Skip to content

১০০০ সন্নাহ

পৃষ্ঠা ১ থেকে ২০

পৃষ্ঠা:০১

০২. ঘুম থেকে জেগে উঠা

১। নিজ হাত দ্বারা চেহারা থেকে ঘুমের ভাব দূর করা। 

২। ঘুম থেকে জেগে উঠার দো’আ পাঠ করা-

الْحَمْدُ للهِ الَّذِي أَحْيَانًا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النشور

অর্থঃ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুর (ঘুমের) পর জীবন দান করেছেন এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন।

৩। মিসওয়াক করা।

 ৪। দুই হাত তিনবার ধৌত করা। 

৫। নাকে তিনবার পানি দেয়া।

০৩. টয়লেটে প্রবেশ এবং বের হওয়া

১। বাম পায়ে প্রবেশ এবং ডান পায়ে বের হওয়া (নির্দিষ্ট দালীল নেই, সাধারণ দালীলের ভিত্তিতে)।

২। টয়লেটে প্রবেশ এবং বের হবার সময় দো’আ পাঠ করা-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ আমি খুবুথ এবং খাবায়েথ (পুরুষ এবং নারী শয়তান) থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই।

পৃষ্ঠা:০২

৩। বের হবার সময় দো’আ পাঠ করা-

غفرانك

অর্থঃ ‘আমি আপনার (আল্লাহর) কাছে ক্ষমা চাচ্ছিে

০৪, ওষু

১। বিসমিল্লাহর সাথে শুরু করা।”

২। ওযুর শুরুতে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।

৩। কুলি করা এবং নাকে পানি টেনে নেয়া।

৪। বাম হাত দিয়ে নাক থেকে পানি। করা। ১২ বের করা।

৫। মুখে এবং নাকে পানি পৌঁছানো (গড়গড়া করার মাধ্যমে মুখের সব অংশে পানি পৌঁছানো এবং নাকের উপরিভাগের অধিকাংশ অংশে পানি পৌছানো।”

৬। হাতের একবারের পানি দিয়ে কুলি ও নাকে পানি প্রবেশ করানো।

৭। মিসওয়াক করা।

৮। ঘন দাড়ির মধ্যে আঙ্গুল চালানো মুখ ধৌত করার সময়।”

৯। মাথা মাসেহ করা।

পৃষ্ঠা:০৩

১০। আঙ্গুল এবং পায়ের পাতায় পানি পৌঁছানো।

১১। ডান হাত এবং ডান পায়ের দিক থেকে শুরু করা।”

১২। চেহারা, বাহু এবং পা ধৌত করা এক বার থেকে তিন বার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা।*

১৩। ওযু শেষে শাহাদাহ পাঠ করা-

أَشْهَدُ أَنْ لا إله إلا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

অর্থঃ ‘আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত ইবাদত যোগ্য কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা এবং রাসূল। এটা পাঠ করার ফাযীলাত হচ্ছে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খোলা হবে এবং সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।

১৪। বাড়িতে ওযু করা।

১৫। ওযু করার সময় হাত দিয়ে দেহের পানি পৌঁছানোর অঙ্গগুলো যথা বা মর্দন করা।”*

১৬। হিসাব করে পানি ব্যবহার করা, যেমনঃ এক মুল। 

১৭। হাত এবং পায়ের ফারদ অঙ্গগুলো ধোয়ার সময় এর সীমা বাড়ানো।

১৮। ওযু শেষে দুই রাকা’আত সলাত আদায় করাঃ

পৃষ্ঠা:০৪

‘যে ব্যক্তি আমি যেভাবে ওযু করি এর মত করে ওযু করে, অতঃপর দুই রাকা’আত সলাত আদায় করে এবং এ সময় কোন কিছু চিন্তা না করে (সলাতের সাথে জড়িত বিষয় ব্যতীত), তার অতীতের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। অন্য হাদীসে রয়েছেঃ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।** যে ব্যক্তি উপরোক্ত নিয়মে উত্তমভাবে ওযু সম্পাদন করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে।’যে ব্যক্তি উত্তমভাবে ওযু সম্পাদন করে, গুনাহ্ তার শরীর থেকে করে পরে এমনকি তার আঙ্গুলের নখের নীচ থেকেও।যে ঐ ব্যক্তির মধ্যেও অন্তর্ভূক্ত হবে যে ওযুর পরে দুই রাকাহ সলাত আদায় করে, যার ব্যাপারে বলা “তোমাদের মধ্যে যে কেউ উত্তমভাবে ওযু করে এবং দুই রাকাআত সলাত আদায় করে তার চেহারা এবং হৃদয় দিয়ে (খুশু সহকারে) তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে এবং গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

০৫. মিসওয়াক

১। প্রত্যেক সলাতে,

যেমন নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ’আমি যদি আমার উম্মাতের জন্য কঠিন হতে পারে মনে না করতাম তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রত্যেক সলাতের জন্য মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’

পৃষ্ঠা:০৫

২। ঘরে প্রবেশ করে।

৩। ঘুম থেকে জেগে উঠে।১১

৪। কুরআন তিলাওয়াত করার সময়।

৫। যখনই মুখের গন্ধ পরিবর্তন হয়।

৪। ওযু করার সময়।

০৬. জুতো পরিধান

১। জুতো পড়ার সময় ডান। পা থেকে শুরু করা এবং খোলার সময় বাম পায়ের দিক থেকে খোলা।একজন মুসলিম বহুবার দিনে জুতো পরিধান এবং খুলে থাকে, যখন সে নিয়্যাত এবং মানসিকতাসহ সুন্নাহ অনুযায়ী এই কাজটি করবে সে অনেক পুরস্কার অর্জনে সক্ষম হবে।

০৭. কাপড় পরিধান এবং খোলা

১। কাপড় পড়া এবং খুলে রাখার সময় বিসমিল্লাহ পড়া। (সাধারণ দালীলের ভিত্তিতে)

২। পোশাক পরিধানের দো’আ পাঠ করা।

وَرَزَقَنِيهِ مِنْ  অর্থঃ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এই কাপড় পরিধান করিয়েছেন এবং আমাকে এটি দিয়েছেন আমার কোন সামর্থ এবং শক্তি ব্যতীত

পৃষ্ঠা:০৬

৩। কাপড় পরিধানের সময় ডান দিক থেকে শুরু করা।

৪। বাম দিক থেকে খোলা। (সাধারণ দালীলের ভিত্তিতে)

০৮. ঘরে প্রবেশ এবং বের হওয়া

১। ঘরে প্রবেশের সময় আল্লাহকে স্মরণ করাঃ’যখন একজন ব্যাক্তি ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশ করার সময় আল্লাহর নাম নেয় এবং খাবার সময়, শয়তান বলে (অন্য শয়তানকে) তোমাদের জন্য কোন বাসস্থান ও নেই এবং কোন খাবারও নয় (10

২। ঘরে প্রবেশের দো’আ পাঠ করাঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلَحِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ بسم الله وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللهِ خَرَجْنَا ، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا ثُمَّ لِيُسَلِّمْ عَلَى أَهْلِهِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সর্বোত্তম প্রবেশ এবং সর্বোত্তম বের হওয়া কামনা করি। আল্লাহর নামেই আমরা প্রবেশ করি এবং আল্লাহর নামেই আমরা বের হই এবং আমাদের রবের প্রতি আমরা তাওয়াক্কাল করি… অতঃপর ঘরের অধিবাসীদেরকে সালাম দেয়া।ও

৩। মিসওয়াক করা।

৪। সালাম দেয়া। (সূরা, আন নূর ২৪৪৬১)।

৫। নিম্নের দো’আ পাঠ করে ঘর থেকে বে হওয়া।

পৃষ্ঠা:০৭

بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلا بالله অর্থঃ ‘আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহরই উপর তাওয়াক্কাল করছি এবং আল্লাহ ব্যতীত কোন সামর্থ এবং শক্তি নেই।’ যে এটা বলে তাকে বলা হয়ঃ “তোমার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তুমি নিরাপত্তা পাবে এবং শয়তান পশ্চাদপসরণ করেছে

০৯. মসজিদে যাওয়া

১। তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া, যেমন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ”যদি মানুষ জানত কি (পুরস্কার) রয়েছে আযানে এবং প্রথম কাতারে এবং এটি (পুরস্কার) অর্জনের আর কোন পথ না পেত লটারী করা ব্যতীত, তাহলে তার লটারী করত।…যদি তারা জনত যোহরের সলাত তাড়াতাড়ি আদায় করার কি (পুরষ্কার) রয়েছে তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করত।… যদি তারা জানত ঈশা এবং ফাজরের সলাত জামা’আতে আদায় করার ফাদীলাত, তাহলে তারা তা আদায় করতে আসত এমনকি যদি তাদেরকে হামাগুড়ি দিয়েও আসতে হয়।

