হে আমিরুল মুমিনীন। নিশ্চয়ই দুই লোক দরজার কাছে নানান কথা বলছে। আয়েশা সম্পর্কে। তখন আলী কা’ব বিন আমরকে বললেন, ঐ দুই লোকের প্রত্যেককে এক শত করে বেত্রাঘাত কর। কা’ব তাই করল। (উসমান ইবনে আফফান লিস সালাবী, পৃঃ ৪৪৫)

১৩১. আলী এবং ইবনে তালহা রাবী বিন হাররাস বলেন, আমি আলী ﷺ এর পাশে বসা ছিলাম। এমন সময় ইবনে তালহা আলী টু-এর কাছে এসে সালাম দিল এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করল। এরপর বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আমার পিতা মারা গেছে। আমি আমার পিতার মাল চাই। তখন আলী পুত্র বললেন, তোমার পিতার মাল তো বাইতুল মালে আছে। কালকে নিয়ে যেও। (আত তাবাকাত লি ইবনে সাদ, ৩/২২৪)

১৩২. ভাইয়েরা আমাদের উপর বিদ্রোহী হয়েছে আলী -কে তার বিপক্ষে অংশগ্রহণকারী উষ্ট্রের যুদ্ধের সাথীদের কথা জিজ্ঞাসা করা হলো। তারা কি মুশরিক? তিনি বললেন, তারা তো শিরক থেকে মুক্ত। বলা হলো, তারা কি মুনাফিক? তিনি বললেন, মুনাফিকরা তো আল্লাহকে কম স্মরণ করে। বলা হলো তাহলে তারা কি? বললেন, তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের উপর বিদ্রোহী হয়েছে।

পৃষ্ঠা-৮২

১৩৩.আল্লাহর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা আলী আদী বিন হাকেম-এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আদী! তোমাকে ভীষণ্ণ ও চিন্তিত মনে হচ্ছে? আদী বলল, আমার ছেলে শহীদ হয়েছে তো তাই খারাপ লাগছে। আলী বললেন, হে আদী! শোন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকে তার নেকী হয়। পক্ষান্তরে যে আল্লাহর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট হতে পারে না তার আমল ধ্বংস হয়। (আর রেজ আনিল্লাহ লি ইবনে আবিদ দুনিয়া, ১৬৫)

১৩৪. প্রথমটিই ভালো এক ব্যক্তি নামায খুব হালকা করল। তখন আলী লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল এবং বলল, আবার সালাত আদায় কর। অতঃপর যখন দ্বিতীয় বার লোকটি নামায শেষ করল, তখন আলী তাকে বলল, পরের নামায ভালো হয়েছে না আগেরটা? লোকটি বলল, আগেরটা। আলী বললেন, কেন? লোকটি বলল, আগেরটা তো পড়েছি ঠিক মতো। আর পরেরটা পড়েছি আপনার লাঠির ভয়ে। তখন আলী হাসলেন এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। (আত তাযকিরাতুল হামদুনিয়্যাহ, ৯/৪০০)

১৩৫. এটাতো এমন জিনিস যা আল্লাহর জন্য জা’দাহ বিন হুরাইরা আলী-এর কাছে এসে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার কাছে এমন দুজন লোক এসেছে যাদের একজন আপনাকে খুব ভালোবাসে এবং অপরজন পারলে আপনাকে হত্যা করবে। তাই আপনি ঐ লোকের পক্ষে ফায়সালা দিন যে, আপনাকে ভালোবাসে। তখন আলী বললেন, বিচার ফায়সালা তো এমন জিনিস যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়ে থাকে। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ৮/৭)

পৃষ্ঠা-৮৩

১৩৬. আলী এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস -এর নবজাতক সন্তান একদিন যোহরের নামাযের সময় আলী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস কে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তখন তিনি তার সাথীদেরকে বললেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস কোথায়? নামাযে দেখছি না? লোকেরা বলল, তার একটি সন্তান হয়েছে। তাই নামাযে আসেনি। অতঃপর যখন যোহরের নামায শেষ হলো তখন আলী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস-কে ডেকে আনতে পাঠালেন। এনে বললেন, হে আব্দুল্লাহ! আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর। এই সন্তানের বরকত হবে। এরপর বললেন, এর নাম কি রেখেছ? তখন আব্দুল্লাহ বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার আগে আমি নাম রাখতে পারি? এরপর আলী এ নবজাতক ছেলেটিকে কোলে নিলেন এবং তাহনীফ করলেন। এরপর বললেন, আমি এর নাম রাখলাম আলী। আর এর উপাধি হচ্ছে আবুল হাসান। (আল আকদুল ফারীদ, ৫/৬৩)

১৩৭. আমি তোমাদের প্রতি যে জিনিসের ভয় করি একদা আলী কুফার মেম্বারে খুৎবা প্রদান করলেন। খুৎবাতে আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং বললেন, হে মানুষেরা! আমি তোমাদের প্রতি যে জিনিসের ভয় করি সেটি হচ্ছে, দীর্ঘ আশা করা এবং প্রবৃত্তি বা মনের অনুসরণ করা। নিশ্চয়ই দুনিয়াতে দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা, আখিরাতকে ভুলিয়ে দেয়। আর প্রবৃত্তির বা মনের অনুস্বরণ হক পথ থেকে বাধা দেয়। জেনে রাখ, নিশ্চয়ই দুনিয়া পিছনের বস্তু এবং আখিরাত সামনের বস্তু। আজ দুনিয়াতে আমল চলবে হিসাব নেয়া হবে না। কাল আখিরাতে হিসাব নেয়া হবে আমল করা চলবে না। অতএব সাবধান। (হুলইয়াতুল আউলিয়া, ১/৭৬)

পৃষ্ঠা-৮৪

১৩৮.আলী-এর স্বপ্ন আলী বলেন, নিশ্চয়ই আমি রাসূলকে স্বপ্ন দেখি যে, তখন রাসূলকে আমি বলি হে রাসূল! আপনি আমাকে আপনার উম্মাতের ব্যাপারে কিসের আদেশ দিচ্ছেন? তখন রাসূল বললেন, তুমি বদ দোয়া কর। তখন আলী বললেন, হে রাসূল। আপনি এটা পরিবর্তন করে দিন। কারণ আপনার উম্মাতের চাইতে আর ভালো বান্দা আছে। অর্থাৎ আলী উম্মাতের সুনাম করলেন। এরপর রাসূল বের হয়ে গেলেন। অতঃপর আলীকে জানি মারল।

১৩৯.(তারীখুল ইসলাম লিয যাহাবী)আলী-এর শাহাদাত সমুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়াহ বলেন, আলী ফজরের নামাযের জন্য বের হয়েছেন এবং বলেছিলেন, নামায, নামায। মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যাহ বলেন, সেদিন আলী-এর ডাকে কেউ মসজিদে আসতে না আসতেই মসজিদ থেকে আওয়াজ আসল। হে আলী! হুকুম শুধু আল্লাহর জন্য, তোমার জন্যই নয়। এবং তোমার সাথীদের জন্যও নয়। অতঃপর একটি তরবারী দেখা গেল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আলী -কে বলতে শুনেছি যে, হে লোক সকল! এই লোকটি যেন তোমাদেরকে ছেড়ে পালাতে না পারে। এ কথা শুনে সকলে ছুটে আসতে লাগল। জনগণ এসে দেখল ইবনে মূলজিম নামক এক খারিজী লোক তাকে তরবারী দ্বারা আঘাত করেছে। আর আলী বলছেন, শোন, জানের পরিবর্তে জান নিবে। আমি যদি মরে যাই তাহলে তোমরা তাকেও মেরে ফেলবে। (তারীবুত তাবারী, ৬/৬২)