২। মসজিদে যাওয়ার সময় দো’আ পড়া- اللهم اجعل في قلبي نورا وفي لساني لورا، وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي نصري نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ خَلْفِي نُورًا، وَمِنْ  

পৃষ্ঠা:০৮

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ আমার কুলবে আপনি নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দিন, আমার কানের মধ্যে নূর দিন, আমার চোখের মধ্যে নূর দিন, আমার পেছনে নূর দিন, আমার সামনে নূর দিন এবং আমার উপরে নূর দিন এবং আমার নীচে নূর দিন। হে আল্লাহ আমার উপর নূর বর্ষন করুন।১ ৩। সাকিনাহ এবং ওয়াকার সহ হেঁটে যাওয়া।৩ সাকিনাহ হচ্ছে ধীরে সুস্থে যাওয়া এবং তাড়াহরা বর্জন করা। ওয়াকার হচ্ছে দৃষ্টিকে নামিয়ে রাখা এবং কন্ঠকে নীচু রাখা এবং এদিক সেদিক অধিক তাকানো বর্জন করা।। ৪। মসজিদে হেটে যাওয়া, যাতে গুনাহ্ সমূহ ঝরে পড়ে এবং জান্নাতে মর্যাদা বাড়তে থাকে। **

৫। মসজিদে ঢুকার সময়ে দো’আ পাঠঃ اللهمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ অর্থঃ ‘হে আল্লাহ আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন।

৬। ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা।

৭। প্রবেশ করে (বসার আগে) তাহিয়্যাত আল মসজিদ সলাহ আদায় করা। ইমাম আশ শাফেয়ী বলেন, ‘নিষিদ্ধ সময়েও তাহিয়্যাত আল-মসজিদ সলাত বৈধ।

৮। প্রথম কাতারের দিকে অগ্রগামী হওয়া, যেমন রাসূল সলল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘যদি মানুষ জানত কি (পুরস্কার) রয়েছে আযানে এবং প্রথম কাতারে এবং এটি (পুরষ্কার) অর্জনের আর কোন পথ না পেত লটারী করা ব্যতীত, তাহলে তার লটারী করত

৯। মসজিদ থেকে বের হবার সময় দো’আ পাঠঃ

পৃষ্ঠা:০৯

اللهمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ আমি আপনার ফাদল (পুরস্কার) চাই।

১০। বাম পা দিয়ে বের হওয়া।”*

১০. আযান। আযানের ক্ষেত্রে পাঁচটি সুন্নাহ রয়েছে যা ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর “মাদ আল মা’আদ” কিতাব-এ উল্লেখ করেছেনঃ

১। যে ব্যক্তি আযান শুনবে মুআযযিন যা বলে সে তাই পুনরাবৃত্তি করবে শুধু احي على الصَّلاةِ، حَيَّ عَلَى الفلاح এর জবাবে বলবেঃ ولا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ

অর্থঃ ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন শক্তি এবং ক্ষমতা নেই। এই সুন্নাহর উপকারিতা হচ্ছে এটি জান্নাতকে অপরিহার্য করে দেয় যা মুসলিমের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২। আযান শোনার পরে বলবেঃ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا

পৃষ্ঠা:১০

অর্থঃ ‘আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া ইবাদতযোগ্য কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। এবং আমি আরও স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা এবং রাসূল। আমি আল্লাহকে রব এবং মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে নিয়ে সন্তুষ্ট ৩১এই সুন্নাহর উপকারিতা হচ্ছে ঐ ব্যক্তির গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হবে। ৩। অতঃপর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সলাত এবং সালাম (দরূদ) প্রেরণ করা। পূর্ণ দরূদে ইবরাহীমঃ اللهم صلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صليت عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حميد مجيد، اللهُمَّ بَارِكَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آل مُحمدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

৪। অতঃপর এই দু’আ পাঠ করাঃ اللهمَّ رَبِّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বানের রব এবং যে সলাত কায়েম হবে তার মালিক, মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দান করুন ওয়াসীলাহ এবং ফাদীলাহ যার ওয়াদা আপনি তাঁকে করেছন। এই দু’য়া পাঠ করার উপকারিতা হচ্ছে পুনরুত্থান দিবসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য সুপারিশ করবেন।

পৃষ্ঠা:১১

৫। অবশেষে নিজের জন্য দো’আ পাঠ করাঃ’বল, যেমন তারা (মুআযযিন) বলে, যখন তা সম্পন্ন করবে চাও (দো’আ কর) তোমাকে তা দেয়া হবে।৫০

১১. ইক্বামাত

১। ইক্বামতের ক্ষেত্রে ইক্বামতকারী ব্যক্তি যা বলে তার পুনরাবৃত্তি করা, শুধু

الحي على الصلاةِ، حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ এর জবাবে বলবেঃ لا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ অর্থঃ ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন শক্তি এবং ক্ষমতা নেই।

১২. সুত্রাকে সামনে রেখে সলাত আদায় নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ সলাত আদায় করে, সুরার দিকে সলাত আদায় কর। এর কাছাকছি দাড়াও এবং তোমার এবং এটির মধ্যে কাউকে অতিক্রম করতে দিও সুত্রা দেয়ার দালীলটি সাধারণ- মসজিদ কিংবা বাড়ি, নারী কিংবা পুরুষ সবার জন্যই। কিছু লোকেরা এই সুন্নাহকে অবলম্বন করে না, সুতরাং তারা সুত্রা ছাড়া সলাত আদায় করে। এই সুন্নাহটি একজন মুসলিম দিনে রাতে বহুবার পুনরাবৃত্তি করে থাকে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত, তাহিয়্যাত আল মসজিদ, বিতর ইত্যাদি সলাতে। জামা’আতে সলাতের ক্ষেত্রে ইমামের সুরাই মুক্তাদীদের জন্য সুতরা। সুত্রা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ-

১। সে সলাত আদায় করে তার সামনে কিবলার দিকে সুতরা নির্ধারণ করা হয়, যেমন- দেয়াল, লাঠি কিংবা খুঁটি। এর প্রশ্বস্ততার কোন সীমা নেই।

পৃষ্ঠা:১২

২। এটা কমপক্ষে বাহনের পিছনের পিঠের কাঠখন্ড সদৃশ বস্তুর সমান উচু হবে (প্রায় এক বিঘত পরিমান)।

৩। দাঁড়ানোর জায়গা থেকে সুরার দুরত্ব হবে তিন হাত।

৪। সুত্রা ইমাম, একাকী সলাত আদায়কারী ব্যক্তি, ফারদ কিংবা নফল সব সলাতেই সুত্রার বিধান রয়েছে।

৫। ইমামের সুতরাই মুক্তাদীদের সুতরা, কাতারের মধ্য দিয়ে হেটে যাওয়া বৈধ। এই সুন্নাহগুলো পালন করার উপকারিতা- এটি সলাত ভংগ হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি ঐ ব্যক্তিকে এদিক সেদিক তাকানো থেকে রক্ষা করে। এটি সলাতকে পরিপূর্ণ করতে সাহায্য করে।

১৩. সুন্নাহ সলাতসমূহ

১। রাওয়াতির সুন্নাহ সলাত (পাচ ওয়াক্ত ফারদের আগে পরের সুন্নাহ সলাত সমূহ)ঃ।”যে ব্যক্তি বার রাকা’ আত সলাত আদায় করবে ফারদ ব্যতীত তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মান করা হবে।’ এই সলাতগুলো হচ্ছে-

  • যোহরের আগে চার রাকাহ এবং পরে দুই রাকাহ।
  • মাগরিবের পর দুই রাকাহ। সলাতুল ঈশার পর দুই রাকাহ এবং ফাজরের সলাতের আগে দুই রাকাহ।

পৃষ্ঠা:১৩

২। সলাতুত দোহাঃ প্রত্যেক সকালে একজন ব্যক্তির সমস্ত জোড়ার উপর (৩৬০টি) সাদাকাহ পরিশোধনীয় হয়ে যায়, প্রত্যেক তাসবীহ একটি সাদাকাহ, সৎ কাজের আদেশ দেয়া একটি সাদাকাহ এবং মন্দ থেকে বারণ করা একটি সাদাকাহ। এই সব কিছু দুই রাকাআহ সলাত আদ দোহ্য পড়ার মাধ্যেমে যথেষ্ট হয়ে যায়। এর সময় শুরু হয় আনুমানিক সুর্য উদয়ের ১৫ মিনিট পর থেকে এবং যোহরের সলাত এর ১৫ মিনিট আগ পর্যন্ত সময় থাকে। উত্তম সময় হচ্ছে যখন পূর্ণ গরম হয়ে গেলে। এর সর্বনিম্ন রাকাহ হচ্ছে দুই, আর সর্বোচ্চ আট। এটাও বলা হয়ে থাকে এর কোন নির্দষ্ট সীমা নেই।

৩। আসরের সলাসের সুন্নাহ। আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর দয়া করুন যে সলাত আল-আসরের আগে চার রাকাআত সলাত আদায় করে।

৪। মাগরিবের আগের সুন্নাহঃ ‘মাগরিবের ফারদের আগে সলাত আদায় কর’, তিনি এটি তিনবার বলেন এবং তৃতীয়বার বলেন, ‘তার জন্য যে ইচ্ছা করে

৫। ঈশার সুন্নাহঃ ‘প্রত্যেক দুই সলাতের আযানের মধ্যে সলাত রয়েছে’, তিনি এটি তিনবার বলেন, তৃতীয়বার বলেন, বলেন, ‘তার জন্য যে ইচ্ছা করে।’

১৪. রাতের সলাহ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘ফারদ সলাতের পর সর্বোত্তম সলাহ হচ্ছে রাতের সলাহ

পৃষ্ঠা:১৪

১। রাতের সলাতের পছন্দনীয় রাকা’আত সংখ্যা হচ্ছে এগার অথবা তের”।

২। কিয়ামুল লাইলের জন্য জেগে উঠে মিসওয়াক করা এবং সূরা আলি ইমরানের শেষ দশ আয়াত (১৯০-২০০) পাঠ করা।

৩। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ দু’আ পাঠ করাঃ

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيْمُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ، أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ، لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ، أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أنْتَ الْحَقُّ، وَوَعْدُكَ الْحَقِّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكُ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ

৪। প্রথমত সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত দিয়ে শুরু করা যাতে পূর্ণ কর্মক্ষম হওয়া যায়।

৫। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সহ্যহ দু’আ দিয়ে সলাত শুরু করাঃ

পৃষ্ঠা:১৫

اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ، وَمِيكَائِيلَ، وَإِسْرَائِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

৬। সলাতকে দীর্ঘ করা।

৭। আল্লাহর শাস্তির আয়াত আসলে আশ্রয় প্রার্থণা, أعوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ দয়ার আয়াত আসলে দয়া কামনা করা, اللهمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ আল্লাহর গৌরব বর্ণনার আয়াত আসলে গোরবান্বিত করা… سُبْحَانَ الله

১৫. যা কিয়ামুল লাইলে জেগে উঠতে সাহায্য করেঃ

০ দো’আ করা।

০ বেশী রাত জেগে না থাকা।

০ দিনের বেলা ক্বায়গুলা করা।

  • সকল প্রকার অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা।
  • একজনের কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে মুজাহাদাহ বা চেষ্টা সাধনা করা।

পৃষ্ঠা:১৬

১৬. বিতর সলাত

১। যে ব্যক্তি তিন রাকা’আত সলাত আদায় করবে তার ফাতিহার পরে প্রথম রাকাতে সূরা আ’লা, দ্বিতীয় রাকাতে কুল ইয়া আইয়্যুহাল কা-ফিরুন, তৃতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পাঠ। করা উচিত।

২। সালাম ফিরানোর পর তিনবার বলবে। سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ অর্থঃ “যিনি মালিক তিন যাবতীয় অসম্পূর্নতা থেকে পবিত্র আদ দারাকুতনী কর্তৃক অন্য বর্ণনায়ঃ তৃতীয়বার সুবহানাল মালিকিল কুদ্দু-স বলার পর উচু স্বরে বলবে- ربُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ অর্থঃ যিনি ফিরিশতাদের এবং রুহ এর রাকা।

১৭. ফাজর সলাত

সলাতুল ফাজরের সাথে নির্দিষ্ট সুন্নাহ রয়েছে, এগুলো হচ্ছেঃ ১। ফারদের পূর্বে দুই রাকাআত সুন্নাহ সলাতকে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করা, আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিতঃ ‘নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাজরের আযান এবং ইকামতের মধ্যে সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত সলাত আদায় করতেন।

২। সুন্নাহ সলাতে তিলাওয়াতের জন্য আয়াতসমূহ হচ্ছে,

পৃষ্ঠা:১৭

প্রথম রাকাতে সূরা আল বাক্বারার ১৩৬ নং আয়াত, দ্বিতীয় রাকাতে আলে ইমরানের ৫২ নং আয়াত অথবা, আলে ইমরানের ৬৪ নং আয়াত”।বিকল্পভাবে, প্রথম রাকাতে সুরা কা-ফিরু-ন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পাঠ করা। ৩। সুন্নাহ সলাতের পর ডান কাতে শুয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া।” [লক্ষ্যনীয়, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাদের সাধারন অভ্যাস ছিল তিনি বাড়িতে ফাজরের সুন্নাহ আদায় করেতেন।।

১৮. ফাজরের পরে বসা

ফাজর সলাতের পর বসা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্তঃযখন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাজরের সলাত আদায় করতেন, তিনি ঐ স্থানে বসে থাকতেন সূর্য হাসসানাহ (স্পষ্টভাবে উঠা) পর্যন্ত।”মসজিদের বসার উপকারিতা হচ্ছে আল্লাহ ফিরিশতাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন যারা সলাতের আগে পরে মসজিদে বসে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করার জন্য এই বলেঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ» اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ ‘হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন’,’হে আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।

পৃষ্ঠা:১৮

১৯, সলাতের সময় যা পাঠ করা হয়

১। প্রথম তাকবীর (তাকবীরাতুল ইহরামের) পর শুরুর দো’আ পাঠ করাঃ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ অথবা আপনি পাঠ করতে পারেন, اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقْنِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ م اغْسِلْ مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ»

২। কুরআন পাঠের পূর্বে তা’আউয পাঠঃ .. أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ

৩। অতঃপর আল-বাসমালাহ পাঠ করাঃ

৪। ফাতিহা পাঠ করার পর আমী-ন বলা।

৫। সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা মিলানো।””

পৃষ্ঠা:১৯

৬। রুকু থেকে উঠে দো’আ পাঠঃ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدِ»

অতঃপর, مل السَّمَوَاتِ وَمِلْءُ الأَرْضِ وَمِلْ مَا شِئْتَ من شَيْءٍ بَعْدُ، أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدُ اللَّهُمَّ لَا مانع لما أعطيتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدُ مِنْكَ الْجَدُّه

৭। একাধিক বার তাসবীহগুলো পাঠ করা” রুকুর সময় পাঠ করাঃ اسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ সিজদার সময় পাঠ করাঃ سبْحَانَ رَبِّي الأعلى

৮। দুই সিজদার মধ্যখানে একাধিকবার পুনরাবৃত্তি করাঃ ه رَبِّ اغْفِرْ لِي

৯। শেষ তাশাহহুদের পর পাঠ করাঃ

পৃষ্ঠা:২০

اللهمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شر فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

১০। সিজদার সময় দো’আকে দীর্ঘায়িত করাঃ যখন বান্দা সিজদায় থাকে তখন রবের সবচেয়ে নিকটে থাকে- সুতরাং এতে বেশী করে দো’আ কর।* ০ উল্লেখিত বিষয়গুলোতে যারা আরও বেশী দো’আ করতে চান তারা হিসনুল মুসলিম দেখতে পারেন এবং উল্লেখিত দো’আ এবং যিকরগুলোর অর্থও আপনারা প্রয়োজনে সেখান থেকে দেখে নিতে পারেন।

২০. সলাতে যে কাজগুলো সম্পাদন করা হয়  সলাতে যে কাজগুলো সম্পাদন করা হয় তার সুন্নাহ সমূহঃ

১। নিম্নের সময়গুলোতে হাত উঠানোঃ• তাকবীর আল ইহরাম যখন বলা হয়।• যখন রুকুতে যাওয়া হয়।যখন রুকু থেকে উঠা হয়।যখন তৃতীয় রাকা’আতের জন্য দাড়ানো হয়।**

২। হাত উঠানোর পন্থাঃ

পৃষ্ঠা ২১ থেকে ৪০

পৃষ্ঠা:২১

০ যখন হাত উঠানো এবং নামানো হয় তখন আঙ্গুলগুলো কাছাকাছি, প্রসারিত থাকবে এবং হাতের তালু কিবলা মুখী থাকবে।হাত কাধের পার্শদেশ পর্যন্ত অথব্য কান পর্যন্ত উঠানো হবে।

৩। ডান হাতের উপর বাম হাত স্থাপন করুন অথবা ডান হাত দ্বারা আপনার বাম হাতের কব্জির হাড়কে আকড়ে ধরুন।