পৃষ্ঠা-৮৫

১৪০.মৃত্যুকালীন আঘাত যখন ইবনে মূলজিম আলীকে তরবারী দ্বারা আঘাত করল তখন লোকেরা হাসান-এর কাছে আসল। ঐ সময় ইবনে ফুলজিম হাসান তার সামনে পিছনে মোড়া দিয়ে বাধা ছিল। এমন সময় আলী এর মেয়ে উম্মে কুলসুম কেঁদে কেঁদে বলছিল, হে আল্লাহর শত্রু! আমার পিতার কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু আল্লাহ তোমাকে অপমান করবে। তখন ইবনে ফুলজিম বলল, আমি যে তরবারী দিয়ে তোমার পিতাকে আঘাত করেছি তা এক হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি এবং এক হাজার টাকার বিষ কিনেছি। সে বিষের মধ্যে তরবারী ভিজিয়ে রেখেছি। যদি এ তরবারী পুরা মিশরের জনগণের উপর পড়ত। তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যেত। (তারীখুত তাবারী, ৬/৬২)

১৪১. আপনি আপনার ওয়াদাগুলো দিয়ে যান আব্দুল্লাহ ইবনে মালেক বলেন, যেদিন ইবনে মুলজিম আলী-কে আঘাত করল তখন সমস্ত ডাক্তাররা একত্রিত হলো। এক ডাক্তার চিকিৎসা করে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন। আপনি আপনার ওয়াদাগুলো বলে যান, যাতে আমরা পূরণ করতে পারি। কারণ আপনার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। (আল ইসতিআর লি ইবনে আব্দিল বার, ২/১১২৮)

১৪২. তার হত্যাকারীর সাথে তার ব্যবহার ইবনে মুলজিম আলী-কে আঘাত করার পর আলী বলেন, হে লোকেরা! তোমরা তাকে খেতে দাও। তাকে পান করাও। তার থাকার জায়গা সুন্দর কর। আমি যদি সুস্থ হই, ইচ্ছা করলে তাকে মাফও করতে পারি এবং ইচ্ছা করলে তার প্রতিশোধও নিতে পারি।

পৃষ্ঠা-৮৬

১৪৩.তার ওয়াসীয়ত বনী আব্দুল মুত্তালিবের জন্য আলী বিন আবু তালেব বললেন, হে বনী আব্দুল মুত্তালিব! তোমাদের জন্য উচিত হবে না যে, তোমরা মুসলমানদের রক্ত নিয়ে কথাবার্তা বলবে। অর্থাৎ আমার মৃত্যুর পর বলবে যে, আমিরুল মুমিনীনকে হত্যা করা হয়েছে। এরূপ বলবে না। এরপর বললেন, হে হাসান! আমি যদি এ আঘাতে মরে যাই, তাহলে আমার হত্যাকারীকে কঠিনভাবে মারবে। তবে সাবধান! তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্গ করবে না। কারণ আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের উপর দায়িত্ব হলো, তোমরা কাউকে মারার পর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে বিকলাঙ্গ করবে না। যদিও তা একটা পাগলা কুকুর হয়। (তারীখুত তাবারী, ৬/৬৪)

১৪৪.মৃত্যুর সংবাদ শুনে মুয়াবিয়াহ -এর আগমন যখন আলী-এর মুত্যুর সংবাদ আসল, তখন মুয়াবিয়াহ কাঁদতে লাগলেন। তখন তার স্ত্রী বলল, আপনি কাঁদছেন কেন? আপনিই তো আলী ট্রে-কে হত্যা করেছেন। তখন মুয়াবিয়াহ টু বললেন, তুমি ধ্বংস হও। এরূপ কথা কেন বলছ? তার মৃত্যুতে মানুষ দয়া, বুঝ, জ্ঞানের কত কিছুইনা হারিয়ে ফেলল। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ৮/১৩২)