৪। সিজদার দিকে দৃষ্টি রাখুন।১০০

৫। যখন দাঁড়াবেন পা সমূহকে আরামদায়ক দূরত্বে ফাক করে দাঁড়ান।

৬। তারতীল সহ কুরআন পাঠ করুন এবং যা পাঠ করা হচ্ছে তার দিকে মনোযোগ দিন। ১০ وَرَتِّلِ الْقُرْءَانَ تَرْتِيلًا)”এবং তারতীল সহ কুরআন তিলাওয়া করুন। “১

২১. আর-রুকু

রুকুর সুন্নাহগুলো হচ্ছেঃ

১। আঙ্গুলগুলো ফাক ফাক রেখে হাত দ্বারা হাটুকে আকড়ে ধরা।

২। পিঠকে এমনভাবে বিস্তার করা যাতে তা সমান হয়।১

পৃষ্ঠা:২২

৩। মাথাকে এমন সমান্তারালে রাখা যেন তা পিঠের সমান্তরালে থাকে যেন তা উঁচু কিংবা নীচু না হয়।১০৫

৪। কনুই সমূহকে দেহের পার্শদেশ থেকে আলাদা রাখা। ১০৬

২২. আস সাজদাহ

সিজদাহর সুন্নাহ সমূহের মধ্যে।

১। কনুইসমূহ দেহের পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখা।

২। উরু থেকে পেটকে আলাদা রাখা।

৩। উরু সমূহকে পায়ের নলা থেকে দূরে রাখা নিশ্চিত করা।

৪। দুই হট্রিকে আলাদা রাখা।

৫। পায়ের পাতাকে খাড়া রাখা।

৬। পায়ের পাতাকে (অগ্রভাগকে) কিবলামুখী রাখা নিশ্চিত করা, সুতরাং পায়ের পাতার জোড়া সমূহকে ১০ মেঝেতে স্থাপন করবে।’

৭। সিজদার সময় দুই পাকে একত্রে স্থাপন করা।

৮। হাতকে কাব অথবা কান বরাবর রাখা। ১১

৯। হাতকে সোজা রাখা।”

১০। আঙ্গুল সমূহকে একত্রে রাখা নিশ্চিত করা। ১১২

পৃষ্ঠা:২৩

১১। আঙ্গুল সমূহকে কিবলামুখী রাখা নিশ্চিত করা। ১০০

২৩. সর্বশেষ তাশাহহুদ

১। শেষ তাশাহহুদের তিনটি রূপ-* আত তাওয়াররুক- এটি হচ্ছে ডান পাকে খাড়া রাখা, বাম পাকে ডান পায়ের নলার নীচে স্থাপন করা এবং মেঝেতে বসা। ১১৪* উপরের উল্লেখিত নিয়মে বসা শুধু মাত্র ভান পাকে খাড়া না করে বাম পায়ের মত বিছিয়ে দেয়া। ১২০ডান পাকে খাড়া রাখা এবং বাম পাকে ডান পায়ের নলা এবং উরুর মাঝে স্থাপন করা। ১১০

২। হাতগুলোকে উরুর উপর রাখা- ডান হাত ডান উরুর উপর, বাম হাত বাম উরুর উপর-আঙ্গুলগুলোকে প্রসারিত করে একত্রে রাখা।১১

৩। শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই তাশাহহুদের সময় ইশারা করা, বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমার সাথে মিলিয়ে বৃত্তাকার করা। শাহাদাত আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টিকে নিবন্ধ রাখা। ১১৮

৪। আত তাসলীমঃ এটি হচ্ছে সলাত শেষে ডান অতঃপর বাম দিকে মাথাকে ফিরানো। ১১

পৃষ্ঠা:২৪

২৪. ফারদ সলাতের পর

ফারদ সলাতের পর অনেক যিকির আযকার পাঠ করা যায়, এগুলোর মধ্যেঃ

১। তিনবার বলাঃ اسْتَغْفِرُ الله (ثلاث مرات)

অতঃপর বলাঃ اللهمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالإِكْرَامِম অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারী ইলম, পবিত্র জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থণা করি।’১২১

২। তেত্রিশবার করে পাঠ করা

سبحان الله (ثلاثا وثلاثين مرة) الْحَمْدُ الله (ثلاثا وثلاثين مرة) اللهُ أَكْبَرُ ( ثلاثا وثلاثين مرة)

অতঃপর একবার পাঠ করা- لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

পৃষ্ঠা:২৫

অর্থঃ ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর, তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান ১২৩

৩। মাগরিব এবং ফাষরের পর ১০ বার করে পাঠ করা لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ود (عشر مرات)

অর্থঃ ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর, তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান (১৯০

৪। একবার পাঠ করা- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مانع لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

অর্থঃ ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ তুমি যা প্রদান কর তা বাধা দেয়ার কেউ নেই, আর তুমি যা দেবে না তা দেয়ার মত কেউই নেই। তোমার গযব হতে কোন বিত্তশালী বা পদমর্যাদার অধিকারীকে তার ধন-সম্পদ বা পদমর্যাদা রক্ষা করতে পারবে না।১

৫। একবার পাঠ করা-

পৃষ্ঠা:২৬

الا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

অর্থঃ ‘আল্লাহ হাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। কোন পাপ কাজ ও রোগ-শোক, বিপদ- আপদ হতে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় নেই। আর সৎকাজ করারও ক্ষমতা নেই আল্লাহ ছাড়া। আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, নিয়ামতসমূহ তাঁরই, অনুগ্রহও তাঁর এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, আমরা তাঁর দেয়া জীবন বিধান একমাত্র তার জন্য একনিষ্ঠভাবে মান্য করি, যদিও কাফিরদের নিকট তা অপ্রীতিকর ১২৯

৬। একবার পাঠ করা- اللهم أعني على ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عباديك

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমার স্মরণ, শুকরিয়া এবং উত্তম ইবাদত করার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য কর।’

৭। পাঠ করা- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ»

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কাপুরুষতা, আমার জীবনের খারাপ অবস্থায় ফেরত যাওয়া, দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’

পৃষ্ঠা:২৭

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউযুবিকা আন উরাদ্দা আরযালিল উমুরি ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিত দুনইয়া- ওয়া আউযুবিকা মিন আযা-বিল ক্লাবর। ১০০

৮। একবার পাঠ করা- 132 درب فنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ أَوْ تَجْمَعُ عِبَادَكَ

অর্থঃ ‘হে আমার রবা ঐ দিনের আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করুন, যেই দিন আপনি আপনার বান্দাদের সবাইকে একত্রিত করবেন।’

৯। কুরআনের শেষ তিনিটি সূরা পাঠ করা وقل هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) وقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) قل أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ)

প্রত্যেকটি সূরা ফাজর এবং মাগরিবের পর তিনবার পাঠ করা এবং অন্যান্য সলাতের পর একবার করে পাঠ করা। ১০০

১০। আয়াতুল কুরসী পাঠ করায় مين الله لا إلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ….

১১। এই আযকার গুলো সলাতের স্থানেই পাঠ করা, স্থান পরিবতর্ন না করে। ১০০ এছাড়াও আযকার সমূহ রয়েছে যা আপনারা হিসনুল মুসলিম থেকে দেখে নিতে পারেন, উপরোক্ত অধিকাংশ দো’আ গুলোর অর্থও আপনারা সেখান থেকে দেখে নিতে পারেন।

পৃষ্ঠা:২৮

২৫. সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকর

সকাল এবং সন্ধ্যায় কিছু আযকার- ১। আয়াতুল কুরসী…. اللهُ لا إلهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ….

এর ফাদীলাত- “যে সকালে পাঠ করবে তাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বিনদের থেকে রক্ষা করা হবে, যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে তাকে সকাল পর্যন্ত রক্ষা করা হবে।’১০০

২। ইখলাস, ফালাক্ব এবং সুরা নাস… قل هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ)

এর ফাদীলাত- যে সকাল এবং সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করবে তা তার জন্য সব কিছুর ব্যাপারে যথেষ্ট হবে। ১৫৭ 

৩। সহীহ তারগীব ওয়াত তাহরীবে রয়েছে- يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيتُ أَصْلِحْ لِي ناني كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ

পৃষ্ঠা:২৯

অর্থঃ ‘হে চিরঞ্জীন, হে চিরস্থায়ী, তোমার রহমতের জন্য আমি তোমার দরবারে জানাই আমার সকাতর নিবেদন। তুমি আমার অবস্থা সংশোধন করে দাও, তুমি চোখের পলক পরিমাণ সময়ের (এক মূহুর্তের) জন্যেও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিও না

৪। সহীহ মুসলিমে রয়েছে-

أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابِ فِي الْقَبْرِ

অর্থঃ ‘আমরা এবং সমগ্র প্রণত আল্লাহর (ইবাদত ও আনুগত্যের) জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি, আর সমুদয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, তিনি এক। তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।হে রব্ব! এই রাতের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু মঙ্গল নিহিত আছে আমি তোমার নিকট তার প্রার্থণা করছি। আর এই রাতের মাকে এবং এর পরে যা কিছু অমঙ্গল নিহিত আছে, তা হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। হে রকর। আলস্য এবং বার্ধক্যেও কষ্ট হতে আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থণা করি, হে রব্বা দোযখের আযাব হতে এবং কবরের আযাব হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি ১০১

وأمسى أمسينا الملك لله أصبحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ

৫। সুনান আবু দাউদ এবং তিরমিজির মধ্যে রয়েছে।

পৃষ্ঠা:৩০

সকালে বলবে। اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ تحيا، وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُه . অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমারই অনুগ্রহে সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং তোমারই অনুগ্রহে প্রতুষে উপনীত হই। তোমারই মর্জিতে জীবিত রয়েছি, তোমারই ইচ্ছায় মৃত্যু বরণ করি, আর তোমারই নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’ সন্ধ্যায় বলবেঃ اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ نحيا ، وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ .. অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমারই অনুগ্রহে প্রতুষে উপনীত হই এবং তোমারই অনুগ্রহে সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমারই মর্জিতে জীবিত রয়েছি, তোমারই ইচ্ছায় মৃত্যু বরণ করবো, আর তোমারই দিকে কিয়ামত দিবসে উত্থিত হয়ে সমবেত হবো। ১০০ সকালে ৩রা ইসাইকান দুল্ল এর স্থলে ওল্লা ইদাইকাদ বাহি-রবলবে।

৬। সুনানে ইবনে মাজাহর মধ্যে রয়েছে- اللهمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا» . (إذا أصبح) অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারী ইলম, পবিত্র জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থণা করি।রয়েছে সকালে পাঠ করবে।

৭। সুনান আত তিরমিজি এবং অন্যান্যতে রয়েছে-

পৃষ্ঠা:৩১

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ. অর্থঃ ‘আল্লাহর পূর্ণ গুণাবলীর বাক্য দ্বারা তাঁর নিকট আমি অনিষ্টকর সৃষ্টির অপকার থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করবে।

৮। সুনান আবু দাউদে রয়েছে- اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ، وَمَلَائِكَتَكَ وَجَمِيعَ خَلْقِكَ، أَنَّكَ أنت الله لا إله إلا أنت وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لك، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ» (أربع مرات) অর্থঃ “হে আল্লাহ! (তোমার অনুগ্রহে) সকালে উপনীত হয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমার এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমার আরশে বহনকারীদের এবং তোমার সকল ফেরেশতাদের ও তোমার সকল সৃষ্টির। নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই, তুমি এক, তোমার কোন শরীক নেই। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমার বান্দাহ এবং রসূল।’সকাল-সন্ধ্যায় চারবার করে পাঠ করবে।এর ফাদীলাতের মধ্যে রয়েছে-যে সকালে চারবার অথবা সন্ধ্যায় চারবার পাঠ করবে আল্লাহ তাকে আগুন থেকে মুক্তি দিবেন। اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ

৯। সুনান আবু দাউদ এবং মুসনাদ আহমাদের মধ্যে রয়েছে-এর ছলে সন্ধ্যায় বলবে

পৃষ্ঠা:৩২

اللهم عافني في بدني، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سمعي، اللهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي، لَا إِلَهَ إِلَّا الت (ثلاث مرات) অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার দেহের নিরাপত্তা দান করো, আমার কর্ণেও নিরাপত্তা দান করো, আমার চোখের নিরাপত্তা দান করো। আল্লাহ তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই। হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি কুফরী এবং দারিদ্র হতে, আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব হতে। তুমি হাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই।’ তিনবার পাঠ করবে। ১০

১০। অনুরূপ হাদীস এ রয়েছে। اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلَهَ إِلَّا أنت». (ثلاث مرات) অর্থঃ ‘হে আল্লাহা আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি কুফরী এবং দারিদ্র হতে, আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব হতে। তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই। তিনবার পাঠ করবে। উপরের দুটি দো’আ এক বর্ণনাতে এসেছে, এগুলো আলাদাভাবে এসেছে, একটি দো’আ হিসেবে আসেনি। এগুলো সন্ধ্যায় এবং সকালে প্রত্যেকটি তিনবার করে পাঠ করা হবে।

১১। সহীহ বুখারীতে-

পৃষ্ঠা:৩৩

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوهُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ যে এটি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে পাঠ করবে তার ফাদীলাতের মধ্যে রয়েছে, সে যদি রাতে মারা যায় তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করবে: অনুরূপভাবে সে যদি দিনে পাঠ করে মারা যায় তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

১২। আহমাদ তার মুসনাদে বর্ণনা করেন- أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ وَعَلَى كَلِمَةِ الإخلاص، وَعَلَى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ () وَعَلَى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ، حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ».  অর্থঃ ‘ (আল্লাহর অনুগ্রহে) আমরা প্রত্যুষে উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিরাতের উপর ও ইখলাসের উপর, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দ্বীনের উপর, আমাদের পিতা ইব্রাহীম (আঃ)-এর মিল্লাতের উপর, তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না।’

১৩। আন নাসায়ীতে- اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ النُّكْرُه .

পৃষ্ঠা:৩৪

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমার সাথে যে নিয়ামত প্রাপ্তাবস্থায় কেউ সকালে উপনীত হয়েছে, অথবা তোমার সৃষ্টির মাঝেও কারো সাথে, এসব নিয়ামত তোমার নিকট হতে। তুমি এক, তোমার কোন শরীক নেই, প্রশংসা মাত্র তোমার। আর সকল প্রকার কৃতজ্ঞতার হকদার তুমি।’

১৪। সুনানে আবু দাউদে- حسبى اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ অর্থঃ ‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট তিনি হাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি, তিনি মহান আরশের প্রতিপালক।’ সাতবার।১০০

যে এটি পূর্ণ বিশ্বাস সহকারে সকাল এবং সন্ধ্যায় সাতবার পাঠ করবে তার ফাদীলাত হচ্ছে-আল্লাহ তার জন্য দুনিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এবং দ্বীনের (আখিরাতের) বিষয়ে যথেষ্ট হবেন।

১৫। সুনানে আবু দাউদ এবং অন্যান্যতে রয়েছে- بسم الله الذي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضَ وَلَا في السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ. অর্থঃ ‘আমি সেই আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি, যার নামে শুরু করলে আকাশ ও পৃথিবীর কোন বস্তুই কোনরূপ অনিষ্ট সাধন করতে পারে না। বস্তুত তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা। তিনবার পাঠ করবে।সকাল এবং সন্ধ্যায় যে এটি পাঠ করবে তার উপকারিতা হচ্ছে কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

১৬। সুনানে আবু দাউদ এবং মুসনাদে আহমাদ এ রয়েছে-

পৃষ্ঠা:৩৫

رَضِيتُ بِاللهِ رَبَّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نبياء (ثلاث مرات) অর্থঃ ‘আমি আল্লাহকে আমার রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নবী রূপে লাভ করে সন্তুষ্ট।তিনবার পাঠ করবে। ১০৫সকাল এবং সন্ধ্যায় যে এটি পাঠ করবে তার উপকারিতা হচ্ছে ইয়াওমুল ক্বিয়ামাহতে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হবেন।

১৭। সহীহ মুসলিমে রয়েছে- أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ». (مائة مرة) অর্থঃ ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করি এবং তাঁর নিকউই তাওবা করছি। দিনে একশতবার। ১00

১৮। সহীহ মুসলিমে রয়েছে- سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ : عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِماته (ثلاث مرات) অর্থঃ ‘আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর সৃষ্ট বস্তুসমূহের সংখ্যায় সমান, তাঁর নিজের সন্তোষের সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান ও তাঁর বাণী সমূহের লিখার কালি পরিমাণ অসংখ্যবার।’তিনবার পাঠ করবে। ১০৭

১৯। সহীহ মুসলিমে রয়েছে-

পৃষ্ঠা:৩৬

سبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ (مائة مرة) অর্থঃ ‘আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর প্রশংসা সহকারে। একশতবার ১২৮ সকাল এবং সন্ধ্যায় যে এটি একশতবার পাঠ করবে তার উপকারিতা হচ্ছে, বিচার দিবেসে সে যা নিয়ে আসবে তার চেয়ে বেশী নিয়ে কেহই আসবে না, ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তার মতই পাঠ করছে অথবা তার চেয়ে বেশী পাঠ করেছে।এর অন্য উপকারিতা হচ্ছে- এটি তার গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেবে যদিও তা সাগরের ফেনার পরিমাণ হয়। ১০৯