পৃষ্ঠা-৮৭

১৪৫. উমর ইবনে আব্দুল আযীয দ্র-এর স্বপ্ন উমর ইবনে আব্দুল আযীয হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে রাসূল কে দেখলাম। আবু বকর ও উমর রাসূল-এর পার্শ্বে। তখন আমি যেয়ে সালাম দিলাম এবং বসলাম। তখন আলী ও মুয়াবিয়া (রা:) আসলেন। তারা ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে দিলেন। একটু পরে আলী খুব তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলেন এবং বলছিলেন, এই কাবার ঘরের কসম! আমার সময় ঘনিয়ে এসেছে। একটু পরে মুয়াবিয়া দ্রুত গতিতে বের হয়ে গেলেন এবং তিনি বলছেন, হে কাবার রব! আমাকে ক্ষমা কর। (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়া, ৮/১৩৩)

১৪৬. হাসান বসরী আলীর গুণ বর্ণনা করেন হাসান বসরী -কে আলী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলেন, আলী যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুদের সাথে ছিলেন খুবই কঠোর। এবং এই উম্মাতের জনগণকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকার অধিকারী। আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দিতেন না। আল্লাহর মাল হতে কখনো চুরি করতেন না। সর্বক্ষেত্রে তিনি কুরআনের বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করতেন। (আলী ইবনে আবি তালিব লিস সালাবী, পৃঃ ৭৮২)

১৪৭. খেলাফতকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বাল বলেন, আমি আমার পিতার কাছে একদিন বসে ছিলাম। ঐ দিন কারখীয়ীন শহর থেকে কিছু লোক আসল। এসে আবু বকর ও উমর এবং উসমান -এর খেলাফত নিয়ে আলোচনা করল। এরপর আলী -এর খেলাফত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একটু বেশি করল। তখন আমার পিতা মাথা উঠালেন এবং বললেন,

পৃষ্ঠা-৮৮

ওহে লোকেরা! তোমরা আলী-এর খেলাফতের ব্যাপারে একটু বেশি করে বলেছিলে। তোমরা কি মনে কর যে, খেলাফত আলী-কে ফুটিয়ে তুলেছে? বরং মনে রাখবে, আলী খেলাফতকে সৌন্দর্যম-িত করেছে।

১৪৮. তাদের দুজনের মধ্যে প্রবেশ করতে বলল আবু যুরাআ আর-রাজী হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই একজন লোক তাকে বলল, আমি মুয়াবিয়া, কে ঘৃনা করি। বলা হলো, কেন? তখন লোকটি বলল, কেননা মুয়াবিয়াহ আলীকে হত্যা করেছে। তখন আবু যুরাআ বললেন, তুমি ধ্বংস হও। কিসে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করল, তাদের দুজনের ব্যাপারে কথা বলতে? (আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ৮/১৩০)

১৪৯. হাসান -এর খুতবা তার পিতার মৃত্যুর পর হাসান খুতবা দিতে গিয়ে বলেন, হে লোকেরা! গতকাল তোমাদের কাছ থেক এমন লোক চলে গেল, বর্তমান সময় অনুযায়ী এর পূর্বে কেউ যায়নি এবং পরেও যাবে না। যদিও রাসূল তাকে কোথায়ও প্রেরণ করতেন এবং তার হাতে ঝাণ্ডা দিতেন তাহলেও তিনি ফিরে আসতেন না। (ফাযায়েলুস সাহাবা, ২/৭৩৭)

১৫০.তার গোসল এবং কাফন আলী গুয়ে-এর মৃত্যুর পর তার গোসল দেন হাসান, হুসাইন এবং আব্দুল্লাহ বিন হাফর ত্রে। এবং তাকে তিন কাপড়ে কাফন দেয়া হয়। তার জানাযার সালাত পড়ান হাসান। তার জানাযার সালাত চার তাকবীরে হয়েছিল। (আলী ইবনে আবি তালিব লিস সালাবী, পৃঃ ৮৭৯)

হোম
ই-শো
লাইভ টিভি
নামাজ শিক্ষা
গেইমস
চাকুরি