২০। সহীহ বুখারী এবং মুসলিমে রয়েছে- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (مائة مرة) অর্থঃ ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর, তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।দিনে একশতবার।যে একশতবার পাঠ করবে তার যে আযর রয়েছে তা হচ্ছে-

* ১০ জন দাসকে মুক্ত করা,

* ১০০ নেক আমল তার জন্য লিখিত হবে,

* ১০০ পাপ মুছে দেয়া হবে এবং

* ঐ দিনে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপত্তা পাবে।

পৃষ্ঠা:৩৭

২১। সহীহ কালিমুত তাইয়্যেব এ রয়েছে- اللَّهُمَّ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبِّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لا إله إلا أنت، أعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نفسي سوءا، أَوْ أَجْرَهُ إِلَى مُسْلِمٍ. অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই জান। আকাশ ও পৃথিবীর তুমি সৃষ্টিকর্তা। তুমি সব বস্তুর প্রতিপালক এবং সমস্ত কিছুর মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই। আমি আমার প্রবৃত্তির অনিষ্ট হতে আর শয়তান এবং তার শিরকের অনিষ্ট হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থণা করছি। আমি নিজের অনিষ্ট হতে এবং কোন মুসলিমের অনিষ্ট করা হতে তোমার আশ্রয় চাচ্ছি।” লক্ষ্যনীয়ঃ-# যখন একটি দো’আ উল্লেখ করা হবে তখন একটি সুন্নাহ বাস্তবায়িত হবে। একজন মুসলিমের উচিত সকাল সন্ধ্যায় এই পাঠ করা যাতে সে যতটুকু সম্ভব সুন্নাহকে বাস্তবায়ন করতে পারে।# এটা প্রয়োজনীয় যে যখন একজন এই দো’আগুলো পাঠ করবে তখন তা করবে ইখলাস, ছিদক এবং এগুলোর প্রতি পূর্ন বিশ্বাস রেখে। চেষ্টা করুন এগুলোর অথের দিকে খেয়াল করতে যেন তা আপনার জীবন, নৈতিকতা এবং আচার আচরনে প্রতিক্রিয়া ফেলে। দো’আগুলোর মানে আপনারা সহজেই হিসনুল মুসলিম থেকে দেখে নিতে পারেন।

২৬. লোকদের সাক্ষাতে

একজন মুসলিমের সাথে সাক্ষাতে সুন্নাহগুলো-১। সালাম প্রদানঃ  রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলঃ ‘কোন ইসলাম উত্তম (কাজের ক্ষেত্রে)?’ তিনি বলেন, ‘লোকদের খাবার খাওয়ানো এবং তোমার পরিচিত ও তোমার অপরিচিতকে সালাম প্রদান।১০

পৃষ্ঠা:৩৮

২। সালামকে বর্ধিত করা।ওয়ালাইকুমুস সালাম এর সাথে ওয়ারাহাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ এর মাধ্যমে, এতে তিরিশটি নেকী হয়। একজন মুসলিম দিনে রাতে বহুবার সালাম উচ্চারণ করে থাকে।মনে রাখবেন একজন বিদায় নেয় তখনও পূর্ণ সালাম দেয়া উচিতঃযখন তোমাদের কেউ সাক্ষাতে আসে তখন বলবেঃ সালাম, এবং যখন কেউ বিদায় নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে তখনও বলবেঃ সালাম।

৩। হাসিমুখে সাক্ষাত, যেমন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃকোন ভাল জিনিসকেই ছোট করে দেখবে না- যদিও তা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাতও হয়।

৪। করমর্দন (হাতে মুসাফা) করা-এমন দুইজন মুসলিম নেই যারা পরস্পর সাক্ষাত করে এবং হাত মুসাহা করে, তারা তাদের আলাদা হবার পূর্বেই ক্ষমা করে দেয়া হয়। ১০০

৫। কালিমা তাইয়্যেবাহ (উত্তম কথা) বলাঃ وَقُل لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ الشَّيْطَانَ ينرع بينهم إنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ الْإِنسَانِ عَدُوا مُّبِينًا ) “আমার বান্দাদেরকে বলুন যা উত্তম তা বলতে। নিশ্চয়ই শয়তান তাদেরকে তাদের মধ্যে মন্দের প্ররোচনা দেয়, নিশ্চয়েই শয়তান মানুষের স্পষ্ট শত্রু। *১**নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

পৃষ্ঠা:৩৯

একটি কালিমা আত তাইয়্যেবাহ একটি সাদাকাহ। ২০ কালিমা তাইয়্যেবার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর স্মরণ, দো’আ, সালাম, অন্যদের প্রশংসা করা তাদের ভাল কর্মাবলীর জন্য, উত্তম ব্যবহার, উত্তম আচরণ এবং কর্ম।

২৭. খাবার খাওয়া

খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে নীচের সুন্নাহগুলো অনুসরণ করুনঃ

১। তাসিময়াহ বলা। بسم الله

২। ডান হাতে খাওয়া।

৩। নিজের সামনের দিক থেকে খাওয়া। উপরোক্ত তিনটি সুন্নাহ একই হাদীসে এসেছের ‘হে যুবক, আল্লাহর নাম লও, তোমার ডান (হাতে) খাও এবং খাও যা তোমার সামনের অংশ তা থেকে।

৪। যদি কোন খাবার পড়ে যায়, তাহলে তা উঠিয়ে নিয়ে তা পরিষ্কার করে খাওয়া।১১

৫। তিন আঙ্গুলে খাওয়া।নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারনত তিন আঙ্গুলে খেতেন। এটাই ছিল তাঁর (সল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাবার পন্থা এবং এটিই উত্তম, যদি না একান্তাই অন্যভাবে প্রয়োজন পড়ে। ১৩

৬। খাবার সময় বসার পদ্ধতিঃ* পায়ের সম্মুখভাগ এবং নলার উপর হাটুগেড়ে বসা। অথবা,* ডান পা খাড়া করে বাম পায়ের উপর বসা।

পৃষ্ঠা:৪০

এটিই অগ্রাধিকার যোগ্য যা ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন।খাবার পর নীচের সুন্নাহগুলো অনুসরণ করাঃ

১। পাত্র এবং আঙ্গুল চেটে খাওয়া। ১

২। আল্লাহর প্রশংসা করাঃ

নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করতেন। الْحَمْدُ للهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا، وَرَزَقَنِيهِ، مِنْ غيرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ . অর্থঃ ‘সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এই পানাহার করালেন এবং উহার সামর্থ্য প্রদান করলেন, যাতে ছিল না আমার পক্ষ থেকে উপায়-উদ্যেগ, ছিল না কোন শক্তি সামর্থ্য। এই দো’আ পাঠের উপকারিত হচ্ছেঃ তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।১০০

২৮. পান করা

পান করার ক্ষেত্রে সুন্নাহ সমূহ হচ্ছে-

১। বিসমিল্লাহ বলে পান করা।

২। ডান হাতে পান করা। ১৭৩

৩। পান করার সময় পান পাত্রে শ্বাস না ফেলা এবং এক ঢোকে পান না করা।১

৪। বসে পান করা।

পৃষ্ঠা ৪১ থেকে ৫০

পৃষ্ঠা:৪১

৫। পান করার পর তাহমীদ (আল্লাহর প্রশংসা করা। ১৭৭

২৯. নফল সলাত ঘরে আদায় করা

ঘরে নফল সলাত আদায় করার ফাদীলাতের ব্যাপারে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘একজন ব্যক্তির সর্বোত্তম সলাত হচ্ছে ঘরে, ফারদ সলাত ব্যতীত ১ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীসে আরও বর্ণিত রয়েছে, ‘একজন ব্যক্তির নফল সলাত আদায় করা (এমন জায়গায়) যেখানে কেউ তাকে দেখতে পায় না, তা পচিশগুন বেশী ঐ সলাত থেকে যেখানে লোকেরা তাকে দেখতে পায়।১৯ এই সুন্নাহটি দিনে রাতে অনেক বার পুনরাবৃত্তি হয়ে থাকে। একজন ব্যক্তি তার ঘরে (নফল) সলাতগুলো আদায় করতে পারে সুন্নাহকে পূরণ এবং তার আযর বাড়ানোর জন্য।নফল সলাতগুলো ঘরে কায়েম করার মাধমে-* প্রশান্তি এবং ইখলাস বৃদ্ধি করতে পারে।* লোক দেখানো থেকে দূরে থাকতে পারে।* তার ঘরে আল্লাহর রহমাহ নাজিল হয়।* শয়তানকে দূরে রাখে।বহুগুণ সওয়াব লাভ হয়, যেমন ফারন সলাত মসজিদে আদায় করলে বহুগুন সওয়াব লাভ করা যায়।

৩০, মজলিস ত্যাগ করার সময়

একত্রিত হওয়ার পর ভূল-ত্রুটি মিটিয়ে দেয়ার জন্য পাঠ করুন-

পৃষ্ঠা:৪২

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إلا أنت اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ.

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! সমস্ত অসম্পূর্ণতা থেকে আপনি বহু দূরে (আপনি পবিত্র) এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি ছাড়া আর কোন ইবাদতযোগ্য ইলাহ নেই। আমি আপনার ক্ষমা প্রার্থণা করছি এবং আপনার নিকটই প্রত্যাবর্তন করি।একজন মুসলিম দিনে-রাতে বহু মজলিসে একত্রিত হয়, যেমন-* খাওয়ার সময় যখন অন্যদের সাথে আপনি কথা বলেন,* যখন আপনি আপনার প্রতিবেশী বা বন্ধুকে দেখেন তখন নিশ্চয়ই কথা বলেন,* যখন কাজে, স্কুলে, পড়ার স্থানে আপনার সহযোগী-সহপাঠীদের সাথে থাকেন,* যখন আপনি বাচ্চা এবং স্ত্রীদের সাথে কথা বলেন একত্রিত হয়ে,* যখন আপনি ভ্রমণে থাকেন,* পাবলিক লেকচার অথবা নিজস্ব পড়াশুনা ইত্যাদি সময়ে।লক্ষ্য করুন কতবার আপনি দিন-রাতে এই দু’আ উল্লেখ করতে পারেন এবং আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক রাখতে পারেন।এই সুন্নাহ বাস্তবায়নের উপকারিতা হচ্ছে- ঐ বৈঠকে কথা বলার ক্ষেত্রে যে ভুল-ত্রুটি হয়েছে এবং গুনাহ হয়েছে তা মিটেয়ে দেয়া হবে।ইবনুল কাইয়্যেম বলেন মুসলিমগণ যে মজলিসে একত্রিত হয়ে তা দু’ধরনের-* সামাজিক মজলিস যা সময় পাস করার জন্য হয়ে থাকে। উপকারিতা সীমাবদ্ধ এবং… এটি হৃদয়কে দূষিত করে এবং সময় নষ্ট করে।* ঐ মজলিস যা সফলতার জন্য সাহায্যস্বরূপ এবং সত্যের উপদেশ দানের জন্য হয়ে থাকে। এটি হচ্ছে বিশাল অমূল্যধন এবং সবচেয়ে উপকারী।

পৃষ্ঠা:৪৩

৩১. সঠিক নিয়্যত করা

সঠিক নিয়্যত করুনঃ’নিশ্চয়ই সকল আমলই নিয়্যত অনুযায়ী নিয়্যাত অনুযায়ী হয়ে থাকে, প্রত্যেকে তাই লাভ করে যা সে নিয়্যাত করে। ১৯১গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃজেনে রাখুন, ঘুমানো, খাওয়া, কাজ করা এবং অন্যান্য বৈধ কাজগুলো আল্লাহর আনুগত্যের কাজ এবং তাঁর নৈকট্যের উপায় হতে পারে। একজন তার এইসব কার্যাবলীর জন্য অনেক আযর লাভ করতে পারে, যখন সে এগুলো করার সময় আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিয়্যত করে। যেমন কেউ যদি তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যায় এই নিয়্যতে যে, সে যেন ক্লিয়ামুল লাইল এর জন্য জাগতে পারে, তাহলে তার ঘুমটি ইবাদতে পরিণত হবে। এটি সকল বৈধ কাজের ক্ষেত্রেই সঠিক।অনেক ইবাদতকে একত্রিত করণ যে তাদের সময়কে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে জানে সেই জানে কিভাবে একটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে অনেক ইবাদতকে একত্রিত করা যায়।এখানে কিছু উদাহরণ দেয়া হলঃ* যেমন আপনি যখন মসজিদে সলাত আদায় করতে যান পায়ে হেটে কিংবা গাড়িতে করে, এই কাজটিই স্বয়ং একটি ইবাদাহ। কিন্তু অনুরূপ সময়কেই আল্লাহর যিকর, কুরআন তিলাওয়াতের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে একটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক ইবাদাহকে একত্রিত করা হল।* আপনি যখন কোন ওয়ালীমাতে যান যাতে মন্দ কোন কাজ হয় না, এটিই একটি ইবাদাহ। কিন্তু অনুরূপ সময়েই আপনি মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করতে পারেন এবংআল্লাহর স্মরণ করতে পারেন।* একজন মহিলা ঘরে অবস্থান করা, বাড়ির লোকদের কাজ করা একটি ইবাদাত যখন সে এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য কামনা করে। অনুরুপ সময়েই সে তার সময়কে আল্লাহর যিকর, ইসলামিক লেকচার ইত্যাদি শুনার মাধ্যমে অন্যান্য ইবাদত করতে পারে।ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যখন আমরা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক বৈঠকে ছিলাম আমরা গণনা করে দেখেছি তিনি একশতবার বলেন,

পৃষ্ঠা:৪৪

রাব্বিগ ফিরলী ওয়াত্বব ‘আলাইয়্যা ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহীম। (অর্থ- হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমি আপনার নিকট ফিরে আসছি। নিশ্চয়ই আপনি সবচেয়ে ক্ষমাশীল এবং সবচেয়ে দয়াময়।)চিন্তা করে দেখুন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে একটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দু’টি ইবাদত করেন:* আল্লাহর স্মরণ এবং তাঁর ক্ষমা প্রার্থণ্য।* সাহাবীদের সাথে বসা এবং তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেয়া।

৩২. আল্লাহকে সর্বদা স্মরণ করা

আল্লাহর যিকরের ব্যাপারে লক্ষ্যনীয় বিষয়সমূহঃ১। আল্লাহর স্মরণ হচ্ছে ইবাদতের ভিত্তি। সকল অবস্থা এবং সময়ে এটি ইবাদতকারীদের আল্লাহর সাথে। সম্পর্ক করে দেয়। আয়িশা (রা) বলেন,আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বদা আল্লাহর স্মরণ করতেন। ১৮৩আল্লাহর সাথে এই সম্পর্ক হচ্ছে জীবন, তাঁর নৈকট্য হচ্ছে সফলতা এবং সন্তুষ্টি এবং পথভ্রষ্টতা এবং বিপর্যয় থেকে বহু দূরে থাকার উপায়।

২। আল্লাহর স্মরণ মুনাফিক্বদের থেকে বান্দাকে আলাদা করে। কারণ মুনাফিকুদের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা আল্লাহকে খুবই কম স্মরণ করেঃ”….এবং আল্লাহকে খুবই কম স্মরণ করে।”১৮

৩। শয়তান বান্দাদের উপর বিজয়ী হতে পারে না যদি না তারা আল্লাহর স্মরণ থেকে অমনোযোগী হয়। আল্লাহর স্মরণ হচ্ছে ঢালের ন্যায়।

৪। যিকর হচ্ছে বান্দার সুখের উপায়ঃ

পৃষ্ঠা:৪৫

‘… নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরনেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ। করে।

৫। আল্লাহকে সর্বদা স্মরণ করা। জান্নাতে বান্দাদের কোন আফসোস থাকবে না শুধু দুনিয়ার ঐ সময়ের জন্য যা সে আল্লাহর স্মরণ ব্যতীত কাটিয়েছে।

৬। আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে স্মরণ করেন যে আল্লাহকে স্মরণ করে।”আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। “১৮একজন ব্যক্তি অনেক খুশি হয় যখন তাকে সংবাদ দেয়া হয় যে শাসকরা তাকে নিয়ে আলোচনা করেছে তাদের সমাবেশে এবং তার প্রশংসা করেছে। সুতরাং কিরূপ উপলব্দি হওয়া উচিত, আল্লাহ, যিনি বিশ্বজগতের রাব্ব, এর চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করেছেন?

৭। আল্লাহর স্মরণ দ্বারা এমন কিছু বোঝায় না যে দুই একটি শব্দ উচ্চারন করা যখন হৃদয় কি বলছে তাথেকে উদাসীন থাকে এবং আল্লাহর মহত্বতা এবং আনুগত্য থেকে মন উদাসীন থাকে।সুতরাং জিহবা দ্বারা স্মরণ করার নিঃসন্দেহে এর দিকে মনোযোগ দেয়া, অথের দিকে খেয়াল করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।”আল্লাহকে স্মরণ কর তোমার নিজের মধ্যে, বিনীতভাবে এবং ভয় সহকারে এবং উচু শব্দে নয়, সকাল এবং সন্ধ্যায় এবং তাদের মধ্যে হইও না যারা গাফেল। ১৯৭

৩৩. আল্লাহ অনুগ্রহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা

সর্বদা আল্লাহর নিয়ামত নিয়ে চিন্তা করা, যেমন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন,’আল্লাহর নিয়ামত নিয়ে চিন্তা করো এবং আল্লাহর ব্যাপারে চিন্তা করো না।[আল্লাহর ব্যাপারে চিন্তা করো না অর্থাৎ মানুষের ব্যাপারে যেসব বিষয় বোঝা সম্ভব নয় সেসব বিষয় নিয়ে চিন্তা না করা, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার গুণাবলীর প্রকৃতরূপ নিয়ে ইত্যাদি।

পৃষ্ঠা:৪৬

৩৪. কুরআনকে প্রতি মাসে একবার শেষ করা

আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রতি মাসে কুরআন পড়ে শেষ করবে। আবু দাউদ হা/১৩৮৯]প্রতি মাসে কুরআনকে শেষ করার একটি সহজ উপায় হচ্ছে প্রতি ফারদ সলাতের ১০ মিনিট পূর্বে মসজিদে যাওয়া। এই সময়ে ২ পাতা বা ৪ পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করা সম্ভব। সুতরাং পুরোদিনে ১০ পাতা বা একপাড়া সমাপ্ত হয়ে যাবে। এভাবে সহজেই আপনি পুরো মাসে কুরআনকে শেষ করতে পারেন।

৩৫. ঘুমানোর পূর্বে

ঘুমোনোর পূর্বে সূন্নাহ সমূহ হচ্ছে-

১। ঘুমোতে যাওয়ার দু’য়া পাঠ-

باسْمِكِ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا»

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমার নাম নিয়েই আমি শয়ন করছি এবং তোমার নাম নিয়েই উঠবো।

২। ইখলাস, ফালাকু পাঠ করে তিনবার দেহকে মাসেহ করা।

৩। সূরা বাক্বারাহ এর শেষ দুই পাঠ করা। যে এগুলো পাঠ করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। ১৯১

৪। আয়াতুল কুরসী পাঠ করা। যে তা পাঠ করবে সে আল্লাহর নিকট থেকে নিরাপত্তা পাবে এবং শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।১৬এছাড়াও আরও অনেকগুলো দু’আ রয়েছে যা ঘুমোতে যাওয়ার সময় পাঠ করা জন্য। ১। সহীহ আল বুখারী ও মুসলিমে রয়েছেঃ

পৃষ্ঠা:৪৭

بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، فَإِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا ، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ».

অর্থঃ ‘হে রবা তোমার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশকে শয্যায় স্থাপন করছি (আমি শয়ন করছি), আর তোমারই নাম নিয়ে আমি তাকে উঠাব (শয্যা ত্যাগ করবো) যদি তুমি (আমার নিদ্রিত অবস্থায়) আমার প্রাণ কবজ করো, তবে তুমি তাকে ছেড়ে দাও (বাঁচিয়ে রাখো) তাহলে সে অবস্থায় তুমি তার হিফাজত করো যেমনভাবে তুমি তোমার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হিফাজত করে থাকো (১৯৫

২। সহীহ কালিমুত তাইয়্যেব এ রয়েছে-

اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لا إله إلا أنت، أعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفْ عَلَى نفسي سُوءًا، أَوْ أَجْرَهُ إِلَى مُسْلِمٍ».

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই জান। আকাশ ও পৃথিবীর তুমি সৃষ্টিকর্তা। তুমি সব বস্তুর প্রতিপালক এবং সমস্ত কিছুর মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই। আমি আমার প্রবৃত্তির অনিষ্ট হতে আর শয়তান এবং তার শিরকের অনিষ্ট হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থণা করছি। আমি নিজের অনিষ্ট হতে এবং কোন মুসলিমের অনিষ্ট করা হতে তোমার আশ্রয় চাচ্ছি।’

৩। সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিতঃ

اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ

ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أنزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ .

পৃষ্ঠা:৪৮

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি নিজেকে তোমার প্রতি সঁপে দিলাম, আর আমার সমগ্র কার্যক্রম তোমার উদ্দেশেই নিবেদন করলাম, আমার মুখমণ্ডল তোমার দিকে স্থাপন করলাম, আমার পৃষ্টদেশকে তোমার দিকেই বুকিয়ে দিলাম, আর এ সমস্তই করলাম তোমার রহমতের আশায় এবং তোমার শাস্তির ভয়ে। কোন আশ্রয় নেই এবং মুক্তির কোন উপায় নেই একমাত্র তোমার আশ্রয় এবং উপায় ছাড়া, আমি বিশ্বাস স্থাপন করেছি তোমার সেই কিতাবের প্রতি যা তুমি নাযিল করেছো এবং তোমার সেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি যাকে তুমি প্রেরণ করেছো।’

৪। সহীহ মুসলিমে রয়েছে বর্ণিতঃ

اللَّهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا ، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَنَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيةَ .

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছো আর তুমি উহার মৃত্যু ঘটাবে ৯অতএব) তার জীবন ও মরণ যেন একমাত্র তোমার জন্য হয়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখো তাহলে তুমি তার হিফাযত করো, আর যদি তার মৃত্যু ঘটাও নিদ্রাবস্থায় তবে তাকে মাফ করে দিও। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থণা করছি।’

৫। সুনান আবু দাউদ ও তিরমিযি-তে বর্ণিতঃ

اللَّهُمَّ فِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَجْمَعُ عِبَادَكَ أَوْ تَبْعَثُ

عبادك . অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমাকে তোমার আযাব হতে রক্ষা করো সেই দিবসে যখন তুমি তোমার বান্দাদিগকে পুনরুত্থান করবে।’

৬। সহীহ মুসলিম কর্তৃক বর্ণিতঃ

পৃষ্ঠা:৪৯

اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ. وأنت الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ».

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি সপ্ত আকাশ মন্ডলরি রব! এহা মহীয়ান আরশের রব এবং প্রত্যেক বস্তুর রব। হে আল্লাহ! বীজ ও আঁটি চিরে চারা ও বৃক্ষের উদ্ভব ঘটাও তুমি! তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনের নাযিলকারী তুমি। আমি প্রত্যেক বস্তুর অনিষ্ট হতে তোমার নিকটেই আশ্রয় প্রার্থণা করি, তোমার হাতে রয়েছে সকল বস্তুর ভাগ্য। হে আল্লাহ তুমি অনাদি, তোমার পূর্বে কোন কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না, তুমি অনন্ত, তোমার পরে কোন কিছুই থাকবে না, তুমি প্রকাশমান, তোমার উপরে কিছুই নেই, তুমি অপ্রকাশ্য, তোমার চেয়ে নিকটবর্তী কিছুই নেই। হে রব! তুমি আমার সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দাও, আর আমাকে দারিদ্রতা থেকে মুক্ত রাখো।’

৭। সহীহ মুসলিম কর্তৃক বর্ণিতঃ

الْحَمْدُ للهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانًا،

وَآوَانَا ، فَكُمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِي.

অর্থঃ ‘সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদিগকে আশ্রয় প্রদান করেছেন। এমন বহুলোক রয়েছে যাদের পরিতৃপ্ত করার কেউই নেই, যাদের আশ্রয় দানকারী কেউই নেই।

৮। সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিতঃ

سبحان الله (ثلاثا وثلاثين مرة)

الحمد الله (ثلاثا وثلاثين مرة)

পৃষ্ঠা:৫০

الله أكبر» (ثلاثا وثلاثين مرة)

৩৩ বার করে পড়তে হবে।ঘুমোতে যাওয়ার আদা’ব হচ্ছে-

১। পবিত্র অবস্থায় ওযু করে বিছানায় যাওয়া। ১৯৩

২। ডান কাতে শয়ন করা।

৩। ডান হাতকে ডান গালের নীচে স্থাপন করা। ১৯

৪। বিছানাকে ঝারা।

৫। সূরা কাফিরুন পাঠ করা। যা শিরক থেকে মুক্ত করে।

৩৬. সারাংশ

দৈনন্দিন সুন্নাহর ব্যাপারে এতটুকুই সহজ হয়েছে। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থণা করছি তিনি যে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর উপর জীবন যাপন এবং মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দান করেন।

আমাদের সর্বশেষ কথা হচ্ছে সমস্ত প্রশংসা এবং শোকরিয়া আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্ব জগতের রাকা।

হোম
ই-শো
লাইভ টিভি
নামাজ শিক্ষা
গেইমস
চাকুরি